অনুবাদ কবিতা

আন্তোনিও মাচাদোর অপ্রকাশিত কবিতা: রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের প্রতি

| ৮ মে ২০১৬ ১১:৫১ পূর্বাহ্ন

machadorabi.jpgস্প্যানিশ ভাষায় কবি হিসেবে আন্তোনিও মাচাদোর কী অবস্থান তা বুঝাতে গেলে যথাযথ উদাহরণ হতে পারে আমাদেরই ভাষার কবি জীবনানন্দ দাশ–কাব্যিক বৈশিষ্ট এবং প্রগাঢ়তা, উভয় অর্থেই। এমনকি প্রকৃতি-মগ্নতা, কল্পনা-মনীষা ও কাব্যিক-স্পন্দনে উভয়ের মিল এতটাই যে মনে হবে একই কবি যেন ভিন্ন দুই ভাষায় জন্মেছেন। তুলনার প্রসঙ্গটি এল এই কারণে যে স্প্যানিশ ভাষার প্রধান দুই কবি ফেদেরিকো গার্সিয়া লোর্কা এবং হুয়ান রামোন হিমেনেছ বাংলা ভাষায় ব্যাপকভাবে অনূদিত হলেও মাচাদো থেকে গেছেন উপেক্ষিত। অথচ কাব্যিক গুরুত্বে সাহিত্যের গুণবিচারীদের কাছে অন্য ‍দু’জনের চেয়ে মাচাদো ঢের বেশি বিভাময়, উদ্ভিজ্জ ও সংক্রামক। উপেক্ষিত এই মাচাদো যে য়ূরোপের পটভূমিতে রবীন্দ্রনাথকে নিয়ে ১৯১৮ সালে একটি অসামান্য কবিতা লিখেছিলেন সেটি গোচরে আসে ২০০৩ সালে, মাচাদোর মৃত্যুর প্রায় ৭৫ বছর পর। এখনও পর্যন্ত এই কবিতাটির কোনো পূর্ণাঙ্গ ইংরেজি বা বাংলা তর্জমা হয়নি। এই প্রথম এটি বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম-এর পাঠকদের জন্য অনুবাদক, প্রাবন্ধিক ও অধ্যাপক খালিকুজ্জামান ইলিয়াস এবং লাতিন আমেরিকান সাহিত্য-বিশেষজ্ঞ রাজু আলাউদ্দিনের তর্জমায় উপস্থাপিত হলো। ইতালিয় ভাষায় Tutte le poessiee prose Scelte (Arnoldo Mandadori Editore S. A., Milano, 2010) শিরোনামে জিওভান্নি কারাভাগ্গির সম্পাদনায় মাচাদোর কবিতার একটি তর্জমা-গ্রন্থ প্রকাশিত হয়, সেখানে স্প্যানিশ যে প্রামাণ্য রূপটি গ্রহণ করা হয়েছে বর্তমান অনুবাদটি তারই প্রতিধ্বনি। (সম্পূর্ণ…)

ফেদেরিকো গার্সিয়া লোরকার কবিতা: তন্দ্রাচারীর কাব্য

খালিকুজ্জামান ইলিয়াস | ২ মার্চ ২০১৬ ৭:৫২ অপরাহ্ন

lorca.jpg
…………………………………………………

অনুবাদ: খালিকুজ্জামান ইলিয়াস

…………………………………………………

তোমার যে সবুজ সে তো খুবই ভালোবাসি, মেয়ে
ভালোবাসি হাওয়ার সবুজ, বাসি শাখার সবুজ
সুদূর সাগর পটে চিত্রিত জাহাজ
পাহাড় চূঁড়ায় অশ্ব নিশ্চল দাঁড়িয়ে।
রোয়াকে দাঁড়ায় কন্যা খোয়াবের ঘোরে
কপোল সবুজ তার কুন্তল সবুজ,
চোখ দুটো রূপালী শীতল।

তোমার যে সবুজ সে তো খুবই ভালোবাসি
বেনো চাঁদ, বেদে চাঁদ, চাঁদের আলোয়
সবাই তাকিয়ে দ্যাখে কন্যার সুরৎ
সে শুধু তাকিয়ে থাকে দৃষ্টিহীন চোখে।
তোমার সবুজ, কন্যা, সে তো ভালোবাসি
আকাশে সহস্র তারা কুয়াশা জমাট
উদয়গিরির দিকে একখন্ড মৎস-মেঘ
ভেসে যায়; ডুমুর বিরিক্ষে লাগে হাওয়া, ওঠে
খসখসে কালো ডালে ঘসার আওয়াজ।
পাহাড় বেড়াল যেন বুনো ও চতুর
গোঁফের তিক্ত কাঁটা-ঝোপে দেয় তা’।
কিন্তু একি! কে ধরেছে পাহাড়ের পথ? কোন পথ?
সে রয়েছে স্বপ্নাতুর দাঁড়িয়ে রোয়াকে।
কপোল সবুজ তার, কুন্তল সবুজ
খোয়াবে সে দেখে দূর তিক্ত সমুদ্দূর। (সম্পূর্ণ…)

রোজে আউসল্যান্ডার: কবিতাই ছিল যার মাতৃভূমি

জুনান নাশিত | ১১ জানুয়ারি ২০১৬ ৭:২১ অপরাহ্ন

rose_presse-19201.jpgরোজে আউসল্যান্ডার ইহুদি-জার্মান কবি। দুই দুইটি বিশ্বযুদ্ধের প্রত্যক্ষ সাক্ষী। মাতৃভূমি হারিয়েছেন বারবার। কিন্তু কবিতাকে হারাননি। কবিতাতেই গড়েছেন আপনভূমির মাতৃচিত্র। ভূ-রাজনীতির তীব্র শিকার হয়েছেন। তাই বলে লেখা ছাড়েননি কখনও। এক অদম্যতায় লেখা চালিয়ে গেছেন মৃত্যু পর্যন্ত।
ইউরোপের দক্ষিণ পূর্বে কার্পাথিয়ান পাহাড়ের কোলে বুকোহিনার চেরনোহিৎস শহরে ১৯০১ সালে ১১ মে তার জন্ম। শহরটি তৎকালীন অস্ট্রিয়া-হাঙ্গেরীর অংশ ছিল। আউসল্যান্ডরের মাতৃভাষা জার্মান। তবে ওই অঞ্চলের অধিবাসীরা জার্মান, ইউক্রেনীয়, রোমানীয় ও পোলিশ ভাষাতেও কথা বলতেন। ফলে রোজে আউসল্যান্ডার শিশুকাল থেকে এসব ভাষা শুনতেন।
রোজের শৈশব সুখেই কাটছিল। কিন্তু শৈশবের এই সুখ রোজের জীবনে স্থায়ী হয়নি। তিনি আশ্রয়চ্যুত হন তার জন্মস্থান থেকে, তার সংস্কৃতি থেকে। একজন মানুষের আশ্রয়, সংস্কৃতি ও মর্যাদা যখন কেড়ে নেয়া হয়, তখন সেটি হয় তাকে হত্যারই নামান্তর। বিশেষ করে তিনি যদি হন সৃষ্টিশীল।
প্রথম বিশ্বযুদ্ধ চলাকালে রোজের পরিবারকে পালাতে হয় প্রথমে হিনে, পরে বুদাপেস্টে। কিন্তু রোজের হৃদয়ে মাতৃভূমি কথা বলে অবিরত। তিনি কবিতা লেখেন। নিজেকেই নিজে প্রশ্ন করেন কেন আমি লিখি? নিজেই জবাব দেন, তার কারণ সম্ভবত আমি চেরনোহিৎসে পৃথিবীর আলো দেখেছিলাম। এখানকার হাওয়ায় রূপকথা আর মিথ একাকার হয়ে ভাসতো। ওদের শ্বাস নেয়া যেত। এখানকার নিসর্গ অসাধারণ, মানুষগুলোও।
রোজের কাব্য রচনার সবকটি পবের্র প্রকৃতি ও নিসর্গ কবিতায় বুকোহিনা ও চেরনোহিৎস বিরাট জায়গা জুড়ে রয়েছে। বুকোহিনা শিরোনামেই রয়েছে চারটি কবিতা। (সম্পূর্ণ…)

টমাস ট্রান্সট্রয়মারের কবিতা

| ২১ সেপ্টেম্বর ২০১৫ ১:৫৬ অপরাহ্ন

trans.jpgকবি টমাস ট্রান্সট্রয়মারের জন্ম স্টকহোমে ১৯৩১ সালের ১৫ এপ্রিল আর প্রয়াণ এ বছরের ২৬ মার্চ। ছাত্রজীবন থেকেই সুইডেনের সাহিত্য সাময়িকীগুলোতে ট্রান্সট্রয়মারের কবিতা প্রকাশিত হতে থাকে। ১৯৫৪ সালে ১৭টি কবিতা (17 Dikter) শিরোনামে তাঁর প্রথম কাব্যগ্রন্থ প্রকাশের মাধ্যমে সুইডিশ ভাষার একজন শক্তিমান কবি হিসেবে আবির্ভূত হন। লেখালেখির শুরুর সময়ে তিনি সুইডেনের আধুনিকতাবাদী কবিদের বাগাড়ম্বরপূর্ণ ভাষার বিপরীতে সহজ ভাষা ও সরল রচনাশৈলী ব্যবহারের সিদ্ধান্ত নেন যা ছিল তাঁর ব্যক্তিত্ব এবং দৃষ্টিভঙ্গির সঙ্গে মানানসই। ফলে তাঁর কবিতা হয়ে ওঠে অতীতের সুইডিশ কবিতা থেকে ভিন্নতর। ট্রান্সট্রয়মারের কবিতার বড় অংশ জুড়ে স্থান পায় প্রকৃতি ও সঙ্গীত। সমগ্র লেখালেখিতে ট্রান্সট্রয়মার বোধের অতিপ্রাকৃত গভীরতা, প্রজ্ঞা আর পৃথিবীকে উপলব্ধি করায় আচ্ছন্ন ছিলেন। বিশ্বের ৭০টিরও অধিক ভাষায় অনূদিত হয় তাঁর কবিতা। তিনি দেশে-বিদেশে বহু সম্মাননা ও পুরস্কারে ভূষিত হন। ২০১১ সালে তিনি সাহিত্যে নোবেল পুরস্কার লাভ করেন। উত্তর ইউরোপের জীবন ও প্রকৃতির প্রেক্ষাপটে কবি টমাস ট্রান্সট্রয়মারের কবিতা রূপসী বাংলার কবি জীবনানন্দ দাশের কবিতার সঙ্গে তুলনীয়। অনুবাদও তেমনি দুরূহ। তাই, অনুবাদগুলো মূল সুইডিশ থেকে করা হলেও রবিন ফালটনের ইংরেজি ভাষান্তরের সঙ্গে মিলিয়ে নেয়া হয়েছে। অনুবাদের অনুমতি প্রদানের জন্যে ট্রান্সট্রয়মারের সহধর্মিনী মনিকা ট্রান্সট্রয়মার এবং বর্তমান অনুবাদকর্মটির ক্ষেত্র তৈরি করে দেবার জন্যে উপসালা সাহিত্য কেন্দ্র এবং সুইডিশ আর্টস কাউন্সিল-এর কাছে অনুবাদকদ্বয় কৃতজ্ঞ। (সম্পূর্ণ…)

সি. পি. কাভাফির কবিতা

খালিকুজ্জামান ইলিয়াস | ২৬ আগস্ট ২০১৫ ৩:০২ অপরাহ্ন

cavafy-1.jpgকেবল গ্রিক আধুনিক কবিতারই প্রধান ব্যক্তিত্ব নন, আধুনিক যুগের বিশ্বকবিতারই তিনি এক প্রধান কন্ঠস্বর। কাভাফির জন্ম ১৮৬৩ সালে মিশরের আলেকজান্দ্রিয়ায়। জন্ম মিশরে হলেও জাতিগত ও ভাষিক পরিচয়ে তিনি ছিলেন গ্রিক। সারা জীবন গ্রিক ভাষাতেই লিখেছেন। লিখেছেন কবিতাই, কিন্তু তা সংখ্যায় অল্প হলেও প্রায় প্রতিটি কবিতায় রয়েছে তার নিজস্বতার ছাপ। প্রথমে সাংবাদিকতা দিয়ে পেশাজীবনের শুরু হলেও পরে তিনি Ministry of Public Works বিভাগে কেরানি হিসেবে ১৯২৬ সাল পর্যন্ত কাজ করেছেন। ১৯৩৩ সালের ২৯ এপ্রিল তিনি আলেকজান্দ্রিয়াতে মৃত্যুবরণ করেন। জীবদ্দশায় তিনি বহির্বিশ্বে দূরের কথা, মিশরে বা গ্রীসেও খুব একটা পরিচিত ছিলেন না। অধ্যাপক ও অনুবাদক খালিকুজ্জামান ইলিয়াসের তর্জমায় কাভাফির প্রতিনিধিত্বশীল কবিতাগুলোর একটি এখানে প্রকাশ করা হলো। বি. স. (সম্পূর্ণ…)

জ্যামি শ্যু’র একগুচ্ছ কবিতা

মুহাম্মদ সামাদ | ২৪ আগস্ট ২০১৫ ৯:২১ অপরাহ্ন

jami-shu.jpgজ্যামি শ্যু একাধারে চীনা ও ইংরেজি ভাষার কবি, অনুবাদক ও প্রাবন্ধিক। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অ্যারিজোনা অঙ্গরাজ্যে বেড়ে ওঠেন জ্যামি। অ্যারিজোনা ইউনিভার্সিটির চাইনিজ স্টাডি বিষয়ে গ্রাজুয়েশন ও মাস্টার্স ডিগ্রি অর্জন করেন। পরে তিনি চীনা সাহিত্য ও নারীবাদের তত্ত্ব নিয়ে ক্যালিফোর্নিয়া ইউনিভার্সিটি, বার্কলে থেকে আরেকটি গ্রাজুয়েশন করেন। এই দুই ইউনিভার্সিটিতেই চীনা ভাষা-সাহিত্য পড়িয়েছেন কবি জ্যামি শ্যু। চাইনিজ একাডেমি অব সোশ্যাল সায়েন্স-এর ভিজিটিং স্কলার হিসেবে দুই বছর কাজ করাসহ একটানা ছয় বছর বসবাস করেন চীনের রাজধানী বেইজিংয়ে। চীন, যুক্তরাষ্ট্র ও ভারতসহ বিভিন্ন দেশের জার্নাল এবং কবিতাসংকলন-এ তার কবিতা ও অনুবাদ নিয়মিত প্রকাশিত হচ্ছে। এসবের মধ্যে চাইনিজ লিটারেচার টুডে, লেফ্ট কার্ভ, অ্যাম্বুশ রিভিউ, কালেকশন অব ওয়ার্ল্ড পোয়েট্রি প্রভৃতি প্রধান। অয্ত্নসজ্জিত অপার প্রকৃতি আর মানবহৃদয়ের অলৌকিক আনন্দ-বেদনা অনবরত কথা বলে তার কবিতায়।

সমসাময়িক চীনা কবিতায় অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ২০১৩ সালে ঝাজিয়াং কবিতা পুরস্কার লাভ করেন। এ বছর কবি জ্যামি শ্যু-এর নিজের ইংরেজি কবিতাসংগ্রহ, চীনা কবি জিদি মাজিয়া, সঙ লিন ও ঝাই ইয়াংমিঙ-এর কবিতার ইংরেজি অনুবাদ এবং চীনের কবি ঝউ জ্যান ও জ্যামি শ্যু-এর সঙ্গে যৌথ সম্পাদনায় কবি সিলভিয়া প্লাথ-এর চীনা অনুবাদ প্রকাশিত হচ্ছে। বর্তমানে স্বামী প্রক্টর শ্যু এবং একমাত্র পুত্র ডিলানকে নিয়ে শ্বশুড়বাড়ি চীন ও নিজের দেশ যুক্তরাষ্ট্রে সময় ভাগাভাগি করে বসবাস করছেন। ২০১৪ সালে প্রকাশিত কবি জ্যামি শ্যু-এর কাব্যগ্রন্থ হামিংবার্ড ইগনাইটস অ্যা স্টার থেকে তার পাঁচটি কবিতা বাংলাভাষার পাঠকদের জন্য পরিবেশিত হলো [অনুবাদক]। (সম্পূর্ণ…)

গারথিয়া লোরকার জিপসি বালাদ : নিশিডাকের গান

ওমর শামস | ১৯ আগস্ট ২০১৫ ১:৪০ অপরাহ্ন

federico-garcia-lorca.jpgলোরকা ১৮ টি জিপসি বালাদ (Romancero Gitano) লিখেছিলেন। এগুলো জিপসি জীবনের কাহিনী ভিত্তিক কবিতা। ছন্দোবদ্ধ, ৮ মাত্রার কাহারবায় – এগুলো গাওয়াও হয় ফ্লামেঙ্কো স্টাইলে। আমি একটির অনুবাদ নিচে প্রকাশ করলাম। বোরহেস এগুলোকে গেঁয়ো মনে করেছিলেন, অন্য স্পানীশভাষী কবিরা তা মনে করেন না, অন্তত আলবের্তি, আলেহান্দ্রে এবং নেরুদা তো নয়ই। এগুলোর শিকড় আবহমান লোকজ কাহিনী-গান। একটা প্রতি তুলনার কথা মনে এসেছে– রবীন্দ্রনাথের গীতাঞ্জলীর শিকড়ও কবির, তুলসীদাস ইত্যাদির আবহমান লোকজ ভক্তিগীতিতে। কিন্তু তাঁর প্রকরণ, রস, ভাষাশৈলী অন্য মেজাজের। একটা কারণ অবশ্যই তাঁর উপনিষদ মর্মগ্রাহীতা। দ্বিতীয়ত, লোকজ হলেও তাঁর বিষয় ধর্মবোধ। অন্য দিক দিয়ে লোরকা অনেকটা জসীমুদ্দিনের কাছের। কিন্তু জসীমুদ্দিন প্রকরণে আধুনিক নন। লোরকা ইমেজারি ব্যবহারে পুরো আধুনিক, তা ছাড়া রহস্য এবং “দুয়েন্দে” (সাঙ্গীতিক তীব্র দরদ) তৈরী করতে পারঙ্গম। (সম্পূর্ণ…)

টমাস ট্রান্সট্রয়মারের হাইকু

আনিসুর রহমান | ১০ আগস্ট ২০১৫ ৩:০৫ অপরাহ্ন

ttrans.jpgটমাস ট্রান্সট্রয়মার সুইডেনের কবি| তিনি ২০১১ সালে কবিতার জন্যে নোবেল পুরস্কার গ্রহণ করেন| তাঁর আগেই জগৎ জুড়ে তাঁর কবি খ্যাতি ছড়িয়ে পড়ে এবং বহু ভাষায় তাঁর কবিতা অনূদিত হয়েছে| এ বছরের ২৬ মার্চ তিনি পরলোকে চলে গেলন| তারঁ বয়স হয়েছিল ৮৩ বছর|

সব মিলিয়ে তাঁর কবিতার বইয়ের সংখ্যা ১০, একটি পত্রগুচ্ছ, একটি হাইকু সংগ্রহ এবং কয়েক পাতার একটি ছেলেবেলার কথা|

টমাস সহজ সরল ভাষায় তারঁ কবিতায় চিত্রকল্প নির্মাণ করেছিলেন, কবিতায় অনুভূতির গভীরে যেতে পেরেছিলেন| তিনি সুইডেনে তো বটে, একই সাথে সমসাময়িক আন্তর্জাতিক কবিতার কিংবদন্তী প্রতিভা| তিনি কবিতার বিবিধ কাঠামোয় কলম ধরেছিলেন| কিন্তু প্রকাশের ব্যাপারে ছিলেন অতিশয় লাজুক| তাঁর প্রকাশিত রচনাবলীর চেয়ে অপ্রকাশিত লেখা ঢের বেশি| একবার কথা প্রসঙ্গে এ বিষয়ে তাঁকে জিজ্ঞেস করেছিলাম |তিনি হেসেছিলেন আমার প্রশ্নের জবাবে| তাঁর স্ত্রী মনিকা যোগ করে বলেছিলেন বাক্সবন্দী কবিতাগুলো টমাসের মনের মতো হয়নি| কবিতার সাথে বাক্সবন্দী রয়েছে টমাসের আঁকিবুকি করা অনেক স্কেচ| (সম্পূর্ণ…)

কবি চিতি মাচিয়া-এর কবিতা

মুহাম্মদ সামাদ | ২ আগস্ট ২০১৫ ১২:২১ পূর্বাহ্ন

jidi-majia.jpgচীনা ভাষার এ সময়ের অন্যতম প্রধান আলোচিত কবি চিতি মাচিয়া-এর জন্ম সিচুয়ান প্রদেশে। য়ি জনগোষ্ঠীর একজন হিসেবে পরিচয় দিতে গর্বিত বোধ করেন তিনি। য়ি জনগোষ্ঠীসহ চীনা জনসমাজের নানা রূপকথা-উপকথা, দেব-দেবীর বিচরণ, পূর্বপুরুষের গৌরবগাথা, সংগীত-বাদ্যযন্ত্র, আচার-উৎসব, পাহাড়ের পাদদেশ, নদী-ঝর্না ও উচুঁ-নিচু টিলার সবুজ বনানীর আলো-অন্ধকারে মানব-মানবীর চিরন্তন প্রেম, জন্ম-মৃত্যু আর আনন্দ-বেদনায় ভরপুর কবি চিতি মাচিয়া-এর কবিতা। চিতি মাচিয়া-এর কবিতা পড়লে মনে হয় এ যেন বাংলাদেশেরই যাপিত জীবনের গল্প। ইংরেজি, ফরাসি, জাপানি, হিস্পানি, বুলগেরিয়ান, সার্বিয়ো-ক্রোয়েশিয়ান, রুমানিয়ান, মেসিডোনিয়ান, মঙ্গোলিয়ানসহ অনেক ভাষায় অনুদিত হয়ে বিশ্বের কবিতানুরাগীদের নজর কেড়েছে মাচিয়ার কবিতা। তার উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থ দ্যা সঙস অব দ্যা ফার্স্ট লাভ (১৯৮৫), দ্যা ড্রিম অব অ্যা য়ি ন্যাটিভ (১৯৯০), সিলেক্টেড পোয়েমস বাই চিতি মাচিয়া, দ্যা বারিড ওয়ার্ডস প্রভৃতি। লেখালেখির পাশপাশি বর্তমানে চায়নিজ রাইটারস এসোসিয়েশন সচিবালয়ের সম্পাদক, চায়নিজ পোয়েট্রি সোসাইটি ও অল চায়না ইয়ুথ ফেডারেশনের ভাইস-প্রেসিডেন্ট-এর দায়িত্ব পালন করছেন কবি চিতি মাচিয়া।

চীনা ভাষার আরেক কবি-অনুবাদক ইয়াঙ জোঙজি-এর সুবাদে বাঙালি পাঠকদের জন্যে কবি চিতি মাচিয়ার ইংরেজি অনুবাদ থেকে কয়েকটি কবিতা বাংলায় ভাষান্তর করা হয়েছে। ইয়াঙ জোঙজি কবি চিতি মাচিয়ার ইংরেজি অনুবাদক। (সম্পূর্ণ…)

আন্তোনিও মাচাদোর কয়েকটি কবিতা

খালিকুজ্জামান ইলিয়াস | ৫ জুলাই ২০১৫ ১০:৫৫ অপরাহ্ন

machado_picasso-ii.jpg
আন্তোনিও মাচাদোর প্রতিকৃতি: পাবলো পিকাসো
স্প্যানিশ সাহিত্যের আধুনিক পর্বের শ্রেষ্ঠ কবিদের মধ্যে অগ্রগণ্য আন্তোনিও মাচাদো। এ যুগের কবি ফেদেরিকো গার্সিয়া লোর্কা ও হুয়ান রামোন হিমেনেথ বাংলাভাষায় যতটা অনূদিত ও পরিচিত, ততটা পরিচিতি পাননি এই অসামান্য স্প্যানিশ কবি। বাংলা ভাষার শ্রেষ্ঠ অনুবাদকদের একজন খালিকুজ্জামান ইলিয়াসের মূলোপম তর্জমা, গদ্যভাষ্য ও কন্ঠে আর্টসের পাঠকদের জন্য প্রথমবারের মতো ত্রিতল বিন্যাসে উপস্থাপিত হলো স্প্যানিশ ভাষার জীবনানন্দ দাশ আন্তোনিও মাচাদো। বি.স. (সম্পূর্ণ…)

নারী, তোমার চোখেই সজ্জিত হয়ে আছে এই বিশ্ব: বিসেন্তে উইদোব্রোর কবিতা

তাপস গায়েন | ৩০ december ২০১৪ ১০:১৩ অপরাহ্ন

border=0কবি এবং কবিতা পরিচিতি

“আমাকে দিয়েই সমসাময়িক কবিতার শুরু,” এই ভাষ্যে চিলির আত্মপ্রত্যয়ী কবি বিসেন্তে উইদোব্রো (১৮৯৩-১৯৪৮), যিনি প্রতিকবিতার (এণ্টি পোয়েট্রির) প্রাণপ্রতিষ্ঠা করে তার জনক হিসেবে স্বীকৃতি পাবেন চিলির আর এক স্বঘোষিত প্রতিকবি (এণ্টি পোয়েট) নিকানোর পাররা থেকে; এবং কবিতায় “ক্রিয়েশনইজম” তত্ত্বের প্রবর্তক হয়ে কবি উইদোব্রো লিখে যাবেন, “কবিতার বড় বিপদ হোল তার কাব্যিকতা ।” এবং তাঁর এপিটাফে উৎকীর্ণ হবে, “এইখানে শুয়ে আছে কবি বিসেন্তে উইদোব্রো/ উন্মোচন করো এই কবর/ তুমি দেখবে সমুদ্র এই সমাধি গভীরে ।”

অালোনসো দে আরসিলা’র ‘লা আরাউকানা’র প্রকাশের তিনশ বছর পরে প্রশান্ত মহাসাগরবিধৌত আন্দেস পর্বতমালার এই দীর্ঘ ক্ষীণভূমি, যে দেশটিকে আমরা চিলি নামে জেনেছি, কবি বিসেন্তে উইদোব্রো ১৯১৬ খ্রিষ্টাব্দে তাঁর “জলের দর্পণ” এবং ১৯৩১ খ্রিষ্টাব্দে তাঁর “আলতাযর” কাব্যগ্রন্থের মাধ্যমে সেই দেশটিকে স্বাধীনতা-উত্তর লাতিন-আমেরিকার কবিতাবিশ্বে অগ্রণী করে তুলবেন । [১] (সম্পূর্ণ…)

মহত্তম প্রেমের কবিতা

বিনয় বর্মন | ২৩ জুলাই ২০১৪ ২:১২ অপরাহ্ন

love-1.gifমানুষের প্রেম-ভালোবাসার প্রকাশ ঘটে বিচিত্রভাবে। প্রত্যক্ষ-পরোক্ষ উপায়ে, বস্তুতে-প্রতীকে, শারীরিক-মানসিকভাবে, আনুষ্ঠানিক-অনানুষ্ঠানিক পদ্ধতিতে। পৃথিবীর দেশে দেশে সমাজ-সংস্কৃতিভেদে এর প্রকাশ কিছুটা ভিন্ন হলেও এর রয়েছে সর্বজনীন রূপ। প্রেম এমন এক মানসাবস্থা যেখানে অন্যের জন্য আকুলতা-ব্যাকুলতা তীব্র হয়ে ওঠে। প্রেম এক ধরনের আকর্ষণ, মঙ্গলকামনা। প্রেম বিশুদ্ধ, স্বর্গীয়, মধুর, মহৎ। প্রেমের সঙ্গে কবিতার ওতপ্রোত সম্পর্ক। প্রেমের প্রতিটি উচ্চারণ কাব্যিক। সম্প্রতি লন্ডনে হয়ে গেলো প্রেমের কবিতাশিল্প উদযাপন অনুষ্ঠান। শব্দে-ছন্দে কবিরা কিভাবে প্রকাশ করেন মানুষের একান্ত আবেগের কথা, তারই বার্তা পাওয়া গেলো সেখানে। (সম্পূর্ণ…)

« আগের পাতা | পরের পাতা »

Disclaimer & Privacy Policy  |  About us  |  Contact us

© bdnews24.com