সেমিনার

সার্ক সুফি ফেস্টিভাল: প্রাচীন প্রাসাদে কুহকী কাব্য

ঝর্না রহমান | ২৭ অক্টোবর ২০১৫ ৭:৫৫ অপরাহ্ন

15-the-bangladesh-team-with-thakurani-jyotika-sing.JPG২০১৫ সনের ১০, ১১ ও ১২ অক্টোবর তারিখে ভারতের জয়পুরের অনুষ্ঠিত হয়ে গেলো ‘সার্ক সুফি ফেস্টিভাল’। এটি মূলত ৫০তম সার্ক সাহিত্য উৎসব। এ উৎসবে যোগ দিতে ‘পিংক সিটি’সহ অজস্র ঐতিহাসিক কীর্তিশোভিত শহর জয়পুরের প্রাচীন রাজপুত প্রাসাদ ‘ডিগ্গি প্যালেস’-এ সমবেত হয়েছিলেন সার্কভুক্ত আটটি দেশের জ্ঞানীগুণী ব্যক্তিবর্গ। এঁরা প্রায় সবাই-ই ছিলেন নিজ নিজ দেশের স্বনামধন্য কবি, সাহিত্যিক, গবেষক, বিদগ্ধ পণ্ডিত ও ধীমান ব্যক্তিত্ব। এঁদের মধ্যে অনেকেই ছিলেন সুফিবাদ, সুফিসাহিত্য, মরমী সাহিত্য ও ভক্তিরসাশ্রিত লোকসাহিত্যে বিশিষ্ট প্রতিভাধর ব্যক্তিত্ব। অক্টোবরের এই তিনটি দিন এ সমস্ত আলোকিত ব্যক্তিত্বের সুফিবাদকেন্দ্রিক সৃজনশীল ও মননশীল উপস্থাপনা, আলাপ-আলোচনা, পারস্পরিক চিন্তাচেতনা ও ভাববিনিময় এবং অত্যন্ত জাঁকজমকপূর্ণ সাংস্কৃতিক আয়োজনে মুখরিত ছিলো।

‘সার্ক সাহিত্য উৎসব’ সার্ক-এর এপেক্স বডি ‘ফাউন্ডেশন অব সার্ক রাইটার্স অ্যান্ড লিটারেচার’ ( FOSWAL ) আয়োজিত একটি আন্তর্জাতিক সাহিত্য সম্মেলন। ১৯৮৬ সনে এ ফাউন্ডেশনের যাত্রা শুরু আর প্রথম সার্ক সাহিত্য সম্মেলনটি অনুষ্ঠিত হয় ২০০০ সনের এপ্রিল মাসে।
সার্কভুক্ত দেশসমূহ– বাংলাদেশ, ভারত, পাকিস্তান, নেপাল, শ্রীলঙ্কা, ভুটান, মালদ্বীপ ও আফগানিস্তান-এর লেখক-কবি-সাহিত্যিকদের জন্য একটি আন্তর্জাতিক প্লাটফর্ম এই উৎসব। (সম্পূর্ণ…)

জয়পুর সুফি সম্মেলন ও উৎসব

মোস্তফা তারিকুল আহসান | ৭ নভেম্বর ২০১৩ ১:৪৩ পূর্বাহ্ন

হঠাৎ করেই আমন্ত্রণটা পেলাম। আমন্ত্রণ জানিয়েছেন সার্ক রাইটার্স ফাউন্ডেনের প্রধান অজিত কাউর। আমাদের মধ্যে পূর্ব পরিচয়ের কারণেই এই আমন্ত্রণ। তারই সূত্র ধরে গত ২০.১০ ১৩ থেকে ২৩.১০.১৩ পর্যন্ত ভারতের জয়পুরে অনুষ্ঠিত আন্তর্জাতিক সুফি উৎসব ও সম্মেলনে বাংলাদেশ থেকে অংশগ্রহণ করলাম আমরা চারজন প্রতিনিধি । ভারতের দিল্লিতে অবস্থিত সার্ক রাইটার ফাউন্ডেশন (ফসওয়াল) প্রতিবছর বিভিন্ন শহরে সাহিত্য, লোকবিদ্যাসহ নানা বিষয়ে সম্মেলন ও উৎসবের আয়োজন করে। আমি আগেও গিয়েছি এ জাতীয় সম্মেলনে। (সম্পূর্ণ…)

সূফীবাদ নিয়ে ফ্রান্স দূতাবাস ও দ্য সেন্টার ফর অলটারনেটিভস্-এর সেমিনার

এস এম রেজাউল করিম | ১২ december ২০১০ ৫:৪৭ অপরাহ্ন

sufi_3.jpg
‘সূফী ও সূফীবাদ’ বিষয়ে সেমিনারে ফ্রান্সের রাষ্ট্রদূত (বাঁ দিক থেকে দ্বিতীয়) ও তিনজন আলোচক

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট ভবনের হলরুমে ‘Sufis and Sufism’ নামে একটি সেমিনার অনুষ্ঠিত হলো ১ ডিসেম্বর ২০১০। ঢাকাস্থ ফ্রান্স দূতাবাস এবং দ্য সেন্টার ফর অলটারনেটিভস্-এর যৌথ আয়োজনে এই সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়, সভাপতিত্ব করেন অধ্যাপক ইমতিয়াজ আহমেদ। সেমিনারে পাঁচটি লিখিত ও অলিখিত প্রবন্ধ পাঠ করেন পাঁচজন বক্তা। অধ্যাপক ইমতিয়াজ আহমেদ ও ঢাকায় ফ্রান্সের রাষ্ট্রদূত শার্ল কসেরেত-এর স্বাগত বক্তব্যের পরে পরে শুরু হয় মূল বিষয়ের উপর প্রবন্ধ উপস্থাপন। পুরো সেমিনারে বক্তব্য উপস্থাপন ও পরবর্তিতে শ্রোতাদের প্রশ্ন এবং বক্তাদের উত্তরপর্ব চালিত হয় ইংরেজিতে। প্রথম প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন অধ্যাপক ইমতিয়াজ আহমেদ। তাঁর প্রবন্ধের শিরোনাম ছিলো ‘সূফী ও সূফীবাদ (Sufis and Sufism)’। এরপর পর্যায়ক্রমে প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন আলীমূর রহমান খান ‘ইবনে আরাবি ও সূফীবাদ (Ibn Arabi & Sufism)’, অ্যালিক্স ফিলিপ্পন ‘বারালভী আন্দোলন ও তার বহু নও-সূফী ধারা (Barelwi Movement and Its Many Neo-Sufi Orders)’, তানভীর মোকাম্মেল ‘লালন ও সূফীবাদ (Lalon & Sufism)’ এবং সবশেষে বক্তব্য রাখেন সৈয়দ সামসুল হক ‘সূফীবাদ ও ঠাকুর (Sufism and Tagore)’। সেমিনারের আয়োজকপক্ষ জানানো হয় যে একই নামে একটি গ্রন্থ প্রকাশিত হবে। প্রকাশিতব্য গ্রন্থের পূর্বসূত্র হিসেবে এই সেমিনারটি আয়োজন করা হয়েছে।

—————————————————————–
ইবনে আরাবির শিষ্য আবদুল কাদের জিলানী ত্রয়োদশ শতকে ভারতবর্ষে তাঁর মতবাদ প্রচারের ক্ষেত্রে ‘সহিহ্’ ইসলামপন্থার কাছ থেকে বড় কোন প্রতিবন্ধকতার মুখে পড়েননি। একইভাবে বাংলাদেশের নেত্রকোনা ও নারায়নগঞ্জে সূফী-পীরগণ নিজ নিজ মতবাদ প্রচারের মাধ্যমে অত্যন্ত প্রভাবশালী হয়ে উঠতে পেরেছেন বড় কোন বাধা ছাড়াই। এক্ষেত্রে উল্লেখ করার মতো বিষয় হলো—এই সূফীগণ কোরান ও হাদিসনির্ভর কোন অর্থডক্স ইসলাম প্রচার করেননি। কিন্তু পরবর্তিতে বাগদাদে সুলতানদের উত্থানের ফলে সূফী-পীরগণ সুলতানদের দিক থেকে হুমকির মুখে পড়েন। এই বিষয়টির বিশ্লেষণে তিনি বলেন, ‘সূফীবাদ’ ‘ওয়াহদাত আল-উজুদ’ বা সৃষ্টিকর্তার সাথে সৃষ্টির অভিন্নতার যেই মত দেয়—সেটি আসলে ‘সহিহ্’ ইসলামের দিক থেকে চ্যালেঞ্জের মুখে পড়ে তখনই যখন রাষ্ট্রীয় তৎপরতার সাথে ইসলামকে যুক্ত করা হয় বা ইসলাম শাসনকর্মের একটি উপাদান হয়ে ওঠে।
—————————————————————-

অধ্যাপক ইমতিয়াজ আহমেদ বলেন, ‘সূফীবাদ’ একটি টার্ম হিসেবে প্রবর্তন করেন ইউরোপীয় প্রাচ্যবাদীগণ, আঠারো শতকের শেষ নাগাদ। প্রাচ্য সংস্কৃতির কিছু ক্ষেত্র যেগুলো ইউরোপীয় প্রাচ্যবাদীগণের কাছে আকর্ষণীয় লেগেছিলো সেগুলোকে তাঁরা ‘সূফীজম’ হিসেবে সনাক্ত করেন। প্রাচ্যবাদীগণ ‘ইসলাম’ ও ‘সূফীবাদ’ আলাদা হিসেবে চিহ্নিত করেন যেখানে ‘ইসলাম’-এর অপরিহার্য বৈশিষ্ট্য হলো ‘কঠোর আইনী কাঠামো’ আর ‘সূফীবাদ’ হলো ‘ধর্মের সারমর্ম’। পরবর্তিতে প্রাচ্যের আধুনিকতাবাদী এবং ‘সহিহ্’ ইসলাম পন্থি—উভয়েই টার্ম হিসেবে সূফীবাদকে গ্রহণ করে নেয়। যদিও বহুক্ষেত্রেই তাঁরা ‘সূফীবাদ’-এর বৈশিষ্ট্য চিহ্নিতকরণে প্রাচ্যবাদীদের সাথে দ্বিমত করেছেন।
(সম্পূর্ণ…)

সমকালীন বাংলা সাহিত্য নিয়ে ব্র্যাক ইউনিভার্সিটির সেমিনার

প্রমা সঞ্চিতা অত্রি | ২৪ অক্টোবর ২০১০ ৮:১৫ অপরাহ্ন

brac-shobhakokkho.jpg
ব্র্যাক ইউনিভার্সিটিতে আন্তর্জাতিক সেমিনার: সৃজনে ও মননেঃ সমকালীন বাংলা সাহিত্য

ব্র্যাক ইউনিভার্সিটির ‘ইংরেজী ও মানববিদ্যা’ বিভাগ ২৯ ও ৩০ জুলাই ২০১০, এই দু’দিন বাংলা সাহিত্য নিয়ে একটি আন্তর্জাতিক সেমিনার আয়োজন করে। “সৃজনে ও মননে: সমকালীন বাংলা সাহিত্য” শীর্ষক এই সেমিনারে বাংলাদেশ ও ভারতের বিভিন্ন সাহিত্যিক, সাহিত্য সমালোচক, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকগণের অংশগ্রহণের কারণেই সম্ভবতঃ আয়োজকগোষ্ঠী একে সমকালীন বাংলা সাহিত্য বিষয়ে ‘আন্তর্জাতিক’ সেমিনার বলেছেন। এই সেমিনারে বাংলাদেশ ও ভারতের বাংলা ভাষার বিভিন্ন সাহিত্যিক তাঁদের নিজ নিজ কবিতা, গল্প পড়ে শুনিয়েছেন। আলোচকগণ এই সময়ের বাংলা কবিতা, গল্প, নাটক, উপন্যাস, অনুবাদ, প্রবন্ধ বিষয়ে আলোচনা করেছেন। এতে সমকালীন বাংলা সাহিত্য সম্পর্কে কতটা স্পষ্ট হওয়া গেছে সেটা পরিষ্কারভাবে বলা না গেলেও বাংলাদেশ ও ভারতের এই সাহিত্যিক, সাহিত্য সমালোচক, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকগণ সমকালীন বাংলা সাহিত্যকে কীভাবে অনুধাবন করছেন এবং সাহিত্য উৎপাদন করছেন সেটা উঠে এসেছে। প্রমা সঞ্চিতা অত্রি সেমিনার চলাকালীন দু’দিন সেখানে উপস্থিত থেকেছেন।-বি.স.

brac_2.jpg

প্রথম দিন

২৯ জুলাই বৃহস্পতিবার সকাল ১০ টায় ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘ইনডোর গেম্স রুমে এক ছোট অনুষ্ঠানের মাধ্যমে দুই দিন ব্যাপী এ সম্মেলনের উদ্বোধন করেন অধ্যাপক আনিসুজ্জামান। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি ও



মানববিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক ফিরদৌস আজিম এবং বিশেষ বক্তব্য রাখেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ড. আইনুন নিশাত। অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ পাঠ করেন অধ্যাপক হাসান আজিজুল হক এবং বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন প্রাইম ব্যাংক লিঃ-এর সভাপতি আজম জাহাঙ্গীর চৌধুরী। এছাড়াও বক্তব্য রাখেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি ও মানববিদ্যা বিভাগের প্রভাষক মোহাম্মদ মাহমুদুল হক। সবশেষে বক্তব্য রাখেন অনুষ্ঠানের সভাপতি অধ্যাপক আনিসুজ্জামান। মোট তিনটি অধিবেশনের মধ্য দিয়ে শেষ হয় সেমিনারের প্রথম দিনের কার্যক্রম।

brac_3.jpg
(সম্পূর্ণ…)

উত্তরাধুনিকের চোখে রবীন্দ্রনাথ

আজিজ হাসান | ২২ জুলাই ২০১০ ৬:৩৪ অপরাহ্ন

anjan_sen.jpg
সেমিনারে বক্তব্য দিচ্ছেন অঞ্জন সেন

সততা, জ্ঞান ও আনন্দময়তা–এই তিনের সমাবেশ ঘটান রবীন্দ্রনাথ। আর এ আনন্দময়তার বিকাশ ঘটান তিনি সৃষ্টিশীলতায়। সেকারণে রবীন্দ্রনাথ মূলত সৃষ্টিশীল–নিয়ত গ্রহণ, বর্জন ও পরিবর্তনের মাধ্যমে বিকশিত হয় তার সৃষ্টিশীল সত্ত্বা। তাই নির্দিষ্ট কোনো ছকে বেধে তাকে বিচার করা যায় না বা সে বিচারের চেষ্টা বোকামি বলেই আমার মনে হয়। এ কথাগুলো বলেন দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের তরুণ শিক্ষক অমিতাভ চক্রবর্তী। কিন্তু আলোচনার বিষয়টি যে, উত্তরাধুনিকের চোখে রবীন্দ্রনাথ। তাই উত্তরাধুনিকের চোখেই রবীন্দ্রনাথের আংশিক চিত্র তুলে ধরার চেষ্টা করেন পশ্চিমা চিন্তাকে বাদ দিয়ে বাংলায় সৃষ্ট উত্তরাধুনিকতার নিষ্ঠাবান প্রচারক কবি অঞ্জন সেন। উত্তরাধুনিকতা বলতে অঞ্জন সেন বলেন, উত্তীর্ণ আধুনিকতা বা আধুনিকতার উত্তরণ। উত্তরাধুনিকতার বৈশিষ্ট্য হিসেবে তিনি বলেন, এ ধরনের সৃষ্টিকে ঔপনিবেশিক চিন্তার ধারা থেকে বেরিয়ে আসতে হবে। সেক্ষেত্রে এ সাহিত্যকে আধুনিকতার ধারা থেকে বেরিয়ে আমাদের প্রাচীন ও মধ্যযুগীয় সাহিত্য, লোকসাহিত্য ও ইতিহাস ঐতিহ্যের সঙ্গে সম্পর্কিত হতে হবে। আধুনিক সাহিত্য নাগরিক জীবন জিজ্ঞাসার প্রতিভু হয়ে ওঠে এবং তা আমাদের ইতিহাস ঐতিহ্য ও লোকচিন্তা থেকে একেবারেই আলাদা হয়ে যায়। দৈনন্দিন নাগরিক জীবনের বিষাক্ত ছোবল নিয়ে রচিত হয় এ সাহিত্য। কিন্তু দৈনন্দিন জীবন জিজ্ঞাসার ওপরে গিয়ে মহত্তর এক জীবনানুভূতি সৃষ্টিই উত্তরাধুনিক সাহিত্যের উদ্দেশ্য। রবীন্দ্র বলয় ভেঙে ত্রিশের দশকের কবিরা যে আধুনিকতার চর্চা করেন তার ধারাবাহিকতায় জন্ম নেওয়া অবক্ষয় থেকে বেরিয়ে এসে সাহিত্য চর্চার তাগিদে বাংলায় ১৯৮৫-৮৬ সালে উত্তরাধুনিকতার চর্চা শুরু হয়। (সম্পূর্ণ…)

সংস্কৃতির শেকড় সংস্কৃতির লড়াই

আনু মুহাম্মদ | ২০ জানুয়ারি ২০০৯ ১২:০৫ পূর্বাহ্ন

‘মানুষের এই বিশাল পরিবর্তনের ধারা সুগোল — চাঁদ ও নদীর বুকে জমা হয় নাকি? চাঁদও রূপান্তরিত হয় কণায় কণায়, নদী নিরন্তর সঞ্চরণশীল। তারও আছে জোয়ার ভাটা, চর, ভাঙা কুল-প্লাবন ও শীর্ণতা। এই তেতো লবনাক্ত জীবনের বাঁকে বাঁকে মানুষের জন্য অপেক্ষা করে রূপান্তর। কিন্তু সে কি এতই সহজ! তার জন্য আছে অশ্রুঘামরক্তমৃত্যু দুয়ার। আছে দীর্ঘ পথ পরিক্রমা।’
সেলিম আল দীন, কিত্তনখোলা

সংস্কৃতি ক্ষেত্রে আমরা কিছু মৌলিক প্রশ্ন মোকাবিলা করছি যেগুলো সেলিম আল দীনের কাজের ক্ষেত্রেও মনোযোগের কেন্দ্রে ছিল। এগুলোর মধ্যে প্রধান হচ্ছে নিজের পরিচয়কে শনাক্ত করা। শেকড় সন্ধান করা। কী আমি? কার আমি? কোথায় আমি? কোথায় আমার ঘর? কোথায় আমার বসত? কী আমার পরিচয়? কোনদিকে যাবো আমি?

ঊনিশ শতকে বাংলাসহ ভারতবর্ষ যখন উপনিবেশ তখনই জাতিরাষ্ট্র কাঠামোয় দুনিয়ার ভৌগোলিক চিত্র একটি সংহত রূপ নেয়। রাষ্ট্র বলতে তখন ছিল শুধু ঔপনিবেশিক কেন্দ্রগুলো। পুরো দুনিয়ার মধ্যে এগুলো ছিল দ্বীপের মতো, বাকি পুরো সাগরই তখন উপনিবেশ। উপনিবেশ শৃঙ্খলে থেকে থেকে এসব অঞ্চলের মানুষ ভুলতেই বসেছিল তারাও স্বাধীন মানুষ ছিল কিংবা হতে পারে। কিংবা প্রশ্ন এখনও করা যায়, ভুলতে বসেছিল বলবো নাকি বলবো যে ভুলেই আছে? না এর বিপরীত চিত্র সবসময়ই ছিল। দৃষ্টিগ্রাহ্য মাত্রা তা লাভও করেছে কখনও কখনও।

দূররাজ্যের রাজা বাদশার দখল, লুণ্ঠন, নির্যাতন আধুনিক ঔপনিবেশিক কাল দিয়েই শুরু হয়নি। কিন্তু আধুনিক ঔপনিবেশিক ব্যবস্থার স্থায়িত্ব ও প্রভাব তুলনায় অনেক বেশি। এটি শরীর মন শুধু নয় অস্থি তরুণাস্থি পর্যন্ত স্থায়ী বসত গাড়ে। এই ব্যবস্থা শুধু অর্থনৈতিক লুণ্ঠন বা রাজনৈতিক নির্যাতন করে না, সমাজের চিন্তাশক্তির মধ্যে ঔপনিবেশিক ভক্তির ভাইরাস ছড়িয়ে দেয় পোক্তভাবে। দেখতে মনে হয় মানুষ, কিন্তু আসলে উপনিবেশ। কিন্তু আমরা এখনও যে দাঁড়িয়ে নিজেদের চিন্তা নিজেরা করতে পারছি এর কারণ একটাই যে, উপনিবেশিক প্রবল জ্ঞানতাত্ত্বিক আধিপত্যের শিকার পুরো সমাজ হতে রাজি হয়নি। বাংলাতেও না, পৃথিবীর কোথাও না।

আখতারুজ্জামান ইলিয়াসের চিলেকোঠার সেপাই উপন্যাসে একজন বৃদ্ধ মানুষের চরিত্র আছে। গ্রামের সেই মানুষ দীর্ঘকাল জমিদারের সেবা করেছেন শরীর মন সব দিয়ে, তারপরও লাথিগুতা খেয়েছেন বেশুমার। জমিদার গেছে, জমিদারী গেছে, কিন্তু যৌবনকালে জমিদারের কাছ থেকে খাওয়া শক্ত একটা জুতার লাথির দাগ ঘাড়ের কাছে রয়েই গেছে। শীতে তাতে ব্যথার টনটনও করে। তারপরও বৃদ্ধ সেই জায়গা নিয়ে কোনো চিকিৎসা করতে নারাজ। বরং পরম যত্নে প্রায়ই ঐ দাগের উপর হাত বুলানো আর সুযোগ পেলেই গর্বের সঙ্গে তা মানুষদের দেখানোতেই তার প্রবল আগ্রহ। ঘটা করে বলেন কী জবরদস্ত লোক ছিলেন তার প্রভু। এমন লাথি দিয়েছেন যার দাগ এখনও যায়নি। বলে বলে নিজের ওজন বাড়াতে অস্থির তিনি। যেন সেই দাগ হারিয়ে গেলে তার গুরুত্বও চলে যাবার সম্ভাবনা। (সম্পূর্ণ…)

সেলিম আল দীন: ব্যক্তিগত এবং ব্যক্তিগতকে ছাড়িয়ে

অরুন সেন | ২৫ আগস্ট ২০০৮ ৩:৩৯ অপরাহ্ন

ঢাকা থিয়েটার ও বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমীর আয়োজনে ১৮ থেকে ২৪ আগস্ট ২০০৮ ঢাকার জাতীয় নাট্যশালায় উদযাপিত হয় সেলিম আল দীন জন্ম উৎসব। এ উৎসবের অংশ হিসেবে শিল্পকলা একাডেমীর নাট্যশালা সেমিনার কক্ষে ২৩ ও ২৪ আগস্ট দুইদিন ব্যাপী একটি সেমিনারের আয়োজন করা হয়। সেমিনারের প্রথম দিনের শুরুর অধিবেশনে প্রবন্ধ পাঠ করেন অধ্যাপক অরুন সেন। লেখকের অনুমতিক্রমে ও ঢাকা থিয়েটারের সৌজন্যে সে প্রবন্ধটি এখানে প্রকাশিত হলো।
—————————————————————–
প্রাচ্য ও পাশ্চাত্যের মিলনে তাই তিনি রবীন্দ্রানুসারী এরকম বললেই ঠিক বলা হয়। আসলে দেশের মাটিতে পা রেখে, দেশের জমিতেই শিকড় নামিয়ে তিনি দেশ ও বিদেশের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য ও সমকালীনকে ছুঁতে চান, তাদের মেলাতে চান।
—————————————————————–
selim_quayum.jpg
কাইয়ুম চৌধুরীর আঁকা সেলিম আল দীন, ২০০৮

প্রকাশ্যে ব্যক্তিগত প্রসঙ্গ বা আত্মপ্রসঙ্গের অবতারণা আমরা অনেকেই সাধারণত এড়িয়ে চলতাম। যে রুচিতে বা অভ্যাসে একদা বেড়ে উঠেছি, তাতে ‘আমি’ শব্দের উচ্চারণই প্রায় নিষিদ্ধ ছিল। সেটা হয়তো একটু বাড়াবাড়ি। এখন মনে হয়, ব্যক্তিগত প্রসঙ্গ তোলারও একটা নিজস্ব জায়গা আছে। আমরা যারা সেলিম আল দীন-কে কমবেশি চিনতাম, তাঁর সম্পর্কে কোনো ভাষণে বা লেখালিখিতে ‘ব্যক্তিগত’ প্রবেশ না করে সে-বিষয়ে সতর্ক থাকতাম। ২০০৮-এর ১৪ জানুয়ারির পর সেই সর্তকতা যেন অবান্তর হয়ে গেল।

sad-arun.jpg
অরুন সেন-এর সঙ্গে সেলিম আল দীন। ছবি: সালাম সাকলাইন, ২৯/১০/২০০৭

অবশ্য সেলিম আল দীনের সঙ্গে আমার পরিচিতি খুব বেশি দিনের বলা যাবে না — এখানে উপস্থিত অনেকের চেয়েই বেশ কম। কিন্তু, অল্পকালের মধ্যেই সেই পরিচয় এমন একটা মাত্রা পেয়েছিল, এবং তার ফলে ব্যক্তিগত ও নৈর্ব্যক্তিকের মধ্যে একটা সমন্বয় তৈরি হয়েছিল, যা নিঃসন্দেহে আমাদের উভয়ের কাছেই ছিল মূল্যবান অভিজ্ঞতা। তার সূত্রপাত অবশ্যই একান্ত ব্যক্তিনিরপেক্ষ। কলকাতায় সেলিমের নাটকের মঞ্চরূপায়ণ প্রত্যক্ষ করার উত্তেজনা আমাকে টেনে নিয়ে গিয়েছিল তাঁর নাটকের নিবিড় পাঠে, এবং দুটো মিলিয়েই যে নান্দনিক প্রাপ্তি তার হাওয়াতেই সেলিমের সঙ্গে ব্যক্তিগত সম্পর্কের জমি তৈরি হয়েছিল। কুণ্ঠার সঙ্গে জানাই, সেলিমের নাটক ও ঢাকা থিয়েটার-এর সঙ্গে প্রাথমিক পরিচয়ের ওই উদ্দীপনাময় দিনগুলিতেই কলকাতার একটি অতিপরিচিত সাময়িক পত্রিকায় যে দীর্ঘ, বোধহয় অতি দীর্ঘই, প্রবন্ধ লিখেছিলাম তা-ই কোনো-একভাবে আমাদের মিলিয়ে দিয়েছিল, বলা চলে। (সম্পূর্ণ…)

জাক লাকাঁ কথিত ‘অন্তর্জগতে যাহা না মিশিলে কোন সহজই জন্মায় না সেই পরকীয়া বা গঠনের কথা’

সলিমুল্লাহ খান | ১২ জানুয়ারি ২০০৮ ৪:৫৭ অপরাহ্ন

lacan-1932.jpg
১৯৩২ সালে জাক লাঁকা, বামে বসে থাকা জন

ভাষা, গঠনতন্ত্র ও সহজ মানুষ : লাঁকা পড়ার ভূমিকা

সলিমুল্লাহ খান

১৯৬৬ সালের অক্টোবর মাসে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অন্তর্গত মেরিল্যান্ড রাজ্যের অন্তঃপাতী বল্টিমোর শহরে ফরাসি-মার্কিন বুদ্ধিজীবীদের এক বিশেষ সভা বসিয়াছিল। আমাদের এই আলোচনার বিষয়ের সহিত ঐ সভার আলোচ্য বিষয়ের বিশেষ মিল আছে। ফরাসিদেশের বুদ্ধিজীবী মহলে ততদিনে তত্ত্বজ্ঞানের প্রস্থানস্বরূপ ‘গঠনতন্ত্র’ [structuralism] নামক নতুন প্রস্তাব লইয়া আলোচনা জমিয়া উঠিয়াছে। আর মার্কিনদেশেও ইহার প্রভাব ছড়াইয়া গিয়াছে। তাই ১৯৬৬ সালের এই বল্টিমোর সভার বিষয় ঠিক হইয়াছিল ‘গঠনতন্ত্র’।

ঐ সভায় যাঁহারা হাজির হইয়াছিলেন তাঁহাদের মধ্যে ছিলেন রলাঁ বার্থ [Roland Barthes], জাক লাকাঁ [Jacques Lacan], জাক দেরিদা [Jacques Derrida], লুসিয়ঁ গোল্ডমান [Lucien Goldmann], জঁ-পল ভেরনা [Jean-Paul Vernant] এবং ত্রিস্তান তোদোরব [Tristan Todorov] প্রমুখ নামজাদা বিদ্বান ও বুদ্ধিজীবী। অন্য এক নামজাদা বুদ্ধিজীবী জঁ ইপ্পোলিত [Jean Hyppolite] ফরাসি তরফে এই সভা আঞ্জাম করিয়াছিলেন। বলা হয়তো নিষ্প্রয়োজন নয় এই জঁ ইপ্পোলিত জার্মান হেগেলের ফরাসি অনুবাদ ও ব্যাখ্যা করিয়া বিশেষ নাম কুড়াইয়াছিলেন। তিনি চাহিলে জাক লাকাঁর বিশেষ বন্ধু ও জাক দেরিদার প্রধান শিক্ষক হিসাবেও পরিচিত হইতে পারিতেন। দুর্ভাগ্যবশত মহাত্মা ইপ্পোলিত ১৯৬৮ সালে–নিতান্ত অপরিণত বয়সে–এন্তেকাল করিয়া সকলকে শোকসাগরে ভাসাইলেন।

কারণ যাহাই হউক অনেক দেরি করিয়া ১৯৬৬ সালের ঐ সম্মেলনের কার্যবিবরণী প্রথম ছাপা হয় ১৯৭০ সাল নাগাদ। ইহার দুই বছর পর তাহার পুণর্মুদ্রণও হয়। পুনর্মুদ্রণের অজুহাতে বইয়ের নামেরও কিছু পরিবর্তন
roland_barthes.jpg…….
রলাঁ বার্থ (১৯১৫—১৯৮০)
………
ঘটান হয়। ১৯৭০ সালের সংস্কার অনুসারে বইয়ের আসল নাম রাখা হইয়াছিল ‘বিচারশাস্ত্রের ভাষা ও মনুষ্যের জ্ঞানবিজ্ঞান : গঠনতন্ত্র বিসম্বাদ’। ১৯৭২ সালের সংস্কার অনুসারে উহার নাম পাল্টাইয়া রাখা হইল ‘গঠনতন্ত্র বিসম্বাদ: বিচারশাস্ত্রের ভাষা ও মনুষ্যের জ্ঞানবিজ্ঞান’। ইহার মানে বড় নাম ছোট হইল, ছোট নাম বড় হইল। পাঠিকারা ইহাতেই বুঝিবেন জ্ঞানের জগতে ‘গঠন’ [structure] নামে নতুন কোন ঘটনা ঘটিয়াছে। ইহাতে প্রমাণ এয়ুরোপের মনে মনে ‘গঠনতন্ত্র’ বড় আকারের ফটিক হইয়া উঠিয়াছে। ১৯৬৬ সালে ঠিক ইহাই অনুমান করিয়াছিলেন মহাত্মা জাক লাকাঁ। তাঁহার বল্টিমোর বক্তৃতায় সেই কথার প্রমাণ আছে। (সম্পূর্ণ…)

মিশেল ফুকোর বাতি জ্বালানি

সলিমুল্লাহ খান | ১৫ নভেম্বর ২০০৭ ১১:৩০ অপরাহ্ন

foucault1.jpg
মিশেল ফুকো (১৯২৬-১৯৮৪)

~ মিশেল ফুকো বিষয়ে সলিমুল্লাহ খানের সেমিনার ~

মুখবন্ধ

নিচের প্রবন্ধটি বর্তমান লেখকের বলা একটি বক্তৃতার লিখিত ভাষ্য। ফিতার রেকর্ড থেকে অক্ষরে লিখে নেওয়ার মেহনতটুকু করেছেন আমার বন্ধু জামিল আহমদ। তিনি আমার কৃতজ্ঞতা গ্রহণ করুন। এই বক্তৃতা কয় তারিখে দিয়েছিলাম রেকর্ডে তার নিদর্শন নাই। আমার ধারণা তারিখটা হয়ত মার্চ কি এপ্রিল মাসের কোন শুক্রবার হবে। যতদূর মনে পড়ে এই বক্তৃতামালা শেষ করেছিলাম মোট আট দিনে। বর্তমান লেখাটি দ্বিতীয় দিনের রেকর্ড থেকে তৈরি করা বলে মনে হয়। প্রথম দিনের বক্তৃতা যান্ত্রিক গোলযোগের কারণে সঠিক রেকর্ড হয় নাই।

জানিয়ে রাখা যায় আমাদের বিজ্ঞাপিত সমাজের সামান্য নাম ছিল ‘জাক লাঁকা বিদ্যালয়’ আর ঐবারের বিশেষ বক্তৃতামালা প্রচারিত হয়েছিল ‘মিশেল ফুকো বোধিনী’ নামে। মিশেল ফুকো তাঁর দেশের অপর প্রভাবশালী তত্ত্বজ্ঞানী জাক লাকাঁর ঋণ বিশেষ স্বীকার করেন নাই। তবে লাকাঁর ঋণ তিনি দুই হাতেই নিয়েছেন।

তত্ত্বজ্ঞানী জাক দেরিদার সঙ্গে ফুকোর মতভেদ প্রকৃত প্রস্তাবে মহাত্মা লাঁকার শিক্ষার দুই দিক নিয়ে টানাটানির অধিক নয়। জাক লাকাঁ ভাষার বা পদের একাধিপত্য বলে যে উপপাদ্য প্রচার করেন, দেরিদা সেই বক্তব্যই নিজের বলে জাহির করেছিলেন। ‘লেখার বাহিরে কিছু নাহিরে’ বলে তিনি বেশ বাড়াবাড়ি করেছিলেন বৈ কি ।

মিশেল ফুকো আঁকড়ে ধরেন জাক লাকাঁর অপর একটি উপপাদ্য। এই উপপাদ্য অনুসারে মানুষের ইতিহাসে ভাষাই শেষ কথা নয়, শেষ কথা ‘সহজ মানুষ’ বা সাবজেক্ট। যে ইতিহাসে অর্থ তৈরি করে থাকে তাকেই সহজ মানুষ বলে। জীবনের শেষদিকে ফুকো প্রকারান্তরে সেই সত্য স্বীকার করেছিলেন। বাতি জ্বালানি বা এনলাইটেনমেন্ট বিষয়ে মহাত্মা ফুকোর বক্তব্যে সেই অঙ্গীকারের পুবাল হাওয়ার ছোঁওয়া পাওয়া যায়।

সকলেই জানেন মনীষী মিশেল ফুকো ১৯৭০ সাল থেকে ১৯৮৪ (অর্থাৎ তাঁহার অকাল মৃত্যুর পূর্ব) পর্যন্ত ফরাসি দেশের অন্যতম সেরা বিদ্যালয় কলেজ দহ ফঁসের অধ্যাপক ছিলেন। অনেকেই জানেন তিনি ঐ বিদ্যালয়ে যে অধ্যাপনার পদ অলংকৃত করতেন তার নাম ছিল ‘চিন্তাজগতের ইতিহাস’। ইতিহাস বিচারে প্রতিষ্ঠালব্ধ ফরাসি মনীষী ফেরনঁ ব্রদেল (Fernand Braudel) প্রস্তাবিত পদ্ধতির বিরুদ্ধাচরণ করেন তিনি। ব্রদেল যেখানে এক যুগের সহিত অন্য যুগের যোগধর্ম বা ‘কনটনুয়িটি’ আবিষ্কার করার দিকে মন সংযোগ করতেন সেখানে ফুকো যুগান্তর বা এক যুগের সহিত অন্য যুগের বিয়োগধর্ম অথবা ‘ডিস্কনটনুয়িটি’র জয় ঘোষণা করতে বিস্তর দিনক্ষণ ব্যয় করেছিলেন। (দান্তো ১৯৯৮: ১৮১-৮২) (সম্পূর্ণ…)


Disclaimer & Privacy Policy  |  About us  |  Contact us

© bdnews24.com