বিজ্ঞান

বিজ্ঞানীদের কেন সাহিত্য ও অন্যান্য বিষয় পড়া উচিৎ

নাহিদ আহসান | ২৭ সেপ্টেম্বর ২০১৬ ১:৪০ অপরাহ্ন

বিজ্ঞান ও সাহিত্য নিয়ে কোথায় যেন একটি রেষারেষি আছে। বিজ্ঞানকে অনেক সময় ভাবা হয় যুক্তিপূর্ণ এবং তা শক্ত ভিত্তির উপর প্রতিষ্ঠিত। সাহিত্যকে ভাবা হয় আবেগনির্ভর, কল্পনাশক্তি দ্বারা চালিত।
আসলে বিজ্ঞানেও আবেগ ও কল্পনার ভূমিকা আছে। আইনস্টাইনের ভাষায়:
“I’m enough of an artist to draw freely on my imagination, which I think is more important than knowledge. Knowledge is limited. Imagination encircles the world.”
আর গবেষণার বিষয়বস্তুর প্রতি আবেগ না থাকলে বিজ্ঞানী কাজ করবেই বা কিভাবে?
পক্ষান্তরে অযৌক্তিক সাহিত্য বা যে-সাহিত্য তার পূর্ববর্তী ইতিহাসের ভিত্তির উপর দাঁড়িয়ে নেই সেটাই বা কেমন সাহিত্য? তাই বিজ্ঞান ও মানবিক বিষয়সমূহ পরষ্পরের পরিপূরক। বিজ্ঞানকে মানবিক এবং সাহিত্যকে ভাবালুতা মুক্ত করতে “যুক্ত কর হে সবার সঙ্গে, মুক্ত কর হে বন্ধ” পদ্ধতি অনুসরণ করা দরকার।
অনেকেই মনে করেন, বিজ্ঞান বিভাগের ছাত্রদের মানবিক বিষয়সমূহ পড়ার দরকার নেই। ইতিহাস, সাহিত্য, রাষ্ট্র বিজ্ঞান সবই যেন অগুরুত্বপূর্ণ এবং হালকা বিষয়। ব্যাপারটি ঠিক তার উল্টো। সাহিত্যের ছাত্রের যেমন বিজ্ঞান জানা জরুরী, বিজ্ঞানের ছাত্রদের তেমনি সাহিত্য, কমিউনিকেশন স্কিল, ইতিহাস, রাজনীতি সর্ম্পকে জানা থাকা দরকার। এটা আপনার জন্য অপশনাল নয়, এটা আবশ্যিক।

সাহিত্য ও ইতিহাসের গুরুত্ব

অন্যের দৃষ্টিভঙ্গিতে পৃথিবী দেখতে কেমন তা সাহিত্য আপনাকে শেখাতে পারে। আপনি যখন একটা মুভি দেখেন তখন সেই পরিচালকের দৃষ্টিতে, অভিনেতাদের দৃষ্টিতে পৃথিবীর দিকে তাকান। সাহিত্যও সেরকম পৃথিবী সম্পর্কে আপনার দৃষ্টিভঙ্গি বদলে দেবে। যাদের অভিজ্ঞতা আপনার চেয়ে আলাদা তারা কিভাবে চিন্তা ভাবনা করে তা শিখতে পারবেন। দেখবেন যে অধিকাংশই আপনার মত চিন্তা ভাবনা করেনা, বরং মানসিকতার দিক দিয়ে আপনি সংখ্যালঘুদের একজন। আপনি সাহিত্য-পড়ুয়া বিজ্ঞানী হলে বিষয়টির মোকাবেলা করতে পারবেন।
পৃথিবীর ইতিহাস ও সংস্কৃতি সম্পর্কেও জানা থাকা জরুরী। একজন বিজ্ঞানী তার ইতিহাস ও সংস্কৃতির প্রতিনিধি। আপনার সাথে যারা কাজ করবেন তারা ভিন্ন মানুষ। ভিন্ন অভিজ্ঞতার ভেতর দিয়ে বড় হয়েছেন। তাদের ইতিহাস ও সংস্কৃতি আলাদা এটা যখন বুঝতে পারবেন তখন আপনার জন্য অন্যদের সাথে কাজ করা সহজ হয়ে যাবে। আপনি যাদের জন্য কাজ করছেন, যাদের সাথে কাজ করছেন,পাশে নিয়ে কাজ করছেন তাদেরকে বুঝতে পারা আপনার জন্য গুরুত্বপূর্ণ। বিজ্ঞানকে সবকিছু থেকে বিচ্ছিন্ন করে দেখা ঠিক না। তাই অন্যের ইতিহাস ও সংস্কৃতির পেছনের ব্যাকরণ আপনার জানা দরকার। যেমন পূর্ব পশ্চিমের দুজন মানুষ কাজ করছেন একসাথে, তাদেরকে বাসায় নিমন্ত্রণ জানালে একজন হয়তো পাচঁ মিনিট আগে আসলেন, অন্যজন আধঘন্টা পরে আসবেন। তাদের পোশাকও বিপরীত মেরুর। আপনার মানসিকতা যাই হোক না কেন। তাদের আচার আচরণ মেনে নিতে হলে আগে তাদের মানসিকতা বুঝতে হবে। (সম্পূর্ণ…)

প্রত্যাখ্যাত ৮টি গবেষণার নোবেলজয়

বিপাশা চক্রবর্তী | ২০ আগস্ট ২০১৬ ১:০৬ অপরাহ্ন

নোবেলবিজয়ী সব গবেষণা বা আইডিয়া প্রথমেই নিজ বলয়ে গৃহীত হয়নি। সংজ্ঞাগত দিক থেকেই হোক কিংবা দৃষ্টান্ত ও উদাহরণের দিক থেকে সেগুলো ছিল আসলেই বৈপ্লবিক। সে অনুযায়ী, অনেক আলোচিত গবেষণা, তত্ত্ব ও আবিষ্কার এমনকি পরবর্তীকালে টেক্সটবুকে অন্তর্ভুক্ত হয়েছে এমন, অনেকগুলোই প্রাথমিক অবস্থায় বাতিল বলে ঘোষিত হয়েছিল। উপহাস যদিও বা না করে থাকেন তবুও প্রথম পর্যায়ে বিজ্ঞানী মহল ঐসব ঘোষণাকে বাতিল বলেই ঘোষণা করা হয়েছিল। মার্কিন জীনতত্ত্ববিদ হাওয়ার্ড মার্টিন টেমিন যখন “রিভার্স ট্রান্সক্রিপ্টেস’ (RT) প্রস্তাব করলেন, যেখানে বলা হলো- “ আরএনএ অনেক সময় ডিএনএ তৈরি করতে সক্ষম”। এই তত্ত্বকে হাস্যকর বলে উড়িয়ে দেয়া হল। সেটা ছিল ১৯৭০ সাল। অন্যসব বিজ্ঞানীদের মতে হাস্যকর এ প্রস্তাব নোবেল পুরস্কারে ভূষিত হল ১৯৭৫ সালে। অনেক সমালোচনা অনেক বিতর্কের পরেও সে সময় অনেক বাঘা বাঘা বিজ্ঞানী নেতারা মানতে নারাজ ছিলেন টেমিনের এই তত্ত্ব, যে কিছু ভাইরাস আরএন-এ আকারে থেকে তাদের জেনেটিক তথ্য বহন করে আক্রান্ত কোষের ডিএনএ’তে তার অনুলিপি তৈরি করে ফেলতে পারে। এই প্রক্রিয়াকে ‘বিপরীত বা রিভার্স ট্রান্সক্রিপশন’ বলে আখ্যায়িত করা হলো। কেননা, রিভার্স ট্রান্সক্রিপ্টেস (RT) হচ্ছে এক ধরনের এনজাইম যা ব্যবহার করে আরএনএ টেমপ্লেট থেকে পরিপূরক ডিএনএ বা কমপ্লিমেন্টরি ডিএনএ উৎপাদন করা যায়। একই কান্ড ঘটেছিল সুইস মাইক্রোবায়োলজিস্ট ওয়ার্নার আর্বার-এর বেলাতেও। ১৯৭৮ সালে তিনিও নোবেল পান। ওয়ার্নার রেস্ট্রিকশন এনজাইমের কাজ নিয়ে গবেষণা করেছিলেন।

এখানে নোবেল জয়ী ৮টি গবেষণাপত্রের রূপরেখা দেয়া হলো যেগুলো প্রাথমিক পর্যায়ে সম্মিলিত পর্যালোচনায় বিভিন্ন বিজ্ঞান সাময়িকী, জার্নাল বা বিজ্ঞান পত্রিকায় প্রকাশের জন্য মনোনীত হয়নি এবং প্রকাশের অযোগ্য বলে বাতিল হয়েছিল।

border=0১। রসায়নশাস্ত্রে নোবেল পুরস্কার (১৯৯৭) বিজয়ীদের একজন মার্কিন প্রাণরসায়নবিদ পল বয়ার। এডিনসন ট্রাইফসফেট সংশ্লেষণের প্রক্রিয়া চিহ্নিত করার জন্য তিনি এ পুরস্কারের অংশীদার হন। (সম্পূর্ণ…)

স্টিফেন হকিং: ‘ব্ল্যাক হোল থেকেও পদার্থ বেরিয়ে আসতে পারে’

অরণি সেমন্তি খান | ১৭ জুন ২০১৬ ৯:৩৩ অপরাহ্ন

s-h.jpgপদার্থবিজ্ঞানের জীবন্ত কিংবদন্তী স্টিফেন হকিং মহাবিশ্ব, ব্ল্যাকহোলের অস্তিত্ব এবং এদের মধ্যকার আন্তঃসম্পর্ক নিয়ে দিয়েছিলেন ‘রেইথ লেকচার’। বিবিসি’র রেডিও ফোর’কে গত বছর দেয়া এ বক্তৃতার অনুলিপি এ বছরের ২৬ জানুয়ারি থেকে প্রকাশ করে বিবিসি। দুই খন্ডের সেই অনুলিপি বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের জন্য অনুবাদ করেছেন অরণি সেমন্তি খান।

রেইথ লেকচার: ১

আমার বক্তৃতা ব্ল্যাক হোল নিয়ে। কথায় আছে, কিছু সত্য কল্পনার চেয়েও অদ্ভুত। আর এই কথাটি ব্ল্যাক হোলের ক্ষেত্রেই মানানসই।
যদিও ব্ল্যাক হোলের ধারণাটি বৈজ্ঞানিক কল্পকাহিনী থেকেও আশ্চর্যজনক, এটি দৃঢ়ভাবে বৈজ্ঞানিক। নক্ষত্র নিজেদের মহাকর্ষের বলে নিজেরাই সংকুচিত হয় এবং এর ফলে সৃষ্ট বস্তুটির প্রকৃতি কেমন হবে, এই বিষয়টি বৈজ্ঞানিক সমাজ উপলব্ধি করতে অনেক সময় নিয়েছে।
১৯৩৯ সালে প্রকাশিত একটি গবেষণাপত্রে আলবার্ট আইনস্টাইন দাবি করেন – যেহেতু পদার্থ একটি নির্দিষ্ট সীমার বাইরে সংকুচিত করা যায় না, তাই নক্ষত্র নিজ মহাকর্ষ বলে সংকুচিত হতে পারে না। বহু বিজ্ঞানী তাঁর এই কথায় একমত হয়েছিলেন।
তবে একজন আমেরিকান বিজ্ঞানী সেই দলে ছিলেন না এবং তাকেই বলা যায় ব্ল্যাক হোল গল্পের পথিকৃৎ । ৫০ এবং ৬০ এর দশকে তাঁর গবেষণার কাজে তিনি গুরুত্বারোপ করেছেন নক্ষত্রের সংকোচন এবং এ সংক্রান্ত তাত্ত্বিক পদার্থবিজ্ঞানের সমস্যাগুলোর উপর। এছাড়াও তিনি নক্ষত্রের সংকোচনের ফলে সৃষ্ট ব্ল্যাক হোলের বেশ কিছু বৈশিষ্ট্য সম্পর্কে ধারণা পোষণ করেছিলেন।
একটি সাধারণ নক্ষত্র তার সহস্র বছরের জীবনকালে তাপীয় বহির্মুখী চাপের সহায়তায় নিজের মহাকর্ষের বিপরীতে নিজেকে বজায় রাখে। এই চাপ উৎপন্ন হয় হাইড্রোজেনকে হিলিয়ামে রূপান্তর করার পারমাণবিক প্রক্রিয়ায়।
ধীরে ধীরে নক্ষত্রের এই জ্বালানী শেষ হয়ে যায়। তারপর সে সংকুচিত হয়। কিছু ক্ষেত্রে নক্ষত্রটি একটি শ্বেত বামন হিসেবে নিজের অস্তিত্ব বজায় রাখে।
তবে ১৯৩০ সালে সুব্রামানিয়ান চন্দ্রশেখর দেখিয়েছিলেন, একটি শ্বেত বামনের সর্বোচ্চ ভর হতে পারে আমাদের সূর্যের ভরের ১.৪ গুন।
এছাড়াও একজন সোভিয়েত বিজ্ঞানী লেভ লান্দাউ নিউট্রন দ্বারা নির্মিত একটি নক্ষত্রের জন্য একই ধরণের সর্বোচ্চ ভরের সীমারেখা গণনা করেছিলেন।
তাহলে পারমাণবিক জ্বালানী শেষ হয়ে গেলে সেসব অসংখ্য নক্ষত্রের কি পরিণতি হবে, যাদের ভর শ্বেত বামন বা নিউট্রন নক্ষত্রের চাইতে অধিক?
এই প্রশ্নের উত্তর নিয়েই গবেষণা করেছিলেন অ্যাটম বোমার জনক হিসেবে খ্যাত রবার্ট ওপেনহাইমার। জর্জ ভল্কফ এবং হার্টল্যান্ড স্নাইডারের সঙ্গে ১৯৩৯ সালের কিছু গবেষণাপত্র তিনি উল্লেখ করেছিলেন যে এমন একটি নক্ষত্র বহির্মুখী তাপীয় চাপ দিয়ে অস্তিত্ব বজায় রাখতে পারবে না। এই চাপ বাদ দিলে, একটি সুষম গোলীয় নক্ষত্র অসীম ঘনত্বের একটি বিন্দুতে সংকুচিত হয়। এই বিন্দুকে বলা হয় সিঙ্গুলারিটি। (সম্পূর্ণ…)

জীবন ও মৃত্যুর সঙ্গম: অর্ধনারীশ্বর অথবা তৃতীয় প্রকৃতি

বিপাশা চক্রবর্তী | ২১ অক্টোবর ২০১৫ ১২:৩৬ পূর্বাহ্ন

border=0গ্রীক পুরাণে কথিত আছে, কেরিয়াতে কোনো এক ছোট নদীতে বাস করত অতি সুন্দরী এক জলপরী । নাম সালমেসিস। সে প্রেমে পড়ে যায় হারমিস ও আফ্রোদিতির পুত্র, রুপবান যুবক হারমাফ্রোডিটাসের। প্রণয়কাতর সালমেসিস দেবতাদের কাছে প্রার্থনা শুরু করল । তার এই নিবিড় প্রেমকে চিরন্তন করতে করুণা ভিক্ষা করল । দেবতারা যেন হারমাফ্রোডিটাসের সঙ্গে তাকে চিরকালের জন্য মিলিত করে দেন । দেবতারা তার প্রার্থনা শুনলো – তারা তাদের দু’জনকে জুড়ে দিলো একই শরীরে। তারপর থেকে এই প্রাণীটি হয়ে গেল উভলিঙ্গ।

এদিকে উপনিষদ বলছে, সৃষ্টিকর্তার মনেও নাকি শান্তি ছিল না। সেই পুরাণ পুরুষ ভীষণ একা বোধ করছিলেন। কোন সুখ, আনন্দ ছিল না তাঁর । স বৈ নৈব রেমে, যস্মাদ একাকী ন রমেতে। আনন্দের জন্য শেষমেশ নিজেকে দু’ভাগে ভাগ করে ফেললেন নিজেকে- নারী-পুরুষ, অর্থাৎ জায়া-পতি। পরবর্তী শাস্ত্রকারদের মনে উপনিষদের এই বিমূর্ত কল্পনা নিশ্চয়ই এমনভাবে ক্রিয়া করেছিল যার জন্য তারা নির্দেশ দিয়েছিলেন, একটি পুরুষ বা একটি নারী আলাদাভাবে কখনোই সম্পূর্ণ নয়। একটি পুরুষ বা একটি নারী মানুষরূপে অর্ধেক মাত্র। এই কারণেই কি পুরাণ-পুরুষ নিজেকে দ্বিধা ছিন্ন করছিলো? ছিন্ন দুই ভাগের মধ্যে পরস্পরের মিলিত হবার, সম্পূর্ণ হবার টান ছিল কি? (সম্পূর্ণ…)

মানব তুমি মহীরুহ তুমি

বিপাশা চক্রবর্তী | ১৫ সেপ্টেম্বর ২০১৫ ২:১২ অপরাহ্ন

অনেক দিন আগে, ১৮৫৮ সাল। বাংলাদেশের ময়মনসিংহে জন্ম নেয়া পৃথিবীর প্রথম বায়োফিজিস্ট, জগদীশ চন্দ্র বসু। তিনিই প্রথম প্রকৃতির এক নতুন সত্য জানিয়েছিলেন পৃথিবীকে। সেটা কী? উদ্ভিদেরও প্রাণ আছে। আছে সংবেদনশীলতা। তাঁর পদার্থবিজ্ঞানের জ্ঞান কাজে লাগিয়ে সম্পূর্ণ নিজস্ব পদ্ধতিতে এবং দেশীয় উপাদানে তৈরি যন্ত্রপাতি দিয়ে তিনি একটি বৈদ্যুতিক সংবেনশীল যন্ত্রের মডেল তৈরি করেন যা অনেকটা কম্পিউটারের সেন্ট্রাল প্রসেসিং ইউনিটের মত। সে যন্ত্রই সর্বপ্রথম উদ্ভিদের বৃদ্ধি ও সংবেদনশীলতা মাপার কাজে ব্যবহৃত হয়েছিল। জগদীশ চন্দ্র বসুর আগে কেউ ধারণা করতে পারেনি উদ্ভিদের যে প্রাণ আছে। তিনিই প্রথম গবেষণা করেছিলেন উদ্ভিদের শারীরবৃত্তিয় প্রক্রিয়া নিয়ে। এই অসাধারণ মেধার মানুষটির মৃত্যু ঘটে ১৯৩৭ সালে ২৩ নভেম্বর। তারপর কেটে গেছে বহু সময়। তারই দেখানো পথ ধরে সারা পৃথিবী অনেক এগিয়ে গেছে উদ্ভিদ সম্পর্কিত নানা গবেষণায়। গড়ে উঠেছে প্রাকৃতিক বিজ্ঞানে সম্পূর্ণ নতুন এক শাখা: প্লান্ট বায়ো সায়েন্স। বাইরের দেশগুলোতে এই শাখায় রাত দিন গবেষণা করে যাচ্ছেন শত শত মাইক্রো বায়োলজিস্ট, উদ্ভিদ বিজ্ঞানী। তারই ধারাবাহিকতায় এই ২০১৫ সালে এসে আমরা জানতে পারছি নানা চমকপ্রদ সব তথ্য।

আপনি অবাক হবেন এটা ভেবে যে, আপনার পায়ের তলার ঘাসেরা কি অনুভব করছে? আপনি যখন বাগানে গোলাপ, বেলী, হাসনাহেনাদের গন্ধে মাতোয়ারা , আপনি কি জানেন, ওরাও তখন আপনার ঘ্রাণও পেতে পারে? কখনো ভেবেছেন, আপনার বাড়ির পাশে বেড়ে ওঠা মেহগনি, দেবদারুদের চোখে এই পৃথিবী কেমন দেখায়? রোদ, জল আর বাতাসের স্বাদ ওদের কেমন লাগে? (সম্পূর্ণ…)

কেন কোনো কিছু না থাকার বদলে কিছু আছে?

অভিজিৎ রায় | ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০১৫ ২:৪৪ অপরাহ্ন

কেন কোনো কিছু না থাকার বদলে কিছু আছে? (Why there is something rather than nothing?) – প্রথম কবে এ প্রশ্নটির মুখোমুখি হয়েছিলাম তা আজ মনে নেই। সম্ভবত: জঁ-পল সার্ত্রের(১৯০৫- ১৯৮০) অস্তিত্ববাদী দর্শন ‘বিয়িং এণ্ড নাথিংনেস’ কিংবা মার্টিন হাইডেগারের (১৮৮৯ -১৯৭৬) অধিপদার্থবিদ্যা বিষয়ক বই ‘ইন্ট্রোডাকশন টু মেটাফিজিক্স’ পড়তে গিয়ে। শেষোক্ত বইটির প্রথম লাইনটিই ছিল – ‘হোয়াই দেয়ার ইজ সামথিং র‌্যাদার দেন নাথিং?’। তারপর থেকে বহু বইয়ে, অসংখ্য জায়গাতেই এর উপস্থিতি টের পেয়েছি। দার্শনিক উইলিয়াম জেমস (১৮৪২ – ১৯১০) তার ‘সাম প্রবলেমস অব ফিলসফি’ গ্রন্থে এ প্রশ্নটিকে চিহ্নিত করেছিলেন ‘অন্ধকারতম দর্শন’ হিসেবে। জ্যোতির্পদার্থবিদ স্যার আর্থার বার্নার্ড লোভেল (১৯১৩ – ২০১২) একে দেখেছেন ‘ব্যক্তির মনকে ছিন্ন ভিন্ন করা’ প্রশ্ন হিসেবে। সত্যিই তো – এই যে বিশাল মহাবিশ্ব আর এই বস্তুজগৎ, এতো সবকিছুর বদলে যদি কিছুই না থাকতো – কীই বা ক্ষতি হতো? আর কেনই বা কোনো কিছু না থাকার বদলে এতো কিছু আছে? বিষয়টা গুরুত্বপূর্ণ। এ বিষয়ে আমার পড়া এখন পর্যন্ত সর্বশেষ বই জিম জোল্টের ‘হোয়াই ডাস দ্য ওয়ার্ল্ড এক্সিস্ট’ (২০১২) । সেখানে লেখক রসিকতা করে বলেছেন –‘সাইকিয়াট্রিক রোগীরা এই প্রশ্ন দিয়ে বরাবরই আচ্ছন্ন থাকে’! (সম্পূর্ণ…)

নিউটনীয় ঈর্ষা

দীপেন ভট্টাচার্য | ৫ december ২০১৪ ৬:১৮ অপরাহ্ন

newton110.jpgযে কোন “শ্রেষ্ঠ বিজ্ঞানী” প্রতিযোগিতায় আইজাক নিউটন সর্বোচ্চ আসনটি পান, অনেক সময় আইনস্টাইনকেও সেটি দেওয়া হয়। তবে একথা বলা যায় যে নিউটনের বলবিজ্ঞান ও বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি ইউরোপে ও পরবর্তীকালে সারা পৃথিবীতে শিল্প ও কারিগরী বিপ্লব নিয়ে আসে। আমরা এখনো নিউটনের গতিসূত্র পড়ি সেভাবেই যেভাবে নিউটন সেগুলো ১৬৮৭ সনে তাঁর Philosophiæ Naturalis Principia Mathematica বইয়ে লিখে গিয়েছিলেন। নিউটন তাঁর সৃষ্টির জন্য অন্য কারুর ওপর নির্ভর করেন নি, তিনি একাই মানব সভ্যতার জন্য বিজ্ঞানের কাঠামো তৈরি করে দিয়েছিলেন। নিউটনের ক্ষণজন্মা প্রতিভা ইতিহাসে হয়তো অদ্বিতীয়। কিন্তু আমরা অনেকেই জানি না নিউটন তাঁর সৃষ্টিশীল জীবনের বেশীরভাগ অংশই ব্যবহার করেন নি পদার্থবিদ্যার ভিত্তিভূমি রচনা করতে, বরং সেটি গেছে আলকেমি বিদ্যার পরশপাথর তৈরি করার অথবা যিশুর পৃথিবীতে দ্বিতীয় আগমনের দিনটি নির্ধারণ করার মত ব্যর্থ প্রচেষ্টায়। এটা আমাদের অনেকের পক্ষেই বোঝা মুশকিল যে নিউটন তাঁর অসাধারণ যুক্তি-ক্ষমতা দিয়ে আমাদের গাণিতিক হিসাব নিকাশকে সহজ করে দিয়েছেন ক্যালকুলাসের উদ্ভাবনের মাধ্যমে, আকাশ পর্যবেক্ষণকে আধুনিক যুগে নিয়ে এসেছেন প্রতিফলক দূরবীন আবিষ্কারের মাধ্যমে, পৃথিবী থেকে অন্য সৌরীয় গ্রহ, উপগ্রহ, গ্রহাণু, ধূমকেতুতে মহাকাশযান পাঠাবার পথ নির্ধারণ করে দিয়েছেন তাঁর মাধ্যাকর্ষণের নীতির মাধ্যমে, সর্বোপরি বিজ্ঞানের আধুনিক যুগ সৃষ্টি করেছেন পদার্থবিদ্যার প্রতিটি রাশির নিয়মনিষ্ঠ সংজ্ঞা প্রণয়ন করে, সেই নিউটনই আবার কেমন করে বছরের পর বছর কাটিয়েছেন তাঁর পরীক্ষাগারে পারদ থেকে সোনা সৃষ্টি করার প্রয়াসে, কিংবা বাইবেলের পুরাতন ও নতুন টেস্টামেন্টের চুল-চেরা বিশ্লেষণে যে কখন পৃথিবীর ঈশ্বর-প্রদত্ত যবনিকা নেমে আসবে। (সম্পূর্ণ…)

বিজ্ঞান ও সংস্কৃতি

ফারসীম মান্নান মোহাম্মদী | ৭ জুলাই ২০১২ ১১:০৬ অপরাহ্ন

আমরা যে সময়ে বাস করি সেটা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির সময়। সকালে ঘুম থেকে উঠে রাতে শুতে যাবার আগ পর্যন্ত আমরা হামেশা বিজ্ঞানের উপকরণ ব্যবহার করি। বিদ্যুৎ, গ্যাস, পানির সরবরাহ টোস্টার-মাইক্রোওয়েভ, ইন্টারনেট-ল্যাপটপ -আইফোন, বাতি-পাখা-লিফ্ট, গাড়ি-বাস-বাইক, টিভি-ডিভিডি-হোম থিয়েটার ইত্যাদি সবই আধুনিক প্রযুক্তির অবদান। প্রযুক্তিক উৎকর্ষের কল্যাণে নিত্যনতুন ঔষধ আবিষ্কৃত হয়েছে, আমাদের গড় আয়ুষ্কাল বেড়েছে। বাতাসের মধ্যে থেকেও যেমন বাতাসের অস্তিত্ব আমরা সচেতনভাবে টের পাইনা, ঠিক তেমনি বিজ্ঞানের মধ্যে থেকেও আমরা বিজ্ঞানকে ভুলে থাকি। শুধু ভুলে থাকি না, ভুলে থাকার জন্য সক্রিয়ভাবে চেষ্টা করি। বাইরের জগৎ সম্পর্কে জানতে না চাওয়ার এই মজ্জাগত সমস্যা বিশেষ করে আমাদের দেশে বেশী প্রকট। বাঙালি মুসলমানের বুদ্ধিবৃত্তিক এই কূপমণ্ডুকতা দীর্ঘস্থায়ী ঔপনিবেশিক সংস্কৃতির ফল বলেই মনে হয়। আমরা ভোগ করি ঠিকই কিন্তু কী ভোগ করছি তার সম্পর্কে বিন্দুমাত্র কৌতুহলী আমাদের নেই। এই ভোক্তা-সংস্কৃতির খিদে মিটিয়ে বিদেশী কোম্পানি প্রচুর মুনাফা দেশের বাইরে নিয়ে যাচ্ছে সেটা আমরা দেখতে বুঝতে শুনতে চাইনা। চোখ বন্ধ কলুর বলদের মতো ব্যাপারটা আরকি। (সম্পূর্ণ…)

সুপারলুমিন্যাল নিউট্রিনো–আইনস্টাইন কি তবে ভুল ছিলেন?

অভিজিৎ রায় | ১২ december ২০১১ ১২:৫৪ অপরাহ্ন

ea1945.jpg
১৯৪৫-এ সাগরতীরে আলবার্ট আইনস্টাইন

বিজ্ঞানে কোনো কিছুই স্থির নয়। সেজন্যই বৈজ্ঞানিক তত্ত্বের একটি বড় বৈশিষ্ট্য হচ্ছে–এটিতে ভুল প্রমাণের সুযোগ থাকতে হবে, যেটাকে আমরা বলি ‘বাতিল-যোগ্যতা বা ফলসিফায়াবিলিটি। সোজা কথায়, ‘scientific theories must be falsifiable’, না হলে সেটি তত্ত্ব হয়ে ওঠে না[১]। নতুন নতুন পর্যবেক্ষণলব্ধ জ্ঞানের সাপেক্ষে বিজ্ঞানের পুরনো তত্ত্ব বাতিল কিংবা বদলে ফেলার দৃষ্টান্ত বিজ্ঞানে আছে বহু। পরীক্ষা নিরীক্ষা পর্যবেক্ষণের সাথে মেলেনি বলেই টলেমির ভূ-কেন্দ্রিক তত্ত্ব বাতিল হয়ে গিয়েছিলো, কোপার্নিকাস আর গ্যালিলিওর পর্যবেক্ষণের ধাক্কায়। অতীতে ভূকেন্দ্রিক তত্ত্ব, ফ্লোগিস্টন তত্ত্ব, ইথার তত্ত্ব, ল্যামার্কের তত্ত্ব, প্যাঞ্জিয়াম তত্ত্ব, আলো চলাচলের জন্য নিউটনের কর্পাস্কুলার তত্ত্ব সবই একসময় ভুল প্রমাণিত হয়েছে। আমরা পেরেছি পুরাতনকে বর্জন করে নতুন ‘আলোকেরই ঝর্নাধারায়’ নিজেদের সিক্ত করতে। সেজন্যই কিন্তু বিজ্ঞান ‘ডায়নামিক’, ধর্ম কিংবা ডগমার মত স্থবির কিছু নয়। বিজ্ঞানে কোনো কিছুই পাথরে খোদাই করে লেখা হয়নি, লেখা হয় না। বিজ্ঞানে ‘হিরো’ আছে, কিন্তু নেই কোনো প্রফেট বা পয়গম্বর। আর এই হিরোদের অবদান নিয়ত প্রশ্নবিদ্ধ হয় বিজ্ঞানের জগতে– তা তিনি নিউটনই হোন, ডারউইনই হোন কিংবা হোন না তিনি জগদ্বিখ্যাত প্রতিভা আলবার্ট আইনস্টাইন।

—————————————————————–
এখন আপনার বেগ যদি আলোর বেগকে অতিক্রম করে যায়, মানে আপনি আলোর চেয়ে বেশি বেগে ভ্রমণ করতে থাকলে নানা ধরনের অস্বাভাবিক ব্যাপার স্যাপার ঘটতে থাকবে। আপনার জন্য সময়ের চাকা সামনে না চলে পেছনের দিকে চলতে থাকবে, আপনার ভর অসীমতার স্তর পার হয়ে, হয়ে যাবে কাল্পনিক, এবং আপনার দৈর্ঘ্য হয়ে যাবে ঋণাত্মক।
—————————————————————-

কিন্তু তারপরেও বিজ্ঞানের কিছু কিছু তত্ত্ব পর্যবেক্ষণ দিয়ে এতোটাই সমর্থিত হয়ে ওঠে যে, সেই তত্ত্বের উপর আস্থা প্রকাশ করে যান বিজ্ঞানীরা অনেকটাই নির্ভয়ে। এমনি একটি আস্থা ছিল আইনস্টাইনের আপেক্ষিক তত্ত্ব থেকে পাওয়া অনুসিদ্ধান্তগুলোকে ঘিরে। ১৯০৫ সালের পর থেকে একটি ব্যাপারে পদার্থবিদরা নিশ্চিত ছিলেন–আলোর গতি এক সেকেণ্ডে ১ লক্ষ ৮৬ হাজার মাইল (বা ২৯৯,৭৯২,৪৫৮ মিটার), আর আলোর চেয়ে বেশি বেগে কোনো পদার্থের পক্ষে ভ্রমণ করা সম্ভব নয়। আলোর চেয়ে বেশি বেগে কারো পক্ষে ভ্রমণ করা সম্ভব না– এটি বিজ্ঞানীদের কাছে আস্থার প্রতীক; হয়ে উঠেছিলো অনেকটা আগামীকাল পূর্বদিকে সূর্য ওঠার মতোই ধ্রুব সত্য। অবশ্য এই ধরনের আস্থার কারণও সহজেই বোধগম্য। আমাদের আধুনিক টেকনোলজি– জিপিএস, ট্রানজিস্টর, কম্পিউটার, ইন্টারনেট সহ যে অবদানগুলোর প্রতি নির্ভয়ে অহর্নিশি আমরা কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করি–সেগুলো আইনস্টাইনের তত্ত্বের উপর ভিত্তি করেই নির্মিত। তার চেয়েও বড় কথা সার্নের এই ফলাফলের আগে কোনো পরীক্ষালব্ধ ফলাফলই আইনস্টাইনের তত্ত্বকে কখনো প্রশ্নবিদ্ধ করতে পারেনি। আইনস্টাইন তার তত্ত্ব দেবার পর আক্ষরিক অর্থেই অন্ততঃ হাজার খানেক পরীক্ষা নিরীক্ষা করা হয়েছে তার তত্ত্বকে ঘিরে। প্রতিবারই এটি অতি সফলভাবে বাধা বিপত্তি আর সংশয়ের দেওয়ালকে অতিক্রম করতে পেরেছে[২]

pic_1_cngs_layout_opera_experiment.jpg
ছবি ১– সার্ন এবং গ্রান সাসো ন্যাশনাল ল্যাবরেটরির অপেরা প্রকল্পের রেখচিত্র (ছবির কৃতজ্ঞতা: T. Adam et al. OPERA collaboration, Measurement of the neutrino velocity with the OPERA detector in the CNGS beam, 22 September, 2011.)

আমাদের গাড়ির কিংবা আইফোনের জিপিএস সিস্টেমের কথাই ধরা যাক। এই জিপিএস সিস্টেমের বদৌলতে পৃথিবীতে আমাদের অবস্থান এমনকি কয়েক ফুটের পরিসীমায়ও আমরা এখন সূক্ষ্মভাবে বলে দিতে সক্ষম। অথচ জিপিএস ঠিকমতো কাজই করতো না যদি আইনস্টাইনের আপেক্ষিকতা থেকে পাওয়া ‘সংশোধনীগুলো’ গোনায় না নেওয়া হত। আমাদের মতো আমজনতার কথা না হয় বাদ দেই, আমেরিকার পেন্টাগনের জেনারেলদেরও নাকি এখন পদার্থবিদদের কাছ থেকে প্রতিনিয়ত ‘আপেক্ষিকতার সবক’ নিতে হচ্ছে, কারণ শত্রুদের অবস্থান স্যাটেলাইট কিংবা জিপিএসের মাধ্যমে পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে জানার জন্য এ ছাড়া গতি নেই[৩]। তারা বুঝতে পেরেছেন বেগ বাড়ার সাথে সাথে পৃথিবীর উপরে অবস্থিত জিপিএস-এর ঘড়ির সময় বদলে যায় খাপে খাপ মতো আইনস্টাইনের আপেক্ষিক তত্ত্বের গণনা অনুসরণ করে। (সম্পূর্ণ…)


Disclaimer & Privacy Policy  |  About us  |  Contact us

© bdnews24.com