উৎসব

ঢাকা লিট ফেস্ট : দেশবিদেশের মেলবন্ধনের প্রথম দিন

অলাত এহ্সান | ১৮ নভেম্বর ২০১৬ ১:০৫ অপরাহ্ন

Opening NAIPAL 0‘হে-অন-ওয়ে’ শহরকে অনেকে বইয়ের শহর বলেও চেনেন। মূলত যুক্তরাজ্যের অঙ্গরাজ্য ওয়েলস-এর রাজধানী ব্রেকনকসায়ারের বিপনী শহর এটি। শহরটিতে বইয়ের প্রাচুর্যে লেখকের সমাবেশ ঘটে অহরহ। দেশের তরুণ লেখক ও প্রকাশককে উৎসাহ দেয়ার জন্য ১৯৮৮ সালের মে-জুন মাসে এই হে-অন-ওয়ে শহরেই শুরু হয় ‘হে ফ্যাস্টিভ্যাল’। গত ২৯ বছরে ‘হে ফ্যাস্টিভ্যাল’এখন বিশ্বের বিভিন্ন শহর, যেমন–কেনিয়ার নাইরোবি, মালদ্বীপ, লেবালনের বৈরুত, উত্তর আয়ারল্যান্ডের বেলফাস্ট, কলম্বিয়ার কার্তাহেনা, ভারতের ক্যারালা ও কলকাতা, গ্রানাডা-আন্দালুসিয়া, আলহামরা, সেগোভিআ, ওয়েলসের ব্রিজেন-এ এই উৎসব অনুষ্ঠিত হয়। সুতরাং হে ফ্যাস্টিভ্যাল এখন আর কোনো নির্দিষ্ট দেশ-শহরে সীমাবদ্ধ নেই। গত পাঁচ বছরের ধারাবাহিকতায় ঢাকায় এখন চলছে ‘হে ফেস্টিভ্যাল’-এর পাইলট প্রোগাম। তবে এটা অনেক বেশি স্বকীয়তা অর্জন করে। এর নাম ঢাকা লিটারেচার ফেস্টিভ্যাল সংক্ষেপে ঢাকা লিটফেস্ট।
বলার অপেক্ষা রাখে না, যেকোনো শহরেই এই উৎসব হোক না কেন, এটা ওই দেশের ইংরেজি ভাষায় সাহিত্য রচয়িতাদেরই উৎসাহ বেশি হবে। তবে এটা শুধু মাত্র দেশ-বিদেশের লেখক-পাঠক সম্মিলন নয়। আয়োজক দেশ ও শহরের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে বিদেশি লেখকদের নিকট নিজেদের সংস্কৃতিও তুলে ধরার সুযোগ বৃদ্ধি হয় এতে। সঙ্গে ওই দেশের সাহিত্যও ইংরেজি অনুবাদ হয়ে পাঠকের বিশ্ব দরবারেও উপস্থিত হওয়ার প্রক্রিয়া তরান্বিত হয়। ঢাকায় ষষ্ঠবারের মতো শুরু হয়েছে এই উৎসব। গত ১৭ নভেম্বর থেকে শুরু হওয়া এই উৎসব চলবে ১৯ নভেম্বর পর্যন্ত। ৩ দিনব্যাপী এই উৎসবে বিদেশি লেখক-সাহিত্যিকদের সঙ্গে দেশের প্রবীণ তরুণ লেখক-পাঠকদেরও মিলন ঘটেছে বাংলা একাডেমি প্রাঙ্গণে। (সম্পূর্ণ…)

হয়তো বড়লোকরা ঈদ করছে

হাসান আজিজুল হক | ১২ সেপ্টেম্বর ২০১৬ ৬:১১ পূর্বাহ্ন

ঈদ নিয়ে কথা বলা এক ঝক্কির ব্যাপার। আবার সবদিক বিবেচনা করে কথা বলাও মুশকিল। কিন্তু আমি জানি না, আমাদের যে ধর্ম, ইসলামের কথাই বলছি, তা কতটা প্রাণের মধ্যে মনের মধ্যে কতটা ধারণ করেছি আর কতটা যে প্রদর্শন করছি সেটা নিয়ে মাঝে মাঝে আমার সন্দেহ হয়। কারণ দেশে যেভাবে অপরাধপ্রবণতা আর অপরাধ বেড়েছে, কারণ ধর্মের নামে যে বিভৎস কাণ্ডকারখানা চলছে তাতে মনে হয় বর্তমান পৃথিবীর ওপর থেকে আমার আস্থা চলে গেল। বর্তমান পৃথিবীটা মানুষের পৃথিবী বলে আর মনে হয় না। বাংলাদেশ সম্পর্কে একই কথা মনে হয়, নানা ভাবে অপরাধ চাষ হচ্ছে। কেউ ধর্মের নামে করে কেউ ধর্ম বাদ দিয়ে করে, প্রতিনিয়ত অপরাধ সংগঠিত হচ্ছে। অসহ্য ব্যাপারগুলো হচ্ছে। এগুলো দমন করার জন্য নৈতিকভাবে যা করা দরকার তাহলো আমাদের দেশে যে সম্পদ আছে তার সুষম একটা বন্টন, সুষম একটা ব্যবস্থা। আমাদের রাজনীতিতে তা একেবারেই নেই। তাই এর বাইরে ঈদ বলতে আর কী হবে। হয়তো বড়লোকরা ঈদ করছে। বিরাট ব্যাপার হচ্ছে। আমরা তো জানি প্রোগ্রাম-টোগরাম কোনো কোনো অঞ্চলে প্রচলিত আছে। কী রকম মেজবান-টেজবান তারা করছে কোরবানীতে, ঈদে বারোটা-চব্বিশটা গরু জবাই করে। কিন্তু কী হয়েছে? তাদের ভেতর থেকে আমরা কেমন মানুষ পেয়েছি? ঈদে এলে বাল্যকালে যে আনন্দ অনুভব করতাম তাতে ফিরে যাই। তখন যেভাবে আঁতর মাখা হতো, আমাদের বাড়িতে কামাল আতাতুর্কের যে টুপি ছিল—গোল ও বড়, ঝালর দেয়া—তা মাথায় দিয়ে, পা-জামার সঙ্গে শার্ট বা জামা পড়ে গ্রামের বাইরে হাঁটতাম। তখন উৎসবের ভেতর সম্প্রীতির অনুভব ছিল।
তো এখন আনন্দ দেখি না কিন্তু। আমি কোনো কোনো বছর ঈদের ঠিক নামাজের পরই গাড়ি নিয়ে গ্রামের ভেতরে ঢুকে যাই। আশ্চর্য ব্যাপার, মনে হয় এমন নিরানন্দের ব্যাপার আর হয় না। কেউ কোথাও নেই, কেমন নিঝুম হয়ে রয়েছে। কোনো কোনো চায়ের দোকানে তিন-চারজন লোক টুপি মাথায় বসে রয়েছে। গল্প-গুজব করছে, কথা-বার্তা বলছে, এই পর্যন্তই।
দুই বছর আগে আমাদের রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে ঢুকলাম। বিশ্ববিদ্যালয়ে ঢুকে দেখি লোকে লোকারণ্য। প্রচুর লোক। ভাবলাম এদের ঈদ উদযাপনটা তো ভাল। পরে বুঝলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের আশেপাশে যে মধ্যবিত্ত ভদ্রলোক আছে তারাই ঈদের জামা পড়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের দিকে গিয়েছে আরকি। বিশ্ববিদ্যালয়ে আশেপাশে যে গ্রাম আছে, ওদিকে পদ্মা তীর পর্যন্ত, কোনো গ্রামে আমি উৎসবের ছোঁয়া পেলাম না। আমার দিক থেকেই এমন মনে হয়েছে কি না আমি জানি না। (সম্পূর্ণ…)

ঢাকার সেকালের ঈদ উৎসব

শামসুজ্জামান খান | ১১ সেপ্টেম্বর ২০১৬ ১১:৫৭ অপরাহ্ন

ঢাকার সাবেককালের সমন্বিত সাংস্কৃতিক জীবনের কিছু নতুন দিক এখন ধীরে ধীরে উন্মোচিত হচ্ছে। ঢাকার নওয়াবরা উর্দুভাষী হিসাবে বাঈজিনাচ, মহরমের মিছিল, ঈদোৎসব, কাওয়ালি বা জয়বারী গানবাজনার সঙ্গে যেমন জড়িত ছিলেন তেমনি হিন্দুদের দুর্গাপূজা, জন্মাষ্টমি, ঝুলনযাত্রা ইত্যাদিতেও যোগ দিতেন। নওয়াব পরিবারের ডায়েরিতে ঢাকার সমাজ ও সংস্কৃতি (সম্পাদনা- অনুপম হায়াৎ) গ্রন্থ থেকে জানা যাচ্ছে নওয়াবরা বাংলা নববর্ষ, নবান্ন, গায়ে হলুদ, মেয়েদের ঘুড়ি উৎসব, পৌষ সংক্রান্তি এমনকি ষষ্ঠী প্রভৃতি বাঙালির ঐতিহ্যবাহী অনুষ্ঠান করতেন এবং এসব উৎসবেও অংশ নিতেন।
১৯১৩ সালের ১৩ জানুয়ারি তারিখের খাজা মওদুদের ডায়েরিতে লেখা আছে : “আজ সোমবার। পৌষ-সংক্রান্তির দিন। নওয়াবজাদী আমেনা বানু আজ আহসান মঞ্জিলে ঘুড়ি ওড়ানো উৎসবের আয়োজন করেন। এতে তিনি শুধু মহিলাদের দাওয়াত দেন। মহিলাদের এই আনন্দ উৎসবে সারা দিন রান্না-বান্না, খাওয়া-দাওয়া ও নাচগানের এন্তেজাম করা হয়। পরের বছর নওয়াববাড়ির গোলতালার পারে পুরুষদের ঘুড়ি ওড়ানোর প্রতিযোগিতা বা ‘হারিফি’ খেলা অনুষ্ঠিত হয়। খাজা হুমায়ুন কাদের এতে অংশ নেন। এতে বিপুল দর্শক সমাগম ঘটে।”
ঈদোৎসবে নওয়াবরা নানা আমোদ-ফূর্তির ব্যবস্থা করতেন : যেমন কলকাতার ক্লাসিক থিয়েটারের নাটক ঢাকার নওয়াব বাড়িতে প্রদর্শন, জাদু ও সার্কাস দেখানো, বায়োস্কোপ দেখা বা কোনো খেলাধুলার আয়োজন। পাটুয়াটুলির ক্রাউন থিয়েটার, জগন্নাথ কলেজ, ন্যাশনাল মেডিকেল ইত্যাদির মঞ্চে বায়োস্কোপ দেখার তথ্য যেমন আমরা পাই তেমনি পিকচার হাউস, এম্পায়ার থিয়েটার ইত্যাদিতে সিনেমা উপভোগের রূপছায়াময় বিবরণ পাওয়া যায় নওয়াব পরিবারের সাংস্কৃতিক ইতিহাসে। নওয়াবেরা ঈদের এমন সব বিনোদনে অংশগ্রহণের জন্য পরিবারের ছেলেমেয়েদেরও সুযোগ করে দিতেন ।
ঈদ নিয়ে নওয়াব বাড়িতে দু’একবার বিবাদ-বিসম্বাদও বেধে যায়। ১৯২০ সালের ২৫ আগস্টের খাজা শামসুল হকের ডায়েরিতে লেখা হয়েছে, ‘বকরা ঈদ নিয়ে নওয়াব বাড়ির দুই পক্ষের মধ্যে বিরোধ হয়। এক পক্ষে খাজা মোঃ আজম ঢোল পিটিয়ে ঘোষণা করেন যে, আজ বকরা ঈদ হবে। অপর পক্ষে নওয়াব হাবীবুল্লাহ ঢোল পিটিয়ে দেন যে, আগামীকাল ঈদ হবে। শেষ পর্যন্ত ওই বছর ঢাকায় দুই দিন বকরা ঈদ হয়। ১৯২২ সালের ঈদ-উল-আযহার ব্যাপারেও একই ঘটনা ঘটে।’ (সম্পূর্ণ…)

লিবিয়ার ঈদ, খাদ্যাভ্যাস ও আতিথেয়তা

আবদুস সেলিম | ১১ সেপ্টেম্বর ২০১৬ ১১:৩৭ অপরাহ্ন

আশির দশকে–যখন মুয়াম্মার গাদ্দাফির সুসময়–আমিসহ বেশকিছু বাংলাদেশি ইংরেজি শিক্ষক লিবিয়ায় শিক্ষকতা করতে গেছিলাম। আমার ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতায় সেই সময়ের বসবাসকে আমি একাধিক স্থানে ‘অসভ্যবাস’ সংজ্ঞায়িত করলেও রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের কথার প্রতিধ্বনি করে বলতেই পারি ‘জীবনের ধন কিছুই যাবে না ফেলা।’ প্রায় চার বছরের একটানা সেই ‘অসভ্যবাসে’ আমার অভিজ্ঞতার অর্জন কম ছিলো না–অনেক ক্ষেত্রে অভূতপূর্ব ছিলো বলতেও দ্বিধা করব না।
লিবিয়া একটি বিশাল দেশ যার সাথে আরব মুসলমানদের সম্পর্ক সুনিবিড়। ইতিহাস বলে খ্রীস্টিয় ১৪৫ সালে সেপটিমাস্ সেভেরাস্ নামে এক রোমীয় সম্রাটের জন্ম হয়েছিল লেপটিস্ মাগনা নামে আফ্রিকার এক রোমীয় প্রদেশে যেটি বর্তমান লিবিয়ার অংশ যার নামকরণ হয়েছে বর্তমানে লেবদা বলে। এই সম্রাট ১৯৩ থেকে ২১১ পর্যন্ত রোমীয় সাম্রাজ্য শাসন করে। সেপটিমাস্ সেভেরাস্-এর তৈরী লেপটিস্ মাগ্না শহরের পূরাকীর্তি সংরক্ষিত আছে আজও যেখানে আমার যাবার সৌভাগ্য হয়েছিল।

এর অনেক পরে সপ্তম শতাব্দীতে মিশর থেকে ইসলাম ধর্মের আবির্ভাব লিবিয়ায়। লিবিয় মুসলমানরা বিশ্বাসে সুন্নি প্রশাখার তবে সেখানে সংখ্যা লঘু ক্রিস্টান ধর্মাবলম্বীও আছে। এক সময় বেশকিছু ইহুদি বসবাস করতো। মুয়াম্মার গাদ্দাফির শাসনামলে অধিকাংশ ইহুদিই লিবিয়া ছেড়ে চলে যায় যদিও ত্রিপলি শহরে এখনও একটি বড় ইহুদি উপাসনালয় আছে। বলা হয় শেষ লিবিয় ইহুদির মৃত্যু হয় ২০০২ সালে।
লিবিয়ার রাজনৈতিক ইতিহাস বড়ই বিচিত্র। লিবিয়া বিভিন্ন সময়ে একাধিক বিদেশী শক্তি দ্বারা শাসিত হয়েছে-যেমন য়ূরোপ, এশিয়া এবং আফ্রিকা। প্রাচীন লিবিয়া, রোমীয় লিবিয়া, ইতালি শাসিত লিবিয়া এবং আধুনিক লিবিয়া-এই ছয় পর্যায়ে লিবিয় রাজনৈতিক ইতিহাস বিভক্ত। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর মিত্র শক্তির আধিপত্যে–কারণ সেই সময় লিবিয়া ইতালির অধিনস্ত ছিল-লিবিয়ার শাসন ব্যবস্থায় ইংরেজ এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রর উপস্থিতি লক্ষ্যণীয়। ১৯৪৪ সালে নির্বাসিত রাজা ইদ্রিস মুক্ত লিবিয়ার শাসনকর্তা হয় এবং ১৯৬৯-এ কর্ণেল মুয়াম্মার গাদ্দাফি ক্ষমতা দখল করে যার শাসন আমল সমাপ্ত হয় ২০১১-তে মার্কিন আগ্রাসনে। ফলে দেখা যায় রাজনৈতিকভাবে লিবিয়া যতই বৈচিত্রময় হোক না কেনো-লিবিয়া প্রধানত একটি সুন্নি মুসলিম দেশ যেখানে মানুষের জীবনযাত্রায় ইসলামি সংস্কৃতি ও চালচলনের প্রভাব অত্যন্ত স্পষ্ট। আরবি ভাষাভাষি এই দেশটির সর্বমোট জনসংখ্যা আশির দশকে ছিলো মাত্র পঁচিশ লক্ষ যে সময়ে আমি লিবিয়ায় ছিলাম, যার মধ্যে কর্মরত আমার মতো বিদেশীও অন্তর্ভূক্ত, অথচ লিবিয়া ছিলো আফ্রিকার দশটি শীর্ষ স্থানীয় তেল উৎপাদক দেশের একটি। স্বাভাবিকভাবেই লিবিয়ার প্রতিটি মানুষই বিত্তবান। এমন একটি দেশে ঈদ উৎসব বা অন্যান্য উৎসব, খাদ্যভ্যাস এবং আতিথেয়তার সংস্কৃতি কেমন ছিলো স্বল্প পরিসরে পর্যালোচনা করা যেতে পারে। (সম্পূর্ণ…)

ঢাকার ঐতিহ্যবাহী ঈদ উৎসব

শামসুজ্জামান খান | ৭ জুলাই ২০১৬ ৬:৪৮ অপরাহ্ন

ঢাকার সাবেক কালের সমন্বিত সাংস্কৃতিক জীবনের কিছু নতুন দিক এখন ধীরে ধীরে উন্মোচিত হচ্ছে। ঢাকার নওয়াবরা উর্দুভাষী হিসাবে বাঈজিনাচ, মহরমের মিছিল, ঈদোৎসব, কাওয়ালি বা জয়বারী গানবাজনার সঙ্গে যেমন জড়িত ছিলেন তেমনি হিন্দুদের দুর্গাপূজা, জন্মাষ্টমি, ঝুলনযাত্রা ইত্যাদিতেও যোগ দিতেন। নওয়াব পরিবারের ডায়েরিতে ঢাকার সমাজ ও সংস্কৃতি (সম্পাদনা- অনুপম হায়াৎ) গ্রন্থ থেকে জানা যাচ্ছে নওয়াবরা বাংলা নববর্ষ, নবান্ন, গায়ে হলুদ, মেয়েদের ঘুড়ি উৎসব, পৌষ সংক্রান্তি এমনকি ষষ্ঠী প্রভৃতি বাঙালির ঐতিহ্যবাহী অনুষ্ঠান করতেন এবং এসব উৎসবেও অংশ নিতেন।
১৯১৩ সালের ১৩ জানুয়ারি তারিখের খাজা মওদুদের ডায়েরিতে লেখা আছে : “আজ সোমবার। পৌষ-সংক্রান্তির দিন। নওয়াবজাদী আমেনা বানু আজ আহসান মঞ্জিলে ঘুড়ি ওড়ানো উৎসবের আয়োজন করেন। এতে তিনি শুধু মহিলাদের দাওয়াত দেন। মহিলাদের এই আনন্দ উৎসবে সারা দিন রান্না-বান্না, খাওয়া-দাওয়া ও নাচগানের এন্তেজাম করা হয়। পরের বছর নওয়াববাড়ির গোলতালার পারে পুরুষদের ঘুড়ি ওড়ানোর প্রতিযোগিতা বা ‘হারিফি’ খেলা অনুষ্ঠিত হয়। খাজা হুমায়ুন কাদের এতে অংশ নেন। এতে বিপুল দর্শক সমাগম ঘটে।”
ঈদোৎসবে নওয়াবরা নানা আমোদ-ফূর্তির ব্যবস্থা করতেন : যেমন কলকাতার ক্লাসিক থিয়েটারের নাটক ঢাকার নওয়াব বাড়িতে প্রদর্শন, জাদু ও সার্কাস দেখানো, বায়োস্কোপ দেখা বা কোনো খেলাধুলার আয়োজন। পাটুয়াটুলির ক্রাউন থিয়েটার, জগন্নাথ কলেজ, ন্যাশনাল মেডিকেল ইত্যাদির মঞ্চে বায়োস্কোপ দেখার তথ্য যেমন আমরা পাই তেমনি পিকচার হাউস, এম্পায়ার থিয়েটার ইত্যাদিতে সিনেমা উপভোগের রূপছায়াময় বিবরণ পাওয়া যায় নওয়াব পরিবারের সাংস্কৃতিক ইতিহাসে। নওয়াবেরা ঈদের এমন সব বিনোদনে অংশগ্রহণের জন্য পরিবারের ছেলেমেয়েদেরও সুযোগ করে দিতেন ।
ঈদ নিয়ে নওয়াব বাড়িতে দু’একবার বিবাদ-বিসম্বাদও বেধে যায়। ১৯২০ সালের ২৫ আগস্টের খাজা শামসুল হকের ডায়েরিতে লেখা হয়েছে– ‘বকরা ঈদ নিয়ে নওয়াব বাড়ির দুই পক্ষের মধ্যে বিরোধ হয়। এক পক্ষে খাজা মোঃ আজম ঢোল পিটিয়ে ঘোষণা করেন যে, আজ বকরা ঈদ হবে। অপর পক্ষে নওয়াব হাবীবুল্লাহ ঢোল পিটিয়ে দেন যে, আগামীকাল ঈদ হবে। শেষ পর্যন্ত ওই বছর ঢাকায় দুই দিন বকরা ঈদ হয়। ১৯২২ সালের ঈদ-উল-আযহার ব্যাপারেও একই ঘটনা ঘটে।’ (সম্পূর্ণ…)

সংস্কৃতি ও ধর্ম: আরববিশ্ব ও বাংলাদেশের প্রেক্ষিতে

আবদুস সেলিম | ১৩ এপ্রিল ২০১৬ ১১:১১ অপরাহ্ন

02_boishakh_mongol-sovajatra_140415_0003.jpgবাইরের বিশ্বকে আমরা কিভাবে বিচার করি সেই শিক্ষাই দেয় সংস্কৃতি। ফলে শান্তি ও টেকসই উন্নয়নের যে অপরিহার্য উপাদান সহনশীলতা তারই উপলব্ধি মানবজাতি অর্জন করে সংস্কৃতি চর্চার মাধ্যমে। বিশ্ব ইতিহাসে বিভিন্ন মানবগোষ্ঠীর সাংস্কৃতিক শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণের প্রতিযোগিতার ফলশ্রুতিতে যত হানাহানি এবং ঔপনিবেশিক শক্তি সৃষ্টি হয়েছে তার ইয়ত্তা নেই। এই সাংস্কৃতিক শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণের ভেতর ধর্মও একটি অনুঘটকের কাজ করেছে নিঃসন্দেহে। কিন্তু এ কথা অনস্বীকার্য সংস্কৃতি একটি মানবগোষ্ঠীর অন্তর্গত শক্তি যার উপাদানগুলো হলো, মানুষের সাথে মানুষের ব্যবহার, তার খাদ্যাভ্যাস (রন্ধন প্রণালীসহ), ভাষা, বিনোদন ও অভ্যাস যা ঐ মানবগোষ্ঠীকে একটি সর্বজনীন একাত্মতার অনুভূতি এনে দেয় এবং এমনকি ঐ মানবগোষ্ঠীর পোশাক-পরিচ্ছদ ও পারস্পরিক ব্যবহারও এর অন্তর্ভুক্ত। ইংরেজিতে একে বলা হয় সভ্য ও সংস্কৃতিকবান হবার ইঙ্গিত বা ‘সেমিওটিক্স’। এর সাথে ধর্মীয় উৎসবও যুক্ত। ধর্ম ও সংস্কৃতির সহাবস্থান মানবজাতির জন্যই মঙ্গলজনক কারণ ধর্মের অনেক আচার অনুষ্ঠান যেমন কোনো একটি নির্দিষ্ট ভৌগলিক সীমারেখায় বসবাসকারী মানবগোষ্ঠীকে প্রভাবিত করে, তেমনি সেই ভৌগলিক সীমার অভ্যন্তরের সকল ঐতিহ্যবাহী সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডকে নিজেদের মধ্যে ধারণ করে থাকে। এটি অতি প্রয়োজনীয় কারণ কোনো মানবগোষ্ঠীই তার ঐতিহ্য ও সংস্কৃতিকে অস্বীকার করে টিকে থাকতে পারে না। (সম্পূর্ণ…)

সার্ক সুফি ফেস্টিভাল: প্রাচীন প্রাসাদে কুহকী কাব্য

ঝর্না রহমান | ২৭ অক্টোবর ২০১৫ ৭:৫৫ অপরাহ্ন

15-the-bangladesh-team-with-thakurani-jyotika-sing.JPG২০১৫ সনের ১০, ১১ ও ১২ অক্টোবর তারিখে ভারতের জয়পুরের অনুষ্ঠিত হয়ে গেলো ‘সার্ক সুফি ফেস্টিভাল’। এটি মূলত ৫০তম সার্ক সাহিত্য উৎসব। এ উৎসবে যোগ দিতে ‘পিংক সিটি’সহ অজস্র ঐতিহাসিক কীর্তিশোভিত শহর জয়পুরের প্রাচীন রাজপুত প্রাসাদ ‘ডিগ্গি প্যালেস’-এ সমবেত হয়েছিলেন সার্কভুক্ত আটটি দেশের জ্ঞানীগুণী ব্যক্তিবর্গ। এঁরা প্রায় সবাই-ই ছিলেন নিজ নিজ দেশের স্বনামধন্য কবি, সাহিত্যিক, গবেষক, বিদগ্ধ পণ্ডিত ও ধীমান ব্যক্তিত্ব। এঁদের মধ্যে অনেকেই ছিলেন সুফিবাদ, সুফিসাহিত্য, মরমী সাহিত্য ও ভক্তিরসাশ্রিত লোকসাহিত্যে বিশিষ্ট প্রতিভাধর ব্যক্তিত্ব। অক্টোবরের এই তিনটি দিন এ সমস্ত আলোকিত ব্যক্তিত্বের সুফিবাদকেন্দ্রিক সৃজনশীল ও মননশীল উপস্থাপনা, আলাপ-আলোচনা, পারস্পরিক চিন্তাচেতনা ও ভাববিনিময় এবং অত্যন্ত জাঁকজমকপূর্ণ সাংস্কৃতিক আয়োজনে মুখরিত ছিলো।

‘সার্ক সাহিত্য উৎসব’ সার্ক-এর এপেক্স বডি ‘ফাউন্ডেশন অব সার্ক রাইটার্স অ্যান্ড লিটারেচার’ ( FOSWAL ) আয়োজিত একটি আন্তর্জাতিক সাহিত্য সম্মেলন। ১৯৮৬ সনে এ ফাউন্ডেশনের যাত্রা শুরু আর প্রথম সার্ক সাহিত্য সম্মেলনটি অনুষ্ঠিত হয় ২০০০ সনের এপ্রিল মাসে।
সার্কভুক্ত দেশসমূহ– বাংলাদেশ, ভারত, পাকিস্তান, নেপাল, শ্রীলঙ্কা, ভুটান, মালদ্বীপ ও আফগানিস্তান-এর লেখক-কবি-সাহিত্যিকদের জন্য একটি আন্তর্জাতিক প্লাটফর্ম এই উৎসব। (সম্পূর্ণ…)

শুভ মধু পূর্ণিমার তাৎপর্য ও বুদ্ধের শিক্ষা

ভিক্ষু সুনন্দপ্রিয় | ২৮ সেপ্টেম্বর ২০১৫ ৯:৩১ পূর্বাহ্ন

buddha.jpgশুভ মধু পূর্ণিমা বৌদ্ধদের নিকট অত্যন্ত পবিত্র ও তাৎপর্যমণ্ডিত দিন । পুণ্যময় এ দিনটিকে শ্রদ্ধা এবং ভাবগাম্ভীর্যের সাথে পালন করে থাকেন । মধু পূর্ণিমাকে ঘিরে রয়েছে বুদ্ধের জীবনের ঐতিহাসিক ঘঠনাপ্রবাহ । বিশেষ করে এদিনটি ত্যাগ ও ঐক্যের মহিমায় সমুজ্জল । বৌদ্ধরা কেন মধু পূর্ণিমাকে অতি শ্রদ্ধার সাথে পালন করে থাকেন? এর তাৎপর্য ব্যাখা করতে গেলে দুটো দিক পরিলক্ষিত হয়। একটি হচেছ সেবা ও ত্যাগের , অন্যটি হচেছ সৌর্হাদ্য, সম্প্রীতি ও সংহতির । ত্যাগের মহিমা হলো পারিলেয্য বনের বানর কর্তৃক ভগবান বুদ্ধকে মধু দান ও হস্তিরাজ কর্তৃক সেবা প্রদান । আর সৌর্হাদ্য ও সংহতি হলো কৌশম্বীর ঘোষিতারামে বিবদমান ভিক্ষু সংঘের মধ্যে ঐক্য প্রতিষ্ঠা । (সম্পূর্ণ…)

নতুনের আবাহনে চাই ঔচিত্যের সংস্কৃতি

ফরিদ আহমদ দুলাল | ১১ এপ্রিল ২০১৫ ৬:৫৪ অপরাহ্ন

baishakh.gifযখন চৈত্র বিদায় নেয়, তখনই তো বৈশাখ আসে। বাংলার ঘরে ঘরে যেমন বর্ষবরণের তোড়জোড় চলে, বর্ষবিদায়ের তোড়জোড়ও কিন্তু কম নয়। নতুনের আবাহনে সবাইকে বরণ করে নেবার আগে নিশ্চয়ই পুরনোকে সসম্ভ্রমে বিদায় করে নেবার প্রয়োজন আছে। নতুনের মধ্যে যখন পুরনোর আত্মা-ই নবায়িত হয়, তখন সঙ্গত কারণেই লক্ষ রাখতে হয় বিদায়ের সময় পুরনো আত্মার হৃদয়ে যেন কোনো গোপন ক্ষত থেকে না যায়।

নতুনকে আবাহন করতে গিয়ে যেন পুরনো পাপের জীবাণু অবশিষ্ট থেকে না যায়। বিষয়টি তো এমন নয় যে আমরা সমস্বরে ‘এসো হে বৈশাখ এসো এসো/ তাপস নিঃশ্বাস বায়ে/ মুমূর্ষুরে দাও উড়ায়ে/ বৎসরের আবর্জনা দূর হয়ে যাক যাক/ এসো এসো…’ রবীন্দ্র সংগীত গাইলাম আর আমাদের সমস্ত কালিমা দূর হয়ে গেল। পুরনো বছরের যা কিছু জঞ্জাল, যা কিছু ক্লেদ, যা কিছু গ্লানি– সব কর্পুরের মতো পলকে উবে গেল হাওয়ায়; বরং উৎসবের দিনটি কোনোভাবে পাড়ি দিয়েই নিজেরা পরস্পরের বিরুদ্ধে বিদ্বেষ-ঘৃণা-প্রতিহিংসা ছড়াতে তৎপর হয়ে গেলাম। যে দৃশ্য আমরা ফি-বছর দেখছি। সুতরাং বর্ষবিদায় ও বর্ষবরণের উৎসব যেন মুখরতায়ই ফুরিয়ে না যায়, নতুনের সঙ্গে যেন প্রাগ্রসর চেতনাও উজ্জীবিত হয় সবার অন্তরে, তার প্রতি লক্ষ রাখাও আবশ্যক। (সম্পূর্ণ…)

শুভ প্রবারণা পূর্ণিমা: মৈত্রীতে পূর্ণ হোক ধরা

ভিক্ষু সুনন্দপ্রিয় | ৮ অক্টোবর ২০১৪ ১:৩৩ অপরাহ্ন

purnima-1.gifশুভ প্রবারণা পূর্ণিমা বৌদ্ধদের একটি আনন্দময় উৎসব। ত্রৈমাসিক বর্ষাব্রত পালন শেষে প্রবারণা পূর্ণিমা আসে শারদীয় আমেজ নিয়ে । প্রবারণার আনন্দে অবগাহন করেন সকলেই । এটি সর্বজনীন উৎসব । আকাশে উড়ানো হয় নানা রকম রঙ্গিন ফানুস । নদীতে ভাসানো হয় হরেক রকমের প্যাগোডা আকৃতির জাহাজ । সবাই আনন্দে মাতোয়ারা হয়ে নানা রকমের কীর্তন, গান গেয়ে আনন্দ প্রকাশ করে । আবহমান বাংলার সংস্কৃতি, কৃষ্টিকে তুলে ধরে উৎসবের মধ্যে । এ উৎসব আশ্বিনী পূর্ণিমাকে ঘিরে হয়ে থাকে । এ পূর্ণিমায় বৌদ্ধদের তিন মাসব্যাপী আত্মসংযম ও শীল-সমাধি প্রজ্ঞার সাধনার পরিসমাপ্তি ও পরিশুদ্ধতার অনুষ্ঠান বলে বৌদ্ধ ইতিহাসে এ পূর্ণিমার গুরুত্ব অপরিসীম । ফলে এ পূর্ণিমা বৌদ্ধদের কাছে দ্বিতীয় বৃহত্তম উৎসবে রূপ পেয়েছে । ৭ অক্টোবর ২০১৪ পালিত হয় শুভ প্রবারণা পূর্ণিমা। (সম্পূর্ণ…)

ঈদ-উল-ফিতর: কিছু স্মৃতি কিছু কথা

মোস্তফা তোফায়েল | ২৫ জুলাই ২০১৪ ১২:৫৪ অপরাহ্ন

ঈদ সামনে । ঢাকা থেকে রংপুর যাবো, কিন্তু আশংকা হচ্ছে বাসের টিকেট পাওয়া যাবে না। কিন্তু যেতে তো হবেই! নিজ বাড়িতে গিয়ে ঈদ উদযাপন করতে হবে আমাকে, আমার মতো বহু লক্ষ মানুষকে, যারা ঢাকা থেকে চারদিকে ছুটবেন; কেউ বাসে, কেউ ট্রেনে, কেউ লঞ্চে করে। ভেগান্তি থাকবে, ভোগান্তির প্রথম, দ্বিতীয় পর্যায় থাকবে, কারো কারো জন্য থাকবে ভোগান্তির একেবারে শেষ পর্যায়। তারা হয়তো বীরভোগ্যা বসুন্ধরায় বীরোচিত ভ্রমণের নীল-নকশা ঠিকভাবে করতে না পারার ফলশ্রুতিতে ভোগান্তির উৎকর্ষ পর্যায় মেনে নিতে বাধ্য হবেন; তারা বাড়ি পৌঁছতেই পারবেন না, পথেঘাটেই ঈদের নামাজ পড়বেন। ঈদে গ্রামের বাড়ি ফিরতেই হবে, এবং চরম দুর্ঘটনার সম্ভাবনা মাথায় নিয়েও তা করতে হবে। আগে আমি বাড়িতে বসে বসে বিশ্লেষকের ভূমিকায় শুধু খেদোক্তি করতাম ওই সব হতভাগ্য বাস-ট্রেন-লঞ্চযাত্রী বাড়িমুখীদের প্রতিঃ আহা, ক্রেইজটা কেন? গ্রামের বাড়ি গিয়েই ঈদ করতে হবে–এই উন্মাদনা কেন? ঢাকার মানুষ কি ঈদ করে না ? ঢাকায় থেকে কি ঈদ করা যায় না? এবার আমি নিজে এই ভুক্তভোগী। আমার মন এরই মধ্যে অস্থির হয়ে উঠেছে। দেশের বাড়ি রংপুর থেকে ফোনের পর ফোন আসছে। কেউ কেউ আগেভাগেই ঢাকা থেকে রংপুর-কুড়িগ্রাম পৌঁছেছেন; তারা মোবাইল কলে বার বার তাগিদ দিচ্ছেন, কবে আসবেন, কবে রওয়ানা হচ্ছেন? বাস বা ট্রেনের টিকেট এখনো পাই নি! (সম্পূর্ণ…)

বাংলায় ঈদ, বাঙালির ঈদ

শামসুজ্জামান খান | ৯ আগস্ট ২০১৩ ৬:০০ অপরাহ্ন

বাংলায় ঈদোৎসবের বিশদ ইতিহাস এখনো লেখা হয়নি। আমাদের এই ভূখণ্ডে কবে, কখন, কীভাবে ঈদোৎসবের উদ্ভব হয়েছে তার কালক্রমিক ঘটনাপঞ্জি কোনো ইতিহাসবেত্তা বা ইসলামের ইতিহাস গবেষক এখনো রচনা করেননি। তবে নানা ইতিহাস গ্রন্থ ও ঐতিহাসিক সূত্র থেকে বাংলাদেশে রোজাপালন এবং ঈদ-উল-ফিতর বা ঈদ-উল-আজহা উদযাপনের যে-খবর পাওয়া যায় তাতে দেখা যায় ১২০৪ খৃস্টাব্দে বঙ্গদেশ মুসলিম অধিকারে এলেও এদেশে নামাজ, রোজা ও ঈদোৎসবের প্রচলন হয়েছে তার বেশকিছু আগে থেকেই। (সম্পূর্ণ…)

পরের পাতা »

Disclaimer & Privacy Policy  |  About us  |  Contact us

© bdnews24.com