কবিতা

শাপলা সপর্যিতার কবিতা: কনফেস

শাপলা সপর্যিতা | ১১ জুন ২০১৭ ৮:১৬ অপরাহ্ন

Jahanara Abedin Collectionআমার কি আছে বলুন তো?
ধ্বংসেরও কিছু স্মৃতি থাকে শেষ থাকে
কষ্টেরও কিছু ক্ষত থাকে
যেখানে চলে নিয়ত ক্ষরণ
তারপরও সেখানেও কিছু থাকে বিধাতার দান।

আমার বিবাহের শাড়িটি ছিল ৫ কেজি ওজন
দারুণ ঐতিহ্যে বেনারসী কাতান জড়ি পুতি চুমকীর বাহারে
হারিয়েছে যে নিজেরই বেশ।

আমি তখন ইথিওপিয়া থেকে এসেছি কেবল
বয়স পঁচিশ কি ছাব্বিশ
রুগ্ন হাড় জিরজিরে শরীরে
বয়স কমে দেখতে হয়েছিল আমাকে বিশ কি বাইশ
দেখুন না, এই দেখুন আমার বিবাহের সেই ছবি
এখনো জ্বলছে শাড়িতে নিয়ত আগুন
সিঁদূরে লাল, তাতে গাঢ় ঘন জমাট রক্তের ছোপ ছোপ
সত্যি করে বলি আজ আপনাদের
শাড়িটি লেগেছিল বড় ভার। (সম্পূর্ণ…)

মিলটন রহমানের পাঁচটি কবিতা

মিলটন রহমান | ৫ জুন ২০১৭ ৯:৫০ অপরাহ্ন

Monirul Islamবালির শহর

যে ধূলোর শহরে তোমাকে রেখে এসেছিলাম

তার আর কোন খবর নেইনি কখনো

তুমি হয়ে গেলে নানান রঙের প্রজাপতি

আর আমি ডানা সদৃশ ভূপালী এক প্রাণী

কেবল সুরের জিকির তুলি নিয়নের আলোয়

পাথর কেটে কেটে তৈরী করি টিউনিক পথ

বিশ্বাসের বিভ্রমে গড়ে তুলি পাললিক শহর

এখানে সেখানে নদী-বিল আর ছায়া রাখি

আরতিসম আহবানে কাঠ চিরে দুঃখ রাখি

আমার এসব জঙ্গনামার বিবরণ শুনে, (সম্পূর্ণ…)

আমি পাহাড়ি

আনিসুর রহমান | ৫ জুন ২০১৭ ৬:০৫ অপরাহ্ন

Aminul Islamসূর্য উঠল; দিনের সবকিছু স্বাভাবিক ছিল, হঠাৎ কী যে হল!
বাড়ি পুড়ছে, ঘর পুড়ছে, সকলে ছোটাছুটি শুরু করে দিল:
প্রথমে আগুন দিল দক্ষিণের ঘরে, এরপর একে একে সারা গাঁও
পুড়ে সাবাড় করে; দিনেদুপুরে ওরা আমাকেও তাড়া করেছিল !

সকলে প্রাণভয়ে দৌড়ে পেছনে জঙ্গলে চলে যাই। বাড়িঘরে ওরা
আগুন দিতে থাকে, সে আগুন আমি দেখি জঙ্গলের ফাঁকে ফাঁকে;
ঘরে পুড়ে ছারখার; দাউ দাউ আগুন জ্বলে, আমি দেখি অন্ধকার !

লাঠিসোটা নিয়ে ওরা যেভাবে ধেয়ে এলো, সকলে ভীষণ ভয় পেল;
কীভাবে যে বাঁচি? আতঙ্কে লোকজন নানান জায়গায় বিচ্ছিন্ন হয়ে গেল;
মা বাবা ভাই বোন আর পাড়াপড়শি — গাঁয়ের সকলেই পালাই পালাই ! (সম্পূর্ণ…)

শুধু একটি বিশ্বাস

স্বদেশ রায় | ৫ জুন ২০১৭ ১২:০১ অপরাহ্ন

Monirul Islamতুমি অনেক বেশি বিশ্বাসী- না? বিশ্বাস করো ঈশ্বরকে,
বিশ্বাস করো দেবতাকে, বিশ্বাস করো আমাকে, তোমার
চারপাশকে। এ বিশ্বাস তুমি কোথা থেকে পেলে?
আমি তো শুধু বিশ্বাস করতে চেয়েছিলাম নদীকে,
ভেবেছিলাম সেই আমাকে ভাসিয়ে নিয়ে যাবে সাগরে।
অথচ দেখ কী অদ্ভুত, সেই কবে থেকে এই চড়ায় বসে
আছি অথচ নদী ভাসায় না আমাকে। এই আমার সামনে
দিয়ে কত কেয়া ফুলের পাপড়ি গেলো ভেসে, সাগর থেকে
কত ফল এসে জম্ম দিলো কত নতুন গাছের, তাদেরও
ফুটলো ফুল। অথচ এখনও আমি ঠিক বসে আছি চড়ায়। (সম্পূর্ণ…)

মাহী ফ্লোরার কবিতা: মরিয়ম সিরিজ-২

মাহী ফ্লোরা | ২৮ মে ২০১৭ ১১:৪৪ অপরাহ্ন

Anondo১১.
এই পৃথিবীতে আমার নিজের সন্তান ছাড়া আর কেউ নেই। মরিয়ম যেদিন পথের ভেতর ডেকে এনেছিল সামসাম মাছকে, সেদিনই নিঃশ্বাস বন্ধ হয়ে মরে গেছে মা-বাপ আর পাখিদের বিপরীত সম্পর্ক।সন্ধ্যের মুখে একটি ব্যর্থ ট্যাটু এঁকে আমিও আমার সন্তান রেখে ঘুমিয়ে পড়ব কসম।

১২.
পাহাড়, স্থির, সময়। চার্চ, অপেক্ষা,ঘুঙুরধ্বনি।বৃক্ষ, সবুজ, এলোমেলো। আলো,আঁধার, কুয়াশা,মুখ,অসুখ। ধোঁয়া, ধুসর, অতীত। কথা, গল্প, অস্থিরতা,তুমি । তুমি নিতান্তই এক অস্থিরতম শিশু।

মরিয়ম, যেন আমাদের ঘিরে আছে প্রাচীন মেন্দাসিয়াম!

১৩.
আমার মরিয়মকে কেউ ধরে নিয়ে গেছে।সীমান্ত পেরোলেই লকেটের দাম বেড়ে যায়, চুল উড়তে থাকলে ভূগোল পেরিয়ে মনে হয়, প্রেম নেই। কুশর খেতের ভেতর একটা নির্জিব দেহকে কতকাল আর আগলে রাখা যায়!

১৪.
একমুঠো বারুদকে নিয়ে ঘুমিয়ে পড়ো মরিয়ম। লেটস সেলিব্রেট আ রাফ জার্নি। রোড টু রোড…
ব্যাক্সপেটরায় কোনো ব্যাকস্পেস নেই। নইলে দেখতে কত ভুল জীবন আমি বহন করার শর্তে মুছিনি। চোখের সামনে শরৎ ঘুমিয়ে যায়, বসন্ত কাতর থাকে। শুধু ঘুমের জন্য কিছু মৃত্যু পিছিয়ে যায়। (সম্পূর্ণ…)

জুননু রাইনের শিরোনামহীন কবিতা

জুননু রাইন | ২৮ মে ২০১৭ ১২:২৫ অপরাহ্ন

Fakirশিরোনামহীন-(এক)

সত্যি সত্যি তুমি খুব মিথ্যেবাদী। যা বিশ্বাস করো, সবকিছু সত্য ভাবো। কোনো কিছুই কোনো কিছুতে থাকে না, যদি তুমি না রাখো দেবী।

তুমি কি হাত ধরতে চেয়েছিলে? সেও তো সত্য ছিলো! তাই না?
যে আকাশের নিচে তুমি হাঁটো, সেখানে আমিও আছি। জানালা খুলে যে বাতাসে নিজেকে এলিয়ে দাও, প্রতি গতরাতে তোমাকে নিবেদিত আমার সব ভালোবাসা ধুয়ে মুছে সে’ই নিয়ে যায়। সত্য-মিথ্যের শাপলুডুতে আপাতত আগ্রহ নেই।
ভালোবাসার চোখে নিজেকে রোপন করে করে যাই। এ আমার গতি, আমারই নির্মিত নিয়তি।

নারায়ণকে অনেকটা সময় বুকে চেপে ধরে রেখেছিলাম, সে তোমাকে ছোঁবে বলে। তোমার হাত তাকে স্পর্শ করবে। হয়তো বিছানায় তোমার পাশে শোবে। বুকে নেবে কিনা জানি না! বালিশের নিচেও হতে পারে তার ক্ষণিক আশ্রয়। সে তোমাকে বুঝলে অথবা তুমি তাকে; আমাদের কিছুটা কি হবে না ভাবনার বিনিময়!
পৃথিবীটা অনেক বড়। মানুষ তার চেয়েও বড়। জীবনের কোনো সীমানা নেই,
হয়তো তুমিও জানো, ভালোবাসা ছাড়া কি আছে পাবার? ভালোবাসা ছাড়া কিছু নেই হারাবার (সম্পূর্ণ…)

ব্রোঞ্জের মা, কেঁদো না কেঁদো না

তারিক সুজাত | ২৭ মে ২০১৭ ৭:৩৬ অপরাহ্ন

SC-Sculpture-Removal-02সরে যাচ্ছে মননের ভূমি
সরে যাচ্ছে, সরে যাচ্ছে
‘স্মৃতি, সত্তা, ভবিষ্যত’
বিসর্জন অবধারিত ছিল না
তবু তার ঠাঁই হলো না বঙ্গীয়-বদ্বীপে
শিল্পের সীমানা নেই,
তাই সীমা ভেঙে এসেছিলে পোড়া এই দেশে;
চোখ বাঁধা ব্রোঞ্জের মা
ন্যায়ের প্রতীক হয়ে এসেছিলে,
তলোয়ার হাতে তোমাকে দেখে
কেঁপে ওঠে প্রেতাত্মা বখতিয়ারের,
লক্ষণ সেনও এ মাটির সন্তান ছিলো
বিনা-দোষে তাঁকেও তো কাপুরুষের তকমা দিয়েছি
‘ধর্মের কল বাতাসে নড়ে’ (সম্পূর্ণ…)

সবকিছু খালাস হয়ে গেল না

আনিসুর রহমান | ২৭ মে ২০১৭ ১০:৪৫ পূর্বাহ্ন

nazrul-1চলো বদলে যাই বলেই তো সবকিছু খালাস হয়ে গেল না . . .
চলো বদলে দেই বললেই তো পকেটমারকে চুমুটুমু দেব না!
কে পারে আকাশকে সাাগর্ ছুড়ে? আর সমুদ্রকে উপরে পাহাড়ে
ঠেলতে পারে? যদি পারে তবে তা প্রলয়, সকলি সর্বনাশের ধারে !

যে হাত গুরুর পায়ের ধুলি নিয়েছে, সে হাত কবে কোন বেয়াদব …
গুরুর গালে মেখেছে? কে সে টিটকারি মেরেছে আর জোরে জোরে
বলেছে, ‘অতি ভক্তি চোরের লক্ষণ’! বলি, ‘গুরু ভক্তি বীরের লক্ষণ’
লেঠেলকে দিও না মোনাজাতের ভার,একাল পরকাল সকলি অন্ধকার!

কি সব বোবাকাণ্ড চারিদিকে কানাগলি, ইমামের হাতে ইয়াবার থলি!
আলোর মশাল বিলানো মানুষটি কে, শীতলক্ষার পারে বদ্ধ কারাগারে?
একই দিনে কবি এক কাজী নজরুল ইসলামের জন্মদিনে শতবর্ষ পরে
কি উদযাপনে জাতি; কে জন্ম পরিচয় ভুলে, সকল কুষ্ঠি ছিকেয় তুলে? (সম্পূর্ণ…)

টি এম আহমেদ কায়সারের তিনটি কবিতা

টি এম আহমেদ কায়সার | ২৭ মে ২০১৭ ১০:০৭ পূর্বাহ্ন

ঘুমবিক্রেতা​​
উত্তর গোলার্ধে এক ঘুমবিক্রেতা খায় দায় ঘুমায় আর
রাত্রি গভীর হলেই বায়ুতে মিশিয়ে দেয় নাইট্রাস অক্সাইড

ছোপ ছোপ রক্ত ভুলে, দহন ভুলে, যামিনীর মর্মপীড়া ভুলে
শুধু হাসতে হাসতে, হাসতে হাসতে,
চোখে জল-আসা হাসিতে গড়িয়ে পড়তে পড়তে
আর একরত্তিও ঘূমাতে পারি না!

ও ঘুমবিক্রেতা, একটু একটু মৃত্যুও মিশিয়ে দিও মাঝে মাঝে!
তাতে ঘুমের বিক্রি যেমন বাড়বে
তুমিও থাকবে ধরাছোঁয়ার একেবারেই অগোচরে! (সম্পূর্ণ…)

তারিক সুজাতের কবিতা: কালের ক্যাসিনো

তারিক সুজাত | ২০ মে ২০১৭ ৯:১১ অপরাহ্ন

Fakir
এইভাবে পথ খুঁড়ে খুঁড়ে
খুলেছি দুপুর
অন্ধকার গহীন-গহ্বরে
আলো ফেলে ফেলে
খুলে দিচ্ছি
সুর ও শব্দের ছিটকিনি!
কার ছায়া বন্ধ দরোজায়
টোকা দিয়ে
ফিরে গিয়েছিলো?

আজন্ম বধির বিটোফেন
সুরের আকাশে ছুড়ে দিয়েছিলো
আলোর ফোয়ারা,
দানিয়ূব তীরে মোজার্ট-মুর্ছনা নিয়ে
ভিয়েনার রাত
আজো কী অর্কেস্ট্রায় জাগে?
শকুন্তলার অপেক্ষা শেষে
দুষ্মন্ত ফেরার আগে
গ্যাটের কলমে
ফিরে আসে
প্রাচ্য-প্রতীচ্যের অফুরান
প্রেমের জোয়ার; (সম্পূর্ণ…)

অজাচারী শিশ্নধারীর প্রতি

মুহম্মদ নূরুল হুদা | ১৫ মে ২০১৭ ৭:১৪ পূর্বাহ্ন

rape-scene
পিতৃ-উৎস উগরে দিলে
বাড়লি মাতৃ-গর্ভে তুই,
সেই উৎস উদোম করে
যাচ্ছিস কোন স্বর্গ-ভুঁই?

লজ্জাশরম নাই যদি তোর
যা চলে যা জঙ্গলে,
লালাভেজা জিহ্বা মেলে
বুনো কুত্তার দঙ্গলে।

শিশ্নকলার ধুমধাড়াক্কা
এতোই যদি মজার খেল্,
ভেজে খা সেই কাঁচকলাটা
দিয়ে গরম সর্ষে তেল।

মাকে ভুলে বোনকে ভুলে
ভুলে গেলি পরিচয়?
অজাচারী শিশ্নধারী
পুরুষ নামের যোগ্য নয়। (সম্পূর্ণ…)

আমার দুটি বোন

আনিসুর রহমান | ১৪ মে ২০১৭ ৬:০৫ অপরাহ্ন

sistersআমার দুটি বোন, কোলাহল করে তারা, উঠান মাথায় তুলে,
উঠোন তো নয়, ভাবখানা যে, বিশ্বকাপের মাঠে আছে,
আহা উচ্ছাসের আর বাকি কি গো বিশ্বকাপটা জিতল বলে!

একটু ওরা বড় হলে, বিশ্বকাপের মাঠ ফেলে, ধুলো কাদার পথে –
ওরা দুরন্ত সব আলো ফেলে, খিল খিল করে কত কি গেল বলে;
মাস্টার মশাই গল্পের ঝাপি খুলে, বোন দুটি কল্পনার পাখা মেলে !

হাঁটাপথের ধারে, পাখি আর ফুল যেন বোন দুটির সই হয়ে গেল,
গাছের পাতারা কান পেতেছিল, দুর্বার বাতাস খবর পেয়ে গেল;
পাঠশালার পরে, চারিদিক রটে গেল এ পথে তবে পরী এসেছিল?

একদিন বোন দুটি ঠিক স্বপ্ন জয় করে, দুনিয়া হাতের মঠোয় করে,
পাঠশালা পাশ করে, দিন-মাস-বছর পরে, গ্রামের মেঠোপথ ছেড়ে –
ফুল আর পাখির স্মৃতি বুকে ধারণ করে, নগরে সরস্বতীর তালাশ করে ! (সম্পূর্ণ…)

« আগের পাতা | পরের পাতা »

Disclaimer & Privacy Policy  |  About us  |  Contact us

© bdnews24.com