সাহিত্য সংবাদ

কবি শঙ্খ ঘোষ জ্ঞানপীঠ সম্মানে ভূষিত হলেন

রিমি মুৎসুদ্দি | ৩০ এপ্রিল ২০১৭ ১০:০৩ পূর্বাহ্ন

shankho‘এই তো জানু পেতে বসেছি, পশ্চিমে
আজ বসন্তের শূন্য হাত-
ধ্বংস করে দাও আমাকে যদি চাও
আমার সন্ততি স্বপ্নে থাক।’
‘বাবরের প্রার্থনা’ কবিতায় কবি শ্রী শঙ্খ ঘোষ চিরন্তন বাঙালির ‘আমার সন্তান যেন থাকে দুধেভাতে’ আর্তি তুলে ধরেছেন। বাংলা কবিতায় সমাজ ও সেই সমাজের মানুষের কথা ফুটে উঠেছে শ্রদ্ধেয় কবির কলমে। ভারতীয় সাহিত্যের সর্বোচ্চ পুরস্কার জ্ঞানপীঠ কবির হাতে তুলে দিলেন ভারতের রাষ্ট্রপতি শ্রী প্রণব মুখার্জী। রাজধানী নয়াদিল্লির পার্লামেন্ট লাইব্রেরি হলে সদ্য অনুষ্ঠিত জ্ঞানপীঠ পুরস্কার প্রদান অনুষ্ঠানে মাননীয় রাষ্ট্রপতি বলেন, ‘“রবীন্দ্র সাহিত্যের একনিষ্ঠ সাধক, গবেষক, বাংলা ভাষার অধ্যাপক কবি শ্রী শঙ্খ ঘোষ ভারতীয় সাহিত্যের বহুমুখী প্রতিভার প্রতিনিধি।” বাংলা সাহিত্যে ও বাংলা কবিতায় কবি শ্রী শঙ্খ ঘোষের অবদান এইভাবেই বর্ণনা করলেন মাননীয় রাষ্ট্রপতি। তিনি আরো বলেন, “শঙ্খ ঘোষের কবিতা সমস্ত বিতর্কবাদের উর্ধে দেশকালের কথা বলে। সময়ের ছাপ রেখে যায়।”
বাবরের প্রার্থনা কাব্যগ্রন্থের জন্য কবি শ্রী শঙ্খ ঘোষ ১৯৭৭ সালে সাহিত্য একাডেমী সম্মানে ভূষিত হন। কন্নড় ভাষার নাটক ‘তালেডানা’-র বাংলা অনুবাদ ‘রক্তকল্যাণ’ করে তিনি ১৯৯৯ সালে পুনরায় সাহিত্য একাডেমী সম্মানে ভূষিত হন। ২০১১ সালে কবিকে পদ্মভূষণ সম্মানে ভূষিত করা হয়। (সম্পূর্ণ…)

ম্যান বুকার ও ওবামা দম্পতির পাণ্ডুলিপি নিয়ে প্রকাশকদের কাড়াকাড়ি

মুহিত হাসান | ১৭ মার্চ ২০১৭ ১:২২ অপরাহ্ন

ম্যান বুকার ইন্টারন্যাশনাল প্রাইজের জন্য মনোনীত যাঁরা
চীনের কমিউনিজম নিয়ে ব্যঙ্গাত্মক বয়ান, আফ্রিকার পটভূমিতে রবিন হুড ঘরানার একটি গল্পের পুনর্কথন অথবা বিভক্ত জেরুজালেমে বেড়ে ওঠার গল্প– এ বছরের ম্যান বুকার ইন্টারন্যাশনাল প্রাইজের জন্য মনোনীত উপন্যাসগুলোর বিষয়বৈচিত্র্য দেখবার মতো বটে। সম্প্রতি বুকার কতৃর্পক্ষের প্রকাশ করা একটি ‘লংলিস্টে’ পাওয়া গেছে মোট বারো দেশের তেরোটি উপন্যাসের নাম। মোট আটটি উপন্যাসই অবশ্য মনোনীত হয়েছে ইউরোপ থেকে। এর বাইরে ইজরায়েলের দুটি এবং চীন, আর্জেন্টিনা ও আলবেনিয়ার একটি করে উপন্যাস স্থান পেয়েছে উপন্যাসের জন্য প্রদত্ত এই আন্তর্জাতিক পুরস্কারের মনোনয়ন তালিকায়।
&NCS_modified=20161221133400&MaxW=640&MaxH=427&AR-161229871আলবেনিয়ার সুবিখ্যাত কথাকার ইসমাইল কাদারে, যিনি কিনা আগে তাঁর তাবৎ সাহিত্যকর্মের জন্য ২০০৫ সালে ম্যান বুকার ইন্টারন্যাশনাল প্রাইজ পেয়েছিলেন(ওই বছরই আদতে এই মূল্যবান পুরস্কার প্রদানের শুরু)– এ বছর ফের মনোনীত হয়েছেন তাঁর নতুন উপন্যাস The Traitor’s Niche-এর জন্য। যার মূল চরিত্র অটোমান সাম্রজ্যের রাজদরবারের একজন দূত তথা বাহক, যার কাজ হলো সুলতানের ধৃত শত্রুদের শিরচ্ছেদের পর তাঁদের কাটা মন্ডু বহন করে নিয়ে চলা। (সম্পূর্ণ…)

সৃষ্টিশীলতাই উপমহাদেশের অভিন্নতা

রিমি মুৎসুদ্দি | ৩ মার্চ ২০১৭ ১১:১৬ পূর্বাহ্ন

Rimi-2সার্ক সাহিত্য উৎসবে বাংলাদেশের জাতিসত্তার কবি মুহম্মদ নূরুল হুদার সাথে আলাপচারিতায় উঠে এল উপমহাদেশীয়তা, South Asianism, পোস্টমডার্নিজম, মেটামডার্নিজম আরও বহু অজানা তথ্য। কবির নিজস্ব ভাষায়, “যাবতীয় দানবিক, বিমানবিক ও আণবিক প্রতিযোগিতা থেকে বেরিয়ে প্রতিটি মানুষকে তার সৃষ্টিশীল মানবিকতা ও মনোময়তার দিকে ফিরিয়ে নেবার প্রক্রিয়া শুরু করা প্রয়োজন। তারই একটি অভিব্যক্তি এই সার্ক সাহিত্য সম্মেলন। সৃষ্টিশীলতাই উপমহাদেশের অভিন্নতা।”

ভারত-পাক রাজনৈতিক টানাপড়েনে পাকিস্তান অংশগ্রহণ না করতে পারলেও এইবছর সার্ক সাহিত্য সম্মেলনে সংখ্যাধিক্য লক্ষ করার মত। ঢাকা, সিলেট, চট্টগ্রাম সহ বাংলাদেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে এসেছেন তরুণ ও প্রবীণ প্রজন্মের ২৬ জন কবি-সাহিত্যিক। এই দলে যেমন আছেন ষাটের দশকের প্রথিতযশা কবি-সাহিত্যিকবৃন্দ, তেমনি আছেন ২০০০-এর প্রথম দিকের নবীন কবি ও লেখকেরা। বাংলাদেশের জননন্দিত কথাসাহিত্যিক সেলিনা হোসেন, জাতিসত্তার কবি নূরুল হুদা, বরেণ্য নাট্যজন রামেন্দু মজুমদার, কবি মাহবুব সাদিক, কবি বিমল গুহ, কবি ফারুক মাহমুদ, কবি রুবানা হক, তরুণ কবি আশরাফ জুয়েল, কবি জাব্বার আল নাইম সহ এবারে মোট ২৬ জন অংশগ্রহণকারী ছিলেন বাংলাদেশ থেকে। ভারতের বাইরে এটিই বৃহত্তম প্রতিনিধি দল। (সম্পূর্ণ…)

সাম্প্রতিক বিশ্বসাহিত্য ও সংস্কৃতি: ট্রাম্পের জামানায় অরওয়েলের পুনরুত্থান

মুহিত হাসান | ১৩ ফেব্রুয়ারি ২০১৭ ৮:৪৪ অপরাহ্ন

trump_orwell-620x412এই বছরের জানুয়ারি মাসে ধনকুবের ডোনাল্ড ট্রাম্প যখন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টের চেয়ারে অবশেষে আনুষ্ঠানিকভাবে বসতে চলেছিলেন, তখন গোটা দুনিয়ার মানুষই উদগ্রীব হয়ে নানান বিদঘুটে ও ভয়ানক কাণ্ডকারখানা ঘটবার শঙ্কা প্রকাশ করেছিলেন। যথারীতি সেই শঙ্কা ভুল প্রমাণিত হয়নি। যেসব উদ্ভট অনুমান বা ভয়ানক গুজব বিতর্কিত ট্রাম্পকে ঘিরে বয়ে চলেছিল, সেসবের অনেকগুলোই তিনি অবিশ্বাস্য দ্রুততায় বাস্তবে পরিণত করেছেন।

তবে একটি অনুমান সম্ভবত কেউই করেননি, তা হলো ট্রাম্পের কারণে চৌষট্টি বছর পূর্বে প্রকাশিত ইংরেজ লেখক জর্জ অরওয়েলের ১৯৮৪ বা নাইন্টিন এইট্টি ফোর উপন্যাসটির বিক্রি হঠাৎই হুড়মুড়িয়ে বৃদ্ধি পাবে। অরওয়েলের এই সুবিখ্যাত চিরায়ত ডিসটোপিয়ান উপন্যাসে একটি সর্বগ্রাসী স্বৈরাচারী দেশের আখ্যান বর্ণিত হয়েছিল, যেখানে কিনা সবকিছুই নিয়ন্ত্রিত হয় ‘বিগ ব্রাদার’-এর দ্বারা আর সর্বত্রই ঝুলছে সাবধানবাণী সম্বলিত পোস্টার ‘বিগ ব্রাদার ইজ ওয়াচিং ইউ’। ফলত বাকস্বাধীনতা সেখানে বিসর্জিত ও আপত্তিকর এক বস্তু হিসেবে গণ্য হয়। উপন্যাসটিতে বর্ণিত ওই পরিস্থিতির সাথে ট্রাম্পের ‘স্বপ্নের’(!) কর্তৃত্বপরায়ণ, বৈষম্যবাদী ও নজরদারিময় মার্কিন মুলুকের যে খুব মিল রয়েছে, সে তো বলাই বাহুল্য। (সম্পূর্ণ…)

শঙ্খ ঘোষের জন্মবার্ষিকী : ‘কাল থেকে রোজই আমার জন্মদিন’

মুহিত হাসান | ৫ ফেব্রুয়ারি ২০১৭ ২:৪০ অপরাহ্ন

Shonkhoআলোকচিত্র: রাজু আলাউদ্দিন

আজ বাংলা ভাষার প্রধানতম কবি ও গদ্যকার শঙ্খ ঘোষের ছিয়াশিতম জন্মদিন। ১৯৩২ সালের পাঁচই ফেব্রুয়ারি তিনি বাংলাদেশের চাঁদপুরে জন্মগ্রহণ করেন। এই শুভদিন উপলক্ষ্যে তাঁর গুণগ্রাহী ও স্নেহধন্য তিন লেখক—কথাশিল্পী হাসান আজিজুল হক, প্রাবন্ধিক-অর্থনীতিবিদ সনৎকুমার সাহা ও কবি-গদ্যকার মোহাম্মদ রফিকের তিনটি সংক্ষিপ্ত তাৎক্ষণিক শ্রদ্ধালেখ মুদ্রিত হলো। তাদের তাৎক্ষণিক শুভেচ্ছাবার্তাগুলোর শ্রুতিলিখন করেছেন তরুণ লেখক মুহিত হাসান। বি. স.

হাসান আজিজুল হক
border=0

তিনি শতবর্ষী হোন

শঙ্খ ঘোষ, আমাদের সকলের প্রিয় শঙ্খদা, ছিয়াশিতে পা দিলেন, এই খবরটি নির্দিষ্টভাবে জানার পর— শ্রদ্ধা, ভালোবাসা ও সর্বোপরি তাঁর প্রতি মুগ্ধতা প্রকাশ করার মতোন যথোপযুক্ত ভাষা আমার আয়ত্তে নেই। এই সময়ের বাঙালি কবিদের মধ্যে তাঁকেই আমি শ্রেষ্ঠতার আসন অনেক আগেই দিয়ে বসে আছি। আমি মানুষ শঙ্খদা ও কবি শঙ্খ ঘোষকে তাঁর জন্মদিন উপলক্ষে আবার আমার সর্বোচ্চ শ্রদ্ধা জানাতে চাই।

শঙ্খদার প্রতিভা, তুলনাহীন তো বটেই, আমি বলবো, তিনি উচ্চতার যে শিখরে পৌঁছেছেন, তাতে তাঁকে দুর্নিরিক্ষ্য বলেই মনে হতে পারে। কিন্তু, তিনি নেমে আসেন সকলের সঙ্গে, বিপদে-আপদে। প্রতিভার এরকম নিরহংকার প্রকাশ আর আমি দেখিনি। কবি হিসেবে যেমন তিনি আজ আমাদের সকলের কাছে এসে পড়েছেন তেমনিই এক এক সময় মনে হয় তিনি অতি দূরের নক্ষত্র। তাঁর আলো এসে পৌঁছুচ্ছে আমাদের কাছে প্রতি মুহূর্তে, প্রতিক্ষণে। (সম্পূর্ণ…)

বিশ্বসাহিত্য ও সংস্কৃতি: ওবামা চিত্র ও সংকটে বিস্ময়ে “Surreal”

রেশমী নন্দী | ৩০ december ২০১৬ ৯:৪০ অপরাহ্ন

Obamaঅনেকের অনেক হিসেবনিকেশ উল্টাপাল্টা করে দিয়ে আমেরিকার প্রেসিডেন্ট হয়ে গেলেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। ওবামা প্রশাসনের বিদায়ের দিনও খুব কাছেই, ২১ জানুয়ারী ২০১৭। এরই মধ্যেই হয়তো তৈরি হয়ে গেছে তাঁর বিদায় ভাষণও। অন্যদিকে, নিউ ইয়র্কের শিল্পী রব প্রুইটের কাজও প্রায় শেষের দিকে। ২০০৯ সালে বারাক ওবামা ক্ষমতা গ্রহণের পর থেকেই তাঁর দিনযাপনের নানা মুহূর্ত এঁকেছেন মার্কিন এই পপ আর্টিস্ট। দুই মেয়াদে আট বছর শাসনামলে বারাক ওবামার দিনযাপনের মুহূর্তগুলো প্রায় ৩ হাজার লাল নীল রঙের আলোকাভরণে ধরে রাখছেন এই শিল্পী। বিভিন্ন মাধ্যমে প্রকাশিত এসব ছবির সংকলন একদিকে যেমন প্রেসিডেন্ট ওবামার আনন্দময় স্মরণ, অন্যদিকে অসাধারণ এক রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বের প্রতি ভালবাসার প্রকাশও। নানা পরিবেশে নানা ভঙ্গি ফুটে আছে এসব ছবিগুলোয়- কোথাও বক্তৃতা দিচ্ছেন, কোথাও কাজে ব্যস্ত তিনি, রয়েছে গলফ খেলার মুহূর্ত, সন্তানের সাথে সময় কাটানোর দৃশ্য, স্ত্রীর সাথে নাচের মুহূর্ত। এর মধ্যে অনেক ছবিই উপস্থাপিত হয়েছিল ডেট্রোয়টে “Museum of Contemporary Art”-এ। তবে প্রুইট বলছেন, কোন বিশেষ মুহূর্তকে মূর্ত করে তুলতে নয়, বরং সময় কিংবা সূত্র বিবেচনায় না এনে সামগ্রিকভাবে একজন মানুষের নানা অভিব্যক্তিই তুলে আনতে চেয়েছেন তিনি। “আমি চাই প্রত্যেকটি দিন এমন কিছু একটা ফুটিয়ে তুলুক যার ফলে ছবিগুলো দেখলেই এর মাধ্যমে আমরা যে জগতকে চিনি কিংবা চিনি না তা জানান দেবে।” (সম্পূর্ণ…)

সাম্প্রতিক বিশ্বসাহিত্য : যন্ত্রের পেটে ছোটগল্প

রেশমী নন্দী | ১৮ december ২০১৬ ৮:৩৩ পূর্বাহ্ন

storyস্বয়ংক্রিয় যন্ত্রের পেট ভর্তি ছোটগল্প। বোতাম টিপে বের করে পড়ে নিলেই হলো। ফ্রান্সের ট্রেন অপারেটর SNCF স্টেশনে আপনার অপেক্ষা করার সময়টুকু নষ্ট না করে ঘুরিয়ে নিয়ে আসতে পারবে সাহিত্যের ভুবনে। সম্পূর্ণ বিনা খরচে কেবল বোতাম টিপে যে কেউ একটা ছোটগল্প বের করে চট করে পড়ে নিতে পারবেন এখানে। ক্ল্যাসিক বা মডার্ণ এমনকি রূপকথার গল্পও মিলবে এই যন্ত্রের পেটে। মজার এই যন্ত্রে তিনটি বোতাম রয়েছে ১, ৩ কিংবা ৫ মিনিট সময় নির্দেশ করে। অর্থাৎ পাঠক কতটুকু সময় দিতে চান এর পিছনে, সেটা ঠিক করারও সুযোগ আছে। গতবছর গোনবেল ( Grenoble )-এ সফল শুরুর পর এ বছর অন্তত ৩৫টি ষ্টেশনে “এমন গল্প পেটে ঢোকানো” যন্ত্র বসানো হবে বলে জানিয়েছেন SNCF। এ ছোটগল্প মানুষকে পড়ানোর প্রকল্প পরিচালনা করছে “Short Edition”। ২০১৩ সালে ‘লেখকের জাতি’ হিসেবে ফরাসিদের খেতাব মিলেছিল এ তথ্যের ভিত্তিতে যে, সে দেশের ১৭ ভাগ জনগন লেখালেখি করে। অবশ্য বেশিরভাগই থেকে যায় অপ্রকাশিত। আর তাই এমন যন্ত্রের ব্যবস্থা সে দেশে পাঠকের পাশাপাশি নবীন লেখকদেরও ভরসার জায়গা হয়ে উঠবে নিঃসন্দেহে। এরই মধ্যে তাঁদের কাছে ৫ হাজারেরও বেশি অজ্ঞাতনামা লেখকের লেখা জমা পড়েছে। এমনকি স্মার্ট ফোনের যুগে কাগুজে পদ্ধতিও ব্যাপক সাড়া ফেলেছে। মাত্র ছমাসে একটি মেশিন থেকেই অন্তত ১ লাখ গল্প পড়েছে ট্রেন যাত্রীরা। এরই মধ্যে চলচ্চিত্র পরিচালক ফ্রান্সিস ফোর্ড কোপোলা ঘোষণা দিয়ে ফেলেছেন, সান ফ্রান্সিসকোতে তাঁর পানশালাতেও এমন একটা যন্ত্র বসাবেন। (সম্পূর্ণ…)

জ্যাক লন্ডনের দুষ্প্রাপ্য ছবি

রেশমী নন্দী | ২৪ নভেম্বর ২০১৬ ১০:৩৪ পূর্বাহ্ন

London আলোকচিত্র: ১৯০৬ সালে জ্যাক লন্ডন সান ফ্রান্সিস্কো উপসাগরের তীরে ছবি তুলছেন।

বিখ্যাত সাহিত্যিক জ্যাক লন্ডনের অনেক লেখায় পাওয়া যায় তাঁর বিচিত্র জীবনের ছায়া। তবে আলোকচিত্রী হিসেবে তাঁর দক্ষতা খুব বেশি মানুষের দেখার সৌভাগ্য হয়নি। লেখালেখির মতো সমান দক্ষতায় জীবনের বিচিত্র অভিজ্ঞতাকে তিনি ধারণ করে রেখেছেন তাঁর তোলা অনবদ্য কিছু ছবিতে। তাঁর দুঃসাহসী জীবনাচারণ সেই সাথে সংবাদদাতা হিসেবে তাঁর কাজের পরিধি-সবমিলিয়ে বিশ শতকের গোড়ার দিককার জীবনের অসাধারণ প্রতিচ্ছবি এসব আলোকচিত্র।
The Call of the Wild-এর মতো উপন্যাসের জন্য তিনি বিখ্যাত, যার উপজীব্য তাঁরই দুঃসাহসী অভিযান, পর্বতারোহন কিংবা দক্ষিণ প্রশান্ত মহাসাগরে পাড়ি দেবার অভিজ্ঞতা। আর্নেষ্ট হেমিংওয়ের আগ পর্যন্ত তিনিই ছিলেন পৌরুষদীপ্ত লেখকের আর্দশ । তিনি একাধারে ছিলেন একজন সমাজবিজ্ঞানী, ভবঘুরে, নাবিক, যুদ্ধ সংবাদদাতা এবং “ওয়েষ্টার পায়রেট”। তাঁর প্রপৌত্রী টারনেল এ্যাবোটের ভাষ্য অনুযায়ী, অন্যদের ধরা ঝিনুক চুরি করতে গিয়ে জীবনের ঝুঁকি নিতেও দ্বিধা করেন নি। উনিশ শতকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পশ্চিম ও পূর্ব উপকূলে এ ধরনের দস্যুবৃত্তি হতো সমানে। জ্যাক লন্ডনের ছোট গল্প “What Life Means to Me”তেও এর বর্ণনা পাওয়া যায়। পরে অবশ্য এসব ছেড়েছুড়ে দেন তিনি। (সম্পূর্ণ…)

ক্রিস্টোফার মার্লো শেক্সপিয়রের সহ-লেখক ছিলেন!

বিপাশা চক্রবর্তী | ৩ নভেম্বর ২০১৬ ৬:২২ অপরাহ্ন

Marloতর্কটা অনেক দিনের। এর বিস্তারও কম নয়। বহুলেখক-গবেষকের পর্যবেক্ষণ, ব্যাখ্যা ও বিশ্লেষনের ডালপালায় তর্কটি বিস্তার লাভ করেছে। তর্কের উৎসে প্রাণ সঞ্চার করেছে মূলত এই তথ্য যে ক্রিস্টোফার মার্লো ছিলেন শেক্সপিয়রের সমসাময়িক, তারচেয়েও বড় কথা তারা বন্ধু ছিলেন। দুজনই ছিলেন নাটকের অভিন্ন জগতের বাসিন্দা। কিন্তু অভিন্ন জগতের বাসিন্দাতো বেন জনসনও ছিলেন, কিন্তু শেক্সপিয়রের সাথে তাকে জড়িয়ে এই তর্কটা তৈরি হয়নি, হলো মার্লোকে নিয়েই। এর কারণও আছে। কারণগুলো ইঙ্গিত ইতিমধ্যেই বহু গবেষকের আলোচনায় উঠে এসেছে। সম্প্রতি অক্সফোর্ড ইউনিভার্সিটি প্রেস শীঘ্রই শেক্সপিয়রের নাটকগুলি নিয়ে একটি নতুন সমালোচনামূলক সংস্করণ প্রকাশ করতে যাচ্ছে। সেই সংস্করণটির নাম দা নিউ অক্সফোর্ড শেক্সপিয়র। এটির অন্যতম উল্লেখযোগ্য দিক হচ্ছে ক্রিস্টোফার মার্লোকে শেক্সপিয়রের সহ-লেখক হিসেবে স্বীকৃতি প্রদান। তিনি ‘ষষ্ঠ হেনরি’ নাটকের তিনটি অংশেই শেক্সপিয়রের সহ-লেখক ছিলেন।

যুগ যুগ ধরেই সাহিত্য গবেষকরা শেক্সপিয়রের রচনায় মার্লোর প্রভাব নিয়ে গবেষণা করে আসছিলেন। তাঁদের মধ্যে কেউ কেউ আবার ক্রিস্টোফার মার্লো ও শেক্সপিয়র একই ব্যাক্তি ছিলেন বলেও অবহিত করেছিলেন।
এই জন্য ধন্যবাদ জানাতে হয় সেই সমস্ত উদ্যোক্তাদের যারা বছরের পর বছর ধরে শেক্সপিয়রের শব্দভান্ডার, নৈতিক দর্শন ও কাব্যিক শৈলী নিয়ে গাণিতিক বিশ্লেষণ এবং সাহিত্যে ছাত্রবৃত্তি দিয়েছেন। অবশেষে এভাবেই একদল আন্তর্জাতিক গবেষণা-দল সকল রহস্যের সমাপ্তি টানলেন।
একটি বহুল প্রচলিত ধারণা হচ্ছে এই যে, শেক্সপিয়র আদৌ মিশুক ছিলেন না। ১৯৮৬ সালে অক্সফোর্ড যখন জানালো শেক্সপিয়রের আটটি নাটকের উপাদানে অন্য লেখকদের অবদান ছিলো তখন অনেক মানুষই ক্ষিপ্ত হয়েছিল। ১৯৮৬ সালের পর গবেষণার জন্য নতুন নতুন বৃত্তি, কৌশল ও প্রয়োজনীয় সম্পদ ও আধুনিক প্রযুক্তি বিনিয়োগের ফলেই আজ পরিষ্কার হলো যে, তখন শেক্সপিরের নাটকে অন্য লেখকদের অবদানকে খাটো করা হয়েছিল।
সাহিত্য অনুরাগীদের জন্য শেক্সপিয়র ও মার্লোকে ঘিরে পান্ডিত্যপূর্ণ বিতর্কে নিয়ে অনেক অজানা কথা আজ প্রকাশিত হলো। কে এই ক্রিস্টোফার মার্লো?
ক্রিস্টোফার মার্লো ছিলেন শেক্সপিয়রের সমসাময়িক এক কবি ও নাট্যকার। তিনি এলিজাবেথীয় যুগের কবি ও নাট্যকার হিসেবে বেশ সমাদৃত ছিলেন। বছরের পর বছর ধরে চলমান অনেক প্রতিষ্ঠানের গবেষণায় তার ও শেক্সপিয়রের মধ্যে যোগাযোগের প্রমাণ খুঁজে পাওয়া গেছে। এ দু’জনেই একে অপরকে চিনতেন ও জানতেন। তারা একই ক্ষেত্রে কাজও করেছেন। (সম্পূর্ণ…)

হাজার ও এক রাত্রির গল্প বলার কৌশল

নাহিদ আহসান | ৫ অক্টোবর ২০১৬ ২:৪৮ অপরাহ্ন

One nightহাজার এক রাত্রির ( আলিফ লায়লা ওয়া লায়লা) শহরজাদকে কে ভুলতে পারে? গল্প বলে যে বদলে দিয়েছে জালিমের হৃদয়। কথায় বলে শিক্ষক আনন্দ পান যখন তিনি দেখেন দুর্বল ছাত্রকে তিনি কিছু শেখাতে পেরেছেন। ভাল ছাত্র তো শিক্ষক নিরপেক্ষ। যেভাবেই হোক সে ভাল করার চেষ্টা করবে।
আমাদের দেশে পাঠকপ্রিয় হলে সমালোচকের হাতে নাস্তানাবুদ হতে হয়। জনপ্রিয় লেখককে মনে করা হয় সস্তা লেখক। কিন্তু রামায়ণ,মহাভারত, ইলিযাড কিন্তু জনপ্রিয়। এই সব কঠিন ভাষায় লেখা কিভাবে্ জনপ্রিয় হল? হবে না কেন এর গল্পগুলো যে মানুয়ের জীবনের গল্প। আর গল্পকথকরা যুগে যুগে সাধারণ মানুষদের বুঝিয়েছেন তাদের মত করে, তাদের ভাষায়।
রাম সীতাকে পরিত্যাগ করেছেন লোকভয়ে? কিন্তু অন্যদিক দিয়ে তিনি তাকে খুব ভালও বাসেন। আসলে এটা তার আত্মত্যাগ। তিনি রাজধর্ম পালন করতে গিয়ে ব্যক্তিস্বার্থ বিসর্জন দিচ্ছেন। হোমারও ছিলেন একজন কথক। তিনি যখন বর্ণনা করেন,‘মহাবীর হেক্টর যুদ্ধে যাচ্ছেন কিন্তু একই সাথে তিনি ভাবছেন তার স্ত্রীর কথা। এই বিধবা রমণী কিভাবে কাল যাপন করবেন’, তখন মানুষকে তা স্পর্শ করে। কারণ তারাও তো জীবনের মহানদী সাঁতরে পার হচ্ছে। এইসব দ্বন্দ্ব, বীরত্ব গাথাঁ সরল ভাষায় গল্পের মত করে বলেছেন- গল্পকথকেরা । তাই তা দু’মলাটের ভেতর গল্পগুলো কারাবাস করেনি।
শিল্পী হিসেবে আপনার কর্তব্য কি?
শুধুই বোদ্ধাদের জন্য লিখবেন? তারাতো আগে থেকেই সব বোঝেন।
নাকি আপনি চান মানুষের হৃদয়ে পৌঁছাতে?সত্যজিৎ রায় কিন্তু ভরা প্রেক্ষাগৃহ দেখলে খুশী হতেন। কোন বিশ্ববিখ্যাত ফিল্ম ক্রিটিক কি বলেছেন সেটা গুরুত্বপূর্ণ বটে তবে এর চেয়ে খুশির বিষয় তার কাছে ছিল – সাধারণ মানুষ তার ছবি ভীড় করে দেখছে।
তাহলে কি আপনি তরল বিষয়ে লিখে জনপ্রিয় হবার চেষ্টা করবেন? কখনই না। আপনার চ্যালেন্জ তো সেটাই আপনার বক্তব্য ও দৃষ্টিভঙ্গি জিবরাইলের ডানায় ভর করে র্মত্যমানবের কাছে পৌঁছাবে। আপনার ভাষা হবে সেই জিবরাইলের ডানা।
শুনেছি একটি পাইন বনের ভেতর দিয়ে হেটেঁ যাওয়ার পর কেউ আর আগের মানুষ থাকেন না। পাইনের সৌর্ন্দয, ঝিরিঝিরি পাতার বাতাস, ঋজুতা মানুষকে বদলে দেয়। শিল্প সাহিত্য সেই পাইন বনের হাওয়া।
নজরুল যখন বলেন, ‘আজ সৃষ্টি সুখের উল্লাসে, মোর মুখ হাসে, মোর চোখ হাসে, মোর টগবগিয়ে খুন হাসে।–তখন যতক্ষণে সমালোচকরা খুন শব্দের প্রয়োগ যুক্তিযুক্ত কিনা সে সম্পর্কে আলোচনা শেষ করেন, তার অনেক আগেই তা জনগণের হৃদয়ে পৌঁছে সেখান থেকে তাদের খুনে মিশে যায়। (সম্পূর্ণ…)

বিজ্ঞানীদের কেন সাহিত্য ও অন্যান্য বিষয় পড়া উচিৎ

নাহিদ আহসান | ২৭ সেপ্টেম্বর ২০১৬ ১:৪০ অপরাহ্ন

বিজ্ঞান ও সাহিত্য নিয়ে কোথায় যেন একটি রেষারেষি আছে। বিজ্ঞানকে অনেক সময় ভাবা হয় যুক্তিপূর্ণ এবং তা শক্ত ভিত্তির উপর প্রতিষ্ঠিত। সাহিত্যকে ভাবা হয় আবেগনির্ভর, কল্পনাশক্তি দ্বারা চালিত।
আসলে বিজ্ঞানেও আবেগ ও কল্পনার ভূমিকা আছে। আইনস্টাইনের ভাষায়:
“I’m enough of an artist to draw freely on my imagination, which I think is more important than knowledge. Knowledge is limited. Imagination encircles the world.”
আর গবেষণার বিষয়বস্তুর প্রতি আবেগ না থাকলে বিজ্ঞানী কাজ করবেই বা কিভাবে?
পক্ষান্তরে অযৌক্তিক সাহিত্য বা যে-সাহিত্য তার পূর্ববর্তী ইতিহাসের ভিত্তির উপর দাঁড়িয়ে নেই সেটাই বা কেমন সাহিত্য? তাই বিজ্ঞান ও মানবিক বিষয়সমূহ পরষ্পরের পরিপূরক। বিজ্ঞানকে মানবিক এবং সাহিত্যকে ভাবালুতা মুক্ত করতে “যুক্ত কর হে সবার সঙ্গে, মুক্ত কর হে বন্ধ” পদ্ধতি অনুসরণ করা দরকার।
অনেকেই মনে করেন, বিজ্ঞান বিভাগের ছাত্রদের মানবিক বিষয়সমূহ পড়ার দরকার নেই। ইতিহাস, সাহিত্য, রাষ্ট্র বিজ্ঞান সবই যেন অগুরুত্বপূর্ণ এবং হালকা বিষয়। ব্যাপারটি ঠিক তার উল্টো। সাহিত্যের ছাত্রের যেমন বিজ্ঞান জানা জরুরী, বিজ্ঞানের ছাত্রদের তেমনি সাহিত্য, কমিউনিকেশন স্কিল, ইতিহাস, রাজনীতি সর্ম্পকে জানা থাকা দরকার। এটা আপনার জন্য অপশনাল নয়, এটা আবশ্যিক।

সাহিত্য ও ইতিহাসের গুরুত্ব

অন্যের দৃষ্টিভঙ্গিতে পৃথিবী দেখতে কেমন তা সাহিত্য আপনাকে শেখাতে পারে। আপনি যখন একটা মুভি দেখেন তখন সেই পরিচালকের দৃষ্টিতে, অভিনেতাদের দৃষ্টিতে পৃথিবীর দিকে তাকান। সাহিত্যও সেরকম পৃথিবী সম্পর্কে আপনার দৃষ্টিভঙ্গি বদলে দেবে। যাদের অভিজ্ঞতা আপনার চেয়ে আলাদা তারা কিভাবে চিন্তা ভাবনা করে তা শিখতে পারবেন। দেখবেন যে অধিকাংশই আপনার মত চিন্তা ভাবনা করেনা, বরং মানসিকতার দিক দিয়ে আপনি সংখ্যালঘুদের একজন। আপনি সাহিত্য-পড়ুয়া বিজ্ঞানী হলে বিষয়টির মোকাবেলা করতে পারবেন।
পৃথিবীর ইতিহাস ও সংস্কৃতি সম্পর্কেও জানা থাকা জরুরী। একজন বিজ্ঞানী তার ইতিহাস ও সংস্কৃতির প্রতিনিধি। আপনার সাথে যারা কাজ করবেন তারা ভিন্ন মানুষ। ভিন্ন অভিজ্ঞতার ভেতর দিয়ে বড় হয়েছেন। তাদের ইতিহাস ও সংস্কৃতি আলাদা এটা যখন বুঝতে পারবেন তখন আপনার জন্য অন্যদের সাথে কাজ করা সহজ হয়ে যাবে। আপনি যাদের জন্য কাজ করছেন, যাদের সাথে কাজ করছেন,পাশে নিয়ে কাজ করছেন তাদেরকে বুঝতে পারা আপনার জন্য গুরুত্বপূর্ণ। বিজ্ঞানকে সবকিছু থেকে বিচ্ছিন্ন করে দেখা ঠিক না। তাই অন্যের ইতিহাস ও সংস্কৃতির পেছনের ব্যাকরণ আপনার জানা দরকার। যেমন পূর্ব পশ্চিমের দুজন মানুষ কাজ করছেন একসাথে, তাদেরকে বাসায় নিমন্ত্রণ জানালে একজন হয়তো পাচঁ মিনিট আগে আসলেন, অন্যজন আধঘন্টা পরে আসবেন। তাদের পোশাকও বিপরীত মেরুর। আপনার মানসিকতা যাই হোক না কেন। তাদের আচার আচরণ মেনে নিতে হলে আগে তাদের মানসিকতা বুঝতে হবে। (সম্পূর্ণ…)

সাম্প্রতিক বিশ্বসাহিত্য: সিরিয়াস সাহিত্যের গুরুত্ব, নতুন আয়রনম্যান ও এলবির প্রয়াণ

নাহিদ আহসান | ১৮ সেপ্টেম্বর ২০১৬ ৯:১২ অপরাহ্ন


সিরিয়াস সাহিত্যের গুরুত্ব

Readerপাঠকের মনে সংবেদনশীলতা সৃষ্টিতে সাহিত্যই শ্রেষ্ঠ। কিন্তুু প্রশ্ন হলো কোন সাহিত্য। সাহিত্যের রয়েছে বহু শাখা যার একটা ধারা হচ্ছে সমকালে অজনপ্রিয় কিন্তু ধীরে ধীরে তা জনপ্রিয় হতে থাকে অর্থাৎ যাকে আমরা চিরায়ত সাহিত্য বলি। আর অন্য একটি ধারা হচ্ছে জনপ্রিয়। কিন্তুু সাহিত্যের জনপ্রিয় ধারা কোনগুলো–সেটা কি আপনি জানেন? সেটা থ্রিলার হতে পারে, রোমান্স হতে পারে কিংবা অ্যাডভেঞ্চারও হতে পারে, এমনকি উচ্চবিত্তের জীবন যাপন নিয়ে লেখা উপন্যাসও সাহিত্যের জনপ্রিয় ধারার মধ্যে পড়তে পারে। কিন্তু যা উন্নত সাহিত্য তা কিন্তু শুধু বিনোদনের যোগান দেবে না, মানুষকে চিন্তার খোরাক দেবে, হৃদয়ের গভীর গোপন তলদেশে আলোড়ন তুলবে, অন্যের অনুভূতি বুঝতে সাহায্য করবে। সালমান রাশদী, হার্পার লি এবং টনি মরিসনের মত লেখকরা পাঠকদের অন্যের অনুভূতি বোঝার মত মন তৈরি করতে সাহায্য করেন। কিন্তু ডেনিয়েল স্টীল বা ক্লাইভ কাসলারের মত লেখকরা সেটা পারেন না। সাম্প্রতিক এক গবেষণায় তাই প্রমাণিত হয়েছে। প্রসঙ্গত ডেনিয়েল স্টীলের প্রিয় বিষয় উচ্চবিত্তদের জীবনের নানা সমস্যা। যারা টিভি সিরিজ ‘ডালাস’ দেখেছেন, তারা বুঝতে পারবেন বিষয়টি কী। এখনকার হিন্দি সিরিয়ালেও জনপ্রিয়তা অর্জনের জন্য এ বিষযটিকে উপজীব্য করা হয়। ভারতের শোভা দের লেখালেখির মূল পটভূমিও কিন্তু তাই। ক্লাইভ কাসলারের প্রিয় বিষয় থ্রিলার যার মূল কাজ শ্বাসরুদ্ধকর উত্তেজনার সৃষ্টি করা। থ্রিলার বা উচ্চবিত্তের জীবনযাত্রা –এইসব ঘরানার লেখা পাঠক পড়তে ভালবাসে। কিন্তু পাঠকের মননের মৌলিক উৎকর্ষে বা অন্যের মনস্তত্ব বোঝার ক্ষমতা বৃদ্ধির ক্ষেত্রে এদের কোন ভূমিকা নেই। সাহিত্যের লেখকরাই পাঠকদের মন ও মনন তৈরিতে ভূমিকা রাখেন। হার্পার লি এবং টনি মরিসনের মত লেখকদের সাহিত্য পাঠ, পাঠককে বুঝতে সাহায্য করে অন্যের চিন্তা-ভাবনা ও দৃষ্টিভঙ্গি। (সম্পূর্ণ…)

পরের পাতা »

Disclaimer & Privacy Policy  |  About us  |  Contact us

© bdnews24.com