কবিতা

মুহাম্মদ সামাদের কবিতা: পঁচিশে মার্চ

মুহাম্মদ সামাদ | ২৫ মার্চ ২০১৭ ১১:০৭ পূর্বাহ্ন

BangladeshGenocideএ রাতে হঠাৎ নামে ঝাঁকে ঝাঁকে কনভয়
ঘুমন্ত মানুষ কাঁপে চোখে মুখে তার ভয়।
খুনের নেশায় যমদূতের হিংস্র কড়া নাড়া।
নবজাতকের কান্নায় চিৎকার করে পাড়া।
লেলিহান শিখায় শহর বস্তি ছাত্রাবাস পোড়ে।
আকাশে বাতাসে গগনবিদারী আর্তনাদ ওড়ে।
পথে ঘাটে পড়ে গুলিতে ঝাঁঝরা লাশ।
চারিদিকে শুধু হত্যা আর হত্যার উল্লাস!

আমার বোনকে হায়েনা খুবলে খায়
ভাইয়ের মস্তক গুলিতে উড়ে যায়
পিতা ছিন্নভিন্ন বেয়োনেটের খোঁচায়
রক্তাক্ত মেজেতে মা আমার লুটায়
ভয় বাড়ে স্তব্ধ নীরবতায়!

এ কেমন ভয় নামে, ভয়!
আমার সবুজ দেশে
হলোকাস্ট বা ভিয়েতনাম আজ
গণহত্যার উপমা হয়! (সম্পূর্ণ…)

মারুফ কবিরের কবিতা: হারানোর বদল

মারুফ কবির | ১৯ মার্চ ২০১৭ ৯:০৬ পূর্বাহ্ন

হারানোর বদল
images
বহুদিন পর তোমার সাথে দেখা হবে আবার,
হয়তো গলিত জীবনের শেষে বিধ্বস্ত যুদ্ধক্ষেত্রের প্রান্তসীমায়;
হাসপাতালের করিডোরে কিংবা লাশকাটা ঘরে।
আমি চেয়েছিলাম তোমাকে নিয়ে হারিয়ে যেতে-
ভাটি অঞ্চল ছাড়িয়ে, পাথুরে খরস্রোতা তিস্তা পেরিয়ে (সম্পূর্ণ…)

হুট করে বঙ্গবন্ধুর সাথে দেখা…

শিমুল সালাহ্উদ্দিন | ১৮ মার্চ ২০১৭ ৯:২৮ পূর্বাহ্ন

bangabandhuতোমার সাথে এভাবে কথা বলতে হবে তা কখনো ভাবিনি আমি— শোনো হে বালক, হে একবিংশ শতাব্দীর বাংলাদেশ, হে আমার সন্তানেরা— আজ বড়ো বেদনাভারাতুর হৃদয় ও ধ্বসে যাওয়া কণ্ঠ নিয়ে দাঁড়িয়েছি এই মাইক্রোফোনের সামনে— যখন রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে কবিতা পড়ছি ধরা গলায় এক কবির দেহে অবতীর্ণ হয়ে, তখন তারই এক সতীর্থ কবি সরকারী বাহিনীর হয়রানী সহ্য করছে গরাদের ভেতর নিরপরাধে, কবির বুকের সেই কষ্ট বাজছে কবিতা পড়তে গিয়ে আমারও বুকে।

এখানে আসবার আগে এ কবি তার বন্ধুর হাতে কড়া বাঁধা ছবি দেখে এসেছে ভাসছে নিউজফিডে— কবির সাথে কথা বলে জানলাম— যে দেশের জাতির পিতা আমি সে দেশের দশভাগের একভাগ মানুষ আক্ষরিক অর্থেই বন্যার জলে ভাসছে, হাবুডুবু খাচ্ছে, প্রতিবেশী বন্ধুরাষ্ট্র যাদের মুক্তিযুদ্ধের পরপরই আমি সাহায্যকারী সেনাদের ফিরিয়ে নিতে বাধ্য করেছিলাম, তারা অসময়ে আমাদের জলের হিস্যা বুঝিয়ে দিতে তোরজোড় করছে, জানলাম বন্ধুরাষ্ট্রের কাছে পরারাষ্ট্রনীতিতে ধরা খেয়ে বসে আছি আমরা— জানলাম হাবুডুবু খাচ্ছে নাকি আমার সুন্দরবন ও একদল রাবিন্দ্রীক দেশপ্রেমিক মানুষের মন—
শোনো হে বাংলাদেশ, শোনো বালক, তোমার পিতা, এই আমি, এই কবির আত্মায় যে ভর করেছি, তিনি বেঁচে থাকলে এতো এতিম, করুণমুখ, দুর্দশাচোখ দেখা যেতো না এই দেশের— তোমাদের বলছি, যারা আমাকে জাতির পিতা মনে করো, দাঁড়াও বালক, আজ তোমার পিতা হবার দিন, বড় হও, পিতা হয়ে ওঠো— শিখে নাও সেই সহি পদ্ধতি, কিভাবে পিতার দিকে তাকাতে হবে তোমাকে— (সম্পূর্ণ…)

আমার বডি পেলে খবর দিও

মাজহার সরকার | ১৩ মার্চ ২০১৭ ১০:৪১ অপরাহ্ন

Malibagh-flyover-7ফ্লাইওভারের গার্ডারের নিচে, আমার বডি পেলে
বাসায় একটু খবর দিও, যেও না তো ফেলে।
ঢাকায় আমার মা রয়েছেন, বাবা হাসপাতালে
বাবাকে গিয়ে বলো না যেন, হার্ট অ্যাটাকে মরে!

বাসে উঠবো না রিক্সা নেবো, এই ভাবছিলাম জানো
এমন সময় আকাশ ভাঙলো, টের পাইনি কেন?
সিমেন্টের বদলে ময়দা, আর রডের জায়গায় বাঁশ
ঠিকাদার আর ইঞ্জিনিয়ার ভালো! উন্নয়নের ফাঁস। (সম্পূর্ণ…)

মাহী ফ্লোরার মরিয়ম

মাহী ফ্লোরা | ১২ মার্চ ২০১৭ ৮:৪৬ অপরাহ্ন

১.
মরিয়মকে মনে আছে? ইচ্ছে সমবয়সী যার একটি কুকুর ছিল। ড্যানি বলে ডাকতেই এতদিন পর বনজঙ্গল ফুঁড়ে এসে হাজির হল স্মৃতিতে। হাতে টিকিট নিয়ে আমরা বলেছিলাম চলো যাই, সিনেমার হলে। তোমাকে না দেখতে দেখতে আমার চোখ অন্ধ হয়ে যায়। বুকের উপর থাবা গেড়ে ড্যানিও দেখেছিল পুরোটা ছবি,আমরা বলেছিলাম মানুষ মানুষের জন্য।

২.
তোমার ঘরের দরজা এমন চাপা মরিয়ম, আকাশ ঢুকতে ঢুকতে ঘেমে যায়। হাওয়া করো হাওয়া, বাতাসের আগে যেন আসে নিমপাতার ঘ্রাণ,মরিয়ম বসন্ত আসে যেকোনো পরীক্ষার আগে। স্বপ্নে যেমন তুমি দেখো আজ পড়ে এসেছো ভুল বিষয়ের প্রশ্ন অথবা তোমার গায়ে নেই কোনো পোষাকের ভ্রুন!

৩.
ঘুম বলছে দুচোখ ফুলে যাচ্ছে তোমার মরিয়ম। রাত গভীর হয়। কুয়াশা ঘনায় জানালার কাঁচে। চিঠির কম্পন কেবলই টের পায় চোখের পাতা। রাত উঠে যায়, রাত নেমে আসে, মরিয়ম মনে আছে ভালোবাসা তোমাকে কি নামে ডাকে? ঘুমুতে ঘুমুতে ঝুম রাত হয়ে যায়। ছেলেটি আজকাল বড় জেগে থাকে।

৪.
মরিয়ম মানে আমরা। পনির যাত্রার মত,একটা সহজ জীবন মুখের ভেতর গলতে গলতে যায়। হাত বাড়ালে দেখি বৃষ্টি হয়। দরজা বন্ধ করলে প্রতিবেশি আসে। মরিয়ম মানে আমরা, বিকেল খেলে দাড়িয়াবান্ধা উঠোন জুড়ে, বহুদিন পর খাঁ খাঁ বাড়িটা মরে যাচ্ছে। কতদিন কোনো গাছ জন্মায় না এখানে অথচ মরিয়ম শেকড় ছেড়ে গেছে চা গাছের মত।

৫.
দূর্বলতাগুলো তোমার ঘরের দিকে ছুঁড়ে দেব মরিয়ম। জলে ছেড়ে দিও। মাছ হয়ে জন্মাবে!
পূর্বজন্মের স্মৃতি নিয়ে আমাদের কথা শেষ। জলকে তুমি কখনো বলোনি সাঁতারের কথা। আমি জলে গেলে তাই জমে যাই। তোমারো ভীষণ তৃষ্ণা পায়।
আকাশ থেকে যে মেঘ নামে তাকে পাত্তা দিওনা, চোখের বৃষ্টিকে দূর্বলতা ভেবে তুমিও কতদিন ছুঁড়ে ফেলেছো কাছের জলাশয়ে!
ইদানীং তাদের কেউ কেউ মাছ হয়ে বেঁচে গেছে। (সম্পূর্ণ…)

পুরুষ ছাড়া আমি একদম বাঁচি না

নূরিতা নূসরাত খন্দকার | ৮ মার্চ ২০১৭ ১:৪৯ অপরাহ্ন

সত্যি বলছি, পুরুষ ছাড়া
আমি একদম বাঁচি না।
পুরুষসঙ্গই আমাকে
নারীত্বের শিক্ষা দেয় এখনও।
যেদিন প্রথম অস্ফুটবোলে
বাবা বলে ডাকি,
আয় মা – বলে একজন পুরুষই
বুকে আগলে আমার কচিপনায়
এনে দিয়েছিলো সাবলম্বিতা
ভাইয়া ভাইয়া বলে যে দুটো কোলে
মুখগুজে পৃথিবীতে সহোদর-আনন্দ
খুঁজতাম, সেদুটোও ছিলো পুরুষকোল।
আর এসব চিনিয়ে দিয়েছিলেন,
আমার মা। তিনি কতকটা নারী,
অধিকাংশটাই মানুষ।
নারী-পুরুষ ভেদাভেদ নিয়ে
তাঁর মাথা ব্যথা ছিলো না কোনো। (সম্পূর্ণ…)

ডিমের খোলস ভেঙে

আনন্দময়ী মজুমদার | ৪ মার্চ ২০১৭ ১:৩১ অপরাহ্ন

imagesডিমের খোলস ভেঙে বারবার
বারবার বেরিয়ে এসে
যেন জাতকের প্রেমে নতুন মানুষ
হওয়া যায়
নতুন প্রাণ যেন কৃষ্ণঅভিসারে যাবে
এমন প্রণয়, সব মৃত্যু ভুলে
পথ সামনে বা পিছনে চলে যায়
নদীরা মরার আগে জন্মে নেয় শেষে
অতীত-অববাহিকায়
দেহের রিরংসা, হতাশা, ম্লানতায় রক্ত
সমুদ্রের লবণে কি তবু জলের মতো মেশে?
সমুদ্রে যে লোবানের ঘ্রাণ আছে
বেদনার অপার অন্তিম স্বাদ
আলোর ত্বক চিতার ফোঁটার মতো
ঢেকে আছে পৃথিবীর দাফনপোশাক
আমরা এখানেই বীতংসী মনে (সম্পূর্ণ…)

একুশে ফেব্রুয়ারি

মুহম্মদ নূরুল হুদা | ২১ ফেব্রুয়ারি ২০১৭ ৯:৩৫ পূর্বাহ্ন

21 Febআজ মাস ফেব্রুয়ারি, তারিখ একুশ,
আজ ক্ষিপ্র জনতার বুকে দীপ্র হুঁশ :
আজ বীর বাঙালির চেতনা-অঙ্কুশ।

আজ তো প্রভাতফেরি, খালি পায়ে হাঁটা;
লালপেড়ে শাদা শাড়ি, কালো ফিতে আঁটা :
বিরহী বিজয়ী বুকে ইতিহাস ঘাঁটা।

আজ মূল মাতৃভাষা, মাতৃ-ধাত্রী আশা;
মানুষেরা সাম্য-সুখী, মানবিক চাষা :
সকল জাতির মুখে ভাষা ভালোবাসা।

আজ তো মাতার জয়, সন্তানের জয়;
শোকসভা, নিরবতা, বিজয় অক্ষয় :
একুশ যোদ্ধার দিন, বীরের সময়।

একুশ তো বাঙালির বিদ্রোহী ফাগুন
একুশ তো বরকত সালামের খুন :
যুগে যুগে বিপ্লবীর বুকের আগুন। (সম্পূর্ণ…)

নভেরা হোসেনের কবিতা

নভেরা হোসেন | ৯ ফেব্রুয়ারি ২০১৭ ২:৪৭ অপরাহ্ন

images
আমি জেগে আছি

তুমি ঘুমাতে যাচ্ছ
আমি যাচ্ছি না
অনেকে জেগে থাকছে
অনেকে বারুদ পোড়াচ্ছে
কেউ কেউ আগুনে ঘি ঢালছে
ঘিয়ে আগুন
একজন নিবিড় মনে কেটে চলেছে স্রোতহীন জলধারা
অনেকে ঘুমাতে পারছে না
কেউ কেউ ব্যাংকের ভল্ট ভাঙছে
কবিতা লিখছে কোনো একজন
তুমি ঘুমাচ্ছ
আমি জেগে আছি…

নীরবতা

সন্ধ্যার অন্ধকারে তোমাকে ভীষণ ম্লান মনে হয়। বৃক্ষের শরীরে যত ক্ষত, লোকালয়ে যত লোক
সব কোলাহল হয়ে নীরব।
এই সন্ধ্যা, ম্মৃতির শহর একা একা হেঁটে যায় মিনারের পধ ধরে।
লাল লাল বট বৃক্ষ, পুস্তকের সারি। এখানে তুমি নিদারুণ , পড়ো আছো শত শত মলাটের আড়ালে ।
একটা অক্ষর, একজন শব্দ গ্রাস করে রাখে। তুমিও হতে চাও অমলিন যে কোনো নদীর তলদেশে… (সম্পূর্ণ…)

জেবুননাহার জনির কবিতা: ভয়

জেবুননাহার জনি | ৫ ফেব্রুয়ারি ২০১৭ ১০:০৯ পূর্বাহ্ন

Shelyসাপটি যখন লম্বা এক ফণা তোলে
ভয় না পেয়ে আমি বরং জাপটে ধরি
বিছুটি যখন কাঁধের পরে আঁকড়ে ধরে
ভয় না পেয়ে আমি বরং আঙুল নাড়ি
কুকুর যখন লেজ উঁচিয়ে দৌড়ে আসে (সম্পূর্ণ…)

অরুণাভ রাহারায়ের তিনটি কবিতা

অরুণাভ রাহারায় | ২৯ জানুয়ারি ২০১৭ ৯:০৮ পূর্বাহ্ন

বয়স

আমার বয়স থাকে দূরে
গাছেদের ডালপালা ঝোলে…

Afsan
কথা

কথাদের দূরে যেতে বলি
তারা যত উড়ে যায়
দূরে যায় পাহাড়ের পাখি।
পথ তবে বেঁকে গেছে, বেঁকেচুরে ভেঙে গেছে, কবে?

এখন কথার পিঠে, ইচ্ছে করে, দুটো-একটা কথা লিখে রাখি। (সম্পূর্ণ…)

তারিক সুজাতের তিনটি কবিতা

তারিক সুজাত | ২৩ জানুয়ারি ২০১৭ ১২:২৯ অপরাহ্ন

ছিন্নডানার মানুষপাখি

১.
কয়েক শতাব্দী ধরে এখানে ছিলাম
ছিলাম মানুষ হয়ে মানুষের কাছাকাছি
ধর্ম এসে তোলেনি দেয়াল
ধূতি আর পায়জামা
সাদা পায়রার মতো
উড়তো আকাশে
এক তারে এক সুরে,
ভেজা কাপড়ের আলিঙ্গনে;
সাজানো উঠোন
ফেটে চৌচির হলো
ঘৃণার বারুদে।
১৯৪৭-
সেই কবে চালকবিহীন বাসে
উঠে পড়েছিলাম,
পেছনের সত্তর বছর কাঁদছে নীরবে
শেষ স্টপে
ক্রাচ হাতে দাঁড়িয়ে আছে
বোবা ইতিহাস! (সম্পূর্ণ…)

পরের পাতা »

Disclaimer & Privacy Policy  |  About us  |  Contact us

© bdnews24.com