স্মরণ

আমাদের বেবী আপা

আনিসুর রহমান | ২৫ জুলাই ২০১৭ ৮:৩৮ পূর্বাহ্ন

baby.gifবদরুদ্দোজা মোঃ ফরহাদ হোসেন সংগ্রাম ভাইর সঙ্গে রিক্সায় করে সেগুনবাগিচায় একটি ছোট ছিমছাম দালানের দোতলা বাসায় আমরা গিয়ে হাজির। বেবী আপা বাসায় নেই। বাসায় আছেন বুয়া, বেবী আপার ছোট ছেলে পুটু, সম্ভবত বুয়ার ছেলে আনোয়ারও ছিল। পুটু মানে কি বেবী আপার পরিচিত সকলেই তার মামা। আমাদের দেখেই পুটুর উৎফুল্ল কথার ঝুড়ি- মামা আসেন, বসেন। আম্মুতো বাসায় নাই। কিন্তু এসে যাবেন শীঘ্রই। খানিকক্ষণ পর বেবী আপা আসলেন। বাসায় ঢুকার আগেই পুটুর মাধ্যমে খবর পেয়ে গেলেন- আমরা এসেছি। বেবী আপা বাসায় ঢুকলেন পরিচয় পর্বের পরে বললেন চা টা কিছু খাও। আজ তো রাত হয়ে গেছে। তুমি বরং ধানমন্ডির ৩২ নম্বরে এসো। ওখানে বঙ্গবন্ধু যাদুঘরে আমার খোঁজ করো; দুপুরের দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লাশ শেষ করে এসো। ক্লাশ মিস করো না।
পরের দিন যথারীতি আমি যাদুঘরে গিয়ে হাজির। পাশের বাড়ির একতলা একটা ভবনে বেবী আপার সঙ্গে আমিও গেলাম। ভবনের একটা কক্ষে একটা টেবিল আর গোটা কয়েক চেয়ার। তিনি আমার খোঁজ খবর জানলেন। তারপর বললেন-
বন্ধ হয়ে যাওয়া সাপ্তাহিক বিচিত্রা আমরা নতুন ব্যবস্থাপনায় বের করব। তার প্রস্তুতি হিসেবে আসন্ন জাতীয় শোক দিবসে ১৫ আগস্টে ‘শ্রদ্ধাঞ্জলি’ নামে একটা স্মরণিকা প্রকাশ করব। আমার সঙ্গে তেমন কেউ নাই; কম্পিউটার কম্পোজের জন্যে আছে চম্পক। পুরো কাজটা আমি আর তুমি মিলে করব। আসলাম সানীও আমাদের সঙ্গে থাকতে পারে। তোমার কাজ হবে জুতো সেলাই থেকে চন্ডিপাঠ। শ্রদ্ধাঞ্জলি এবং বিচিত্রা দুটোরই সম্পাদক থাকবেন শেখ রেহানা। আমি বিনয়ের সঙ্গে বললাম, আপা শ্রদ্ধাঞ্জলির কাজের সঙ্গে আমি থাকব। কিন্তু বিচিত্রার কাজের সঙ্গে যুক্ত হওয়া আমার জন্যে কঠিন হবে। সে দেখা যাবেনি। ও নিয়ে ভেবো না। (সম্পূর্ণ…)

বেবী মওদুদ: কেমন করে ভুলি সেই মুখ!

মাজহার সরকার | ২৩ জুন ২০১৭ ১২:০৭ পূর্বাহ্ন

baby.gifঘুম যখন ভাঙলো তখন চারটা দশ বাজে। বিছানায় শুয়েই মুঠোফোন হাতে নিয়ে দেখি পাঁচটা মিসড কল। একটা ম্যাসেজ ঝুলে আছে, খুলে দেখি- ‘অ্যাট প্রেস ক্লাব, হোয়ের আর ইউ?’। লাফিয়ে উঠে বসলাম বিছানার ওপর।

টলটলে পায়ে এক হাতে চোখ কচলাতে কচলাতে দরজা খুলে বেসিনের গিয়ে মুখ ধুলাম। রুমে এসে চেয়ারের পিঠ থেকে শার্টটা গায়ে দিয়ে দ্রুত বের হলাম রুম থেকে। ২০১২ সালের জুলাইয়ের কোন একটা দিন। তখন আমি থাকি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ সার্জেন্ট জহুরুল হক হলের ২০৭ নাম্বার রুমে। হল গেটে এসে রিকশা করে রওয়ানা দিলাম প্রেস ক্লাবের উদ্দেশ্যে।

খুব সুন্দর একটা বিকেল। রোদের গা বেয়ে বাতাস বইছে। বৃষ্টিতে ভিজে ক্যাম্পাসের গাছগুলো সবুজ হয়ে আছে। কালো পিচের ওপর ছোপছোপ রোদ আর ছায়া। এর ভেতর দিয়ে রিকশাটা দুলতে দুলতে যাচ্ছে। আর আমার মনের ভেতরটা খচখচ করছে। কাজটা কি ঠিক হলো? মানুষটা আমাকে যেতে বলেছিলো চারটায়। একজন সংসদ সদস্য একা দাঁড়িয়ে আছেন আমার অপেক্ষায়, অথচ আমি দুপুরে ভাত খেয়ে কখন ঘুমিয়ে গেছি!

রিকশা দোয়েল চত্বর পেরিয়ে হাই কোর্টে আসতেই একটু সাহস পেলাম। পকেট থেকে মোবাইলটা বের করে কল দিয়ে বললেম, ‘আপা, ভুল হয়ে গেছে। ঘুমিয়ে গেছিলাম। আমি এসে গেছি, এই যে হাই কোর্টের সামনে।’ ওপাশ থেকে কোন রাগ বা আভিমান শুনতে পেলাম না। রিকশা শিক্ষা ভবনের পাশে আসতেই উল্টো পথ পার হওয়ার ভাবনায় তাড়াতাড়ি ভাড়া মিটিয়ে নেমে হাঁটা শুরু করলাম। (সম্পূর্ণ…)

‘কুইজদাতা’ শওকত ওসমানের দুটি উপহার

রাজু আলাউদ্দিন | ২ জানুয়ারি ২০১৭ ৮:২২ অপরাহ্ন

Osmanসৃষ্টিশীলতা ও মননের আধুনিকতা তীক্ষ্ণ রসবোধ ও কৌতুকবোধের মাধ্যমে একটি পরিশীলিত রূপ লাভ করেছিল বাঙালি মুসলমান লেখকদের মধ্যে শওকত ওসমানের মধ্যেই সর্বপ্রথম, আর এই প্রকাশের বাহন ছিল তার গল্প, উপন্যাস ও প্রবন্ধ। তার মনন-নির্ভর শ্লেষ ও বিদ্রুপের শানিত রূপ তাকে আলাদা করে দিয়েছিলো তার সমসাময়িক সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহর সাহিত্যিক স্বভাব ও স্বরূপ থেকে, যদিও দুজনেরই সৃষ্টির প্রেক্ষাপট প্রধানত মুসলমান সমাজ ও জনগোষ্ঠী। জ্ঞান বিজ্ঞানের একটি পরিশ্রুত রূপ শওকত ওসমানের মধ্যে যেভাবে ফুটে উঠেছিল তার তুলনা পরবর্তী অন্য কোনো সৃষ্টিশীল বাঙালি মুসলমান লেখকদের মধ্যে বিরল।

জননী, ক্রীতদাসের হাসি’র মাতা স্মরণীয় উপন্যাসের পাশাপাশি তার বহু গল্পে শিল্পী হিসেবে আধুনিক রুচির রূপকার যেমন হয়ে উঠেছিলেন, তেমনি তার প্রবন্ধেও আমরা দেখতে পাই উদার ও মুক্তবুদ্ধির এক লেখককে যিনি জাতীয়তা ও ধর্মীয়বোধের সংকীর্ণ সংস্কার থেকে পুরোপুরি মুক্ত। আর তার একমাত্র কবিতার বই নিজস্ব সংবাদাতা প্রেরিতও ছিল সেই সঘন কৌতুকরস থেকে উৎসারিত কাব্যময় আত্মভাষ্য। লেখক হিসেবে শওকত ওসমানের এসব গুণ আমাদের কাছে ছিল খুবই শ্রদ্ধার ও আকর্ষণের।

আমরা যেসময় লেখালেখি শুরু করেছি তখনই তিনি সর্বজনগ্রাহ্য ও নমস্য এক লেখক। শুধু লেখকই নন, শুনেছি তিনি তুখোড় অধ্যাপকও। কিন্তু এই তুখোড় অধ্যাপক যখন নিজেকে নিয়ে জীবদ্দশায় আত্মমৃত্যুর কাব্যবার্তা ঘোষণা করেন কৌতুকরসের মিষ্টতায়, তখন অনুমান করতে অসুবিধা হয় না ব্যক্তিমানুষটি আলাপচারিতায় কতটা উপভোগ্য হতে পারেন। (সম্পূর্ণ…)

পাণিহাটি-সোদপুরের রোকেয়ার কবর, রোকেয়া দিবস ও অন্যান্য

পূরবী বসু | ২৮ december ২০১৬ ১১:৪৬ অপরাহ্ন

Rokeyaযতই কেন না আমরা শ্রদ্ধায় অবনত এই মহিয়সী নারী বেগম রোকেয়ার প্রতি, তাঁর জীবন ও বহুবিধ কর্ম সম্পর্কে বহু ভুল তথ্য আজো ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে সর্বত্র যার সংশোধন একান্ত জরুরী। জরুরী তাঁর জীবনের এবং সংগ্রামের কিছু কিছু অজানা তথ্য জানার প্রচেষ্টা। আমরা যেন বিশেষ মনোযোগ দিয়ে আবার ফিরে দেখি তাঁকে। নবতর পর্যায়ে যাচাই করি নারীর স্বাবলম্বিতার জন্যে তাঁর ভাবনা, অবদান; তাঁর পারিপার্শ্বকতা; দেখি তাঁর একান্ত নিরুপায় হয়ে বৃহত্তর স্বার্থে কখনো কখনো বাহ্যিক আচার-আচরণে সমঝোতা করার প্রয়াস।
এই সব প্রচেষ্টার সঙ্গে আমাদের আরেকটু বেশি সতর্ক হতে হবে তাঁর সঠিক মূল্যায়ণে এবং তাঁর বিষয়ে নির্ভুল তথ্য পরিবেশনে। নিচের প্রতিবেদন থেকে বোঝা যায়, পাঠ্যপুস্তক থেকে শুরু করে গবেষণা নিবন্ধে আজো প্রচুর ভুল তথ্য সংযোজিত রয়েছে বেগম রোকেয়ার বিষয়ে। পরিহাসের মতো শোনালেও সত্য, যে প্রতিবেদক এইসব তথ্যগত ভুলের কথা লিখেছেন তাঁর প্রতিবেদনের শিরোনামেই রয়েছে মস্ত বড় এক ভুল। “রোকেয়ার জীবনী” লিখতে তিনি “রোকেয়ার আত্মজীবনী” লিখে ফেলেছেন যা পড়ে মনে হতেই পারে যে নিজের জীবনের তথ্য-ই বুঝি সঠিক দেননি রোকেয়া। (রংপুর, নিজস্ব প্রতিবেদক,পাঠ্যপুস্তকে ভুলে ভরা রোকেয়ার আত্মজীবনী jagonews24.com ৯ ডিসেম্বর, ২০১৬)।
কিন্তু কার্যত অবরোধপ্রথা নিয়ে তাঁর রচনা এবং অতি গোপনে ও একান্ত নিভৃতে বাংলা ও ইংরেজি ভাষা শিখতে গিয়ে তাঁর যে প্রবল বাধার সম্মুখীন হতে হয়েছিল তাঁর বর্ণনা কিংবা নিজের প্রতিষ্ঠিত মেয়েদের বিদ্যালয় সাখাওয়াত মেমোরিয়াল স্কুল চালাতে গিয়ে যে বহুমুখী সমস্যায় জর্জরিত হতে হয়েছে তাঁকে সেসব কথা বিভিন্ন প্রবন্ধ ও গ্রন্থে লিপিবদ্ধ করলেও যতদূর জানি, বিশদভাবে আত্মজীবনী লিখে যাননি রোকেয়া। ফলে এখানে নিশ্চয় বেগম রোকেয়ার স্মৃতি সংসদের সাধারণ সম্পাদক রফিকুল ইসলাম দুলালের বরাদ দিয়ে জাগো নিউজের নিজস্ব প্রতিবেদক রোকেয়ার জীবনী লিখতে গিয়ে খ্যাতিমান লেখকদের ভুল তথ্য পরিবেশনার প্রসঙ্গে মন্তব্য করেছেন। মানে, ভুলে ভরা “রোকেয়ার জীবনী”র প্রসঙ্গ এনেছেন। “রোকেয়ার আত্মজীবনী” নয়। আমাদের দেশের অত্যন্ত শ্রদ্ধাভাজন ও জনপ্রিয় লেখক/গবেষকগণ রোকেয়ার জীবনী লিখতে গিয়ে কতো ভুল তথ্য পরিবেশন করেছেন, এটাই ছিল বক্তব্য। এইসব গ্রন্থে রোকেয়ার বসতবাড়ির জমির পরিমান একশ গুণ হেরফেরে উল্লেখ করা থেকে শুরু করে তাঁর জীবনের গুরুত্বপূর্ণ ঘটনার সন তারিখ সঠিকভাবে উদ্ধৃত হয়নি। সঠিক হয়নি কিছু গুরুত্বপূর্ণ মানুষের নাম ও পারিবারিক সম্পর্ক প্রসঙ্গে দেয়া তথ্য। রোকেয়ার ছোটবোন হোমায়রা খাতুনের স্বামী বলে নজরুল-গবেষক আমীর হোসেন চৌধুরীর নাম উল্লেখ করা হয়েছে। প্রকৃতপক্ষে হোমায়রার স্বামীর নাম তোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী। আমীর হোসেন চৌধুরী হলেন হোমায়রা ও তোফাজ্জল হোসেন চৌধুরীর পুত্র যিনি ১৯৬৪তে ঢাকায় হিন্দু মুসলমান দাঙ্গা বাঁধলে দাঙ্গা প্রতিরোধ মিছিল ও আনুষঙ্গিক কর্মকান্ডে যোগ দিতে গিয়ে মর্মান্তিকভাবে প্রাণ হারান। আমীর হোসেন চৌধুরীর প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করে তাঁর জীবনীর ওপর বাংলা একডেমী থেকে একখানা গ্রন্থ প্রকাশিত হয় (আমিনুর রহমান সুলতান, দাঙ্গায় শহীদ আমির হোসেন চৌধুরী, বাংলা একাডেনি, জুন ২০১৩)। এক বছর আগে সেই বইখানি নিয়ে আলোচনা করতে গিয়ে লেখক শামসুজ্জামান আমীন হোসেন চৌধুরীর আত্মত্যাগের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন (শামসুজ্জামান, চৌষষ্টির নায়কের জীবনী, সাম্প্রতিক দেশকাল, ১৭ ডিসেম্বর, ২০১৫)। আমীর হোসেন চৌধুরী শৈশবে পিতাকে হারিয়ে মা হোমায়রা খাতুনসহ কলকাতায় চলে যান। আর এদিকে স্বামীর মৃত্যুর পর সৎ মেয়ে ও শ্বশুর বাড়ির অন্যান্য আত্মীয়স্বজনের অসহযোগিতায় রোকেয়াও তাঁর শ্বশুরবাড়ি ভাগলপুরে নিজ হাতে প্রতিষ্ঠিত মেয়েদের স্কুল তুলে দিয়ে কলকাতায় চলে আসেন এবং সেখানে সাখাওয়াত মেমোরিয়াল স্থাপনের কাজ শুরু করেন। কলকাতা আসার পর, অন্তত প্রাথমিক পর্যায়ে বেগম রোকেয়া, হোমায়রা খাতুন ও তাঁর পুত্র আমীর হোসেন চৌধুরী এক-ই বাড়িতে বাস করতেন। আমীর হোসেন চৌধুরী, যিনি সন্তান-বুভুক্ষু বেগম রোকেয়ার পুত্রবৎ ছিলেন, কলকাতা থেকেই বি এ পাশ করেন, কিন্তু দেশভাগের পর ঢাকায় চলে আসেন। আর সেখানেই দাঙ্গা প্রতি্রোধ করতে গিয়ে মৃত্যুবরণ করেন। ( শফি আহমেদ ও আমার যৌথ সম্পাদনায় বাংলাদেশের খবরের কাগজে বাবরী মসজিদ ভাঙ্গার পরবর্তি দাঙ্গার প্রতিফলন নিয়ে যে বিশাল আকারের বই এখনো গেল না আঁধার প্রকাশ করি ফেব্রুয়ারী ১৯৯৩তে, সেটা আমীর হোসেন চৌধুরীকে উৎসর্গ করেছিলাম আমরা, হিন্দু-মুসলমান দাঙ্গা থামাতে গিয়ে যিনি আত্মদান করেন।)। (সম্পূর্ণ…)

আমি জন্মগ্রহণ করিনি

মুহম্মদ নূরুল হুদা | ২৭ december ২০১৬ ১২:৪৫ অপরাহ্ন

Hoqচিরজীবনে প্রবেশের পর প্রথমবারের মতো তাঁর জন্মদিন পালনের মুহূর্তে আমি যখন সৈয়দ শামসুল হকের কবিতাসমগ্র ১-এর পাতা উল্টাতে থাকি অনেকটা অন্যমনে, তখনি চোখ আটকে যায় বর্তমান রচনার শিরোনামটির প্রতি। এটি আসলে তাঁর রচিত জন্মদিন বিষয়ক অনেক কবিতার একটি। কবিতাটি তিনি লিখেছিলেন ১১ ডিসেম্বর ১৯৮৯ তারিখে, বগুড়ায় বসে। অর্থাৎ তাঁর সেবারের জন্মদিনের ১৬ দিন পূর্বে। অন্যরকম অভিব্যক্তির এক প্রতিচিত্রী বা দ্বান্দ্বিক বা সাংঘর্ষিক ভাষ্য এটি। প্রায় পাঁচ পৃষ্ঠার এই কবিতাটিতে অসম দৈর্ঘের ১৪৫টি পঙক্তি ও ৯টি আন্ত:সম্পর্কিত স্তবক আছে। আমি প্রথমবার দ্রুত চোখ বুলাতে গিয়েই আটকে যাই, এবং বুঝতে পারি, খুব সহজে পাঠোদ্ধার করার মতো রচনা এটি নয়। নিজের জন্ম-সংক্রান্ত কিছু অকপট স্বীকারোক্তির মাধ্যমে প্রান্তমুক্ত পদ্ধতিতে রচিত এই কাব্যবয়ানে তিনি তাঁর ব্যক্তিজন্মের প্রসঙ্গ টেনে স্বসমাজ ও পরিপার্শ্বকে এমন এক অন্তর্বয়িত আখ্যানে পরিণত করেছেন, যার দৃষ্টান্ত সমকালীন বাংলা কবিতায় আগে পেয়েছি মনে পড়ে না। প্রথম পঙক্তিতেই তিনি তিনবার উচ্চারণ করছেন শিরোনাম-বাক্যটি : “আমি জন্মগ্রহণ করিনি, আমি জন্মগ্রহণ করিনি, আমি জন্মগ্রহণ করিনি।” যেন কোনো পার্লামেন্টের মাননীয় মহা-সম্ভাষক একটি মীমাংসিত সিদ্ধান্তের সত্যোচ্চারণ করছেন নির্বিকার চিত্তে। (সম্পূর্ণ…)

রৌদ্রময় অনুপস্থিতি : বাংলা কবিতার আলোক

প্রদীপ কর | ২৭ নভেম্বর ২০১৬ ৭:০৭ অপরাহ্ন

Alok
ছবি: অমিতাভ দাসের ক্যামেরায় কবি আলোক সরকার

সামগ্রিক কোলাহলের ভিতরই হয়তো সৃজন সম্ভব এক নিভৃতলোক। সময় হয়তো সেই মৌলিক ধ্যানের মগ্নতায় মিশে থাকে পরম সাধনায়। নিভৃতির মৌলিক সাধনা। বাংলা কবিতার শরীরে মিশে আছে যে বিশেষ কতকগুলি সময়, পঞ্চাশের দশক সেরকমই একটি গুরুত্বপূর্ণ সুবর্ণ সময়। ভাঙা দেশে, ভাঙা মানুষের যন্ত্রণা পেরিয়ে এসে, অনেক না-পাওয়ার বেদনাকে অতিক্রম করে এক বিষন্ন স্বাধীনতার জন্ম। প্রাণের ভাষাকে অনন্তজীবন দেবার জন্য অকাতরে প্রাণত্যাগ… এইসব ভাঙাগড়ার মধ্যেই স্পষ্ট চিহ্নিত হয়ে উঠেছে বাংলা কবিতার পঞ্চাশকাল।

একটি তাৎপর্যপূর্ণ সময়ের মধ্যেই একদল কৃত্তিবাসী যখন ফুটপাথ বদল করতে করতে মধ্যরাতে শাসন করছে কলকাতা শহর, তখন, তার সমান্তরালে আরেক দল, বিশিষ্ট হয়ে উঠছেন ‘শতভিষা’ (১৯৫১) পত্রিকাকে অবলম্বন করে ভিন্নধারার কাব্য প্রয়াসে যার নেতৃত্বে ছিলেন কবি আলোক সরকার। ঐতিহাসিকভাবেই সত্য এই যে, এই দশকের প্রথম প্রকাশিত কবিতাগ্রন্থটিও কবি আলোক সরকার রচিত উতল নির্জন। প্রকাশের সঙ্গে সঙ্গে সকলেই বুঝতে পারলেন বিশুদ্ধ কবিতার এক অন্য আলোক উদ্ভাসিত। যদিও, খুবই দুর্ভাগ্যজনকভাবে উল্লেখ করতে হয়, সম্মান, পুরস্কার ইত্যাদি সাহিত্যের সাধারণ মূল্যায়নগুলি তাকে নিয়ে হয়েছে অনেক ধীরে, অনেক পরে। ফলতঃ বাংলা কবিতায় অন্য আলোর উজ্জ্বল প্রভা সবার কাছে তেমন করে পৌঁছায়নি। ভাবি, এই-ই তো অনিত্য, যে, কোলাহল মুখরতায় মিশে থাকতে পারে হাজার হাজার মুখ কিন্তু ধ্যান তো একক। মগ্নতা তো সব সময়েই নিভৃতির। ‘হাজার ঝরাপাতার বুকে পায়ের চিহ্ন মর্মরিত আছে’ (আলোকিত সমন্বয়। নাম কবিতা) যিনি লিপিবদ্ধ করেন কিংবা বলেন:

অনেক দিন ফিরে আসার পরও
যারা পুরোনো ছবিকে নতুন নামে বলছে
তাদের ভিতরের আঁধার
কত গোপন হুহু করছে।

কেউ শুনতেই পাচ্ছে না এমন গোপন।
(আধার। সমাকৃতি ১৯৯৫) (সম্পূর্ণ…)

ফেদেরিকো গারথিয়া লোরকা-র জন্য গোলাপ

ওমর শামস | ১৬ নভেম্বর ২০১৬ ১:১০ অপরাহ্ন

Lorca১ ভূমিকা :
অগাস্ট ১৯, ১৯৩৬ ফেদেরিকো গারথিয়া লোরকা (Federico Garcia Lorca)-র মৃত্যু দিন, জন্ম – জুন ৫, ১৮৯৮। এই লেখাটুকু আজকে লোরকা এবং তার কবিতা-কাজের স্মরণ, সঙ্গে–সঙ্গে শ্রদ্ধা তর্পণ। লোরকা সারা পৃথিবীর কবিতায় ইউনিক। তিনি অনন্য তাঁর কবিতার বিষয়ে, কবিতার ধারণায়, কলাকৌশলে, ভাষা-ধ্বনি প্রয়োগে, জীবন যাপনেও। আমি তাঁর নাটক বা ছবির কথা বলছি না এখানে। লোরকার ১৮ বছরের কবিতা রচনার মধ্যে ৪ টি ধারা আছে :
১. প্রস্তুতির ও প্রাথমিক বছরগুলো (১৯১৮-১৯২৭)/ Impresiones y Paisajes, 1918; Libro de Poemas, 1921
২. জিপসি বালাদ (১৯২৬-২৮) /Romancero Gitano, 1928
৩. নিউ ইয়র্কে লেখা কবিতা (১২২৯-৩০) /Poeta en Nueva York, 1940
৪. তার পরের কবিতা (১৯৩১-৩৬)/ Llanto por Ignacio Sanchez Mejias, 1935; The Tamarit Divan, 1940
এর মধ্যে মৌলিক ও মূল্যবান হচ্ছে জিপসি বালাদ এবং নিউইয়র্কে কবি। মোটা দাগে জিপসি বালাদের মধ্যে লোরকা গীতলতা এবং চিত্রকল্প ব্যাবহার করে ঐতিহ্যগত লোকজ জিনিশে নতুনত্ব ভরিয়ে দিলেন। নিউইয়র্কে লেখা কবিতাগুলোয়, যা পরে Poeta en Nueva York (নিউইয়র্কে কবি) কাব্য গ্রন্থে প্রকাশিত হয়, তিনি চিত্রকল্প এবং কোলাজ এমন ভাবে বিচ্ছিন্ন আবার একই সঙ্গে সংগ্রথিত করেছেন যে এগুলো সুররিয়ালিস্টিক অভিধা প্রাপ্ত হয়ে উঠেছে। এইসব কথা আমরা আরেকটু বিশদভাবে নিচে বলবো।
উল্লিখিত রচনার বাইরে, লোরকা নাটক লিখেছিলেন, গান বেঁধেছিলেন, ছবি এঁকেছিলেন। (সম্পূর্ণ…)

চাঁদে পাওয়া মানুষ হুমায়ূন আহমেদ

মাজহারুল ইসলাম | ১৩ নভেম্বর ২০১৬ ৬:২৫ অপরাহ্ন

ছোট ছোট ৫৭টি শব্দে লেখা কয়েক লাইনের চিঠি।

মাজহার,
ভাই, আরও দশ পৃষ্ঠা লিখতে হবে। এই দশ পৃষ্ঠা তাড়াহুড়া করলে উপন্যাসের ভয়ংকর ক্ষতি হবে। আগামীকাল সন্ধ্যার আগে শেষ দশ পৃষ্ঠা লেখা যাচ্ছে না।
তোমার পত্রিকা যদি পঁচিশ তারিখে বের করতেই হয় তাহলে আমার উপন্যাস যতটুক দেওয়া হয়েছে ততটুক ছেপে নিচে লিখে দাও–আগামী সংখ্যায় সমাপ্য।
আর কোনো বুদ্ধি তো বের করতে পারছি না।
হুমায়ূন আহমেদ

Huকিছুক্ষণ আগে ধানমণ্ডির বাসা থেকে ফিরে এসে ‘অন্যদিন’-এর কর্মী রতন এই চিঠি আমাকে দিয়েছে। আমাকে লেখা হুমায়ূন আহমেদের প্রথম চিঠি।
চিঠিটি পড়ে আমি চিন্তিত হয়ে পড়লাম। এদিকে বাজারে অন্য ঈদসংখ্যাগুলো সব চলে এসেছে। অন্যদিন ঈদসংখ্যার সব ফর্মা প্রেসে চলে গেছে। হুমায়ূন আহমেদের উপন্যাসের শেষ অংশের জন্য কয়েকটি ফর্মা আটকে আছে। কী করব বুঝতে পারছি না।
আমার চিন্তিত অবস্থার মধ্যেই হঠাৎ হুমায়ূন আহমেদের টেলিফোন–মাজহার শোনো, জীবনে বহু ঈদসংখ্যা প্রকাশ করার সুযোগ পাবে। কিন্তু এরকম জোছনা এক শ’ বছর পর আবার আসবে। এটা দেখার আর সুযোগ পাবে না। কাজেই দলবল নিয়ে নুহাশপল­ী চলে আসো। একসঙ্গে জোছনা দেখব এবং রাতে নুহাশপল্লীতে থাকবে। ভালো গান-বাজনার আয়োজন আছে। সঙ্গে সঙ্গে বললাম, স্যার, অবশ্যই আসব।
জোছনার প্রতি হুমায়ূন আহমেদের ভালো লাগা কী তীব্র ছিল, তা জেনেছি তাঁর লেখালেখি পড়ে, নাটক দেখে। ‘আজ জোছনা রাতে সবাই গেছে বনে’–প্রিয় এই রবীন্দ্রসঙ্গীতটি অনুভূতিতে এক নতুন মাত্রা যোগ করেছিল যেদিন এর অপূর্ব চিত্রায়ন দেখলাম তুমুল জনপ্রিয় ধারাবাহিক নাটক ‘এইসব দিনরাত্রি’-তে। তখনই জোছনার প্রতি একটা আকর্ষণ তৈরি হয়েছিল আমার ভেতর। কিন্তু জোছনা উদযাপন করতে হয় কীভাবে সে সম্পর্কে তেমন ধারণা ছিল না। তাই হুমায়ূন আহমেদের আমন্ত্রণ লুফে নিলাম তাৎক্ষণিকভাবে। আরেকটি বিষয় কাজ করেছিল, চাঁদ আর পৃথিবীর মধ্যবর্তী দূরত্ব কমতে কমতে প্রতি এক শ’ বছরে একবার চাঁদ এতটা কাছে আসে পৃথিবীর। তাই এরকম প্রখর চাঁদের আলো প্রতি এক শ’ বছর পর পাওয়া যায়। কারও ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতার জন্য নিশ্চয়ই এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা। আর এরকম একটি ঘটনায় এ মুহূর্তে হুমায়ূন আহমেদের সঙ্গে কাটানোর সুযোগ পাওয়াটাও অনেক সৌভাগ্যের বিষয়। (সম্পূর্ণ…)

হুমায়ূননামা

কামরুল হাসান | ১৩ নভেম্বর ২০১৬ ১:১৯ পূর্বাহ্ন

Humayunইতিহাসের পাতায় যে-হুমায়ুন আমাদের প্রথম নাড়া দিয়ে গিয়েছিলেন, তিনি বাবর পুত্র হুমায়ুন। একবার কঠিন অসুখে পতিত হলে ভারতবর্ষে মোঘল সাম্রাজ্যের প্রতিষ্ঠাতা সম্রাট বাবর সৃষ্টিকর্তার দরবারে প্রাণপ্রিয় পুত্রের জন্য আকুল প্রার্থনা জানিয়েছিলেন, যেন তার নিজের জীবনের বিনিময়ে হলেও পুত্রের জীবন রক্ষা পায়। ঘটেছিলোও তাই। হুমায়ুন ধীরে ধীরে আরোগ্যলাভ করেন আর বাবর শয্যাশায়ী হন। সেটাই ছিল বাবরের অন্তিম শয়ান। সম্রাটরা সাধারণত খুব একটা দয়ালু হন না, নিষ্ঠুর সব যুদ্ধে সংখ্যাতীত মানুষের রক্তভেজা প্রান্তরের ওপর দিয়ে বিজয়ের রথ চালিয়ে তারা সিংহাসনে অধিষ্ঠিত হন। তাই সম্রাট-হৃদয় পাষাণে গড়া; কিন্তু সম্রাট যখন পিতা, তখন তিনি স্নেহার্দ্র। বাবরের প্রার্থনা ইতিহাসের পাতায় সন্তানের জন্য পিতার আত্মোৎসর্গের এক অনুপম দৃষ্টান্ত হয়ে আছে।

আরেক হুমায়ুন ভারতবর্ষের রাজনীতির সাথে জড়িত ছিলেন। তিনি হুমায়ুন কবির। ছাত্রজীবনে অসামান্য মেধাবী মানুষটি শেরে বাংলার কৃষক-প্রজা পার্টি দিয়ে রাজনীতিতে প্রবেশ করলেও পরবর্তী সময়ে জওহরলাল নেহেরু এবং লাল বাহাদুর শাস্ত্রীর মন্ত্রীসভায় শিক্ষামন্ত্রী ছিলেন। ব্রিটিশ পরবর্তী ভারতে শিক্ষানীতি ও শিক্ষা-কাঠামো নির্মাণে তাঁর সবিশেষ অবদান রয়েছে। কৃষক-শ্রমিকের কল্যাণকামী মানুষটি ট্রেড ইউনিয়ন আন্দোলনের সঙ্গে জড়িত ছিলেন, ছিলেন বিধানসভা ও রাজ্যসভায় একাধিকবার নির্বাচিত সদস্য। এবং এক সময় মওলানা আবুল কালাম আজাদের ঘনিষ্ঠ ছিলেন। তবে তার সাথে আমাদের পরিচয় রাজনৈতিক নেতা হিসেবে নয়, কবি হিসেবে। শৈশবে পাঠ্যবইয়ের পাতায় তাঁর কবিতা আমরা পাঠ করেছি সাগ্রহে, পরিণত বয়সে তাঁর প্রবন্ধ আমাদের চেতনা ও উপলব্ধির জগৎকে সমৃদ্ধ করেছে। (সম্পূর্ণ…)

কবি শামসুর রাহমান স্মরণে কবিতা: হাসপাতালের বেডে কয়েকটা কমলালেবু

মাজহার সরকার | ২৩ অক্টোবর ২০১৬ ৭:৪৩ অপরাহ্ন

shamsur-rahman-101হাসপাতালের বেডে ওই লোকটা
নদীর মতন সরলরেখায় শুয়ে আছে
শিশুর আঙুলে দুরন্ত ফড়িঙের পাখা তার
সাদা এক জোড়া কাচের চোখ।
পাশে চিন্তিত মহিলা চুলে মেখে দেয় কালো চিরুনির স্নেহ
আঙুলের ফাঁক দিয়ে ঝড়ে পড়ে সোহাগ
মাছের হৃদয় হয় পুকুরের জলের সমান
পৃথিবীর মতো গোল, কিছুটা চ্যাপ্টা ও সামান্য রুগ্ন
কয়েকটা কমলালেবু টেবিলের কারুণ্য নিয়ে উজ্জ্বল
টেপ খাওয়া হাড়ির মতো কলকল হেসে উঠে।
কমলালেবু আসে কমলালেবু যায়
প্যাকেটের ভেতর স্থবির সুস্বাদু শরীরের
পতনে, কমলার রক্ত লাফিয়ে নামে আমাদের বিলম্বিত
সৌজন্যের শোকে, এখন কেমন আছেন ভাই? (সম্পূর্ণ…)

জীবনানন্দ-র উত্তরসামরিকী

ওমর শামস | ২১ অক্টোবর ২০১৬ ৪:২৪ অপরাহ্ন

Jibanananda‘উত্তর সামরিকী’, জীবনানন্দ-র অসাধারণ গদ্য-কবিতা। কতো বড়ো কল্পনা-প্রতিভা থাকলে, কতো গভীর-নিবিড় ইতিহাসবোধ থাকলে,ধাবমান বর্তমানকে ধরে বুঝবার জন্য কতো প্রত্যুৎপন্নতা থাকলে, বর্তমানে আচ্ছন্ন হয়েও ভবিষ্যতকে কম্পাসে রাখতে কতো দূরদর্শিতা থাকলে, কবিতা-সাধনায় কতো ঐকান্তিক হলে, ‘বাদামের খোসার মতো বিশুষ্ক’ বিষয়কেও প্রকাশ করা যায় ধ্বনি অনুরণিত চিত্রকল্পে – মানে কবিতায়! শুধু প্রজ্ঞা বা স্থান-কাল-ইতিহাসই নয়, মানুষের জন্য কতোটা ভালোবাসা থাকলে এমন একটি কবিতা, ‘উত্তর সামরিকী’ লেখা যায়, আমারা বুঝে উঠতে চেষ্টা করবো। উদ্ধৃত করা যাক :

উত্তর সামরিকী

আকাশের থেকে আলো নিভে যায় ব’লে মনে হয়।
আবার একটি দিন আমাদের মৃগতৃষ্ণার মতো পৃথিবীতে
শেষ হয়ে গেল তবে– শহরের ট্রাম
উত্তেজিত হয়ে উঠে সহজেই ভবিতব্যতার
যাত্রীদের বুকে নিয়ে কোন এক নিরুদ্দেশ কুড়োতে চলেছে।
এই পায়দলদের ভিড়– ঐ দিকে টর্চের মশালে বার-বার
যে যার নিজের নামে সকলের চেয়ে আগে নিজের নিকটে
পরিচিত; ব্যাক্তির মতন নিঃসহায়;
জনতাকে অবিকল অমঙ্গল সমুদ্রের মতো মনে ক’রে
যে যার নিজের কাছে নিবারিত দ্বীপের মতন
হয়ে পড়ে অভিমানে– ক্ষমাহীন কঠিন আবেগে।

সে মুহূর্ত কেটে যায়: ভালোবাসা চায় না কি মানুষ নিজের
পৃথিবীর মানুষের? শহরে রাত্রির পথে হেঁটে যেতে যেতে
কোথাও ট্রাফিক থেকে উৎসারিত আবিল ফাঁস
নাগপাশ খুলে ফেলে কিছুক্ষণ থেমে থেমে এ-রকম কথা
মনে হয় অনেকেরি:
আত্মসমাহিতিকূট ঘুমায়ে গিয়াছে হৃদয়ের। (সম্পূর্ণ…)

শহীদ কাদরীর ফেরা ও আমাদের আত্মানুসন্ধান

পুলক হাসান | ৪ সেপ্টেম্বর ২০১৬ ৮:৪৬ অপরাহ্ন

Shahidকবিত্ব শক্তিতে এক আকর্ষণীয় প্রতিভা কবি শহীদ কাদরী। তীব্র নাগরিকবোধ ও মননে তিনি সমর সেনেরই যথার্থ উত্তর সাধক। কিন্তু চমক সৃষ্টিতে রুশ কবি আন্দ্রেই ভজনেসেনস্কির বাংলা সংস্করণ, আবার কাব্য কুশলতায় তাঁর কবিতায় দেখি মেক্সিকান কবি অক্তাভিও পাজের কবিতার ঝলকও। আসলে নাগরিক উপাদানে ভরপুর তাঁর কবিতার প্রধান আকর্ষণ চমক সৃষ্টি। সেই চমক শব্দ, বাক্য, উপমা, স্বর ও দ্যোতনায় একেবারেই কাদরীয়। কবিতায় তাঁর চমক সৃষ্টিতেই প্রজন্ম থেকে প্রজন্ম মোহাবিষ্ট। তিনি যখন ‘গণহত্যা’ শব্দের বদলে ‘গণচুম্বন’ এবং সৈনিকের কাঁধে রাইফেলের বদলে ‘গোলাপ গুচ্ছে’র কথা বলেন তখন অবাক হতে হয় বৈকি! স্মার্ট, নিজস্বতায় উজ্জ্বল, সম্মোহনী কাব্যভাষা ও শুদ্ধ আধুনিকতাবোধের জন্য শুরুতেই মেধাবী কবি হিসেবে চিহ্নিত তিনি প্রতিষ্ঠিত করেন তাঁর সেই বুদ্ধিদীপ্ত ক্যারিসমেটিক অভিনবত্ব। জীবদ্দশায় লিখেছেন মাত্র ১৮০টি কবিতা, কাব্যগ্রন্থ চারটি : উত্তরাধিকার (১৯৬৭), তোমাকে অভিবাদন, প্রিয়তমা (১৯৭৪), কোথাও ক্রন্দন নেই (১৯৭৮) এবং আমার চুম্বনগুলো পৌঁছে দাও (২০০৯)। তবে প্রথম তিনটি গ্রন্থেই তিনি খ্যাতির শিখরে অধিষ্ঠিত। (সম্পূর্ণ…)

পরের পাতা »

Disclaimer & Privacy Policy  |  About us  |  Contact us

© bdnews24.com