অগ্রন্থিত রচনা

বোর্হেস নিয়ে মান্নান সৈয়দের একটি অপ্রকাশিত লেখা

রাজু আলাউদ্দিন | ৫ আগস্ট ২০১৫ ১:৪৪ অপরাহ্ন

with-mannan-bhai_n.jpgবিদেশের পাঠ চুকিয়ে আমি দেশে ফিরেছিলাম ২০০৯ সালের নভেম্বরের শেষ সপ্তাহে। বহু প্রতীক্ষিত আমার ‘বোর্হেস’ প্রকল্পের অপ্রকাশের ভারে যতটা না নুব্জ ছিলাম, তার চেয়ে বেশি লজ্জিত ও কুণ্ঠিত ছিলাম অন্তর্ভুক্ত নবীন প্রবীণ অনুবাদকদের পাশাপাশি বোর্হেস-প্রেমিক শুভানুধ্যায়ী বন্ধুদের প্রশ্নে: বইটি কবে বেরুবে? কী করে বুঝাই যে প্রবাসে থেকে বইটির প্রকাশনার তদারকি করা প্রায় অসম্ভব ছিল। তদারকির প্রশ্নটাও পরের কথা, আমিতো তখন কোনো যুৎসই প্রকাশকই পাচ্ছিলাম না ওখান থেকে। প্রকাশক পাওয়া না পাওয়া নিয়ে সে এক অন্য কাহন, বাঘা বাঘা কত মগাদের অবহেলা আর অজ্ঞতা পোহাতে হয়েছে, সেখানেও যে আমার কত সময় পুড়ে ছাই হয়ে গেছে সেসব আলাদা করে অন্য কোথাও বলা যাবে।

যাইহোক, দেশে ফিরে আসার পরপরই বোর্হেস প্রকাশে উৎসাহী ঐতিহ্য প্রকাশনীর কর্ণধার আরিফুর রহমান নাঈমের সাথে আমার যোগাযোগ হলো। নাঈমের খুব উৎসাহ আর আগ্রহ দেখে আমি সত্যি সত্যিই খুব মুগ্ধ হয়ে গেলাম। এদিকে নরম্যান টমাস ডি জিওভান্নির সঙ্গে পাণ্ডুলিপি নিয়ে আলাপের ফলে আমার পরিকল্পনাও খানিকটা বদলে যায়। প্রথমে আমার ইচ্ছা ছিল এক খন্ডে বের করার, কিন্তু তিনি বললেন পাঁচ খন্ডে আলাদা আলাদাভাবে বের করার জন্য। ফলে আমার কাজ গেল বেড়ে। নাঈমের ঘাড়েও এই বাড়তি চাপ পরলো। সে যেমন তার লোকজনকে খাটিয়েছে তেমনি আমাকেও খুব খাটিয়ে ছিল এই কারণে যে প্রায় আটশ পৃষ্ঠার পান্ডুলিপিটি ছিল নানান জনের হাতে লেখা। সুতরাং পাঠোদ্ধার, কম্পোজ এবং সবশেষে প্রুফ– থাক সেসব কাহিনী। মান্নান ভাই কিভাবে বোর্হেসের সাথে যুক্ত হলেন সে কথাই বরং স্মৃতি থেকে উদ্ধারের চেষ্টা করি। (সম্পূর্ণ…)

মহীউদ্দীনের অগ্রন্থিত আত্মজৈবনিক রচনা

রাজু আলাউদ্দিন | ১৯ জুন ২০১৫ ১২:০৮ পূর্বাহ্ন

কিছুদিন আগে দিল্লীতে দৈবের বশে বাংলাদেশের কথাসাহিত্যের আদিপর্বের প্রধান লেখকদের একজন কথাসাহিত্যিক অনুবাদক মহীউদ্দীন চৌধুরীর অগ্রন্থিত এই লেখাটি নজরে আসে। হাফিংটন পোস্ট (ভারত)-এর বার্তা সম্পাদক ইন্দ্রানি বসু, তার বাবা লেখক অধ্যাপক দিলীপ কুমার বসু এবং লেখিকা ও শিক্ষিকা নন্দিতা বসুর ব্যক্তিগত পাঠাগার দেখার সুযোগ করে না দিলে এই আবিষ্কার আদৌ সম্ভব হতো কিনা সন্দেহ। তাদের উদার আতিথেয়তার সুযোগ নিয়ে ফাঁকে ফাঁকে চোখ বুলিয়ে নিয়েছিলাম লোভনীয় পাঠাগারের ঘুমিয়ে পড়া বইগুলোর দিকে। নিতান্ত কৌতূহলবশত–পুরোনো বইয়ের প্রতি যা আমার সদাজাগ্রত–শ্রীশৌরীন্দ্রকুমার ঘোষ এবং শ্রীপরেশ সাহার সম্পাদনায় কথাশিল্পী শীর্ষক ঘুমের অভিশাপে নিথর রাজকুমারীর গায়ে সোনারকাঠি ও রূপোরকাঠিসদৃশ প্রেমপ্রবণ আমার আঙুলের স্পর্শ মাত্র সে চোখ মেলে তাকালো। আমিও চোখ রাখলাম বইটির বারান্দায় (সূচীপত্রে)। দেখলাম সেখানে বসে অাছেন পশ্চিমবঙ্গের খ্যাতিমান লেখকদের পাশাপাশি বাংলাদেশের লেখক আবুল ফজল, আবু ইসহাক, মহীউদ্দীন চৌধুরী, মবিন উদদিন আহমদ এবং শামসুদদীন আবুল কালাম। এই গ্রন্থের জন্য লিখিত আত্মজৈবনিক এই লেখাগুলো এখনও পর্যন্ত তাদের কোনো গ্রন্থে অন্তর্ভুক্ত হয়েছে বলে জানা যায় না। আমরা এই পর্বে লেখক মহীউদ্দীন চৌধুরীর লেখাটি প্রকাশ করছি। স্মরতব্য যে মহীউদ্দীন চৌধুরী শেষের দিকে কেবল মহীউদ্দীন নামেই পরিচিত হয়ে উঠেছিলেন।
শ্রীশৌরীন্দ্রকুমার ঘোষ এবং শ্রীপরেশ সাহা সম্পাদিত কথাশিল্পী গ্রন্থ সম্পর্কে জ্ঞাতব্য তথ্য হচ্ছে এই যে এটি প্রকাশ করেছিল কলকাতার ভারতী লাইব্রেরী, প্রকাশক ছিলেন জে. সি. সাহা রায়। কলকাতার লোয়ার সাকুর্লার রোডস্থ শতাব্দী প্রেস প্রাইভেট লি:-এর পক্ষে শ্রীমুরারিমোহন কুমারের তত্ত্বাবধানে মুদ্রিত হয়েছিল। এর প্রথম প্রকাশকাল ছিল পৌষ ১৩৬৪, আজ থেকে প্রায় সাতান্ন বছর আগে। ১৭০ পৃষ্ঠার সুমুদ্রিত এই বইটির দাম ছিল পাঁচ টাকা। (সম্পূর্ণ…)

আবু ইসহাকের অগ্রন্থিত আত্মজৈবনিক রচনা

রাজু আলাউদ্দিন | ২৬ এপ্রিল ২০১৫ ১:০১ পূর্বাহ্ন

_ishak-pic.jpgঅতি সম্প্রতি দিল্লী সফর করতে গিয়ে দৈবের বশে বাংলাদেশের কথাসাহিত্যের আদিপর্বের প্রধান লেখকদের একজন কথাসাহিত্যিক আবু ইসহাকের অগ্রন্থিত এই লেখাটি নজরে আসে। হাফিংটন পোস্ট (ভারত)-এর বার্তা সম্পাদক ইন্দ্রানি বসু, তার বাবা লেখক অধ্যাপক দিলীপ কুমার বসু এবং লেখিকা ও শিক্ষিকা নন্দিতা বসুর ব্যক্তিগত পাঠাগার দেখার সুযোগ করে না দিলে এই আবিষ্কার আদৌ সম্ভব হতো কিনা সন্দেহ। তাদের উদার আতিথেয়তার সুযোগ নিয়ে ফাঁকে ফাঁকে চোখ বুলিয়ে নিয়েছিলাম লোভনীয় পাঠাগারের ঘুমিয়ে পড়া বইগুলোর দিকে। নিতান্ত কৌতূহলবশত–পুরোনো বইয়ের প্রতি যা আমার সদাজাগ্রত–শ্রীশৌরীন্দ্রকুমার ঘোষ এবং শ্রীপরেশ সাহার সম্পাদনায় কথাশিল্পী শীর্ষক ঘুমের অভিশাপে নিথর রাজকুমারীর গায়ে সোনারকাঠি ও রূপোরকাঠিসদৃশ প্রেমপ্রবণ আমার আঙুলের স্পর্শ মাত্র সে চোখ মেলে তাকালো। আমিও চোখ রাখলাম বইটির বারান্দায় (সূচীপত্রে)। দেখলাম সেখানে বসে অাছেন পশ্চিমবঙ্গের খ্যাতিমান লেখকদের পাশাপাশি বাংলাদেশের লেখক আবুল ফজল, আবু ইসহাক, মহীউদ্দীন চৌধুরী, মবিন উদদিন আহমদ এবং শামসুদদীন আবুল কালাম। এই গ্রন্থের জন্য লিখিত আত্মজৈবনিক এই লেখাগুলো এখনও পর্যন্ত তাদের কোনো গ্রন্থে অন্তর্ভুক্ত হয়েছে বলে জানা যায় না। আমরা এই পর্বে লেখক আবু ইসহাকের লেখাটি প্রকাশ করছি। (সম্পূর্ণ…)

আবুল ফজলের অগ্রন্থিত আত্মজৈবনিক রচনা

রাজু আলাউদ্দিন | ১০ এপ্রিল ২০১৫ ১:০২ অপরাহ্ন

ছবি: নাসীর আলী মামুন/ফটোজিয়াম।border=0 অতি সম্প্রতি দিল্লী সফর করতে গিয়ে দৈবের বশে বাংলাদেশের কথাসাহিত্যের আদিপর্বের প্রধান লেখকদের একজন কথাসাহিত্যিক আবুল ফজলের অগ্রন্থিত এই লেখাটি নজরে আসে। হাফিংটন পোস্ট (ভারত)-এর বার্তা সম্পাদক ইন্দ্রানি বসু, তার বাবা লেখক অধ্যাপক দিলীপ কুমার বসু এবং লেখিকা ও শিক্ষিকা নন্দিতা বসুর ব্যক্তিগত পাঠাগার দেখার সুযোগ করে না দিলে এই আবিষ্কার আদৌ সম্ভব হতো কিনা সন্দেহ। তাদের উদার আতিথেয়তার সুযোগ নিয়ে ফাঁকে ফাঁকে চোখ বুলিয়ে নিয়েছিলাম লোভনীয় পাঠাগারের ঘুমিয়ে পড়া বইগুলোর দিকে। নিতান্ত কৌতূহলবশত–পুরোনো বইয়ের প্রতি যা আমার সদাজাগ্রত–শ্রীশৌরীন্দ্রকুমার ঘোষ এবং শ্রীপরেশ সাহার সম্পাদনায় কথাশিল্পী শীর্ষক ঘুমের অভিশাপে নিথর রাজকুমারীর গায়ে সোনারকাঠি ও রূপোরকাঠিসদৃশ প্রেমপ্রবণ আমার আঙুলের স্পর্শ মাত্র সে চোখ মেলে তাকালো। আমিও চোখ রাখলাম বইটির বারান্দায় (সূচীপত্রে)। দেখলাম সেখানে বসে অাছেন পশ্চিমবঙ্গের খ্যতিমান লেখকদের পাশাপাশি বাংলাদেশের লেখক আবুল ফজল, আবু ইসহাক, মহীউদ্দীন চৌধুরী, মবিন উদদিন আহমদ এবং শামসুদদীন আবুল কালাম। এই গ্রন্থের জন্য লিখিত আত্মজৈবনিক এই লেখাগুলো এখনও পর্যন্ত তাদের কোনো গ্রন্থে অন্তর্ভুক্ত হয়েছে বলে জানা যায় না। আমরা এই পর্বে লেখক আবুল ফজলের লেখাটি প্রকাশ করছি। (সম্পূর্ণ…)

আহমদ ছফার অগ্রন্থিত লেখা: স্মৃতির শহর ব্রাহ্মণবাড়িয়া

আহমদ ছফা | ১১ জানুয়ারি ২০১৩ ৯:৫৩ অপরাহ্ন

প্রয়াত লেখক আহমদ ছফার এই লেখাটি এখন্ও তার কোন গ্রন্থে অন্তর্ভুক্ত হয়েছে বলে জানা যায়নি। ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সংস্কৃতিকর্মী ইকবাল খান চৌধুরী সম্প্রতি এটি উদ্ধার করেছেন। লেখাটি ব্রাহ্মবাড়িয়া সাহিত্য একাডেমীর যুগপূর্তি অনুষ্ঠানে যোগদান উপলক্ষ্যে লিখিত হয়েছিলো। পরে ওই একাডেমীর বিশেষ সংখ্যায় তা প্রকাশিত হয়। লেখাটিতে তিনি ব্রাহ্মণবাড়িয়া বাসের স্মৃতিচারণ করেছেন। আহমদ ছফার প্রায় হারিয়ে যা্ওয়া এই লেখাটি বিডিনউজটোয়েন্টিফোরডটকম-এর পাঠকদের জন্য এখানে প্রকাশ করা হলো ।

ব্রাহ্মণবাড়িয়াকে আমি দ্বিতীয় জন্মস্থান মনে করি। ব্রাহ্মণবাড়িয়াতে আমার একরকম নব জন্ম ঘটেছিল। আজকে আমি যা হয়েছি, তাতে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার অবদান অল্প নয়। ব্রাহ্মণবাড়িয়া সম্পর্কে লিখতে গেলে আমাকে পুরো একটা বই লিখতে হবে। তাতেও আমার কথা ফুরোবেনা। জীবনের ঐ পর্বের উপর একটা উপন্যাস লিখে, আমি যে সময় সেখানে ছিলাম সে সময়ের ব্রাহ্মণবাড়িয়াকে জাগিয়ে তোলা যায় কিনা একবার চেষ্টা করে দেখবো। কবে সে দিন আসবে ভবিষ্যতই বলতে পারে। (সম্পূর্ণ…)

আহমদ ছফার অগ্রন্থিত রচনা

কর্ণফুলীর ধারে

| ২৮ জুলাই ২০১০ ১০:১৭ অপরাহ্ন

sofa_43.jpg
আহমদ ছফা

ভূমিকা / নূরুল আনোয়ার

আহমদ ছফার লেখা কেউ ছাপতে চাইত না, সেই কষ্টের কথা আমরা কম বেশি জানি। তিনি পত্রপত্রিকায় কবিতা পাঠালে ছাপার অযোগ্য বিবেচনা করে সম্পাদক সাহেবেরা তা দলামোচড়া করে ময়লার ঝুঁড়িতে ফেলে দিতেন। কবিতা লিখেন অথচ কোন পত্রিকা ছাপে না এটা বন্ধু-বান্ধবদের মাঝে প্রচার পেয়ে গিয়েছিল। ব্যাপারটি তাঁকে এক রকম লজ্জায় ফেলে দিয়েছিল। লজ্জা থেকে নিষ্কৃতি পাবার আশায় তিনি একদিন সংবাদ পত্রিকার অফিসে গিয়ে হাজির হয়েছিলেন। পত্রিকাটি সম্পাদনা করতেন সন্তোষ দাশগুপ্ত। আহমদ ছফা তাঁর লেখা কবিতা সন্তোষবাবুর হাতে তুলে দিয়েছিলেন পত্রিকায় ছাপার জন্য। সন্তোষবাবু কবিতায় আগাগোড়া চোখ বুলিয়ে প্রশ্ন তুললেন, বাবা আছে?

আহমদ ছফার জবাব, নাই।

ভাই আছে?

আহমদ ছফার জবাব, আছে।

আহমদ ছফা জানতে চাইলেন, এসব জানার কারণ কী।

সন্তোষবাবু বললেন, চিঠি দেব যেন সহসা তোমাকে বিয়ে করায়। কবিতার নামে যারা মিনি বিড়ালের মত সঙ্গী খোঁজে তাদের ওষুধ বিয়ে করা।

আহমদ ছফা এসমস্ত কথা শোনার জন্য প্রস্তুত ছিলেন না। তিনি সন্তোষবাবুর ওপর ক্ষেপে গিয়ে পুরো অফিসটা মাথায় তুলে ফেলেছিলেন। সন্তোষবাবু যা ইচ্ছে বলে যাবেন আর আহমদ ছফা ছেড়ে দেবেন তা কী করে হয়? যাহোক, অনাকাঙ্ক্ষিত একটা ঝগড়া তাঁদের মধ্যে চলছিল। এমন সময় পাশের ঘর থেকে রণেশ দাশগুপ্ত বেরিয়ে এসে তাঁদের মাঝখানে দাঁড়িয়েছিলেন এবং আহমদ ছফাকে টেনে নিয়ে গিয়ে তাঁর ঘরে বসিয়েছিলেন। রণেশবাবুকে আহমদ ছফা চিনতেন না। রণেশবাবুও না। তিনি আহমদ ছফাকে সতর্ক করে দিলেন সন্তোষবাবু পাগল কিসিমের লোক। সুতরাং তাঁর কথায় যেন কিছু মনে না করেন। রণেশবাবুর কথা শুনছিলেন বটে, কিন্তু আহমদ ছফা মনে মনে ঠিক করেছিলেন সন্তোষবাবু বেরুলেই পিটাবেন। এজন তিনি একটা চায়ের দোকানে বসে অপেক্ষাও করছিলেন। যে কারণেই হোক সেদিন সন্তোষবাবুর গায়ে হাত তোলার মত অপকর্মটি তিনি করেননি। পরবর্তীতে আহমদ ছফা সন্তোষবাবুকে গুরু হিসেবে মেনে নিয়েছিলেন।

যাহোক, রণেশবাবু কথা দিয়েছিলেন তাঁর কবিতা পত্রিকায় ছাপা হবে। তিনি তাঁর কথা রেখেছিলেন। ‘সংবাদ’ পত্রিকায় একনাগাড়ে আহমদ ছফার চার চারটি কবিতা ছাপা হয়েছিল। তারপর রণেশবাবু তাঁকে বলে যেতে থাকলেন, তুমি তো কৃষক সমিতি নিয়ে কাজ করেছ, ওসবের ওপর গদ্যে কিছু লিখ না কেন? (সম্পূর্ণ…)


Disclaimer & Privacy Policy  |  About us  |  Contact us

© bdnews24.com