পাঠ

‘উত্তরঙ’-এর উচ্চারণ: দেশপ্রেমের কবিতা ও গান

লুৎফুল হোসেন | ২০ নভেম্বর ২০১৫ ৭:১১ অপরাহ্ন

dsc_3580.JPGনিত্য ঘটমান উৎসবময় ঢাকার মঞ্চ চাঞ্চল্যের বিপরীতে মৌন মেরু উত্তরে মননশীলতার আলো ছড়াবার প্রত্যয়ে অঙ্গীকারবদ্ধ নবগঠিত শিল্প সাহিত্য সংস্কৃতি সংগঠন ‘উত্তরঙ’। ১৩ নভেম্বর শুক্রবার আয়োজন করে এক কবিতা সন্ধ্যার। “দেশপ্রেম ও দ্রোহের উচ্চারণ” অনুষ্ঠানটি শুরু হয় মাহবুবা কামাল বিনুর কন্ঠে মঙ্গলবারতা ও দেশপ্রেমের রবীন্দ্রসংগীত দিয়ে। দর্শক মাতিয়ে আরো গেয়েছেন সালাউদ্দীন ববি। নজরুলের ‘বিদ্রোহী’ আবৃত্তি করেন শামস আলদীন । শামসুর রাহমানের ‘আসাদের শার্ট’-এর উচ্চকিত আবৃত্তি শোনান কাকলী আহমেদ ।

সন্ধ্যা মাতিয়ে নিজ কবিতা পাঠ করেন উপস্থিত কবিরা। কবি আবিদ আনোয়ার, রাজু আলাউদ্দিন, ইরাজ আহমেদ, শোয়াইব জিবরান, পিয়াস মজিদ, অনন্ত সূজন। দর্শক শ্রোতাকে কথার নদী আর আবেগ সমুদ্রে ভাসিয়ে আরো পাঠ করেন মঈন চৌধুরী, ফরিদ কবির, লুৎফুল হোসেন, কামরুল হাসান, রহিমা আফরোজ মুন্নী, লীনা ফেরদৌস।

অনুষ্ঠানে সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে অবস্থানে সংহতি জানানো হয় নিহত প্রকাশক ফয়সল আরেফিন দীপনের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে, সন্ত্রাসী হামলায় গুরুতর আহত ও চিকিৎসাধীন কবি ও প্রকাশক তারেক রহিম এবং আহমেদুর রশীদ টুটুলের কবিতা পাঠ করে। (সম্পূর্ণ…)

আর্থার শোপেনহাওয়ার প্রবন্ধ : পঠন ও পুস্তক

শিবব্রত বর্মন | ১৬ ফেব্রুয়ারি ২০১৩ ৪:২২ অপরাহ্ন

অজ্ঞতা তখনই অবমাননাকর, যখন অজ্ঞ ব্যক্তিটি ধনবান হইয়া থাকেন। অভাব নিঃস্বের হস্তপদ বাঁধিয়া ফেলে, চাকরিই তাহার জ্ঞান, চাকরিই ধ্যান। কিন্তু যে সকল ব্যক্তি ধনবান হইয়াও অজ্ঞ, তাহারা কেবল বাঁচিয়া থাকেন আনন্দ সম্ভোগের নিমিত্ত, শ্বাপদের ন্যায়; ইহার প্রমাণ সতত বিধৃত। তাহারা করুণার পাত্র, কেননা ধনসম্পদ আর অবসর তাহারা বিদ্যার্জনের নিমিত্ত ব্যয় করেন নাই।

আমরা যখন কোনো পুস্তক পাঠ করি, তখন ভিন্ন এক ব্যক্তি আমাদের হইয়া চিন্তা করিয়া দেন: আমরা কেবল তাহার মানসিক ক্রিয়াটির পুনরাবৃত্তি করি মাত্র। ইহা সেই অপরিণত শিক্ষার্থীর ন্যায়, লিখন শিখিবার জন্য যে শিক্ষকের আঁকিয়া দেওয়া অক্ষরের উপর দিয়া আপনকার কলম চালনা করে। (সম্পূর্ণ…)

সৃজনীসত্তা পেরিয়ে চলছে সময়নদীঃ

ম্যান্ডেলস্ট্যামের ‘শিলায় লিখিত গীতিকবিতা’র একটি সম্ভাব্য পাঠ

তাপস গায়েন | ৩ আগস্ট ২০১২ ১২:২৯ অপরাহ্ন


পূর্বকথাঃ

কবিতার যে কোনো পাঠক একটি কবিতাকে সেই কবিতার অস্তিত্বেই বুঝে নিতে চান । কিন্তু পরমাত্মাকেও যখন মহাবিশ্বের অপরাপর অস্তিত্বের সম্পর্কে আমাদেরকে বুঝে নিতে হয়, তখন কোনো একটি কবিতাকে শুধুমাত্র সেই কবিতার অস্তিত্বে কবিতাটির পাঠোদ্ধার এবং রসাস্বাদন সম্ভবপর নাও হয়ে উঠতে পারে, যদি বিভিন্ন কারণে কবিতাটি জটিল হয়ে থাকে । এই প্রেক্ষিতে সেই কবির প্রায় সকল কবিতা এবং কবি যে ভাষার কবি এবং পৃথিবীর যে জ্ঞানপ্রবাহে তিনি অবগাহন করেছেন সেই ধারাবাহিকতার একটি নূন্যতম পাঠ নেয়া কখনো কখনো জরুরি হয়ে পড়ে । (ইয়োশেপ = যোশেপ = ওসিপ ) ম্যান্ডেলস্ট্যাম (খ্রি ১৮৯১-১৯৩৮)-এর osip.jpg‘শিলায় লিখিত গীতিকবিতা’ (খ্রি ১৯২৩) এরূপ একটি অনুধ্যান । ওমরি রনেন-এর সুবিখ্যাত, ‘এ্যান এপ্রোচ টু ম্যান্ডেলস্ট্যাম’ বইয়ের মাধ্যমে তিনি পাঠককে নিয়ে বেড়িয়ে পড়েছেন এক দীর্ঘ পথ পরিক্রমায়, যেখানে আলোচ্য কবিতার পরম্পরা খুঁজতে তিনি আমাদেরকে পরিচয় করিয়ে দিয়েছেন রুশ, প্রাচীন গ্রেকো-রোমান, এবং আধুনিক ইউরোপীয় সাহিত্যের প্রধান কবিদের সেইসব কবিতার সাথে যা ম্যান্ডেলস্ট্যামের এই কবিতাকে হয়তো প্রভাবিত করেছে, কিন্তু আমার এই আলোচনায় প্রায়শই অনুল্লেখিত থেকে যাবে তাঁদের (ভার্জিল, দান্তে, পের্ত্রাক, হাইনে, হোল্ডারলিন, ভার্লেন, পুশকিন, ক্লেবনিকভ, গুমিলেভ, এনানেস্কি, সেভেৎইয়েভা, পাস্তারনাক, ব্লক, আখমাতোভাসহ প্রমুখের) কাজ । এই কবিতাকে বুঝতে তিনি যুডো-ক্রিশ্চিয়ান সংস্কৃতির পৌরাণিক আখ্যান এবং আসমানি কিতাবের অনেক আয়াতের বাণী বন্দনায় দাঁড় করিয়ে দিয়েছেন পাঠক সমাজকে । অধ্যাপক-সমালোচক ওমরি রনেনের দীর্ঘ সাধনার সুবিখ্যাত বই [১] এবং এম এল গ্যাস্পারভের অসামান্য প্রবন্ধ [২] পাঠের আলোকে আমি আলোচ্য কবিতার [৩] অনুবাদসহ একটি ছোট্ট পাঠ এখানে তুলে ধরতে চেষ্টা করছি, যা সম্ভাব্য বহুবিধ পাঠের একটি পাঠমাত্র । (সম্পূর্ণ…)

ইলিয়াসের গল্প, মেডিকেল তত্ত্ব ও টেকনোলজি সংক্রান্ত ভাষ্য

ফরহাদ মজহার | ২ সেপ্টেম্বর ২০১০ ৮:৪৮ অপরাহ্ন

elias_1.jpg……..
আখতারুজ্জামান ইলিয়াস (১২/২/১৯৪৩ – ৪/১/১৯৯৭)
……..

১৯৪৩ সালে আখতারুজ্জামান ইলিয়াস গাইবান্ধা জেলার সাঘাটা থানার গোটিয়া গ্রামে মাতুলালয়ে জন্মেছিলেন। তাঁর বাবার বাড়ি বগুড়া জেলায়। বাবা বদিউজ্জামান মোহাম্মদ ইলিয়াস পূর্ব পাকিস্তান প্রাদেশিক পরিষদের সদস্য (১৯৪৭-১৯৫৩) এবং মুসলিম লীগের পার্লামেন্টারী সেক্রেটারি ছিলেন। মা বেগম মরিয়ম ইলিয়াস। ইলিয়াসের ডাক নাম মঞ্জু। তিনি ঢাকা কলেজ থেকে ১৯৬০ সালে ইন্টারমিডিয়েট পাস করেন। এরপর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বাংলায় অনার্স ও মাস্টার্স পাস করেন ১৯৬৪ সালে। তাঁর কর্মজীবন শুরু হয় জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রভাষক পদে যোগদানের মাধ্যমে। এরপর তিনি মিউজিক কলেজের উপাধ্যক্ষ, প্রাইমারী শিক্ষা বোর্ডের উপ পরিচালক, ঢাকা কলেজের বাংলার প্রফেসর ও বিভাগীয় প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তিনি মফিজউদ্দিন শিক্ষা কমিশনের সদস্য ছিলেন। ১৯৯৭ সালের ৪ জানুয়ারি আখতারুজ্জামান ইলিয়াস ক্যান্সার আক্রান্ত হয়ে মারা যান।

ইলিয়াসের মৃত্যুর পরে ফরহাদ মজহারের এ লেখাটি বাংলাবাজার পত্রিকার ১৩ জানুয়ারি ১৯৯৭ সংখ্যায় ছাপা হয়েছিল। প্রায় সাড়ে তের বছর পরে ফরহাদ মজহারের সৌজন্যে লেখাটি পুনঃপ্রকাশিত হলো। এ লেখায় আখতারুজ্জামান ইলিয়াসের একটি গল্প ‘নিরুদ্দেশ যাত্রা’কে ঘিরে লেখকের আলোচনা অগ্রসর হয়েছে। তিনি সে সময়ে আলোড়ন তোলা ইলিয়াসের ‘ছোটগল্প’ বিষয়ক জনপ্রিয় ধারণাকে এ লেখায় চ্যালেঞ্জ করেছেন। বি. স.

 
আম্মার ঘরে আমরা কী ফেলে এসেছি?

খুবই কম লিখেছিলেন আখতারুজ্জামান ইলিয়াস। আমাদের জন্য এটা ভাল নাকি মন্দ বলা মুশকিল। তবে তাঁর খুব লোকশান হয়েছে কি? এত কম লিখে বাংলাসাহিত্যে নিজের জন্যে একটি জায়গা করে নিতে পারা দারুণ একটা ব্যাপার। ঈর্ষা করার মত। তবুও আমাদের সেই দোনামোনা থাকে না যে আখতার সবাইকে একটু চীট করেছেন। প্রতারণা। বোধ হয় তিনি আরো লিখতে পারতেন, লিখেন নি। তিনি আর লিখবেন না এটা মস্ত বড় লোকশান। আমরা ঠকেছি।

ইলিয়াস সম্পর্কে এত দ্রুত কিছু লিখতে বাধ্য হবো, এটা আমি কক্ষণোই ভাবি নি। ইলিয়াস সম্পর্কে লিখতে গিয়ে একবার তাঁর সব বইপত্র জোগাড় করে বসেছিলাম। তখনও ‘খোয়াবনামা’ হাতে আসে নি। পড়ে-টরে নিজেকে শুধালাম, আচ্ছা ইলিয়াস মশায়ের সবচেয়ে দারুণ গল্প কোনটি? তখন মাথা চুলকিয়ে থুতনি মুছে ঢের ভাবাভাবি করে মনে হোল, ‘নিরুদ্দেশ যাত্রা’। এই সিদ্ধান্তে নিজেই নিজের কাছে খুব অবাক হয়ে গেলাম। এই গল্পটি ইলিয়াসের প্রথম দিককার রচনা। ষাট দশকের দিকে আমি যখন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র, থাকি ঢাকা হলে, তখন আমি এই গল্পটি পড়েছি। সেই সময়েই গল্পটি আমার করোটির মধ্যে প্রবেশ করেছিল, এরপর আর বের হওয়ার দরোজা খুঁজে পায় নি। (সম্পূর্ণ…)

আভাটার: বর্ণ, সাম্রাজ্য ও টেকনলজির মাহাত্ম্য বর্ণনার রূপকথা

ফরহাদ মজহার | ৬ এপ্রিল ২০১০ ১০:১৫ অপরাহ্ন
[আভাটার জেমস ক্যামেরনের মহাকাব্যিক সায়েন্স ফিকশন ছবি। এর চিত্রনাট্যও তাঁরই লেখা। ছবিটি মুক্তি পায় ২০০৯ সালের ডিসেম্বর মাসে। ছবির কাহিনী ২১৫৪ সালের এক ভবিষ্যৎ ভিনগ্রহের চাঁদ প্যানডোরার। ক্যামেরন ছবির চিত্রনাট্যের ৮০ পৃষ্ঠা পর্যন্ত লিখে রেখে দিয়েছিলেন ১৯৯৪ সালেই। ১৯৯৬-এ ঠিক করেন তাঁর
james-cameron6.jpg……
জেমস ক্যামেরন (জন্ম. অনটারিও, কানাডা, ১৬/৮/১৯৫৪)
……….
নির্মীয়মান ছবি টাইটানিক (১৯৯৭)-এর পরেই তিনি এর কাজ ধরবেন। কিন্তু স্পেশাল ইফেক্টস বিশেষজ্ঞ ক্যামেরন ছবি বিষয়ে যেরকম ভাবনা ভেবেছিলেন তখনো তেমন তেমন প্রযুক্তি উদ্ভাবিত হয়নি। তাই অপেক্ষা করছিলেন তিনি। পরে সম্ভাবনা উন্মুক্ত হওয়ায় ২০০৬ সালে আবার তিনি চিত্রনাট্যে হাত দেন। ছবিটি প্রচলিত দ্বিমাত্রিক প্রজেক্টরের পাশাপাশি ত্রি-মাত্রিক প্রজেক্টরের জন্য তৈরি করা হয়েছে। আভাটারের জন্য ক্যামেরন উদ্ভাবন করেছেন নতুন এক ক্যামেরা। যার দ্বারা অভিনেতা-অভিনেত্রীর মুখভঙ্গির সঞ্চালন ডিজিটালি রেকর্ড করে অ্যানিমেটেড চরিত্রের উপর হুবহু আরোপ করা যায়। ছবিটি ২ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের ব্যবসা করেছে। এবং এর সিক্যুয়েল করার ঘোষণাও দিয়েছেন জেমস ক্যামেরন।

আভাটার নিয়ে ফরহাদ মজহারের এ লেখাটি কয়েক কিস্তিতে প্রকাশিত হবে।—বি. স.]

———————————————————————————
কিস্তি ১
———————————————————————————

জেমস ক্যামেরনের টাইটানিক ছবিটি বাজারে এসেছিল ১৯৯৭ সালে। তখন দেখা হয় নি। ছবিটি আমি দেখেছি অনেক পরে। যখন দেখেছি তখন জেমস ক্যামেরন আভাটার ছবিটি বানাচ্ছিলেন বলে শুনেছি। তখনেই ভেবে রাখি আভাটার দেখব। আভাটার সিনেমা দেখার ইচ্ছা টাইটানিক ছবিটি দেখার পর পরই জেগেছিল নিছক আমোদের জন্য নয়। আরো নানান উদ্দেশ্য চরিতার্থ

avatar_main.jpg
আভাটারের দৃশ্য

করার বাসনা ছিল ঐ ‘দেখা’-র আকাঙ্ক্ষার মধ্যে। টাইটানিকে বিনিয়োগ ছিল বিশাল, কিন্তু তারো চেয়ে বেশি বিনিয়োগ ছিল আভাটার-এর পেছনে। সিনেমার একটা অর্থশাস্ত্রীয় বিচার হতেই পারে তাহলে। কিন্তু তার জন্য যে তথ্য-উপাত্ত দরকার তার হদিস পাওয়া কঠিন। বাংলাদেশের গ্রামে গেলেই দেখি চৈত্রের হাহাকারে মাঠ পুড়ে যাচ্ছে, খাবার পানির অভাবে কারবালা হয়ে যাচ্ছে চতুর্দিক। তার মধ্যে মাটির তলার পানি তুলে উফশি ধানের আবাদ হচ্ছে; ওর ফলে আর্সেনিকের বিষে আক্রান্ত হচ্ছে মানুষ। ওর মধ্যেই চারিদিকে ডিজিটাল বিপ্লবের সুসমাচার! ইনফরমেশান টেকনলজির কথিত তথ্য বিপ্লবের চিৎকার সত্ত্বেও যে তথ্যগুলো আমাদের প্রাণে বেঁচে থাকার জন্য দরকার তারই খোঁজ নাই—যেমন, সার, বিষ ও মাটির তলার পানি না তুলেও ফলন বাড়ানো যায়, আর ফলন বাড়ানোর আসলেই এটাই একমাত্র টেকসই পদ্ধতি। কিন্তু বহুজাতিক কম্পানিগুলো সেটা শুনবে না। সার, বিষ ও মাটির তলার পানি তুলে চাষাবাদে লাভ হয় সার, বিষ, ট্রাক্টর, তেল ও হাইব্রিড ও জিএমও বীজ কম্পানির। কৃষকের নয়। দখল হয়ে যাচ্ছে প্রাণ ও পরিবেশ রক্ষার শর্ত। (সম্পূর্ণ…)

জীবনানন্দ দাশের ‘অবসরের গান’:

একটি জ্যামিতিক পর্যবেক্ষণ

এহসানুল কবির | ১২ জুন ২০০৮ ৬:২২ অপরাহ্ন

গোড়াতেই একটা গোড়ার প্রশ্ন রেখে শুরু করি — ‘অবসরের গান’ কেন ‘গান’, ‘কবিতা’ নয় কেন? স্মরণ করতে পারি, বাংলা কবিতায় আধুনিকতার (ব্যাপক অর্থে; রোমান্টিকতা-উত্তর অর্থে নয়) যিনি প্রথম উদ্গাতা, সেই রবীন্দ্রনাথের আগমন ঘটেছিল ‘গান’ নিয়েই। সন্ধ্যাসঙ্গীত, প্রভাতসঙ্গীত, jibananda.jpg…….
জীবনানন্দ দাশ (১৭/২/১৮৯৯ — ২২/১০/১৯৫৪)
……..
ছবি ও গান, কড়ি ও কোমল প্রথম চারটি কাব্যগ্রন্থের নামের মধ্যে প্রথম তিনটিই সঙ্গীত/গান-শব্দযুক্ত, বাকিটি সঙ্গীত-অনুষঙ্গযুক্ত। আরও স্মরণ করতে পারি, বাংলাদেশের প্রধান কবি শামসুর রাহমানের প্রথম কাব্যগ্রন্থের নাম প্রথম গান, দ্বিতীয় মৃত্যুর আগে। আধুনিক বাংলা কবিতার কালগত দিক থেকে দু’প্রান্তের দু’জন কবির উদাহরণ টানলাম জীবনানন্দকে মাঝখানে রেখে একটা সরলরেখা টানার সুবিধার্থে। সরলরেখা টানায় অতি-সরলীকরণের ঝুঁকি আছে, এটা যেমন ঠিক তেমনি
—————————————————————–
যাদেরকে জীবদ্দশায় পান নি, তাদেরকেও তিনি জিতিয়ে দিচ্ছেন ‘অনেক মাটির নিচে’ কোনো এক সম্রাটের খুলির সঙ্গে তাদের খুলি মিশিয়ে… সেইসব ভাঁড়দের গল্প বলতে বলতে এঁকে দিয়েছেন প্রাক-সামন্ত থেকে সামন্ত হয়ে পুঁজিবাদী ব্যবস্থা পর্যন্ত সমাজবিকাশের দীর্ঘ রেখাটি।
—————————————————————–
এটাও ঠিক যে, এক শতাব্দীর দীর্ঘ কালপরিক্রমায় বাংলা কবিতা তার চলার পথে যেসব আন্তর সাধারণ সূত্র রেখে গেছে, সেসবের কিছু মৌল ইশারাও এর মাধ্যমে পাওয়া যাবে। (সম্পূর্ণ…)

পাঠ: বেদের মেয়ে জোস্‌না

ফরহাদ মজহার | ৯ এপ্রিল ২০০৮ ৪:৩৭ অপরাহ্ন

05.jpg
বেদের মেয়ে জোস্‌না ছবির দৃশ্য

প্রয়াত তোজাম্মেল হক বকুল পরিচালিত বেদের মেয়ে জোস্‌না ছবিটি মুক্তি পেয়েছিল ১৯৮৯ সালে। মুক্তি পাওয়ার পরই ছবিটি দর্শকদের মধ্যে বিপুল সাড়া জাগায়। ছবি সম্পর্কে তখন ভদ্রমহল থেকে রুচিবিকারের অভিযোগ ওঠে। কবি ফরহাদ মজহার তাঁর সম্পাদিত অনিয়মিত পত্রিকা প্রতিপক্ষে পরের বছর ছবিটির পক্ষে একটি দীর্ঘ লেখা প্রকাশ করেন। লেখার শিরোনাম ছিল ‘বেদের মেয়ে জোস্‌না: ছবিটি কেন এত দর্শক টেনেছে?’ লেখায় তিনি ছবিটির বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগসমূহ খণ্ডন করেন। প্রতিপক্ষের সৌজন্যে সে লেখাটি আর্টস-এ প্রকাশিত হলো।

প্রসঙ্গ প্রবেশের আগে : জোস্‌না কেমন ফুটেছে!
বেদের মেয়ে জোস্‌না ছবিটি প্রথমে মফস্বলে মুক্তি পেয়েছিল। ছবিটি মেলা দর্শক টানছে এই খবর যখন কাগজে দেখেছি তখনই নামটা খেয়াল করি। বেদের মেয়ের নাম ‘জ্যোৎস্না’ নয়–জোস্‌না’–এটা লক্ষ্য করে মজা পেয়েছিলাম। ‘জ্যোৎস্না’ শব্দের অপভ্রংশ এক্ষেত্রে খণ্ড-ত (ৎ) ত্যাগ করে সহজ ও লৌকিক উচ্চারণের পথ ধরেছে। মূল শব্দে খণ্ড-ত (ৎ) ছিল আভিজাত্যের প্রতীক। শব্দের প্রাচীনতা, বিশুদ্ধতা ও সংস্কৃত ব্যুৎপত্তির গর্ভ বা স্বকীয়তা এই খণ্ড-ত-য়ের মধ্যে ধৃত। লৌকিক উচ্চারণে তার লোপ একটা গ্রামীণ দ্যোতনার সৃষ্টি করে, ফলে নামের মধ্যে একটা কৃষক বালিকার মুখচ্ছবি তড়পায়। জ্যোৎস্না শব্দের আভিধানিক মানে ইন্দুদ্যুতি বা চাঁদের কিরণ, এটা অবশ্য যে কেউই জানেন। কিন্তু তিনি যে ব্রহ্মার শরীর থেকে উৎপন্ন এবং গন্ধর্বগণের পত্নী এটা সবার জানার কথা নয়। খণ্ড-ত(ৎ) চ্যুতির আগৌরব ‘জোস্‌না’কে এই সকল শরীফ কিংবদন্তির ওজন থেকে হালকা করেছে। ফলে বেদের মেয়ে হতে তার বাধা হয়নি। শব্দের বৃত্তান্ত খুঁজে এসব বের করা অনর্থক নয়, কারণ ওর সূত্র ধরে এগুলোয় এমন সব চিহ্ন আবিষ্কার করা সম্ভব, যা ছবিটির বিচার করতে আমাদের কাজে লাগে, ওতে সামাজিক অবচেতনার নানান ক্রিয়া-প্রতিক্রিয়ার হদিস মেলে, যার সম্পর্কে আমাদের পোশাকি সচেতনতা হামেশাই বেখেয়াল। যেমন, খুব গভীরে না গিয়েও জ্যোৎস্না নামের অপভ্রংশিত রূপান্তরের সরাসরি তাৎপর্যটা অন্তত খেয়াল করা যায়।

যে ‘জোস্‌না’ একেবারেই একটি গ্রাম্য সাধারণ, সহজ এবং স্বতঃস্ফূর্ত–যার কোনো আভিজাত্যমূলক অতীত নেই, উৎপত্তি নেই কিংবা উৎস নেই।

tojammel-h-b1.jpg…….
তোজাম্মেল হক বকুল
……..
ফলে বেদের মেয়ে জোস্‌নানামটা আমার ভালো লেগেছিল। আমি আরো মজা পেয়েছি এই ভেবে যে, জ্যোৎস্নার পরিচিত ভ্রংশ রূপটা এখানে ব্যবহৃত হয়নি। অর্থাৎ নামটা ‘জোছনা’ হয়নি। যেমনটি আছে রবিবাবুর গানে: যথা, ‘জোছনা কেমন ফুটেছে’ ইত্যাদি। পদ্যমূলক বাবু সংস্কৃতির পথে ‘জোস্‌না’ যে যায়নি তাতে আমি খুশি। কারণ তাহলে সর্দিলাগা গলায় রবীন্দ্রসঙ্গীত গাওয়া কোনো এক উন্নাসিক মধ্যবিত্তের বিবাহযোগ্য কন্যার কথা মনে পড়ে যেত। তখন রবীন্দ্র সঙ্গীতের ব্রাহ্ম গাম্ভীর্য থেকে জোস্‌নাকে কিছুতেই উদ্ধার করা যেত না। (সম্পূর্ণ…)

মাসুদ খানের গোধূলিব্যঞ্জন

মুজিব মেহদী | ১৫ নভেম্বর ২০০৭ ১১:২১ অপরাহ্ন

soraikhana-o-harano-manush.jpg
স্ত্রীবাচক শব্দ ‘গোধূলি’ সংস্কৃত বংশজাত একটি কাব্যানুকূল বিশেষ্য। বাংলাভাষায় শব্দটি এখনো তৎসম চরিত্র নিয়েই অবিকল টিকে আছে, অর্থাৎ এ যাবৎ এর কোনো তদ্ভব রূপ সৃষ্টি হয় নি। বঙ্গীয় শব্দকোষ জানায়, বহুব্রীহি সমাসনিষ্পন্ন এই পদটির ব্যাসবাক্য হলো ‘গোখুরোত্থিত ধূলি যে সময়ে’, অর্থাৎ কিনা গোধূলি হলো গো-প্রচারদেশ হতে গোসমূহের গৃহে আগমণকালে খুরোত্থাপিত ধূলিযুক্ত সময়বিশেষ। উল্লিখিত কোষগ্রন্থটি গোধূলির ঋতুনিষ্ঠায় ভরা একটি সংজ্ঞাও সরবরাহ করে। জানা যায়, ‘হেমন্তে ও শিশিরে সূর্য্য মৃদুতাপ-পিণ্ডীকৃত হইলে, বসন্তে ও গ্রীষ্মে সূর্য্য অর্দ্ধাস্তমিত হইলে এবং বর্ষায় ও শরতে সূর্য্য অস্তগত হইলে, গোধূলি হয়।’ বাংলা একাডেমির ব্যবহারিক বাংলা অভিধান অনুসারে শব্দটির প্রতীকী মানে হলো সন্ধ্যাবেলা, সায়ংকাল, সূর্যাস্তকাল প্রভৃতি। গরুর পাল গৃহে ফেরার সময় তাদের খুড়ের আঘাতে প্রান্তরে যে ধূলি উড়ে, সূর্যের ডুবি-ডুবি সময়ের লালাভ আলোর প্রেক্ষাপটে ওই ধূলি এক বিশেষ বর্ণময়তা সূচিত করে। আমূল ওই ছবিটিকে ধারণ করে বলে কাব্যাঙ্গনে শব্দটির বিশেষ সুখ্যাতি আছে। কালে কালে কবিদের বিশেষভাবে আকর্ষণ করবার নেপথ্যে হয়ত শব্দটিতে নিহিত ওই অসাধারণ চিত্রময়তাই দায়ী। বাংলাভাষায় বিভিন্নকালে রচিত বিভিন্ন কবির কবিতা থেকে শব্দটি প্রয়োগের বিস্তর উল্লেখ সম্ভব। কোনোরূপ তুলনামূলক আলোচনার উদ্যম এ যাত্রা রহিত বলে এখানে সেসবের কয়েকটির নমুনা-উৎকলন মাত্র করা হলো। কৌতূহলী রসিক পাঠকগণ ইচ্ছে হলে নিজেরাই পরস্পরের মিল-অমিল খুঁজে দেখতে পারেন। আসুন পড়ি, ‘গোধূলি সময় বেলি’ (বিদ্যাপতি), ‘গোধূলি-ধূসর, বিশাল বক্ষস্থল’ (জ্ঞানদাস), ‘আইলা গোধূলি আইলা রতন ভালে’ (মধুসূদন), ‘ঊর্দ্ধপুচ্ছ গাভী ঐ পাইয়া গোধূলি। ধাইতেছে ঘরমুখে উড়াইয়া ধূলি॥’ (হেমচন্দ্র), ‘মালঞ্চের চঞ্চল অঞ্চল, বিদায় গোধূলি আসে ধূলায় ছড়ায়ে ছিন্নদল’ (রবীন্দ্রনাথ) এবং ‘ফুরায়ে গিয়েছে যা ছিল গোপন, স্বপন ক’দিন রয়! এসেছে গোধূলি গোলাপিবরণ, এ তবু গোধূলি নয়!’ (জীবনানন্দ)। (সম্পূর্ণ…)


Disclaimer & Privacy Policy  |  About us  |  Contact us

© bdnews24.com