অনুবাদ গল্প

হোর্হে লুইস বোর্হেসের প্যারাবোল : স্বপ্নবাঘেরা

আবদুস সেলিম | ১২ মে ২০১৭ ৬:৩৩ অপরাহ্ন

Tigerশৈশব থেকে বাঘ নিয়ে আমার অন্তহীন আবেগাকীর্ণ আরাধনা ছিল: না, পারানা নদীর পাড়ের হলদে বাঘ নয় কিংবা আমাজনের বড় বড় লোমঅলা বাঘও নয়, এশিয়ার সেই রাজকীয় বাঘ, যাদের শুধুমাত্র কেল্লাবাসী অস্ত্রবাজ হাতী-সওয়ার শিকারীরাই শিকার করতে পারে। আমি চিড়িয়াখানার বাঘেদের খাঁচাগুলোর সামনে সীমাহীন ঘোরাঘুরি করতাম: ভারি ভারি জ্ঞানকোষ আর নিসর্গের তথ্যাকীর্ণ বইয়ে তন্নতন্ন করে খুঁজে বের করার চেষ্টা করতাম ঐসব চিড়িয়াখানার বাঘেদের চমৎকৃতির ইতিবৃত্ত। (আমার স্মৃতিতে এখনও সেইসব পরিচ্ছন্ন সচিত্র বর্ণনা অত্যুজ্জল– সেই আমি যার স্মৃতি রোমন্থনে উঠে আসে না কোনো সুন্দরী নারীর লাস্যময় স্মিত হাসি।) আমার শৈশব-অন্তে সেই আবেগ-বিধুর বাঘেরা হয়ে গেল বিবর্ণ, স্থিত হলো আমার স্বপ্নে। এক অবচেতনে কিংবা বিশৃঙ্খল ব্যাপ্তিতে তাদের অস্তিত্ব এখন, কিন্তু স্থায়ী হলো অনড় অবস্থানে ঠিক এভাবে: আমার ঘুমের ভেতর কোনো-না-কোনো স্বপ্ন আমাকে করে উথাল-পাথাল আর আচমকা অনুভব করি আমি তো স্বপ্নই দেখছি। আর সেই সব মুহূর্তে আমি ভাবতে চেষ্টা করি: এ তো শুধুই স্বপ্ন, আমারই মনের কল্পিত আকাঙক্ষার রূপ; আর যেহেতু আমার শক্তি অপরিসীম, আমার সেই স্বপ্নবাঘ আমি সৃষ্টি করব নিশ্চয় একদিন। (সম্পূর্ণ…)

মাৎসুও বাশোর গল্প: বৃদ্ধা মা

সোহরাব সুমন | ৯ জানুয়ারি ২০১৭ ৭:৫২ অপরাহ্ন

গল্পটি ইংরেজিতে দ্য স্টোরি অব দি এজড মাদার নামেও পরিচিত, জাপানি এই লোককাহিনিটিতে অজানা এক শাসকের গল্প বলা হয়েছে যিনি তার দেশের সব বৃদ্ধকে পরিত্যাগ করে মৃত্যু বরণ করতে দেয়াসহ আরো সব নিষ্ঠুর আদেশ জারি করতেন। এখানে বাশো একজন মা এবং তার ছেলের পরস্পরের প্রতি ভালোবাসা নিয়ে করুণ একটি গল্প লিখেছেন। গল্পটি ইংরেজি থেকে অনুবাদ করেছেন সোহরাব সুমন। বি. স.

Aged-motherঅনেক অনেক দিন আগে পাহাড়ের পাদদেশে এক দরিদ্র কৃষক এবং তার বিধবা মা বসবাস করত। তাদের একখন্ড জমি ছিল, সেখান থেকে তাদের খাবার-দাবার আসতো। তারা ছিল খুবই বিনয়ী, শান্তিকামী, এবং সুখী।
এক অসীম ক্ষমতাধর নেতা সে সময় শাইনিং শাসন করছিলেন। একজন যোদ্ধা হবার পরও স্বাস্থ্য আর শক্তিহানির যে কোন ঘটনার প্রতি তার ছিল প্রচণ্ড ধরনের কাপুরুষোচিত এক সঙ্কোচ। এধরনের ধ্যান-ধারণা থেকে সে নিষ্ঠুর এক আদেশ জারি করতে প্রোরোচিত হয়। সমস্ত প্রদেশ জুড়ে সত্বর সব বৃদ্ধ লোকেদের মেরে ফেলার কঠোর আদেশ জারি করা হয়। বর্বরতম সেই যুগে, মরবার জন্য বৃদ্ধদের দূরে কোথাও ফেলে আসার রীতি খুব অস্বভাবিক কোন ঘটনা ছিল না। দরিদ্র কৃষক খুব ভক্তি আর শ্রদ্ধা সহকারে তার বৃদ্ধা মাকে ভালোবাসতো আর তাই এমন আদেশ শুনে তার মন গভীর দুঃখে ভারাক্রান্ত হয়ে ওঠে। কিন্তু শাসকের আদেশ অমান্য করবার কথা কেউই দুবার চিন্তা করতে পারতো না, তাই প্রচণ্ড হতাশায় বারবার দীর্ঘশ্বাস ফেলে, সেই যুবক তার মায়ের জন্য সে সময়কার প্রচলিত সবচেয়ে সদয় মৃত্যু নিশ্চিত করবার প্রস্তুতি নিতে শুরু করে। (সম্পূর্ণ…)

ভার্জিনিয়া উলফের ছোটগল্প: অভিশপ্ত বাড়ি

রেশমী নন্দী | ৮ december ২০১৬ ৬:০৫ অপরাহ্ন

এ্যাডেলাইন ভার্জিনিয়া উলফ, যাকে বিশ্ব চেনে ভার্জিনিয়া উলফ নামে, ঊনিশ শতকের অন্যতম নারীবাদী সাহিত্যিক। জন্ম ১৮৪২ সালে। প্রথম ও দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের মধ্যবর্তী সময়কালে তিনি ছিলেন লন্ডন লিটারেসি সোসাইটি-এর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিত্ব। ১৯২৯ সালে প্রকাশিত ভার্জিনিয়া উলফের “A room of one’s own” নারীবাদী আলোচনায় অসাধারণ এক সংযোজন। ১৯২১ সালে তাঁর ছোট গল্পের সংকলন ” Monday Or Tuesday” প্রকাশিত হয়। এ সংকলনেরই একটি গল্প “A haunted house” এর ভাবানুবাদ “অভিশপ্ত বাড়ি”। অনুবাদ করেছেন রেশমী নন্দী। বি.স

Varginiaরাতের যে সময়টাতেই ঘুম ভাঙুক না কেন, দেখতে পাবো, কোন একটা দরজা বন্ধ হচ্ছে। অশরীরী এক যুগল যেন এ ঘর থেকে ও ঘরে ঘুরে বেড়াচ্ছে, হাতে হাত রেখে। এটা তুলছে, ওটা খুলছে-যেন কিছু একটা খুঁজছে।
“এখানেই রেখে গিয়েছিলাম” অন্যজন যোগ করে, “হুম, এখানেও”। নারী কন্ঠ ফিসফিস করে উঠে, “উপরেও আছে”। পুরুষ কন্ঠ যোগ করে, “বাগানেও”। “আস্তে, সবাই জেগে যাবে।” কিন্তু তোমরা আমায় জাগাওনি।
বইয়ের পাতা উল্টাতে উল্টাতে কেউ একজন বললো,” ওই যে পর্দা টেনে দিয়ে ওরা খুঁজছে কিছু একটা।” লিখতে লিখতে কলম থামিয়ে কেউ হয়তো বললো, “ওরা কিছু খুঁজে পেয়েছে।” অথচ উঠে দাঁড়িয়ে চারদিকে তাকালেই দেখে, সারা বাড়ি খালি পড়ে আছে, দরজাটা হাট করে খোলা। কেবল শোনা যাচ্ছে বনকপোতের বকবকম আর কারখানা থেকে ভেসে আসা যন্ত্রের শব্দ।
“আমি কেন এখানে এসেছিলাম? কি খুঁজতে? আমার হাত তো খালিই ছিল।”
“হয়তো ওটা উপরে?” আপেলগুলো জমানো আছে, বাগানেও কোন বদলের ছাপ নেই, কেবল ঘাসের উপর একটা বই পড়ে আছে। (সম্পূর্ণ…)

রবার্ট শেকলির বিজ্ঞান কল্পকাহিনী: জীবনধারনের খরচ

রেশমী নন্দী | ২৭ অক্টোবর ২০১৬ ৭:০১ অপরাহ্ন

Robert S.মার্কিন কল্পবিজ্ঞান লেখক রবার্ট শেকলেই-এর জন্ম ১৯২৮ সালে। কল্পবিজ্ঞানের ২৭টি উপন্যাস ছাড়াও অসংখ্য ছোটগল্পের লেখক তিনি। জীবনের বিভ্রান্তিকর অস্তিত্বের অংশ হিসেবে প্রগাঢ় শূণ্যতাবোধের চর্চা তাঁর লেখার অন্যতম বৈশিষ্ট্য। কল্পবিজ্ঞানের গুরুত্বপূর্ণ এই লেখককে সায়েন্স ফিকশন এন্ড ফ্যান্টাসি রাইটার অব আমেরিকার পক্ষ থেকে ২০০১ সালে দেয়া হয় “অথর এমিরেটাস” খেতাব। ৭৭ বছর বয়সে ২০০৫ সালে মারা যান তিনি। অনূদিত লেখাটি ১৯৫২ সালে আমেরিকার কল্পবিজ্ঞান বিষয়ক ম্যাগাজিন “গ্যালাক্সি”তে প্রথম ছাপা হয়। ইংরেজি থেকে গল্পটি অনুবাদ করেছেন রেশমী নন্দী। বি.স.

কেরিনের মনে হচ্ছিল, গত সপ্তাহে মিলারের মৃত্যুর শোকটা হয়তো দ্রুত কাটিয়ে উঠবেন তিনি। কিন্তু অস্পষ্ট, অবয়বহীন ভয়টা মনের মধ্যে থাবা গেড়ে বসে আছে আজও। ভয়াবহ বোকামী। মিলার মরলো তো কার কি।

কিন্তু, মোটাসোটা, হাসিখুশি মিলার আত্মহত্যা করলো কেন? ওর তো সবই ছিল- স্ত্রী, সন্তান, ভালো চাকরী, সময়োপযোগী ঝাঁ চকচকে জীবন। তবু, মিলার এমন কেন করলো?

“শুভ সকাল” খাওয়ার টেবিলে বসতেই স্ত্রী লীলার সম্ভাষণ শুনলেন কেরিন।

“শুভ সকাল, ডার্লিং। বিলি, শুভ সকাল”। উত্তরে ছেলে একটু শব্দ করলো মাত্র।

মানুষ সম্পর্কে কিছু বলা মুশকিল, ভাবতে ভাবতে ব্রেকফাস্টের জন্য ডায়াল করলেন কেরিন। মুহূর্তেই এভিগনন ইলেকট্রিক অটো-কুকের বানানো চমৎকার নাশতা হাজির হয় কেরিনের সামনে। (সম্পূর্ণ…)

যুগলের বিয়োগাত্মক সমাপ্তি

রেশমী নন্দী | ৩০ মে ২০১৬ ৪:৩৩ অপরাহ্ন

witold.jpgপোলিশ লেখক Witold Gombrowicz-এর লেখাটি প্রথম প্রকাশিত হয় ১৯৩৩ সালে পোল্যান্ডের দৈনিক Kurier Poranny (The Morning Courier) এ। Tul’si Bhambry করা ইংরেজী অনুবাদে পরে এটি প্যারিস রিভিউ পত্রিকার Spring 2016 No. 216 সংখ্যায় প্রকাশিত হয়। ইংরেজি অনুবাদের ভিত্তিতে এটি বাংলায় তর্জমা করেছেন রেশমী নন্দী। বি. স

অপূর্ব সুন্দরী ছিলেন তিনি। একজন ভদ্রলোক সম্ভ্রান্ত পরিবারের এই নারীকে বিয়ে করেন। স্ত্রীকে অবিশ্বাস করার তেমন কোন কারণ ওই ভদ্রলোকের ছিল না, কেবল বয়সের ছাপ পড়ে যাওয়া নিজের শরীর আর লাবন্যময়ী স্ত্রীর উদ্বেগজনক সৌন্দর্য ছাড়া। এ ধরনের পরিস্থিতি ভদ্রলোকদের জন্য আসলেই জটিল ( বিশেষ করে এ ক্ষেত্রে স্বামীটি যেহেতু অত্যন্ত নীতিপরায়ণ)। সুখে শান্তিতে দাম্পত্য জীবন অতিবাহিত হবার কয়েক বছর পর একদিন স্বামীর গলা জড়িয়ে ধরে ভদ্রমহিলা বলেন,” আমার মনে হয়, একটা কথা তোমায় জানানো উচিত। হেনরিক আমার প্রেমে পড়েছে। গতকাল ও এমন হঠাৎ করে কথাটা আমাকে বললো যে তাকে থামানোর সুযোগই আমি পায়নি।”
“তুমিও কি তার প্রেমে পড়েছো?”
” না, আমার প্রেম কেবল তোমারই জন্য।”
” তাহলে বেশ। যদি তোমার ওকে ভালো লাগে অথচ তুমি ওকে ভালোবাসছো না কেবল আমার প্রতি তোমার কর্তব্যের কথা মাথায় রেখে, তাহলে আজ থেকে তোমার প্রতি আমার ভালোবাসা, শ্রদ্ধা দ্বিগুণ হয়ে গেলো। আর চরিত্রহীনের মতো একজন বিবাহিত মহিলার প্রেমে পড়ে যাওয়ার উপযুক্ত শাস্তিই পেয়েছে সে ছোকরা।” ভদ্রলোক বলে চললেন, ” ওগো, ন্যায় অন্যায় বোধই তো সব। এরপর কখনো যদি সে ছোকরা তোমাকে প্রেম নিবেদন করতে আসে, তাহলে তাকে তুমি কর্তব্যজ্ঞান সম্পর্কে কিছু শুনিয়ে দিয়ো। নীতির প্রতি অটল মানুষই কেবল মাথা উঁচু করে বাঁচতে পারে। ” (সম্পূর্ণ…)

এলিস মুনরোর গল্প: নিশুতি

নুসরাত সুলতানা | ১১ জুন ২০১৫ ৬:৪৬ অপরাহ্ন

আমার ছোটবেলার কথা বলছি। সে সময় আমাদের এলাকার কেউ প্রসব ব্যাথা বা অ্যপেন্ডিক্সের ব্যাথার ছটফট্ করছে কিংবা হঠাৎ কারো কোনো ভয়াবহ শারিরীক অসুস্থতা, অথচ বাইরে তুষার ঝড় হচ্ছে না এমন কখনো হয়েছে আমার মনে পড়ে না। রাস্তা বন্ধ, গাড়ী চলার প্রশ্নই ওঠে না। রুগী শহরের হাসপাতালে নেবার জন্য তখন ঘোড়াই ছিল একমাত্র ভরসা। ভাগ্যিস তখনও সহজেই ঘোড়া পাওয়া যেত আশেপাশে।

স্বাভাবিকভাবেই আমার পেটের একপাশে যখন ব্যাথা শুরু হল তখন রাত এগারটা এবং বাইরে চলছে তুষার ঝড়ের তান্ডব। আমরা কোন ঘোড়া পালতাম না, তাই প্রতিবেশীদের ডেকে তুলতে হল ঘোড়ায় করে আমাকে হাসপাতালে নেবার জন্য। রাস্তা মোটে দেড় মাইল কিন্তু সে রাস্তা পাড়ি দেয়া এক অভিযান যেন। হাসপাতালে ডাক্তার অপেক্ষা করছিল আগে থেকেই এবং সবাই যেমন ভেবেছিল তেমনই হল। তোড়জোড় শুরু হল আমার অ্যপেন্ডিক্স অপারেশনের।

মাঝে মাঝে ভাবি, সে সময় কি এরকম আরো অ্যপেন্ডিক্স অপারেশন হত? এখন যে প্রচুর হয় তা জানি, এমনকি একজনের কথা জানি যার অপারেশনটা ঠিক সময় না হওয়াতে তাকে বাঁচানোই যায়নি। তবে আমার যতধুর মনে পড়ে আমার বয়সের কারো কারো এই অপারেশনটা করাতে হত। সংখ্যায় খুব একটা বেশী ছিল না যদিও। আর মনে হয় খুব একটা অপ্রত্যাশিত বা দুঃখজনকও ছিল না কারণ অপারেশনটা হওয়া মানেই ছিল স্কুল থেকে ছুটি। আবার ব্যাপারটার সাথে এক ধরনের মর্যাদা যুক্ত ছিল– অন্যদের চেয়ে আলাদা একটা অবস্থান পাওয়া। মৃত্যুর দুয়ার থেকে ফিরে আসার স্বস্তি। (সম্পূর্ণ…)

তোতাপাখির পুনর্জন্মের গল্প

আলম খোরশেদ | ১৫ এপ্রিল ২০১৫ ১০:০৬ অপরাহ্ন

eduardo-galeano.jpegসদ্য প্রয়াত লেখক এদুয়ার্দো গালেয়ানো (১৯৪০- ২০১৫): সমকালীন লাতিন আমেরিকান সাহিত্যের গুরুত্বপূর্ণ লেখকদের একজন এদুয়ার্দো গালেয়ানো উরুগুয়াই-এর মন্তেবিদেয়ো শহরে ১৯৪০ সালে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি একাধারে ঐতিহাসিক, ঔপন্যাসিক, ছোটগল্পকার, সাংবাদিক ও সমাজচিন্তক। অভিনব ভাষা ও ভঙ্গিতে লেখা তাঁর কালজয়ী রচনা ওপেন ভেইনস অভ্ লাতিন আমেরিকা (১৯৭১) এই মহাদেশের সমাজ-ইতিহাস-রাজনীতি-অর্থনীতি বোঝার জন্য একটি অপরিহার্য গ্রন্থ হিসাবে বিশ্বব্যাপী স্বীকৃত। এছাড়া তাঁর অপর উল্লেখযোগ্য গ্রন্থসমূহ হচ্ছে: (ট্রিলজি) মেমোরি অভ্ ফায়ার (১৯৮২-১৯৮৬), ছোটগল্প গ্রন্থ দ্য বুক অভ্ এমব্রেসেস (১৯৮৯) এবং মিররস: স্টোরিজ অভ্ অলমোস্ট এভরিওয়ান (২০০৮) ইত্যাদি। গত ১৩ এপ্রিল তিনি মারা গেছেন। গালেয়ানোর এই গল্পটি মূল থেকে অনুবাদ করেছেন স্প্যানিশ সাহিত্যের অনুবাদক ্ও বিশেষজ্ঞ আলম খোরশেদ। বি.স (সম্পূর্ণ…)

এলিস মুনরোর গল্প: চোখ

নুসরাত সুলতানা | ১ জানুয়ারি ২০১৫ ১১:০৯ অপরাহ্ন

alice-munro-005.jpg নোবেলজয়ী লেখক এলিস মুনরোর এ গল্পটি তার Dear Life গ্রন্থ থেকে নেয়া হয়েছে। নুসরাত সুলতানার অনুবাদে গল্পটি আর্টস.bdnews24.com-এর পাঠকদের জন্য এখানে প্রকাশ করা হলো । বি. স.

হঠাৎই আমার মায়ের একটা ছেলে জন্মাল। আমার বয়স তখন পাঁচ। আর আমার মা বলতে শুরু করল আমি নাকি সবসময়ই একটা ভাই চাইতাম। এই ধারণা মায়ের মাথায় কোত্থেকে এল আমি জানি না। মা বেশ রসিয়ে রসিয়ে ব্যাপারটা বর্ণনা করত–মনগড়া তথ্যে ভরা অথচ অস্বীকার করার জন্য পাল্টা জবাব দেয়াও কঠিন।

এর এক বছর পর ঘরে এল একটা মেয়ে সন্তান। আবারও শুরু হল একরাশ আদিখ্যেতা। তবে এবার আদিখ্যেতার পরিমাণটা গতবারের চেয়ে খানিকটা কম।

প্রথম বাচ্চাটা জন্মানোর আগ পর্যন্ত আমি আমার সম্পর্কে মায়ের সব কথাই বেদবাক্যের মত মেনে নিতাম, ভাবতাম মা যেমন বলে আমি ঠিক তেমনই। আর সে পর্যন্ত আমাদের বাড়ী জুড়ে মায়ের উপস্থিতিই ছিল সবচেয়ে প্রবল, মায়ের পায়ের শব্দ, কণ্ঠস্বর, মা ঘরে না থাকলেও তার ভয়-জাগানো গন্ধে ঘরগুলো ভরে থাকত। (সম্পূর্ণ…)

হুয়ান বিয়োরোর গল্প: রাশিচক্র

বিনয় বর্মন | ২ নভেম্বর ২০১৪ ১:৪১ পূর্বাহ্ন

villoro.gifহুয়ান বিয়োরো (Juan Villoro) মেক্সিকোর প্রখ্যাত লেখক ও সাংবাদিক। তাঁর জন্ম মেক্সিকো সিটিতে ১৯৫৬ সালের ২৪ সেপ্টেম্বর। কথাসাহিত্যিক হিসেবে তিনি লাতিন আমেরিকায় বিশেষ সুনাম কুড়িয়েছেন। তাঁর El Testigo (সাক্ষী) উপন্যাসের জন্য ২০০৪ সালে লাভ করেছেন সম্মানজনক হেরালদে পুরস্কার। উপন্যাসের পাশাপাশি তিনি প্রচুর গল্প লিখেছেন। তাঁর Patrón de Espera (Holding Pattern) গল্পটি এখানে ‘রাশিচক্র’ নামে অনূদিত হয়েছে। Lisa M. Dillman-কৃত ইংরেজি ভার্শন থেকে বাংলায় অনুবাদ করেছেন বিনয় বর্মন। (সম্পূর্ণ…)

হারুকি মুরাকামির গল্প: শিকারের ছুরি

রওশন জামিল | ১০ আগস্ট ২০১৪ ৮:৫৩ অপরাহ্ন

যমজ দ্বীপের মত দুটো ভেলা বাঁধা উপকূলে। সৈকত থেকে সাঁতরে যাওয়া-আসার জন্য নিখুঁত দূরত্বে ওগুলো — গুনে গুনে পঞ্চাশবার হাত-পা ছুড়ে যাওয়া যায় যেকোন একটায়, তারপর একটা থেকে আরেকটায় তিরিশবার হাত-পা চালনা। আনুমানিক চোদ্দ ফুট চৌকো, প্রতিটা ভেলায় একটা করে ধাতব সিঁড়ি, আর ওপরটা কৃত্রিম ঘাসের কার্পেট। পানি, এখানে দশ বা বারো ফুট গভীর, এত টলটলে যে আপনি ভেলাগুলোর সঙ্গে বাঁধা শেকল অনুসরণ করে অনায়াসে তলদেশের কংক্রিটের নোঙর দেখতে পাবেন। সাঁতারের জায়গাটা প্রবাল প্রাচীরে ঘেরা, ঢেউ বলতে যৎসামান্য, ফলে ভেলাদুটো ঈষৎ দুলছিল মাত্র। দিনের পর দিন প্রখর খরতাপের নিচে ওখানে বাঁধা অবস্থায় কেমন যেন হালছাড়া মনে হতো ওগুলোকে। (সম্পূর্ণ…)

খোয়াকিম মারিয়া মাচাদো দি আসিসের গল্প: ইবলিসের গির্জা

রওশন জামিল | ৯ জুন ২০১৪ ৮:৪৬ অপরাহ্ন

border=0‘আ ইগরেহা দু দিয়াবো” নামে এই গল্পটি ১৮৮৪ সালে মাচাদো দি আসিসের ছোটগল্প সংগ্রহে প্রকাশিত হয়। এই বাংলা অনুবাদের ভিত্তি টেক্সাস প্যান অ্যামেরিকান সিরিজভুক্ত জ্যাক শ্মিট ও লোরি ইশিমাৎসু অনূদিত ও সম্পাদিত ইংরেজি দি ডেভিলস্ চার্চ অ্যান্ড আদার স্টোরিজ-ভুক্ত ‘দি ডেভিলস চার্চ।’ ইংরেজি থেকে গল্পটি বাংলায় তর্জমা করেছেন অনুবাদক রওশন জামিল । (সম্পূর্ণ…)

ইউসুফ ইদ্রিসের গল্প: এক কামরার ঘর

রেশমী নন্দী | ১৬ ফেব্রুয়ারি ২০১৪ ৬:৫৭ অপরাহ্ন

ইউসুফ ইদ্রিস (জন্ম:১৯২৭, মৃত্যু:১৯৯১) আরবী ভাষার সমসাময়িক লেখকদের মধ্যে অন্যতম একজন। মিশরীয় এই ছোট গল্পকার ও নাট্যকার পেশাগত জীবনে একজন চিকিৎসক ছিলেন। কট্টর বামপন্থী এই লেখক তাঁর রাজনৈতিক আদর্শের কারণে জেলও খেটেছেন। তাঁর লেখায় সমন্বয় ঘটেছে প্রচলিত আখ্যানরুপের সঙ্গে চলিত কথনের, ফুটে উঠেছে সাধারণ গ্রাম্য জীবনের বাস্তবতা। অনুদিত ‘A House of Flesh ‘ গল্পটি প্রথম প্রকাশিত হয় ১৯৭১ সালের এক গল্প সংকলনে। মোনা মিখাইলের ইংরেজী অনুবাদ অনুসরণে লেখাটি বাংলায় তর্জমা করেছেন রেশমী নন্দী। বি. স. (সম্পূর্ণ…)

পরের পাতা »

Disclaimer & Privacy Policy  |  About us  |  Contact us

© bdnews24.com