প্রদর্শনী

দেয়ালের চিত্রিত ভাষা

মাসুদ হাসান উজ্জল | ৬ জানুয়ারি ২০১৫ ১২:৫৮ পূর্বাহ্ন

immage-of-wall01.jpgএকটা গুহার দেয়ালে শেকলবন্দি কিছু মানুষ আগুনের সামনে দিয়ে হেঁটে যাওয়া কিছু ছায়া দেখে সেগুলোর নামকরণ করে চলেছিল– হয়তো বা মুক্ত ছায়ার চলাচল দেখে তারাও পেতে চাইছিল মুক্তির স্বাদ। অথচ তারা জানেই না ছায়াগুলো সত্য অবয়ব নয়!– এমন একটা কাহিনী বর্ণনা করতে গিয়ে মহামতি সক্রেটিস প্লেটোকে বুঝিয়েছিলেন দার্শনিকগণও এমনটি শৃঙ্খলিত- বাস্তব অবাস্তবের দোলাচলে। এই ভাবনা পরবর্তীতে প্লেটোর ‘থিওরি অফ ফর্মস’কে প্রভাবিত করে। গ্রীক-দর্শন অনুযায়ী কোনো বস্তুর প্রতি দৃষ্টিভঙ্গিগত মূল্যায়ন হলো ‘ফর্ম’। নির্দিষ্ট আকারের বস্তুর প্রতি দৃষ্টিভঙ্গির ভিন্নতা তাকে ভিন্নভিন্নভাবে ব্যাখ্যা করতে সক্ষম। কবি জীবনানন্দ দাস বলেছিলেন `পশ্চিমের মেঘে সোনার সিংহ আঁকে’ আরেক জায়গায় বলেছেন– ‘সকলেই কবি নয়, কেউ কেউ কবি’। ‘পশ্চিমের মেঘে সোনার সিংহ আঁকে’ অথবা ‘কেউ কেউ কবি’ এই দুটি বাক্যে ফর্মের ব্যখ্যাটা খুব স্পষ্টভাবে ধরা দেয়। কারও কারও কাছে– মেঘ সেতো নিছক মেঘই, বড় জোর বৃষ্টি ঝরাতে সক্ষম, কিন্তু কেউ কেউ সেই মেঘের ভাঁজে খুঁজে ফেরে ‘সময়’ নামক সাদা ঘোড়া, হারিয়ে যাওয়া সোনার সিংহ, হাজারো অবয়ব! (সম্পূর্ণ…)

আমি আনন্দ ছাড়া আঁকতে পারি না, দুঃখ ছাড়া লিখতে পারি না

–মুতর্জা বশীর

রাজু আলাউদ্দিন | ২০ সেপ্টেম্বর ২০১৪ ১১:০৮ অপরাহ্ন

bashir.jpgগত ১২ সেপ্টেম্বর থেকে প্রবীণ শিল্পী মুর্তজা বশীর(জন্ম আগস্ট ১৭, ১৯৩২)-এর প্রদর্শনী শুরু হয়েছে উত্তরায়, গ্যালারিকায়ায়; প্রদর্শনী চলবে ২৫ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত। প্রদর্শনীতে শিল্পীর ওয়েল প্যাস্টেল অন ক্যানভাসে আঁকা ১৭টি, ওয়েল অন ক্যানভাসে আঁকা ২টি, ৯টি কোলাজ এবং ১৯৫৪ থেকে ২০১৪ সালের মধ্যে প্যাপারে আঁকা ১৮টি ড্রয়িংসহ মোট ৪৬টি শিল্পকর্ম স্থান পেয়েছে। বিষয়বৈচিত্রে যেমন, তেমনি শৈলী ও মাধ্যমের দিক থেকেও তার এবারের প্রদর্শনী দর্শকদের জন্য এক স্মরণীয় অভিজ্ঞতা। শিল্পী বশীর পুরাণের সেই কাল্পনিক জীব প্রটিয়াসের মতো যিনি নিজেকে বদলে নিয়েছেন বারবার, কিন্তু বামপন্থী রাজনৈতিক বিশ্বাস আর গণমানুষের প্রতি অঙ্গীকারের জায়গায় তিনি নিজেকে রেখেছেন অপরিবর্তিত। চিরনতুন এই প্রবীণ শিল্পীর প্রদর্শনী উপলক্ষে সম্প্রতি তার একটি দীর্ঘ সাক্ষাৎকার গ্রহণ করেছেন কবি ও প্রাবন্ধিক রাজু আলাউদ্দিন। সাক্ষাৎকারের পূর্ণ ভিডিওসহ লিখিত রূপটি এখানে প্রকাশ করা হলো। বি.স. (সম্পূর্ণ…)

মাটির দুনিয়া শুনতে কী পায়

লীসা গাজী | ২৫ মার্চ ২০১৪ ৯:২৮ অপরাহ্ন

ব্যালকনি জুড়ে দাঁড়িয়ে ছিলেন ওঁরা। শরীর জুড়ানো জানুয়ারির রোদে গায়ে পিঠে মাথায় শাল জড়িয়ে দাঁড়িয়েছিলেন। আমরা সবাই ঘাড় কাৎ করে উপরে তাকালাম, ওঁদের একজনের সাথে চোখাচোখি হয়ে গেলো। শরীরের প্রতিটা রোম নিমিষে সজাগ হলো আমার। নিজের অজান্তেই একটু কেঁপে উঠলাম, কিন্তু তিনি, সেই একজোড়া চোখের মালিক, দিব্যি হাসলেন, যেন কতদিন আমায় চেনেন। ব্যালকনির ঠিক নিচেই প্রতিষ্ঠানের নাম লেখা ‘সিরাজগঞ্জ উত্তরণ মহিলা সংস্থা’। আমরা চলেই এলাম তাহলে। পায়ে পায়ে সিঁড়ি ভাঙ্গলাম – কুঁকড়ে যাচ্ছিলাম, সামনে গিয়ে দাঁড়াবো কিভাবে! ওঁরা ২১ জন বীরাঙ্গনা আমাদের অপেক্ষায় ছিলেন। (সম্পূর্ণ…)

পশ্চিমে ঝড় তোলা ‘দেশ’ আর আকরাম খানের কথা

সেরীন ফেরদৌস | ২৩ december ২০১৩ ৭:৩২ অপরাহ্ন

জ্বলন্ত হ্যারিকেন নিয়ে রাতের অন্ধকার মঞ্চে কিছু একটা খুঁজতে খুঁজতে প্রবেশ করেন আকরাম খান, নাচ আর কোরিওগ্রাফিকে যিনি বিশ্বের দরবারে হাজির করেছেন অপার বিস্ময়ে! কি খুঁজছেন তিনি‍! কাকে খুঁজছেন! একটি ছোট্ট জায়গায় আলো স্থির হয়ে আছে, কবরের মতো একটি স্থাপনা, মাঝখানের গোল অংশে একটি ছোট্ট গাছ, দু’একটি পাতামাত্র সেখানে। (সম্পূর্ণ…)

‘মুনির আর্টিস্ট’ ও শিল্পী মনিরুল ইসলাম

প্রমা সঞ্চিতা অত্রি | ২৮ নভেম্বর ২০১৩ ৪:৪৯ অপরাহ্ন

বিকাল ৫টা বাজতে না বাজতেই শুরু হল লোকের আনাগোনা। প্রথম শো’তে জায়গা না পেয়ে বাইরে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা গেল অনেককে। গত ২২শে নভেম্বর, শুক্রবার – এমনই এক চিত্র দেখা গেল ধানমণ্ডি ৭/এ-তে অবস্থিত ‘ঢাকা আর্ট সেন্টার’-এর তৃতীয় তলার স্ক্রিনিং রুমের সামনে। শিল্পী মনিরুল ইসলামকে নিয়ে নির্মিত তথ্যচিত্র ‘মুনির আর্টিস্ট’-এর উদ্বোধনী প্রদর্শনী ছিল সেদিন। ৩৩ মিনিটের এই স্বল্পদৈর্ঘ্য তথ্যচিত্রটি নির্মাণ করেছেন এ.কে.এম. জাকারিয়া। দীর্ঘ নয় বছর ধরে শিল্পী মনিরুল ইসলামের সাথে দেশ ও বিদেশের নানা জায়গায় ভ্রমণ করে তাঁর জীবনের নানা গল্প তুলে এনেছেন তিনি এই তথ্যচিত্রে। (সম্পূর্ণ…)

তথ্যচিত্রে ‘অপরাজেয় বাংলা’

শামীম আহমেদ | ৯ december ২০১১ ৪:৫৮ অপরাহ্ন

ob_1.jpg……..
অপরাজেয় বাংলা ভাস্কর্য
……..

মুক্তিযুদ্ধের গৌরবময় ঐতিহ্যের প্রতীকে পরিণত হওয়া অনন্য ভাস্কর্য `অপরাজেয় বাংলাকে’ কেন্দ্র করে নির্মিত তথ্যচিত্র অপরাজেয় বাংলা যেন বাংলাদেশের স্বাধীনতার ৪০তম বার্ষিকীতে এক বিজয়ের নৈবেদ্য। গুরুত্বপূর্ণ অনেক ইতিহাসের উল্লেখযোগ্য সারসংক্ষেপ, সংস্কৃতি, দেশের অতীত ও বর্তমান সামাজিক-রাজনৈতিক বাস্তবতা এখানে মিলেছে নানা প্রাসঙ্গিক ঘটনাবলীর মধ্য দিয়ে। বাংলাদেশের জনগণের অপরাজেয় চেতনাকেই যেন তা চিত্রায়িত করেছে।

মুক্তিযুদ্ধে বিজয়ের চল্লিশতম বার্ষিকী উদযাপনের সময়েই তথ্যচিত্র অপরাজেয় বাংলার উদ্বোধনী প্রদর্শনী হচ্ছে শুক্রবার, নিউ ইয়র্কে। স্থানীয় সময় সন্ধ্যা ৭টায় জ্যাকসন হাইটস-এর দ্য জুইশ সেন্টারে এ ওয়ার্ল্ড প্রিমিয়ারের আয়োজন করছে নিউ ইয়র্ক ফিল্ম সেন্টার।

ak_1.jpg……..
সৈয়দ আব্দুল্লাহ খালিদ
…….
সাইফুল ওয়াদুদ হেলাল পরিচালিত ও শফিউল ওয়াদুদ প্রযোজিত এ তথ্যচিত্রে একদিকে যেমন এ ভাস্কর্য নির্মাণের সৃষ্টিশীল প্রক্রিয়া, মডেলদের কথা, নির্মাণের খুঁটিনাটি বিশদভাবে তুলে ধরা হয়েছে; তেমনি উঠে এসেছে দেশের ইতিহাস, রাজনীতি, সংস্কৃতি এবং প্রগতিশীলতার পথপরিক্রমায় এ ভাস্কর্য নির্মাণের তাৎপর্যও।

এ ভাস্কর্য কীভাবে বাঙালীর আত্মপরিচয়, আশা, স্বপ্ন, অনুপ্রেরণার বাহন হয়ে ওঠে এবং অধিকার রক্ষার চেতনাসঞ্চারী প্রতীকে পরিণত হয় তাও এই তথ্যচিত্রে তুলে ধরেছেন নির্মাতা হেলাল। (সম্পূর্ণ…)

বিপাশা হায়াতের প্রথম একক: ‘ভ্রমি বিস্ময়ে’

| ২৯ অক্টোবর ২০১১ ৯:২৩ পূর্বাহ্ন

5.jpg
ফান উইথ শ্যাডো, অ্যাক্রেলিক অন ক্যানভাস, ২০১১

ধানমণ্ডির ‘বেঙ্গল গ্যালারি অব্ ফাইন আর্টস্‌’-এ ২৫ অক্টোবর ২০১১ থেকে শুরু হয়েছে শিল্পী বিপাশা হায়াতের প্রদর্শনী ‘ভ্রমি বিস্ময়ে’। চলবে নভেম্বরের ১ তারিখ পর্যন্ত। ১৯৯৮ থেকে ২০১১ পর্যন্ত সাতটি দল-প্রদর্শনীতে অংশ নিয়ে এলেও এটিই শিল্পীর প্রথম একক। ১৯৯৮ সালে শিল্পী ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনস্টিটিউট অব ফাইন আর্টস থেকে পেইন্টিংয়ে এমএফএ করেছেন। সে হিসাবে একক প্রদর্শনীর জন্য শিল্পী প্রায় এক যুগ সময় নিলেন বলা যেতে পারে। যদিও প্রদর্শনীর বেশির ভাগ ছবিই (সব ছবিই কি?) ২০১১-তে আঁকা।

বেঙ্গল প্রকাশিত প্রদর্শনীপত্রে শিল্পীর পরিচিতি অংশ থেকে জানা গেল তিনি ১৯৮৫ সাল থেকে মঞ্চ, চলচ্চিত্র ও টেলিভিশনের জন্য অভিনয় ও নাট্ক লেখার কাজ করে আসছেন। মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে তৈরি চলচ্চিত্র আগুনের পরশমণিজয়যাত্রায় অভিনয় করেছেন। তিনি নাটকের নির্দেশনা দিয়ে থাকেন এবং তার লিখিত নাটকের সংখ্যা প্রায় ৪০টি। প্রদর্শনীপত্রে সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম তাঁর ইংরেজি ভাষ্যে জানাচ্ছেন বিপাশার এই একক প্রদর্শনীটি শেষ পর্যন্ত একটি আবিষ্কারের অভিযাত্রা।

প্রদর্শনী বিষয়ে বেঙ্গল গ্যালারি অব্ ফাইন আর্টস্‌-এর ভাষ্য:

11.jpgঅভিনেত্রী হিসেবে সমধিক পরিচিত হলেও তিনি চিত্রশিল্পীও বটে। তাঁর ছবির কম্পোজিশন যতটা না বিষয়কে ঘিরে আবর্তিত হয়, তার থেকে বেশি কেন্দ্রীভূত থাকে শিল্পীর মনের গভীরে যে-ভাব রয়েছে তার ওপর। সেজন্যই তাঁর চিত্রকর্ম মনের অন্তর্যাত্রাকে অনুসরণ করে আরেক সূত্র ধরে আসে গাঢ় রঙের ব্যবহার। তাঁর চিত্রকর্মে রঙের ব্যবহার ঘটে স্তরে স্তরে, যা শেষ পর্যন্ত রঙের টেক্সচার হিসেবে আবির্ভূত হয়। তবে তাঁর প্রতিটি কাজই একেকটি ভিন্ন ভাবকে কেন্দ্র করে আবর্তিত ভিন্ন ভিন্ন বোধকে প্রতিফলিত করে। সেদিক থেকে তাঁর প্রদর্শনীর নামকরণ ‘ভ্রমি বিস্ময়ে’ যুক্তিসঙ্গত।

তাঁর জন্ম হয়েছিল ১৯৭১ সালের মার্চে এবং মুক্তিযুদ্ধের চেতনা তাঁর মনোজগতে অত্যন্ত শক্তিশালীভাবে উপস্থিত। তিনি মুক্তিযুদ্ধের ওপর একটি সিরিজ করেছেন, যেখানে হত্যাযজ্ঞ আর রক্তপাতের কারণে তাঁর অন্তরের রক্তক্ষরণ এবং পাশাপাশি বিজয়ের আনন্দ প্রতিফলিত। বর্তমান প্রদর্শনীটি তাঁর প্রথম একক প্রদর্শনী এবং তাঁর মনের অন্তর্যাত্রা আর আবিষ্কারের কাহিনী। তিনি তাঁর মনকে আবিষ্কারের ব্রত নিয়ে এঁকেছেন একের পর এক ছবি, যা দর্শককে এক অন্তর্যাত্রায় টেনে নিয়ে যাবে।

বিপাশা হায়াতের এই একক ‘যাত্রা’–সপ্তাহব্যাপী এই প্রদর্শনী–বেঙ্গল ও সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম সূত্রে ‘আবিষ্কার’, ‘ডিসকভারি’ ও ‘অন্তর্যাত্রা’ হিসাবে দর্শকের কাছে উপস্থাপিত।

————————————————-

প্রদর্শনীর কিছু ছবি
ছবি বড় সাইজে দেখতে ছবিতে ক্লিক করুন।

(সম্পূর্ণ…)

পক্ষীপ্রেমীর পসরায়

সেঁজুতি শোণিমা নদী | ৯ জুলাই ২০১০ ১২:০৫ অপরাহ্ন

spotbill-duck.jpg
মেটে হাঁস

ঝাঁকে ঝাঁকে উড়ে চলছে কালো মাথার রাজহাঁস—যেন জল নয়, বাতাসের সাগরেই তাদের কালো রেখার সাদা ডানা সাঁতরাতে পারে বেশি। ওদিকে
niaz-rahman.jpg………
নিয়াজ রহমান
……….
আবার সবুজশির পাতি হাঁস, মেটে রঙা ভূতি হাঁসেরা জলের নিচে ডুব দিয়ে জলদুনিয়ার সঞ্চিত খাবার সংগ্রহে মত্ত।

এদিকে গাছের ডালে গম্ভীর মুখে বসে আছে গো-বক। যেন কত বছরের তপস্যায় মগ্ন সে। দৃক গ্যালারির তিন তলার দেয়াল জুড়েই সাজানো এমন ৭৬টি ছবি। জলের পাখি, ডাঙার পাখি, এদেশের পাখি, ওদেশের পাখি, পড়শি পাখি, অতিথি পাখি—সব ধরনের রঙ-বেরঙের পাখির আলোকচিত্র প্রদর্শনী। আষাঢ়ের

bhat-shalik2.jpg
ভাত শালিক

সন্ধ্যায় ভিজে মেঘ গায়ে মেখে সেখানে ঢুকতেই যেন পাখিদের ডানার ছন্দে স্পন্দিত হলো হৃদয়। প্রদর্শনীর নামও হয়তো একারণেই ‘পাখায় পাখায় ছন্দ’। (সম্পূর্ণ…)

বহুবাচনিক দ্রষ্টা নারীগণের বাচ্য হয়ে ওঠা

এস এম রেজাউল করিম | ৩১ জানুয়ারি ২০১০ ৯:২৮ পূর্বাহ্ন

desire_a.jpg…….
ডিজায়ার, ক্যানভাসে মিশ্র মাধ্যম, ১৫৩ x ১২২ সে. মি., ২০০৯
……..
আঁকিয়ে’র সাথে অন্ধের সম্পর্ক কেমন? অন্ধগণ নাজিয়া আন্দালীব প্রিমা’র আঁকা ছবি দ্যাখে না, তিনি তাই অন্ধদের বহিষ্কার করেছেন তাঁর ক্যানভাস থেকে, প্রিমা’র ছবির সকল নারী চোখওয়ালা, আবার অপলক; অন্ধগণ অপলক থাকতে পারে, পলক ফেলতেও পারে, ঘটনা হিসাবে অ/পলকের জন্য চোখ/দৃষ্টি থাকা আবশ্যিক না। চোখ থাকা মানেই দৃষ্টি থাকা নয়; কিন্তু দৃষ্টি থাকা মানে দৃশ্যের প্রতি সংবেদন থাকা, অন্ধের এই সংবেদন নাই। প্রিমা’র ক্যানভাসের চোখগুলা সংবেদনশীল, মানে দৃষ্টিসম্পন্ন, মানে নারী বলতে প্রিমা সংবেদনশীল দৃষ্টিসম্পন্ন নারী বোঝেন। প্রীমা’র নারীগণ দেখছেন, প্রতিক্রিয়া আছে তাদের, প্রতিক্রিয়া দৃশ্যমান তাদের চোখে, শরীরে। প্রিমা’র প্রকল্প জটিল, তিনি প্রতিক্রিয়া আঁকেন নারীর শরীরে। পেইন্টিংয়ের ইতিহাসে নারীর উপস্থিতি অগুণতি, তবে প্রায় সকল ক্ষেত্রেই নারী দ্রষ্টব্য, দেখবার; সাংস্কৃতিক প্রশিক্ষণও নারীকে দেখবার মতো হয়ে উঠবার নির্দেশনা দেয়। বিপরীতে প্রিমা’র নারীগণ প্রধানতঃ দ্রষ্টা। নারীর দ্রষ্টারূপ অভ্যস্ততার ব্যত্যয়, প্রিমা’র নারীগণ চোখ নামায় না, দেখতে থাকে, নারীর দেখতে থাকবার ঘটনা অস্বস্তির। নারীর চোখ নামিয়ে নেওয়াই সমাজের বিধি, ফলতঃ দেখতে থাকাই দ্রোহ।
—————————————————————–
বেশি বেশি বোরখা বিক্রি উন্নয়ন ডিসকোর্সের জন্য তাই আনন্দসংবাদ, বোরখা একটা পোশাক হিসাবে লাইফস্টাইলের অংশ করতে পারা উন্নয়ন প্রকল্পের অন্য অংশ। উন্নয়নবাদের শক্তিমত্তা টের পাওয়া যায় শিল্পীর (প্রীমা’র) মস্তিস্কে বোরখার অবস্থিতি থেকে, নারীর বিবিধতা নির্মাণে স্মারক হিসাবে বোরখা ব্যবহার করবার মাধ্যমে প্রীমা তাঁকে উন্নয়ন ডিসকোর্সের দেয়া দায়িত্ব সম্পাদন করেন, দর্শকের মনোজগতে বোরখা স্থাপন করবার মধ্য দিয়ে।
—————————————————————-
prof_preema.jpg…….
নাজিয়া আন্দালীব প্রিমা (জন্ম. ১৯৭৪)
…….
কিন্তু প্রীমা’র নারীভাবনা দ্রোহী ভাবব কি?; প্রিমা’র ভাবনার একটা বড় অংশে নারী শুধু দ্যাখেই না, উপরন্তু নিজেকে দেখাতে অস্বীকার করে, নিজেকে দেখানো যেইখানে অধিপতি রীতি অবগুন্ঠন সেইখানে আত্মরক্ষার উপায়, অবগুন্ঠন আবার নিষেধের বেড়া হতে পারে, প্রিমা’র নারীগণের পর্দাসকল সেই নারীগণের স্বেচ্ছায় বেছে নেওয়া নাকি তাদের জন্য অনতিক্রম্য সাংস্কৃতিক সীমানা নাকি স্রেফ আরেকটা পোশাক? এই প্রশ্ন করবার জন্য অন্ততঃ একটা অনুমান করতে হয় যে, এর একবাচনিক উত্তর আছে। উত্তর একটা হওয়া সম্ভব, আবার একটা হবার সম্ভাব্যতা একাধিক হবার সম্ভাবনা নাকচ করে না। কিন্তু একেশ্বরবাদ ও আধুনিক বৈজ্ঞানিক একবাদ যৌথভাবে (অথবা পরিণতির দিক থেকে উভয়ে হয়তো অভিন্ন) একবাচনিক উত্তর পেতে চায়, একটা উত্তর দেবার জন্য চাপ দিতে থাকে। (সম্পূর্ণ…)

শাহাবুদ্দিনের একক চিত্রপ্রদর্শনী, ২০০৯

| ২১ সেপ্টেম্বর ২০০৯ ১১:৪০ পূর্বাহ্ন

10-horse-a.jpg
ঘোড়া, ক্যানভাসে তেলরঙ, ৮১ x ১৪২ সেমি, ২০০৯

ধানমণ্ডির গ্যালারী চিত্রক-এ (রাস্তা ৪, বাড়ি ২১) ১৮ সেপ্টেম্বর ২০০৯ থেকে শুরু হয়েছে শিল্পী শাহাবুদ্দিনের একক চিত্রপ্রদর্শনী। এটি শিল্পীর ২৭তম একক প্রদর্শনী। এর আগে দেশে ১৯৯৫ ও ১৯৯৭ সালে শিল্পাঙ্গন কনটেম্পরারি আর্ট গ্যালারিতে শিল্পীর দুটি একক প্রদর্শনী হয়েছিল। এবারের প্রদর্শনীর উদ্ধোধন করেন বাংলাদেশ সরকারের পরিকল্পনা মন্ত্রী একে খন্দকার। বিশেষ অতিথি ছিলেন আমিনুল ইসলাম। অনুষ্ঠানের সভাপতিত্ব করেন শিল্পী জয়নুলের সহধর্মীনী জাহানারা আবেদীন।

shahabuddin-ahmed.jpg…….
শাহাবুদ্দিন,জন্ম. ঢাকা ১৯৫০
…….
শাহাবুদ্দিন ১৯৭১ সালে আর্ট কলেজে থাকাকালীন মুক্তিযুদ্ধে সরাসরি অংশগ্রহণ করেছিলেন। ১৯৭৪ সাল থেকে প্যারিসে প্রবাস করছেন।শিল্পীর ‘Shahabuddin 2009’ নামের এ প্রদর্শনী চলবে ৯ অক্টোবর ২০০৯ পর্যন্ত। প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে রাত ৯টা পযর্ন্ত। গ্যালারী চিত্রকের সৌজন্যে প্রদর্শনীর ২৬টি ছবি আর্টস-এর ওয়েব গ্যালারিতে উপস্থাপিত হলো। প্রদর্শনী শেষ হওয়ার পরেও আর্টস আকাইভে আগ্রহী দর্শক প্রদর্শনীটি দেখতে পাবেন।

20-freedom-fighter.jpg
মুক্তিযোদ্ধা, ক্যানভাসে তেলরঙ, ৪৩ x ২৫৯ সেমি, ২০০৯

চিত্রপ্রদর্শনী উপলক্ষে প্রকাশিত ছবিপুস্তিকায় শিল্প-সমালোচক অধ্যাপক নিসার হোসেন শাহাবুদ্দিন সম্পর্কে যা লিখেছেন তা নিচে যুক্ত হলো: (সম্পূর্ণ…)

জয়নুলের আদি জলচিত্র: একটি ব্যতিক্রমধর্মী প্রদর্শনী

সৈয়দ আজিজুল হক | ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০০৯ ৪:৩৪ অপরাহ্ন

ফেব্রুয়ারির ১৯ থেকে ২৮ পর্যন্ত শিল্পী জয়নুল আবেদিনের প্রথম পর্যায়ের ৫০টি ছবির একটি প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত হয় ধানমণ্ডির গ্যালারি চিত্রক-এ। কিছু রেখাচিত্র ও অধিকাংশ জলরং-এ আঁকা ছবির বেশির ভাগই জয়নুলের ছাত্রজীবনে আঁকা। ময়মনসিংহের বহ্মপুত্র নদ, কলকাতা ও সাঁওতাল পরগণা দুমকার জনজীবন উঠে এসেছে এসব ছবিতে। কীভাবে সংগ্রাহক ছবি সংগ্রহ করেছেন তা থেকে শুরু করে এ সব ছবির নানান বৈশিষ্ট্য তুলে ধরেছেন লেখক। আগ্রহীদের জন্য প্রদর্শনীর ৫০টি ছবি আটর্স-এর স্লাইড শোতে সংরক্ষিত হলো।

zainul-page-grey.jpg
জয়নুল আবেদিন (১৯১৪ – ১৯৭৫)

জয়নুল আবেদিনের আদি জলরং চিত্রের এটি একটি ব্যতিক্রমধর্মী প্রদর্শনী। দাউদ ফারহান নামের একজন জয়নুল-অনুরাগী দীর্ঘকাল যাবৎ সযত্নে সংগ্রহ ও সংরক্ষণ করেছেন জয়নুলের যেসব চিত্রকর্ম তাই নিয়ে আয়োজিত হচ্ছে এ প্রদর্শনী। দ্বিতীয়ত, এবং আরো গুরুত্বপূর্ণ তথ্য হল, অল্প কয়েকটি বাদ দিলে প্রদর্শনীর অধিকাংশ চিত্রই জয়নুল আবেদিনের ছাত্রজীবনে (১৯৩২-৩৮) আঁকা। এর বাইরে ১৯৩০, ১৯৩১, ১৯৩৯, ১৯৪০, ১৯৪২ ও ১৯৪৬ সালের কিছু চিত্রও এতে আছে। সব মিলে ১৯৩০-৪৬ কালপর্বের মোট পঞ্চাশটি চিত্রকর্মের এ প্রদর্শনী শিল্পানুরাগী মহলের জন্য এক গভীর আনন্দদায়ক ঘটনা।

z40.jpg

কেননা ১৯৪৩এর দুর্ভিক্ষ চিত্রমালা বাদ দিলে এই কালপর্বের (১৯৩০-৪৬) অনেক চিত্রই এখন পর্যন্ত আমাদের কাছে অনুদ্ঘাটিত। যেসব চিত্রের ছবি বইয়ে ছাপা অবস্থায় দেখা যায়, তার মধ্যে আছে : ‘শম্ভুগঞ্জ’ (কালিকলমের স্কেচ : ১৯৩৩), ‘হাঁস’ (জলরং : ১৯৩৩), ‘ফসল মাড়াই’ (জলরং : ১৯৩৪), ‘বনানী – দুমকা’ (জলরং : ১৯৩৪), ‘পল্লিদৃশ্য’ (জলরং : ১৯৩৪), ‘ঘোড়ার মুখ’ (পেনসিল-তেলরং : ১৯৩৪), ‘বাইসন – জু স্টাডি’ (জলরং : ১৯৩৫), ‘মজুর’ (পেনসিল-স্কেচ : ১৯৩৫) প্রভৃতি। এছাড়া ১৯৩৮এ ব্রহ্মপুত্র নদ সংক্রান্ত ছটি জলরং চিত্রের জন্য অ্যাকাডেমি অফ ফাইন আর্ট কর্তৃক গোল্ড মেডেল প্রাপ্তির সংবাদ আমরা জানি। কিন্তু ওইসব চিত্র আমরা দেখতে পাই না। তবে ২০০৪ সালের ডিসেম্বরে ৯০তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে যে প্রদর্শনী ঢাকায় আয়োজিত হয়েছিল, তাতে জয়নুলের এ পর্বের প্রচুর চিত্রকর্মের সঙ্গে আমরা পরিচিত হতে পেরেছি। তবু একথা স্বীকার করতেই হবে, জয়নুলের ছাত্রজীবন ও কলকাতা পর্বের এক গুরুত্বপূর্ণ অজানা দিক এই প্রদর্শনীর মধ্য দিয়ে উদ্ঘাটিত হল। বিশেষত, আমরা এর আগ পর্যন্ত জয়নুলের চিত্রকর্মের আদি যে নিদর্শন পাই তা ১৯৩৩এ আঁকা। কিন্তু এই প্রদর্শনীতে ১৯৩০, ১৯৩১ ও ১৯৩২ সালের চিত্রও রয়েছে। অর্থাৎ কলকাতা আর্ট স্কুলে ভর্তি হওয়ার আগের চিত্রকর্মও আমরা এ প্রদর্শনীতে পাচ্ছি। সেজন্য এ প্রদর্শনীটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ। (সম্পূর্ণ…)

ঢাকায় আন্তর্জাতিক আলোকচিত্র উৎসব, ছবি মেলা ৫

| ৩১ জানুয়ারি ২০০৯ ১১:২০ পূর্বাহ্ন

cm-logo-with-theme.jpg

ঢাকার আন্তর্জাতিক ফটোগ্রাফি উৎসব ছবি মেলা ৫-এর আয়োজন করেছে দৃক পিকচার লাইব্রেরি ও দ্য সাউথ এশিয়ান ইনস্টিটিউট অব ফটোগ্রাফি পাঠশালা। জাতীয় জাদুঘরের শহীদ জিয়া মিলনায়তনে ৩০ জানুয়ারি বিকেল ৪ টায় মেলার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন হয়েছে। চলবে ফেব্রুয়ারির ২০ তারিখ পর্যন্ত।

এবারের ছবিমেলার থিম ‘মুক্তি’ বা ফ্রিডম। জাতীয় জাদুঘর, বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমী, বেঙ্গল গ্যালারি অব ফাইন আর্টস, দৃক গ্যালারি, আলিয়ঁস ফ্রঁসেজ, গ্যেটে ইনস্টিটিউট, ব্রিটিশ কাউন্সিল, এশিয়াটিক গ্যালারি অব ফাইন আর্টস, শাঁখারীবাজারের কল্পনা বোর্ডিংস, কারওয়ানবাজার আন্ডারপাস ও ছবির হাট এই ১১টি ভেন্যুতে ছবি প্রদর্শিত হচ্ছে। এছাড়া ১০টি রিকশ ভ্যানে করে ঢাকা শহরের রাস্তা ও মার্কেটগুলির সামনের খোলা জায়গায় ভ্রাম্যমাণ প্রদর্শনীর ব্যবস্থা আছে। মোট ৬২টি আলাদা প্রদর্শনীতে ৩৫ দেশের ফটোগ্রাফারদের এক হাজারের বেশি ছবি প্রদর্শিত হচ্ছে এবারের ছবি মেলায়।

৩১ জানুয়ারি থেকে ৬ ফেব্রুয়ারি ঢাকার গ্যাটে ইন্সটিটিউটে থাকছে ছবি নিয়ে বক্তৃতা, বিতর্ক, আলোচনা, ডিজিটাল উপস্থাপনা ও চলচ্চিত্র প্রদর্শনী। উদ্বোধনী দিনে প্রধান অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন ভারতীয় লেখক মহাশ্বেতা দেবী। তাঁর সঙ্গে মার্কিন চিন্তাবিদ নোম চমস্কি ভিডিও কনফারেন্সে আলোচনায় যুক্ত হন। তাঁদের আলোচনার বিষয়ও ছিল ‘মুক্তি’। ছবিমেলা থেকে এবার আজীবন সম্মাননা পেয়েছেন মোজাম্বিকের ফটোগ্রাফার রিকার্ডো রাঙ্গেল।

অংশগ্রহণকারী দেশ হিসাবে আছে সাউথ আফ্রিকা, আর্জেন্টিনা, বাংলাদেশ, নেপাল, ফ্রান্স, ইউকে, ডেনমার্ক, অস্ট্রেলিয়া, ব্রাজিল, কানাডা, লেবানন, চায়না, জার্মানি, ইন্ডিয়া, ইন্দোনেশিয়া, ইসরায়েল, ইটালি, ইরাক, জাপান, মালি, মেক্সিকো, রাশিয়া, নাইজেরিয়া, নরওয়ে, পাকিস্তান, প্যালেস্টাইন, ফিলিপিনস, নেদারল্যান্ডস, ইউএসএ, সিঙ্গাপুর, থাইল্যান্ড, শ্রীলংকা, সৌদি আরব ও সুইডেন।

উল্লেখ্য ছবি মেলা ৫-এর উৎসব পরিচালক হিসাবে থাকছেন আলোকচিত্রী শহীদুল আলম। তিনি ২০০০ সাল থেকে ছবি মেলা উৎসবের আয়োজন করে আসছেন।

ওয়েব লিংক

স্লাইড শোর জন্য বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম-এর ফটো গ্যালারি দেখুন।
http://www.bdnews24.com/chobimela/index.php?s=gallery

বিস্তারিত বিবরণের জন্য ছবিমেলার সাইট ব্রাউজ করুন।
http://www.chobimela.org

« আগের পাতা | পরের পাতা »

Disclaimer & Privacy Policy  |  About us  |  Contact us

© bdnews24.com