ওয়েব গ্যালারি

আসেম আনসারীর একক প্রদর্শনী : চিত্রের কাব্য ভ্রমণ

অলাত এহ্সান | ৪ ফেব্রুয়ারি ২০১৬ ৬:৩৪ অপরাহ্ন

asem-ansari-1.jpgচৈনিক কবি লি পো চাঁদের মোহনীতায় এতটাই আকৃষ্ট ছিলেন যে, এক চাঁদনী রাতে ঝিলের জলে নৌকা ভাসালেন চাঁদ দেখার জন্য। একসময় তাঁর খেয়াল হলো ঝিলের স্বচ্ছ জলেও আরেক চাঁদ দেখা যাচ্ছে যা আকাশের চাঁদের মতোই আকর্ষণীয় এবং তিনি ইচ্ছে করলেই এই চাঁদটা ধরতে পারেন। লি পো সেই চাঁদ ধরতে গিয়েই জলে ডুবে মারা যান। ‘চাঁদে পাওয়া’ বিষয়টা মুটোমুটি এই। সাহিত্যিকদের ক্ষেত্রে, বিশেষ করে কবিদের ভেতর এমন কথা বেশি প্রচলিত। যখন কিনা কাব্যের ঘোর তৈরি হয় তখন একে বলেন ‘চান্দে পাওয়া মানুষ’। অর্থাৎ ভাবই কবিকে তাড়িত করে কবিতা লেখার জন্য।

চাঁদের প্রতি যার আকর্ষণ আত্মিক, মাঘের এই শিশির ঝরা রাতে পূর্ণিমার চাঁদ দেখা থেকে তাকে কোনোভাবেই নিবৃত করা যাবে না। তখন আমাদের মনে পড়ে জীবনানন্দ দাশের কবিতা ‘আট বছর আগের একদিন’র লাইলগুলো—‘শোনা গেল লাশকাটা ঘরে/ নিয়ে গেছে তারে;/ কাল রাতে- ফাল্গুনের রাতের আঁধারে/ যখন গিয়েছে ডুবে পঞ্চমীর চাঁদ/ মরিবার হলো তার সাধ’। চিত্রকর্মেও এই বিষয়টা পাওয়া যায় আসেম আনসারীর কাজে। গত ১৫—৩১ জানুয়ারি, রাজধানীর ধানমণ্ডির ৬ নাম্বার রোডের ৪ নাম্বার বাড়ির ‘গ্যালারী চিত্রক’-এ হয়ে গেল তার চতুর্থ একক চিত্র প্রদর্শনী। ‘Less is more’ শিরোনামের ১৬ দিনব্যাপী এই চিত্র প্রদর্শনী। মাঘের সন্ধ্যার লগ্নে বরেণ্য চিত্রশিল্পী অধ্যাপক সমরজিৎ রায় চৌধুরীর সভাপতিত্বে প্রদর্শনী উদ্বোধন করেন প্রখ্যাত চিত্র শিল্পী মনিরুল ইসলাম।
৩টি জল রং এবং ৩১টি মিশ্র মাধ্যমে আঁকা চিত্রকর্ম স্থান পায় প্রদর্শনীতে। এগুলো সেই ২০১৩ থেকে শুরু করে ’১৫-এর শেষ অবধি, বিভিন্ন সময়ে এঁকেছেন শিল্পী। এক-একটি চিত্রে শিল্পীর আঁকার প্রতি যত্ন ও অনুভূতির অতল বোঝা যায়। দীর্ঘ বিরতির পর প্রদর্শনীর মতোই জনাব আনসারী যেন মাটির গভীরে ফিরতে চেয়েছেন ছবিতে। তার ছবির বিষয়বস্তুর দিকে দৃষ্টি দিলেই তা বোঝা যায়। (সম্পূর্ণ…)

সালাউদ্দীনের চিত্রকলা: বিহগদৃষ্টিতে মুঘল-ঢাকা

শিশির ভট্টাচার্য্য | ১০ নভেম্বর ২০১৫ ৫:৩৮ অপরাহ্ন

sisir-2.jpg২০১৫ সালের অক্টোবর মাসে ঢাকা আলিয়ঁস ফ্রঁসেজের লা গ্যালারিতে কাজি সালাউদ্দীন আহমেদের একক চিত্রপ্রদর্শনী হয়ে গেলো। এই প্রদর্শনীর বিশেষ বৈশিষ্ট্য হচ্ছে এই যে সবগুলো ছবিতেই ঢাকা শহরকে বিহগাবলোকনে (Bird’s eye view) দেখানো হয়েছে। একটি ছবিতে দেখা যাচ্ছে, বৃষ্টিস্নাত গাছপালার ঘন সবুজের ফাঁকে দুই একটি রাস্তা, অল্পবিস্তর বাড়িঘর। এক সময় ঢাকার বেশিরভাগ অংশ এরকম ছিল এবং এখনও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকাটা বিহগ-দৃষ্টিতে এরকম মনে হতে পারে, জানালেন সালাউদ্দীন। প্রদর্শনীর আরও দুই একটি ছবিতেও সবুজ আছে, তবে তা ঢাকা শহরের দূষণকবলিত, ধূলিধুসরিত গাছপালার বিবর্ণ, ফিকে সবুজ।

সালাউদ্দীনের ছবিগুলোতে বিভিন্ন আকৃতির চতুর্ভূজের প্রাধান্য লক্ষ্য করা যাবে। বাড়ির ছাদের প্রতীক চতুর্ভূজগুলো এমন অগোছালোভাবে একটি আর একটির সাথে লেগে-লেপ্টে আছে যে বোঝাই যায় না কোথায় এক একটি মহল্লার শুরু, কোথায়ইবা তার শেষ। চতুর্ভূজগুলো সাদাকালো, কারণ পুরোনো ঢাকার বাড়িগুলোর বয়স হয়েছে। এককালে দেয়ালে-ছাদে রঙ থাকলেও কালের প্রবাহে সে রঙ সাদাটে হয়ে গেছে। চতুর্ভূজের ফাঁকে ফাঁকে কালো রঙের দাগগুলোকে দুই ভবনের মাঝের অপরিসর কালো পিচের রাস্তা বলে মনে করা যেতেই পারে। (সম্পূর্ণ…)

সাম্প্রতিক তিনটি চিত্র প্রদর্শনী

| ১৯ মে ২০১৫ ৬:১৩ অপরাহ্ন

সম্প্রতি ঢাকায় ভিন্নধর্মী তিনটি চিত্র প্রদর্শনী শুরু হয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ এই প্রদর্শনীগুলো নিয়ে লিখেছেন অঞ্জন আচার্য এবং আব্দুল হালিম চঞ্চল।

শিল্পকলায় পক্ষকালব্যাপী ছাপচিত্র প্রদর্শনী

অঞ্জন আচার্য

গুরুশিল্পীরা কাজ করেছেন আর তার ছায়াতলে দীক্ষিত হয়েছে নবীন শিল্পীরা। তাই গুরুর কাজের শেষ রশ্মিটুকু নিয়ে আবার নতুন দিনের আলো জ্বালিয়েছে নবীন প্রজন্মের শিল্পীরা। আসলে সূর্যহীন অন্ধকারের কোন ইতিহাস নেই; ইতিহাস আছে শুধু সূর্যোদয়ের আর সূর্যের আলোয় উজ্জ্বল প্রহরের। এভাবে শেষ থেকে শুরু হতে হতে এদেশের শিল্পের প্রজন্মের পর প্রজন্ম পেরিয়ে শাখা প্রশাখায় প্রসারিত হয়ে পড়েছে।
বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমী ও শূণ্য আর্ট স্পেস যৌথভাবে একাডেমীর জাতীয় চিত্রশালায় ১৬ মে থেকে ৩০ মে “শেষ থেকে শুরু” শীর্ষক পক্ষকালব্যাপী ছাপচিত্র প্রদর্শনীর আয়োজন করেছে। এ উপলক্ষে গত শনিবার বেলা ১২টায় বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমীর জাতীয় চিত্রশালায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে পক্ষকালব্যাপী ছাপচিত্র প্রদর্শনীর উদ্বোধন করেন বরেণ্য শিল্পী অধ্যাপক রফিকুন নবী। বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমীর মহাপরিচালক লিয়াকত আলী লাকীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন স্পেন-প্রবাসী বরেণ্য শিল্পী মনিরুল ইসলাম এবং শিল্পসমালোচক মইনুদ্দীন খালেদ। অনুষ্ঠানে শুভেচ্ছা বক্তব্য প্রদান করেন শূণ্য আর্ট স্পেস-এর প্রধান নির্বাহী জাফর ইকবাল। প্রদর্শনী প্রতিদিন বেলা ১১টা থেকে রাত ৮টা এবং শুক্রবার বেলা ৩টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত দর্শকদের জন্য খোলা থাকবে। (সম্পূর্ণ…)

ইসাবেল : কালদগ্ধ ও রূপমুগ্ধ

মইনুদ্দীন খালেদ | ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০১৫ ৩:৩১ অপরাহ্ন

isabel-2.gifগত রোববার ( ২২ ফেব্রুয়ারি ২০১৫) ধানমন্ডির দৃক গ্যালারিতে ২২ থেকে ২৬ ফেব্রয়ারি পর্যন্ত মেক্মিকোর তরুণ চিত্রশিল্পী ইসাবেল জামানের এক চিত্রপদর্শনীর উদ্বোধন হয়। উদ্বোধন করেন তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি ছিলেন চিত্রশিল্পী মনিরুল ইসলাম। মেক্সিকান বংশোদ্ভূত শিল্পী ইসাবেলের এই একক প্রদর্শনীর বেশিরভাগ ছবির বিষয় বাংলাদেশ। বিভিন্ন মাধ্যমে আঁকা বিভিন্ন আয়তনের মোট ২১টি ছবি রয়েছে। চলমান এই প্রদর্শনী নিয়ে লিখেছেন চিত্রসমালোচক মইনু্দ্দীন খালেদ। বি.স. (সম্পূর্ণ…)

কাজী রকিব: “আমি মাথা দিয়ে চলি না, মন দিয়ে চলি”

চিন্তামন তুষার | ২৭ জানুয়ারি ২০১৫ ১:৪৬ অপরাহ্ন

kazi-rakib.gifগত ১৬ জানুয়ারি থেকে শিল্পী কাজী রকিব(জন্ম ৫ ফেব্রুয়ারি , ১৯৫৫)-এর প্রদর্শনী শুরু হয়েছে উত্তরায়, গ্যালারি কায়ায়; প্রদর্শনী চলবে ৩০ জানুয়ারি পর্যন্ত। তবে অবরোধ ও হরতাল অব্যাহত থাকায় প্রদর্শনীর সময়সীমা আরও এক সপ্তাহ ( ৬ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত) বাড়ানো হয়েছে। শিল্পীর একাদশতম এই একক প্রদর্শনীতে মোট ৭৫টি শিল্পকর্ম স্থান পেয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে এক্রেলিক অন ক্যানভাস ১৭টি, ওয়াটার কালার ১৩টি, এক্রেলিক অন পেপার ৮টি, অয়েল অন ক্যানভাস ৪টি, পেন্সিল অন পেপার ৬টি, প্রিন্ট ৪টি, ড্রয়িং ২৩টি, কোলাজ ২টি, গ্লাসওয়ার্ক ২টি, প্যাস্টেল অন পেপার ১টি। মাধ্যম এবং বিষয়ের বৈচিত্র্যে শিল্পী কাজী রকিবের এই প্রদর্শনী এক গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা। নানান ধরনের পরীক্ষা-নিরীক্ষার মাধ্যমে শিল্পী নিজেকে বদলে নিয়েছেন বারবার। এমনকি, রংয়ের ক্ষেত্রেও তিনি কখনও একই ধারণায় বন্দী হয়ে থাকেননি। ‘ঢাকা পেইন্টার্স’(১৯৭৪-৭৭)-এর প্রতিষ্ঠাতা সদস্য কাজী রকিব সুররিয়ালিজমের মতো প্রকরণকেও আত্মস্থ করেছিলেন নিজের জন্য বহুবর্ণিল ও পরিব্যাপ্ত এক জগতকে নিশ্চিত করে তোলার লক্ষ্যে। এবং এই লক্ষ্যে তার সাফল্য তাকে আমাদের অগ্রগণ্য শিল্পীদের একজন করে তুলেছে। শিল্পকলার সাবেক শিক্ষক এই শিল্পী, শিল্পের দায়কে যে নিষ্ঠা ও সততার সঙ্গে উচ্চতর অবস্থানে নিয়ে গেছেন তা আমাদের কাছে অত্যন্ত গৌরবের– তাতে কোনো সন্দেহ নেই। চলমান এই প্রদর্শনী উপলক্ষে সম্প্রতি তার একটি দীর্ঘ সাক্ষাৎকার গ্রহণ করেছেন চিন্তামন তুষার। অডিওতে ধারণকৃত সাক্ষাৎকারের লিখিত রূপটি এখানে প্রকাশ করা হলো। বি.স. (সম্পূর্ণ…)

আমি আনন্দ ছাড়া আঁকতে পারি না, দুঃখ ছাড়া লিখতে পারি না

–মুতর্জা বশীর

রাজু আলাউদ্দিন | ২০ সেপ্টেম্বর ২০১৪ ১১:০৮ অপরাহ্ন

bashir.jpgগত ১২ সেপ্টেম্বর থেকে প্রবীণ শিল্পী মুর্তজা বশীর(জন্ম আগস্ট ১৭, ১৯৩২)-এর প্রদর্শনী শুরু হয়েছে উত্তরায়, গ্যালারিকায়ায়; প্রদর্শনী চলবে ২৫ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত। প্রদর্শনীতে শিল্পীর ওয়েল প্যাস্টেল অন ক্যানভাসে আঁকা ১৭টি, ওয়েল অন ক্যানভাসে আঁকা ২টি, ৯টি কোলাজ এবং ১৯৫৪ থেকে ২০১৪ সালের মধ্যে প্যাপারে আঁকা ১৮টি ড্রয়িংসহ মোট ৪৬টি শিল্পকর্ম স্থান পেয়েছে। বিষয়বৈচিত্রে যেমন, তেমনি শৈলী ও মাধ্যমের দিক থেকেও তার এবারের প্রদর্শনী দর্শকদের জন্য এক স্মরণীয় অভিজ্ঞতা। শিল্পী বশীর পুরাণের সেই কাল্পনিক জীব প্রটিয়াসের মতো যিনি নিজেকে বদলে নিয়েছেন বারবার, কিন্তু বামপন্থী রাজনৈতিক বিশ্বাস আর গণমানুষের প্রতি অঙ্গীকারের জায়গায় তিনি নিজেকে রেখেছেন অপরিবর্তিত। চিরনতুন এই প্রবীণ শিল্পীর প্রদর্শনী উপলক্ষে সম্প্রতি তার একটি দীর্ঘ সাক্ষাৎকার গ্রহণ করেছেন কবি ও প্রাবন্ধিক রাজু আলাউদ্দিন। সাক্ষাৎকারের পূর্ণ ভিডিওসহ লিখিত রূপটি এখানে প্রকাশ করা হলো। বি.স. (সম্পূর্ণ…)

বরেণ্য শিল্পী সৈয়দ জাহাঙ্গীর

সৈয়দ ইকবাল | ৭ জুন ২০১৪ ২:৫৪ অপরাহ্ন

border=0প্রবীণ শিল্পীদের মধ্যে সৈয়দ জাহাঙ্গীর নিজে যেমন শৈলিপ্রবণ তেমনি ওনার কাজেও সেটা বিদ্যমান। ৩১শে মে শনিবার সন্ধ্যা ছয়টায় আরেক বরণ্যে ব্যক্তিত্ব বোরহানউদ্দিন খান জাহাঙ্গীর প্রধান অতিথি হিসেবে সৈয়দ জাহাঙ্গীরের ৪১ তম একক প্রদর্শনী Of man and earth উদ্বোধন করেন গুলশানে বেঙ্গল লাউনজে। বিশেষ অতিথি ও আলোচক ছিলেন স্থপতি শামসুল ওয়ারেশ। উপস্থাপনায় ছিলেন বেঙ্গল শিল্পালয়ের প্রধান কর্মকর্তা নাহিদ লুভা চৌধুরী। উপস্থিত ছিলেন গ্যালারী ডিরেক্টর নওশীন খায়ের এবং নতুন ব্যাবস্থাপক হেড্রিয়ান ভিয়াজ। অনান্য অতিথিদের মধ্যে ছিলেন মুনতাসীর মামুন, শিল্পী মাহমুদুল হক, শেখ আফজাল, বিপাশা হায়াতসহ অনেকে। শিল্পী জাহাঙ্গীর আশা ব্যক্ত করেন ৫০তম একক পর্যন্ত করে যাওয়ার। উদ্বোধনকালে বোরহানউদ্দিন খান জাহাঙ্গীর বলেন, দীর্ঘ ৫০ বছর বন্ধু সৈয়দ জাহাঙ্গীরের কাজ দেখে আসছি। যতই দিন যাচ্ছে তিনি দেশের, গ্রামের মানুষ আর প্রকৃতির সঙ্গে নিজেকে মিশিয়ে দিচ্ছেন । (সম্পূর্ণ…)

বিপাশা হায়াতের প্রথম একক: ‘ভ্রমি বিস্ময়ে’

| ২৯ অক্টোবর ২০১১ ৯:২৩ পূর্বাহ্ন

5.jpg
ফান উইথ শ্যাডো, অ্যাক্রেলিক অন ক্যানভাস, ২০১১

ধানমণ্ডির ‘বেঙ্গল গ্যালারি অব্ ফাইন আর্টস্‌’-এ ২৫ অক্টোবর ২০১১ থেকে শুরু হয়েছে শিল্পী বিপাশা হায়াতের প্রদর্শনী ‘ভ্রমি বিস্ময়ে’। চলবে নভেম্বরের ১ তারিখ পর্যন্ত। ১৯৯৮ থেকে ২০১১ পর্যন্ত সাতটি দল-প্রদর্শনীতে অংশ নিয়ে এলেও এটিই শিল্পীর প্রথম একক। ১৯৯৮ সালে শিল্পী ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনস্টিটিউট অব ফাইন আর্টস থেকে পেইন্টিংয়ে এমএফএ করেছেন। সে হিসাবে একক প্রদর্শনীর জন্য শিল্পী প্রায় এক যুগ সময় নিলেন বলা যেতে পারে। যদিও প্রদর্শনীর বেশির ভাগ ছবিই (সব ছবিই কি?) ২০১১-তে আঁকা।

বেঙ্গল প্রকাশিত প্রদর্শনীপত্রে শিল্পীর পরিচিতি অংশ থেকে জানা গেল তিনি ১৯৮৫ সাল থেকে মঞ্চ, চলচ্চিত্র ও টেলিভিশনের জন্য অভিনয় ও নাট্ক লেখার কাজ করে আসছেন। মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে তৈরি চলচ্চিত্র আগুনের পরশমণিজয়যাত্রায় অভিনয় করেছেন। তিনি নাটকের নির্দেশনা দিয়ে থাকেন এবং তার লিখিত নাটকের সংখ্যা প্রায় ৪০টি। প্রদর্শনীপত্রে সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম তাঁর ইংরেজি ভাষ্যে জানাচ্ছেন বিপাশার এই একক প্রদর্শনীটি শেষ পর্যন্ত একটি আবিষ্কারের অভিযাত্রা।

প্রদর্শনী বিষয়ে বেঙ্গল গ্যালারি অব্ ফাইন আর্টস্‌-এর ভাষ্য:

11.jpgঅভিনেত্রী হিসেবে সমধিক পরিচিত হলেও তিনি চিত্রশিল্পীও বটে। তাঁর ছবির কম্পোজিশন যতটা না বিষয়কে ঘিরে আবর্তিত হয়, তার থেকে বেশি কেন্দ্রীভূত থাকে শিল্পীর মনের গভীরে যে-ভাব রয়েছে তার ওপর। সেজন্যই তাঁর চিত্রকর্ম মনের অন্তর্যাত্রাকে অনুসরণ করে আরেক সূত্র ধরে আসে গাঢ় রঙের ব্যবহার। তাঁর চিত্রকর্মে রঙের ব্যবহার ঘটে স্তরে স্তরে, যা শেষ পর্যন্ত রঙের টেক্সচার হিসেবে আবির্ভূত হয়। তবে তাঁর প্রতিটি কাজই একেকটি ভিন্ন ভাবকে কেন্দ্র করে আবর্তিত ভিন্ন ভিন্ন বোধকে প্রতিফলিত করে। সেদিক থেকে তাঁর প্রদর্শনীর নামকরণ ‘ভ্রমি বিস্ময়ে’ যুক্তিসঙ্গত।

তাঁর জন্ম হয়েছিল ১৯৭১ সালের মার্চে এবং মুক্তিযুদ্ধের চেতনা তাঁর মনোজগতে অত্যন্ত শক্তিশালীভাবে উপস্থিত। তিনি মুক্তিযুদ্ধের ওপর একটি সিরিজ করেছেন, যেখানে হত্যাযজ্ঞ আর রক্তপাতের কারণে তাঁর অন্তরের রক্তক্ষরণ এবং পাশাপাশি বিজয়ের আনন্দ প্রতিফলিত। বর্তমান প্রদর্শনীটি তাঁর প্রথম একক প্রদর্শনী এবং তাঁর মনের অন্তর্যাত্রা আর আবিষ্কারের কাহিনী। তিনি তাঁর মনকে আবিষ্কারের ব্রত নিয়ে এঁকেছেন একের পর এক ছবি, যা দর্শককে এক অন্তর্যাত্রায় টেনে নিয়ে যাবে।

বিপাশা হায়াতের এই একক ‘যাত্রা’–সপ্তাহব্যাপী এই প্রদর্শনী–বেঙ্গল ও সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম সূত্রে ‘আবিষ্কার’, ‘ডিসকভারি’ ও ‘অন্তর্যাত্রা’ হিসাবে দর্শকের কাছে উপস্থাপিত।

————————————————-

প্রদর্শনীর কিছু ছবি
ছবি বড় সাইজে দেখতে ছবিতে ক্লিক করুন।

(সম্পূর্ণ…)

রফিকুন নবীর ড্রইং প্রদর্শনী ২০১০

| ১ জানুয়ারি ২০১১ ৯:৪৭ পূর্বাহ্ন

Drawing-6.JPG
ড্রইং ৬, কাগজে চারকোল, ৫৪ x ৭৯ সেমি, ২০১০

ধানমণ্ডির গ্যালারী চিত্রক-এ ডিসেম্বরের ৩ থেকে ২০ পর্যন্ত শিল্পী রফিকুন নবীর ড্রইং প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত হয়েছে। প্রদর্শনীর উদ্বোধন করেন আনিসুজ্জামান। বিশেষ অতিথি ছিলেন মুস্তাফা মনোয়ার। অনুষ্ঠানের সভাপতিত্ব করেন কাইয়ুম চৌধুরী। এটি ছিল শিল্পীর নবম একক চিত্রপ্রদর্শনী।

Drawing-18.JPG
ড্রইং ১৬, কাগজে জলরঙ, ৫৫ x ৩৯ সেমি

রফিকুন নবী ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইন্সটিটিউট অফ ফাইন আর্টস-এর ড্রইঙ ও পেইন্টিং বিভাগে প্রধান হিসাবে দায়িত্ব পালন করেন ১৯৮৮ থেকে ১৯৯১ সাল পর্যন্ত। ১৯৯৪ থেকে ১৯৯৭ সাল পর্যন্ত তিনি ছিলেন এই ইন্সটিটিউটের পরিচালক। বর্তমানে ফ্রিল্যান্স আর্টিস্ট হিসাবে কাজ করছেন। গ্যালারী চিত্রকের সৌজন্যে প্রদর্শনীর ২৭টি ছবি আর্টস-এর ওয়েব গ্যালারিতে উপস্থাপিত হলো।

প্রদর্শনী উপলক্ষে রফিকুন নবীর ভাষ্য: (সম্পূর্ণ…)

সফিউদ্দীন আহমেদের ছাপচিত্র

সৈয়দ আজিজুল হক | ৬ december ২০১০ ২:৩৫ পূর্বাহ্ন

10.jpg
মেলার পথে, উড এনগ্রেভিং, ১৯৪৭

বাংলাদেশের আধুনিক ছাপচিত্রের জনক শিল্পগুরু সফিউদ্দীন আহমেদ তাঁর জীবনব্যাপী সাধনার দ্বারা আমাদের ছাপচিত্র জগৎকে বিশ্বমানে উন্নীত করেছেন। ছাপচিত্রের অনেকগুলো মাধ্যমকে তিনি ব্যাপক ও গভীর পরীক্ষা-নিরীক্ষায় সমৃদ্ধ করেছেন। এসব মাধ্যমের মধ্যে রয়েছে: উড এনগ্রেভিং, ড্রাই পয়েন্ট, এচিং, অ্যাকুয়াটিন্ট, কপার এনগ্রেভিং প্রভৃতি।

safiuddin-ahmed.jpg………
সফিউদ্দীন আহমেদ; জন্ম. কলকাতা ১৯২২
……..
কলকাতা সরকারি আর্ট স্কুলে ১৯৩৬-৪২ কালপর্বে স্নাতক সমমানের ছ-বছরের শিক্ষা কোর্সে তিনি ছিলেন ফাইন আর্টসের ছাত্র; তারপর ১৯৪৪-৪৬ পর্বে শিক্ষকতার কোর্সে তিনি শিক্ষার মাধ্যম হিসেবে বেছে নেন ছাপচিত্র। মুকুল দে, রমেন চক্রবর্তী প্রমুখ শিল্পী ভারতের ছাপচিত্রকে বিশ শতকের ত্রিশের দশকে যে উন্নত শিল্পের পর্যায়ে উন্নীত করেন তা সফিউদ্দীন আহমেদকে আকৃষ্ট করে। তিনিও এ-বিষয়ে উচ্চতর শিক্ষা গ্রহণসহ তাঁর শিক্ষকদের পদাঙ্ক অনুসরণ করে ভারতীয় ছাপচিত্রকে পৌঁছে দেন শিল্পের উন্নত মহিমায়। ফলে সমগ্র ভারতের আধুনিক ছাপচিত্রের অগ্রণী শিল্পীদের তালিকায় তাঁর নামও অনিবার্যভাবে যুক্ত হয়ে পড়ে।


সফিউদ্দীন আহমেদের ছাপচিত্র
(বড় আকারে দেখতে ছবিতে ক্লিক করুন।)

(সম্পূর্ণ…)

শাহাবুদ্দিনের একক চিত্রপ্রদর্শনী, ২০০৯

| ২১ সেপ্টেম্বর ২০০৯ ১১:৪০ পূর্বাহ্ন

10-horse-a.jpg
ঘোড়া, ক্যানভাসে তেলরঙ, ৮১ x ১৪২ সেমি, ২০০৯

ধানমণ্ডির গ্যালারী চিত্রক-এ (রাস্তা ৪, বাড়ি ২১) ১৮ সেপ্টেম্বর ২০০৯ থেকে শুরু হয়েছে শিল্পী শাহাবুদ্দিনের একক চিত্রপ্রদর্শনী। এটি শিল্পীর ২৭তম একক প্রদর্শনী। এর আগে দেশে ১৯৯৫ ও ১৯৯৭ সালে শিল্পাঙ্গন কনটেম্পরারি আর্ট গ্যালারিতে শিল্পীর দুটি একক প্রদর্শনী হয়েছিল। এবারের প্রদর্শনীর উদ্ধোধন করেন বাংলাদেশ সরকারের পরিকল্পনা মন্ত্রী একে খন্দকার। বিশেষ অতিথি ছিলেন আমিনুল ইসলাম। অনুষ্ঠানের সভাপতিত্ব করেন শিল্পী জয়নুলের সহধর্মীনী জাহানারা আবেদীন।

shahabuddin-ahmed.jpg…….
শাহাবুদ্দিন,জন্ম. ঢাকা ১৯৫০
…….
শাহাবুদ্দিন ১৯৭১ সালে আর্ট কলেজে থাকাকালীন মুক্তিযুদ্ধে সরাসরি অংশগ্রহণ করেছিলেন। ১৯৭৪ সাল থেকে প্যারিসে প্রবাস করছেন।শিল্পীর ‘Shahabuddin 2009’ নামের এ প্রদর্শনী চলবে ৯ অক্টোবর ২০০৯ পর্যন্ত। প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে রাত ৯টা পযর্ন্ত। গ্যালারী চিত্রকের সৌজন্যে প্রদর্শনীর ২৬টি ছবি আর্টস-এর ওয়েব গ্যালারিতে উপস্থাপিত হলো। প্রদর্শনী শেষ হওয়ার পরেও আর্টস আকাইভে আগ্রহী দর্শক প্রদর্শনীটি দেখতে পাবেন।

20-freedom-fighter.jpg
মুক্তিযোদ্ধা, ক্যানভাসে তেলরঙ, ৪৩ x ২৫৯ সেমি, ২০০৯

চিত্রপ্রদর্শনী উপলক্ষে প্রকাশিত ছবিপুস্তিকায় শিল্প-সমালোচক অধ্যাপক নিসার হোসেন শাহাবুদ্দিন সম্পর্কে যা লিখেছেন তা নিচে যুক্ত হলো: (সম্পূর্ণ…)

জয়নুলের আদি জলচিত্র: একটি ব্যতিক্রমধর্মী প্রদর্শনী

সৈয়দ আজিজুল হক | ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০০৯ ৪:৩৪ অপরাহ্ন

ফেব্রুয়ারির ১৯ থেকে ২৮ পর্যন্ত শিল্পী জয়নুল আবেদিনের প্রথম পর্যায়ের ৫০টি ছবির একটি প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত হয় ধানমণ্ডির গ্যালারি চিত্রক-এ। কিছু রেখাচিত্র ও অধিকাংশ জলরং-এ আঁকা ছবির বেশির ভাগই জয়নুলের ছাত্রজীবনে আঁকা। ময়মনসিংহের বহ্মপুত্র নদ, কলকাতা ও সাঁওতাল পরগণা দুমকার জনজীবন উঠে এসেছে এসব ছবিতে। কীভাবে সংগ্রাহক ছবি সংগ্রহ করেছেন তা থেকে শুরু করে এ সব ছবির নানান বৈশিষ্ট্য তুলে ধরেছেন লেখক। আগ্রহীদের জন্য প্রদর্শনীর ৫০টি ছবি আটর্স-এর স্লাইড শোতে সংরক্ষিত হলো।

zainul-page-grey.jpg
জয়নুল আবেদিন (১৯১৪ – ১৯৭৫)

জয়নুল আবেদিনের আদি জলরং চিত্রের এটি একটি ব্যতিক্রমধর্মী প্রদর্শনী। দাউদ ফারহান নামের একজন জয়নুল-অনুরাগী দীর্ঘকাল যাবৎ সযত্নে সংগ্রহ ও সংরক্ষণ করেছেন জয়নুলের যেসব চিত্রকর্ম তাই নিয়ে আয়োজিত হচ্ছে এ প্রদর্শনী। দ্বিতীয়ত, এবং আরো গুরুত্বপূর্ণ তথ্য হল, অল্প কয়েকটি বাদ দিলে প্রদর্শনীর অধিকাংশ চিত্রই জয়নুল আবেদিনের ছাত্রজীবনে (১৯৩২-৩৮) আঁকা। এর বাইরে ১৯৩০, ১৯৩১, ১৯৩৯, ১৯৪০, ১৯৪২ ও ১৯৪৬ সালের কিছু চিত্রও এতে আছে। সব মিলে ১৯৩০-৪৬ কালপর্বের মোট পঞ্চাশটি চিত্রকর্মের এ প্রদর্শনী শিল্পানুরাগী মহলের জন্য এক গভীর আনন্দদায়ক ঘটনা।

z40.jpg

কেননা ১৯৪৩এর দুর্ভিক্ষ চিত্রমালা বাদ দিলে এই কালপর্বের (১৯৩০-৪৬) অনেক চিত্রই এখন পর্যন্ত আমাদের কাছে অনুদ্ঘাটিত। যেসব চিত্রের ছবি বইয়ে ছাপা অবস্থায় দেখা যায়, তার মধ্যে আছে : ‘শম্ভুগঞ্জ’ (কালিকলমের স্কেচ : ১৯৩৩), ‘হাঁস’ (জলরং : ১৯৩৩), ‘ফসল মাড়াই’ (জলরং : ১৯৩৪), ‘বনানী – দুমকা’ (জলরং : ১৯৩৪), ‘পল্লিদৃশ্য’ (জলরং : ১৯৩৪), ‘ঘোড়ার মুখ’ (পেনসিল-তেলরং : ১৯৩৪), ‘বাইসন – জু স্টাডি’ (জলরং : ১৯৩৫), ‘মজুর’ (পেনসিল-স্কেচ : ১৯৩৫) প্রভৃতি। এছাড়া ১৯৩৮এ ব্রহ্মপুত্র নদ সংক্রান্ত ছটি জলরং চিত্রের জন্য অ্যাকাডেমি অফ ফাইন আর্ট কর্তৃক গোল্ড মেডেল প্রাপ্তির সংবাদ আমরা জানি। কিন্তু ওইসব চিত্র আমরা দেখতে পাই না। তবে ২০০৪ সালের ডিসেম্বরে ৯০তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে যে প্রদর্শনী ঢাকায় আয়োজিত হয়েছিল, তাতে জয়নুলের এ পর্বের প্রচুর চিত্রকর্মের সঙ্গে আমরা পরিচিত হতে পেরেছি। তবু একথা স্বীকার করতেই হবে, জয়নুলের ছাত্রজীবন ও কলকাতা পর্বের এক গুরুত্বপূর্ণ অজানা দিক এই প্রদর্শনীর মধ্য দিয়ে উদ্ঘাটিত হল। বিশেষত, আমরা এর আগ পর্যন্ত জয়নুলের চিত্রকর্মের আদি যে নিদর্শন পাই তা ১৯৩৩এ আঁকা। কিন্তু এই প্রদর্শনীতে ১৯৩০, ১৯৩১ ও ১৯৩২ সালের চিত্রও রয়েছে। অর্থাৎ কলকাতা আর্ট স্কুলে ভর্তি হওয়ার আগের চিত্রকর্মও আমরা এ প্রদর্শনীতে পাচ্ছি। সেজন্য এ প্রদর্শনীটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ। (সম্পূর্ণ…)

পরের পাতা »

Disclaimer & Privacy Policy  |  About us  |  Contact us

© bdnews24.com