বিশ্বসাহিত্য

সাম্প্রতিক বিশ্বসাহিত্য : যন্ত্রের পেটে ছোটগল্প

রেশমী নন্দী | ১৮ december ২০১৬ ৮:৩৩ পূর্বাহ্ন

storyস্বয়ংক্রিয় যন্ত্রের পেট ভর্তি ছোটগল্প। বোতাম টিপে বের করে পড়ে নিলেই হলো। ফ্রান্সের ট্রেন অপারেটর SNCF স্টেশনে আপনার অপেক্ষা করার সময়টুকু নষ্ট না করে ঘুরিয়ে নিয়ে আসতে পারবে সাহিত্যের ভুবনে। সম্পূর্ণ বিনা খরচে কেবল বোতাম টিপে যে কেউ একটা ছোটগল্প বের করে চট করে পড়ে নিতে পারবেন এখানে। ক্ল্যাসিক বা মডার্ণ এমনকি রূপকথার গল্পও মিলবে এই যন্ত্রের পেটে। মজার এই যন্ত্রে তিনটি বোতাম রয়েছে ১, ৩ কিংবা ৫ মিনিট সময় নির্দেশ করে। অর্থাৎ পাঠক কতটুকু সময় দিতে চান এর পিছনে, সেটা ঠিক করারও সুযোগ আছে। গতবছর গোনবেল ( Grenoble )-এ সফল শুরুর পর এ বছর অন্তত ৩৫টি ষ্টেশনে “এমন গল্প পেটে ঢোকানো” যন্ত্র বসানো হবে বলে জানিয়েছেন SNCF। এ ছোটগল্প মানুষকে পড়ানোর প্রকল্প পরিচালনা করছে “Short Edition”। ২০১৩ সালে ‘লেখকের জাতি’ হিসেবে ফরাসিদের খেতাব মিলেছিল এ তথ্যের ভিত্তিতে যে, সে দেশের ১৭ ভাগ জনগন লেখালেখি করে। অবশ্য বেশিরভাগই থেকে যায় অপ্রকাশিত। আর তাই এমন যন্ত্রের ব্যবস্থা সে দেশে পাঠকের পাশাপাশি নবীন লেখকদেরও ভরসার জায়গা হয়ে উঠবে নিঃসন্দেহে। এরই মধ্যে তাঁদের কাছে ৫ হাজারেরও বেশি অজ্ঞাতনামা লেখকের লেখা জমা পড়েছে। এমনকি স্মার্ট ফোনের যুগে কাগুজে পদ্ধতিও ব্যাপক সাড়া ফেলেছে। মাত্র ছমাসে একটি মেশিন থেকেই অন্তত ১ লাখ গল্প পড়েছে ট্রেন যাত্রীরা। এরই মধ্যে চলচ্চিত্র পরিচালক ফ্রান্সিস ফোর্ড কোপোলা ঘোষণা দিয়ে ফেলেছেন, সান ফ্রান্সিসকোতে তাঁর পানশালাতেও এমন একটা যন্ত্র বসাবেন। (সম্পূর্ণ…)

আমাদের বব ডিলান

আনিসুর রহমান | ১১ december ২০১৬ ৯:৪৬ পূর্বাহ্ন

Dylanবব ডিলান মার্কিন মুল্লুকের একজন জনপ্রিয় গায়ক। যার খ্যাতি দুনিয়া জুড়ে। যিনি আমাদের বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে ১৯৭১ সালে সমর্থন জুগিয়েছেন, মুক্তিযুদ্ধের সমর্থনে কনসার্টে অংশ নিয়ে গান গেয়েছেন। এতটুকু আমি জানতাম। কিন্তু এতোটা তলিয়ে দেখিনি তাঁর কণ্ঠের গানগুলো কবিতা হিসেবে কেমন। কিংবা তিনি কি আদতে কবি? নাকি শুধুই গায়ক? এই প্রশ্নগুলোও মাথায় কোনোদিন আসেনি।
নোবেল পুরস্কার পাবার আগে তার গানও যে খুব বেশি শুনেছি তা নয়, এমনিতেই আমার জীবনটা নুন আনতে পানতা ফুরানোর মতো। আর্থিক টান তো থাকেই, তারপর সময়ের টানও কেমন যেন। আমাদের বাংলার এতো এতো গান, সেইসব গান শোনার সময় হয়ে ওঠে না। তারপর আবার আলাদা আয়োজন করে ইংরেজি গান শুনবো, তা সে বব ডিলানই হোক যেই হোক।
অন্যদিকে ইংরেজি ভাষা সাহিত্যের ছাত্র হওয়া সত্ত্বেও ইংরেজির প্রতি কেন যেন একটােঔপনিবেশিক বিতৃষ্ণাও কাজ করছিল। বিশেষ করে ঢাকা শহরকেন্দ্রিক ধনী লোকদের নাক সিটকানো ভাব এবং ইংরেজিপ্রীতি দেখে। সে যাকগে, সে আমারই সীমাবদ্ধতা। তাই বলে বব ডিলানকেও উপক্ষো করব? জর্জ হ্যারিসন? (সম্পূর্ণ…)

হেমিংওয়ের মৃত্যুতে গার্সিয়া মার্কেসের প্রবন্ধ: একজন মানুষের স্বাভাবিক মৃত্যু

যুবায়ের মাহবুব | ৪ december ২০১৬ ৭:৪৯ অপরাহ্ন

১৯৬১ সালের ২ জুলাই নতুন জীবন গড়ার উদ্দেশ্যে সপরিবারে মেহিকো সিটিতে এসে পৌঁছান তরুণ কলম্বিয় লেখক গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস। ঘটনাক্রমে সেই একই দিনে মহাদেশের আরেক কোণে আত্মহত্যা করেন নোবেল বিজয়ী মার্কিন সাহিত্যিক আর্নেস্ট হেমিংওয়ে। সংবাদটি পেয়ে তার ব্যক্তিগত আইডল হেমিংওয়ের প্রতি একটি শ্রদ্ধার্ঘ লিখেছিলেন গার্সিয়া মার্কেস, যেটি সপ্তাহখানেক পর স্থানীয় একটি সাংস্কৃতিক পত্রিকায় প্রকাশিত হয়। যতদূর জানা যায়, মেহিকোয় প্রকাশিত সেটিই ছিল গার্সিয়া মার্কেসের প্রথম গদ্য রচনা। প্রথমবারের মত এটি বাংলায় অনুবাদ করেছেন অনুবাদক যুবায়ের মাহবুব।
Hemingway-1

এবার বোধ হয় গুঞ্জনটি সত্যি – আর্নেস্ট হেমিংওয়ে আর নেই। দূর-দূরান্তে, পৃথিবীর এক প্রান্ত থেকে অপর প্রান্তে এই সংবাদ সবাইকে নাড়িয়ে দিয়েছে, খবরটি পৌঁছে গেছে ক্যাফের বয়-বেয়ারাদের কাছে, শিকারী গাইড আর শিক্ষার্থী ম্যাটাডোরের কাছে, জেনে গেছেন ট্যাক্সি চালক, ভগ্নস্বাস্থ্য মুষ্টিযোদ্ধা, অবসরপ্রাপ্ত জনৈক বেনামী বন্দুকবাজ।

অথচ যুক্তরাষ্ট্রের আইডাহো অঙ্গরাজ্যের কেচাম নামের ছোট্ট শহরে এই সুনাগরিকের মৃত্যু স্রেফ একটি দুঃখজনক স্থানীয় ঘটনা হিসেবে দেখা হচ্ছে, ওর বেশি কিছু নয়। গ্রীষ্মের গরমে তপ্ত এক ঘরে গত ছয় দিন ধরে লাশ রেখে দেয়া হয়েছে, সামরিক সম্মাননা প্রাপ্তির কোন দুরাশায় নয়, বরং আফ্রিকায় সিংহ শিকারে গেছেন এমন একজনের ফিরে আসার অপেক্ষায়। পর্বতশৃঙ্গে মৃত চিতাবাঘের বরফজমাট দেহের পাশে এই লাশ খোলামেলা পড়ে থাকবে না শেয়াল-শকুনের আহার হয়ে, বরং মার্কিন মুল্লুকের অতিশয় শুচিশুদ্ধ কোন এক গোরস্থানে তিনি শোবেন শান্তিতে, তাকে ঘিরে থাকবে আরো কিছু চেনাশোনা মরদেহ। (সম্পূর্ণ…)

জ্যাক লন্ডনের দুষ্প্রাপ্য ছবি

রেশমী নন্দী | ২৪ নভেম্বর ২০১৬ ১০:৩৪ পূর্বাহ্ন

London আলোকচিত্র: ১৯০৬ সালে জ্যাক লন্ডন সান ফ্রান্সিস্কো উপসাগরের তীরে ছবি তুলছেন।

বিখ্যাত সাহিত্যিক জ্যাক লন্ডনের অনেক লেখায় পাওয়া যায় তাঁর বিচিত্র জীবনের ছায়া। তবে আলোকচিত্রী হিসেবে তাঁর দক্ষতা খুব বেশি মানুষের দেখার সৌভাগ্য হয়নি। লেখালেখির মতো সমান দক্ষতায় জীবনের বিচিত্র অভিজ্ঞতাকে তিনি ধারণ করে রেখেছেন তাঁর তোলা অনবদ্য কিছু ছবিতে। তাঁর দুঃসাহসী জীবনাচারণ সেই সাথে সংবাদদাতা হিসেবে তাঁর কাজের পরিধি-সবমিলিয়ে বিশ শতকের গোড়ার দিককার জীবনের অসাধারণ প্রতিচ্ছবি এসব আলোকচিত্র।
The Call of the Wild-এর মতো উপন্যাসের জন্য তিনি বিখ্যাত, যার উপজীব্য তাঁরই দুঃসাহসী অভিযান, পর্বতারোহন কিংবা দক্ষিণ প্রশান্ত মহাসাগরে পাড়ি দেবার অভিজ্ঞতা। আর্নেষ্ট হেমিংওয়ের আগ পর্যন্ত তিনিই ছিলেন পৌরুষদীপ্ত লেখকের আর্দশ । তিনি একাধারে ছিলেন একজন সমাজবিজ্ঞানী, ভবঘুরে, নাবিক, যুদ্ধ সংবাদদাতা এবং “ওয়েষ্টার পায়রেট”। তাঁর প্রপৌত্রী টারনেল এ্যাবোটের ভাষ্য অনুযায়ী, অন্যদের ধরা ঝিনুক চুরি করতে গিয়ে জীবনের ঝুঁকি নিতেও দ্বিধা করেন নি। উনিশ শতকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পশ্চিম ও পূর্ব উপকূলে এ ধরনের দস্যুবৃত্তি হতো সমানে। জ্যাক লন্ডনের ছোট গল্প “What Life Means to Me”তেও এর বর্ণনা পাওয়া যায়। পরে অবশ্য এসব ছেড়েছুড়ে দেন তিনি। (সম্পূর্ণ…)

শব্দের জাদু– অনুবাদে ঠিক কতটা হারাই?

রেশমী নন্দী | ১৯ নভেম্বর ২০১৬ ১:১৩ অপরাহ্ন

TranslationDictionary of Untranslatables: A Philosophical Lexicon বইটি মূলত ফরাসী ভাষায় লিখিত। পরে প্রিন্সটন ইউনিভার্সিটি প্রেস থেকে তিন গুণী ভাষাবিদের সম্পাদনায় ইংরেজীতে প্রকাশিত হয় বইটি। প্রায় ডজনখানেক ভাষার দর্শন, সাহিত্য এবং রাজনৈতিক ৪০০ শব্দের উপর নানা দিক থেকে আলোকপাত করে মূলের কাছাকাছি যাওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে বইটিতে। এই বই নিয়ে আলোচনার সূত্র ধরেই “দি নিউইয়র্কার” -এ এ্যাডাম গুপনিক এই লেখাটি লেখেন। অনুবাদ করেছেন রেশমী নন্দী। বি. স.

ইতালীতে একবার একটা রেষ্টুরেন্টে পরিবার নিয়ে খেতে গিয়েছিলাম। ঊনিশ শতকের লেখকের ভঙ্গীতে বললে বলতে হয়, সামান্য একটা ভুলেই আমি পারিবারিকভাবে বোকা উপাধি পেয়েছিলাম। ইতালীয় দুটি শব্দের সূক্ষ্ণ পার্থক্য না বুঝে এর ব্যবহারই এ দূর্ঘটনার কারণ। ডেজার্টে স্ট্রবেরী অর্ডার দিতে খুব কায়দা করে উচ্চারণ করতে চেয়েছিলাম “fragoline”। পরে দেখলাম, আসলে যা বলেছি তা হলো “fagiolini” যার অর্থ হলো মটরশুটি। ফলে বাচ্চাদের জন্য পেস্ট্রি আর আইসক্রিমের সাথে বেশ সাড়ম্বরে আমার ডেজার্ট হিসেবে এসেছিল কফি আর মটরশুটি। কয়েক মুহূর্তের মধ্যে আমার বাচ্চাদের যে হাসি শুরু হয়েছিল, সেটা এখনো মাঝে মাঝে নানা কারণে উসকে উঠে। একটা অক্ষর “r” সেদিন যে কারণে ইতালীয় ঐ রেষ্টুরেন্টে একটা পরিবারে একজনকে বোকা বলে চিনিয়ে দিল, তা হলো ভাষার নিজস্ব খামখেয়ালীপনা। যদিও কথা বলা এখন নিঃশ্বাস নেয়ার মতোই স্বাভাবিক ঘটনা, কিন্তু সত্য হলো এই যে শব্দগুলো আসলে খুব অদ্ভুত, বিমূর্ত একধরনের প্রতীক- মিশরীয় চিত্রলিপির মতোই দুর্বোধ্য, মিশরীয় সমাধির মতোই যে কাউকে ঘোল খাইয়ে দিতে পারে। (সম্পূর্ণ…)

ফেদেরিকো গারথিয়া লোরকা-র জন্য গোলাপ

ওমর শামস | ১৬ নভেম্বর ২০১৬ ১:১০ অপরাহ্ন

Lorca১ ভূমিকা :
অগাস্ট ১৯, ১৯৩৬ ফেদেরিকো গারথিয়া লোরকা (Federico Garcia Lorca)-র মৃত্যু দিন, জন্ম – জুন ৫, ১৮৯৮। এই লেখাটুকু আজকে লোরকা এবং তার কবিতা-কাজের স্মরণ, সঙ্গে–সঙ্গে শ্রদ্ধা তর্পণ। লোরকা সারা পৃথিবীর কবিতায় ইউনিক। তিনি অনন্য তাঁর কবিতার বিষয়ে, কবিতার ধারণায়, কলাকৌশলে, ভাষা-ধ্বনি প্রয়োগে, জীবন যাপনেও। আমি তাঁর নাটক বা ছবির কথা বলছি না এখানে। লোরকার ১৮ বছরের কবিতা রচনার মধ্যে ৪ টি ধারা আছে :
১. প্রস্তুতির ও প্রাথমিক বছরগুলো (১৯১৮-১৯২৭)/ Impresiones y Paisajes, 1918; Libro de Poemas, 1921
২. জিপসি বালাদ (১৯২৬-২৮) /Romancero Gitano, 1928
৩. নিউ ইয়র্কে লেখা কবিতা (১২২৯-৩০) /Poeta en Nueva York, 1940
৪. তার পরের কবিতা (১৯৩১-৩৬)/ Llanto por Ignacio Sanchez Mejias, 1935; The Tamarit Divan, 1940
এর মধ্যে মৌলিক ও মূল্যবান হচ্ছে জিপসি বালাদ এবং নিউইয়র্কে কবি। মোটা দাগে জিপসি বালাদের মধ্যে লোরকা গীতলতা এবং চিত্রকল্প ব্যাবহার করে ঐতিহ্যগত লোকজ জিনিশে নতুনত্ব ভরিয়ে দিলেন। নিউইয়র্কে লেখা কবিতাগুলোয়, যা পরে Poeta en Nueva York (নিউইয়র্কে কবি) কাব্য গ্রন্থে প্রকাশিত হয়, তিনি চিত্রকল্প এবং কোলাজ এমন ভাবে বিচ্ছিন্ন আবার একই সঙ্গে সংগ্রথিত করেছেন যে এগুলো সুররিয়ালিস্টিক অভিধা প্রাপ্ত হয়ে উঠেছে। এইসব কথা আমরা আরেকটু বিশদভাবে নিচে বলবো।
উল্লিখিত রচনার বাইরে, লোরকা নাটক লিখেছিলেন, গান বেঁধেছিলেন, ছবি এঁকেছিলেন। (সম্পূর্ণ…)

ক্রিস্টোফার মার্লো শেক্সপিয়রের সহ-লেখক ছিলেন!

বিপাশা চক্রবর্তী | ৩ নভেম্বর ২০১৬ ৬:২২ অপরাহ্ন

Marloতর্কটা অনেক দিনের। এর বিস্তারও কম নয়। বহুলেখক-গবেষকের পর্যবেক্ষণ, ব্যাখ্যা ও বিশ্লেষনের ডালপালায় তর্কটি বিস্তার লাভ করেছে। তর্কের উৎসে প্রাণ সঞ্চার করেছে মূলত এই তথ্য যে ক্রিস্টোফার মার্লো ছিলেন শেক্সপিয়রের সমসাময়িক, তারচেয়েও বড় কথা তারা বন্ধু ছিলেন। দুজনই ছিলেন নাটকের অভিন্ন জগতের বাসিন্দা। কিন্তু অভিন্ন জগতের বাসিন্দাতো বেন জনসনও ছিলেন, কিন্তু শেক্সপিয়রের সাথে তাকে জড়িয়ে এই তর্কটা তৈরি হয়নি, হলো মার্লোকে নিয়েই। এর কারণও আছে। কারণগুলো ইঙ্গিত ইতিমধ্যেই বহু গবেষকের আলোচনায় উঠে এসেছে। সম্প্রতি অক্সফোর্ড ইউনিভার্সিটি প্রেস শীঘ্রই শেক্সপিয়রের নাটকগুলি নিয়ে একটি নতুন সমালোচনামূলক সংস্করণ প্রকাশ করতে যাচ্ছে। সেই সংস্করণটির নাম দা নিউ অক্সফোর্ড শেক্সপিয়র। এটির অন্যতম উল্লেখযোগ্য দিক হচ্ছে ক্রিস্টোফার মার্লোকে শেক্সপিয়রের সহ-লেখক হিসেবে স্বীকৃতি প্রদান। তিনি ‘ষষ্ঠ হেনরি’ নাটকের তিনটি অংশেই শেক্সপিয়রের সহ-লেখক ছিলেন।

যুগ যুগ ধরেই সাহিত্য গবেষকরা শেক্সপিয়রের রচনায় মার্লোর প্রভাব নিয়ে গবেষণা করে আসছিলেন। তাঁদের মধ্যে কেউ কেউ আবার ক্রিস্টোফার মার্লো ও শেক্সপিয়র একই ব্যাক্তি ছিলেন বলেও অবহিত করেছিলেন।
এই জন্য ধন্যবাদ জানাতে হয় সেই সমস্ত উদ্যোক্তাদের যারা বছরের পর বছর ধরে শেক্সপিয়রের শব্দভান্ডার, নৈতিক দর্শন ও কাব্যিক শৈলী নিয়ে গাণিতিক বিশ্লেষণ এবং সাহিত্যে ছাত্রবৃত্তি দিয়েছেন। অবশেষে এভাবেই একদল আন্তর্জাতিক গবেষণা-দল সকল রহস্যের সমাপ্তি টানলেন।
একটি বহুল প্রচলিত ধারণা হচ্ছে এই যে, শেক্সপিয়র আদৌ মিশুক ছিলেন না। ১৯৮৬ সালে অক্সফোর্ড যখন জানালো শেক্সপিয়রের আটটি নাটকের উপাদানে অন্য লেখকদের অবদান ছিলো তখন অনেক মানুষই ক্ষিপ্ত হয়েছিল। ১৯৮৬ সালের পর গবেষণার জন্য নতুন নতুন বৃত্তি, কৌশল ও প্রয়োজনীয় সম্পদ ও আধুনিক প্রযুক্তি বিনিয়োগের ফলেই আজ পরিষ্কার হলো যে, তখন শেক্সপিরের নাটকে অন্য লেখকদের অবদানকে খাটো করা হয়েছিল।
সাহিত্য অনুরাগীদের জন্য শেক্সপিয়র ও মার্লোকে ঘিরে পান্ডিত্যপূর্ণ বিতর্কে নিয়ে অনেক অজানা কথা আজ প্রকাশিত হলো। কে এই ক্রিস্টোফার মার্লো?
ক্রিস্টোফার মার্লো ছিলেন শেক্সপিয়রের সমসাময়িক এক কবি ও নাট্যকার। তিনি এলিজাবেথীয় যুগের কবি ও নাট্যকার হিসেবে বেশ সমাদৃত ছিলেন। বছরের পর বছর ধরে চলমান অনেক প্রতিষ্ঠানের গবেষণায় তার ও শেক্সপিয়রের মধ্যে যোগাযোগের প্রমাণ খুঁজে পাওয়া গেছে। এ দু’জনেই একে অপরকে চিনতেন ও জানতেন। তারা একই ক্ষেত্রে কাজও করেছেন। (সম্পূর্ণ…)

শেক্সপিয়রের ক্লাউন

নাহিদ আহসান | ২৮ অক্টোবর ২০১৬ ৭:০৮ অপরাহ্ন

w-s.jpgক্লাউন একজন বিষণ্ণ মানুষ যার কাজ হচ্ছে মানুষকে হাসানো। অনেক ক্ষেত্রে আসলে হাসানো তার পেশা। এটা সহজ কাজ নয়। কিন্তু হাসতে সবাই ভালবাসলেও যারা হাসায় তাদেরকে মানুষ হালকাভাবে নেয়। পারিশ্রমিক কম। সম্মানও নেই। সার্কাসে, মঞ্চে মূলত তাদের আমরা দেখি। সাহিত্যে ও চলচ্চিত্রেও তারা জায়গা করে নিয়েছে। বহুমুখী প্রতিভার অধিকারী চ্যাপলিনের কথা তো সবাই জানেন। তার প্রতিটি কৌতুকের পেছনে ছিল এক বেদনার্ত গল্প। যেমন ‘গোল্ড রাশ’-এ তার জুতো রান্না করা খাওয়া, ক্ষুধা পেটে তাকে একজনের মুরগী ভেবে তাড়া করা। দর্শকরা হাসলেও চ্যাপলিনের উদ্দেশ্যতো শুধু হাসানো ছিল না। নাটক বা সিনেমায় যাদেরকে এখন কমেডিয়ান বলা হয় তাদের মধ্যে ক্লাউনের প্রভাব রয়ে গেছে।
শেক্সপিয়রের ক্লাউন বা বা বোকা হাঁদারা দুরকম–একদল হচ্ছে গ্রাম্য অশিক্ষিত, অন্যরা হচ্ছে রাজসভার ক্লাউন। এরা একাধারে তীক্ষ্ণ বুদ্ধিমত্তা ধারণ করে এবং একইসাথে ভাঁড়ামো করে। উইট, হিউমার, পান–ভাষার হাজার কারিগরি ব্যবহার করে তারা কথা বলে। শুধু বক্তব্যই দার্শনিক নয়, বলার ভঙ্গি এতদিন পরেও যেন নতুন মনে হয়। ক্লাউনের যে ধরাবাঁধা মেকাপ ও পোশাক তাই যে শ্রেষ্ঠ তা কিন্তু নয়। কিন্তু কিভাবে যেন যুগ যুগ ধরে কিছুটা বৈচিত্র্য থাকলেও এটা অপরিবর্তিত রয়ে গেছে।
শেক্সপিয়রের ক্লাউন অবশ্য শুধু পোশাক দেখে নয়, তার কথাবার্তা শুনে সনাক্ত করতে হয়। যেমন: হ্যামলেটে গ্রামের অশিক্ষিত গোরখোদক যে কিনা হেয়ালিপূর্ণ ভাষায় কথা বলে, তাকে ক্লাউন হিসেবেই ধরা হয়। ওফেলিয়ার কবর খোঁড়ার সময়, হ্যামলেট তার কাছে গিয়ে জানতে চায়- এটা কি ‌একজন মহিলার কবর? উত্তর পান, ‘না’। হ্যামলেট আবারও জানতে চায়, তবে এটা কি একজন পুরুষেরর কবর?‌ সে উত্তর দেয়, “না”। তারপর বলে,“এটা এমন একজনের কবর যিনি এক সময় মহিলা ছিলেন।” (সম্পূর্ণ…)

বব ডিলানের সাক্ষাৎকার: আবেগ তারুণ্যে মানায়, প্রজ্ঞা প্রবীণে

আবদুস সেলিম | ১৮ অক্টোবর ২০১৬ ১০:৫২ অপরাহ্ন

bob-4বব ডিলান এই সাক্ষাৎকার দেন তার ‘শ্যাডো ইন দ্য নাইট’ প্রকাশনা কালে যেখানে তিনি শিল্পের প্রকাশশৈলী এবং ঐতিহ্য নিয়ে কথা বলেন এবং তার জীবন ও দর্শনের উপর প্রভাব বিস্তারকারী দুর্লভ অন্তর্দৃষ্টির ব্যাখ্যা ও বিশ্লেষণ তুলে ধরেন। রবার্ট লাভ-এর নেয়া এই সাক্ষাৎকারটি প্রকাশিত হয়েছিল Independent পত্রিকায় ২০১৫ সালের ৭ ফেব্রুয়ারি। এটি বাংলায় তর্জমা করেছেন অধ্যাপক অনুবাদক আবদুস সেলিম। বি. স.
প্রশ্ন: সমালোচক-প্রশংসিত একাধিক মৌলিক গানের পর আপনি এই রেকর্ডটি কেনো প্রকাশ করলেন?
উত্তর: এটাই তো সঠিক সময়। সত্তর দশকের শেষা-শেষি উইলি (নেলসনের) ‘স্টারডাস্ট’ রেকর্ড শোনবার পর থেকেই বিষয়টা নিয়ে আমি ভাবছিলাম। ভাবছিলাম আমিও তো এমন একটা কাজ করতে পারি। তাই দেখা করতে গেলাম কলাম্বিয়া রেকর্ডস-এর প্রেসিডেন্ট ওয়াল্টার ইয়েটনিকফের সাথে। খুলে বল্লাম তাকে যে আমি উইলির মতো একটা মানসম্পন্ন রেকর্ড বের করতে চাই। সে বল্লো: করুন, তাতে আমাদের কোনো আপত্তি নেই, কিন্তু আপনাকে আমরা কোনো পারিশ্রমিকও দিতে পারবো না এবং তা বাজারজাত করতেও সাহায্য করতে পারবো না। তবুও যদি চান করতে পারেন। ফলে ওটা বাদ দিয়ে আমি স্ট্রিট লিগাল করলাম। এখন বুঝি ঈয়েটনিকফ সম্ভবত সঠিকই ছিলো। মানসম্পন্ন রেকর্ড করার সময় তখনও আমার হয় নি।
বছরের পর বছর আমি অন্যের গাওয়া ঐসব গান শুনেছি আর অমন গান করার জন্যে অনুপ্রাণিত হয়েছি। অন্যরাও আমার মতো ভাবতো কিনা জানি না। রড [স্টুয়ার্টের] মানসম্পন্ন গান শুনতে আমি বেশ উৎসাহী ছিলাম কারণ আমি বিশ্বাস করতাম ঐসব গানের ভেতর যদি কেউ কোনো পরিবর্তন আনতে পারে সে কেবল রডই পারবে। কিন্তু রড আমাকে হতাশ করেছে। রড এক মহান গায়ক কিন্তু ৩০টা অর্কেস্ট্রা পেছনে বসিয়ে রডকে গান করানো সম্পূর্ণ ভুল। আমি কারও উপার্জনের অধিকার খর্ব করতে চাই না। কিন্তু কোনো গায়ক তার হৃদয় দিয়ে গান গাইছে কিনা সেটা সহজেই বোঝা যায়। আর রড যে তার মনপ্রাণ সংযোগ করে গানগুলো গায়নি সেটা আমার স্পষ্ট মনে হয়েছে। গানগুলো শুনলে মনে হয় কণ্ঠস্বরকে রেকর্ডে উচ্চারিত করে সংজোযন করা হয়েছে। আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করলে ঐজাতীয় গান কখনও ভাল হয় না।
আমরা যেসব গানের সাথে বেড়ে উঠেছি এবং বিষয়টা নিয়ে তেমন ভাবতি হইনি, বেশ জানি রক এন রোল ঐ জাতীয় গানকেই বিনাশ করতে এসেছিল–যেমন, মিউজিক হল, ট্যাংগো, চল্লিশের দশকের পপ গান, ফক্সট্রটস, রাম্বাস, আরভিং বার্লিন, হ্যারল্ড আরলেন, হ্যাম্যারস্টেইন। এরা সবাই খ্যাতিমান সঙ্গীতজ্ঞ ছিলেন। আজকের গায়করা এসব গীতবাদ্য ও গানের কথা ভাবতেও পারে না। (সম্পূর্ণ…)

বব ডিলান: আগুন হাতে প্রেমের গান

ফারহানা রহমান | ১৭ অক্টোবর ২০১৬ ৩:১৬ অপরাহ্ন

Bob Dylanপ্রায় তিন হাজার বছর আগে প্রাচীন গ্রীক মহাকবি হোমার তার স্তোত্রাবলি বা ইলিয়াডঅডিসিতে গীতিকাব্যরসের মাদকতা সৃষ্টি করেছিলেন। আরও পরে ৬৩০ খ্রিস্টপূর্বে জন্মানো লেসবস দ্বীপের গ্রীক কবি স্যাফো রচনা করেছিলেন গীতিরসের গভীর মাদকতায় মণ্ডিত কাব্যসমূহ। এতো যুগ পরেও মানুষ মনে রেখেছে তাদের সৃষ্ট ধ্রুপদী সাহিত্য। ঠিক একই কারণেই বাঙালীরা ভুলতে পারে না ময়মনসিংহ গীতিকা, অথবা লালনগীতি বা রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের গীতিকাব্য।
সারা দুনিয়ার বহুবিখ্যাত কবি, সাহিত্যিকদের পিছনে ফেলে ২০১৬ সালে সাহিত্যে নোবেল পুরষ্কার জিতে নিয়েছেন প্রখ্যাত মার্কিন সঙ্গীতশিল্পী বব ডিলান। এবং তিনি পুরস্কৃত হয়েছেন মূলত তার গীতিকাব্যের জন্যই। যদিও তিনি একাধারে গীতিকার, কবি, লেখক, সুরকার, চিত্রশিল্পী, অভিনেতা ও ডিস্ক জকি। বব ডিলানের অসামান্য গীতিকাব্য ও অনবদ্য গায়কী ও তার যুদ্ধবিরোধী অবস্থান বিশ্বব্যাপী গত পাঁচ দশক থেকে প্রতিনিয়ত শান্তি ও শক্তির যে বাণী প্রচার করে চলেছে তার অসামান্য অবদান হিসেবেই তাকে নোবেল পুরষ্কারে সম্মানিত করা হলো বলেই মনে করা হচ্ছে। তার গানের কথায় যে গীতিকাব্যরস ও ব্যঞ্জনা বিদ্যমান, সেটাই তাকে গণমানুষের কাছে গানের কবি হিসেবে পরিচিত করে তুলেছে।
মহাকবি হোমারের ইলিয়াড-এ আমরা যে ছবি দেখতে পাই, সেই সময় কালের মানুষের যে-সমস্ত সমস্যা ও সংকটের মুখোমুখি হতে দেখি, একইভাবে হুবুহু মিলে যায় আজকের দিনের আমাদের এই আধুনিক সমাজ, সময়ের সঙ্গেও। যুদ্ধ, যুদ্ধ ও যুদ্ধের দামামা চারদিকে। ক্রোধ, কাপুরুষতা, কাম, প্রতিশোধস্পৃহা, বীরত্বের প্রতি মোহ এসবই আজও বিদ্যমান আমাদের সমাজে। হোমার যেমন দেবদেবীদের বিশাল ও নির্দয় ক্যানভাসের সামনে দাঁড়িয়ে ইলিয়াড গেয়েছেন পরম মায়া ও মানবিকতা দিয়ে, সেই একই গীতিকাব্যের ছায়া আমরা দেখতে পাই বব ডিলানের “ The times they are changin” গানটিতেও । (সম্পূর্ণ…)

বব ডিলানের আত্মজীবনী: `মনে হচ্ছিল সবই মিথ্যে, সবই কল্পনা’

নাহিদ আহসান | ১৫ অক্টোবর ২০১৬ ৮:১৭ অপরাহ্ন

Dylanলো লেভি লিডস মিউজিক পাবলিশিং কোম্পানির প্রধান আমাকে ট্যাক্সি করে নিয়ে গেল পিথিয়ান মন্দিরে,৭০ ওয়েষ্ট ষ্ট্রীটে ছোট্ট রেকর্ডিং স্টুডিওটি দেখাতে যেখানে বিল হ্যারি এবং তার সহযোগীরা, ‘রক এরাউন্ড দ্য ক্লক’-এর রেকর্ডিং করেছিল।
তারপর গেলাম আমরা জ্যাক ডেম্পসির রেষ্টুরেন্টে, ৫৮ ব্রডওয়েতে। সেখনে পৌঁছে আমরা খোলা জানালার সামনে রেড লেদার দিয়ে মোড়ানো একটি বুথে বসলাম। লো লেভি আমাকে জ্যাক ডেম্পসির সাথে পরিচয় করিয় দিলেন যিনি ছিলেন একজন বড় মাপের বক্সার।
জ্যাক আমার দিকে তাকিয়ে তার কব্জি ঝাঁকালো,‘তুমি ‌একটা বাচ্চা ছেলে, হ্যাভি ওয়েট শুরু করার জন্য একেবারেই হালকা পাতলা। আরেকটু ওজন বাড়াও। আরেকটু ভাল ড্রেস আপ কর। চেষ্টা কর নিজেকে যাতে আরেকটু ধারালো দেখায়। অবশ্য রিংয়ে তোমাকে ফ্যাশন নিয়ে অত চিন্তা করতে হবে না। কিন্তু প্রতিদ্বন্দীকে পেটাতে হবে আচ্ছামত। ভয় পেলে হবে না।”
লেভি বললো,“আরে জ্যাক, ওতো বক্সার না। গান লেখে। আমরা ওর গানগুলো এবার বাজারে আনছি।”
“ও, আচ্ছা, আচ্ছা ঠিক আছে …..শুনবো তোমার গান। আগে বের হোক তো। গুড লাক, খোকা।”

জানালার বাইরে তীব্র বাতাস বইছিল। মেঘেরা যেন বাতাসের সাথে লড়াই করে অগ্রসর হচ্ছিল। ঘুরে ঘুরে পাক খাচ্ছিল তুষারকণা। সন্ধ্যার লাল আলো জ্বালা রাস্তাগুলোতে ছিল মানুষের ভীড় ও ধাক্কাধাক্কি। এরই মধ্যে খরগোশের ফারের কানটুপি পরা ফুটপাথের দোকানী, চেস্টনাট বিক্রেতারা হাকাহাকি করে ক্রেতাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করার চেষ্টা করছিল। কিন্তু এসবের কোন গুরুত্ব ছিল না আমার কাছে।

আমি লীড মিউজিকের সাথে একটি কন্ট্রাক্ট সাইন করছি, আমার গানগুলো প্রকাশিত হতে যাচ্ছে, এর চেয়ে বড় ব্যাপার চারপাশে আর কোথায় কি থাকতে পারে? আমার গানের সংখ্যা অবশ্য খুব বেশী না। তবুও লো আমাকে ১০০ ডলার অগ্রিম দিল ভবিষ্যতের রয়ালিটির জন্য যা আমার কাছে যথেষ্ট মনে হচ্ছিল।

লোর অফিসে গিয়ে আমি আমার গিটার কেসটি খুলে বসলাম। গিটারটি নিয়ে বাজাতে শুরু করলাম। ঘরটি ছিল খুবই অগোছালো। অনেকের লেখা গান পড়েছিল তালগোল পাকিয়ে। বুলেটিন বোর্ডে রেকর্ডিংয়ের তারিখ, সাদা লেবেল লাগানো কালো ধাতুর প্রলেপযুক্ত ডিক্স; বিনোদন জগতের মানুষদের সাইন করা ফটো- জেরি ভেল, আলর্মাটিনো, অ্যন্ড্রজ সিস্টারদের(লো এদের একজনকে বিয়ে করেছেন) চক্চকে পোরট্রেট -সবকিছু ছিল ছড়িয়ে ছিটিয়ে। আরও ছিল প্যাঁচানো রীল, কালো কাঠের ডেক্সের ওপর দুনিয়ার হাবিজাবি রাখা। (সম্পূর্ণ…)

বব ডিলানের গান: এই যে সময় পালটে যাচ্ছে, পালটে যাচ্ছে, যাবে

আনন্দময়ী মজুমদার | ১৪ অক্টোবর ২০১৬ ১০:৫৯ অপরাহ্ন

অনুবাদ: আনন্দময়ী মজুমদার

যে যেখানে আছ, সবাই জলদি করো
জটলা বেঁধে এসে
এই কথাটা কবুল করো, সবাই যাবে
বানের জলে ভেসে
কবুল করো, ভিজে যাচ্ছে হাড় কখানা
শুকনো ডাঙার দেশে
জীবন যদি মূল্য ধরে
বেঁচে থাকতে হবে
ভেসে থাকার জন্য এবার সাঁতার দিতে হবে
তা না হলে নুড়ির মতো তলিয়ে যাবে সবাই
এই যে সময় পালটে যাচ্ছে, পালটে যাচ্ছে, যাবে।

সমালোচক, লেখক, এসো
কলম আনো, ভবিষ্যৎ-কে পাবার
দু’চোখ বুজে থেকো না আর
এ-সুযোগ যে আসবে না, তাই
রায় দিও না জলদি কিছুই
এই তো চাকা ঘুরছে এখন
কার কথা যে ভাসছে হওয়ায়
জানবে পরে, জানতে যখন পাবে
বুঝলে কিনা, এই যে সময় পালটে যাচ্ছে, পালটে যাচ্ছে, যাবে। (সম্পূর্ণ…)

« আগের পাতা | পরের পাতা »

Disclaimer & Privacy Policy  |  About us  |  Contact us

© bdnews24.com