শ্রদ্ধাঞ্জলি

বহুবর্ণিল সব্যসাচী সৈয়দ শামসুল হক

ফরিদ আহমদ দুলাল | ২৮ সেপ্টেম্বর ২০১৬ ১০:৪০ পূর্বাহ্ন

DSC01604দীর্ঘপাঠে যখন অনীহা, সৈয়দ শামসুল হক-এর ‘খেলারাম খেলে যা’ তখন নীহাররঞ্জন গুপ্তের ‘কালোভ্রমর’, শহীদুল্লাহ কায়সারের ‘সংশপ্তক’-এর পাশাপাশি আমাকে পাঠে মগ্ন করেছে; পাঠে যখন অভ্যস্ত হয়ে গেছি তখন তাঁর ‘হৃদকলমের টানে’ টেনেছে। সচেতন পাঠ যখন প্রয়োজনীয় উপযোগী বইটি খুঁজেছে, হাতে তুলে নিয়েছি ‘বৈশাখে রচিত পংক্তিমালা’, ‘পায়ের আওয়াজ পাওয়া যায়’, ‘নূরলদীনের সারাজীবন’, ‘অন্তর্গত’, ‘নিষিদ্ধ লোবান’, ‘দূরত্ব’; যখন বহুমাত্রিক সৌন্দর্যে যখন প্রেমকে উপলব্ধি করতে চেয়েছি, তখন পড়েছি ‘পরাণের গহীন ভিতর’। সাহিত্যে যখন দেশপ্রেমে আপ্লুত হতে চেয়েছি, যখন সমসাময়িক নানান প্রসঙ্গ উদ্বেল করেছে অন্তর্জগৎ, তখন পড়েছি ‘এক আশ্চর্য সঙ্গমের স্মৃতি’, ‘রাজনৈতিক কবিতা’; আত্মপরিচয়ের সন্ধানে পড়েছি তাঁর ‘আমার পরিচয়’ শিরোনামের কবিতা। নিজেকে কবিতায় সমর্পণ করে যখন কবিজীবন প্রার্থনা করেছি, তখন অনেক কবির আত্মজৈবনিক রচনার পাশাপাশি অবশ্যপাঠ্য হয়ে উঠেছে সৈয়দ শামসুল হক-এর ‘প্রণীত জীবন’ বা ‘তিন পয়সার জ্যোৎস্না’। জীবনের বাঁকে বাঁকে কবি সব্যসাচী সৈয়দ হক এভাবেই কাঙ্ক্ষিত-প্রার্থিত এবং অনিবার্য হয়ে উঠেছেন একজন সাহিত্যকর্মী এবং মগ্ন পাঠকের কাছে। সৈয়দ শামসুল হক-এর ‘অগ্নি ও জলের কবিতা’ যেমন অন্তর ছুঁয়েছে, তেমনি স্পর্শ করেছে তাঁর অসংখ্য কালজয়ী গানের বাণী। এভাবেই সব্যসাচী সৈয়দ শামসুল হক বারবার আমায় আন্দোলিত করেছেন; একজন তৃষিত পাঠকের চিত্ত সিক্ত করেছেন তাঁর বহুবর্ণিল-বৈচিত্র্যঋদ্ধ সৃষ্টিকর্মের দ্যোতনায়। তাঁর বিভিন্ন আঙিনা নিয়ে ভিন্ন ভিন্ন আলোচনার অবতাড়না হওয়াই যৌক্তিক এবং সঙ্গত; তা না হলে আবিষ্কার-উন্মোচনে যেমন অস্পষ্টতা থেকে যাবার সম্ভাবনা থাকে, তেমনি অতৃপ্তির বিষয়ও থেকে যায়। সমস্ত বিবেচনাকে মাথায় রেখেও বর্তমান আলোচনা সৈয়দ শামসুল হককে নিয়ে, এ আলোচনায় সৈয়দ হক-এর যে কোন আঙিনা যেমন আলোচিত হবে, যে কোন দিক তেমনি স্বল্পালোচিত হবার সম্ভাবনাও আছে। (সম্পূর্ণ…)

‘প্রণীত জীবন’-এর অবসান

মোস্তফা তোফায়েল | ২৮ সেপ্টেম্বর ২০১৬ ৯:৫৮ পূর্বাহ্ন

Syed+Shamsul+Haq_26092016_0001বাংলা সাহিত্যের সব্যসাচী সাহিত্যিক সৈয়দ শামসুল হক। বাংলাদেশে আধুনিকতার চর্চা, বিশেষত গদ্য সাহিত্যে বা কথাসাহিত্যে খুব বেশি দিনের নয়। এ দিক থেকে অগ্রণী অবস্থানে আছেন সৈয়দ হক, যিনি তাঁর সব কটি উপন্যাসেই আধুনিক।
‘প্রণীত জীবন’ সৈয়দ শামসুল হকের আত্মজৈবনিক উপন্যাস। Sons and Lovers যে বৈশিষ্ট্য ও আবেদনে লরেন্স-এর আত্মজৈবনিক উপন্যাস, ‘প্রণীত জীবন’ও সৈয়দ হকের তা-ই। Sons and Lovers এ লরেন্স তাঁর জন্ম, শৈশব, কৈশোর ও বয়োপ্রাপ্ত হয়ে ওঠার জৈবনিক-মনোজাগতিক বর্ণনা দিয়েছেন পল মোরেল নামক এক চরিত্রের আখ্যানে। ‘চেতনাপ্রবাহ তত্ত্ব’ নামে যা বাংলায় অনূদিত – ইংরেজিতে Stream of Consciousness – তার প্রয়োগ সৈয়দ হকের ‘প্রণীত জীবনে’ আছে লেখকের উত্তম পুরুষে। কবি মুহম্মদ নূরুল হুদা ‘যুগান্তর’ সাহিত্যপাতায় ‘দুটি লাল পাখি’ নামক প্রবন্ধে সৈয়দ হকের প্রশংসা করে বলেছেন যে তিনিই বাংলা সাহিত্যে কনফেশনাল সাহিত্যের অন্যতম পথিকৃত। কনফেশনাল সাহিত্য বিবেচনায় নিয়ে আসা হলে ‘প্রণীত জীবন’কেই মানতে হবে সৈয়দ হকের শ্রেষ্ঠ উপন্যাস হিসেবে।
সৈয়দ হকের আরো একটি কনফেশনাল সাহিত্য প্রকৃতির উপন্যাসের নাম ‘বনবালা কিছু টাকা ধার নিয়েছিল’। ‘খেলারাম খেলে যা’ একই ধাঁচে লেখা উপন্যাস। এটি তিনি লিখেছেন পঞ্চাশ দশকের শেষ প্রান্তে, রংপুর জেলা পরিষদ ডাকবাংলার দুই নম্বর কক্ষে এক সপ্তাহ অবস্থানকালে। (সম্পূর্ণ…)

কবি শহীদ কাদরী: আড্ডার উজ্জ্বল পুরুষ ও কবিতার মুহূর্ত

ফারুক আলমগীর | ২০ সেপ্টেম্বর ২০১৬ ১১:৪০ পূর্বাহ্ন

border=0উনিশো বাষট্টির প্রারম্ভে আমাদের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রথম পাঠ গ্রহণের দিনগুলো ছিলো মিছিলে মুখরিত, অতিশয় অগ্নিগর্ভ। আইয়ুবের দুঃসহ সামরিক শাসনের সঙ্গে যোগ হয়েছে শিক্ষানীতির বিরুদ্ধে ছাত্র-সমাজের তুমুল বিক্ষোভ। সেই এক অস্থির সময়েও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংস্কৃতিক কর্মকান্ড স্তব্ধ হয়ে থাকেনি। তুমুল আন্দোলনের মুখে বছরের শেষে সরকার শিক্ষানীতি বাতিল করতে বাধ্য হয়। আন্দোলন স্তিমিত হয়ে কিছুটা শান্তি ফিরে এলে তেষট্টির প্রারম্ভ থেকে পুরোনো বিশ্ববিদ্যালয় ভবনের শ্যাওলা-জমা দেয়ালগুলো নতুনতর স্পর্শে জেগে ওঠে। একদিকে সংস্কৃতি সংসদের উদ্যোগে কবিতার বাণীতে আর আকর্ষণীয় ভাষায় বিস্ময়কর পোস্টারগুলো যেমন নবীনদের মধ্যে প্রেরণার সৃষ্টি করে, অন্যদিকে নতুন ও ব্যতিক্রমী ধরনের সাহিত্য সংকলন গোটা বিশ্ববিদ্যালয় জুড়ে নবতরঙ্গের যবনিকা উন্মোচন করে।

অগ্রজ কবি শহীদ কাদরীর সঙ্গে আমার এবং আমাদের ষাট দশকের নতুন ধারার ব্যতিক্রমী সাহিত্য আন্দোলনের সতীর্থদের কখন প্রথম সাক্ষাৎ ঘটেছিলো মনে নেই। দুর্বল-চিত্ত স্মৃতির কারণে তথাপি সমাচ্ছন্ন নয় এমন অনেক ঘটনা এখনো আমাকে তাড়িত করে। ‘বহুব্রীহি’, ‘প্রতিধ্বনি’, ‘স্বাক্ষর’, ‘সাম্প্রতিক’, ‘কালবেলা’ ও ‘কণ্ঠস্বর’-এর জয়যাত্রা এবং আলোচিত সমালোচিত কালের একটা সময় জুড়ে শহীদ কাদরীই ছিলেন আমাদের একজন অনন্য প্রাতিস্বিক ব্যক্তিত্ব। আমাদের সাহিত্য আন্দোলনের পালের গোদা (কবি রফিক আজাদের দেয়া অভিধা) অগ্রজ অধ্যাপক আবদুল্লাহ আবু সায়ীদের সমবয়সী হলেও আমাদের সম্পর্ক ছিলো অন্যরকমের যা একটা স্বতন্ত্র্য বৈশিষ্ট্যের দাবীদার। সায়ীদ ভাই-এর সঙ্গে আমাদের ভালোবাসা, কঠিন তাত্ত্বিক আলোচনা, কথোপকথনে হাসি-মশকরার মধ্যে একটা সিরিয়াসনেসের দেয়াল ছিলো; শহীদ কাদরী আর আমাদের মাঝে কোন দেয়াল ছিলো না। প্রাচীরবিহীন সম্পর্কে সমতল প্রত্যক্ষ করা যায় দিগন্তের কোল পর্যন্ত, শহীদ কাদরী আর আমাদের সম্পর্ক তাই দিগন্ত ছুঁয়েছিলো।

‘স্বাক্ষর’, ‘কণ্ঠস্বর’-এর কবিদের সঙ্গে শহীদ কাদরীর নিত্য উঠা-বাসা থাকলেও ‘স্বাক্ষর’-এ তাঁর কোন স্বাক্ষর ছিলো না অথচ ‘স্বাক্ষর’ ও ‘কণ্ঠস্বর’-এর করিবাই ছিলো তাঁর সবচাইতে কাছের মানুষ, যেমন আখতারুজ্জামান ইলিয়াস, আবদুল মান্নান সৈয়দ রফিক আজাদ, আসাদ চৌধুরী, সিকদার আমিনুল হক, শহীদুর রহমান, ইমরুল চৌধুরী, প্রশান্ত ঘোষাল, রণজিৎ পাল চৌধুরী– সকলেই তাঁর অনুজ ও প্রিয়ভাজন ছিলেন। তবে স্বাক্ষর গোষ্ঠি ও কণ্ঠস্বর-এর এতগুলো সৃজনশীল মানুষের সঙ্গে সখ্য ও ভালোবাসা থাকলেও কবি শহীদ কাদরী বিশ্ববিদ্যালয় অঙ্গনে, মধুর ক্যান্টিনে কোনদিন আড্ডা দেননি, যদিও তাঁকে কদাচিৎ শরীফ মিয়ার ক্যান্টিনে দেখা গিয়েছিলো। তাও আবার তাঁর পুরোনো ঢাকার আড্ডার একজন প্রিয় অনুজ মাহবুব আলম জিনুর সন্ধ্যানে এসেছিলেন বলে। এই মাহবুব আলম জিনু জগন্নাথ কলেজে একদা সেকদার আমিনুল হকের সতীর্থ ছিলো এবং জিনুর মাধ্যমেই বিশেষ করে আমার শহীদ কাদরীর সঙ্গে প্রগাঢ় সম্পর্ক গড়ে ওঠে। (সম্পূর্ণ…)

এডওয়ার্ড অ্যালবি’র অভিজ্ঞানহীন নান্দনিক জীবনাবসান

আবদুস সেলিম | ১৭ সেপ্টেম্বর ২০১৬ ৭:০৩ অপরাহ্ন

Albeeনাট্যকার এডওয়ার্ড অ্যালবি গতকাল (১৬ সেপ্টেম্বর ২০১৬) ৮৮ বছর বয়সে প্রয়াত হয়েছেন। তিনি সর্বমোট সতেরটি নাটক, বেশকিছু প্রবন্ধমালা এবং তার নিজ নাটক দ্য জ্যু স্টোরির জন্য সঙ্গীত রূপরেখা রচনা করে গেছেন তার এই দীর্ঘ নান্দনিক জীবনযাত্রায়।
বিংশ শতাব্দীর একজন প্রথম সারির মার্কিন তথা বিশ্বের নাট্যকার হিসেবে এডওয়ার্ড অ্যালবিকে গণ্য করা হয় ইউজিন ও’নীল, আর্থার মিলার এবং টেনেসি উইলিয়ামস-এর সাথে। অ্যালবি একমাত্র নাট্যকার যিনি তিনবার পুলিৎজার পুরস্কার পাওয়ার গৌরব অর্জন করেন।
চরিত্রের সুক্ষ্ম চিত্রনের কারণে অ্যালবির ওপর চেখভ এবং টেনিসি উলিয়ামসের প্রভাবের বিষয়টি অস্বীকার করা যায় না, যদিও অ্যালবি ‘ল্যাবেলিং’ বা গায়ে অভিজ্ঞান লাগানো পছন্দ করতেন না।
এডওয়ার্ড অ্যালবি-র জম্ম ১৯২৮ সালে। অ্যালবি গত শতাব্দির পঞ্চাশের দশক থেকে নাটক লেখা শুরু করেন। পরবর্তি কয়েক বছরে তাঁর রচিত বেশ ক’টি একাঙ্কিকা লক্ষনীয়ভাবে লোকগ্রাহ্য হয়ে ওঠে যার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো ১৯৫৯-এ রচিত দ্য জু স্টোরি। কিন্তু অ্যালবির খ্যাতি মূলত ১৯৬২-তে তার প্রথম লেখা পূর্ণাঙ্গ নাটক হু’জ আফ্রেইড আভ ভার্জিনিয়া উল্ফ্-এর মাধ্যমে যেটি এলিজাবেথ টেইলর ও রিচার্ড বার্টন-এর অভিনয়ে ১৯৬৬ সালে চলচ্চিত্রায়িত হয়। (সম্পূর্ণ…)

শহীদ কাদরীর ফেরা ও আমাদের আত্মানুসন্ধান

পুলক হাসান | ৪ সেপ্টেম্বর ২০১৬ ৮:৪৬ অপরাহ্ন

Shahidকবিত্ব শক্তিতে এক আকর্ষণীয় প্রতিভা কবি শহীদ কাদরী। তীব্র নাগরিকবোধ ও মননে তিনি সমর সেনেরই যথার্থ উত্তর সাধক। কিন্তু চমক সৃষ্টিতে রুশ কবি আন্দ্রেই ভজনেসেনস্কির বাংলা সংস্করণ, আবার কাব্য কুশলতায় তাঁর কবিতায় দেখি মেক্সিকান কবি অক্তাভিও পাজের কবিতার ঝলকও। আসলে নাগরিক উপাদানে ভরপুর তাঁর কবিতার প্রধান আকর্ষণ চমক সৃষ্টি। সেই চমক শব্দ, বাক্য, উপমা, স্বর ও দ্যোতনায় একেবারেই কাদরীয়। কবিতায় তাঁর চমক সৃষ্টিতেই প্রজন্ম থেকে প্রজন্ম মোহাবিষ্ট। তিনি যখন ‘গণহত্যা’ শব্দের বদলে ‘গণচুম্বন’ এবং সৈনিকের কাঁধে রাইফেলের বদলে ‘গোলাপ গুচ্ছে’র কথা বলেন তখন অবাক হতে হয় বৈকি! স্মার্ট, নিজস্বতায় উজ্জ্বল, সম্মোহনী কাব্যভাষা ও শুদ্ধ আধুনিকতাবোধের জন্য শুরুতেই মেধাবী কবি হিসেবে চিহ্নিত তিনি প্রতিষ্ঠিত করেন তাঁর সেই বুদ্ধিদীপ্ত ক্যারিসমেটিক অভিনবত্ব। জীবদ্দশায় লিখেছেন মাত্র ১৮০টি কবিতা, কাব্যগ্রন্থ চারটি : উত্তরাধিকার (১৯৬৭), তোমাকে অভিবাদন, প্রিয়তমা (১৯৭৪), কোথাও ক্রন্দন নেই (১৯৭৮) এবং আমার চুম্বনগুলো পৌঁছে দাও (২০০৯)। তবে প্রথম তিনটি গ্রন্থেই তিনি খ্যাতির শিখরে অধিষ্ঠিত। (সম্পূর্ণ…)

কবি শহীদ কাদরীর ঘরে ফেরা

শেখ ফিরোজ আহমদ | ৩ সেপ্টেম্বর ২০১৬ ৮:৪৬ পূর্বাহ্ন

Shahid-Kadree-singleকবি শহীদ কাদরী অন্যভুবনে যাত্রার আগে বাড়ি ফিরতে চেয়েছিলেন। দীর্ঘ প্রবাস জীবন শেষে চির বোহেমিয়ান কবি ৩৮ বছর পর ফিরলেন বটে তার সতীর্থ অনুরাগীদের মাঝে। কিন্তু এই রকম প্রাণহীন ফেরা তো কাম্য ছিলো না কারো। যিনি একদা বলতে পেরেছিলেন ‘রাষ্ট্র মানে লেফট রাইট লেফট’, সমরযন্ত্রের অশুভ আঁতাতে বিপর্যস্ত রাষ্ট্রীয় কাঠামোকে যিনি কবিতার শক্তি দিয়ে আঘাত করেছিলেন, সেই তাকেই পরিবর্তিত রাষ্ট্র অন্তিম অভিবাদন জানায় শহীদ মিনারের পবিত্র পাদদেশে। প্রয়াত কবির সৌজন্যে ইতিহাসের সন্ধিক্ষণে এই বিভা ছিলো আশ্চর্য ও অভাবিত। এভাবে না ফিরে অবশ্য তার আগেই শহীদ কাদরী নিজ দেশে ফিরতে চেয়েছিলেন অন্যভাবে। চতুর্থ বই আমার চুম্বনগুলো পৌঁছে দাও-এর ‘সব নদী ঘরে ফেরে’ কবিতায় এজন্যই বলতে পেরেছেন-

তোমার আমার প্রিয় কবি কোথায় যেন বলেছিলেন-
সব পাখিরা ঘরে ফেরে,
সব নদী।
আমরা কেন দন্ডায়মান
গাছতলাতে নিরবধি।
কীর্তিনাশার কালোস্রোতে
নৌকো ভাসে সারি সারি
এবার আমি বলতে পারি-
যাচ্ছি বাড়ি।
যাচ্ছি বাড়ি।
(সম্পূর্ণ…)

‘তোমার অভিসারে যাব অগম পারে’– কবি শহীদ কাদরীর প্রতি শ্রদ্ধাঞ্জলি

লুতফুন নাহার লতা | ১ সেপ্টেম্বর ২০১৬ ৩:৪৬ অপরাহ্ন

Shahid-Lataনিকটজন কেউ মারা গেলে চট করে তাঁকে নিয়ে কিছু লেখা প্রায় অসম্ভব কাজ। বিশেষ করে আমার জন্যে। আমি তখন কেমন তলিয়ে যাই নানান রকম স্মৃতির ভেতর। ঠিক কোথা থেকে কি দিয়ে শুরু করব তা বুঝতে পারি না। ২৮ আগস্ট কবি শহীদ কাদরী চলে গেলেন। আমার সেই একই বাণী-প্রতিবন্দী দশা।
ভেকেশানে ছিলাম কানাডার টরন্টোতে। সেখানে থেকেই জানলাম কবি শহীদ কাদরী আবার হাসপাতালে। মন খারাপ হয়ে গেল। ফেসবুকে খুটিয়ে খুটিয়ে নিউজগুলো পড়লাম। রক্তে ইনফেকশান। জ্বর। তাঁর শরীর ডায়ালিসিস আর নিতে পারছে না। মন বলল এমন তো অনেকবারই হয়েছে। ঠিক হয়ে যাবে। টরন্টোর ভেকেশান শেষে ফিরে এসেছি নিউইয়র্কে। কবির শরীর আগের চেয়ে ভাল জেনেছি। কারা কবির পাশে আছেন কেমন আছেন খোঁজ নিয়ে জেনেছি। কবি দু’চার দিনের মধ্যে নীরা ভাবীর জামাইকার পারসন্স বুলোভার্ডের বাসায় ফিরবেন তাও জেনেছি। মন শান্ত হয়েছে জেনে যে তিনি ভাল আছেন, কথাবার্তা বলছেন।
২৮ তারিখ সকালে হাঁটাহাটি শেষে ঘরে ফিরব বলে পা বাড়াতেই পকেটে বেজে উঠল ফোন। উডসাইডের বাসা থেকে ফোন করেছে দিঠি হাসনাত। কালি ও কলমের সম্পাদক আবুল হাসনাত ভাইয়ের মেয়ে দিঠি বেশ কিছুদিন হল আছে এই শহরে। ওর ফোনে জানলাম শহীদ কাদরী এই ভোরেই মারা গেছেন। ঢাকা থেকে হাসনাত ভাই তাকে জানিয়েছে। কাকে ফোন করলে সব খবর পাওয়া যাবে জানতে চাইলে হাসান ফেরদৌসকে কল করতে বললাম এবং জানলাম ওরা তখনো হাসপাতালে পৌঁছায়নি, পথে আছে। মুহূর্তেই আমার সারা আকাশ অসম্ভব নীলের চাঁদোয়ায় নিজেকে ঢেকে বোঁ বোঁ করে ঘুরতে লাগল। সারা আকাশ জুড়ে যেন নৃত্যের শেষ ঘূর্ণিচক্রের শেষে, নর্তকীর ঘাগরায় অলস বাতাসের ঝিমধরা ঘূর্ণন। আমি টলতে টলতে ঘরে এসে বসলাম। মন শুধু বলছে ‘অসম্ভব, এ অসম্ভব।’ (সম্পূর্ণ…)

কবি শহীদ কাদরীর প্রয়াণে অগ্রজ ও অনুজ কবিদের প্রতিক্রিয়া

অলাত এহ্সান | ৩১ আগস্ট ২০১৬ ১১:৪৪ অপরাহ্ন

Shahid-Kadree-singleপঞ্চাশের দশকের তিন দিকপাল কবির একজন শহীদ কাদরী। কবিতা কম্পাসে কাটা এখনো তার দিকে দিপ্যমান। স্বাধীনতার আগে থেকে তার যে তুমুল জনপ্রিয়তা তা এখনো অটুট। ১৪ বছর বয়সে বুদ্ধদেব বসুর সম্পাদিক ‘কবিতা’ পত্রিকা কবিতা প্রকাশ করার পর থেকে কবি হিসেবে তিনি সুপ্রতিষ্ঠিতি। দুই বাংলাই তিনি সমান জনপ্রিয়।
৭৩ বছরের জীবনে প্রায় ৬ দশক তারা সাহিত্যের কাল। জনপ্রিয়তার মাঝেও কবিতার সংখ্যায় তিনি ছিলেন আশ্চর্য নির্ভার। খসড়া কবিতায় সংখ্যা বৃদ্ধির চেয়ে সম্পন্ন কবিতা সীমিত থেকেছে তার কাব্যচর্চা। তাই মাত্র চারটি কবিতার বইয়ে ১২৬টি প্রকাশিত কবিতা তার। এই নিয়েই বাংলা কবিতায় স্থায়ী আসন, অমরতা। ষাটের দশকের ‘কণ্ঠস্বর’ ও ‘সমকাল’-এর সফলমিছিলে ঢুকেও স্বকীয়তায় উজ্জ্বল ছিলেন। নাগরিক চৈতন্য, তীর্যক দৃষ্টি, গভীর নির্জনতা, প্রগলভ একাকীত্ব, অমীমাংসিত নির্বাসন তার কবিতায় প্রতিফলিত।
১৯৭৯ সালে দেশ ছাড়া শহীদ কাদরী ৩৭ বছরের প্রবাসজীবনে কোলকাতা, জার্মানি, ইংল্যান্ড, আমেরিকার বোস্টন ও পরে নিউইয়র্কে থিতু হয়েছিলেন। মাঝখানে অবশ্য একবার ঢাকায় ছিলেন কয়েকমাস। তাছাড়া আর আসেননি আড্ডাপ্রাণ এই মানুষটি। এমনকি একুশে পদক নিতেও না। তবু প্রবাস থেকে তিনি লিখেন, ‘আমার চুম্বনগুলো পৌঁছে দাও’।
কবির শেষ ইচ্ছা, তাকে যেন মিরপুর শহীদ বুদ্ধিজীবী কবরস্থানে শায়িত করা হয়।
এই কবির প্রয়াণে শোকস্তদ্ধ কবিতাপ্রেমি ও সংগ্রামীরা। তাকে নিয়ে কথা বলেছেন তার অগ্রজ, সমসাময়িক এবং অনুজ কবিগণ। তাদের কথা এখানে গ্রন্থণা করেছেন তরুণ গল্পকার অলাত এহ্সান। (সম্পূর্ণ…)

‘ব্ল্যাক আউটের পূর্ণিমায়’ খুঁজবো শহীদ কাদরীকে

সাজিদুল হক | ৩০ আগস্ট ২০১৬ ৭:১৯ অপরাহ্ন

Shahid-Kadree-single“সহসা সন্ত্রাস ছুঁলো। ঘর-ফেরা রঙিন সন্ধ্যার ভীড়ে যারা ছিলো তন্দ্রালস দিগ্বিদিক ছুটলো…।” শহুরে বৃষ্টির এই বর্ণনা শহীদ কাদরীর। তরুণ মনের উদভ্রান্ততা আর চারদিকের অসহনীয় পরিবেশ থেকে মুক্তি পেতে আমরাও দিগ্বিদিক হয়ে ফিরে যাই শহীদ কাদরীর কাছে, যিনি মাত্রই চলে গেলেন চিরচেনা এই জগৎ ছেড়ে।

নাগরিক অসহনীয় মনের ছুটে যাওয়া নিরন্তর। কবির মৃত্যু দুঃখ দিলেও বারবার মনে করিয়ে দেয় তার দুঃসাহসিক উচ্চারণগুলো। অল্প কিছু কবিতা দিয়ে যে পারেন পৌঁছে যেতে একটি ভাষার অন্যতম স্থানে, তিনিই শহীদ কাদরী।

একজন শহীদ কাদরীই পারেন জেনারেলদের রবীন্দ্রচর্চার হুকুম দেওয়ার জন্য সরাসরি রাষ্ট্রপ্রধানকে প্রস্তাব দিতে। একজন শহীদ কাদরীই পারেন মন্ত্রীদের গিটার কিনে দেওয়ার অনুরোধ করতে। প্রচণ্ড অস্থিরতায় একজন মানুষ যখন শান্তি খুঁজতে যায় সমাজের তলায়, তখন কাদরীই পারেন ‘আলোকিত গণিকাবৃন্দ’কে স্তব করতে। তিনিই পারেন বলতে, “তোমাদের স্তব বৈ সকল মূল্যবোধ যেন ম্লান!”

রাষ্ট্র যখন হয়ে দাঁড়ায় প্রেমের শত্রু হয়ে, রাষ্ট্রনীতি যখন দাঁড়িয়ে যায় প্রেমিকের সামনে প্রচণ্ড শক্তিশালী হয়ে তখন একজন কবিই পারেন রাষ্ট্র, প্রতিরক্ষা আর প্রেমকে এক কাতারে দাঁড় করাতে। আর সেই কবিই শহীদ কাদরী। একজন কবিকে দিয়ে বঙ্গোপসাগরের সবগুলো রণতরী কমান্ড করাতে পারেন শহীদ কাদরী।

তাইতো কোন একসময় বন্ধু কবীর সুমনকে তিনি বলেছিলেন, “শুনুন সুমন, যখন পাকিস্তানের হানাদাররা আসে, তখন কিন্তু আমরা সবাই পালিয়ে গিয়েছি, আমরা বিভিন্ন জায়গায় আশ্রয় নিয়েছি। আমি আমার কবিতার বইগুলো মাটিতে পুঁতে দিয়েছি। পাইলেতো মারবে। ট্যাংক আসছে, বুঝলেন সুমন, ট্যাংকটা চলে যাচ্ছে সেই মাটির ওপর দিয়ে, যেখানে আমার কবিতার বই পোঁতা। আমার কবিতার বইগুলোকে চাপা দিয়ে যাচ্ছে, আমি সমানে ভাবছি, এবার একবার বিস্ফোরণটা হোক। এবার মাইনের মতো ফাট। ফাটলো না। একবারের জন্য বিস্ফোরণ ঘটাতে পারলাম না। তাহলে কিসের কবিতা? তাহলে আর কিসের কবিতা?” (সম্পূর্ণ…)

মৃত্যুতে থামে না কোন কবির জীবন

আলফ্রেড খোকন | ৩০ আগস্ট ২০১৬ ১:১২ অপরাহ্ন

shahid-alfredপ্রথমে স্বেচ্ছানির্বাসনে বিদেশ-বিভূঁইয়ে, তারপর দেশে ফেরার তীব্র আকুতি থাকা সত্ত্বেও শারীরিক অসুস্থতার কারনে ফিরতে না পারার একবুক বেদনা নিয়ে সুদীর্ঘ পঁয়ত্রিশ বছর প্রবাস জীবন পাড়ি দিয়েছেন তিনি! আশির দশকে বন্ধুদের প্রতি অভিমান করে (তাঁর ভাষায়) দেশ ছেড়েছিলেন। ২০১৪ সালে আমেরিকার জ্যামাইকায় কবির ফ্লাটে বসে কয়েক ঘন্টা আড্ডা হল। এই আড্ডাইটাই আমার সঙ্গে তার প্রথম ও শেষ দেখা। দুজনেরই জরুরী কাজ থাকা সত্ত্বেও কাজের কর্মসূচী কেড়ে নিতে পারল না আমাদের এই আড্ডার সময়। মাত্র ঘন্টা চারেক। তবু মনে হল চার ঘন্টা যেন চার মিনেটেই শেষ হয়ে হাওয়ার মত উড়ে গেল। আর মনে হল কত যুগের পরিচিত আমরা দুজন! বড় ভাই আর ছোট ভাই মিলেমিশে বসে আছি বাংলা কবিতার বাড়িতে।
শহীদ কাদরীর সঙ্গে আমার দেখা হওয়ার ঘটনাটা বলি। কাজের প্রশ্নে আমেরিকার বিভিন্ন রাজ্যে ব্যস্ততম ১৮ দিন কাটিয়ে নিউইয়র্কে ফিরলাম ১৮ সেপ্টেম্বর। ২৩ তারিখ ফিরব দেশে। সম্ভবত ওইদিনই অস্টরিয়ার একটি গেস্ট হাউসে প্রেস কনফারেন্স অনুষ্ঠিত হয়। পরদিন বাংলা কাগজগুলির প্রায় সবকটিতেই আমার ছবিসহ আমেরিকা ভ্রমণের খবর ছাপে। আর ওই দিন হঠাৎ একটি ফোন পাই আমার মোবাইল ফোনে। নারী কণ্ঠ। এটা কি কবি আলফ্রেড খোকন। আমি বললাম হ্যাঁ। আপনি? অপরপ্রান্ত থেকে বললেন, ভাই আমি নীরা ভাবী, শহীদ কাদরীর স্ত্রী। লিপি আমাকে তোমার নম্বরটা দিল বলে তোমাকে পেলাম। শহীদ তোমার খবর পেয়েই বলে যাচ্ছে– ‘ছেলেটা কবে এসেছে, কোথায় থাকছে, কি করছে, কে জানে। আমি তো চলতে পারি না। পারলে ওকে গিয়ে নিজেই একবার নিয়ে আসতাম।’ শহীদের কাছে তোমার কথা এভাবে শোনার পর ভাবলাম তোমাকে একটা ফোন দিই। যদি তোমার সময় হয় এখানে আসার। শহীদ বলেছে তুমি আসলে ওর ভাল লাগত। আমি তৎক্ষনাৎ নীরা ভাবীকে কথা দিই। এটা তো আমার কাছে পরম পাওয়া হবে। আমি আসব। (সম্পূর্ণ…)

দূর থেকে দেখা শহীদ কাদরী

আবদুস সেলিম | ২৯ আগস্ট ২০১৬ ৭:৩৬ অপরাহ্ন

Shahid-Kadree-singleশহীদ কাদরীর সঙ্গে আমার কোনো ঘনিষ্ঠতা ছিলো না। বলতে কি উনি আমাকে চিনতেনও না। পরিচয় হয়েছিলো সম্ভবত গত শতাব্দীর ঊনসত্তুর বা সত্তুর সালে। তখন আবদুল মান্নান সৈয়দ এবং আমি যৌথ সম্পাদনায় ‘শিল্পকলা’ নামে একটি অনিয়মিত লিটল ম্যাগাজিন প্রকাশ করতাম। আমাদের দু’জনেরই কর্মস্থল ছিলো জগন্নাথ কলেজ। পত্রিকা সম্পাদনার কর্মকান্ডে আমরা লেখা সংগ্রহের জন্যে কবি-সাহিত্যিক প্রাবন্ধিকদের সাথে সময় পেলেই সাক্ষাৎ করতাম। সাহিত্য জগতের মানুষদের সাথে আমার তেমন কোনো যোগাযোগ ছিলো না। কারণ আমি কোনো প্রথিতযশা সাহিত্যিক ছিলাম না। ঐ জগতের মানুষদের সাথে আমার একমাত্র যোগসূত্র ছিল মান্নান।
যতদূর মনে পড়ে মান্নান আমাকে শহীদ কাদরীর পুরানা পল্টনের কোনো বাসায় নিয়ে গেছিলেন। শহীদ কাদরী তার আগে পর্যন্ত আমার পাঠ্যতালিকার নাম এবং আলোচনার বিষয় হিসেবেই সীমাবদ্ধ ছিলেন। সেই বাসায় অস্পষ্ট ও আচ্ছন্ন স্মৃতিতে তাকে যতটুকু উদ্ধার করতে পারি তা হলো শারীরিক গড়নে তিনি তখনও একটু মেদাক্রান্তই ছিলেন এবং স্বভাবে প্রমোদাকীর্ণ। সহজেই তিনি সকলকে তার প্রতি আকর্ষিত করতে পারতেন এবং আমাকেও করেছিলেন। অল্প সময়েই আড্ডা জমেছিলো এবং কথা প্রসঙ্গে বললেন, ‘বুঝলেন মান্নান, ভাবছিলাম রবীন্দ্রনাথ হমু তাই লেখাপড়া করি নাই, দাড়ি রাখারও ইচ্ছা আছিলো। কিন্তু এখন বুঝতাছি রবীন্দ্রনাথ হওন এতো সোজা না।’ তিনি যে একথাগুলো হুবহু এভাবেই বলেছিলেন তা দিব্যিকেটে আমি বলতে পারব না কিন্তু আবছা স্মৃতি সর্বদাই এমন একটি সংলাপের কথা আমাকে মনে করিয়ে দেয়। (সম্পূর্ণ…)

শহীদ কাদরী: মৃত্যুর গন্ধ পাচ্ছি, স্বদেশ আমাকে ডাকছে

সাইফুল্লাহ মাহমুদ দুলাল | ২৯ আগস্ট ২০১৬ ৩:০৩ অপরাহ্ন

‘না, শহীদ সেতো নেই; গোধূলিতে তাকে
কখনও বাসায় কেউ কোনদিন পায় নি, পাবে না।
…………………
সভয়ে দরোজা খুলি- এইভাবে দেখা পাই তার- মাঝরাতে;
জানি না কোথায় যায়, কি করে, কেমন করে দিনরাত কাটে
চাকুরিতে মন নেই, সর্বদাই রক্তনেত্র, শোকের পতাকা
মনে হয় ইচ্ছে করে উড়িয়েছে একরাশ চুলের বদলে !
না, না, তার কথা আর নয়, সেই
বেরিয়েছে সকাল বেলায় সে তো- শহীদ কাদরী বাড়ি নেই।’
(অগ্রজের উত্তর/ শহীদ কাদরী)

Shahid
ক] মাতৃভূমি ত্যাগ করা লেখকের আত্মহত্যার সামিল
চির বাউন্ডুলে জীবিত শহীদ কাদরী বাড়ি ফেরেননি। এখন ফিরবেন লাশ হয়ে। দশ বছর বয়সে অর্থাৎ কৈশোরে ১৯৫২ সালে জন্মভূমি কলকাতা ছেড়ে ঢাকা আসেন। ঢাকায় বেড়ে ওঠা যৌবনের দিনগুলো ফেলে ১৯৭৮ সালে বিদেশ পাড়ি জমান। জন্মভূমি আর মাতৃভূমির নীড় ছেড়ে হাজার হাজার মাইল দূরে উড়াল দিয়ে চলে গেলেন নিরুদ্দেশে। তারপর আর ঘরে ফিরেননি। হয়ত তাঁকে অনেকেই খুজঁছেন। পাচ্ছেন না। তাই তিনি লিখেছেন- ‘অগ্রজের উত্তর’ কবিতা। বড়ভাই বলছেন-‘না, শহীদ সেতো নেই; গোধূলিতে তাকে/ কখনও বাসায় কেউ কোনদিন পায় নি, পাবে না।/ … বেরিয়েছে সকাল বেলায় সে তো- শহীদ কাদরী বাড়ি নেই।’ (সম্পূর্ণ…)

« আগের পাতা | পরের পাতা »

Disclaimer & Privacy Policy  |  About us  |  Contact us

© bdnews24.com