সাহিত্য সংবাদ

হাজার ও এক রাত্রির গল্প বলার কৌশল

নাহিদ আহসান | ৫ অক্টোবর ২০১৬ ২:৪৮ অপরাহ্ন

One nightহাজার এক রাত্রির ( আলিফ লায়লা ওয়া লায়লা) শহরজাদকে কে ভুলতে পারে? গল্প বলে যে বদলে দিয়েছে জালিমের হৃদয়। কথায় বলে শিক্ষক আনন্দ পান যখন তিনি দেখেন দুর্বল ছাত্রকে তিনি কিছু শেখাতে পেরেছেন। ভাল ছাত্র তো শিক্ষক নিরপেক্ষ। যেভাবেই হোক সে ভাল করার চেষ্টা করবে।
আমাদের দেশে পাঠকপ্রিয় হলে সমালোচকের হাতে নাস্তানাবুদ হতে হয়। জনপ্রিয় লেখককে মনে করা হয় সস্তা লেখক। কিন্তু রামায়ণ,মহাভারত, ইলিযাড কিন্তু জনপ্রিয়। এই সব কঠিন ভাষায় লেখা কিভাবে্ জনপ্রিয় হল? হবে না কেন এর গল্পগুলো যে মানুয়ের জীবনের গল্প। আর গল্পকথকরা যুগে যুগে সাধারণ মানুষদের বুঝিয়েছেন তাদের মত করে, তাদের ভাষায়।
রাম সীতাকে পরিত্যাগ করেছেন লোকভয়ে? কিন্তু অন্যদিক দিয়ে তিনি তাকে খুব ভালও বাসেন। আসলে এটা তার আত্মত্যাগ। তিনি রাজধর্ম পালন করতে গিয়ে ব্যক্তিস্বার্থ বিসর্জন দিচ্ছেন। হোমারও ছিলেন একজন কথক। তিনি যখন বর্ণনা করেন,‘মহাবীর হেক্টর যুদ্ধে যাচ্ছেন কিন্তু একই সাথে তিনি ভাবছেন তার স্ত্রীর কথা। এই বিধবা রমণী কিভাবে কাল যাপন করবেন’, তখন মানুষকে তা স্পর্শ করে। কারণ তারাও তো জীবনের মহানদী সাঁতরে পার হচ্ছে। এইসব দ্বন্দ্ব, বীরত্ব গাথাঁ সরল ভাষায় গল্পের মত করে বলেছেন- গল্পকথকেরা । তাই তা দু’মলাটের ভেতর গল্পগুলো কারাবাস করেনি।
শিল্পী হিসেবে আপনার কর্তব্য কি?
শুধুই বোদ্ধাদের জন্য লিখবেন? তারাতো আগে থেকেই সব বোঝেন।
নাকি আপনি চান মানুষের হৃদয়ে পৌঁছাতে?সত্যজিৎ রায় কিন্তু ভরা প্রেক্ষাগৃহ দেখলে খুশী হতেন। কোন বিশ্ববিখ্যাত ফিল্ম ক্রিটিক কি বলেছেন সেটা গুরুত্বপূর্ণ বটে তবে এর চেয়ে খুশির বিষয় তার কাছে ছিল – সাধারণ মানুষ তার ছবি ভীড় করে দেখছে।
তাহলে কি আপনি তরল বিষয়ে লিখে জনপ্রিয় হবার চেষ্টা করবেন? কখনই না। আপনার চ্যালেন্জ তো সেটাই আপনার বক্তব্য ও দৃষ্টিভঙ্গি জিবরাইলের ডানায় ভর করে র্মত্যমানবের কাছে পৌঁছাবে। আপনার ভাষা হবে সেই জিবরাইলের ডানা।
শুনেছি একটি পাইন বনের ভেতর দিয়ে হেটেঁ যাওয়ার পর কেউ আর আগের মানুষ থাকেন না। পাইনের সৌর্ন্দয, ঝিরিঝিরি পাতার বাতাস, ঋজুতা মানুষকে বদলে দেয়। শিল্প সাহিত্য সেই পাইন বনের হাওয়া।
নজরুল যখন বলেন, ‘আজ সৃষ্টি সুখের উল্লাসে, মোর মুখ হাসে, মোর চোখ হাসে, মোর টগবগিয়ে খুন হাসে।–তখন যতক্ষণে সমালোচকরা খুন শব্দের প্রয়োগ যুক্তিযুক্ত কিনা সে সম্পর্কে আলোচনা শেষ করেন, তার অনেক আগেই তা জনগণের হৃদয়ে পৌঁছে সেখান থেকে তাদের খুনে মিশে যায়। (সম্পূর্ণ…)

বিজ্ঞানীদের কেন সাহিত্য ও অন্যান্য বিষয় পড়া উচিৎ

নাহিদ আহসান | ২৭ সেপ্টেম্বর ২০১৬ ১:৪০ অপরাহ্ন

বিজ্ঞান ও সাহিত্য নিয়ে কোথায় যেন একটি রেষারেষি আছে। বিজ্ঞানকে অনেক সময় ভাবা হয় যুক্তিপূর্ণ এবং তা শক্ত ভিত্তির উপর প্রতিষ্ঠিত। সাহিত্যকে ভাবা হয় আবেগনির্ভর, কল্পনাশক্তি দ্বারা চালিত।
আসলে বিজ্ঞানেও আবেগ ও কল্পনার ভূমিকা আছে। আইনস্টাইনের ভাষায়:
“I’m enough of an artist to draw freely on my imagination, which I think is more important than knowledge. Knowledge is limited. Imagination encircles the world.”
আর গবেষণার বিষয়বস্তুর প্রতি আবেগ না থাকলে বিজ্ঞানী কাজ করবেই বা কিভাবে?
পক্ষান্তরে অযৌক্তিক সাহিত্য বা যে-সাহিত্য তার পূর্ববর্তী ইতিহাসের ভিত্তির উপর দাঁড়িয়ে নেই সেটাই বা কেমন সাহিত্য? তাই বিজ্ঞান ও মানবিক বিষয়সমূহ পরষ্পরের পরিপূরক। বিজ্ঞানকে মানবিক এবং সাহিত্যকে ভাবালুতা মুক্ত করতে “যুক্ত কর হে সবার সঙ্গে, মুক্ত কর হে বন্ধ” পদ্ধতি অনুসরণ করা দরকার।
অনেকেই মনে করেন, বিজ্ঞান বিভাগের ছাত্রদের মানবিক বিষয়সমূহ পড়ার দরকার নেই। ইতিহাস, সাহিত্য, রাষ্ট্র বিজ্ঞান সবই যেন অগুরুত্বপূর্ণ এবং হালকা বিষয়। ব্যাপারটি ঠিক তার উল্টো। সাহিত্যের ছাত্রের যেমন বিজ্ঞান জানা জরুরী, বিজ্ঞানের ছাত্রদের তেমনি সাহিত্য, কমিউনিকেশন স্কিল, ইতিহাস, রাজনীতি সর্ম্পকে জানা থাকা দরকার। এটা আপনার জন্য অপশনাল নয়, এটা আবশ্যিক।

সাহিত্য ও ইতিহাসের গুরুত্ব

অন্যের দৃষ্টিভঙ্গিতে পৃথিবী দেখতে কেমন তা সাহিত্য আপনাকে শেখাতে পারে। আপনি যখন একটা মুভি দেখেন তখন সেই পরিচালকের দৃষ্টিতে, অভিনেতাদের দৃষ্টিতে পৃথিবীর দিকে তাকান। সাহিত্যও সেরকম পৃথিবী সম্পর্কে আপনার দৃষ্টিভঙ্গি বদলে দেবে। যাদের অভিজ্ঞতা আপনার চেয়ে আলাদা তারা কিভাবে চিন্তা ভাবনা করে তা শিখতে পারবেন। দেখবেন যে অধিকাংশই আপনার মত চিন্তা ভাবনা করেনা, বরং মানসিকতার দিক দিয়ে আপনি সংখ্যালঘুদের একজন। আপনি সাহিত্য-পড়ুয়া বিজ্ঞানী হলে বিষয়টির মোকাবেলা করতে পারবেন।
পৃথিবীর ইতিহাস ও সংস্কৃতি সম্পর্কেও জানা থাকা জরুরী। একজন বিজ্ঞানী তার ইতিহাস ও সংস্কৃতির প্রতিনিধি। আপনার সাথে যারা কাজ করবেন তারা ভিন্ন মানুষ। ভিন্ন অভিজ্ঞতার ভেতর দিয়ে বড় হয়েছেন। তাদের ইতিহাস ও সংস্কৃতি আলাদা এটা যখন বুঝতে পারবেন তখন আপনার জন্য অন্যদের সাথে কাজ করা সহজ হয়ে যাবে। আপনি যাদের জন্য কাজ করছেন, যাদের সাথে কাজ করছেন,পাশে নিয়ে কাজ করছেন তাদেরকে বুঝতে পারা আপনার জন্য গুরুত্বপূর্ণ। বিজ্ঞানকে সবকিছু থেকে বিচ্ছিন্ন করে দেখা ঠিক না। তাই অন্যের ইতিহাস ও সংস্কৃতির পেছনের ব্যাকরণ আপনার জানা দরকার। যেমন পূর্ব পশ্চিমের দুজন মানুষ কাজ করছেন একসাথে, তাদেরকে বাসায় নিমন্ত্রণ জানালে একজন হয়তো পাচঁ মিনিট আগে আসলেন, অন্যজন আধঘন্টা পরে আসবেন। তাদের পোশাকও বিপরীত মেরুর। আপনার মানসিকতা যাই হোক না কেন। তাদের আচার আচরণ মেনে নিতে হলে আগে তাদের মানসিকতা বুঝতে হবে। (সম্পূর্ণ…)

সাম্প্রতিক বিশ্বসাহিত্য: সিরিয়াস সাহিত্যের গুরুত্ব, নতুন আয়রনম্যান ও এলবির প্রয়াণ

নাহিদ আহসান | ১৮ সেপ্টেম্বর ২০১৬ ৯:১২ অপরাহ্ন


সিরিয়াস সাহিত্যের গুরুত্ব

Readerপাঠকের মনে সংবেদনশীলতা সৃষ্টিতে সাহিত্যই শ্রেষ্ঠ। কিন্তুু প্রশ্ন হলো কোন সাহিত্য। সাহিত্যের রয়েছে বহু শাখা যার একটা ধারা হচ্ছে সমকালে অজনপ্রিয় কিন্তু ধীরে ধীরে তা জনপ্রিয় হতে থাকে অর্থাৎ যাকে আমরা চিরায়ত সাহিত্য বলি। আর অন্য একটি ধারা হচ্ছে জনপ্রিয়। কিন্তুু সাহিত্যের জনপ্রিয় ধারা কোনগুলো–সেটা কি আপনি জানেন? সেটা থ্রিলার হতে পারে, রোমান্স হতে পারে কিংবা অ্যাডভেঞ্চারও হতে পারে, এমনকি উচ্চবিত্তের জীবন যাপন নিয়ে লেখা উপন্যাসও সাহিত্যের জনপ্রিয় ধারার মধ্যে পড়তে পারে। কিন্তু যা উন্নত সাহিত্য তা কিন্তু শুধু বিনোদনের যোগান দেবে না, মানুষকে চিন্তার খোরাক দেবে, হৃদয়ের গভীর গোপন তলদেশে আলোড়ন তুলবে, অন্যের অনুভূতি বুঝতে সাহায্য করবে। সালমান রাশদী, হার্পার লি এবং টনি মরিসনের মত লেখকরা পাঠকদের অন্যের অনুভূতি বোঝার মত মন তৈরি করতে সাহায্য করেন। কিন্তু ডেনিয়েল স্টীল বা ক্লাইভ কাসলারের মত লেখকরা সেটা পারেন না। সাম্প্রতিক এক গবেষণায় তাই প্রমাণিত হয়েছে। প্রসঙ্গত ডেনিয়েল স্টীলের প্রিয় বিষয় উচ্চবিত্তদের জীবনের নানা সমস্যা। যারা টিভি সিরিজ ‘ডালাস’ দেখেছেন, তারা বুঝতে পারবেন বিষয়টি কী। এখনকার হিন্দি সিরিয়ালেও জনপ্রিয়তা অর্জনের জন্য এ বিষযটিকে উপজীব্য করা হয়। ভারতের শোভা দের লেখালেখির মূল পটভূমিও কিন্তু তাই। ক্লাইভ কাসলারের প্রিয় বিষয় থ্রিলার যার মূল কাজ শ্বাসরুদ্ধকর উত্তেজনার সৃষ্টি করা। থ্রিলার বা উচ্চবিত্তের জীবনযাত্রা –এইসব ঘরানার লেখা পাঠক পড়তে ভালবাসে। কিন্তু পাঠকের মননের মৌলিক উৎকর্ষে বা অন্যের মনস্তত্ব বোঝার ক্ষমতা বৃদ্ধির ক্ষেত্রে এদের কোন ভূমিকা নেই। সাহিত্যের লেখকরাই পাঠকদের মন ও মনন তৈরিতে ভূমিকা রাখেন। হার্পার লি এবং টনি মরিসনের মত লেখকদের সাহিত্য পাঠ, পাঠককে বুঝতে সাহায্য করে অন্যের চিন্তা-ভাবনা ও দৃষ্টিভঙ্গি। (সম্পূর্ণ…)

দ্বৈত ও অদ্বৈতের প্রসারিত যাত্রা

আবদুস সেলিম | ৬ সেপ্টেম্বর ২০১৬ ৮:১৪ অপরাহ্ন

Gohonjatraজাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের নাটক ও নাট্যতত্ত্ব বিভাগের অধ্যাপক ড. রশীদ হারুন তাঁর সেলিম আল দীনের নাট্য নির্দেশনা নন্দন ভাষ্য ও শিল্পরীতি গ্রন্থের ভূমিকায় বলছেন, ‘দ্বৈতাদ্বৈত’ শিল্পতত্ত্বভাষ্যকার নির্দেশক সেলিম আল দীন আমৃত্য ব্যাপৃত ছিলেন মঞ্চ দৃশ্যকলা, পাঠ ও শ্রবন শিল্পকলা প্রভৃতির সমন্বয়ে একটি মঞ্চকাব্য সৃজনপূর্বক নিজস্ব নন্দনভাষ্য এবং শিল্পরীতির কাঠামো নির্মাণ কল্পে।’ সেলিম আল দীনের এই প্রচেষ্টা তার শিক্ষার্থী ও সমর্থকদের মধ্যে সঞ্চারণ করতে পেরেছেন, তার অন্তত একটি সজীব উদাহরণ সম্প্রতি মঞ্চস্থ রুবাইয়াৎ আহমেদরচিত একক অভিনিত নাটক ‘গহনযাত্রা’। নাটকটির শরীরে সেলিমের নন্দন-দর্শন খুবই স্পষ্ট দৃষ্টিগোচর হয়, বিশেষ করে এর অাখ্যায়িক চরিত্র ও দ্বৈতাদ্বৈতবাদ শিল্পচেতনার কারণে যার মধ্যে সমন্বিত হয়েছে ড. হারুণ উল্লিখিত ‘দৃশ্যকলা’, পাঠ ও শ্রবন শিল্পকলা’। স্পষ্টতই এই উপাদানগুলো ‘ন্যারটিভ-এরই উপাদান।

নাট্যকার রুবাইয়াৎ আহমেদ এই নাটকের নামকরণ করেছেন ‘দ্বৈত ও অদ্বৈতের আখ্যান, গহনযাত্রা’। বাংলাদেশের নাট্যামোদী মাত্রই জানেন, দ্বৈত-অদ্বৈতবাদের জনক সেলিম আল দীন, যাঁর সরাসরি ছাত্র রুবাইয়াৎ। কাঠামোগতভাবেও নাটকটি সেলিম-এর তাত্ত্বিক ধারায় অনুসৃত, যেমন প্রতিটি অপবর্তনের একটি করে শিরোনাম সংযোজন হয়েছে এবং নাটকের ভূমিকা হয়েছে ‘যাত্রারম্ভ’ নামকরনে। এই বিষয়টিও আমার কাছে প্রতিকী মনে হয়–প্রথমত যাত্রা অর্থে অন্তরের ভেতরে এক পরিশুদ্ধির অন্তহীন ভ্রমণ যার মূলমন্ত্র ‘সবার মনে জাগ্রত হোক প্রেম, সবার সর্বান্তকরণ ভরে উঠুক শুভবোধে, সবাই সুন্দর আর নির্মল হোক।’ (সম্পূর্ণ…)

কবি শহীদ কাদরীর প্রয়াণে অগ্রজ ও অনুজ কবিদের প্রতিক্রিয়া

অলাত এহ্সান | ৩১ আগস্ট ২০১৬ ১১:৪৪ অপরাহ্ন

Shahid-Kadree-singleপঞ্চাশের দশকের তিন দিকপাল কবির একজন শহীদ কাদরী। কবিতা কম্পাসে কাটা এখনো তার দিকে দিপ্যমান। স্বাধীনতার আগে থেকে তার যে তুমুল জনপ্রিয়তা তা এখনো অটুট। ১৪ বছর বয়সে বুদ্ধদেব বসুর সম্পাদিক ‘কবিতা’ পত্রিকা কবিতা প্রকাশ করার পর থেকে কবি হিসেবে তিনি সুপ্রতিষ্ঠিতি। দুই বাংলাই তিনি সমান জনপ্রিয়।
৭৩ বছরের জীবনে প্রায় ৬ দশক তারা সাহিত্যের কাল। জনপ্রিয়তার মাঝেও কবিতার সংখ্যায় তিনি ছিলেন আশ্চর্য নির্ভার। খসড়া কবিতায় সংখ্যা বৃদ্ধির চেয়ে সম্পন্ন কবিতা সীমিত থেকেছে তার কাব্যচর্চা। তাই মাত্র চারটি কবিতার বইয়ে ১২৬টি প্রকাশিত কবিতা তার। এই নিয়েই বাংলা কবিতায় স্থায়ী আসন, অমরতা। ষাটের দশকের ‘কণ্ঠস্বর’ ও ‘সমকাল’-এর সফলমিছিলে ঢুকেও স্বকীয়তায় উজ্জ্বল ছিলেন। নাগরিক চৈতন্য, তীর্যক দৃষ্টি, গভীর নির্জনতা, প্রগলভ একাকীত্ব, অমীমাংসিত নির্বাসন তার কবিতায় প্রতিফলিত।
১৯৭৯ সালে দেশ ছাড়া শহীদ কাদরী ৩৭ বছরের প্রবাসজীবনে কোলকাতা, জার্মানি, ইংল্যান্ড, আমেরিকার বোস্টন ও পরে নিউইয়র্কে থিতু হয়েছিলেন। মাঝখানে অবশ্য একবার ঢাকায় ছিলেন কয়েকমাস। তাছাড়া আর আসেননি আড্ডাপ্রাণ এই মানুষটি। এমনকি একুশে পদক নিতেও না। তবু প্রবাস থেকে তিনি লিখেন, ‘আমার চুম্বনগুলো পৌঁছে দাও’।
কবির শেষ ইচ্ছা, তাকে যেন মিরপুর শহীদ বুদ্ধিজীবী কবরস্থানে শায়িত করা হয়।
এই কবির প্রয়াণে শোকস্তদ্ধ কবিতাপ্রেমি ও সংগ্রামীরা। তাকে নিয়ে কথা বলেছেন তার অগ্রজ, সমসাময়িক এবং অনুজ কবিগণ। তাদের কথা এখানে গ্রন্থণা করেছেন তরুণ গল্পকার অলাত এহ্সান। (সম্পূর্ণ…)

ইট’স এ শি থিং : নারীর একান্ত কথার ঐকান্তিক প্রকাশ

কে এম রকিব | ২৭ আগস্ট ২০১৬ ১:১৩ অপরাহ্ন

SHE Thing 0 (1)ঢাকার উঁচু উঁচু ইমারত, জমকালো আলো আর গ্ল্যামারের নিচে আছে এক অন্ধকার বাস্তবতা যে-অন্ধকার বাস্তবতার মুখোমুখি নারীকে হতে হয় প্রতিনিয়ত। শুধু লৈঙ্গিক পরিচয়ের কারণেই পদে পদে নারীকে বৈষম্য ও ভায়োলেন্সের শিকার হতে হয়। এমনই বিষয় নিয়ে গত ১৯ ও ২০ আগস্ট গুলশান-১-এর স্পেক্ট্রা কনভেনশন সেন্টারে হয়ে গেল ‘বহ্নিশিখা-আনলার্ন জেন্ডার’র এক চমৎকার পরিবেশনা ‘ইট’স এ শি থিং’। বিভিন্ন শ্রেণিপেশার নানা বয়সী নারীর না বলা অনেক গল্প উঠে এসেছে এই আয়োজনে।

অনুষ্ঠানের নামকরণ থেকেই বেরিয়ে এসেছে এর দর্শন। ‘It’s a SHE thing’। যার অর্থ হতে পারে, ‘এটা সে কলাপ’। কিন্তু এই ‘সে’টা এখানে বিশেষ অর্থবহ। ইংরেজিতে SHE শব্দটি নারী শব্দের পরিবর্তে ব্যবহৃত সর্বনাম। কিন্তু কখনো কখনো এই ‘সে’ উচ্চারণের ভেতরে থাকে উপেক্ষা, অবদমন, অবমূল্যায়ন, অস্বীকার বা নাই করে দেয়ার প্রচেষ্টা। যে কারণে নারীর সব কিছুকে ‘এটা সে কলাপ’ বা ‘মেয়েলি বিষয়’ শব্দবর্গে মুড়ে দেয়া যায়। অনেক সময় তা অবাঞ্চিত, অনাহুত, নিষিদ্ধের মতো করে ছুড়ে ফেলা হয়। ‘It’s a SHE thing’ অনুষ্ঠানটি সেই বিষয়-আশয়কে সামনে নিয়ে আসে নান্দনিক ব্যঞ্জনা ও বলিষ্ঠতায়। যা ধরা পরে অনুষ্ঠানের উপশিরোনামে ‘A play about women and girls of Dhaka, Inspired by The Vagina Monologues’। এই উপশিরোনাম মনে করিয়ে দেয় নারী–যিনি বয়সে যুবতী–বিষয়ে আমাদের দীর্ঘদিনের অবদমন। আধুনিক শহরে যা উবে যায়নি। আর তাই ইটের পাঁজর খুলে দেখার আয়োজন।
গত ১৯ ও ২০ আগস্ট দুইদিনব্যাপী অনুষ্ঠিত হয়েছিল এই প্রদর্শনী, প্রতিদিন সন্ধ্যা ৭টা থেকে ৯ টা পর্যন্ত। (সম্পূর্ণ…)

প্রত্যাখ্যাত ৮টি গবেষণার নোবেলজয়

বিপাশা চক্রবর্তী | ২০ আগস্ট ২০১৬ ১:০৬ অপরাহ্ন

নোবেলবিজয়ী সব গবেষণা বা আইডিয়া প্রথমেই নিজ বলয়ে গৃহীত হয়নি। সংজ্ঞাগত দিক থেকেই হোক কিংবা দৃষ্টান্ত ও উদাহরণের দিক থেকে সেগুলো ছিল আসলেই বৈপ্লবিক। সে অনুযায়ী, অনেক আলোচিত গবেষণা, তত্ত্ব ও আবিষ্কার এমনকি পরবর্তীকালে টেক্সটবুকে অন্তর্ভুক্ত হয়েছে এমন, অনেকগুলোই প্রাথমিক অবস্থায় বাতিল বলে ঘোষিত হয়েছিল। উপহাস যদিও বা না করে থাকেন তবুও প্রথম পর্যায়ে বিজ্ঞানী মহল ঐসব ঘোষণাকে বাতিল বলেই ঘোষণা করা হয়েছিল। মার্কিন জীনতত্ত্ববিদ হাওয়ার্ড মার্টিন টেমিন যখন “রিভার্স ট্রান্সক্রিপ্টেস’ (RT) প্রস্তাব করলেন, যেখানে বলা হলো- “ আরএনএ অনেক সময় ডিএনএ তৈরি করতে সক্ষম”। এই তত্ত্বকে হাস্যকর বলে উড়িয়ে দেয়া হল। সেটা ছিল ১৯৭০ সাল। অন্যসব বিজ্ঞানীদের মতে হাস্যকর এ প্রস্তাব নোবেল পুরস্কারে ভূষিত হল ১৯৭৫ সালে। অনেক সমালোচনা অনেক বিতর্কের পরেও সে সময় অনেক বাঘা বাঘা বিজ্ঞানী নেতারা মানতে নারাজ ছিলেন টেমিনের এই তত্ত্ব, যে কিছু ভাইরাস আরএন-এ আকারে থেকে তাদের জেনেটিক তথ্য বহন করে আক্রান্ত কোষের ডিএনএ’তে তার অনুলিপি তৈরি করে ফেলতে পারে। এই প্রক্রিয়াকে ‘বিপরীত বা রিভার্স ট্রান্সক্রিপশন’ বলে আখ্যায়িত করা হলো। কেননা, রিভার্স ট্রান্সক্রিপ্টেস (RT) হচ্ছে এক ধরনের এনজাইম যা ব্যবহার করে আরএনএ টেমপ্লেট থেকে পরিপূরক ডিএনএ বা কমপ্লিমেন্টরি ডিএনএ উৎপাদন করা যায়। একই কান্ড ঘটেছিল সুইস মাইক্রোবায়োলজিস্ট ওয়ার্নার আর্বার-এর বেলাতেও। ১৯৭৮ সালে তিনিও নোবেল পান। ওয়ার্নার রেস্ট্রিকশন এনজাইমের কাজ নিয়ে গবেষণা করেছিলেন।

এখানে নোবেল জয়ী ৮টি গবেষণাপত্রের রূপরেখা দেয়া হলো যেগুলো প্রাথমিক পর্যায়ে সম্মিলিত পর্যালোচনায় বিভিন্ন বিজ্ঞান সাময়িকী, জার্নাল বা বিজ্ঞান পত্রিকায় প্রকাশের জন্য মনোনীত হয়নি এবং প্রকাশের অযোগ্য বলে বাতিল হয়েছিল।

border=0১। রসায়নশাস্ত্রে নোবেল পুরস্কার (১৯৯৭) বিজয়ীদের একজন মার্কিন প্রাণরসায়নবিদ পল বয়ার। এডিনসন ট্রাইফসফেট সংশ্লেষণের প্রক্রিয়া চিহ্নিত করার জন্য তিনি এ পুরস্কারের অংশীদার হন। (সম্পূর্ণ…)

সাম্প্রতিক বিশ্বসাহিত্য: নতুন হ্যারি পটার, পাঠের নতুন ধরন এবং ধনী লেখককুল

বিপাশা চক্রবর্তী | ৯ আগস্ট ২০১৬ ৮:১৬ অপরাহ্ন


হ্যারি পটার এন্ড দ্য কার্সড চাইল্ড

অবশেষে গত ৩১ জুলাই মধ্যরাতে প্রকাশিত হলো ২০১৬ সালের সবচেয়ে প্রতীক্ষিত বইটি, হ্যারি পটার এন্ড দ্য কার্সড চাইল্ড। গভীর রাতেও হ্যারি পটার ভক্তরা হুমড়ি খেয়ে পড়েছিল বইটি কিনতে। সবারই একটি কপি চাই। অধিকাংশ পাঠকই বয়সে তরুণ। জে কে রাউলিংয়ের জাদুকরী রচনায় হ্যারি পটার সিরিজের এর আগের সাতটি বইয়ের বেলাতেও একই দৃশ্যের অবতারণা হয়েছিল। তবে এবার ব্যতিক্রম। হ্যারি পটার এন্ড দ্য কার্সড চাইল্ড আসলে একটি নাটকের বই। এই বইয়ের লেখক হিসেবে রাউলিংয়ের সাথে যুক্ত হয়েছেন আরো দুইজন। জে কে রাউলিং, জ্যাক থ্রোন এবং জন টিফানি রচিত মূল গল্পের উপর ভিত্তি করে এই নাটকের বই। দুই খন্ডে বিভক্ত এই নাটকের চিত্রনাট্য লিখেছেন জ্যাক থ্রোন। নাটকটির পরিচালক নির্মাতা টিফানি। প্রথম সংস্করণে প্রকাশিত হলো ৪.৫ মিলিয়ন কপি। বাজারে আসার প্রথম আটচল্লিশ ঘন্টায় নিঃশেষ হয়ে যায় ২ মিলিয়নেরও বেশী কপি।
bip-2২০০৭ সালে সর্বশেষ প্রকাশিত হয় ঔপন্যাসিক জে কে রাউলিংয়ের হ্যারি পটার সিরিজের সপ্তম বই হ্যারি পটার অ্যান্ড দ্য ডেডলি হ্যালোজ। বর্তমান নাটকের বইয়ের গল্প শুরু হয় সেখান থেকেই যেখানে শেষ হয়েছিল হ্যারি পটার অ্যান্ড দ্য ডেডলি হ্যালোজ-এর গল্প। বলা যায় এর পরবর্তী ঘটনা প্রবাহ নিয়ে এগিয়েছে হ্যারি পটার অ্যান্ড দ্য কার্সড চাইল্ড। গল্পে দেখা যায় হ্যারি পটারের উনিশ বছর পরের জীবনকে। হ্যারির সাথে ডার্ক লর্ড ভল্ডেমর্টের মুখোমুখি হবার ১৯ বছর পর শুরু হয় নতুন গল্পটি। মধ্যবয়সী হ্যারি পটার এখন লন্ডন শহরের একজন ব্যস্ত সরকারী কর্মকর্তা। মিনিস্ট্রি অফ ম্যাজিক বা জাদু মন্ত্রণালয়ের দ্বায়িত্বরত অবস্থায় কর্মব্যস্ত হ্যারি পটার মুখোমুখি হয় অতীত থেকে আসা অনাকাঙ্ক্ষিত এক সত্যের। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হচ্ছে এখানে হ্যারিকে পাওয়া যায় একজন পিতার ভূমিকায়। হ্যারি পটারের তিন সন্তানের মধ্যে দ্বিতীয় পুত্র অ্যালবাস পটার। খ্যাতিমান পিতা আর পারিবারিক যশের ভার সামাল দেয়ার চেষ্টায় দেখা যায় অ্যালবাসকে।
তবে অনেক ক্ষুদে পাঠক বইটি হাতে পাওয়ার পর খানিকটা হতাশ হয়েছে। কেননা, এটি জে কে রাউলিং রচিত হ্যারি পটার সিরিজের অন্য বইগুলোর মত পূর্ণাঙ্গ গল্পের বই না। কোন কোন সমালোচকের মতে, এটি স্রেফ একটি নাটকের বই। কিভাবে রিহার্সাল করতে হবে, সংলাপ কি হবে, কিভাবে সেগুলো বলতে হবে, মঞ্চের সজ্জা কেমন হবে শুধু এসবই আছে বইটিতে। (সম্পূর্ণ…)

সাম্প্রতিক বিশ্বসাহিত্য ও সংস্কৃতি: বিদায় আব্বাস, বিদায় বনফয়

বিপাশা চক্রবর্তী | ৫ জুলাই ২০১৬ ৭:৪৮ অপরাহ্ন


বিদায় কবি রুপালী পর্দার

Abbasসমসাময়িক চলচ্চিত্রের ইতিহাস যদি আপনি লিখতে বসেন তাহলে চাইলেও কিছুতেই যার নামটি আপনি বাদ দিতে পারবেন না তিনি হলেন-আব্বাস কিয়ারোস্তামি। হলিউডের রুক্ষ সংস্করণের বিপরীতে চলচ্চিত্রে তিনি নিয়ে এসেছিলেন কাব্যময়তা। যা ছিল অত্যন্ত পরিশালীত ও স্ব-অর্জিত, একই সাথে আধুনিক অতিন্দ্রিয়তার প্রতিফলন। তাঁর চলচ্চিত্রেরর প্রতিটি অংশেই তাঁর নিজস্বতা ছিল। তিনি নিজেও ছিলেন কবি। তিনি এ যুগের চলচ্চিত্রের কবি। নিজের মাতৃভূমি ইরানকে তিনি উপস্থাপন করেছেন চলচ্চিত্রের মাধ্যমে অত্যন্ত শৈল্পিকভাবে। ইরানের সংস্কৃতি, ইতিহাস, সামাজিক জীবনধারাকে সারা পৃথিবীর কাছে পরিচিত করিয়েছেন চলচ্চিত্রের মাধ্যমে। এমনকি দেশটিতে ইসলামিক বিপ্লবের পরেও তিনি দেশ ত্যাগ করেননি। বরং চলচ্চিত্রের মাধ্যমে তাঁর কাব্যিক ঝঙ্কার অব্যাহত রেখেছিলেন। তাঁর প্রতিটি চলচ্চিত্র মানুষের সঙ্গে মানুষের সম্পর্ক, প্রকৃতির সঙ্গে মানুষের সম্পর্কের নিবিড় অথচ সুক্ষ্ম বর্ণনা। বর্ণনা এমন রহস্যময় পরাবাস্তব আবহ সৃষ্টি করে যে আপনার মনে হবে যেন আপনি এই জগতে থেকেও নেই। কোথাও হারিয়ে গেছেন। এভাবেই একজন আব্বাস কিয়ারোস্তামী হয়ে ওঠেন রুপালী রূপকথাকার, কখনো কবি। আব্বাস ছিলেন বর্তমান পৃথিবীর একজন প্রধানতম ‘ওটার’। মানে হল যিনি একই সাথে চলচ্চিত্রের চিত্রনাট্য রচনা, পরিচালনা, প্রযোজনা, শব্দ ও সুর সংযোজন, চিত্রগ্রহণ এবং সম্পাদনা করতে পারতেন। বলা যায় চলচ্চিত্র নির্মানে তিনি সর্বময় গুণের অধিকারী ছিলেন। তাঁর নির্মিত চলচ্চিত্রের প্রতিটি অংশে ছিল স্বকীয়তার ছাপ। নিজ গুনেই সুপ্রসিদ্ধ এই নির্মাতা হয়ে ওঠেন পৃথিবীর রুপালী জগতের কিংবদন্তী। জীবনের বিভিন্ন সময়ে অসংখ্য পুরস্কার অর্জন করেছেন তিনি। ১৯৪০ সালে ইরানের তেহরান শহরের জন্ম নেন আব্বাস। তেহরান বিশ্ববিদ্যালয়ে চিত্রকলা নিয়ে পড়াশোনা করেন। কর্মজীবনের শুরু গ্রাফিক ডিজাইনার হিসেবে ইরানিয়ান টেলিভিশনের জন্য বেশকিছু বিজ্ঞাপন নির্মানের মাধ্যমে। ১৯৬৯ সালে –‘কানুন’ নামে একটি সংগঠনে যারা শিশু কিশোরদের মানবীয় বৃদ্ধিবিকাশ নিয়ে কাজ করে। এখানকার ফিল্ম ডিপার্টমেন্টের দায়িত্ব নিয়ে প্রায় এক যুগ কাজ করার সময় শিশুদের নানান সমস্যা নিয়ে বেশ কটি চলচ্চিত্র তৈরি করেন। পরবর্তীতে নিজেই স্বনির্ভর চলচ্চিত্রকার হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেন। এ সম্পর্কে বিভিন্ন সাক্ষাৎকারে আব্বাস বলেন, “শুরতে যা ছিল শুধুই চাকরী পরে তা ক্রমশ আমাকে একজন শিল্পী হয়ে উঠতে সাহায্য করে”। ১৯৯৭ সালে নির্মিত‘টেস্ট অফ চেরি’ চলচ্চিত্রটি আন্তর্জাতিক কান চলচ্চিত্র উৎসবে সর্ব্বোচ্চ ‘পাম দোর’ পুরস্কার অর্জন করে। ১৯৭০ সাল থেকে নিয়মিত ভিন্ন ধারার ডকুমেন্টরি, স্বল্প ও পূর্ণ-দৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র নির্মান করে বিশ্বজোড়া খ্যাতি অর্জন করেন এই চলচ্চিত্রকার। আজ যে সারা পৃথিবীতে ইরানী চলচ্চিত্রের জয়জয়কার তা মূলত আব্বাসের বদৌলতে। কেননা, তিনি তাঁর কাজের মাধ্যমে চলচ্চিত্র নির্মানে তাঁর বৈশিষ্ট্য ও ভাবধারা সঞ্চারিত করতে পেরেছিলেন তাঁর উত্তরসূরি ইরানী চলচ্চিত্রকারদের মাঝে। তিনি নিজে প্রভাবিত ছিলেন সত্যজিৎ রায়, ভিত্তোরিও দে সিকা ও জাক তাতি’র কাজ দ্বারা। (সম্পূর্ণ…)

সাম্প্রতিক বিশ্বসাহিত্য: বিদায় রাবাসা, অজানা কাফকা ও শিল্পকর্মের উল্টোপিঠ

বিপাশা চক্রবর্তী | ২২ জুন ২০১৬ ৪:১২ অপরাহ্ন


বিদায় রাবাসা

rabasa.jpg
বিদায় নিলেন গ্রেগরি রাবাসা। গত ১৩ জুন যুক্তরাষ্ট্রের ব্রানফোর্ড, কানেকটিকাট-এ ৯৪ বছর বয়সে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করলেন এই কিংবদন্তীতুল্য অনুবাদক। “ইংরেজী ভাষায় ল্যাতিন আমেরিকার শ্রেষ্ঠ লেখক”-এই বলে যাকে একদিন ঘোষণা করেছিলেন গ্যাব্রিয়াল গার্সিয়া মার্কেস। আর করবেনই না বা কেন? সারা পৃথিবী জুড়ে মার্কেসের ব্যাপক জনপ্রিয়তা আর পরিচিতির অনেকটা ভাগীদার গ্রেগরি রাবাসা। তিনিই প্রথম মার্কেসের জাদুবাস্তবতার অনন্য আখ্যান নিঃসঙ্গতার একশ বছরকে ইংরেজী ভাষায় অনুবাদ করে সারা পৃথিবীর জন্য উন্মুক্ত করে দেন। ১৯৬৭ সালে প্রথম প্রকাশের তিনবছর পর ইংরেজী অনুবাদ প্রকাশিত হয় আর সঙ্গে সঙ্গেই প্রচন্ড জনপ্রিয়তা পায়, যা পায়নি স্প্যানিশ ভাষায় প্রথম প্রকাশের পর। অনুবাদকে রাবাসা এমন এক উন্নত পর্যায় নিয়ে যান যার ফলে নিঃসঙ্গতার একশ বছর-এর অনুবাদ গ্রন্থটি প্রসঙ্গে মার্কেস প্রায়ই প্রশংসা করে বলতেন, “এই অনুবাদের নিজস্ব শৈল্পিক সত্ত্বা আছে, ও নিজেই একটি শিল্প ”। গ্রন্থটি আজ বিংশ শতকের সাহিত্যের ইতিহাসে অন্যতম একটি কীর্তিস্বম্ভ হিসেবে বিবেচিত। (সম্পূর্ণ…)

আদিম লতাগুল্মময় শেকসপিয়রের নগ্ন প্রদর্শনী

বিপাশা চক্রবর্তী | ৫ জুন ২০১৬ ১২:৪৫ অপরাহ্ন

pic-1.jpgনা সেদিন আকাশ ভেঙ্গে পড়েনি মাটিতে। মান সম্মান আর রীতিনীতির সুতোয় বোনা সভ্যতার চাদরও টুটে যায়নি কোথায়ও। সেদিন সূর্যাস্তের ঘন্টাখানেক আগে। নিউইয়র্ক শহরের সেন্ট্রাল পার্কের সবচেয়ে উঁচু যে জায়গাটি সামিট রক, সেখানে তারা জড়ো হলেন। আট জন অসাধারণ অভিনয়শিল্পী, তিন জন মেধাবী নৃতশিল্পী ও দক্ষ দুইজন বাদ্যযন্ত্রী। ১৩ জনের সবাই নারী । তারা প্রদর্শন করলেন উইলিয়াম শেকসপিয়রের অমরকীর্তি জাদু আর বিভ্রমের নাটক ‘দ্য টেমপেস্ট’। খোলা আকাশের নিচে সম্পূর্ণ প্রাকৃতিক পরিবেশে। অভিনয় করলেন নগ্ন হয়ে। সম্পূর্ণ নগ্ন বলতে যা বোঝায়–উলঙ্গ হয়ে। পুরো দু’ঘন্টা। মাত্র একশ গজ দূর থেকে শুরু হয়েছে দর্শকের সারি। পার্কে আগত স্থানীয় লোকজন, পর্যটক, ছেলেবুড়ো নারী পুরুষ সব মিলিয়ে প্রায় ২০০ জন দর্শনার্থী। উপভোগ করলেন অভিনব কায়দায় উপস্থাপিত ঐতিহাসিক নাটকটি। কিন্তু এ ঘটনা ২০০ জন দর্শকের মাঝে সীমাবদ্ধ থাকল না। ছড়িয়ে গেল সারা পৃথিবীতে। দ্য ইন্ডিপেনডেন্ট, দ্য গার্ডিয়ান, দ্য ডেইলী মেইল, নিউ ইয়র্ক নিউজ ডে’সহ অনেক গুরুত্বপূর্ণ পত্রিকা আর অগুনতি ওয়েবসাইটের মাধ্যমে। বেশ গুরুত্ব দিয়ে তারা প্রকাশ করল ‘দ্য টেমপেস্ট’ নাটকের এই বিশেষ প্রদর্শনীর কথা। একদিন না পরপর দুদিন। একইস্থানে ১৯ ও ২০মে হল এই প্রদর্শনী। ঝড় আর বৃষ্টির পূর্বাভাস থাকা সত্ত্বেও রচিত হল ডাকিনীবিদ্যা আর ষড়যন্ত্রের ইন্দ্রজাল ‘দ্য টেমপেস্ট’। মহান নাট্যকার ও কবি শেকসপিয়রের ৪০০তম মৃত্যুবার্ষিকী পালিত হয়েছে ২০১৬ তে। এ উপলক্ষে সারা বিশ্ব জুড়ে নেয়া হয়েছে নানা কর্মসূচী। এমনকি প্রকাশনী সংস্থা হোগার্থ-এর উদ্যোগে ‘দ্য টেমপেস্ট’ কে একুশ শতকের পাঠকের জন্য নতুন রূপে পরিচয় করিয়ে দিতে উপন্যাস আকারে লিখছেন বর্তমান সময়ে জনপ্রিয় ঔপন্যাসিক ও কবি মার্গারেট এটউড। নিউইয়র্ক সেন্ট্রাল পার্কে আয়োজিত নাটকটিও শেকসপিয়রের মৃত্যুবার্ষিকী উদযাপনের অংশ ছিল। কিন্তু কেবল মৃত্যুবার্ষিকী উদযাপনই এর মূল উদ্দেশ্য না-কি অন্য কিছু? (সম্পূর্ণ…)

সাম্প্রতিক শিল্পসাহিত্য: পানামা পেপার্স-এ চিত্রকলাও

বিপাশা চক্রবর্তী | ১৭ এপ্রিল ২০১৬ ১০:১৩ পূর্বাহ্ন


একটি নিলাম যেভাব পাল্টে দিল শিল্পজগতের ইতিহাস

pablo.jpg বিলিওনিয়ার জো লুইস কিভাবে ব্যক্তিগত সংগ্রহে থাকা পৃথিবী বিখ্যাত সব চিত্রকর্ম সস্তায় কিনে নিয়েছিলেন সম্প্রতি পানামা পেপার্সে তার একটি বিবরণ প্রকাশিত হয়েছে। মার্কিন ব্যবসায়ী ও শিল্প সংগ্রাহক দম্পতি ভিক্টোর গ্যান্জ ও শ্যালি গ্যান্জ-’এর ব্যক্তিগত সংগ্রহে ছিল বহু বিশ্ববিখ্যাত শিল্পকর্ম। জহুরির চোখ দিয়ে তারা সেই শিল্পকর্ম বাছাই করতেন। এ ব্যাপারে তারা ছিলেন বিশেষজ্ঞ। কখনোই তাদের পছন্দ ব্যর্থ হয়নি। বলা যায়, পৃথিবীর ইতিহাসে এই দম্পতিই ছিলেন শ্রেষ্ঠ ব্যক্তিগত শিল্প সংগ্রাহক। এমনকি শিল্পসংগ্রহ নিয়ে এই দম্পতি আ লাইফ অফ কালেক্টটিং নামে একটি বিখ্যাত গ্রন্থও লিখেছিলেন। বিশেষ করে পাবলো পিকাসোর ভক্ত ছিলেন তারা। এবং পিকাসোর বিখ্যাত কিছু শিল্পকর্ম তাদের সংগ্রহশালায় ছিল। ১৯৯৭-এর জানুয়ারিতে ৮৫ বছর বয়সে শ্যালি গন্জ-এর মৃত্যুর পর থেকে একে একে নিলাম হতে থাকে তাদের সংগ্রহে থাকা শিল্পকর্মগুলো।

women-of-algiers.jpgসময়টা ১৯৯৭ সালের নভেম্বর মাস। ম্যানহাটনের নিলাম ঘর ক্রিস্টিজ সেলসরুমে গন্জ দম্পতির সংগ্রহে থাকা পাবলো পিকাসোর যুদ্ধপরবর্তী মাস্টারপিস বিশ্ববিখ্যাত শিল্পকর্ম ‘ওমেন অব আলজিয়ার্স’সহ অসংখ্য চিত্রের একটি নিলাম অনুষ্ঠিত হয়। বিশ্ববিখ্যাত স্প্যানিশ কিউবিস্ট চিত্রশিল্পী পাবলো পিকাসোর ‘ওমেন অব আলজিয়ার্স( ভার্সন ও)’ ছিল ১৫টি অসাধারণ চিত্রকর্মের একটি সিরিজ। আর ‘ভার্সন ও’ হচ্ছে ঐ সিরিজের সর্বশেষ চিত্রকর্ম। আর এজন্যই ওটা ছিল একটু বেশী ব্যতিক্রম। নিলামে থাকা শিল্পকর্মগুলো মাত্র ৩২ মিলিয়ন ডলারে বিক্রি হয়। আর ১৮ বছর পর যার মূল্য হয় ১৭৯ মিলিয়ন ডলার। (সম্পূর্ণ…)

« আগের পাতা | পরের পাতা »

Disclaimer & Privacy Policy  |  About us  |  Contact us

© bdnews24.com