সংস্কৃতি

শারদীয় উৎসব বাংলার সবার

সাহানা মৌসুমী | ৯ অক্টোবর ২০১৬ ৮:১১ অপরাহ্ন

31_Puja_Kolabagan_071016_0014বাংলার শরতের অনুষঙ্গগুলো সত্যিই অনন্য। নীল আকাশে শাদা মেঘ। নদীর বাতাসে দুলতে থাকা তীরঘেঁষা কাশবন। শিশিরভেজা ঘাসে ঝরা শিউলির গন্ধমাখা ভোরবেলা। আর শারদীয় দুর্গোৎসবের বর্ণিল সম্ভার। ঢাকের শব্দে- শঙ্খ ধ্বনিতে মুখর হয়ে ওঠা বাংলার গ্রাম-গঞ্জ-শহর-বন্দর। ধূপের প্রাচীন গন্ধে যেন ভেসে আসে বাংলার হাজার বছরের আধ্যাত্মিক ইতিহাস।
তিন হাজার বছরেরও আগে- আর্যদের সেই ঋক সংহিতার যুগ থেকে শুরু হওয়া নানা উপচারের যজ্ঞ অনুষ্ঠান যেন ইতিহাসের পাতা থেকে নেমে আসে মণ্ডপে মণ্ডপে। বিশেষ করে বাংলায় সনাতন ধর্মের আরাধনার যে ধরণ ধীরে ধীরে প্রতিষ্ঠা পেয়েছে তার নান্দনিক রূপটা চোখে পড়ার মতো। এই নান্দনিকতা এসেছে এই নদীভরা দেশের শ্যাম ছায়াঘন অববাহিকার হাজার ধরণের ফুল-ফল-পত্রপল্লবের সৌন্দর্যময়তা থেকে।শারদীয় পূজায় ফুলের অঞ্জলিতে- নদীজল ভরা ঘটে- লতাপাতায়- মঙ্গলদীপে- হাতে আঁকা আলপনায়- সুরের ব্যঞ্জনায় যে সৌন্দর্য সৃষ্টি হয় তার নন্দনতাত্বিক মূল্য অসামান্য।
দেবীর নবপত্রিকা প্রবেশ-এ উৎসবের লতা পাতায় জড়ানো এক অনুষঙ্গ। বাংলার নয় রকমের গাছের পাতা দিয়ে গড়া দেবী দুর্গার আরেক রূপ- নবপত্রিকা। নয় ধরণের পাতা- তাই নাম নবপত্রিকা। ধানপাতা- হলুদপাতা- অশোকপাতা- বেলপাতা- ডালিমপাতা-কচু আর মানকচুর পাতা-জয়ন্তিপাতা আর কলাপাতা। এই নয়টি গাছের পাতা আবার বাঁধা হয় নীল অপরাজিতার লতা দিয়ে। এরপর সেই বৃক্ষ প্রতিমাকে পরানো হয় বাংলার তাঁতির হাতে বোনা লালপেড়ে শাড়ি। এ প্রতিমার নাম কলাবউ। সমৃদ্ধির প্রতীক। যথার্থই, বৃক্ষ ছাড়া আর কী হতে পারে সব অর্থে সমৃদ্ধির প্রতীক- এই পরিবেশ বিপর্যয়ের যুগে? বাংলার ধানপাতা- হলুদপাতা- তাঁতের লালপেড়ে শাড়ির এই উৎসব কি তবে সব বাঙালির নয়! (সম্পূর্ণ…)

দ্বৈত ও অদ্বৈতের প্রসারিত যাত্রা

আবদুস সেলিম | ৬ সেপ্টেম্বর ২০১৬ ৮:১৪ অপরাহ্ন

Gohonjatraজাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের নাটক ও নাট্যতত্ত্ব বিভাগের অধ্যাপক ড. রশীদ হারুন তাঁর সেলিম আল দীনের নাট্য নির্দেশনা নন্দন ভাষ্য ও শিল্পরীতি গ্রন্থের ভূমিকায় বলছেন, ‘দ্বৈতাদ্বৈত’ শিল্পতত্ত্বভাষ্যকার নির্দেশক সেলিম আল দীন আমৃত্য ব্যাপৃত ছিলেন মঞ্চ দৃশ্যকলা, পাঠ ও শ্রবন শিল্পকলা প্রভৃতির সমন্বয়ে একটি মঞ্চকাব্য সৃজনপূর্বক নিজস্ব নন্দনভাষ্য এবং শিল্পরীতির কাঠামো নির্মাণ কল্পে।’ সেলিম আল দীনের এই প্রচেষ্টা তার শিক্ষার্থী ও সমর্থকদের মধ্যে সঞ্চারণ করতে পেরেছেন, তার অন্তত একটি সজীব উদাহরণ সম্প্রতি মঞ্চস্থ রুবাইয়াৎ আহমেদরচিত একক অভিনিত নাটক ‘গহনযাত্রা’। নাটকটির শরীরে সেলিমের নন্দন-দর্শন খুবই স্পষ্ট দৃষ্টিগোচর হয়, বিশেষ করে এর অাখ্যায়িক চরিত্র ও দ্বৈতাদ্বৈতবাদ শিল্পচেতনার কারণে যার মধ্যে সমন্বিত হয়েছে ড. হারুণ উল্লিখিত ‘দৃশ্যকলা’, পাঠ ও শ্রবন শিল্পকলা’। স্পষ্টতই এই উপাদানগুলো ‘ন্যারটিভ-এরই উপাদান।

নাট্যকার রুবাইয়াৎ আহমেদ এই নাটকের নামকরণ করেছেন ‘দ্বৈত ও অদ্বৈতের আখ্যান, গহনযাত্রা’। বাংলাদেশের নাট্যামোদী মাত্রই জানেন, দ্বৈত-অদ্বৈতবাদের জনক সেলিম আল দীন, যাঁর সরাসরি ছাত্র রুবাইয়াৎ। কাঠামোগতভাবেও নাটকটি সেলিম-এর তাত্ত্বিক ধারায় অনুসৃত, যেমন প্রতিটি অপবর্তনের একটি করে শিরোনাম সংযোজন হয়েছে এবং নাটকের ভূমিকা হয়েছে ‘যাত্রারম্ভ’ নামকরনে। এই বিষয়টিও আমার কাছে প্রতিকী মনে হয়–প্রথমত যাত্রা অর্থে অন্তরের ভেতরে এক পরিশুদ্ধির অন্তহীন ভ্রমণ যার মূলমন্ত্র ‘সবার মনে জাগ্রত হোক প্রেম, সবার সর্বান্তকরণ ভরে উঠুক শুভবোধে, সবাই সুন্দর আর নির্মল হোক।’ (সম্পূর্ণ…)

প্রত্যাখ্যাত ৮টি গবেষণার নোবেলজয়

বিপাশা চক্রবর্তী | ২০ আগস্ট ২০১৬ ১:০৬ অপরাহ্ন

নোবেলবিজয়ী সব গবেষণা বা আইডিয়া প্রথমেই নিজ বলয়ে গৃহীত হয়নি। সংজ্ঞাগত দিক থেকেই হোক কিংবা দৃষ্টান্ত ও উদাহরণের দিক থেকে সেগুলো ছিল আসলেই বৈপ্লবিক। সে অনুযায়ী, অনেক আলোচিত গবেষণা, তত্ত্ব ও আবিষ্কার এমনকি পরবর্তীকালে টেক্সটবুকে অন্তর্ভুক্ত হয়েছে এমন, অনেকগুলোই প্রাথমিক অবস্থায় বাতিল বলে ঘোষিত হয়েছিল। উপহাস যদিও বা না করে থাকেন তবুও প্রথম পর্যায়ে বিজ্ঞানী মহল ঐসব ঘোষণাকে বাতিল বলেই ঘোষণা করা হয়েছিল। মার্কিন জীনতত্ত্ববিদ হাওয়ার্ড মার্টিন টেমিন যখন “রিভার্স ট্রান্সক্রিপ্টেস’ (RT) প্রস্তাব করলেন, যেখানে বলা হলো- “ আরএনএ অনেক সময় ডিএনএ তৈরি করতে সক্ষম”। এই তত্ত্বকে হাস্যকর বলে উড়িয়ে দেয়া হল। সেটা ছিল ১৯৭০ সাল। অন্যসব বিজ্ঞানীদের মতে হাস্যকর এ প্রস্তাব নোবেল পুরস্কারে ভূষিত হল ১৯৭৫ সালে। অনেক সমালোচনা অনেক বিতর্কের পরেও সে সময় অনেক বাঘা বাঘা বিজ্ঞানী নেতারা মানতে নারাজ ছিলেন টেমিনের এই তত্ত্ব, যে কিছু ভাইরাস আরএন-এ আকারে থেকে তাদের জেনেটিক তথ্য বহন করে আক্রান্ত কোষের ডিএনএ’তে তার অনুলিপি তৈরি করে ফেলতে পারে। এই প্রক্রিয়াকে ‘বিপরীত বা রিভার্স ট্রান্সক্রিপশন’ বলে আখ্যায়িত করা হলো। কেননা, রিভার্স ট্রান্সক্রিপ্টেস (RT) হচ্ছে এক ধরনের এনজাইম যা ব্যবহার করে আরএনএ টেমপ্লেট থেকে পরিপূরক ডিএনএ বা কমপ্লিমেন্টরি ডিএনএ উৎপাদন করা যায়। একই কান্ড ঘটেছিল সুইস মাইক্রোবায়োলজিস্ট ওয়ার্নার আর্বার-এর বেলাতেও। ১৯৭৮ সালে তিনিও নোবেল পান। ওয়ার্নার রেস্ট্রিকশন এনজাইমের কাজ নিয়ে গবেষণা করেছিলেন।

এখানে নোবেল জয়ী ৮টি গবেষণাপত্রের রূপরেখা দেয়া হলো যেগুলো প্রাথমিক পর্যায়ে সম্মিলিত পর্যালোচনায় বিভিন্ন বিজ্ঞান সাময়িকী, জার্নাল বা বিজ্ঞান পত্রিকায় প্রকাশের জন্য মনোনীত হয়নি এবং প্রকাশের অযোগ্য বলে বাতিল হয়েছিল।

border=0১। রসায়নশাস্ত্রে নোবেল পুরস্কার (১৯৯৭) বিজয়ীদের একজন মার্কিন প্রাণরসায়নবিদ পল বয়ার। এডিনসন ট্রাইফসফেট সংশ্লেষণের প্রক্রিয়া চিহ্নিত করার জন্য তিনি এ পুরস্কারের অংশীদার হন। (সম্পূর্ণ…)

সম্পাদকীয়: আনন্দপাঠ ২০১৬

| ৮ জুলাই ২০১৬ ১:৩৬ পূর্বাহ্ন

ঈদ ফিরে ফিরে আসে। আসে সময়ের বিবর্তনে। নতুন পরিপ্রেক্ষিতে, নতুন অনুষঙ্গ নিয়ে। ঈদের স্থায়ী অনুষঙ্গ মূলত দুটি: আনন্দময়তাও সৃষ্টিশীলতা। এর সঙ্গে এবারে যুক্ত হয়েছে অন্য অনাকাঙিক্ষত বৈপরীত্য: শঙ্কা ও সংশয়। জুলাই মাসের শুরুতে গুলশানের একটি অভিজাত রেস্তোরাঁয় মানবতাবিরোধী চক্র ও হন্তারক সন্ত্রাসীদের হামলার ফলে যে নির্মমতম হত্যাকাণ্ড সঙ্ঘটিত হলো, তাতে ভিত নড়ে গেছে বিশ্বব্যাপী মানবিকঅখণ্ডতার। ভিত নড়ে গেছে মানুষে মানুষে পারস্পরিক আস্থা,বিশ্বাস আর সহমর্মিতার। আমরা এই হত্যাকাণ্ডের তীব্রতম প্রতিবাদ করছি। ধর্মবর্ণদেশজাতিনির্বিশেষে লোকান্তরিত সকল আত্মার সদগতি কামনা করছি।
এই বর্বরতম ক্ষত শুকাতে হয়তো সময় লাগবে অনেক। তবু আমরা পিছু হটে যাবোনা। মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে সমুন্নত রেখে জাতিরাষ্ট্র হিসেবে টিকে থাকতে হলে বাংলাদেশকে এই সংকটে জয়ী হতে হবে। ফলে এবারের ঈদের নতুন অনুষঙ্গ হচ্ছে মানবিকতার বিকল্পহীন বিজয়ের শপথ। আত্মিক ও নৈতিক বিচারে মানুষকে পরিপূর্ণ মানুষ হতে হবে। ধর্মবর্ণগোত্রদেশজাতিনির্বিশেষে সব মানুষের দিকে বাড়াতে হবে নিশর্ত সহযোগিতা ও সহমর্মিতার হাত। মত-পথ-বিশ্বাস নির্বিশেষে সর্বমানবিক আনন্দযজ্ঞে শরিক হতে হলে এই নান্দনিক সহমর্মিতার কোনো বিকল্প নেই। আমাদের বিশ্বাস, মানুষের সম্মিলিত সৃষ্টিযাত্রা বিজয়ী হবেই।
বরাবরের মতো এবারেও আমাদের অভিন্ন লক্ষ্য ‘পাঠ-আনন্দ’। গত কয়েক বছর ধরে ঈদ-সংখ্যা প্রকাশ করে লেখক-পাঠক সেতুবন্ধ তৈরির উদ্যোগ নিয়েছে‘বিডিনিউজ’। প্রাথমিক পর্যায়ে ২০০৪ সালে ‘বিডিনিউজ’ নবায়িত আঙ্গিকে সংবাদ কার্যক্রম শুরু করে। অতঃপর ২০০৬ সাল থেকে পরিবেশিত বিষয় ও আঙ্গিকে যুক্ত হতে থাকে নতুন মাত্রা। বদল হয় মালিকানাও। পরবর্তী পর্যায়ে প্রধান সম্পাদক জনাব তৌফিক ইমরোজ খালিদীর গতিশীল নেতৃত্বে নতুনভাবে সংগঠিত হয় ‘বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোরডটকম’। ২০০৬ সালের ২৩ অক্টোবর প্রথম প্রহর থেকে এই প্রতিষ্ঠানটি বাংলাদেশের প্রথম ইন্টারনেট সংবাদপত্র রূপে আত্মপ্রকাশ করে। (সম্পূর্ণ…)

ঢাকার ঐতিহ্যবাহী ঈদ উৎসব

শামসুজ্জামান খান | ৭ জুলাই ২০১৬ ৬:৪৮ অপরাহ্ন

ঢাকার সাবেক কালের সমন্বিত সাংস্কৃতিক জীবনের কিছু নতুন দিক এখন ধীরে ধীরে উন্মোচিত হচ্ছে। ঢাকার নওয়াবরা উর্দুভাষী হিসাবে বাঈজিনাচ, মহরমের মিছিল, ঈদোৎসব, কাওয়ালি বা জয়বারী গানবাজনার সঙ্গে যেমন জড়িত ছিলেন তেমনি হিন্দুদের দুর্গাপূজা, জন্মাষ্টমি, ঝুলনযাত্রা ইত্যাদিতেও যোগ দিতেন। নওয়াব পরিবারের ডায়েরিতে ঢাকার সমাজ ও সংস্কৃতি (সম্পাদনা- অনুপম হায়াৎ) গ্রন্থ থেকে জানা যাচ্ছে নওয়াবরা বাংলা নববর্ষ, নবান্ন, গায়ে হলুদ, মেয়েদের ঘুড়ি উৎসব, পৌষ সংক্রান্তি এমনকি ষষ্ঠী প্রভৃতি বাঙালির ঐতিহ্যবাহী অনুষ্ঠান করতেন এবং এসব উৎসবেও অংশ নিতেন।
১৯১৩ সালের ১৩ জানুয়ারি তারিখের খাজা মওদুদের ডায়েরিতে লেখা আছে : “আজ সোমবার। পৌষ-সংক্রান্তির দিন। নওয়াবজাদী আমেনা বানু আজ আহসান মঞ্জিলে ঘুড়ি ওড়ানো উৎসবের আয়োজন করেন। এতে তিনি শুধু মহিলাদের দাওয়াত দেন। মহিলাদের এই আনন্দ উৎসবে সারা দিন রান্না-বান্না, খাওয়া-দাওয়া ও নাচগানের এন্তেজাম করা হয়। পরের বছর নওয়াববাড়ির গোলতালার পারে পুরুষদের ঘুড়ি ওড়ানোর প্রতিযোগিতা বা ‘হারিফি’ খেলা অনুষ্ঠিত হয়। খাজা হুমায়ুন কাদের এতে অংশ নেন। এতে বিপুল দর্শক সমাগম ঘটে।”
ঈদোৎসবে নওয়াবরা নানা আমোদ-ফূর্তির ব্যবস্থা করতেন : যেমন কলকাতার ক্লাসিক থিয়েটারের নাটক ঢাকার নওয়াব বাড়িতে প্রদর্শন, জাদু ও সার্কাস দেখানো, বায়োস্কোপ দেখা বা কোনো খেলাধুলার আয়োজন। পাটুয়াটুলির ক্রাউন থিয়েটার, জগন্নাথ কলেজ, ন্যাশনাল মেডিকেল ইত্যাদির মঞ্চে বায়োস্কোপ দেখার তথ্য যেমন আমরা পাই তেমনি পিকচার হাউস, এম্পায়ার থিয়েটার ইত্যাদিতে সিনেমা উপভোগের রূপছায়াময় বিবরণ পাওয়া যায় নওয়াব পরিবারের সাংস্কৃতিক ইতিহাসে। নওয়াবেরা ঈদের এমন সব বিনোদনে অংশগ্রহণের জন্য পরিবারের ছেলেমেয়েদেরও সুযোগ করে দিতেন ।
ঈদ নিয়ে নওয়াব বাড়িতে দু’একবার বিবাদ-বিসম্বাদও বেধে যায়। ১৯২০ সালের ২৫ আগস্টের খাজা শামসুল হকের ডায়েরিতে লেখা হয়েছে– ‘বকরা ঈদ নিয়ে নওয়াব বাড়ির দুই পক্ষের মধ্যে বিরোধ হয়। এক পক্ষে খাজা মোঃ আজম ঢোল পিটিয়ে ঘোষণা করেন যে, আজ বকরা ঈদ হবে। অপর পক্ষে নওয়াব হাবীবুল্লাহ ঢোল পিটিয়ে দেন যে, আগামীকাল ঈদ হবে। শেষ পর্যন্ত ওই বছর ঢাকায় দুই দিন বকরা ঈদ হয়। ১৯২২ সালের ঈদ-উল-আযহার ব্যাপারেও একই ঘটনা ঘটে।’ (সম্পূর্ণ…)

সাম্প্রতিক বিশ্বসাহিত্য: বিদায় রাবাসা, অজানা কাফকা ও শিল্পকর্মের উল্টোপিঠ

বিপাশা চক্রবর্তী | ২২ জুন ২০১৬ ৪:১২ অপরাহ্ন


বিদায় রাবাসা

rabasa.jpg
বিদায় নিলেন গ্রেগরি রাবাসা। গত ১৩ জুন যুক্তরাষ্ট্রের ব্রানফোর্ড, কানেকটিকাট-এ ৯৪ বছর বয়সে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করলেন এই কিংবদন্তীতুল্য অনুবাদক। “ইংরেজী ভাষায় ল্যাতিন আমেরিকার শ্রেষ্ঠ লেখক”-এই বলে যাকে একদিন ঘোষণা করেছিলেন গ্যাব্রিয়াল গার্সিয়া মার্কেস। আর করবেনই না বা কেন? সারা পৃথিবী জুড়ে মার্কেসের ব্যাপক জনপ্রিয়তা আর পরিচিতির অনেকটা ভাগীদার গ্রেগরি রাবাসা। তিনিই প্রথম মার্কেসের জাদুবাস্তবতার অনন্য আখ্যান নিঃসঙ্গতার একশ বছরকে ইংরেজী ভাষায় অনুবাদ করে সারা পৃথিবীর জন্য উন্মুক্ত করে দেন। ১৯৬৭ সালে প্রথম প্রকাশের তিনবছর পর ইংরেজী অনুবাদ প্রকাশিত হয় আর সঙ্গে সঙ্গেই প্রচন্ড জনপ্রিয়তা পায়, যা পায়নি স্প্যানিশ ভাষায় প্রথম প্রকাশের পর। অনুবাদকে রাবাসা এমন এক উন্নত পর্যায় নিয়ে যান যার ফলে নিঃসঙ্গতার একশ বছর-এর অনুবাদ গ্রন্থটি প্রসঙ্গে মার্কেস প্রায়ই প্রশংসা করে বলতেন, “এই অনুবাদের নিজস্ব শৈল্পিক সত্ত্বা আছে, ও নিজেই একটি শিল্প ”। গ্রন্থটি আজ বিংশ শতকের সাহিত্যের ইতিহাসে অন্যতম একটি কীর্তিস্বম্ভ হিসেবে বিবেচিত। (সম্পূর্ণ…)

জাহা হাদিদ: আপোষহীন প্রতিভার অনন্য স্থাপত্য

বিপাশা চক্রবর্তী | ১২ মে ২০১৬ ৫:১৬ অপরাহ্ন

zaha-9.jpgকখনো বিস্তীর্ণ মরুভূমির বিশালতা। কখনো যেন শূন্যে উঠে থমকে আছে একটি বিরাট বালির ঢেউ। মাধ্যাকর্ষণ শক্তিকে বুড়ো আঙ্গুল দেখিয়ে, মেরিলিন মনরোর উড়ন্ত স্কার্টের শৈল্পিক সৌন্দর্য হঠাৎ যেন শরীর পেয়ে বাতাসে বেঁধেছে ঘর। আবার কখনো এমন লাগবে, বিশাল সব জলের ফোটা আর তরঙ্গেরা তাদের ইচ্ছে মতো খেলায় মেতে আছে। বস্তুর গঠনগত বৈচিত্র্য ও উর্মির বিশালতা, স্থান আর আলোর ব্যবহারের নতুনত্ব–সব মিলিয়ে পুরো ব্যাপারটা আপনার কাছে ধাঁধা আর বিভ্রমের জন্ম দিবে। কিন্তু ব্যাপারটি আসলে সেই মেরিলিন মনরোর উড়তে থাকা স্কার্টের মতোই খাঁটি, আবেদনময় আর সাবলীল। বলছি সদ্যপ্রয়াত, স্থাপত্যকলার কিংবদন্তী স্থপতি ও শিল্পী দেমা জাহা হাদিদ-এর কর্মশৈলীর কথা।

স্থান ও বস্তুর গঠনের চিরাচরিত ধারণা,গতানুগতিক জ্যামিতিক ভাবনা ও নিয়ম-কানুন সব ভেঙেচুরে তিনি জন্ম দিয়েছিলেন স্থাপত্যশিল্পের নতুন এক ভাষার। সম্পূর্ণরূপে স্বতন্ত্র এই বৈশিষ্ট্যের কারণেই বিখ্যাত ছিলেন এই স্থপতি। স্থাপত্যকলার সকল প্রতিবন্ধকতা ভেঙে দিয়েছিলেন জাহা হাদিদ। দূর করেছিলেন সব সীমাবদ্ধতা।

একই সাথে একজন মুসলিম ও নারী হিসেবে নয়, বরং তিনি তাঁর কর্মগুণেই ছিলেন ব্যতিক্রম। এক ও অদ্বিতীয়া। অন্যান্য অনেক কিছুর মতোই পুরুষশাসিত স্থাপত্যশিল্পের জগতে তিনি ছিলেন অপ্রতিদ্বন্দ্বী। সমকালে তাঁর কাছাকাছি যাবার যোগ্য স্থপতি খুব কমই আছেন। (সম্পূর্ণ…)

প্রণম্য পাণিণি ১৪২৩

মুহম্মদ নূরুল হুদা | ১৪ এপ্রিল ২০১৬ ২:২১ পূর্বাহ্ন

02_boishakh_mongol-sovajatra_140415_0020.jpgশুরু নেই শেষ নেই। খণ্ড ও অখণ্ড নেই ॥
আছে শুধু অনন্ত দহন। আছে শুধু অনন্ত গহন ॥

বস্তুর গভীরে আছে অবস্তুর কণা।
গতির গভীরে আছে যতিলগ্ন ফণা ॥
জল বলে, আমি ঢেউ। নদী বায় দাঁড়।
জলেস্থলে নভোনীলে আমার পাহাড় ॥

কাল থেকে কালান্তরে এভাবেই হাঁটি।
আমার বাঙালি চুলে সিঁথি পরিপাটি ॥
বাহারি গামছাখানি বেঁধেছি মাথায়।
নগরে মুখোশ মুখে নববর্ষ যায় ॥ (সম্পূর্ণ…)

বাংলা নববর্ষ : আমাদের প্রাণের উৎসব

শামসুজ্জামান খান | ১৪ এপ্রিল ২০১৬ ১:৫৬ পূর্বাহ্ন

baishak.jpgবাংলা নববর্ষ বা পহেলা বৈশাখ আমাদের জাতীয় উৎসব। আমাদের আরও উৎসব আছে। তার কিছু ধর্মীয় উৎসব আর কতক ঋতু উৎসব। আবার একুশে ফেব্রুয়ারি আমাদের মাতৃভাষার উৎসব। সে উৎসব রাজনৈতিকও বটে। আমাদের তরুণেরা মাতৃভাষার জন্য প্রাণ বিসর্জন দিয়ে এই উৎসবের সৃষ্টি করেছেন। বাংলা নববর্ষ উৎসব আর একুশে ফেব্রুয়ারি তাই বাংলাদেশের সকল ধর্ম ও সম্প্রদায়ের মানুষের মহান উৎসব।

আজ আমরা আমাদের সব উৎসবের কথা বলবো না। শুধু নববর্ষ উৎসবের কথা বলবো। বাংলা নববর্ষ উৎসব কখন, কীভাবে শুরু হয়েছে তা ঠিক-ঠিক বলা কঠিন। ইতিহাসেও তেমনভাবে কিছু নেই। তবে প্রাচীনকাল থেকেই গ্রামীণ বাংলাদেশে ‘আমানি’ নামে একটি পারিবারিক উৎসব চালু ছিল। প্রতিবছর চৈত্র সংক্রান্তির দিনগত রাতে অর্থাৎ পহেলা বৈশাখের আগের রাতে বাড়ির গৃহিনী একটি ঘটে পানি ঢেলে তাতে কচি একটি আমপাতার ডাল রেখে দিতেন। আর ঘটে কিছু আতপ চাল ছেড়ে দেয়া হতো। পহেলা বৈশাখের সকালে সেই আমপাতার ডালটি ঘটের পানিতে ডুবিয়ে সেই পানি বাড়ির সকলের শরীরে ছিটিয়ে দেয়া হতো। আর ঘটে ভেজানো চাল বাড়ির সবাইকে খেতে দেওয়া হতো। লোকবিশ্বাস ছিল- এতে সারাবছর সকলের মঙ্গল হবে। গৃহকর্তা এই ভেজা চাল খেয়ে ক্ষেতে হালচাষ করতে যেতেন। মনে করা হতো এতে ফসলের কোনো অমঙ্গল হবে না। এই বিষয়টি পরবর্তীকালে বাংলা নববর্ষের উৎসবের একটি অংশ হয়ে যায়। (সম্পূর্ণ…)

সংস্কৃতি ও ধর্ম: আরববিশ্ব ও বাংলাদেশের প্রেক্ষিতে

আবদুস সেলিম | ১৩ এপ্রিল ২০১৬ ১১:১১ অপরাহ্ন

02_boishakh_mongol-sovajatra_140415_0003.jpgবাইরের বিশ্বকে আমরা কিভাবে বিচার করি সেই শিক্ষাই দেয় সংস্কৃতি। ফলে শান্তি ও টেকসই উন্নয়নের যে অপরিহার্য উপাদান সহনশীলতা তারই উপলব্ধি মানবজাতি অর্জন করে সংস্কৃতি চর্চার মাধ্যমে। বিশ্ব ইতিহাসে বিভিন্ন মানবগোষ্ঠীর সাংস্কৃতিক শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণের প্রতিযোগিতার ফলশ্রুতিতে যত হানাহানি এবং ঔপনিবেশিক শক্তি সৃষ্টি হয়েছে তার ইয়ত্তা নেই। এই সাংস্কৃতিক শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণের ভেতর ধর্মও একটি অনুঘটকের কাজ করেছে নিঃসন্দেহে। কিন্তু এ কথা অনস্বীকার্য সংস্কৃতি একটি মানবগোষ্ঠীর অন্তর্গত শক্তি যার উপাদানগুলো হলো, মানুষের সাথে মানুষের ব্যবহার, তার খাদ্যাভ্যাস (রন্ধন প্রণালীসহ), ভাষা, বিনোদন ও অভ্যাস যা ঐ মানবগোষ্ঠীকে একটি সর্বজনীন একাত্মতার অনুভূতি এনে দেয় এবং এমনকি ঐ মানবগোষ্ঠীর পোশাক-পরিচ্ছদ ও পারস্পরিক ব্যবহারও এর অন্তর্ভুক্ত। ইংরেজিতে একে বলা হয় সভ্য ও সংস্কৃতিকবান হবার ইঙ্গিত বা ‘সেমিওটিক্স’। এর সাথে ধর্মীয় উৎসবও যুক্ত। ধর্ম ও সংস্কৃতির সহাবস্থান মানবজাতির জন্যই মঙ্গলজনক কারণ ধর্মের অনেক আচার অনুষ্ঠান যেমন কোনো একটি নির্দিষ্ট ভৌগলিক সীমারেখায় বসবাসকারী মানবগোষ্ঠীকে প্রভাবিত করে, তেমনি সেই ভৌগলিক সীমার অভ্যন্তরের সকল ঐতিহ্যবাহী সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডকে নিজেদের মধ্যে ধারণ করে থাকে। এটি অতি প্রয়োজনীয় কারণ কোনো মানবগোষ্ঠীই তার ঐতিহ্য ও সংস্কৃতিকে অস্বীকার করে টিকে থাকতে পারে না। (সম্পূর্ণ…)

সোনার মানুষের খোঁজ

জাকিয়া সুলতানা | ২৮ মার্চ ২০১৬ ১১:১২ অপরাহ্ন

lalon-1.jpgজাগতিক নিয়মে সকাল হয়। এরপর সুর্য পূব থেকে পশ্চিমে চলে যায়, গ্রীষ্মে রাস্তার পীচ গলে আঠালো হয়, কালবৈশাখী হয়; বর্ষায় মেঘলা আকাশ ভেঙ্গে বৃষ্টি নামে, শরতে পেঁজা তুলো স্বাধীনভাবে ঘুরে বেড়ায়- কিছুই দেখা হয় না এ যান্ত্রিক শহরে। কিন্তু আপনি চান বা না চান, অসংখ্য মানুষ আপনি দেখেন। আমরা কখনো কি তাকিয়ে দেখার ফুরসত পাই এই মানুষের দিকে?
মানুষ ভজলে সোনার মানুষ হবি।
মানুষ ছাড়া ক্ষ্যাপা রে তুই মূল হারাবি।।

প্রকৃতি দেখার জন্য এই ঢাকা শহরের গণ্ডিটা পার হয়ে যেতে হয়। তবে মানুষ দেখার জন্য এই পৃথিবীর দু’একটা শ্বাপদসংকুল স্থান ছাড়া যেখানেই যাওয়া হোক না কেন যে কেউ চাইলেই এর বৈচিত্র্য অনুভব করতে পারবে। সাধারণ মানুষের বাইরে কিছু মানুষ দেখা হলো, কুষ্টিয়ায়। বলছিলাম মরমী সাধক লালন ফকির ও তাঁর অনুসারীদের কথা। মানুষকে চেনাই যাদের মূল লক্ষ্য ছিল। যখন মানুষেরা জাতপাত আর ছোঁয়াছুঁয়ি নিয়ে কোন্দল করছে তখন এই মানুষ উচ্চারণ করলেন অদ্ভুত এক কথা-
কেউ মালা কেউ তসবি গলে
তাইতে কি জাত ভিন্ন বলে
আসা কিংবা যাওয়ার কালে
জাতির চিহ্ন রয় কি রে।।

দোল পূর্ণিমার সময় ছেঁউড়িয়ায় সাঁইজির আখড়া বাড়ীতে বসেছে সাধূর হাট। তিনদিনব্যাপী লালন স্মরণোৎসবে জমায়েত হয়েছে দেশ-বিদেশের হাজার হাজার সাধুগুরু ও ভক্তকূল। সন্ধ্যার আগে আগেই গেলাম লালন একাডেমী। এসময় কুষ্টিয়া শহরে জ্যামে চলাফেরা করা দুষ্কর। লালনের ভক্ত, লালনপ্রেমী, সাংবাদিকদের ভিড়ে ধূলিময় হয়ে ওঠে শহর। তাই গন্তব্যস্থলের অনেক আগেই মিলপাড়ায় রিকশা ছেড়ে দিতে হলো। যেকোন তীর্থে নাকি পদব্রজই উত্তম, তাই আমিও কুষ্টিয়ার ধূলি পায়ে লাগিয়ে হাঁটা শুরু করলাম। (সম্পূর্ণ…)

ঝড়ের পর ঝড়

মতিন রহমান | ১১ মার্চ ২০১৬ ৬:২৪ অপরাহ্ন

khalid-mahmud_mithu.jpg৭ মার্চ, খবরে প্রকাশ গত রাতের ঝড়ে রাজধানীর রামপুরায় নির্মানাধীন ভবনের ওপর থেকে রেলিংসহ ভিমের কিছু অংশ ভেঙে পড়ে কারিশমা (৪) নামে এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে । ৪ নং ধানমন্ডি সড়কে একটি কৃষ্ণচুড়া বৃক্ষ ঝড়ের ঝাঁকুনিতে নড়ে উঠেছে। নড়ে ওঠা বৃক্ষকে পথচারী জিজ্ঞাসা করলো, বৃক্ষ তোমার বয়স কত? বৃক্ষটি উত্তর দিল, জানি না। জানে আমার নগর পিতা। যিনি আমাকে রোপণ করেছে। নগর পিতা, আপনি কি জানেন, এই মহানগরের বৃক্ষগুলোর কোনটার কত বয়স? কোনো তথ্য লিপিবদ্ধ আছে কি আপনার নগর ভবনের বৃক্ষ রোপণ লেজার বইয়ে? গৃহায়ন অধিদপ্তর ও রাজউক তো জানে এই শহরে কতটি ইমারত আছে। শহরের কোন কোন ইমারত ঝুঁকিপূর্ণ। আপনার শহরে প্রতিবছর ঘটা করে বৃক্ষ রোপন উৎসব হয়। অথচ আপনার কর্মীদের জানা নেই এই শহরে কোন বৃক্ষ হঠাৎ বয়সের ভারে ঢলে পড়বে এবং আপনার সন্তানের প্রাণহানি ঘটাবে। যদি জানতেন তাহলে ঝড়ের পড়েই বেড়িয়ে পরতো আপনার বেতনভুক্ত কর্মীদল। খবর নিতে ছুটতো কোন বিদ্যুতের খুটি অথবা বৃক্ষগুলো নড়ে উঠেছে। নগর পিতা যদি এই খবর নিতে পারতো তাহলে জাতীয় চলচিত্র পুরুস্কার প্রাপ্ত আন্তর্জাতিক খ্যাতিমান চিত্রশিল্পী খালিদ মাহমুদ মিঠুকে উপড়ে পড়া বৃক্ষতলে প্রাণ হারাতে হতো না। (সম্পূর্ণ…)

পরের পাতা »

Disclaimer & Privacy Policy  |  About us  |  Contact us

© bdnews24.com