অনুবাদ কবিতা

দুই বাগানের ফুল

ওমর শামস | ১২ জানুয়ারি ২০১৭ ১১:১৭ পূর্বাহ্ন


১. ভূমিকা

:
border=0অক্তাবিও পাজ, মেক্সিকোর কবি-নৃতাত্ত্বিক-ডিপ্লোম্যাট, ১৯৫১ সনে এক সরকারি রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সফরে ভারতে গিয়েছিলেন। শুধু ছ-মাস ছিলেন। ১৯৬২ তে তিনি মেক্সিকোর রাষ্ট্রদূত হয়ে আবার দিল্লী পৌঁছান। এবার ছ-বছর অবস্থান করেছিলেন, শুধু ভারতের নয় আফগানিস্তান,পাকিস্থান, সিংহলের রাষ্ট্রদূত হিশাবেও। তিনি সারা ভারতবর্ষ, আফগানিস্তান প্রভূত ঘুরেছিলেন, বিশেষ করে ঐতিহাসিক নিদর্শন, ভারতীয় ইতিহাস-সংস্কৃতি, হিন্দু-বৌদ্ধ ধর্ম পড়েছিলেন। এসব নিয়ে স্থানীয় বুদ্ধিজীবীদের সঙ্গে আলাপ-আলোচনা করেছিলেন। অবশেষে বই লিখছিলেন : Conjunctions and Disjunctions, The Monkey Grammarian, In Light of India।Alternating Currents বইতেও বৌদ্ধচিন্তা নিয়ে প্রবন্ধ আছে। A Tale of Two Gardens, তাঁর ভারতবর্ষে থাকাকালীন রচিত কবিতার সংগ্রহ। “দুই বাগানের গল্প” গ্রন্থের কবিতাগুলোর নাম : মথুরা, আমীর খুসরো-র সমাধি, হুমায়ুন-এর সমাধি, লোদি উদ্যান, উদয়পুরে একদিন, মাইসোর-এর রাস্তায়, উটকামুন্ড, মাদুরাই, কোচিন, হিরাটে সুখ, থাঙ্গিগারু গিরিপথ, বৃন্দাবন, শূন্যতা, মৈথুন, এলিফান্টার দ্বীপে রবিবার । বৌদ্ধ, হিন্দু দর্শন সংক্রান্ত বিষয় অথবা ভূগোল, ঐতিহাসিক স্থান, ঘটনার মধ্যে দিয়ে ভারতবর্ষীয় চিন্তাকে বোঝা ও প্রকাশ করা। তিনি আমীর খুসরোকে, সূফিবাদ, তাঁর কবিতা এবং নিজামুদ্দীন আউলিয়া-র সঙ্গে সম্পর্ককে বোঝার চেষ্টা করেছিলেন। আমীর খুসরো (১২৫৩-১৩২৫) ভারতে জন্মগ্রহণ করা তুর্কি বংশীয় পণ্ডিত, সূফি, ঐতিহাসিক, কবি এবং রাজসভাসদ-মন্ত্রী ( আলাউদ্দীন খিলজী এবং অন্যন্য বাদশা-র)। দুই ভূগোলের, দুই যুগের দুই কবির কয়েকটি কবিতা অনুদিত হলো। দুজনের কবিতার মেজাজ, গঠন অবশ্যই আলাদা – তাঁরা দুই বাগানের ফুল। (সম্পূর্ণ…)

ডেভিড হোয়াইটের কবিতা: অপরাহ্ণের নারী

আনন্দময়ী মজুমদার | ২৪ অক্টোবর ২০১৬ ১০:৪৯ অপরাহ্ন

Davidডেভিড হোয়াইট একজন ইংরেজ কবি। তাঁর মা আয়ারল্যান্ড এবং বাবা ইয়র্কশায়ারের মানুষ। জন্ম ২ নভেম্বর ১৯৫৫। তাঁর বক্তব্য, তাঁর সমস্ত লেখা যেন ‘বাস্তবতার সঙ্গে আলোচনা’। তাঁর অনেক ক’টি গদ্য ও কবিতার বই এর মধ্যে The Heart Aroused: Poetry and the Preservation of the Soul in Corporate America (১৯৯৪) যুক্তরাষ্ট্রের বেস্টসেলারের তালিকায় শীর্ষে ছিল।

তিনি নিজের প্রাকৃতিক প্রতিবেশের শৈশবকে ওয়ার্ডসওয়ার্থের সঙ্গে তুলনা করেছেন। হোয়াইটের প্রথম প্রাতিষ্ঠানিক ডিগ্রি সমুদ্র জীববিদ্যায়।

বিশের কোঠায় ডেভিড একজন প্রকৃতিবিদ হিসেবে গ্যালাপাগোস দ্বীপে থাকতেন, সেখানে হুড দ্বীপের কাছে তিনি খুব নিকটবর্তী সলিল সমাধি থেকে রক্ষা পেয়েছেন। তিনি নৃতত্ত্ব এবং ইতিহাসের গবেষক হিসেবে দুঃসাহসিক অভিযানে নেতৃত্ব দিয়েছেন, গেছেন আন্দেজ পর্বতে, আমাজন অরণ্যে, হিমালয়ে।

হোয়াইট ১৯৮১ সালে যুক্তরাষ্ট্রে যান এবং সেখানে তাঁর লেখালেখি এবং বক্তা হিসেবে তার বৃত্তি শুরু করেন। ১৯৮৭ থেকে তিনি তাঁর কবিতা এবং দর্শনকে বিপুল জনসভায় নিয়ে যেতে থাকেন। এর মধ্যে ছিল আমেরিকা ও ব্রিটেনে নেতৃত্বের সাংগঠনিক ভূমিকার ওপর এবং শিল্প প্রতিষ্ঠানে ও ব্যবসায় সৃজনশীলতার ব্যবহার সম্বন্ধে পরামর্শ এবং বক্তব্য উপস্থাপন করা। তিনি সেই সূত্রে বোয়িং, এটিএন্ডটি, নাসা, টয়োটা, দ্য রয়েল এয়ার ফোর্স এবং আর্থার এন্ডারসন একাউন্টেন্সি গ্রূপের সঙ্গে কাজ করেছেন।

হোয়াইট-এর সাতটি কবিতার এবং চারটি গদ্যের বই রয়েছে। তাঁর Pilgrim (২০১২) বইটি মানুষের পথিক হিসেবে নিজেকে দেখার, ও যাত্রা করার মানবিক প্রয়োজনীয়তার কথা আছে। The House of Belonging এ আছে ঘরের, গৃহের প্রয়োজনের কথা। Everything Is Waiting For You (২০০৩) বইটির কবিতা তাঁর মা’র মৃত্যুর শোক থেকে জন্ম নেওয়া ব’লে তিনি দাবী করেছেন। সাম্প্রতিক বই Consolations: The Solace, Nourishment and Underlying Meaning of Everyday Words| তিনি হাফিংটন পোস্ট বা অবজারভার-এর মতো অনেক খবরের কাগজের জন্য লিখেছেন। আয়ারল্যান্ড, ইংল্যান্ড এবং ইতালিতে তিনি প্রায়শ কবিতা এবং সমবেত ভ্রমণের নেতৃত্ব দিয়ে থাকেন। -ডেভিড হোয়াইট
আনন্দময়ী মজুমদারের তর্জমায় এখানে হোয়াইটের ‘মিড লাইফ উওম্যান’ কবিতাটি বাংলাভাষী পাঠকদের জন্য উপস্থাপন করা হলো। বি.স. (সম্পূর্ণ…)

ম্যানুয়েল ডি বারোসের কবিতা

মাজুল হাসান | ২১ অক্টোবর ২০১৬ ১১:৪১ পূর্বাহ্ন

Manoel de Barrosব্রাজিলের কবি ম্যানুয়েল ডি বারোস। পুরো নাম ম্যানুয়েল ওয়েসেসলাও লেইতে ডি বারোস। বিশ্বসাহিত্যে সেই অর্থে বহুল পরিচিত ও পঠিত না হলেও ব্রাজিলিয়ানদের কাছে তিনি এক অলঙ্ঘনীয় কবিচরিত্র। জন্ম ১৯১৬’র ১৯ ডিসেম্বর কিউবায়। মৃত্যু ১৩ নভেম্বর ২০১৪, ব্রাজিলের কাম্পো গ্রান্ডে। প্রায় ৯৭ বছরের দীর্ঘ জীবনে তিনি লিখেছেন অজস্র কবিতা। লাভ করেছেন বহু পুরস্কার। ব্রাজিলের সর্বোচ্চ সাহিত্য পুরস্কার প্রেমিও জাবুতি বা টরটোয়েস অ্যাওয়ার্ড পেয়েছেন দুই বার। সামগ্রিক কাজের স্বীকৃতি হিসেবে ১৯৯৮ সালে পেয়েছেন ‘National prize of Literature of the Ministry of the Culture from Brazil’ পুরস্কার। ব্রাজিলের আরেক কিংবদন্ততুল্য কবি কার্লোস দ্রুমন্ড ডি অ্যান্ড্রেড বারোস’কে বলেছিলেন কবিশ্রেষ্ঠ। পর্তুগিজ ভাষার এতো বড় একজন কবি, কিন্তু দুঃখজনক হলো তার সৃষ্টি দেশের গণ্ডি পেরুতে পারেনি। বারোসের কবিতার প্রথম ও এখন পর্যন্ত একমাত্র ইংরেজী সংস্করণ Birds for a Demolition। কার্নেগি মিরান ইউনিভার্সিটি প্রেস থেকে বের হয় ২০১০ সালে। অনুবাদ করেন ইদ্রা নোভি, যিনি নিজেও একজন উদীয়মান মার্কিন কবি, ঔপন্যাসিক ও ফিকশন লেখক। মূলত তার অনুবাদের পর বারোসকে চেনে বিশ্ব। Birds for a Demolition–এর রিভিউয়ে এক লেখক আক্ষেপ করে বলেছিলেন- এটা দুঃখজনক যে এমন একজন শক্তিশালী কবির কবিতা এতোদিন ইংরেজিতে অনুবাদই হয়নি। পর্তুগিজের বাইরে বারোসের কবিতা প্রথম অনুবাদ হয় জার্মান ভাষায়, ১৯৯৬ সালে। এরপর ২০০৩-এ ফরাসি ও ২০০৫-এ স্প্যানিশ ভাষায় বের হয় বারোসের কবিতা সংকলন। বাংলায় মেনুয়্যাল ডি বারোসের কবিতার অনুবাদ এই প্রথম। ইড্রা নোভি’র ইংরেজি সংস্করণ থেকে বারোসের কবিতাগুলো ভাষান্তর করেছেন কবি মাজুল হাসান

প্রথম দিন

গতকাল বৃষ্টি ঝরেছিল ভবিষ্যতে
জল শুষে নিয়েছিল আমার বিহ্বলতা
ঘুমপোশাক
বাসনকোশন
একটা ছিপির মতো ভেসে গিয়েছিলাম বানের তোড়ে
ডাকটিকেটের মতো হালকা আমার ডোঙ্গানৌকা
জলের নেই কোনো সীমা-পরিসীমা
দেখা যাচ্ছে শুধু আকাশ আঙিনার আভাস
(শকুনি কি আমাকে দেখছে শ্যেন দৃষ্টিতে?)
পাতার সাথে সার বেধে আছি দাঁড়িয়ে
পামগাছের গোড়া থেকে কারান্ডা ফল খেয়ে যাচ্ছে মাছ (সম্পূর্ণ…)

বব ডিলানের গান: এই যে সময় পালটে যাচ্ছে, পালটে যাচ্ছে, যাবে

আনন্দময়ী মজুমদার | ১৪ অক্টোবর ২০১৬ ১০:৫৯ অপরাহ্ন

অনুবাদ: আনন্দময়ী মজুমদার

যে যেখানে আছ, সবাই জলদি করো
জটলা বেঁধে এসে
এই কথাটা কবুল করো, সবাই যাবে
বানের জলে ভেসে
কবুল করো, ভিজে যাচ্ছে হাড় কখানা
শুকনো ডাঙার দেশে
জীবন যদি মূল্য ধরে
বেঁচে থাকতে হবে
ভেসে থাকার জন্য এবার সাঁতার দিতে হবে
তা না হলে নুড়ির মতো তলিয়ে যাবে সবাই
এই যে সময় পালটে যাচ্ছে, পালটে যাচ্ছে, যাবে।

সমালোচক, লেখক, এসো
কলম আনো, ভবিষ্যৎ-কে পাবার
দু’চোখ বুজে থেকো না আর
এ-সুযোগ যে আসবে না, তাই
রায় দিও না জলদি কিছুই
এই তো চাকা ঘুরছে এখন
কার কথা যে ভাসছে হওয়ায়
জানবে পরে, জানতে যখন পাবে
বুঝলে কিনা, এই যে সময় পালটে যাচ্ছে, পালটে যাচ্ছে, যাবে। (সম্পূর্ণ…)

বব ডিলানের একটি গান

মোস্তফা তোফায়েল | ১৪ অক্টোবর ২০১৬ ১:৫১ অপরাহ্ন

Bob Dylanঅ্যামেরিকান গায়ক, গীতিকার, কবি বব ডিলানের জন্ম তারিখ ২৪ মে ১৯৪১। জনপ্রিয় গীতিকার ও গায়ক হিসেবেই তাঁর পরিচয়। বব ডিলানের প্রথম পর্যায়ের সঙ্গীত “Blowin’ the Wind” এবং “ The times they are a-changing” সেদেশের নাগরিক অধিকার প্রতিষ্ঠার সংগ্রাম এবং যুদ্ধবিরোধী দৃষ্টিভঙ্গী সৃষ্টিতে বিশেষ অবদান রাখে। অ্যামেরিকার জনগণ এ গান দু’টিকে জাতীয় সঙ্গীতের সমান মর্যাদা দিয়েছে। তাঁর ৬ মিনিটের একক সঙ্গীত “ Like a Rolling Stone ” (১৯৬৫) লোকসঙ্গীতের জনপ্রিয়তা সৃষ্টিতে অবদান রাখে। জর্জ হ্যারিসনের “ Concert for Bangladesh 1971”-এ অংশগ্রহণ করে বব ডিলান চমক সৃষ্টি করেছিলেন। তাঁর সঙ্গীত ও কবিতা রাজনৈতিক, সামাজিক, দার্শনিক ও সাহিত্যিক ইত্যাদি বহুবিধ ক্ষেত্রে প্রভাব বিস্তার করেছে। ‘রক এ্যান্ড রোল’ ‘জ্যাজ’ ‘ফোক্’ সঙ্গীতে তিনি গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন।

বব ডিলানের পুরস্কারপ্রাপ্তির তালিকায় আছে ‘গ্রামি অ্যাওয়ার্ডস’, ‘গোল্ডেন গ্লোব এ্যাওয়ার্ড’ এবং ‘অ্যাকাডেমি অ্যাওয়ার্ড’। পুলিৎজার প্রাইজ জুরি ২০০৮ সালে তাঁকে একটি বিশেষ খেতাবে ভূষিত করে। প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা ২০১২ সালে তাঁকে দেন Presidential Medal of Freedom। অ্যামেরিকার সঙ্গীত ঐতিহ্যের ধারায় নতুনতর কাব্যিক উন্মেষ সৃষ্টির প্রয়াসে অবদান রাখার স্বীকৃতি স্বরূপ ২০১৬ সালে তিনি লাভ করেছেন নোবেল সাহিত্য পুরস্কার।

বব ডিলানের কবিতা ‘মর্যাদা’
অনুবাদ: মোস্তফা তোফায়েল

মোটাসোটা লোকে খোঁজে সুতীক্ষ্ণ ইস্পাত পাতে
হাল্কা পাতলা লোকে খোঁজে তারে সব শেষ ভাতে
ফাঁপা লোক খোঁজে তারে বুননের কারখানাটাতে
মর্যাদা থাকেন কোথায়।

জ্ঞানীলোক খোঁজে তারে তৃণদের ধারালো ফলায়
তরুণেরা খোঁজে তারে ছায়া যেটা পাশ দিয়ে যায়
গরিবেরা রঙচঙে কাঁচ পরে সম্মুখে তাকায়
মর্যাদা থাকেন কোথায়। (সম্পূর্ণ…)

সাইমন জে. অর্টিজ-এর কবিতা

মুহাম্মদ সামাদ | ২৪ সেপ্টেম্বর ২০১৬ ১২:১০ অপরাহ্ন

saimonসাইমন জে. অর্টিজ একাধারে কবি, গল্পকার ও প্রাবন্ধিক। অগ্রগামী আদিবাসী আমেরিকান এই কবির জন্ম ১৯৪১ সালের মে মাসে। তার রচিত গ্রন্থের সংখ্যা পঁচিশের অধিক। অনূদিত হয়েছেন ইতালীয়, স্প্যানিশ ও চীনা ভাষায়। দেশে-বিদেশে অনেক পুরস্কার ও সম্মানে ভূষিত হয়েছেন। ইংরেজি সাহিত্যের প্রবীণ এই আমেরিকান অধ্যাপকের আগ্রহের ক্ষেত্র আদি আমেরিকানদের ভূমি-অধিকার, সাংস্কৃতিক স্বাধীনতা, শিল্প-সাহিত্য ও সৃজনশীল লেখালেখি বিষয়ের নতুন ভাবনায় ও পাঠদানে। যুক্তরাষ্ট্রের নিউ মেক্সিকো অঙ্গরাজ্যের অ্যাকোমা পুয়েবলো আদিবাসী জনগোষ্ঠীর সন্তান সাইমন জে. অর্টিজ মার্কিন যুক্তরাষ্টের আদিবাসীদের একজন প্রতিনিধিত্বকারী কবি ও সংস্কৃতিকর্মী হিসেবে সর্বদা সক্রিয়। কবিতাগুলো অনুবাদ করেছেন মুহাম্মদ সামাদ।


টিকে থাকতে

To Insure Survival

তুমি সামনে বেরিয়ে আসো
ভোরবেলা পর্বতের গায়ে
পাথরের রঙ বদলায়
ধরিত্রীর সব রঙ
নীল থেকে লাল হয়ে যায়।

দাদি-মাকড়সা কথা বলে,
হাসি আর বেড়ে ওঠা
জামাকাপড় বুনন
জীবন সৃজনে
এক সুঁতোয় একত্রে বেঁধে
তাদের পরিয়ে দেয়া;
সবকিছু এই সব কিছু। (সম্পূর্ণ…)

পি বি শেলীর দীর্ঘ কবিতা: ওড টু দ্য ওয়েস্ট উইন্ড

নাহিদ আহসান | ৮ সেপ্টেম্বর ২০১৬ ১২:০৮ পূর্বাহ্ন

Shelly…………………………….

অনুবাদ: নাহিদ আহসান

…………………………….

শোন, ঝড়ো পশ্চিমের উদ্দাম বাতাস
তুমি শরতের বয়ে চলা গভীর নিঃশ্বাস।

ঝরে পড়া পাতাদের কর তুমি তাড়া
ওঝার যাদুতে যেন ছোটে অশরীরি অশুভ প্রেতেরা।

হলুদাভ, কালো, ফিকে জ্বরতপ্ত লাল
রোগাক্রান্ত মানুষের মত পাতাদের রং আর গাল।

তোমার পাখায় ভর করে
ডানা মেলা বীজ ঝাঁক বেঁধে ওড়ে

নীচু, কৃষ্ণ, মাটি তার অতল গভীরে
মৃতদের মত অসাড় শরীরে
প্রতীক্ষায় থাকে তারা
যে তোমার সহোদরা

বসন্তের সুনীল বাতাস আসবে কখন?
তূর্যধ্বনি বাজাবে তখন।

সুরেলা মধুর সুরে
পৃথিবীর সব স্বপ্ন পরিপূর্ণ করে

বাতাসের রাজ্যে সুমিষ্ট বীজেরা তোলে শোরগোল
লুটোপুটি খায় মেষ পালকের পিছু যেন চঞ্চল মেঘের দল। (সম্পূর্ণ…)

মায়া অ্যানজুলোর কবিতা: বিস্ময়কর নারী

আবদুস সেলিম | ২ আগস্ট ২০১৬ ১২:১৫ অপরাহ্ন


মূল: মায়া অ্যানজুলো

অনুবাদ: আবদুসস সেলিম

maসুশ্রী মহিলারা বিস্মিত হয় আমার রহস্যটা কি ভেবে।
আমার নেই কোন আকর্ষণ কিংবা শারিরীক সৌষ্ঠব।
যেমন থাকে ফ্যাশন মডেলদের,
কিন্তু যখন ওদের শোনাই আমার গল্প,
ওরা ভাবে আমি বুঝি বানিয়ে বলছি।
আমি বলি,
সবই তো আমার নাগালের ভেতর,
আমার পশ্চাদের আকার
আমার পা ফেলার ভঙ্গি,
আমার ঠোঁটের বাঁক।
কারণ আমি এক নারী
বিস্ময়করভাবে।
বিস্ময়কর নারী,
সে তো আমিই। (সম্পূর্ণ…)

ইভ বনফয়ের ৫টি কবিতা

মাসুদুজ্জামান | ১৫ জুলাই ২০১৬ ৩:০৬ অপরাহ্ন

Bonfoy“কবিতা লেখা মানেই চিন্তা করা, কিন্তু কবিতা লিখতে হবে কবিতারই আঙ্গিকে, সংগীতের মাধ্যমে – আমরা যদি জানি কীভাবে গান শুনতে হয়, তাহলে গান আমাদের কবিতাকে সাহায্য করবে। আমাদের জীবনে যা ঘটে, কবিতা সেই গানই রচনা করতে চেষ্টা করে।” এই কথাগুলো বলেছিলেন ফরাসি কবি ইভো বনফয়। প্রথম কাব্যগ্রন্থ প্রকাশের সঙ্গে সঙ্গে ফরসি কবিতাভুবনে সাড়া ফেলে দিয়েছিলেন। পল ভ্যালেরি ছাড়া আর কারও প্রথম কাব্যগ্রন্থ এতটা আলোড়ন তুলতে পারেনি। তাঁর কবিতা তীব্রভাবে রোমান্টিক কিন্তু ছুঁয়ে যায় আমাদের ইন্দ্রিয়জ সজ্ঞা ও প্রজ্ঞা, জীবনাসক্তি ও মৃত্যু, প্রাকৃতিক জীবন ও অধিবাস্তবতা, প্রতিদিনের যাপন ও অভিজ্ঞতা। প্যারি বিশ্ববিদ্যালয়ে দর্শন-পড়া আর তুলনামূলক কবিতার অধ্যাপক বনফয় মনে করতেন আমরা যা ভাবি, ভাষা সেখানে পৌঁছাতে পারে না। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর তাকেই মনে করা হয় সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য ফরাসি কবি। কবিতার শব্দ, একটা কবিতায় তিনি বলেছিলেন, আকাশের মতো অনন্ত। আমাদের প্রতিদিনের মুখের বুলি আর ধ্রুপদী লেখ্যভাষার বিমিশ্রণে তৈরি বনফয়ের কবিতা তাই অনেকটাই আলাদা বলে মনে করেন সমালোচকেরা।
এখানে সদ্যপ্রয়াত (জন্ম জুন ২৪, ১৯২৩, মৃত্যু ১ জুলাই ২০১৬) এই কবি প্রতি শ্রদ্ধার্ঘ্য জানিয়ে তাঁরই একগুচ্ছ কবিতা প্রকাশ করা হলো। কবিতাগুলি ইংরেজি অনুবাদ থেকে অনূদিত। (সম্পূর্ণ…)

পাবলো নেরুদার প্রাচ্যবাসের অভিজ্ঞতা ও দুটি কবিতা

রাজু আলাউদ্দিন | ১৩ জুলাই ২০১৬ ১০:১৭ অপরাহ্ন

pablo nerudaলাতিন আমেরিকার বেশ কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ লেখক ভারতবর্ষে চাকরিসূত্রে এসেছিলেন। কেউ কেউ নিছক ভারতীয় উপমহাদেশের প্রতি কৌতূহল থেকেও এসেছিলেন। আমাদের মনে পড়বে অক্তাবিও পাসের নাম, মনে পড়বে পাবলো নেরুদার নাম। মনে পরবে গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেসের কথাও। এসেছিলেন হুলিও কোর্তাসারও ১৯৫৯ সালের দিকে। কলকাতা শহরের সাধারণ রাস্তাঘাটের দৃশ্যাবলির বর্ণনাসহ রয়েছে তাঁর একটি পূর্ণাঙ্গ লেখাও। এসেছিলেন আর্হেন্তিনার বিখ্যাত ঔপন্যাসিক রিকার্দো গুইরালদেসও ১৯১০ সালে, যিনি নিজ দেশে ভিক্টোরিয়া ওকাম্পোর মাধ্যমে ১৯২৪ সালে রবীন্দ্রনাথের সঙ্গে পরিচিতি হয়েছিলেন।

নেরুদা ভারতে এসেছিলেন তিনবার। প্রথমবার এসেছিলেন রেঙ্গুনে চিলির কনসালের চাকরি নিয়ে। ১৯২৭ সালের অক্টোবরে তিনি দায়িত্বভার গ্রহণ করে ১৯২৯ সালের শুরু পর্যন্ত ভারতীয় উপমহাদেশের বিভিন্ন অঞ্চলে কাটান। ফুন্দাসিওন পাবলো নেরুদার দেওয়া তথ্য থেকে জানা যাচ্ছে, ডিসেম্বরের শেষের দিকে তিনি শ্রীলঙ্কা থেকে মাত্র অল্প কয়েক দিনের জন্য ভারতের কলকাতায় এসেছিলেন। জানুয়ারির শুরুর দিকেই তিনি কলকাতা থেকে আবার শ্রীলঙ্কা ফেরেন। এ সফরে কলকাতায় অনুষ্ঠিত ‘ভারতীয় মহাসভা’র জাতীয় কংগ্রেসের অধিবেশনে এসে দেখা হয়েছিল মতিলাল নেহরু ও মহাত্মা গান্ধীর সঙ্গে। দেখেছিলেন সদ্য বিলেতফেরত জওহরলাল নেহরুকে। তাঁর আত্মজৈবনিক গ্রন্থ স্বীকার করি বেঁচেছিলাম ( Confieso Que he vivido : memorias )-এ তিনি এর বর্ণনা দিয়েছেন, যা আনন্দময়ী মজুমদারের অনুবাদে পাবলো নেরুদার স্মৃতিচারণ গ্রন্থে বাঙালি পাঠকরা খুঁজে পাবেন।
এরপর তিনি আরো একবার ভারতে আসেন ১৯৫০ সালে। প্যারিস থেকে বিশ্বশান্তি আন্দোলনের লক্ষ্যে নেহরুকে দেওয়া জোলিও কুরির একটি চিঠি বয়ে আনার দায়িত্ব পড়েছিল তাঁর ওপর। অক্টোবরের দিকে তিনি দিল্লিতে এসে নেহরুর সঙ্গে দেখা করে তাঁকে সেই চিঠি হস্তান্তর করেন। এ যাত্রায় তিনি ১০ দিনের মতো ছিলেন স্বাধীন ভারতে।
আরো একবার তিনি ভারতে এসেছিলেন ১৯৫৭ সালের জুলাই মাসে। এ সফরের কথা কোথাও খুব একটা শোনা যায় না। নেরুদা নিজেও তাঁর আত্মজৈবনিক গ্রন্থে এ নিয়ে কিছুই বলেননি। তবে বিষ্ণু দের গ্রন্থে উল্লেখিত তথ্য থেকে জানা যায়, তিনি কলকাতা এসেছিলেন। ফুন্দাসিওন পাবলো নেরুদার সঙ্গেও এ তথ্য মিলে যায়। এ যাত্রায় তাঁর সঙ্গে ছিলেন ব্রাজিলের বিখ্যাত বামপন্থী লেখক জোর্জে আমাদো। এই তৃতীয় সফরে তিনি ভারতের কোন কোন জায়গায় কার কার সঙ্গে দেখা করেছিলেন তার বিস্তারিত বিবরণ অন্য কোথাও–ইংরেজি বা স্প্যানিশে–পাওয়া যায় না।
প্রথমবার চাকরিসূত্রে যে উচ্ছ্বাস ও কৌতূহল নিয়ে তিনি প্রাচ্যে এসেছিলেন, তা দ্রুতই লুপ্ত হতে থাকে এ অঞ্চলের ভিন্ন সাংস্কৃতিক ও সামাজিক আবহের সঙ্গে নিজেকে খাপ খাইয়ে নিতে না পারার কারণে। আত্মজীবনীতে তিনি ‘সিংহল’ অধ্যায়ে স্পষ্ট করেই বলেছেন, ‘সাহেব আর হিন্দুদের মাঝখানে পড়ে আমার জীবন হয়ে উঠল দুঃসহ। না পারতাম প্রতি সন্ধ্যায় ডিনার-জ্যাকেট চড়িয়ে ক্লাব আর নাচের আসরে যোগ দিতে, না সইত হিন্দুদের জাতিভেদের নিয়মকানুন। ভয়ানক একাকিত্ব তখন গ্রাস করেছে আমাকে (‘পাবলো নেরুদা, অনুসৃতি’)
চাকরিসূত্রে যে কয়টা দিন তিনি এ অঞ্চলে ছিলেন তার বেশির ভাগ সময়ই ছিল একাকিত্বের। এর বর্ণনা ওই অধ্যায়ের বেশ খানিকটা জায়গাজুড়েই দেখা যাবে। কলম্বোর ওয়েলাওয়াতিতে থাকার সময়কার অভিজ্ঞতা বর্ণিত হয়েছে এভাবে : ‘একাকিত্বের যে কী অসহনীয় যন্ত্রণা–ওয়েলাওয়াতির ওই কটা বছরের জীবনেই আমি তা উপলব্ধি করেছিলাম। সঙ্গী বলতে ছিল একটি খাট, একটি টেবিল, দুটি চেয়ার আর আমার কুকুর ও বেজিটি। আর ছিল একজন ভৃত্য–যার নাম ছিল ভ্রাম্পি। এই নিঃসঙ্গতা আমার কিন্তু কবিতা লেখার কোনো উপাদানই দেয়নি বরং দিয়েছে বন্দিশালার অসহ্য যন্ত্রণা।’ (প্রাগুক্ত)
তিনি যদিও বলেছেন, এ নিঃসঙ্গতা তাঁকে লেখার কোনো উপাদান দেয়নি, কিন্তু তাঁর লেখার ইতিহাসের ক্রমপঞ্জি মনোযোগ দিয়ে লক্ষ করলেই দেখা যাবে ঘটনা ঠিক উল্টো। ১৯৩৫ সালে প্রকাশিত তাঁর Residencia en la tierra কাব্যগ্রন্থের প্রথম খণ্ডের বেশির ভাগ কবিতা লেখা হয়েছিল এই প্রাচ্যবাসের সময়।
এটা ঠিক যে প্রাচ্যবাস তাঁর জন্য যত একাকিত্ব ও দুঃসহ যন্ত্রণাই নিয়ে আসুক না কেন, এমনকি নেহরুর সঙ্গে তাঁর শীতল সাক্ষাৎ, দিল্লির বিমানবন্দরে পুলিশ ও শুল্ক বিভাগের লোকদের অপমানকর ও অমর্যাদাকর আচরণ সত্ত্বেও এ সময়ই তার গুরুত্বপূর্ণ কিছু লেখা জন্ম হয়েছিল রেঙ্গুন, শ্রীলঙ্কা ও কলকাতায়। এ ছাড়া তার প্রাচ্যদেশীয় রোমান্সের ঘটনা তো আছেই। বার্মিজ রমণী জোসি ব্লিস যাকে নিয়ে তিনি কবিতা লিখেছেন, আর আছে ডাচ সেই নারী–মারিয়া আন্তোনিয়েতা হাগেনার–যার সঙ্গে ১৯৩০ সালে বিয়ে হয়, তার সঙ্গেও তিনি পরিচিত হন এই শ্রীলঙ্কার কলম্বোয়।
জোসি ব্লিসের সাথে তার সম্পর্ক ছিল তীব্র, তবে ক্ষণস্থায়ী। সম্পর্কের প্রগাঢ়তা ও তীব্রতা তাকে দিয়ে লিখিয়ে নিয়েছিল ১৯৩৪ সালে প্রকাশিত Memoria de la isla Negra (iii) গ্রন্থের অন্তর্ভুক্ত ‘ভালোবাসা : জোসি ব্লিস’-এর মতো কবিতা। জোসির জন্য স্মৃতিকাতরতা নেরুদার সঙ্গী হয়েছিল বহুদিন। কবিতার সর্বশেষ স্তবকটি পাঠকের হৃদয়কে বিষণ্ন করে দেয় নেরুদার স্মরণ-কৌশল আর অভিব্যক্তি :
এখন, হয়তো-বা
বিশ্রামে শুয়ে আছে
হয়তো বা শুয়ে নেই
রেঙ্গুনের সুবিশাল গোরস্থানে
অথবা হয়তো সেই ইরাবতী নদীটির তীরে
সমস্ত বিকেলজুড়ে পুড়িয়েছে দেখখানি তার,
আর নদী সে সময় নিচু স্বরে বলে গেছে
বলতে যা পারতাম কান্নাভেজা স্বরে।

নেরুদা এই অবিস্মরণীয় প্রেমিকার কথা মনে করতে গিয়ে এক সাক্ষাৎকারে বলেছিলেন, “মিষ্টি মেয়ে জোসি ব্লিস আমার প্রতি এতটাই আবেগঘন আর আকৃষ্ট হয়ে পড়েছিল যে শেষ পর্যন্ত সে ঈর্ষায় আক্রান্ত হয়ে পড়ল। এ রকম না হলে হয়তো তার সাথে আমার জীবনটা চিরকাল কেটে যেত।”
জোসি ব্লিসের সাথে সম্পর্কের দ্বারা অনুপ্রাণিত হয়ে একাধিক কবিতা তিনি লিখেছিলেন। তিনি নিজেই ওই একই সাক্ষাৎকারে বলেছিলেন :
“হ্যাঁ, জোসি ব্লিস ছিল এমন এক নারী আমার কবিতায় যার গভীর প্রভাব মুদ্রিত হয়ে আছে। আমি সব সময়ই তাকে স্মরণ করি, এমনকি আমার সাম্প্রতিক বইগুলোতেও।” ( Interview with Reta Guibert )
আধা ডাচ-আধা মালয়ী মারিয়া আন্তোনিয়েতা হাগেনার-এর সাথে নেরুদার বিয়ে হলেও জোসি ব্লিসই তার জীবনে সবচেয়ে বেশি গভীর প্রভাব ফেলেছিল। কারণ হাগেনার বিয়ের অল্প কিছুদিন পরই মারা গিয়েছিলেন। জোসি ব্লিসের ঈর্ষাময় প্রেম থেকে বাঁচার জন্য একাকী না হলে এবং হাগেনারের মৃত্যু না হলে হয়তো নিঃসঙ্গতা এতটা দুঃসহ হয়ে উঠত না নেরুদার জন্য।
সুতরাং দুঃসহ একাকিত্বের যন্ত্রণার সঙ্গেই যমজ ভাইবোনের মতো সৃষ্টিশীলতা ও রোমান্সের উষ্ণ ধারা প্রবহমান ছিল একটা সময় পর্যন্ত। সত্য বটে, নেরুদা এ অঞ্চল সম্পর্কে অক্তাবিও পাসের মতো কৌতূহলী ছিলেন না। পাসের মতো তিনি প্রাচ্যকে আবিষ্কার করতে চাননি। পাসের জীবনে ভারত এনে দিয়েছিল ‘পরিপক্বতা’, অন্যদিকে নেরুদার জীবনে এ পর্বটি ছিল বন্দিত্বের। কিন্তু লক্ষ করলেই দেখা যাবে, এ বন্দিত্বের মধ্যেই উন্মুক্ত হয়েছিল তার সৃষ্টিশীল সত্তা; জন্ম নিয়েছিল কয়েকটি কবিতা, ছোট ছোট কয়েকটি গদ্য, আর আর্হেন্তিনীয় লেখক ও বন্ধু এক্তর এয়ান্দিকে লেখা সেই বিখ্যাত চিঠিগুলো। এ ছাড়া রয়েছে চিলির লেখক বন্ধু হোসে সান্তোস গনজালেস বেরা ও মাকে লেখা চিঠিপত্র। ‘অনুস্মৃতি’র বাইরে, উপরোক্ত এসব লেখায় নেরুদার নিঃসঙ্গতার পাশাপাশি দেখতে পাব তাঁর অন্তরঙ্গ উন্মোচন।
‘আত্মস্মৃতি’তে নেরুদা প্রাচ্যদেশীয় অভিজ্ঞতা নিয়ে অনেক কথাই বলেছেন, আবার অনেক কথাই আমাদের জানাননি সেখানে। সেসব অজানা কথার কিছু সন্ধান পাওয়া যাবে সে সময়ের বিভিন্ন পত্রপত্রিকায় আর তাঁর বিভিন্ন বইয়ের স্প্যানিশ সংস্করণগুলোয়।
১৯২৭ সালে মাদ্রিদ থেকে প্যারিস, পোর্ট সৈয়দ, জিবুতি, কলম্বো, সিঙ্গাপুর হয়ে রেঙ্গুন পৌঁছানোর আগে বঙ্গোপসাগরে এলসিমোর ( Elsimor ) জাহাজে বসে লিখেছিলেন ‘El sueño de la tripulacion’ বা ‘the Dream of crew’ শিরোনামে কাব্যময় এক গদ্য-টুকরো। এটি ভ্রমণকালীন জাহাজে বিভিন্ন সংস্কৃতির মানুষজনের বর্ণনা। তবে বর্ণনাটা ঘুম আর স্বপ্নকে কেন্দ্রে রেখে। লেখাটির এক জায়গায় তিনি বলছেন :
“হিন্দুরা কাপড় দিয়ে চোখ-ঢেকে ঘুমায়, জীবন থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে আছে মৃত্যুর স্মারক এই আচ্ছাদনের মাধ্যমে। কেউ কেউ হৃৎপিণ্ড বরাবর বুকের কাছে আলতোভাবে হাত রেখে তীব্র স্বরে নাক ডেকে ঘুমিয়ে পড়ে।”
(Pablo Neruda: Antologia General, Alfaguara, España, 2010, P-87)
বঙ্গোপসাগর এলাকায় থাকতে থাকতেই তিনি গুরুত্বপূর্ণ একটি কবিতা লেখেন, যা পরে ১৯৩৩ সালে প্রকাশিত Residencia en la tierra-1 গ্রন্থে অন্তর্ভুক্ত হয়। কবিতাটির শিরোনাম Coleccion Nocturna বা Nocturnal Collection. কবিতাটির রচনাকাল কেবল ১৯২৭ সাল উল্লেখ করা হলেও এটি সম্ভবত লেখা হয়েছিল ওই বছরের সেপ্টেম্বরের দিকেই। কারণ আগের লেখাটির রচনাকাল সেপ্টেম্বর হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। দুটো লেখাই যে কাছাকাছি সময়ে তার আরেকটি প্রমাণ রচনাস্থান হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে ‘বঙ্গোপসাগর রেঙ্গুন ১৯২৭’ বলে। আগের লেখাটির যে উদ্ধৃতি একটু আগে হাজির করা হয়েছে, তার এক কাব্যিক রূপান্তর দেখা যাবে এই কবিতাটির এক জায়গায় :
ঘুমন্ত মৃতদেহ যারা প্রায়শই
হাত ধরে নেচে যায় আমার মর্মযাতনায়,
কত যে ধূসরতর শহর বন্দর আমরা ঘুরে বেড়িয়েছি।

(Pablo Neruda: Antologia General, Alfaguara, España, 2010, P-87)
পরের মাসে তিনি রেঙ্গুনে দায়িত্বভার গ্রহণ করেন এবং ১৯২৯ সালের শুরু পর্যন্ত অবস্থান করেন। ১৯২৮ সালে তিনি আলবারো ইনোহোসাকে সঙ্গে নিয়ে ঘুরে বেড়ান ইন্দোচীন, সাইগন, ব্যাংকক, বাট্টামব্যাং এবং বেরেমবার্গ। ফেব্রুয়ারিতে তিনি চীনে যান। কাউলুন, হংকং ও সাংহাই থেকে পরে জাপানে যান। সাংহাই অবস্থানকালে তিনি ফেব্রুয়ারিতে ‘Invierno en los puertos ‘ বা ‘নানান বন্দরে শীতকাল’ শিরোনামে একটি ভ্রমণাখ্যান লেখেন, যা তার ‘আত্মস্মৃতি’তে ঠাঁই পায়নি। বাট্রামবাং, বেরেনবেং, সাইগন, ব্যাংকক, চীন, কাউলুন, হংকং, নানকিন, সাংহাইসহ বিভিন্ন শহর বন্দর ভ্রমণের ওপর সংক্ষিপ্ত বর্ণনা এই লেখাটি।
১৯২৮ সালের ১১ মে নেরুদা এয়ান্দিকে রেঙ্গুন থেকে এক চিঠিতে তাঁর নিঃসঙ্গতার কথা জানান। এই চিঠির এক জায়গায় তিনি লেখেন : ‘মাঝেমধ্যে দীর্ঘ সময়ের জন্য আমি এত শূন্য হয়ে থাকি যে না থাকে কোনো কিছু প্রকাশের শক্তি, না পারি নিজের অভ্যন্তর খনন করতে। তীব্র কাব্যিক ব্যাকুলতা আমাকে ছেড়ে যায় না।’
(Pablo Neruda: Antologia General, Alfaguara, España, 2010, P-87)
রেঙ্গুনে লেখা আরো একটি জার্নাল ধরনের টুকরো গদ্য রয়েছে যার শিরোনাম La noche del soldado (সৈনিকের রাত), এটি পরে ১৯৩৩ সালে প্রকাশিত ‘মর্তের বাসিন্দা’ বা Residencia en la tierra -এর প্রথম খণ্ডে অন্তর্ভুক্ত হয়েছিল, যেখানে তার নিঃসঙ্গ অবস্থার পাশাপাশি রয়েছে সেখানকার জীবনশৈলী ও সাংস্কৃতিক জীবনের ওপর তার পর্যবেক্ষণ।
নিঃসঙ্গতার একটা চমৎকার কাব্যিক বর্ণনা আছে এই লেখাটির তৃতীয় স্তবকের শেষ পংক্তিটিতে : ‘একই অবস্থানের ঘণ্টাগুলো আমার দু’পাকে ঘিরে আছে। দিবস ও রাত্রির রূপে দিন যেন প্রায় সবসময় আমার ওপর থমকে আছে।’ (Pablo Neruda : Antologia General, Alfaguara, España, 2010, P-87)
এর পরের মাসে (জুলাই ১৯২৮) লেখেন তিনি Juntos nosotros (আমরা একসঙ্গে) শিরোনামে রেঙ্গুনে তাঁর প্রথম কবিতাটি। একই বছরের জুলাই-আগস্টে লেখেন Sonata Y Desctrucciones (সোনাটা ও ধ্বংস) কবিতাটি।
৬ আগস্ট রেঙ্গুন থেকে চিলির লেখক বন্ধু হোসে সান্তোস গনছালেস বেরাকে লেখেন এক চিঠি, যাতে তিনি এ অঞ্চলের সাধারণ মানুষের সাংস্কৃতিক ও ধর্মীয় বিশ্বাসের বর্ণনার পাশাপাশি জানাচ্ছেন তাঁর পরবর্তী কাব্যগ্রন্থের সম্ভাব্য শিরোনাম–মর্তের বাসিন্দা। ধর্মীয় সংস্কৃতির সূত্রে তিনি চিঠির শুরুতেই বলছেন : ‘এক বছরেরও বেশি হয়ে গেল এই বিদেশ-বিভুঁইয়ে। চমৎকার এই জায়গাটার এমন সব লোকজনের মধ্যে আছি যারা গরু আর সাপকে পূজা করে। ….’ (Pablo Neruda : Antologia General, Alfaguara, España, 2010, P-99)
নিজের নিঃসঙ্গতার কথা জানিয়ে এই একই চিঠিতে তিনি বলছেন : ‘কথা বলি আমার কাকাতুয়ার সঙ্গে, একটা হাতিকে মাসকাবারি টাকা দিই। দিনগুলো আমার মাথার ওপর লাঠির মতো এসে পড়ে; কিছুই লিখছি না কিছুই পড়ছি না, সাদা কাপড়-পরা মাথায় শোলার টুপি, একেবারে বিশুদ্ধ ভূত,…’ (Pablo Neruda : Antologia General, Alfaguara, España, 2010, P-99)
বন্ধুর কাছে নিজের নিঃসঙ্গতার একটা অন্তরঙ্গ ছবি তুলে ধরার স্বার্থে, নিছক অভিব্যক্তি হিসেবে ‘কিছুই লিখছি না’ বললেও তিনি লিখছিলেন অনেক কিছুই।
আগস্ট মাসেই তিনি লেখেন El joven monarca (তরুণ রাজা) নামে একটি কাব্যধর্মী টুকরো গদ্য বা গদ্য কবিতা। এটিও পরে মর্তের বাসিন্দায় অন্তর্ভুক্ত হয়।
৮ সেপ্টেম্বর এয়ান্দিকে আরেকটি চিঠি লেখেন, যেখানে তার মর্তের বাসিন্দা শেষ করে এনেছেন বলে জানিয়েছেন। রেঙ্গুনে পরের মাসেই (অক্টোবর ১৯২৮) লেখেন Diurno Doliente (যন্ত্রণার দিন) নামে একটি কবিতা।
সম্ভবত নভেম্বর-ডিসেম্বর-=-দুটি মাসই তিনি কলকাতায় কাটান। কারণ এখানে লেখা তার দুটি বিখ্যাত কবিতার রচনাকাল এবং রচনাস্থান সেই সাক্ষ্যই দেয়। নভেম্বরে লেখেন তিনি Tango del viudo (বিপত্নীকের তাঙ্গো) নামক সেই বিখ্যাত কবিতাটি যা তাঁর খ্যাতি ও কাব্যকৃতির এক আশ্চর্য নমুনা। এরই ধারাবাহিকতায় লেখেন আরো একটি অসাধারণ কবিতা Arte poetica (শিল্পতত্ত্ব বা কাব্যতত্ত্ব) যা তাঁর কাব্যকৃতির মূল দর্শনকে তুলে ধরে।
এই দুটি কবিতাও তার মর্তের বাসিন্দা গ্রন্থে অন্তর্ভুক্ত হয়েছিল। সম্ভবত ১৯২৯ সালের জানুয়ারিতে তিনি কলকাতা ছেড়ে চলে আসেন শ্রীলঙ্কার রাজধানী কলম্বোয়। এখান থেকে ১৪ মার্চ মাকে এক চিঠিতে তাঁর নিঃসঙ্গ জীবনের কথা জানান। একই সঙ্গে জানান এখানকার পরিবেশ ও জীবনে তাঁর অনুভূতির কথা।
প্রাচ্যজীবনের সঙ্গে নেরুদা খাপ খাওয়াতে না পেরে নিঃসঙ্গ ছিলেন বটে; কিন্তু তাঁর সৃষ্টিশীল সত্তা স্তব্ধ ছিল না। একাকিত্ব ও যন্ত্রণা, তাঁর সৃষ্টিশীল সত্তাকে যে গভীরতা ও মুখরতা এনে দিয়েছিল, তা নেরুদার কাব্যজীবনের উজ্জ্বল অধ্যায়গুলোর একটি।

কাউকে করো না দায়ী

কারোর বিরুদ্ধ তুমি কোরো না নালিশ কখনোই,
কোন কিছুকেই দায়ী কোরো না কখনো;
কারণ জীবনে তুমি যা চেয়েছ
তা-ই তুমি করেছ মূলত।
মেনে নাও নির্মানের অন্তরায় আর
নিজেকে শোধরানোর শুরুর সাহস।
ভুলের ভস্ম থেকে উঠে আসে প্রকৃত
মানুষের সফলতা।
কখনো কোরো না দায়ী নিয়তি ও একাকিত্বকে
মোকাবেলা করো সব সাহসের সঙ্গে।
যেকোনভাবেই হোক-এ তোমারই কাজের ফসল,
তুলে ধরো নিয়ত জয়ের লক্ষণ।
নিজের ব্যার্থতায় তিক্ত হোয়ো না আর
অন্যের কাঁধে তাকে দিয়ো না চাপিয়ে,
এই বেলা মেনে নাও কিংবা শিশুর মতো
ভাববে তুমি নিজেকে সঠিক।
যেকোন সময়েই, শোনো, সুসময় সূচনা করার
ভন্ডুলের জন্য এত ভয়ানক আর কিছু নেই।
ভুলো না, তোমার এই মূহুর্তের কারণটি তোমারই অতীত
যেমন তোমার ভবিতব্যের কার্যকরণ
হবে এই মুহুর্ত তোমার।

শিখে নাও হিম্মত ও বল
তোয়াক্কা যে করবে না পরিস্থিতির;
বেঁচে রও উজানে ও তোমার নিজের
মসিবত নিয়ে ভাবো কম, কাজ করো বেশী।
তোমার সমস্যাগুলো এমনিই ঝরে পড়ে যাবে।
বেদনার মধ্য থেকে জন্ম নিতে শেখো
বাধার চেয়েও বেশী বড় হয়ে ওঠো।
নিজের দর্পণে দেখো নিজেকে এবং
মুক্ত হও, বলবান হও;
হয়ো না পুতুল তুমি পরিস্থিতির,
কেননা নিজেই তুমি নিজের নিয়তি।
ওঠো, দেখো প্রতুষ্যের সুর্যের দিকে
নাও শ্বাস ভোরের আলোয়।
তোমার জিন্দেগিরই অংশ যে তুমি;
চোখ খোলো, যুদ্ধ করো, হাটো আর ঠিক করো তোমার
নিশানা;
জয় করো জীবনকে,
নিয়তির কথা তুমি ভেবো না কখনো
কেননা নিয়তি হল:
ব্যর্থতারই অজুহাত।

এখানে নাজিম হিকমত

Nazim
অনূদিত কবিতাটি সম্পর্কে দুটি জরুরি কথা পাঠকদের আগেই জানিয়ে রাখি। ইংরেজিতে অনূদিত নেরুদার কবিতার যে বইগুলো সহজলভ্য তাতে এ কবিতাটি আমি খুঁজে পাইনি। তবে ইন্টারনেটের বদৌলতে এটি স্প্যানিশ ভাষায় পাওয়া যায়। আমার উৎস এ ইন্টারনেট। এর দু-একটি ইংরেজি অনুবাদও আছে এ কবিতাটির নেরুদার অনুরাগী পাঠকদের কোনো কোনো ওয়েবসাইটে। তবে আমি নির্ভর করেছি স্প্যানিশ সংস্করণটিতেই। আরেকটি জরুরি কথা হলো এই যে হাতের কাছে নেরুদার স্প্যানিশ রচনাসমগ্র বা কবিতাসমগ্র না থাকায় এ মুহূর্তে নিশ্চিত করে বলতে পারছি না কবিতাটির রচনা বা প্রকাশকাল। সম্ভবত ১৯৫১ সালে মস্কোতে পরস্পরের সাক্ষাতের পর রচিত।

সদ্য মুক্তি পাওয়া
বন্দীদের একজন নাজিম হিকমত
তার কবিতার মতো
লাল রং সোনার সুতায়
বোনা জামা উপহার দিয়েছে আমায়।

তুর্কি লহুর সুতাগুলো
তার পদাবলি।
প্রাচীন প্রত্যয়ে গড়া,
—বাঁকা বা সরল—
সত্যিকার গল্পগুলো
ভোজালি বা তরবারির মতো।
গোপন কবিতাগুলো তার
আলোকিত দুপুরের
মুখোমুখি হবে বলে তৈরি হয়েছিল;
আজ তারা লুকায়িত আয়ুধের মতো,
জ্বলজ্বল করছে তারা মেঝের নিচে,
কুয়ার ভেতরে তারা অপেক্ষমাণ,
তার জনতার কালো চক্ষুযুগলের
দুর্গম আঁধারের নিচে।
বন্দিশিবির থেকে সে এল আমার
ভাই হতে আর
আমরা হেঁটেছি একসাথে
বরফে মোড়ানো স্তেপে;
রাত ছিল প্রজ্বলিত
আমাদের নিজস্ব আলোয়।

দেহের গড়ন তার ভুলব না বলে
আমি তার প্রতিকৃতি আঁকছি এখানে:

পুষ্পময় ভূখণ্ডের শান্তিতে উত্থিত
টাওয়ারের মতো
লম্বা সে
এবং ওপরে
তুর্কি আলোয় ভরা চক্ষুযুগল
দুটি বাতায়ন।

আমরা দুই ভবঘুরে
পেয়েছি শক্ত ভূমি আমাদের
পায়ের তলায়
বীর আর কবিদের
বিজিত ভুবন,
মস্কোর রাস্তায়, দেয়ালে দেয়ালে
পুষ্পিত হতে থাকে
পূর্ণিমার চাঁদ,
রমণীর প্রতি প্রেম
আনন্দ আর
প্রণয়ের প্রতি অনুরাগ
আমাদের একমাত্র গোত্র-পরিচয়।
সমগ্র বাসনাকে ভাগ করে নেওয়া,
সর্বোপরি, জনতার সংগ্রামের এক একটি ফোঁটা,
মানবসমুদ্রের ফোঁটাগুলো
তার আর আমার কবিতা।

কিন্তু
হিকমতের আমোদের অন্তরালে
অন্য এক নির্মাণ,
নির্মাণ ছুতারের মতো
কিংবা দরদালানের ভিত্তির মতো।

বহু বছরের নীরবতা
আর কারাবাস।
এসব বছর
বসাতে পারেনি দাঁত,
কিংবা পারেনি খেতে, গিলে ফেলতে
বীরোচিত যৌবনেরে তার।

আমাকে সে বলেছিল
দশ বছরের বেশি
বিজলিবাতির আলো
রাখত জ্বালিয়ে ওরা সমস্ত রাত
আজ সে গিয়েছে ভুলে সেই সব রাত
ভ্রুক্ষেপ নেই তার বিদ্যুতালোকে।
ডোবার ফুলের মতো
তার আমোদের
কালো রং শিকড়-বাকড়
প্রোথিত স্বদেশে;
আর তাই
যখন সে হাসে,
মানে নাজিম,
মানে নাজিম হিকমত
তখন সে হাসি নয় তোমার মতন;
তার হাসি অনেক সফেদ,
তার সে হাসিতে হাসে চাঁদ
নক্ষত্র,
শরাব,
মৃত্যুহীন মৃত্তিকা,
তাবৎ সোনালি ধান জানায় সম্ভাষণ
তার হাসি দিয়ে।
তার কণ্ঠে গান গায় মাতৃভূমি তার।

আর্টস-এ প্রকাশিত রাজু আলাউদ্দিনের অন্যান্য প্রবন্ধ:
বোর্হেস সাহেব

অনুবাদ, আদর্শ ও অবহেলা

“একজন তৃতীয় সারির কবি”: রবীন্দ্রকবিতার বোর্হেসকৃত মূল্যায়ন

রক্তমাংসের রবীন্দ্রনাথ

কার্লোস ফুয়েন্তেসের মৃত্যু:
সমাহিত দর্পন?

মান্নান সৈয়দ: আমি যার কাননের পাখি

বাংলাদেশ ও শেখ মুজিব প্রসঙ্গে আঁদ্রে মালরো

স্পানঞল জগতে রবীন্দ্র প্রসারে হোসে বাসকোনসেলোস

অক্তাবিও পাসের চোখে বু্দ্ধ ও বুদ্ধবাদ:
‘তিনি হলেন সেই লোক যিনি নিজেকে দেবতা বলে দাবি করেননি ’

কবি শামসুর রাহমানকে নিয়ে আমার কয়েক টুকরো স্মৃতি

বনলতা সেনের ‘চোখ’-এ নজরুলের ‘আঁখি’

ন্যানো সাহিত্যতত্ত্ব: একটি ইশতেহার

যোগ্য সম্পাদনা ও প্রকাশনা সৌষ্ঠবে পূর্ণ বুদ্ধাবতার

দিয়েগো রিবেরার রবীন্দ্রনাথ: প্রতিপক্ষের প্রতিকৃতি

গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস: তাহলে গানের কথাই বলি

অজ্ঞতার একাকীত্ব ও আমাদের মার্কেস-পাঠ

আবেল আলার্কন: স্পানঞল ভাষায় গীতাঞ্জলির প্রথম অনুবাদক

জামান ভাই, আমাদের ব্যস্ততা, উপেক্ষা ও কদরহীনতাকে ক্ষমা করবেন

এদুয়ার্দো গালেয়ানোর ‘দর্পন’-এ বাংলাদেশ ও অন্যান্য

প্রথমার প্রতারণা ও অনুবাদকের জালিয়াতি

আবুল ফজলের অগ্রন্থিত আত্মজৈবনিক রচনা

আবু ইসহাকের অগ্রন্থিত আত্মজৈবনিক রচনা

কুদরত-উল ইসলামের ‘গন্ধলেবুর বাগানে’

মহীউদ্দীনের অগ্রন্থিত আত্মজৈবনিক রচনা

বোর্হেস নিয়ে মান্নান সৈয়দের একটি অপ্রকাশিত লেখা

অকথিত বোর্হেস: একটি তারার তিমির

ধর্মাশ্রয়ী কোপ

রবীন্দ্রনাথের চিত্রকলা সম্পর্কে অক্তাবিও পাস

লাতিন আমেরিকার সাথে বাংলার বন্ধন

উপেক্ষিত কাভাফির অর্জুন ও আমরা

Flag Counter

এর্নেস্তো কার্দেনালের কবিতা

আলম খোরশেদ | ৩০ জুন ২০১৬ ১২:৩৯ অপরাহ্ন

Cardenalকবি পরিচিতি: নিকারাগুয়ার প্রখ্যাত পাদ্রি কবি এর্নেস্তো কার্দেনাল-এর জন্ম ১৯২৫ সালে। নিকারাগুয়ার সান্দিনিস্তা বিপ্লবের অন্যতম সংগঠক ও সৈনিক কার্দেনাল, খ্রিস্টধর্ম ও মার্কসবাদের মৌলসত্তা ও শিক্ষার সম্মিলনে এক নতুন রাজনৈতিক দর্শনের জন্ম দেন, যা তাঁর কবিতারও প্রধান চারিত্রলক্ষণ। তিনি এক পর্যায়ে সান্দিনিস্তাদের বিপ্লবী সরকারের সংস্কৃতি মন্ত্রীও ছিলেন। তাঁর প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থগুলোর মধ্যে অন্যতম, “Zero Hour”, “Homage to the American Indian”, “Psalms”, “Oracle on Managua”, “Flights of Victory” ইত্যাদি। অনূদিত কবিতাটি নিকারাগুয়া হ্রদে অবস্থিত সোলেন্তিনামে দ্বীপে কার্দেনালের নিজহাতে প্রতিষ্ঠিত একটি ভিন্নধর্মী আত্মিক, সামাজিক সংগঠনকে কেন্দ্র করে পরিচালিত তাঁর নিজস্ব রাজনৈতিক নিরীক্ষার ওপর ভিত্তি করে রচিত। (সম্পূর্ণ…)

আন্তোনিও মাচাদোর অপ্রকাশিত কবিতা: রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের প্রতি

| ৮ মে ২০১৬ ১১:৫১ পূর্বাহ্ন

machadorabi.jpgস্প্যানিশ ভাষায় কবি হিসেবে আন্তোনিও মাচাদোর কী অবস্থান তা বুঝাতে গেলে যথাযথ উদাহরণ হতে পারে আমাদেরই ভাষার কবি জীবনানন্দ দাশ–কাব্যিক বৈশিষ্ট এবং প্রগাঢ়তা, উভয় অর্থেই। এমনকি প্রকৃতি-মগ্নতা, কল্পনা-মনীষা ও কাব্যিক-স্পন্দনে উভয়ের মিল এতটাই যে মনে হবে একই কবি যেন ভিন্ন দুই ভাষায় জন্মেছেন। তুলনার প্রসঙ্গটি এল এই কারণে যে স্প্যানিশ ভাষার প্রধান দুই কবি ফেদেরিকো গার্সিয়া লোর্কা এবং হুয়ান রামোন হিমেনেছ বাংলা ভাষায় ব্যাপকভাবে অনূদিত হলেও মাচাদো থেকে গেছেন উপেক্ষিত। অথচ কাব্যিক গুরুত্বে সাহিত্যের গুণবিচারীদের কাছে অন্য ‍দু’জনের চেয়ে মাচাদো ঢের বেশি বিভাময়, উদ্ভিজ্জ ও সংক্রামক। উপেক্ষিত এই মাচাদো যে য়ূরোপের পটভূমিতে রবীন্দ্রনাথকে নিয়ে ১৯১৮ সালে একটি অসামান্য কবিতা লিখেছিলেন সেটি গোচরে আসে ২০০৩ সালে, মাচাদোর মৃত্যুর প্রায় ৭৫ বছর পর। এখনও পর্যন্ত এই কবিতাটির কোনো পূর্ণাঙ্গ ইংরেজি বা বাংলা তর্জমা হয়নি। এই প্রথম এটি বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম-এর পাঠকদের জন্য অনুবাদক, প্রাবন্ধিক ও অধ্যাপক খালিকুজ্জামান ইলিয়াস এবং লাতিন আমেরিকান সাহিত্য-বিশেষজ্ঞ রাজু আলাউদ্দিনের তর্জমায় উপস্থাপিত হলো। ইতালিয় ভাষায় Tutte le poessiee prose Scelte (Arnoldo Mandadori Editore S. A., Milano, 2010) শিরোনামে জিওভান্নি কারাভাগ্গির সম্পাদনায় মাচাদোর কবিতার একটি তর্জমা-গ্রন্থ প্রকাশিত হয়, সেখানে স্প্যানিশ যে প্রামাণ্য রূপটি গ্রহণ করা হয়েছে বর্তমান অনুবাদটি তারই প্রতিধ্বনি। (সম্পূর্ণ…)

পরের পাতা »

Disclaimer & Privacy Policy  |  About us  |  Contact us

© bdnews24.com