সাহিত্য সংবাদ

কবি শহীদ কাদরীর প্রয়াণে অগ্রজ ও অনুজ কবিদের প্রতিক্রিয়া

অলাত এহ্সান | ৩১ আগস্ট ২০১৬ ১১:৪৪ অপরাহ্ন

Shahid-Kadree-singleপঞ্চাশের দশকের তিন দিকপাল কবির একজন শহীদ কাদরী। কবিতা কম্পাসে কাটা এখনো তার দিকে দিপ্যমান। স্বাধীনতার আগে থেকে তার যে তুমুল জনপ্রিয়তা তা এখনো অটুট। ১৪ বছর বয়সে বুদ্ধদেব বসুর সম্পাদিক ‘কবিতা’ পত্রিকা কবিতা প্রকাশ করার পর থেকে কবি হিসেবে তিনি সুপ্রতিষ্ঠিতি। দুই বাংলাই তিনি সমান জনপ্রিয়।
৭৩ বছরের জীবনে প্রায় ৬ দশক তারা সাহিত্যের কাল। জনপ্রিয়তার মাঝেও কবিতার সংখ্যায় তিনি ছিলেন আশ্চর্য নির্ভার। খসড়া কবিতায় সংখ্যা বৃদ্ধির চেয়ে সম্পন্ন কবিতা সীমিত থেকেছে তার কাব্যচর্চা। তাই মাত্র চারটি কবিতার বইয়ে ১২৬টি প্রকাশিত কবিতা তার। এই নিয়েই বাংলা কবিতায় স্থায়ী আসন, অমরতা। ষাটের দশকের ‘কণ্ঠস্বর’ ও ‘সমকাল’-এর সফলমিছিলে ঢুকেও স্বকীয়তায় উজ্জ্বল ছিলেন। নাগরিক চৈতন্য, তীর্যক দৃষ্টি, গভীর নির্জনতা, প্রগলভ একাকীত্ব, অমীমাংসিত নির্বাসন তার কবিতায় প্রতিফলিত।
১৯৭৯ সালে দেশ ছাড়া শহীদ কাদরী ৩৭ বছরের প্রবাসজীবনে কোলকাতা, জার্মানি, ইংল্যান্ড, আমেরিকার বোস্টন ও পরে নিউইয়র্কে থিতু হয়েছিলেন। মাঝখানে অবশ্য একবার ঢাকায় ছিলেন কয়েকমাস। তাছাড়া আর আসেননি আড্ডাপ্রাণ এই মানুষটি। এমনকি একুশে পদক নিতেও না। তবু প্রবাস থেকে তিনি লিখেন, ‘আমার চুম্বনগুলো পৌঁছে দাও’।
কবির শেষ ইচ্ছা, তাকে যেন মিরপুর শহীদ বুদ্ধিজীবী কবরস্থানে শায়িত করা হয়।
এই কবির প্রয়াণে শোকস্তদ্ধ কবিতাপ্রেমি ও সংগ্রামীরা। তাকে নিয়ে কথা বলেছেন তার অগ্রজ, সমসাময়িক এবং অনুজ কবিগণ। তাদের কথা এখানে গ্রন্থণা করেছেন তরুণ গল্পকার অলাত এহ্সান। (সম্পূর্ণ…)

ইট’স এ শি থিং : নারীর একান্ত কথার ঐকান্তিক প্রকাশ

কে এম রকিব | ২৭ আগস্ট ২০১৬ ১:১৩ অপরাহ্ন

SHE Thing 0 (1)ঢাকার উঁচু উঁচু ইমারত, জমকালো আলো আর গ্ল্যামারের নিচে আছে এক অন্ধকার বাস্তবতা যে-অন্ধকার বাস্তবতার মুখোমুখি নারীকে হতে হয় প্রতিনিয়ত। শুধু লৈঙ্গিক পরিচয়ের কারণেই পদে পদে নারীকে বৈষম্য ও ভায়োলেন্সের শিকার হতে হয়। এমনই বিষয় নিয়ে গত ১৯ ও ২০ আগস্ট গুলশান-১-এর স্পেক্ট্রা কনভেনশন সেন্টারে হয়ে গেল ‘বহ্নিশিখা-আনলার্ন জেন্ডার’র এক চমৎকার পরিবেশনা ‘ইট’স এ শি থিং’। বিভিন্ন শ্রেণিপেশার নানা বয়সী নারীর না বলা অনেক গল্প উঠে এসেছে এই আয়োজনে।

অনুষ্ঠানের নামকরণ থেকেই বেরিয়ে এসেছে এর দর্শন। ‘It’s a SHE thing’। যার অর্থ হতে পারে, ‘এটা সে কলাপ’। কিন্তু এই ‘সে’টা এখানে বিশেষ অর্থবহ। ইংরেজিতে SHE শব্দটি নারী শব্দের পরিবর্তে ব্যবহৃত সর্বনাম। কিন্তু কখনো কখনো এই ‘সে’ উচ্চারণের ভেতরে থাকে উপেক্ষা, অবদমন, অবমূল্যায়ন, অস্বীকার বা নাই করে দেয়ার প্রচেষ্টা। যে কারণে নারীর সব কিছুকে ‘এটা সে কলাপ’ বা ‘মেয়েলি বিষয়’ শব্দবর্গে মুড়ে দেয়া যায়। অনেক সময় তা অবাঞ্চিত, অনাহুত, নিষিদ্ধের মতো করে ছুড়ে ফেলা হয়। ‘It’s a SHE thing’ অনুষ্ঠানটি সেই বিষয়-আশয়কে সামনে নিয়ে আসে নান্দনিক ব্যঞ্জনা ও বলিষ্ঠতায়। যা ধরা পরে অনুষ্ঠানের উপশিরোনামে ‘A play about women and girls of Dhaka, Inspired by The Vagina Monologues’। এই উপশিরোনাম মনে করিয়ে দেয় নারী–যিনি বয়সে যুবতী–বিষয়ে আমাদের দীর্ঘদিনের অবদমন। আধুনিক শহরে যা উবে যায়নি। আর তাই ইটের পাঁজর খুলে দেখার আয়োজন।
গত ১৯ ও ২০ আগস্ট দুইদিনব্যাপী অনুষ্ঠিত হয়েছিল এই প্রদর্শনী, প্রতিদিন সন্ধ্যা ৭টা থেকে ৯ টা পর্যন্ত। (সম্পূর্ণ…)

প্রত্যাখ্যাত ৮টি গবেষণার নোবেলজয়

বিপাশা চক্রবর্তী | ২০ আগস্ট ২০১৬ ১:০৬ অপরাহ্ন

নোবেলবিজয়ী সব গবেষণা বা আইডিয়া প্রথমেই নিজ বলয়ে গৃহীত হয়নি। সংজ্ঞাগত দিক থেকেই হোক কিংবা দৃষ্টান্ত ও উদাহরণের দিক থেকে সেগুলো ছিল আসলেই বৈপ্লবিক। সে অনুযায়ী, অনেক আলোচিত গবেষণা, তত্ত্ব ও আবিষ্কার এমনকি পরবর্তীকালে টেক্সটবুকে অন্তর্ভুক্ত হয়েছে এমন, অনেকগুলোই প্রাথমিক অবস্থায় বাতিল বলে ঘোষিত হয়েছিল। উপহাস যদিও বা না করে থাকেন তবুও প্রথম পর্যায়ে বিজ্ঞানী মহল ঐসব ঘোষণাকে বাতিল বলেই ঘোষণা করা হয়েছিল। মার্কিন জীনতত্ত্ববিদ হাওয়ার্ড মার্টিন টেমিন যখন “রিভার্স ট্রান্সক্রিপ্টেস’ (RT) প্রস্তাব করলেন, যেখানে বলা হলো- “ আরএনএ অনেক সময় ডিএনএ তৈরি করতে সক্ষম”। এই তত্ত্বকে হাস্যকর বলে উড়িয়ে দেয়া হল। সেটা ছিল ১৯৭০ সাল। অন্যসব বিজ্ঞানীদের মতে হাস্যকর এ প্রস্তাব নোবেল পুরস্কারে ভূষিত হল ১৯৭৫ সালে। অনেক সমালোচনা অনেক বিতর্কের পরেও সে সময় অনেক বাঘা বাঘা বিজ্ঞানী নেতারা মানতে নারাজ ছিলেন টেমিনের এই তত্ত্ব, যে কিছু ভাইরাস আরএন-এ আকারে থেকে তাদের জেনেটিক তথ্য বহন করে আক্রান্ত কোষের ডিএনএ’তে তার অনুলিপি তৈরি করে ফেলতে পারে। এই প্রক্রিয়াকে ‘বিপরীত বা রিভার্স ট্রান্সক্রিপশন’ বলে আখ্যায়িত করা হলো। কেননা, রিভার্স ট্রান্সক্রিপ্টেস (RT) হচ্ছে এক ধরনের এনজাইম যা ব্যবহার করে আরএনএ টেমপ্লেট থেকে পরিপূরক ডিএনএ বা কমপ্লিমেন্টরি ডিএনএ উৎপাদন করা যায়। একই কান্ড ঘটেছিল সুইস মাইক্রোবায়োলজিস্ট ওয়ার্নার আর্বার-এর বেলাতেও। ১৯৭৮ সালে তিনিও নোবেল পান। ওয়ার্নার রেস্ট্রিকশন এনজাইমের কাজ নিয়ে গবেষণা করেছিলেন।

এখানে নোবেল জয়ী ৮টি গবেষণাপত্রের রূপরেখা দেয়া হলো যেগুলো প্রাথমিক পর্যায়ে সম্মিলিত পর্যালোচনায় বিভিন্ন বিজ্ঞান সাময়িকী, জার্নাল বা বিজ্ঞান পত্রিকায় প্রকাশের জন্য মনোনীত হয়নি এবং প্রকাশের অযোগ্য বলে বাতিল হয়েছিল।

border=0১। রসায়নশাস্ত্রে নোবেল পুরস্কার (১৯৯৭) বিজয়ীদের একজন মার্কিন প্রাণরসায়নবিদ পল বয়ার। এডিনসন ট্রাইফসফেট সংশ্লেষণের প্রক্রিয়া চিহ্নিত করার জন্য তিনি এ পুরস্কারের অংশীদার হন। (সম্পূর্ণ…)

সাম্প্রতিক বিশ্বসাহিত্য: নতুন হ্যারি পটার, পাঠের নতুন ধরন এবং ধনী লেখককুল

বিপাশা চক্রবর্তী | ৯ আগস্ট ২০১৬ ৮:১৬ অপরাহ্ন


হ্যারি পটার এন্ড দ্য কার্সড চাইল্ড

অবশেষে গত ৩১ জুলাই মধ্যরাতে প্রকাশিত হলো ২০১৬ সালের সবচেয়ে প্রতীক্ষিত বইটি, হ্যারি পটার এন্ড দ্য কার্সড চাইল্ড। গভীর রাতেও হ্যারি পটার ভক্তরা হুমড়ি খেয়ে পড়েছিল বইটি কিনতে। সবারই একটি কপি চাই। অধিকাংশ পাঠকই বয়সে তরুণ। জে কে রাউলিংয়ের জাদুকরী রচনায় হ্যারি পটার সিরিজের এর আগের সাতটি বইয়ের বেলাতেও একই দৃশ্যের অবতারণা হয়েছিল। তবে এবার ব্যতিক্রম। হ্যারি পটার এন্ড দ্য কার্সড চাইল্ড আসলে একটি নাটকের বই। এই বইয়ের লেখক হিসেবে রাউলিংয়ের সাথে যুক্ত হয়েছেন আরো দুইজন। জে কে রাউলিং, জ্যাক থ্রোন এবং জন টিফানি রচিত মূল গল্পের উপর ভিত্তি করে এই নাটকের বই। দুই খন্ডে বিভক্ত এই নাটকের চিত্রনাট্য লিখেছেন জ্যাক থ্রোন। নাটকটির পরিচালক নির্মাতা টিফানি। প্রথম সংস্করণে প্রকাশিত হলো ৪.৫ মিলিয়ন কপি। বাজারে আসার প্রথম আটচল্লিশ ঘন্টায় নিঃশেষ হয়ে যায় ২ মিলিয়নেরও বেশী কপি।
bip-2২০০৭ সালে সর্বশেষ প্রকাশিত হয় ঔপন্যাসিক জে কে রাউলিংয়ের হ্যারি পটার সিরিজের সপ্তম বই হ্যারি পটার অ্যান্ড দ্য ডেডলি হ্যালোজ। বর্তমান নাটকের বইয়ের গল্প শুরু হয় সেখান থেকেই যেখানে শেষ হয়েছিল হ্যারি পটার অ্যান্ড দ্য ডেডলি হ্যালোজ-এর গল্প। বলা যায় এর পরবর্তী ঘটনা প্রবাহ নিয়ে এগিয়েছে হ্যারি পটার অ্যান্ড দ্য কার্সড চাইল্ড। গল্পে দেখা যায় হ্যারি পটারের উনিশ বছর পরের জীবনকে। হ্যারির সাথে ডার্ক লর্ড ভল্ডেমর্টের মুখোমুখি হবার ১৯ বছর পর শুরু হয় নতুন গল্পটি। মধ্যবয়সী হ্যারি পটার এখন লন্ডন শহরের একজন ব্যস্ত সরকারী কর্মকর্তা। মিনিস্ট্রি অফ ম্যাজিক বা জাদু মন্ত্রণালয়ের দ্বায়িত্বরত অবস্থায় কর্মব্যস্ত হ্যারি পটার মুখোমুখি হয় অতীত থেকে আসা অনাকাঙ্ক্ষিত এক সত্যের। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হচ্ছে এখানে হ্যারিকে পাওয়া যায় একজন পিতার ভূমিকায়। হ্যারি পটারের তিন সন্তানের মধ্যে দ্বিতীয় পুত্র অ্যালবাস পটার। খ্যাতিমান পিতা আর পারিবারিক যশের ভার সামাল দেয়ার চেষ্টায় দেখা যায় অ্যালবাসকে।
তবে অনেক ক্ষুদে পাঠক বইটি হাতে পাওয়ার পর খানিকটা হতাশ হয়েছে। কেননা, এটি জে কে রাউলিং রচিত হ্যারি পটার সিরিজের অন্য বইগুলোর মত পূর্ণাঙ্গ গল্পের বই না। কোন কোন সমালোচকের মতে, এটি স্রেফ একটি নাটকের বই। কিভাবে রিহার্সাল করতে হবে, সংলাপ কি হবে, কিভাবে সেগুলো বলতে হবে, মঞ্চের সজ্জা কেমন হবে শুধু এসবই আছে বইটিতে। (সম্পূর্ণ…)

সাম্প্রতিক বিশ্বসাহিত্য ও সংস্কৃতি: বিদায় আব্বাস, বিদায় বনফয়

বিপাশা চক্রবর্তী | ৫ জুলাই ২০১৬ ৭:৪৮ অপরাহ্ন


বিদায় কবি রুপালী পর্দার

Abbasসমসাময়িক চলচ্চিত্রের ইতিহাস যদি আপনি লিখতে বসেন তাহলে চাইলেও কিছুতেই যার নামটি আপনি বাদ দিতে পারবেন না তিনি হলেন-আব্বাস কিয়ারোস্তামি। হলিউডের রুক্ষ সংস্করণের বিপরীতে চলচ্চিত্রে তিনি নিয়ে এসেছিলেন কাব্যময়তা। যা ছিল অত্যন্ত পরিশালীত ও স্ব-অর্জিত, একই সাথে আধুনিক অতিন্দ্রিয়তার প্রতিফলন। তাঁর চলচ্চিত্রেরর প্রতিটি অংশেই তাঁর নিজস্বতা ছিল। তিনি নিজেও ছিলেন কবি। তিনি এ যুগের চলচ্চিত্রের কবি। নিজের মাতৃভূমি ইরানকে তিনি উপস্থাপন করেছেন চলচ্চিত্রের মাধ্যমে অত্যন্ত শৈল্পিকভাবে। ইরানের সংস্কৃতি, ইতিহাস, সামাজিক জীবনধারাকে সারা পৃথিবীর কাছে পরিচিত করিয়েছেন চলচ্চিত্রের মাধ্যমে। এমনকি দেশটিতে ইসলামিক বিপ্লবের পরেও তিনি দেশ ত্যাগ করেননি। বরং চলচ্চিত্রের মাধ্যমে তাঁর কাব্যিক ঝঙ্কার অব্যাহত রেখেছিলেন। তাঁর প্রতিটি চলচ্চিত্র মানুষের সঙ্গে মানুষের সম্পর্ক, প্রকৃতির সঙ্গে মানুষের সম্পর্কের নিবিড় অথচ সুক্ষ্ম বর্ণনা। বর্ণনা এমন রহস্যময় পরাবাস্তব আবহ সৃষ্টি করে যে আপনার মনে হবে যেন আপনি এই জগতে থেকেও নেই। কোথাও হারিয়ে গেছেন। এভাবেই একজন আব্বাস কিয়ারোস্তামী হয়ে ওঠেন রুপালী রূপকথাকার, কখনো কবি। আব্বাস ছিলেন বর্তমান পৃথিবীর একজন প্রধানতম ‘ওটার’। মানে হল যিনি একই সাথে চলচ্চিত্রের চিত্রনাট্য রচনা, পরিচালনা, প্রযোজনা, শব্দ ও সুর সংযোজন, চিত্রগ্রহণ এবং সম্পাদনা করতে পারতেন। বলা যায় চলচ্চিত্র নির্মানে তিনি সর্বময় গুণের অধিকারী ছিলেন। তাঁর নির্মিত চলচ্চিত্রের প্রতিটি অংশে ছিল স্বকীয়তার ছাপ। নিজ গুনেই সুপ্রসিদ্ধ এই নির্মাতা হয়ে ওঠেন পৃথিবীর রুপালী জগতের কিংবদন্তী। জীবনের বিভিন্ন সময়ে অসংখ্য পুরস্কার অর্জন করেছেন তিনি। ১৯৪০ সালে ইরানের তেহরান শহরের জন্ম নেন আব্বাস। তেহরান বিশ্ববিদ্যালয়ে চিত্রকলা নিয়ে পড়াশোনা করেন। কর্মজীবনের শুরু গ্রাফিক ডিজাইনার হিসেবে ইরানিয়ান টেলিভিশনের জন্য বেশকিছু বিজ্ঞাপন নির্মানের মাধ্যমে। ১৯৬৯ সালে –‘কানুন’ নামে একটি সংগঠনে যারা শিশু কিশোরদের মানবীয় বৃদ্ধিবিকাশ নিয়ে কাজ করে। এখানকার ফিল্ম ডিপার্টমেন্টের দায়িত্ব নিয়ে প্রায় এক যুগ কাজ করার সময় শিশুদের নানান সমস্যা নিয়ে বেশ কটি চলচ্চিত্র তৈরি করেন। পরবর্তীতে নিজেই স্বনির্ভর চলচ্চিত্রকার হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেন। এ সম্পর্কে বিভিন্ন সাক্ষাৎকারে আব্বাস বলেন, “শুরতে যা ছিল শুধুই চাকরী পরে তা ক্রমশ আমাকে একজন শিল্পী হয়ে উঠতে সাহায্য করে”। ১৯৯৭ সালে নির্মিত‘টেস্ট অফ চেরি’ চলচ্চিত্রটি আন্তর্জাতিক কান চলচ্চিত্র উৎসবে সর্ব্বোচ্চ ‘পাম দোর’ পুরস্কার অর্জন করে। ১৯৭০ সাল থেকে নিয়মিত ভিন্ন ধারার ডকুমেন্টরি, স্বল্প ও পূর্ণ-দৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র নির্মান করে বিশ্বজোড়া খ্যাতি অর্জন করেন এই চলচ্চিত্রকার। আজ যে সারা পৃথিবীতে ইরানী চলচ্চিত্রের জয়জয়কার তা মূলত আব্বাসের বদৌলতে। কেননা, তিনি তাঁর কাজের মাধ্যমে চলচ্চিত্র নির্মানে তাঁর বৈশিষ্ট্য ও ভাবধারা সঞ্চারিত করতে পেরেছিলেন তাঁর উত্তরসূরি ইরানী চলচ্চিত্রকারদের মাঝে। তিনি নিজে প্রভাবিত ছিলেন সত্যজিৎ রায়, ভিত্তোরিও দে সিকা ও জাক তাতি’র কাজ দ্বারা। (সম্পূর্ণ…)

সাম্প্রতিক বিশ্বসাহিত্য: বিদায় রাবাসা, অজানা কাফকা ও শিল্পকর্মের উল্টোপিঠ

বিপাশা চক্রবর্তী | ২২ জুন ২০১৬ ৪:১২ অপরাহ্ন


বিদায় রাবাসা

rabasa.jpg
বিদায় নিলেন গ্রেগরি রাবাসা। গত ১৩ জুন যুক্তরাষ্ট্রের ব্রানফোর্ড, কানেকটিকাট-এ ৯৪ বছর বয়সে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করলেন এই কিংবদন্তীতুল্য অনুবাদক। “ইংরেজী ভাষায় ল্যাতিন আমেরিকার শ্রেষ্ঠ লেখক”-এই বলে যাকে একদিন ঘোষণা করেছিলেন গ্যাব্রিয়াল গার্সিয়া মার্কেস। আর করবেনই না বা কেন? সারা পৃথিবী জুড়ে মার্কেসের ব্যাপক জনপ্রিয়তা আর পরিচিতির অনেকটা ভাগীদার গ্রেগরি রাবাসা। তিনিই প্রথম মার্কেসের জাদুবাস্তবতার অনন্য আখ্যান নিঃসঙ্গতার একশ বছরকে ইংরেজী ভাষায় অনুবাদ করে সারা পৃথিবীর জন্য উন্মুক্ত করে দেন। ১৯৬৭ সালে প্রথম প্রকাশের তিনবছর পর ইংরেজী অনুবাদ প্রকাশিত হয় আর সঙ্গে সঙ্গেই প্রচন্ড জনপ্রিয়তা পায়, যা পায়নি স্প্যানিশ ভাষায় প্রথম প্রকাশের পর। অনুবাদকে রাবাসা এমন এক উন্নত পর্যায় নিয়ে যান যার ফলে নিঃসঙ্গতার একশ বছর-এর অনুবাদ গ্রন্থটি প্রসঙ্গে মার্কেস প্রায়ই প্রশংসা করে বলতেন, “এই অনুবাদের নিজস্ব শৈল্পিক সত্ত্বা আছে, ও নিজেই একটি শিল্প ”। গ্রন্থটি আজ বিংশ শতকের সাহিত্যের ইতিহাসে অন্যতম একটি কীর্তিস্বম্ভ হিসেবে বিবেচিত। (সম্পূর্ণ…)

আদিম লতাগুল্মময় শেকসপিয়রের নগ্ন প্রদর্শনী

বিপাশা চক্রবর্তী | ৫ জুন ২০১৬ ১২:৪৫ অপরাহ্ন

pic-1.jpgনা সেদিন আকাশ ভেঙ্গে পড়েনি মাটিতে। মান সম্মান আর রীতিনীতির সুতোয় বোনা সভ্যতার চাদরও টুটে যায়নি কোথায়ও। সেদিন সূর্যাস্তের ঘন্টাখানেক আগে। নিউইয়র্ক শহরের সেন্ট্রাল পার্কের সবচেয়ে উঁচু যে জায়গাটি সামিট রক, সেখানে তারা জড়ো হলেন। আট জন অসাধারণ অভিনয়শিল্পী, তিন জন মেধাবী নৃতশিল্পী ও দক্ষ দুইজন বাদ্যযন্ত্রী। ১৩ জনের সবাই নারী । তারা প্রদর্শন করলেন উইলিয়াম শেকসপিয়রের অমরকীর্তি জাদু আর বিভ্রমের নাটক ‘দ্য টেমপেস্ট’। খোলা আকাশের নিচে সম্পূর্ণ প্রাকৃতিক পরিবেশে। অভিনয় করলেন নগ্ন হয়ে। সম্পূর্ণ নগ্ন বলতে যা বোঝায়–উলঙ্গ হয়ে। পুরো দু’ঘন্টা। মাত্র একশ গজ দূর থেকে শুরু হয়েছে দর্শকের সারি। পার্কে আগত স্থানীয় লোকজন, পর্যটক, ছেলেবুড়ো নারী পুরুষ সব মিলিয়ে প্রায় ২০০ জন দর্শনার্থী। উপভোগ করলেন অভিনব কায়দায় উপস্থাপিত ঐতিহাসিক নাটকটি। কিন্তু এ ঘটনা ২০০ জন দর্শকের মাঝে সীমাবদ্ধ থাকল না। ছড়িয়ে গেল সারা পৃথিবীতে। দ্য ইন্ডিপেনডেন্ট, দ্য গার্ডিয়ান, দ্য ডেইলী মেইল, নিউ ইয়র্ক নিউজ ডে’সহ অনেক গুরুত্বপূর্ণ পত্রিকা আর অগুনতি ওয়েবসাইটের মাধ্যমে। বেশ গুরুত্ব দিয়ে তারা প্রকাশ করল ‘দ্য টেমপেস্ট’ নাটকের এই বিশেষ প্রদর্শনীর কথা। একদিন না পরপর দুদিন। একইস্থানে ১৯ ও ২০মে হল এই প্রদর্শনী। ঝড় আর বৃষ্টির পূর্বাভাস থাকা সত্ত্বেও রচিত হল ডাকিনীবিদ্যা আর ষড়যন্ত্রের ইন্দ্রজাল ‘দ্য টেমপেস্ট’। মহান নাট্যকার ও কবি শেকসপিয়রের ৪০০তম মৃত্যুবার্ষিকী পালিত হয়েছে ২০১৬ তে। এ উপলক্ষে সারা বিশ্ব জুড়ে নেয়া হয়েছে নানা কর্মসূচী। এমনকি প্রকাশনী সংস্থা হোগার্থ-এর উদ্যোগে ‘দ্য টেমপেস্ট’ কে একুশ শতকের পাঠকের জন্য নতুন রূপে পরিচয় করিয়ে দিতে উপন্যাস আকারে লিখছেন বর্তমান সময়ে জনপ্রিয় ঔপন্যাসিক ও কবি মার্গারেট এটউড। নিউইয়র্ক সেন্ট্রাল পার্কে আয়োজিত নাটকটিও শেকসপিয়রের মৃত্যুবার্ষিকী উদযাপনের অংশ ছিল। কিন্তু কেবল মৃত্যুবার্ষিকী উদযাপনই এর মূল উদ্দেশ্য না-কি অন্য কিছু? (সম্পূর্ণ…)

সাম্প্রতিক শিল্পসাহিত্য: পানামা পেপার্স-এ চিত্রকলাও

বিপাশা চক্রবর্তী | ১৭ এপ্রিল ২০১৬ ১০:১৩ পূর্বাহ্ন


একটি নিলাম যেভাব পাল্টে দিল শিল্পজগতের ইতিহাস

pablo.jpg বিলিওনিয়ার জো লুইস কিভাবে ব্যক্তিগত সংগ্রহে থাকা পৃথিবী বিখ্যাত সব চিত্রকর্ম সস্তায় কিনে নিয়েছিলেন সম্প্রতি পানামা পেপার্সে তার একটি বিবরণ প্রকাশিত হয়েছে। মার্কিন ব্যবসায়ী ও শিল্প সংগ্রাহক দম্পতি ভিক্টোর গ্যান্জ ও শ্যালি গ্যান্জ-’এর ব্যক্তিগত সংগ্রহে ছিল বহু বিশ্ববিখ্যাত শিল্পকর্ম। জহুরির চোখ দিয়ে তারা সেই শিল্পকর্ম বাছাই করতেন। এ ব্যাপারে তারা ছিলেন বিশেষজ্ঞ। কখনোই তাদের পছন্দ ব্যর্থ হয়নি। বলা যায়, পৃথিবীর ইতিহাসে এই দম্পতিই ছিলেন শ্রেষ্ঠ ব্যক্তিগত শিল্প সংগ্রাহক। এমনকি শিল্পসংগ্রহ নিয়ে এই দম্পতি আ লাইফ অফ কালেক্টটিং নামে একটি বিখ্যাত গ্রন্থও লিখেছিলেন। বিশেষ করে পাবলো পিকাসোর ভক্ত ছিলেন তারা। এবং পিকাসোর বিখ্যাত কিছু শিল্পকর্ম তাদের সংগ্রহশালায় ছিল। ১৯৯৭-এর জানুয়ারিতে ৮৫ বছর বয়সে শ্যালি গন্জ-এর মৃত্যুর পর থেকে একে একে নিলাম হতে থাকে তাদের সংগ্রহে থাকা শিল্পকর্মগুলো।

women-of-algiers.jpgসময়টা ১৯৯৭ সালের নভেম্বর মাস। ম্যানহাটনের নিলাম ঘর ক্রিস্টিজ সেলসরুমে গন্জ দম্পতির সংগ্রহে থাকা পাবলো পিকাসোর যুদ্ধপরবর্তী মাস্টারপিস বিশ্ববিখ্যাত শিল্পকর্ম ‘ওমেন অব আলজিয়ার্স’সহ অসংখ্য চিত্রের একটি নিলাম অনুষ্ঠিত হয়। বিশ্ববিখ্যাত স্প্যানিশ কিউবিস্ট চিত্রশিল্পী পাবলো পিকাসোর ‘ওমেন অব আলজিয়ার্স( ভার্সন ও)’ ছিল ১৫টি অসাধারণ চিত্রকর্মের একটি সিরিজ। আর ‘ভার্সন ও’ হচ্ছে ঐ সিরিজের সর্বশেষ চিত্রকর্ম। আর এজন্যই ওটা ছিল একটু বেশী ব্যতিক্রম। নিলামে থাকা শিল্পকর্মগুলো মাত্র ৩২ মিলিয়ন ডলারে বিক্রি হয়। আর ১৮ বছর পর যার মূল্য হয় ১৭৯ মিলিয়ন ডলার। (সম্পূর্ণ…)

সাম্প্রতিক বিশ্বসাহিত্য: রোবট লিখবে হাইব্রিড উপন্যাস?

বিপাশা চক্রবর্তী | ৭ এপ্রিল ২০১৬ ৭:১৭ অপরাহ্ন

চলে গেলেন ইমরে কারতেজ, গণহত্যায় বেঁচে যাওয়া নোবেল বিজয়ী
imre.jpgইমরে কারতেজ হাঙ্গেরিয় ঔপন্যাসিক যার কথাসাহিত্যে চিত্রিত হয়েছে নাৎসি বাহিনীর মৃত্যুশিবিরে বন্দী হিসেবে কাটানো তার অসহনীয় ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা। দীর্ঘ অসুস্থতার পর গত ৩১ মার্চ হাঙ্গেরির বুদাপেস্টে নিজ বাসভবনে ৮৬ বছর বয়সে শেষনিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় একজন ইহুদী হিসেবে নাৎসি দ্বারা তাড়িত হওয়া, পরবর্তীতে একজন লেখক হিসেবে দমনমূলক হাঙ্গেরিয় কমিউনিস্ট শাসনের অধীনে বাস, সর্বোপরি বিংশ শতকের সবচেয়ে তীব্র যাতনার স্মৃতি পরোক্ষ ও প্রত্যক্ষরূপে অথচ অতি সূক্ষ্মভাবে তাঁর গদ্যে বর্ণিত হয়েছে।
সুইডিশ নোবেল একাডেমীর মতে, তাঁর ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা ও লেখনী ইতিহাসের সবচেয়ে বর্বর ও নির্বিচার সময়কে ধারন করেছিল আর এজন্যই তিনি নোবেল পুরস্কার লাভ করেন।

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময়কালে ১৪ বছর বয়সে কারতেজ অন্যান্য হাঙ্গেরিয় ইহুদীদের সাথে আউসভিস বন্দীশিবিরে আটক ছিলেন। সেখান থেকে তাদেরকে বাচেনওয়াল্ডে নিয়ে যাওয়া হয়। আউসভিস, বাচেনওয়াল্ড এবং জিতেজের বন্দিশিবিরের ঘটনাবলীকে কেন্দ্র করে তিনি রচনা করেন তাঁর আলোচিত উপন্যাস ফেটলেসনেস
ইতিহাসের তিক্ততাপূর্ণ অভিজ্ঞতালব্ধ জীবনযাত্রাকে কথাসাহিত্যের মাধ্যমে তুলে আনায় ২০০২ সালে তিনি সাহিত্যে নোবেল পুরস্কার জয় করেন ।
ফেটলেসনেস ছাড়াও তাঁর উল্লেখযোগ্য রচনার মধ্যে রয়েছে, কাদ্দিস ফর এ চাইল্ড নট বর্ন, কাদ্দিস ফর এন আনবর্ন চাইল্ড, ফিয়াসকো, লিকুইডেশন, দ্য হলোকাস্ট এজ কালচার, ডিটেকটিভ স্টোরি ইত্যাদি। (সম্পূর্ণ…)

সাম্প্রতিক বিশ্বসাহিত্য: প্রত্যাখ্যাত রাউলিং ও পুনর্বাসনে লুইয এলিজাবেত ভিযে ল্য ব্রাঁ

বিপাশা চক্রবর্তী | ৩০ মার্চ ২০১৬ ৩:১৩ অপরাহ্ন


এই সময়ের সবচেয়ে সফল নারী লেখক

cacku.jpgহ্যারী পটার খ্যাত জে কে রাউলিং সম্প্রতি টুইটারে বেশ কিছু প্রত্যাখান পত্র প্রকাশ করেছেন। না কোন প্রেম প্রত্যাখান পত্র নয়, বরং বিভিন্ন প্রকাশকদের কাছে পাঠানো তার বইয়ের পান্ডুলিপির প্রত্যাখ্যান পত্র। হ্যাঁ, জে কে রাউলিং যিনি প্রথম নারী লেখক হিসেবে পৃথিবীর অন্যতম বিলিয়েনিয়ারদের তালিকায় নাম লিখিয়েছেন, তিনি একসময় বিভিন্ন প্রকাশকদের কাছে তার বইয়ের পান্ডুলিপি পাঠিয়েছিলেন আর সেই পান্ডুলিপি বই আকারে প্রকাশে অনেক প্রকাশক অস্বীকৃতি জানিয়েছিলেন! তবে রাউলিং সেসমস্ত পান্ডুলিপিতে তার নিজের আসল নাম ব্যবহার করেন নি। ছদ্মনাম রবার্ট গিলব্রেথ ব্যবহার করেছেন।

রাউলিং এক ভক্তের অনুরোধে প্রকাশকদের কাছ থেকে পাওয়া সেই চিঠিগুলোর কপি তার টুইটার একাউন্টে প্রকাশ করেন। তার পরপরই ব্যাপারটা বেশ সাড়া ফেলে। ছদ্মনাম – রবার্ট গিলব্রেথ হিসেবে তার প্রথম গল্প ‘দ্য কাক্কুস কলিং’ প্রকাশের ক্ষেত্রে এই অভিজ্ঞতার সম্মুখীন হতে হয়েছিল । শুধু তাই নয়, শিশু সাহিত্যে সাড়া জাগানো বিশ্বে ৪০০ মিলিয়নেরও বেশি কপি বিক্রিত রাউলিংয়ের হ্যারী পটার বইটির ক্ষেত্রেও কয়েকবার প্রকাশক ছাপতে চায়নি। তবে এর জন্য তিনি নিরুৎসাহিত হননি বরং তাকে আরো ভাল করার শক্তি যুগিয়েছে। (সম্পূর্ণ…)

সাম্প্রতিক বিশ্বসাহিত্য:ভাষারাজ্যের তীর্থযাত্রী ঝুম্পা লাহিড়ী ও টেন্টাকলের মার্গারেট এটউড

বিপাশা চক্রবর্তী | ২৩ মার্চ ২০১৬ ৮:৩৬ অপরাহ্ন

combo.jpg

ইটালিয়ান ঝুম্পা লাহিড়ী

“যখন আপনি প্রেমে পড়বেন, তখন চিরকাল বেঁচে থাকতে চাইবেন। আপনি আবেগ উত্তেজনার শেষ বিন্দুটুকু অনুভব করতে চাইবেন। ইতালিয়ান ভাষায় পড়তে গিয়ে আমার এমনই অনুভব হচ্ছিল। আমি মরতে চাই না, কেননা আমার মৃত্যুর অর্থ হবে ভাষা আবিস্কারের অবসান। কারণ প্রতিদিনই নতুন নতুন শব্দ শেখার আছে। এভাবেই সত্যিকারের ভালবাসা চিরন্তন হয়”।

ঝুম্পা লাহিড়ী তাঁর জমকালো স্মৃতিকথা ইন আদার ওয়ার্ডস সম্পর্কে এভাবেই নিজের অভিব্যক্তি প্রকাশ করেছেন ‘দ্য নিউইয়র্ক টাইমস’কে দেয়া সাম্প্রতিক এক সাক্ষাৎকারে। বইটি তিনি লিখেছেন ইটালিয়ান ভাষায়।
ঝুম্পার বাবা মায়ের ভাষা ছিল বাংলা। ভারতের পশ্চিমবঙ্গ থেকে প্রথম ইংল্যান্ডে যান সপরিবারে , এখানেই লন্ডন শহরে জন্ম হয় নিলাঞ্জনা সুদেষ্ণা’র। হ্যাঁ, ঝুম্পা লাহিড়ীর ওটাই ছিল জন্ম নাম, কিন্তু পরিচিতি পেলেন ডাকনামে। কেননা ঐ নামটার উচ্চারণ সহজ ছিল না ইংরেজি ভাষাভাষীদের কাছে। তারপর বাবা মায়ের সাথে আমেরিকায় অভিবাসন ও বেড়ে ওঠা। তবে কোলকাতায় নিয়মিত আসা যাওয়া লেগেই থাকত ঝুম্পার। কারণ বাবা মা সবসময় চাইতেন তাদের সন্তান নিজের সংস্কৃতিকে জানুক। তাই ছোটবেলা থেকেই বাংলা ও ইংরেজি এই দুই ভাষার সান্নিধ্যেই বড় হয়েছেন এই ভারতীয়-মার্কিন লেখক। যদিও তিনি খুব ভালভাবে বাংলা লিখতে পড়তে পারেন না, তবুও ছোটবেলায় মাকে দেখেছেন বাংলায় কবিতা লিখতে। যখন বয়স ৩২ তখন ইংরেজি ভাষায় লেখা প্রথম বই ইন্টারপ্রেটার অফ মালাদিস-এর জন্য পেলেন পুলিটজার পুরস্কার। এরপরের বইটি দ্য নেমসেক নিউইয়র্ক টাইমস বেস্ট সেলার, এমনকি একই নামে একটি চলচ্চিত্রও তৈরি হয়েছিল। ইংরেজিতে লেখা সর্বশেষ দ্য লো ল্যান্ড বইটিও দারুন জনপ্রিয়তা পেয়েছে। (সম্পূর্ণ…)

আই হেট দ্য ইন্টারনেট

জাকিয়া সুলতানা | ২২ মার্চ ২০১৬ ১০:১৫ পূর্বাহ্ন

i-hate-the-internet.jpgআমেরিকান অ্যাকশন ফিল্ম “মাচেতে(২০১০)”-এ একটি দৃশ্য রয়েছে যেখানে, নায়ক ড্যানি ট্রেজো তার এক প্রতিপক্ষের পেট চিড়ে নাড়িভুঁড়ি বের করে ফেলে এবং সেটাকে দড়ি হিসেবে ব্যবহার করে উঁচু দালান থেকে লাফিয়ে পড়ে। অ্যাকশনধর্মী সিনেমাগুলোতে এ ধরনের দৃশ্যের অবতারণা নতুন বটে!

জ্যারেট কোবেকের নতুন উপন্যাস আই হেট দ্য ইন্টারনেট-এ লেখক তথাকথিত ইনফর্মেশন হাইওয়েতে আমেরিকান চেতনার অন্ত্রে ছুঁড়ি চালানোর মতোই কৌশল ব্যবহার করেছেন। তবে জনাব কোবেক এই উপন্যাসে উল্লাসে নাকি অবসাদে একাজ করেছেন তা ভেবেই পাঠক কিছুটা বিমুঢ় হয়ে যাবে।

তবে ‘আমি অন্তর্জাল ঘৃণা করি’ বা আই হেট দ্য ইন্টারনেট–এরকম দুর্বল শিরোনাম দেখে বিচলিত হওয়ার কিছু নেই। আপনার সেলফিগুলো আকর্ষণীয় না হয়ে কেবলই কেন গোমড়ামুখো হচ্ছে, তা মোটেই এই বইয়ের বিষয়বস্তু নয় বরং এটা একটা রগরগে রাজনৈতিক এবং সামাজিক বাগাড়ম্বরতা, নতুন বৈশ্বিক সময়ে নৈতিকতা এবং ক্ষমতার বিশুদ্ধ গলাবাজি যা পাঠকের তাজা মনে টগবগে ফুটন্ত আভাস হিসেবে দেখা দেয়। (সম্পূর্ণ…)

« আগের পাতা | পরের পাতা »

Disclaimer & Privacy Policy  |  About us  |  Contact us

© bdnews24.com