স্মৃতি

সেই ভয়ংকর দিনের স্মৃতি কিছু আমারও ছিল

ফারুক আলমগীর | ১৫ আগস্ট ২০১৭ ১:২৬ পূর্বাহ্ন

Mujibশেষ শ্রাবণের রাত। আকাশে মেঘের ঘনঘটা থাকলেও বৃষ্টি ছিলো না। কালো মেঘ মাঝে মাঝে ঢেকে দিচ্ছিলো চাঁদকে। হয়তো বৃষ্টি হয়েছে কাছে কোথাও। বাতাস তাই শীতল। কিন্তু রমনায় বৃষ্টি হয়নি। বৃষ্টি হয়নি ধানমন্ডী লেক ঘেঁষে বত্রিশ নম্বর সড়কের বাড়ীটিতে; যেখানে থাকেন বঙ্গবন্ধু, বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি ও বিশ্ববিদ্যালয় সমূহের চ্যান্সেলর। আগামীকাল তাই তিনি আসবেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাবর্তন অনুষ্ঠানে। উৎসবের সাজে সেজেছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়। স্বাধীনতার পরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম সমাবর্তন। স্বাধীনতার আগে মধ্যষাটে আমরা যারা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ; ১৯৬৫ সালের সমাবর্তন অনুষ্ঠান শুধু বর্জন করিনি; আমাদের যুগপৎ আন্দোলনে ষাটের দশকে কোন সমাবর্তন হতে পারেনি। তারপরের ইতিহাস- ঊনসত্তরের উত্তাল গণআন্দোলনের জোয়ার আর বাংলাদেশের গৌরবময় মুক্তিযুদ্ধ ও অভ্যুদ্যয়ের ইতিহাস যার অংশীদার আমরা, যারা তখন নবীন, যুবা, তারুন্যে টগবগ। আমাদের কৃষক, শ্রমিক, ছাত্র-জনতার এমন মিলিত ঐক্য বাংলাদেশ আর দেখেনি। সেই দুর্মর সময়ে কত ভয়ংকর রাত ও দিন পেরিয়ে এসেছি তা আমাদের সকলের অভিজ্ঞতায় কত রকম বেদনার দুঃসহ দাগ কেটেছে ,কিন্তু স্বাধীনদেশে যে এমন একটা সময়ে আমাদের হৃদয়ে কালো রক্তাক্ত ক্ষত সৃষ্টি হবে তা কি আমরা কখনো স্বপ্নে ভেবেছি? (সম্পূর্ণ…)

উপেক্ষিত সমুদ্রের টানে

আনিসুর রহমান | ১৯ জুলাই ২০১৭ ৯:৫৯ পূর্বাহ্ন


somudra gupta
কবি সমুদ্র গুপ্তের সাথে আমার পরিচয় হয়েছিল ১৯৯৭ সালের দিকে। আমি তখন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র; কবিযশপ্রার্থী। পরিচয়ের শুরুতেই তিনি এমনভাবে কথা বলছিলেন তিনি যেন কত আপন আত্মীয় আমার।
একদিন তিনি হঠাৎ করে বললেন – সমুদ্র গুপ্ত আমার লেখক নাম। আমার ভালো নাম কি বল তো?
-জানি না।
আবদুল মান্নান বাদশা।
জন্ম তাঁর সিরাজগঞ্জে। আমার বাড়ি টাঙ্গাইলের মধুপুরে। যমুনার দুই ধারের দুই প্রজন্মের দুই জন আমরা। একদিন তিনি বললেন- তুমি তো আমার এলাকার পোলা।
কেমনে?
অই অইলো, নদীর এইপার আর অইপার।
তাঁর ব্যক্তিগত আলাপচারিতা এমনই আপন করে নেয়ার তাগিদ-ভরা ছিল।
এরপর যতবার কথা হয়েছে, দেখা হয়েছে, সিরাজগঞ্জ-টাঙ্গাইলের মেশানো আঞ্চলিক টানে কথা বলতেন।
কবিতা উৎসবের অনেক ইতিবাচক দিকের পাশাপাশি ছোটবড় অনেক কবির কাঙালপনা আমাকে পীড়া দেয়। এই পীড়ায় সমুদ্রদাও পীড়িত ছিলেন। এসব আবার তিনি শিশুর মত করে বলতেন।
দেখলে তো? (সম্পূর্ণ…)

লুসি কালানিথি: বৈধব্য আমার যুগল জীবনের সমাপ্তি টানেনি

রেশমী নন্দী | ১ মার্চ ২০১৭ ২:১৮ অপরাহ্ন

paulপল কালানিথি, মৃত্যুর আগ পর্যন্ত চিকিৎসক হিসেবে দায়িত্বরত ছিলেন স্ট্যানফোর্ড ইউনিভার্সিটির নিউরোসার্জিকাল বিভাগে। ২০১৩ সালের মে মাসে তাঁর ফুসফুসে ক্যান্সার ধরা পড়ে। বেঁচে ছিলেন আরো বছর দুয়েক। ২০১৫ সালে মার্চ মাসে মারা যাবার আগ পর্যন্ত একজন রোগী হিসেবে এই চিকিৎসক মৃত্যুর দিকে তাঁর যাত্রা অভিজ্ঞতার কথা লিখে গেছেন যা তাঁর মৃত্যুর পর “When Breath Becomes Air” নামে প্রকাশিত হয়। তাঁর স্ত্রী লুসি কালানিথি, যিনি নিজেও একই বিশ্ববিদ্যালয়ে ক্লিনিকাল একসিলেন্স রিসার্চ সেন্টারে কর্মরত, বইটির পরিশেষ অংশে লেখেন তাঁর প্রিয় হারানোর বেদনা আর মৃত পলের হাত ধরে জীবনের দিকে এগিয়ে যাওয়ার কথা। লেখাটি অনুবাদ করেছেন রেশমী নন্দী।

গত মার্চে (মার্চ, ২০১৫) মাত্র ৩৭ বছর বয়সে আমার বর মারা যাওয়ার পর আমি শোকে এতটাই মূহ্যমান পড়েছিলাম যে দিনের পর দিন ঘুমাতে পারতাম না। সান্তাক্রুজ পাহাড়ের উঁচু মাঠে ওর যেখান সমাধি, একদিন বিকেলে সেখানে গেলাম। প্রশান্ত মহাসাগরের দিকে ঘুরেও না তাকিয়ে শুয়ে পড়লাম ওর সমাধির উপর। অনেকদিন পর গভীর ঘুমে ঢলে পড়লাম। চারপাশের প্রকৃতি নয়, অশান্ত আমাকে শান্ত করেছিল পল যে ওখানেই ছিল, মাটির নীচে। ওর শরীরকে কত সহজে মনে করতে পারছি- রাতের বেলা ওকে ছুঁয়ে শুয়ে থাকা, আমার মেয়ের জন্মের সময় ওর যে নরম হাতগুলো জোরে চেপে ধরেছিলাম সেগুলো, ক্যান্সারে শুকিয়ে যাওয়ার পরও মুখের উপর ওর তীক্ষ্ন চোখ — তবুও কি কঠিন ওকে ছোঁয়া। তার বদলে মাটিতে গাল লাগিয়ে আমি ঘাসের উপর শুয়েছিলাম।
ওর সাথে পরিচয়ের পর থেকেই আমি ওকে ভালবাসতাম। ২০০৩ সালে আমরা তখন মেডিকেলের শিক্ষার্থী। ও ছিল এমন একজন যে সত্যিকার অর্থেই মানুষকে হাসাতে পারতো ( স্নাতক পড়াকালীন গরিলার পোষাক গায়ে দিয়ে ও লন্ডনে ঘুরে বেড়িয়েছিল, বাকিংহাম প্যালেসে গিয়ে ছবি তুলেছিল, টিউবে চড়েছিল)। কিন্তু একই সাথে ও ছিল গভীর প্রজ্ঞার অধিকারী। ওর পরিকল্পনা ছিল ইংরেজী সাহিত্যে স্নাতোকত্তর শেষ করে পিএইচডি করবে, কিন্তু তার বদলে ও মেডিকেল স্কুলে যোগ দিল গভীর এক আকাঙ্খা নিয়ে। পরে ও লিখেছিল- “ এমন কিছু প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে যা বইয়ে লেখা নেই … এমন প্রশ্নের পিছনে ধাওয়া করতে যার জবাবে মিলবে মৃত্যু ও নিঃশেষের মুখোমুখি দাঁড়িয়েও মানুষের জীবনের অর্থময়তার উৎস।” (সম্পূর্ণ…)

সাহস ও সৃষ্টির অদম্য লেখক হুমায়ুন আজাদ

মিলটন রহমান | ২১ জানুয়ারি ২০১৭ ১:০৬ অপরাহ্ন

humayun_azadহুমায়ুন আজাদ: বহুমাত্রিক জ্যোতির্ময়। এই উপাধীটি আমরাই প্রথম দিয়েছিলাম। আমি এবং কাজল রশীদ শাহীন ২০০১ সালের শেষ দিকে একটি দীর্ঘ সাক্ষাৎকার করেছিলাম তাঁর। সে বছর ২৫ নভেম্বর দৈনিক আজকের কাগজের ‘তারকা কাগজ’-এ হুমায়ুন আজাদ-এর পুরো প্রচ্ছদবিস্তারি ছবি দিয়ে বেশ গুরুত্বের সাথেই ছাপা হয়েছিলো সেটি। তবে ছাপা হওয়ার আগে শিরোনাম নিয়ে কথা বলি হুমায়ুন আজাদ-এর সাথে। তিনি ‘হুমায়ুন আজাদ: বহুমাত্রিক জ্যোতির্ময়’ এই শিরোনামটি পছন্দ করে বলেন, হুম, দিতে পারো উপাধীটি, আমার জন্য যথার্থ’। আমাদের নেয়া সাক্ষাৎকারটি তিনি ধর্মানুভূতির উপকথা ও অন্যান্য গ্রন্থে নির্বাচিত সাক্ষাৎকার হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করেছেন।

ধীমান এবং ঋষিতুল্য এই ব্যক্তিত্বের প্রতি আমার আগ্রহ সবসময় বেশিই ছিলো। এক সময় তাঁর খুব কাছাকাছি থাকার সুযোগও হয়েছে। এখন প্রশ্ন জাগতে পারে কেন তাঁকে ‘বহুমাত্রিক জ্যোতির্ময়’ বলেছি। কারণ তিনি বাংলাসাহিত্যের অনেকগুলো ক্ষেত্র আলোকিত করেছেন। ভরিয়ে তুলেছেন মৌলিক কাজের জোছনায়। তিনি কবি, ঔপন্যাসিক, ভাষাবিজ্ঞানী, সমালোচক, প্রাবন্ধিক, কিশোরসাহিত্যিক, অনুবাদক, গবেষক এবং একজন দক্ষ শিক্ষক। তার নিজের লেখক চরিত্রে যুক্ত ছিলো প্রথাবিরোধিতা। হুমায়ূন আজাদ রাষ্ট্র এবং সমাজের অনেক প্রথা ভেঙে দিতে চেয়েছিলেন। তিনি কেন তা চাইতেন, সে ব্যাখাও তাঁর বিভিন্ন লেখা এবং সাক্ষাতকারে উদ্বৃত হয়েছে। একটি রাষ্ট্র তাঁর কাছে সর্বময় ক্ষমতা বা বিশ্বাসের জায়গা ছিলো না। বরং রাষ্ট্রের চেয়ে গুরুত্ব দিয়ে দেখেছেন একজন কবি, বিজ্ঞানী কিংবা দার্শনিককে। তাঁর মতে একটি রাষ্ট্র পরিচালনার জন্য প্রথম শ্রেণির মানুষের প্রয়োজন পড়ে না। কিন্তু কবিতা, দর্শন এবং বৈজ্ঞানিক আবিস্কারের জন্য প্রথম শ্রেণির মানুষ প্রয়োজন হয়। চলুন দেখা যাক এর পেছনে তিনি কি যুক্তি উপস্থাপন করেছেন, ‘মনে করা যাক যদি শেক্সপীয়র মন্ত্রী হতেন, রবীন্দ্রনাথ রাষ্ট্রপতি হতেন বা মনে করা যাক আইনস্টাইন বিজ্ঞানচর্চা ছেড়ে রাজনীতি করতেন, তাহলে কি সভ্যতার জন্য তা মঙ্গলজনক হতো? তা নয়। যিনি সৃষ্টিশীল হবেন, স্রষ্টা হবেন, বৈজ্ঞানিক দার্শনিক, অর্থনীতিবিদ বা সমাজবিজ্ঞানী, মনোবিজ্ঞানী হবেন, তাঁর প্রবণতাই ভিন্ন। তিনি সভ্যতা সৃষ্টি করেন। রাজনীতিবিদরা তা করে না( সাক্ষাৎকার-হুমায়ুন আজাদ:বহুমাত্রিক জ্যোতির্ময়।’ (সম্পূর্ণ…)

‘কুইজদাতা’ শওকত ওসমানের দুটি উপহার

রাজু আলাউদ্দিন | ২ জানুয়ারি ২০১৭ ৮:২২ অপরাহ্ন

Osmanসৃষ্টিশীলতা ও মননের আধুনিকতা তীক্ষ্ণ রসবোধ ও কৌতুকবোধের মাধ্যমে একটি পরিশীলিত রূপ লাভ করেছিল বাঙালি মুসলমান লেখকদের মধ্যে শওকত ওসমানের মধ্যেই সর্বপ্রথম, আর এই প্রকাশের বাহন ছিল তার গল্প, উপন্যাস ও প্রবন্ধ। তার মনন-নির্ভর শ্লেষ ও বিদ্রুপের শানিত রূপ তাকে আলাদা করে দিয়েছিলো তার সমসাময়িক সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহর সাহিত্যিক স্বভাব ও স্বরূপ থেকে, যদিও দুজনেরই সৃষ্টির প্রেক্ষাপট প্রধানত মুসলমান সমাজ ও জনগোষ্ঠী। জ্ঞান বিজ্ঞানের একটি পরিশ্রুত রূপ শওকত ওসমানের মধ্যে যেভাবে ফুটে উঠেছিল তার তুলনা পরবর্তী অন্য কোনো সৃষ্টিশীল বাঙালি মুসলমান লেখকদের মধ্যে বিরল।

জননী, ক্রীতদাসের হাসি’র মাতা স্মরণীয় উপন্যাসের পাশাপাশি তার বহু গল্পে শিল্পী হিসেবে আধুনিক রুচির রূপকার যেমন হয়ে উঠেছিলেন, তেমনি তার প্রবন্ধেও আমরা দেখতে পাই উদার ও মুক্তবুদ্ধির এক লেখককে যিনি জাতীয়তা ও ধর্মীয়বোধের সংকীর্ণ সংস্কার থেকে পুরোপুরি মুক্ত। আর তার একমাত্র কবিতার বই নিজস্ব সংবাদাতা প্রেরিতও ছিল সেই সঘন কৌতুকরস থেকে উৎসারিত কাব্যময় আত্মভাষ্য। লেখক হিসেবে শওকত ওসমানের এসব গুণ আমাদের কাছে ছিল খুবই শ্রদ্ধার ও আকর্ষণের।

আমরা যেসময় লেখালেখি শুরু করেছি তখনই তিনি সর্বজনগ্রাহ্য ও নমস্য এক লেখক। শুধু লেখকই নন, শুনেছি তিনি তুখোড় অধ্যাপকও। কিন্তু এই তুখোড় অধ্যাপক যখন নিজেকে নিয়ে জীবদ্দশায় আত্মমৃত্যুর কাব্যবার্তা ঘোষণা করেন কৌতুকরসের মিষ্টতায়, তখন অনুমান করতে অসুবিধা হয় না ব্যক্তিমানুষটি আলাপচারিতায় কতটা উপভোগ্য হতে পারেন। (সম্পূর্ণ…)

আহারে, চলে গেলো মন খারাপের গাড়ি

সাইফুল্লাহ মাহমুদ দুলাল | ৭ december ২০১৬ ৭:৪৪ অপরাহ্ন

ক.
আমি ভালোবেসে তাকে শাকিল না বলে, শালিক পাখি বলতাম। সে বলতো, ‘আপনি তো রবীন্দ্রনাথের প্রবাস-পাখি। দুলাল ভাই, দেশে ফিরে আসুন। আপনাকে আমাদের দরকার!’

বলতাম, কানাডায় না এলে কি খুনি নূরকে নিয়ে বই লিখতে পারতাম?

তখন জবাবে সে বলতো, তা ঠিক। আর আপনি জাতির পিতাকে নিয়ে একের পর এক যে কাজ করে যাচ্ছেন, আমরা আপনার কাছে কৃতজ্ঞ!
মাহবুবুল হক শাকিল, তোমার কাছেও আমরা কৃতজ্ঞ! তুমি আন্তর্জাতিক মাতৃভাষার রূপকার ভ্যাঙ্গুভারের বীর মুক্তিযোদ্ধা রফিকুল ইসলাম এবং কবি শহীদ কাদরী মারা যাবার পর যে ভূমিকা নিয়েছ, তা কোনো দিন ভুলবার নয়।

Dulalরফিক ভাই চলে যাবার পর তোমার কাছে যে সহযোগিতা পেয়েছি তা আজ আবারও মনে পড়ছে। তুমি প্রধানমন্ত্রীর শোকবাণী, রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় দাফনের জন্য যাবতীয় ব্যবস্থা করেছ। এবং তারচেয়েও বেশি শহীদ ভাইয়ের মৃত্যুর পর তুমি যে কত বার কাঁদতে কাঁদতে ফোন করে অস্থির করেছো। বলেছো- দুলাল ভাই, যে ভাবেই হোক শহীদ কাদরীকে দেশের মাটিতে ঘুমানোর ব্যবস্থা করেন। তুমি সারারাত জেগে ঢাকা-টরন্টো-নিউ ইয়র্ক ক্রমাগত ফোনের পর ফোন করে যাচ্ছিলে! এবং ৩৩ বছর বিদেশে থাকার একজন কবিকে দেশে নিয়ে যে সন্মান এবং মর্যাদা দিয়েছো, তা ভাবলে গর্বে বুক ভরে যায়। (সম্পূর্ণ…)

চাঁদে পাওয়া মানুষ হুমায়ূন আহমেদ

মাজহারুল ইসলাম | ১৩ নভেম্বর ২০১৬ ৬:২৫ অপরাহ্ন

ছোট ছোট ৫৭টি শব্দে লেখা কয়েক লাইনের চিঠি।

মাজহার,
ভাই, আরও দশ পৃষ্ঠা লিখতে হবে। এই দশ পৃষ্ঠা তাড়াহুড়া করলে উপন্যাসের ভয়ংকর ক্ষতি হবে। আগামীকাল সন্ধ্যার আগে শেষ দশ পৃষ্ঠা লেখা যাচ্ছে না।
তোমার পত্রিকা যদি পঁচিশ তারিখে বের করতেই হয় তাহলে আমার উপন্যাস যতটুক দেওয়া হয়েছে ততটুক ছেপে নিচে লিখে দাও–আগামী সংখ্যায় সমাপ্য।
আর কোনো বুদ্ধি তো বের করতে পারছি না।
হুমায়ূন আহমেদ

Huকিছুক্ষণ আগে ধানমণ্ডির বাসা থেকে ফিরে এসে ‘অন্যদিন’-এর কর্মী রতন এই চিঠি আমাকে দিয়েছে। আমাকে লেখা হুমায়ূন আহমেদের প্রথম চিঠি।
চিঠিটি পড়ে আমি চিন্তিত হয়ে পড়লাম। এদিকে বাজারে অন্য ঈদসংখ্যাগুলো সব চলে এসেছে। অন্যদিন ঈদসংখ্যার সব ফর্মা প্রেসে চলে গেছে। হুমায়ূন আহমেদের উপন্যাসের শেষ অংশের জন্য কয়েকটি ফর্মা আটকে আছে। কী করব বুঝতে পারছি না।
আমার চিন্তিত অবস্থার মধ্যেই হঠাৎ হুমায়ূন আহমেদের টেলিফোন–মাজহার শোনো, জীবনে বহু ঈদসংখ্যা প্রকাশ করার সুযোগ পাবে। কিন্তু এরকম জোছনা এক শ’ বছর পর আবার আসবে। এটা দেখার আর সুযোগ পাবে না। কাজেই দলবল নিয়ে নুহাশপল­ী চলে আসো। একসঙ্গে জোছনা দেখব এবং রাতে নুহাশপল্লীতে থাকবে। ভালো গান-বাজনার আয়োজন আছে। সঙ্গে সঙ্গে বললাম, স্যার, অবশ্যই আসব।
জোছনার প্রতি হুমায়ূন আহমেদের ভালো লাগা কী তীব্র ছিল, তা জেনেছি তাঁর লেখালেখি পড়ে, নাটক দেখে। ‘আজ জোছনা রাতে সবাই গেছে বনে’–প্রিয় এই রবীন্দ্রসঙ্গীতটি অনুভূতিতে এক নতুন মাত্রা যোগ করেছিল যেদিন এর অপূর্ব চিত্রায়ন দেখলাম তুমুল জনপ্রিয় ধারাবাহিক নাটক ‘এইসব দিনরাত্রি’-তে। তখনই জোছনার প্রতি একটা আকর্ষণ তৈরি হয়েছিল আমার ভেতর। কিন্তু জোছনা উদযাপন করতে হয় কীভাবে সে সম্পর্কে তেমন ধারণা ছিল না। তাই হুমায়ূন আহমেদের আমন্ত্রণ লুফে নিলাম তাৎক্ষণিকভাবে। আরেকটি বিষয় কাজ করেছিল, চাঁদ আর পৃথিবীর মধ্যবর্তী দূরত্ব কমতে কমতে প্রতি এক শ’ বছরে একবার চাঁদ এতটা কাছে আসে পৃথিবীর। তাই এরকম প্রখর চাঁদের আলো প্রতি এক শ’ বছর পর পাওয়া যায়। কারও ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতার জন্য নিশ্চয়ই এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা। আর এরকম একটি ঘটনায় এ মুহূর্তে হুমায়ূন আহমেদের সঙ্গে কাটানোর সুযোগ পাওয়াটাও অনেক সৌভাগ্যের বিষয়। (সম্পূর্ণ…)

ফাদার দ্যতিয়েন : বাংলা গদ্যের শক্তিমান লেখক

শামসুজ্জামান খান | ২ নভেম্বর ২০১৬ ৩:৫৬ অপরাহ্ন

father-1
আলোকচিত্র: মুহাম্মদ মোজাম্মেল হক, একুশে গ্রন্থমেলা ২০১৪ এর উদ্বোধনী দিনের ছবি।
বেশ ক বছর আগে ঢাকা ঘুরে গিয়েছিলেন সাদা পাঞ্জাবি পাজামা পরা শ্মশ্রুমন্ডিত এক বিদেশি সাহেব। হ্যাঁ, একটু কৌতুকের সঙ্গে তিনি নিজেকে ‘সাহেব’ও বলতেন মাঝে মধ্যে। সাধারণ পোশাক-আশাক এবং চলনবলনে তাঁকে কিন্তু এক সৌম্যকান্ত বাঙালি বৃদ্ধের মতোই মনে হত আমাদের। আসলে তিনি একজন বিদেশি মিশনারি– নাম ফাদার দ্যতিয়েন। মা-বাবা নাম রেখেছিলেন পল দ্যতিয়েন। পল দ্যতিয়েন জন্মেছিলেন বেলজিয়ামের রশ্ফয় নামের একটি জায়গায় ১৯২৪-এর ৩০ ডিসেম্বর। বাবার নাম ফ্যানি এবং মা এলিজাবেথ।
বাংলাভাষী অঞ্চলে ফাদার দ্যতিয়েন বাংলার বিদ্ব্যৎ সমাজে এক পরিচিত নাম। তাঁর মাতৃভাষা ফরাসি হলেও বাংলা ভাষায় তাঁর ব্যুৎপত্তি রীতিমত ঈর্ষণীয়। উইলিয়াম কেরীর পুত্র ফেলিক্স কেরী বহু বছর আগে বলেছিলেন, বাংলা তার দ্বিতীয় মাতৃভাষা। একথাটি খুব জোরের সাথে বলতে পারতেন ফাদার দ্যতিয়েনও। ১৯৭১-এ পুস্তকাকারে প্রকাশিত তাঁর বাংলা রচনা ডায়েরির ছেঁড়া পাতা এবং ১৯৭৩-এ প্রকাশিত রোজনামচা তাঁকে বাংলা ভাষার এক শক্তিমান লেখক হিসাবে প্রতিষ্ঠিত করেছে।
বাংলা একাডেমির বর্ধমান হাউসে বসে তাঁর সঙ্গে আমাদের কথা হয় ১৯৯০-এর জুলাই মাসের ২৬ তারিখে। কথা ছিলো, সকাল দশটায় আসবেন। সোয়া নয়টায় তিনি হাজির হলেন, হেসে বললেন, “বাঙালি সময় না-সাহেবি সময় তো নয়ই– ‘অদ্ভুত’ সময়ে এলাম। পঁয়তাল্লিশ মিনিট আগে এসে গেলাম।” ‘এসে গেলাম’ কথাটি আবার উচ্চারণ করে হাসলেন এবং কৌতুকমিশ্রিত স্বরে বললেন : ‘এসে গেলাম’ আপনারা বাঙালিরা বলেন, এটি আপনাদের নিজস্ব বলবার ধরন। ‘এসে গেলাম’ মানে: ‘এসে পৌঁছলাম’, ‘এসে আবার চলে গেলাম নয়।’ কোন বিদেশি এটা না জেনে অনুবাদ করলে কেমন হবে বলুন তো। (সম্পূর্ণ…)

শহীদ কাদরী: সে এক অদ্ভুত মানুষ যে শনাক্ত হতে চায় না

অলোকরঞ্জন দাশগুপ্ত | ৩১ অক্টোবর ২০১৬ ১১:০০ অপরাহ্ন

Shahidএই মুহূর্তে, এই দুঃসংবাদ, যদিও প্রত্যাশিত–তবু আমি ভীষণ ক্ষেপে আছি, এটা একেবারেই স্বতসিদ্ধ। যেহেতু প্রায় দেড় দশক দুই দশক ধরে এর জন্য প্রস্তুত ছিলাম। এবং ভেবেছিলাম যে, একদিন এই চূড়ান্ত দুঃসংবাদ পাবো, এর জন্য তৈরিও ছিলাম। কিন্তু দেখা যাচ্ছে যে, আসলে আমরা তৈরি থাকলেও, আমরা যারা নশ্বর মানুষ, তাদের পক্ষে এ রকম ঘটনা সহ্য করে নেওয়ার মতো কোনো রকম সামর্থ নেই।
যখনই এই খবর ফারুকের মধ্য দিয়ে পেলাম, ফারুক আমার ভাই স্বরূপ, আমি তখনই ফারুককে বললাম যে ফারুক, শক্তির বিয়োগ সংবাদ পেয়ে আমি একটা সনেট পাঠিয়েছিলাম, আজকে যদি তোমাকে একটা শোকগাথা পাঠাই, আমার মনে হলো আমি পারি, আমি শোকগাথা লিখতে পারবো, কিন্তু সেটা খুব আলঙ্কারিক হবে। এখন আমি যেটা বলতে চাই দু’চারটি কথা যে এই মুহূর্তে আমাদের শহীদ কাদরীর প্রতিভার মূল্যাঙ্কন করার সামর্থ আমার নেই। কিন্তু এইটুকু আমার মনে হয়, আমার ভীষণভাবে মনে হয়, গত কয়েক বছর ধরে যতদিন তাকে দেখিনি, সেই সময় অন্য একটা সান্নিধ্য গড়ে উঠেছিল, কি লিখছে কি না লিখছে। তো এখন ওর সবশেষ যেই বইটা যেটা প্রবাসে লেখা–আমার চুম্বনগুলি পৌঁছে দাও–সেটা আমার হাতে আসেনি। কে যেন টুইট করে জানিয়ে দিয়েছিল যে এই বইটা ২০০৯ সালে বেরিয়ে গেছে।
এবং আমি ভাবছিলাম যে, এলিয়ট এক জায়গায় যেমন বলেছিলেন যে, প্রত্যেক কবি, প্রত্যেক মানুষ থেকে বয়সে বিলম্বিত, অনেক বড়। প্রত্যেক কবির ক্ষেত্রে এই কথাটা বলা যায় যে, তাদের এই মৃত্যু আমাদের বিবেকের সংবিতের পক্ষে খুব প্রয়োজনীয় একটা ঘটনা।
মঁতেইগ যিনি পারসোনাল এসেস-এর প্রবক্তা ছিলেন তিনি বলেছিলেন, দার্শনিকতা করার মানে হচ্ছে, মৃত্যুকে কিভাবে আয়ত্ত করা যায় সেটা শিখে নেওয়া। এখানে একটা ঘরোয়া সেমিনারের মতো চলছিল।
বুঝতে পারলাম, নশ্বরতার একটা কবিতার মন্ত্র আছে যা কবিতাকে সঞ্চালিত করতে পারে।
আপাতত বলাই বাহুল্য যে, আমি এমন কোনো কথা বলব না যে-কথা কোনো বইয়ের, কোনো শোকলিপির উপক্রমনিকা হতে পারে। আমি সেটা বলবো না। (সম্পূর্ণ…)

হক ভাই, আপনি আমার বিশ বছর বাঁচিয়ে দিয়ে গেলেন

আনিসুর রহমান | ১২ অক্টোবর ২০১৬ ১১:০৮ পূর্বাহ্ন

Syed+Shamsul+Haq_26092016_0001গত শতাব্দীর সত্তরের দশকের শেষাবধি থেকে নব্বই দশকের মাঝামাঝি পর্যন্ত যে সময়ে আমার জন্ম, বেড়ে ওঠা এবং বিদ্যালয় ও কলেজ জীবনের সময়কাল–এর কোনো পর্যায়েই সৈয়দ শামসুল হকের সাথে তো দূরের কথা তার নামটির সাথেই আমার পরিচয় ঘটেনি। ১৯৭৫ সালে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে সপরিবারে হত্যার মধ্য দিয়ে বুট ও জলপাই রঙের পোশাকের দাপটের সাথে বাংলাদেশের রাজনীতির অন্দরে ও বাহিরে যেভাবে সাম্প্রদায়িকীকরণ চলছিল, তার ফল হিসেবে আমাদের সৈয়দ শামসুল হকের মতো কবিরা লেখকরা পাঠ্যপুস্তক থেকে নির্বাসিত হন।
আমার বাবা প্রান্তিক চাষী এবং আমাদের গ্রামটি একেবারে অজপাড়াগা দিগরবাইদ যা মধুপুর থানা সদর থেকে সাড়ে তিন মাইল ভেতরে। যেখান থেকে দৈনিক পত্রিকার সাহিত্যপাতা অথবা পাঠ্যপুস্তকের বাইরে কোন বইয়ের সাথে পরিচয় হবার সুযোগ আমার ছিল না। মধুপুর শহীদ স্মৃতি উচ্চ বিদ্যালয়ে পড়াশোনাকালীন দৈনিক পত্রিকার সাহিত্যপাতায় সৈয়দ শামসুল হকের কবিতা প্রথম পড়েছি, আমার আজও সে কথা মনে পড়ে। ঐ বয়সে কবিতা আর কি বুঝি!
তারপর ১৯৯৫ সালে উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষার পর কয়েকজন বন্ধুবান্ধর মিলে মধুপুর সাহিত্য পরিষদ গঠন করি এবং সাহিত্য পরিষদ থেকে অজনিকা নামে একটি লিটল ম্যাগাজিন প্রকাশের উদ্যোগ গ্রহণ করি। অজনিকা’র সম্পাদকের দায়িত্ব আমার উপর অর্পিত হলে মধুপুরের কবি শামীম পারভেজের দ্বারস্থ হয়েছিলাম। তিনি তখন ময়মনসিংহের আনন্দমোহন কলেজের ছাত্রাবাসে থাকেন। অজনিকা সাময়িকীটি ধারদেনা করে ময়মনসিংহের এক অফসেট ছাপাখানা থেকে ছাপিয়েছিলাম। তখন শামীম ভাইয়ের সাথে আমার বেশ সখ্য গড়ে উঠেছিল। শামীম ভাই সৈয়দ শামসুল হক সম্পর্কে আমাকে কিছুটা ধারণা দিয়েছিলেন।
এখানে উল্লেখ করা প্রয়োজন শামীম ভাই ‘চন্দ্রাবতীর কয়েকজন সন্তান’ নামে কয়েকজন বন্ধু মিলে একটি কাব্যগ্রন্থ প্রকাশের পর বছর খানিক পূর্বে অকাল প্রয়াত হয়েছেন। সৈয়দ শামসুল হক সম্পর্কে তার একটি কথা আজও মনে পড়ে, সৈয়দ শামসুল হক সাহিত্যের বহুবিধ শাখায় বিচরণ করলেও তিনি নিজেকে কবি হিসেবে দেখতেই পছন্দ করেন। (সম্পূর্ণ…)

মোঃ দরবেশ আলী খান: আমার পিতার মুখ

বিপাশা আইচ | ৮ অক্টোবর ২০১৬ ৮:৪৪ অপরাহ্ন

আমরা এক সময় পিরোজপুরে থাকতাম। আমার শৈশব কেটেছে সেখানে। আমার আব্বা মোঃ দরবেশ আলী খান পিরোজপুর সরকারি কলেজের প্রিন্সিপাল ছিলেন। সেই সুত্রে আমাদের পিরোজপুরে বসবাস করতে হয়েছিল বেশ কয়েক বছর। তারপর আব্বা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে যোগ দেন বলে আমরা ঢাকায় চলে আসি।
কিন্তু পিরোজপুরের সেই দিনগুলো আমার মনে বিশেষভাবে দাগ কেটে আছে। আজকের যে আমি, আমার বিশ্বাস, জীবন বোধ, ভালোবাসা তার অনেকটাই পিরোজপুরে তৈরি হয়েছে। জীবনের অনেকটা জুড়ে আছে আমার জন্মস্থান, আমার নানা বাড়ি খাজুরিয়া ও পিরোজপুর।
আমার জীবনের সবচেয়ে বেশি সময় কাটিয়েছি ঢাকায়। তবুও মনে হয় ঢাকার থেকে বেশি পেয়েছি খাজুরিয়া ও পিরোজপুরে। খাজুরিয়া ছিল একটা অজ পাড়াগাঁ। পিরোজপুর ছিল সাবডিভিশন শহর, অর্থাৎ অর্ধেক গ্রাম।
Darbesh-1
তার মানে এই হল যে শহরের চেয়ে গ্রাম আমাকে বেশি টানে। লরা ঈঙ্গলস ওয়াইল্ডারের মতো ঘাসের বনে, নদীর তীরে ছুটোছুটি করে জীবন কাটানোর স্বপ্নও দেখেছি বহুদিন। যদিও বুঝতে পারি এখন আর গ্রামে গিয়ে বসবাস করা সম্ভব নয়। শহরের জীবনে পুরোপুরি অভ্যস্ত হয়ে গেছি।
আমরা যখন পিরোজপুরে থাকি প্রিন্সিপাল হিসেবে আব্বা যথেষ্ট ভালো রোজগার করতেন। কিন্তু আমরা কখনই কোন বিলাসিতায় অভ্যস্ত ছিলাম না। আব্বা গরীব আত্মীয় স্বজন, এমনকি স্বল্প পরিচিত গরীব ছাত্রদেরও লেখাপড়ার দায়িত্ত নিতেন। এমনকি দল বেঁধে প্রতিদিন গরীব ছাত্ররা আমাদের বাসায় এসে ভাত খেয়ে যেতো। তাই আমরা ভাইবোনেরা বছরে একবার মাত্র নতুন কাপড় পেতাম। তাও ঈদের সময় নয়। ঈদে আব্বা যেসব নতুন কাপড় কিনতেন সেগুলো আমরা পেতাম না। গরীব আত্মীয় স্বজনদের সেগুলো দিয়ে দেয়া হতো। মনে মনে খুব কষ্ট পেলেও মুখে কোনদিন সে কথা বলিনি।
অনাড়ম্বর জীবন যাপনের এবং সবকিছু অন্যের সাথে ভাগ করে নেওয়ার যে শিক্ষা আব্বা সারা জীবন শিখিয়েছিলেন তা ঠিক মতো শিখতে পারিনি। আবার ভুলতেও পারিনি পুরোপুরি। (সম্পূর্ণ…)

প্রদ্যুম্ন ভট্টাচার্য: কয়েকটি টীকা ও টিপ্পনী

একরাম আলি | ৩ অক্টোবর ২০১৬ ৬:১২ অপরাহ্ন

produmnoকোনো ন্যাশনাল ডেইলিতে এমন খবর ছাপা হয়নি: PRADYUMNA BHATTACHARYA IS NO MORE। কোনো বাংলা কাগজের পক্ষেও জ্ঞান-সীমান্তের এতটা দূরবর্তী অঞ্চলে পৌঁছনো প্রায় অসম্ভব।
ওই যে শুয়ে আছেন সকালবেলা, সিমেন্টের মেঝের উপর অতিসাধারণ শয্যায়, শিয়রে মাটির প্রদীপ, মুখের চারদিকে মশা উড়লেও বন্ধ চোখে গভীর প্রশান্তি, গুটিকয়েক মানুষের শোকচ্ছায়ায় এক মহিলা মৃদুকণ্ঠে একমনে গেয়ে চলেছেন রবীন্দ্রনাথের গান, ওই মানুষটি জীবিত অবস্থায় ছিলেন একান্তভাবেই নির্জনতাবাসী। বলা ভালো, নিজের জন্যে একটা গুহাই বানিয়েছিলেন আদিম কালের গ্রানাইট পাথর দিয়ে। ‘আদিম’ শব্দটি ব্যবহারের বিশেষ উদ্দেশ্য এই যে, তাঁর চর্চার বিষয়ে তিনি সব সময় পৌঁছতে চাইতেন উৎসে, আকরে। নতুন চিন্তায় পৌঁছতে এটাই ছিল তাঁর পথ।
প্রদ্যুম্ন ভট্টাচার্য (জন্ম ২০ নভেম্বর ১৯৩২, মৃত্যু ২ অক্টোবর ২০১৬)। বাবা স্বনামধন্য নদী-বিশেষজ্ঞ কপিল ভট্টাচার্য ছিলেন পশ্চিমবঙ্গ সরকারের মুখ্য বাস্তুকার। মা আলোকময়ীকে জীবনের দীর্ঘ সময় কাটাতে হয়েছে রাঁচির পাগলা গারদে।
বিপর্যস্ত জীবন। মাত্র চারটি গ্রন্থের এই জনককে নিয়ে তবু অনুরাগীমহলে আগ্রহের আর শ্রদ্ধার সীমা ছিল না। বেশ কয়েকটি গল্প ঘুরেছে তাঁর অতলস্পর্শী অনুসন্ধিৎসা নিয়ে, কোনো রচনার আগে নিজের প্রস্তুতি নিয়ে। সেগুলোর সত্যতা কতটা, জানি না। দরকারও নেই জানার। তবে সে-সব গল্পের গিঁট খুললে যে-সুগন্ধটুকু বেরিয়ে আসে তাতে এটুকু বোঝা যায়, তিনি ছিলেন বাংলাভাষায় জ্ঞানচর্চার এক বিরল মানুষ। (সম্পূর্ণ…)

পরের পাতা »

Disclaimer & Privacy Policy  |  About us  |  Contact us

© bdnews24.com