অনুবাদ কবিতা

ভিনিসিয়াস ডি মোরায়েস: হুইস্কি, ভবঘুরে ও সুর-লহরির কবি

মাজুল হাসান | ৫ মে ২০১৭ ১:৩৫ অপরাহ্ন

Vinicius de Moraesপুরো নাম মারকিউস ভিনিসিয়াস দা ক্রুজ ই মেলো মোরায়েস। সংক্ষেপে ভিনিয়াস ডি মোরায়েস। যদিও ব্রাজিলিয়ান এই কবিকে সবাই চেনে ‘ও পোয়েটিনহা’ বা ‘দ্যা লিটল পোয়েট’ হিসেবে। জীবদ্দশায় তিনি পরিণত হয়েছিলের ব্রাজিলের আধুনিক কবিতা ও গানের কিংবদন্তি ব্যক্তিত্বে। একাধারে ছিলেন কবি, প্রাবন্ধিক, গীতিকার, নাট্যকার, শিল্পবোদ্ধা ও সমালোচক। কবিতায় গীতিময়তা, গানে কবিতাবোধ আর নাটকে এই দুয়ের সংমিশ্রণ- এই হলো ভিনিসিয়াসের মূল বৈশিষ্ঠ।

বহুমুখী প্রতিভার অধিকারী মানুষটির জন্ম ১৯১৩ সালের ১৯ অক্টোবর রিও ডি জেনিরিও’র শহরতলি গাভেয়ায়। সরকারি কর্মকর্তা বাবা আর শখের পিয়ানোবাদক গৃহিনী মায়ের সন্তান ভিনিয়াসকের শৈশব-কৈশোর কেটেছে বিভিন্ন জায়গায়। বাবার চাকরি বদলের কারণে এই ঘোরাঘুরির জীবন অক্ষুন্ন ছিল পরবর্তীতেও। ভিনিসিয়াস নিজেও ছিলেন একজন কূটনীতিক।

রিও ডি জেনিরো বিশ্ববিদ্যালয়ে আইনশাস্ত্রে পাঠ চুকে গেলে ১৯৩৩ সালে প্রকাশিত হয় দুই দুটি কবিতার বই- ‘ক্যামিনহো পাথ এ ডিসটেন্সিয়া’ এবং ‘ফোর্মা ই এক্সেজেস’। ১৯৩৬ সালে চাকরি পান ব্রাজিলের শিক্ষা ও স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের ফিল্ম সেনশরশিপ বিভাগে। দু’বছর পর ব্রিটিশ কাউন্সিলের ফেলোশিপ নিয়ে অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে ইংরেজি ভাষা ও সাহিত্য পড়তে চলে যান। সেখানেই পুরনো খোলস ভেঙে ‘ফ্রিভার্স’ ও ‘ব্ল্যাঙ্ক ভার্স’ ফর্মে কবিতা লেখা শুরু করেন। ‘নোভেস পোয়েমাস’ বা ‘নিউ পোয়েট্রি’ অভিধায় লেখা কবিতাগুলো সকলের মনোযোগ আকর্ষণ করে। মূলত এর মাধ্যমেই ‘জেনারেশন অফ ফোর্টিফাইভ’ মুভমেন্টের অন্যতম পুরোধা ব্যক্তিতে পরিণত হন তিনি। (সম্পূর্ণ…)

সি. পি. কাভাফির কবিতা

কুমার চক্রবর্তী | ২৯ এপ্রিল ২০১৭ ১০:৪২ পূর্বাহ্ন

Cavafyগ্রিক কবিতায় অবিস্মরণীয় এক নাম কনস্তানতিন কাভাফি ১৮৬৩ সালের ২৯ এপ্রিল আলেকজান্দ্রিয়ায় জন্মগ্রহণ করেন। কর্মসূত্রে তিনি ছিলেন সরকারি চাকুরে, ১৮৯২ সালে গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ে তিনি যে পদ পান এবং সেখানেই অবসর নেওয়া পর্যন্ত তিনি কর্মরত ছিলেন। একই সময়ে তিনি লেখালেখি করতে থাকেন, তাঁর প্রথম দিকের লেখালেখিতে গ্রিক ইতিহাস, পুরাণ, ধ্রুপদি ও হেলেনীয়, বাইজানটীয় বিষয়বস্তুর প্রাধান্য ছিল। তিনি তাঁর মা হারিক্লেইয়া-র সাথে রাতের খাবার খেতেন, তারপর অধিকাংশ সময়ে পালিয়ে শহরের সমকামী পল্লিতে ঢুকে যেতেন। এই বিষয়টি তাঁর লেখাকে ঋদ্ধ করেছে। মানবকামের গূঢ়ৈষা তাঁর অভীপ্সিত ছিল। আজীবন ধুমপায়ী কাভাফি ফুসফুসের ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে ১৯৩২ সালের গ্রীষ্মে চিকিৎসার জন্য আথেন্সে এসে পরে ফিরে যান তাঁর প্রিয় আলেকজান্দ্রিয়ায়, সেখানেই পরের বছর সত্তরতম জন্মদিনে মারা যান। তাঁর সম্পর্কে ই. এম. ফরস্টার বলেছিলেন: ‘খড়ের টুপি মাথায় কিছুটা বাঁকা হয়ে একবারে স্থাণুবৎ জগতে দাঁড়িয়ে থাকা এক গ্রিক ভদ্রলোক।’ কাভাফি ছিলেন অনবদ্য এক আধুনিক। প্রাচীন বিশুদ্ধ ভাষা আর জনভাষাকে তিনি অতি শৈল্পিকভাবে কাজে লাগিয়েছেন তাঁর লেখায়, কাথেরঔসাকে দেমোতিকের সাথে নিজের ইচ্ছামতো বিমিশ্রিত করেছেন তিনি। পুরোদস্তুর অভিজাত এবং শহুরে হওয়া সত্ত্বেও আধুনিক জীবনের প্রতি তাঁর এক গোপন ঘৃণা ছিল, ধ্রুপদি অতীতের প্রতি ছিল তাঁর এক মোহ ও প্রত্যাগমনাভিলাষ। যেহেতু তাঁর স্বপ্নের জগৎ ছিল অতীতের জগৎ, তাই প্রাচীন ভাষার ব্যবহার তাঁর কবিতায় লক্ষ্যণীয় কিন্তু তা বোধগম্য এবং উপযোগীভাবে ব্যবহৃত হয়েছে। গোপনীয়তায় লেখালেখি করে গেছেন তিনি, চল্লিশ বছর বয়স হওয়ার আগ পর্যন্ত তাঁর প্রতিভার আঁচ টের পাওয়া যায়নি। একান্ত ব্যক্তিগত সীমারেখায় তিনি কবিতা লিখে যেতেন, আর তখন ফরস্টার ও অল্পসংখ্যকই তাঁর কবিতার গুণগ্রাহী ছিলেন। ১৯৩৫ সালের আগে তাঁর কবিতা প্রকাশ্যে বেরও হয়নি। তাঁর সমকামীবন্ধু ফরস্টার ১৯২২ সালে তাঁর গাইড টু আলেকজান্দ্রিয়া বইয়ের মাধ্যমে তাঁকে সারাবিশ্বে পরিচয় করিয়ে দেন যেখানে তাঁর কিছু কবিতার অনুবাদও ছিল। পেগানবাদ এবং খ্রিস্টানত্বের সম্মিলন কাভাফির লেখায় পরিলক্ষিত। তাঁর প্রসিদ্ধ কাজগুলো হলো, ইথাকা, ওয়েটিং ফর দ্য বারবারিয়ানস, দ্য গড অ্যাবানডন্স অ্যান্টনি।
এমন এক বিষন্নতার ভেতর থেকে তিনি লেখেন, যিনি তাঁর যুগ এবং ধূসর সৌন্দর্যের সাথে একাত্ম হতে পারেন না: হে কাব্যশিল্প, আমি তোমার কাছে ফিরে আসি / যেহেতু তোমার আছে নিদানের স্ববিশেষ জ্ঞান: / ভাষা আর কল্পনার সুনিশ্চিত নিদ্রাবটিকা। (সম্পূর্ণ…)

সদ্যপ্রয়াত রুশ কবি ইয়েভগেনি ইয়াভতোশেঙ্কোর কবিতা: আমার বিশ্ববিদ্যালয়গুলো

আবদুস সেলিম | ৩ এপ্রিল ২০১৭ ৫:২৮ অপরাহ্ন

timeyevtushenkoসম্ভবত সত্তর দশকের মাঝামাঝি আমি তখনকার সাপ্তাহিক পত্রিকা, কবি বেলাল চৌধুরী সম্পাদিত “সন্ধানী”-তে ইয়েভগেনি ইয়াভতোশেঙ্কোকে (১৯৩২-২০১৭) নিয়ে লিখেছিলাম যে তিনি কানায়-কানায় পূর্ণ মস্কোর লুজনিকি স্টেডিয়ামে স্বরচিত কবিতা পাঠ করে শ্রোতাদের বাকরুদ্ধ করে রেখেছিলেন। তখন তাঁর বয়স ছিল মধ্য-চল্লিশ। এর পর দীর্ঘ চল্লিশ বছর পার হয়ে। তাঁর মৃত্যুতে শোক ও শ্রদ্ধাজ্ঞাপন করছি সদ্য অনূদিত তার এই আত্মউন্মোচনকারী কবিতাটি দিয়ে।–অনুবাদক

আমি শুধু অত্যুজ্জ্বল ফ্রেমে বাঁধা মানুষদের
কাছ থেকেই আমার শিক্ষা নিই নি,
বিবর্ণ পরিচয়হীন মানুষরাও
আমাকে অনেক কিছু শিখিয়েছে।
টলস্টয়ের চেয়ে অন্ধ ভিখেরির কাছে অনেক শিখেছি।
সেই ভিখেরি যে কাউন্ট টলস্টয়ের
গান গেয়ে ট্রেনে-ট্রেনে ভিক্ষে করে খেত।
প্যাস্টারনাকের চেয়ে কুৎসিত বিদ্রুপই
আমাকে অনেককিছু শিখিয়েছে।
আর আমার কাব্যশৈলী হয়ে উঠেছে রগ-রগে আপন ভাষা।
যুদ্ধবাতিল পঙ্গুদের কাছ থেকে
স্ন্যাক খেতে-খেতে শুনেছি ইয়েসিনিন তত্ত্ব
সেই মানুষগুলো যারা টুটা-ফাটা
জামার ভেতর থেকে মুক্ত করেছে তাদের গুপ্ত-কথা!
মায়াকোভস্কির বিন্যস্ত কবিতাগুলো
দিতে পারে নি যা দিয়েছে
বাচ্চা ছেলেমেয়ের প্যান্টে ঘষ্টানো
মলিন সিড়ির চকচকে রেল।
স্বল্পবাক বৃদ্ধাদের কাছ থেকে জিমা জাংশনে জেনেছি
কাটা-ছেঁড়া জখমকে ভয় না পেতে। (সম্পূর্ণ…)

আমার ভেতর যে নারীর চলন

রেশমী নন্দী | ১ এপ্রিল ২০১৭ ৯:০৯ অপরাহ্ন

Nizar Qabbani ‍নিজার কাব্বানি( ১৯২৩-১৯৯৮) বিংশ শতকের জনপ্রিয় আরব কবিদের মধ্যে অন্যতম। দামাস্কাসে জন্ম নেয়া এ কবি সারল্য আর মার্জিত প্রকাশভঙ্গীতে লিখেছেন প্রেম, নারীবাদ আর ধর্মের মতো বিষয় নিয়ে। তাঁর লেখায় যেমন রয়েছে খোলামেলা প্রেমের প্রকাশ, তেমনি রয়েছে নিত্য প্রকাশে সয়ে যাওয়া নানা অসঙ্গতির বিরুদ্ধে বিদ্রোহও। নারীবাদি এ কবির নানা লেখা রক্ষণশীল আরব সমাজে সমালোচিতও হয়েছে প্রচুর। অনূদিত কবিতা “আমার ভেতর যে নারীর চলন” (A Woman Moving Within Me) কবিতাটি আরবী থেকে ইংরেজীতে অনুবাদ করেছেন হাসেম বিন লাজরাগ (Houssem Ben Lazreg)। বাংলায় ভাষান্তরিত করেছেন রেশমী নন্দী।

আমার ভেতর যে নারীর চলন
আমার ভেতর যে নারীর চলন
চায়ের কাপে ভেসে ওঠা ছবির অর্থ বুঝতে পারলে
যে কেউ বুঝে যাবে তুমিই আমার প্রেম
হাতের রেখা পড়তে পারলে যে কেউ দেখতে পাবে
তোমার নামের চারটি অক্ষর ফুটে আছে সেখানে,
অস্বীকার করা যায় যে কোন কিছু
কেবল ভালবাসার মানুষের গায়ের গন্ধ ছাড়া,
লুকিয়ে রাখা যায় যে কোন কিছু
কেবল ভেতরে বাজতে থাকা প্রেয়সীর পদধ্বনি ছাড়া,
তর্ক করা যায় যে কোন বিষয় নিয়ে
কেবল তোমার নারীত্বের আকর্ষণ ছাড়া। (সম্পূর্ণ…)

কার্লোস দ্রুমেন দি আন্দ্রাদে’র কবিতা

মাজুল হাসান | ৩১ মার্চ ২০১৭ ১:১৬ পূর্বাহ্ন

carlos-drummond-de-andradeব্রাজিলের সর্বকালের অন্যতম শ্রেষ্ঠ কবি। জীবদ্দশাতেই তিনি পরিণত হয়েছিলেন ব্রাজিলের সাংস্কৃতিক আইকনে। জন্ম ১৯০২ সালের ৩১ অক্টোবার ব্রাজিলের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলীয় মাইনাস গেরাইস-এর ইটাবিরা গ্রামে, যেটি খনির জন্য প্রসিদ্ধ। পর্তুগিজ বংশোদ্ভূত বাবা-মা’র সন্তান কার্লোস দ্রমেনের পড়াশোনা ফার্মেসিতে। কিন্তু কখনোই সেই পেশা ভালো লাগেনি তাঁর। ফলে সরকারি চাকরি করেই কাটিয়েছেন বাকি জীবন। ছিলেন ন্যাশনাল হিস্টোরিকাল আন্ড আর্টিস্টিক হেরিটেজ সার্ভিস অফ ব্রাজিলের চেয়ারম্যান।

১৯৩০ সালে প্রকাশ পায় প্রথম কবিতার বই আলগুমা পোয়েসিয়া। সবশেষ কবিতার বই হিস্তোরিয়া দি দোয়েস আমোরেস প্রকাশ পায় ১৯৮৫ সালে। ১৯৮৭’র ১৭ আগস্ট মারা যান তিনি। এর পরেও ১৯৮৮তে ও পিনতিনহো এবং ২০০৯ সালে বের হয় ক্যারোল ই জিনা। কবিতার পাশাপাশি লিখেছিলেন দেড় ডজনেরও বেশি গদ্যের বই, যেগুলো শিল্প-সাহিত্য-রাজনীতি বিবিধ বিষয়ে লেখা।

মারিও দি আন্দ্রেদে ও ওসওয়াল্ড দি আন্দ্রদেদের কাব্যধারা প্রবাবিত দ্রুমেন ছিলেন মনেপ্রাণে আধুনিক। তাই আধুনিক কাব্যকৌশল যেমন: ফ্রি-ভার্সের প্রতি পক্ষপাত, বিষয়বস্তু হিসেবে কোনো নির্দিষ্ট গণ্ডিতে আবদ্ধ না থাকা ইত্যাদি বিষয়গুলো তাঁর লেখায় প্রতীয়মান হয়। ধীরে ধীরে অন্যের প্রভাব বলয় থেকে বেরিয়ে নিজের কাব্যভাষা ও ধারা প্রতিষ্ঠা করেন তিনি। আলফ্রেদো বোসি বলছেন, লজিস্টিক ফ্রিডম ও ফ্রি-ভার্সের মধ্যে থেকেও তার কবিতা পাঠককে অন্য এক ভুবনে নিয়ে যায়। রোমানো ডি সেইন্ট আন্না তাঁর কাব্যচর্চাকে মোটা দাগে ৩টি পর্ব চিহ্নিত করেছেন।
১. greater than the world – marked by ironic poetry
২. lower than the world – marked by social poetry
৩. equal to the world – covers the metaphysical poetry

১৯৮০’র শেষ দিকে কার্লোস দ্রুমেনের কবিতা খানিক ইরোটিক হয়ে ওঠে। মার্কিন কবিমহলেও সমান পরিচিত ছিলেন তিনি। মার্ক স্ট্রান্ড ও লয়েড স্কোয়ার্দজ তার কবিতা ইংরেজিতে ভাষান্তর করেছেন। এলিজাবেথ বিশপের সাথে পত্রালাপও ছিল তাঁর, যিনি তাঁর প্রথম ইংরেজি অনুবাদকও। কবিতাগুলো ইংরেজি অনুবাদের ভিত্তিতে থেকে বাংলায় তর্জমা করা হলো।–অনুবাদক (সম্পূর্ণ…)

জুয়্যো কাবরাল ডি মেলো নেয়েতোর কবিতা

মাজুল হাসান | ১৫ মার্চ ২০১৭ ১১:০৬ পূর্বাহ্ন

João Cabral de Melo Neto(1)জুয়্যো কাবরাল ডি মেলো নেয়েতো’ ব্রাজিলের আধুনিক কবিতার অন্যতম প্রধান কণ্ঠস্বর। মৃত্যুর আগ পর্যন্ত সম্ভাব্য নোবেল সাহিত্য পুরস্কারের জন্য বারবার উচ্চারিত হয়েছে তাঁর নাম। দেশে-বিদেশে বিভিন্ন পুরস্কার পেলেও শেষ পর্যন্ত নোবেল থেকে গেছে অধরা। জন্ম ১৯২০ সালের ৯ জানুয়ারি ব্রাজিলের উত্তরপূর্বাঞ্চলীয় পুর্নামবুকো’র রেসিফি শহরে। কৈশোর যৌবনের বড় অংশই কেটেছে সেখানে। ছিল পৈত্রিক গেন্ডারি খামার আর চিনির কল। ১৯৪০ সালে সপরিবারে চলে আসেন রিও ডি জেনিরোতে। দু’বছর পর বের হয় প্রথম কবিতার বই পেদ্রা ডি সনো (ঘুমন্ত পাথর), সর্বসাকুল্যে বিক্রি হয়েছিল ৩শ’ ৪০ কপি। ১৯৪৫ সালে কূটনৈতিক হিসেবে কর্মজীবনের সূত্রপাত; নানা দেশ ভ্রমন ও পেশাগত দায়িত্ব পালনের অভিজ্ঞতা। বেশ লম্বা সময় কাটিয়েছেন স্পেনে। ১৯৫৬ সালে প্রকাশিত হয় সবচেয়ে বিখ্যাত কাব্যগ্রন্থ মোর্তে ই ভিদা সেভেরিনা (একজন সেভেরিনার জীবন-মৃত্যু)। সব মিলিয়ে ১৮টি কবিতার বই আর ২টি নাটক। যার একটি মোর্তে ই ভিদা সেভেরিনা’র নাট্যরূপ। অন্যটি অটো দো ফ্রাদে

স্যুরিয়েল ধাঁচের লেখা হলেও মেলো নেয়েতো’র কবিতার বিশেষ বৈশিষ্ট আধ্যাত্মিকতা, ন্যায়নিষ্ঠতা, যা তাঁকে আলাদা করেছে ব্রাজিলের অন্য কবিদের থেকে। ব্রাজিলের উত্তরপূর্বাঞ্চলীয় এলাকার আদিম কবিতা ফর্ম করডেলের সংমিশ্রনে গড়ে ওঠে তার কাব্যভাষা। যেখানে ঘুরেফিরে উঠে এসেছে পুর্নামবুকো’র পরিবেশ-প্রতিবেশ, রূঢ় জীবনধারা।

১৯৬৮ সালে ব্রাজিলিয়ান একাডেমি অফ লেটার্স-এর চেয়ারম্যান নিযুক্ত হন মেলো নেয়েতো। ১৯৯৯ সালের ৯ অক্টোবর রিও ডি জেনিরোতে মৃত্য হয় ব্রাজিলের আধুনিক কবিতার অন্যতম এই পুরোধা ব্যক্তির। তাঁর লেখা ইংরেজি, ফরাসী, স্প্যানিশসহ বিভিন্ন ভাষায় অনূদিত হয়েছে। (সম্পূর্ণ…)

দুই বাগানের ফুল

ওমর শামস | ১২ জানুয়ারি ২০১৭ ১১:১৭ পূর্বাহ্ন


১. ভূমিকা

:
border=0অক্তাবিও পাজ, মেক্সিকোর কবি-নৃতাত্ত্বিক-ডিপ্লোম্যাট, ১৯৫১ সনে এক সরকারি রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সফরে ভারতে গিয়েছিলেন। শুধু ছ-মাস ছিলেন। ১৯৬২ তে তিনি মেক্সিকোর রাষ্ট্রদূত হয়ে আবার দিল্লী পৌঁছান। এবার ছ-বছর অবস্থান করেছিলেন, শুধু ভারতের নয় আফগানিস্তান,পাকিস্থান, সিংহলের রাষ্ট্রদূত হিশাবেও। তিনি সারা ভারতবর্ষ, আফগানিস্তান প্রভূত ঘুরেছিলেন, বিশেষ করে ঐতিহাসিক নিদর্শন, ভারতীয় ইতিহাস-সংস্কৃতি, হিন্দু-বৌদ্ধ ধর্ম পড়েছিলেন। এসব নিয়ে স্থানীয় বুদ্ধিজীবীদের সঙ্গে আলাপ-আলোচনা করেছিলেন। অবশেষে বই লিখছিলেন : Conjunctions and Disjunctions, The Monkey Grammarian, In Light of India।Alternating Currents বইতেও বৌদ্ধচিন্তা নিয়ে প্রবন্ধ আছে। A Tale of Two Gardens, তাঁর ভারতবর্ষে থাকাকালীন রচিত কবিতার সংগ্রহ। “দুই বাগানের গল্প” গ্রন্থের কবিতাগুলোর নাম : মথুরা, আমীর খুসরো-র সমাধি, হুমায়ুন-এর সমাধি, লোদি উদ্যান, উদয়পুরে একদিন, মাইসোর-এর রাস্তায়, উটকামুন্ড, মাদুরাই, কোচিন, হিরাটে সুখ, থাঙ্গিগারু গিরিপথ, বৃন্দাবন, শূন্যতা, মৈথুন, এলিফান্টার দ্বীপে রবিবার । বৌদ্ধ, হিন্দু দর্শন সংক্রান্ত বিষয় অথবা ভূগোল, ঐতিহাসিক স্থান, ঘটনার মধ্যে দিয়ে ভারতবর্ষীয় চিন্তাকে বোঝা ও প্রকাশ করা। তিনি আমীর খুসরোকে, সূফিবাদ, তাঁর কবিতা এবং নিজামুদ্দীন আউলিয়া-র সঙ্গে সম্পর্ককে বোঝার চেষ্টা করেছিলেন। আমীর খুসরো (১২৫৩-১৩২৫) ভারতে জন্মগ্রহণ করা তুর্কি বংশীয় পণ্ডিত, সূফি, ঐতিহাসিক, কবি এবং রাজসভাসদ-মন্ত্রী ( আলাউদ্দীন খিলজী এবং অন্যন্য বাদশা-র)। দুই ভূগোলের, দুই যুগের দুই কবির কয়েকটি কবিতা অনুদিত হলো। দুজনের কবিতার মেজাজ, গঠন অবশ্যই আলাদা – তাঁরা দুই বাগানের ফুল। (সম্পূর্ণ…)

ডেভিড হোয়াইটের কবিতা: অপরাহ্ণের নারী

আনন্দময়ী মজুমদার | ২৪ অক্টোবর ২০১৬ ১০:৪৯ অপরাহ্ন

Davidডেভিড হোয়াইট একজন ইংরেজ কবি। তাঁর মা আয়ারল্যান্ড এবং বাবা ইয়র্কশায়ারের মানুষ। জন্ম ২ নভেম্বর ১৯৫৫। তাঁর বক্তব্য, তাঁর সমস্ত লেখা যেন ‘বাস্তবতার সঙ্গে আলোচনা’। তাঁর অনেক ক’টি গদ্য ও কবিতার বই এর মধ্যে The Heart Aroused: Poetry and the Preservation of the Soul in Corporate America (১৯৯৪) যুক্তরাষ্ট্রের বেস্টসেলারের তালিকায় শীর্ষে ছিল।

তিনি নিজের প্রাকৃতিক প্রতিবেশের শৈশবকে ওয়ার্ডসওয়ার্থের সঙ্গে তুলনা করেছেন। হোয়াইটের প্রথম প্রাতিষ্ঠানিক ডিগ্রি সমুদ্র জীববিদ্যায়।

বিশের কোঠায় ডেভিড একজন প্রকৃতিবিদ হিসেবে গ্যালাপাগোস দ্বীপে থাকতেন, সেখানে হুড দ্বীপের কাছে তিনি খুব নিকটবর্তী সলিল সমাধি থেকে রক্ষা পেয়েছেন। তিনি নৃতত্ত্ব এবং ইতিহাসের গবেষক হিসেবে দুঃসাহসিক অভিযানে নেতৃত্ব দিয়েছেন, গেছেন আন্দেজ পর্বতে, আমাজন অরণ্যে, হিমালয়ে।

হোয়াইট ১৯৮১ সালে যুক্তরাষ্ট্রে যান এবং সেখানে তাঁর লেখালেখি এবং বক্তা হিসেবে তার বৃত্তি শুরু করেন। ১৯৮৭ থেকে তিনি তাঁর কবিতা এবং দর্শনকে বিপুল জনসভায় নিয়ে যেতে থাকেন। এর মধ্যে ছিল আমেরিকা ও ব্রিটেনে নেতৃত্বের সাংগঠনিক ভূমিকার ওপর এবং শিল্প প্রতিষ্ঠানে ও ব্যবসায় সৃজনশীলতার ব্যবহার সম্বন্ধে পরামর্শ এবং বক্তব্য উপস্থাপন করা। তিনি সেই সূত্রে বোয়িং, এটিএন্ডটি, নাসা, টয়োটা, দ্য রয়েল এয়ার ফোর্স এবং আর্থার এন্ডারসন একাউন্টেন্সি গ্রূপের সঙ্গে কাজ করেছেন।

হোয়াইট-এর সাতটি কবিতার এবং চারটি গদ্যের বই রয়েছে। তাঁর Pilgrim (২০১২) বইটি মানুষের পথিক হিসেবে নিজেকে দেখার, ও যাত্রা করার মানবিক প্রয়োজনীয়তার কথা আছে। The House of Belonging এ আছে ঘরের, গৃহের প্রয়োজনের কথা। Everything Is Waiting For You (২০০৩) বইটির কবিতা তাঁর মা’র মৃত্যুর শোক থেকে জন্ম নেওয়া ব’লে তিনি দাবী করেছেন। সাম্প্রতিক বই Consolations: The Solace, Nourishment and Underlying Meaning of Everyday Words| তিনি হাফিংটন পোস্ট বা অবজারভার-এর মতো অনেক খবরের কাগজের জন্য লিখেছেন। আয়ারল্যান্ড, ইংল্যান্ড এবং ইতালিতে তিনি প্রায়শ কবিতা এবং সমবেত ভ্রমণের নেতৃত্ব দিয়ে থাকেন। -ডেভিড হোয়াইট
আনন্দময়ী মজুমদারের তর্জমায় এখানে হোয়াইটের ‘মিড লাইফ উওম্যান’ কবিতাটি বাংলাভাষী পাঠকদের জন্য উপস্থাপন করা হলো। বি.স. (সম্পূর্ণ…)

ম্যানুয়েল ডি বারোসের কবিতা

মাজুল হাসান | ২১ অক্টোবর ২০১৬ ১১:৪১ পূর্বাহ্ন

Manoel de Barrosব্রাজিলের কবি ম্যানুয়েল ডি বারোস। পুরো নাম ম্যানুয়েল ওয়েসেসলাও লেইতে ডি বারোস। বিশ্বসাহিত্যে সেই অর্থে বহুল পরিচিত ও পঠিত না হলেও ব্রাজিলিয়ানদের কাছে তিনি এক অলঙ্ঘনীয় কবিচরিত্র। জন্ম ১৯১৬’র ১৯ ডিসেম্বর কিউবায়। মৃত্যু ১৩ নভেম্বর ২০১৪, ব্রাজিলের কাম্পো গ্রান্ডে। প্রায় ৯৭ বছরের দীর্ঘ জীবনে তিনি লিখেছেন অজস্র কবিতা। লাভ করেছেন বহু পুরস্কার। ব্রাজিলের সর্বোচ্চ সাহিত্য পুরস্কার প্রেমিও জাবুতি বা টরটোয়েস অ্যাওয়ার্ড পেয়েছেন দুই বার। সামগ্রিক কাজের স্বীকৃতি হিসেবে ১৯৯৮ সালে পেয়েছেন ‘National prize of Literature of the Ministry of the Culture from Brazil’ পুরস্কার। ব্রাজিলের আরেক কিংবদন্ততুল্য কবি কার্লোস দ্রুমন্ড ডি অ্যান্ড্রেড বারোস’কে বলেছিলেন কবিশ্রেষ্ঠ। পর্তুগিজ ভাষার এতো বড় একজন কবি, কিন্তু দুঃখজনক হলো তার সৃষ্টি দেশের গণ্ডি পেরুতে পারেনি। বারোসের কবিতার প্রথম ও এখন পর্যন্ত একমাত্র ইংরেজী সংস্করণ Birds for a Demolition। কার্নেগি মিরান ইউনিভার্সিটি প্রেস থেকে বের হয় ২০১০ সালে। অনুবাদ করেন ইদ্রা নোভি, যিনি নিজেও একজন উদীয়মান মার্কিন কবি, ঔপন্যাসিক ও ফিকশন লেখক। মূলত তার অনুবাদের পর বারোসকে চেনে বিশ্ব। Birds for a Demolition–এর রিভিউয়ে এক লেখক আক্ষেপ করে বলেছিলেন- এটা দুঃখজনক যে এমন একজন শক্তিশালী কবির কবিতা এতোদিন ইংরেজিতে অনুবাদই হয়নি। পর্তুগিজের বাইরে বারোসের কবিতা প্রথম অনুবাদ হয় জার্মান ভাষায়, ১৯৯৬ সালে। এরপর ২০০৩-এ ফরাসি ও ২০০৫-এ স্প্যানিশ ভাষায় বের হয় বারোসের কবিতা সংকলন। বাংলায় মেনুয়্যাল ডি বারোসের কবিতার অনুবাদ এই প্রথম। ইড্রা নোভি’র ইংরেজি সংস্করণ থেকে বারোসের কবিতাগুলো ভাষান্তর করেছেন কবি মাজুল হাসান

প্রথম দিন

গতকাল বৃষ্টি ঝরেছিল ভবিষ্যতে
জল শুষে নিয়েছিল আমার বিহ্বলতা
ঘুমপোশাক
বাসনকোশন
একটা ছিপির মতো ভেসে গিয়েছিলাম বানের তোড়ে
ডাকটিকেটের মতো হালকা আমার ডোঙ্গানৌকা
জলের নেই কোনো সীমা-পরিসীমা
দেখা যাচ্ছে শুধু আকাশ আঙিনার আভাস
(শকুনি কি আমাকে দেখছে শ্যেন দৃষ্টিতে?)
পাতার সাথে সার বেধে আছি দাঁড়িয়ে
পামগাছের গোড়া থেকে কারান্ডা ফল খেয়ে যাচ্ছে মাছ (সম্পূর্ণ…)

বব ডিলানের গান: এই যে সময় পালটে যাচ্ছে, পালটে যাচ্ছে, যাবে

আনন্দময়ী মজুমদার | ১৪ অক্টোবর ২০১৬ ১০:৫৯ অপরাহ্ন

অনুবাদ: আনন্দময়ী মজুমদার

যে যেখানে আছ, সবাই জলদি করো
জটলা বেঁধে এসে
এই কথাটা কবুল করো, সবাই যাবে
বানের জলে ভেসে
কবুল করো, ভিজে যাচ্ছে হাড় কখানা
শুকনো ডাঙার দেশে
জীবন যদি মূল্য ধরে
বেঁচে থাকতে হবে
ভেসে থাকার জন্য এবার সাঁতার দিতে হবে
তা না হলে নুড়ির মতো তলিয়ে যাবে সবাই
এই যে সময় পালটে যাচ্ছে, পালটে যাচ্ছে, যাবে।

সমালোচক, লেখক, এসো
কলম আনো, ভবিষ্যৎ-কে পাবার
দু’চোখ বুজে থেকো না আর
এ-সুযোগ যে আসবে না, তাই
রায় দিও না জলদি কিছুই
এই তো চাকা ঘুরছে এখন
কার কথা যে ভাসছে হওয়ায়
জানবে পরে, জানতে যখন পাবে
বুঝলে কিনা, এই যে সময় পালটে যাচ্ছে, পালটে যাচ্ছে, যাবে। (সম্পূর্ণ…)

বব ডিলানের একটি গান

মোস্তফা তোফায়েল | ১৪ অক্টোবর ২০১৬ ১:৫১ অপরাহ্ন

Bob Dylanঅ্যামেরিকান গায়ক, গীতিকার, কবি বব ডিলানের জন্ম তারিখ ২৪ মে ১৯৪১। জনপ্রিয় গীতিকার ও গায়ক হিসেবেই তাঁর পরিচয়। বব ডিলানের প্রথম পর্যায়ের সঙ্গীত “Blowin’ the Wind” এবং “ The times they are a-changing” সেদেশের নাগরিক অধিকার প্রতিষ্ঠার সংগ্রাম এবং যুদ্ধবিরোধী দৃষ্টিভঙ্গী সৃষ্টিতে বিশেষ অবদান রাখে। অ্যামেরিকার জনগণ এ গান দু’টিকে জাতীয় সঙ্গীতের সমান মর্যাদা দিয়েছে। তাঁর ৬ মিনিটের একক সঙ্গীত “ Like a Rolling Stone ” (১৯৬৫) লোকসঙ্গীতের জনপ্রিয়তা সৃষ্টিতে অবদান রাখে। জর্জ হ্যারিসনের “ Concert for Bangladesh 1971”-এ অংশগ্রহণ করে বব ডিলান চমক সৃষ্টি করেছিলেন। তাঁর সঙ্গীত ও কবিতা রাজনৈতিক, সামাজিক, দার্শনিক ও সাহিত্যিক ইত্যাদি বহুবিধ ক্ষেত্রে প্রভাব বিস্তার করেছে। ‘রক এ্যান্ড রোল’ ‘জ্যাজ’ ‘ফোক্’ সঙ্গীতে তিনি গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন।

বব ডিলানের পুরস্কারপ্রাপ্তির তালিকায় আছে ‘গ্রামি অ্যাওয়ার্ডস’, ‘গোল্ডেন গ্লোব এ্যাওয়ার্ড’ এবং ‘অ্যাকাডেমি অ্যাওয়ার্ড’। পুলিৎজার প্রাইজ জুরি ২০০৮ সালে তাঁকে একটি বিশেষ খেতাবে ভূষিত করে। প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা ২০১২ সালে তাঁকে দেন Presidential Medal of Freedom। অ্যামেরিকার সঙ্গীত ঐতিহ্যের ধারায় নতুনতর কাব্যিক উন্মেষ সৃষ্টির প্রয়াসে অবদান রাখার স্বীকৃতি স্বরূপ ২০১৬ সালে তিনি লাভ করেছেন নোবেল সাহিত্য পুরস্কার।

বব ডিলানের কবিতা ‘মর্যাদা’
অনুবাদ: মোস্তফা তোফায়েল

মোটাসোটা লোকে খোঁজে সুতীক্ষ্ণ ইস্পাত পাতে
হাল্কা পাতলা লোকে খোঁজে তারে সব শেষ ভাতে
ফাঁপা লোক খোঁজে তারে বুননের কারখানাটাতে
মর্যাদা থাকেন কোথায়।

জ্ঞানীলোক খোঁজে তারে তৃণদের ধারালো ফলায়
তরুণেরা খোঁজে তারে ছায়া যেটা পাশ দিয়ে যায়
গরিবেরা রঙচঙে কাঁচ পরে সম্মুখে তাকায়
মর্যাদা থাকেন কোথায়। (সম্পূর্ণ…)

সাইমন জে. অর্টিজ-এর কবিতা

মুহাম্মদ সামাদ | ২৪ সেপ্টেম্বর ২০১৬ ১২:১০ অপরাহ্ন

saimonসাইমন জে. অর্টিজ একাধারে কবি, গল্পকার ও প্রাবন্ধিক। অগ্রগামী আদিবাসী আমেরিকান এই কবির জন্ম ১৯৪১ সালের মে মাসে। তার রচিত গ্রন্থের সংখ্যা পঁচিশের অধিক। অনূদিত হয়েছেন ইতালীয়, স্প্যানিশ ও চীনা ভাষায়। দেশে-বিদেশে অনেক পুরস্কার ও সম্মানে ভূষিত হয়েছেন। ইংরেজি সাহিত্যের প্রবীণ এই আমেরিকান অধ্যাপকের আগ্রহের ক্ষেত্র আদি আমেরিকানদের ভূমি-অধিকার, সাংস্কৃতিক স্বাধীনতা, শিল্প-সাহিত্য ও সৃজনশীল লেখালেখি বিষয়ের নতুন ভাবনায় ও পাঠদানে। যুক্তরাষ্ট্রের নিউ মেক্সিকো অঙ্গরাজ্যের অ্যাকোমা পুয়েবলো আদিবাসী জনগোষ্ঠীর সন্তান সাইমন জে. অর্টিজ মার্কিন যুক্তরাষ্টের আদিবাসীদের একজন প্রতিনিধিত্বকারী কবি ও সংস্কৃতিকর্মী হিসেবে সর্বদা সক্রিয়। কবিতাগুলো অনুবাদ করেছেন মুহাম্মদ সামাদ।


টিকে থাকতে

To Insure Survival

তুমি সামনে বেরিয়ে আসো
ভোরবেলা পর্বতের গায়ে
পাথরের রঙ বদলায়
ধরিত্রীর সব রঙ
নীল থেকে লাল হয়ে যায়।

দাদি-মাকড়সা কথা বলে,
হাসি আর বেড়ে ওঠা
জামাকাপড় বুনন
জীবন সৃজনে
এক সুঁতোয় একত্রে বেঁধে
তাদের পরিয়ে দেয়া;
সবকিছু এই সব কিছু। (সম্পূর্ণ…)

পরের পাতা »

Disclaimer & Privacy Policy  |  About us  |  Contact us

© bdnews24.com