অনুবাদ কবিতা

পি বি শেলীর দীর্ঘ কবিতা: ওড টু দ্য ওয়েস্ট উইন্ড

নাহিদ আহসান | ৮ সেপ্টেম্বর ২০১৬ ১২:০৮ পূর্বাহ্ন

Shelly…………………………….

অনুবাদ: নাহিদ আহসান

…………………………….

শোন, ঝড়ো পশ্চিমের উদ্দাম বাতাস
তুমি শরতের বয়ে চলা গভীর নিঃশ্বাস।

ঝরে পড়া পাতাদের কর তুমি তাড়া
ওঝার যাদুতে যেন ছোটে অশরীরি অশুভ প্রেতেরা।

হলুদাভ, কালো, ফিকে জ্বরতপ্ত লাল
রোগাক্রান্ত মানুষের মত পাতাদের রং আর গাল।

তোমার পাখায় ভর করে
ডানা মেলা বীজ ঝাঁক বেঁধে ওড়ে

নীচু, কৃষ্ণ, মাটি তার অতল গভীরে
মৃতদের মত অসাড় শরীরে
প্রতীক্ষায় থাকে তারা
যে তোমার সহোদরা

বসন্তের সুনীল বাতাস আসবে কখন?
তূর্যধ্বনি বাজাবে তখন।

সুরেলা মধুর সুরে
পৃথিবীর সব স্বপ্ন পরিপূর্ণ করে

বাতাসের রাজ্যে সুমিষ্ট বীজেরা তোলে শোরগোল
লুটোপুটি খায় মেষ পালকের পিছু যেন চঞ্চল মেঘের দল। (সম্পূর্ণ…)

মায়া অ্যানজুলোর কবিতা: বিস্ময়কর নারী

আবদুস সেলিম | ২ আগস্ট ২০১৬ ১২:১৫ অপরাহ্ন


মূল: মায়া অ্যানজুলো

অনুবাদ: আবদুসস সেলিম

maসুশ্রী মহিলারা বিস্মিত হয় আমার রহস্যটা কি ভেবে।
আমার নেই কোন আকর্ষণ কিংবা শারিরীক সৌষ্ঠব।
যেমন থাকে ফ্যাশন মডেলদের,
কিন্তু যখন ওদের শোনাই আমার গল্প,
ওরা ভাবে আমি বুঝি বানিয়ে বলছি।
আমি বলি,
সবই তো আমার নাগালের ভেতর,
আমার পশ্চাদের আকার
আমার পা ফেলার ভঙ্গি,
আমার ঠোঁটের বাঁক।
কারণ আমি এক নারী
বিস্ময়করভাবে।
বিস্ময়কর নারী,
সে তো আমিই। (সম্পূর্ণ…)

ইভ বনফয়ের ৫টি কবিতা

মাসুদুজ্জামান | ১৫ জুলাই ২০১৬ ৩:০৬ অপরাহ্ন

Bonfoy“কবিতা লেখা মানেই চিন্তা করা, কিন্তু কবিতা লিখতে হবে কবিতারই আঙ্গিকে, সংগীতের মাধ্যমে – আমরা যদি জানি কীভাবে গান শুনতে হয়, তাহলে গান আমাদের কবিতাকে সাহায্য করবে। আমাদের জীবনে যা ঘটে, কবিতা সেই গানই রচনা করতে চেষ্টা করে।” এই কথাগুলো বলেছিলেন ফরাসি কবি ইভো বনফয়। প্রথম কাব্যগ্রন্থ প্রকাশের সঙ্গে সঙ্গে ফরসি কবিতাভুবনে সাড়া ফেলে দিয়েছিলেন। পল ভ্যালেরি ছাড়া আর কারও প্রথম কাব্যগ্রন্থ এতটা আলোড়ন তুলতে পারেনি। তাঁর কবিতা তীব্রভাবে রোমান্টিক কিন্তু ছুঁয়ে যায় আমাদের ইন্দ্রিয়জ সজ্ঞা ও প্রজ্ঞা, জীবনাসক্তি ও মৃত্যু, প্রাকৃতিক জীবন ও অধিবাস্তবতা, প্রতিদিনের যাপন ও অভিজ্ঞতা। প্যারি বিশ্ববিদ্যালয়ে দর্শন-পড়া আর তুলনামূলক কবিতার অধ্যাপক বনফয় মনে করতেন আমরা যা ভাবি, ভাষা সেখানে পৌঁছাতে পারে না। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর তাকেই মনে করা হয় সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য ফরাসি কবি। কবিতার শব্দ, একটা কবিতায় তিনি বলেছিলেন, আকাশের মতো অনন্ত। আমাদের প্রতিদিনের মুখের বুলি আর ধ্রুপদী লেখ্যভাষার বিমিশ্রণে তৈরি বনফয়ের কবিতা তাই অনেকটাই আলাদা বলে মনে করেন সমালোচকেরা।
এখানে সদ্যপ্রয়াত (জন্ম জুন ২৪, ১৯২৩, মৃত্যু ১ জুলাই ২০১৬) এই কবি প্রতি শ্রদ্ধার্ঘ্য জানিয়ে তাঁরই একগুচ্ছ কবিতা প্রকাশ করা হলো। কবিতাগুলি ইংরেজি অনুবাদ থেকে অনূদিত। (সম্পূর্ণ…)

পাবলো নেরুদার প্রাচ্যবাসের অভিজ্ঞতা ও দুটি কবিতা

রাজু আলাউদ্দিন | ১৩ জুলাই ২০১৬ ১০:১৭ অপরাহ্ন

pablo nerudaলাতিন আমেরিকার বেশ কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ লেখক ভারতবর্ষে চাকরিসূত্রে এসেছিলেন। কেউ কেউ নিছক ভারতীয় উপমহাদেশের প্রতি কৌতূহল থেকেও এসেছিলেন। আমাদের মনে পড়বে অক্তাবিও পাসের নাম, মনে পড়বে পাবলো নেরুদার নাম। মনে পরবে গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেসের কথাও। এসেছিলেন হুলিও কোর্তাসারও ১৯৫৯ সালের দিকে। কলকাতা শহরের সাধারণ রাস্তাঘাটের দৃশ্যাবলির বর্ণনাসহ রয়েছে তাঁর একটি পূর্ণাঙ্গ লেখাও। এসেছিলেন আর্হেন্তিনার বিখ্যাত ঔপন্যাসিক রিকার্দো গুইরালদেসও ১৯১০ সালে, যিনি নিজ দেশে ভিক্টোরিয়া ওকাম্পোর মাধ্যমে ১৯২৪ সালে রবীন্দ্রনাথের সঙ্গে পরিচিতি হয়েছিলেন।

নেরুদা ভারতে এসেছিলেন তিনবার। প্রথমবার এসেছিলেন রেঙ্গুনে চিলির কনসালের চাকরি নিয়ে। ১৯২৭ সালের অক্টোবরে তিনি দায়িত্বভার গ্রহণ করে ১৯২৯ সালের শুরু পর্যন্ত ভারতীয় উপমহাদেশের বিভিন্ন অঞ্চলে কাটান। ফুন্দাসিওন পাবলো নেরুদার দেওয়া তথ্য থেকে জানা যাচ্ছে, ডিসেম্বরের শেষের দিকে তিনি শ্রীলঙ্কা থেকে মাত্র অল্প কয়েক দিনের জন্য ভারতের কলকাতায় এসেছিলেন। জানুয়ারির শুরুর দিকেই তিনি কলকাতা থেকে আবার শ্রীলঙ্কা ফেরেন। এ সফরে কলকাতায় অনুষ্ঠিত ‘ভারতীয় মহাসভা’র জাতীয় কংগ্রেসের অধিবেশনে এসে দেখা হয়েছিল মতিলাল নেহরু ও মহাত্মা গান্ধীর সঙ্গে। দেখেছিলেন সদ্য বিলেতফেরত জওহরলাল নেহরুকে। তাঁর আত্মজৈবনিক গ্রন্থ স্বীকার করি বেঁচেছিলাম ( Confieso Que he vivido : memorias )-এ তিনি এর বর্ণনা দিয়েছেন, যা আনন্দময়ী মজুমদারের অনুবাদে পাবলো নেরুদার স্মৃতিচারণ গ্রন্থে বাঙালি পাঠকরা খুঁজে পাবেন।
এরপর তিনি আরো একবার ভারতে আসেন ১৯৫০ সালে। প্যারিস থেকে বিশ্বশান্তি আন্দোলনের লক্ষ্যে নেহরুকে দেওয়া জোলিও কুরির একটি চিঠি বয়ে আনার দায়িত্ব পড়েছিল তাঁর ওপর। অক্টোবরের দিকে তিনি দিল্লিতে এসে নেহরুর সঙ্গে দেখা করে তাঁকে সেই চিঠি হস্তান্তর করেন। এ যাত্রায় তিনি ১০ দিনের মতো ছিলেন স্বাধীন ভারতে।
আরো একবার তিনি ভারতে এসেছিলেন ১৯৫৭ সালের জুলাই মাসে। এ সফরের কথা কোথাও খুব একটা শোনা যায় না। নেরুদা নিজেও তাঁর আত্মজৈবনিক গ্রন্থে এ নিয়ে কিছুই বলেননি। তবে বিষ্ণু দের গ্রন্থে উল্লেখিত তথ্য থেকে জানা যায়, তিনি কলকাতা এসেছিলেন। ফুন্দাসিওন পাবলো নেরুদার সঙ্গেও এ তথ্য মিলে যায়। এ যাত্রায় তাঁর সঙ্গে ছিলেন ব্রাজিলের বিখ্যাত বামপন্থী লেখক জোর্জে আমাদো। এই তৃতীয় সফরে তিনি ভারতের কোন কোন জায়গায় কার কার সঙ্গে দেখা করেছিলেন তার বিস্তারিত বিবরণ অন্য কোথাও–ইংরেজি বা স্প্যানিশে–পাওয়া যায় না।
প্রথমবার চাকরিসূত্রে যে উচ্ছ্বাস ও কৌতূহল নিয়ে তিনি প্রাচ্যে এসেছিলেন, তা দ্রুতই লুপ্ত হতে থাকে এ অঞ্চলের ভিন্ন সাংস্কৃতিক ও সামাজিক আবহের সঙ্গে নিজেকে খাপ খাইয়ে নিতে না পারার কারণে। আত্মজীবনীতে তিনি ‘সিংহল’ অধ্যায়ে স্পষ্ট করেই বলেছেন, ‘সাহেব আর হিন্দুদের মাঝখানে পড়ে আমার জীবন হয়ে উঠল দুঃসহ। না পারতাম প্রতি সন্ধ্যায় ডিনার-জ্যাকেট চড়িয়ে ক্লাব আর নাচের আসরে যোগ দিতে, না সইত হিন্দুদের জাতিভেদের নিয়মকানুন। ভয়ানক একাকিত্ব তখন গ্রাস করেছে আমাকে (‘পাবলো নেরুদা, অনুসৃতি’)
চাকরিসূত্রে যে কয়টা দিন তিনি এ অঞ্চলে ছিলেন তার বেশির ভাগ সময়ই ছিল একাকিত্বের। এর বর্ণনা ওই অধ্যায়ের বেশ খানিকটা জায়গাজুড়েই দেখা যাবে। কলম্বোর ওয়েলাওয়াতিতে থাকার সময়কার অভিজ্ঞতা বর্ণিত হয়েছে এভাবে : ‘একাকিত্বের যে কী অসহনীয় যন্ত্রণা–ওয়েলাওয়াতির ওই কটা বছরের জীবনেই আমি তা উপলব্ধি করেছিলাম। সঙ্গী বলতে ছিল একটি খাট, একটি টেবিল, দুটি চেয়ার আর আমার কুকুর ও বেজিটি। আর ছিল একজন ভৃত্য–যার নাম ছিল ভ্রাম্পি। এই নিঃসঙ্গতা আমার কিন্তু কবিতা লেখার কোনো উপাদানই দেয়নি বরং দিয়েছে বন্দিশালার অসহ্য যন্ত্রণা।’ (প্রাগুক্ত)
তিনি যদিও বলেছেন, এ নিঃসঙ্গতা তাঁকে লেখার কোনো উপাদান দেয়নি, কিন্তু তাঁর লেখার ইতিহাসের ক্রমপঞ্জি মনোযোগ দিয়ে লক্ষ করলেই দেখা যাবে ঘটনা ঠিক উল্টো। ১৯৩৫ সালে প্রকাশিত তাঁর Residencia en la tierra কাব্যগ্রন্থের প্রথম খণ্ডের বেশির ভাগ কবিতা লেখা হয়েছিল এই প্রাচ্যবাসের সময়।
এটা ঠিক যে প্রাচ্যবাস তাঁর জন্য যত একাকিত্ব ও দুঃসহ যন্ত্রণাই নিয়ে আসুক না কেন, এমনকি নেহরুর সঙ্গে তাঁর শীতল সাক্ষাৎ, দিল্লির বিমানবন্দরে পুলিশ ও শুল্ক বিভাগের লোকদের অপমানকর ও অমর্যাদাকর আচরণ সত্ত্বেও এ সময়ই তার গুরুত্বপূর্ণ কিছু লেখা জন্ম হয়েছিল রেঙ্গুন, শ্রীলঙ্কা ও কলকাতায়। এ ছাড়া তার প্রাচ্যদেশীয় রোমান্সের ঘটনা তো আছেই। বার্মিজ রমণী জোসি ব্লিস যাকে নিয়ে তিনি কবিতা লিখেছেন, আর আছে ডাচ সেই নারী–মারিয়া আন্তোনিয়েতা হাগেনার–যার সঙ্গে ১৯৩০ সালে বিয়ে হয়, তার সঙ্গেও তিনি পরিচিত হন এই শ্রীলঙ্কার কলম্বোয়।
জোসি ব্লিসের সাথে তার সম্পর্ক ছিল তীব্র, তবে ক্ষণস্থায়ী। সম্পর্কের প্রগাঢ়তা ও তীব্রতা তাকে দিয়ে লিখিয়ে নিয়েছিল ১৯৩৪ সালে প্রকাশিত Memoria de la isla Negra (iii) গ্রন্থের অন্তর্ভুক্ত ‘ভালোবাসা : জোসি ব্লিস’-এর মতো কবিতা। জোসির জন্য স্মৃতিকাতরতা নেরুদার সঙ্গী হয়েছিল বহুদিন। কবিতার সর্বশেষ স্তবকটি পাঠকের হৃদয়কে বিষণ্ন করে দেয় নেরুদার স্মরণ-কৌশল আর অভিব্যক্তি :
এখন, হয়তো-বা
বিশ্রামে শুয়ে আছে
হয়তো বা শুয়ে নেই
রেঙ্গুনের সুবিশাল গোরস্থানে
অথবা হয়তো সেই ইরাবতী নদীটির তীরে
সমস্ত বিকেলজুড়ে পুড়িয়েছে দেখখানি তার,
আর নদী সে সময় নিচু স্বরে বলে গেছে
বলতে যা পারতাম কান্নাভেজা স্বরে।

নেরুদা এই অবিস্মরণীয় প্রেমিকার কথা মনে করতে গিয়ে এক সাক্ষাৎকারে বলেছিলেন, “মিষ্টি মেয়ে জোসি ব্লিস আমার প্রতি এতটাই আবেগঘন আর আকৃষ্ট হয়ে পড়েছিল যে শেষ পর্যন্ত সে ঈর্ষায় আক্রান্ত হয়ে পড়ল। এ রকম না হলে হয়তো তার সাথে আমার জীবনটা চিরকাল কেটে যেত।”
জোসি ব্লিসের সাথে সম্পর্কের দ্বারা অনুপ্রাণিত হয়ে একাধিক কবিতা তিনি লিখেছিলেন। তিনি নিজেই ওই একই সাক্ষাৎকারে বলেছিলেন :
“হ্যাঁ, জোসি ব্লিস ছিল এমন এক নারী আমার কবিতায় যার গভীর প্রভাব মুদ্রিত হয়ে আছে। আমি সব সময়ই তাকে স্মরণ করি, এমনকি আমার সাম্প্রতিক বইগুলোতেও।” ( Interview with Reta Guibert )
আধা ডাচ-আধা মালয়ী মারিয়া আন্তোনিয়েতা হাগেনার-এর সাথে নেরুদার বিয়ে হলেও জোসি ব্লিসই তার জীবনে সবচেয়ে বেশি গভীর প্রভাব ফেলেছিল। কারণ হাগেনার বিয়ের অল্প কিছুদিন পরই মারা গিয়েছিলেন। জোসি ব্লিসের ঈর্ষাময় প্রেম থেকে বাঁচার জন্য একাকী না হলে এবং হাগেনারের মৃত্যু না হলে হয়তো নিঃসঙ্গতা এতটা দুঃসহ হয়ে উঠত না নেরুদার জন্য।
সুতরাং দুঃসহ একাকিত্বের যন্ত্রণার সঙ্গেই যমজ ভাইবোনের মতো সৃষ্টিশীলতা ও রোমান্সের উষ্ণ ধারা প্রবহমান ছিল একটা সময় পর্যন্ত। সত্য বটে, নেরুদা এ অঞ্চল সম্পর্কে অক্তাবিও পাসের মতো কৌতূহলী ছিলেন না। পাসের মতো তিনি প্রাচ্যকে আবিষ্কার করতে চাননি। পাসের জীবনে ভারত এনে দিয়েছিল ‘পরিপক্বতা’, অন্যদিকে নেরুদার জীবনে এ পর্বটি ছিল বন্দিত্বের। কিন্তু লক্ষ করলেই দেখা যাবে, এ বন্দিত্বের মধ্যেই উন্মুক্ত হয়েছিল তার সৃষ্টিশীল সত্তা; জন্ম নিয়েছিল কয়েকটি কবিতা, ছোট ছোট কয়েকটি গদ্য, আর আর্হেন্তিনীয় লেখক ও বন্ধু এক্তর এয়ান্দিকে লেখা সেই বিখ্যাত চিঠিগুলো। এ ছাড়া রয়েছে চিলির লেখক বন্ধু হোসে সান্তোস গনজালেস বেরা ও মাকে লেখা চিঠিপত্র। ‘অনুস্মৃতি’র বাইরে, উপরোক্ত এসব লেখায় নেরুদার নিঃসঙ্গতার পাশাপাশি দেখতে পাব তাঁর অন্তরঙ্গ উন্মোচন।
‘আত্মস্মৃতি’তে নেরুদা প্রাচ্যদেশীয় অভিজ্ঞতা নিয়ে অনেক কথাই বলেছেন, আবার অনেক কথাই আমাদের জানাননি সেখানে। সেসব অজানা কথার কিছু সন্ধান পাওয়া যাবে সে সময়ের বিভিন্ন পত্রপত্রিকায় আর তাঁর বিভিন্ন বইয়ের স্প্যানিশ সংস্করণগুলোয়।
১৯২৭ সালে মাদ্রিদ থেকে প্যারিস, পোর্ট সৈয়দ, জিবুতি, কলম্বো, সিঙ্গাপুর হয়ে রেঙ্গুন পৌঁছানোর আগে বঙ্গোপসাগরে এলসিমোর ( Elsimor ) জাহাজে বসে লিখেছিলেন ‘El sueño de la tripulacion’ বা ‘the Dream of crew’ শিরোনামে কাব্যময় এক গদ্য-টুকরো। এটি ভ্রমণকালীন জাহাজে বিভিন্ন সংস্কৃতির মানুষজনের বর্ণনা। তবে বর্ণনাটা ঘুম আর স্বপ্নকে কেন্দ্রে রেখে। লেখাটির এক জায়গায় তিনি বলছেন :
“হিন্দুরা কাপড় দিয়ে চোখ-ঢেকে ঘুমায়, জীবন থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে আছে মৃত্যুর স্মারক এই আচ্ছাদনের মাধ্যমে। কেউ কেউ হৃৎপিণ্ড বরাবর বুকের কাছে আলতোভাবে হাত রেখে তীব্র স্বরে নাক ডেকে ঘুমিয়ে পড়ে।”
(Pablo Neruda: Antologia General, Alfaguara, España, 2010, P-87)
বঙ্গোপসাগর এলাকায় থাকতে থাকতেই তিনি গুরুত্বপূর্ণ একটি কবিতা লেখেন, যা পরে ১৯৩৩ সালে প্রকাশিত Residencia en la tierra-1 গ্রন্থে অন্তর্ভুক্ত হয়। কবিতাটির শিরোনাম Coleccion Nocturna বা Nocturnal Collection. কবিতাটির রচনাকাল কেবল ১৯২৭ সাল উল্লেখ করা হলেও এটি সম্ভবত লেখা হয়েছিল ওই বছরের সেপ্টেম্বরের দিকেই। কারণ আগের লেখাটির রচনাকাল সেপ্টেম্বর হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। দুটো লেখাই যে কাছাকাছি সময়ে তার আরেকটি প্রমাণ রচনাস্থান হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে ‘বঙ্গোপসাগর রেঙ্গুন ১৯২৭’ বলে। আগের লেখাটির যে উদ্ধৃতি একটু আগে হাজির করা হয়েছে, তার এক কাব্যিক রূপান্তর দেখা যাবে এই কবিতাটির এক জায়গায় :
ঘুমন্ত মৃতদেহ যারা প্রায়শই
হাত ধরে নেচে যায় আমার মর্মযাতনায়,
কত যে ধূসরতর শহর বন্দর আমরা ঘুরে বেড়িয়েছি।

(Pablo Neruda: Antologia General, Alfaguara, España, 2010, P-87)
পরের মাসে তিনি রেঙ্গুনে দায়িত্বভার গ্রহণ করেন এবং ১৯২৯ সালের শুরু পর্যন্ত অবস্থান করেন। ১৯২৮ সালে তিনি আলবারো ইনোহোসাকে সঙ্গে নিয়ে ঘুরে বেড়ান ইন্দোচীন, সাইগন, ব্যাংকক, বাট্টামব্যাং এবং বেরেমবার্গ। ফেব্রুয়ারিতে তিনি চীনে যান। কাউলুন, হংকং ও সাংহাই থেকে পরে জাপানে যান। সাংহাই অবস্থানকালে তিনি ফেব্রুয়ারিতে ‘Invierno en los puertos ‘ বা ‘নানান বন্দরে শীতকাল’ শিরোনামে একটি ভ্রমণাখ্যান লেখেন, যা তার ‘আত্মস্মৃতি’তে ঠাঁই পায়নি। বাট্রামবাং, বেরেনবেং, সাইগন, ব্যাংকক, চীন, কাউলুন, হংকং, নানকিন, সাংহাইসহ বিভিন্ন শহর বন্দর ভ্রমণের ওপর সংক্ষিপ্ত বর্ণনা এই লেখাটি।
১৯২৮ সালের ১১ মে নেরুদা এয়ান্দিকে রেঙ্গুন থেকে এক চিঠিতে তাঁর নিঃসঙ্গতার কথা জানান। এই চিঠির এক জায়গায় তিনি লেখেন : ‘মাঝেমধ্যে দীর্ঘ সময়ের জন্য আমি এত শূন্য হয়ে থাকি যে না থাকে কোনো কিছু প্রকাশের শক্তি, না পারি নিজের অভ্যন্তর খনন করতে। তীব্র কাব্যিক ব্যাকুলতা আমাকে ছেড়ে যায় না।’
(Pablo Neruda: Antologia General, Alfaguara, España, 2010, P-87)
রেঙ্গুনে লেখা আরো একটি জার্নাল ধরনের টুকরো গদ্য রয়েছে যার শিরোনাম La noche del soldado (সৈনিকের রাত), এটি পরে ১৯৩৩ সালে প্রকাশিত ‘মর্তের বাসিন্দা’ বা Residencia en la tierra -এর প্রথম খণ্ডে অন্তর্ভুক্ত হয়েছিল, যেখানে তার নিঃসঙ্গ অবস্থার পাশাপাশি রয়েছে সেখানকার জীবনশৈলী ও সাংস্কৃতিক জীবনের ওপর তার পর্যবেক্ষণ।
নিঃসঙ্গতার একটা চমৎকার কাব্যিক বর্ণনা আছে এই লেখাটির তৃতীয় স্তবকের শেষ পংক্তিটিতে : ‘একই অবস্থানের ঘণ্টাগুলো আমার দু’পাকে ঘিরে আছে। দিবস ও রাত্রির রূপে দিন যেন প্রায় সবসময় আমার ওপর থমকে আছে।’ (Pablo Neruda : Antologia General, Alfaguara, España, 2010, P-87)
এর পরের মাসে (জুলাই ১৯২৮) লেখেন তিনি Juntos nosotros (আমরা একসঙ্গে) শিরোনামে রেঙ্গুনে তাঁর প্রথম কবিতাটি। একই বছরের জুলাই-আগস্টে লেখেন Sonata Y Desctrucciones (সোনাটা ও ধ্বংস) কবিতাটি।
৬ আগস্ট রেঙ্গুন থেকে চিলির লেখক বন্ধু হোসে সান্তোস গনছালেস বেরাকে লেখেন এক চিঠি, যাতে তিনি এ অঞ্চলের সাধারণ মানুষের সাংস্কৃতিক ও ধর্মীয় বিশ্বাসের বর্ণনার পাশাপাশি জানাচ্ছেন তাঁর পরবর্তী কাব্যগ্রন্থের সম্ভাব্য শিরোনাম–মর্তের বাসিন্দা। ধর্মীয় সংস্কৃতির সূত্রে তিনি চিঠির শুরুতেই বলছেন : ‘এক বছরেরও বেশি হয়ে গেল এই বিদেশ-বিভুঁইয়ে। চমৎকার এই জায়গাটার এমন সব লোকজনের মধ্যে আছি যারা গরু আর সাপকে পূজা করে। ….’ (Pablo Neruda : Antologia General, Alfaguara, España, 2010, P-99)
নিজের নিঃসঙ্গতার কথা জানিয়ে এই একই চিঠিতে তিনি বলছেন : ‘কথা বলি আমার কাকাতুয়ার সঙ্গে, একটা হাতিকে মাসকাবারি টাকা দিই। দিনগুলো আমার মাথার ওপর লাঠির মতো এসে পড়ে; কিছুই লিখছি না কিছুই পড়ছি না, সাদা কাপড়-পরা মাথায় শোলার টুপি, একেবারে বিশুদ্ধ ভূত,…’ (Pablo Neruda : Antologia General, Alfaguara, España, 2010, P-99)
বন্ধুর কাছে নিজের নিঃসঙ্গতার একটা অন্তরঙ্গ ছবি তুলে ধরার স্বার্থে, নিছক অভিব্যক্তি হিসেবে ‘কিছুই লিখছি না’ বললেও তিনি লিখছিলেন অনেক কিছুই।
আগস্ট মাসেই তিনি লেখেন El joven monarca (তরুণ রাজা) নামে একটি কাব্যধর্মী টুকরো গদ্য বা গদ্য কবিতা। এটিও পরে মর্তের বাসিন্দায় অন্তর্ভুক্ত হয়।
৮ সেপ্টেম্বর এয়ান্দিকে আরেকটি চিঠি লেখেন, যেখানে তার মর্তের বাসিন্দা শেষ করে এনেছেন বলে জানিয়েছেন। রেঙ্গুনে পরের মাসেই (অক্টোবর ১৯২৮) লেখেন Diurno Doliente (যন্ত্রণার দিন) নামে একটি কবিতা।
সম্ভবত নভেম্বর-ডিসেম্বর-=-দুটি মাসই তিনি কলকাতায় কাটান। কারণ এখানে লেখা তার দুটি বিখ্যাত কবিতার রচনাকাল এবং রচনাস্থান সেই সাক্ষ্যই দেয়। নভেম্বরে লেখেন তিনি Tango del viudo (বিপত্নীকের তাঙ্গো) নামক সেই বিখ্যাত কবিতাটি যা তাঁর খ্যাতি ও কাব্যকৃতির এক আশ্চর্য নমুনা। এরই ধারাবাহিকতায় লেখেন আরো একটি অসাধারণ কবিতা Arte poetica (শিল্পতত্ত্ব বা কাব্যতত্ত্ব) যা তাঁর কাব্যকৃতির মূল দর্শনকে তুলে ধরে।
এই দুটি কবিতাও তার মর্তের বাসিন্দা গ্রন্থে অন্তর্ভুক্ত হয়েছিল। সম্ভবত ১৯২৯ সালের জানুয়ারিতে তিনি কলকাতা ছেড়ে চলে আসেন শ্রীলঙ্কার রাজধানী কলম্বোয়। এখান থেকে ১৪ মার্চ মাকে এক চিঠিতে তাঁর নিঃসঙ্গ জীবনের কথা জানান। একই সঙ্গে জানান এখানকার পরিবেশ ও জীবনে তাঁর অনুভূতির কথা।
প্রাচ্যজীবনের সঙ্গে নেরুদা খাপ খাওয়াতে না পেরে নিঃসঙ্গ ছিলেন বটে; কিন্তু তাঁর সৃষ্টিশীল সত্তা স্তব্ধ ছিল না। একাকিত্ব ও যন্ত্রণা, তাঁর সৃষ্টিশীল সত্তাকে যে গভীরতা ও মুখরতা এনে দিয়েছিল, তা নেরুদার কাব্যজীবনের উজ্জ্বল অধ্যায়গুলোর একটি।

কাউকে করো না দায়ী

কারোর বিরুদ্ধ তুমি কোরো না নালিশ কখনোই,
কোন কিছুকেই দায়ী কোরো না কখনো;
কারণ জীবনে তুমি যা চেয়েছ
তা-ই তুমি করেছ মূলত।
মেনে নাও নির্মানের অন্তরায় আর
নিজেকে শোধরানোর শুরুর সাহস।
ভুলের ভস্ম থেকে উঠে আসে প্রকৃত
মানুষের সফলতা।
কখনো কোরো না দায়ী নিয়তি ও একাকিত্বকে
মোকাবেলা করো সব সাহসের সঙ্গে।
যেকোনভাবেই হোক-এ তোমারই কাজের ফসল,
তুলে ধরো নিয়ত জয়ের লক্ষণ।
নিজের ব্যার্থতায় তিক্ত হোয়ো না আর
অন্যের কাঁধে তাকে দিয়ো না চাপিয়ে,
এই বেলা মেনে নাও কিংবা শিশুর মতো
ভাববে তুমি নিজেকে সঠিক।
যেকোন সময়েই, শোনো, সুসময় সূচনা করার
ভন্ডুলের জন্য এত ভয়ানক আর কিছু নেই।
ভুলো না, তোমার এই মূহুর্তের কারণটি তোমারই অতীত
যেমন তোমার ভবিতব্যের কার্যকরণ
হবে এই মুহুর্ত তোমার।

শিখে নাও হিম্মত ও বল
তোয়াক্কা যে করবে না পরিস্থিতির;
বেঁচে রও উজানে ও তোমার নিজের
মসিবত নিয়ে ভাবো কম, কাজ করো বেশী।
তোমার সমস্যাগুলো এমনিই ঝরে পড়ে যাবে।
বেদনার মধ্য থেকে জন্ম নিতে শেখো
বাধার চেয়েও বেশী বড় হয়ে ওঠো।
নিজের দর্পণে দেখো নিজেকে এবং
মুক্ত হও, বলবান হও;
হয়ো না পুতুল তুমি পরিস্থিতির,
কেননা নিজেই তুমি নিজের নিয়তি।
ওঠো, দেখো প্রতুষ্যের সুর্যের দিকে
নাও শ্বাস ভোরের আলোয়।
তোমার জিন্দেগিরই অংশ যে তুমি;
চোখ খোলো, যুদ্ধ করো, হাটো আর ঠিক করো তোমার
নিশানা;
জয় করো জীবনকে,
নিয়তির কথা তুমি ভেবো না কখনো
কেননা নিয়তি হল:
ব্যর্থতারই অজুহাত।

এখানে নাজিম হিকমত

Nazim
অনূদিত কবিতাটি সম্পর্কে দুটি জরুরি কথা পাঠকদের আগেই জানিয়ে রাখি। ইংরেজিতে অনূদিত নেরুদার কবিতার যে বইগুলো সহজলভ্য তাতে এ কবিতাটি আমি খুঁজে পাইনি। তবে ইন্টারনেটের বদৌলতে এটি স্প্যানিশ ভাষায় পাওয়া যায়। আমার উৎস এ ইন্টারনেট। এর দু-একটি ইংরেজি অনুবাদও আছে এ কবিতাটির নেরুদার অনুরাগী পাঠকদের কোনো কোনো ওয়েবসাইটে। তবে আমি নির্ভর করেছি স্প্যানিশ সংস্করণটিতেই। আরেকটি জরুরি কথা হলো এই যে হাতের কাছে নেরুদার স্প্যানিশ রচনাসমগ্র বা কবিতাসমগ্র না থাকায় এ মুহূর্তে নিশ্চিত করে বলতে পারছি না কবিতাটির রচনা বা প্রকাশকাল। সম্ভবত ১৯৫১ সালে মস্কোতে পরস্পরের সাক্ষাতের পর রচিত।

সদ্য মুক্তি পাওয়া
বন্দীদের একজন নাজিম হিকমত
তার কবিতার মতো
লাল রং সোনার সুতায়
বোনা জামা উপহার দিয়েছে আমায়।

তুর্কি লহুর সুতাগুলো
তার পদাবলি।
প্রাচীন প্রত্যয়ে গড়া,
—বাঁকা বা সরল—
সত্যিকার গল্পগুলো
ভোজালি বা তরবারির মতো।
গোপন কবিতাগুলো তার
আলোকিত দুপুরের
মুখোমুখি হবে বলে তৈরি হয়েছিল;
আজ তারা লুকায়িত আয়ুধের মতো,
জ্বলজ্বল করছে তারা মেঝের নিচে,
কুয়ার ভেতরে তারা অপেক্ষমাণ,
তার জনতার কালো চক্ষুযুগলের
দুর্গম আঁধারের নিচে।
বন্দিশিবির থেকে সে এল আমার
ভাই হতে আর
আমরা হেঁটেছি একসাথে
বরফে মোড়ানো স্তেপে;
রাত ছিল প্রজ্বলিত
আমাদের নিজস্ব আলোয়।

দেহের গড়ন তার ভুলব না বলে
আমি তার প্রতিকৃতি আঁকছি এখানে:

পুষ্পময় ভূখণ্ডের শান্তিতে উত্থিত
টাওয়ারের মতো
লম্বা সে
এবং ওপরে
তুর্কি আলোয় ভরা চক্ষুযুগল
দুটি বাতায়ন।

আমরা দুই ভবঘুরে
পেয়েছি শক্ত ভূমি আমাদের
পায়ের তলায়
বীর আর কবিদের
বিজিত ভুবন,
মস্কোর রাস্তায়, দেয়ালে দেয়ালে
পুষ্পিত হতে থাকে
পূর্ণিমার চাঁদ,
রমণীর প্রতি প্রেম
আনন্দ আর
প্রণয়ের প্রতি অনুরাগ
আমাদের একমাত্র গোত্র-পরিচয়।
সমগ্র বাসনাকে ভাগ করে নেওয়া,
সর্বোপরি, জনতার সংগ্রামের এক একটি ফোঁটা,
মানবসমুদ্রের ফোঁটাগুলো
তার আর আমার কবিতা।

কিন্তু
হিকমতের আমোদের অন্তরালে
অন্য এক নির্মাণ,
নির্মাণ ছুতারের মতো
কিংবা দরদালানের ভিত্তির মতো।

বহু বছরের নীরবতা
আর কারাবাস।
এসব বছর
বসাতে পারেনি দাঁত,
কিংবা পারেনি খেতে, গিলে ফেলতে
বীরোচিত যৌবনেরে তার।

আমাকে সে বলেছিল
দশ বছরের বেশি
বিজলিবাতির আলো
রাখত জ্বালিয়ে ওরা সমস্ত রাত
আজ সে গিয়েছে ভুলে সেই সব রাত
ভ্রুক্ষেপ নেই তার বিদ্যুতালোকে।
ডোবার ফুলের মতো
তার আমোদের
কালো রং শিকড়-বাকড়
প্রোথিত স্বদেশে;
আর তাই
যখন সে হাসে,
মানে নাজিম,
মানে নাজিম হিকমত
তখন সে হাসি নয় তোমার মতন;
তার হাসি অনেক সফেদ,
তার সে হাসিতে হাসে চাঁদ
নক্ষত্র,
শরাব,
মৃত্যুহীন মৃত্তিকা,
তাবৎ সোনালি ধান জানায় সম্ভাষণ
তার হাসি দিয়ে।
তার কণ্ঠে গান গায় মাতৃভূমি তার।

আর্টস-এ প্রকাশিত রাজু আলাউদ্দিনের অন্যান্য প্রবন্ধ:
বোর্হেস সাহেব

অনুবাদ, আদর্শ ও অবহেলা

“একজন তৃতীয় সারির কবি”: রবীন্দ্রকবিতার বোর্হেসকৃত মূল্যায়ন

রক্তমাংসের রবীন্দ্রনাথ

কার্লোস ফুয়েন্তেসের মৃত্যু:
সমাহিত দর্পন?

মান্নান সৈয়দ: আমি যার কাননের পাখি

বাংলাদেশ ও শেখ মুজিব প্রসঙ্গে আঁদ্রে মালরো

স্পানঞল জগতে রবীন্দ্র প্রসারে হোসে বাসকোনসেলোস

অক্তাবিও পাসের চোখে বু্দ্ধ ও বুদ্ধবাদ:
‘তিনি হলেন সেই লোক যিনি নিজেকে দেবতা বলে দাবি করেননি ’

কবি শামসুর রাহমানকে নিয়ে আমার কয়েক টুকরো স্মৃতি

বনলতা সেনের ‘চোখ’-এ নজরুলের ‘আঁখি’

ন্যানো সাহিত্যতত্ত্ব: একটি ইশতেহার

যোগ্য সম্পাদনা ও প্রকাশনা সৌষ্ঠবে পূর্ণ বুদ্ধাবতার

দিয়েগো রিবেরার রবীন্দ্রনাথ: প্রতিপক্ষের প্রতিকৃতি

গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস: তাহলে গানের কথাই বলি

অজ্ঞতার একাকীত্ব ও আমাদের মার্কেস-পাঠ

আবেল আলার্কন: স্পানঞল ভাষায় গীতাঞ্জলির প্রথম অনুবাদক

জামান ভাই, আমাদের ব্যস্ততা, উপেক্ষা ও কদরহীনতাকে ক্ষমা করবেন

এদুয়ার্দো গালেয়ানোর ‘দর্পন’-এ বাংলাদেশ ও অন্যান্য

প্রথমার প্রতারণা ও অনুবাদকের জালিয়াতি

আবুল ফজলের অগ্রন্থিত আত্মজৈবনিক রচনা

আবু ইসহাকের অগ্রন্থিত আত্মজৈবনিক রচনা

কুদরত-উল ইসলামের ‘গন্ধলেবুর বাগানে’

মহীউদ্দীনের অগ্রন্থিত আত্মজৈবনিক রচনা

বোর্হেস নিয়ে মান্নান সৈয়দের একটি অপ্রকাশিত লেখা

অকথিত বোর্হেস: একটি তারার তিমির

ধর্মাশ্রয়ী কোপ

রবীন্দ্রনাথের চিত্রকলা সম্পর্কে অক্তাবিও পাস

লাতিন আমেরিকার সাথে বাংলার বন্ধন

উপেক্ষিত কাভাফির অর্জুন ও আমরা

Flag Counter

এর্নেস্তো কার্দেনালের কবিতা

আলম খোরশেদ | ৩০ জুন ২০১৬ ১২:৩৯ অপরাহ্ন

Cardenalকবি পরিচিতি: নিকারাগুয়ার প্রখ্যাত পাদ্রি কবি এর্নেস্তো কার্দেনাল-এর জন্ম ১৯২৫ সালে। নিকারাগুয়ার সান্দিনিস্তা বিপ্লবের অন্যতম সংগঠক ও সৈনিক কার্দেনাল, খ্রিস্টধর্ম ও মার্কসবাদের মৌলসত্তা ও শিক্ষার সম্মিলনে এক নতুন রাজনৈতিক দর্শনের জন্ম দেন, যা তাঁর কবিতারও প্রধান চারিত্রলক্ষণ। তিনি এক পর্যায়ে সান্দিনিস্তাদের বিপ্লবী সরকারের সংস্কৃতি মন্ত্রীও ছিলেন। তাঁর প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থগুলোর মধ্যে অন্যতম, “Zero Hour”, “Homage to the American Indian”, “Psalms”, “Oracle on Managua”, “Flights of Victory” ইত্যাদি। অনূদিত কবিতাটি নিকারাগুয়া হ্রদে অবস্থিত সোলেন্তিনামে দ্বীপে কার্দেনালের নিজহাতে প্রতিষ্ঠিত একটি ভিন্নধর্মী আত্মিক, সামাজিক সংগঠনকে কেন্দ্র করে পরিচালিত তাঁর নিজস্ব রাজনৈতিক নিরীক্ষার ওপর ভিত্তি করে রচিত। (সম্পূর্ণ…)

আন্তোনিও মাচাদোর অপ্রকাশিত কবিতা: রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের প্রতি

| ৮ মে ২০১৬ ১১:৫১ পূর্বাহ্ন

machadorabi.jpgস্প্যানিশ ভাষায় কবি হিসেবে আন্তোনিও মাচাদোর কী অবস্থান তা বুঝাতে গেলে যথাযথ উদাহরণ হতে পারে আমাদেরই ভাষার কবি জীবনানন্দ দাশ–কাব্যিক বৈশিষ্ট এবং প্রগাঢ়তা, উভয় অর্থেই। এমনকি প্রকৃতি-মগ্নতা, কল্পনা-মনীষা ও কাব্যিক-স্পন্দনে উভয়ের মিল এতটাই যে মনে হবে একই কবি যেন ভিন্ন দুই ভাষায় জন্মেছেন। তুলনার প্রসঙ্গটি এল এই কারণে যে স্প্যানিশ ভাষার প্রধান দুই কবি ফেদেরিকো গার্সিয়া লোর্কা এবং হুয়ান রামোন হিমেনেছ বাংলা ভাষায় ব্যাপকভাবে অনূদিত হলেও মাচাদো থেকে গেছেন উপেক্ষিত। অথচ কাব্যিক গুরুত্বে সাহিত্যের গুণবিচারীদের কাছে অন্য ‍দু’জনের চেয়ে মাচাদো ঢের বেশি বিভাময়, উদ্ভিজ্জ ও সংক্রামক। উপেক্ষিত এই মাচাদো যে য়ূরোপের পটভূমিতে রবীন্দ্রনাথকে নিয়ে ১৯১৮ সালে একটি অসামান্য কবিতা লিখেছিলেন সেটি গোচরে আসে ২০০৩ সালে, মাচাদোর মৃত্যুর প্রায় ৭৫ বছর পর। এখনও পর্যন্ত এই কবিতাটির কোনো পূর্ণাঙ্গ ইংরেজি বা বাংলা তর্জমা হয়নি। এই প্রথম এটি বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম-এর পাঠকদের জন্য অনুবাদক, প্রাবন্ধিক ও অধ্যাপক খালিকুজ্জামান ইলিয়াস এবং লাতিন আমেরিকান সাহিত্য-বিশেষজ্ঞ রাজু আলাউদ্দিনের তর্জমায় উপস্থাপিত হলো। ইতালিয় ভাষায় Tutte le poessiee prose Scelte (Arnoldo Mandadori Editore S. A., Milano, 2010) শিরোনামে জিওভান্নি কারাভাগ্গির সম্পাদনায় মাচাদোর কবিতার একটি তর্জমা-গ্রন্থ প্রকাশিত হয়, সেখানে স্প্যানিশ যে প্রামাণ্য রূপটি গ্রহণ করা হয়েছে বর্তমান অনুবাদটি তারই প্রতিধ্বনি। (সম্পূর্ণ…)

ফেদেরিকো গার্সিয়া লোরকার কবিতা: তন্দ্রাচারীর কাব্য

খালিকুজ্জামান ইলিয়াস | ২ মার্চ ২০১৬ ৭:৫২ অপরাহ্ন

lorca.jpg
…………………………………………………

অনুবাদ: খালিকুজ্জামান ইলিয়াস

…………………………………………………

তোমার যে সবুজ সে তো খুবই ভালোবাসি, মেয়ে
ভালোবাসি হাওয়ার সবুজ, বাসি শাখার সবুজ
সুদূর সাগর পটে চিত্রিত জাহাজ
পাহাড় চূঁড়ায় অশ্ব নিশ্চল দাঁড়িয়ে।
রোয়াকে দাঁড়ায় কন্যা খোয়াবের ঘোরে
কপোল সবুজ তার কুন্তল সবুজ,
চোখ দুটো রূপালী শীতল।

তোমার যে সবুজ সে তো খুবই ভালোবাসি
বেনো চাঁদ, বেদে চাঁদ, চাঁদের আলোয়
সবাই তাকিয়ে দ্যাখে কন্যার সুরৎ
সে শুধু তাকিয়ে থাকে দৃষ্টিহীন চোখে।
তোমার সবুজ, কন্যা, সে তো ভালোবাসি
আকাশে সহস্র তারা কুয়াশা জমাট
উদয়গিরির দিকে একখন্ড মৎস-মেঘ
ভেসে যায়; ডুমুর বিরিক্ষে লাগে হাওয়া, ওঠে
খসখসে কালো ডালে ঘসার আওয়াজ।
পাহাড় বেড়াল যেন বুনো ও চতুর
গোঁফের তিক্ত কাঁটা-ঝোপে দেয় তা’।
কিন্তু একি! কে ধরেছে পাহাড়ের পথ? কোন পথ?
সে রয়েছে স্বপ্নাতুর দাঁড়িয়ে রোয়াকে।
কপোল সবুজ তার, কুন্তল সবুজ
খোয়াবে সে দেখে দূর তিক্ত সমুদ্দূর। (সম্পূর্ণ…)

রোজে আউসল্যান্ডার: কবিতাই ছিল যার মাতৃভূমি

জুনান নাশিত | ১১ জানুয়ারি ২০১৬ ৭:২১ অপরাহ্ন

rose_presse-19201.jpgরোজে আউসল্যান্ডার ইহুদি-জার্মান কবি। দুই দুইটি বিশ্বযুদ্ধের প্রত্যক্ষ সাক্ষী। মাতৃভূমি হারিয়েছেন বারবার। কিন্তু কবিতাকে হারাননি। কবিতাতেই গড়েছেন আপনভূমির মাতৃচিত্র। ভূ-রাজনীতির তীব্র শিকার হয়েছেন। তাই বলে লেখা ছাড়েননি কখনও। এক অদম্যতায় লেখা চালিয়ে গেছেন মৃত্যু পর্যন্ত।
ইউরোপের দক্ষিণ পূর্বে কার্পাথিয়ান পাহাড়ের কোলে বুকোহিনার চেরনোহিৎস শহরে ১৯০১ সালে ১১ মে তার জন্ম। শহরটি তৎকালীন অস্ট্রিয়া-হাঙ্গেরীর অংশ ছিল। আউসল্যান্ডরের মাতৃভাষা জার্মান। তবে ওই অঞ্চলের অধিবাসীরা জার্মান, ইউক্রেনীয়, রোমানীয় ও পোলিশ ভাষাতেও কথা বলতেন। ফলে রোজে আউসল্যান্ডার শিশুকাল থেকে এসব ভাষা শুনতেন।
রোজের শৈশব সুখেই কাটছিল। কিন্তু শৈশবের এই সুখ রোজের জীবনে স্থায়ী হয়নি। তিনি আশ্রয়চ্যুত হন তার জন্মস্থান থেকে, তার সংস্কৃতি থেকে। একজন মানুষের আশ্রয়, সংস্কৃতি ও মর্যাদা যখন কেড়ে নেয়া হয়, তখন সেটি হয় তাকে হত্যারই নামান্তর। বিশেষ করে তিনি যদি হন সৃষ্টিশীল।
প্রথম বিশ্বযুদ্ধ চলাকালে রোজের পরিবারকে পালাতে হয় প্রথমে হিনে, পরে বুদাপেস্টে। কিন্তু রোজের হৃদয়ে মাতৃভূমি কথা বলে অবিরত। তিনি কবিতা লেখেন। নিজেকেই নিজে প্রশ্ন করেন কেন আমি লিখি? নিজেই জবাব দেন, তার কারণ সম্ভবত আমি চেরনোহিৎসে পৃথিবীর আলো দেখেছিলাম। এখানকার হাওয়ায় রূপকথা আর মিথ একাকার হয়ে ভাসতো। ওদের শ্বাস নেয়া যেত। এখানকার নিসর্গ অসাধারণ, মানুষগুলোও।
রোজের কাব্য রচনার সবকটি পবের্র প্রকৃতি ও নিসর্গ কবিতায় বুকোহিনা ও চেরনোহিৎস বিরাট জায়গা জুড়ে রয়েছে। বুকোহিনা শিরোনামেই রয়েছে চারটি কবিতা। (সম্পূর্ণ…)

টমাস ট্রান্সট্রয়মারের কবিতা

| ২১ সেপ্টেম্বর ২০১৫ ১:৫৬ অপরাহ্ন

trans.jpgকবি টমাস ট্রান্সট্রয়মারের জন্ম স্টকহোমে ১৯৩১ সালের ১৫ এপ্রিল আর প্রয়াণ এ বছরের ২৬ মার্চ। ছাত্রজীবন থেকেই সুইডেনের সাহিত্য সাময়িকীগুলোতে ট্রান্সট্রয়মারের কবিতা প্রকাশিত হতে থাকে। ১৯৫৪ সালে ১৭টি কবিতা (17 Dikter) শিরোনামে তাঁর প্রথম কাব্যগ্রন্থ প্রকাশের মাধ্যমে সুইডিশ ভাষার একজন শক্তিমান কবি হিসেবে আবির্ভূত হন। লেখালেখির শুরুর সময়ে তিনি সুইডেনের আধুনিকতাবাদী কবিদের বাগাড়ম্বরপূর্ণ ভাষার বিপরীতে সহজ ভাষা ও সরল রচনাশৈলী ব্যবহারের সিদ্ধান্ত নেন যা ছিল তাঁর ব্যক্তিত্ব এবং দৃষ্টিভঙ্গির সঙ্গে মানানসই। ফলে তাঁর কবিতা হয়ে ওঠে অতীতের সুইডিশ কবিতা থেকে ভিন্নতর। ট্রান্সট্রয়মারের কবিতার বড় অংশ জুড়ে স্থান পায় প্রকৃতি ও সঙ্গীত। সমগ্র লেখালেখিতে ট্রান্সট্রয়মার বোধের অতিপ্রাকৃত গভীরতা, প্রজ্ঞা আর পৃথিবীকে উপলব্ধি করায় আচ্ছন্ন ছিলেন। বিশ্বের ৭০টিরও অধিক ভাষায় অনূদিত হয় তাঁর কবিতা। তিনি দেশে-বিদেশে বহু সম্মাননা ও পুরস্কারে ভূষিত হন। ২০১১ সালে তিনি সাহিত্যে নোবেল পুরস্কার লাভ করেন। উত্তর ইউরোপের জীবন ও প্রকৃতির প্রেক্ষাপটে কবি টমাস ট্রান্সট্রয়মারের কবিতা রূপসী বাংলার কবি জীবনানন্দ দাশের কবিতার সঙ্গে তুলনীয়। অনুবাদও তেমনি দুরূহ। তাই, অনুবাদগুলো মূল সুইডিশ থেকে করা হলেও রবিন ফালটনের ইংরেজি ভাষান্তরের সঙ্গে মিলিয়ে নেয়া হয়েছে। অনুবাদের অনুমতি প্রদানের জন্যে ট্রান্সট্রয়মারের সহধর্মিনী মনিকা ট্রান্সট্রয়মার এবং বর্তমান অনুবাদকর্মটির ক্ষেত্র তৈরি করে দেবার জন্যে উপসালা সাহিত্য কেন্দ্র এবং সুইডিশ আর্টস কাউন্সিল-এর কাছে অনুবাদকদ্বয় কৃতজ্ঞ। (সম্পূর্ণ…)

সি. পি. কাভাফির কবিতা

খালিকুজ্জামান ইলিয়াস | ২৬ আগস্ট ২০১৫ ৩:০২ অপরাহ্ন

cavafy-1.jpgকেবল গ্রিক আধুনিক কবিতারই প্রধান ব্যক্তিত্ব নন, আধুনিক যুগের বিশ্বকবিতারই তিনি এক প্রধান কন্ঠস্বর। কাভাফির জন্ম ১৮৬৩ সালে মিশরের আলেকজান্দ্রিয়ায়। জন্ম মিশরে হলেও জাতিগত ও ভাষিক পরিচয়ে তিনি ছিলেন গ্রিক। সারা জীবন গ্রিক ভাষাতেই লিখেছেন। লিখেছেন কবিতাই, কিন্তু তা সংখ্যায় অল্প হলেও প্রায় প্রতিটি কবিতায় রয়েছে তার নিজস্বতার ছাপ। প্রথমে সাংবাদিকতা দিয়ে পেশাজীবনের শুরু হলেও পরে তিনি Ministry of Public Works বিভাগে কেরানি হিসেবে ১৯২৬ সাল পর্যন্ত কাজ করেছেন। ১৯৩৩ সালের ২৯ এপ্রিল তিনি আলেকজান্দ্রিয়াতে মৃত্যুবরণ করেন। জীবদ্দশায় তিনি বহির্বিশ্বে দূরের কথা, মিশরে বা গ্রীসেও খুব একটা পরিচিত ছিলেন না। অধ্যাপক ও অনুবাদক খালিকুজ্জামান ইলিয়াসের তর্জমায় কাভাফির প্রতিনিধিত্বশীল কবিতাগুলোর একটি এখানে প্রকাশ করা হলো। বি. স. (সম্পূর্ণ…)

জ্যামি শ্যু’র একগুচ্ছ কবিতা

মুহাম্মদ সামাদ | ২৪ আগস্ট ২০১৫ ৯:২১ অপরাহ্ন

jami-shu.jpgজ্যামি শ্যু একাধারে চীনা ও ইংরেজি ভাষার কবি, অনুবাদক ও প্রাবন্ধিক। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অ্যারিজোনা অঙ্গরাজ্যে বেড়ে ওঠেন জ্যামি। অ্যারিজোনা ইউনিভার্সিটির চাইনিজ স্টাডি বিষয়ে গ্রাজুয়েশন ও মাস্টার্স ডিগ্রি অর্জন করেন। পরে তিনি চীনা সাহিত্য ও নারীবাদের তত্ত্ব নিয়ে ক্যালিফোর্নিয়া ইউনিভার্সিটি, বার্কলে থেকে আরেকটি গ্রাজুয়েশন করেন। এই দুই ইউনিভার্সিটিতেই চীনা ভাষা-সাহিত্য পড়িয়েছেন কবি জ্যামি শ্যু। চাইনিজ একাডেমি অব সোশ্যাল সায়েন্স-এর ভিজিটিং স্কলার হিসেবে দুই বছর কাজ করাসহ একটানা ছয় বছর বসবাস করেন চীনের রাজধানী বেইজিংয়ে। চীন, যুক্তরাষ্ট্র ও ভারতসহ বিভিন্ন দেশের জার্নাল এবং কবিতাসংকলন-এ তার কবিতা ও অনুবাদ নিয়মিত প্রকাশিত হচ্ছে। এসবের মধ্যে চাইনিজ লিটারেচার টুডে, লেফ্ট কার্ভ, অ্যাম্বুশ রিভিউ, কালেকশন অব ওয়ার্ল্ড পোয়েট্রি প্রভৃতি প্রধান। অয্ত্নসজ্জিত অপার প্রকৃতি আর মানবহৃদয়ের অলৌকিক আনন্দ-বেদনা অনবরত কথা বলে তার কবিতায়।

সমসাময়িক চীনা কবিতায় অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ২০১৩ সালে ঝাজিয়াং কবিতা পুরস্কার লাভ করেন। এ বছর কবি জ্যামি শ্যু-এর নিজের ইংরেজি কবিতাসংগ্রহ, চীনা কবি জিদি মাজিয়া, সঙ লিন ও ঝাই ইয়াংমিঙ-এর কবিতার ইংরেজি অনুবাদ এবং চীনের কবি ঝউ জ্যান ও জ্যামি শ্যু-এর সঙ্গে যৌথ সম্পাদনায় কবি সিলভিয়া প্লাথ-এর চীনা অনুবাদ প্রকাশিত হচ্ছে। বর্তমানে স্বামী প্রক্টর শ্যু এবং একমাত্র পুত্র ডিলানকে নিয়ে শ্বশুড়বাড়ি চীন ও নিজের দেশ যুক্তরাষ্ট্রে সময় ভাগাভাগি করে বসবাস করছেন। ২০১৪ সালে প্রকাশিত কবি জ্যামি শ্যু-এর কাব্যগ্রন্থ হামিংবার্ড ইগনাইটস অ্যা স্টার থেকে তার পাঁচটি কবিতা বাংলাভাষার পাঠকদের জন্য পরিবেশিত হলো [অনুবাদক]। (সম্পূর্ণ…)

গারথিয়া লোরকার জিপসি বালাদ : নিশিডাকের গান

ওমর শামস | ১৯ আগস্ট ২০১৫ ১:৪০ অপরাহ্ন

federico-garcia-lorca.jpgলোরকা ১৮ টি জিপসি বালাদ (Romancero Gitano) লিখেছিলেন। এগুলো জিপসি জীবনের কাহিনী ভিত্তিক কবিতা। ছন্দোবদ্ধ, ৮ মাত্রার কাহারবায় – এগুলো গাওয়াও হয় ফ্লামেঙ্কো স্টাইলে। আমি একটির অনুবাদ নিচে প্রকাশ করলাম। বোরহেস এগুলোকে গেঁয়ো মনে করেছিলেন, অন্য স্পানীশভাষী কবিরা তা মনে করেন না, অন্তত আলবের্তি, আলেহান্দ্রে এবং নেরুদা তো নয়ই। এগুলোর শিকড় আবহমান লোকজ কাহিনী-গান। একটা প্রতি তুলনার কথা মনে এসেছে– রবীন্দ্রনাথের গীতাঞ্জলীর শিকড়ও কবির, তুলসীদাস ইত্যাদির আবহমান লোকজ ভক্তিগীতিতে। কিন্তু তাঁর প্রকরণ, রস, ভাষাশৈলী অন্য মেজাজের। একটা কারণ অবশ্যই তাঁর উপনিষদ মর্মগ্রাহীতা। দ্বিতীয়ত, লোকজ হলেও তাঁর বিষয় ধর্মবোধ। অন্য দিক দিয়ে লোরকা অনেকটা জসীমুদ্দিনের কাছের। কিন্তু জসীমুদ্দিন প্রকরণে আধুনিক নন। লোরকা ইমেজারি ব্যবহারে পুরো আধুনিক, তা ছাড়া রহস্য এবং “দুয়েন্দে” (সাঙ্গীতিক তীব্র দরদ) তৈরী করতে পারঙ্গম। (সম্পূর্ণ…)

« আগের পাতা | পরের পাতা »

Disclaimer & Privacy Policy  |  About us  |  Contact us

© bdnews24.com