সাহিত্য সংবাদ

জন্মদিনে শ্রদ্ধার্ঘ্য: ৭৪-এ বঙ্গবন্ধুর আর্শীবাদপুষ্ট কবি মহাদেব সাহা

ইজাজ আহমেদ মিলন | ৫ আগস্ট ২০১৭ ১:৩৯ পূর্বাহ্ন

Mahadev- ‘ আমি একটি বন্ধু খুঁজছিলাম যে আমার পিতৃশোক ভাগ করে নেবে, নেবে আমার ফুসফুস থেকে দূষিত বাতাস…/ আমি এই ঢাকা শহরের সর্বত্র, প্রেসক্লাবে, রেস্তোরাঁয়, ঘোড়দৌড়ের মাঠে এমন একজন বন্ধু খুঁজে বেড়াই যাকে আমি মৃত্যুর প্রাক্কালে উইল করে যাবো এইসব অবৈধ সম্পত্তি…/’ আধুনিক বাংলা কাব্য সাহিত্যের অন্যতম কবি মহাদেব সাহা এভাবেই তাঁর কবিতায় একজন খাঁটি বন্ধু খুঁজে বেড়িয়েছেন। জীবনের এই সায়াহ্ণে এসেও কবি পাননি তাঁর আজন্ম বাসনার সেই প্রত্যাশিত বন্ধুর খোঁজ। যে বন্ধু কবির বাবা হারানো শোক ভাগ করে নেবে। ফুসফুস থেকে বের করে নেবে জমে থাকা দূষিত বাতাস। এ প্রসঙ্গে কবিই বলেছেন ‘ মানুষ কখনো মানুষের এতো বন্ধু হয় না। ঈশ্বরই মানুষের একমাত্র আশ্রয়, একমাত্র বন্ধু। তার কাছেই সব কিছু পাওয়া যায়। তিনিই কেবল সুখ দুঃখের সমান অংশীদার। আমার দুঃখে ঈশ্বর যতো ব্যথিত হন- ততো ব্যথিত আমি নিজেও হই না। কিন্তু সবই আমার কৃতকর্মের ফল। ঈশ্বর আমার জন্য কাঁদেন। এমন কোন বন্ধু হয় না যে আমার জন্য কাঁদবে। মানুষ নিজের জন্যই কাঁদে।’ (সম্পূর্ণ…)

৭৩-এ কবি নির্মলেন্দু গুণ

ইজাজ আহমেদ মিলন | ২১ জুন ২০১৭ ৫:১২ অপরাহ্ন

goon pictur‘জন্মের সময় আমি খুব কেঁদেছিলাম,এখন আমার সব কিছুতেই হাসি পায়/ আমি জন্মের প্রয়োজনে ছোট হয়েছিলাম,এখন মৃত্যুর প্রয়োজনে বড় হচ্ছি ।’ আধুনিক কাব্য সাহিত্যের দিকপাল কবি নির্মলেন্দু গুণ জন্ম এবং মৃত্যু সম্পর্কে এভাবেই বলেছেন তার স্ববিরোধী কবিতার শেষাংশে। সত্য ও সুন্দরের উপাসক কবি গুণ তার কবিতায় যথার্থই বলেছেন। প্রত্যেকটা মানুষই জন্মের প্রয়োজনে ছোট থাকে। আর মৃত্যুর প্রয়োজনেই বড় হন। বড় হতে হতে যখন আর বড় হওয়ার জায়গা থাকে না তখনই তিনি অনিবার্য ঠিকানায় চলে যান। আর এ সব দেখে কবির বড্ড হাসি পায় যেমনটা কান্না পেয়েছিল জন্মের সময়।
আজ ২১ জুন। ছয় ফুট দীর্ঘ, উন্নত নাসিকা, রবীন্দ্রনাথের মতো শশ্রুমণ্ডিত, তীব্র-তীক্ষ্ন চোখ আজীবন ঢোলা পাজামা-পাঞ্জাবি পরিহিত কবি নির্মলেন্দু গুণ ৭৩’এ- পা রাখলেন। এ কথা অস্বীকার করার কোনো জো নেই যে, কবি নির্মলেন্দু গুণই বাংলাদেশে জীবিতদের মধ্যে সবচেয়ে জনপ্রিয় ও পাঠকনন্দিত কবি। কবিতার পেছনেই তিনি লেখক জীবনের প্রায় পুরো অংশই নিয়োগ করেছেন। এই কবিতাই তার ধ্যান জ্ঞান সাধনা। কবিতা গুণদাকে সব দিয়েছে। ঢেলে দিয়েছে। তিনি সফলতার শীর্ষে আরোহন করেছেন যৌবন শুরু হওয়ার বেশ আগেই। ১৯৬৮ সালে কবি নির্মলেন্দু গুণ তার বোন সোনালীকে এক চিঠিতে লিখেছিলেন ‘আমার কাছে আমার কবিতা আমার চোখের মতো। আমার কাছে আমার কবিতা আমার আত্মার মতো। আমার কাছে আমার কবিতা আমার রক্তের মতো প্রিয়। আর কবিতাও আমাকে ভালোবাসে বলেই হয়তো ষাট দশকের যেসব কবি পূর্ববঙ্গে জন্ম নিয়েছে তাদের মধ্যে যদি পাঁচজনেরও নাম করতে হয় – তবে আমার নাম অপরিহার্য।’ গুণদা সারাটা জীবনই তার লেখনীতে সত্য আর সুন্দরের উপাসনা করেছেন। যদি তাকে ফাঁসির মঞ্চে নেওয়া হয় কিংবা জিহবা কেটে দেওয়া হয় তবুও তিনি কখনো মিথ্যার আশ্রয় নেবেন না। নেননি কখনো। প্রবল আত্মবিশ্বাসী এ কবি চরম সত্য কথাকে যে কোনো ভর-মজলিশে অকপটে বলে যেতে পারেন। নিজের বিপক্ষে গেছে অথচ অকপটে লিখেছেনও এমন নানা সত্য কথা। যেমন – হোটেলে খেয়ে টাকা না থাকার জন্য দৌড়ে পালিয়েছেন, কলেজে হোস্টেল ম্যানেজার নির্বাচিত হয়ে টাকা চুরি করেছেন, সে টাকা দিয়ে জুয়া খেলেছেন। (সম্পূর্ণ…)

`লেখার সময় মদ্য পান নয়’–উইলিয়াম ডালরিম্পল

মুহিত হাসান | ১৯ জুন ২০১৭ ১১:২৯ অপরাহ্ন

Dalrimple-1একাধিক আখ্যানধর্মী ইতিহাস ও ভ্রমণকাহিনিমূলক গ্রন্থ লিখে ইতিমধ্যেই বিশ্বজোড়া পরিচিত নাম উইলিয়াম ডালরিম্পল। এই স্কটিশ সন্তানের লেখালেখির জগতের পুরোটা জুড়েই রয়েছে প্রাচ্যের মানুষ ও তাঁদের সমাজ-ইতিহাস-রাজনীতি। প্রথম প্রথম তিনি শুধু ভ্রমণকাহিনি ও রাজনৈতিক কলামই লিখতেন। সুখপাঠ্য লেখনীর কারণে সেসব বেশ জনপ্রিয়ও হয়। কিন্তু তিনি পরে বিশিষ্ট হয়ে ওঠেন ঔপনিবেশিক ভারতের ইতিহাস বিষয়ে একাধিক বইয়ের রচয়িতা হিসেবে। বিরাটাকৃতির ‘হোয়াইট মোগলস’ ও ‘দ্য লাস্ট মোগল’ গ্রন্থদ্বয় তাঁকে খ্যাতি ও পাঠকপ্রিয়তার শীর্ষে তুলে দেয়। এরপর ভারতবর্ষের বিচিত্র নয় চরিত্র নিয়ে লেখা তাঁর বই ‘নাইন লাইভস’ ও প্রথম ইঙ্গ-আফগান যুদ্ধ নিয়ে লেখা বই ‘রিটার্ন অফ আ কিং’-ও বেশ সমাদর পেয়েছে। সমালোচকদের কাছ থেকেও গবেষণার গুণের জন্য প্রশংসা লাভ করেছেন তিনি।
তো কী করে উইলিয়াম ডালরিম্পল তাঁর এইসব বৃহদাকৃতির অথচ সুপাঠ্য পুস্তকসমূহ লিখে থাকেন? তাঁর অনুরাগী পাঠকদের মনে এমন প্রশ্ন জাগা অসম্ভব নয়। সম্ভবত এমন সব প্রশ্নের মুখোমুখি তাঁকে প্রায়ই হতে হয় দেখে সম্প্রতি তাঁর লেখালিখির নৈমিত্তিক রুটিন নিয়ে একটি কৌতুহলোদ্দীপক প্রবন্ধ লিখেছেন ডালরিম্পল। সেখানে তিনি জানাচ্ছেন, তাঁর লেখার রুটিন মূলত দুটো। কখন কোনটা বেছে নেবেন, তা নির্ভর করছে “কাগজে কলম বসাচ্ছি কি বসাচ্ছি না তার ওপর”। প্রতি চার বা পাঁচ বছরের সময়সীমায় তিনি মাত্র একটা বইই লেখেন। সেই একটা বই লিখতে সময় লাগে এক বছর। ‘নাইন লাইভস’ লিখতে তাঁর সবচেয়ে কম সময় লেগেছিল, মাত্র নয় মাস। আর সবচেয়ে বেশি সময় লেগেছিল(সবচেয়ে বেশি খাটনিও হয়েছিল) ‘ফ্রম দ্য হলি মাউন্টেন’ শীর্ষক ভ্রমণকাহিনিমূলক বইটা লিখতে, আঠারো মাস। (সম্পূর্ণ…)

ক্রিয়া-প্রতিক্রিয়ায় অরুন্ধতী রায়ের নতুন উপন্যাস

মুহিত হাসান | ১৪ জুন ২০১৭ ১১:৪৬ পূর্বাহ্ন

Author‘এলেন, দেখলেন, জয় করলেন’– আজ থেকে বিশ বছর আগে নিজের প্রথম উপন্যাস তথা প্রথম বই গড অফ স্মল থিংকস প্রকাশ পাবার পর অরুন্ধতী রায় এরকম প্রশংসাবাণীতেই ভেসে গিয়েছিলেন। মাত্র এক মাসের মধ্যে বইখানার চার লক্ষ কপি তখন বিক্রি হয়েছিল। সমালোচকদের বাহবাও জুটেছিল অফুরান। পরে অরুন্ধতী নিজের এই পয়লা উপন্যাস দিয়ে জয় করে নেন দুনিয়াখ্যাত বুকার প্রাইজ। কিন্তু কথাসাহিত্যের ক্ষেত্র থেকে তিনি যেন সরেই গিয়েছিলেন এরপর। এমন রাজকীয় অভিষেকের পর কেন তাঁর কলম থেকে বেরুচ্ছে না আরেকটা উপন্যাস–এই প্রশ্ন তাড়িয়ে ফিরেছে ভক্ত-পাঠকদেরও। অবশ্য লেখালেখি তাঁর থেমে থাকেনি, সামাজিক-রাজনৈতিক নানা ইস্যুতে ঝাঁঝালো-তর্কপ্রবণ প্রবন্ধ-নিবন্ধ-কলাম লিখেছেন প্রচুর। সেসব গদ্যলেখা এক করে বইও হয়েছে একাধিক। পাশাপাশি ঠোঁটকাটা অ্যাকটিভিস্ট হিসেবে আবির্ভূতও হয়েছেন ওইসব ঘটনা-প্রসঙ্গের পরিপ্রেক্ষিতে।
সুখবর হলো, কথাসাহিত্যের দুনিয়ায় বিশ বছর নীরব থাকার পর গত ৬ জুন অরুন্ধতী রায় হাজির হয়েছেন তাঁর দ্বিতীয় উপন্যাস দ্য মিনিস্ট্রি অফ আটমোস্ট হ্যাপিনেস নিয়ে। গত বছরের অক্টোবরে পেঙ্গুইন র‌্যান্ডম হাউজের তরফ থেকে বইটি আশু প্রকাশ্য এমন বিবৃতি আসা মাত্রই পাঠকদের মধ্যে আগ্রহ ও অপেক্ষার সূত্রপাত ঘটে। আগ্রহের আগুনে আরো ঘি পড়ে যখন পেঙ্গুইনের দুই প্রতিনিধি সিমন প্রসের ও মিরু গোখলে প্রকাশিতব্য বইটি সম্পর্কে বলেছিলেন : “এই বইটি প্রকাশ করতে পারাটা একইসাথে আনন্দের ও সম্মানের। কী অবিশ্বাস্যরকমের বই এটি–একাধিক স্তর থেকে; সাম্প্রতিককালে আমাদের পড়া নিখুঁত বইগুলোর একটি। এর লেখনী অসামান্য, সাথে চরিত্রগুলোও ঔদার্য ও সহানুভূতির সাথে জীবন্ত করে তোলা হয়েছে…”। তাঁরা আরো বলেছিলেন, বইটি আমাদের স্মরণ করিয়ে দেবে যে শব্দরাও জীবন্ত। অরুন্ধতী নিজের মন্তব্য ছিল এমন “ আমি এটা জানাতে পেরে খুশি যে উন্মাদ আত্মারা(এমনকি যাঁরা অসুস্থ তারাও) এই উপন্যাসের মাধ্যমে পৃথিবীর পথ খুঁজে পাবে, যেমন করে আমি পেয়েছি আমার প্রকাশককে।” আর তাঁর প্রকাশনা-এজেন্ট ডেভিড গুডউইনের প্রতিক্রিয়া ছিল উচ্ছ্বাসমুখর : “একমাত্র অরুন্ধতীই এই উপন্যাসটি লিখতে পারতেন। একদম খাঁটি। এটা নির্মিত হতে লেগেছে কুড়ি বছর, এবং এই অপেক্ষা সার্থক।” (সম্পূর্ণ…)

কবি শঙ্খ ঘোষ জ্ঞানপীঠ সম্মানে ভূষিত হলেন

রিমি মুৎসুদ্দি | ৩০ এপ্রিল ২০১৭ ১০:০৩ পূর্বাহ্ন

shankho‘এই তো জানু পেতে বসেছি, পশ্চিমে
আজ বসন্তের শূন্য হাত-
ধ্বংস করে দাও আমাকে যদি চাও
আমার সন্ততি স্বপ্নে থাক।’
‘বাবরের প্রার্থনা’ কবিতায় কবি শ্রী শঙ্খ ঘোষ চিরন্তন বাঙালির ‘আমার সন্তান যেন থাকে দুধেভাতে’ আর্তি তুলে ধরেছেন। বাংলা কবিতায় সমাজ ও সেই সমাজের মানুষের কথা ফুটে উঠেছে শ্রদ্ধেয় কবির কলমে। ভারতীয় সাহিত্যের সর্বোচ্চ পুরস্কার জ্ঞানপীঠ কবির হাতে তুলে দিলেন ভারতের রাষ্ট্রপতি শ্রী প্রণব মুখার্জী। রাজধানী নয়াদিল্লির পার্লামেন্ট লাইব্রেরি হলে সদ্য অনুষ্ঠিত জ্ঞানপীঠ পুরস্কার প্রদান অনুষ্ঠানে মাননীয় রাষ্ট্রপতি বলেন, ‘“রবীন্দ্র সাহিত্যের একনিষ্ঠ সাধক, গবেষক, বাংলা ভাষার অধ্যাপক কবি শ্রী শঙ্খ ঘোষ ভারতীয় সাহিত্যের বহুমুখী প্রতিভার প্রতিনিধি।” বাংলা সাহিত্যে ও বাংলা কবিতায় কবি শ্রী শঙ্খ ঘোষের অবদান এইভাবেই বর্ণনা করলেন মাননীয় রাষ্ট্রপতি। তিনি আরো বলেন, “শঙ্খ ঘোষের কবিতা সমস্ত বিতর্কবাদের উর্ধে দেশকালের কথা বলে। সময়ের ছাপ রেখে যায়।”
বাবরের প্রার্থনা কাব্যগ্রন্থের জন্য কবি শ্রী শঙ্খ ঘোষ ১৯৭৭ সালে সাহিত্য একাডেমী সম্মানে ভূষিত হন। কন্নড় ভাষার নাটক ‘তালেডানা’-র বাংলা অনুবাদ ‘রক্তকল্যাণ’ করে তিনি ১৯৯৯ সালে পুনরায় সাহিত্য একাডেমী সম্মানে ভূষিত হন। ২০১১ সালে কবিকে পদ্মভূষণ সম্মানে ভূষিত করা হয়। (সম্পূর্ণ…)

ম্যান বুকার ও ওবামা দম্পতির পাণ্ডুলিপি নিয়ে প্রকাশকদের কাড়াকাড়ি

মুহিত হাসান | ১৭ মার্চ ২০১৭ ১:২২ অপরাহ্ন

ম্যান বুকার ইন্টারন্যাশনাল প্রাইজের জন্য মনোনীত যাঁরা
চীনের কমিউনিজম নিয়ে ব্যঙ্গাত্মক বয়ান, আফ্রিকার পটভূমিতে রবিন হুড ঘরানার একটি গল্পের পুনর্কথন অথবা বিভক্ত জেরুজালেমে বেড়ে ওঠার গল্প– এ বছরের ম্যান বুকার ইন্টারন্যাশনাল প্রাইজের জন্য মনোনীত উপন্যাসগুলোর বিষয়বৈচিত্র্য দেখবার মতো বটে। সম্প্রতি বুকার কতৃর্পক্ষের প্রকাশ করা একটি ‘লংলিস্টে’ পাওয়া গেছে মোট বারো দেশের তেরোটি উপন্যাসের নাম। মোট আটটি উপন্যাসই অবশ্য মনোনীত হয়েছে ইউরোপ থেকে। এর বাইরে ইজরায়েলের দুটি এবং চীন, আর্জেন্টিনা ও আলবেনিয়ার একটি করে উপন্যাস স্থান পেয়েছে উপন্যাসের জন্য প্রদত্ত এই আন্তর্জাতিক পুরস্কারের মনোনয়ন তালিকায়।
&NCS_modified=20161221133400&MaxW=640&MaxH=427&AR-161229871আলবেনিয়ার সুবিখ্যাত কথাকার ইসমাইল কাদারে, যিনি কিনা আগে তাঁর তাবৎ সাহিত্যকর্মের জন্য ২০০৫ সালে ম্যান বুকার ইন্টারন্যাশনাল প্রাইজ পেয়েছিলেন(ওই বছরই আদতে এই মূল্যবান পুরস্কার প্রদানের শুরু)– এ বছর ফের মনোনীত হয়েছেন তাঁর নতুন উপন্যাস The Traitor’s Niche-এর জন্য। যার মূল চরিত্র অটোমান সাম্রজ্যের রাজদরবারের একজন দূত তথা বাহক, যার কাজ হলো সুলতানের ধৃত শত্রুদের শিরচ্ছেদের পর তাঁদের কাটা মন্ডু বহন করে নিয়ে চলা। (সম্পূর্ণ…)

সৃষ্টিশীলতাই উপমহাদেশের অভিন্নতা

রিমি মুৎসুদ্দি | ৩ মার্চ ২০১৭ ১১:১৬ পূর্বাহ্ন

Rimi-2সার্ক সাহিত্য উৎসবে বাংলাদেশের জাতিসত্তার কবি মুহম্মদ নূরুল হুদার সাথে আলাপচারিতায় উঠে এল উপমহাদেশীয়তা, South Asianism, পোস্টমডার্নিজম, মেটামডার্নিজম আরও বহু অজানা তথ্য। কবির নিজস্ব ভাষায়, “যাবতীয় দানবিক, বিমানবিক ও আণবিক প্রতিযোগিতা থেকে বেরিয়ে প্রতিটি মানুষকে তার সৃষ্টিশীল মানবিকতা ও মনোময়তার দিকে ফিরিয়ে নেবার প্রক্রিয়া শুরু করা প্রয়োজন। তারই একটি অভিব্যক্তি এই সার্ক সাহিত্য সম্মেলন। সৃষ্টিশীলতাই উপমহাদেশের অভিন্নতা।”

ভারত-পাক রাজনৈতিক টানাপড়েনে পাকিস্তান অংশগ্রহণ না করতে পারলেও এইবছর সার্ক সাহিত্য সম্মেলনে সংখ্যাধিক্য লক্ষ করার মত। ঢাকা, সিলেট, চট্টগ্রাম সহ বাংলাদেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে এসেছেন তরুণ ও প্রবীণ প্রজন্মের ২৬ জন কবি-সাহিত্যিক। এই দলে যেমন আছেন ষাটের দশকের প্রথিতযশা কবি-সাহিত্যিকবৃন্দ, তেমনি আছেন ২০০০-এর প্রথম দিকের নবীন কবি ও লেখকেরা। বাংলাদেশের জননন্দিত কথাসাহিত্যিক সেলিনা হোসেন, জাতিসত্তার কবি নূরুল হুদা, বরেণ্য নাট্যজন রামেন্দু মজুমদার, কবি মাহবুব সাদিক, কবি বিমল গুহ, কবি ফারুক মাহমুদ, কবি রুবানা হক, তরুণ কবি আশরাফ জুয়েল, কবি জাব্বার আল নাইম সহ এবারে মোট ২৬ জন অংশগ্রহণকারী ছিলেন বাংলাদেশ থেকে। ভারতের বাইরে এটিই বৃহত্তম প্রতিনিধি দল। (সম্পূর্ণ…)

সাম্প্রতিক বিশ্বসাহিত্য ও সংস্কৃতি: ট্রাম্পের জামানায় অরওয়েলের পুনরুত্থান

মুহিত হাসান | ১৩ ফেব্রুয়ারি ২০১৭ ৮:৪৪ অপরাহ্ন

trump_orwell-620x412এই বছরের জানুয়ারি মাসে ধনকুবের ডোনাল্ড ট্রাম্প যখন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টের চেয়ারে অবশেষে আনুষ্ঠানিকভাবে বসতে চলেছিলেন, তখন গোটা দুনিয়ার মানুষই উদগ্রীব হয়ে নানান বিদঘুটে ও ভয়ানক কাণ্ডকারখানা ঘটবার শঙ্কা প্রকাশ করেছিলেন। যথারীতি সেই শঙ্কা ভুল প্রমাণিত হয়নি। যেসব উদ্ভট অনুমান বা ভয়ানক গুজব বিতর্কিত ট্রাম্পকে ঘিরে বয়ে চলেছিল, সেসবের অনেকগুলোই তিনি অবিশ্বাস্য দ্রুততায় বাস্তবে পরিণত করেছেন।

তবে একটি অনুমান সম্ভবত কেউই করেননি, তা হলো ট্রাম্পের কারণে চৌষট্টি বছর পূর্বে প্রকাশিত ইংরেজ লেখক জর্জ অরওয়েলের ১৯৮৪ বা নাইন্টিন এইট্টি ফোর উপন্যাসটির বিক্রি হঠাৎই হুড়মুড়িয়ে বৃদ্ধি পাবে। অরওয়েলের এই সুবিখ্যাত চিরায়ত ডিসটোপিয়ান উপন্যাসে একটি সর্বগ্রাসী স্বৈরাচারী দেশের আখ্যান বর্ণিত হয়েছিল, যেখানে কিনা সবকিছুই নিয়ন্ত্রিত হয় ‘বিগ ব্রাদার’-এর দ্বারা আর সর্বত্রই ঝুলছে সাবধানবাণী সম্বলিত পোস্টার ‘বিগ ব্রাদার ইজ ওয়াচিং ইউ’। ফলত বাকস্বাধীনতা সেখানে বিসর্জিত ও আপত্তিকর এক বস্তু হিসেবে গণ্য হয়। উপন্যাসটিতে বর্ণিত ওই পরিস্থিতির সাথে ট্রাম্পের ‘স্বপ্নের’(!) কর্তৃত্বপরায়ণ, বৈষম্যবাদী ও নজরদারিময় মার্কিন মুলুকের যে খুব মিল রয়েছে, সে তো বলাই বাহুল্য। (সম্পূর্ণ…)

শঙ্খ ঘোষের জন্মবার্ষিকী : ‘কাল থেকে রোজই আমার জন্মদিন’

মুহিত হাসান | ৫ ফেব্রুয়ারি ২০১৭ ২:৪০ অপরাহ্ন

Shonkhoআলোকচিত্র: রাজু আলাউদ্দিন

আজ বাংলা ভাষার প্রধানতম কবি ও গদ্যকার শঙ্খ ঘোষের ছিয়াশিতম জন্মদিন। ১৯৩২ সালের পাঁচই ফেব্রুয়ারি তিনি বাংলাদেশের চাঁদপুরে জন্মগ্রহণ করেন। এই শুভদিন উপলক্ষ্যে তাঁর গুণগ্রাহী ও স্নেহধন্য তিন লেখক—কথাশিল্পী হাসান আজিজুল হক, প্রাবন্ধিক-অর্থনীতিবিদ সনৎকুমার সাহা ও কবি-গদ্যকার মোহাম্মদ রফিকের তিনটি সংক্ষিপ্ত তাৎক্ষণিক শ্রদ্ধালেখ মুদ্রিত হলো। তাদের তাৎক্ষণিক শুভেচ্ছাবার্তাগুলোর শ্রুতিলিখন করেছেন তরুণ লেখক মুহিত হাসান। বি. স.

হাসান আজিজুল হক
border=0

তিনি শতবর্ষী হোন

শঙ্খ ঘোষ, আমাদের সকলের প্রিয় শঙ্খদা, ছিয়াশিতে পা দিলেন, এই খবরটি নির্দিষ্টভাবে জানার পর— শ্রদ্ধা, ভালোবাসা ও সর্বোপরি তাঁর প্রতি মুগ্ধতা প্রকাশ করার মতোন যথোপযুক্ত ভাষা আমার আয়ত্তে নেই। এই সময়ের বাঙালি কবিদের মধ্যে তাঁকেই আমি শ্রেষ্ঠতার আসন অনেক আগেই দিয়ে বসে আছি। আমি মানুষ শঙ্খদা ও কবি শঙ্খ ঘোষকে তাঁর জন্মদিন উপলক্ষে আবার আমার সর্বোচ্চ শ্রদ্ধা জানাতে চাই।

শঙ্খদার প্রতিভা, তুলনাহীন তো বটেই, আমি বলবো, তিনি উচ্চতার যে শিখরে পৌঁছেছেন, তাতে তাঁকে দুর্নিরিক্ষ্য বলেই মনে হতে পারে। কিন্তু, তিনি নেমে আসেন সকলের সঙ্গে, বিপদে-আপদে। প্রতিভার এরকম নিরহংকার প্রকাশ আর আমি দেখিনি। কবি হিসেবে যেমন তিনি আজ আমাদের সকলের কাছে এসে পড়েছেন তেমনিই এক এক সময় মনে হয় তিনি অতি দূরের নক্ষত্র। তাঁর আলো এসে পৌঁছুচ্ছে আমাদের কাছে প্রতি মুহূর্তে, প্রতিক্ষণে। (সম্পূর্ণ…)

বিশ্বসাহিত্য ও সংস্কৃতি: ওবামা চিত্র ও সংকটে বিস্ময়ে “Surreal”

রেশমী নন্দী | ৩০ december ২০১৬ ৯:৪০ অপরাহ্ন

Obamaঅনেকের অনেক হিসেবনিকেশ উল্টাপাল্টা করে দিয়ে আমেরিকার প্রেসিডেন্ট হয়ে গেলেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। ওবামা প্রশাসনের বিদায়ের দিনও খুব কাছেই, ২১ জানুয়ারী ২০১৭। এরই মধ্যেই হয়তো তৈরি হয়ে গেছে তাঁর বিদায় ভাষণও। অন্যদিকে, নিউ ইয়র্কের শিল্পী রব প্রুইটের কাজও প্রায় শেষের দিকে। ২০০৯ সালে বারাক ওবামা ক্ষমতা গ্রহণের পর থেকেই তাঁর দিনযাপনের নানা মুহূর্ত এঁকেছেন মার্কিন এই পপ আর্টিস্ট। দুই মেয়াদে আট বছর শাসনামলে বারাক ওবামার দিনযাপনের মুহূর্তগুলো প্রায় ৩ হাজার লাল নীল রঙের আলোকাভরণে ধরে রাখছেন এই শিল্পী। বিভিন্ন মাধ্যমে প্রকাশিত এসব ছবির সংকলন একদিকে যেমন প্রেসিডেন্ট ওবামার আনন্দময় স্মরণ, অন্যদিকে অসাধারণ এক রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বের প্রতি ভালবাসার প্রকাশও। নানা পরিবেশে নানা ভঙ্গি ফুটে আছে এসব ছবিগুলোয়- কোথাও বক্তৃতা দিচ্ছেন, কোথাও কাজে ব্যস্ত তিনি, রয়েছে গলফ খেলার মুহূর্ত, সন্তানের সাথে সময় কাটানোর দৃশ্য, স্ত্রীর সাথে নাচের মুহূর্ত। এর মধ্যে অনেক ছবিই উপস্থাপিত হয়েছিল ডেট্রোয়টে “Museum of Contemporary Art”-এ। তবে প্রুইট বলছেন, কোন বিশেষ মুহূর্তকে মূর্ত করে তুলতে নয়, বরং সময় কিংবা সূত্র বিবেচনায় না এনে সামগ্রিকভাবে একজন মানুষের নানা অভিব্যক্তিই তুলে আনতে চেয়েছেন তিনি। “আমি চাই প্রত্যেকটি দিন এমন কিছু একটা ফুটিয়ে তুলুক যার ফলে ছবিগুলো দেখলেই এর মাধ্যমে আমরা যে জগতকে চিনি কিংবা চিনি না তা জানান দেবে।” (সম্পূর্ণ…)

সাম্প্রতিক বিশ্বসাহিত্য : যন্ত্রের পেটে ছোটগল্প

রেশমী নন্দী | ১৮ december ২০১৬ ৮:৩৩ পূর্বাহ্ন

storyস্বয়ংক্রিয় যন্ত্রের পেট ভর্তি ছোটগল্প। বোতাম টিপে বের করে পড়ে নিলেই হলো। ফ্রান্সের ট্রেন অপারেটর SNCF স্টেশনে আপনার অপেক্ষা করার সময়টুকু নষ্ট না করে ঘুরিয়ে নিয়ে আসতে পারবে সাহিত্যের ভুবনে। সম্পূর্ণ বিনা খরচে কেবল বোতাম টিপে যে কেউ একটা ছোটগল্প বের করে চট করে পড়ে নিতে পারবেন এখানে। ক্ল্যাসিক বা মডার্ণ এমনকি রূপকথার গল্পও মিলবে এই যন্ত্রের পেটে। মজার এই যন্ত্রে তিনটি বোতাম রয়েছে ১, ৩ কিংবা ৫ মিনিট সময় নির্দেশ করে। অর্থাৎ পাঠক কতটুকু সময় দিতে চান এর পিছনে, সেটা ঠিক করারও সুযোগ আছে। গতবছর গোনবেল ( Grenoble )-এ সফল শুরুর পর এ বছর অন্তত ৩৫টি ষ্টেশনে “এমন গল্প পেটে ঢোকানো” যন্ত্র বসানো হবে বলে জানিয়েছেন SNCF। এ ছোটগল্প মানুষকে পড়ানোর প্রকল্প পরিচালনা করছে “Short Edition”। ২০১৩ সালে ‘লেখকের জাতি’ হিসেবে ফরাসিদের খেতাব মিলেছিল এ তথ্যের ভিত্তিতে যে, সে দেশের ১৭ ভাগ জনগন লেখালেখি করে। অবশ্য বেশিরভাগই থেকে যায় অপ্রকাশিত। আর তাই এমন যন্ত্রের ব্যবস্থা সে দেশে পাঠকের পাশাপাশি নবীন লেখকদেরও ভরসার জায়গা হয়ে উঠবে নিঃসন্দেহে। এরই মধ্যে তাঁদের কাছে ৫ হাজারেরও বেশি অজ্ঞাতনামা লেখকের লেখা জমা পড়েছে। এমনকি স্মার্ট ফোনের যুগে কাগুজে পদ্ধতিও ব্যাপক সাড়া ফেলেছে। মাত্র ছমাসে একটি মেশিন থেকেই অন্তত ১ লাখ গল্প পড়েছে ট্রেন যাত্রীরা। এরই মধ্যে চলচ্চিত্র পরিচালক ফ্রান্সিস ফোর্ড কোপোলা ঘোষণা দিয়ে ফেলেছেন, সান ফ্রান্সিসকোতে তাঁর পানশালাতেও এমন একটা যন্ত্র বসাবেন। (সম্পূর্ণ…)

জ্যাক লন্ডনের দুষ্প্রাপ্য ছবি

রেশমী নন্দী | ২৪ নভেম্বর ২০১৬ ১০:৩৪ পূর্বাহ্ন

London আলোকচিত্র: ১৯০৬ সালে জ্যাক লন্ডন সান ফ্রান্সিস্কো উপসাগরের তীরে ছবি তুলছেন।

বিখ্যাত সাহিত্যিক জ্যাক লন্ডনের অনেক লেখায় পাওয়া যায় তাঁর বিচিত্র জীবনের ছায়া। তবে আলোকচিত্রী হিসেবে তাঁর দক্ষতা খুব বেশি মানুষের দেখার সৌভাগ্য হয়নি। লেখালেখির মতো সমান দক্ষতায় জীবনের বিচিত্র অভিজ্ঞতাকে তিনি ধারণ করে রেখেছেন তাঁর তোলা অনবদ্য কিছু ছবিতে। তাঁর দুঃসাহসী জীবনাচারণ সেই সাথে সংবাদদাতা হিসেবে তাঁর কাজের পরিধি-সবমিলিয়ে বিশ শতকের গোড়ার দিককার জীবনের অসাধারণ প্রতিচ্ছবি এসব আলোকচিত্র।
The Call of the Wild-এর মতো উপন্যাসের জন্য তিনি বিখ্যাত, যার উপজীব্য তাঁরই দুঃসাহসী অভিযান, পর্বতারোহন কিংবা দক্ষিণ প্রশান্ত মহাসাগরে পাড়ি দেবার অভিজ্ঞতা। আর্নেষ্ট হেমিংওয়ের আগ পর্যন্ত তিনিই ছিলেন পৌরুষদীপ্ত লেখকের আর্দশ । তিনি একাধারে ছিলেন একজন সমাজবিজ্ঞানী, ভবঘুরে, নাবিক, যুদ্ধ সংবাদদাতা এবং “ওয়েষ্টার পায়রেট”। তাঁর প্রপৌত্রী টারনেল এ্যাবোটের ভাষ্য অনুযায়ী, অন্যদের ধরা ঝিনুক চুরি করতে গিয়ে জীবনের ঝুঁকি নিতেও দ্বিধা করেন নি। উনিশ শতকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পশ্চিম ও পূর্ব উপকূলে এ ধরনের দস্যুবৃত্তি হতো সমানে। জ্যাক লন্ডনের ছোট গল্প “What Life Means to Me”তেও এর বর্ণনা পাওয়া যায়। পরে অবশ্য এসব ছেড়েছুড়ে দেন তিনি। (সম্পূর্ণ…)

পরের পাতা »

Disclaimer & Privacy Policy  |  About us  |  Contact us

© bdnews24.com