কবিতা

সক্কলে কবি নয়

আনন্দময়ী মজুমদার | ১১ আগস্ট ২০১৭ ৬:৫৭ অপরাহ্ন

সক্কলে কবি নয়,
কেউ কেউ কবি —
এই বোধোদয়-বিভা
গ্রহপথে সত্যময় পাঠ
কবে হয়ে গেছে!
Mohammed Kibria

তবু,
তবু, দোলনচাঁপা আগুনে
ফুলে-ওঠা মশারির ভিতর
জাহাজের স্বপ্নসফর
বাধা নেই মহাকাশ,
বাধা নেই
তারাবাতি হয়ে ফেরা কবিতার
সমুদ্রের শ্বাস

লেখার ক্ষমাহীন লোভে
সারসের উড্ডীন বাগান,
খাতা ভ’রে ওঠে (সম্পূর্ণ…)

স্বদেশ রায়ের কবিতা: বেহুলা ভাসান

স্বদেশ রায় | ৮ আগস্ট ২০১৭ ৮:১৪ অপরাহ্ন

Shakil-story
জানাইতেছি- জানাইতেছি- জানাইতেছি- আজ রাতের আকর্ষণ
বেহুলা ভাসান, বেহুলা নিজেই গাবে এ ভাসান গান।
আপনারা বেহুলার কন্ঠে শুনিতে পাইবেন, কেমন করে বেহুলা ভেলায়
ভেসে ভেসে পার হয়েছিলো বাংলার সব নদী, কেমন করে পাড়ি
দিয়েছিলো উত্তাল ঢেউ। বেহুলাই জানাইবেন আপনাদেরকে- কেমন করে
একের পর এক নিস্তব্দ গভীর অন্ধকার রাত পাড়ি দিয়েছিলো
ভেলায় বসে ভরা নদীর মত বাংলার এই বেহুলা একা- মৃত এক মানুষের
দেহ সঙ্গে নিয়ে। তা ছিলো কি বেহুলার প্রেম না পতি শুধু তার-
আজ তা গানের সুরে গাহিয়া শুনাবেন, বেহুলা আপনাদের।
আপনারা শুনিতে পাইবেন সেই সব কালো কালো রাতের কথা ,
তার পাশে কাপড়ে ঢাকা পুরুষের মতই দেখতে জীবন্ত পুরুষরা
কেমন করে নারী শরীর খুবলে খাবার দাঁত নিয়ে ঝাপটে ধরতে গেছে
বেহুলাকে। সে সব রাতে কীভাবে রক্ষা করেছে বেহুলা (সম্পূর্ণ…)

বাইশে শ্রাবণে রবীন্দ্রনাথকে নিবেদিত কবিতা

প্রদীপ কর | ৬ আগস্ট ২০১৭ ১২:০৬ অপরাহ্ন

RabindranathTagore_Lettersঘুমন্ত পাখি ভরাবর্ষার গাছে
ভোরবেলা স্নানে জাগ্রত হয়ে আছে
 
সপসপে মন কেউ নেই তার কাছে
 
ঝমঝমধারা অনুযোগহীন মাঠে
নিশীথ শরীর ভিজিয়ে যৌনপাঠে
 
ভোরে সে দাঁড়ায় গৃহস্থ চৌকাঠে
 
কীর্তন গায় বৃষ্টি কিশোরী কানে
খঞ্জনী ভেজে ভানুসিংহের গানে
 
গহনকুসুমকুঞ্জের মাঝখানে (সম্পূর্ণ…)

মুহম্মদ নূরুল হুদার কবিতা: জলবাংলা

মুহম্মদ নূরুল হুদা | ৩ আগস্ট ২০১৭ ৯:৩৬ অপরাহ্ন

Sezanআকাশ সুনীল ঋষি, অনন্তের কানে কানে মন্ত্র পড়ে যায়;
ঋষির ধ্যানের সুরে ব্রহ্মাণ্ডের বুক জুড়ে বৃষ্টি ঝরে যায়।
ভোরের‌ আলোর সঙ্গে বৃষ্টি আজ সঙ্গোপনে করেছে মিতালি;
মেতেছে মেঘলা ধ্যানে, সূর্য আজ রুমুঝুমু মেঘের আড়ালী।
ধ্যানী সব বাড়িঘর, সরোবর; নদীতীরে খাড়া তরুবর;
বহতা ধ্যানের মন্ত্রে নিত্য সিক্ত, বৃষ্টি শুধু ধুধু ঝরোঝর।
নদীরা প্রমত্ত বেগে ধেয়ে চলে পাল তুলে মোহনার ধ্যানে,
তপস্বিনী তরঙ্গিনী দিকে দিকে সাঁতরায় বাঁকের সন্ধানে।
কালিদাস তন্দ্রাচ্ছন্ন, চণ্ডীদাস কাথা-মুড়ি ঘুমায় বেঘোরে,
শান্তিনিকেতন জুড়ে রবীন্দ্রনাথের চোখে জল-বুলেটেরা ওড়ে।
বজ্র ও বৃষ্টির সন্ধি, গগনে গর্জন-বন্দি, শুধু প্রমুক্ত অতন্ত্র শান্তি,
তিস্তার বিরান বুকে অকস্মাৎ ছলাৎ-ছলাৎ পুষ্ট জলের অমল কান্তি;
পদ্মা আর মহানন্দা মেঘে মেঘে মৈত্রী পাল তুলেছে সমান্তরাল;
সামাল সামাল মাঝি, শক্ত হাতে সামলাও ধর্মবর্ণ সওয়ারীর হাল;
থইথই জলবাংলা, বেনোজলে বুড়ো-আংলা, পড়ো – পাঠ করো,
আজ শুধু বৃষ্টিভাষা, সর্ববঙ্গ জলে ভাসা, পড়ো – জলমন্ত্র পড়ো;
আজ শুধু বৃষ্টিবঙ্গ, আজ শুধু সৃষ্টিবঙ্গ, হে সর্ববঙ্গের কবি পড়ো,
ক্ষমতার পাঠ শেষে মমতার পাঠ নাও, মা-গঙ্গার পাড়খানি ধরো; (সম্পূর্ণ…)

স্বদেশ রায়ের কবিতা : রেখা

স্বদেশ রায় | ১৬ জুলাই ২০১৭ ২:১৩ পূর্বাহ্ন

Fakir
বিকেলের আকাশ জুড়ে উড়ছিলো ছোট পাখিগুলো
ওরা যতই ওপরে উঠে যায় ততই ওদেরকে পতঙ্গ মনে হয়;
ওরা এক সময়ে চোখের সীমানা থেকে হারিয়ে যায়।
দৃষ্টিশক্তি আসলে কতদূর যেতে পারে? সূর্য কাছে নেমে
আসে তাই তো আলোর দেখা। পাখিগুলো দূর আকাশ
থেকে ফিরে এলে দেখা দেয় উজ্জল পাখনার পালক। (সম্পূর্ণ…)

শিমুল সালাহ্উদ্দিনের ১৭টি কবিতা

শিমুল সালাহ্উদ্দিন | ১৪ জুলাই ২০১৭ ১২:৪২ পূর্বাহ্ন

Aminul Islam

কবি

আমি সেই অন্ধ পাঠক
চোখ রেখে খুলে, ঠক ঠক
তীব্র শীতে, কাঁপছি ভেতরে–

কবিতা নিয়ে যাচ্ছি সাথে,
কবিকে বধ করে।

পরিত্রাণ

বিষণ্ণ মাল্লার গান
বুক ভরে কুয়াশায়
চুইয়ে পড়ছে জল
চোখ জ্বালা করে আর
বাতাসে তুলোর বীজ
এবং অস্থির গাছ
অস্থির অস্থির গাছ

পরিত্রাণ ভালোবাসি

আহ্বান

অলস মদির চোখে
কাঁটা মেহেদির
রঙ জমে উঠলে
তখনো মোমের হাতে

তোমরা আমায় ডাকো (সম্পূর্ণ…)

মানিক মোহাম্মদ রাজ্জাকের নয়টি কবিতা

মানিক মোহাম্মদ রাজ্জাক | ৯ জুলাই ২০১৭ ১১:৪৭ অপরাহ্ন

কবিতার ঈশ্বর

লাবণ্য দেয়নি তারে নীলিমার নীল জলছায়া
পথগুলো হারিয়েছে পথ। শপথের কথা ভুলে
বনলতা সরে গেছে দূরে। সময়ের পালতুলে
অশ্বত্থ ডুবেছে জলে রেখে গেছে এক ছল-মায়া।

হাজার বছর ধরে পথে পথে খুঁজেছেন কবি
জীবনের সাদা ছবি। আমলকি–কাঁঠালের তলে
লুকিয়েছে অহংকার। কবিতার শব্দে–কথাচ্ছলে
করেছে প্রণাশ প্রশ্ন। পায়নি কিছু হারিয়েছে সবই।

অবিরাম পিপাসার ভারে, অন্ধ চেতনার ঘোরে
নির্বাক পৃষ্ঠায় খুঁজেছে চৌকাঠ। পৃথিবী খোলেনি
তবু তার দ্বার। কামাক্ষার কুঞ্জে কখনো দোলেনি
মহুয়ার আধা রাত। সত্যসূর্য ওঠে নাই ভোরে।

অতঃপর কমলা বিকেলে ওঠে এলোমেলো ঝড়
পথে পড়ে থাকে এক কবিতার অচেনা ঈশ্বর।

জলভাঙা যমুনার জল

চেয়েছিলে শর্তহীন সমর্পন। অসীম সমুদ্র হয়ে বয়ে গেছি আকাশের বুকে। কখনোবা মৃত্তিকার পরতে করেছি গন্ধমের সুবাস সন্ধান। নিষিদ্ধ নগরে হেঁটে খুঁজেছি অবাক রোদের ঝংকার। পোড়ামাটি মন নিয়ে আঁচলের উত্তাপ পেরিয়ে দাঁড়িয়েছি মাঝ দরিয়ার পিড়ামিডে। উড়িয়েছি ফসলের ধ্বনি, প্রতীক্ষার রথে বসে দেখেছি সকাল- দেখেছি রাতের রাঙা ঠোঁট। নির্জনে একাকী বসে ধুপকাঠি জ্বেলে করেছি অনেক মৃত্যুর উৎসব। কত কলরব উড়ে গেছে আশপাশে, পরবাসে চলে গেছে দুপুরের ঢেউ। পেরিয়েছে মহাকাল বালুচরে কেঁপেছে নদীর নথ। পথগুলো হয়ে গেছে ঝড়ো হাওয়া। এ বেলায় ও বেলায় এ পাড়ায় ও পাড়ায় হয়েছে অনেক লুকোচুরি খেলা, তীর্থপথে হেঁটে হেঁটে নগ্ন পায়ে বিঁধিয়েছি সুতাহীন একতারা। তারপরও একে একে ভেঙে গেছে শ্রাবণের শত গ্রাম। জলের পরশে পুড়ে গেছে পুঁথিমালা। অতঃপর পেছনে তাকিয়ে দেখি পথে পথে পড়ে আছে অযুত-নিযুত প্রশ্নের পালক। হঠাৎ জানতে ইচ্ছে করে–এখনো কি অপলক চেয়ে থাক জলভাঙা যমুনার দিকে? (সম্পূর্ণ…)

ঈদুল ফিৎর উপলক্ষ্যে নবীন প্রবীণদের একগুচ্ছ কবিতা

| ২৬ জুন ২০১৭ ১০:৫৬ পূর্বাহ্ন


তোমার মায়ার ছায়া

মুহম্মদ নূরুল হুদা

তোমার মায়ার ছায়া
কায়া হয়ে জাগে
অনন্তের
অন্ধ অনুরাগে;
মায়াসভ্যতার আগে
আমি তার পেয়েছি পরশ;
অঙ্গ লাগি অঙ্গ কাঁদে
ব্রহ্মান্ডের রূপ-গন্ধ-রস।

সহর্ষ পরশ নিয়ে
জেগে আছি
কালে কালাতীতে;
সতৃষ্ণ সঙ্গম-লগ্ন
ত্রিভুবনে
বর্তমানে
ভবিষ্যতে
অথবা
অতীতে। (সম্পূর্ণ…)

যে আছে বিস্মরণে, লোহার সূতায় বাঁধা, থাক

সরকার মাসুদ | ২৪ জুন ২০১৭ ১২:২৩ পূর্বাহ্ন

Kizi-1টিউমার

মাংস দিয়ে তৈরি এক চমৎকার বাড়ি
ক্যান্সার খুব নিরাপদে থাকে এমন বাসস্থান!

ক্যন্সারের জীবাণু মরার কথা ভুলে থাকে
তাকে নিরাপত্তা দিয়ে চলে ঐ বাড়ি
ক্যান্সারের জীবাণু এক জীবনবাদী, ভোগী ফুরফুরে মানুষ!

ক্যান্সার প্রথমে আক্রান্তকে শেষ করে দেয় ধীরে ধীরে;
তারপর একদিন সে নিজেই শেষ হয়ে যায়
শেষ হতে বাধ্য হয়
কেননা মাংস দিয়ে তৈরি ঐ বাড়ি
বাসযোগ্য থাকে না তখন। (সম্পূর্ণ…)

পাহাড়িয়া বাড়ি

মুহম্মদ নূরুল হুদা | ১৭ জুন ২০১৭ ২:০৯ অপরাহ্ন

পাহাড়ে জন্মেছি আমি পাহাড়েই ঘর
পাহাড়ে সংসার গড়ি, পাহাড়ে কবর।
সবুজ পাহাড়ে বুনি সবুজের মন;
সবুজ অবুঝ ভাষা : বনের বচন।

পাখি-প্রাণি ঝর্ণা-ঝিরি মাচাং কাচারি
আমার রাজারবাড়ি হাজারদুয়ারি।
আদিম বনের বংশ স্বাধীন স্বভাবী;
বনে আছি বনে বাঁচি, কে বলে অভাবী?

হাজার বছর ধরে এ বাড়ি অনড়;
বাড়িতে বাঁশের বেড়া, চালে পাতা-খড়।
জোছনাপশর রাতে রোদ-ধোয়া দিনে
যুগল জুমিয়া চাষে সুখ নেই কিনে।

পাহাড়ির নেই কোনো বাড়তি চাহিদা
পাহাড়ির দেহে মনে পাহাড়ি অকিদা।
পড়শি বাঘিনী-বাঘ, সিংহ-নাদ শুনি;
আমরা ছিলাম বেশ, সুখে দিন গুণি’। (সম্পূর্ণ…)

মানুষের প্রতি

আনিসুর রহমান | ১৫ জুন ২০১৭ ১০:২৭ অপরাহ্ন

pahar‘দাও ফিরে সে অরণ্য লও এ নগর’ গুরু বলে গেলেন –
নগরে অরণ্যে বাধা দেখিনে, মানুষ যদি মানুষ থাকেন !
নগরে মানুষ কেনো গো অরণ্যের পশুর গুণে গুণ টানে?
নগরের মানুষ কতটা পশু বনের পশু কি তাহা জানে ?
মানুষ কুকুরের বাসর করে, তাতে কি মানুষ পয়দা করে?
কুকুর সংঘে কামড়াকামড়ি করে, জলাতঙ্ক’র কবলে পড়ে;
নগরের মহামারি ফেরারি কুকুরের আসকারায় বিপদ বাড়ে;
মানুষের কারণে মানুষের দুর্ভিক্ষ হাহাকার অন্যায় অনাচার! (সম্পূর্ণ…)

জিতলে বাংলাদেশ, হারলেও বাংলাদেশ

মাজহার সরকার | ১৫ জুন ২০১৭ ১০:২৭ পূর্বাহ্ন

mazharএকদিন এক ছোট্ট ছেলে বাবার কাছে গিয়ে
দু’চোখ ভরে বললো কেঁদে ব্যাটবল দাও কিনে
বাংলাদেশের সোনার ছেলে হাতে ক্রিকেট বল
সাবাস সাবাস বিশ্বজুড়ে মায়ের চোখে জল।

কাজের ফাঁকে একটুখানি স্কোর কতো ভাই
চার হলো না ছক্কা হলো, কতো উইকেট নাই?
টি-স্টল আর অফিসপাড়া ক্রিকেটে সব পাগল
শুভেচ্ছা বাহরে বাহ ‘লাল সবুজ’ বাঘের দল। (সম্পূর্ণ…)

পরের পাতা »

Disclaimer & Privacy Policy  |  About us  |  Contact us

© bdnews24.com