বিশ্বসাহিত্য

ঢাকাবাসীর নাসিরুদ্দিন শাহ্ দর্শন ও কয়েকটি প্রশ্ন

শিমুল সালাহ্উদ্দিন | ২৫ এপ্রিল ২০১৭ ৩:২৭ অপরাহ্ন

Heeba Shah in an Unique momentতার গল্প নিয়ে এ সমস্ত কারবার দেখে কী ইসমত চুঘতাই হেসে খুন হয়ে যেতেন?— এই প্রশ্ন নিয়েই বেরুলাম বসুন্ধরা কনভেনশন সেন্টারের নবরাত্রী হল থেকে, গত শুক্রবার রাতে।

অঝোর বৃষ্টি তখন, এই শহরের অভিজাত নাট্যামোদী মানুষেরা, যাদের চেহারা আমি শিল্পকলা একাডেমি কিংবা নাটমণ্ডলে কোনদিন দেখিনি, আমার প্রায় এক দশকের সাংস্কৃতিক সাংবাদিকতার জীবনে, তারা তখন পার্কিং লটের যানজট ভেঙে গাড়ি আসার অপেক্ষায় মিলনায়তনের বাইরে দাঁড়িয়ে—অনেকক্ষণ দেখলাম ঘুরে ঘুরে তাদের মুখ, হাস্যোজ্জ্বল সামাজিক গণযোগাযোগ। কারো মুখেই নাটক নিয়ে কোন কথা নেই।

থিয়েটারের খ্যাতনামা অভিনেত্রী ত্রপা মজুমদারের সাথে দেখা হলো পার্কিং লটে, আমার অফিসের বাহনও তখন আটকে পড়ে আছে।

—— আপা কেমন লাগলো নাটক?
—— ভালো, খুব ভালো। বিশেষত সর্বশেষটা, নাসিরুদ্দিন শাহ বড় অভিনেতা।

আচ্ছা, নাটকের তৃপ্ত মানুষ পাওয়া যাচ্ছে তাহলে। বেশ লাগলো আমার ত্রপা আপার মুগ্ধতা। (সম্পূর্ণ…)

ইয়েভগেনি ইয়েভতুসেনকো : বর্ণাঢ্য জীবন ও কীর্তি

কামরুল হাসান | ৮ এপ্রিল ২০১৭ ৮:৪৭ অপরাহ্ন

Evgenyষাটের দশকে রাশিয়া মাতানো কবি ইয়েভগেনি ইয়েভতুসেনকো জন্মগ্রহণ করেছিলেন রাশিয়ার সাইরেরিয়ার ছোট্ট শহর জিমা জংশনে, ১৯৩২ সালে। স্ট্যালিন বিরোধিতার জন্য তাঁর অংকের শিক্ষক বাবাকে গোটা পরিবারসহ সাইবেরিয়ায় নির্বাসনে পাঠানো হয়েছিল। আশ্চর্য নয় যে, ইয়েভতুসেনকোর বেড়ে ওঠায় সে ঘটনার সুদূরপ্রসারী প্রভাব পড়েছিলো। তাঁর রক্তধারায় এসে মিশেছিল অনেকগুলো জাতিসত্ত্বার মিলিত ধারা। তাই বুঝি ইয়েভতুসেনকো এত প্রতিভাবান, এত দুর্জ্ঞেয়। শৈশবেই বাবার সাথে বেড়িয়ে এসেছেন রাশিয়ার সংলগ্ন কয়েকটি দেশ। কিন্তু সাত বছর বয়সে মায়ের সাথে বাবার ছাড়াছাড়ি হয়ে গেলে পিতার সাহচর্য থেকে বঞ্চিত হন তিনি। অতঃপর মা এবং মাতৃকুলের পরিজনদের কাছেই বড় হন। বাবার পারিবারিক নাম গ্যাংগনাস ছেড়ে মায়ের উপাধি ইয়েভতুসেনকো জুড়ে দেন নিজ নামের সাথে। অনেক বছর পরে যখন ইয়েভতুসেনকোর কবিতায় উদ্বেল গোটা রাশিয়া, তখন মায়ের উপাধি থেকে নেয়া নামের শেষাংশটুকু নামের প্রথমাংশের সাথে মিলে এক সাঙ্গীতিক দ্যোতনা হয়েই বিশ্ববাসীর কানে পৌঁছায়।

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ শেষ হলে বসবাসের জন্য তিনি সাইবেরিয়া থেকে রাশিয়ার রাজধানী মস্কোতে চলে আসেন। অত্যন্ত সমৃদ্ধ রাশিয়ান সাহিত্যের রাজধানীও সেটাই। মস্কোতে তিনি সাহিত্য রচনার সঠিক পরিবেশটি খুঁজে পান, পরিচিত হন সমসাময়িক এবং অগ্রজ অনেক কবির সাথে। ১৯৫১ থেকে ১৯৫৪ এই চার বছর মস্কোর গোর্কি সাহিত্য ইনস্টিটিউটে ভর্তি হয়েছিলেন সাহিত্য পড়ার জন্য, কিন্তু অনেক প্রতিভাবান লেখকের মতোই, শেষ করেননি সে পড়াশোনা। কবিতা তখন তাকে পেয়ে বসেছে। উন্মাদের মতো প্রেমে পড়ছেন আর কবিতা লিখে চলেছেন। (সম্পূর্ণ…)

চিনুয়া আচেবে আত্মশুদ্ধির আলোকিত পৈঠায়

রুখসানা কাজল | ৭ এপ্রিল ২০১৭ ১২:১৫ অপরাহ্ন

achebeনাইজেরিয়ার ইগবো সম্প্রদায়ের মধ্যে একটি উপকথা বেশ প্রচলিত ছিলএরকম ভাবে, মানুষ একবার ভেবেছিল যে তারা ঈশ্বরের কাছে অমরত্ম চাইবে। কিন্তু তাদের হয়ে কে যাবে ঈশ্বরের কাছে এই অমরত্ম চাইবার ইচ্ছার কথা নিয়ে? তখন তারা একটি কুকুরকে শিখিয়ে পড়িয়ে ঈশ্বরের কাছে রওয়ানা করিয়ে দিল। কুকুরের মত বন্ধু তো আর কেউ নয় মানুষের! একটি কুচুটে ব্যাঙ মানুষের এই গোপন ইচ্ছার কথা কি করে যেন জেনে যায়। কুকুরের আগেই সে ঈশ্বরের কাছে পৌঁছে যায়। গদগদ চিত্তে সে ঈশ্বরের কাছে জানায়, প্রভু মানুষ তাকে বিশেষ বার্তা দিয়ে আপনার কাছে নিবেদন পাঠিয়েছে। ঈশ্বর সদাশয়, মহাদয়ালু। জানতে চান, কি বার্তা বলে ফেল! তখন ব্যাঙ কূটনামি করে মিথ্যে বলে যে, বার্তাটি হচ্ছে, মৃত্যুর পরে মানুষ আর এই পৃথিবীতে ফিরে আসতে চায় না। ঈশ্বর বললেন তথাস্তু, মানুষের ইচ্ছাই পূর্ণ হবে ।

এইরকম সময়ে কুকুর সেখানে পৌঁছে যায় এবং যথাযথ নম্রতায় মানুষের অমরত্মের ইচ্ছাকথা ঈশ্বরের কাছে নিবেদন করে। ঈশ্বর তথাগত কি করবেন তখন? তিনি ত কিছুতেই একটু আগে ব্যাঙকে দেওয়া প্রতিশ্রুতি ফিরিয়ে নিতে পারেন না। আবার কুকুরের নিবেদনের সত্যতাকে অস্বীকার করে ফেলেও দিতে পারেন না। তাই তিনি রহস্য রেখে কুকুরের নিবেদনকে গ্রহন করে জানালেন, তথাস্তু। মানুষ পৃথিবীতে ফিরে আসতে পারবে বটে তবে কিনা মনুষ্য রূপে নয়, অন্যান্য বিভিন্ন রূপ ধারণ করেই মানুষ এই পৃথিবীতে চিরকাল বেঁচে থাকবে। (সম্পূর্ণ…)

‘সমুদ্রস্তন দ্বীপের মতো সে আছে ঘুমিয়ে’ : ডেরেক ওয়ালকটের প্রস্থান

কুমার চক্রবর্তী | ২৪ মার্চ ২০১৭ ১১:০৭ অপরাহ্ন

Walcott১.
শীতল কাচ ছায়াময় হয়ে ওঠে। এলিজাবেথ একবার লিখেছিল—
আমরা কাচকে আমাদের ব্যথার চিত্রকল্প বানিয়ে ফেলি।

২.
কাছে এসো ফিরে
আমার ভাষা।

ওয়ালকট, তাঁর নিজের ভাষায়, প্রথমত এক ক্যারিবীয় লেখক যিনি মানবগোষ্ঠীর একজন সক্রিয় সদস্য হিসেবে সবকিছু দেখেছেন আর বলেছেন, পরিপক্বতা হলো প্রত্যেক পূর্বসূরির বৈশিষ্ট্যের সাঙ্গীকরণ। তাঁর একীকরণের বিষয় ছিল ল্যাঙ্গুয়েজ কনটিনাম আর কালচারাল স্ট্রেটাম। ১৯৯২ সালে নোবেল পুরস্কারপ্রাপ্ত, সেন্ট লুসিয়ার ক্যাস্টিসে ১৯৩০-এর ২৩ জানুয়ারি জন্মগ্রহণকারী ডেরেক ওয়ালকট মনে করতেন যে, অধিকাংশ কৃষ্ণাঙ্গ লেখকই তাঁদের আত্মবিচ্ছিন্নতা দ্বারা নিজেদের পঙ্গু করে ফেলেন, কবি হিসেবে মানবতার বিভাজনে বিশ্বাস অনুচিত। তাঁর স্টার-আপেল কিংডম কাব্যের ‘দ্য স্কুনার ফ্লাইট’ কবিতায় এই চেতনার স্যাবাইন বলছে এমন কথা যা থেকে তাঁর প্রাতিস্বিকতার পরিচয় ধরা পড়ে:
আমি হলাম সোজাসাপটা একজন লাল নিগার যে সমুদ্রপ্রেমিক,
আমার রয়েছে ঠিকঠাক ঔপনিবেশিক শিক্ষা,
আমি একাধারে ডাচ, কৃষ্ণাঙ্গ এবং ইংরেজ
আর হয় আমি কেউ নই নতুবা
আমি এক জাতি।

তাঁর ভেতর ইউরোপীয় ইতিহাস, শিল্পসাহিত্য আর সেন্ট লুসিয়ার আফ্রিকানির্ভর সংস্কৃতির সার্থক মিলন ঘটেছে। তিনি ছিলেন না ইউরোপীয় গোছের, আবার সেন্ট লুসিয়ার কৃষ্ণাঙ্গদের মতো কালোও ছিলেন না, ছিলেন কিছুটা সাদাটে। ফলে বিভিন্ন ঐতিহ্য থেকে গ্রহণের ক্ষমতা তাঁকে দিয়েছে সময়ের এক অতলান্ত কৌলিনত্ব। তিনি বলেছিলেন: ‘আামি এক বিচ্ছিন্ন লেখক: আমার মধ্যে রয়েছে এমন-এক ঐতিহ্য যা একদিকে গ্রহণ করে যায়, আর আছে অন্য এক ঐতিহ্য যা অন্যদিকে বিস্তারিত হয়। একদিকে অনুকরণশীল, বর্ণনাত্মক ও নৃতাত্ত্বিক উপাদান অন্যদিকে তা আবার সাহিত্য ও ধ্রুপদি ঐতিহ্যে শক্তিশালী।’ (সম্পূর্ণ…)

ক্যারিবিয় হোমারের মহাপ্রয়াণ

কামরুল হাসান | ২৪ মার্চ ২০১৭ ৫:৩৫ অপরাহ্ন

D.W.অতিসম্প্রতি প্রয়াত হলেন ক্যারিবীয় দ্বীপপুঞ্জের নোবেল বিজয়ী কবি ডেরেক ওয়ালকট। উল্লেখ্য যে তিনিই পশ্চিম ভারতীয় দ্বীপপুঞ্জের প্রথম নোবেল বিজয়ী কবি নন, যদিও কবিতাবিশ্বে তিনিই বেশি আলোচিত। তাঁর আগে ১৯৬০ সালে সাঁ ঝ পের্স সাহিত্যে নোবেল পুরস্কার লাভ করেছিলেন। ওয়ালকটের নোবেল প্রাপ্তি তার ৩২ বছর পরে, ১৯৯২ সালে। তিনি জন্মগ্রহণ করেছিলেন সেন্ট লুসিয়ায় ১৯৩০ সালে। প্রাথমিক জীবন ও শিক্ষা সেন্ট লুসিয়াতেই। তাঁর স্কুল শিক্ষিকা মা কবিতা ভালোবাসতেন, ঘরে উচ্চস্বরে কবিতা আবৃত্তি করতেন। শৈশবে শোনা সেসব কবিতা শিশু ও বালক ওয়ালকটের অবচেতনে প্রভাব ফেলে থাকতে পারে। তবে তিনি হতে চেয়েছিলেন তার বাবার মতো চিত্রশিল্পী। চিত্রকলায় দীক্ষাও নিয়েছিলেন হ্যারল্ড সিমন্সের কাছে। কবিতা নয়, তার প্রাথমিক হাতেখড়ি চিত্র অাঁকায়। দুর্ভাগ্য বাবার মুখ তিনি দেখতে পাননি। মাত্র ৩১ বছর বয়সে তার বাবা যখন মারা যান, তখন ডেরেক ও তার জমজ ভাই রবার্ট মাতৃগর্ভে ছিলেন।

কিছুদিন ছবি আঁকার পরেই তিনি ইংরেজি ভাষার প্রেমে পড়ে যান, যা থেকে জন্ম নেয় সাহিত্যপ্রীতি। টি এস এলিয়ট ও এজরা পাউন্ডের কবিতাপাঠ তাকে গভীরভাবে আলোড়িত করে এবং সাহিত্যকেই ধ্যানজ্ঞান করেন। মাত্র ১৯ বছর বয়সে মায়ের কাছ থেকে ২০০ ডলার সাহায্য নিয়ে তিনি দু’টি কাব্যগ্রন্থ্ নিজেই প্রকাশ করেন। বন্ধু ও শুভানুধ্যায়ীদের কাছে বই বিক্রি করে মায়ের কষ্টে অর্জিত অর্থ ফেরৎও দিয়েছিলেন। (সম্পূর্ণ…)

ম্যান বুকার ও ওবামা দম্পতির পাণ্ডুলিপি নিয়ে প্রকাশকদের কাড়াকাড়ি

মুহিত হাসান | ১৭ মার্চ ২০১৭ ১:২২ অপরাহ্ন

ম্যান বুকার ইন্টারন্যাশনাল প্রাইজের জন্য মনোনীত যাঁরা
চীনের কমিউনিজম নিয়ে ব্যঙ্গাত্মক বয়ান, আফ্রিকার পটভূমিতে রবিন হুড ঘরানার একটি গল্পের পুনর্কথন অথবা বিভক্ত জেরুজালেমে বেড়ে ওঠার গল্প– এ বছরের ম্যান বুকার ইন্টারন্যাশনাল প্রাইজের জন্য মনোনীত উপন্যাসগুলোর বিষয়বৈচিত্র্য দেখবার মতো বটে। সম্প্রতি বুকার কতৃর্পক্ষের প্রকাশ করা একটি ‘লংলিস্টে’ পাওয়া গেছে মোট বারো দেশের তেরোটি উপন্যাসের নাম। মোট আটটি উপন্যাসই অবশ্য মনোনীত হয়েছে ইউরোপ থেকে। এর বাইরে ইজরায়েলের দুটি এবং চীন, আর্জেন্টিনা ও আলবেনিয়ার একটি করে উপন্যাস স্থান পেয়েছে উপন্যাসের জন্য প্রদত্ত এই আন্তর্জাতিক পুরস্কারের মনোনয়ন তালিকায়।
&NCS_modified=20161221133400&MaxW=640&MaxH=427&AR-161229871আলবেনিয়ার সুবিখ্যাত কথাকার ইসমাইল কাদারে, যিনি কিনা আগে তাঁর তাবৎ সাহিত্যকর্মের জন্য ২০০৫ সালে ম্যান বুকার ইন্টারন্যাশনাল প্রাইজ পেয়েছিলেন(ওই বছরই আদতে এই মূল্যবান পুরস্কার প্রদানের শুরু)– এ বছর ফের মনোনীত হয়েছেন তাঁর নতুন উপন্যাস The Traitor’s Niche-এর জন্য। যার মূল চরিত্র অটোমান সাম্রজ্যের রাজদরবারের একজন দূত তথা বাহক, যার কাজ হলো সুলতানের ধৃত শত্রুদের শিরচ্ছেদের পর তাঁদের কাটা মন্ডু বহন করে নিয়ে চলা। (সম্পূর্ণ…)

সাম্প্রতিক বিশ্বসাহিত্য ও সংস্কৃতি: ট্রাম্পের জামানায় অরওয়েলের পুনরুত্থান

মুহিত হাসান | ১৩ ফেব্রুয়ারি ২০১৭ ৮:৪৪ অপরাহ্ন

trump_orwell-620x412এই বছরের জানুয়ারি মাসে ধনকুবের ডোনাল্ড ট্রাম্প যখন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টের চেয়ারে অবশেষে আনুষ্ঠানিকভাবে বসতে চলেছিলেন, তখন গোটা দুনিয়ার মানুষই উদগ্রীব হয়ে নানান বিদঘুটে ও ভয়ানক কাণ্ডকারখানা ঘটবার শঙ্কা প্রকাশ করেছিলেন। যথারীতি সেই শঙ্কা ভুল প্রমাণিত হয়নি। যেসব উদ্ভট অনুমান বা ভয়ানক গুজব বিতর্কিত ট্রাম্পকে ঘিরে বয়ে চলেছিল, সেসবের অনেকগুলোই তিনি অবিশ্বাস্য দ্রুততায় বাস্তবে পরিণত করেছেন।

তবে একটি অনুমান সম্ভবত কেউই করেননি, তা হলো ট্রাম্পের কারণে চৌষট্টি বছর পূর্বে প্রকাশিত ইংরেজ লেখক জর্জ অরওয়েলের ১৯৮৪ বা নাইন্টিন এইট্টি ফোর উপন্যাসটির বিক্রি হঠাৎই হুড়মুড়িয়ে বৃদ্ধি পাবে। অরওয়েলের এই সুবিখ্যাত চিরায়ত ডিসটোপিয়ান উপন্যাসে একটি সর্বগ্রাসী স্বৈরাচারী দেশের আখ্যান বর্ণিত হয়েছিল, যেখানে কিনা সবকিছুই নিয়ন্ত্রিত হয় ‘বিগ ব্রাদার’-এর দ্বারা আর সর্বত্রই ঝুলছে সাবধানবাণী সম্বলিত পোস্টার ‘বিগ ব্রাদার ইজ ওয়াচিং ইউ’। ফলত বাকস্বাধীনতা সেখানে বিসর্জিত ও আপত্তিকর এক বস্তু হিসেবে গণ্য হয়। উপন্যাসটিতে বর্ণিত ওই পরিস্থিতির সাথে ট্রাম্পের ‘স্বপ্নের’(!) কর্তৃত্বপরায়ণ, বৈষম্যবাদী ও নজরদারিময় মার্কিন মুলুকের যে খুব মিল রয়েছে, সে তো বলাই বাহুল্য। (সম্পূর্ণ…)

চিকিৎসক হিসেবে আমার শেষদিন

রেশমী নন্দী | ১ ফেব্রুয়ারি ২০১৭ ১১:৩১ পূর্বাহ্ন

kalanithi-1২০১৩ সালের মে মাসে, স্ট্যানফোর্ড ইউনিভার্সিটির নিউরোসার্জিকাল রেসিডেন্ট পল কালানিথির ফুসফুসে ক্যান্সার ধরা পড়ে। ৩৬ বছর বয়সী এ চিকিৎসকের মেটাস্টিক লাংস ক্যান্সার তখন চতুর্থ ধাপে। ২০১৫ সালে মার্চ মাসে মারা যাবার আগ পর্যন্ত এ দুবছরে তিনি তাঁর চিকিৎসা সংক্রান্ত লেখাপড়া চালিয়ে গেছেন, এক সন্তানের জনক হয়েছেন এবং একজন চিকিৎসক একই সাথে একজন রোগী হিসেবে অবশ্যম্ভাবি এ যাত্রার অভিজ্ঞতার কথা লিখে গেছেন অসাধারণ বর্ণনায়। তাঁর মৃত্যুর পর “Random House” প্রকাশনী সংস্থা থেকে প্রকাশিত হয় এ লেখা। When Breath Becomes Air শিরোনামে বইটি প্রকাশিত হয় ১২ জানুয়ারী ২০১৬ তারিখে। বইটিতে চিকিৎসক হিসেবে তাঁর জীবনের শেষ দিনের বর্ণনা প্রকাশিত হয় ‘দি নিউইয়র্কার’ পত্রিকায়। পল কালানিথির এই লেখাটি অনুবাদ করেছেন রেশমী নন্দী। ……

অপারেশনের সাত মাস পর একদিন, সিটি স্ক্যান শেষ হতেই লাফ দিয়ে নেমেছি। রেসিডেন্সি শেষের আগে, একজন বাবা হিসেবে নবজন্মের আগে, ভবিষ্যতের সত্য বর্তমান হওয়ার আগে এটাই আমার শেষ স্ক্যান।
টেকনিশিয়ান বললেন, “রিপোর্টে চোখ বুলাবেন?”
আমি বলেছিলাম, “এখন না, আজ অনেক কাজ আছে।”
তখনই ৬টা বেজে গিয়েছিল। রোগী দেখতে যেতে হবে, পরের দিনের অপারেশনের সময় ঠিক করতে হবে, আনুষাঙ্গিক কাগজপত্রে চোখ বুলাতে হবে, ক্লিনিক নোটস লিখতে হবে, পোষ্ট অপারেশনের রোগীও দেখতে যেতে হবে এবং এরকম আরো শত কাজ। রাত ৮টার দিকে, নিউরোসার্জারির অফিসরুমে বসে পরের দিনের জন্য রোগীদের স্ক্যান রিপোর্ট দেখছিলাম এক এক করে, এরপর একসময় নিজের নাম টাইপ করলাম। বাচ্চাদের বইয়ের ছবি দেখার মতো করে এবার আর গতবারের রিপোর্টের ইমেজগুলো মিলাচ্ছিলাম-সব একই রকম আছে, পুরোনো টিউমারটাও আগের মতোই আছে, কেবল…. (সম্পূর্ণ…)

নগ্নপদ ইলিয়াড ও আসুয়েলার বিপ্লব

রাজু আলাউদ্দিন | ৩০ জানুয়ারি ২০১৭ ১১:৫৭ পূর্বাহ্ন

Azuelaনিকারাগুয়ার রুবেন দারিও, কিংবা পেরুর সেসার বাইয়েহোর নামটি স্মরণে রেখেই আমরা প্রায়শই বলতে শুনি যে লাতিন আমেরিকায় চিলেই হচ্ছে কবিতার সেই দেশ যা সৃষ্টির বৈচিত্র ও গভীরতা দিয়ে বিশ্বের বৃহত্তর পাঠকগোষ্ঠীকে অভিভূত করেছে। এমনটা বলার কারণও আমাদের অজানা নয়, কারণ চিলেতে প্রায় কাছাকাছি সময়ে বিসেন্তে উইদোব্রো, গাব্রিয়েলা মিস্ত্রাল, পাবলো নেরুদা, পাবলো দে রোকা ও নিকানোর পাররার মতো বিশ্বমানের কবির আর্বিভাব। অন্যদিকে, কথাসাহিত্যের জন্য আর্হেন্তিনাকেই পরানো হয় প্রশংসার অতুল্য মুকুট; কেননা এস্তেবান এচেবেররিয়া থেকে শুরু করে মাসেদোনিও ফের্নান্দেস, হোর্হে লুইস বোর্হেস, আদোল্ফো বিয়ই কাসারেস, দানিয়েল মোইয়ানো, হুলিও কোর্তাসার ও মানুয়েল পুুইগ-এর মতো লেখকরা কেবল লাতিন আমেরিকার প্রেক্ষাপটেই নয়, গোটা বিশ্বসাহিত্যের প্রেক্ষাপটেই বিস্ময়কর উত্থান হিসেবে স্মরণীয় ব্যক্তিত্ব হয়ে আছেন। কিন্তু লাতিন আমেরিকার একেবারে উত্তরে অবস্থিত মেহিকো সম্পর্কে এমন কিছু কখনোই বলতে শুনা যায় না। অথচ মেহিকো, কী কবিতায়, কী প্রবন্ধে, কী কথাসাহিত্যে-বলতে গেলে সাহিত্যের এই তিনটি শাখায়ই রয়েছে তার অনন্য অর্জন। কবিতায়, সেই ঔপনিবেশিক যুগের বিস্ময়কর প্রতিভা সর হুয়ানা ইনেস্ দে লা ক্রুস থেকে শুরু করে আমাদো নের্বো, রামোন লোপেস বেলার্দে, হাবিয়ের বিইয়াউররুতিয়া, হোসে গরোস্তিসা কিংবা লাতিন আমেরিকার প্রথম ঔপন্যাসিক হোসে হোয়াকিন ফের্নান্দেস দে লিসার্দি, তিনিও মেহিকানো। প্রবন্ধে দার্শনিক ও ভাবুক হোসে বাসকন্সেলোস, এদমুন্দো ওগোরমান, আলফোনসো রেইয়েস, অক্তাবিও পাস। অর্থাৎ তিনটি ক্ষেত্রেই মেহিকোর রয়েছে অসামান্য অর্জন। আর কথাসাহিত্যের ক্ষেত্রে আমরা যদি সময়ক্রমের ধারাবাহিকতায় দেখতে চাই তাহলে লক্ষ্য করবো লিসার্দি দিয়ে গোটা লাতিন আমেরিকার উপন্যাসের যে শুরু, তার পরে ধীরে ধীরে এসে যুক্ত হচ্ছেন বিস্ময়কর সব ঔপন্যাসিক, যেমন হুয়ান রুলফো, আগুস্তিন ইয়ানঞেস, হুয়ান গার্সিয়া পন্সে, হোসে এমিলিও পাচেকো, ফের্নান্দো দেল পাসো কিংবা কার্লোস ফুয়েন্তেস। কিন্তু এদের সবার আগে উচ্চারণ করতে হবে মারিয়ানো আসুয়েলার নাম, যিনি কেবল মেহিকোরই নয়, গোটা লাতিন আমেরিকার প্রেক্ষাপটেই প্রথম সত্যিকারের এক উল্লম্ফন ঘটিয়েছিলেন কথাসাহিত্যের ক্ষেত্রে। (সম্পূর্ণ…)

২০১৬-এর ব্যক্তিগত পাঠ-পরিক্রমা

ফারসীম মান্নান মোহাম্মদী | ১ জানুয়ারি ২০১৭ ৭:১১ অপরাহ্ন

প্রতি বছরই বেশ অনেক বই পড়া হলেও, একদম প্রথম পাতা থেকে শেষাবধি পড়া হয় খুব কমই। অনেক বই কেজো বই, শুধুমাত্র কাজের পাতাতেই তাদের পাঠ সীমাবদ্ধ থাকে। অনেক বই রেফারেন্স বই, শুধু কয়েকটি পাতার জন্যই কেনা হয়। কখন কাজে লাগে কেউ জানে না। এদের মধ্যে কোনো কোনোটি দারুণ স্বাদের। একদম মনপ্রাণ কেড়ে নেয়ার মত। গত বছর ২০১৬তেও এমনই পাঠ-পরিক্রমা থেকে কয়েকটি উল্লেখযোগ্য পাঠ-প্রতিক্রিয়া তুলে ধরা যেতে পারে। যেহেতু আমি মূলত নন-ফিকশন পাঠক, কাজেই প্রবন্ধসাহিত্যেই মনোযোগ দিলাম।

border=0
‘এ বিউটিফুল কোয়েশ্চেন’, ফ্র্যাঙ্ক উইলচেক, ২০১৫।
অনেকদিন বাদে বিজ্ঞানের এতো ঢাউস একটা বই পড়ে শেষ করলাম। লেখক ফ্র্যাঙ্ক উইলচেক, নোবেল জয়ী বিজ্ঞানী। বইটা পড়ে মনে হলো, সত্যিই নোবেল-জয়ীদের ধাতই আলাদা। কনসেপ্ট এতো সুন্দর এবং ততোধিক সুন্দর করে বোঝাতে পারেন, কিম্বা ধরা যাক নতুন একটি প্রপঞ্চকে কিম্বা পুরনো প্রপঞ্চকেই এমনভাবে ব্যাখ্যা করতে পারেন, যে মাথা ঘুরে যায়। পদার্থবিজ্ঞান, কিছুটা গণিতেরও, এক অনবদ্য ভাষ্য রচিত হয়েছে এই বইটিতে। বইটিতে মূলত একটি প্রশ্ন করা হয়েছে – জগত কি সুন্দর আইডিয়া ধারণ করে কিনা, অথবা এই বিশ্বজগৎ একটি শিল্পকর্ম কিনা? তারপর পিথাগোরাস এবং প্লেটোর ধারণা থেকে সূত্র ধরে বাস্তবতার ব্যাখ্যা, গণিতের অর্থ, প্লেটোনিক সলিডের ওপর বিস্তারিত আলোচনা, প্রকৃতিতে প্লেটোনিক সলিডের প্রাপ্যতা, ব্যবহারিক প্রয়োগ, নিউটনের তিনটি আবিষ্কার – তাঁর অ্যানালিসিস ও সিন্থেসিস, রঙের ধারণার বিস্তার, গতিশীলতার সূত্রধরতা, বিদ্যুত-চুম্বকত্বের বিস্তার ও ম্যাক্সওয়েলের সমীকরণ (ইএম থিওরি), রঙের পারসেপশনে ইএম থিওরির প্রয়োগ, সিমেট্রির আইডিয়া, গাণিতিক তত্ত্বে সিমেট্রির প্রয়োগ এবং উচ্চতর কণাপদার্থবিজ্ঞানে সেই সিমেট্রির প্রভাব, কোয়ার্ক-গ্লুয়ন স্যুপের ব্যাখ্যায় কোয়ান্টাম ক্রোমোডায়নামিকস, কোয়ান্টাম তত্ত্বের বিস্তার, কণার ওয়েভ-ফাংশনের বিস্তারে সিমেট্রির প্রয়োগ, তার ব্যাখ্যা, বাক্সবন্দী ইলেকট্রন আর টানাতারের কম্পনের অদ্ভুত মিল, এমি নয়থারের অবদান, সুপারসিমেট্রির ধারণা ইত্যাদি নিয়ে এক চরম দক্ষযজ্ঞ বাধিয়ে দিয়েছেন ফ্র্যাঙ্ক।রজার পেনরোজের “দ্য এম্পেররস নিউ মাইন্ড” গ্রন্থটির পর তুলনীয় এনসাইক্লোপিডিক গভীরতায় প্রাকৃতিক বিজ্ঞান নিয়ে বিশাল ক্যানভাসে লেখা হয়েছে বিরল। তাই ফিজিক্স এবং ন্যাচারাল সায়েন্সে যারাই আগ্রহী এই বইটি তাদের গভীর তৃষ্ণা মেটাবে। বইটিতে আছে ৫৩টি কালার প্লেট এবং আরও ৪০টি সাদাকালো ছবি, এক সমৃদ্ধ টেকনিকাল গ্লসারি যেটা বইয়ের মূল সরল ভাষ্যের গাণিতিক এবং বৈজ্ঞানিক পূর্ণতা দেয়। (সম্পূর্ণ…)

বিশ্বসাহিত্য ও সংস্কৃতি: ওবামা চিত্র ও সংকটে বিস্ময়ে “Surreal”

রেশমী নন্দী | ৩০ december ২০১৬ ৯:৪০ অপরাহ্ন

Obamaঅনেকের অনেক হিসেবনিকেশ উল্টাপাল্টা করে দিয়ে আমেরিকার প্রেসিডেন্ট হয়ে গেলেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। ওবামা প্রশাসনের বিদায়ের দিনও খুব কাছেই, ২১ জানুয়ারী ২০১৭। এরই মধ্যেই হয়তো তৈরি হয়ে গেছে তাঁর বিদায় ভাষণও। অন্যদিকে, নিউ ইয়র্কের শিল্পী রব প্রুইটের কাজও প্রায় শেষের দিকে। ২০০৯ সালে বারাক ওবামা ক্ষমতা গ্রহণের পর থেকেই তাঁর দিনযাপনের নানা মুহূর্ত এঁকেছেন মার্কিন এই পপ আর্টিস্ট। দুই মেয়াদে আট বছর শাসনামলে বারাক ওবামার দিনযাপনের মুহূর্তগুলো প্রায় ৩ হাজার লাল নীল রঙের আলোকাভরণে ধরে রাখছেন এই শিল্পী। বিভিন্ন মাধ্যমে প্রকাশিত এসব ছবির সংকলন একদিকে যেমন প্রেসিডেন্ট ওবামার আনন্দময় স্মরণ, অন্যদিকে অসাধারণ এক রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বের প্রতি ভালবাসার প্রকাশও। নানা পরিবেশে নানা ভঙ্গি ফুটে আছে এসব ছবিগুলোয়- কোথাও বক্তৃতা দিচ্ছেন, কোথাও কাজে ব্যস্ত তিনি, রয়েছে গলফ খেলার মুহূর্ত, সন্তানের সাথে সময় কাটানোর দৃশ্য, স্ত্রীর সাথে নাচের মুহূর্ত। এর মধ্যে অনেক ছবিই উপস্থাপিত হয়েছিল ডেট্রোয়টে “Museum of Contemporary Art”-এ। তবে প্রুইট বলছেন, কোন বিশেষ মুহূর্তকে মূর্ত করে তুলতে নয়, বরং সময় কিংবা সূত্র বিবেচনায় না এনে সামগ্রিকভাবে একজন মানুষের নানা অভিব্যক্তিই তুলে আনতে চেয়েছেন তিনি। “আমি চাই প্রত্যেকটি দিন এমন কিছু একটা ফুটিয়ে তুলুক যার ফলে ছবিগুলো দেখলেই এর মাধ্যমে আমরা যে জগতকে চিনি কিংবা চিনি না তা জানান দেবে।” (সম্পূর্ণ…)

গার্সিয়া মার্কেসের প্রবন্ধ: এন্থনি কুইনের বোকামি

রাজু আলাউদ্দিন | ৩০ december ২০১৬ ১:১৯ পূর্বাহ্ন

Comboঅগ্রন্থিত অবস্থায় গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেসের প্রচুর লেখা এখনও ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে বিভিন্ন পত্রিকায়। এটি সেগুলোরই একটি। লেখাটির এখনও কোনও ইংরেজি অনুবাদ হয়নি। বাংলা ভাষাতেও সম্ভবত এই প্রথম অনূদিত হল। অনুবাদক রাজু আলাউদ্দিন লেখাটি উদ্ধার করেছেন মেক্সিকো থেকে প্রকাশিত বিখ্যাত সাপ্তাহিক পত্রিকা ‘এল প্রোসেসো’র ১৯৮২ সালের ১৯ এপ্রিল সংখ্যাটি থেকে। স্প্যানিশ থেকে লেখাটির পূর্ণাঙ্গ অনুবাদ এখানে হাজির করা হল। প্রবাদপ্রতিম উপন্যাস শতবর্ষের নিঃসঙ্গতার চলচ্চিত্রায়নের সম্ভাবনাকে কেন্দ্র করে যে ঘটনাগুলো ঘটেছিল, মার্কেস এই লেখায় তারই বর্ণনা দিয়েছেন।

অভিনেতা এন্থনি কুইন স্পেনের এক পত্রিকায় জানালেন, “টেলিভিশনে ৫০ ঘন্টার এক সিরিয়ালের জন্য শতবর্ষের নিঃসঙ্গতা হতে পারে একটি চমৎকার জিনিস। কিন্তু গাসিয়া মার্কেস তা বিক্রি করতে চান না।” আরও বললেন, “আমি এক মিলিয়ন ডলারের প্রস্তাব দিয়েছিলাম, রাজি হননি, কারণ গার্সিয়া মার্কেস কমিউনিস্ট এবং তিনি এক মিলিয়ন ডলার নিয়েছেন–এটা কাউকে জানতে দিতে চান না। কারণ নৈশভোজের শেষে তিনি এসে আমাকে আলাদাভাবে ডেকে নিয়ে বললেন, “আচ্ছা বলুন তো, প্রকাশ্যে এই টাকা-পয়সা প্রস্তাব করার ব্যাপারটা আপনার মাথায় এল কী করে? পরেরবার আমাকে আপনি কোনও রকম সাক্ষী-সাবুদ ছাড়া টাকার প্রস্তাব করুন।” (সম্পূর্ণ…)

পরের পাতা »

Disclaimer & Privacy Policy  |  About us  |  Contact us

© bdnews24.com