চিত্রকলা

পিতৃপুরুষ ও উত্তরসাধকদের শিল্প

মইনুদ্দীন খালেদ | ৫ এপ্রিল ২০১৭ ৮:০৪ অপরাহ্ন

বাংলাদেশের আধুনিক চিত্র ঐতিহ্যের কাল-গণনা কখন থেকে শুরু হতে পারে? এ প্রশ্নের উত্তরে নিশ্চিতভাবে বলা যায় তা হবে অবিভক্ত বাংলার শিল্পচর্চার ইতিহাসের ১৯৩০-এর দশক থেকে। এ দশকের শেষে জয়নুল আবেদিন জলরংয়ের ভূদৃশ্য এঁকে সর্বভারতীয় আয়োজনে শ্রেষ্ঠ পুরস্কার অর্জন করেন। জয়নুলের বিষয় ছিল তখনকার পূর্ববঙ্গ, আজকের বাংলাদেশের নদীতীরবর্তী মনোহর প্রকৃতি। এই ছিল নিখিল ভারতের শিল্পচর্চার ব্যাপ্ত প্রেক্ষাপটে স্বাতন্ত্র্যের বৈশিষ্ট্যমণ্ডিত পূর্ববঙ্গজ শিল্পের আবির্ভাব।

গত শতকের তিরিশের দশক থেকে এই নবীন শতক অবধি কাল বিবেচনায় নিলে বাংলাদেশের চারুশিল্পের আধুনিকতা পঁচাত্তর বছর বয়সী। জয়নুল সর্বাগ্রগণ্য, আমাদের শিল্পচর্চার পিতৃপুরুষ। এ উপমহাদেশের শিল্পচর্চাও তার হাতে বিশেষ বাঁক নিয়েছে। তাই শুধু বাংলাদেশের প্রেক্ষিতে বিবেচনায় নয়, মহাভারতেরও তিনি অন্যতম ঋত্বিক; নিরীক্ষা-ধর্মিতার দাবিতে যুগপুরুষ।

তিরিশের দশকের ক্রান্তিকালে কলিকাতাকেন্দ্রিক চর্চায় মেধাবী উত্থান ঘটে সফিউদ্দিন আহমেদের। তার ছাপচিত্রে বিশেষ সূক্ষ্ণদর্শিতা পরিকীর্ণ হয় উডকাটে। চল্লিশের দশকের দুঃসহ অগ্নিগর্ভ সময়ে কালের বৈশিষ্ট্য ডাগর ভাষায় জানান দিয়ে সেই চারুমঞ্চে আবির্ভূত হন কামরুল হাসান।

জয়নুল, কামরুল ও সফিউদ্দিন–এই তিন পিতৃপুরুষ রচনা করেছেন বাংলাদেশের আধুনিক শিল্পচর্চার ভিত। তারপর পঞ্চাশের দশকের সারথিরা নানা প্রান্তে পৌঁছেছেন শিল্পের সেই রথে। একজন মোহাম্মাদ কিবরিয়া, দশকের হিসেবে ওই সারথিদের সমকালিন হলেও বিমূর্ত ধারায় ধ্যান করে ফলালেন নতুন ফসল। বস্তুত বাংলাদেশে যে বিমূর্ত শৈলীর দর্শণীয় বিকাশ ঘটেছে এ শিল্পীই তার আদি পুরোহিত। ওই তিন পিতৃপুরুষ আর এক বিমূর্ত শৈলীর অগ্রনায়ক আর সাত জন উত্তরসাধক আমিনুল ইসলাম, মুর্তজা বশীর, আব্দুর রাজ্জাক, রশিদ চৌধুরী, সমরজিৎ রায় চৌধুরী, রফিকুন নবী ও মনিরুল ইসলামসহ এগার জন শিল্পীর কাজ নিয়ে দেশের স্বনামধন্য প্রদর্শনশালা ‘গ্যালারী চিত্রক’ আয়োজন করেছে ‘প্রদর্শনী- ২০১৭’। নির্বাচিত শিল্পীদের শিল্পকর্মগুলো এ দেশের চিত্রসাধনার রূপরেখা অনুধাবনে শিল্পরসিকদের মনের অনুভূতিকে নতুন করে সজীবতা দেবে। আজও আমরা আমাদের আধুনিক শিল্পের স্থায়ী জাদুঘর বা সংগ্রহশালা গড়ে তুলতে পারিনি। এ কারণেও চিত্রক-এর আয়োজন বিশেষভাবে গুরুত্ববহ। গুরুশিল্পীদের গুরুত্বপূর্ণ শিল্পের অরিজিনাল বা আদত রূপ প্রত্যক্ষ না করলে শিল্পপ্রিয় মানুষের তৃষ্ণা কি মেটে!

জয়নুল আবেদিন
border=0শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদিন আছেন ছাত্রজীবন থেকে শুরু শুরু করে ১৯৭১-এর মুক্তিযুদ্ধের শিল্পসাক্ষী নিয়ে। জয়নুলে আবছায়া নেই, আছে অভূতপূর্ব স্পষ্টতা। জোর তার রেখায় আর বলিষ্ঠ গড়নের জ্যামিতিতে। চর্চার কেন্দ্র তার প্রধানত মানুষ। মানুষের দেহ শিল্পাচার্যের সাধনার প্রধান লক্ষ্য। দেহের বাঁক-ভঙ্গি বোঝার জন্য কলিকাতার সরকারি আর্ট স্কুলের ছাত্রজীবন থেকেই যে ছিল তার গভীরতর অভিনিবেশ তা ড্রইংগুলো দেখলে সহজেই অনুমেয় হয়ে ওঠে। ছাপাই ছবির দক্ষতার সাক্ষী দিচ্ছে তার ‘মা ও শিশু’ নামের উডকাট প্রিন্ট। আছে একটা দুর্ভিক্ষ-চিত্র। এই চিত্রমালাই ভারতশিল্পে নতুন মুক্তি এনেছে; বিষয় বিবেচনা ও শিল্পভাষার নিরীক্ষা, উভয় ক্ষেত্রেই। দুর্ভিক্ষপীড়িত হাড্ডিসার মানুষ আঁকা মানে শুধু মানুষটি আঁকা নয়; বিপন্ন মানবতাকে দ্রষ্টব্য করে তোলা। (সম্পূর্ণ…)

কাইয়ুম চৌধুরী: আঙুল যার রঙের ঝর্ণাধারা

মাজহার সরকার | ১০ ফেব্রুয়ারি ২০১৭ ১২:৫৩ অপরাহ্ন

kaium chiowdhury“এই প্রদর্শনীতে খোলা ছুরি হাতে কোন উদ্ধত খুনি যদি এসে ঢোকে, এই ছবি দেখে তার হাত থেকে ছুরি নিচে পড়ে যাবে।”
সত্তর দশকের শেষ দিকে শিল্পকলা একাডেমিতে তরুণ শিল্পী কাইয়ুম চৌধুরীর একটা চিত্র প্রদর্শনীতে আসা প্রধান অতিথি এই কথা বলেছিলেন।
কাইয়ুম চৌধুরী। তেলরং, জলরং, রেশম ছাপ, কালি-কলম, মোমরং ইত্যাদি মাধ্যমে তিনি কাজ করেছেন। তার ছবিতে রয়েছে জ্যামিতিক প্রবণতা। আসলে নকশা। এর কারণ এই বাংলায় মানুষ ছবি আঁকতে শিখেছে নারীর কাছে। নারী যখন কাঁথা সেলাই করতেন, নানা নকশার পিঠা বানাতেন, মাটি গুলিয়ে উঠোন আর ভিটে লেপতেন- সেই হাতের টান মানবিকী মূর্ছনায় পুরুষের মনে ছবি আঁকার প্রেরণা জুগিয়েছে। গতি দিয়েছে তুলির রেখায়।
ক্যানভাসের পটভূমিতে কাইয়ুম চৌধুরীর মোটাদাগের নকশা সে কথাই বলে। তার বর্ণোজ্জ্বল রঙ মনে করিয়ে দেয় বাংলাদেশের ষড়ঋতুর কথা। লাল, সবুজ আর নীল এই তিনটি রঙের প্রচুর পরিমাণে ব্যবহার আমাদের জাতীয়তাবাদী করতে তোলে, প্রেমিক হতে শেখায়। এই বর্ণভঙ্গী মাতৃভূমির প্রতি তার অঙ্গীকার। তিনি যেন ছবি আঁকেননি, আজন্ম বাংলাদেশকে এঁকেছেন।
তার চিত্ররীতিতে এ দেশের লোকশিল্পসুলভ পুতুল, পাখা, শীতলপাটি, কাঁথা, হাঁড়ি ইত্যাদির পৌনঃপুনিক ব্যবহার আমাদের শৈশব মনে করিয়ে দেয়। (সম্পূর্ণ…)

মনির : ক্রম-পরিণতি ও বৈচিত্র্যের সফল শিল্প-ব্যক্তিত্ব

অলাত এহ্সান | ২০ নভেম্বর ২০১৬ ১০:৩৫ অপরাহ্ন

monir-2গভীর সংদেনশীলতার কারণেই সাহিত্যিক-শিল্পীরা সমাজে আশু পরিবর্বতন ও ভবিষ্যৎ সম্ভাবনাকে আগেই আঁচ করতে পারেন। স্বাধীনতাপূর্ব সময়ে, বিশেষ করে ষাটের দশকের শিল্পী-সাহিত্যিকদের অন্বেষাই এ দেশের স্বাতন্ত্র ও প্রাণশক্তি চেনাতে মূখ্যভূমিকা রেখেছে। শিল্পীদের সেই অন্বেষাকে গভীরতর করার ক্ষেত্রে প্রধান কারিগর শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদিন। তার মধ্যদিয়েই দেশভাগোত্তর এদেশের শিল্পকলার সেই ধারা চর্চার সূচনা। পরবর্তীকালে তাদের উত্তরসূরি প্রতিভাবান শিল্পীদের হাতে বৈচিত্র্যে ও বৈভবে সমৃদ্ধ হয়েছে চিত্রকলার ধারা, গড়ে উঠেছে এর গৌরবময় ইতিহাস। মনিরুল ইসলাম এই প্রতিভাবান শিল্পীদের অন্যতম। শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদিন, সফিউদ্দিন আহমেদ, কামরুল হাসান, আমিনুল ইসলাম, মোহাম্মদ কিবরিয়ার শিষ্য তিনি। জয়নুলোত্তর শিল্পীদের মধ্যে তিনিই বিশ্বব্যাপী সর্বাধিক পরিচিতদেরও একজন। কাজের নিজস্বতা, ধরন ও সমৃদ্ধিই তাকে এখানে উন্নীত করেছে।
পঞ্চাশের দশকের শেষার্ধ থেকে শুরু করে ষাটের দশকের প্রথমে প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা শেষ করেন মনিরুল ইসলাম। ঠিই তখন থেকেই তার শিল্পীজীবন ধরলে আজ তা সাড়ে পাঁচ দশক পেরিয়ে গেছে। এর মধ্যে তিনি দ্বিতীয় আবাস গড়েছেন স্পেন। সেখানে স্থায়ীভাবে বাস করে শিল্পচর্চা করেছেন। হয়ে উঠেছেন মাদ্রিলেনঞ-বাঙালি। ছাপচিত্রের জন্য খ্যাতিমান এই শিল্পী এচিংয়ে এমন একটি স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্য অর্জন করেছেন, যা স্পেনে ‘মনির-স্কুল’ বলে পরিচিত।
অর্থাৎ এই সময়ে তার চিত্রকর্ম একই রকম থাকেনি। তা সম্ভবই না। কখনো থাকে না। বদলে গেছে, বিষয় বস্তু থেকে প্রকরণ, এমনকি আঁকার সরঞ্জাম-উপাদান, সবকিছুতে এই পরিবর্তন। প্রত্যাহিক জীবনের প্রায় সব কিছু থেকেই তিনি শিল্পের সন্ধান পান। এমনি একটা পোড়া রুটির বুক থেকেও। ১৯৬১ থেকে ২০১৬, এই দীর্ঘ সময়ে গুরুত্বপূর্ণ সব পেন্টিং ও দিক নিয়ে প্রকাশ হলো শিল্পবিষয়ক বই ‘মনির’। এর মধ্যদিয়ে তার আঁকা ছবির পরিবর্তন ও পরিবর্ধনের একটা রেখাচিত্র পাওয়া যাবে। গতকাল শনিবার ঢাকা লিট ফেস্টের সমাপনী দিনে কসমিক টেন্ট-এর মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠিত হয়। (সম্পূর্ণ…)

শিল্পী মুর্তজা বশীরকে জন্মদিনের শুভেচ্ছা

রাজু আলাউদ্দিন | ১৭ আগস্ট ২০১৬ ৯:৩৬ অপরাহ্ন

M.B-1
ছবি:নিজ গৃহে শিল্পী মুর্তজা বশীর। :
কবি এবং চিত্রশিল্পী মুর্তজা বশীর ভাইয়ের সাথে আমার সখ্য গড়ে উঠতে পারতো অনেক আগেই। আমার লেখকজীবনের প্রায় সূচনা থেকেই তাকে নামে চিনি। কারণ তিনিতো কেবল চিত্রশিল্পী নন, তিনি কবি ও কথাসাহিত্যিক হিসেবেও তখন থেকে আমাদের কাছে পরিচিত। অতএব ছবির সূত্রে না হোক, অন্তত কবিতার সূত্রেই তিনি আমাদের কাছে আকর্ষণীয় ব্যক্তিত্ব। অার কোন চিত্রশিল্পী আছেন যিনি একাধারে শিল্পের নানান মাধ্যমে সব্যসাচীতায় দীপ্যমান? আর ছবির কথাই বা বলবো না কেন, না আঁকতে পারি, কিন্তু ছবিতে আমার আগ্রহতো অকিঞ্চিতকর নয়। সে নিয়েওতো সংযোগ তৈরি হতে পারতো। তবে দেরিতে হলেও যে সেটা সম্ভব হলো এজন্য আমি কৃতজ্ঞবোধ করছি। কারণ তার সাথে আড্ডা মানে কেবল শিল্প নিয়ে কথাবার্তাই নয়, অনিবার্যভাবেই চলে আসে নানান বিষয়: সাহিত্য, রাজনীতি, শিল্পের ইতিহাস, ভারতের ইতিহাস, শিল্পতত্ত্ব, বিট জেনারেশন, ব্রিটেনের এ্যাংরি ইয়ং ম্যান প্রজন্ম–কী নয়! ৮৫ বছরের বশীর ভাইয়ের স্মৃতির ভাণ্ডারও বিশাল। ওতে ঘুরে বেড়ালেও শিহরিত হতে হয়ে চমৎকারিত্বে আর তার সজীবতায়। এ্যাংরি ইয়ং ম্যান প্রজন্মের লেখকদের বইয়ের যে সংকলন তার ব্যক্তিগত গ্রন্থাগারে আছে তা আমাদের অনেক লেখকের কাছেও পাওয়া যাবে কিনা সন্দেহ। নানান বিষয়ে তার আগ্রহ এবং অধিকার মুগ্ধ করার মতো। আমার আগ্রহের অনেক লেখক কবি সম্পর্কে তিনি শুধু জানেনই না, তাদের কারোর কারোর কবিতা তিনি অনুবাদও করেছেন, যেমন ফেদেরিকো গার্সিয়া লোর্কা।
বশীর ভাই আামার কাছে অাকর্ষণীয় ব্যক্তিত্ব তাঁর বহুমুথিতার জন্য, স্পষ্টভাষণের জন্য, শিশুতোষ সারল্যের জন্য, অকপটতার জন্য, আর সর্বোপরি তাঁর সৃজনশীল বিকিরণের জন্য। আর, হ্যাঁ, আজকাল যা বিলুপ্ত ডোডো পাখির মতোই ধুসর স্মৃতিমাত্র আমাদের জীবনে, তিনি সেই নিরাপোষকামিতাকে জীবনে প্রয়োগ করে বঞ্চনার ঐশ্বর্যে বলীয়ান হয়ে আছেন। তার সান্নিধ্য আমার জন্য সবসময়ই এক গৌরবময় স্মৃতি। (সম্পূর্ণ…)

সাম্প্রতিক বিশ্বসাহিত্য ও সংস্কৃতি: বিদায় আব্বাস, বিদায় বনফয়

বিপাশা চক্রবর্তী | ৫ জুলাই ২০১৬ ৭:৪৮ অপরাহ্ন


বিদায় কবি রুপালী পর্দার

Abbasসমসাময়িক চলচ্চিত্রের ইতিহাস যদি আপনি লিখতে বসেন তাহলে চাইলেও কিছুতেই যার নামটি আপনি বাদ দিতে পারবেন না তিনি হলেন-আব্বাস কিয়ারোস্তামি। হলিউডের রুক্ষ সংস্করণের বিপরীতে চলচ্চিত্রে তিনি নিয়ে এসেছিলেন কাব্যময়তা। যা ছিল অত্যন্ত পরিশালীত ও স্ব-অর্জিত, একই সাথে আধুনিক অতিন্দ্রিয়তার প্রতিফলন। তাঁর চলচ্চিত্রেরর প্রতিটি অংশেই তাঁর নিজস্বতা ছিল। তিনি নিজেও ছিলেন কবি। তিনি এ যুগের চলচ্চিত্রের কবি। নিজের মাতৃভূমি ইরানকে তিনি উপস্থাপন করেছেন চলচ্চিত্রের মাধ্যমে অত্যন্ত শৈল্পিকভাবে। ইরানের সংস্কৃতি, ইতিহাস, সামাজিক জীবনধারাকে সারা পৃথিবীর কাছে পরিচিত করিয়েছেন চলচ্চিত্রের মাধ্যমে। এমনকি দেশটিতে ইসলামিক বিপ্লবের পরেও তিনি দেশ ত্যাগ করেননি। বরং চলচ্চিত্রের মাধ্যমে তাঁর কাব্যিক ঝঙ্কার অব্যাহত রেখেছিলেন। তাঁর প্রতিটি চলচ্চিত্র মানুষের সঙ্গে মানুষের সম্পর্ক, প্রকৃতির সঙ্গে মানুষের সম্পর্কের নিবিড় অথচ সুক্ষ্ম বর্ণনা। বর্ণনা এমন রহস্যময় পরাবাস্তব আবহ সৃষ্টি করে যে আপনার মনে হবে যেন আপনি এই জগতে থেকেও নেই। কোথাও হারিয়ে গেছেন। এভাবেই একজন আব্বাস কিয়ারোস্তামী হয়ে ওঠেন রুপালী রূপকথাকার, কখনো কবি। আব্বাস ছিলেন বর্তমান পৃথিবীর একজন প্রধানতম ‘ওটার’। মানে হল যিনি একই সাথে চলচ্চিত্রের চিত্রনাট্য রচনা, পরিচালনা, প্রযোজনা, শব্দ ও সুর সংযোজন, চিত্রগ্রহণ এবং সম্পাদনা করতে পারতেন। বলা যায় চলচ্চিত্র নির্মানে তিনি সর্বময় গুণের অধিকারী ছিলেন। তাঁর নির্মিত চলচ্চিত্রের প্রতিটি অংশে ছিল স্বকীয়তার ছাপ। নিজ গুনেই সুপ্রসিদ্ধ এই নির্মাতা হয়ে ওঠেন পৃথিবীর রুপালী জগতের কিংবদন্তী। জীবনের বিভিন্ন সময়ে অসংখ্য পুরস্কার অর্জন করেছেন তিনি। ১৯৪০ সালে ইরানের তেহরান শহরের জন্ম নেন আব্বাস। তেহরান বিশ্ববিদ্যালয়ে চিত্রকলা নিয়ে পড়াশোনা করেন। কর্মজীবনের শুরু গ্রাফিক ডিজাইনার হিসেবে ইরানিয়ান টেলিভিশনের জন্য বেশকিছু বিজ্ঞাপন নির্মানের মাধ্যমে। ১৯৬৯ সালে –‘কানুন’ নামে একটি সংগঠনে যারা শিশু কিশোরদের মানবীয় বৃদ্ধিবিকাশ নিয়ে কাজ করে। এখানকার ফিল্ম ডিপার্টমেন্টের দায়িত্ব নিয়ে প্রায় এক যুগ কাজ করার সময় শিশুদের নানান সমস্যা নিয়ে বেশ কটি চলচ্চিত্র তৈরি করেন। পরবর্তীতে নিজেই স্বনির্ভর চলচ্চিত্রকার হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেন। এ সম্পর্কে বিভিন্ন সাক্ষাৎকারে আব্বাস বলেন, “শুরতে যা ছিল শুধুই চাকরী পরে তা ক্রমশ আমাকে একজন শিল্পী হয়ে উঠতে সাহায্য করে”। ১৯৯৭ সালে নির্মিত‘টেস্ট অফ চেরি’ চলচ্চিত্রটি আন্তর্জাতিক কান চলচ্চিত্র উৎসবে সর্ব্বোচ্চ ‘পাম দোর’ পুরস্কার অর্জন করে। ১৯৭০ সাল থেকে নিয়মিত ভিন্ন ধারার ডকুমেন্টরি, স্বল্প ও পূর্ণ-দৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র নির্মান করে বিশ্বজোড়া খ্যাতি অর্জন করেন এই চলচ্চিত্রকার। আজ যে সারা পৃথিবীতে ইরানী চলচ্চিত্রের জয়জয়কার তা মূলত আব্বাসের বদৌলতে। কেননা, তিনি তাঁর কাজের মাধ্যমে চলচ্চিত্র নির্মানে তাঁর বৈশিষ্ট্য ও ভাবধারা সঞ্চারিত করতে পেরেছিলেন তাঁর উত্তরসূরি ইরানী চলচ্চিত্রকারদের মাঝে। তিনি নিজে প্রভাবিত ছিলেন সত্যজিৎ রায়, ভিত্তোরিও দে সিকা ও জাক তাতি’র কাজ দ্বারা। (সম্পূর্ণ…)

অসাধারণ রেখায় গাথা সাধারণের মুখ

রুবাইয়াৎ আহমেদ | ৭ জুন ২০১৬ ১১:১৬ পূর্বাহ্ন

masuk.jpgআমার দাদি বুড়ো হতে হতে কুঁজো হয়ে গিয়েছিলেন। সোজা হয়ে হাঁটতে পারতেন না। তার মুখে-শরীরে ছিল অগণিত ভাঁজ। আমাদের বাসা আর নানার বাড়ি ছিল নদীর এপার-ওপার। দাদি আমার মাঝে মাঝেই নৌকায় নদী পাড়ি দিয়ে চলে যেতেন নানাবাড়ি। সেখানে নানির সঙ্গে ছিল তার সখ্য। একদিন উলের সূতা দিয়ে দাদির পা বেঁধে দিয়েছিলাম যেন আর আমাদের বাড়ি থেকে না যান কোথাও। দাদির পা দিয়ে রক্ত গড়িয়ে পড়েছিল, বলেছিলেন তিনি-

“বান’রে দাদু বান”।

আজো আমার কানে তার উচ্চারিত শব্দ বেজে ওঠে। মনে পড়ে, আমার কাণ্ডকীর্তি দেখে তার মুখখানায় ব্যথার বদলে স্নেহের হাসি উথলে উঠেছিল। সেই মুখে ছিল শত ভাঁজ, সুবিন্যস্ত রেখার চলনে গড়ে ওঠা সেই মুখ আজ আমার মাঝে পৌরাণিক অভিজ্ঞতার ছায়া হয়ে দোলে। সেই অত ছোটকালে বুঝে উঠতে পারিনি দাদির অবয়বটুকু পৃথক হয়ে যায় কেন? শুধুমাত্র রক্তসম্পর্কীয় বলে? নাকি অশেষ স্নেহের ভাণ্ডার তিনি সেকারণেই? না, মুখের ভাঁজগুলো তাকে ওই বয়সে বিশেষ সৌন্দর্য দান করেছিল। আত্মীয়তা, স্নেহ ইত্যকার বিষয়ের সঙ্গে বয়সের সঙ্গে সম্পর্কিত সেই সৌন্দর্যও নিশ্চিতভাবেই টেনেছিল আমাকে। সেই সৌন্দর্য মুখের উপর লেপ্টে থাকা রেখার। রেখার শক্তি অথবা বিভ্রান্তি আমাকে মার খাইয়েছিল গৃহশিক্ষকের কাছে। মানুষ আঁকতে গিয়ে পুরুষাঙ্গ জুড়ে দিয়ে শিক্ষকের রোষানলে পড়েছিলাম। নিশ্চয় তার মনে আমার গোল্লায় যাওয়ার সম্ভাবনা উঁকি দিয়ে থাকবে। রেখা নিয়ে এসবই আমার শৈশবের স্মৃতি। মাঝে মাঝে উঁকি দেয় মনের গহ্বরে। আজ বুঝি, রেখা চিত্রকলার প্রাণ। রেখার বিন্যাসেই চিত্র পায় প্রাণ আর তার বিচিত্র চলনে সেটি হয়ে ওঠে আরো বিশিষ্ট। রেখার পরতে পরতে গুপ্ত থাকে ইতিহাস। (সম্পূর্ণ…)

শেকড়ের শিল্পী জয়নুল আবেদিন

পুলক হাসান | ৪ জুন ২০১৬ ৪:০৯ অপরাহ্ন

jainul-1.jpgশিল্পাচার্য জয়নুল আবেদিন বাংলাদেশের শিল্প আন্দোলনের অগ্রনায়ক। তাঁর হাত ধরেই এ দেশে চারুকলার যাত্রা শুরু হয় এবং তিনি এর প্রথম শিক্ষাগুরু। তিনি শিল্পমানসে ছিলেন নিম্নবর্গীয় ও প্রান্তিক মানুষের প্রতিনিধি। যে জীবন তিনি যাপন করেছেন ও কাছ থেকে দেখেছেন তারই স্বতঃস্ফূর্ত রূপদান এবং মর্মরস আহরণই ছিল তাঁর শিল্পদর্শন। ফলে তাঁর রঙতুলিতে জীবন্ত হয়ে উঠেছে তাঁর শৈশব ও কৈশোরে দেখা বৃহত্তর ময়মনসিংহ অঞ্চলের নিসর্গ ও জীবনবৈভব। ব্রহ্মপুত্র নদ এবং এর দু’তীরের নিম্নবর্গীয় প্রান্তিক মানুষের জীবন ও সংগ্রামের মধ্যেই তিনি খুঁজেছেন তাঁর শিল্পবাস্তবতা। জীবনবোধে ও চিন্তাচৈতন্যে তিনি তাই ছিলেন শতভাগ শেকড়েরই সন্ধানী। প্রাচ্য ও পাশ্চাত্য শিল্পকলা থেকে আহরণ তাঁর যাই-ই থাক, তার প্রভাব থেকে দ্রুতই বেরিয়ে এসে স্বতন্ত্র ও অনন্য হয়ে ওঠেন। যে কারণে তাঁকে ‘শিল্পাচার্য’ অভিধায় ভূষিত করা হয়। তবে জয়নুলের শিল্প অন্বেষণ শুধুমাত্র নিসর্গ ও গ্রামীণ পটভূমির মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল না। প্রাকৃতিক বিপর্যয়, দুর্ভিক্ষ ও মানুষের জীবন সংগ্রামের আরো আরো দিক এবং লোক-ঐতিহ্য চেতনা ছিল সুগভীর। স্বাধীন বাংলাদেশের স্থপতি বঙ্গবন্ধু যেমন বাংলাদেশের মানচিত্র উপহার দিয়েছিলেন জয়নুল সেখানে লোক-ঐতিহ্যের মধ্যে খুঁজেছিলেন বাংলার চিরায়ত রূপ। ১৯৭৫ সালে তাই বঙ্গবন্ধুর অনুপ্রেরণায় নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয় প্রতিষ্ঠা করেন ‘লোক ও কারুশিল্প ফাউন্ডেশন’ (লোকশিল্প জাদুঘর)। শিল্প সংগঠক হিসেবে এটা তাঁর অবশ্যই অতুলনীয় অবদান। তবে এক্ষেত্রে তাঁর অবদান আরো বিস্তৃত। তিনি একজীবনে শিল্পী, শিক্ষক ও সংগঠক তিন পর্বেই অনন্য এক শিল্পতাপস। শিল্পী হিসেবে তিনি ছিলেন সংস্কারমুক্ত, অসাম্প্রদায়িক ও জীবনবাদী। এক্ষেত্রে তাঁর দৃষ্টিভঙ্গি ছিল উদার ও আন্তরিক। ফলে জীবনকে দেখা ও নির্ণয়ে কোনো অস্বচ্ছতা ছিল না। তাঁর প্রতিটি চিত্রকর্মই তাই সময় ও বাস্তবতার এক একটি ভাষ্যচিত্র। তাঁর শিল্পকর্মের মধ্যে একই সঙ্গে দুই বিপরীত বাস্তবতার উপস্থিতি দেখা যায়। তাঁর তুলিতে নিসর্গ যেমন স্বাভাবিক ও স্বতঃস্ফূর্ত তেমনি এর বিপরীত চিত্রও সময়ের প্রয়োজনেই এঁকেছেন তিনি। নদী, নৌকা, গুণটানা, মাঝি-মাল্লার দৃশ্য, গ্রাম্য বধূর মুখ তুলে বসে থাকা, ঘোমটা সরিয়ে উঁকি দেয়া কিংবা আয়নায় মুখ দেখা, সাঁওতাল রমণী ইত্যকার চিত্র তাঁর বাঙালি সংস্কৃতির আবহমানবোধ থেকেই তৈরি। (সম্পূর্ণ…)

সীমানা-ভাঙা চিত্রশিল্পী মারিসলের প্রয়াণ

জাকিয়া সুলতানা | ২১ মে ২০১৬ ১১:৪৮ অপরাহ্ন

marisol.jpg
নিজের শিল্পকর্মের সামনে মারিসল
চিত্রকলার জগতে শুধু মারিসল নামেই তিনি পরিচিত, পুরো নাম মারিসল এস্কোবের। পিতৃভূমি বেনেসুয়েলা হলেও তিনি জন্মেছিলেন প্যারিসে। শিল্পী হিসেবে আমেরিকায় পপ, অপ আন্দোলনের সময় তার উত্থান হলেও ছিলেন শৈল্পিক স্বাতন্ত্র্যের কারণে উভয় গোষ্ঠী থেকে অনেকটাই আলাদা। ১৯৬৫ সালে দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমস মারিসলের এই স্বাতন্ত্র্যকে “‘Not Pop, Not Op, It’s Marisol!’ শিরোনামে প্রকাশিত এক নিবন্ধে স্বীকৃতি জানাতে ভুল করেনি। জীবদ্দশায় তুমুল জনপ্রিয় এই শিল্পীর জন্মদিনটি ছিল তার মৃত্যুরই পরের মাসে, অর্থাৎ ২২ মে। প্রতিভাবান এই শিল্পীর মৃত্যুর পরপরই ২ মে দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমস-এ উইলিয়াম গ্রাইমস তাকে নিয়ে যে নিবন্ধটি লেখেন, জাকিয়া সুলতানার অনুবাদে সেটি এখানে প্রকাশ করা হলো। বি. স. (সম্পূর্ণ…)

সাম্প্রতিক বিশ্বসাহিত্য: দ্য জাঙ্গল বুক-এর চোখধাঁধানো নতুন অলংকরণ

বিপাশা চক্রবর্তী | ২৯ এপ্রিল ২০১৬ ৫:৩৩ অপরাহ্ন

kipling_rudyard.jpg
রুডইয়ার্ড কিপলিং-এর বিখ্যাত শিশুতোষ গল্প দ্য জাঙ্গল বুক আমাদের সকলেরই হৃদয় ও কল্পনা জুড়ে কম বেশি জায়গা করে আছে। সেই কবে ১৮৯৪ সালে প্রথম প্রকাশিত হয় দ্য জাঙ্গল বুক। বনের ভেতর নেকড়ে পরিবারের কাছে বেড়ে ওঠা একটি শিশুর গল্প আজও এই একবিংশ শতকের ব্যস্ত আধুনিক শহুরে মানুষদের মাতিয়ে রেখেছে। তার সবচেয়ে বড় প্রমাণ মাত্র কিছুদিন আগে মুক্তি পাওয়া ওয়াল্ট ডিজনি প্রযোজিত চলচ্চিত্রটি যা নিয়ে এই মুহূর্তে মজে আছে গোটা পৃথিবী, ছেলে বুড়ো সবাই। তবে দ্য জাঙ্গল বুক’কে নিয়ে এটাই প্রথম চলচ্চিত্র নয়। এর আগে এই ওয়াল্ট ডিজনি পিকচারস বানিয়েছিল এনিমেটেড মিউজিক্যাল কমেডি ফ্লিম ‘দ্য জঙ্গল বুক’। তারই ধারাবাহিকতায় ২০১৬-এর এপ্রিলে মুক্তি পায় আধুনিক ডিজিটাল প্রযুক্তিনির্ভর চলচ্চিত্রটি। শুধু কি তাই, পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে বিভিন্ন ভাষায় এ পর্যন্ত দ্য জাঙ্গল বুক ও এর প্রধান চরিত্র মোগলিকে নিয়ে এখন পর্যন্ত তৈরি হয়েছে বহু কার্টুন ও এনিমেটেড শো, কমিকস, টিভি সিরিজ কত কিছু। এই শিশুতোষ গল্পটি কেবল সাহিত্যক্ষেত্রেই অনন্য নয় বরং একে উপজীব্য করে গড়ে উঠেছে বিভিন্ন প্রকার ব্যবসায়িক মুনাফা লাভের কার্যক্রম। সম্ভবত মানুষের রক্তে সুপ্ত হয়ে থাকা আদিম বন্যতাই তাকে বার বার নিয়ে যায় জঙ্গলে বেড়ে ওঠা মোগলি ও তার পশুবান্ধব বালু, বাঘেরাদের কাছে। মানুষ যেন নিজেকে ফিরে পায় মোগলির মাধ্যমে। এমনকি শিল্পীর চোখেও বার বার কল্পিত ও অংকিত হয়েছে মোগলি ও দ্য জাঙ্গল বুক-এর অন্যান্য চরিত্র এবং ঘটনা। border=0আরও মজার ব্যাপার হলো দ্য জাঙ্গল বুক-এর প্রথম সংস্করণের অলংকরণ করেছিলেন রুডইয়ার্ড কিপলিং-এর পিতা জন লকউড কিপলিং।

সম্প্রতি দশ জন শিল্পী ও আঁকিয়ে দ্য জাঙ্গল বুক থেকে তাদের প্রিয় দৃশ্য ও চরিত্রগুলিকে নতুনরূপে সৃষ্টি করার রঙিন চেষ্টা করেছেন। এক নজর দেখা যাক তাদের সেই বর্ণিল শিল্পকর্ম। (সম্পূর্ণ…)

সুকারি’র ধাতব আবেগ

মাজুল হাসান | ১৯ এপ্রিল ২০১৬ ৬:৪৭ অপরাহ্ন

sukari-5.jpgপাবলো পিকাসো বলেছিলেন- Sculpture is the art of the intelligence. শুধু ভাস্কর্য নয় শিল্পের অন্য যে কোনো মাধ্যমের জন্য এ কথা সত্য। তবে ভাস্কর্য যেহেতু ত্রিমাত্রিক অবয়বে উপস্থিত হয় সেহেতু এর পেছনে থাকে আরও বুদ্ধিবৃত্তিক চারুকৌশল। সাথে যোগ হয় নিষ্ঠা, প্রজ্ঞা ও ব্যক্তিগত কারিশমা। কবিতায় আমরা যেমন কবি-মানসের আলোকে মূর্তায়ন, অর্ধ কিংবা পূর্ণ বিমূর্ততার স্বাদ পাই, তেমনি পাই পেইন্টিং-এও। সেখানে রঙ ও রেখার টানে অনেক শিল্পমাহাত্ম আরোপের সুযোগ থাকে, করা হয়ে থাকে। কিন্তু কথাসাহিত্যে শেষ পর্যন্ত মূর্ততার দিকেই আস্থাশীল থাকতে হয় শিল্পীকে। ননফিকশনে বিষয়টি আরও প্রবল। সেখানে বিষয় ও বক্তব্যে আরও পরিশীলিত পরিচর্চার ছাপ থাকাটা জরুরি। অনেকে তাই প্রবন্ধ বা মননশীল লেখাকে স্কালচার বা ভাস্কর্যের সাথে তুলনা করে থাকেন। মাইকেলেঞ্জেলো অবশ্য ভালো পেইন্টিংকে ভাস্কর্যের সাথে তুলনা করেছিলেন। ভালো ছবির থরে থরে সাজানো দৃঢ় ও প্রকাশ্য সৌন্দর্যের কারণে‌ই হয়তো এই অভিধা। মোটা দাগে, Painting is so poetic, while sculpture is more logical and scientific and makes you worry about gravity।এই তফাত গড়ে দেয় দুই মাধ্যমের ব্যক্তিগত ক্যারেক্টারিস্টিকস তথা স্পেস। (সম্পূর্ণ…)

হোর্হে লুইস বোর্হেস: লেখক যখন চিত্রশিল্পী

জাকিয়া সুলতানা | ১৭ এপ্রিল ২০১৬ ৯:০৩ অপরাহ্ন

প্রবল সৃষ্টিশীলতা অনেক সময়ে একইসঙ্গে ভিন্ন ভিন্ন রূপের মধ্যে আত্মপ্রকাশ করতে চাইতে পারে। যৌবনকালে রবীন্দ্রনাথ একবার(১৮৯৩) লঘুভাবে লিখেছিলেন, `muse’-দের মধ্যে কোনওটাকেই তিনি নিরাশ করতে চান না, সবকিছুরই চর্চা করতে ইচ্ছে করে, এমনকী ছবিরও। সে-ইচ্ছেকে অবশ্য বহুকাল পরে চরিতার্থ করে তুলেছিলেন। তিনি, এঁকে ফেলেছিলেন দু-হাজারেরও বেশি ছবি, ‘Volcanic irruption’ বলে যার বর্ণনা করেছিলেন অবনীন্দ্রনাথ।
তাহলে এইভাবে, কবিতা লেখার বাইরেও যেতে চান কবি, শিল্পরচনার বাইরেও যেতে চান শিল্পী। পৃথিবীজোড়া শিল্পসাহিত্যের ইতিহাসে এমন যাওয়া-আসার অনেক উদাহরণ পড়ে আছে আমাদের চোখের সামনে ।
( শঙ্খ ঘোষ, অল্পস্বল্প কথা, প্রকাশনী: পাঠক, কলকাতা, প্রকাশকাল: বইমেলা জানুয়ারি ২০১৬, পৃ ৪০)

borges-4.pngবিশ শতকের বিদেশি লেখকদের মধ্যে আমাদের মনে পড়বে কাফকার অসামান্য স্কেচগুলোর কথা, মনে পড়বে আরও অনেকের নামই। কিন্তু আর্হেন্তিনার হোর্হে লুইস বোর্হেস যিনি আমাদের কালের নেতৃস্থানীয় কথাসাহিত্যিক ও কবি হিসেবেই বেশি পরিচিতি, তিনিও যে আঁকার হাতছানির কবলে পরেছিলেন সেটা তার লেখক পরিচয়ের মতো অতটা ব্যাপক নয়। (সম্পূর্ণ…)

সাম্প্রতিক শিল্পসাহিত্য: পানামা পেপার্স-এ চিত্রকলাও

বিপাশা চক্রবর্তী | ১৭ এপ্রিল ২০১৬ ১০:১৩ পূর্বাহ্ন


একটি নিলাম যেভাব পাল্টে দিল শিল্পজগতের ইতিহাস

pablo.jpg বিলিওনিয়ার জো লুইস কিভাবে ব্যক্তিগত সংগ্রহে থাকা পৃথিবী বিখ্যাত সব চিত্রকর্ম সস্তায় কিনে নিয়েছিলেন সম্প্রতি পানামা পেপার্সে তার একটি বিবরণ প্রকাশিত হয়েছে। মার্কিন ব্যবসায়ী ও শিল্প সংগ্রাহক দম্পতি ভিক্টোর গ্যান্জ ও শ্যালি গ্যান্জ-’এর ব্যক্তিগত সংগ্রহে ছিল বহু বিশ্ববিখ্যাত শিল্পকর্ম। জহুরির চোখ দিয়ে তারা সেই শিল্পকর্ম বাছাই করতেন। এ ব্যাপারে তারা ছিলেন বিশেষজ্ঞ। কখনোই তাদের পছন্দ ব্যর্থ হয়নি। বলা যায়, পৃথিবীর ইতিহাসে এই দম্পতিই ছিলেন শ্রেষ্ঠ ব্যক্তিগত শিল্প সংগ্রাহক। এমনকি শিল্পসংগ্রহ নিয়ে এই দম্পতি আ লাইফ অফ কালেক্টটিং নামে একটি বিখ্যাত গ্রন্থও লিখেছিলেন। বিশেষ করে পাবলো পিকাসোর ভক্ত ছিলেন তারা। এবং পিকাসোর বিখ্যাত কিছু শিল্পকর্ম তাদের সংগ্রহশালায় ছিল। ১৯৯৭-এর জানুয়ারিতে ৮৫ বছর বয়সে শ্যালি গন্জ-এর মৃত্যুর পর থেকে একে একে নিলাম হতে থাকে তাদের সংগ্রহে থাকা শিল্পকর্মগুলো।

women-of-algiers.jpgসময়টা ১৯৯৭ সালের নভেম্বর মাস। ম্যানহাটনের নিলাম ঘর ক্রিস্টিজ সেলসরুমে গন্জ দম্পতির সংগ্রহে থাকা পাবলো পিকাসোর যুদ্ধপরবর্তী মাস্টারপিস বিশ্ববিখ্যাত শিল্পকর্ম ‘ওমেন অব আলজিয়ার্স’সহ অসংখ্য চিত্রের একটি নিলাম অনুষ্ঠিত হয়। বিশ্ববিখ্যাত স্প্যানিশ কিউবিস্ট চিত্রশিল্পী পাবলো পিকাসোর ‘ওমেন অব আলজিয়ার্স( ভার্সন ও)’ ছিল ১৫টি অসাধারণ চিত্রকর্মের একটি সিরিজ। আর ‘ভার্সন ও’ হচ্ছে ঐ সিরিজের সর্বশেষ চিত্রকর্ম। আর এজন্যই ওটা ছিল একটু বেশী ব্যতিক্রম। নিলামে থাকা শিল্পকর্মগুলো মাত্র ৩২ মিলিয়ন ডলারে বিক্রি হয়। আর ১৮ বছর পর যার মূল্য হয় ১৭৯ মিলিয়ন ডলার। (সম্পূর্ণ…)

পরের পাতা »

Disclaimer & Privacy Policy  |  About us  |  Contact us

© bdnews24.com