আড্ডা

‘উত্তরঙ’-এর উচ্চারণ: দেশপ্রেমের কবিতা ও গান

লুৎফুল হোসেন | ২০ নভেম্বর ২০১৫ ৭:১১ অপরাহ্ন

dsc_3580.JPGনিত্য ঘটমান উৎসবময় ঢাকার মঞ্চ চাঞ্চল্যের বিপরীতে মৌন মেরু উত্তরে মননশীলতার আলো ছড়াবার প্রত্যয়ে অঙ্গীকারবদ্ধ নবগঠিত শিল্প সাহিত্য সংস্কৃতি সংগঠন ‘উত্তরঙ’। ১৩ নভেম্বর শুক্রবার আয়োজন করে এক কবিতা সন্ধ্যার। “দেশপ্রেম ও দ্রোহের উচ্চারণ” অনুষ্ঠানটি শুরু হয় মাহবুবা কামাল বিনুর কন্ঠে মঙ্গলবারতা ও দেশপ্রেমের রবীন্দ্রসংগীত দিয়ে। দর্শক মাতিয়ে আরো গেয়েছেন সালাউদ্দীন ববি। নজরুলের ‘বিদ্রোহী’ আবৃত্তি করেন শামস আলদীন । শামসুর রাহমানের ‘আসাদের শার্ট’-এর উচ্চকিত আবৃত্তি শোনান কাকলী আহমেদ ।

সন্ধ্যা মাতিয়ে নিজ কবিতা পাঠ করেন উপস্থিত কবিরা। কবি আবিদ আনোয়ার, রাজু আলাউদ্দিন, ইরাজ আহমেদ, শোয়াইব জিবরান, পিয়াস মজিদ, অনন্ত সূজন। দর্শক শ্রোতাকে কথার নদী আর আবেগ সমুদ্রে ভাসিয়ে আরো পাঠ করেন মঈন চৌধুরী, ফরিদ কবির, লুৎফুল হোসেন, কামরুল হাসান, রহিমা আফরোজ মুন্নী, লীনা ফেরদৌস।

অনুষ্ঠানে সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে অবস্থানে সংহতি জানানো হয় নিহত প্রকাশক ফয়সল আরেফিন দীপনের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে, সন্ত্রাসী হামলায় গুরুতর আহত ও চিকিৎসাধীন কবি ও প্রকাশক তারেক রহিম এবং আহমেদুর রশীদ টুটুলের কবিতা পাঠ করে। (সম্পূর্ণ…)

রোদ্দুরের আয়োজনে কবিদের আড্ডা

| ১২ সেপ্টেম্বর ২০০৮ ৭:৪১ অপরাহ্ন

১৯৯৫ সালে ছোটপত্রিকা রোদ্দুর-এর সম্পাদক লতিফ সিদ্দিকী কয়েকজন কবিকে নিয়ে জুন মাসের এক
latif3.jpg……..
রোদ্দুরের সম্পাদক লতিফ সিদ্দিকী
…….
সকালবেলায় একটি আড্ডা বসিয়েছিলেন গ্রীন রোডের থিয়েটার সেন্টারে। “প্রজন্মান্তরে কবিতার বদল” — এই ছিল আড্ডার আলোচনার বিষয়। আড্ডার ধর্মানুসারে ফ্যামিলি প্ল্যানিং, আমলা কবি, কবিতার ক্ষতি, রবীন্দ্রনাথ, নজরুল, জীবনানন্দ, বুদ্ধদেব, আবুল হাসান, পঞ্চাশ, ষাট, কবিতার জনপ্রিয়তা কেন কমে যাচ্ছে… ইত্যাদি নানা প্রসঙ্গ চলে আসে আলোচনায়। প্রবল বৃষ্টিপাতের মধ্যে টিনের চালের নিচে আড্ডা চলে দুপুর পর্যন্ত। উল্লেখ্য, সে আড্ডার তিনজন এখন আর নেই। লতিফ সিদ্দিকী মারা গিয়েছিলেন ক্যান্সারে। পরে কবি আবু কায়সার এবং কবি শামসুর রাহমানও মারা যান। তাঁদের স্মরণে রেখে আড্ডাটি পুনঃপ্রকাশিত হলো। শুরুতে লতিফ সিদ্দিকীর ভূমিকা।

অংশগ্রহণ: শামসুর রাহমান, আবু কায়সার, আলতাফ হোসেন, সাজ্জাদ শরিফ, আনিসুল হক, ব্রাত্য রাইসু, আদিত্য কবির, হুমায়ূন রেজা

সম্পাদক লতিফ সিদ্দিকীর ভূমিকা
ইংরেজি ১৬ জুন ছিল বাংলায় ২ আষাঢ়। সকাল থেকেই আকাশ অন্ধকার। গ্রীণ স্কোয়ারে থিয়েটার সেন্টারের মিলনায়তনে রোদ্দুরের আয়োজনে roddur.jpg
……..
রোদ্দুর, চতুর্থ সংখ্যা, জুলাই ১৯৯৫
………
কবিদের আড্ডা। রোদ্দুরের সম্পাদক হিসেবে আয়োজনের দায়িত্ব আমার। শান্তিনগর (বাসা) থেকে রিকশায় চেপে শিল্পকলা একাডেমী পর্যন্ত যেতেই শুরু হলো বৃষ্টি। শিশু পার্কের কাছাকাছি পৌছুতেই কানফাটানো শব্দে বাজ পড়লো কোথাও একটা। সেই সঙ্গে শুরু হলো প্রবল বর্ষণ। থিয়েটার সেন্টার যথারীতি তখনো কেউ আসেননি। এমন আবহাওয়ায় কেউ যে আসবেন সেরকম ভরসা পাই না। এসময় অলকদা (অলক গুপ্ত, নাট্যকর্মী, সাংবাদিক) আসেন। খানিক বাদে আসেন আলতাফ ভাই। আস্তে আস্তে সবাই আসেন, কেবল সিকদার আমিনুল হক ছাড়া। আড্ডায় সেদিন। যারা অংশ নিয়েছিলেন তাদের নাম ওপরে দেওয়া হলো। এরা ছাড়াও আড্ডায় যারা উপস্থিত ছিলেন কিন্তু আলোচনায় অংশ নেননি তারা হলেন। দিলওয়ার হাসান (গল্পকার), মুনির রানা (কবি, সাংবাদিক) ও আবেদীন চৌধুরী স্টিভ। আড্ডায় সূত্রধরের দায়িত্ব পালন করতে হয়েছে আমাকে।

●●●

লতিফ সিদ্দিকী: রাহমান ভাই বয়োজ্যেষ্ঠ। জীবিতদের মধ্যে প্রবীণতম সম্ভবত।

আবু কায়সার: উহু, আবুল হোসেন আছেন।

লতিফ: না, আবুল হোসেন ঠিক ততোটা সক্রিয় নন কবিতা রচনায়।

কায়সার: বলুন যে রাহমান ভাই হলেন প্রবীণদের মধ্যে সবচেয়ে গ্ল্যামারাস।

লতিফ: সে যাই হোক, রাহমান ভাইরা তাদের সময়ে যেভাবে লিখতেন, এখনকার কবিরা সেভাবে লেখেন না। কবিতার ধারার পরিবর্তন হয়েছে, কবিতা সম্পর্কে কবিদের দৃষ্টিভঙ্গিরও পরিবর্তন হয়েছে।

ব্রাত্য রাইসু: এটা কি আপনি ধরে নিয়ে কথা বলছেন?

লতিফ: হ্যাঁ।

রাইসু: রাহমান ভাইদের সময়েও তো সবাই একরকম লিখতেন না।

লতিফ: যা হোক, সময়ের পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে তো কবিতা বদলায়, কবিতার কাঠামো বদলায়, কবিতায় বলবার বিষয় বদলায়। আজকের মুক্ত আলোচনার বিষয় এটাই। এই পরিবর্তনটা। পরিবর্তনের ধরনটা — এক প্রজন্মের কবিতা আরেক প্রজন্মের চোখে, নিজেদের কবিতা নিজেদের চোখে।

সাজ্জাদ শরিফ: তাহলে শুরু করা যাক। রাহমান ভাইকে দিয়ে শুরু করুন। প্রশ্ন করুন তাঁকে।

লতিফ: সেই পঞ্চাশের দশক থেকে এখনও পর্যন্ত ক্লান্তিহীনভাবে লিখে চলছেন রাহমান ভাই। সময়ের পরিবর্তনের সঙ্গে আপনার নিজের কবিতাও বদলেছে। সেই পরিবর্তনগুলো সম্পর্কে বলুন। এখনকার কবিতাই বা কেমন ঠেকছে আপনার চোখে?

শামসুর রাহমান: প্রথমত, কবিতা সম্পর্কে কিছু বলা অত্যন্ত কঠিন। এ সম্পর্কে এতো কথা বলা হয়, কিন্তু এখনো ঠিক কবিতা কাকে বলা হয়, মানে এর এবিসিডি কখগঘঙ — আমি বলতে পারবো না। তবে কবিতা আসলে বোধের ব্যাপার। একে সংজ্ঞা দিয়ে বোঝানো মুশকিল। আরেকটা জিনিস আমি বিশ্বাস করি না — কবিদের দশকবন্দি করাটা, এই যেমন অমুক কবি এই দশকের। কবি যিনি, তিনি সব দশকেরই। রবীন্দ্রনাথকে আমরা কোন দশকের কবি বলবো? তেমনি ত্রিশের কবি আমরা যাদের বলি, তারা তো এখনো সক্রিয় কোনো না কোনোভাবে — এমনকি তাদের মৃত্যুর পরও। কাজেই দশকের ব্যাপারটা ঝুট-ঝামেলার। তবু সমালোচকদের সুবিধা হয় কারো গায়ে একটা লেবেল এঁটে দিতে পারলে। অনেক সময় বলা হয়, এরা এই ধারার কবি, এদের কবিতায় রিরংসা আছে, এদের কবিতায় বিপ্লব আছে। বিষ্ণু দেকে বলা হয় মার্ক্সিস্ট ধারার কবি। কিন্তু তিনি তো এমন অনেক কবিতাও লিখেছেন, যা মার্কসীয় ধারায় পড়ে না। তিনি প্রেমের কবিতা লিখেছেন, নিসর্গের কবিতা লিখেছেন, বিদ্রোহের কবিতাও লিখেছেন। (সম্পূর্ণ…)


Disclaimer & Privacy Policy  |  About us  |  Contact us

© bdnews24.com