ভ্রমণ

প্যাসিফিকে পাঁচ রজনি (প্রথম কিস্তি)

ইকতিয়ার চৌধুরী | ৫ মে ২০১৫ ৯:৪৫ অপরাহ্ন

ম্যানিলায় নিনয় একুইনো আন্তর্জাতিক বিমান বন্দরের ভিভিআইপি লাউঞ্জে বসে আছি। ঘড়িতে নটার বেশি হবে। লাউঞ্জ হোস্টেল জিগ্যেস করল, ‘কফি দেব স্যার?’
‘না, গ্রিন-টি।’
‘গ্রিন-টি হবে না স্যার, রেড-টি পাওয়া যাবে।’
‘দুধ এবং চিনির দরকার নেই। শুধু চা।’
গ্রিন-টি কেন, পানীয় হিসেবে চা-ই তেমন জনপ্রিয় নয় ফিলিপাইনে। ফিলিপিনোরা পছন্দ করে কফি। কেন করে জিগ্যেস করা হলে অনেকেই বলবে, আমেরিকানরা পছন্দ করে তাই। মার্কিনিদের কাছে কফি প্রিয় হলে ফিলিপিনোদেরও যে তা ভালো লাগবে তার কোনো যুক্তি নেই। তা সত্ত্বেও অনেক ক্ষেত্রেই দেখা যায় ফিলিপিনোরা মার্কিনিদের অনুসরণ করে।
এক সময় যুক্তরাষ্ট্রের উপনিবেশ ছিল পিলিপাইন। ১৮৯৮ সাল থেকে ১৯৪৬ অবধি।
আমরা গন্তব্য পালাও। পালাও প্রশান্ত মহাসাগরের একটি দ্বীপরাষ্ট্র। প্রায় চারশ মাইল দীর্ঘ এই রাষ্ট্রের চারপাশে পাপুয়া নিউগিনি, গুয়াম ও ফিলিপাইন। প্রশান্ত মহাসাগরের নীল জল ফুঁড়ে বেরুনো আরও প্রতিবেশী রয়েছে দেশটির। মাইক্রোনেশিয়া, কিরিবাতি, মার্শাল আইল্যান্ডস, নাউরু, সলোমন দ্বীপপুঞ্জ ও টুভালু। মানচিত্রের দিকে তাকালে ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র এই রাষ্ট্রগুলোকে লাগে বিন্দুর মতো। মনে হয়, মহাসাগরের উত্তাল জলরাশি এই বুঝি ওই বিন্দুগুলোকে ভাসিয়ে নিয়ে যাবে। চারপাশে শুধু আদিগন্ত জলকল্লোল। ওই জলকল্লোলের বিপরীতে সাগরের বুকে উইয়ের টিবির মতো মাথা উঁচিয়ে থাকা প্যাসিফিকের এই দেশমালা। দেশগুলোর সঙ্গে পালাওয়ের কোনো ভূ-যোগাযোগ নেই। প্যাসিফিক মহাসাগরের মধ্যে ডুবুডুবু এই রাষ্ট্রটির সঙ্গে বহির্বিশ্বের যোগাযোগ আকাশ ও সমুদ্রপথে। আকাশপথে কন্টিনেন্টাল এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটে পালাও যাবার জন্য লাউঞ্জে অপেক্ষা করছি। রাত দশটা দশ মিনিটে প্লেন ছাড়বে। পালাওয়ের এক সময়ের রাজধানী কোরোর পৌঁছুব রাত একটা ৫০ মিনিটে। ২২ জানুয়ারি ২০১০-এর রাত। লাউঞ্জের অধিকাংশ স্টাফই আমার পরিচিতি। রাষ্ট্রদূত হয়ে যেদিন ফিলিপাইনে এলাম, সেদিন থেকেই এই লাউঞ্জ আমি ব্যবহার করছি। (সম্পূর্ণ…)

দেখে এলাম বোরোবুদুর মন্দির

ভিক্ষু সুনন্দপ্রিয় | ১ এপ্রিল ২০১৫ ১১:২৫ অপরাহ্ন

11024742_1051281644889309_7392721366572762444_n.jpg
মানুষের স্বপ্ন নাকি একদিনে পূর্ণ হয় না। ইচ্ছে থাকলে আস্তে আস্তে পূর্ণ হয়। ইন্দোনেশিয়ার সে বিখ্যাত বোরোবুদুর মন্দির দেখার স্বপ্ন-স্বাদ অবশেষে পূর্ণ হল। যেদিন কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের জাভাযাত্রীর ডায়েরি ও বোরোবুদুর কবিতাটি পড়ি, তখন থেকে আমার কল্পনার জগতে বোরোবুদুর মন্দিরের ছবি ভেসে ওঠে। বোরোবুদুর নিয়ে তেমন লেখা আর চোখে পড়েনি, সে কবে কবিগুরু জাভাযাত্রী হয়ে বোরোবুদুর গিয়ে বুদ্ধের শরণ নিয়েছিলেন।

এ সময়ে এসে শিহরিত হই, অবাক বিস্ময় জাগে মনে। কবিগুরু নাকি দুবার বুদ্ধ প্রণাম করেছিলেন, একবার বোরোবুদুর মন্দিরে, অন্যটা বুদ্ধগয়া মহাবোধি মন্দিরে। (সম্পূর্ণ…)

ওকাম্পো আর রবীন্দ্রনাথ : কিছু অশ্রুত গুঞ্জন

অভিজিৎ রায় | ১ সেপ্টেম্বর ২০১৪ ৭:২৭ অপরাহ্ন

ocampo-1.jpgরবীন্দ্রনাথ ঠাকুর তাঁকে ডাকতেন ‘বিজয়া’ নামে। কিন্তু বিজয়া তাঁর আসল নাম ছিল না। নাম ছিল তাঁর ভিক্টোরিয়া1 । ভিক্টোরিয়া ওকাম্পো। আর্জেন্টিনার এক নারীবাদী লেখিকা এবং বিগত ত্রিশের দশক থেকে ষাটের দশক পর্যন্ত প্রবল প্রতাপে রাজত্ব করা সুর (Sur) নামের এক প্রগতিশীল পত্রিকার সম্পাদিকা। ধারণা করা হয়, রবীন্দ্রনাথের সাথে এক ‘রহস্যময়’ প্লেটোনিক ধরণের রোমান্টিক সম্পর্ক ছিল তাঁর। রবিঠাকুরের একেবারে শেষ বয়সের প্রেম। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের বয়স তখন ৬৩। আর ওকাম্পোর ৩৪। (সম্পূর্ণ…)

বাঙ্গালের জাপান দর্শন

আনিসুজ্জামান | ১২ জুলাই ২০১৪ ১১:৩০ অপরাহ্ন

japan-1.jpgকিছুটা পারিবারিক ঝামেলা, তাছাড়া লেখাপড়ার ইচ্ছেও ততদিনে উবে গিয়েছিলো। ঠিক এরকম পরিস্থিতিতে ৮৫/ ৮৬ সালের দিকে বিদেশে যাওয়ার জন্য এক ধরনের আগ্রহ তৈরি হলো আমার মধ্যে। মনে হচ্ছিলো দেশে থেকে আমার পক্ষে কিছুই করা সম্ভব নয়। আমার যখন মানসিক অবস্থা এরকম তখন কুড়িলের এক ভদ্রলোক, শুনলাম জাপানে লোক পাঠায়। ঐ সময় উনি আমাকে নিয়ে গেলেন মতিঝিলে এক উপমন্ত্রীর বাড়ি বা অফিসে। উনি নাকাসিমি নামের এক ভদ্রলোকের মাধ্যমে জাপানে লোক পাঠাতো তখন। (সম্পূর্ণ…)

নাগরকোটের এভারেস্ট

শাকুর মজিদ | ৮ এপ্রিল ২০১৪ ১১:২৭ পূর্বাহ্ন

নাগরকোট ভক্তপুর জেলার একটা পাহাড়ি গ্রাম। নেপালের প্রশাসনিক কাঠামোর মধ্যে ‘ভিলেজ ডেভেলপমেন্ট কমিটি’ নামে কতগুলো গ্রাম উন্নয়ন পরিষদ থাকে। অনেকটা আমাদের ‘ইউনিয়ন’ পর্যায়ের। ‘নাগরকোট’ আসলে সে ধরনেরই একটি গ্রাম উন্নয়ন কমিটির অধীনে শাসিত একটি অঞ্চল।
নাগরকোট মূলত: বিখ্যাত দু’টো কারণে। প্রথমটি হচ্ছে, প্রায় ৭ হাজার ফুট উপরের অনেকগুলো পাহাড় চূঁড়ার উপর থেকে বসে বসে, অনায়াসে সূর্যোদয় আর সূর্যাস্ত দেখা যায়। দ্বিতীয় কারণটি আরো মজার। তা হচ্ছে, কপাল ভালো থাকলে, আকাশ যদি পরিস্কার পাওয়া যায়, তবে ওখান থেকে খুব সহজে হিমালয় রেঞ্জের পাহাড়শ্রেণী, বিশেষ করে এভারেষ্টশৃঙ্গসহ আরো কতগুলো পর্বতশৃঙ্গ একটু করে হলেও দেখা যায়। (সম্পূর্ণ…)

বার্লিনের ভালুককে ঘিরে

তারেক আহমেদ | ৩ এপ্রিল ২০১৩ ৪:০২ অপরাহ্ন

ওরা বলে এই ভালুকটা নাকি শীতকালেও ঘুমায় না। বার্লিনের মানুষের প্রাণের প্রতীক বলা যায় ভালুকটিকে। বার্লিন চলচ্চিত্র উৎসব বা বার্লিনালেরও প্রতীক এই ভালুক।

ঢাকা থেকে জার্মানির রাজধানী বার্লিন গিয়ে যখন পৌঁছলাম – উৎসব শুরু হতে তখনও তিন সপ্তাহ বাকি। বাংলাদেশের স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র উৎসব আয়োজনে জড়িত থাকার সুবাদে জার্মন রাস্ট্রীয় সম্প্রচার সংস্থা – ডয়্যেচে ভ্যেলের আমন্ত্রণে এই সফর। ডয়্যেচে ভ্যেলে প্রায় এক দশক যাবত পৃথিবীর নানা প্রান্তের নানা দেশের চলচ্চিত্র উৎসব আয়োজনে জড়িতদের নিয়ে বছরের এই সময় পাঁচ সপ্তাহব্যাপী এক কর্মশালার আয়োজন করে থাকে। এই আয়োজনের মূল আকর্ষণ অবশ্যি — বার্লিনালে। দর্শক সংখ্যার বিচারে যে উৎসবটি ইতোমধ্যেই শীর্ষস্থানীয় চলচ্চিত্র উৎসবের মর্যাদা লাভ করেছে। দেশে ফেরার দু’দিন আগে উৎসবের টিকিট বিক্রির পরিসংখ্যান থেকে জেনে এসেছিলাম –এবারও তিন লক্ষ দর্শক এগারো দিন ধরে চলা এই উৎসবে ছবি দেখেছেন । (সম্পূর্ণ…)

কুয়াকাটা : সূর্যোদয় থেকে সূর্যাস্ত

নূরুল আনোয়ার | ১৪ ফেব্রুয়ারি ২০১২ ৯:২৯ অপরাহ্ন


খুব বেশিদিনের কথা নয় কুয়াকাটা নামটি মানুষের তেমন জানাশুনা ছিল। এখন এই নামটি নিয়ে যেভাবে ঘাটাঘাটি হচ্ছে অল্প ক’ বছর আগেও কেউ বেশি ভাবেনি। ভ্রমণপিপাসু মানুষের সংখ্যা দিন দিন বাড়ছে। বাংলাদেশের চিরপরিচিত পর্যটন কেন্দ্রগুলোর সঙ্গে নতুন নতুন জায়গা যোগ হচ্ছে। কুয়াকাটা ইতোমধ্যে ভ্রমণপিপাসু মানুষের চিত্ত জয় করে ফেলেছে।
কুয়াকাটা সম্পর্কে আমার জানাশুনা ছিল অতি অল্প। এটার অবস্থান কোথায় সেটাও আমার জানা ছিল না। এতটুকু আমি জেনেছি, যেখানেই হোক এটার অবস্থান সাগড়ের পাড়ে। আমি যতবারই চোখ বন্ধ করে কুয়াকাটার কথা ভেবেছি কক্সবাজারের সমুদ্র সৈকতের মত একটা চেহারা তার মধ্যে দেখতে পেয়েছি। কল্পনা করতে দোষ কি? ভেবেছিলাম এখানে বিশাল বিশাল ঢেউ পাড়ে এসে আছড়ে আছড়ে পড়ে। পর্যটকেরা ওখানে নেমে স্নান করে। তারা লাফঝাঁপ করে। শ’য়ে শ’য়ে স্পিড বোট শাঁ শাঁ করে ছুটে চলে। সাগড়ের পাড়ে আছে ঘন অরণ্য। বন-বনানী। সেখানে আছে নানা প্রজাতির পাখির কলকাকলি। ঝাউগাছের পাতায় পাতায় বাতাসে শিহরণ। তার সঙ্গে শোঁ শোঁ শব্দ। ছায়াশীতল গাছের নিচে বসে কপোত কপোতিরা বসে প্রেমের আলাপ করছে। তারা একে অপরের সঙ্গে নানারকম খুনসুটি করে চলেছে। আছে বড় বড় মার্কেট। তরুণ-তরুণীরা দল বেঁধে সেখানে ছুটে চলছে কেনাকাটা করতে। সত্যি বলতে কি, আমি এরকম একটি পরিবেশ কল্পনা করে এঁকে নিয়েছিলাম এবং সত্যি সত্যি ধরে নিয়েছিলাম জায়গাটি এরকম। (সম্পূর্ণ…)

সিডনির পথে পথে (৯)

আবু সুফিয়ান | ২১ december ২০১১ ১০:১০ অপরাহ্ন

hb8.jpg
বিয়ের ছবি তোলার সেশন হচ্ছে। ওপর থেকে তোলা ছবি।

সিডনির পথে পথে ১ | সিডনির পথে পথে ২ | সিডনির পথে পথে ৩ | সিডনির পথে পথে ৪ | সিডনির পথে পথে ৫ | সিডনির পথে পথে ৬ | সিডনির পথে পথে ৭ | সিডনির পথে পথে ৮

(গত সংখ্যার পর)

রাস্তা হারানো আমার জন্য নতুন কোনো বিপদ না। দেশে এবং বিদেশে বহুবার এই ঘটনা ঘটেছে। কচু গাছ কাটতে কাটতে মানুষ ডাকাত হয়। পথ হারিয়ে আমি পথ চিনি। তবে আজ খানিক সুবিধাজনক আবস্থায় আছি। কারণ সাবৃনা সাথে নেই। স্ত্রীর কাছে এই ধরনের ‘কেলাসপনা’ স্বামীদের বড় ধরনের অযোগ্যতার প্রমাণ।

মোবাইল ফোনে সময় দেখলাম। বেলা একটার মধ্যে বাসায় ফিরতে হবে। একসাথে খাবো। বাড়ির রাস্তা খুঁজে পাওয়ার জন্য এক ঘণ্টার কিছু বেশি সময় হাতে আছে।

আমি হাঁটা শুরু করলাম।

সিডনির ফুরফুরে উজ্জ্বল আবহাওয়া বড়ই মনোরম। একটা সুখ সুখ ভাব হয়। রাস্তায় গাড়ি যথেষ্ট। কিন্তু পথে হাঁটা লোকজনের সংখ্যা কম। দু-একজন যাও পাই, তারা আমার চেয়েও মহককল। ঠিকানা জিজ্ঞেসা করলে ঠোঁট উল্টানি দেয়। অর্থাৎ চেনে না।

hb7.jpg
সিডনি হারবার ব্রিজের কাছে বাড়িঘর, সাথে লাগোয়া সমুদ্র।

সামনে মোটা মতো এক ভদ্র মহিলা অপেক্ষা করছেন, রাস্তা পার হবেন। বয়স্ক। হাতে বাজারের ব্যাগ। সম্ভবত স্থানীয়। তাকে ঠিকানা দেখিয়ে জিজ্ঞেসা করলাম, এই রাস্তাটা কোথায়? তিনি যে উত্তর দিলেন, সেই ডিরেকশন ফলো করলে দুপুরে আমাকে বাইরে খেতে হবে। মহিলা বললেন, সামনে ৫০ গজ গিয়ে ডানে টার্ন করবে। তারপর ত্রিশ থেকে চল্লিশ স্টেপ যাবে। তারপর আবার টার্ন করে স্ট্রেইট হাঁটবে… কিছুদুর গেলে একটা পাম্প দেখবে…

উনার ডিরেকশন যতক্ষণ শুনবো, সেই সময়টাই নষ্ট। ‘বিশেষ ধন্যবাদ’ বলে আমি কেটে পড়লাম।

সামনে বেশ কিছু স্টেশনারি জাতীয় ছোট দোকান আছে। ফোন কার্ড রিচার্জ করা দরকার। (সম্পূর্ণ…)

রাঙামাটির পথে

নূরুল আনোয়ার | ১১ december ২০১১ ১:০৯ অপরাহ্ন

nar_11.jpg………
আলুটিলা পর্যটন কেন্দ্র
……..
রাঙামাটির কথা শুনে আসছিলাম একেবারে ছোটকাল থেকে। আমাদের দূর সম্পর্কের এক আত্মীয় পরিবার-পরিজন নিয়ে ওখানে থাকতেন। শুনতে পাই খুব অল্প সময়ের মধ্যে তারা বেশ সহায়-সম্পত্তির মালিক হয়ে উঠেছেন। প্রথমে ব্যবসায়, পরে ভূ-সম্পত্তিতে বিস্তার লাভ করেছিলেন। পরে তাদের জায়গা-জমি সব পানিতে ডুবে গেছে। তারা পথে বসেছেন। কাপ্তাই বাঁধের পানি তাদের জমি-জমা, বাড়ি-ঘর সব পানির নিচে তলিয়ে দিয়ে একরকম অভিশপ্ত হয়ে দাঁড়িয়েছে। আরও পরে শুনলাম কাপ্তাই বাঁধের পানি অভিশপ্ত বটে, কিন্তু সম্পদ হিসেবেও এর জুড়ি নেই। কাপ্তাই বাঁধের পানি দিয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদন হয়। আবার সেই পানির মৎস্যসম্পদ জনসংখ্যার এক বিরাট অংশের পুষ্টির ঘাটতি পূরণ করে। সবচে’ বড় কাজ যেটি হয়েছে সেটি হল এই বাঁধ একটা বিস্তীর্ণ জলরাশি সৃষ্টি করছে। এই জলরাশি একরকম নয়নাভিরাম সৌন্দর্যের আধার হিসেবে সৌন্দর্য পিপাসু মানুষের চোখ ধাঁধিয়ে দিচ্ছে। ফলে প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষ ছুটে চলে রাঙামাটির সৌন্দর্য অবলোকন করতে।

কাপ্তাইর পানি তো মানুষকে একরকম নিঃস্ব করে দিয়েছে। তারপরেও দেখতাম আমাদের এলাকার মানুষ রাঙামাটির দিকে ছুটছে। আমিও স্বপ্ন দেখতে থাকি রাঙামাটি যাবার। কিন্তু বহুদিন সেই স্বপ্ন আমার পূরণ হয়নি। পত্রপত্রিকায়, ক্যালেন্ডারে যখন রাঙামাটির সেই টানা ব্রিজের ছবিটা দেখতাম তার সৌন্দর্য আমাকে একরকম আলোড়িত করত। আমি এই টানা ব্রিজটাকে মনে রেখে আমার কল্পলোকে রাঙামাটিকে আরও নানাভাবে সাজিয়ে নিতাম।

nar_07.jpg………
রাঙামাটি বৌদ্ধবিহার
……..
দুই হাজার এক সালে আমার কাকা আহমদ ছফা সাহেব যখন সহসা ধরাধাম ত্যাগ করলেন আমি অনেকদিন কোনো কাজের সঙ্গে নিজেকে মানিয়ে নিতে পারিনি। সব সময় আমার ভেতর একটা অজানা ব্যথা ক্রিয়া করত। স্বস্তি কী জিনিস আমি একরকম ভুলে গিয়েছিলাম। তাঁর পালকপুত্র সুশীল চাকরিসূত্রে খাগরাছড়িতে থাকত। আমার মনের অবস্থা সে টের পেয়ে গিয়েছিল। সে আমাকে বলল, তুমি কিছুদিন খাগড়াছড়িতে এসে আমাদের সঙ্গে থাক। সে এ-ও জানাল, বাইরের আলো-বাতাস গায়ে লাগলে মনটা ফুরফুরে হয়ে উঠতে পারে।

খাগড়াছড়িতে আমি কোনোদিন যাইনি। এ এলাকা সম্পর্কে আমার ধারণাও অন্ধকারাচ্ছন্ন। শুধু এটুকু জানি খাগড়াছড়ি পাহাড়ি এলাকা। সুতরাং পাহাড় কি আমার মনের ওপর প্রভাব ফেলতে পারবে? আমি তো একরকম পাহাড়ি কীট। তারপরেও আমি রাজি হয়ে গেলাম। (সম্পূর্ণ…)

সিডনির পথে পথে (৮)

আবু সুফিয়ান | ৪ নভেম্বর ২০১১ ১২:৪৬ পূর্বাহ্ন

12.jpg
লা পেরোজের বীচ সংলগ্ন সিঁড়িতে লেখক ও আফসানা

সিডনির পথে পথে ১ | সিডনির পথে পথে ২ | সিডনির পথে পথে ৩ | সিডনির পথে পথে ৪ | সিডনির পথে পথে ৫ | সিডনির পথে পথে ৬ | সিডনির পথে পথে ৭

(গত সংখ্যার পর)

সিডনিতে বেশ কিছু উল্লেখযোগ্য জায়গায় গেছি। যেমন প্যারাম্যাটটা (PARRAMATTA), সিডনি অলিম্পিক পার্ক, ব্যাংকস টাউন, ব্লাক টাউন, রকডেল, ক্যাম্বল টাউন, সার্কুলার কী–ই, লিভারপুর, ওয়াটসন বে ইত্যাদি। রাইড (Ryde) এলাকাতে যাওয়া হয়নি। অথচ রাইড হচ্ছে সেন্ট্রাল সিডনির সাথে সবচেয়ে নিকটতম এবং জমজমাট এলাকা। আজ সেখানে যাবো।

আফসুরা থাকে ওয়েষ্ট রাইড । ওর বর পারভেজের সাথে আগে দেখা হয়নি। হাজবেন্ড ওয়াইফ দুজন মিন্টো’তে এলো আমাদের নিয়ে যেতে। মেহমান আগমন উপলক্ষে চাচি খাওয়া দাওয়ার বিরাট আয়োজন করেছেন। আমরা আস্ট্রেলিয়া আসার ঠিক আগে উনার হাত পুড়ে গেছে। পুড়ে যাওয়ার মাত্রা হচ্ছে তিন ডিগ্রী। অর্থাৎ বড় ধরনের ইনজুরি। এসব দেশে বাসা বাড়িতে বাংলাদেশের মতো ছুটা বুয়া বা বাধা বুয়ার ব্যবস্থা নেই। সুতরাং সব কাজ নিজেদেরই করতে হয়।

সন্ধ্যায় নির্ধারিত অতিথির বাইরে আরো কিছু মেহমান চলে এলো। টিটো ভাই, তাঁর স্ত্রী ও বাচ্চাকে নিয়ে এসেছেন। উনারা ঢাকাতে এক সময় চাচিদের বাসায় ভাড়া ছিলেন। টিটো ভাইয়ের স্ত্রী, ভাবী চ্যাপা শুটকির ভর্তাসহ মজার কিছু বাঙালি খাবার তৈরি করে সাথে এনেছেন।

তরুণী তন্দ্রা, কাকুর বন্ধুর মেয়ে। সিডনিতে পড়াশোনা করতে এসেছে। সে এলো তার হবু বর সাইফ ভাইকে নিয়ে। সেও খাবার নিয়ে এসেছে–চিংড়ি মাছের কারি।

সিডনিতে বাঙালি পরিবারগুলো কারো বাসায় গেলে এরকম বিশেষ আইটেম রান্না করে নিয়ে যায়। এটা এখানকার এক ধরনের রেওয়াজ। ভালো রেওয়াজ।

রাতের খাবারের প্রধান আইটেম ল্যাম্ব বিরিয়ানী। চাচির রান্না হয়েছে অসাধারণ। খুবই মজা। আনন্দ নিয়ে সবাই বিরিয়ানী খেলাম।

আফসু-পারভেজ বিশেষ ধরনের মিষ্টান্ন নিয়ে এসেছে। লেবানিজ সুইট।, নাম বাকলাভা। বিভিন্ন ফ্লেভারে তৈরি। সুস্বাদু। জীবনে এই জিনিস প্রথম খাচ্ছি।

আমার খাদ্য উপভোগ দেখে আফসু একের পর এক ভিন্ন ভিন্ন ফ্লেভার তুলছে। বলে–এটা খাও। আরেকটা খাও। এই লাস্ট …. এটা এক কামড় খাও…!

ছোট বোনের আব্দার রক্ষা করছি। বাকলাভা মিষ্টি, অতিরিক্ত ফ্যাট। এর শরীর ডুবো তেলে (সম্ভবত ঘি-তে) ভাজা হয়। আমার এসব খাওয়া নিষিদ্ধ না হলেও সীমিত খাওয়ার নির্দেশনা আছে।

সাবৃনা ঘটনা দেখে বিরক্ত গলায় বললো, যত ইচ্ছা খাও। কোনো অসুবিধা নাই। কোলেস্টেরল আরো বাড়াও। প্রেশার হাই হোক। তারপর এক সাথে সব খাবার-দাবার বন্ধ করে দিও।

বলে সেও একটা ভিন্ন ফ্লেভারের মিষ্টি মুখে দিলো, মজা তো!
(সম্পূর্ণ…)

বান্দরবনর পাআরত (কিস্তি ২)

নূরুল আনোয়ার | ১০ অক্টোবর ২০১১ ৫:১৯ অপরাহ্ন

বান্দরবনর পাআরত ১

(গত সংখ্যার পর)

meghla (9).JPG ………
বান্দরবান শহরের অদূরে চিম্বুকের পথে পাহাড়ের ভেতর প্রবাহিত শঙ্খ নদী
…….
আমি সমস্ত কিছু নিয়তির ওপর ছেড়ে দিলাম। এ মুহূর্তে এসব নিয়ে বেশি ভাবতে গেলে আনন্দটাই মাটি হয়ে যাবে। গাড়ি যেখানে নষ্ট হয়েছে জায়গাটা পাহাড়ের চূড়া বলা যায়। প্রায় চার পাঁচ শ’ গজের মধ্যে তিন চারটা মোড়। পাহাড়ের রাস্তা যত ঘুরানো-প্যাঁচানো থাকে ততই সুন্দর দেখায়। এখানকার জায়গাটা তাই। একটা অল্পবয়সী বটগাছ একটা মোড়ে ডালপালা প্রসারিত করে দাঁড়িয়ে আছে। পাহাড়ে সাধারণত বটগাছ দেখা যায় না। পাহাড়িরা নিজের গরজে হয়ত এটা লাগিয়েছে। শীতকাল বলে গাছটা আমাদের কাছে বেশি দরকারি মনে হল না। কিন্তু গ্রীষ্মকালে গরম যখন ছিঁড়ে ছিঁড়ে পড়বে তখন এই বটগাছ পথযাত্রীদের অবলম্বন ছাড়া আর কী হতে পারে।

dulahajra (28).JPG
ডুলাহাজারা সাফারি পার্ক
……..
বটগাছটা কেন এখানে লাগানো হয়েছে আমি অল্প সময়ের মধ্যে তা টের পেয়ে গেলাম। ইতোমধ্যে চার পাঁচজন পাহাড়ি তাদের ফলানো কলা, জাম্বুরা, পেঁপে, হলুদ আরও নানাজাতের সবজি পিঠে ঝুলানো থুরুমে করে এ জায়গাটাতে নিয়ে এসেছে। আমার কাছে ব্যাপারটা আকর্ষণীয় হয়ে দাঁড়াল। আমরা তাদের কিছু জিজ্ঞেস করলে তারা চট্টগ্রামের আঞ্চলিক ভাষা, শুদ্ধ বাংলা এবং নিজেদের ভাষা মিশিয়ে এক ধরনের জগাখিচুড়ি ভাষায় কথা বলে। কিন্তু তাদের এ ভাষাটা একটুও বেমানান ঠেকে না। আবার বুঝতেও তেমন একটা বেগ পেতে হয় না। মাঝারি সাইজের একটা পেঁপের প্রতি লোভ হল। পেঁপেটা সদ্য গাছ থেকে ছিঁড়ে এনেছে চিনে নিতে আমার একটুও কষ্ট হল না। ঢাকা শহরে এধরনের পেঁপে সচারচর চোখে পড়ে না। সেটি পেকে এক রকম হলুদ রঙ ধারণ করেছে। আমি বললাম, এ পেঁপেটার দাম কত?

পেঁপের মালিক বলল, দশ টাকা দিবা দে। (দশ টাকা দেবে।)

আমি বললাম, পাঁচ টাকা দিব দে। (পাঁচ টাকা দেব।)

সে কিছুটা খেপে গিয়ে বলল, তুমি মানু কিল্লাই আমাকে দশ টাকা ন দিবা দে? (তুমি মানুষ কী জন্য আমাকে দশ টাকা দেবে না?)

আমি বললাম, আমি পাঁচ টাকা দিলে খুশি হব। তাই পাঁচ টাকা দেব।

সে সহজ সরল ভাষায় বলল, তুমি মানু খুশি হলে পাঁচ টেয়া দেও। (তুমি মানুষ খুশি হলে পাঁচ টাকা দাও।) (সম্পূর্ণ…)

বান্দরবনর পাআরত

নূরুল আনোয়ার | ২ অক্টোবর ২০১১ ১২:০২ অপরাহ্ন

nab (42).JPG
আলীকদমের মিরিঞ্জা পর্যটন কেন্দ্র।

আমার বাড়ি চট্টগ্রামে। আমাদের বাড়ি থেকে বনাঞ্চল তিন কিলোমিটারের বেশি নয়। কৈশোরের উচ্ছল বয়সে আমি বহুবার এ বনাঞ্চলে গিয়েছি এবং উঁচু উঁচু পাহাড়ে ওঠার সুযোগ আমার হয়েছে। আমি যখন গভীর বনে চলে যেতাম একটা নতুন জগত খুঁজে পেতাম। এমন সব জায়গা আমি দেখেছি সূর্য ঠিক মাথার ওপর উঠে এলেও তার আলো কী জিনিস চোখে পড়ত না। ছোট ছোট বয়ে চলা ছড়ার মধ্যে দাঁড়িয়ে ওপরে পাহাড়ের চূড়া দেখতে গেলে ঘাড়টা একেবারে পেছনে বাঁকিয়ে ফেলতে হত। পাহাড়গুলো এমন খাঁড়া তার ওপরের দিকটা দর্শন করতে চাইলে মাথার টুপি পড়ে যাবে। পাহাড়ে ছিল নানারকমের গাছগাছালি। কত রকম গাছই-না ছিল ওখানে। করই, জারুল, চম্পা, কাঁঠালি, বুনো আম, গামারি, গর্জন এরকম অনেক গাছ। সব গাছের নাম কি আমি জানি? একেকটা গর্জন গাছের বেড় ছিল দশ বার হাতের মত। বাঁশবনে ঢুকলে বেরোবার পথ খুঁজে পাওয়া যেত না। পাহাড়ের শরীরটা একেবারে মসৃণ কালো পাথরের মত। তার শরীরখানা ছিল ভেজা ভেজা। তার মানে পাহাড়গুলো সবসময় ঘামে। সেই ঘাম থেকে সৃষ্টি হয় বনাঞ্চলে শত শত ছোট বড় ছড়া। ছড়ার পানি ভারি শীতল এবং তা এত পরিষ্কার যে আপনার পান করতে ইচ্ছে করবে। সত্যি সত্যি মানুষ তা পান করে। আমরা নদী, পুকুর, নলকূপ এমনকি বৃষ্টির পানিও পান করে থাকি। এসব পানির একেক ধরনের হালকা স্বাদ আছে। আমরা পান করলে তা টের পাই। কিন্তু ছড়ার পানির স্বাদটা আলাদা।

nab (3).JPG…….
ডুলাহাজারি সাফারি পার্কে
…….
আপনি যখন পাহাড়ের ওপর থেকে নিচে ছড়ায় নেমে আসবেন এবং ছড়া থেকে ওপরে পাহাড়ে উঠবেন তখন একটা নিঃশ্বাস আরেকটা নিঃশ্বাসের নাগাল পাবেন না। আপনি হাঁপানি রোগির মত মুখ দিয়ে শ্বাস নিতে থাকবেন এবং ছড়ার পানি পান করতে ছুটে যাবেন। তখন আপনি ওই পানির স্বাদ আরও বেশি করে উপলব্ধি করবেন।

ছড়াতে কোনো কাদা নেই। সর্বত্র বালি আর বালি। মাঝে মাঝে পাথরের সন্ধান পাবেন। কিন্তু সেই পাথর পাকা বাড়িতে ব্যবহারযোগ্য পাথরের মত কঠিন নয়। বনাঞ্চলে যেতে হলে এই ছড়া দিয়ে হেঁটেই যেতে হবে। তবে পথগুলো মসৃণ নয়। একবার আমি একটা ভয়ানক সমস্যায় পড়েছিলাম। (সম্পূর্ণ…)

পরের পাতা »

Disclaimer & Privacy Policy  |  About us  |  Contact us

© bdnews24.com