আর্টস বৈঠক

আর্টস বৈঠক

মনের মানুষ (কিস্তি ১)

| ২৯ নভেম্বর ২০১১ ১১:৫৬ অপরাহ্ন

goutamghose1.jpg
গৌতম ঘোষ (জন্ম. ২৪ জুলাই ১৯৫০)

১৫০ মিনিট দৈর্ঘ্যের সিনেমা ‘মনের মানুষ‘ মুক্তি পায় ২০১০ সালের ০৩ ডিসেম্বর। পরিচালক গৌতম ঘোষ। প্রযোজনা করেছেন গৌতম কুণ্ডু এবং হাবিবুর রহমান খান। বাংলাদেশ ও ইন্ডিয়ার যৌথ প্রযোজনায় সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের মনের মানুষ উপন্যাস অবলম্বনে ছবিটি নির্মিত। উপন্যাস মনের মানুষ প্রকাশিত হয় ১৪১৫ বঙ্গাব্দে দেশ পত্রিকার শারদীয় সংখ্যায় (আগ্রহীরা পড়তে পারেন: মনের মানুষ)।
subpage3.jpg

মুক্তির পরে মনের মানুষ দর্শকদের মিশ্র প্রতিক্রিয়া পায়। মুগ্ধ দর্শকের বিপরীতে বহু দর্শক ক্ষুব্ধ হয়েছেন। সাম্প্রতিক বাংলাদেশে লালন নিয়ে ভাবেন, লেখেন, করেন–এমন অনেকেই মনের মানুষ-এ পরিবেশিত লালনকে গ্রহণ করতে পারেননি, মনের মানুষ-এ লালন ও তাঁর দর্শন খণ্ডিত হয়েছে বলে অভিযোগ তুলেছেন।

এই কনটেক্সটে ২০১১ সালের ২৪ জানুয়ারি সন্ধ্যায় আর্টস বৈঠক ডাকা হয় bdnews24.com-এর তখনকার ধানমণ্ডি অফিসের সভাকক্ষে। বৈঠক সঞ্চালন করেছেন ব্রাত্য রাইসু। আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন—

ফরহাদ মজহার (কবি, লেখক ও গীতিকার)
সলিমুল্লাহ খান (শিক্ষক, লেখক ও অনুবাদক)
গৌতম দাস (লেখক, প্রবাসী)
মানস চৌধুরী (শিক্ষক, লেখক)
রাজু আলাউদ্দিন (কবি, সাংবাদিক)
জাকির হোসেন রাজু (চলচ্চিত্র সমালোচক ও নির্মাতা)
ফাহমিদুল হক (শিক্ষক ও লেখক)
অরূপ রাহী (গায়ক, সংস্কৃতি-রাজনীতি চিন্তুক)
মোহাম্মদ আজম (শিক্ষক ও লেখক)
সাবরিনা সুলতানা চৌধুরী (শিক্ষক)
মুসতাইন জহির (লেখক)
এস এম রেজাউল করিম (লেখক)


আর্টস বৈঠক: মনের মানুষ (কিস্তি-০১)
ভিডিও ধারণ: প্রমা সঞ্চিতা অত্রি

বি.দ্র. অডিও/ভিডিও ডাউনলোড করার জন্য নিচের ঠিকানা থেকে মজলিা ফায়ারফক্স অ্যাড-অন ইনস্টল করে নিন।

ফায়ারফক্স অ্যাড-অন: অডিও/ভিডিও ডাউনলোড অ্যাড-অন
অ্যাড-অন লিংক-এ ডাউনলোড করার নির্দেশনা দেওয়া আছে।–বি.স.

—————-

আর্টস বৈঠক: মনের মানুষ

ব্রাত্য রাইসু: কীভাবে শুরু করা যায়? এক হইতে পারে যে, যাঁরা দেখছেন ‘মনের মানুষ’ ছবিটি—তাঁরা প্রত্যেকে দুই-এক মিনিট কইরা বললেন, যাঁর যা নোট করা দরকার করলেন, তারপরে কেউ একজন আলোচনা শুরু করলেন। তারপরে আগাইতে থাকলো। মানে, গোল টেবিলের মতো না কইরা আমরা এইভাবে করতে পারি কিনা?

ফরহাদ মজহার: কোনো অসুবিধা নাই।

ফাহমিদুল হক: আপনার, অর্গানাইজার হিসাবে আপনার কোনো বক্তব্য প্রথমে শুনে নেওয়া উচিত।

ফরহাদ মজহার: আপনি কেন এটা করতে চাইছেন?
dsc00904_resize.jpg
ব্রাত্য রাইসু: ও আচ্ছা। যেটা হলো যে, মনের মানুষ—খুবই জনপ্রিয় হইছে সিনেমাটা। আমি দেখলাম যে, ওইদিন আমরা গিয়েছিলাম একটা অনুষ্ঠানে। সিএনজি থেকে নামছি আমি আর রেজাউল করিম। আমার সঙ্গে উনি আর্টসে কাজ করেন। তো নামার পরে আমাকে ডাকলেন সিএনজিঅলা, ভাই, একটু শুনেন। আমি বললাম, কী ব্যাপার? বলেন যে, ওনারে মনের মানুষের লোকটার মতো লাগতেছে। বললাম কী, কোন লোক? বলে যে, নামটা মনে নাই। আমি বললাম, লালন? বলে, হ্যাঁ, হ্যাঁ, লালন, লালন। তো এই যে জিনিসটা, মানে সবার কাছে জিনিসটা পৌঁছাইছে। এর গুরুত্ব অনেক। এখন একইসঙ্গে মনের মানুষ ছবি নিয়ে ফেসবুকে দেখলাম কিছু আলোচনা এবং আমাদের বন্ধু-বান্ধবদের কাছে এটার ব্যাপারে শুনলাম অনেকগুলো আপত্তির কথা। ফলে এই দুটো জিনিসকে একসঙ্গে বোঝার জন্য আমরা এই আয়োজনটা করেছি যে, মনের মানুষের মধ্যে লালনকে যেভাবে উপস্থাপন করছেন তাতে দোষ-গুণ কী আছে, না আছে—সেই আর কি। (সম্পূর্ণ…)

আর্টস বৈঠক

মেহেরজান বিতর্ক (কিস্তি ৮)

| ২৬ জুলাই ২০১১ ১১:০৭ অপরাহ্ন

কিস্তি ১-এর লিংক কিস্তি ২-এর লিংক কিস্তি ৩-এর লিংক কিস্তি ৪-এর লিংক কিস্তি ৫-এর লিংক কিস্তি ৬-এর লিংক কিস্তি ৭-এর লিংক

(কিস্তি ৭-এর পর । শেষ কিস্তি))
————-

ফরহাদ মজহার: একটা ছিল রেসিয়াল ইন্টারপ্রিটেশন অব নাইনটিন সেভেনটি ওয়ান। মানে, আমরা বাংলাদেশী জাতিরা, আমরা লড়াই করেছি পাঞ্জাবিদের বিরুদ্ধে। আমরা এ পর্যন্ত যত উপন্যাস লিখেছি, যত কিছু দেখেছি, আমরা যা শুনলাম একটু আগে—সবই ছিল যে, আমাদের—পাঞ্জাবিরা ধর্ষক, পাকিস্তানিরা ধর্ষক, তারা আমাদের অত্যাচার করেছে, এটা ঔপনিবেশিক এবং ফলে এটা ছিল—এই বয়ানটা একটা রেসিয়াল বয়ান, রেসিজম। এটা কিন্তু মুক্তিযুদ্ধের বয়ান হয় নাই। মুক্তিযুদ্ধের বয়ানে যখন আসবে তখন কিন্তু পিপল্‌সের জায়গা থেকে, যেটা সেলিম ইঙ্গিত দেবার চেষ্টা করছে, পিপল্‌সের জায়গা থেকে, শ্রমিকের লড়াইটা আগে ছিল। বাংলাদেশ শ্রমিক আন্দোলনগুলো ছিল, আদমজী জুট মিলে শ্রমিকদের বড় আন্দোলন ছিল, কৃষকদের আন্দোলন ছিল। ওই বয়ানের কোনো উপস্থিতিই নাই, আমাদের যে, রেসিয়াল মুক্তিযুদ্ধের যে কথন। মানে আমি আশ্চর্য, যেটা শুনে বিস্মিত হয়েছি, আমি নিজেও এখানে, বলবো যে, হকচকিয়ে যাইতেছি, কথা বলতে ভয় পাচ্ছি, যে, আমরা এখন পর্যন্ত সেভেনটি ওয়ান থেকে শুরু করে ২০১১ সাল পর্যন্ত মুক্তিযুদ্ধের নন-রেসিয়াল, একটা পিপল্‌স্‌ বয়ান আমরা তৈরি করতে পারিনি।


ভিডিও: মেহেরজান বিতর্ক, শেষ পর্ব

আমরা এখনও বারবারই একটা জাতীয়তাবাদী জীবন—জাতীয়তাবাদে কোনো অসুবিধা নাই আমার। যেটা আমি, আবারো আমি ফাহমিদুলকে কোট, মানে বলতেছি ওর লেখা সম্পর্কে, যে আমাদের একটা স্ট্র্যাটেজিক এসেনশিয়ালিজম বলে—যে জাতীয় বা জাতীয় মুক্তিসংগ্রামকে সমর্থন করা আর জাতীয়বাদকে সমর্থন করার মধ্যে একটা বড় ধরনের পার্থক্য আছে। জাতীয়বাদ একটা ডেফিনিটলি এইটা রেসিয়াল ইডিয়োলজি, এবং একইসঙ্গে এটা ফ্যাসিজমকে জন্ম দেয়। এটা তার চরিত্রগত লক্ষণ, কিন্তু তার মানে এই নয় যে, ন্যাশনাল লিবারেশন মুভমেন্টটা আমরা কখনো ডিসওন করব। যেটা আমি মনে করি যে, সেলিমের সঙ্গে বা অন্য সবার সঙ্গে আমি একশ বার একমত। এটা কোনো প্রশ্নই আসে না। সেভেন্টি ওয়ান ইজ এ পয়েন্ট অব ডিপারচার, কারণ সেভেন্টি ওয়ানে আমরা একইসঙ্গে কিন্তু–রেসিয়াল আইডেন্টিটির জায়গা থেকে কিন্তু উতরে যাচ্ছিলাম আমরা। কারণ আমরা এই প্রথম রেসিয়াল এবং কমিউনাল আইডেনটিটির মধ্যে ঢুকছি না, কারণ বাঙালি মুসলমানরা এই প্রথম তাদের কালচারাল আইডেনটিটিকে তারা খুঁজে পাচ্ছে, বাঙালির মধ্যে। কারণ বাঙালি মুসলমানরা এই পর্যন্ত, প্রথমত, ইংরেজি শিখে নাই একশ বছর ইংরেজ শাসনের সময়ে। এর পরবর্তীতে ইংরেজি যখন শিখতে গেছে তখন হয়ে গেছে কমিউনাল। তার পর তার মধ্যে কমিউনাল টেন্ডেন্সি ডেভেলপ করেছে।
(সম্পূর্ণ…)

আর্টস বৈঠক

মেহেরজান বিতর্ক (কিস্তি ৭)

| ২ জুন ২০১১ ৪:০২ পূর্বাহ্ন

কিস্তি ১-এর লিংক কিস্তি ২-এর লিংক কিস্তি ৩-এর লিংক কিস্তি ৪-এর লিংক কিস্তি ৫-এর লিংক কিস্তি ৬-এর লিংক

কিস্তি ৬-এর পর
————-

মুসতাইন জহির: আচ্ছা আমি এই ফাঁকে, চা আনতে আনতে একটা কথা বলি। সুমন ভাই যেটা বললেন—মানে আমার মনে হয় যে, ছবিটাতে আমরা প্রধানতঃ, এইখানে আলোচনায় প্রধানতঃ যে জিনিসটা শুনলাম, মুক্তিযুদ্ধের চেতনা, মুক্তিযুদ্ধের আদর্শ যে চরিত্র, তার যে বীরত্ব—সমস্ত কিছু, পরিপূর্ণ দায়-দায়িত্ব নিয়েই যে কাউকে ছবি বানাইতে হবে; এটা প্রতিষ্ঠিত এখানকার আলোচনায়। তাতে কেউ বিচ্যূত হইলে তাঁর সমস্যা এবং তাঁর খবর আছে। এবং মুক্তিযুদ্ধকে আমরা–বাংলাদেশে গত দশ বছরে শুধু ফ্যাসিজম দেখেছেন আপনি—তা না, বইটা নিয়ে এসেছি, মাঝখানে ভাবছিলাম আলোচনা করবো না, এটা ১৯৯৩ সালে ‘খবরের কাগজ,-এ ছাপা হয়েছে, হুমায়ুন আজাদের একটা লেখা, এটার নাম হলো—আমার মুক্তিযুদ্ধ। আপনারা, আমি জানি না কারা কারা পড়েছেন। লেখাটা তিন পৃষ্ঠার, পুরাটা আমি পড়বো না, অনেকের ধৈর্যচ্যুতি ঘটতে পারে। সংক্ষেপে গল্পটা হলো—উনি এডিনবরা বিশ্ববিদ্যালয়ে ৭১-এর যুদ্ধের পরে গিয়েছে, সেখানে এক ফরাসি মেয়েকে দেখেছে এক পাকিস্তানির সাথে বসে আছে, এখন এই পাকিস্তানির হাত থেকে এই মেয়েকে উদ্ধার করে তিনি কিভাবে এই মেয়েকে দখল করলেন—এটা হলো তাঁর মুক্তিযুদ্ধ। এটা কিন্তু আমাদের জাতীয়তাবাদী আবেগের এবং জাতীয়তাবাদী চেতনার খুব গুরুত্বপূর্ণ একটা উপাদান আমি মনে করি। শেষে উনি বলেছেন,


মেহেরজান বিতর্ক: কিস্তি ০৭

‘আমি পাকিস্তানের সাথে যুদ্ধ করেছিলাম একাত্তরের কয়েক বছর পর। বাংলাদেশ থেকে সুদূর এডিনবরায় একটি হানাদারকে খুন করার সুখ আজো আমার বুক ভরে আছে।’
ফরাসিরা কবিতা, নন্দন, শিল্পকলা—এগুলা বোঝে জানে কিন্তু পাকিস্তানিরা জানে না। রেসিজম নিয়ে যে তর্কটা হচ্ছে, সেটার জন্য হুমায়ুন আজাদের উদ্ধৃতিটা বলি,

‘আমি জানি পাকিস্তানিরা কবিতা ছাড়াই বাঁচে, রক্ত খেয়ে বাঁচে, কিন্তু মেয়েটি জানে না।’

আরো বলি,–
[পিয়াস করিম: হুমায়ুন আজাদ অনেক দায়-দায়িত্ব নিয়ে নিয়েছেন…] ‘মেয়েটিকে কি সে চুমু খাবে, সোনালী চুলের ঘ্রাণ নেবে, নাকি ধর্ষণ করবে? আমার মনে হলো, পটিয়ে ঘরে নিতে পারলেই পাকিস্তানিটি ধর্ষণ করবে ঐ সোনালীকে। আমার মনে হতে লাগলো, পাকিস্তান-ধর্ষণ, পাকিস্তান-ধর্ষণ, ধর্ষণ,…’
(সম্পূর্ণ…)

আর্টস বৈঠক

মেহেরজান বিতর্ক (কিস্তি ৬)

| ১৯ মে ২০১১ ২:০১ অপরাহ্ন

কিস্তি ১-এর লিংক কিস্তি ২-এর লিংক কিস্তি ৩-এর লিংক কিস্তি ৪-এর লিংক কিস্তি ৫-এর লিংক

কিস্তি ৫-এর পর
————-

ফৌজিয়া খান: আচ্ছা, আমি একটু আরেকটা প্রসঙ্গে বলতে চাচ্ছিলাম যে, এখানে ফিমেল সেক্সুয়ালিটি, ডেপিকশন বা ডিজায়ারের ডেপিকশন বলা হচ্ছে। আমার পুরো ছবিটা দেখে, রুবাইয়াত, আপনার (পিয়াস করিম) মতো আমার সামান্য একটু পরিচিত, বেশি ঘনিষ্ঠ বন্ধু না, তারপরও আমি বলব যে, দ্য ওয়ে-তে–ওম্যান আর পোর্ট্রেট হিয়ার, মানে, আমি কোনোভাবেই এটা বলতে পারি না যে, এখানে…বরং মেল গেইজ-ই মনে হয়েছে।


আর্টস বৈঠক: মেহেরজান বিতর্ক (কিস্তি ৬)

পিয়াস করিম: আমি আপনার সঙ্গে একমত এখানে।

ফৌজিয়া খান: সো, মানে এইটাকে–মানে, আমরা বেশি তাত্ত্বিক ব্যাখ্যা করতে গিয়ে যেন আবার…

[সুমন রহমান: না, বেশি তাত্ত্বিক বলতে কি বুঝাইতেছেন?]

মানে, আমার কাছে মনে হয়েছে–যা সরলভাবে আমরা দেখতে পারি সেই দেখাটাকে আমরা একটু ফেস করার চেষ্টা করি।

পিয়াস করিম:‘সরল দেখা’ বলে কোনো দেখা নেই তো আসলে।
(সম্পূর্ণ…)

আর্টস বৈঠক

মেহেরজান বিতর্ক (কিস্তি ৫)

| ১ মে ২০১১ ১:১৮ অপরাহ্ন

কিস্তি ১-এর লিংক কিস্তি ২-এর লিংক কিস্তি ৩-এর লিংক কিস্তি ৪-এর লিংক

কিস্তি চার-এর পর

ব্রাত্য রাইসু: এখানে আমি একটু বলে নিই। আরও তিন জন বক্তা নতুন আসছে আমাদের মাঝে। জাকির হোসেন রাজু’র পর আসছেন সুমন রহমান এবং পিয়াস করিম। তো উনারা যেটা জানেন না–আমরা প্রথমেই যেটা শুরু করছিলাম সেটা হল যে, এই মেহেরজান ছবির ব্যাপারে যদি আপনাদের কারোর কোনো আপত্তি থাকে, এক ধরনের বা বিভিন্ন ধরনের আপত্তি গুলি আমরা এর মধ্যে আলোচনা করছি। আপনাদের নিজেদের কোনো আপত্তি আছে কিনা সেভাবে উচ্চারণ করার মত বা উপস্থাপন করার মত?

meher053.jpg
নীলা ও মেহের, মেহেরজান (২০১১)

সুমন রহমান: মানে কিসের প্রেক্ষিতে আপত্তি?

ব্রাত্য রাইসু: এই যে ছবিটা সম্পর্কে যে, মুক্তিযুদ্ধবিরোধী একটা ব্যাপার, তারপর এই যে নামায়ে নেয়া হল এটা হল থেকে–এ সব ব্যাপারে।

পিয়াস করিম: আমি মনে করি না যে এত সরলভাবে এটা ন্যারেট করা সম্ভব। আপত্তি আছে কিংবা আপত্তি নাই এই সরল বাইনারিটা খুব বিপজ্জনক। আমি ওভাবে প্রশ্নটাকে উত্তরই দিতে পারব না। এটাকে একটা  খুব বিপজ্জনক একটা ভুল প্রশ্ন বলে মনে করি। এটা হচ্ছে আমার অভিমত।

ব্রাত্য রাইসু: না সঠিক উত্তরের মাধ্যমে ভুল প্রশ্নের আপনি  আপনি কোনো সমাধান করবেন কিনা?
(সম্পূর্ণ…)

আর্টস বৈঠক

মেহেরজান বিতর্ক (কিস্তি ৪)

| ৩১ মার্চ ২০১১ ২:২৮ পূর্বাহ্ন

কিস্তি ১-এর লিংক কিস্তি ২-এর লিংক কিস্তি ৩-এর লিংক

কিস্তি তিন-এর পর

poster-5-omar-rahim.jpg
ওমর রহিম মেহেরজান-এর ওয়াসিম রূপে সিনেমার পোস্টারে

ব্রাত্য রাইসু: আচ্ছা, আপনি কি…আজম কিছু বলবেন নাকি?

মোহাম্মদ আজম: না, সলিম ভাইয়ের ইয়ের সঙ্গে আমি একটা জায়গায় ইয়ে করতে চাই। সেটা হল যে—মেহের এবং ওয়াসিমের প্রেমকে পাকিস্তানি এবং বাঙালির প্রেম হিসেবে কীভাবে বোঝা যাবে, যখন ওয়াসিম তো কোন অর্থেই পাকিস্তানের ফাইটিং ফোর্সটার প্রতিনিধিত্ব করছে না?

[ব্রাত্য রাইসু: আজম ভাই, নামটা বইলা নিলে সুবিধা হয়।]

মোহাম্মদ আজম: আচ্ছা, আমি মোহাম্মদ আজম; বাংলা বিভাগে পড়াই, ঢাকা ইউনিভার্সিটিতে।

সলিমুল্লাহ খান: আচ্ছা, ওয়াসিম কি ওখানে বেড়াইতে আসছে? ফাইটিং ফোর্সের প্রতিনিধিত্ব করছে না তো কী জন্যে আসছিলো গ্রামে?

মোহাম্মদ আজম: ওখানে সে পাকিস্তান আর্মির পক্ষ হয়ে এসেছে।

সলিমুল্লাহ খান: তো, তাহলে কী?

মোহাম্মদ আজম: আসার পর তাকে বলা হচ্ছে, তাকে আমরা যখন আবিষ্কার করি ফিল্মে, তখন আমরা তাকে দেখি দুইটা পজিশনে দেখি। নাম্বার ওয়ান, সে হল পাকিস্তান পক্ষ থেকে পালিয়ে এসেছে যার কোর্ট মার্শাল হয়েছিল, সেই ধরনের একজন লোক। তার মানে সে পাকিস্তানের বিপক্ষের একজন লোক। এটা সিনেমায় প্রতিষ্ঠিত হয়েছে কি না, এর ফলে সিনেমার তাৎপর্য চেঞ্জ হয়েছে কি না, আমি সেটা বলছি না। এক্সাক্ট আমি ইনফরমেশনটা বলছি। এটা গেল একটা, আর দু’নম্বর হল সে—দেখাচ্ছে সিনেমায়, সেটাও রিয়েলিস্টিক কি না সেটা আমি দাবী করছি না, যেটা দেখাচ্ছে—যে যোদ্ধারা ঐ পাশ দিয়ে যাচ্ছে, মানে পাকিস্তানি সৈন্যরা—ঐ পাশ দিয়ে যাচ্ছে, তাদের হাত থেকে সে মেহেরকে রক্ষা করছে। এটা হল ইনফরমেশন। I am just putting it. নাম্বার ওয়ান। নাম্বার টু–আপনি (সলিমুল্লাহ খান) যেটা বলছেন যে মেহের পরবর্তী কালে—থার্টি এইট ইয়ার্স, এখানে সে কিন্তু ওয়াসিমের জন্য অপেক্ষা করছে বা ওয়াসিমের জন্য কাতর হয়ে দিন গুজরান করছে এ কথাটা কিন্তু ওর পরবর্তী কালে কোন ন্যারেটিভস-এ পরিষ্কার নয়।
(সম্পূর্ণ…)

আর্টস বৈঠক

মেহেরজান বিতর্ক (কিস্তি ৩)

| ১১ মার্চ ২০১১ ২:০৮ পূর্বাহ্ন

কিস্তি ১-এর লিংক কিস্তি ২-এর লিংক

nana.jpg
নানাজান চরিত্রে তসবিহ হাতে ভিক্টর ব্যানার্জি/মেহেরজান

দ্বিতীয় কিস্তির পর থেকে

সলিমুল্লাহ খান: যদিও বা ইতিহাস রঞ্জন করা রবীন্দ্রনাথের উদ্দেশ্য নয়, সত্যজিৎ রায়েরও উদ্দেশ্য নয়। উদ্দেশ্য হচ্ছে—সন্দীপ, নিখিলেশ বা বিমলা চরিত্রের টাইপ ব্যাখ্যা করা বা তাদের মধ্যে দ্বন্দ্ব-বিরোধ ব্যাখ্যা করা।

এদিকে আপনি বলতে পারেন–ওটা দ্বন্দ্বের ছবি। মানব চরিত্রের…সেক্সপিয়ারেরও নাটকগুলিকে কতগুলো কমেডি বলি, কতগুলো ট্রাজেডি বলি, কতগুলির নাম হচ্ছে—‘দি হিস্টরিজ’। রিচার্ড দ্য…মানে হেনরি দ্য ফোর্থ—এইরকম ছবি আছে। এইগুলি হচ্ছে কনভেনশনাল ব্লিঙ্কার, আমরা…মানুষের চোখকে ধাঁধানোর জন্য এই কথাগুলা আমরা বলি। সেগুলো নিয়ে আমাদের লড়াই করার কিছু নাই।

ব্রাত্য রাইসু: সেগুলো নিয়ে আমরা যদি কোনো আপত্তি করি তখন কিন্তু সেইটা শুধু ব্লিঙ্কার হিসাবে থাকে না, সেইটা কিন্তু একটা অবস্থান…।
(সম্পূর্ণ…)

আর্টস বৈঠক

মেহেরজান বিতর্ক (কিস্তি ২)

| ৭ মার্চ ২০১১ ৫:৪৩ অপরাহ্ন

কিস্তি ১-এর লিংক

mj_111.jpg
ছবিতে অল্প বয়সের মেহের হিসাবে দৌড়াচ্ছেন সায়না আমিন।

তো এই সব মিলিয়ে আমার কাছে ছবিটা আপত্তিকর মনে হয়েছে, আমি যদি বলি আপত্তিকর—যে যদি ছবিটাতে অন্য প্রসঙ্গগুলো, মুক্তিযুদ্ধের অন্য প্রসঙ্গগুলো দিয়ে যদি মুক্তিযুদ্ধটাকে খুব ভালোভাবে তুলে ধরা যেত, পজিটিভ ওয়েতে তুলে ধরা যেত, আমি হয়তো এই ব্যতিক্রমী মূল যে ঘটনাটা, সেটাকে মেনে নিতে রাজি ছিলাম। কিন্তু সেটা করা হয় নি আর কি।

(ব্রাত্য রাইসু: তাইলে আপনি কি বলবেন যে এটায় নেগেটিভভাবে দেখানো হইছে মুক্তিযুদ্ধকে?)


বৈঠকের অডিও/ভিডিও ২

অবশ্যই, অবশ্যই। পুরো ছবিতে মুক্তিযুদ্ধকে নেগেটিভভাবে দেখানো হয়েছে এবং এইটা আমি জানি না যে কেন হয়েছে। কারণ আমার বিশ্বাস করতে কষ্ট হয় যে, এই নির্মাতা বা তার সাথে আরো যারা আছে, আমি চিনি তাদেরকে—অন্য যারা ছেলেপেলেরা আছে—সবাই কিন্তু খুব প্রগ্রেসিভ ধ্যান-ধারণার ছেলেপেলে বলেই আমি জানি। ওরা যে খুব সচেতনভাবে এটা করেছে, সেটাও আমার মনে হয় না। মুক্তিযুদ্ধের সম্পর্কে তাদের অভিজ্ঞতা মানে… হয়তো কম ছিল… বা কী কারণে আমি জানি না… মানে যে কোনো কারণেই এটা এখন একটা মুক্তিযুদ্ধবিরোধী ছবিই হয়ে গেছে।

(ব্রাত্য রাইসু: এরপরে কে বলতে চান? ফৌজিয়া…?) (সম্পূর্ণ…)

আর্টস বৈঠক

মেহেরজান বিতর্ক (কিস্তি ১)

| ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০১১ ২:১৬ পূর্বাহ্ন

rubaiyat-hossain-writer-dir.jpg
মেহেরজান সিনেমার পরিচালক রুবাইয়াত হোসেন

নির্মাতা রুবাইয়াত হোসেন-এর ‘মেহেরজান’ সিনেমার প্রিমিয়ার অনুষ্ঠিত হয় ১৯ জানুয়ারি ২০১১। স্টার সিনেপ্লেক্সের দুটি হলে প্রিমিয়ার শো দেখানো হয়। ২১ জানুয়ারি থেকে সিনেমা হলে মুক্তি দেওয়া হয় মেহেরজান। মুক্তির সপ্তাহ খানেকের মাথায় ‘মেহেরজান’-এর পরিবেশক প্রতিষ্ঠান ‘আশীর্বাদ চলচ্চিত্র’ সিনেমাটি হল থেকে উঠিয়ে নেয়।

মুক্তির এক সপ্তাহের মাথায় হল থেকে কোন একটি সিনেমা নামিয়ে দেওয়া অস্বাভাবিক ঘটনা নয়। সেটা হল কর্তৃপক্ষ নামায়। কিন্তু ‘মেহেরজান’-এর ক্ষেত্রে হল কর্তৃপক্ষের সাথে চুক্তির মেয়াদ থাকা অবস্থায় এবং হল কর্তৃপক্ষের আগ্রহ থাকলেও পরিবেশক পক্ষ থেকে সিনেমাটি তুলে নেওয়া হয়। এটি বাংলাদেশের সিনেমা জগতে একটি নজিরবিহীন ঘটনা।

poster-meherjaan.jpg
‘মেহেরজান’ সিনেমার পোস্টার

‘মেহেরজান’ সেন্সর বোর্ডের ছাড়পত্র পেয়ে প্রেক্ষাগৃহে দর্শকদের জন্য উন্মুক্ত হয়। কিন্তু মুক্তির পরে পরে বাংলাদেশের বিভিন্ন ওয়েবসাইট, বাংলা ব্লগ ও ফেসবুকে ছবিটি ঘিরে সমালোচনা শুরু হয়। বাংলাদেশের বুদ্ধিজীবীদের একাংশ আপত্তি জানিয়ে মানব বন্ধন করেন এবং পত্রিকা মারফতে প্রতিবাদ ও নিন্দা জ্ঞাপন করেন। সমালোচনার জবাবে ছবিটির নির্মাতা রুবাইয়াত হোসেন পত্রিকার মাধ্যমে ছবিটির উদ্দেশ্য ও বিশ্লেষণ হাজির করেন। (সম্পূর্ণ…)


Disclaimer & Privacy Policy  |  About us  |  Contact us

© bdnews24.com