জীবনী

অকথিত বোর্হেস: একটি তারার তিমির

রাজু আলাউদ্দিন | ১৭ অক্টোবর ২০১৫ ৮:৫০ অপরাহ্ন

উৎসর্গ: ইমতিয়ার শামীম

border=0বোর্হেসের বন্ধু এবং অনুবাদক নরম্যান টমাস ডি জিওভান্নি সেই সৌভাগ্যবান অনুবাদকদের একজন যিনি সরাসরি মূল লেখকের সহায়তায় ১০টির মতো বই অনুবাদ করেছিলেন। ১৯৬৭ থেকে ১৯৭২–পাঁচ বছরব্যাপী তাঁদের এই যৌথকর্মের ফল ছিলো বোর্হেস-পাঠকদের জন্য অবিস্মরণীয়। নরম্যানের অনুবাদগুলোর মাধ্যমে পৃথিবীর নানা প্রান্তে জন্ম নিয়েছে অসংখ্য বোর্হেস-অনুরাগী আর বোর্হেসের সাহিত্যকর্ম হয়ে উঠেছে আলোচনা ও তর্কবিতর্কের বিষয়। কিন্তু নরম্যান ঐ অনুবাদকর্মের পর বহু বছর পর্যন্ত বোর্হেসের নতুন কোনো অনুবাদতো করেনইনি, এমন কি বোর্হেস সম্পর্কে ছিলেন পুরোপুরি নিশ্চুপ। কিন্তু নিশ্চুপ থাকলেও বোর্হেস সম্পর্কে নিস্ক্রিয় ছিলেন না। সেটা বোঝা গেল যখন ২০০৩ সালে স্মৃতিচারণ ও মূল্যায়নধর্মী The lesson of the master: on Borges and his Work গ্রন্থটি বের হলো। এই বইয়ে একটি মাত্র স্মৃতিচারণধর্মী যে লেখা রয়েছে সেটা ছিল আসলে ২০১৪ সালে প্রকাশিত তার George & Elsa: Jorge Luis Borges and his wife, the untold story নামক আইসবার্গের সামান্য চূড়া মাত্র। প্রায় ৪৫ বছরের গভীর তলদেশে অদৃশ্য অবস্থায় থাকা গোটা আইসবার্গটি নরম্যান আমাদের সামনে তুলে ধরলেন তাঁর এই নতুন বইটিতে। কিন্তু নরম্যান কেন এই বই লিখতে গেলেন আর কীই-বা আছে এই বইয়ে যা অন্য কারোর বইয়ে পাওয়া যাবে না? এই বইয়ের শেষ অধ্যায়ে (Looking back) লেখক নিজেই জানাচ্ছেন যে “বোর্হেস এবং তার সাহিত্যকর্ম নিয়ে পাঠাগার-পরিমাণ অসংখ্য বই লেখা হয়েছে” (A library of books has been written about Borges and his literary work.) বোর্হেসের জীবন, সাহিত্যকর্মসহ নানান বিষয় নিয়ে গবেষণা, সমালোচনা হয়েছে বিপুল পরিমাণে। আর এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে নানান জনের নেয়া অসংখ্য সাক্ষাৎকার। কিন্তু এসব গ্রন্থের একটির সঙ্গে অন্যটির চরিত্রগত বা দৃষ্টিভঙ্গীর সাযুজ্য রয়েছে অনেকটাই। কিন্তু বোর্হেস-বিষয়ক নরম্যানের বই দুটি বিপুল গ্রন্থের ভিড়ে সুউচ্চ মিনারের মতো দাঁড়িয়ে আছে মূলত পর্যবেক্ষণ, কখনো কখনো গ্রন্থিমোচন, আর প্রায়শই অন্যদের নজর-এড়িয়ে-যাওয়া, অথচ গুরুত্বপূর্ণ তাৎপর্যের উন্মোচনে। তার প্রথম বইটির সূত্রে এ বিষয়গুলোই পাঠকদের কাছে প্রধান হয়ে ওঠে। কিন্তু দ্বিতীয়টি, যেহেতু এতে বোর্হেসের জীবনকাহিনীই উপজীব্য, তাই এখানে এসে ভীড় করেছে বোর্হেসের জীবনের সেই সব ঘটনাপুঞ্জ যা আগে অন্য কারোর লেখা জীবনীগ্রন্থে আসেনি। কেন অন্য জীবনী-লেখকরা এসব অজানা ঘটনা থেকে বঞ্চিত হয়েছেন? কারণ তারা নরম্যানের মতো কাজের সূত্রে বোর্হেসের সঙ্গে জড়িয়ে পড়েননি। ফলে এই গ্রন্থ কেবল হারিয়ে যাওয়া বোর্হেসকেই উদ্ধার করেনি, একই সাথে এটি ভবিষ্যতে হয়ে উঠবে সেই আকরগ্রন্থ যার সাহায্যে বোর্হেসের পূর্ণাঙ্গ জীবনী লেখা সম্ভব হবে। (সম্পূর্ণ…)

স্পেনের গৃহযুদ্ধের পঁচাত্তর বছর এবং লোরকার অস্থি

অংকুর সাহা | ২৭ এপ্রিল ২০১৫ ১২:৩১ অপরাহ্ন

…বুঝতে পারলাম আমাকে খুন করা হয়েছে।
কাকে, কবরখানা ও গির্জের ভেতর
ওরা খুঁজে বেড়াল, ওরা খুলে দেখল
কাঠের পিপে আর সিন্দুক,
সোনার দাঁত খুলে নেওয়ার জন্য ওরা
তিন তিনটে কংকাল চুরি করল
তবু ওরা আমায় খুঁজে পেল না।
ওরা আমায় খুঁজে পেল না?
না, ওরা আমায় খুঁজে পেল না।”

-ফেদেরিকো গার্সিয়া লোরকা (১৮৯৮-১১৩৬) [বাংলা অনুবাদ: পুষ্কর দাশগুপ্ত]

১. স্পেনের গৃহযুদ্ধ

স্পেনের গৃহযুদ্ধ সে দেশের ইতিহাসে একটি রক্তক্ষয়ী অধ্যায়। ঘটনাটি ঘটেছিল দ্বিতীয় মহাযুদ্ধের ঠিক আগে এবং চলেছিল প্রায় তিন বছর– ১৭ জুলাই ১৯৩৬ থেকে ১ এপ্রিল ১৯৩৯।
যুদ্ধের শেষে চালু হয় স্পেনের ইতিহাসের এক কলংকিত অধ্যায়– ফ্যাসিবাদী জেনারেল ফ্রানসিস্কো ফ্রাংকোর (১৮১২-১৯৭৫) সাড়ে তিন দশকের একনায়কতান্ত্রিক অপশাসন।
উনবিশংশ শতকের প্রথম থেকেই স্পেনে রাজতন্ত্রের কড়া শাসন– ক্যাথলিক ধর্মগুরু পোপের সক্রিয় সমর্থনে। ঈশ্বর, দেশ ও রাজা–সে দেশের শাসন ব্যবস্থার তিনটি স্তম্ভ। অভিজাত, জোতদার এবং ধর্মপ্রচারকদের কবলে দেশের সব কৃষিজমি। আর লক্ষ লক্ষ সাধারণ পরিবার তাদের ভূমিদাস চাষি। মাঝেমধ্যে বিদ্রোহ ঘটে এবং কঠোর হাতে দমন করা হয় তাদের–রক্তাক্ত ও নির্মম। ১৮৭৩ সালে গঠিত হয়েছিল বিদ্রোহী সরকার, কিন্তু তার পতন ঘটে অল্পদিনের মধ্যে। ১৮৮৭ সালে স্পেনের সিংহাসনে বসেন সম্রাট ত্রয়োদশ আলফোন্সো–তিনি রাজত্ব করেন ১৯৩০ সাল অব্দি। কিন্তু ১৯২৩ সাল নাগাদ প্রকৃত শাসনক্ষমতা কেন্দ্রীভূত হয় সামরিক একনায়ক মিশেল প্রিমো দি রিডেরার হাতে। (সম্পূর্ণ…)

হাইপেশিয়া: এক বিস্মৃতপ্রায় গনিতজ্ঞ নারীর বেদনাঘন উপাখ্যান

অভিজিৎ রায় | ২০ মার্চ ২০১২ ৯:০৪ অপরাহ্ন

hypatia-a.gifরবীন্দ্রনাথ ঠাকুর সভ্যতা সৃষ্টির পেছনে নারীর ভুমিকা প্রায় অস্বীকার করেছিলেন। তিনি বলেন ১ :
‘সাহিত্য কলায় বিজ্ঞানে দর্শনে ধর্মে বিধি ব্যবস্থায় মিলিয়ে আমরা যাকে সভ্যতা বলি সে হল পুরুষের সৃষ্টি’।
আবার ভলটেয়ার নারীর মননশীলতা, শক্তিমত্তা আর বুদ্ধিবৃত্তিকে স্বীকার করে নিলেও প্রবলভাবেই অস্বীকার করেন নারীর উদ্ভাবনী শক্তিকে। তিনি দাবী করেন ২:
‘ইতিহাসে জ্ঞানবতী নারী খুঁজলেই পাওয়া যাবে, এমনকি পাওয়া যবে নারী-যোদ্ধার অস্তিত্বও, কিন্তু কোথাও নারী উদ্ভাবক পাওয়া যাবে না’

বলতেই হয় – রবি ঠাকুর এবং ভলতেয়ার দুজনই ছিলেন ভ্রান্ত, অন্ততঃ ইতিহাস পর্যালোচনার এই ব্যাপারটিতে। ইতিহাস খুঁজলে নারী উদ্ভাবক তো পাওয়া যায়ই, পাওয়া যায় বিজ্ঞান আর প্রকৌশলবিদ্যায় নিবেদিতপ্রাণ অজস্র মহীয়সী নারীর অস্তিত্ব, যারা আমাদের সভ্যতার বিনির্মানে শুধু সহায়তাই করেননি, নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করেছিলেন বৈজ্ঞানিক সংস্কৃতির পুরোধা ব্যক্তিত্ব হিসেবে। এমনি এক বিস্মৃত-প্রায় বিদুষী বিজ্ঞানী এবং গনিতজ্ঞ ছিলেন হাইপেশিয়া (Hypatia) – জিওর্দানো ব্রুনোর ৩, ২১ মতই বিজ্ঞানের বেদীমূলে আত্মোৎসর্গীকৃত এক প্রাচীন দার্শনিক। (সম্পূর্ণ…)

খণ্ডিত জীবন (কিস্তি ১০)

ফয়েজ আহ্‌মদ | ২৬ অক্টোবর ২০১১ ১১:৪৭ অপরাহ্ন

কিস্তি ১ | কিস্তি ২ | কিস্তি ৩ | কিস্তি ৪ | কিস্তি ৫ | কিস্তি ৬ | কিস্তি ৭ | কিস্তি ৮ | কিস্তি ৯

(কিস্তি ৯-এর পরে)

শেখ সাবের সাথে আমরা ছিলাম মাত্র মাস খানেক। থাকার পরে একদিন সকালবেলা আবার সেই নাজির জমাদার আইসা উপস্থিত, ভোর সাড়ে আটটায়। আইসা শেখ সাবরে বইলা গেলো—আপনার রিলিজ হইয়া গেছে। আপনি রেডি হন, ঘন্টাখানেক পর অফিসার আইসা আপনাকে রিলিজ কইরা দিবে। এই কথা শেখ সাবরে বলায় সে খুশি। এখন আমরা যারা নাকি বিভিন্ন ওয়ার্ড থেকে আইছিলাম, সে আইসোলেট হওয়ায়, তারা আইসোলেট হইয়া গেলাম এবার! এবং সে রিলিজ হইয়া গেলো। তাকে রিলিজ করার জন্য যখন আয়োজন চলছে ৯ টার দিকে, তখন তাঁর বালিশ, তোশক, লেপ, তাঁর কাছে কিছু বই-পুস্তক ছিলো—তাঁর স্যুটকেসের ভিতরে সেগুলি নেওয়া, তাঁর গামছা বা লুঙ্গি বা পাজামা—এগুলি সাজাইয়া দেওয়া, আমরাই সাহায্য করলাম।

smr-deer.jpg
হরিণ এবং শেখ মুজিবুর রহমান, ছবি: অজানা

তখন উনি বললেন, তোরা যার যার সেলে যা, খাওয়ার বন্দোবস্ত কর, আমি যাওয়ার সময় তোগো ডাকমুনে, আমাকে যখন নিতে আসবে। আর আমাকে কইলো, তুই বয়, তোর লগে কতা আছে। কইলো, তুই জেলে যে দুই-তিন বছর রইলি, তাতে লেখস নাই কিছু? কইলাম, হ্যাঁ আমি তো লেখছি, আমার কাছে ম্যানুস্ক্রিপ্ট আছে তো! কয়, ওগুলি আমাকে দিয়ে দে। তুই পরে নিতে পারবি না। আমি হম্বি-তম্বি কইরা জেল গেট দিয়া পার হইতে পারমু—নিয়ম হইলো আইবির কাছে দেখাইতে হয়—ওইগুলি আমাকে তাড়াতাড়ি কইরা আইনা দে। আমার বিছানার মধ্যে ঢুকাইয়া দে।

আমার সেল তাঁর রো-তেই ছিলো। আমি আমার তিনটা খাতা আইনা তাঁকে দিলাম। তিন বছরে আমি যা লিখছি। এবং সে বালিশ কাইটা, বালিশের তুলার ভিতরে আমার তিনটা ম্যানুস্ক্রিপ্ট ঢুকাইয়া দিলো। ঢুকাইয়া সিলাইয়া দিয়া রাইখা দিলো। আমাকে কইলো, এগুলি বান্ধো।
(সম্পূর্ণ…)

খণ্ডিত জীবন (কিস্তি ৯)

ফয়েজ আহ্‌মদ | ২০ অক্টোবর ২০১১ ১০:৫৪ অপরাহ্ন

কিস্তি ১ | কিস্তি ২ | কিস্তি ৩ | কিস্তি ৪ | কিস্তি ৫ | কিস্তি ৬ | কিস্তি ৭ | কিস্তি ৮

(কিস্তি ৮-এর পরে)

mujib-1953.jpg…….
১৯৫৩-র শেখ মুজিবুর রহমান
…….
সেদিন ভোর থেকেই জেলগেটে উত্তেজনা আমরা দেখতে পেলাম। আমরা মানে, যারা জেলের ভিতরে আছি। আমাদের থাকার জায়গা জেলের গেটের দিকে খোলা। তার ফলে মেইন গেটের প্রবেশ দ্বারটা আমরা ভিতর থেকে—কে যাচ্ছে, কে আসছে—লক্ষ করলে আমরা দেখতে পাই। সেদিন আমরা দেখলাম জেল গেটে ভীষণ উত্তেজনার মধ্যে অফিসাররা যাওয়া আসা করছে। সংশ্লিষ্ট জেল-রক্ষক যারা আছে, তারা যাওয়া আসা করছে। এবং সমস্ত কনস্টেবল পুলিশ—যারা জেল পুলিশ, যারা নাকি আমাদের পাহারা দেয়, আমাদের চিঠিপত্র আনা-নেওয়া, খাওয়া দাওয়া দেয়—তারা সবাই খুব তটস্থ এবং সবার মধ্যে একটা অস্থিরতা বিরাজ করছে। এই পরিস্থিতিতে আমাদের আগ্রহ দেখা দিলো।

আমরা যেই সেল এলাকায় থাকতাম জেলের—দোতলা একটা পুরাতন বিল্ডিং, এটা পরে দোতলা করা হয়েছিল। সেই বিল্ডিংটার নিচতলায় সম্পূর্ণ একটা হল, উপর তলায়ও একটা হল—মাঝখানে কোন দেয়াল টেয়াল নাই। ফলে আমরা নিচের তলায় যেই হলটায় থাকতাম—সেটার নাম ছিলো, ওরা বলতো ‘খাতা’, ব্রিটিশ আমল থেকে শব্দটা। খাতা মানে ওয়ার্ড। আমাদের ওয়ার্ডের নাম ছিলো এক নম্বর খাতা। জেল গেটের পরেই। জেল গেট দিয়ে কেউ ঢুকলেই প্রথমে যে ওয়ার্ড চোখে পড়বে—সেটা হচ্ছে আমাদের ওয়ার্ড। এই এক নম্বর ওয়ার্ডে আমরা থাকতাম—সব রাজনৈতিক বন্দীরা, সিকিউরিটি প্রিজনার সবাই। আইউব খান মার্শাল ল জারি করার পরে পরেই একটা লং লিস্ট তৈরি হয়, সেই লিস্ট অনুযায়ী আমি মাস দুই পরে ধরা পড়ি। আমার বন্ধু-বান্ধব অনেকেই আমার আগে ধরা পড়েছে। অনেকে আমার পরেও ধরা পড়েছে। আমরা সবাই পালাইয়া ছিলাম—বন্ধুদের বাড়িতে, আত্মীয় স্বজনের বাড়িতে—যে যেখানে পারে। কিন্তু ছয় মাসের মধ্যেই প্রায় সবাই ধরা পড়ে যায়, ব্যাপক অভিযান চালায় পুলিশ।
(সম্পূর্ণ…)

খণ্ডিত জীবন (কিস্তি ৮)

ফয়েজ আহ্‌মদ | ১ অক্টোবর ২০১১ ৩:০৮ পূর্বাহ্ন

কিস্তি ১ | কিস্তি ২ | কিস্তি ৩ | কিস্তি ৪ | কিস্তি ৫ | কিস্তি ৬ | কিস্তি ৭

(কিস্তি ৭-এর পরে)

যুবলীগের তারা বললো, আমরা এই রেজুলেসন ওউন করবো না। কারণ আমরা তো আসি নাই, এইটা কারেক্ট করা হউক। তখন কমিটি বললো, এইটা তো নেওয়া হইয়া গেছে! এই অবস্থায় যখন তর্কাতর্কি উঠছে তখন একটা মীমাংসা হইলো, কারেক্ট করা হইলো। সেইটা হলো—যে রেজুলেসন নেওয়া হইছে এটা থাকবে যে ব্রেক করা হবে না। অর্থাৎ রেজুলেসনটা সরকারের পক্ষে গেলো! তার লগে নতুন কইরা লেখা হইলো—কিন্তু যদি ছাত্ররা বা কেউ ফর্টি ফোর ব্রেক করে এবং সরকার বিরোধী কর্মসূচী পরিচালনা করে, তবে তখন আর ফর্টি ফোর ব্রেক না করার এই সিদ্ধান্ত থাকবে না। দ্যাট ইজ, এইটা—রেজুলেসনটা ইনভ্যালিড হইয়া গেলো, ব্রেক করলেই ইনভ্যালিড হইয়া গেলো! এবং সেই অনুযায়ী রেজুলেসনটা মীমাংসিত হয়। এইভাবে সেইদিনের মিটিং শেষ হয়।

k-8.jpg ………
ফয়েজ আহ্‌মদ
………

তার পরের দিন ২১ ফেব্রুয়ারি, যখন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী লোক আসতে আরম্ভ করে—ছাত্র-জনতা, বিশ্ববিদ্যালয়ের হলের ছেলেরা, বিভিন্ন স্কুল কলেজের ছেলেরা, কামরুন্নেসা স্কুলের মেয়েরা আসলো মুনীর চৌধুরীর ছোট বোন নাদেরা বেগমের নেতৃত্বে, দেওয়াল টপকাইয়া কামরুন্নেসা থেকে বের হইয়া আসলো। কামরুন্নেসা স্কুল ছিলো হাটখোলা রোডে, ইত্তেফাক অফিসের নিকটে। কিন্তু স্কুল-কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়ের ছেলেমেয়েরা এতো বাধা সত্ত্বেও বিশ্ববিদ্যালয়ে আইসা জমায়েত হইতে থাকলো। তারা কোন বাধা মানে নাই, হাজার হাজার লোক আইসা গেলো। বিশ্ববিদ্যালয়ের পিছনের গেট দিয়া তারা আইসা হানা দেওয়ার ব্যাপারে একত্র হইলো। সবাই ওই গেট দিয়া-ই ঢুকলো, কারণ, ইউনিভার্সিটির ফার্স্ট গেট বন্ধ ছিলো। (সম্পূর্ণ…)

খণ্ডিত জীবন (কিস্তি ৭)

ফয়েজ আহ্‌মদ | ২৫ সেপ্টেম্বর ২০১১ ১০:৪৪ অপরাহ্ন

কিস্তি ১ | কিস্তি ২ | কিস্তি ৩ | কিস্তি ৪ | কিস্তি ৫ | কিস্তি ৬

(কিস্তি ৬-এর পরে)

আমি ঢাকায় আইসা কলেজে ভর্তি হইতে যাই। জগন্নাথ কলেজে। থাকতাম এক ভাইয়ের বাসায়, জেলখানার পাশে, আবুল হাসনাত রোডে। আমার চাচতো ভাই ছিলেন উনি, সে এই বাড়িটা সরকারের কাছ থেকে পাইছিলো, থাকার জন্য। সে সরকারের কাজ করে—পূর্ব পাকিস্তান সরকারের। সেই বাড়িটার সাথে একটা এক্সট্রা রুম ছিলো, পূজার রুম ছিলো ওইটা। বাড়িটা ছিলো হিন্দুদের। পাকিস্তান হবার পর ইন্ডিয়া চইলা গেছে। তখন পরিত্যক্ত বাড়ি হিসাবে সরকারের লিস্টে ছিলো ওই বাড়ি। সরকারি অফিসাররা খুঁইজা খুঁইজা বাইর করতো এই ধরনের বাড়ি, কইরা সরকারের কাছে আবেদন করতো থাকার জন্য। আমার ভাই ছিলো পুলিশের ডিএসপি তখন। ডিএসপি মানে ডেপুটি সুপারিন্ডেন্ট অব পুলিশ।

fayez-k-7.jpg
১৯৭৩ সালে মওলানা ভাসানীর সাক্ষাৎকার নিচ্ছেন বঙ্গবার্তা’র প্রধান সম্পাদক ফয়েজ আহ্‌মদ , টেপ রেকর্ডার ধরে আছেন বার্তা সম্পাদক কামাল লোহানী। ছবি: অজানা

সে সরকারের কাছে আবেদন করলো যে আমারে বাড়ি দাও, বাড়ি পাওনা হইয়া গেছে তাঁর। তখন সরকার তারে এই বাড়িটা দিছে। বাড়িটায় তার হইয়া দুই-তিনটা রুম বেশি হইছিলো। সেইখান থেকে একটা রুম আমাকে দিলো। পরে দেখলাম যে সেইটা ছিলো পূজার ঘর। হিন্দু ফ্যামিলির রোজকার পূজা হইতো সেই ঘরে। এইজন্য পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন ছিলো। নিচতলায় ছিলো সেইটা। আমি সেই ঘরে থাকতে শুরু করলাম। আমার ভাই ফ্যামিলি নিয়া থাকে উপরের তলায়।
(সম্পূর্ণ…)

খণ্ডিত জীবন (কিস্তি ৬)

ফয়েজ আহ্‌মদ | ১৭ সেপ্টেম্বর ২০১১ ৮:৩১ অপরাহ্ন

কিস্তি ১ | কিস্তি ২ | কিস্তি ৩ | কিস্তি ৪ | কিস্তি ৫

(কিস্তি ৫-এর পরে)

আমার স্কুল লাইফে একটা গ্রামীণ জীবন ছিলো আমাদের বিক্রমপুরে। আমাদের এই গ্রামীণ জীবনে বর্ষার সিজন ছিলো অনেকটা অভিশাপের মতো, বিশেষ কইরা চলাফেরার বেলায়। আবার বর্ষা না হইলে ধানও হইবে না! এতো বৃষ্টি হইতো কোন কোন বছর যে ধানও নষ্ট হইয়া যাইতো। তবে সাধারণভাবেই অনেক বৃষ্টি হইতো। বৃষ্টির পানির সাথে পাল্লা দিয়া ধান গাছও বড়ো হইতে থাকতো। এক বারে অনেক বৃষ্টি হইলেই খালি ধান গাছ লগে লগে বাড়ার সময় পাইতো না; তখন ধান নষ্ট হইতো। বৃষ্টির সিজনের চার-ছয় মাস পুরা বিক্রমপুরই কয়েক হাত পানির নিচে চইলা যাইতো। বাড়িগুলা খালি ছোট ছোট দ্বীপের মতো জাইগা থাকতো।

img0063a.jpg
শিশুদের সাথে ফয়েজ আহ্‌মদ, ১৯৫২-৫৪, ঢাকা বেতার-এর ‘সবুজের মেলা’ অনুষ্ঠানে

আমাদের কাছেই পদ্মা নদী। পদ্মায় বহু বাড়িঘর খাইয়া ফেলতো। বর্ষার সিজনে ভাঙন আরো বাইড়া যাইতো। একদিকে ভাঙতো অন্যদিকে চরও পড়তো। কতো মানুষ ঘরবাড়ি হারাইয়া ঢাকার দিকে আইসা পড়তো! বহু মানুষ চরেও বাড়ি-ঘর বানাইয়া থাকতো। পদ্মা ইন্টারেস্টিং নদী। একদিকে মাইনষের সব খাইতো, আবার পদ্মার ইলিশের কোন শুমার আছিলো না। জেলেরা ছোট-বড় বিভিন্ন ধরনের নৌকায় পদ্মায় জাল ফালাইতো। ইলিশের জাল। ইলিশের নৌকায় গেছি আমি। ইলিশের জালের নিচের দিকে ইটের টুকরা, পাথর বাইন্ধা নদীতে ফালাইতো। আর উপরের দিকে থাকতো পানির চাইতে হালকা বিভিন্ন জিনিস, ভাসাইয়া রাখার জন্য। উজানের দিক দিয়া পানি নামতেছে সাগরের দিকে, আর ইলিশের ঝাঁক সাগরের দিক দিয়া আসতেছে। ডিম ছাড়তে ছাড়তে আসে। ইলিশ চলে স্রোতের উল্টা দিকে। ইলিশ মাছ এতো সুন্দর আর নিরীহ! টেস্টেও অন্য মাছের লগে ইলিশের কোন মিল নাই। ইলিশের কোন বদনাম নাই; কাউরে কামড়ায় না, গুতা দেয় না। মানুষ নদীতে নামলেও কিছু করে না। (সম্পূর্ণ…)

জীবনের পাতায় পাতায় (কিস্তি ৫)

বেবী মওদুদ | ১৪ সেপ্টেম্বর ২০১১ ৯:২৭ অপরাহ্ন

শুরুর কিস্তি
——————————–
স্মৃতিকথা ধারাবাহিক
——————————–

বগুড়া থেকে বাহাদুরাবাদ ঘাট পর্যন্ত রেলগাড়িতে এলাম। তারপর ফেরী চড়ে যমুনা নদী পার হয়ে আবার রেলগাড়ি চড়ে ঢাকায় ফুলবাড়িয়া স্টেশনে এসে যখন নামলাম, তখন রাত প্রায় দশটা হবে। বাইরে প্রবলবেগে বাতাস আর মুষল ধারায় বৃষ্টি হচ্ছে। ঘুম ঘুম চোখে আমরা ঘোড়ার গাড়িতে চড়ে বসলাম। বৃষ্টি হচ্ছে তারপর আবার রাতের অন্ধকার। বাইরে কী দেখবো, কিছুই বোঝার উপায় নেই। শুধু ঘোড়ার পায়ের খট খট আওয়াজ, গলার ঠুন ঠুন ঘণ্টির শব্দ আর সহিসের চাবুকের সপাং সপাং শব্দ শুনতে শুনতে আমরা আজিমপুর কলোনীতে এলাম। ৪৯/ডি, দোতালার একটি ফ্ল্যাটে আমাদের নতুন বাসা, ঢাকার ঠিকানা। এই প্রথম ঢাকায় এলাম আমরা। আমার বাবা আগেই কয়েকবার এসেছেন। রেলগাড়িতেই আমাদের রাতের খাবার পালা শেষ হওয়ায়, ঘরে ঢুকে মেঝেতে মাদুরের বিছানায় শুয়ে পড়লাম। ঘুম আসতে একটুও দেরি হলো না।

bm1.jpg………
আজিমপুর কলোনীর সেই বাসা এখন
……..
পরদিন ভোরে উঠে ফ্ল্যাটটা ঘুরে দেখলাম। দু’টো বারান্দা, দু’টো শোবার ঘর, আর একটা বড় ঘর বসার ও খাবার জন্য। বাড়িটা দোতলায় বলে মাটি ও ঘাসের কোনো স্পর্শ নেই। আমার মন খারাপ হয়ে গেলো। সামনের বারান্দায় দাঁড়িয়ে বড় রাস্তায় গাড়ি ও মানুষ দেখে ভালো লাগলো। রাস্তায় দুপাশে গাছপালা। আমাদের কলোনীর উল্টোদিকে মেথর কলোনী (বর্তমানে ইডেন গার্লস কলেজ ও গার্হস্থ্য অর্থনীতি কলেজ।) বারান্দা থেকে দেখলাম রাস্তার পাশে কল থেকে পানি নেবার জন্য মেয়েদের হাড়ি-কলসি নিয়ে জটলা। সেই সঙ্গে তাদের ঝগড়াঝাঁটি ও অশ্রাব্য গালাগালি। আমার কাছে একেবারে নতুন লাগলো। যতদিন ছিলাম প্রতিদিনই এ চিত্রটা দেখতাম। তবে যখন সময় ধরে পানি ছাড়া হতো তখনই এই কলরব কানে আসতো। আমাদের মালপত্র এলো আরও কয়েকদিন পর। (সম্পূর্ণ…)

খণ্ডিত জীবন (কিস্তি ৫)

ফয়েজ আহ্‌মদ | ১২ সেপ্টেম্বর ২০১১ ১২:১৭ পূর্বাহ্ন

কিস্তি ১ | কিস্তি ২ | কিস্তি ৩ | কিস্তি ৪

(কিস্তি ৪ এর পরে)

১৯৪০-এর দশকে শ্রীনগরে ছিলো পোস্ট অফিস, থানাসহ আরো কিছু সরকারী অফিস। আশপাশের গ্রাম থেকে লোকজন শ্রীনগর বাজারে যাইতো, বাজার করতো, খবরাখবর পাইতো। ৪২-৪৩ সালে কংগ্রেসের ভারত ছাড় আন্দোলন বা মুসলীম লীগের রাজনীতির খবরাখবর শ্রীনগর বাজার গিয়াই গ্রামের লোকজন পাইতো। দ্বিতীয় মহাযুদ্ধ বা বিশ্বযুদ্ধের খবর আসতো। রায়ট-দুর্ভিক্ষের খবরও পাওয়া যাইতো। তখন তো টেলিফোন আছিলো না, টেলিগ্রামের যুগ ছিলো তখন। শ্রীনগর বাজারের পাশ দিয়া টেলিগ্রামের তারের লাইন ছিলো। হয়তো কারো পোলা-মাইয়া কোলকাতা থাকে, অথবা কোন আত্মীয় থাকে—তারা খবরাখবর দেওয়া-নেওয়া করতো টেলিগ্রামের মাধ্যমে। ঠিকভাবে পৌঁছাইতে পারলো কিনা, অসুস্থ্য হইলে বা মারা গেলে টেলিগ্রাম করা হইতো। টেলিগ্রামের বার্তা খুব ছোট থাকতো। অক্ষর অনুযায়ী টাকা দিতে হইতো। এই কারণে লোকে অল্প কথায় সাইরা ফালাইতো।

img0062a.jpg
ধানমণ্ডির বাসায় ফয়েজ আহ্‌মদ, ১০ সেপ্টেম্বর ২০১১

আমাদের বাড়িতে দেশ-বিদেশের খবর পাইতাম বেশিরভাগই পত্রিকায়। বাবা ‘সওগাত’, ‘আনন্দবাজার পত্রিকা’র গ্রাহক হইছিলো। ‘মাসিক মোহাম্মদী’ও ছিলো। ডাকে আমাদের বাড়িতে আইতো। আমরা পড়তাম। পাক্ষিক ‘সওগাত’-এর সম্পাদক ছিলেন নাসির উদ্দিন সাহেব। ‘সওগাত’-এ নজরুল ইসলাম লিখতেন। এইগুলা আমি যখন পড়তে শুরু করি সেই রকম সময়েই নজরুল ইসলাম অসুস্থ্য হইয়া পড়ে। আমি একবার বাড়িতে না বইলা কোলকাতা চইলা গেছিলাম। তখন মানুষজনরে জিগাইয়া জিগাইয়া নজরুলের বাড়িতে গেছিলাম। তখন নজরুলের বউ আর নজরুল—দুইজনই অসুস্থ্য। আমি কয়েক মিনিট খাড়াইয়া দেখলাম, পরে চইলা আসলাম। কোন কথাবার্তা হয় নাই কারো সাথে। ছোটদের জন্যও ‘সওগাত’ আছিলো। সেইটার নাম ছিলো ‘শিশু সওগাত’। এই পত্রিকায় আমি কবিতা পাঠাইয়া দিছিলাম ডাকে, ‘সওগাত’-এর কোলকাতার ঠিকানায়। ‘শিশু সওগাত’-এ ছাপা হইছিলো সেইটা। সেইটাই আমার প্রথম ছাপানো লেখা।
(সম্পূর্ণ…)

খণ্ডিত জীবন (কিস্তি ৪)

ফয়েজ আহ্‌মদ | ৫ সেপ্টেম্বর ২০১১ ১:২০ পূর্বাহ্ন

কিস্তি ১ | কিস্তি ২ | কিস্তি ৩

(কিস্তি ৩ এর পরে)

১৯৪৫ সালে আমি টেন-এ পড়ি। এই সময় দুই-তিন মাস বাড়ির সাথে আমার কোন যোগাযোগ ছিলো না। আমি পালাইয়া ঢাকা আইসা ব্রিটিশ বিমান বাহিনীতে যোগ দিছিলাম। বাড়ি থেকে বোনের বাড়ি, মুন্সীগঞ্জ। সেইখান থেকে আমার ফেরার কথা বাড়ি, আমি না বইলাই চইলা আসছি ঢাকায়।

img0023a.jpg …………
বিডিনিউজ২৪.কম অফিসে ফয়েজ আহ্‌মদ
…………
আমার বড় বোনের স্বামী উকিল। তারা মুন্সীগঞ্জ থাকতো। আমাদের বাড়ির নিয়মে, বছরে দুই একবার আমি তার সঙ্গে দেখা করতে যাই। শুকনার দিনে পানি নাইমা যায়। তখন পুকুরে মাছ ধরা হয়। বাড়িতে তরি তরকারী হয়। বেগুন, আলু, কাঁচা মরিচ, ধনিয়া পাতা, মুলা এগুলি আমাদের কোলায় হয়। আমাদের বাড়ির গায়ে তিন কাঠা জমি, সেই তিন কাঠায় এইগুলা হয়। যারা কাজ করতো তাদের দিয়ে বাবায় বেগুন চারা, মরিচ চারা, ধনিয়া কিনে দিতো আর তারা তা লাগাত। শীতকালে দু’তিন মাসের মধ্যে বেগুন হয়, আলু হয়, লাল শাক হয়; দুই মাসের মধ্যেই হয়ে যায়। বড় কুমরা—লাল-লাল মিষ্টি কুমরা, আবার চাল কুমরাও হয়। কোন কোন ঘরে চালের উপর দিয়ে উঠিয়ে দেওয়া হয়। এইগুলো আমি চাক্ষুষ দেখছি, আমাদের বাড়িতে ঘটছে এগুলি।

চাল কুমরা মোরব্বা বানায় আর লাল কুমরা তো তরকারী হিসাবে খায়। লাউ, চাল কুমরা, মিষ্টি কুমরা, আরও জানি কি কুমরা আছে, তার পরে ধনিয়া পাতা হইতো। ডাটা হইতো এক ধরনের, সেইটা অনেক বড় হয়, বড় হইলে ওই ডাটা থেকে পাতাটা তুলে নিয়ে শাক হিসাবে খাওয়া হয়। আবার পুরা ডাটাই তুলে নিয়ে তরকারী হিসাবে খাওয়া হয়। মোটের উপর, দু/তিন মাস আমাদের বাড়িতে তরি তরকারীর প্রাচুর্য থাকতো। খাইতে বইসা ক্ষেত থেকে ধনিয়া পাতা, কাঁচা মরিচ আমরা আইনা খাইছি, এই রকম আর কি। তরি তরকারী আর পুকুরের মাছ–এই গুলি বাবা তার বড় মেয়ের কাছে পাঠাইতো। এই দুইটা বড় বোয়াল, তারপরে একটা আইর মাছ, বড় গজার মাছ, তারপরে ২০টা বড় কই–এগুলোর এক একটার দাম এখন ২০০ টাকা, মাগুর মাছ–এগুলো লোক দিয়া পাঠিয়ে দিতাম। (সম্পূর্ণ…)

খণ্ডিত জীবন (কিস্তি ৩)

ফয়েজ আহ্‌মদ | ২২ আগস্ট ২০১১ ১:৪৮ অপরাহ্ন

কিস্তি ১ | কিস্তি ২

(কিস্তি ২ এর পরে)

ঘোড়ার ব্যবহার ছিলো স্থানীয়। আর সারাদেশের সাথে, এক এলাকা থেকে আরেকটা এলাকায় মালপত্র আনা-নেওয়ার জন্য নৌকা ছাড়া উপায় ছিলো না। আমাদের বিক্রমপুরে সারা বছরে যত ধান লাগে তার পুরাটা বিক্রমপুরে জন্মায় না। ধান আসতো বরিশাল থেকে। ব্যবসায়ীরা ছিলো। তাদের বড় বড় পালতোলা, দাঁড়টানা নৌকা ছিলো। সেই নৌকায় তারা ধান নিয়া আসতো।

bengal-famine-1943.jpg
বাংলার দুর্ভিক্ষ ১৯৪৩

তখন জাহাজ-স্টিমারও চলতো; কিন্তু তাতে ছিলো মানুষের চলাচল। মালপত্র আনা-নেওয়া হতো কম।
(সম্পূর্ণ…)

পরের পাতা »

Disclaimer & Privacy Policy  |  About us  |  Contact us

© bdnews24.com