আত্মজীবনী

পলাতক জীবনের বাঁকে বাঁকে ( শেষ পর্ব)

মুহম্মদ তকীয়ূল্লাহ | ৩ জানুয়ারি ২০১৭ ১১:৩৪ অপরাহ্ন

Takiulllaপাঁচবছর জেলে থাকার পর ১৯৫৫ সালে ছাড়া পেলাম। খাঁচার পাখির গান শেষ হলো। কিন্তু খাঁচা তো ভাঙতে পারিনি। মেহনতি মানুষের মুক্তির সূর্য উঠতে আরও অনেক দেরি। জেল থেকে ছাড়া পাবার পর আবার কমিউনিস্ট পার্টির কাজে জড়িয়ে পড়লাম। আমার মূল কাজ ছিল আগের মতোই। বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে, কলে কারখানায় শ্রমিক ইউনিয়ন গড়ে তুলতে সহায়তা করা। ১৯৫৬-৫৮ সালে আমি যুবলীগ কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য ছিলাম।

১৯৫৬ সালে পার্টির কংগ্রেস অনুষ্ঠিত হবে কলকাতায়। আমি এর আগেই পশ্চিমবঙ্গে গেলাম। বশিরহাটের পেয়ারায় আমাদের গ্রামের বাড়িতে। এই বাড়ির সঙ্গে আমার শৈশবের অনেক স্মৃতি জড়িয়ে আছে। এ আমার বাপদাদার ভিটা। এর প্রতি অন্যরকম এক ভালোবাসা অবশ্যই ছিল। তবে আমি সবসময় ঢাকাকেই আমার জন্মভূমি বলে মনে করতাম। দেশবিভাগের কারণে আমার মা তার গ্রামের বাড়িতে আর ফিরতে পারেননি। বিশেষ করে পাসপোর্ট হওয়ার পর। কারণ পাসপোর্টে ছবি থাকবে। সেই ছবি পরপুরুষ দেখবে। আমার মা কঠোরভাবে পর্দা মেনে চলতেন। যদিও সাম্প্রদায়িক বিদ্বেষ তার মধ্যে একেবারেই ছিল না। পঞ্চাশের দাঙ্গার সময় বহু হিন্দু পরিবারকে বাড়িতে আশ্রয় দিয়েছিলেন বাবু ও মা।
যা হোক বশিরহাটে থাকার সময় মায়ের কথা খুব মনে পড়তো। আমি ভাবতাম দুই বাংলা বিচ্ছিন্ন হওয়া ঠিক হয়নি। দুই বাংলা একত্রে যদি কনফেডারেশন অফ বেঙ্গল গড়ে তোলা যেত তাহলে বাঙালি জাতি একটি বৃহত্তর দেশের অধিবাসী হয়ে বিশ্বের বুকে মাথা তুলে দাঁড়াতে পারতো। দুই বাংলা মিলে কনফেডারেশন গড়ে তোলার স্বপ্ন কিন্তু আমার আজও যায়নি। হয়তো ভবিষ্যতে কোনোদিন তা সম্ভব হবে।

১৯৫৬ সালে অগাস্টে কলকাতায় পার্টির কংগ্রেস অনুষ্ঠিত হলো। নতুন কেন্দ্রীয় কমিটি হলো তের জনকে নিয়ে। কমিটিতে ছিলেন নেপাল নাগ, খোকা রায়, মণি সিংহ, সরদার ফজলুল করিম, অনিল মুখার্জি, মোহাম্মদ তোয়াহা, বারীন দত্ত, শহীদুল্লাহ কায়সার এবং অন্যরা।
পশ্চিমবঙ্গে থাকার সময় ভারতীয় কমিউনিস্ট পার্টির অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা কমরেড মুজাফফর আহমেদ বা কাকাবাবুর সঙ্গে যোগাযোগ হয়। কাকাবাবু একসময় আমার বাবার বেশ বন্ধু ছিলেন। সেই বঙ্গীয় মুসলমান সাহিত্য পত্রিকার সময় থেকেই তাদের বন্ধুত্ব। সেসময় কবি নজরুল, কমরেড মোজাফফর ও শহীদুল্লাহ ছিলেন ঘনিষ্ট বন্ধু। সাহিত্য পত্রিকার অফিসে একই ভবনে থাকতেন শহীদুল্লাহ ও নজরুল।
এবার কলকাতায় আসার সময় বাবা আমার হাতে কাকাবাবুর জন্য চিঠি দিয়েছিলেন। সেসময় পশ্চিমবঙ্গের কমরেডদের সঙ্গে আমার বেশ ঘনিষ্টতা হয়। এরমধ্যে জ্যোতি বসুর সঙ্গে বেশি সখ্য গড়ে ওঠে। (সম্পূর্ণ…)

বব ডিলানের আত্মজীবনী: `মনে হচ্ছিল সবই মিথ্যে, সবই কল্পনা’

নাহিদ আহসান | ১৫ অক্টোবর ২০১৬ ৮:১৭ অপরাহ্ন

Dylanলো লেভি লিডস মিউজিক পাবলিশিং কোম্পানির প্রধান আমাকে ট্যাক্সি করে নিয়ে গেল পিথিয়ান মন্দিরে,৭০ ওয়েষ্ট ষ্ট্রীটে ছোট্ট রেকর্ডিং স্টুডিওটি দেখাতে যেখানে বিল হ্যারি এবং তার সহযোগীরা, ‘রক এরাউন্ড দ্য ক্লক’-এর রেকর্ডিং করেছিল।
তারপর গেলাম আমরা জ্যাক ডেম্পসির রেষ্টুরেন্টে, ৫৮ ব্রডওয়েতে। সেখনে পৌঁছে আমরা খোলা জানালার সামনে রেড লেদার দিয়ে মোড়ানো একটি বুথে বসলাম। লো লেভি আমাকে জ্যাক ডেম্পসির সাথে পরিচয় করিয় দিলেন যিনি ছিলেন একজন বড় মাপের বক্সার।
জ্যাক আমার দিকে তাকিয়ে তার কব্জি ঝাঁকালো,‘তুমি ‌একটা বাচ্চা ছেলে, হ্যাভি ওয়েট শুরু করার জন্য একেবারেই হালকা পাতলা। আরেকটু ওজন বাড়াও। আরেকটু ভাল ড্রেস আপ কর। চেষ্টা কর নিজেকে যাতে আরেকটু ধারালো দেখায়। অবশ্য রিংয়ে তোমাকে ফ্যাশন নিয়ে অত চিন্তা করতে হবে না। কিন্তু প্রতিদ্বন্দীকে পেটাতে হবে আচ্ছামত। ভয় পেলে হবে না।”
লেভি বললো,“আরে জ্যাক, ওতো বক্সার না। গান লেখে। আমরা ওর গানগুলো এবার বাজারে আনছি।”
“ও, আচ্ছা, আচ্ছা ঠিক আছে …..শুনবো তোমার গান। আগে বের হোক তো। গুড লাক, খোকা।”

জানালার বাইরে তীব্র বাতাস বইছিল। মেঘেরা যেন বাতাসের সাথে লড়াই করে অগ্রসর হচ্ছিল। ঘুরে ঘুরে পাক খাচ্ছিল তুষারকণা। সন্ধ্যার লাল আলো জ্বালা রাস্তাগুলোতে ছিল মানুষের ভীড় ও ধাক্কাধাক্কি। এরই মধ্যে খরগোশের ফারের কানটুপি পরা ফুটপাথের দোকানী, চেস্টনাট বিক্রেতারা হাকাহাকি করে ক্রেতাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করার চেষ্টা করছিল। কিন্তু এসবের কোন গুরুত্ব ছিল না আমার কাছে।

আমি লীড মিউজিকের সাথে একটি কন্ট্রাক্ট সাইন করছি, আমার গানগুলো প্রকাশিত হতে যাচ্ছে, এর চেয়ে বড় ব্যাপার চারপাশে আর কোথায় কি থাকতে পারে? আমার গানের সংখ্যা অবশ্য খুব বেশী না। তবুও লো আমাকে ১০০ ডলার অগ্রিম দিল ভবিষ্যতের রয়ালিটির জন্য যা আমার কাছে যথেষ্ট মনে হচ্ছিল।

লোর অফিসে গিয়ে আমি আমার গিটার কেসটি খুলে বসলাম। গিটারটি নিয়ে বাজাতে শুরু করলাম। ঘরটি ছিল খুবই অগোছালো। অনেকের লেখা গান পড়েছিল তালগোল পাকিয়ে। বুলেটিন বোর্ডে রেকর্ডিংয়ের তারিখ, সাদা লেবেল লাগানো কালো ধাতুর প্রলেপযুক্ত ডিক্স; বিনোদন জগতের মানুষদের সাইন করা ফটো- জেরি ভেল, আলর্মাটিনো, অ্যন্ড্রজ সিস্টারদের(লো এদের একজনকে বিয়ে করেছেন) চক্চকে পোরট্রেট -সবকিছু ছিল ছড়িয়ে ছিটিয়ে। আরও ছিল প্যাঁচানো রীল, কালো কাঠের ডেক্সের ওপর দুনিয়ার হাবিজাবি রাখা। (সম্পূর্ণ…)

পলাতক জীবনের বাঁকে বাঁকে (পর্ব চার)

মুহম্মদ তকীয়ূল্লাহ | ৫ সেপ্টেম্বর ২০১৬ ৮:৫৪ অপরাহ্ন

১৯৫১ সালে শুরু হয় আমার জেলজীবন। বিভিন্ন সময়ে জেলজীবনের কথা অনেকেই জানতে চেয়েছেন আমার কাছে, হ্যাঁ, বলার মতো অনেক কথা তো আছেই। আশির দশকে একবার আমি ভেবেছিলাম নিজের জীবন নিয়ে একটা উপন্যাস লিখবো। তখন পঞ্চাশের দশকের সেই জেল জীবনের কথা লিখতে চেয়েছিলাম। উপন্যাসের শিরোনাম ঠিক করেছিলাম ‘খাঁচার পাখির গান’। জেলজীবন মানেই তো খাঁচায় বন্দী জীবন। তবে সেই বন্দী জীবনেও কিন্তু আমাদের সকলের কণ্ঠ রোধ করা সম্ভব হয়নি। আমাদের মধ্যে অনেকেই তো বন্দী জীবনে কলমকে থামিয়ে রাখেননি। তারা লিখেছেন। যেমন, বন্ধু শহীদুল্লাহ কায়সারকে দেখেছি জেলেও লেখালেখি করতে।
ঢাকা সেন্ট্রাল জেলের নিউ টুয়েন্টি খাতায় আমি রাজবন্দী হিসেবে ছিলাম দীর্ঘ পাঁচ বছর। সেসময় ওয়ার্ডেও যেমন থেকেছি তেমনি আবার বেশ কিছুটা সময় কনডেমড সেলেও বন্দী থেকেছি। বিভিন্ন সময় আমার সঙ্গে এক সেলে বা এক ওয়ার্ডে ছিলেন শহীদুল্লাহ কায়সার, সরদার ফজলুল করিম, সন্তোষ গুপ্ত, শেখ মুজিবর রহমান ও আরও অনেকে। রণেশদা মানে রণেশ দাশগুপ্ত রাজনৈতিক জীবনে আমার দীক্ষাগুরু ছিলেন। কিন্তু জেলে তার সঙ্গে থেকেছি কিনা এখন মনে করতে পারছি না। স্মৃতিশক্তি দুর্বল হয়ে গেছে।
আমরা রাজবন্দী ছিলাম বলে বাড়িথেকে কখনও কখনও( বিশেষ দিনগুলোয়) খাবার এবং নির্দিষ্ট পরিমাণ টাকা নিতে পারতাম। পঞ্চাশ সালের সাম্প্রদায়িক দাঙ্গার পর হিন্দু কমরেডদের অনেকেরই আত্মীয় স্বজন ধীরে ধীরে দেশত্যাগ করে ভারতে চলে যাচ্ছিলেন। তাই যে হিন্দু কমরেডরা জেলে বন্দী ছিলেন তাদের বেশ সমস্যা হতো। কারণ তাদের জন্য বাড়ি থেকে খাবার পাঠাবার বা টাকা পাঠাবার কেউ ছিলেন না। আমার জন্য বাড়ি থেকে হরলিকস পাঠানো হতো। মা পাঠাতেন। আরও কয়েকজনের জন্যও খাবার আসতো। আমরা সেসব খাবার ও টাকা সব কমরেডদের মধ্যে ভাগ করে নিতাম। আমাদের জন্য মাথাপিছু রান্নার টাকা বরাদ্দ ছিল সরকার থেকে। সেই টাকায় একসঙ্গে আমরা সকলের রান্না করতাম। আমি মাছ খেতে কখনও খুব একটা স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করি না। কাঁটার ভয় পাই। এজন্য অন্য সহবন্দীরা যখন ইলিশ মাছ খেতেন তখন ডিমটা বরাদ্দ থাকতো আমার জন্য। এ নিয়ে কারও কখনও আপত্তি হয়নি। বলতে গেলে জেলে আমরা মিনি সাম্যবাদী সমাজ প্রতিষ্ঠা করতে পেরেছিলাম। জেলের মধ্যে আমাদের যে ঘনিষ্টতা হয়েছিল তা বাইরের জীবনে কখনও সম্ভব হতো না। কারণ বাইরের জীবনের দাবি ব্যাপক, পরিধিও বিস্তৃত। জেলে আমরা সবাই যেন সেম বোট ব্রাদার। এ সময়ই মুজিবভাই ও অন্য রাজনৈতিক মতাদর্শের বন্দীদের সঙ্গে বেশি বন্ধুত্ব গড়ে ওঠে। আমরা বুঝতে শিখেছিলাম যে মত ও পথ ভিন্ন হোক কিন্তু উদ্দেশ্য তো আমাদের একই- জন্মভূমির সেবা করা। আমি ও শহীদুল্লাহ কায়সার যুবলীগ গঠনেও ভূমিকা রেখেছিলাম। তাই মুজিবভাইয়ের সঙ্গে আমাদের ভালো বন্ধুত্ব গড়ে উঠেছিল। (সম্পূর্ণ…)

বেবী মওদুদের অপ্রকাশিত রচনা: অসমাপ্ত কথা

বেবী মওদুদ | ২৪ জুলাই ২০১৫ ১০:৪১ অপরাহ্ন

baby-moudud_0023.jpg

বেবী মওদুদের অসমাপ্ত স্মৃতিকথার সাথে প্রাসঙ্গিক ছবিগুলো এখানে থাকছে আর লেখাটি পাওয়া যাবে নিচের লিংক-এ:
অসমাপ্ত কথা



ইতোপূর্বে প্রকাশিত বেবী মওদুদের ধারাবাহিক স্মৃতিকথার কিস্তিগুলোর লিংক :

ধারাবাহিক স্মৃতিকথা: জীবনের পাতায় পাতায় (কিস্তি-১)

ধারাবাহিক স্মৃতিকথা: জীবনের পাতায় পাতায় (কিস্তি-২)

ধারাবাহিক স্মৃতিকথা: জীবনের পাতায় পাতায় (কিস্তি-৩)

ধারাবাহিক স্মৃতিকথা: জীবনের পাতায় পাতায় (কিস্তি-৪)

ধারাবাহিক স্মৃতিকথা: জীবনের পাতায় পাতায় (কিস্তি-৫)

ধারাবাহিক স্মৃতিকথা: জীবনের পাতায় পাতায় (কিস্তি-৬)

Flag Counter

স্মৃতিকথা

| ২১ জুলাই ২০১৫ ২:৪৩ অপরাহ্ন


পলাতক জীবনের বাঁকে বাঁকে

মুহম্মদ তকীয়ূল্লাহ

camera-054.jpgআমার শৈশব কেটেছে এক অতি শান্তিময় পরিবেশে। কিন্তু উনচল্লিশ সালে শুরু হলো যুদ্ধের ডামাডোল। শান্তিময় পরিবেশে মানুষ অনেকদিন পর্যন্ত শিশু থাকে। আর যুদ্ধ, রাষ্ট্রবিপ্লবে শিশু দ্রুত বড় হয়ে ওঠে। দ্বিতীয় মহাযুদ্ধ আমাকে বালক থেকে দ্রুত পূর্ণবয়স্ক মানুষে পরিণত করে দিল। দেখলাম তেতাল্লিশের দুর্ভিক্ষ, একটু ভাতের জন্য মানুষের হাহাকার, পথে পথে মৃত্যুর রাজ্যপাট। অন্যদিকে ভিনদেশী সৈন্যদের আমোদ ফূর্তি। আমাদের দেশের গরীব মানুষকে তারা মানুষ বলেই মনে করতো না। এসব দেখে বিদেশি শাসনের বিরুদ্ধে মনের ভিতর ক্ষোভ জমা হচ্ছিল।

আমার বড় ভাই মুহম্মদ সফিউল্লাহ প্রগতিশীল ছাত্র রাজনীতির সঙ্গে জড়িত ছিলেন। ভাইয়ার সূত্র ধরেই কমিউনিষ্ট পার্টির কর্মীদের সঙ্গে আলাপ শুরু হলো।

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় আমরা ঢাকায় ছিলাম। আমি ঢাকা কলেজের ছাত্র। সে সময় ব্রিটিশ ভারতের সরকার কলকাতায় প্রিক্যাডেট মিলিটারি ট্রেনিং স্কুল নামে একটি প্রতিষ্ঠান খোলে। সেখান থেকে ট্রেনিং প্রাপ্তরা মিলিটারি একাডেমিতে যেত ব্রিটিশ-ভারতের সৈন্যবাহিনীতে অন্তর্ভুক্ত হওয়ার জন্য। (সম্পূর্ণ…)

আবু ইসহাকের অগ্রন্থিত আত্মজৈবনিক রচনা

রাজু আলাউদ্দিন | ২৬ এপ্রিল ২০১৫ ১:০১ পূর্বাহ্ন

_ishak-pic.jpgঅতি সম্প্রতি দিল্লী সফর করতে গিয়ে দৈবের বশে বাংলাদেশের কথাসাহিত্যের আদিপর্বের প্রধান লেখকদের একজন কথাসাহিত্যিক আবু ইসহাকের অগ্রন্থিত এই লেখাটি নজরে আসে। হাফিংটন পোস্ট (ভারত)-এর বার্তা সম্পাদক ইন্দ্রানি বসু, তার বাবা লেখক অধ্যাপক দিলীপ কুমার বসু এবং লেখিকা ও শিক্ষিকা নন্দিতা বসুর ব্যক্তিগত পাঠাগার দেখার সুযোগ করে না দিলে এই আবিষ্কার আদৌ সম্ভব হতো কিনা সন্দেহ। তাদের উদার আতিথেয়তার সুযোগ নিয়ে ফাঁকে ফাঁকে চোখ বুলিয়ে নিয়েছিলাম লোভনীয় পাঠাগারের ঘুমিয়ে পড়া বইগুলোর দিকে। নিতান্ত কৌতূহলবশত–পুরোনো বইয়ের প্রতি যা আমার সদাজাগ্রত–শ্রীশৌরীন্দ্রকুমার ঘোষ এবং শ্রীপরেশ সাহার সম্পাদনায় কথাশিল্পী শীর্ষক ঘুমের অভিশাপে নিথর রাজকুমারীর গায়ে সোনারকাঠি ও রূপোরকাঠিসদৃশ প্রেমপ্রবণ আমার আঙুলের স্পর্শ মাত্র সে চোখ মেলে তাকালো। আমিও চোখ রাখলাম বইটির বারান্দায় (সূচীপত্রে)। দেখলাম সেখানে বসে অাছেন পশ্চিমবঙ্গের খ্যাতিমান লেখকদের পাশাপাশি বাংলাদেশের লেখক আবুল ফজল, আবু ইসহাক, মহীউদ্দীন চৌধুরী, মবিন উদদিন আহমদ এবং শামসুদদীন আবুল কালাম। এই গ্রন্থের জন্য লিখিত আত্মজৈবনিক এই লেখাগুলো এখনও পর্যন্ত তাদের কোনো গ্রন্থে অন্তর্ভুক্ত হয়েছে বলে জানা যায় না। আমরা এই পর্বে লেখক আবু ইসহাকের লেখাটি প্রকাশ করছি। (সম্পূর্ণ…)

আবুল ফজলের অগ্রন্থিত আত্মজৈবনিক রচনা

রাজু আলাউদ্দিন | ১০ এপ্রিল ২০১৫ ১:০২ অপরাহ্ন

ছবি: নাসীর আলী মামুন/ফটোজিয়াম।border=0 অতি সম্প্রতি দিল্লী সফর করতে গিয়ে দৈবের বশে বাংলাদেশের কথাসাহিত্যের আদিপর্বের প্রধান লেখকদের একজন কথাসাহিত্যিক আবুল ফজলের অগ্রন্থিত এই লেখাটি নজরে আসে। হাফিংটন পোস্ট (ভারত)-এর বার্তা সম্পাদক ইন্দ্রানি বসু, তার বাবা লেখক অধ্যাপক দিলীপ কুমার বসু এবং লেখিকা ও শিক্ষিকা নন্দিতা বসুর ব্যক্তিগত পাঠাগার দেখার সুযোগ করে না দিলে এই আবিষ্কার আদৌ সম্ভব হতো কিনা সন্দেহ। তাদের উদার আতিথেয়তার সুযোগ নিয়ে ফাঁকে ফাঁকে চোখ বুলিয়ে নিয়েছিলাম লোভনীয় পাঠাগারের ঘুমিয়ে পড়া বইগুলোর দিকে। নিতান্ত কৌতূহলবশত–পুরোনো বইয়ের প্রতি যা আমার সদাজাগ্রত–শ্রীশৌরীন্দ্রকুমার ঘোষ এবং শ্রীপরেশ সাহার সম্পাদনায় কথাশিল্পী শীর্ষক ঘুমের অভিশাপে নিথর রাজকুমারীর গায়ে সোনারকাঠি ও রূপোরকাঠিসদৃশ প্রেমপ্রবণ আমার আঙুলের স্পর্শ মাত্র সে চোখ মেলে তাকালো। আমিও চোখ রাখলাম বইটির বারান্দায় (সূচীপত্রে)। দেখলাম সেখানে বসে অাছেন পশ্চিমবঙ্গের খ্যতিমান লেখকদের পাশাপাশি বাংলাদেশের লেখক আবুল ফজল, আবু ইসহাক, মহীউদ্দীন চৌধুরী, মবিন উদদিন আহমদ এবং শামসুদদীন আবুল কালাম। এই গ্রন্থের জন্য লিখিত আত্মজৈবনিক এই লেখাগুলো এখনও পর্যন্ত তাদের কোনো গ্রন্থে অন্তর্ভুক্ত হয়েছে বলে জানা যায় না। আমরা এই পর্বে লেখক আবুল ফজলের লেখাটি প্রকাশ করছি। (সম্পূর্ণ…)

স্কুলের দিনগুলো: আমার কথাটি ফুরালো

সনজীদা খাতুন | ২২ জুলাই ২০১৪ ৭:৫৪ অপরাহ্ন

সেজদির শ্বশুরবাড়ির কাহিনি আর একটু বলা যাক। বিয়ের প্রস্তাব এসেছিল, বরপক্ষ স্কুলের ঘোড়ার গাড়িতে সেজদিকে দেখে পছন্দ করেছিলেন বলে তাড়াহুড়া করে বিয়ে হয়ে গেল। আব্বুর ধারণা ছিল মেয়েদের যেখানেই বিয়ে হোক, তারা মানিয়ে নেবে। পরিবারে পরিবারে সংস্কৃতিতে ভেদ থাকতে পারে, সেসব ভাবেননি।

ফলে বিয়ের পর অজপাড়াগাঁয়ে গিয়ে সেজদি পড়লেন আতান্তরে। রান্নার চালায় শাশুড়িকে সাহায্য করবার মানসে গিয়ে দাঁড়িয়ে আছেন, শ্বশ্রূমাতা উনুন থেকে একটি হাঁড়ি নামিয়ে একটি মাটির সরা বধুর হাতে দিয়ে বললেন-‘গুইরা অ্যারো’। হাবাগোবা সেজদি তার এক বর্ণ বুঝতে না পেরে ঢাকনা হাতে খাড়া দাঁড়িয়ে রইলেন। শাশুড়ি খানিক পরে তাকিয়ে দেখেন ঘোমটা-পরা বউয়ের চোখ দিয়ে ঝর ঝর করে জল ঝরছে। তাড়াতাড়ি কাউকে ডেকে বউকে ঘরে নিয়ে যেতে বললেন। অনেক পরে সেজদি বুঝেছিলেন যে শাশুড়ি ঢাকনা দিয়ে তরকারির হাঁড়িটা ঢেকে রাখতে বলেছিলেন। ‘গুইরা অ্যারো’ মানে ঢেকে রাখো। নিতান্ত আঞ্চলিক কথন। (সম্পূর্ণ…)

স্কুলের দিনগুলো: আমার সেজদির কথা

সনজীদা খাতুন | ৬ জুলাই ২০১৪ ১২:০৪ পূর্বাহ্ন

ফজলুল হক হলের গেটহাউসে থাকতে আমার খুব গানের নেশা হয়েছিল। ওদিকে গলার কী সমস্যা হয়েছিল, একটু ভাঙাভাঙা কণ্ঠস্বর সারাবার জন্যে গলার মহা তোয়াজ করতাম। বারবার করে গড়গড়া করা চলত গরম পানি দিয়ে। গলায় একটা কমফর্টার জড়িয়ে রাখতাম সারাক্ষণ। রীণার জন্যে গানের শিক্ষক ছিলেন। ওর গান শেখার সময়ে পাশে বসে থেকে সব গান তুলে নিতাম আমি। আম্মু তাই দেখে শিক্ষককে বলেছিলেন-ছোটটার গান শুনে দেখুন তো! উনি চোখ কাত করে আমাকে দেখে বললেন-‘গাও তো দেখি’। ‘রোদন ভরা এ বসন্ত’ শুনিয়ে দিয়েছিলাম। উনি অবহেলাভরে বললেন–‘ভালো। তবে এর কোনোদিন গান হবে না’। শুনেই বোধ হয় জেদ চেপে গিয়েছিল। (সম্পূর্ণ…)

স্কুলের দিনগুলো:পারিবারিক শোক আর গৃহের আনন্দ

সনজীদা খাতুন | ২৩ জুন ২০১৪ ৯:০৯ অপরাহ্ন

বিশ্ববিদ্যালয় গেটহাউসের বাড়িগুলো নিতান্ত গেটহাউসই ছিল। এলাকায় ঢুকবার পথের দুপাশের বাড়ির দু অংশ খাড়া দাঁড়ানো। উত্তর দিকের একতলা কোনো ব্যবহারেই আসত না। দক্ষিণের গেটে থাকবার সময়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের মেধাবী ছাত্র সরদার ফজলুল করিমকে সুলতান-নবাব-নূরুর গৃহশিক্ষক হিসেবে রাস্তার ওপরের উত্তরের ঘরটিতে থাকতে দেন আব্বু। উনি আমাদের পরিবারের সঙ্গে ঘনিষ্ট হয়ে উঠলেন। সুলতানের মৃত্যুতে খুব কাতর হয়ে একটি কবিতা লিখেছিলেন তিনি। আরম্ভটা এই রকম: (সম্পূর্ণ…)

স্কুলের দিনগুলো: পারিবারিক আনন্দ-বিষাদ

সনজীদা খাতুন | ৫ জুন ২০১৪ ১০:০১ অপরাহ্ন

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গেট হাউসে থাকতে মাসে অন্তত একটি রোববারে বড়দি এক মহা আনন্দের আয়োজন করতেন। ঘোষণা দিতেন– ‘আজ কেক করব, চল।’ নাচতে নাচতে সঙ্গে ছুটতাম সবাই। বড়দি একটা মোড়া কিংবা জলচৌকির অপেক্ষাকৃত উচ্চাসনে বসে অর্ডার করতেন– ময়দা, ডিম, ডিম ফেঁটবার কল, ঘি, চিনি, এক চিমটি নূন, এক কাপ দুধ, এসেন্স অফ ভ্যানিলা, বেকিং পাউডার আর ডিম ফেঁটবার জন্যে বড় খাড়া বাটি, আরো একটা সাদা তামচিনির বল (Bowl), কাঠের ডাট (কেকের উপকরণ নাড়বার হাতা)। সব হাজির হয়ে যেত। সাদা তামচিনির বলে প্রথমে ময়দা চেলে নিয়ে তার সঙ্গে বেকিং পাউডারে সামান্য নূন মেশানো হতো। তার পরে আলাদাভাবে ঘি, দুধ আর ডিমের কুসুম দই দিয়ে খুব করে তাতে ফ্যাটানো হতো। এসেন্স অব ভ্যানিলা দিতেন বড়টি। অন্যদিকে হুকুম হতো– মিনু, তুমি ডিমের সাদাগুলো মেশিনে ফেটাতে থাকো। বাটি উপচে ফেনা উঠলে একটু একটু করে বড় পাত্রের গোলার সঙ্গে মেশানো চলত। তারও পরে ওতে এক চামচ এক চামচ করে ময়দা দিয়ে দ্রুত নাড়া হতো। (সম্পূর্ণ…)

স্কুলের দিনগুলো: সেই যে দিনগুলি

সনজীদা খাতুন | ২৩ মে ২০১৪ ১১:০২ অপরাহ্ন

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (এখনকার মেডিকেল কলেজ) উত্তর আর দক্ষিণ দিকের পুব ঘেষা দুটি গেট হাউসেই আমরা বাস করেছি। বেশ কিছুদিন এক বাসাতে থাকা হলেই আমার মা অস্থির হয়ে উঠে বাসা বদলের জন্যে আব্বুকে তাড়া দিতে শুরু করতেন। এ বাসাগুলোতে ওপর-নীচ মিলিয়ে ছোট-বড় আষ্টেক ঘর ছিল। সব ঘর ব্যবহারও হতো না। উঠোনও ছিল বেশ বড় সড়। সেখানে রান্নাঘর খাবার ঘর ছাড়া বড় চৌবাচ্চার ধারে কাপড় কাচার চাতাল, সংলগ্ন স্নানঘর, আর সব শেষ প্রান্তে দক্ষিণ-পশ্চিম কোণে ছিল শৌচাগার। প্যান বসানো থাকলেও, কোনো লো-ডাউন ছিল না। পানির কল ছিল; কাজ হলে বালতি করে পানি ঢেলে দিতে হতো। (সম্পূর্ণ…)

পরের পাতা »