গ্রন্থ-সংক্ষেপ

অকথিত বোর্হেস: একটি তারার তিমির

রাজু আলাউদ্দিন | ১৭ অক্টোবর ২০১৫ ৮:৫০ অপরাহ্ন

উৎসর্গ: ইমতিয়ার শামীম

border=0বোর্হেসের বন্ধু এবং অনুবাদক নরম্যান টমাস ডি জিওভান্নি সেই সৌভাগ্যবান অনুবাদকদের একজন যিনি সরাসরি মূল লেখকের সহায়তায় ১০টির মতো বই অনুবাদ করেছিলেন। ১৯৬৭ থেকে ১৯৭২–পাঁচ বছরব্যাপী তাঁদের এই যৌথকর্মের ফল ছিলো বোর্হেস-পাঠকদের জন্য অবিস্মরণীয়। নরম্যানের অনুবাদগুলোর মাধ্যমে পৃথিবীর নানা প্রান্তে জন্ম নিয়েছে অসংখ্য বোর্হেস-অনুরাগী আর বোর্হেসের সাহিত্যকর্ম হয়ে উঠেছে আলোচনা ও তর্কবিতর্কের বিষয়। কিন্তু নরম্যান ঐ অনুবাদকর্মের পর বহু বছর পর্যন্ত বোর্হেসের নতুন কোনো অনুবাদতো করেনইনি, এমন কি বোর্হেস সম্পর্কে ছিলেন পুরোপুরি নিশ্চুপ। কিন্তু নিশ্চুপ থাকলেও বোর্হেস সম্পর্কে নিস্ক্রিয় ছিলেন না। সেটা বোঝা গেল যখন ২০০৩ সালে স্মৃতিচারণ ও মূল্যায়নধর্মী The lesson of the master: on Borges and his Work গ্রন্থটি বের হলো। এই বইয়ে একটি মাত্র স্মৃতিচারণধর্মী যে লেখা রয়েছে সেটা ছিল আসলে ২০১৪ সালে প্রকাশিত তার George & Elsa: Jorge Luis Borges and his wife, the untold story নামক আইসবার্গের সামান্য চূড়া মাত্র। প্রায় ৪৫ বছরের গভীর তলদেশে অদৃশ্য অবস্থায় থাকা গোটা আইসবার্গটি নরম্যান আমাদের সামনে তুলে ধরলেন তাঁর এই নতুন বইটিতে। কিন্তু নরম্যান কেন এই বই লিখতে গেলেন আর কীই-বা আছে এই বইয়ে যা অন্য কারোর বইয়ে পাওয়া যাবে না? এই বইয়ের শেষ অধ্যায়ে (Looking back) লেখক নিজেই জানাচ্ছেন যে “বোর্হেস এবং তার সাহিত্যকর্ম নিয়ে পাঠাগার-পরিমাণ অসংখ্য বই লেখা হয়েছে” (A library of books has been written about Borges and his literary work.) বোর্হেসের জীবন, সাহিত্যকর্মসহ নানান বিষয় নিয়ে গবেষণা, সমালোচনা হয়েছে বিপুল পরিমাণে। আর এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে নানান জনের নেয়া অসংখ্য সাক্ষাৎকার। কিন্তু এসব গ্রন্থের একটির সঙ্গে অন্যটির চরিত্রগত বা দৃষ্টিভঙ্গীর সাযুজ্য রয়েছে অনেকটাই। কিন্তু বোর্হেস-বিষয়ক নরম্যানের বই দুটি বিপুল গ্রন্থের ভিড়ে সুউচ্চ মিনারের মতো দাঁড়িয়ে আছে মূলত পর্যবেক্ষণ, কখনো কখনো গ্রন্থিমোচন, আর প্রায়শই অন্যদের নজর-এড়িয়ে-যাওয়া, অথচ গুরুত্বপূর্ণ তাৎপর্যের উন্মোচনে। তার প্রথম বইটির সূত্রে এ বিষয়গুলোই পাঠকদের কাছে প্রধান হয়ে ওঠে। কিন্তু দ্বিতীয়টি, যেহেতু এতে বোর্হেসের জীবনকাহিনীই উপজীব্য, তাই এখানে এসে ভীড় করেছে বোর্হেসের জীবনের সেই সব ঘটনাপুঞ্জ যা আগে অন্য কারোর লেখা জীবনীগ্রন্থে আসেনি। কেন অন্য জীবনী-লেখকরা এসব অজানা ঘটনা থেকে বঞ্চিত হয়েছেন? কারণ তারা নরম্যানের মতো কাজের সূত্রে বোর্হেসের সঙ্গে জড়িয়ে পড়েননি। ফলে এই গ্রন্থ কেবল হারিয়ে যাওয়া বোর্হেসকেই উদ্ধার করেনি, একই সাথে এটি ভবিষ্যতে হয়ে উঠবে সেই আকরগ্রন্থ যার সাহায্যে বোর্হেসের পূর্ণাঙ্গ জীবনী লেখা সম্ভব হবে। (সম্পূর্ণ…)

বিপিএল থেকে আরও চারটি বই

চিন্তামন তুষার | ১৮ ফেব্রুয়ারি ২০১৫ ৭:৪৩ অপরাহ্ন

border=0মাশুকের দরবার
প্রেম, হাস্য- রসের গল্পের পাঠক যুগে যুগে এবং নিয়মিত তৈরি হয়েছে, হচ্ছে এবং হবে। কিন্তু ‘মাশুকের দরবার’-এ কী নিবেদন করা হচ্ছে, তা না চেখে কেন বলবেন ভুল আশেকের আহবান। মুখ ঘুরিয়ে কেনইবা ‘গালিভারের নিদ্রাভঙ্গ’-এর দায় দেবেন প্রকাশকের ঘাড়ে; অযথা। রসশ্রেষ্ঠ হাস্যরস কাব্যরস অধিক ঘন, সর্ববিধ বিজ্ঞদের মতামত। সবার হাতে ‘চাঁদের আলো’য় ‘কিউপিডের দুষ্টামি’র কথা ফুল হয়ে ফোঁটে না তাই। বরং ‘বসন্তের বধু’র চোখে বিরহ জাগিয়ে তোলে ক্ষেত্রবিশেষে। যুগে যুগে, বাদে-অনুবাদে হাস্যরসের রহস্য উদঘাটনে রসিক ভ্রমরাদের গুঞ্জরণে আক্রান্ত হয়েছে বইয়ের পৃষ্টা এবং পৃথিবীর পৃষ্ঠদেশ।
এস. ওয়াজেদ আলীর গল্পগ্রন্থ ‘মাশুকের দরবার’। প্রথম প্রকাশ ১৩৩৭ বঙ্গাব্দ, ১৯৩০ ঈসায়ী সনে। লেখক হিসেবে ওয়াজেদ আলীকে তৎকালীন বঙ্গীয় মুসলিম সাহিত্য সমাজের একজন কর্ণধার বলা অত্যুক্তি হবে না। তার গদ্য লেখায় পরিমিতিবোধ, প্রাঞ্জলতা, আকর্ষণক্ষমতা ঈর্ষনীয়।
দুর্লভ গ্রন্থের সঙ্গে আধুনিক যুগের পাঠকদের সঙ্গে সংযোগ তৈরি করার উদ্যোগ নিয়েছে প্রকাশক বিপিএল। পুণঃমুদ্রণে মূল রক্ষার চেষ্টা করা হয়েছে সর্বোচ্চ। আরও আছে গল্পের সঙ্গে প্রাচীন চিত্রকর্মের ছবি, যা গল্প পাঠের আবহ সৃষ্টি করবে। গ্রন্থের প্রচ্ছদ, অলঙ্করণ ও টাইপ সেটিং করেছে পি অ্যান্ড জে।
১৩৩ পৃষ্ঠার গ্রন্থের মূল্য ২৫০ টাকা।
স্টল ৫২৫-২৬
বাংলা একাডেমি পুকুরপাড় (সম্পূর্ণ…)

বইমেলার কিছু বই

রাশেদ শাওন | ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০১৩ ৯:৩৯ অপরাহ্ন

এবারের বইমেলায় প্রথম দশদিনে প্রকাশিত হয়েছে সহস্রাধিক বই। এর মধ্যে প্রকাশিত হয়েছে গল্প, উপন্যাস, কবিতা, ছড়া, ভ্রমণকাহিনী, আত্মজীবনী, প্রবন্ধসহ নানা রকমের বই। সেইসব বই থেকে কয়েকটি বাছাই করা বইয়ের পরিচিতি এখানে তুলে ধরা হলো। বইগুলো সম্পর্কে লিখেছেন রাশেদ শাওন।

book-3.jpg (সম্পূর্ণ…)

উপন্যাস ‘এভরিম্যান’ নিয়ে ফিলিপ রথ

ফাতেমা সুলতানা শুভ্রা | ২৬ নভেম্বর ২০১১ ১১:২৮ অপরাহ্ন

everyman200×305.jpg২০১১ সালের ম্যান বুকার ইন্টারন্যাশনাল পুরস্কার জয়ী ফিলিপ রথের উপন্যাস ‘এভরিম্যান’ লেখা হয়েছে ৭১ বছর বয়স্ক বহু ডিভোর্সি, বিজ্ঞাপনী সংস্থার এক সফল কর্মীকে নিয়ে। ধর্ম আর দর্শনের যে কোন সাহায্য এড়িয়ে এই বৃদ্ধ শরীরের ক্ষয় মেনে মৃত্যুকে আলিঙ্গন করেছেন। এক সমালোচক ‘এভরিম্যান’কে “হৃদয়বিদারক তুচ্ছ বিষয় নিয়ে একটি গতিময় নিষ্ঠুর উপন্যাস” বলে আখ্যা দিয়েছিলেন। ২০০৬ সালে ‘এভরিম্যান’ নিয়ে ফিলিপ রথ কাহিনী-সংক্ষেপ ধরনে একটি আলোচনা প্রকাশ করেন। ইংরেজিতে প্রকাশিত সেই আলোচনা অনুবাদ করেছেন ফাতেমা সুলতানা শুভ্রা–বি.স.

—————————-
পুরনো সিমেট্রিতে তাঁর কবরের পাশে জড়ো হয়েছিল সাবেক সহকর্মীরা। তাঁরা একসাথে কাজ করতো নিউইয়র্কের এক বিজ্ঞাপনী সংস্থায়। তাঁর কাজের একাগ্রতা, দক্ষতা আর মৌলিকত্বের কথা স্মরণ করছিলো জড়ো হওয়া সহকর্মীরা। তাঁর কন্যা ন্যান্সিকে তাঁরা এমন একজন মানুষের সাথে একসাথে কাজ করবার আনন্দের কথা বলছিলেন। আরো কিছু মানুষ স্টারফিশ বিচের জার্সি উপকূলের বৃদ্ধনিবাস গ্রাম থেকে গাড়ি চালিয়ে এসেছিল। অবসরপ্রাপ্তদের এই আবাসিক আশ্রমে তিনি ২০০১ এর থ্যাংকসগিভিং থেকে বসবাস করছিলেন। মাত্র কিছুদিন হলো তিনি এই বৃদ্ধাশ্রমের বয়স্ক মানুষজনকে আঁকাআঁকি শেখানোর কাজ শুরু করেছিলেন। আর ছিল তাঁর দুই ছেলে, মধ্যবয়স্ক র্যা ন্ডি আর লোনি। তাঁর প্রথম অস্থির দাম্পত্য জীবনের দুই ছেলে। দুটোই বড় বেশি তাঁদের মায়েরই সন্তান। আর সেই কারণে তারা তাঁকে যতোটুকু চেনে তাতে যতোটা না প্রশংসা আছে, তার চেয়ে ঢের বেশি আছে অপ্রীতিকর ঘটনা। আজ কেবল কর্তব্যের খাতিরে এই দুই সন্তান অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ায় উপস্থিত হয়েছে। তার চেয়ে বেশি কিছু নয়। গত রাতেই তাঁর বড় ভাই হাউই আর শ্যালিকা ক্যালিফোর্নিয়া থেকে বিমানে উড়ে এসেছেন। উপস্থিত মানুষজনের মধ্যে তাঁরাও ছিলেন।

ফিলিপ রথ এবং বারাক ওবামা
………
ফিলিপ রথ এবং বারাক ওবামা
………

আর আছেন তাঁর তিন সাবেক স্ত্রীর মধ্যে মধ্যম জন, দ্বিতীয় সাবেক স্ত্রী, ফোবে–যিনি ন্যান্সির মা। লম্বা আর ভীষণ কৃশ শরীর আর সাদা চুলের ফোবে’র ডান হাত খোঁড়ার মতো একপাশে ঝুলে আছে। ন্যান্সি যখন কিছু বলবার জন্য তাঁর মাকে অনুরোধ করলো, ফোবে একটু লজ্জার সাথে মাথাটা নাড়ালেন। মৃদু নরম স্বরে সংক্ষেপে তাঁর বক্তব্য পেশ করবার জন্য এগিয়ে গেলেন, “এটা বিশ্বাস করা কঠিন। আমি কেবল সাগরের তীরে তাঁর সাঁতরে বেড়ানোর দৃশ্য মনে করতে পারি…এটাই। আমি কেবল সাগরে তাঁর সাঁতরানোর দৃশ্য চোখে দেখতে পাই”। এরপর ন্যান্সি। (সম্পূর্ণ…)

ম্যানবুকার ২০১০ জয়ী হাওয়ার্ড জ্যাকবসন-এর দ্য ফিঙ্কলার কোয়েশ্চেন

আজিজ হাসান | ২১ অক্টোবর ২০১০ ৪:৪০ অপরাহ্ন

jakobson.jpg
হাওয়ার্ড জ্যাকবসন (জন্ম ২৯.৮.১৯৪২)

[ব্রিটিশ লেখক হাওয়ার্ড জ্যাকবসন ২০১০ সালের ম্যানবুকার পুরস্কার পেয়েছেন তার হাস্যরসাত্মক উপন্যাস ‘দ্য ফিঙ্কলার কোয়েশ্চেন’র জন্য। এ উপন্যাসটির একটি সংক্ষিপ্ত রূপ নিউ ইয়র্ক টাইমসে প্রকাশিত হয়েছে। বহুল পঠিত ও আলোচিত এ উপন্যাসের নিউ ইয়র্ক টাইমসে প্রকাশিত অংশটির অনুবাদ বাঙালি পাঠকদের জন্য আমরা তুলে ধরছি। জ্যাকবসন ১৯৪২ সালের ২৫ আগস্ট ম্যানচেস্টারে জন্মগ্রহণ করেন। ব্রিটেনের ইহুদি চরিত্রের মানসিক দ্বিধাদ্বন্দ্বের উপস্থাপনে তিনি সৃষ্টি করেছেন তার হাস্যরসাত্মক উপন্যাসগুলো। তার উপন্যাসগুলোর মধ্যে রয়েছে, ‘কামিং ফ্রম বিহাইন্ড’, ‘দ্য মাইটি ওয়ালজার’, ‘হু’জ সরি নাউ’, ‘কালুকি নাইটস’, ‘দ্য ফিঙ্কলার কোয়েশ্চেন’ ইত্যাদি।

দ্য ফিঙ্কলার কোয়েশ্চেন উপন্যাসটির জন্য ২০১০ সালে ম্যানবুকার পুরস্কার পেয়েছেন ৬৮ বছর বয়সী জ্যাকবসন। ম্যানবুকার পুরস্কার প্রদান কমিটির প্রধান বিচারক অ্যান্ড্রু মশন বলেন,‘দ্য ফিঙ্কলার কোয়েশ্চেন’ একটি অসাধারণ বই। অবশ্যই খুব হাসির। কিন্তু একই সঙ্গে খুব বুদ্ধিদীপ্ত, খুব কষ্টের ও অতি সূক্ষ্মতার পরিচায়ক এটি। এটা পড়ে যা মনে হয় তা এবং তার চেয়েও বেশি কিছু বোঝায় উপন্যাসটি। এ মহান পুরস্কারের যোগ্য বিজয়ী এটি।” জ্যাকবসনের প্রায় প্রতিটি উপন্যাসেই ইহুদি মনস্তত্ত্বের রয়েছে সুনিপুণ উপস্থাপন। ইহুদি মনস্তত্ত্ব¡ বোঝা ও তার শৈল্পিক উপস্থাপনে সফলতার জন্য তাকে ইহুদি-আমেরিকান লেখক ফিলিপ রথের সঙ্গে তুলনা করে ‘দ্য ইংলিশ ফিলিপ রথ’ বলা হয়। আর তিনি নিজেকে পরিচয় দেন ‘অ্যা জিউস জেন অস্টিন’ বলে। -অনুবাদক]

গ্রন্থসংক্ষেপ: দ্য ফিঙ্কলার কোয়েশ্চেন

এ ঘটনাটি সে আগেই বুঝে থাকতে পারে।

তার জীবনে একটার পর একটা দুর্ঘটনা ঘটেই চলছিল। তাই সে এটার জন্য প্রস্তুতি নিয়ে থাকতে পারে। কি ঘটবে তা সে আগেই বুঝতে পারতো। ঘুমের আগে ও পরে কেবল সে সম্পর্কে আবছা ধারণা নয়, বাস্তব জীবনের সব বিপদ সম্পর্কে সে আগেই জানতে পারতো। ল্যাম্প পোস্ট ও গাছপালা তার দিকে তেড়ে আসতে দেখে তার পা কাঁপতো। অনেক গতিতে চলমান গাড়িগুলো নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফুটপথ দিয়ে চলতো। আর তাকে আবর্জনা ও ছড়ানো ছিটানো হাড়ের মধ্যে ফেলে দিতো। তার ভাঙা চোরা মাথার খুলি থেকে তরল তীক্ষè বস্তু বের হতো।

নারী সবচেয়ে খারাপ। জুলিয়ান ট্রেজলভ কোনো নারীকে দেখলে তার শরীর নয়, মন বিচলিত হতো। সে তাকে অস্থির করে তুলতো।

সত্যি সে স্থির থাকতো না। কিন্তু তাকে অস্থির করলেও ঐ নারী তার কি ভবিষ্যৎ নিয়ে আসতো সেটিই গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। সে-ই ভবিষ্যৎ হয়ে উঠতো। (সম্পূর্ণ…)

দি গ্যাদারিং : জীবনের বহু মাত্রা

কৌশিক আহমেদ | ২৫ অক্টোবর ২০০৭ ১১:২৩ অপরাহ্ন

দি গ্যাদারিং
এগারো মাসের বড় ভাই লিয়াম হিগারটিকে কবরস্থ করার সময় ভেরোনিকা এক শারীরিক ও মনস্তাত্ত্বিক অভিযাত্রার সম্মুখীন হয়। শহরতলীর ঘিঞ্জি ঘরে ফিরে খাঁটি মফস্বলীয় স্বামীর বিছানার চেয়ে নিজের গাড়িতে বসে সে স্মরণ করতে চেষ্টা করে নানীর বাড়িতে লিয়ামকে নিয়ে ঘটে যাওয়া একটা ঘটনা। কিন্তু নিশ্চিত হতে পারে না, আসলেই তেমন ঘটেছিল কিনা। বড় ভাই লিয়াম অন্যান্য বালকদের মতোই পাখি ভালবাসতো, মৃত প্রাণীর হাড়গোর পছন্দ করতো। মৃত মানুষের কংকাল বা মাথার খুলি পথে কোথাও পাশ কাটাতে হলে ভেরোনিকা অবাক হয়ে ভাবতো, এর মাঝে কি এমন আছে যা লিয়ামকে মুগ্ধ করতো!

ভেরোনিকা তার কন্যাদের এসব থেকে বাঁচিয়ে রাখতো। কেন করতো সে জানে না। কিন্তু একবার সমুদ্রসৈকতে ক্যাটালফিশের কাঁটা পেয়ে পকেটে চালান করে দিয়েছিল। হাত উন্মুখ হয়ে ছিল রহস্যময় শ্বেত হাড়টিকে স্পর্শ করতে। (সম্পূর্ণ…)

ডরিস লেসিং-এর তিনটি বইয়ের কাহিনী

কৌশিক আহমেদ | ১৮ অক্টোবর ২০০৭ ৫:৪২ অপরাহ্ন

দি ক্লেফ্ট: পৌরাণিক নারীবিশ্বে পুরুষের উদ্ভব

ডরিস লেসিংদি ক্লেফ্ট পুরোমাত্রায় একটা বণর্নাধর্মী উপন্যাস। ক্লেফ্ট বলতে নারী ও পুরুষের পাহাড়ী বসবাসস্থান ও স্ব স্ব জননেন্দ্রীয়কে বোঝানো হয়। উপন্যাসে নিরোর সময়ের একজন রোমান ইতিহাসবিদ পৌরানণক একটা কাহিনী শোনান। প্রাগৈতিহাসিক কালের কোনো এক সময়ে জগতে কেবল নারীর অস্তিত্ব ছিল। তেমন কাল্পনিক চিত্রে নারীকে আঁকা হয়েছে অলস, সাম্প্রদায়িক ও শুশুকের মত নিরীহ প্রাণী হিসেবে। নারীরা যখন থেকে ছেলেদের জন্ম দেয়া শুরু করলো সেই থেকে অশান্তির সূচনা। অবশ্য ক্রমশ নারী ও পুরুষ পাশাপাশি সহাবস্থান করতে শেখে।

একদিন অসতকর্ভাবে একজন নারী জন্ম দিল ভয়ংকর এক দৈত্য যার ছিল বিশাল পিণ্ড আর উত্থিত মাংশ, দেখতে অনেকটা ক্লিবের মতই। ভীত নারীরা সেই নবজাতকটির মৃত্যু কামনা করে পাহাড়ে নিবার্সন দিল। (সম্পূর্ণ…)


Disclaimer & Privacy Policy  |  About us  |  Contact us

© bdnews24.com