সংস্কৃতি

আন্তর্জাতিক পপ আর্ট: ওয়্যারহোল ও লিচটেন্সটাইনকে পেরিয়ে

জাকিয়া সুলতানা | ৯ মার্চ ২০১৬ ২:৫৯ অপরাহ্ন

আন্তর্জাতিকভাবে পপের ধারণাটা খুব প্রচলিত ছিল না তবে খুব দ্রুতই তা ছড়িয়ে পরে। ভিন্ন ভিন্ন নামে তা ব্রিটেন, ফ্রান্স এবং জার্মানিতে এর স্ফূরণ ঘটে। একনায়কতন্ত্রের চাপে পপ আর্ট ব্রাজিল, আর্জেন্টিনায় সংকীর্ণ, পরিবেষ্টিত এবং আস্থাহীন হয়ে পরে; পূর্ব ইউরোপে সোভিয়েত সমাজতান্ত্রিক শাসনামলে পুরোই কারাগারে নিক্ষিপ্ত হয় এবং পশ্চিমাদের বস্তুবাদিতার পুরস্কারে জাপানে তা সর্বোতভাবেই বিরোধপূর্ণ আর্ট হিসেবে পরিচিতি পায়।
kiss.jpg
‘১৯৬৪ সালে তাদানোরি ইওকুর আঁকা চিত্রকর্ম “Kiss”
প্রাথমিকভাবে পপ আর্টের খুবই আকর্ষণীয় সেই অতি দূরের ইতিহাস শুরু হয়েছিল মিনেয়াপোলিসের ওয়াকার আর্ট সেন্টারে, ডার্সি অ্যালেক্সান্ডার ও বার্থেলোমিও রায়ানের হাত ধরে এবং এরিকা এফ ব্যাটেলের মাধ্যমে ফিলাডেলফিয়ায়। এবং অন্যদের সেই গল্প বলে বেড়ানোও বিস্ময়কর আনন্দের। জেসপার জনের ফ্ল্যাগ পেইন্টিং, ওয়্যারহোলের ব্রিলো বক্স-এর মতো ডজনেরও বেশি ধ্রুপদী চিত্রকর্ম রয়েছে যেগুলো কখনো আপনার চোখেই পড়েনি। সামগ্রিকভাবে তাঁরা একটা সময় যা সুনির্দিষ্টভাবে অর্জিত প্যারানোইয়া এবং সন্দেহজনক ইউটোপিয়ানিজমের মিশ্রনকে পৃথক করেছে । (সম্পূর্ণ…)

লাতিন আমেরিকার সাথে বাংলার বন্ধন

রাজু আলাউদ্দিন | ৭ মার্চ ২০১৬ ৯:০২ অপরাহ্ন

ambassors.jpgআমি যেহেতু কোনো গবেষক নই, তাই নিশ্চিত করে বলা সম্ভব নয় বাংলাদেশের সাথে লাতিন আমেরিকান দেশগুলোর রাজনৈতিক, বাণিজ্যিক ও অর্থনৈতিক সম্পর্কটি ঠিক কোন পর্যায়ে আছে। তবে একটা ব্যাপারে নিশ্চিত যে বাঙলা সংস্কৃতির সাথে লাতিন আমেরিকার সম্পর্কের একটা দীর্ঘ ইতিহাস ও ঐতিহ্য রয়েছে। কম করে হলেও এই ইতিহাস একশ বছরের দীর্ঘ পরিসর অর্জন করেছে। এবং এর সূচনা ঘটেছে বাঙালি সংস্কৃতির সর্বশ্রেষ্ঠ প্রতিনিধি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের মাধ্যমে, স্প্যানিশভাষী জগতে যিনি ‘রবীন্দ্রনাথ তাগোরে’ হিসেবেই বেশি পরিচিত। দুর্ভাগ্যক্রমে স্প্যানিশ ভাষায় আমাদের অগম্যতার কারণে সম্পর্কের এই দীর্ঘ ইতিহাসটি আমাদের কাছে দীর্ঘদিন যাবত অজানা অবস্থায় ছিল। কিন্তু এখন আমরা জানি যে লাতিন আমেরিকান জনগোষ্ঠীর উদার রুচি, স্নিগ্ধ ও গ্রহিষ্ণু মন কৌতূহলের হাত বাড়িয়ে দিয়েছিল বাঙালি সংস্কৃতির প্রতি আজ থেকে শতবর্ষ আগে। রবীন্দ্রনাথের মাধ্যমে বাংলা সাহিত্যের সৃষ্টিশীল ঐশ্বর্যকে তারা যে কৌতূহল থেকে গ্রহণ করেছিলেন লাতিন আমেরিকার কোনো কোনো অঞ্চলে তার সাংস্কৃতিক অভিঘাত ছিল খুবই গুরুত্বপূর্ণ।

লাতিন আমেরিকায় রবীন্দ্রনাথ প্রবেশ করেন আর্হেন্তিনার লেখক সাংবাদিক কার্লোস মুন্সিও সায়েন্স পেনঞার অনুবাদে ১৯১৫ সালে। এই সূচনা উম্মুক্ত করে দিয়েছিল লাতিন আমেরিকার মহান ব্যক্তিত্বদের সাথে রবীন্দ্রনাথের তথা বাঙালি সংস্কৃতির এক কার্যকর সম্পর্ক। রবীন্দ্রচর্চা, রবীন্দ্র-অনুবাদ বা রবীন্দ্র-আলোচনায় একের পর এক যুক্ত হয়েছিলেন আর্হেন্তিনার ভাবুক ও মন্ত্রী হোয়াকিন ভি গনসালেস, বিক্তোরিয়া ওকাম্পো, কবি এদুয়ার্দো গনসালেস লানুসা, হোর্হে লুইস বোর্হেস, অসবালদো স্ভানাসিনি, রিকার্দো গুইরালদেস, চিত্রশিল্পী ওরাসিও আলবারেস বোয়েরো, চিলির কবি ও শিক্ষাবিদ গাব্রিয়েলা মিস্ত্রাল, লেখক অধ্যাপক রাউল রামিরেস, কবি বিসেন্তে উইদোব্রো, কবি পাবলো দে রোকা, কবি ও রাষ্ট্রদূত পাবলো নেরুদা, প্রাবন্ধিক ও অধ্যাপক আর্তুরো তররেস রিওসেকো। বলিবিয়ার লেখক ও কূটনীতিবিদ আবেল আলার্কন। পেরুর বামপন্থী চিন্তাবিদ হোসে কার্লোস মারিয়াতেগি ও ঔপন্যাসিক মারিও বার্গাস যোসা। দোমিনিকান রিপারলিক-এর ভাবুক ও প্রাবন্ধিক পেদ্রো এনরিকেস উরেনঞা। আর গোটা মহাদেশের একেবারে উত্তরে অবস্থিত মেহিকোতে লেখক ও দার্শনিক হোসে বাস্কনসেলোস, কবি হোসে গরোস্তিসা ও নাট্যকার সেলেস্তিনো গরোস্তিসা, অকালপ্রায়ত অনুবাদক পেদ্রো রেকেনা লেগাররেতা, এম্মা গদোই, কবি হাইমে সাবিনেস, কবি ও রাষ্ট্রদূত অক্তাবিও পাস, আন্তোনিও কাস্ত্রো লেয়াল, চিত্রশিল্পী দিয়েগো রিবেরা, গাব্রিয়েল ফের্নান্দেস লেদেসমা ও রবের্তো মন্তেনেগ্রো। এরা সবাই রবীন্দ্রনাথের মাধ্যমে বাঙালি সংস্কৃতির আত্মাকে কেবল স্পর্শই করেননি, সেই স্পর্শের আলো তারা ছড়িয়ে দিয়েছিলেন নিজ নিজ সংস্কৃতির বহুবর্ণিল পরিমন্ডলে। (সম্পূর্ণ…)

গ্রন্থাগারের জন্য ভালোবাসা

বিপাশা চক্রবর্তী | ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০১৬ ১:১২ অপরাহ্ন

library.jpg১৯৭১, মিশিগানের ট্রয় শহরের গ্রন্থাগারিক মার্গারেট হার্ট স্থানীয় শিশুদের জন্য নতুন স্থাপিত গ্রন্থাগারের উপকারিতা ও গুরুত্ব সম্পর্কে কিছু লেখার জন্য সমাজের বিশিষ্টজনদের অনুরোধ করেন। এ জন্য তিনি বিশ্বজুড়ে বিভিন্ন শিল্পী, লেখক, রাজনীতিবিদদের, এমনকি ধর্মজাযকদেরও অনুরোধ করেন। এর প্রতিউত্তরে ডঃ সিউস, পোপ পল ষষ্ঠ, নিল আর্মষ্ট্রং, কিংসলে আমিস ও আইজ্যাক আসিমভ-এর চিঠিসহ ৯৭টি লেখা আসে।
৪৫ বছর পর গত ৬ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাজ্যের জাতীয় গ্রন্থাগার দিবস উপলক্ষ্যে ইংল্যান্ডের আর্ট কাউন্সিল সেই চিঠিগুলির বরাদ দিয়ে আরেকবার ট্রয় গণগ্রন্থাগারের জন্য লেখা আহবান করা হয়। আর এতে বেশ সাড়া পড়ে। আর্ট কাউন্সিলের পরিচালক ব্রায়ান এ্যশলে বলেন, “গ্রন্থাগারের জন্য স্মৃতি সংরক্ষণে বিভিন্ন লেখক ও ব্যক্তিত্বের কাছ থেকে যে সাড়া আমরা পেয়েছি তা অভূতপূর্ব। তখনকার সময় থেকে তা সংখ্যায় বা রূপে ভিন্ন হতে পারে, কিন্তু গ্রন্থাগারের জন্য এ ধারণা ও এর গুরুত্ব একই থাকবে। (সম্পূর্ণ…)

কারা আমার মুখের ভাষা কাইড়া নিতে চায়

সোহেল হাসান গালিব | ২১ ফেব্রুয়ারি ২০১৬ ৭:১৮ অপরাহ্ন

বাংলাভাষী জনগোষ্ঠীকে এখন আর একটি ‘সমগ্র’ রূপে বিবেচনার সুযোগ নেই। মুখ্যত দুই বাংলায়–বাংলাদেশ ও পশ্চিম বাংলায়–ভাষা দুই ভাগে, দুইটি ধারায় বিকাশের এক বিশেষ পর্যায়ে এসে উপস্থিত। এ দুটি ধারাকে চিহ্নিত করতে কেবল শব্দ ও বাক্যের সংগঠন বিচার করলেই চলবে না। শব্দ যে প্রতীক ধারণ করে, যে ইমেজের প্রতিফলন ঘটায়, যে ইতিহাসকে তুলে আনে, তার তাৎপর্যও খেয়াল করতে হবে।

প্রমথ চৌধুরী বলে গিয়েছেন, ‘বাংলা ভাষার অস্তিত্ব প্রকৃতিবাদ অভিধানের ভিতর নয়, বাঙালির মুখে।’ অর্থাৎ ভাষার প্রাণ-উৎস মরা মানুষের জাবেদাখাতা নয়, জ্যান্ত মানুষের মুখের জবান।

হিন্দি ভাষা নয় কেবল, প্রকৃত প্রস্তাবে ভারতের সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক ঐতিহ্য বহন করতে গিয়ে প্রাদেশিক ‘বাংলা’র একটা চেহারা দাঁড়িয়েছে পশ্চিম বাংলায়। পক্ষান্তরে, ‘উর্দু’–ভাবান্তরে ‘পাকিস্তানি ইসলাম’–মোকাবেলা করেই গড়ে উঠেছে স্বাধীন রাষ্ট্রের বাংলা ভাষা। ফলে খুব সহজেই দুইটি বাংলার দুই ভিন্ন উৎসারণ চিনে নেয়া সম্ভব। পশ্চিমের বাংলা ক্রমশ ঘোমটা পরছে অপরের আধিপত্য কবুল করে। স্বাধীন বাংলা জেগে উঠছে অন্যের আধিপত্য খারিজ করার মধ্য দিয়ে।

কিন্তু এই উৎসারণ, এই প্রবণতা এক বিশেষ কালপর্বের জন্য সত্য, ইতিহাসের বাঁকে বাঁকে সদাই এমন ঘটেছে তা বলা যাবে না। পশ্চিমবঙ্গের ‘বাংলা’ প্রধানত তার আদলটা তৈরি করেছে বর্জনের সংস্কৃতি উদযাপন করতে করতে। ১৮৩৮ সালে ‘পারসীক অভিধান’ নামে যে সংকলনটি করেন জয়গোপাল তর্ক্কালঙ্কার, তার উদ্দেশ্য ছিল বাংলা ভাষায় যে সব বিদেশি (ফারসি) শব্দ ব্যবহৃত হয় তা চিহ্নিত করা। যাতে এসব শব্দ পরিহার করে শুদ্ধ বাংলা চর্চায় লেখকরা সচেতন হয়ে ওঠেন। এ অবস্থা জারি ছিল দীর্ঘদিন। প্রায় একশো বছর পর কাজী আবদুল ওদুদ নতুন একটি অভিধান সংকলনে এগিয়ে আসেন। তাঁর অভিধানের নাম ‘ব্যবহারিক শব্দকোষ’। অভিধানের ভূমিকায় তিনি লিখছেন : ‘বাংলা ভাষা তার বিচিত্রমূল সাধারণ ও অ-সাধারণ শব্দ ও শব্দ-সংশ্লেষ নিয়ে বর্তমানে যে বিশিষ্ট রূপ ধারণ করছে, ক্ষেত্রবিশেষে করতে যাচ্ছে, সে-সবের সঙ্গে প্রধানত শিক্ষার্থীদের যথাসম্ভব অন্তরঙ্গ পরিচয় ঘটানো ‘ব্যবহারিক শব্দকোষে’র উদ্দেশ্য।…
বাংলার মুসলমান-সমাজে প্রচলিত অথচ বাংলা অভিধানে সাধারণত অচলিত শব্দগুলোও সংকলন করতে চেষ্টা করা হয়েছে। মুসলমান-সমাজের চিত্র বাংলা সাহিত্যে ব্যাপকভাবে অঙ্কিত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে এ সবের প্রয়োজনীয়তা সহজেই বৃদ্ধি পাবে।’ (সম্পূর্ণ…)

ইতিহাসের দলিল ‘প্রসাদ: বাঙলাদেশ সংখ্যা’

শান্তা মারিয়া | ২০ ফেব্রুয়ারি ২০১৬ ৩:৫৭ অপরাহ্ন

proshad-book-cover-update.jpg‘ববিতা সম্বন্ধে সঠিক করে কিছু জানা না থাকলেও এটুকু আমরা জেনেছি যে ববিতা ওখানকার প্রখ্যাত অভিনেত্রীদের অন্যতম। অনেক অনেক বাঙলা ও উর্দু ছবিতে অভিনয় করেছেন উনি-’
শুধু ববিতা নন, রয়েছেন কবরী, আজিম, সুজাতা, সুভাষ দত্ত, দিলীপ সোমসহ অনেক তারকার পরিচিতিমূলক লেখা ও সাক্ষাৎকার, কবি নির্মলেন্দু গুণের একটি দীর্ঘ সাক্ষাৎকার, বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের অনেক দুর্লভ আলোকচিত্র। আমাদের বিজয়ের অব্যবহিত পরে, ১৯৭২ সালে (বাংলা ১৩৭৮) মাঘ মাসে প্রকাশিত হয়েছিল সিনে ম্যাগাজিন ‘প্রসাদ, বাঙলাদেশ সংখ্যা’। ৪৩ বছর পর সেই দুর্লভ সংখ্যাটি পাঠকের কাছে পৌঁছে দিল বিপিএল।
বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে ভারতের পশ্চিমবঙ্গের বুদ্ধিজীবীদের সমর্থন ও সহযোগিতা ছিল অকুণ্ঠ। টালিগঞ্জও তার ব্যতিক্রম নয়। বাংলাদেশের মুক্তিসংগ্রামী চলচ্চিত্রসমাজের পাশে তারা বাড়িয়ে দিয়েছিলেন সহযোগিতার হাত। দেশ স্বাধীন হওয়ার পরও এই সম্পর্ক অমলিন ছিল। সে সময় কলকাতার বহু অভিনয় শিল্পী বাংলাদেশের সিনেমায় অভিনয় করেছেন। বাংলাদেশের চিত্রতারকারাও জনপ্রিয়তা পেয়েছেন ওপার বাংলায়। ১৯৭২ সালে যে ববিতা ছিলেন কলকাতায় প্রায় অপরিচিত, তিনি পরে অভিনয় করেছেন সত্যজিৎ রায়ের ‘অশনি সংকেতের’ মতো অমর ছবিতে। (সম্পূর্ণ…)

সাম্প্রতিক বিশ্বসাহিত্য:চিরকালের শত শ্রেষ্ঠ ননফিকশন

বিপাশা চক্রবর্তী | ২০ ফেব্রুয়ারি ২০১৬ ১২:২৯ পূর্বাহ্ন

nonfiction.jpgরাজনীতি, শিল্প, ইতিহাস, সাহিত্য, বিজ্ঞান ও ক্রীড়া, যুদ্ধ,স্মৃতিকথা ও জীবনী, মনোজগত,সংস্কৃতি,দর্শন,সমাজ ও পরিবেশ–এমনসব প্রকৃত বা বাস্তব তথ্যভিত্তিক রচনাবলী হচ্ছে নন-ফিকশন সাহিত্য। বিশ্ব-সাহিত্যের সুবিশাল রত্নভাণ্ডার থেকে গুরুত্বপূর্ণ একশটি নন-ফিকশন গ্রন্থের তালিকা বাংলা ভাষাভাষী পাঠকদের জন্য উপস্থাপন করা হলো। এগুলো এযাবৎ কালের মানব সভ্যতার ইতিহাসে কেবল অনন্য নজিরই স্থাপন করেনি, বরং এসব গ্রন্থের কারণে ইতিহাস রচিত হয়েছে নতুনভাবে। এসব অমূল্য গ্রন্থ পাল্টে দিয়েছে প্রকৃতিকে দেখার ক্ষেত্রে আমাদের দৃষ্টিভঙ্গি, বৃদ্ধি করেছে জানার পরিধি। নতুন করে রূপায়িত করেছে আমাদের ভাবনার জগত। এই সব মহান গ্রন্থের কিছু আপনি হয়তো পাঠ করেছেন,আর কিছু হয়তো আপনার পাঠের অপেক্ষায়।
পাঠকদের সুবিধার্থে, বিষয়ভিত্তিক মিল অনুযায়ী গ্রন্থের নাম, লেখক, তারিখ উল্লেখসহ আলাদা আলাদা বিভাগে উপস্থাপন করা হলো । (সম্পূর্ণ…)

সাম্প্রতিক বিশ্বসাহিত্য ও সংস্কৃতি: নতুন এলিয়ট, ব্যাংকসির প্রতিবাদ ও তাতিয়ানার রসনা

বিপাশা চক্রবর্তী | ২৭ জানুয়ারি ২০১৬ ৭:১১ অপরাহ্ন


এলিয়টের অগ্রন্থিত কবিতায় নতুন ভাবনা

eliot.jpg(১৮৮৮-১৯৬৫) কবি , নাট্যকার, প্রাবন্ধিক, সাহিত্যসমালোচক ও সম্পাদক। বিংশ শতকের অন্যতম শক্তিমান কবি। শুধু তাই নয়, আধুনিক যুগে কবিতায় এলিয়টের প্রভাব প্রবাদপ্রতিম। ১৯৪৮ সালে সাহিত্যে নোবেলপ্রাপ্ত এ কবির গ্রন্থিত ও অগ্রন্থিত কবিতা নিয়ে সম্প্রতি প্রকাশিত হয়েছে একটি কবিতা সংকলন। ‘ দ্য পোয়েমস অফ টি এস এলিয়ট: কালেক্টেড এন্ড আনকালেক্টেড পোয়েমস’ শিরোনামে দুই খন্ডের সংকলনটি সম্প্রতি যৌথভাবে প্রকাশ করেছে যুক্তরাজ্যের ফেবার এন্ড ফেবার প্রকাশনী এবং যুক্তরাষ্ট্রের জন হপকিন্স ইউনিভার্সিটি প্রেস। এই সংকলনে অন্তর্ভুক্ত ‘স্প্লিন’ এবং’ ইন রেস্পেক্ট অফ ফিলিংস’ নামে দুটি কবিতা প্রকাশিত হয়েছে ‘দ্য নিউইয়র্ক রিভিউ অফ বুক’-এর চলতি সংখ্যায় । এলিয়টের কবিতা অগ্রন্থিত থেকে যাবে , এট আশ্চর্যজনকই বটে। তবে সত্যিটা হলো তাই ছিল অনেকদিন পর্যন্ত। এলিয়টের সেক্রেটারি ও ২য় স্ত্রী ভেলেরির মৃত্যুর বছর তিনেক পর তাঁর পুরোনো নোটবুকে পাতার ভাঁজে পাওয়া যায় এলিয়েটের অপ্রকাশিত তিনটি কবিতা। এর মধ্যে দুটি হছে ‘স্প্লিন’ এবং’ ইন রেস্পেক্ট অফ ফিলিংস’ । এ কবিতা দুটিতে এলিয়টের গৃহপালিত প্রাণী বেড়ালের প্রতি ভালবাসা ও অনুভূতির কথা প্রকাশ পেয়েছে। তবে তৃতীয় যে কবিতাটি এলিয়ট-সমালোচকদের নজর কেড়েছে তা হচ্ছে ভেলেরিকে উদ্দেশ্য করে লেখা কিছু পংক্তি। কবিতাটির শিরোনাম হচ্ছে ‘ আই লাভ টল গার্ল’। হ্যাঁ , এখানে দীর্ঘাঙ্গী রমণীদের প্রতি কবির আকর্ষণ বর্ণিত হয়েছে। প্রথম বিয়েতে এলিয়ট সুখী ছিলেন না। ১৯৫৭ সালে সেক্রেটারি ভেলেরীকে যখন বিয়ে করেন তখন এই জুটির বয়সের ফারাক ছিল প্রায় চল্লিশ বছর। ভেলেরীর উচ্চতা ছিল পাঁচ ফুট আট ইঞ্চি। তাই অনেকেই এখন, বয়েসের এত পার্থক্য থাকা সত্বেও দীর্ঘকায়া এই নারীকে বিয়ে করবার কারণ খুঁজবার প্রয়াশ চালাচ্ছেন ঐ কবিতাটির মধ্য দিয়ে। (সম্পূর্ণ…)

ঢাকা লিট ফেস্ট ’১৫: দেশ বিদেশের মিলন

অলাত এহ্সান | ২২ নভেম্বর ২০১৫ ৬:০৫ অপরাহ্ন

harold-varmas-0.JPG
মঞ্চে নোবেলজয়ী মার্কিন বিজ্ঞানী হ্যারল্ড ভার্মাস
যুক্তরাজ্যের অঙ্গরাজ্য ওয়েলস-এর রাজধানী ব্রেকনকসায়ার, সংক্ষেপে ব্রকেনসায়ারের বিপনী শহর হে-অন-ওয়ে। সংক্ষেপে হে নামে পরিচিত এই শহরকে অনেকে বইয়ের শহর বলেও চেনেন। তাই বইয়ের প্রাচুর্যে লেখকের সমাবেশ ঘটে অহরহন। ১৯৮৮ সালের মে-জুন মাসে এই হে-অন-ওয়ে শহরেই শুরু হয় ‘হে ফ্যাস্টিভ্যাল’। উদ্দেশ্য, দেশের তরুণ লেখক ও প্রকাশককে উৎসাহ দেয়া। কিন্তু এই ২৮ বছরের দীর্ঘ পরিক্রমায় ‘হে ফ্যাস্টিভ্যাল’ এখন আর হে-অন-ওয়ে শহরের ছোট্ট পরিসরে আবদ্ধ নেই। তাদের উৎসবে যেমন যুক্ত হয়েছে দ্য টেলিগ্রাফ-এর মতো আন্তর্জাতিক সংবাদ মাধ্যম, তেমনি বিশ্বের বেশ কয়েকটি দেশেই তরুণ সাহিত্যিক ও প্রকাশকরা এই উৎসবের সামিয়ানা টাঙ্গিয়েছেন। যে কারণে বিশ্বের বিভিন্ন শহর, যেমন–কেনিয়ার নাইরোবি, মালদ্বীপ, লেবালনের বৈরুত, উত্তর আয়ারল্যান্ডের বেলফাস্ট, কলম্বিয়ার কার্তাহেনা, ভারতের ক্যারালা ও কলকাতা, গ্রানাডা-আন্দালুসিয়া, আলহামরা, সেগোভিআ, ওয়েলসের ব্রিজেন-এ এই উৎসব অনুষ্ঠিত হয়। সুতরাং হে ফ্যাস্টিভ্যাল এখন আর কোনো নির্দিষ্ট দেশ-শহরে সীমাবদ্ধ নেই। তবে যেকোনো শহরেই হোক, এটা ওই দেশের ইংরেজি ভাষায় সাহিত্য রচয়িতাদেরই উৎসাহ বেশি হবে, তা বলার অপেক্ষা রাখে না। এটা শুধু মাত্র দেশ-বিদেশের লেখক-পাঠক সম্মিলন নয়। এর সঙ্গে আয়োজক দেশ ও শহরের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে বিদেশি লেখকদের নিকট নিজেদের সংস্কৃতিও তুলে ধরার সুযোগ থাকে। আবার ওই দেশের সাহিত্যও ইংরেজি অনুবাদ হয়ে পাঠকের বিশ্ব দরবারেও উপস্থিত হওয়ার প্রক্রিয়া তরান্বিত হয়। ঢাকায় পঞ্চমবারের মতো এই উৎসব অনুষ্ঠিত হল গত ১৯-২১ নভেম্বর। ৩ দিনব্যাপী এই উৎসবে বিদেশি লেখক-সাহিত্যিকদের সঙ্গে প্রবীন তরুণ লেখক-পাঠকদেরও মিলন ঘটে বাংলা একাডেমি প্রাঙ্গণে। (সম্পূর্ণ…)

‘উত্তরঙ’-এর উচ্চারণ: দেশপ্রেমের কবিতা ও গান

লুৎফুল হোসেন | ২০ নভেম্বর ২০১৫ ৭:১১ অপরাহ্ন

dsc_3580.JPGনিত্য ঘটমান উৎসবময় ঢাকার মঞ্চ চাঞ্চল্যের বিপরীতে মৌন মেরু উত্তরে মননশীলতার আলো ছড়াবার প্রত্যয়ে অঙ্গীকারবদ্ধ নবগঠিত শিল্প সাহিত্য সংস্কৃতি সংগঠন ‘উত্তরঙ’। ১৩ নভেম্বর শুক্রবার আয়োজন করে এক কবিতা সন্ধ্যার। “দেশপ্রেম ও দ্রোহের উচ্চারণ” অনুষ্ঠানটি শুরু হয় মাহবুবা কামাল বিনুর কন্ঠে মঙ্গলবারতা ও দেশপ্রেমের রবীন্দ্রসংগীত দিয়ে। দর্শক মাতিয়ে আরো গেয়েছেন সালাউদ্দীন ববি। নজরুলের ‘বিদ্রোহী’ আবৃত্তি করেন শামস আলদীন । শামসুর রাহমানের ‘আসাদের শার্ট’-এর উচ্চকিত আবৃত্তি শোনান কাকলী আহমেদ ।

সন্ধ্যা মাতিয়ে নিজ কবিতা পাঠ করেন উপস্থিত কবিরা। কবি আবিদ আনোয়ার, রাজু আলাউদ্দিন, ইরাজ আহমেদ, শোয়াইব জিবরান, পিয়াস মজিদ, অনন্ত সূজন। দর্শক শ্রোতাকে কথার নদী আর আবেগ সমুদ্রে ভাসিয়ে আরো পাঠ করেন মঈন চৌধুরী, ফরিদ কবির, লুৎফুল হোসেন, কামরুল হাসান, রহিমা আফরোজ মুন্নী, লীনা ফেরদৌস।

অনুষ্ঠানে সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে অবস্থানে সংহতি জানানো হয় নিহত প্রকাশক ফয়সল আরেফিন দীপনের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে, সন্ত্রাসী হামলায় গুরুতর আহত ও চিকিৎসাধীন কবি ও প্রকাশক তারেক রহিম এবং আহমেদুর রশীদ টুটুলের কবিতা পাঠ করে। (সম্পূর্ণ…)

ফ্রাঙ্কফুর্ট বইমেলা: আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে দেশের প্রকাশনা শিল্পের মর্যাদা অর্জন

সাইফুল্লাহ মাহমুদ দুলাল | ২৫ অক্টোবর ২০১৫ ৬:২৬ অপরাহ্ন

ass.jpgইউরোপে হেমন্তে গাছের পাতায় যখন তামা রং ধরে, প্রকৃতি জানান দেয় পাতাঝরা আর আসন্ন বিষণ্ন শীতের কথা; ঠিক তখনই আয়োজন হয় ফ্রাঙ্কফুর্ট বইমেলা। যে দেশে দ্বিতীয় মহাযুদ্ধের সময় নাৎসি বাহিনী বই পুড়িয়ে দিয়েছিলো, সেখানেই এখন বিশ্বের বৃহত্তম বইমেলা! সেই মেলায় যাবার জন্য সেবাস্তিয়ান উইলহেম আমাকে ৬৫তম আন্তর্জাতিক ফ্রাঙ্কফুর্ট বইমেলায় আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন। ২০০৪ সালের মেলায় অংশ নিয়ে এক বিশাল অভিজ্ঞতা অর্জন করেছি। ইতোপূর্বে টোকিও আন্তর্জাতিক বইমেলা, হংকং আন্তর্জাতিক বইমেলা, কলকাতার বইমেলা দেখেছি। তবে এ কথা না বল্লেই নয়, আমাদের একুশের বইমেলাও গর্ব করার মতো বিষয়! প্রথমতঃ এই মেলার সাথে আমাদের ভাষা ও সংস্কৃতির ঐতিহ্য মেশানো, দ্বিতীয়তঃ মাসব্যাপী দীর্ঘ বইমেলা বিশ্বে আরো কোথাও নেই!

আমি মেলার দু’দিন আগে চলে যাই দুবাই। তারপর দুবাই থেকে আমার সাথে সঙ্গী হলেন অন্যপ্রকাশের মাজহারুল ইসলাম। আর মেলায় গিয়ে পেলাম অঙ্কুর প্রকাশনীর মেজবাহকে। আগে এভাবে আমাদের প্রকাশকেরা ব্যাক্তিগত উদ্যোগে বা মেলার আমন্ত্রণে অংশ নিতেন। এবার ব্যতিক্রম ঘটলো, আনুষ্ঠানিকভাবে বাংলাদেশ অংশ নেয়। প্রতিনিধি দলের সদস্য ছিলেন- সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূর, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব ও কবি কামাল আবদুল নাসের চৌধুরী এবং প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী কবি মাহবুবুল হক শাকিল। সেই সাথে বাংলাদেশ জ্ঞান ও সৃজনশীল প্রকাশক সমিতির সহ-সভাপতি মাজহারুল ইসলাম এবং নির্বাহী পরিচালক কামরুল হাসান শায়ক। সমিতির সভাপতি ওসমান গনি যাবার কথা থাকলেও শেষ পর্যন্ত তিনি যেতে পারেননি অসুস্থতার জন্য। অথচ গনি ভাই এবং প্রিয়ভাজন মাজহার বারবার মেলায় যাবার জন্য বলেছেন। অফিসের ছুটি সংক্রান্ত জটিলতার জন্য তা আর হলো না। (সম্পূর্ণ…)

জীবন ও মৃত্যুর সঙ্গম: অর্ধনারীশ্বর অথবা তৃতীয় প্রকৃতি

বিপাশা চক্রবর্তী | ২১ অক্টোবর ২০১৫ ১২:৩৬ পূর্বাহ্ন

border=0গ্রীক পুরাণে কথিত আছে, কেরিয়াতে কোনো এক ছোট নদীতে বাস করত অতি সুন্দরী এক জলপরী । নাম সালমেসিস। সে প্রেমে পড়ে যায় হারমিস ও আফ্রোদিতির পুত্র, রুপবান যুবক হারমাফ্রোডিটাসের। প্রণয়কাতর সালমেসিস দেবতাদের কাছে প্রার্থনা শুরু করল । তার এই নিবিড় প্রেমকে চিরন্তন করতে করুণা ভিক্ষা করল । দেবতারা যেন হারমাফ্রোডিটাসের সঙ্গে তাকে চিরকালের জন্য মিলিত করে দেন । দেবতারা তার প্রার্থনা শুনলো – তারা তাদের দু’জনকে জুড়ে দিলো একই শরীরে। তারপর থেকে এই প্রাণীটি হয়ে গেল উভলিঙ্গ।

এদিকে উপনিষদ বলছে, সৃষ্টিকর্তার মনেও নাকি শান্তি ছিল না। সেই পুরাণ পুরুষ ভীষণ একা বোধ করছিলেন। কোন সুখ, আনন্দ ছিল না তাঁর । স বৈ নৈব রেমে, যস্মাদ একাকী ন রমেতে। আনন্দের জন্য শেষমেশ নিজেকে দু’ভাগে ভাগ করে ফেললেন নিজেকে- নারী-পুরুষ, অর্থাৎ জায়া-পতি। পরবর্তী শাস্ত্রকারদের মনে উপনিষদের এই বিমূর্ত কল্পনা নিশ্চয়ই এমনভাবে ক্রিয়া করেছিল যার জন্য তারা নির্দেশ দিয়েছিলেন, একটি পুরুষ বা একটি নারী আলাদাভাবে কখনোই সম্পূর্ণ নয়। একটি পুরুষ বা একটি নারী মানুষরূপে অর্ধেক মাত্র। এই কারণেই কি পুরাণ-পুরুষ নিজেকে দ্বিধা ছিন্ন করছিলো? ছিন্ন দুই ভাগের মধ্যে পরস্পরের মিলিত হবার, সম্পূর্ণ হবার টান ছিল কি? (সম্পূর্ণ…)

শুভ মধু পূর্ণিমার তাৎপর্য ও বুদ্ধের শিক্ষা

ভিক্ষু সুনন্দপ্রিয় | ২৮ সেপ্টেম্বর ২০১৫ ৯:৩১ পূর্বাহ্ন

buddha.jpgশুভ মধু পূর্ণিমা বৌদ্ধদের নিকট অত্যন্ত পবিত্র ও তাৎপর্যমণ্ডিত দিন । পুণ্যময় এ দিনটিকে শ্রদ্ধা এবং ভাবগাম্ভীর্যের সাথে পালন করে থাকেন । মধু পূর্ণিমাকে ঘিরে রয়েছে বুদ্ধের জীবনের ঐতিহাসিক ঘঠনাপ্রবাহ । বিশেষ করে এদিনটি ত্যাগ ও ঐক্যের মহিমায় সমুজ্জল । বৌদ্ধরা কেন মধু পূর্ণিমাকে অতি শ্রদ্ধার সাথে পালন করে থাকেন? এর তাৎপর্য ব্যাখা করতে গেলে দুটো দিক পরিলক্ষিত হয়। একটি হচেছ সেবা ও ত্যাগের , অন্যটি হচেছ সৌর্হাদ্য, সম্প্রীতি ও সংহতির । ত্যাগের মহিমা হলো পারিলেয্য বনের বানর কর্তৃক ভগবান বুদ্ধকে মধু দান ও হস্তিরাজ কর্তৃক সেবা প্রদান । আর সৌর্হাদ্য ও সংহতি হলো কৌশম্বীর ঘোষিতারামে বিবদমান ভিক্ষু সংঘের মধ্যে ঐক্য প্রতিষ্ঠা । (সম্পূর্ণ…)

« আগের পাতা | পরের পাতা »

Disclaimer & Privacy Policy  |  About us  |  Contact us

© bdnews24.com