কবিতা

ঈদুল ফিৎর উপলক্ষ্যে নবীন প্রবীণদের একগুচ্ছ কবিতা

| ২৬ জুন ২০১৭ ১০:৫৬ পূর্বাহ্ন


তোমার মায়ার ছায়া

মুহম্মদ নূরুল হুদা

তোমার মায়ার ছায়া
কায়া হয়ে জাগে
অনন্তের
অন্ধ অনুরাগে;
মায়াসভ্যতার আগে
আমি তার পেয়েছি পরশ;
অঙ্গ লাগি অঙ্গ কাঁদে
ব্রহ্মান্ডের রূপ-গন্ধ-রস।

সহর্ষ পরশ নিয়ে
জেগে আছি
কালে কালাতীতে;
সতৃষ্ণ সঙ্গম-লগ্ন
ত্রিভুবনে
বর্তমানে
ভবিষ্যতে
অথবা
অতীতে। (সম্পূর্ণ…)

যে আছে বিস্মরণে, লোহার সূতায় বাঁধা, থাক

সরকার মাসুদ | ২৪ জুন ২০১৭ ১২:২৩ পূর্বাহ্ন

Kizi-1টিউমার

মাংস দিয়ে তৈরি এক চমৎকার বাড়ি
ক্যান্সার খুব নিরাপদে থাকে এমন বাসস্থান!

ক্যন্সারের জীবাণু মরার কথা ভুলে থাকে
তাকে নিরাপত্তা দিয়ে চলে ঐ বাড়ি
ক্যান্সারের জীবাণু এক জীবনবাদী, ভোগী ফুরফুরে মানুষ!

ক্যান্সার প্রথমে আক্রান্তকে শেষ করে দেয় ধীরে ধীরে;
তারপর একদিন সে নিজেই শেষ হয়ে যায়
শেষ হতে বাধ্য হয়
কেননা মাংস দিয়ে তৈরি ঐ বাড়ি
বাসযোগ্য থাকে না তখন। (সম্পূর্ণ…)

পাহাড়িয়া বাড়ি

মুহম্মদ নূরুল হুদা | ১৭ জুন ২০১৭ ২:০৯ অপরাহ্ন

পাহাড়ে জন্মেছি আমি পাহাড়েই ঘর
পাহাড়ে সংসার গড়ি, পাহাড়ে কবর।
সবুজ পাহাড়ে বুনি সবুজের মন;
সবুজ অবুঝ ভাষা : বনের বচন।

পাখি-প্রাণি ঝর্ণা-ঝিরি মাচাং কাচারি
আমার রাজারবাড়ি হাজারদুয়ারি।
আদিম বনের বংশ স্বাধীন স্বভাবী;
বনে আছি বনে বাঁচি, কে বলে অভাবী?

হাজার বছর ধরে এ বাড়ি অনড়;
বাড়িতে বাঁশের বেড়া, চালে পাতা-খড়।
জোছনাপশর রাতে রোদ-ধোয়া দিনে
যুগল জুমিয়া চাষে সুখ নেই কিনে।

পাহাড়ির নেই কোনো বাড়তি চাহিদা
পাহাড়ির দেহে মনে পাহাড়ি অকিদা।
পড়শি বাঘিনী-বাঘ, সিংহ-নাদ শুনি;
আমরা ছিলাম বেশ, সুখে দিন গুণি’। (সম্পূর্ণ…)

মানুষের প্রতি

আনিসুর রহমান | ১৫ জুন ২০১৭ ১০:২৭ অপরাহ্ন

pahar‘দাও ফিরে সে অরণ্য লও এ নগর’ গুরু বলে গেলেন –
নগরে অরণ্যে বাধা দেখিনে, মানুষ যদি মানুষ থাকেন !
নগরে মানুষ কেনো গো অরণ্যের পশুর গুণে গুণ টানে?
নগরের মানুষ কতটা পশু বনের পশু কি তাহা জানে ?
মানুষ কুকুরের বাসর করে, তাতে কি মানুষ পয়দা করে?
কুকুর সংঘে কামড়াকামড়ি করে, জলাতঙ্ক’র কবলে পড়ে;
নগরের মহামারি ফেরারি কুকুরের আসকারায় বিপদ বাড়ে;
মানুষের কারণে মানুষের দুর্ভিক্ষ হাহাকার অন্যায় অনাচার! (সম্পূর্ণ…)

জিতলে বাংলাদেশ, হারলেও বাংলাদেশ

মাজহার সরকার | ১৫ জুন ২০১৭ ১০:২৭ পূর্বাহ্ন

mazharএকদিন এক ছোট্ট ছেলে বাবার কাছে গিয়ে
দু’চোখ ভরে বললো কেঁদে ব্যাটবল দাও কিনে
বাংলাদেশের সোনার ছেলে হাতে ক্রিকেট বল
সাবাস সাবাস বিশ্বজুড়ে মায়ের চোখে জল।

কাজের ফাঁকে একটুখানি স্কোর কতো ভাই
চার হলো না ছক্কা হলো, কতো উইকেট নাই?
টি-স্টল আর অফিসপাড়া ক্রিকেটে সব পাগল
শুভেচ্ছা বাহরে বাহ ‘লাল সবুজ’ বাঘের দল। (সম্পূর্ণ…)

শাপলা সপর্যিতার কবিতা: কনফেস

শাপলা সপর্যিতা | ১১ জুন ২০১৭ ৮:১৬ অপরাহ্ন

Jahanara Abedin Collectionআমার কি আছে বলুন তো?
ধ্বংসেরও কিছু স্মৃতি থাকে শেষ থাকে
কষ্টেরও কিছু ক্ষত থাকে
যেখানে চলে নিয়ত ক্ষরণ
তারপরও সেখানেও কিছু থাকে বিধাতার দান।

আমার বিবাহের শাড়িটি ছিল ৫ কেজি ওজন
দারুণ ঐতিহ্যে বেনারসী কাতান জড়ি পুতি চুমকীর বাহারে
হারিয়েছে যে নিজেরই বেশ।

আমি তখন ইথিওপিয়া থেকে এসেছি কেবল
বয়স পঁচিশ কি ছাব্বিশ
রুগ্ন হাড় জিরজিরে শরীরে
বয়স কমে দেখতে হয়েছিল আমাকে বিশ কি বাইশ
দেখুন না, এই দেখুন আমার বিবাহের সেই ছবি
এখনো জ্বলছে শাড়িতে নিয়ত আগুন
সিঁদূরে লাল, তাতে গাঢ় ঘন জমাট রক্তের ছোপ ছোপ
সত্যি করে বলি আজ আপনাদের
শাড়িটি লেগেছিল বড় ভার। (সম্পূর্ণ…)

মিলটন রহমানের পাঁচটি কবিতা

মিলটন রহমান | ৫ জুন ২০১৭ ৯:৫০ অপরাহ্ন

Monirul Islamবালির শহর

যে ধূলোর শহরে তোমাকে রেখে এসেছিলাম

তার আর কোন খবর নেইনি কখনো

তুমি হয়ে গেলে নানান রঙের প্রজাপতি

আর আমি ডানা সদৃশ ভূপালী এক প্রাণী

কেবল সুরের জিকির তুলি নিয়নের আলোয়

পাথর কেটে কেটে তৈরী করি টিউনিক পথ

বিশ্বাসের বিভ্রমে গড়ে তুলি পাললিক শহর

এখানে সেখানে নদী-বিল আর ছায়া রাখি

আরতিসম আহবানে কাঠ চিরে দুঃখ রাখি

আমার এসব জঙ্গনামার বিবরণ শুনে, (সম্পূর্ণ…)

আমি পাহাড়ি

আনিসুর রহমান | ৫ জুন ২০১৭ ৬:০৫ অপরাহ্ন

Aminul Islamসূর্য উঠল; দিনের সবকিছু স্বাভাবিক ছিল, হঠাৎ কী যে হল!
বাড়ি পুড়ছে, ঘর পুড়ছে, সকলে ছোটাছুটি শুরু করে দিল:
প্রথমে আগুন দিল দক্ষিণের ঘরে, এরপর একে একে সারা গাঁও
পুড়ে সাবাড় করে; দিনেদুপুরে ওরা আমাকেও তাড়া করেছিল !

সকলে প্রাণভয়ে দৌড়ে পেছনে জঙ্গলে চলে যাই। বাড়িঘরে ওরা
আগুন দিতে থাকে, সে আগুন আমি দেখি জঙ্গলের ফাঁকে ফাঁকে;
ঘরে পুড়ে ছারখার; দাউ দাউ আগুন জ্বলে, আমি দেখি অন্ধকার !

লাঠিসোটা নিয়ে ওরা যেভাবে ধেয়ে এলো, সকলে ভীষণ ভয় পেল;
কীভাবে যে বাঁচি? আতঙ্কে লোকজন নানান জায়গায় বিচ্ছিন্ন হয়ে গেল;
মা বাবা ভাই বোন আর পাড়াপড়শি — গাঁয়ের সকলেই পালাই পালাই ! (সম্পূর্ণ…)

শুধু একটি বিশ্বাস

স্বদেশ রায় | ৫ জুন ২০১৭ ১২:০১ অপরাহ্ন

Monirul Islamতুমি অনেক বেশি বিশ্বাসী- না? বিশ্বাস করো ঈশ্বরকে,
বিশ্বাস করো দেবতাকে, বিশ্বাস করো আমাকে, তোমার
চারপাশকে। এ বিশ্বাস তুমি কোথা থেকে পেলে?
আমি তো শুধু বিশ্বাস করতে চেয়েছিলাম নদীকে,
ভেবেছিলাম সেই আমাকে ভাসিয়ে নিয়ে যাবে সাগরে।
অথচ দেখ কী অদ্ভুত, সেই কবে থেকে এই চড়ায় বসে
আছি অথচ নদী ভাসায় না আমাকে। এই আমার সামনে
দিয়ে কত কেয়া ফুলের পাপড়ি গেলো ভেসে, সাগর থেকে
কত ফল এসে জম্ম দিলো কত নতুন গাছের, তাদেরও
ফুটলো ফুল। অথচ এখনও আমি ঠিক বসে আছি চড়ায়। (সম্পূর্ণ…)

মাহী ফ্লোরার কবিতা: মরিয়ম সিরিজ-২

মাহী ফ্লোরা | ২৮ মে ২০১৭ ১১:৪৪ অপরাহ্ন

Anondo১১.
এই পৃথিবীতে আমার নিজের সন্তান ছাড়া আর কেউ নেই। মরিয়ম যেদিন পথের ভেতর ডেকে এনেছিল সামসাম মাছকে, সেদিনই নিঃশ্বাস বন্ধ হয়ে মরে গেছে মা-বাপ আর পাখিদের বিপরীত সম্পর্ক।সন্ধ্যের মুখে একটি ব্যর্থ ট্যাটু এঁকে আমিও আমার সন্তান রেখে ঘুমিয়ে পড়ব কসম।

১২.
পাহাড়, স্থির, সময়। চার্চ, অপেক্ষা,ঘুঙুরধ্বনি।বৃক্ষ, সবুজ, এলোমেলো। আলো,আঁধার, কুয়াশা,মুখ,অসুখ। ধোঁয়া, ধুসর, অতীত। কথা, গল্প, অস্থিরতা,তুমি । তুমি নিতান্তই এক অস্থিরতম শিশু।

মরিয়ম, যেন আমাদের ঘিরে আছে প্রাচীন মেন্দাসিয়াম!

১৩.
আমার মরিয়মকে কেউ ধরে নিয়ে গেছে।সীমান্ত পেরোলেই লকেটের দাম বেড়ে যায়, চুল উড়তে থাকলে ভূগোল পেরিয়ে মনে হয়, প্রেম নেই। কুশর খেতের ভেতর একটা নির্জিব দেহকে কতকাল আর আগলে রাখা যায়!

১৪.
একমুঠো বারুদকে নিয়ে ঘুমিয়ে পড়ো মরিয়ম। লেটস সেলিব্রেট আ রাফ জার্নি। রোড টু রোড…
ব্যাক্সপেটরায় কোনো ব্যাকস্পেস নেই। নইলে দেখতে কত ভুল জীবন আমি বহন করার শর্তে মুছিনি। চোখের সামনে শরৎ ঘুমিয়ে যায়, বসন্ত কাতর থাকে। শুধু ঘুমের জন্য কিছু মৃত্যু পিছিয়ে যায়। (সম্পূর্ণ…)

জুননু রাইনের শিরোনামহীন কবিতা

জুননু রাইন | ২৮ মে ২০১৭ ১২:২৫ অপরাহ্ন

Fakirশিরোনামহীন-(এক)

সত্যি সত্যি তুমি খুব মিথ্যেবাদী। যা বিশ্বাস করো, সবকিছু সত্য ভাবো। কোনো কিছুই কোনো কিছুতে থাকে না, যদি তুমি না রাখো দেবী।

তুমি কি হাত ধরতে চেয়েছিলে? সেও তো সত্য ছিলো! তাই না?
যে আকাশের নিচে তুমি হাঁটো, সেখানে আমিও আছি। জানালা খুলে যে বাতাসে নিজেকে এলিয়ে দাও, প্রতি গতরাতে তোমাকে নিবেদিত আমার সব ভালোবাসা ধুয়ে মুছে সে’ই নিয়ে যায়। সত্য-মিথ্যের শাপলুডুতে আপাতত আগ্রহ নেই।
ভালোবাসার চোখে নিজেকে রোপন করে করে যাই। এ আমার গতি, আমারই নির্মিত নিয়তি।

নারায়ণকে অনেকটা সময় বুকে চেপে ধরে রেখেছিলাম, সে তোমাকে ছোঁবে বলে। তোমার হাত তাকে স্পর্শ করবে। হয়তো বিছানায় তোমার পাশে শোবে। বুকে নেবে কিনা জানি না! বালিশের নিচেও হতে পারে তার ক্ষণিক আশ্রয়। সে তোমাকে বুঝলে অথবা তুমি তাকে; আমাদের কিছুটা কি হবে না ভাবনার বিনিময়!
পৃথিবীটা অনেক বড়। মানুষ তার চেয়েও বড়। জীবনের কোনো সীমানা নেই,
হয়তো তুমিও জানো, ভালোবাসা ছাড়া কি আছে পাবার? ভালোবাসা ছাড়া কিছু নেই হারাবার (সম্পূর্ণ…)

ব্রোঞ্জের মা, কেঁদো না কেঁদো না

তারিক সুজাত | ২৭ মে ২০১৭ ৭:৩৬ অপরাহ্ন

SC-Sculpture-Removal-02সরে যাচ্ছে মননের ভূমি
সরে যাচ্ছে, সরে যাচ্ছে
‘স্মৃতি, সত্তা, ভবিষ্যত’
বিসর্জন অবধারিত ছিল না
তবু তার ঠাঁই হলো না বঙ্গীয়-বদ্বীপে
শিল্পের সীমানা নেই,
তাই সীমা ভেঙে এসেছিলে পোড়া এই দেশে;
চোখ বাঁধা ব্রোঞ্জের মা
ন্যায়ের প্রতীক হয়ে এসেছিলে,
তলোয়ার হাতে তোমাকে দেখে
কেঁপে ওঠে প্রেতাত্মা বখতিয়ারের,
লক্ষণ সেনও এ মাটির সন্তান ছিলো
বিনা-দোষে তাঁকেও তো কাপুরুষের তকমা দিয়েছি
‘ধর্মের কল বাতাসে নড়ে’ (সম্পূর্ণ…)

পরের পাতা »

Disclaimer & Privacy Policy  |  About us  |  Contact us

© bdnews24.com