প্রদর্শনী

দ্বৈত ও অদ্বৈতের প্রসারিত যাত্রা

আবদুস সেলিম | ৬ সেপ্টেম্বর ২০১৬ ৮:১৪ অপরাহ্ন

Gohonjatraজাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের নাটক ও নাট্যতত্ত্ব বিভাগের অধ্যাপক ড. রশীদ হারুন তাঁর সেলিম আল দীনের নাট্য নির্দেশনা নন্দন ভাষ্য ও শিল্পরীতি গ্রন্থের ভূমিকায় বলছেন, ‘দ্বৈতাদ্বৈত’ শিল্পতত্ত্বভাষ্যকার নির্দেশক সেলিম আল দীন আমৃত্য ব্যাপৃত ছিলেন মঞ্চ দৃশ্যকলা, পাঠ ও শ্রবন শিল্পকলা প্রভৃতির সমন্বয়ে একটি মঞ্চকাব্য সৃজনপূর্বক নিজস্ব নন্দনভাষ্য এবং শিল্পরীতির কাঠামো নির্মাণ কল্পে।’ সেলিম আল দীনের এই প্রচেষ্টা তার শিক্ষার্থী ও সমর্থকদের মধ্যে সঞ্চারণ করতে পেরেছেন, তার অন্তত একটি সজীব উদাহরণ সম্প্রতি মঞ্চস্থ রুবাইয়াৎ আহমেদরচিত একক অভিনিত নাটক ‘গহনযাত্রা’। নাটকটির শরীরে সেলিমের নন্দন-দর্শন খুবই স্পষ্ট দৃষ্টিগোচর হয়, বিশেষ করে এর অাখ্যায়িক চরিত্র ও দ্বৈতাদ্বৈতবাদ শিল্পচেতনার কারণে যার মধ্যে সমন্বিত হয়েছে ড. হারুণ উল্লিখিত ‘দৃশ্যকলা’, পাঠ ও শ্রবন শিল্পকলা’। স্পষ্টতই এই উপাদানগুলো ‘ন্যারটিভ-এরই উপাদান।

নাট্যকার রুবাইয়াৎ আহমেদ এই নাটকের নামকরণ করেছেন ‘দ্বৈত ও অদ্বৈতের আখ্যান, গহনযাত্রা’। বাংলাদেশের নাট্যামোদী মাত্রই জানেন, দ্বৈত-অদ্বৈতবাদের জনক সেলিম আল দীন, যাঁর সরাসরি ছাত্র রুবাইয়াৎ। কাঠামোগতভাবেও নাটকটি সেলিম-এর তাত্ত্বিক ধারায় অনুসৃত, যেমন প্রতিটি অপবর্তনের একটি করে শিরোনাম সংযোজন হয়েছে এবং নাটকের ভূমিকা হয়েছে ‘যাত্রারম্ভ’ নামকরনে। এই বিষয়টিও আমার কাছে প্রতিকী মনে হয়–প্রথমত যাত্রা অর্থে অন্তরের ভেতরে এক পরিশুদ্ধির অন্তহীন ভ্রমণ যার মূলমন্ত্র ‘সবার মনে জাগ্রত হোক প্রেম, সবার সর্বান্তকরণ ভরে উঠুক শুভবোধে, সবাই সুন্দর আর নির্মল হোক।’ (সম্পূর্ণ…)

ইট’স এ শি থিং : নারীর একান্ত কথার ঐকান্তিক প্রকাশ

কে এম রকিব | ২৭ আগস্ট ২০১৬ ১:১৩ অপরাহ্ন

SHE Thing 0 (1)ঢাকার উঁচু উঁচু ইমারত, জমকালো আলো আর গ্ল্যামারের নিচে আছে এক অন্ধকার বাস্তবতা যে-অন্ধকার বাস্তবতার মুখোমুখি নারীকে হতে হয় প্রতিনিয়ত। শুধু লৈঙ্গিক পরিচয়ের কারণেই পদে পদে নারীকে বৈষম্য ও ভায়োলেন্সের শিকার হতে হয়। এমনই বিষয় নিয়ে গত ১৯ ও ২০ আগস্ট গুলশান-১-এর স্পেক্ট্রা কনভেনশন সেন্টারে হয়ে গেল ‘বহ্নিশিখা-আনলার্ন জেন্ডার’র এক চমৎকার পরিবেশনা ‘ইট’স এ শি থিং’। বিভিন্ন শ্রেণিপেশার নানা বয়সী নারীর না বলা অনেক গল্প উঠে এসেছে এই আয়োজনে।

অনুষ্ঠানের নামকরণ থেকেই বেরিয়ে এসেছে এর দর্শন। ‘It’s a SHE thing’। যার অর্থ হতে পারে, ‘এটা সে কলাপ’। কিন্তু এই ‘সে’টা এখানে বিশেষ অর্থবহ। ইংরেজিতে SHE শব্দটি নারী শব্দের পরিবর্তে ব্যবহৃত সর্বনাম। কিন্তু কখনো কখনো এই ‘সে’ উচ্চারণের ভেতরে থাকে উপেক্ষা, অবদমন, অবমূল্যায়ন, অস্বীকার বা নাই করে দেয়ার প্রচেষ্টা। যে কারণে নারীর সব কিছুকে ‘এটা সে কলাপ’ বা ‘মেয়েলি বিষয়’ শব্দবর্গে মুড়ে দেয়া যায়। অনেক সময় তা অবাঞ্চিত, অনাহুত, নিষিদ্ধের মতো করে ছুড়ে ফেলা হয়। ‘It’s a SHE thing’ অনুষ্ঠানটি সেই বিষয়-আশয়কে সামনে নিয়ে আসে নান্দনিক ব্যঞ্জনা ও বলিষ্ঠতায়। যা ধরা পরে অনুষ্ঠানের উপশিরোনামে ‘A play about women and girls of Dhaka, Inspired by The Vagina Monologues’। এই উপশিরোনাম মনে করিয়ে দেয় নারী–যিনি বয়সে যুবতী–বিষয়ে আমাদের দীর্ঘদিনের অবদমন। আধুনিক শহরে যা উবে যায়নি। আর তাই ইটের পাঁজর খুলে দেখার আয়োজন।
গত ১৯ ও ২০ আগস্ট দুইদিনব্যাপী অনুষ্ঠিত হয়েছিল এই প্রদর্শনী, প্রতিদিন সন্ধ্যা ৭টা থেকে ৯ টা পর্যন্ত। (সম্পূর্ণ…)

আদিম লতাগুল্মময় শেকসপিয়রের নগ্ন প্রদর্শনী

বিপাশা চক্রবর্তী | ৫ জুন ২০১৬ ১২:৪৫ অপরাহ্ন

pic-1.jpgনা সেদিন আকাশ ভেঙ্গে পড়েনি মাটিতে। মান সম্মান আর রীতিনীতির সুতোয় বোনা সভ্যতার চাদরও টুটে যায়নি কোথায়ও। সেদিন সূর্যাস্তের ঘন্টাখানেক আগে। নিউইয়র্ক শহরের সেন্ট্রাল পার্কের সবচেয়ে উঁচু যে জায়গাটি সামিট রক, সেখানে তারা জড়ো হলেন। আট জন অসাধারণ অভিনয়শিল্পী, তিন জন মেধাবী নৃতশিল্পী ও দক্ষ দুইজন বাদ্যযন্ত্রী। ১৩ জনের সবাই নারী । তারা প্রদর্শন করলেন উইলিয়াম শেকসপিয়রের অমরকীর্তি জাদু আর বিভ্রমের নাটক ‘দ্য টেমপেস্ট’। খোলা আকাশের নিচে সম্পূর্ণ প্রাকৃতিক পরিবেশে। অভিনয় করলেন নগ্ন হয়ে। সম্পূর্ণ নগ্ন বলতে যা বোঝায়–উলঙ্গ হয়ে। পুরো দু’ঘন্টা। মাত্র একশ গজ দূর থেকে শুরু হয়েছে দর্শকের সারি। পার্কে আগত স্থানীয় লোকজন, পর্যটক, ছেলেবুড়ো নারী পুরুষ সব মিলিয়ে প্রায় ২০০ জন দর্শনার্থী। উপভোগ করলেন অভিনব কায়দায় উপস্থাপিত ঐতিহাসিক নাটকটি। কিন্তু এ ঘটনা ২০০ জন দর্শকের মাঝে সীমাবদ্ধ থাকল না। ছড়িয়ে গেল সারা পৃথিবীতে। দ্য ইন্ডিপেনডেন্ট, দ্য গার্ডিয়ান, দ্য ডেইলী মেইল, নিউ ইয়র্ক নিউজ ডে’সহ অনেক গুরুত্বপূর্ণ পত্রিকা আর অগুনতি ওয়েবসাইটের মাধ্যমে। বেশ গুরুত্ব দিয়ে তারা প্রকাশ করল ‘দ্য টেমপেস্ট’ নাটকের এই বিশেষ প্রদর্শনীর কথা। একদিন না পরপর দুদিন। একইস্থানে ১৯ ও ২০মে হল এই প্রদর্শনী। ঝড় আর বৃষ্টির পূর্বাভাস থাকা সত্ত্বেও রচিত হল ডাকিনীবিদ্যা আর ষড়যন্ত্রের ইন্দ্রজাল ‘দ্য টেমপেস্ট’। মহান নাট্যকার ও কবি শেকসপিয়রের ৪০০তম মৃত্যুবার্ষিকী পালিত হয়েছে ২০১৬ তে। এ উপলক্ষে সারা বিশ্ব জুড়ে নেয়া হয়েছে নানা কর্মসূচী। এমনকি প্রকাশনী সংস্থা হোগার্থ-এর উদ্যোগে ‘দ্য টেমপেস্ট’ কে একুশ শতকের পাঠকের জন্য নতুন রূপে পরিচয় করিয়ে দিতে উপন্যাস আকারে লিখছেন বর্তমান সময়ে জনপ্রিয় ঔপন্যাসিক ও কবি মার্গারেট এটউড। নিউইয়র্ক সেন্ট্রাল পার্কে আয়োজিত নাটকটিও শেকসপিয়রের মৃত্যুবার্ষিকী উদযাপনের অংশ ছিল। কিন্তু কেবল মৃত্যুবার্ষিকী উদযাপনই এর মূল উদ্দেশ্য না-কি অন্য কিছু? (সম্পূর্ণ…)

সিমিন হোসেন রিমি’র আলোকচিত্রে ‘প্রকৃতি’ দর্শন

অলাত এহ্সান | ২৪ december ২০১৫ ৬:৫৪ অপরাহ্ন

02_9.jpgশিল্প-সাহিত্যের অপার বিস্ময়ের জায়গা হচ্ছে মানুষ ও প্রকৃতি। এই দুইয়ের মধ্যে ডুব দিয়েই শিল্পী-সাহিত্যিক তুলে আনে মূল্যবান মনিমুক্তা। রাজধানীর গ্যালারি টুয়েন্টি ওয়ান-এ চলছে সিমিন হোসেন রিমি একক আলোকচিত্র প্রদর্শনী। শিরোনাম ‘প্রকৃতি’। প্রদর্শনীতে উপস্থাপিত ১১৪ টি আলোকচিত্রে প্রকৃতির নিত্যদিনের সৌন্দর্যের অন্বেষণ করেছেন চিত্রী।

সিমিন হোসেন রিমি ইতোমধ্যে লেখক ও সমাজকর্মী হিসেবে খ্যাত। বিশেষত মুক্তিযুদ্ধকালীন প্রধানমন্ত্রী তাজউদ্দীন আহমেদের ডাইরি, চিঠিপত্র সম্পাদনা, গবেষণা ও তাঁকে নিয়ে বিশ্লেষণধর্মী লেখার মাধ্যমে আমাদেরকে অনেক অজানা সত্য ও সময়ের মুখোমুখি দাঁড় করিয়েছেন তিনি। তবে আলোচিত্রী হিসেবে এবারই প্রথম আত্মপ্রকাশ করেন। পারিবারিক রাজনৈতিক ঐতিহ্যের মতোই তার আলোকচিত্রের হাতেখড়ি পরিবার থেকেই। এখানেও চিন্তার উন্মীলন তার ঘটেছে দেখায়। তার ছবির দিকে তাকালেই তা পরিস্কার বুঝা যায়।

তার আলোকচিত্রের বিষয়বস্তু হঠাৎ চমকে দেয়া কিছু না। নিত্যদিনের নিত্য সভা। আকাশ, সাগর, মেঘ, প্রকৃতি, ফুল, পাখি, সূর্যাস্ত ইত্যাদি। এই নিত্যবস্তু প্রতিনিয়ত রূপ বদলায়। একই আকাশের দিকে তাকিয়ে যেমন ক্ষণিক পরপরই নতুন রূপ দেখা যায়, সাগরের পাড়ে দাঁড়িয়েও প্রতিটি ঢেউকে নতুন করে দেখা যায়, তেমনি প্রতিদিনের সূর্যাস্তকেও। প্রদর্শনীর ছবিগুলোর মধ্যে আকাশ, সূর্যাস্ত ও সাগর পাড়ের দৃশ্যই বেশি। এই ছবিগুলো আর সার্বজনীনও। পৃথিবীর যে কোনো দেশে যে কোনো সময়ে এই দৃশ্যগুলো উপভোগ করা যায়। এর মাঝেই খুঁজে পাওয়া যাবে মানুষের নিয়ত দুঃখ-কষ্ট, ভাবনা ও উদাসীনতা। (সম্পূর্ণ…)

আট তরুণের সময়-দর্শনের সংযোগ প্রদর্শনী

অলাত এহ্সান | ২৮ নভেম্বর ২০১৫ ১২:৫৮ অপরাহ্ন

বেঙ্গল ফাউন্ডেশনকে সঙ্গে নিয়ে ইংরেজি দৈনিক ডেইলি স্টার ‘অনলি কানেক্ট’ শিরোনামে এক প্রদর্শনীর আয়োজন করেছে। প্রদর্শনীতে অংশগ্রহণকারী আটজনই স্বকীয়তার মধ্যদিয়ে স্বচ্ছভাবে তুলে ধরেছেন তাদের ভাবনাকে। তারা যেমন ভেবেছেন, তেমনি দর্শকদেরও ভাবাচ্ছেন। চিত্রকলার বিভিন্ন মাধ্যমেই তারা এই কাজ করেছেন। প্রদর্শনীতে স্থান পেয়েছে আলোকচিত্র, পেইন্টিং, ভিডিওগ্রাফি, ইন্সটলেশন, পার্ফমেন্স আর্ট, টেক্সটাইল ইন্সটলেশন।
শিল্প এগিয়ে যাওয়ার প্রধান যে উপায়, পরীক্ষা-নিরীক্ষা, প্রত্যেকে তাদের কর্মে দুর্বীনিতভাবেই তা করছেন। শিল্প যাচ্ছে মানুষের কাছে আর মানুষের জীবন উঠে আসছে শিল্পকর্মে। এখানেই এই প্রদর্শনীর গুরুত্ব। প্রতিটি শিল্পকর্মে বর্তমান সময়ের যে প্রধান প্রবণতা—বৈচিত্র্য, বিক্ষোভ, অসহনীয় লঘুতা—তুলে ধরেছে। বোঝা যায়, প্রদর্শনীতে অংশ নেয়া প্রত্যেক শিল্পী কেবল শিল্পের সাধনায়ই নয়, ভাবনায়ও ঋদ্ধ। প্রদর্শনীতে একটু খেয়াল করলে যেকারোরই চোখে পড়ে উপস্থাপিত বিষয় ও মাধ্যমের বৈচিত্র্য।

আবির সোম নিয়ে এসেছেন ডিজিটাল কোলাজ, ড্রয়িং ও ছাপচিত্র; আলি আসগার’র মাধ্যম ছাপচিত্র ও পার্ফর্মেন্স; দেবাশিস চক্রবর্তী’র আলোকচিত্র; মো. আতা ইসলাম খান’র কোলাজ, মেহেরুন আখতার’র টেক্সাইল ইন্সটলেশন, পলাশ ভট্টাচার্য’র ভিডিও ডকুমেন্ট, রফিকুল শুভ’র ভিডিও ও ফটোগ্রাফি এবং রাজীব দত্ত’র ডিজিটাল কোলাজ।
ইতোমধ্যে প্রত্যেক শিল্পীরই যৌথ প্রদর্শনীর সংখ্যা দুইয়ের ঘর ছাড়িয়েছে। অর্ধশত, শতও পূরণ করেছে কেউ কেউ। গত ২২ নভেম্বর গ্যালারির দোতলার বারান্দায় বসেছিল শিল্পীদের সঙ্গে দর্শনার্থী, সংবাদকর্মী, লেখক, শিল্প সমালোকদের উন্মুক্ত আড্ডা। সেখানে তারা শিল্পকর্ম নিয়ে তাদের ভাবনা প্রকাশের পাশাপাশি উপস্থিতদের সরাসরি প্রশ্নের উত্তর দেন। (সম্পূর্ণ…)

গ্লোবের হ্যামলেটে মুগ্ধতা

রুবাইয়াৎ আহমেদ | ১৭ জুলাই ২০১৫ ১০:৫০ পূর্বাহ্ন

drama-hamlet-4.JPGসারাদিনই বৃষ্টি ছিল ঢাকায়। কখনও মুষলধারে আবার কখনও বা গুঁড়িগুঁড়ি। তবে সরকারি ছুটি থাকায় যানবাহনের তেমন ভিড় রাস্তায় ছিল না। রোজার এই সময়ে চট্টগ্রামে বাংলাদেশের সঙ্গে দক্ষিণ আফ্রিকার শেষ ওয়ানডে ম্যাচের ফলের দিকেও দেশবাসীর দুরুদুরু বুকে অপেক্ষা। যে কারণে কোথাও তেমন ভিড় নেই। বেশিরভাগ মানুষই টেলিভিশনের সামনে।

কিন্তু একটি জায়গা ছিল ব্যতিক্রম। বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির জাতীয় নাট্যশালা। বুধবার বিকাল থেকেই সেখানে লোকে লোকারণ্য। কারণ একটি নাট্যদল আজ এখানেই মঞ্চস্থ করবে বিশ্বের সর্বকালের অন্যতম শ্রেষ্ঠ নাট্যকার উইলিয়াম শেক্সপিয়ারের সর্ববৃহৎ ট্র্যাজেডি ‘হ্যামলেট’। তবে বিষয়টি এখানে শেষ হলে মানুষের আগ্রহের নেপথ্য রহস্যটুকু ঠিক উন্মোচিত হবে না। (সম্পূর্ণ…)

শিল্পী মুন রহমানের প্রদর্শনী

সাখাওয়াত টিপু | ৩১ মে ২০১৫ ১:০৬ অপরাহ্ন

img_3314.JPGThere is no such thing as good painting about nothing.
― Mark Rothko

মানুষ নিছক বাস্তবতার ভেতর দিয়ে যায় না। বাস্তব আদতে অভিজ্ঞতা আর শিক্ষার ধারণা মাত্র। সুনির্দিষ্ট জ্ঞান কাঠামোই তার ভিত্তি। কিন্তু শিল্প আর সাহিত্য বাস্তব ধারণার ভাবাতিরিক্ত ব্যাপার। ফলে মানুষ কল্পনাপ্রবণ হতে বাধ্য। এই প্রবণতা মানুষকে কল্পনা আর জ্ঞান-কাঠামোর সাথে উৎপাদন সম্পর্ক তৈরি করে। এই যে কল্পনা, এই অধরাকে ধরবার কারবারকে সহজ ভাষায় আমরা শিল্প বা সাহিত্য বলি। মানে ইমেজ বা কল্পনা বা ধারণার বাইরে মানুষের জ্ঞানের জগৎ নেই। ফলে শিল্প আর সাহিত্য নতুন ধ্যান ধারণার জন্ম দিয়েছে। দিচ্ছে। ভবিষ্যতে দেবে। এমন পাটাতনে ঢাকার শিল্পের নতুন ঘটনার কথা বলব।
মুন রহমানকে লোকে এক নামে চেনেন, এমন শিল্পী নন। চারুবিদ্যার বিদ্যার্থীও নন। ফলে চারুকলার জগতে মুন অনেক আনকোরা। অর্থশাস্ত্রে আনকোরা শব্দ নঞর্থক ভাব বহন করে। কিন্তু দর্শনশাস্ত্রে না অর্থ শুধু নঞর্থক নয়। হাঁ বোধও এতে বিরাজ করে। কারণ বিরাজিত বস্তুর ভাব নিছক বস্তু নয়। ভাবও বটে। জগতে হাঁ বোধ না থাকলে না বোধও নাই। হ্যাঁ তো ভাষার সংকেত। আর না ভাষার অপর গঠন। হ্যাঁ বোধের তখনই বিস্তৃতি ঘটে যখন না বোধের সম্পর্ক হয়। (সম্পূর্ণ…)

সাম্প্রতিক তিনটি চিত্র প্রদর্শনী

| ১৯ মে ২০১৫ ৬:১৩ অপরাহ্ন

সম্প্রতি ঢাকায় ভিন্নধর্মী তিনটি চিত্র প্রদর্শনী শুরু হয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ এই প্রদর্শনীগুলো নিয়ে লিখেছেন অঞ্জন আচার্য এবং আব্দুল হালিম চঞ্চল।

শিল্পকলায় পক্ষকালব্যাপী ছাপচিত্র প্রদর্শনী

অঞ্জন আচার্য

গুরুশিল্পীরা কাজ করেছেন আর তার ছায়াতলে দীক্ষিত হয়েছে নবীন শিল্পীরা। তাই গুরুর কাজের শেষ রশ্মিটুকু নিয়ে আবার নতুন দিনের আলো জ্বালিয়েছে নবীন প্রজন্মের শিল্পীরা। আসলে সূর্যহীন অন্ধকারের কোন ইতিহাস নেই; ইতিহাস আছে শুধু সূর্যোদয়ের আর সূর্যের আলোয় উজ্জ্বল প্রহরের। এভাবে শেষ থেকে শুরু হতে হতে এদেশের শিল্পের প্রজন্মের পর প্রজন্ম পেরিয়ে শাখা প্রশাখায় প্রসারিত হয়ে পড়েছে।
বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমী ও শূণ্য আর্ট স্পেস যৌথভাবে একাডেমীর জাতীয় চিত্রশালায় ১৬ মে থেকে ৩০ মে “শেষ থেকে শুরু” শীর্ষক পক্ষকালব্যাপী ছাপচিত্র প্রদর্শনীর আয়োজন করেছে। এ উপলক্ষে গত শনিবার বেলা ১২টায় বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমীর জাতীয় চিত্রশালায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে পক্ষকালব্যাপী ছাপচিত্র প্রদর্শনীর উদ্বোধন করেন বরেণ্য শিল্পী অধ্যাপক রফিকুন নবী। বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমীর মহাপরিচালক লিয়াকত আলী লাকীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন স্পেন-প্রবাসী বরেণ্য শিল্পী মনিরুল ইসলাম এবং শিল্পসমালোচক মইনুদ্দীন খালেদ। অনুষ্ঠানে শুভেচ্ছা বক্তব্য প্রদান করেন শূণ্য আর্ট স্পেস-এর প্রধান নির্বাহী জাফর ইকবাল। প্রদর্শনী প্রতিদিন বেলা ১১টা থেকে রাত ৮টা এবং শুক্রবার বেলা ৩টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত দর্শকদের জন্য খোলা থাকবে। (সম্পূর্ণ…)

কাজী রকিব: “আমি মাথা দিয়ে চলি না, মন দিয়ে চলি”

চিন্তামন তুষার | ২৭ জানুয়ারি ২০১৫ ১:৪৬ অপরাহ্ন

kazi-rakib.gifগত ১৬ জানুয়ারি থেকে শিল্পী কাজী রকিব(জন্ম ৫ ফেব্রুয়ারি , ১৯৫৫)-এর প্রদর্শনী শুরু হয়েছে উত্তরায়, গ্যালারি কায়ায়; প্রদর্শনী চলবে ৩০ জানুয়ারি পর্যন্ত। তবে অবরোধ ও হরতাল অব্যাহত থাকায় প্রদর্শনীর সময়সীমা আরও এক সপ্তাহ ( ৬ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত) বাড়ানো হয়েছে। শিল্পীর একাদশতম এই একক প্রদর্শনীতে মোট ৭৫টি শিল্পকর্ম স্থান পেয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে এক্রেলিক অন ক্যানভাস ১৭টি, ওয়াটার কালার ১৩টি, এক্রেলিক অন পেপার ৮টি, অয়েল অন ক্যানভাস ৪টি, পেন্সিল অন পেপার ৬টি, প্রিন্ট ৪টি, ড্রয়িং ২৩টি, কোলাজ ২টি, গ্লাসওয়ার্ক ২টি, প্যাস্টেল অন পেপার ১টি। মাধ্যম এবং বিষয়ের বৈচিত্র্যে শিল্পী কাজী রকিবের এই প্রদর্শনী এক গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা। নানান ধরনের পরীক্ষা-নিরীক্ষার মাধ্যমে শিল্পী নিজেকে বদলে নিয়েছেন বারবার। এমনকি, রংয়ের ক্ষেত্রেও তিনি কখনও একই ধারণায় বন্দী হয়ে থাকেননি। ‘ঢাকা পেইন্টার্স’(১৯৭৪-৭৭)-এর প্রতিষ্ঠাতা সদস্য কাজী রকিব সুররিয়ালিজমের মতো প্রকরণকেও আত্মস্থ করেছিলেন নিজের জন্য বহুবর্ণিল ও পরিব্যাপ্ত এক জগতকে নিশ্চিত করে তোলার লক্ষ্যে। এবং এই লক্ষ্যে তার সাফল্য তাকে আমাদের অগ্রগণ্য শিল্পীদের একজন করে তুলেছে। শিল্পকলার সাবেক শিক্ষক এই শিল্পী, শিল্পের দায়কে যে নিষ্ঠা ও সততার সঙ্গে উচ্চতর অবস্থানে নিয়ে গেছেন তা আমাদের কাছে অত্যন্ত গৌরবের– তাতে কোনো সন্দেহ নেই। চলমান এই প্রদর্শনী উপলক্ষে সম্প্রতি তার একটি দীর্ঘ সাক্ষাৎকার গ্রহণ করেছেন চিন্তামন তুষার। অডিওতে ধারণকৃত সাক্ষাৎকারের লিখিত রূপটি এখানে প্রকাশ করা হলো। বি.স. (সম্পূর্ণ…)

দেয়ালের চিত্রিত ভাষা

মাসুদ হাসান উজ্জল | ৬ জানুয়ারি ২০১৫ ১২:৫৮ পূর্বাহ্ন

immage-of-wall01.jpgএকটা গুহার দেয়ালে শেকলবন্দি কিছু মানুষ আগুনের সামনে দিয়ে হেঁটে যাওয়া কিছু ছায়া দেখে সেগুলোর নামকরণ করে চলেছিল– হয়তো বা মুক্ত ছায়ার চলাচল দেখে তারাও পেতে চাইছিল মুক্তির স্বাদ। অথচ তারা জানেই না ছায়াগুলো সত্য অবয়ব নয়!– এমন একটা কাহিনী বর্ণনা করতে গিয়ে মহামতি সক্রেটিস প্লেটোকে বুঝিয়েছিলেন দার্শনিকগণও এমনটি শৃঙ্খলিত- বাস্তব অবাস্তবের দোলাচলে। এই ভাবনা পরবর্তীতে প্লেটোর ‘থিওরি অফ ফর্মস’কে প্রভাবিত করে। গ্রীক-দর্শন অনুযায়ী কোনো বস্তুর প্রতি দৃষ্টিভঙ্গিগত মূল্যায়ন হলো ‘ফর্ম’। নির্দিষ্ট আকারের বস্তুর প্রতি দৃষ্টিভঙ্গির ভিন্নতা তাকে ভিন্নভিন্নভাবে ব্যাখ্যা করতে সক্ষম। কবি জীবনানন্দ দাস বলেছিলেন `পশ্চিমের মেঘে সোনার সিংহ আঁকে’ আরেক জায়গায় বলেছেন– ‘সকলেই কবি নয়, কেউ কেউ কবি’। ‘পশ্চিমের মেঘে সোনার সিংহ আঁকে’ অথবা ‘কেউ কেউ কবি’ এই দুটি বাক্যে ফর্মের ব্যখ্যাটা খুব স্পষ্টভাবে ধরা দেয়। কারও কারও কাছে– মেঘ সেতো নিছক মেঘই, বড় জোর বৃষ্টি ঝরাতে সক্ষম, কিন্তু কেউ কেউ সেই মেঘের ভাঁজে খুঁজে ফেরে ‘সময়’ নামক সাদা ঘোড়া, হারিয়ে যাওয়া সোনার সিংহ, হাজারো অবয়ব! (সম্পূর্ণ…)

আমি আনন্দ ছাড়া আঁকতে পারি না, দুঃখ ছাড়া লিখতে পারি না

–মুতর্জা বশীর

রাজু আলাউদ্দিন | ২০ সেপ্টেম্বর ২০১৪ ১১:০৮ অপরাহ্ন

bashir.jpgগত ১২ সেপ্টেম্বর থেকে প্রবীণ শিল্পী মুর্তজা বশীর(জন্ম আগস্ট ১৭, ১৯৩২)-এর প্রদর্শনী শুরু হয়েছে উত্তরায়, গ্যালারিকায়ায়; প্রদর্শনী চলবে ২৫ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত। প্রদর্শনীতে শিল্পীর ওয়েল প্যাস্টেল অন ক্যানভাসে আঁকা ১৭টি, ওয়েল অন ক্যানভাসে আঁকা ২টি, ৯টি কোলাজ এবং ১৯৫৪ থেকে ২০১৪ সালের মধ্যে প্যাপারে আঁকা ১৮টি ড্রয়িংসহ মোট ৪৬টি শিল্পকর্ম স্থান পেয়েছে। বিষয়বৈচিত্রে যেমন, তেমনি শৈলী ও মাধ্যমের দিক থেকেও তার এবারের প্রদর্শনী দর্শকদের জন্য এক স্মরণীয় অভিজ্ঞতা। শিল্পী বশীর পুরাণের সেই কাল্পনিক জীব প্রটিয়াসের মতো যিনি নিজেকে বদলে নিয়েছেন বারবার, কিন্তু বামপন্থী রাজনৈতিক বিশ্বাস আর গণমানুষের প্রতি অঙ্গীকারের জায়গায় তিনি নিজেকে রেখেছেন অপরিবর্তিত। চিরনতুন এই প্রবীণ শিল্পীর প্রদর্শনী উপলক্ষে সম্প্রতি তার একটি দীর্ঘ সাক্ষাৎকার গ্রহণ করেছেন কবি ও প্রাবন্ধিক রাজু আলাউদ্দিন। সাক্ষাৎকারের পূর্ণ ভিডিওসহ লিখিত রূপটি এখানে প্রকাশ করা হলো। বি.স. (সম্পূর্ণ…)

মাটির দুনিয়া শুনতে কী পায়

লীসা গাজী | ২৫ মার্চ ২০১৪ ৯:২৮ অপরাহ্ন

ব্যালকনি জুড়ে দাঁড়িয়ে ছিলেন ওঁরা। শরীর জুড়ানো জানুয়ারির রোদে গায়ে পিঠে মাথায় শাল জড়িয়ে দাঁড়িয়েছিলেন। আমরা সবাই ঘাড় কাৎ করে উপরে তাকালাম, ওঁদের একজনের সাথে চোখাচোখি হয়ে গেলো। শরীরের প্রতিটা রোম নিমিষে সজাগ হলো আমার। নিজের অজান্তেই একটু কেঁপে উঠলাম, কিন্তু তিনি, সেই একজোড়া চোখের মালিক, দিব্যি হাসলেন, যেন কতদিন আমায় চেনেন। ব্যালকনির ঠিক নিচেই প্রতিষ্ঠানের নাম লেখা ‘সিরাজগঞ্জ উত্তরণ মহিলা সংস্থা’। আমরা চলেই এলাম তাহলে। পায়ে পায়ে সিঁড়ি ভাঙ্গলাম – কুঁকড়ে যাচ্ছিলাম, সামনে গিয়ে দাঁড়াবো কিভাবে! ওঁরা ২১ জন বীরাঙ্গনা আমাদের অপেক্ষায় ছিলেন। (সম্পূর্ণ…)

পরের পাতা »

Disclaimer & Privacy Policy  |  About us  |  Contact us

© bdnews24.com