বিশ্বসাহিত্য

`লেখার সময় মদ্য পান নয়’–উইলিয়াম ডালরিম্পল

মুহিত হাসান | ১৯ জুন ২০১৭ ১১:২৯ অপরাহ্ন

Dalrimple-1একাধিক আখ্যানধর্মী ইতিহাস ও ভ্রমণকাহিনিমূলক গ্রন্থ লিখে ইতিমধ্যেই বিশ্বজোড়া পরিচিত নাম উইলিয়াম ডালরিম্পল। এই স্কটিশ সন্তানের লেখালেখির জগতের পুরোটা জুড়েই রয়েছে প্রাচ্যের মানুষ ও তাঁদের সমাজ-ইতিহাস-রাজনীতি। প্রথম প্রথম তিনি শুধু ভ্রমণকাহিনি ও রাজনৈতিক কলামই লিখতেন। সুখপাঠ্য লেখনীর কারণে সেসব বেশ জনপ্রিয়ও হয়। কিন্তু তিনি পরে বিশিষ্ট হয়ে ওঠেন ঔপনিবেশিক ভারতের ইতিহাস বিষয়ে একাধিক বইয়ের রচয়িতা হিসেবে। বিরাটাকৃতির ‘হোয়াইট মোগলস’ ও ‘দ্য লাস্ট মোগল’ গ্রন্থদ্বয় তাঁকে খ্যাতি ও পাঠকপ্রিয়তার শীর্ষে তুলে দেয়। এরপর ভারতবর্ষের বিচিত্র নয় চরিত্র নিয়ে লেখা তাঁর বই ‘নাইন লাইভস’ ও প্রথম ইঙ্গ-আফগান যুদ্ধ নিয়ে লেখা বই ‘রিটার্ন অফ আ কিং’-ও বেশ সমাদর পেয়েছে। সমালোচকদের কাছ থেকেও গবেষণার গুণের জন্য প্রশংসা লাভ করেছেন তিনি।
তো কী করে উইলিয়াম ডালরিম্পল তাঁর এইসব বৃহদাকৃতির অথচ সুপাঠ্য পুস্তকসমূহ লিখে থাকেন? তাঁর অনুরাগী পাঠকদের মনে এমন প্রশ্ন জাগা অসম্ভব নয়। সম্ভবত এমন সব প্রশ্নের মুখোমুখি তাঁকে প্রায়ই হতে হয় দেখে সম্প্রতি তাঁর লেখালিখির নৈমিত্তিক রুটিন নিয়ে একটি কৌতুহলোদ্দীপক প্রবন্ধ লিখেছেন ডালরিম্পল। সেখানে তিনি জানাচ্ছেন, তাঁর লেখার রুটিন মূলত দুটো। কখন কোনটা বেছে নেবেন, তা নির্ভর করছে “কাগজে কলম বসাচ্ছি কি বসাচ্ছি না তার ওপর”। প্রতি চার বা পাঁচ বছরের সময়সীমায় তিনি মাত্র একটা বইই লেখেন। সেই একটা বই লিখতে সময় লাগে এক বছর। ‘নাইন লাইভস’ লিখতে তাঁর সবচেয়ে কম সময় লেগেছিল, মাত্র নয় মাস। আর সবচেয়ে বেশি সময় লেগেছিল(সবচেয়ে বেশি খাটনিও হয়েছিল) ‘ফ্রম দ্য হলি মাউন্টেন’ শীর্ষক ভ্রমণকাহিনিমূলক বইটা লিখতে, আঠারো মাস। (সম্পূর্ণ…)

ক্রিয়া-প্রতিক্রিয়ায় অরুন্ধতী রায়ের নতুন উপন্যাস

মুহিত হাসান | ১৪ জুন ২০১৭ ১১:৪৬ পূর্বাহ্ন

Author‘এলেন, দেখলেন, জয় করলেন’– আজ থেকে বিশ বছর আগে নিজের প্রথম উপন্যাস তথা প্রথম বই গড অফ স্মল থিংকস প্রকাশ পাবার পর অরুন্ধতী রায় এরকম প্রশংসাবাণীতেই ভেসে গিয়েছিলেন। মাত্র এক মাসের মধ্যে বইখানার চার লক্ষ কপি তখন বিক্রি হয়েছিল। সমালোচকদের বাহবাও জুটেছিল অফুরান। পরে অরুন্ধতী নিজের এই পয়লা উপন্যাস দিয়ে জয় করে নেন দুনিয়াখ্যাত বুকার প্রাইজ। কিন্তু কথাসাহিত্যের ক্ষেত্র থেকে তিনি যেন সরেই গিয়েছিলেন এরপর। এমন রাজকীয় অভিষেকের পর কেন তাঁর কলম থেকে বেরুচ্ছে না আরেকটা উপন্যাস–এই প্রশ্ন তাড়িয়ে ফিরেছে ভক্ত-পাঠকদেরও। অবশ্য লেখালেখি তাঁর থেমে থাকেনি, সামাজিক-রাজনৈতিক নানা ইস্যুতে ঝাঁঝালো-তর্কপ্রবণ প্রবন্ধ-নিবন্ধ-কলাম লিখেছেন প্রচুর। সেসব গদ্যলেখা এক করে বইও হয়েছে একাধিক। পাশাপাশি ঠোঁটকাটা অ্যাকটিভিস্ট হিসেবে আবির্ভূতও হয়েছেন ওইসব ঘটনা-প্রসঙ্গের পরিপ্রেক্ষিতে।
সুখবর হলো, কথাসাহিত্যের দুনিয়ায় বিশ বছর নীরব থাকার পর গত ৬ জুন অরুন্ধতী রায় হাজির হয়েছেন তাঁর দ্বিতীয় উপন্যাস দ্য মিনিস্ট্রি অফ আটমোস্ট হ্যাপিনেস নিয়ে। গত বছরের অক্টোবরে পেঙ্গুইন র‌্যান্ডম হাউজের তরফ থেকে বইটি আশু প্রকাশ্য এমন বিবৃতি আসা মাত্রই পাঠকদের মধ্যে আগ্রহ ও অপেক্ষার সূত্রপাত ঘটে। আগ্রহের আগুনে আরো ঘি পড়ে যখন পেঙ্গুইনের দুই প্রতিনিধি সিমন প্রসের ও মিরু গোখলে প্রকাশিতব্য বইটি সম্পর্কে বলেছিলেন : “এই বইটি প্রকাশ করতে পারাটা একইসাথে আনন্দের ও সম্মানের। কী অবিশ্বাস্যরকমের বই এটি–একাধিক স্তর থেকে; সাম্প্রতিককালে আমাদের পড়া নিখুঁত বইগুলোর একটি। এর লেখনী অসামান্য, সাথে চরিত্রগুলোও ঔদার্য ও সহানুভূতির সাথে জীবন্ত করে তোলা হয়েছে…”। তাঁরা আরো বলেছিলেন, বইটি আমাদের স্মরণ করিয়ে দেবে যে শব্দরাও জীবন্ত। অরুন্ধতী নিজের মন্তব্য ছিল এমন “ আমি এটা জানাতে পেরে খুশি যে উন্মাদ আত্মারা(এমনকি যাঁরা অসুস্থ তারাও) এই উপন্যাসের মাধ্যমে পৃথিবীর পথ খুঁজে পাবে, যেমন করে আমি পেয়েছি আমার প্রকাশককে।” আর তাঁর প্রকাশনা-এজেন্ট ডেভিড গুডউইনের প্রতিক্রিয়া ছিল উচ্ছ্বাসমুখর : “একমাত্র অরুন্ধতীই এই উপন্যাসটি লিখতে পারতেন। একদম খাঁটি। এটা নির্মিত হতে লেগেছে কুড়ি বছর, এবং এই অপেক্ষা সার্থক।” (সম্পূর্ণ…)

গুপ্তচর ছিলেন হেমিংওয়ে?

মুহিত হাসান | ৩১ মে ২০১৭ ২:১৯ অপরাহ্ন

Hemingwayমার্কিন কথাসাহিত্যিক আর্নেস্ট হেমিংওয়ে তৎকালীন সোভিয়েত ইউনিয়নের গুপ্তচর হিসেবে কাজ করেছেন একসময়, আবার দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের চূড়ান্ত ক্ষণে কাজ করেছেন মার্কিন প্রশাসনের হয়ে–এমন তথ্য তাঁর পাঁড় ভক্ত কোনো ব্যক্তিও কখনো জানতেন বলে দাবি করবেন না। অথচ, বিষয়টি একদিকে অতিরিক্ত রকমের অবিশ্বাস্য হলেও, অপরদিকে বিকটরকমের সত্যও বৈকি। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএ-এর প্রাক্তন কর্মকর্তা ও সিআইএ জাদুঘরের কিউরেটর নিকোলাস রেনলন্ডস সম্প্রতি হেমিংওয়ের গুপ্তচর-জীবন নিয়েই আস্ত একটি বই লিখেছেন। যার শিরোনাম : Writer, Sailor, Soldier, Spy: Ernest Hemingway’s Secret Adventures, 1935-1961 –এই বইটিই হেমিংওয়ের জীবনের আজতক অব্দি অজানা এই পর্বের ইতিবৃত্ত প্রথমবারে মতো পাঠকদের সামনে উন্মোচিত করেছে।
মার্কিন প্রশাসনের হয়ে হেমিংওয়ের কাজ করা নিয়ে তথ্য সাবেক ঝানু গোয়েন্দা কর্মকর্তা রেনল্ডসের হাতের নাগালেই ছিল। তবে সোভিয়েত-সংযোগের মতো এমন বিস্ফোরক ঘটনা সম্পর্কে অবগত হয়েছিলেন একদম কাকতালীয়ভাবেই। তিনি জানিয়েছেন, কর্মসূত্রে মস্কো থেকে পাচার হয়ে আসা গুরুত্বপূর্ণ সোভিয়েত গোয়েন্দা সংস্থা ‘এনকেভিডি’-র(১৯৩৪ থেকে ১৯৪৬ অব্দি এই সংস্থা চালু ছিল, কেজিবির পূর্বসূরি বলা চলে) একটি গোপনীয় ফাইল হাতে পেয়েছিলেন। সেই গোপন ফাইলের নথিপত্র থেকেই জানা যায়, ১৯৪০ সালে ‘এনকেভিডি’ কর্তৃপক্ষ হেমিংওয়েকে গুপ্তচর হিসেবে নিয়োগ দিয়েছিল। এর নেপথ্যে প্রধান ভূমিকা পালন করেছিলেন ‘এনকেভিডি’-র এক উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জ্যাকব গোলোস, যিনি গুপ্তচরবৃত্তির স্বার্থে থাকতেন নিউ ইয়র্ক শহরে। ওই সময়ে সোভিয়েত ইউনিয়নের অতি গুরুত্বপূর্ণ গোয়েন্দা সংস্থাটি হেমিংওয়ের একটি সাংকেতিক ছদ্মনামও নির্ধারণ করেছিল, ‘আর্গো’। “তবে তিনি আমাদের কোনো রাজনৈতিক তথ্য পাঠাননি”–ফাইলটিতে এও লেখা রয়েছে। (সম্পূর্ণ…)

অপ্রকাশিত পত্রগুচ্ছে সিলভিয়া প্লাথের তিক্ত দাম্পত্যজীবন

মুহিত হাসান | ২২ মে ২০১৭ ১০:১৯ পূর্বাহ্ন

2কবিদম্পতি সিলভিয়া প্লাথ ও টেড হিউসের বিবাহিত জীবন কখনোই খুব মধুর ছিল না, তা ওয়াকিবহাল ব্যক্তিমাত্রেই জানেন। কিন্তু সাংসারিক রাগ-বিরাগের সীমা ছাড়িয়ে টেড হিউস স্বয়ং, সিলভিয়া প্লাথকে রীতিমতো শারীরিক অত্যাচার করেছিলেন– এমন তথ্য যে কাউকে চমকে দেওয়ার জন্য যথেষ্ট। তাঁদের দ্বিতীয় সন্তান সিলভিয়ার গর্ভে ‘মিসক্যারিজ’ হওয়ার দুদিন আগে তাঁকে আঘাত করেছিলেন টেড হিউস ও পাশাপাশি তাঁর মৃত্যুকামনা করেছিলেন–এমন তথ্য পেলে কি যে কারও গা শিউরে উঠবে না? সম্প্রতি সিলভিয়ার অপ্রকাশিত একগুচ্ছ পত্র জনসম্মুখে আসায় বিষয়টি জানা গিয়েছে।
চিঠিগুলো(সংখ্যায় মোট চৌদ্দটি) লেখা হয়েছিল ১৯৬০ সালের ১৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ১৯৬৩-র ৪ ফেব্রুয়ারির মধ্যে, সিলভিয়া প্লাথ আত্মহত্যা করার সপ্তাহখানেক আগে শেষতম চিঠিটি লেখা হয়। চিঠিগুলো সিলভিয়ার জীবনের এমন একটা অধ্যায় মেলে ধরেছে, যা কিনা পাঠক ও গবেষকদের মধ্যে ধোঁয়াশাপূর্ণই রয়ে গিয়েছিল এতদিন। এমনিতে ইংল্যান্ডে তখন বসবাসকারী এই মার্কিনি কবি ছিলেন একজন দুঁদে পত্রলেখক, উপরন্তু এগারো বছর বয়স থেকে সবিস্তার দিনলিপি লেখার অভ্যাসও তাঁর ছিল। কিন্তু তাঁর মৃত্যুর পর টেড হিউস দাবী করে বসলেন, মৃত্যুর পরই সিলভিয়ার সব দিনলিপির খাতা খোয়া গিয়েছে। আর শেষতম দিনলিপির খাতাটি তিনি নিজেই নষ্ট করে ফেলেছেন, তাঁদের দুই সন্তান ফ্রিডা ও নিকোলাসকে ‘রক্ষার স্বার্থে’। (সম্পূর্ণ…)

কথাসাহিত্যিক হুয়ান রুলফোর আলোকচিত্র : আলোছায়ার অজানা স্রষ্টা

রেশমী নন্দী | ১৯ মে ২০১৭ ১২:৪৪ অপরাহ্ন

rulfo-1
চিত্র: লেখক হুয়ান রুলফো, জন্ম ১৯১৭ সালের ১৬ মে, মেহিকোর পশ্চিমাংশের হালিস্কোতে

গত ১৬ মে ছিল লাতিন আমেরিকান সাহিত্যের অন্যতম ব্যক্তিত্ব হুয়ান রুলফোর শততম জন্মবার্ষিকী। লোকসংষ্কৃতি বিষয়ে খুচরো কিছু প্রবন্ধ ছাড়া তাঁর জীবদ্দশায় প্রকাশিত বইয়ের সংখ্যা মাত্র দুটি। একটি উপন্যাস, আরেকটি ছোট গল্পের সংকলন। তবু সাহিত্যের ইতিহাসে তিনি বিবেচিত হন অন্যতম লেখক হিসেবে। তাঁর উপন্যাসের নাম Pedro Páramo, যেখানে মৃত মায়ের কথা রাখতে বাবাকে খুঁজতে গিয়ে নায়ক হুয়ান প্রেসিয়াদো পৌঁছান ভৌতিক এক নগরীতে। তারপর মৃত আর জীবিতের ফারাক; অতীত, বর্তমান আর ভবিষ্যতের সীমা সবকিছুই হয়ে ওঠে একই সাথে বাস্তব ও অলীক। হোর্হে লুইস বোর্হেসের মতে, এটা গোটা বিশ্বের মধ্যে উল্লেখযোগ্য ভালো উপন্যাস। গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস বলেছিলেন, তিনি উপন্যাসটি এতবার পড়েছেন যে মুখস্ত বলতে পারবেন। তাঁর বিখ্যাত উপন্যাস One Hundred Years of Solitude লেখার প্রেরণা হিসেবেও তিনি একে উল্লেখ করেছেন। ১৯৫৫ সালের প্রকাশিত উত্তরাধুনিক উপন্যাসের উল্লেখযোগ্য এক উদাহরণ হিসেবে স্বীকৃত। এই উপন্যাস প্রকাশের দু’বছর আগে প্রকাশিত হয় তাঁর একমাত্র গল্পগ্রন্থ El Llano en Llamas, ১৯৫৩ সালে। আর ১৭ টি গল্পের এই সংকলনের জন্যই তিনি বিবেচিত হন অন্যতম সফল ছোটগল্প লেখক হিসেবেও। (সম্পূর্ণ…)

রবীন্দ্রনাথ যে-কথা দিয়েও রাখেন নি

রাজু আলাউদ্দিন | ৮ মে ২০১৭ ১১:৫৯ পূর্বাহ্ন

Zenobia-jimenezকথা ছিল হুয়ান রামোন হিমেনেছ এবং তার বিদুষী স্ত্রী সেনোবিয়া কামপ্রুবির আমন্ত্রণে স্পেনে যাবেন রবীন্দ্রনাথ ১৯২১ সালে। ইংরেজিভাষী দেশ ইংল্যান্ড বা আমেরিকার কথা বাদ দিলে স্পেনই সেই দেশ যেখানে রবীন্দ্রনাথ সম্পর্কে প্রথম কৌতূহল ও আলোচনার সূত্রপাত ঘটে। সেই ১৯১২ সালেই, রবীন্দ্রনাথ নোবেল পুরস্কার পাবার আগেই, স্পেনের গালিসিয়া অঞ্চলের প্রাবন্ধিক ও অধ্যাপক বিসেন্তে রিস্কো ম্যাকমিলান থেকে ১৯১২ সালে প্রকাশিত Evelyn Underhill -এর লেখা Mystic way বইটির উল্লেখ করেছিলেন যেখানে রবীন্দ্রনাথ এবং তার লেখার কথা আলোচিত হয়েছিল। এরপর ১৯১৩ সালে রবীন্দ্রনাথ নোবেল পুরস্কার পাবার পরপরই আতেনেও দে মাদ্রিদ (Ateneo de madrid) নামক এক ইনস্টিটিউট-এ তিনি রবীন্দ্রনাথকে নিয়ে একটি বক্তৃতাও দিয়েছিলেন। এতটাই রবীন্দ্র-মগ্ন ছিলেন তিনি যে তাঁকে সেখানকার লোকজনরা ‘স্পেনিশ টেগোর’ বলে অভিহিত করতেন। যদিও পরবর্তীকালে রবীন্দ্রনাথ থেকে তিনি মুখ ফিরিয়ে নিয়েছিলেন, এমন কি রবীন্দ্র-নিন্দুকে পরিণত হয়েছিলেন শেষ দিকে। ১৯১৩ সালেই ইংরেজিভাষী দেশে রবীন্দ্রনাথের Gitanjali কাব্যগ্রন্থের প্রতি আগ্রহের কথা নিয়ে স্পেনের আরেক লেখক পেরেস দে আইয়ালা La Tribuna পত্রিকায় লিখলেন। তিনিও এক সময় রবীন্দ্রনাথ থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছিলেন। স্পেনের আরেক সম্মানিত লেখক রামিরো দে মেয়াৎসু রবীন্দ্রনাথের লেখা স্প্যানিশ ভাষায় ১৯১৫ সালে অনুবাদের আগেই, Sadhana গ্রন্থটির সমালোচনা করে লিখলেন ‘নুয়েবো মুন্দো’( Nuevo Mundo) নামক এক পত্রিকায় ১৯১৪ সালের ৫ই মার্চে। (সম্পূর্ণ…)

সালমান রুশদির ‘লজ্জা’ আর ‘মধ্যরাতের সন্তানেরা’

শামস্‌ রহমান | ৭ মে ২০১৭ ৮:৩৭ অপরাহ্ন

midতখন বিলাতে। সময়টা ১৯৮৮। সম্ভবত জুলাই মাস। বার্মিংহাম বিশ্ববিদ্যালয়ের পাঠাগারের প্রধান দরজা দিয়ে ঢুকতেই ম্যগাজিন স্ট্যন্ডে একটি গ্লোসি ম্যগাজিন আমার দৃষ্টি আকর্ষণ করে। প্রচ্ছদের পুরো পৃষ্ঠা জুড়ে ছবিটি – চেহারা আর গড়নে, উপমহাদেশের কেউ হবে বলে মনে ধরে। স্বভাবতই আগ্রহ জাগে জানার। প্রচ্ছদ কাহিনীর পৃষ্ঠা উল্টাতেই শিরনামে চোখে পরে – সালমান রুশদি। নামটা আমার কাছে তখনও অপরিচিত। প্রচ্ছদ কাহিনী রচয়িতা একজন বিলেতি সাহিত্য সমালোচক। লিখেছেন – ‘রুশদি এমন একজন উপন্যাসিক যে সে দ্বিতীয়বার Booker Prize না পেলে অতৃপ্ত থেকে যাবে তার আত্না’। উপমহাদেশের এত বড় মাপের একজন লেখক, অথচ তার লেখা পড়া তো দূরের কথা, কখনো নামই শুনিনি তার। কিছুটা অস্বস্তি লাগে নিজের কাছে।
এই ঘটনার কয়েক মাস পরেই প্রকাশিত হয় সালমান রুশদির বহুল বিতর্কিত গ্রন্থ –The Satanic Verses। গ্রন্থটি মুসলিম বিশ্বে লক্ষ লক্ষ সাধারণ মানুষের সরল বিশ্বাসে আঘাতের অভিযোগে সমালোচিত ও আক্রান্ত হয়। প্রকাশিত হওয়ার কয়েক মাসের মাথায় বিলাতের ব্রাডফোর্ডে জনসমক্ষে বইটি পোড়ালে বৃটিশ সরকারের জন্য এটা একটি ‘burning issue’ হয়ে দাঁড়ায়। তারপর আসে খোমেনির ফাত্‌ওয়া। ফলে গ্রন্থটি হয় বাক্সবন্দি আর লেখক হন গৃহবন্দি।
যতদূর জানা যায় রুশদির প্রথম প্রকাশিত গ্রন্থ Grimus। বইটি কখনো দেখেনি, পড়িনি বা এর উপর কখনো কোন আলোচনা-সমালোচনাও শুনিনি। হতে পারে গ্রন্থটি ব্যাপক পটভূমি জুড়ে এক বিশাল কোন গল্প, নাতিদীর্ঘ কোন উপন্যাস, কিংবা জটিল কোন কাব্যগ্রন্থ। কে জানে। গ্রন্থটি খাটো করে দেখার কোন অভিপ্রায় আমার নেই, শুধু এটুকুই বলা যে রুশদি তখনো সাক্ষর রাখতে পারেননি একজন দক্ষ কিংবা সম্ভাবনাময় লেখক হিসেবে। (সম্পূর্ণ…)

ঢাকাবাসীর নাসিরুদ্দিন শাহ্ দর্শন ও কয়েকটি প্রশ্ন

শিমুল সালাহ্উদ্দিন | ২৫ এপ্রিল ২০১৭ ৩:২৭ অপরাহ্ন

Heeba Shah in an Unique momentতার গল্প নিয়ে এ সমস্ত কারবার দেখে কী ইসমত চুঘতাই হেসে খুন হয়ে যেতেন?— এই প্রশ্ন নিয়েই বেরুলাম বসুন্ধরা কনভেনশন সেন্টারের নবরাত্রী হল থেকে, গত শুক্রবার রাতে।

অঝোর বৃষ্টি তখন, এই শহরের অভিজাত নাট্যামোদী মানুষেরা, যাদের চেহারা আমি শিল্পকলা একাডেমি কিংবা নাটমণ্ডলে কোনদিন দেখিনি, আমার প্রায় এক দশকের সাংস্কৃতিক সাংবাদিকতার জীবনে, তারা তখন পার্কিং লটের যানজট ভেঙে গাড়ি আসার অপেক্ষায় মিলনায়তনের বাইরে দাঁড়িয়ে—অনেকক্ষণ দেখলাম ঘুরে ঘুরে তাদের মুখ, হাস্যোজ্জ্বল সামাজিক গণযোগাযোগ। কারো মুখেই নাটক নিয়ে কোন কথা নেই।

থিয়েটারের খ্যাতনামা অভিনেত্রী ত্রপা মজুমদারের সাথে দেখা হলো পার্কিং লটে, আমার অফিসের বাহনও তখন আটকে পড়ে আছে।

—— আপা কেমন লাগলো নাটক?
—— ভালো, খুব ভালো। বিশেষত সর্বশেষটা, নাসিরুদ্দিন শাহ বড় অভিনেতা।

আচ্ছা, নাটকের তৃপ্ত মানুষ পাওয়া যাচ্ছে তাহলে। বেশ লাগলো আমার ত্রপা আপার মুগ্ধতা। (সম্পূর্ণ…)

ইয়েভগেনি ইয়েভতুসেনকো : বর্ণাঢ্য জীবন ও কীর্তি

কামরুল হাসান | ৮ এপ্রিল ২০১৭ ৮:৪৭ অপরাহ্ন

Evgenyষাটের দশকে রাশিয়া মাতানো কবি ইয়েভগেনি ইয়েভতুসেনকো জন্মগ্রহণ করেছিলেন রাশিয়ার সাইরেরিয়ার ছোট্ট শহর জিমা জংশনে, ১৯৩২ সালে। স্ট্যালিন বিরোধিতার জন্য তাঁর অংকের শিক্ষক বাবাকে গোটা পরিবারসহ সাইবেরিয়ায় নির্বাসনে পাঠানো হয়েছিল। আশ্চর্য নয় যে, ইয়েভতুসেনকোর বেড়ে ওঠায় সে ঘটনার সুদূরপ্রসারী প্রভাব পড়েছিলো। তাঁর রক্তধারায় এসে মিশেছিল অনেকগুলো জাতিসত্ত্বার মিলিত ধারা। তাই বুঝি ইয়েভতুসেনকো এত প্রতিভাবান, এত দুর্জ্ঞেয়। শৈশবেই বাবার সাথে বেড়িয়ে এসেছেন রাশিয়ার সংলগ্ন কয়েকটি দেশ। কিন্তু সাত বছর বয়সে মায়ের সাথে বাবার ছাড়াছাড়ি হয়ে গেলে পিতার সাহচর্য থেকে বঞ্চিত হন তিনি। অতঃপর মা এবং মাতৃকুলের পরিজনদের কাছেই বড় হন। বাবার পারিবারিক নাম গ্যাংগনাস ছেড়ে মায়ের উপাধি ইয়েভতুসেনকো জুড়ে দেন নিজ নামের সাথে। অনেক বছর পরে যখন ইয়েভতুসেনকোর কবিতায় উদ্বেল গোটা রাশিয়া, তখন মায়ের উপাধি থেকে নেয়া নামের শেষাংশটুকু নামের প্রথমাংশের সাথে মিলে এক সাঙ্গীতিক দ্যোতনা হয়েই বিশ্ববাসীর কানে পৌঁছায়।

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ শেষ হলে বসবাসের জন্য তিনি সাইবেরিয়া থেকে রাশিয়ার রাজধানী মস্কোতে চলে আসেন। অত্যন্ত সমৃদ্ধ রাশিয়ান সাহিত্যের রাজধানীও সেটাই। মস্কোতে তিনি সাহিত্য রচনার সঠিক পরিবেশটি খুঁজে পান, পরিচিত হন সমসাময়িক এবং অগ্রজ অনেক কবির সাথে। ১৯৫১ থেকে ১৯৫৪ এই চার বছর মস্কোর গোর্কি সাহিত্য ইনস্টিটিউটে ভর্তি হয়েছিলেন সাহিত্য পড়ার জন্য, কিন্তু অনেক প্রতিভাবান লেখকের মতোই, শেষ করেননি সে পড়াশোনা। কবিতা তখন তাকে পেয়ে বসেছে। উন্মাদের মতো প্রেমে পড়ছেন আর কবিতা লিখে চলেছেন। (সম্পূর্ণ…)

চিনুয়া আচেবে আত্মশুদ্ধির আলোকিত পৈঠায়

রুখসানা কাজল | ৭ এপ্রিল ২০১৭ ১২:১৫ অপরাহ্ন

achebeনাইজেরিয়ার ইগবো সম্প্রদায়ের মধ্যে একটি উপকথা বেশ প্রচলিত ছিলএরকম ভাবে, মানুষ একবার ভেবেছিল যে তারা ঈশ্বরের কাছে অমরত্ম চাইবে। কিন্তু তাদের হয়ে কে যাবে ঈশ্বরের কাছে এই অমরত্ম চাইবার ইচ্ছার কথা নিয়ে? তখন তারা একটি কুকুরকে শিখিয়ে পড়িয়ে ঈশ্বরের কাছে রওয়ানা করিয়ে দিল। কুকুরের মত বন্ধু তো আর কেউ নয় মানুষের! একটি কুচুটে ব্যাঙ মানুষের এই গোপন ইচ্ছার কথা কি করে যেন জেনে যায়। কুকুরের আগেই সে ঈশ্বরের কাছে পৌঁছে যায়। গদগদ চিত্তে সে ঈশ্বরের কাছে জানায়, প্রভু মানুষ তাকে বিশেষ বার্তা দিয়ে আপনার কাছে নিবেদন পাঠিয়েছে। ঈশ্বর সদাশয়, মহাদয়ালু। জানতে চান, কি বার্তা বলে ফেল! তখন ব্যাঙ কূটনামি করে মিথ্যে বলে যে, বার্তাটি হচ্ছে, মৃত্যুর পরে মানুষ আর এই পৃথিবীতে ফিরে আসতে চায় না। ঈশ্বর বললেন তথাস্তু, মানুষের ইচ্ছাই পূর্ণ হবে ।

এইরকম সময়ে কুকুর সেখানে পৌঁছে যায় এবং যথাযথ নম্রতায় মানুষের অমরত্মের ইচ্ছাকথা ঈশ্বরের কাছে নিবেদন করে। ঈশ্বর তথাগত কি করবেন তখন? তিনি ত কিছুতেই একটু আগে ব্যাঙকে দেওয়া প্রতিশ্রুতি ফিরিয়ে নিতে পারেন না। আবার কুকুরের নিবেদনের সত্যতাকে অস্বীকার করে ফেলেও দিতে পারেন না। তাই তিনি রহস্য রেখে কুকুরের নিবেদনকে গ্রহন করে জানালেন, তথাস্তু। মানুষ পৃথিবীতে ফিরে আসতে পারবে বটে তবে কিনা মনুষ্য রূপে নয়, অন্যান্য বিভিন্ন রূপ ধারণ করেই মানুষ এই পৃথিবীতে চিরকাল বেঁচে থাকবে। (সম্পূর্ণ…)

‘সমুদ্রস্তন দ্বীপের মতো সে আছে ঘুমিয়ে’ : ডেরেক ওয়ালকটের প্রস্থান

কুমার চক্রবর্তী | ২৪ মার্চ ২০১৭ ১১:০৭ অপরাহ্ন

Walcott১.
শীতল কাচ ছায়াময় হয়ে ওঠে। এলিজাবেথ একবার লিখেছিল—
আমরা কাচকে আমাদের ব্যথার চিত্রকল্প বানিয়ে ফেলি।

২.
কাছে এসো ফিরে
আমার ভাষা।

ওয়ালকট, তাঁর নিজের ভাষায়, প্রথমত এক ক্যারিবীয় লেখক যিনি মানবগোষ্ঠীর একজন সক্রিয় সদস্য হিসেবে সবকিছু দেখেছেন আর বলেছেন, পরিপক্বতা হলো প্রত্যেক পূর্বসূরির বৈশিষ্ট্যের সাঙ্গীকরণ। তাঁর একীকরণের বিষয় ছিল ল্যাঙ্গুয়েজ কনটিনাম আর কালচারাল স্ট্রেটাম। ১৯৯২ সালে নোবেল পুরস্কারপ্রাপ্ত, সেন্ট লুসিয়ার ক্যাস্টিসে ১৯৩০-এর ২৩ জানুয়ারি জন্মগ্রহণকারী ডেরেক ওয়ালকট মনে করতেন যে, অধিকাংশ কৃষ্ণাঙ্গ লেখকই তাঁদের আত্মবিচ্ছিন্নতা দ্বারা নিজেদের পঙ্গু করে ফেলেন, কবি হিসেবে মানবতার বিভাজনে বিশ্বাস অনুচিত। তাঁর স্টার-আপেল কিংডম কাব্যের ‘দ্য স্কুনার ফ্লাইট’ কবিতায় এই চেতনার স্যাবাইন বলছে এমন কথা যা থেকে তাঁর প্রাতিস্বিকতার পরিচয় ধরা পড়ে:
আমি হলাম সোজাসাপটা একজন লাল নিগার যে সমুদ্রপ্রেমিক,
আমার রয়েছে ঠিকঠাক ঔপনিবেশিক শিক্ষা,
আমি একাধারে ডাচ, কৃষ্ণাঙ্গ এবং ইংরেজ
আর হয় আমি কেউ নই নতুবা
আমি এক জাতি।

তাঁর ভেতর ইউরোপীয় ইতিহাস, শিল্পসাহিত্য আর সেন্ট লুসিয়ার আফ্রিকানির্ভর সংস্কৃতির সার্থক মিলন ঘটেছে। তিনি ছিলেন না ইউরোপীয় গোছের, আবার সেন্ট লুসিয়ার কৃষ্ণাঙ্গদের মতো কালোও ছিলেন না, ছিলেন কিছুটা সাদাটে। ফলে বিভিন্ন ঐতিহ্য থেকে গ্রহণের ক্ষমতা তাঁকে দিয়েছে সময়ের এক অতলান্ত কৌলিনত্ব। তিনি বলেছিলেন: ‘আামি এক বিচ্ছিন্ন লেখক: আমার মধ্যে রয়েছে এমন-এক ঐতিহ্য যা একদিকে গ্রহণ করে যায়, আর আছে অন্য এক ঐতিহ্য যা অন্যদিকে বিস্তারিত হয়। একদিকে অনুকরণশীল, বর্ণনাত্মক ও নৃতাত্ত্বিক উপাদান অন্যদিকে তা আবার সাহিত্য ও ধ্রুপদি ঐতিহ্যে শক্তিশালী।’ (সম্পূর্ণ…)

ক্যারিবিয় হোমারের মহাপ্রয়াণ

কামরুল হাসান | ২৪ মার্চ ২০১৭ ৫:৩৫ অপরাহ্ন

D.W.অতিসম্প্রতি প্রয়াত হলেন ক্যারিবীয় দ্বীপপুঞ্জের নোবেল বিজয়ী কবি ডেরেক ওয়ালকট। উল্লেখ্য যে তিনিই পশ্চিম ভারতীয় দ্বীপপুঞ্জের প্রথম নোবেল বিজয়ী কবি নন, যদিও কবিতাবিশ্বে তিনিই বেশি আলোচিত। তাঁর আগে ১৯৬০ সালে সাঁ ঝ পের্স সাহিত্যে নোবেল পুরস্কার লাভ করেছিলেন। ওয়ালকটের নোবেল প্রাপ্তি তার ৩২ বছর পরে, ১৯৯২ সালে। তিনি জন্মগ্রহণ করেছিলেন সেন্ট লুসিয়ায় ১৯৩০ সালে। প্রাথমিক জীবন ও শিক্ষা সেন্ট লুসিয়াতেই। তাঁর স্কুল শিক্ষিকা মা কবিতা ভালোবাসতেন, ঘরে উচ্চস্বরে কবিতা আবৃত্তি করতেন। শৈশবে শোনা সেসব কবিতা শিশু ও বালক ওয়ালকটের অবচেতনে প্রভাব ফেলে থাকতে পারে। তবে তিনি হতে চেয়েছিলেন তার বাবার মতো চিত্রশিল্পী। চিত্রকলায় দীক্ষাও নিয়েছিলেন হ্যারল্ড সিমন্সের কাছে। কবিতা নয়, তার প্রাথমিক হাতেখড়ি চিত্র অাঁকায়। দুর্ভাগ্য বাবার মুখ তিনি দেখতে পাননি। মাত্র ৩১ বছর বয়সে তার বাবা যখন মারা যান, তখন ডেরেক ও তার জমজ ভাই রবার্ট মাতৃগর্ভে ছিলেন।

কিছুদিন ছবি আঁকার পরেই তিনি ইংরেজি ভাষার প্রেমে পড়ে যান, যা থেকে জন্ম নেয় সাহিত্যপ্রীতি। টি এস এলিয়ট ও এজরা পাউন্ডের কবিতাপাঠ তাকে গভীরভাবে আলোড়িত করে এবং সাহিত্যকেই ধ্যানজ্ঞান করেন। মাত্র ১৯ বছর বয়সে মায়ের কাছ থেকে ২০০ ডলার সাহায্য নিয়ে তিনি দু’টি কাব্যগ্রন্থ্ নিজেই প্রকাশ করেন। বন্ধু ও শুভানুধ্যায়ীদের কাছে বই বিক্রি করে মায়ের কষ্টে অর্জিত অর্থ ফেরৎও দিয়েছিলেন। (সম্পূর্ণ…)

পরের পাতা »

Disclaimer & Privacy Policy  |  About us  |  Contact us

© bdnews24.com