সঙ্গীত

প্রসঙ্গ নজরুল সঙ্গীত : ভূমিকা

ওমর শামস | ২৫ মে ২০১৭ ১০:৩০ পূর্বাহ্ন

Nzrulকাজী নজরুল ইসলাম-এর বিধিদত্ত সঙ্গীত প্রতিভা ছিলো। ছোটবেলার থেকেই তিনি পুঁথিপাঠ, আজান জানতেন, তার সঙ্গে ছিলো লেটোর গান, যাত্রা, ঝুমুর। সে আমলের গ্রামীণ গানে কিছু ধুন, রাগের মিশ্রণ ছিলো। কাফি, ঝিন্‌ঝোটি, বিলাঅল, ভৈরবী, লুম – এ-সব পাওয়া যেতো। ঘারানাদার উস্তাদের কাছে না পৌঁছতেও, কাজী নজরুল-এর বেশ পাকা তালিম এ-সব গান থেকেই হয়েছিলো। কৈশোরে গলা কেমন ছিলো, কি গাইতেন তা অবশ্য আমরা জানতে পারবো না। যৌবনে তিনি যখন নৌশেরা এবং করাচিতে ছিলেন তখন এক ফার্‌সি-জানা উস্তাদের সঙ্গে তাঁর আলাপ হয়। কোনো সঙ্গীত চর্চা করেছিলেন কি সেখানে? আমরা জানি না। তবে সম্ভবত তিনি গানের চর্চা বজায় রেখেছিলেন। নজরুল-এর সাহিত্য এবং কবিতা সাধনা যখন তিনি করাচিতে তখন থেকেই শুরু। তাঁর প্রথম প্রকাশিত সাহিত্যকর্ম, ‘বাউণ্ডেলের আত্মকাহিনী’ গল্পটি সওগাত-এ ১৯১৯ সনে বেরোয়। একই বছরে ‘মুক্তি’, তাঁর প্রথম কবিতা, বঙ্গীয় মুসলিম সাহিত্য পত্রিকায় প্রকাশিত হয়। তাঁর নাম ছাপা হয়, কাজী নজরুল ইসলাম, হাবিলদার, বঙ্গবাহিনী, করাচি। এই প্রকাশনার পর তিনি সম্পাদককে একটি চিঠি লেখেন যাতে তাঁর ঠিকানা এইভাবে লেখা ছিলোঃ From QUAZI NAZRUL ISLAM / Battalion Quartermaster Havilder / 49th Bengalis / Cantonment, Karachi / Dated, The 19th August, 1919 /

১৯২০-তে বঙ্গপল্টন ভেঙ্গে গেলে নজরুল কোলকাতায় ফেরত আসেন এবং বন্ধু শৈলজানন্দদের বোর্ডিং হাউসে ক-দিন থাকেন। যখন “বোর্ডিং হাউসের চাকর জানতে পারে যে, সে মুসলমান সে তার এঁটো বাসন ধুতে অস্বীকার করে।” অতঃপর তিনি ৩২ কলেজ স্ট্রীটে বঙ্গীয় মুসলিম সাহিত্য পত্রিকার অফিসে আশ্রয় নেন। তাঁর পোশাক পরিচ্ছদ সমেত কবিতার খাতা, গল্পের খাতা, পুঁথি-পুস্তক, মাসিক পত্রিকা, রবীন্দ্রনাথ-এর গানের স্বরলিপি ছিলো। “পুস্তকগুলির মধ্যে ছিলো ইরানের মহাকবি হাফিজ-এর দিওয়ানের একখানা খুব বড় সংস্করণ।” এর সঙ্গে “ব্যথার দান”-এর উৎসর্গে উল্লিখিত “খোপার কাঁটা”-টিও ছিলো। “কাজী নজরুল ইসলাম যে-দিন প্রথম ৩২ কলেজ স্ট্রীটে থাকতে এসেছিলো সে-দিন রাত্রেই তাকে দিয়ে আমরা গান গাইয়ে নিয়েছিলাম। গানের ব্যবস্থা হয়েছিল আফজালুল হক সাহেবের ঘরে। আমাদের ঘরখানা শীলদের বাড়ির উঠোনের উপরে ছিলো। তাঁদের বাড়ির ভিতরে যাতে কোন আওয়াজ না পেরোয় সে বিষয়ে আমি সতর্ক ছিলেম। তখনকার দিনে নজরুল সাধারণত রবীন্দ্রনাথের গানই গাইত, কিন্তু সে-দিন সে গেয়েছিলো ‘পিয়া বিনা মোর জিয়া না মানে, বদরী ছায়ী রে’।” (সম্পূর্ণ…)

মুক্তিযোদ্ধা ও গীতিকার নজরুল ইসলাম বাবু

সাইফুল্লাহ মাহমুদ দুলাল | ১৭ জুলাই ২০১৬ ৩:১০ অপরাহ্ন

Babu“ডাকে পাখি খোল আঁখি
দেখ সোনালী আকাশ/ বহে ভোরের বাতাস”…
এই অসাধারণ গানের শিল্পীর নাম সবাই জানলেও সিংহ ভাগ মানুষ জানেন না রচয়িতার নাম, নজরুল ইসলাম বাবু। একটি স্নিগ্ধ, শান্ত, শীতল, কোমল, মিষ্টি সকালের আমেজে ভোরের গানের আড়ালে হারিয়ে গেছে গানের জনক। শুধু এই গানের ক্ষেত্রেই নয়; অধিকাংশ গানের ক্ষেত্রেই এই ঘটনা ঘটছে।
কবিদের যেভাবে গুরুত্ব দেয়া হয় এবং মূল্যায়ন করা হয়, গীতিকবিদের ক্ষেত্রে তা হয়না। তাই আমাদের অনেকেই গান লেখায় উৎসাহ হারিয়ে ফেলেন। এখন গান লেখা সহজ এবং লিখে সন্মানীও মেলে। কিন্তু এক সময় রেডিও-টিভিতে গান লেখার জন্য তালিকাভুক্ত হওয়া ছিল বাঞ্চনীয়। তাই গীতিকার হতে হলে বাধ্যতামূলক পঁচিশটি গান জমা দিয়ে বোর্ড কর্তৃক অনুমোদনের পর ‘ওয়ার্সি’ জুটতো। আর বেতারে এ বি সি গ্রেডের গীতিকারদের সন্মানি দেয়া হতো প্রতি গান যতবার বাজবে; তত বার এক, দুই, তিন টাকা করে। (সম্পূর্ণ…)

সোনার মানুষের খোঁজ

জাকিয়া সুলতানা | ২৮ মার্চ ২০১৬ ১১:১২ অপরাহ্ন

lalon-1.jpgজাগতিক নিয়মে সকাল হয়। এরপর সুর্য পূব থেকে পশ্চিমে চলে যায়, গ্রীষ্মে রাস্তার পীচ গলে আঠালো হয়, কালবৈশাখী হয়; বর্ষায় মেঘলা আকাশ ভেঙ্গে বৃষ্টি নামে, শরতে পেঁজা তুলো স্বাধীনভাবে ঘুরে বেড়ায়- কিছুই দেখা হয় না এ যান্ত্রিক শহরে। কিন্তু আপনি চান বা না চান, অসংখ্য মানুষ আপনি দেখেন। আমরা কখনো কি তাকিয়ে দেখার ফুরসত পাই এই মানুষের দিকে?
মানুষ ভজলে সোনার মানুষ হবি।
মানুষ ছাড়া ক্ষ্যাপা রে তুই মূল হারাবি।।

প্রকৃতি দেখার জন্য এই ঢাকা শহরের গণ্ডিটা পার হয়ে যেতে হয়। তবে মানুষ দেখার জন্য এই পৃথিবীর দু’একটা শ্বাপদসংকুল স্থান ছাড়া যেখানেই যাওয়া হোক না কেন যে কেউ চাইলেই এর বৈচিত্র্য অনুভব করতে পারবে। সাধারণ মানুষের বাইরে কিছু মানুষ দেখা হলো, কুষ্টিয়ায়। বলছিলাম মরমী সাধক লালন ফকির ও তাঁর অনুসারীদের কথা। মানুষকে চেনাই যাদের মূল লক্ষ্য ছিল। যখন মানুষেরা জাতপাত আর ছোঁয়াছুঁয়ি নিয়ে কোন্দল করছে তখন এই মানুষ উচ্চারণ করলেন অদ্ভুত এক কথা-
কেউ মালা কেউ তসবি গলে
তাইতে কি জাত ভিন্ন বলে
আসা কিংবা যাওয়ার কালে
জাতির চিহ্ন রয় কি রে।।

দোল পূর্ণিমার সময় ছেঁউড়িয়ায় সাঁইজির আখড়া বাড়ীতে বসেছে সাধূর হাট। তিনদিনব্যাপী লালন স্মরণোৎসবে জমায়েত হয়েছে দেশ-বিদেশের হাজার হাজার সাধুগুরু ও ভক্তকূল। সন্ধ্যার আগে আগেই গেলাম লালন একাডেমী। এসময় কুষ্টিয়া শহরে জ্যামে চলাফেরা করা দুষ্কর। লালনের ভক্ত, লালনপ্রেমী, সাংবাদিকদের ভিড়ে ধূলিময় হয়ে ওঠে শহর। তাই গন্তব্যস্থলের অনেক আগেই মিলপাড়ায় রিকশা ছেড়ে দিতে হলো। যেকোন তীর্থে নাকি পদব্রজই উত্তম, তাই আমিও কুষ্টিয়ার ধূলি পায়ে লাগিয়ে হাঁটা শুরু করলাম। (সম্পূর্ণ…)

প্রসঙ্গ খেয়াল, তারানা, গায়কী এবং উস্তাদ আমীর খান

ওমর শামস | ৫ জুন ২০১৫ ১২:৩৮ অপরাহ্ন

সম্ভবত ষাটের দশকে টেপে গৃহীত, উস্তাদ আমীর খাঁন-এর দুটো ইন্টারভিউ-এর অনুবাদ করা হলো। একটি রেডিওতে সাক্ষাৎকার দ্যান যার মূল প্রতিপাদ্য বিষয় ছিলো খেয়াল এবং তারানার উৎপত্তির ইতিহাস এবং সেই ব্যাখ্যার সঙ্গে-সঙ্গে তিনি তাঁর নিজের তৈরী কিছু ‘কম্পজিশন’ গেয়ে শোনান। দ্বিতীয়টিতে তাঁর নিজের স্টাইলের বৈশিষ্ট নিয়ে বলেছন। তাঁর বক্তব্যের সূত্র ধরে আমরা আরও কিছু বাগ-বিস্তার করবো।

।। সাক্ষাৎকার-১ ।।
• রাগবিদ্যা সম্বন্ধে আপনার ধারণা কি? আশা করবো, খেয়াল সম্পর্কেও আপনি আলোকপাত করবেন।
– রাগ স্বরের বিশেষ কম্বিনেশন-কে বলে। কিন্তু শুধু আরোহী, অবরোহী দিয়েই, আমার ধারণা, রাগের পূর্ণ শর্ত সম্পন্ন হয় না। তার জন্য শিল্পীর নিজস্ব কল্পনার প্রয়োজন। রাগের ভিতরে যে ভাব রয়েছে, যা খেয়ালের বাণীতেও সংযুক্ত, শিল্পী ঐ ভাবের ব্যাখ্যা এবং বিস্তার নিয়ে রাগকে প্রকাশ করেন। আমার অভিজ্ঞতায়, এই হচ্ছে রাগের ধারণা।
• শ্রোতাদের জন্য এখন কোন রাগের শক্‌ল্‌ (রূপ) শোনান ।
– আমি আপনাদের একটি রাগ শোনাচ্ছি যার নাম প্রিয় কল্যান। এটি সন্ধ্যাকালীন রাগ। এটি আমার কম্পোজিশন। এর কাব্য ফার্সিতে। আমি এইজন্য শোনাচ্ছি যে, প্রথম যখন খেয়াল সৃষ্টি হয়েছিল তখন তার বোল ফার্সিতে হতো। পরে হিন্দিতে খেয়াল চালু হয়েছে। যে সব প্রাচীন বোল ফার্সিতে হয়েছিল, আজকাল তা খুব কম প্রচলিত। আমি এই ধারা পুনঃপ্রবর্তনের চেষ্টা করছি। (সম্পূর্ণ…)

কোত্থেকে টপ্পা ?

ওমর শামস | ২৫ অক্টোবর ২০১৪ ১১:২২ অপরাহ্ন

১. উপক্রমণিকা :
“কীর্তন আমি অনেক কাল থেকেই ভালোবাসি”, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর দিলীপকুমার রায়-কে চিঠিতে লিখছেন, “ওর মধ্যে ভাবপ্রকাশের যে নিবিড় ও গভীর নাট্যশক্তি আছে সে আর কোনো সঙ্গীতে এমন সহজভাবে আছে বলে আমি জানি নে। সাহিত্যের ভূমিতে ওর উৎপত্তি, তার মধ্যেই ওর শিকড়, কিন্তু ও শাখায় ও প্রশাখায় ফলে ফুলে পল্লবে সঙ্গীতের আকাশে স্বকীয় মহিমা অধিকার করেছে। কীর্তনসঙ্গীতে বাঙালির এই অনন্যতন্ত্র প্রতিভায় আমি গৌরব অনুভব করি। …… কখনো কখনো কীর্তনে ভৈঁরো প্রভৃতি ভোরাই সুরেরও আভাস লাগে, কিন্তু তার মেজাজ গেছে বদলে – রাগরাগিণীর রূপের প্রতি তার মন নেই, ভাবের রসের প্রতি তার ঝোঁক। আমি কল্পনা করতে পারি নে হিন্দুস্তানি গাইয়ে কীর্তন গাইছে, এখানে বাঙালির কণ্ঠ ও ভাবার্দ্রতার দরকার করে। কিন্তু, তৎসত্ত্বেও কি বলা যায় না যে এতে সুরসমবায়ের পদ্ধতি হিন্দুস্তানী পদ্ধতির সীমা লঙ্ঘন করে না ? অর্থাৎ, য়ুরোপীয় সঙ্গীতের সুরপর্যায় যে রকম একান্ত বিদেশী, কীর্তন তো তা নয়।” রবীন্দ্রনাথ বিদেশ যাত্রার প্রাক্কালে, ১৩৩১ সনে প্রেসিডেন্সি কলেজের ছাত্রগণের অভিনন্দনে কথিত বক্তৃতায় আরো বলেছিলেন, “এখানে (বাংলাদেশে) বৌদ্ধধর্ম বৈষ্ণবধর্ম বাংলার যা বিশেষ রূপ, গৌড়ীয় রূপ, তাই প্রকাশ করেছে। আর একটা খুব বিস্ময়কর জিনিস এখানে দেখা যায় – হিন্দুস্তানী গান বাংলায় আমল পায় নি। এটা আমাদের দৈন্য হতে পারে। অনেক ওস্তাদ আসেন বটে গোয়ালিয়র হতে, পশ্চিমদেশ দক্ষিণদেশ হতে, যারা আমাদের গান বাদ্য শেখাতে পারেন, কিন্তু আমরা সে-সব গ্রহণ করিনি। কেননা আমাদের জীবনের সঙ্গে তা মেলে না। আকবর শা’র সভার তানসেন যে গান গাইতেন সাম্রাজ্যমদগর্বিত সম্রাটের কাছে তা উপভোগের জিনিস হতে পারে, কিন্তু আমাদের আপনার হতে পারে না।” (সম্পূর্ণ…)

বরাম হাওরে আজ কেনো এতো জল

শাকুর মজিদ | ১৩ সেপ্টেম্বর ২০১৪ ৩:২২ অপরাহ্ন

border=0২০০৯ সালের ১২ সেপ্টেম্বর শাহ আবদুল করিম সিলেটের এক ক্লিনিকে মারা যান। সিলেট শহরের
ঈদগাহ মাঠে তাঁর প্রথম জানাজা শেষে পরদিন ভোরবেলা তাঁর লাশ নিয়ে যাওয়া হয় দিরাই। সেখানে
পৌরসভা মাঠে দ্বিতীয় জানাজা শেষে বড় একটা নৌকা নিয়ে বরাম হাওর পার হয়ে তাঁর নিজগ্রাম
উজানধলের মসজিদের মাঠে নেয়া হয়। ভরা বর্ষায় থৈ থৈ করছে চারদিক । একবার ঈদের নামাজের
পর সালিশী করে নিজগ্রামের মসজিদ থেকে বের করে দেয়া হয়েছিলো তাঁকে। দীর্ঘদিন তিনি
উকার গাওতে তাঁর এক ওস্তাদের বাড়িতে থেকে সঙ্গীত সাধনা করেন। এবার তাঁর লাশ নিয়ে আসা
হয় নিজগ্রামের মসজিতে। হাজার হাজার মানুষ নৌকা নিয়ে এসেছেন জানাজা পরতে। অবশেশে দুই
দফায় জানাজা পড়ান মসজিদের ঈমাম।
এ ঘটনাটির কাব্যিক উপস্থাপনা এসেছে শাকুর মজিদের লেখা মঞ্চ নাটক মহাজনের নাও-তে। (সম্পূর্ণ…)

শিল্পীর শ্রেষ্ঠত্ব

মুহম্মদ নূরুল হুদা | ১১ সেপ্টেম্বর ২০১৪ ৮:৩১ অপরাহ্ন

border=0সম্রাজ্ঞী তিনি। আর অভিমানী। না, তিনি কোনো সম্রাটের ঘরনী নন। তিনি ফিরোজা বেগম। তিনি আমার দেখা নজরুল সঙ্গীতের অবিসম্বাদিত শ্রেষ্ঠ শিল্পী । আমি নজরুল সঙ্গীতের কিংবদন্তীর শিল্পী আঙুরবালা, ইন্দুবালা, যুথিকা রায়, কে মল্লিক, ধীরেন্দ্র চন্দ্র মিত্র বা আব্বাসউদ্দিন আহমদসহ আরো অনেককেই চাক্ষুষ দেখিনি। কিন্তু যাদের দেখেছি তাদের মধ্যে চলনে-বলনে-অর্জনে তাকেই সম্রাজ্ঞী বলে মেনে নিয়েছি। কেননা তার সঙ্গে সাক্ষাতের প্রথম দিন থেকেই বুঝেছি অন্য কারো মতো তিনি নন। তিনি কেবল নিজের মতো। আপন মুদ্রাদোষে বা মুদ্রাগুণে আপনি মহিয়সী এক শিল্পী : তিনি আপসহীনা, তুলনাহীনা। আর সবার ওপরে, অভিমানী। আর এসব মিলিয়েই শিল্পী হিসেবে তার শ্রেষ্ঠত্ব। (সম্পূর্ণ…)

গীতবিতানে তিরিশ মিনিট

আলতাফ হোসেন | ১১ মে ২০১৪ ৯:০১ পূর্বাহ্ন

দিনটা কেমন মেঘলা মেঘলা। গ্রীষ্মের দিনে এমনটা তো বেশ। তবু স্বস্তি বিশেষ নেই কোনোদিকে। সারা পৃথিবীরই কত দিকে কত অস্থিরতা। তবু কি আপনমনে গান গাইব না সকালবেলা আধঘণ্টাটাক অন্তত গলা সাধার ছলে, যেমনটা করি রোজ, ঘরে থেকে থেকে! গান মানেই তো রাগরাগিণী, বেহাগ, দেশ, বাগেশ্রী, দুর্গা ঘিরেই থাকে, ইমন এসে পড়ে, বা, গলায় আসছে কিন্তু কোন্‌ রাগটি ঠিক মনে পড়ছে না এমনটাই হয় বেশি, কিন্তু তাতে সামান্য সময় যেতে-না-যেতেই দেখি যে গীতবিতানের পাতা খুলছি, যেমন আজই করা হল একটু আগে, এবং বিষাদাচ্ছন্ন গানটি পপ আউট করে এল সামনে— (সম্পূর্ণ…)

গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস: তাহলে গানের কথাই বলি

রাজু আলাউদ্দিন | ১৯ এপ্রিল ২০১৪ ৯:৪৪ অপরাহ্ন

marquez-con-shakira.jpgমেহিকো থেকে প্রকাশিত এল প্রসেসো পত্রিকা তার মৃত্যুর বেশ কয়েক বছর আগে মার্কেসকে নিয়ে একটা সংখ্যা করেছিলো। তাতে মার্কেসকে নিয়ে লেখাতো ছিলোই, ছিলো মার্কেসের নিজের লেখাও। তার নিজের লেখাগুলোর একটি ছিলো সঙ্গীত বিষয়ে। এমন নয় যে এই প্রথম তিনি এ বিষয়ে লিখলেন। সাংবাদিক-জীবনে পত্রিকায় তো বটেই, এমনকি পরবর্তীকালেও তার উপন্যাস ও গল্পে গানের এবং বাদ্যযন্ত্রের প্রসঙ্গ এসেছে বহুবার। গান বিষয়ে মার্কেসের এই লেখাটি এখনও পর্যন্ত তার কোনো গ্রন্থে অন্তর্ভুক্ত হয়নি। দুর্লভ এ লেখাটি স্পানঞল থেকে অনুবাদ করেছেন কবি ও প্রাবন্ধিক রাজু আলাউদ্দিন। (সম্পূর্ণ…)

বাংলাদেশের জাতীয় সঙ্গীত

আকতার হোসেন | ২৫ মার্চ ২০১৪ ৯:৪৪ অপরাহ্ন

পাকিস্তান রাষ্ট্রের জাতীয় শ্লোগান ছিল ‘পাকিস্তান জিন্দাবাদ’ যার মানে পাকিস্তান দীর্ঘজীবী হোক। চব্বিশ বছর পর পাকিস্তান যখন ভাঙ্গতে বসেছিল তখন বাংলাদেশের সাড়ে সাত কোটি মানুষের শ্লোগান হয়ে দাঁড়াল ‘জয় বাংলা’ যার মানে বাংলার জয়। শেষে হলও তাই, পাকিস্তান দীর্ঘজীবী হল না অথচ বাংলাদেশের জয় হল। (সম্পূর্ণ…)

ভাটির পুরুষকথা: সঞ্জীবদার গাড়ী চলে নারে

শাকুর মজিদ | ১৯ নভেম্বর ২০১৩ ১১:২৪ অপরাহ্ন

সঞ্জীবদাকে আমি চিনি ১৯৯০ থেকে, যখন তিনি ‘আজকের কাগজ’ এর ফিচার বিভাগে কাজ করতেন। সে পত্রিকার সাহিত্য সম্পাদক ছিলেন ফরিদ কবির। তাঁর দু’জন সহকারী ছিলেন, একজন তাঁর ছোটভাই সাজ্জাদ শরীফ, আরেকজন সঞ্জীব চৌধুরী। আমি সে দৈনিকের বুয়েট প্রতিনিধি। বুয়েটের সংবাদ ছাড়াও আমার তোলা ছবি ও কখনো কখনো উপসম্পাদকীয় পাতায় আমার লেখা ছাপা হতো। আমি সঞ্জীবদার কাছে লেখা, ছবি পৌঁছে নির্ভার থাকতাম। (সম্পূর্ণ…)

বনলতা সেনের ‘চোখ’-এ নজরুলের ‘আঁখি’

রাজু আলাউদ্দিন | ২৮ আগস্ট ২০১৩ ৮:১৩ অপরাহ্ন

(এই লেখাটি তরুণ কবি সোহেল হাসান গালিবকে উৎসর্গ করা হলো)

সাহিত্যের বিকাশের ক্ষেত্রে পরম্পরা, প্রভাব ও মৌলিকতা এতই যুগপৎ ও অনিবার্য বিষয় যে এ নিয়ে নতুন করে কিছু না বললেও পাঠক এর সত্যতা স্বীকার করে নেবেন। আপাতভাবে যত উদ্ভট আর নতুনই মনে হোক না কেন, প্রত্যেক লেখক বহন করেন পরম্পরার স্বাস্থ্যকর সংক্রাম। (সম্পূর্ণ…)

পরের পাতা »

Disclaimer & Privacy Policy  |  About us  |  Contact us

© bdnews24.com