অনুবাদ গল্প

চিনুয়া আচেবের গল্প: প্রতিশোধপরায়ণ পরিচারিকা

মেহেদী হাসান | ৬ জুন ২০১৩ ৭:৪৯ অপরাহ্ন

“ম্যাডাম, এই দিকে,” ফাঁপানো পরচুলাপরা মেয়েটি সুপার মার্কেটের এক সারি ক্যাশ মেশিনের একটিতে মনোনিবেশ করতে করতে আহ্বান জানাল। মিসেস এমেনিকে তার বাজার ভর্তি ট্রলিটি হালকাভাবে ঘুরিয়ে মেয়েটির দিকে নিয়ে আসল।

ম্যাডাম, আপনি তো আমার দিকে আসছিলেন, পার্শ্ববর্তী মেশিনের সম্মুখে বসা বঞ্চিত মেয়েটি অভিযোগ তুলল।

“ওহহ, আমি আসলেই দুঃখিত, আরেক সময় আসব।” (সম্পূর্ণ…)

চিনুয়া আচেবের গল্প: মৃতদের পায়ে চলার পথ

মেহেদী হাসান | ৪ এপ্রিল ২০১৩ ৬:৪১ অপরাহ্ন

নাইজেরিয়ার সদ্যপ্রয়াত লেখক চিনুয়া আচেবে উপন্যাস এবং প্রবন্ধের পাশাপাশি লিখেছেন বেশ কিছু ছোটগল্প । সমাজ ও রাজনীতি এগুলোর বিষয়বস্তু হলেও্র এসব গল্প মূলত রূপকাশ্রয়ী । আমরা এখানে তেমনি একটি গল্প প্রকাশ করছি । এটি বাংলায় অনুবাদ করেছেন মেহেদী হাসান । বি.স.

অনেকটা হঠাৎ করেই প্রত্যাশিত সময়ের বেশ আগেই মাইকেল অবির স্বপ্নটা যেন পূরণ হয়ে গেল। ১৯৪৯ সালের জানুয়ারিতেই সে নিযুক্ত হল নদুম সেন্ট্রাল স্কুলের প্রধান শিক্ষক হিসেবে। এটা সবসময় ছিল অন্যান্য স্কুল থেকে অনেকটাই পিছিয়ে পড়া, ঠিক এ কারণেই মিশন কর্তৃপক্ষ মাইকেল অবির মত প্রাণবান টগবগে তরুণ এবং সক্রিয় একজনকে সেখানে দায়িত্ব দিয়ে পাঠানোর সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে। অবি বেশ উৎফুল্লতার সাথেই তার উপর অর্পিত দায়িত্ব লুফে নেয়। স্কুলকেন্দ্রিক অনেক সুন্দর সুন্দর পরিকল্পনা তার ঘটে জমা ছিল এবং এতে করে এগুলোকে বাস্তবে রূপায়িত করার একটা বড় ধরণের সুযোগ তার হাতের নাগালে এসে যায়। তার ছিল পূর্ণাঙ্গ উচ্চতর শিক্ষা যা তাকে একজন গুণী শিক্ষকের মর্যাদা এনে দিয়েছিল এবং তার স্থানটি ছিল মিশন ফিল্ডের অন্যান্য শিক্ষকের থেকে বেশ উপরে। অন্যান্য বয়স্ক এবং কম শিক্ষায় শিক্ষিতদের সংকীর্ণ মন-মানসিকতার সমালোচনায় সে ছিল অনেক বেশী খোলামেলা। (সম্পূর্ণ…)

হারুকি মুরাকামির গল্প

উড়োজাহাজ

দিলওয়ার হাসান | ১২ মার্চ ২০১০ ১১:৫৬ পূর্বাহ্ন

জাপানি লেখক হারুকি মুরাকামির জন্ম কিয়োতো শহরে ১৯৪৯ সালের ১২ জানুয়ারি। ওয়াসেদা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাহিত্যের ছাত্র ছিলেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের পাঠ শেষ করে টোকিওতে একটি জাজবার খোলেন। বেসবল খেলা দেখার সময় আকস্মিকভাবেই উপন্যাস লেখার পরিকল্পনা তার মাথায় আসে। প্রথম সেই উপন্যাসটির নাম হিয়ার দ্য উইন্ড সিংস। নোমো সাহিত্য পুরষ্কার লাভ করে বইটি। এরপরে নরওয়েজিয়ান উড লিখে জাপানসহ সারা বিশ্বে হৈ চৈ ফেলে দেন। কাফকা অন দ্য শোওর-এর জন্য পান কাফকা পুরষ্কার।

মুরাকামির উল্লেখ্যযোগ্য অন্য বইগুলো হচ্ছে: দ্য উইন্ড আপ বার্ড ক্রনিকল, আন্ডারগ্রাউন্ড, স্পুটনিক সুইট হার্ট, আফটার দ্য কোয়েক, ব্লাইন্ড উইলো স্লিপিং উইমেন, আফটার ডার্ক, এলিফ্যান্ট ভ্যানিশেস।

hmurakami.jpg
হারুকি মুরাকামি

অনুবাদ: দিলওয়ার হাসান

সেই বিকেলে মেয়েটি তাকে জিজ্ঞেস করেছিল, “যে ভাবে তুমি নিজের সঙ্গে কথা বলো, তা কি পুরনো অভ্যাস?” টেবিলের ওপর থেকে চোখ তুলে সে এমনভাবে প্রশ্নটা করল যেন ওই ভাবনা তাকে এই মাত্র আঘাত করেছে। বলাই বাহুল্য আসলে তা করেনি।

রান্নাঘরের টেবিলে মুখোমুখি বসেছিল দুজন। পাশের রেলসড়ক দিয়ে কম্পিউটার ট্রেনের যাতায়াতের শব্দ ছাড়া ওই এলাকাটা বেশ নীরব। ট্রেনবিহীন রেলসড়কটা তাদের জন্য এক রহস্যময় নৈঃশব্দ তৈরি করে। কিচেনের পাতলা প্লাস্টিকের মেঝে ছেলেটার পা দুটোকে শীতল পরশ দান করে। মোজা খুলে পকেটে ঢুকিয়ে ফেলে সে। এপ্রিল মাসের বিকেল হলেও আজকের আবহাওয়ায় একটু বেশি গরমের ভাব পরিলক্ষিত হচ্ছে। মেয়েটা তার বিবর্ণ চেক সার্টের হাতা কনুই অবধি গুটিয়ে রেখেছে। তার পলকা ফরসা আঙুলগুলো খেলছে কফি চামচের হাতলের সাথে। ছেলেটা তার আঙুলগুলোর দিকে তাকায়, আর তার মনের ক্রিয়া অদ্ভুতরকমের নীরস হয়ে পড়ে।

ছেলেটা কেবল কুড়িতে পড়েছে, মেয়েটা তার চেয়ে সাত বছরের বড়, বিবাহিত ও এক সন্তানের জননী। ছেলেটির জন্য মেয়েটি হচ্ছে চাঁদের দূরের অংশ।

তার স্বামী এমন একটা ট্রাভেল এজেন্সিতে কাজ যারা বিদেশ ভ্রমণের ব্যবস্থা করতে পারদর্শী। ফলে তাকে মাসের অধিকটা সময় দেশের বাইরের কোনো শহর যেমন লন্ডন, রোম কিংবা সিঙ্গাপুরে থাকতে হয়। অপেরা ওই ভদ্রলোকের খুব প্রিয়। তার শেলভে তাই জায়গা করে আছে ভার্দি, পুসিনি, দোনিজেত্তি বা রিচার্ড স্ট্রাউসের রেকর্ড। যখন ফুরিয়ে যায় কিংবা করবার কিছু থাকে না ছেলেটা রেকর্ডের শেলভের এ পাশ থেকে ও পাশে চোখ বুলায় আর মনে-মনে অ্যালবামগুলোর নাম পড়ে — লা বোহ…মি, টোসকা, টুরানডট, নরমা, ফাইডেলিও… সে কখনো এসব মিউজিক শোনেনি বা শোনার সুযোগ তার হয়নি। তার পরিবার, বন্ধু-বান্ধব বা পরিচিতদের কেউই অপেরার ভক্ত নয়। শুধু জানে অপেরা-সঙ্গীতের অস্তিত্ব এই পৃথিবীতে আছে, কিছু লোক তা শোনে; তবে মেয়েটির স্বামীর এই রেকর্ডগুলো দেখে সে ওই জগৎ সম্পর্কে প্রথম জ্ঞান লাভ করেছে।

মেয়েটিও অবশ্য অপেরার ভক্ত নয়। “তবে ওগুলো আমি ঘেন্না টেন্না করি না। ওগুলোর একটাই দোষ, বড় দীর্ঘ।” বলে সে। (সম্পূর্ণ…)

হার্টা ম্যুলার-এর গল্প

আমার পরিবার

শিবব্রত বর্মন | ৬ ফেব্রুয়ারি ২০১০ ১১:১৪ পূর্বাহ্ন

herta_5.jpg

herta-6.jpg
নোবেল সাহিত্য পুরস্কার পাওয়ার পর দুটি ছবিতে হার্টা ম্যুলার

ভাষান্তর: শিবব্রত বর্মন

আমার মায়ের গলায় সমস্যা, চিঁচি করে কথা বলেন।

আমার দাদির চোখ ছানি পড়ে অন্ধ হয়ে গেছে। এক চোখে ধূসর ছানি, আরেক চোখে নীলাভ।

আমার দাদার স্ক্রটাল হার্নিয়া।

অন্য এক নারীর গর্ভে আরেকটি সন্তান জন্ম দিয়েছেন আমার বাবা। সেই অপর নারীকে আমি চিনি না, সন্তানটিরও কোনো খবর জানি না। শুধু জানি, সে বয়সে আমার চেয়ে বড়, আর সে জন্যে লোকে বলাবলি করে, আমার বাবা আসলে অন্য কেউ।

বাবা সেই অন্য সন্তানটিকে বড়দিনের উপহার কিনে দেন আর আমার মাকে বলেন, সেই অপর সন্তানের পিতা আসলে অন্য আরেকজন।

প্রতি নববর্ষে ডাকপিয়ন একশ ‘লেই’-এর নোট ভরা একটা খাম তুলে দেয় আমার হাতে, আর বলে, এটা সান্টা ক্লজের কাছ থেকে এসেছে। তবে আমার মা বলেন, আমার অন্য কোনো বাবা নেই।

লোকে বলে, আমার দাদি আমার দাদাকে বিয়ে করেছিলেন দাদা জমিজায়গার মালিক বলে, আর দাদির আসলে প্রেম ছিল আরেক লোকের সঙ্গে আর সেই অপর লোকটাকে বিয়ে করলেই দাদি ভালো করতেন, কারণ আমার দাদা তার আত্মীয় সম্পর্কের মধ্যেই পড়েন, এতো ঘনিষ্ঠ আত্মীয় যে, ব্যাপারটা অজাচারের পর্যায়ে পড়ে যায়। (সম্পূর্ণ…)

হার্টা ম্যুলার-এর গল্প

অন্ত্যেষ্টির বয়ান

শুভাশীষ দাশ | ৯ অক্টোবর ২০০৯ ১১:১৩ পূর্বাহ্ন

fm_an.jpg
বার্লিনে একটি প্রেস কনফারেন্সে হার্টা ম্যুলার, নোবেল পুরস্কার পাওয়ার পরে

ছোটগল্প সংকলন নাদিরস (‘নিদারুনজেন’) বা ‘Lowlands’ ২০০৯ সালে সাহিত্যে নোবেলজয়ী রুমানিয়ার লেখিকা হার্টা ম্যুলারের প্রথম প্রকাশিত বই। ১৯৮২ সালে প্রকাশ পাবার পরপরই বইটি সেন্সরশিপের কবলে পড়ে। চসেস্কুর নির্মম শাসনকালে রুমানিয়ার গ্রামজীবনে যে দুর্বিপাক নেমে এসেছিল Lowlands-এ তার চিত্র ফুটে উঠেছে। লেখিকা গল্প লিখেছেন তাঁর অনবদ্য কাব্যিক গদ্যে। Lowlands বইয়ের প্রথম গল্প ‘The Funeral Sermon’।

অনুবাদ: শুভাশীষ দাশ

রেলস্টেশনে লোকজন ট্রেনের সাথে সাথে দৌড়াচ্ছে আর হাত নেড়ে নেড়ে বিদায় জানাচ্ছে।

এক যুবক ট্রেনের জানালার নিচে দাঁড়িয়ে। শার্সিটা একদম তার বগল পর্যন্ত। দুমড়ানো একগোছা ফুল সে বুকে চেপে রেখেছে। মুখ পুরা শুকনো।

এক কুঁজো তরুণী শান্ত এক বাচ্চাকে কোলে নিয়ে এগোচ্ছে।

ট্রেন যাচ্ছে যুদ্ধের দিকে।

আমি টিভি বন্ধ করে দিলাম।

ঘরের মাঝে বাবা শুয়ে আছে। কফিনে। সারা দেয়াল জুড়ে অনেক ছবি। দেয়াল যে আছে তাই বোঝা যাচ্ছে না।

প্রথম ছবিতে দেখা যাচ্ছে বাবা তাঁর চেয়ে দ্বিগুণ লম্বা চেয়ারে হেলান দিয়ে দাঁড়িয়ে।

অন্য ছবিতে বাবা বরের সাজে। বুকের অর্ধেকটা কেবল দেখা যায়। মায়ের হাতের বিশাল ফুলের তোড়ায় বাকি কিছু দেখার উপায় নেই। দুজনের মাথা এত কাছাকাছি, কানের লতি ছুঁয়ে ছুঁয়ে আছে।

আরেকটাতে বাবা কোনো বেড়ার পাশে একদম সিধা দাঁড়িয়ে। জুতোর নিচে বরফ। ভীষণ রকমের সাদা। বাবাকে মনে হচ্ছে শূন্যে একা। বাবার স্যালুট করা অবস্থার ছবি। কলারে নানান ব্যাজ।

এর পাশের ছবি। বাবা দাঁড়িয়ে। শাবল কাঁধে। পিছনে ক্ষেত। মাথায় টুপি। টুপিটার লম্বা ছায়ায় মুখ ঢেকে গেছে প্রায়।

এর পরের ছবিতে ট্রাকের স্টিয়ারিংয়ের পিছনে বাবা। গরুতে বোঝাই ট্রাক। সপ্তায় সপ্তায় বাবা গরু বোঝাই করে নিয়ে যেত কসাইখানায়। বাবার মুখ দেখাচ্ছে সরু। চোয়াড়ে। (সম্পূর্ণ…)

আর. কে. নারায়ণ-এর গল্প

ঈশ্বরণ

আনিকা শাহ | ৬ অক্টোবর ২০০৯ ২:৪৭ অপরাহ্ন

rk_narayan-3.jpgভারতীয় ঔপন্যাসিক রসিপুরম কৃষ্ণসোয়ামি আয়ার নারায়ণস্বামী-এর জন্ম ১৯০৬ সালে মাদ্রাজে (বর্তমানে চেন্নাই)। নারায়ণ ইংরেজিতে লেখালেখি করেছেন। তাঁর প্রথম উপন্যাস Swami and Friends বেরিয়েছিল ১৯৩৫ সালে। ঔপন্যাসিক গ্রাহাম গ্রিন এটি প্রকাশের ব্যবস্থা করেছিলেন। গ্রাহাম গ্রিনের পরামর্শে তিনি নাম সংক্ষিপ্ত করে আর. কে. নারায়ণও করেছিলেন। তাঁর উপন্যাস The Financial Expert মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে প্রকাশিত হয় ১৯৫২ সালে। আর. কে. নারায়ণের ১৫টি উপন্যাসের ১৪টিরই পটভূমি কাল্পনিক শহর মালগুডি। নিখুঁত সৌন্দর্যমণ্ডিত, বুদ্ধিদীপ্ত, জীবনঘনিষ্ঠ ও উপলব্ধিজাত তাঁর লেখার বর্ণনা প্রায়শই দক্ষিণ ভারতের গ্রামজীবন ছুঁয়ে যায়। ২০০১ সালে মারা যান আর. কে. নারায়ণ। আর. কে. নারায়ণকে আমেরিকান ঔপন্যাসিক উইলিয়াম ফকনারের সঙ্গে তুলনা করা হয়। মানবিকতায় ঋদ্ধ তাঁর লেখালেখিতে প্রাত্যহিক জীবনের আনন্দ ও প্রাণশক্তি টের পাওয়া যায়।

cartoon-r-k.jpg
…….
(বড়ভাই) ইন্ডিয়ার জনপ্রিয় কার্টুনিস্ট আর. কে. লক্ষণের কার্টুনে লেখক আর. কে. নারায়ণ
……
আর. কে. নারায়ণের প্রবাদপ্রতীম গ্রহণযোগ্যতা সত্ত্বেও কিছু সমালোচনা হয়েছে। তিনি মারা যাওয়ার কিছুদিন পর ভারতেরদি হিন্দু পত্রিকায় লেখক ও সমালোচক শশি থারুর ‘Comedies of Suffering’ লেখায় এভাবে বলেছিলেন, “Narayan was a consummate teller of timeless tales, a meticulous recorder of the ironies of human life, an acute observer of the possibilities of the ordinary: India’s answer to Jane Austen… …But I felt that they also pointed to the banality of Narayan’s concerns, the narrowness of his vision, the predictability of his prose, and the shallowness of the pool of experience and vocabulary from which he drew.”

অনুবাদ: আনিকা শাহ

জুনের এক বিকেলে, যখন মালগুড়ির তাবৎ ছাত্রসমাজের মনে ইন্টারমিডিয়েট পরীক্ষার রেজাল্ট পাবার উত্তেজনা আলোড়ন তুলছিল, সেই সময়ে ঈশ্বরণ নির্বিকার এবং নির্লিপ্তভাবে ঘুরে বেড়াচ্ছিল।

ঈশ্বরণ ইন্টারমিডিয়েট ক্লাসের সবার মধ্যে বয়োজেষ্ঠ্য হবার খ্যাতি অর্জন করেছিল। সে অ্যালবার্ট মিশন স্কুলে এসেছিল ঠোঁটের উপর অস্পষ্ট গোঁফের রেখা নিয়ে, একজন তেজী তরুণ হিসেবে। এখনও অবশ্য তাকে সেখানেই দেখা যাচ্ছিল। শুধু তার গঠন হয়ে উঠেছিল আরও বলিষ্ঠ ও পেশিবহুল এবং চিবুকও তামাটে আর দৃঢ় দেখাচ্ছিল। কেউ কেউ এমনকি এ কথাও বলে যে ঈশ্বরণের মাথায় নাকি সাদা চুল দেখা যায়। প্রথমবার সে যখন ফেল করল তখন তার পরিবারের সবাই তাকে সমবেদনা জানালো। দ্বিতীয়বারও সে তাদের সমবেদনা আদায় করে নিতে সক্ষম হল। কিন্তু ধীরে ধীরে তারাও ছিদ্রান্বেষী আর নাছোড় হয়ে উঠল এবং এক সময় ঈশ্বরণের উপর্যুপরি অকৃতকার্যতায় তার পরীক্ষার উপর থেকে সমস্ত আগ্রহ হারিয়ে ফেলল। ওর বাবা-মা ওকে প্রায়ই বলতেন, “তুই লেখাপড়া ছেড়ে দিয়ে কাজের কাজ কিছু করতে পারিস না?” আর ঈশ্বরণও প্রতিবার মিনতি করে বলত, “আমাকে এই শেষবারের মত চেষ্টা করতে দাও।” সে গভীর অনুরাগ নিয়ে নাছোড়বান্দার মত বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়ার পেছনে লেগে থাকত। (সম্পূর্ণ…)

স্টিভেন মিলহসার-এর গল্প

বহির্জাগতিক আক্রমণ

শিবব্রত বর্মন | ২৫ মে ২০০৯ ১:১০ অপরাহ্ন

stevenmillhauser-2.jpgআমেরিকান ঔপন্যাসিক স্টিভেন মিলহসারের (Steven Millhauser) জন্ম ১৯৪৩ সালের ৩ আগস্ট। তাঁর গল্প বলার ঢঙে অ্যাডগার অ্যালান পো এবং হোর্হে লুইস বোর্হেসের ছায়া অনেকে খুঁজে পান। ভ্লাদিমির নবোকভের ছাপও বেশ দৃষ্টিগ্রাহ্য। মার্টিন ড্রেসলার উপন্যাসের জন্য ১৯৯৭ সালে তিনি পুলিৎজার পুরস্কার পান। ‘আইজেনহেইম দ্য ইলিউশনিস্ট’ নামে তাঁর একটি ছোটগল্প অবলম্বনে জনপ্রিয় হলিউডি চলচ্চিত্র তৈরি হয়েছে, যেটির নাম দ্য ইলিউশনিস্ট। ‘বহির্জাগতিক আক্রমণ’ গল্পটি নিউ ইয়র্কার ম্যাগাজিনের ৯ ফেব্রুয়ারি, ২০০৯ সংখ্যা থেকে নেওয়া। মূল গল্পটির নাম ‘The Invasion From Outer Space’।

মূল : স্টিভেন মিলহসার
অনুবাদ : শিবব্রত বর্মন

আমরা প্রস্তুত ছিলাম শুরু থেকে, আমরা জানতাম কী করতে হবে, কেননা কত শত বার কী এ ঘটনা দেখিনি আমরা?—শহরের অনুগত অধিবাসীরা ব্যস্ত তাদের প্রাত্যহিক কাজে, অকস্মাৎ থামিয়ে দেয়া টিভি প্রোগ্রাম, ভিড়ের সবার আকাশের দিকে উঠে যাওয়া দৃষ্টি, একটা ছোট্ট মেয়ের বাতাসে তাক করা আঙুল, সকলের হাঁ করা মুখ, কুকুরের ঘেউ ঘেউ, থেমে যাওয়া যানবাহন, ফুটপাথে পড়ে যেতে থাকা শপিং ব্যাগ, আর ওই যে, আকাশে, ক্রমশ আরো কাছে আসছে… এইসব; ফলে, ঘটনাটা যখন সত্যি সত্যি ঘটে গেল—কেননা এটা অনিবার্য ছিল, আমরা জানতাম এটা শুধু সময়ের ব্যাপার মাত্র—তখন আমাদের কৌতূহল আর আতঙ্কের মধ্যেও একপ্রকার অবিচল স্থিরতা অনুভব করলাম আমরা, পরিচয়ের কারণে যেরকম অবিচলতা তৈরি হয়, সেরকম; আমরা জানতাম আমাদের কী করতে বলা হবে, এরকম পরিস্থিতিতে। খবরটা ছড়ালো সকাল দশটার পর। টিভি উপস্থাপক-উপস্থাপিকাদের ঠিক সেরকমই দেখাচ্ছিল, যেমনটা দেখানোর কথা, তাদের মুখে একটা উদ্বেল ভাব, পরিপাটি চুল, উদগ্রীব কাঁধ, তারা আমাদের সতর্কবার্তা শোনাচ্ছে, আবার একই সঙ্গে এই আশ্বাসও দিচ্ছে যে, সবকিছু নিয়ন্ত্রণে আছে, কেননা তাদেরকেও এর জন্য প্রস্তুত করা হয়েছে, এক অর্থে তারা এর জন্য অপেক্ষাই করে ছিল, এই মাহেন্দ্রক্ষণের জন্য। আকাশে একটা কিছু যে দেখা গেছে, তা নিয়ে কোনো সন্দেহ নেই, কিন্তু কী দেখা গেছে, নিশ্চিত নয়। মহাকাশে কিছু একটা শনাক্ত করা গেছে, অবস্থাদৃষ্টে মনে হচ্ছে সেটা অত্যন্ত দ্রুত বেগে আমাদের আবহমণ্ডলের দিকে ধেয়ে আসছে, পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে পেন্টাগন। আমাদের বলা হয়েছে শান্ত থাকতে, ঘর থেকে বের না হতে আর পরবর্তী নির্দেশের জন্য অপেক্ষা করতে। আমরা কেউ কেউ সঙ্গে সঙ্গে দপ্তর থেকে ছুটি নিয়ে দ্রুত বাসায় পরিবারের পানে ছুটেছি, বাকিরা টিভি, রেডিও, কম্পিউটারের সামনে বসে থেকেছে, আমরা সবাই সেল ফোনে কথা বলছিলাম। আমাদের জানালা দিয়ে আমরা দেখতে পাচ্ছিলাম অন্যেরা তাদের নিজ নিজ জানালাপথে উপরে আকাশের দিকে তাকিয়ে আছে। যেভাবে শিশুরা অন্ধকারে ঝড়বজ্রের আওয়াজ শুনতে থাকে, সারাটা সকাল আমরা সেরকম অনুপুঙ্খে খবর শুনলাম। বাইরে মহাকাশে যা-ই থাক না কেন, তা তখনও অজ্ঞাত, বিজ্ঞানীরা সেটার প্রকৃতি শনাক্ত করতে পারেননি, সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে, কিন্তু আতঙ্কিত হওয়ার কোনো কারণ তখনও ঘটেনি। আমাদের কর্তব্য শুধু রেডিও-টিভি খোলা রাখা, উৎকর্ণ বসে থাকা আর কী ঘটে তার জন্য অপেক্ষা করা। (সম্পূর্ণ…)

হারুকি মুরাকামির গল্প

এপ্রিলের এক অপরূপ সকালে ১০০% নিখুঁত মেয়েটির সঙ্গে দেখা হওয়ার পর

শিবব্রত বর্মন | ২২ ফেব্রুয়ারি ২০০৯ ৮:০০ অপরাহ্ন

হারুকি মুরাকামি জাপানি ভাষার জনপ্রিয় লেখক। জন্মেছেন ১৯৪৯ সালের ১২ জানুয়ারি কিয়োতোতে। বর্তমানে টোকিওতে থাকেন। ওপরের গল্পটি তার ‘দ্য এলিফেন্ট ভ্যানিশেস’ গল্পগ্রন্থ থেকে নেওয়া। বইটি জাপানি ভাষা থেকে ইংরাজিতে অনুবাদ করেছেন আলফ্রেড বার্নবম এবং জে রুবিন।

haruki.jpg
হারুকি মুরাকামি

মূল : হারুকি মুরাকামি
অনুবাদ : শিবব্রত বর্মন

এপ্রিলের এক অপরূপ সকালে, টোকিওর কেতাদুরস্ত হারাজুকু এলাকার সংকীর্ণ রাস্তায় আমি মুখোমুখি হেঁটে গেলাম আমার জন্য ১০০% নিখুঁত মেয়েটির সামনে দিয়ে।

সত্যি কথা বলতে কী, সে যে দেখতে খুব সুন্দর তা নয়। ভিড়ের মধ্যে তাকে আলাদা করা যাবে না। এমন বিশেষ চমকদার পোশাকও পরেনি সে। ঘুম ভেঙে এইমাত্র উঠে আসার কারণে অপরিপাটি পেছনের চুল। বয়সও খুব কম নয় — তিরিশের কাছাকাছি হবে। সেভাবে বললে, তাকে ‘মেয়ে’ই বলা চলে না। তবু পঞ্চাশ গজ দূর থেকেও আমি টের পেলাম: সে আমার জন্য ১০০% নিখুঁত মেয়ে। তাকে দেখামাত্র আমার বুকের ভেতরটা ধুকপুক করতে থাকলো, মরুভূমির মতো শুকিয়ে গেল জিহ্বা।

আপনাদের হয়তো নিজ নিজ প্রিয় ধাঁচের মেয়ে আছে — কারো বা হয়তো, ধরা যাক, চিকন হাঁটুর মেয়ে পছন্দ, কারো বড় বড় চোখের, কারো বা কোমনীয় আঙুলের, অথবা আপনি হয়তো তেমন কোনো বিশেষ কারণ ছাড়াই কোনো মেয়ের প্রতি আকৃষ্ট হন। আমার নিজেরও কিছু বিশেষ পছন্দ-অপছন্দ আছে। মাঝে মাঝে রেস্টুরেন্টে পাশের টেবিলের কোনো মেয়ের দিকে আমার চোখ আটকে যায় শুধু তার নাকটা আমার ভালো লেগে গেছে বলে।
তবে কেউ জোর গলায় বলতে পারবে না, তার জীবনের ১০০% নিখুঁত মেয়েটি আগে থেকে ঠিক করে রাখা কোনো ধাঁচের। এই যে নাকের ব্যাপারে আমার এতো বাছবিচার, কিন্তু সেই ১০০% নিখুঁত মেয়েটির নাকের আকৃতি আমি মনেই করতে পারছি না — এমনকি তার নাক ছিল কিনা সেটাই আমার মনে নেই। শুধু এটুকু আমি নিশ্চিত মনে করতে পারি যে, সে তেমন একটা সুন্দর ছিল না। অদ্ভুত ব্যাপার।

‘গতকাল রাস্তায় যেতে যেতে ১০০% নিখুঁত মেয়ের দেখা পেয়েছি,’ কোনো এক লোককে বললাম আমি।

লোকটা বলল, ‘তাই নাকি? খুব সুন্দর দেখতে?’

‘না তেমন একটা নয়।’ (সম্পূর্ণ…)

আর. কে. নারায়ণ-এর গল্প

মাসে পঁয়তাল্লিশ টাকা

আনিকা শাহ | ৫ নভেম্বর ২০০৮ ৪:৫৯ অপরাহ্ন

rk_narayan-3.jpgভারতীয় ঔপন্যাসিক রসিপুরম কৃষ্ণসোয়ামি আয়ার নারায়ণস্বামী-এর জন্ম ১৯০৬ সালে মাদ্রাজে (বর্তমানে চেন্নাই)। নারায়ণ ইংরেজিতে লেখালেখি করেছেন। তাঁর প্রথম উপন্যাস Swami and Friends বেরিয়েছিল ১৯৩৫ সালে। ঔপন্যাসিক গ্রাহাম গ্রিন এটি প্রকাশের ব্যবস্থা করেছিলেন। গ্রাহাম গ্রিনের পরামর্শে তিনি নাম সংক্ষিপ্ত করে আর. কে. নারায়ণও করেছিলেন। তাঁর উপন্যাস The Financial Expert মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে প্রকাশিত হয় ১৯৫২ সালে। আর. কে. নারায়ণের ১৫টি উপন্যাসের ১৪টিরই পটভূমি কাল্পনিক শহর মালগুডি। নিখুঁত সৌন্দর্যমণ্ডিত, বুদ্ধিদীপ্ত, জীবনঘনিষ্ঠ ও উপলব্ধিজাত তাঁর লেখার বর্ণনা প্রায়শই দক্ষিণ ভারতের গ্রামজীবন ছুঁয়ে যায়। ২০০১ সালে মারা যান আর. কে. নারায়ণ। আর. কে. নারায়ণকে আমেরিকান ঔপন্যাসিক উইলিয়াম ফকনারের সঙ্গে তুলনা করা হয়। মানবিকতায় ঋদ্ধ তাঁর লেখালেখিতে প্রাত্যহিক জীবনের আনন্দ ও প্রাণশক্তি টের পাওয়া যায়।

cartoon-r-k.jpg
…….
(বড়ভাই) ইন্ডিয়ার জনপ্রিয় কার্টুনিস্ট আর. কে. লক্ষণের কার্টুনে লেখক আর. কে. নারায়ণ
……
আর. কে. নারায়ণের প্রবাদপ্রতীম গ্রহণযোগ্যতা সত্ত্বেও কিছু সমালোচনা হয়েছে। তিনি মারা যাওয়ার কিছুদিন পর ভারতেরদি হিন্দু পত্রিকায় লেখক ও সমালোচক শশি থারুর ‘Comedies of Suffering’ লেখায় এভাবে বলেছিলেন, “Narayan was a consummate teller of timeless tales, a meticulous recorder of the ironies of human life, an acute observer of the possibilities of the ordinary: India’s answer to Jane Austen… …But I felt that they also pointed to the banality of Narayan’s concerns, the narrowness of his vision, the predictability of his prose, and the shallowness of the pool of experience and vocabulary from which he drew.”

অনুবাদ: আনিকা শাহ

শান্তা আর ক্লাসে থাকতে পারছিল না। কাদার ছাঁচ বানানো, গান, ড্রিল, অক্ষর আর সংখ্যা পরিচয় সব ক্লাস শেষ করে ও রঙ্গিন কাগজ কাটছিল। ঘন্টা বাজার পর যতক্ষণ না টিচার বলেন, “এখন তোমরা বাড়ি যেতে পার” অথবা, “কাঁচি সরিয়ে রেখে অক্ষরগুলো তুলে নাও” ততক্ষণ পর্যন্ত ওকে কাগজ কাটতে হবে। শান্তা সময় জানার জন্য অস্থির হয়ে উঠছিল। ও ওর পাশে বসা বন্ধুকে জিজ্ঞেস করল, “এখন কি পাঁচটা বাজে?”

“হয়তো”, সে উত্তর দিল।

“নাকি এখন ছয়টা বাজে?”

“মনে হয়না” ওর বন্ধু উত্তর দিল, “কারণ ছয়টার সময়ে রাত হয়ে যায়।”

“তোর কি মনে হয় এখন পাঁচটা বাজে?”

“হ্যা।”

“ওহ, আমাকে যেতে হবে। বাবা এতক্ষণে বাসায় এসে যাবে। বাবা বলেছিল আমাকে পাঁচটার মধ্যে তৈরি হয়ে থাকতে। বাবা আজকে সন্ধ্যায় আমাকে সিনেমায় নিয়ে যাবে। আমাকে বাসায় যেতেই হবে।”

কাঁচিটা ফেলে রেখে ও টিচারের কাছে দৌঁড় দিলো। “ম্যাডাম, আমাকে বাসায় যেতে হবে।”

“কেন, শান্তা বাঈ?” (সম্পূর্ণ…)

পিটার নাজারেথ-এর গল্প

মালদার

মাসুদ খান | ১৪ জুলাই ২০০৮ ৩:২১ অপরাহ্ন

সরকারি চাকরিতে যোগ দিয়েছিল বাবু মান্না লেইতাও। সেটা সেই আমলের কথা, যখন গোয়া-র বাসিন্দাদের কারুরই কোনো গাড়ি ছিল না। ছাতাটাকে ছড়ির মতো করে ধরে শহরটাতে ঘুরে বেড়াতে দেখা যেত তাকে, আর সেই কালে তার পক্ষে সেটাই ছিল মানানসই। কিন্তু দশকের পর দশক গুজরে যাওয়ার পর, এখন, যখন গোয়াবাসীরা সাইকেল-যুগ পার করে এসে পা দিয়েছে গাড়ির জমানায়, যখন তারা গাড়ির মালিক হওয়ার মতো যথেষ্ট স্বচ্ছল, তাজ্জব ব্যাপার, এই যুগে এসে কিনা তাকে দেখা যাচ্ছে ভেসে বেড়াতে নেড়িকুত্তার মতো, ফুটপাতে, অলিতে গলিতে। ‘কে এই বেখাপ্পামতন লোকটা?’ — হঠাৎ কারুর মধ্যে এমতো হুশ না হওয়া অব্দি যেন তার হুশের কিনার ধরে চুপিচুপি চলেছে মানুষটা।
—————————————————————–
মূল: পিটার নাজারেথ

অনুবাদ: মাসুদ খান

—————————————————————–
সত্যিই সে বেখাপ্পামতন। ঢাউস সাইজের মেছতাপড়া মুখ। চুলগুলা জলাজংলায় গজিয়ে ওঠা এক কিসিমের ঢেঁকিশাকের মতো, যাদের চোখা চোখা ডগাগুলা আস্তে আস্তে বেঁকে গিয়ে হয়ে যায় কুণ্ডলাকার। কান দুইটা যেন ইটালিক করে দিয়েছে মাথাটাকে আর সেই ইটালিক মাথার চুলগুলা সব মিনি-টেলিভিশন অ্যান্টেনার মতো খাড়া-খাড়া। ঠোঁট দুইটা দেখলেই মনে হয় লালসায় ভরা, আর তা বিশ্বাস যুগিয়েছে এই কেচ্ছাটায় যে — বিয়া না করলে কী হবে, তলে-তলে লোকটা কিন্তু ভীষণ কামুক। গোয়াবাসীরা মনে করত, বিয়া সে করে নাই কারণ বউ-বাচ্চা পালা তো খরচের কাম। (সম্পূর্ণ…)

এনগুগি ওয়া থিওংগ্’ও-এর গল্প

‘ফেরা’

শহীদুল জহির | ২৪ মে ২০০৮ ৩:৩৭ অপরাহ্ন

[অনুবাদ কৃত গল্পটি প্রয়াত শহীদুল জহিরের ছোট ভাই সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী হাবিবুল হকের সৌজন্যে পাওয়া। ফেলে যাওয়া লেখালেখির খোঁজ করতে গিয়ে জহিরের কম্পিউটারে এ অনুবাদটি তিনি আবিষ্কার করেন। বি .স.]

সে লম্বা পথ পাড়ি দিচ্ছিল। পা ফেলা মাত্র ধুলো লাফিয়ে উঠে তার পিছনে ছুটছিল, তারপর পুনরায় থিতিয়ে আসছিলো। তাসত্ত্বেও পাতলা পর্দার মত ধুলো বাতাসে ঝুলে ছিল এবং ধোয়ার মত নড়ছিল। ধুলো এবং পায়ের নিচের মাটির দিকে খেয়াল না করে সে তার হাঁটা অব্যাহত রাখে। তবে প্রতি পদক্ষেপে সে তার পায়ের তলার মাটির কাঠিন্য এবং আপাত বিদ্বেষের
—————————————————————–
মূল: এনগুগি ওয়া থিওংগ্’ও

অনুবাদ: শহীদুল জহির

—————————————————————–
বিষয়ে ক্রমাগত ভাবে সচেতন হয়। অবশ্য তার মানে এই নয় যে, সে রাস্তার দিকে তাকিয়ে হাঁটে, বরং সে তার দৃষ্টি সামনের দিকে সোজা প্রসারিত করে রাখে যেন সহসাই সে এমন কোন বস্তু দেখতে পাবে যা তাকে বন্ধু বলে স্বাগত জানাবে এবং বলবে যে, সে বাড়ির কাছে এসে গেছে। কিন্তু রাস্তা শেষ হয় না।

সে দ্রুত এবং আলতো পায়ে হাঁটে, বাঁ হাতটা তার দেহের কোটের পাশে দোল খায়, যে কোটটা একদা সাদা ছিল, বর্তমানে ছিঁড়ে ক্ষয়ে গেছে। তার ডান হাত কনুইয়ের কাছে বাঁকা হয়ে ঈষৎ কুঁজো পিঠের ওপর রাখা একটি বোচকার দড়ির প্রান্ত ধরে রাখে। বোচকাটা একটি সুতি কাপড় দিয়ে ভালভাবে জড়ানো, বিবর্ণ হয়ে যাওয়া যে-কাপড়ে একদা ছাপানো লাল ফুল ছিল; বোচকাটা তার চলার ছন্দের সঙ্গে তাল মিলিয়ে একদিক থেকে অন্যদিকে দোল খায়। এই বোচকা বন্দি শিবিরে কাটানো তার বছরগুলোর তিক্ততা আর কষ্টের স্মৃতি বহন করে। বাড়ির পথে সে মাঝে মাঝে সূর্যের দিকে মুখ তুলে দেখে। কখনো কখনো সে দ্রুত বাঁকা চোখে নিচু ঝোপঝাড়ে পূর্ণ লম্বা চিলতে জমির দিকে তাকায়, এই জমি, জমির রুগ্ন দেখতে ফসল, ভুট্টা, শিম এবং মটরশুটিসহ অন্য সবকিছুর মতই লাগে — অবন্ধুসুলভ। (সম্পূর্ণ…)

আর. কে. নারায়ণ-এর গল্প

বাবার সাহায্য

আনিকা শাহ | ১২ মার্চ ২০০৮ ১২:৪৮ পূর্বাহ্ন

ভারতীয় ঔপন্যাসিক রসিপুরম কৃষ্ণসোয়ামি আয়ার নারায়ণস্বামী-এর জন্ম ১৯০৬ সালে মাদ্রাজে (বর্তমানে চেন্নাই)। নারায়ণ ইংরেজিতে লেখালেখি করেছেন। তাঁর প্রথম উপন্যাস rk-1.jpg
…….
আর. কে. নারায়ণ (১৯০৬-২০০১)
……
Swami and Friends বেরিয়েছিল ১৯৩৫ সালে। ঔপন্যাসিক গ্রাহাম গ্রিন এটি প্রকাশের ব্যবস্থা করেছিলেন। গ্রাহাম গ্রিনের পরামর্শে তিনি নাম সংক্ষিপ্ত করে আর. কে. নারায়ণও করেছিলেন। তাঁর উপন্যাস The Financial Expert মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে প্রকাশিত হয়green.jpg
…….
গ্রাহাম গ্রিনের সঙ্গে বিবিসি স্টুডিওতে, ১৯৫৭
……
১৯৫২ সালে। আর. কে. নারায়ণের ১৫টি উপন্যাসের ১৪টিরই পটভূমি কাল্পনিক শহর মালগুডি। নিখুঁত সৌন্দর্যমণ্ডিত, বুদ্ধিদীপ্ত, জীবনঘনিষ্ঠ ও উপলব্ধিজাত তাঁর লেখার বর্ণনা প্রায়শই দক্ষিণ ভারতের গ্রামজীবন ছুঁয়ে যায়। ২০০১ সালে মারা যান আর. কে. নারায়ণ। আর. কে. নারায়ণকে আমেরিকান ঔপন্যাসিক উইলিয়াম ফকনারের সঙ্গে তুলনা করা হয়। মানবিকতায় ঋদ্ধ তাঁর লেখালেখিতে প্রাত্যহিক জীবনের আনন্দ ও প্রাণশক্তি টের পাওয়া যায়।

আর. কে. নারায়ণের প্রবাদপ্রতীম গ্রহণযোগ্যতা সত্ত্বেও কিছু সমালোচনা হয়েছে। তিনি মারা যাওয়ার কিছুদিন পর ভারতেরদি হিন্দু পত্রিকায় লেখক ও সমালোচক শশি থারুর ‘Comedies of Suffering’ লেখায় এভাবে বলেছিলেন, “Narayan was a consummate teller of timeless tales, a meticulous recorder of the ironies of human life, an acute observer of the possibilities of the ordinary: India’s answer to Jane Austen… …But I felt that they also pointed to the banality of Narayan’s concerns, the narrowness of his vision, the predictability of his prose, and the shallowness of the pool of experience and vocabulary from which he drew.”

অনুবাদ: আনিকা শাহ

বিছানায় শুয়ে থাকতে থাকতে সোয়ামি হঠাৎ বুঝতে পারলো যে দিনটি সোমবার। যদিও এক মুহূর্ত আগেও মনে হচ্ছিল যে শুক্রবারের শেষ প্রহরটি চলছিল কিন্তু ইতোমধ্যেই সোমবার এসে গিয়েছে। সে আশা করল যেন একটা ভূমিকম্প এসে স্কুলের দালানটাকে ধূলিস্মাৎ করে দেয়, কিন্তু অ্যালবার্ট মিশনারী স্কুলের সেই দৃঢ় দালানটি এই একই প্রার্থনা উপেক্ষা করে প্রায় একশ বছরেরও ওপর হলো দাঁড়িয়ে আছে।

নয়টা বাজলে সোয়ামীনাথন আর্তনাদ করে উঠল, “আমার মাথা ব্যাথা।” তার মা বললেন, দতুই একটা জাটকায় ( ঘোড়া-টানা দুই চাকাওয়ালা গাড়ি) করে চলে যাস না কেন?”

“রাস্তার ঐ মাথায় যেয়ে আমি মারা যাই আর কি? তুমি জান জাটকায় ঝাঁকি খেতে কেমন লাগে?”

“তোর কি আজকে কোনো জরুরি পড়া আছে?”

“জরুরি না ছাই! ভূগোলের শিক্ষক তো এক বছরের ওপর হয়ে গেল একই পড়া পড়াচ্ছেন। আর গণিতের ক্লাস আছে, তার মানে পুরো একটা পিরিয়ড ধরে টিচারের মার খেতে হবে।…জরুরি পড়া!”

এবং মা তখন উদার হয়ে সোয়ামিকে স্কুলে না যাবার পরামর্শ দিলেন।

সাড়ে নয়টায়, যখন সোয়ামির স্কুলের মাঠে চিৎকার করার কথা ছিল তখন সে তার মার ঘরের খাটের ওপর শুয়ে থাকল।

ওর বাবা জিজ্ঞেস করলেন, ‍‍“স্কুল নাই আজকে?”

“মাথা ব্যাথা।” সোয়ামি উত্তর দিল।

“বাজে কথা! কাপড় পড়ে স্কুলে যা।”

“মাথা ব্যাথা।”

“তো রবিবারে এখানে সেখানে একটু কম ঘোরাঘুরি করলেই সোমবার আর মাথাব্যাথা থাকে না।”

সোয়ামি জানত যে তার বাবা কতটা একগুঁয়ে তাই সে তার কৌশল পরিবর্তন করল। “তাই বলে আমি এত দেরিতে স্কুলে যেতে পারি না।” (সম্পূর্ণ…)

« আগের পাতা | পরের পাতা »

Disclaimer & Privacy Policy  |  About us  |  Contact us

© bdnews24.com