বই

আন্তর্জাতিক প্রকাশনা এসোসিয়েশনে তিন বাংলাদেশি

অলাত এহ্সান | ২১ এপ্রিল ২০১৭ ৪:৫৬ অপরাহ্ন

Mazhar+Tariq+Sayokএশিয়ার প্রকাশকদের আন্তর্জাতিক সংগঠন এশিয়া প্যাসিফিক পাবলিশার্স এসোসিয়েশন (এপিপিএ)-এর প্রথম সারিতে বাংলাদেশের প্রকাশক নির্বাচিত হওয়ায় প্রকাশনা শিল্পের আন্তর্জাতিক অঙ্গনে এই প্রথম বাংলাদেশের প্রকাশকদের নেতৃত্বের যাত্রা সূচনা হয়েছে। এ বছর এপিপিএ-এর বার্ষিক সাধারণ সভায় বাংলাদেশ জ্ঞান ও সৃজনশীল প্রকাশক সমিতির সভাপতি মাজহারুল ইসলাম ভাইস প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হয়েছেন। এছাড়া বহুজাতিক এই সংঘের ইন্টারন্যাশনাল এফেয়ার্স এন্ড স্পেশাল ইভেন্ট কমিটির চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছে কবি ও সাংবাদিক তারিক সুজাত। সংঘের আরেকটি নির্বাহী কমিটি কো পাবলিশিং, ট্রান্সলেশন এন্ড ডিস্ট্রিবিশন-এর চেয়ারম্যান হয়েছেন বাংলাদেশ জ্ঞান ও সৃজনশীল প্রকাশক সমিতির নির্বাহী পরিচালক কামরুল হাসান শায়ক।
আন্তর্জাতিক প্রকাশক সংগঠনের প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হয়েছেন ফিলিপাইনের ডোমিনেডর বুহেইন। সেক্রেটারি জেনারেল হয়েছেন দক্ষিণ কোরিয়ার এরিক ইয়াং।
গত বৃহস্পতিবার দক্ষিণ কোরিয়ার রাজধানী সিউলে অ্যাসোসিয়েশনের বার্ষিক সাধারণ সভা শুরু হয়। হোটেল শেরাটান ডি কিউব-এ অনুষ্ঠিত সভার শুরুতে ২০১৭-২০১৮ মেয়াদের জন্য নতুন নেতৃত্ব নির্বাচিত হন। (সম্পূর্ণ…)

সাম্প্রতিক বিশ্বসাহিত্য: দ্য জাঙ্গল বুক-এর চোখধাঁধানো নতুন অলংকরণ

বিপাশা চক্রবর্তী | ২৯ এপ্রিল ২০১৬ ৫:৩৩ অপরাহ্ন

kipling_rudyard.jpg
রুডইয়ার্ড কিপলিং-এর বিখ্যাত শিশুতোষ গল্প দ্য জাঙ্গল বুক আমাদের সকলেরই হৃদয় ও কল্পনা জুড়ে কম বেশি জায়গা করে আছে। সেই কবে ১৮৯৪ সালে প্রথম প্রকাশিত হয় দ্য জাঙ্গল বুক। বনের ভেতর নেকড়ে পরিবারের কাছে বেড়ে ওঠা একটি শিশুর গল্প আজও এই একবিংশ শতকের ব্যস্ত আধুনিক শহুরে মানুষদের মাতিয়ে রেখেছে। তার সবচেয়ে বড় প্রমাণ মাত্র কিছুদিন আগে মুক্তি পাওয়া ওয়াল্ট ডিজনি প্রযোজিত চলচ্চিত্রটি যা নিয়ে এই মুহূর্তে মজে আছে গোটা পৃথিবী, ছেলে বুড়ো সবাই। তবে দ্য জাঙ্গল বুক’কে নিয়ে এটাই প্রথম চলচ্চিত্র নয়। এর আগে এই ওয়াল্ট ডিজনি পিকচারস বানিয়েছিল এনিমেটেড মিউজিক্যাল কমেডি ফ্লিম ‘দ্য জঙ্গল বুক’। তারই ধারাবাহিকতায় ২০১৬-এর এপ্রিলে মুক্তি পায় আধুনিক ডিজিটাল প্রযুক্তিনির্ভর চলচ্চিত্রটি। শুধু কি তাই, পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে বিভিন্ন ভাষায় এ পর্যন্ত দ্য জাঙ্গল বুক ও এর প্রধান চরিত্র মোগলিকে নিয়ে এখন পর্যন্ত তৈরি হয়েছে বহু কার্টুন ও এনিমেটেড শো, কমিকস, টিভি সিরিজ কত কিছু। এই শিশুতোষ গল্পটি কেবল সাহিত্যক্ষেত্রেই অনন্য নয় বরং একে উপজীব্য করে গড়ে উঠেছে বিভিন্ন প্রকার ব্যবসায়িক মুনাফা লাভের কার্যক্রম। সম্ভবত মানুষের রক্তে সুপ্ত হয়ে থাকা আদিম বন্যতাই তাকে বার বার নিয়ে যায় জঙ্গলে বেড়ে ওঠা মোগলি ও তার পশুবান্ধব বালু, বাঘেরাদের কাছে। মানুষ যেন নিজেকে ফিরে পায় মোগলির মাধ্যমে। এমনকি শিল্পীর চোখেও বার বার কল্পিত ও অংকিত হয়েছে মোগলি ও দ্য জাঙ্গল বুক-এর অন্যান্য চরিত্র এবং ঘটনা। border=0আরও মজার ব্যাপার হলো দ্য জাঙ্গল বুক-এর প্রথম সংস্করণের অলংকরণ করেছিলেন রুডইয়ার্ড কিপলিং-এর পিতা জন লকউড কিপলিং।

সম্প্রতি দশ জন শিল্পী ও আঁকিয়ে দ্য জাঙ্গল বুক থেকে তাদের প্রিয় দৃশ্য ও চরিত্রগুলিকে নতুনরূপে সৃষ্টি করার রঙিন চেষ্টা করেছেন। এক নজর দেখা যাক তাদের সেই বর্ণিল শিল্পকর্ম। (সম্পূর্ণ…)

সাম্প্রতিক বিশ্বসাহিত্য:ভাষারাজ্যের তীর্থযাত্রী ঝুম্পা লাহিড়ী ও টেন্টাকলের মার্গারেট এটউড

বিপাশা চক্রবর্তী | ২৩ মার্চ ২০১৬ ৮:৩৬ অপরাহ্ন

combo.jpg

ইটালিয়ান ঝুম্পা লাহিড়ী

“যখন আপনি প্রেমে পড়বেন, তখন চিরকাল বেঁচে থাকতে চাইবেন। আপনি আবেগ উত্তেজনার শেষ বিন্দুটুকু অনুভব করতে চাইবেন। ইতালিয়ান ভাষায় পড়তে গিয়ে আমার এমনই অনুভব হচ্ছিল। আমি মরতে চাই না, কেননা আমার মৃত্যুর অর্থ হবে ভাষা আবিস্কারের অবসান। কারণ প্রতিদিনই নতুন নতুন শব্দ শেখার আছে। এভাবেই সত্যিকারের ভালবাসা চিরন্তন হয়”।

ঝুম্পা লাহিড়ী তাঁর জমকালো স্মৃতিকথা ইন আদার ওয়ার্ডস সম্পর্কে এভাবেই নিজের অভিব্যক্তি প্রকাশ করেছেন ‘দ্য নিউইয়র্ক টাইমস’কে দেয়া সাম্প্রতিক এক সাক্ষাৎকারে। বইটি তিনি লিখেছেন ইটালিয়ান ভাষায়।
ঝুম্পার বাবা মায়ের ভাষা ছিল বাংলা। ভারতের পশ্চিমবঙ্গ থেকে প্রথম ইংল্যান্ডে যান সপরিবারে , এখানেই লন্ডন শহরে জন্ম হয় নিলাঞ্জনা সুদেষ্ণা’র। হ্যাঁ, ঝুম্পা লাহিড়ীর ওটাই ছিল জন্ম নাম, কিন্তু পরিচিতি পেলেন ডাকনামে। কেননা ঐ নামটার উচ্চারণ সহজ ছিল না ইংরেজি ভাষাভাষীদের কাছে। তারপর বাবা মায়ের সাথে আমেরিকায় অভিবাসন ও বেড়ে ওঠা। তবে কোলকাতায় নিয়মিত আসা যাওয়া লেগেই থাকত ঝুম্পার। কারণ বাবা মা সবসময় চাইতেন তাদের সন্তান নিজের সংস্কৃতিকে জানুক। তাই ছোটবেলা থেকেই বাংলা ও ইংরেজি এই দুই ভাষার সান্নিধ্যেই বড় হয়েছেন এই ভারতীয়-মার্কিন লেখক। যদিও তিনি খুব ভালভাবে বাংলা লিখতে পড়তে পারেন না, তবুও ছোটবেলায় মাকে দেখেছেন বাংলায় কবিতা লিখতে। যখন বয়স ৩২ তখন ইংরেজি ভাষায় লেখা প্রথম বই ইন্টারপ্রেটার অফ মালাদিস-এর জন্য পেলেন পুলিটজার পুরস্কার। এরপরের বইটি দ্য নেমসেক নিউইয়র্ক টাইমস বেস্ট সেলার, এমনকি একই নামে একটি চলচ্চিত্রও তৈরি হয়েছিল। ইংরেজিতে লেখা সর্বশেষ দ্য লো ল্যান্ড বইটিও দারুন জনপ্রিয়তা পেয়েছে। (সম্পূর্ণ…)

আই হেট দ্য ইন্টারনেট

জাকিয়া সুলতানা | ২২ মার্চ ২০১৬ ১০:১৫ পূর্বাহ্ন

i-hate-the-internet.jpgআমেরিকান অ্যাকশন ফিল্ম “মাচেতে(২০১০)”-এ একটি দৃশ্য রয়েছে যেখানে, নায়ক ড্যানি ট্রেজো তার এক প্রতিপক্ষের পেট চিড়ে নাড়িভুঁড়ি বের করে ফেলে এবং সেটাকে দড়ি হিসেবে ব্যবহার করে উঁচু দালান থেকে লাফিয়ে পড়ে। অ্যাকশনধর্মী সিনেমাগুলোতে এ ধরনের দৃশ্যের অবতারণা নতুন বটে!

জ্যারেট কোবেকের নতুন উপন্যাস আই হেট দ্য ইন্টারনেট-এ লেখক তথাকথিত ইনফর্মেশন হাইওয়েতে আমেরিকান চেতনার অন্ত্রে ছুঁড়ি চালানোর মতোই কৌশল ব্যবহার করেছেন। তবে জনাব কোবেক এই উপন্যাসে উল্লাসে নাকি অবসাদে একাজ করেছেন তা ভেবেই পাঠক কিছুটা বিমুঢ় হয়ে যাবে।

তবে ‘আমি অন্তর্জাল ঘৃণা করি’ বা আই হেট দ্য ইন্টারনেট–এরকম দুর্বল শিরোনাম দেখে বিচলিত হওয়ার কিছু নেই। আপনার সেলফিগুলো আকর্ষণীয় না হয়ে কেবলই কেন গোমড়ামুখো হচ্ছে, তা মোটেই এই বইয়ের বিষয়বস্তু নয় বরং এটা একটা রগরগে রাজনৈতিক এবং সামাজিক বাগাড়ম্বরতা, নতুন বৈশ্বিক সময়ে নৈতিকতা এবং ক্ষমতার বিশুদ্ধ গলাবাজি যা পাঠকের তাজা মনে টগবগে ফুটন্ত আভাস হিসেবে দেখা দেয়। (সম্পূর্ণ…)

গ্রন্থমেলা ২০১৬ : নির্বাচিত বই

অলাত এহ্সান | ২৯ ফেব্রুয়ারি ২০১৬ ১১:৩৩ অপরাহ্ন

13_bookfair_29022016_08.jpgফাল্গুনে শুরু হয় অমর একুশে গ্রন্থমেলা। শেষ হয় বসন্তের যৌবনে পা রেখে। গত কয়েক বছরে মেলার পরিধি বেড়েছে। বেড়েছে মেলাকেন্দ্রিক বই প্রকাশের উৎসাহ। মাত্র একমাসে প্রতিবছর প্রায় চার হাজার বই প্রকাশ হচ্ছে। এর বিরাট অংশই তরুণ লেখকদের বই। বিপুল সংখ্যক বই প্রকাশের কারণে তার মান কতটুকু বজায় রাখা সম্ভব হয়, সেই প্রশ্ন থেকেই যায়। মেলা উপলক্ষেএ পর্যন্ত প্রকাশিত বইগুলোর একটা সংক্ষিপ্ত তালিকা বইয়ের নাম, লেখক, প্রকাশক ও গায়ের মূল্য উল্লেখসহ আলাদা আলাদা বিভাগে উপস্থাপন করা হলো। তালিকাটি প্রস্তুত করেছেন গল্পলেখক অলাত এহসান। (সম্পূর্ণ…)

মাহবুবুল হক শাকিলের প্রেম ও অপ্রেমের নান্দনিক পৃথিবী

নওশাদ জামিল | ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০১৬ ১১:০৫ পূর্বাহ্ন

border=0প্রেমের কবিতা রচনা, অনেকেই মনে করেন, কাজটা খুব সহজ নয়। কেননা আবেগের আতিশয্যে এ ধারার কবিতা কখনো কখনো তরল হয়ে যেতে পারে, যায়ও। মাহবুবুল হক শাকিলের কবিতা পড়তে পড়তে মনে হয়–প্রেমের কবিতা লেখাটা তাঁর কাছে তেমন কঠিন নয়। শ্রাবণের বর্ষণে কিংবা ঝর ঝর বাদল সন্ধ্যায় ঘোরলাগা সুরে গেয়ে ওঠে তাঁর প্রেমিকমন। কবি ভর করেন অদ্ভুত এক শকটে–মাঠঘাট, সুবজ বনানী, তেপান্তর, রাজপথ ছাড়িয়ে তা ছুটে চলে প্রেমানুভূতির ঠিকানায়–গূঢ় ও গভীর একটা প্রেমতীর্থে। যাত্রাপথে তাঁর নিজস্ব দর্পনে ভেসে ওঠে ব্রহ্মপুত্রপাড়ের রাশি রাশি স্মৃতিসম্ভার, জেগে ওঠে ফেলে আসা শৈশব, দূরন্ত কৈশোর, যৌবনের টানাপোড়েন অথবা রত্নখচিত প্রেমের স্বরলিপি।

প্রেমকে কাব্যকলায় নান্দনিক রূপ দেয়ার এক স্বভাবগুণ তাঁর কবিমানসে প্রোথিত, আর ওই সত্তার প্রাণোচ্ছ্বল উৎসারণে মাহবুবুল হক শাকিলের কবিতাগুলো হয়ে উঠেছে নান্দনিক মর্মরিত ও শিল্পমণ্ডিত। (সম্পূর্ণ…)

গ্রন্থাগারের জন্য ভালোবাসা

বিপাশা চক্রবর্তী | ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০১৬ ১:১২ অপরাহ্ন

library.jpg১৯৭১, মিশিগানের ট্রয় শহরের গ্রন্থাগারিক মার্গারেট হার্ট স্থানীয় শিশুদের জন্য নতুন স্থাপিত গ্রন্থাগারের উপকারিতা ও গুরুত্ব সম্পর্কে কিছু লেখার জন্য সমাজের বিশিষ্টজনদের অনুরোধ করেন। এ জন্য তিনি বিশ্বজুড়ে বিভিন্ন শিল্পী, লেখক, রাজনীতিবিদদের, এমনকি ধর্মজাযকদেরও অনুরোধ করেন। এর প্রতিউত্তরে ডঃ সিউস, পোপ পল ষষ্ঠ, নিল আর্মষ্ট্রং, কিংসলে আমিস ও আইজ্যাক আসিমভ-এর চিঠিসহ ৯৭টি লেখা আসে।
৪৫ বছর পর গত ৬ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাজ্যের জাতীয় গ্রন্থাগার দিবস উপলক্ষ্যে ইংল্যান্ডের আর্ট কাউন্সিল সেই চিঠিগুলির বরাদ দিয়ে আরেকবার ট্রয় গণগ্রন্থাগারের জন্য লেখা আহবান করা হয়। আর এতে বেশ সাড়া পড়ে। আর্ট কাউন্সিলের পরিচালক ব্রায়ান এ্যশলে বলেন, “গ্রন্থাগারের জন্য স্মৃতি সংরক্ষণে বিভিন্ন লেখক ও ব্যক্তিত্বের কাছ থেকে যে সাড়া আমরা পেয়েছি তা অভূতপূর্ব। তখনকার সময় থেকে তা সংখ্যায় বা রূপে ভিন্ন হতে পারে, কিন্তু গ্রন্থাগারের জন্য এ ধারণা ও এর গুরুত্ব একই থাকবে। (সম্পূর্ণ…)

ইতিহাসের দলিল ‘প্রসাদ: বাঙলাদেশ সংখ্যা’

শান্তা মারিয়া | ২০ ফেব্রুয়ারি ২০১৬ ৩:৫৭ অপরাহ্ন

proshad-book-cover-update.jpg‘ববিতা সম্বন্ধে সঠিক করে কিছু জানা না থাকলেও এটুকু আমরা জেনেছি যে ববিতা ওখানকার প্রখ্যাত অভিনেত্রীদের অন্যতম। অনেক অনেক বাঙলা ও উর্দু ছবিতে অভিনয় করেছেন উনি-’
শুধু ববিতা নন, রয়েছেন কবরী, আজিম, সুজাতা, সুভাষ দত্ত, দিলীপ সোমসহ অনেক তারকার পরিচিতিমূলক লেখা ও সাক্ষাৎকার, কবি নির্মলেন্দু গুণের একটি দীর্ঘ সাক্ষাৎকার, বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের অনেক দুর্লভ আলোকচিত্র। আমাদের বিজয়ের অব্যবহিত পরে, ১৯৭২ সালে (বাংলা ১৩৭৮) মাঘ মাসে প্রকাশিত হয়েছিল সিনে ম্যাগাজিন ‘প্রসাদ, বাঙলাদেশ সংখ্যা’। ৪৩ বছর পর সেই দুর্লভ সংখ্যাটি পাঠকের কাছে পৌঁছে দিল বিপিএল।
বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে ভারতের পশ্চিমবঙ্গের বুদ্ধিজীবীদের সমর্থন ও সহযোগিতা ছিল অকুণ্ঠ। টালিগঞ্জও তার ব্যতিক্রম নয়। বাংলাদেশের মুক্তিসংগ্রামী চলচ্চিত্রসমাজের পাশে তারা বাড়িয়ে দিয়েছিলেন সহযোগিতার হাত। দেশ স্বাধীন হওয়ার পরও এই সম্পর্ক অমলিন ছিল। সে সময় কলকাতার বহু অভিনয় শিল্পী বাংলাদেশের সিনেমায় অভিনয় করেছেন। বাংলাদেশের চিত্রতারকারাও জনপ্রিয়তা পেয়েছেন ওপার বাংলায়। ১৯৭২ সালে যে ববিতা ছিলেন কলকাতায় প্রায় অপরিচিত, তিনি পরে অভিনয় করেছেন সত্যজিৎ রায়ের ‘অশনি সংকেতের’ মতো অমর ছবিতে। (সম্পূর্ণ…)

সাম্প্রতিক বিশ্বসাহিত্য:চিরকালের শত শ্রেষ্ঠ ননফিকশন

বিপাশা চক্রবর্তী | ২০ ফেব্রুয়ারি ২০১৬ ১২:২৯ পূর্বাহ্ন

nonfiction.jpgরাজনীতি, শিল্প, ইতিহাস, সাহিত্য, বিজ্ঞান ও ক্রীড়া, যুদ্ধ,স্মৃতিকথা ও জীবনী, মনোজগত,সংস্কৃতি,দর্শন,সমাজ ও পরিবেশ–এমনসব প্রকৃত বা বাস্তব তথ্যভিত্তিক রচনাবলী হচ্ছে নন-ফিকশন সাহিত্য। বিশ্ব-সাহিত্যের সুবিশাল রত্নভাণ্ডার থেকে গুরুত্বপূর্ণ একশটি নন-ফিকশন গ্রন্থের তালিকা বাংলা ভাষাভাষী পাঠকদের জন্য উপস্থাপন করা হলো। এগুলো এযাবৎ কালের মানব সভ্যতার ইতিহাসে কেবল অনন্য নজিরই স্থাপন করেনি, বরং এসব গ্রন্থের কারণে ইতিহাস রচিত হয়েছে নতুনভাবে। এসব অমূল্য গ্রন্থ পাল্টে দিয়েছে প্রকৃতিকে দেখার ক্ষেত্রে আমাদের দৃষ্টিভঙ্গি, বৃদ্ধি করেছে জানার পরিধি। নতুন করে রূপায়িত করেছে আমাদের ভাবনার জগত। এই সব মহান গ্রন্থের কিছু আপনি হয়তো পাঠ করেছেন,আর কিছু হয়তো আপনার পাঠের অপেক্ষায়।
পাঠকদের সুবিধার্থে, বিষয়ভিত্তিক মিল অনুযায়ী গ্রন্থের নাম, লেখক, তারিখ উল্লেখসহ আলাদা আলাদা বিভাগে উপস্থাপন করা হলো । (সম্পূর্ণ…)

মানুষের জাদুবিশ্বাস ও ধর্মাচারের সোনালি বৃক্ষশাখা

আবদুস সেলিম | ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০১৬ ১০:৫৪ অপরাহ্ন

golden-bough.jpgযদিও স্কটল্যান্ডীয় নৃতাত্ত্বিক স্যার জেমস জর্জ ফ্রেজার রচিত দ্য গোল্ডেন বাউ-এর নামকরণের পেছনে ওক গাছে জন্মানো ঐ নামেরই এক পরগাছার প্রতি মানবজাতির বিপুল জাদুকরী আকর্ষণের প্রতিচ্ছবি ফুটে ওঠে, তবুও আমি মনে করি উনবিংশ শতাব্দির শেষ দশকে রচিত এই গ্রন্থ বহুমাত্রিক মানসিক অভিঘাত সৃষ্টিতে শুধুমাত্র পাশ্চাত্যে নয়, প্রাচ্যেও বিরাট অবদান রেখেছে। এর অন্যতম কারণ গ্রন্থটিতে সমগ্র মানবজাতির ধর্মীয় ও বৈজ্ঞানিক চিন্তাধারার সাযুজ্য খুঁজে পেতে ফ্রেজার তুলে এনেছেন ফলন-কৃত্যানুষ্ঠান, দেবতার উদ্দেশ্যে মানব উৎসর্গ, মরণশীল রাজ-দেবতা (রাজর্ষি) ইত্যাদির মত নৃতাত্ত্বিক বিষয়গুলো যার সাথে বিশ্বের সকল মানবগোষ্ঠীর এক ‘কালেকটিভ আনকনসাস’ সম্পর্ক বিদ্যমান ঠিক যে কারণে বক্ষ্যমান আলোচনার শিরোনাম দিয়েছি ‘মানুষের জাদুবিশ্বাস ও ধর্মাচারের সোনালি বৃক্ষশাখা’ জাদুতে বিশ্বাস সময়ে সুসংহত ধর্মে উত্তরিত হয় এবং চূড়ান্তভাবে বিশ্বাসে রূপান্তরিত হয় বিজ্ঞানের শক্তিতে – মানব ইতিহাসের এটাই বিশ্বাসযোগ্য তিনটি স্তর। (সম্পূর্ণ…)

রবীন্দ্রনাথের জমিদারগিরি: রবীন্দ্রজীবনের তথ্য ও সত্য

মুহিত হাসান | ১৩ ফেব্রুয়ারি ২০১৬ ৬:১২ অপরাহ্ন

jamidargiri.jpgরবীন্দ্রনাথ বিষয়ে বছরে বছরে বাংলা ভাষায় মোট কয়টি বই প্রকাশিত হয়, সেই হিসাব পাওয়া দুষ্কর। তবে সেসবের মধ্যে মানসম্পন্ন কিংবা ভিন্নতাবাহী বইয়ের সংখ্যা নেহাতই কম― এমন ধারণা কষ্টকল্পিত নয়। তাই রবীন্দ্র-সংশ্লিষ্ট কোনো ব্যতিক্রমী বই পাঠান্তে একইসঙ্গে সমৃদ্ধ ও শাণিত হই। তৃপ্তির সঙ্গে তেমনই একটি বই পড়া গেল সম্প্রতি, কুলদা রায় ও এম আর জালালের লেখা রবীন্দ্রনাথের জমিদারগিরি। নামটি সাদামাটা, কিন্তু বইয়ের ভেতরের মালমশলা মোটেও সেরকম নয়―বরং এই বইয়ের উদ্দেশ্য রবীন্দ্রনাথের জীবনপ্রবাহের নানান ঘটনাকে তথ্য ও সত্য উপস্থাপনের মাধ্যমে পাঠকের সামনে স্বচ্ছরূপে তুলে ধরা। এজন্য লেখকদ্বয় গুজব ও রটনার মায়াবী পর্দাকে নিপুণ হাতে সরিয়ে দিতে উদ্যোগী হয়েছেন। (সম্পূর্ণ…)

‘যখন ক্রীতদাস স্মৃতি ’৭১’: দহন ও দ্রোহের অনন্যোপায় প্রকাশ

অলাত এহ্সান | ৮ ফেব্রুয়ারি ২০১৬ ১১:১৯ অপরাহ্ন

border=0বইটি পড়ে মনে হয়, লেখক নাজিম মাহমুদ এটি মোটেই লিখতে চান নি। কিন্তু সেই সময়ের অবস্থা এমনই ছিল যে, এটা লিখতে বাধ্য হয়েছেন। অনন্যোপায় হয়ে লিখেছেন। প্রচণ্ড অনীহা ও সন্দিগ্ধতার ভেতর দিয়ে লিখেছেন। একজন মানুষের দহন ও দ্রোহের গভীর থেকেই কেবল এই ধরনের স্মৃতি লেখা যায়। আমরা যতটা সহজভাবে মুক্তিযুদ্ধের সময়কে ফ্রেম বন্ধী করি, ব্যাপারটা ঠিক ততটা সহজ কিছু ছিল না। এর এক-একটি মুহূর্ত এক-একটা বছর কিংবা যুগের যন্ত্রণা নিয়ে হাজির হয়েছে কারো জীবনে। হানাদারদের কবল থেকে বাঁচতে গিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় এলাকা ছেড়ে একটু দূরের মীরগঞ্জে আশ্রয় নিয়েছেন লেখকের পরিবার, সেখানেও হানাদারদের উপস্থিতি। তখন বাঁচার তাগিদে গর্তে নেমেছিলেন সপরিবারে। হায়, সেটা বাঁচার জন্য ক্ষণিক আশ্রয় হলেও, ওটা মানুষের মল-মূত্রের ওই ভাগাড়ে এক মুহূর্ত একবছরের চেয়েও দীর্ঘ মনে হবে।

তাছাড়া মুক্তিযুদ্ধের সময়প্রবাহে অজস্র গলি, রন্ধ্র, চোরাস্রোত, চোরাবালির ফাঁদ আর মহাকালের গহ্বরের মতো অতিকায় ক্ষত ছিল। সেই ক্ষতগুলো, ফাঁকগুলো খুঁজে বের করা দরকার। যুদ্ধকালীন পরিস্থিতিতে একটা বিশ্ববিদ্যালয় চত্বর কিভাবে অজস্র চোরাবালির ক্ষেত্র হয়ে উঠতে পারে, তার ওপর দিয়ে কিভাবে শ্বাপদরা দাপিয়ে বেড়ায় নাজিম মাহমুদ আমাদের সেই দিকে নজর এনেছেন। এটা কেবল কোনো ভাগ্যবিড়ম্বিত মানুষের আত্মকথা নয়, এটা পৃথিবীর যেকোনো প্রান্তে মুক্তিযুদ্ধের সময় ভেতরের শক্তিকে চিহ্নিত করে, মানুষের যন্ত্রণার অবয়ব তুলে ধরে। (সম্পূর্ণ…)

পরের পাতা »

Disclaimer & Privacy Policy  |  About us  |  Contact us

© bdnews24.com