কবিতা

ভালোবাসি সেই খেলা যে-খেলায় জিত আছে উভয় দলের

রাজু আলাউদ্দিন | ২৮ এপ্রিল ২০১৭ ১২:১৫ পূর্বাহ্ন

Arabian-3
খেলায় আমার কোন আগ্রহ নেই বলে সহকর্মী, বন্ধুরা, এমন কি, আত্মীয়রাও
স্বাভাবিক নই বলে সন্দেহ করে।
ফুটবল, পিংপং, ক্রিকেট, টেনিস, এমনকি রাগবিও
আমার মধ্যে কোনো উত্তেজনা সঞ্চার করে না কখনো।

কিন্তু আমি অন্য কিছু খেলতে ভালোবাসি
চৌষট্টি চালের এক আমরণ খেলা
যেখানে আমার প্রতিপক্ষ শুধুই একজন;
এ খেলায় নেই কোনো ইনজুরি কিংবা প্রমাদ
এ খেলায় দর্শক থাকে না কখনো।
লাগে না ফুটবল কিংবা গল্ফের মতো কোনো সুবিশাল মাঠ,
দরকার নেই কোনো আলো;
অন্ধকারে এই খেলা জমে বেশি ভালো।
অধিকন্তু এই খেলায় লাগে না রেফারি,
যেহেতু থাকে না এতে নিয়ম কানুন।
খেলতে গিয়ে যদি একে অন্যকে চার্জ করে, তাতে কোনো
ইনজুরি নেই, বরং উত্তেজনা আছে, আছে আনন্দ অপার।
আর এটা এমনই এক খেলা, যে-খেলায় দুই দলই চ্যাম্পিয়ন হয়।
হার নেই, শুধু জিত আছে উভয় দলের।
এ-খেলার একমাত্র ইনাম–‘তৃপ্তি’
যা আসলে দুই দলই সমানভাবে ভাগ করে নেয়।
আমি এই সাম্যবাদী খেলা ভালোবাসি। (সম্পূর্ণ…)

মোস্তফা তারিকুল আহসানের এক গুচ্ছ কবিতা

মোস্তফা তারিকুল আহসান | ২৭ এপ্রিল ২০১৭ ৮:৪৩ পূর্বাহ্ন

জ্ঞানকাণ্ড

কতটা ঘেন্না জমা হলে মেয়েরা আত্মহত্যা করে তা জানে না চঞ্চল খরগোস; কতটা ম্লানিমা
জমা হলে মনে, মরে যেতে ইচ্ছে করে হাটবার দিন লোকচক্ষুর আড়ালে জানে
না হাটুরে স্বামী। শুধু মরণের হলুদ প্রজাপতি ডানা মেলে চোখের তারায় ;ক্ষণে ক্ষণে বায়ু
আসে তপ্ত আগুন নিয়ে । ছেলেধরা দুজন গতকাল যারা পালিয়ে গিয়েছিল তারা মাঝরাঙা
চোখ নিয়ে আবার ফিরেছে আজ। তুমি কী ভালো করে বলতে পারবে মরার পর আলী বাবা
কীভাবে সেলাই করেছিল মৃত মানুষের চামড়া? কতটা নুন লেগেছিল তার? কিংবা কতটুকু
ধার দেয়া ছিল সোনালি কাস্তেতে? সভ্যতা মানুষের ইতিহাস লেখে,ব্যক্তিগত মৃত্যুর রহস্য
জানে না কেউ। অক্ষম ঈশ্বর কিছু গল্প জানে শেয়ালপণ্ডিত জানতে পারে গোটাকতক শ্লোক
আত্মহত্যার পরিসংখ্যান নিয়ে কতিপয় সমাজ বিজ্ঞানি যেসব উপপাদ্য জড়ো করেছে তা ডাহা
মিথ্যের বেসাতি। আমাদের অভিজ্ঞানসূত্র বলে মরণের মিথ নিয়ে বড় বেশি পাকা নয় পাশ্চাত্য পণ্ডিত।
Murtaja Baseer (সম্পূর্ণ…)

‘বানের জলে ভাইস্যা গেলো বারো মাইসা শিশু’

মাজহার সরকার | ২৬ এপ্রিল ২০১৭ ৮:৫২ পূর্বাহ্ন

kobita, mazharবাজান, কি কমু দুক্ষের কতা। চওখটা মেইল্লাই দেহি পানি
আগুনের মতন আইতাসে কলকলাইয়া
সরকারের কুটি ট্যাকার বাঁধ ভাইঙ্গা গেলো নাইল্লার শলা যেমুন
বাজান, আমার বারো মাইসা পুতটা ঘুমায় আছিলো
ভাইস্যা গেলো হাঁসের বাচ্চা যেমুন হাতুর কাডে গাবুসগুবুস পানিত।
বউডা উটলো চিল্লাইয়া, পানি গো উজানের পানি!
লালুরগোয়ালা থাইক্যা সাহেবনগর আর তাহিরপুর
আমি কি করি! ফাল দিয়া পড়লাম জোয়ারে
পুত তো আমার ফাই না, পুত নাই ধান নাই
ঘড়ডা ক্যাড়ক্যাড় কইরা উটলো, ওহ খোদা ঢলের পানি
মাছ মইরা ভাইস্যা উটলো, পেটফুলা মরা গরু গন্ধ ছুডাইলো
এক থালা ভাত কাচা মরিচ দিয়ে মাইক্কা খাইসিলাম (সম্পূর্ণ…)

মোহাম্মদ রফিকের তিনটি কবিতা

মোহাম্মদ রফিক | ২২ এপ্রিল ২০১৭ ৭:১৯ অপরাহ্ন

জয়, পরাজয়

পুরোপুরি পরাজিত করে না কাউকেই,
যূপকাষ্ঠ মুখোমুখি, ঠায় দাঁড় করিয়ে রেখেছে বহুকাল
গুনছে ক্ষণ, জল্লাদ প্রস্তুত হাতে তরবারি হিলহিলে
ঠোঁটে চন্দ্রবোড়া হাসি
অবশেষে, অন্তিম মুহূর্তে
ভেবে নাও, তুমি জয়ী।

যাবার কালে

তোমার নিজের বলে কিছুই রইল না
তুমি তবে চলে যাচ্ছ নীরবে নিঃশব্দে
স্মৃতি বলে কোনো কিছু, হয়তো তাও নয়,
তখনো ভাঙেনি ঘুম প্রগাঢ় রাতের,

আড়মোড়া ভেঙে উঠে বসেনি বাতাস
চলে গেলে ধীর পায়ে মৃদুমন্দ লয়ে
তোমার কী অবশেষ সংগীত মূর্ছনা
একবার ডুকরে উঠে মিলিয়ে গিয়েছে;

ঢেউ ভাঙা ভাঙা ঢেউ ফুলের কুড়িতে
তুমি চলে গেলে পর পাপড়ি ওষ্ঠ মেলে
হাসি, বিচ্ছুরিত কাদাজলে, শুকতারা কয়,
পরবাসী, এইবার, ফিরে এসো ঘরে;

মর্ত্যবাসীদের ঘুম ভাঙেনি তখনো
কালনিদ্রা হয়তো ভাঙবে না কোনো কালে,
চৈত্রের সুদীর্ঘ দিন ক্লান্ত ও ধূসর
কিছু ফাঁপা স্বপ্ন নিয়ে নায়ে চড়লে তুমি। (সম্পূর্ণ…)

পুলক হাসানের পাঁচটি কবিতা

পুলক হাসান | ২১ এপ্রিল ২০১৭ ১০:৩৪ অপরাহ্ন

ক্ষমতা

নিষিদ্ধ গন্দমের মতোই তীব্র তার টান। স্বর্গচ্যুতি ভুলে দূরন্ত বেগে ছুটে চলে তাই স্বপ্নবান যেন মসনদে আরোহণ; অঙ্গে তার বহুবর্ণের দাগ। রক্তের উন্মাদনা দেখে বুঝে নিও প্রেমিকের ছদ্মবেশে কী চায় সে সম্মোহনের শিখায় মুখোশের আড়ালে ত্রাসে গ্রাসে বেপরোয়া চ্যাম্পিয়ন। কিন্তু পতঙ্গের মতোই ক্ষীণায়ু যেন নক্ষত্রের পতন; যদিও সুদিনে বাঘের গর্জনে হরিণের আত্মা শুকায়।

কবি

সময়ের ক্যানভাসে জীবনের লিপিকার সে। কিংবা বোধিবৃক্ষ যদি বলি তার মধ্যে স্বর্গের ছায়ায় লালিত এক বুলবুল সুর তুলে যায় প্রাণের যে-সুরে কথা বলে ওঠে মধ্যবিত্ত খড়ের পুতুল। আত্মবিগ্রহে ন্যুব্জ মানুষ সম্বিৎ ফিরে পায় যে সুরঝরা পথ রেখায়, হাওরের বাতাসের মতোই দরাজ মাটি ও মানুষের ঐকতানের সেই সুর শুধুই জীবনের যে জীবন ভুলে গিয়ে সামাজিক নরক তবু তৈরি করে যায় সময় স্মারক।

অসুখের পদাবলী

সুখের সন্ধানেই অসুখ বেঁধেছে বাসা বুকে কে দেয় তাকে রুখে দারুণ দুর্বিপাকে। যেন বয়ে যাচ্ছিল ঝড় বৈশাখের অগোচরে। বৃক্ষের অন্তরীক্ষে জীবন বাতিঘরে। সময় যদি না দিতো ধরা গৃহ ছেড়ে পালাতো প্রাণ ভোমরা।

২. হৃদমহল নিয়ে বাড়াবাড়ি সত্যি আত্মঘাতী এক আড়ি বুঝলাম অবিকল তীরবিদ্ধ পাখির অস্থির ছটফটানি দেখে তাই ভোরের পাখি দিনশেষে ফিরবে যে নীড়ে কোনো নিশ্চয়তা নেই; বরং অদৃশ্য এক সমনে মুহূর্তেই হয়ে যেতে পারে সকল স্বপ্ন ছাই।

৩. জীবন যদি এক ফুলদানি ফুল ছাড়া অর্থহীন বেঁচে থাকা তাই ভোর স্বাধীন উড্ডীন ফুরফুরে জামদানি আপনাতেই খুলে যায় ডোর। (সম্পূর্ণ…)

সময়ের আয়নায় ১৭-কে আমি ৭১ দেখি

তারিক সুজাত | ২০ এপ্রিল ২০১৭ ১০:০৯ অপরাহ্ন

রাষ্ট্র যখন প্রতিদ্বন্দ্বী
কী আর করা!
তজবীর দানার বদলে যারা
আমার পূর্বপুরুষের খুলি দিয়ে
জপমালা গেঁথেছিলো
তাদের দাড়ি আর আলখাল্লায়
আকাশ কালো করে
এ বৈশাখে ফের ঝড় ওঠে!
রুগ্ন সংবিধানটিকে
যেদিন ধর্মের পোষাক পড়ানো হলো
সেই মুহূর্তেই নগ্ন হলো
মাতৃ-প্রতিভু শহীদ মিনার,
৫২-’র উৎসভূমি থেকে
প্রতিধ্বনি হয়ে ফিরে ফিরে আসে
প্রতিবাদী বর্ণমালা! (সম্পূর্ণ…)

রিমঝিম আহমেদের কবিতা

রিমঝিম আহমেদ | ১৮ এপ্রিল ২০১৭ ৮:৩৫ অপরাহ্ন

মাগরিব

কিছু রজঃস্বলা দিন আলুনী দইয়ের সাথে লীন হয়ে থাকে দাদীর ন্যুব্জ দেহ, দাওয়ায় যত্নে রাখা প্রার্থনার জল, দখিণের কবরখানা থেকে ভেসে আসে অপ্রাকৃত ফুলের ঘ্রাণ, এসব প্রাচীনতম মৃত ফসিলের সারি, গতজীবনের ফিসফাস চুইয়ে হাওয়ায় ভেসে আসে ‘মাগরিব’।
পাখিদের কোলাহল থেমে গেলে, পাতায় সন্ধে মেখে থির দাঁড়িয়ে থাকে সমবেত গাছ- যার প্রতিচ্ছবি ভাসে পুকুরের আলো-আঁধারি জলে, সমস্ত নিথরতা থামিয়ে দিয়ে দরুদের কোরাসস্বরে ঘন হয় রাত, ঘন হয়ে আসে কি নিগূঢ়তম হাহাকার! বাদুরের ডানায় কার লেগে থাকে বিচ্ছেদকাতরতা! পাখিচেনা দিনে মা-ও শিখিয়েছিল পেঁচার সবুজ অন্ধতা– ভাঙা আয়নায় প্রতিবিম্ব লেপ্টে থাকে পেঁচাদের ভেংচি নিয়ে আমাদের শিশুত্ব!

হায় মাগরিব!
ঘনায়মান ব্যথাতুর রাত!

আত্মাধীন জেগে আছে পুড়িয়ে দেয়া ইচ্ছের ইতিবৃত্ত–আঙুলের কড়ে গুনে টেনে আনি নিঃসঙ্গতা, বেঁধে রাখা বইয়ের মলাট খুলে জাগিয়ে তুলি দীর্ঘশ্বাস, মসজিদ হতে যে সুর ভেসে আসে, তার রন্ধ্রে রন্ধ্রে জেগে রয় প্রিয়হারা চর। দাদীও জানে, সেসব মাগরিব জড়ো করলে একটা সাহারা পাওয়া যেত!
এখনো বাছুরের পিঠে চড়ে দূর হতে সন্ধে আসে, আবারো বোধের শার্সি গলে ঢুকে পড়ে ‘মাগরিব’

ইস্রাফিলের শিঙা এই বুঝি বেজে ওঠে
এই বুঝি পৃথিবীটা পাখি হয়ে যায়-

কালবেলা

কালবেলা কেটে গেলে আকাশটা ঝাড়ু দিয়ে ফেলে দেব মেঘ
পাতাদের গায়ে গায়ে বেঁধে দেব উদাসী বাতাস ফুরফুরে
কালবেলা কেটে গেলে আবার নতুন করে জীবন গোছাব
কলাপাতা সুখে মোড়া শীতকাল মেখে দেব রোদ্দুরের গায়ে
ভুলেভরা,অভিমানে যে কটা রাত্তির কেটে গেল; অযাচিত
কমলা বিকেলে তার সবটুকু ফুলগন্ধ আনব কুড়িয়ে
আমাদের পাছে পাছে ছায়া ঘোরে; দূর-প্রান্তরের হাতছানি
মন্থর শৈশব যেন কাছে ডাকে পুনরায় বিছিয়ে বিষাদ
সাপের পেছনে হেঁটে বহুকাল যে নদীর নাম খরস্রোতা
তার পাড়ে রুয়ে আসি নিজ হাতে অসুখের চারা, সবুজাভ
মেঘের পালক খসে বৃষ্টি নেমে এলে কোনদিন মধ্যরাতে
জেনেছি থাকবে জেগে ভুল করে ডাকে যদি প্রতীক্ষার রঙিন চড়ুই
লুপ্তপ্রায় প্রণয়ের হাত থেকে যে আঙুল খসে গেসে রাতে
তুমিও কুড়াও জানি সে আঙুল অপ্রকাশ্যে, আমারই তফাতে (সম্পূর্ণ…)

মুহম্মদ নূরুল হুদার কবিতা: মঙ্গলপ্রভাতে যাত্রা

মুহম্মদ নূরুল হুদা | ১৪ এপ্রিল ২০১৭ ১:০২ অপরাহ্ন

Mangal-Shobhajatra-111শুরু হলো মঙ্গলপ্রভাতে যাত্রা; এই যাত্রা আলোকের দিকে;
শুরু হলো আলোকপ্রভাতে যাত্রা; এই যাত্রা মঙ্গলের দিকে;
দিকে দিকে মঙ্গল-আলোক যাত্রা; এই যাত্রা মঙ্গল মিছিল;
মানুষ, তোমার নিখিল আজ উদয়াস্ত মঙ্গল নিখিল।

আমানির গন্ধ মেখে এ মিছিলে বাংলার তামাটে কিষাণ,
ইলিশপান্তার থালা হাতে নিয়ে শ্যামাঙ্গিনী বাঙালি কিষাণী,
হালখাতা বুকে বেঁধে হন্তদন্ত কারবারী শ্রীমান ধীমান;
পুণ্যাহ আঙিনা জুড়ে মানুষপাখিও যেন তপোবন-ধ্যানী;
আজ ভোরে মানুষ শস্যের রাজা, মানুষীরা ফসলের রাণী।

রাজপথ জনপদ এ বাংলার মাঠঘাট হাটবাট বিল
মানুষে এসেছে আজ নাঙা পায়ে, এ মিছিল নহলি মিছিল;
এসেছে মুখোশ মুখে, গদা হাতে অগণন অসুরবিনাশী
তরুণ-তরুণী-বৃদ্ধা কামার কুমোর আর জেলে-জোলা-চাষী;
মানুষের মুখ আজ গণমুখ, সব মুখ বলে ‘ভালবাসি’ :
মানুষের ভাষা আজ ভালবাসা, সব মুখ বলে ‘ভালবাসি’। (সম্পূর্ণ…)

একজন জঙ্গির কাছে তার মায়ের চিঠি

মাজহার সরকার | ২৮ মার্চ ২০১৭ ১:৫৭ পূর্বাহ্ন


terrorist
খোকা,
তুই কেমন আছিস? আমি ভালো নেই।
তোর বাবাও আর চোখে দেখে না
পত্রিকার পাতা দেখে না, নয়তো এই সংবাদ পড়তে হতো!
তোর বোনটাও অপেক্ষা করে করে ফিরে গেছে শ্বশুরবাড়ি
গত রাতে স্বপ্নে দেখলাম আমার চোখের পাতা ছেড়ে
একটা দৈত্যের মতো, ক্রমাগত আমার কাছ থেকে পালাচ্ছে
আমার শরীরের মধ্যে দিয়ে তার ছায়া তোর বাবার মুখে
সীমাছাড়া তার মত্ততা দেখে
বহ্নিমান হিংস্রতা নখে নিয়ে মাটি খামচাচ্ছে, তারপর
পুকুরের জলের উপর শব্দ করে হেঁটে গিয়ে
লণ্ডভণ্ড করে দিলো ক্ষেতের ফসল
দূরে যেতেই বুঝি এটা ছিলি তুই!
আট বছর বয়সে যে তুই বরইগাছ থেকে পড়ে পা ভেঙেছিলি
আমার নাকফুলটা বিক্রি করে তোর চিকিৎসা করিয়েছিলাম
কতো দিন কতো রাত পাশে না ঘুমিয়ে, না খেয়ে,
অস্ত্রের আঙুলে এইসব আজ তোর মনে নেই
আমার বুকের ভেতর আমি শুনতে পাই বাংলাদেশের হাহাকার
বাংলাদেশের বুকের ভেতর নিরীহ মানুষের কান্না
আর তুই হাতে বোমা তুলে অস্বীকার করে গেলি
তোর জন্মের চেয়ে অপেক্ষমাণ শান্তির দেশকে
আজ তোর রক্ত থেকে আমার রক্ত ছাড়িয়ে নিলাম
এখন পুরো বাংলাদেশটাই আমার সন্তান।

ইতি-
তোর মা

Flag Counter

স্বাধীনতার সত্যকথা

মুহম্মদ নূরুল হুদা | ২৬ মার্চ ২০১৭ ৩:৫৯ অপরাহ্ন

গণহত্যা থেকে স্বাধীনতা
বাংলা ও বাঙালির যুদ্ধকথা।
গণহ্ত্যা থেকে স্বাধীনতা
বাংলা ও বাঙালির জয়কথা।

বাঙালিও মানুষ; অতএব
বাঙালিত্ব মানে মানবতা।
মানবতা মানে মানবসমতা।
মানবসমতা নয়
অন্য কারুর পরাধীনতা।

আত্মদান থেকে স্বাধীনতা,
বাঙালি মানেনি কারো অধীনতা।
আত্মদান থেকে স্বাধীনতা,
বাঙালি মানে না কারো অধীনতা। (সম্পূর্ণ…)

পরাধীন রাত্রির কবি

আনিসুর রহমান | ২৬ মার্চ ২০১৭ ৩:৫৬ অপরাহ্ন

mainorকে কোথায়? কে নিদ্রায়? কে কবি রাত্রির পাহারায়?
কেমন চাওয়া, ভুলে যেতে পারলে সব কত মধুর হয়?
একটু ভুলে অবসাদে ঢলে কি এমন? রাত গভীর হয়;
মাথাটা আমার গেছে, রাতভর ছুটি ঘুমের পিছে পিছে !

কোন সে কবি গেল বলে, বড় প্রেম শুধু কাছে টানে না,
দূরেও ঠেলে; কথাটা কেমন করে গেল ফলে? সে চাঁদ
এখন কোন ঘরে পূর্নিমা হলে, এই ঘরে অন্ধকার ঢেলে? (সম্পূর্ণ…)

মুহাম্মদ সামাদের কবিতা: পঁচিশে মার্চ

মুহাম্মদ সামাদ | ২৫ মার্চ ২০১৭ ১১:০৭ পূর্বাহ্ন

BangladeshGenocideএ রাতে হঠাৎ নামে ঝাঁকে ঝাঁকে কনভয়
ঘুমন্ত মানুষ কাঁপে চোখে মুখে তার ভয়।
খুনের নেশায় যমদূতের হিংস্র কড়া নাড়া।
নবজাতকের কান্নায় চিৎকার করে পাড়া।
লেলিহান শিখায় শহর বস্তি ছাত্রাবাস পোড়ে।
আকাশে বাতাসে গগনবিদারী আর্তনাদ ওড়ে।
পথে ঘাটে পড়ে গুলিতে ঝাঁঝরা লাশ।
চারিদিকে শুধু হত্যা আর হত্যার উল্লাস!

আমার বোনকে হায়েনা খুবলে খায়
ভাইয়ের মস্তক গুলিতে উড়ে যায়
পিতা ছিন্নভিন্ন বেয়োনেটের খোঁচায়
রক্তাক্ত মেজেতে মা আমার লুটায়
ভয় বাড়ে স্তব্ধ নীরবতায়!

এ কেমন ভয় নামে, ভয়!
আমার সবুজ দেশে
হলোকাস্ট বা ভিয়েতনাম আজ
গণহত্যার উপমা হয়! (সম্পূর্ণ…)

পরের পাতা »

Disclaimer & Privacy Policy  |  About us  |  Contact us

© bdnews24.com