জার্নাল

লেখকের ডান হাত, বাম হাত

আনিসুর রহমান | ৩০ অক্টোবর ২০১৬ ১১:১৮ পূর্বাহ্ন

handবুদ্ধদেব বসু তার কালের পুতুল প্রবন্ধগ্রন্থ যখন প্রকাশ করেন তখন সালটি ছিল ১৯৪৬। সেই সময়ে বাংলাদেশ এবং ভারতবর্ষ ব্রিটিশ সাম্রাজ্যের শোষণ পীড়নে নাস্তানাবুদ। ব্রিটিশ সাহিত্য ইউরোপ জুড়ে তো বটে, দুনিয়ার অন্যান্য মহাদেশেও সুবিধাজনক অবস্থান দখল করেছে। সারা দুনিয়া লুটপাট করে ব্রিটিশ সাম্রাজ্যের অর্থনীতিও রমরমার চরম তুঙ্গে। এই সুবিধা ভোগে সাহিত্য ও সংস্কৃতির লোকজনদেরও পোয়াবারো। চিকিৎসক, প্রকৌশলী এবং আইনজীবীর মতো কেউ কেউ লেখালেখিকে পেশা হিসেবে নিয়ে অর্থ উপার্জনের একটা উপায় হিসেবে বেছে নিতে পারতো। এরকম একজন লেখক ছিলেন উইলিয়াম সমারসেট মম। সমারসেট ডাক্তারি পেশা ছেড়েছুড়ে লেখালেখিকে টাকা উপার্জনের উপযুক্ত মাধ্যম হিসেবে বেছে নিয়েছিলেন। সেই সময় সমারসেট শুধু ব্রিটেনে নয় সারা ইউরোপে সবচেয়ে জনপ্রিয় লেখক এবং নাট্যকার ছিলেন। সেই সমারসেট প্রসঙ্গে লিখেছিলেন বুদ্ধদেব বসু তাঁর কালের পুতুল গ্রন্থের ‘লেখালেখির ইশকুল’ প্রবন্ধে। তাঁর এক বন্ধুকে উদ্বৃত করে বলেছেন সুখী জীবন হচ্ছে ধনী লোকের সুন্দরী স্ত্রী হওয়া, যার কোনো কিছুর অভাব নাই। রূপচর্চা করাই যার একমাত্র কাজ।
এবার ফিরে আসি অন্য প্রসঙ্গে। ব্রিটিশ সাম্রাজ্য আজ আর অবশিষ্ট নেই। চাপতে চাপতে এখন ক্ষীণতর থেকে ক্ষীণতম হয়ে এখন ইংল্যান্ড থেকে স্কটল্যান্ড ছেড়ে যায় যায় অবস্থা। (সম্পূর্ণ…)

খুশবন্ত সিং-এর স্মৃতিচারণ: একজন নারী সাদিয়া দেহলভি

আন্দালিব রাশদী | ২ ফেব্রুয়ারি ২০১৫ ১০:১৫ অপরাহ্ন

sadia-1.gifখুশবন্ত সিং-এর Malicious Gossip গ্রন্থের অন্তর্ভুক্ত Sadia Dehlvi রচনার অনুবাদ এটি। খুশবন্ত সিং-এর জন্মশতবর্ষ স্মরণে আন্দালিব রাশদীর অনুবাদে এখানে প্রথমবারের মতো প্রকাশ করা হলো।

তার সাথে আমার প্রথম দেখা ১৯৮৭ সালে আমিনা আঞ্জুজার ক্যালিগ্রাফি প্রদর্শনীতে। আমিনা আমার হাত ধরে টানতে টানতে লোকারণ্য একটি কক্ষের মাঝখানে মোড়াতে বসা একটি মেয়ের কাছে নিয়ে যাবার সময় বলল, “চলুন, আপনাকে সাদিয়া দেহলভির সাথে পরিচয় করিয়ে দিই।” মেয়েটি আমাকে দেখে উঠে দাঁড়াবার প্রয়োজনই বোধ করল না। কেবল আকর্ষণীয় ও বড় একজোড়া চোখ তুলে আমার দিকে তাকিয়ে রইল। ঘনকালো কোকড়া চুল তার ডিম্বাকৃতি মুখের চারপাশে জলপ্রপাতের মত নেমে এসেছে। বলার কিছুই তখন মনে করতে না পেরে হঠাৎ বোকার মত বলেই ফেললাম, ‘আপনি এত সুন্দর কেন?” (সম্পূর্ণ…)

পথবৃত্তান্ত

হাবীবুল্লাহ সিরাজী | ৫ মার্চ ২০১৪ ১০:৪৮ অপরাহ্ন

এঁটোপথ
ভাতের দেমাগ ফুরোতে না ফুরোতেই মদের দেমাগ দেখায়; আর, তারপর মাগীর দেমাগের সঙ্গে বাজায় সোনার সিন্দুক, ফুটায় সীসের গুলি। এ বড়ো সুসময়ের কথা, বড়োই আনন্দের বার্তা ! একাত্তরে ফ্যানের গন্ধে মুখ পাতা ছিলো দায়, একানব্বইতে বাসমতি ছাড়া গলা দিয়ে নামে না — আর এগারোতে এসে — ‘ও ভাত ! নো ডিয়ার, ওটিতে হাই সুগার।’ ক্লাবের পাটাতনে এক স্লাইস প্রাইম বিফ একটু হাসি-খেলা করলো তো পাঁচতারা হোটেলের কেভিয়ার জিহ্বার ঢালে মৃদু চুমু খেলো। দিন ও রাতের ফারাক যে বিস্তর ! (সম্পূর্ণ…)

অকৃতি অধমের হাতে পাঁচটি নীলপদ্ম

শাকুর মজিদ | ২১ নভেম্বর ২০১২ ৯:৪৩ অপরাহ্ন

বিয়ানীবাজার থেকে একটা সাপ্তাহিক পত্রিকা বের হয়, নাম বিয়ানীবাজার বার্তা। সবচেয়ে কম স্টাফ নিয়ে বের হওয়া কোনো সাপ্তাহিক পত্রিকার প্রতিযোগিতা থাকলে এ পত্রিকাটি পুরস্কার পেতো। এই পত্রিকার রিপোর্টার, ফটোগ্রাফার, এডিটর, কম্পোজার, মেকআপম্যান, বিজ্ঞাপন ম্যানেজার, সার্কুলেশন ম্যানেজার, বিলিবন্টনকারী – এ সব দায়িত্ব পালন করে একজন। নাম ছাদেক আহমদ আজাদ। প্রায়ই সে কিছু কিছু উদ্ভট কাজের প্রস্তাব নিয়ে আসে আমার কাছে। আমি কোনোটা হা করি, কোনোটা না, কোনোটা কোনো কিছু না বলে বিদায় করে দেই।

২০০৯ সালের ১ অক্টোবর আমাদের পঞ্চপর্যটকের দল ইস্তাম্বুল ও মিশর সফরে যাবে, সেদিনই কম্পিউটার বন্ধ করার আগে একটা ই-মেইল পাই ছাদেক আজাদের। তার ইচ্ছা, এ বছর আমার ৪৫তম জন্মদিন উপলক্ষে সে ৪৫ জন লেখকের লেখা নিয়ে একটা স্যুভেনির বের করবে। আমার অনুমতি চায়। আমি ইংরেজী ‘ওয়াই’ হরফটি লিখে রিপ্লাই দিলাম এবং সেদিনই ভোর রাতে ইস্তাম্বুলের পথে রওয়ানা দিয়ে দিলাম।

কয়েকদিন পর মেইল খুলে দেখি- ছাদেক আজাদ এর মধ্যে কয়েকটা লেখা জোগাড় করে ফেলেছে, সেগুলো আমাকে ফর্ওয়ার্ড করা। সে নতুন সমস্যায় জর্জরিত, ঢাকার নামি দামি লেখক, যারা আমাকে চেনে, তাদের কারো সাথেই তার কোনো যোগাযোগ নাই। এদের লেখা কী করে পাবে? (সম্পূর্ণ…)

এক মেহমান দুই মেজবান

শিবব্রত বর্মন | ১০ জুন ২০১২ ৬:২৯ অপরাহ্ন

বাল্যে আমাদের মফস্বল শহরের সিনেমা হলে একটি সিনেমা দেখতে গিয়েছিলাম। ছবির নাম ’এতিম’। তখনকার দিনের সুপারহিট ছবি। মনে পড়ে, সিমেনার কাহিনী পুরোপুরি জমে ওঠার আগেই আমার সহদর্শক মামি-মাসীরা আঁচলে চোখ মুছছিলেন। ছবির প্লট আমার হৃদয় গলাতে পারেনি। কেননা, আমার মন তখন পড়ে ছিল রেললাইনের অপর পাড়ে আরেকটি সিনেমা হলে, যেখানে একটি ফাইটিং ছবি চলছিল| ওই সিনেমা হলের সামনে একটি সফেদ ঘোটকে আসীন চিত্রনায়ক ওয়াসীমের উদ্যত তরবারি| তার দৃষ্টিকাড়া হোর্ডিংয়ের তলা দিয়ে আমরা পরিপূর্ণ সামাজিক ছবি ’এতিম’ দেখতে এসেছি; আমার পীড়াপীড়িকে গুরুজনেরা পাত্তা দেননি। (সম্পূর্ণ…)

কার্লোস ফুয়েন্তেসের মৃত্যু:

সমাহিত দর্পন?

রাজু আলাউদ্দিন | ২৪ মে ২০১২ ৯:৫০ পূর্বাহ্ন

fuentes-2.jpg
কার্লোস ফুয়েন্তেস। (ছবি:রাজু আলাউদ্দিন)

মাকড়সা সম্পর্কে যারা খোঁজ খবর রাখেন তারা জানেন যে এক ধরনের মাকড়সা আছে যাদেরকে ইংরেজিতে বল ট্র্যাপডোর স্পাইডার, এরা খাবারের জন্য দূর-দূরান্তে ঘুরে বেড়ায় না। নিজের ঘরের কাছেই শিকারের জন্য ওৎ পেতে বসে থাকে। শিকার বা খাবারটা কাছে এলেই ওর উপর ঝাপিয়ে পরে সে। আমি অনেকটা এই ধরনের মাকড়সার মতো। ১১ বছর মেহিকোর উত্তর সীমান্ত এলাকা তিহুয়ানাতে থাকলেও সেখান থেকে প্রায় সাড়ে তিন ঘণ্টার প্লেনের দূরত্বে মেহিকো সিটিতে গিয়ে আমার প্রিয় লেখকদেরকে চাক্ষুষ করার ইচ্ছে হলেও যা্ওয়া হয়নি কখনো। বলা ভালো আলস্য আমার ইচ্ছাকে জয়ী হতে দেয়নি কখনো। অবশ্য জয়ী হলেও যে দেখার সুযোগ পেতাম তারও কোন নিশ্চয়তা ছিলো না। কিন্তু অদ্ভুত ব্যাপার এই যে প্রকৃতির মধ্যেও বোধ হয় সবরকম বৈশিষ্ট্যের প্রাণীকে বাঁচিয়ে রাখার এবং পুরস্কৃত করার একটি গোপন বিধান সক্রিয় আছে। হয়তো সেই কারণেই আমি এই পুরষ্কারটি পেয়েছিলাম ২০০৮ সালের ২৪ এপ্রিলের এক বিকেলে। (সম্পূর্ণ…)

খসড়া

সাগুফতা শারমীন তানিয়া | ২৩ জুন ২০১১ ৯:১৯ অপরাহ্ন

খসড়া-১
কাল আমি বোটে বসে জানালার বাইরে নদীর দিকে চেয়ে আছি এমন সময় হঠাৎ দেখি, একটা কী পাখি সাঁতরে তাড়াতাড়ি ও পারের দিকে চলে যাচ্ছে আর তার পিছনে মহা ধর্-ধর্ মার্-মার্ রব উঠেছে। শেষকালে দেখি একটি মুরগি; তার আসন্ন মৃত্যুকালে বাবুর্চিখানার নৌকো থেকে হঠাৎ কী রকমে ছাড়া পেয়ে জলে ঝাঁপিয়ে পড়ে পেরিয়ে যাবার চেষ্টা করছিল…আমি ফটিককে ডেকে বললুম, আমার জন্যে আজ মাংস হবেনা।…আমরা যে কী অন্যায় এবং নিষ্ঠুর কাজ করি তা ভেবে দেখিনে বলে মাংস গলাধঃকরণ করতে পারি। পৃথিবীতে অনেক কাজ আছে যার দূষনীয়তা মানুষের স্বহস্তে গড়া, যার ভালমন্দ-অভ্যাসপ্রথা দেশাচার লোকাচার সমাজনিয়মের উপর নির্ভর করে। কিন্তু নিষ্ঠুরতা সেরকম নয়, এটা একেবারে আদিম দোষ; এর মধ্যে কোনো তর্ক নেই, কোনো দ্বিধা নেই; হৃদয় যদি আমাদের অসাড় না হয়, হৃদয়কে যদি চোখ বেঁধে অন্ধ করে না রেখে দিই, তাহলে নিষ্ঠুরতার বিরুদ্ধে নিষেধ একেবারে স্পষ্ট শুনতে পাই। অথচ ওটা আমরা হেসে-খেলে সকলে মিলে খুব অনায়াসে আনন্দ-সহকারে করে থাকি, এমনকি, যে না করে তাকে কিছু অদ্ভুত বলে মনে হয়…যতক্ষণ আমরা অচেতনভাবে থাকি এবং অচেতনভাবে হিংসা করি ততক্ষণ আমাদের কেউ দোষ দিতে পারেনা। কিন্তু যখন মনে দয়া উদ্রেক হয়, তখন যদি সেই দয়াটাকে গলা টিপে মেরে দশজনের সঙ্গে মিশে হিংস্রভাবে কাজ করে যাই, তা হলেই যথার্থ আপনার সমস্ত সাধুপ্রকৃতিকে অপমান করা হয়…

এই অব্দি পড়ে ক ছিন্নপত্র নামিয়ে রাখলো। অল্প বয়েসে রবিঠাকুরের বিসর্জন পড়বার সময়ও তার একরকম মনোভাব হয়েছিল। কিন্তু বেশিদিন টেঁকেনি। তখন মাংস খাওয়া ছেড়েছিল সে। ঈদুল আজহার সময় আব্বা যখন অনিবার্যভাবে ছেলেমেয়েদের ঠেলে দিচ্ছিলেন কোরবানি দেখার পূণ্যার্জনের জন্যে, তখন সে লুকিয়েছিল পর্দার আড়ালে।
—————————————————————–
সব পতিত জমি (!) তাই সবজিক্ষেত হতে হবে, সব দীঘি তাই তেলাপিয়ায় ভরে দিতে হবে, সব রসুইন্যাগাছের-কপিলা গাছের জঙ্গল কেটে সাফ করে ফলবান বৃক্ষ বা মেহগনি লাগিয়ে গোড়ায় চুনকাম করে দিতে হবে! সব জলাভূমি ভরাট করে শিল্পনগরী বা এয়ারপোর্ট গড়তে হবে! সব ত্যালঘাউরা পাখি আর বোঁচাহাঁস মেরে ফেলতে হবে!
—————————————————————–
ibergman.jpg…….
স্ট্রম্বোলিছবিতে ইনগ্রিড বার্গম্যান
……..

খ হেসে বলেছিল, “জগদীশচন্দ্র বসু কী বলেছিলেন আপা? তোমার বিকল্প খাদ্যের লিস্টিতে যারা আছে–এই ডাঁটাশাক-ফুলকপি-চালকুমড়া… এদের জীবন নাই? এদের মারতেছো যে?” (সম্পূর্ণ…)

আগস্টের এক নির্বিণ্ন দিনে

মীর ওয়ালীউজ্জামান | ১১ জুন ২০১১ ৮:৫১ অপরাহ্ন

গ্রীষ্মের সেই সকালে ঘুম ভেঙেছিল অন্যদিনের মতোই। আগের রাতের দীর্ঘ আড্ডা শেষ হতে মাঝরাত পেরিয়েছিল। উর্দিধারী জীবনে যথেষ্ট বা প্রয়োজনীয় ঘুমের চাহিদা মেটানোর কোন অনুমোদিত সুযোগ নেই বলা চলে। মাঝে-মাঝে ‘ইন এইড অব সিভিল পাওয়ার’ ধরনের বিশেষ দায়িত্ব পালনকালে ছাউনি বহির্ভূত সিভিল (সভ্য?) এলাকায় তাঁবু গেঁড়ে বসলে এক আধদিন অমন কুম্ভকর্ণ নিদ্রা যাওয়া হয়তো সম্ভব। সে যাকগে। সেই সকালে উঠে আমাদের ‘আউটসাইডার’ (বন্ধুরা আদর করে ডাকে) নৈর্ব্যক্তিক ভঙ্গিতে একটি সিগ্রেট ধরিয়ে টয়লেটে যাবে, এমন সময় সিভিল ফোনটি বাজল। ঘরে দ্বিতীয় ব্যক্তি থাকলে সে কখনো ফোন ধরে না। রুমমেইট ক্যাপ্টেন এইহাব (বন্ধুরা আদর করে ডাকে) চোখ বুঁজেই ফোন ধরে। তারপর ধড়মড়িয়ে উঠে বসে বালিশের পাশে রাখা নোটবই আর কলম টেনে নেয়। ইয়েস স্যর, আ’ম আপ এন্ড রেডি। আউটসাইডার টয়েলেটে যায়। এন্টিরুম পেরিয়ে স্নানাগারে ঢুকে বাতি জ্বেলে দরজা বন্ধ করে। কমোডের পাশে বাথটাবের ধারে আজকের কাগজ। এইহাব তো বেড টি নিয়ে এখানে চলে আসে। বাইরে যাবার তাড়া থাকলে অবশ্য।
—————————————————————–
এইহাবের কেজো প্রশ্নের উত্তরে চিকিৎসক অফিসারটি দু’হাত উলটে হতাশ ভঙ্গিতে বললেন, আমি ‘৬৫ আর ’৭১-এ দু’টো যুদ্ধ দেখেছি। এরকম গ্রোটেস্ক দৃশ্য দেখিনি আগে। ফ্লাইং ম্যাশিনটা টুকরো টুকরো হয়ে অনেকটা জায়গায় ছড়িয়ে পড়ে আছে। গ্রামবাসীরা ছুটে এসে পানি ছিটিয়ে আগুন নিবিয়েছে। শুধু ছাই। বডি চেনা যায় না। চক্রবর্তীর দীর্ঘশরীর কুঁকড়ে কুণ্ডলী। কার্পেটের রোলগুলো আধপোড়া, ভেজা। মিলিটারি পুলিস কর্ডন করে পাহারায় রয়েছে। ঢাকা থেকে মিলিটারি ইনটেলিজেন্স ডিরেক্টরেটের এক্সপার্ট আসছে। আমি বডি নিয়ে এলাম।
—————————————————————–
প্রাতঃকৃত্য সেরে এন্টিরুমে এসে হ্যাঙারে ঝোলানো কড়কড়ে মাড় দেয়া খাকি উর্দি পরে বুটজোড়া হাতে সে শোবার ঘরে এসে চেয়ারে বসে। ব্যাটম্যান ঘনসবুজ রঙকরা কাচের দরজার পাল্লা ঠেলে নিঃশব্দে ঢোকে, পাশের টিপয়ে নাশতার ট্রে রাখে। আউটসাইডার পরোটার কোণ ভেঙে ডিমের কুসুমে ডুবিয়ে চিবোয়। চা-টা এক চুমুক পান করে। সিগ্রেট ধরিয়ে মোজা পায়ে গলায়। এই গরমে পশমি মোজা বোধহয় আমাদের মতো উটকোরাই পরে, সে ভাবে। (সম্পূর্ণ…)

জীবনবৃক্ষে রিপু-রঙ

পূরবী বসু | ২৫ এপ্রিল ২০১১ ৬:৪৮ অপরাহ্ন

ভয়/আতঙ্ক

১৯৬৪ সালের শীতকাল। মুন্সীগঞ্জ শহর। কাশ্মীরের হযরতবাল দরগায় সংঘটিত এক কুখ্যাত, স্পর্শকাতর চুরিকে কেন্দ্র করে চারদিকে তখন প্রবল সাম্প্রদায়িক উত্তেজনা, খুনোখুনি। গত কয়েক দিন ধরে নানান ধরনের গুঞ্জন, বিভিন্ন রকম গুজব কানে আসছে। ফলশ্রুতিতে মিলিত কণ্ঠে “নারায়ে তকবীর, আল্লাহু আকবর” শোনার আশঙ্কায় প্রতি রাতেই আমরা ভয়ে ভয়ে কান পেতে বসে থাকি ঘরের ভেতর। যে ধ্বনি এতো পূতপবিত্র, যে শব্দোচ্চারণ সৃষ্টিকর্তার মহিমা ঘোষণা করে কেবল, তার প্রতি এতো আতঙ্ক কেন? কেননা, সময়টা ১৯৬৪ সাল, আর আমাদের বসতি ভারত উপ-মহাদেশেরই একাংশে—যা বহুকাল ধরে বিক্রমপুর বলে পরিচিত। হঠাৎ এক রাত্রে সত্যি সত্যি সেই প্রাণকাঁপানো, গলা শুকিয়ে দেওয়া, পরিচিত শব্দাবলী কানে ভেসে আসে। একে একে মনোযোগ দিয়ে বাড়ির প্রত্যেকেই শুনি আমরা, সেই মহারব। তাই তো! নিঃসন্দেহে নদীর ধার থেকেই আসছে সমস্বরে উচ্চারিত ঐ ধ্বনি। একযোগে, সুর করে, পুনঃ পুনঃ। “নারায়ে তকবীর, আল্লাহু আকবর”। এবার আর রক্ষা নেই। কী করবো, কোথায় যাবো এখন আমরা? এতো রাতে!

purabi-basu2.jpg
………
পূরবী বসু
………

ভাই-বোনেরা একজন আরেকজনকে জড়িয়ে ধরে মশারির ভেতরে বসে কাঁপতে থাকি। হঠাৎ মা আবিষ্কার করেন, এবং কিছুক্ষণ পাশের ঘরে স্থির দাঁড়িয়ে থেকে নিশ্চিন্ত হন, ঘুমন্ত ঠাকুমার ধীর লয়ের নিশ্বাস-প্রশ্বাস নির্দিষ্ট এক ছন্দে নাসিকা গর্জনের মাধ্যমে গভীর খাদে যে গোলমালের মতো এক শব্দ সৃষ্টি করছে, তা-ই এই ঘরে নারায়ে তকবীর আল্লাহু আকবর-এর জন্ম দিচ্ছে, অন্তত আমাদের ভীত মনে, সন্ত্রস্ত কানে অবিকল তাই শোনাচ্ছিল সেই রাতে। মায়ের আবিষ্কারে হাঁপ ছেড়ে বাঁচি আমরা। ছোট ভাই দুলাল কেবল এতোক্ষণে বলে ওঠে, তাই তো বলি, দূর থেকে আসা গুঞ্জনটা এতক্ষণ ধরে এক জায়গাতেই থেমে আছে কেন? আর যেন কাছে এগুচ্ছে না!

কাম/সম্ভোগ

তার সঙ্গে রতিক্রিয়ায় যে আনন্দ, যে সুখ কখনো পাই না, আমার পাশ দিয়ে অন্য মানুষটির নিছক হেঁটে চলে যাওয়া, তার মুখের বিরল দু’চারটে শব্দোচ্চারণ, আমার চোখে চোখ রেখে সামান্য স্মিত হাসি, কিংবা তার ইচ্ছাকৃত বা অনিচ্ছাকৃত আলতো একটুখানি ছোঁয়া তার চেয়ে বহুগুণ শিহরণ জাগায় শরীরে-মনে; পুলকিত হয়ে উঠি আমি – সিক্ত হয়ে ওঠে আমার অন্তর্গত বসন। (সম্পূর্ণ…)

রমনা বটমূলে পান্তা-ইলিশের সূচনা

সাইফুল্লাহ মাহমুদ দুলাল | ১৪ এপ্রিল ২০১১ ৮:৩৭ পূর্বাহ্ন

শীতের শেষ রাত্রি বসন্তের প্রথম দিন আলাউদ্দিন আল আজাদের একটি উপন্যাসের নাম। নামের জন্যেই বইটির প্রতি আকৃষ্ট হই। এতে শেষ এবং শুরুর সন্ধিক্ষণের বিষয় মনের ভেতর নাড়া দেয়। যেমন এখন চৈত্র ফুরিয়ে যাচ্ছে, আর এগিয়ে আসছে বৈশাখ। সর্বত্রই প্রস্তুতি চলছে নববর্ষের।

panta-elish.jpg
পহেলা বৈশাখে পান্তা-ইলিশ ভোজন

——————————————————
১৯৮৩ সাল। চৈত্রের শেষ। চারিদিকে বৈশাখের আয়োজন চলছে। আমরা আড্ডা দিতে পান্ত-ইলিশের কথা তুলি। বোরহান ভাই রমনা বটমূলে পান্তা-ইলিশ চালুর প্রস্তাব দিলেন, আমি সমর্থন দিলাম। ফারুক মাহমুদ পুরো আয়োজনের ব্যবস্থা করলেন। সম্ভবত ৫ টাকা করে চাঁদা ধরলেন। বাজার করা আর রান্না বান্নার দায়িত্ব দিলেন বিপ্লব পত্রিকার পিয়নকে। রাতে ভাত রেঁধে পান্তা তৈরি করে, কাঁচামরিচ-শুকনো মরিচ, পেঁয়াজ, ইলিশ ভাঁজা নিয়ে পর দিন ‘এসো হে বৈশাখে’র আগেই ভোরে আমরা হাজির হলাম বটমূলের রমনা রেষ্টুরেন্টের সামনে। মুহূর্তের মধ্যে শেষ হলো পান্তা-ইলিশ। এভাবে যাত্রা শুরু হলো পান্তা ইলিশের।
——————————————————

কানাডায় এখন শীত শেষ, শুরু হচ্ছে সামার। বরফে ঢেকে থাকা গা ঝাড়া দিয়ে জেগে উঠছে পার্ক-প্রান্তর-প্রকৃতি। যেন দ্রুত সাদা ড্রেস বদলিয়ে পরে নিচ্ছে সবুজ ইউনিফর্ম। এতোদিনের নিরব থাকা, মনমরা ধুসর গাছগুলো যেন প্রাণ ফিরে পেয়েছে, নতুন পাতার আনন্দে মেতে উঠছে বাতাসের সঙ্গে।
(সম্পূর্ণ…)

আজীবন ছাত্র টনি বেন-এর জীবন থেকে ছাত্ররা যা শিখতে পারে

শফিক রেহমান | ১ জানুয়ারি ২০১১ ১১:৫৬ অপরাহ্ন

বর্তমান বিশ্বে সবচেয়ে বেশি বয়স্ক ছাত্রটি কে?

এই প্রশ্নের উত্তর হতে পারে টনি বেন (Tony Benn) যার পুরো এবং আদি নাম এন্টনি নিল ওয়েজউড বেন।

tony-benn8.jpg…….
টনি বেন (জন্ম. লন্ডন, ইংল্যান্ড, ৩ এপ্রিল ১৯২৫)
……..
তিনি একজন সাবেক লর্ড, বৃটিশ লেবার পার্টির বামপন্থী প্রবীণ নেতা, সাবেক মন্ত্রী এবং বর্তমানে ইরাক- আফগানিস্তানে আমেরিকা- বৃটেনের আগ্রাসন বিরোধী সংগঠন স্টপ দি ওয়ার কোয়ালিশন Stop the war coalition)-এর প্রেসিডেন্ট বা সভাপতি। পারমাণবিক অস্ত্র নিষিদ্ধকরণ আন্দোলনের নেতা টনি বেন ১৯৭১-এ বাংলাদেশে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে একনিষ্ঠ সমর্থন দিয়েছিলেন।

টনি বেন-এর জন্ম হয়েছিল লন্ডনে ৩ এপৃল ১৯২৫-এ অর্থাৎ তার বয়স এখন পচাশি-ঊর্ধ্ব।

তিনি এখনো ছাত্র? এই পচাশি বছর বয়সেও?

হ্যা।

কারণ তিনি ১৯৭৫-এ হু ইজ হু (Who’s Who) বইয়ে নিজের শিক্ষাগত যোগ্যতা সম্পর্কে লেখেন, শিক্ষা – এখনো এগিয়ে চলেছে। (Education – still in progress)।

ভিডিও: টনি বেনের সাক্ষাৎকার নিচ্ছেন মাইকেল মুর

যেহেতু টনি বেনের শিক্ষা এখনো এগিয়ে চলেছে সেহেতু বলা চলে তিনি এখনো একজন ছাত্র। (সম্পূর্ণ…)

অদ্ভুত মানুষসকল এবং একজন ঘোড়া

নাদিয়া ইসলাম | ২৮ নভেম্বর ২০১০ ৯:১২ অপরাহ্ন

stub.jpg
স্ট্রাটফোর্ডের স্টারবাকস, ছবি. গুগল আর্থ

জন লুকের সাথে আমার পরিচয় হইছিল স্ট্রাটফোর্ডের শপিং সেন্টারের বাইরে। আমি স্টারবাকসের কুনায় বইসা বইসা ট্যাজো-র চাই টি ল্যাটে ও বিরি খাইতেছিলাম, তখন আধা চাইনিজ আধা ক্যারিবিয়ান একজন লোক আমার পাশে আইসা বসলেন। আগুন চাইলেন। রাস্তা থাইকা কুরায়া আনা একটা সিগারেটে আগুন ধরায়া নাম বললেন: জন লুক।

frlogo.jpg…….
“…ফেরারি বানানো হইছে আমারে সম্মান দেখায়ে। দেকছো তো লোগোটা!”
……..
আমি একটু অবাক হইয়া তাকাইলাম! এইটা তো খ্রীশ্চান নাম! তখন উনি উনার টানা চোখ ও চ্যাপ্টা নাকের দিকে পয়েন্ট আউট কইরা কইলেন উনার জন্ম একজন কালো ক্রীতদাসীর পেটে। উনার বাপ শ্যাং ডাইন্যাস্টির একজন রাজা আছিলেন। উনার জন্ম যীশু খ্রীস্টের জন্মের প্রায় দেড় হাজার বছর আগে। (সম্পূর্ণ…)

পরের পাতা »

Disclaimer & Privacy Policy  |  About us  |  Contact us

© bdnews24.com