১৯৫২

তুমি কি কেবলি ‘আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস’?

বিশ্বজিৎ ঘোষ | ২১ ফেব্রুয়ারি ২০১১ ১০:১৫ পূর্বাহ্ন

poster-2011.jpg
আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস ২০১১-এর ইউনেস্কো প্রচারিত পোস্টার; গ্রাফিক ডিজাইন: Stephanie Pilar ও Marine Leopold.

১৯৫২ সালে সংঘটিত বাংলাদেশের ঐতিহাসিক রাষ্ট্রভাষা আন্দোলন ২১শে ফেব্রুয়ারিতে চূড়ান্ত রূপ পরিগ্রহ করে। গৌরবদীপ্ত এ ঘটনার আটচল্লিশ বছর পর ১৯৯৯ সালের ১৭ই নভেম্বর তারিখে আমাদের ২১শে ফেব্রুয়ারি অভিষিক্ত হয় নতুন মর্যাদায়। এই দিনে ইউনেস্কো ২১শে ফেব্রুয়ারিকে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে ঘোষণা করে আমাদের ভাষা আন্দোলনকে পৃথিবীর মানুষের গৌরবিত উত্তরাধিকারে রূপান্তরিত করেছে। ১লা মে যেমন আন্তর্জাতিক মে দিবস, যা পালিত হয় পৃথিবীর সব দেশে, ২০০০ সাল থেকে ২১শে ফেব্রুয়ারি তেমনি পালিত হচ্ছে, সমস্ত পৃথিবী জুড়ে, আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে। বহুমাত্রিক সীমাবদ্ধতা সত্ত্বেও একথা অবশ্য স্বীকার্য যে, বাংলাদেশের স্বাধীনতা লাভের পর বাঙালি জাতির জীবনে এমন গৌরবোজ্জ্বল অর্জন আর ঘটেনি। ভাষা আন্দোলনের শহীদ রফিক-সালাম-বরকতরা এখন বিশ্ব মানুষের গৌরবিত অহঙ্কার। পৃথিবী জুড়ে বিভিন্ন জাতিসত্তার মাতৃভাষা নিয়ে নতুন সম্ভাবনার উৎস হয়ে উঠতে পারে এই দিবসটি–এমনি প্রত্যাশা ছিল আমাদের।

প্রত্যাশার সঙ্গে বাস্তবের কখনো মিল থাকে, কখনো দেখা দেয় বৃহৎ ফারাক। আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসও কি শুভঙ্করের ফাঁকি হয়ে হাজির হলো আমাদের জীবনে, ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর জীবনে? এ সূত্রেই বায়ান্নর সঙ্গে নিরানব্বইয়ের একটা গোপন মিল খুঁজে পাই আমি। ১৯৮৭ থেকে রাষ্ট্রভাষা আন্দোলন নামে আরম্ভ হলেও ক্রমে আন্দোলনটি ভাষা আন্দোলন হিসেবে ব্যাপকভাবে পরিচিতি পায়। সন্দেহ নেই, এই রূপান্তর রাষ্ট্রভাষা আন্দোলনের চারিত্র, লক্ষ্য ও তাৎপর্যকে বহুলাংশে খর্ব করেছে। রাষ্ট্রভাষা বললে যে ব্যাপকতা আসে, রাষ্ট্রীয় চাকরি-প্রশাসন-আইন-আদালতে বাংলাভাষার যে সম্ভাবনা তৈরি হয়, ভাষা আন্দোলন বললে তা কিছুতেই হয় না। ঔপনিবেশিক আমলের এই চেনাপথেই চলেছে পঁচাত্তর-উত্তর বাংলাদেশের ভাষা বিষয়ক যাবতীয় কর্মকাণ্ড। (সম্পূর্ণ…)

একুশের শহীদেরা অমর অক্ষয় চিরঞ্জীব

বেবী মওদুদ | ২১ ফেব্রুয়ারি ২০১০ ১২:২৫ পূর্বাহ্ন

bhashani-mujib.jpg……..
১৯৫৪-র ২১ ফেব্রুয়ারি র‌্যালিতে ভাসানী ও মুজিব খালি পায়ে।
……..
২১ ফেব্রুয়ারি ১৯৫২ সালে মাতৃভাষা বাংলাকে রাষ্ট্রভাষা করার দাবীতে যারা জীবন দিয়েছেন, শহীদ হয়েছেন তারা এই বাংলার অমর সন্তান। পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠির বুলেটে ছিন্নভিন্ন হয়ে যাওয়া সেই রক্তাক্ত স্মৃতি আমরা স্মরণ করি, ফুলে ফুলে সাজিয়ে দেই তাদের কবর এবং তাদের স্মরণে নির্মিত শহীদ মিনার। শ্রদ্ধায় ভালোবাসায় পবিত্রতায় আমরা এক নতুনতর চেতনায় ও দীপ্ততায় আবার শক্তি অর্জন করি। একুশের শোককে আমরা শক্তি হিসেবে ধারণ করে এসেছি বলে যে কোনও অন্যায়-অবিচারের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করতে পারি। বাঙালি প্রতিরোধ গড়ে তুলেছিল একাত্তরেও পাকিস্তানি সামরিক শাসক গোষ্ঠির দমন নিপীড়ন, বৈষম্য-বঞ্চনার বিরুদ্ধে। বাংলার ছাত্র-জনতা রক্তাক্ত গেরিলা মুক্তিযুদ্ধের মধ্য দিয়ে পাকিস্তানি সেনাবাহিনীকে আত্মসমর্পণে বাধ্য করে বাংলাদেশের স্বাধীনতার বিজয় অর্জন করেছিল।

eden-c.jpg…….
ইডেন কলেজের ছাত্রীরা শহীদ মিনার বানাচ্ছেন। কিছু শিক্ষক তাদের নিষেধ করছেন।
…….
বায়ান্ন থেকে শুরু হয়েছিল বাঙালির জাতিসত্তার প্রতিষ্ঠার আন্দোলন সংগ্রাম। মাতৃভাষাকে রাষ্ট্রভাষা করার দাবিতে বাঙালি সেদিন ঐক্যবদ্ধ হয়েছিল। পকিস্তানি শাসকগোষ্ঠি চেয়েছিল একমাত্র উর্দু হবে রাষ্ট্রভাষা। অথচ জনসংখ্যার দিক থেকে বাঙালি ছিল পাকিস্তানে সংখ্যাগরিষ্ঠ। তাই তারা সেদিন এই অন্যায় সিদ্ধান্ত মেনে নেয়নি বরং কঠোর অবস্থান নিয়ে প্রতিবাদমুখর হয়েছে। সংগ্রাম-আন্দোলন গড়ে তুলেছে, পুলিশের রাইফেল- লাঠির মার খেয়েছে, বুটের আঘাত সহ্য করেছে, টিয়ার গ্যাসের যন্ত্রণায় বিদ্ধ হয়েছে এবং জেল-জুলুমের শিকার হয়েছে। (সম্পূর্ণ…)

« আগের পাতা |

Disclaimer & Privacy Policy  |  About us  |  Contact us

© bdnews24.com