বক্তৃতা

রবার্ট ব্রাউনিং সম্পর্কে হোর্হে লুইস বোর্হেসের বক্তৃতা

আবদুস সেলিম | ২৫ আগস্ট ২০১৬ ৩:৪৯ অপরাহ্ন

Jorge Luis Borgesহোর্হে লুইস বোর্হেস ১৯৬৬ সালে বুয়েনোস আইরেস বিশ্ববিদ্যালয়ে ইংরেজি সাহিত্যের উপর পঁচিশটি বক্তৃতা দেন। এগুলো বহু বছর পর স্প্যানিশে মার্তিন আরিয়াস এবং মার্তিন হাদিস-এর সম্পাদনায় প্রকাশিত হয় ২০০০ সালে। আর ২০১৩ সালে এই বক্তৃতাগুলো ক্যাথেরিন সিলভার অনুবাদে ইংরেজিতে প্রকাশিত হয় প্রফেসর বোর্হেস নামক গ্রন্থে। এই গ্রন্থে অন্তর্ভুক্ত উনিশ নাম্বার বক্তৃতাটির বাংলায় তর্জমা করা হলো। তর্জমা করেছেন অধ্যাপক ও অনুবাদক আবদুস সেলিম।

ক্লাশ ১৯
রবার্ট ব্রাউনিং-এর কবিতা।
আলফন্সো রেইয়েস-এর সাথে আড্ডা।
দ্য রিং অ্যান্ড দ্য বুক।
বুধবার, নভেম্বর ৩০, ১৯৬৬

রবার্ট ব্রাউনিং-এর সাহিত্যকর্ম নিয়ে আমরা আজ আলোচনা করবো। মনে পড়ে একবার ব্রাউনিংকে তাঁর একটি কবিতার ব্যাখ্যা দেবার অনুরোধ করা হয়েছিলো। তিনি উত্তরে বলেছিলেন, কবিতাটা আমি অনেক আগে লিখেছি। যখন লিখেছিলাম তখন আমি এবং আমার ঈশ্বর জানতেন এর সঠিক ব্যাখ্যা। বর্তমানে শুধুমাত্র ঈশ্বরই জানেন এর মূল অর্থ। স্পষ্টতই তিনি প্রশ্নটির উত্তর এড়িয়ে গেছেন।
ব্রাউনিং এর কম গুরুত্বপূর্ণ কিছু কবিতা নিয়ে আমি আলোচনা করেছি। প্রসঙ্গত একটি কবিতা আমি আপনাদের কাছে সুপারিশ করবো যদিও তার সঠিক ব্যাখ্যা আমি দিতে পারবো না, এমনকি ভাসাভাসা ব্যাখ্যা দেওয়াও আমার পক্ষে সম্ভব নয়। তার লেখা সম্ভবত সবচাইতে বিস্ময়কর কবিতা এটি। কবিতাটির শিরোনাম ‘চাইল্ড রোলান্ড টু দ্য ডার্ক টাউয়ার কেইম’। চাইল্ড শব্দটির অর্থ সাদামাটা শিশু নয়, এ শিশু প্রাচীনকালের অভিজাত শিশু অর্থে ব্যবহৃত আর তাই এর ইংরেজি বানানটি হয়েছে Childe অর্থাৎ চাইল্ড শব্দটির সাথে একটি e জুড়ে দেওয়া আছে শিশুটিকে অভিজাত বংশীয় বোঝাবার জন্য। এই পংক্তিটি শেক্সপিয়র থেকে নেয়া (কিং লিয়র, তৃতীয় অঙ্ক, চতুর্থ দৃশ্যে গ্লসটারের জেষ্ঠ্যপুত্র এডগার-এর উক্তি: Childe Roland to the dark tower came,/ His world was still ‘Fie, foh and fum,/ I smell the blood of a British man.)। এটি মূলত একটি হারিয়ে যাওয়া প্রাচীন গাথার অংশ। ব্রাউনিং-এর সবচাইতে বিস্ময়কর কবিতা বোধ করি এটিই। মহান মার্কিন কবি কার্ল স্যান্ডবার্গ ‘মানিটোবা চাইল্ড রোলান্ড’ শিরোনামে একটি কবিতা রচনা করেছিলেন। কবিতার বিষয়বস্তু হলো: তিনি এক সময় একটি কবিতা মিনেসোটার এক খামারের একটি ছেলেকে পড়ে শুনিয়েছিলেন কিন্তু ছেলেটি এর বিষয়বস্ত কিছুই বুঝতে পারেনি– সম্ভবত যিনি কবিতাটি পড়ে শুনিয়েছিলেন তিনিও কিছু বোঝেননি– কিন্তু কবিতার অন্তর্গত অব্যাখ্যাত অস্পষ্ট রহস্যময়তা কিভাবে তাদের উভয়কেই আচ্ছন্ন করেছিলো সেটিই ছিল মূল। পুরো কাব্যশরীর আকীর্ন ছিল এক জাদুময় অনুপুঙ্খে। ঘটনাকাল মধ্যযুগ বলে প্রতীয়মান হয়। উল্লেখ্য ঐতিহাসিকভাবে মধ্যযুগ নয়। গ্রন্থে বর্ণিত মধ্যযুগীয় বিপথগামী নাইটদের গল্পগাথা মাত্র– যেমন দন কিহোতের বর্ণনায় মেলে। (সম্পূর্ণ…)

স্টিফেন হকিং: ‘ব্ল্যাক হোল থেকেও পদার্থ বেরিয়ে আসতে পারে’

অরণি সেমন্তি খান | ১৭ জুন ২০১৬ ৯:৩৩ অপরাহ্ন

s-h.jpgপদার্থবিজ্ঞানের জীবন্ত কিংবদন্তী স্টিফেন হকিং মহাবিশ্ব, ব্ল্যাকহোলের অস্তিত্ব এবং এদের মধ্যকার আন্তঃসম্পর্ক নিয়ে দিয়েছিলেন ‘রেইথ লেকচার’। বিবিসি’র রেডিও ফোর’কে গত বছর দেয়া এ বক্তৃতার অনুলিপি এ বছরের ২৬ জানুয়ারি থেকে প্রকাশ করে বিবিসি। দুই খন্ডের সেই অনুলিপি বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের জন্য অনুবাদ করেছেন অরণি সেমন্তি খান।

রেইথ লেকচার: ১

আমার বক্তৃতা ব্ল্যাক হোল নিয়ে। কথায় আছে, কিছু সত্য কল্পনার চেয়েও অদ্ভুত। আর এই কথাটি ব্ল্যাক হোলের ক্ষেত্রেই মানানসই।
যদিও ব্ল্যাক হোলের ধারণাটি বৈজ্ঞানিক কল্পকাহিনী থেকেও আশ্চর্যজনক, এটি দৃঢ়ভাবে বৈজ্ঞানিক। নক্ষত্র নিজেদের মহাকর্ষের বলে নিজেরাই সংকুচিত হয় এবং এর ফলে সৃষ্ট বস্তুটির প্রকৃতি কেমন হবে, এই বিষয়টি বৈজ্ঞানিক সমাজ উপলব্ধি করতে অনেক সময় নিয়েছে।
১৯৩৯ সালে প্রকাশিত একটি গবেষণাপত্রে আলবার্ট আইনস্টাইন দাবি করেন – যেহেতু পদার্থ একটি নির্দিষ্ট সীমার বাইরে সংকুচিত করা যায় না, তাই নক্ষত্র নিজ মহাকর্ষ বলে সংকুচিত হতে পারে না। বহু বিজ্ঞানী তাঁর এই কথায় একমত হয়েছিলেন।
তবে একজন আমেরিকান বিজ্ঞানী সেই দলে ছিলেন না এবং তাকেই বলা যায় ব্ল্যাক হোল গল্পের পথিকৃৎ । ৫০ এবং ৬০ এর দশকে তাঁর গবেষণার কাজে তিনি গুরুত্বারোপ করেছেন নক্ষত্রের সংকোচন এবং এ সংক্রান্ত তাত্ত্বিক পদার্থবিজ্ঞানের সমস্যাগুলোর উপর। এছাড়াও তিনি নক্ষত্রের সংকোচনের ফলে সৃষ্ট ব্ল্যাক হোলের বেশ কিছু বৈশিষ্ট্য সম্পর্কে ধারণা পোষণ করেছিলেন।
একটি সাধারণ নক্ষত্র তার সহস্র বছরের জীবনকালে তাপীয় বহির্মুখী চাপের সহায়তায় নিজের মহাকর্ষের বিপরীতে নিজেকে বজায় রাখে। এই চাপ উৎপন্ন হয় হাইড্রোজেনকে হিলিয়ামে রূপান্তর করার পারমাণবিক প্রক্রিয়ায়।
ধীরে ধীরে নক্ষত্রের এই জ্বালানী শেষ হয়ে যায়। তারপর সে সংকুচিত হয়। কিছু ক্ষেত্রে নক্ষত্রটি একটি শ্বেত বামন হিসেবে নিজের অস্তিত্ব বজায় রাখে।
তবে ১৯৩০ সালে সুব্রামানিয়ান চন্দ্রশেখর দেখিয়েছিলেন, একটি শ্বেত বামনের সর্বোচ্চ ভর হতে পারে আমাদের সূর্যের ভরের ১.৪ গুন।
এছাড়াও একজন সোভিয়েত বিজ্ঞানী লেভ লান্দাউ নিউট্রন দ্বারা নির্মিত একটি নক্ষত্রের জন্য একই ধরণের সর্বোচ্চ ভরের সীমারেখা গণনা করেছিলেন।
তাহলে পারমাণবিক জ্বালানী শেষ হয়ে গেলে সেসব অসংখ্য নক্ষত্রের কি পরিণতি হবে, যাদের ভর শ্বেত বামন বা নিউট্রন নক্ষত্রের চাইতে অধিক?
এই প্রশ্নের উত্তর নিয়েই গবেষণা করেছিলেন অ্যাটম বোমার জনক হিসেবে খ্যাত রবার্ট ওপেনহাইমার। জর্জ ভল্কফ এবং হার্টল্যান্ড স্নাইডারের সঙ্গে ১৯৩৯ সালের কিছু গবেষণাপত্র তিনি উল্লেখ করেছিলেন যে এমন একটি নক্ষত্র বহির্মুখী তাপীয় চাপ দিয়ে অস্তিত্ব বজায় রাখতে পারবে না। এই চাপ বাদ দিলে, একটি সুষম গোলীয় নক্ষত্র অসীম ঘনত্বের একটি বিন্দুতে সংকুচিত হয়। এই বিন্দুকে বলা হয় সিঙ্গুলারিটি। (সম্পূর্ণ…)

লাতিন আমেরিকার সাথে বাংলার বন্ধন

রাজু আলাউদ্দিন | ৭ মার্চ ২০১৬ ৯:০২ অপরাহ্ন

ambassors.jpgআমি যেহেতু কোনো গবেষক নই, তাই নিশ্চিত করে বলা সম্ভব নয় বাংলাদেশের সাথে লাতিন আমেরিকান দেশগুলোর রাজনৈতিক, বাণিজ্যিক ও অর্থনৈতিক সম্পর্কটি ঠিক কোন পর্যায়ে আছে। তবে একটা ব্যাপারে নিশ্চিত যে বাঙলা সংস্কৃতির সাথে লাতিন আমেরিকার সম্পর্কের একটা দীর্ঘ ইতিহাস ও ঐতিহ্য রয়েছে। কম করে হলেও এই ইতিহাস একশ বছরের দীর্ঘ পরিসর অর্জন করেছে। এবং এর সূচনা ঘটেছে বাঙালি সংস্কৃতির সর্বশ্রেষ্ঠ প্রতিনিধি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের মাধ্যমে, স্প্যানিশভাষী জগতে যিনি ‘রবীন্দ্রনাথ তাগোরে’ হিসেবেই বেশি পরিচিত। দুর্ভাগ্যক্রমে স্প্যানিশ ভাষায় আমাদের অগম্যতার কারণে সম্পর্কের এই দীর্ঘ ইতিহাসটি আমাদের কাছে দীর্ঘদিন যাবত অজানা অবস্থায় ছিল। কিন্তু এখন আমরা জানি যে লাতিন আমেরিকান জনগোষ্ঠীর উদার রুচি, স্নিগ্ধ ও গ্রহিষ্ণু মন কৌতূহলের হাত বাড়িয়ে দিয়েছিল বাঙালি সংস্কৃতির প্রতি আজ থেকে শতবর্ষ আগে। রবীন্দ্রনাথের মাধ্যমে বাংলা সাহিত্যের সৃষ্টিশীল ঐশ্বর্যকে তারা যে কৌতূহল থেকে গ্রহণ করেছিলেন লাতিন আমেরিকার কোনো কোনো অঞ্চলে তার সাংস্কৃতিক অভিঘাত ছিল খুবই গুরুত্বপূর্ণ।

লাতিন আমেরিকায় রবীন্দ্রনাথ প্রবেশ করেন আর্হেন্তিনার লেখক সাংবাদিক কার্লোস মুন্সিও সায়েন্স পেনঞার অনুবাদে ১৯১৫ সালে। এই সূচনা উম্মুক্ত করে দিয়েছিল লাতিন আমেরিকার মহান ব্যক্তিত্বদের সাথে রবীন্দ্রনাথের তথা বাঙালি সংস্কৃতির এক কার্যকর সম্পর্ক। রবীন্দ্রচর্চা, রবীন্দ্র-অনুবাদ বা রবীন্দ্র-আলোচনায় একের পর এক যুক্ত হয়েছিলেন আর্হেন্তিনার ভাবুক ও মন্ত্রী হোয়াকিন ভি গনসালেস, বিক্তোরিয়া ওকাম্পো, কবি এদুয়ার্দো গনসালেস লানুসা, হোর্হে লুইস বোর্হেস, অসবালদো স্ভানাসিনি, রিকার্দো গুইরালদেস, চিত্রশিল্পী ওরাসিও আলবারেস বোয়েরো, চিলির কবি ও শিক্ষাবিদ গাব্রিয়েলা মিস্ত্রাল, লেখক অধ্যাপক রাউল রামিরেস, কবি বিসেন্তে উইদোব্রো, কবি পাবলো দে রোকা, কবি ও রাষ্ট্রদূত পাবলো নেরুদা, প্রাবন্ধিক ও অধ্যাপক আর্তুরো তররেস রিওসেকো। বলিবিয়ার লেখক ও কূটনীতিবিদ আবেল আলার্কন। পেরুর বামপন্থী চিন্তাবিদ হোসে কার্লোস মারিয়াতেগি ও ঔপন্যাসিক মারিও বার্গাস যোসা। দোমিনিকান রিপারলিক-এর ভাবুক ও প্রাবন্ধিক পেদ্রো এনরিকেস উরেনঞা। আর গোটা মহাদেশের একেবারে উত্তরে অবস্থিত মেহিকোতে লেখক ও দার্শনিক হোসে বাস্কনসেলোস, কবি হোসে গরোস্তিসা ও নাট্যকার সেলেস্তিনো গরোস্তিসা, অকালপ্রায়ত অনুবাদক পেদ্রো রেকেনা লেগাররেতা, এম্মা গদোই, কবি হাইমে সাবিনেস, কবি ও রাষ্ট্রদূত অক্তাবিও পাস, আন্তোনিও কাস্ত্রো লেয়াল, চিত্রশিল্পী দিয়েগো রিবেরা, গাব্রিয়েল ফের্নান্দেস লেদেসমা ও রবের্তো মন্তেনেগ্রো। এরা সবাই রবীন্দ্রনাথের মাধ্যমে বাঙালি সংস্কৃতির আত্মাকে কেবল স্পর্শই করেননি, সেই স্পর্শের আলো তারা ছড়িয়ে দিয়েছিলেন নিজ নিজ সংস্কৃতির বহুবর্ণিল পরিমন্ডলে। (সম্পূর্ণ…)

শোকগ্রস্ত রবীন্দ্রনাথ

সৈয়দ মুজতবা আলী | ৮ আগস্ট ২০১৪ ৭:১২ অপরাহ্ন

মুজতবা আলী ছিলেন রবীন্দ্রনাথের সরাসরি ছাত্র। পূর্ববঙ্গের অল্প যে-কজন গুণী লেখক রবীন্দ্রনাথকে কাছ থেকে দেখার এবং তার স্নেহ অর্জনের সুযোগ পেয়েছিলেন মুজতবা আলী তাদের অন্যতম। লেখক এবং ব্যক্তি রবীন্দ্রনাথ সম্পর্কে তিনি একাধিক লেখা লিখেছেন। রবীন্দ্রনাথ সম্পর্কে বলেছেনও তিনি বিভিন্ন সময় ভারত ও বাংলাদেশের বেতার-কথন-এ । সদালাপী, আড্ডাপ্রিয় ও সুগভীর পাণ্ডিত্যের অধিকারী মুজতবা আলীর ৭২/৭৩ সালে ধারণকৃত রবীন্দ্রনাথ-সম্পর্কিত একটি বেতার-কথনের অডিও সংরক্ষিত হয়েছিলো যা তার ছেলে সৈয়দ জগলূল আলী ইন্টারনেটে বছর দুয়েক আগে আপলোড করেছিলেন। খুব সম্ভবত এটি বাংলাদেশ বেতারে দেয়া একটি বেতার-কথন; রবীন্দ্রনাথের জন্ম বা মৃত্যুদিবসে প্রচারের জন্য। মুজতবা আলীর এই বেতার-কথনটি রবীন্দ্রনাথকে আরেকটু অন্তরঙ্গভাবে বোঝার জন্য খুব জরুরী। বিডিনিউজটোয়েন্টিফোর ডটকম-এর আর্টস বিভাগের পাঠকদের জন্য এই বিরল বেতার-কথনটির শ্রুতিলিপি উপস্থাপন করা হলো। মুজতবা আলীর বাচনভঙ্গীকে হুবহু অনুসরণ করার কারণে ‍দু এক জায়গায় যোগসূত্রহীন মনে হতে পারে, তবে পরের বাক্যগুলোয় পৌঁছামাত্র পাঠক সেই সংযোগটি আবিস্কারে কোনো বাধার সম্মুখীন হবেন বলে মনে হয় না । শ্রুতিলিপির সঙ্গে মূল অডিও সংস্করণটি এখানে যুক্ত হলো পাঠকদের কৌতূহলের কথা বিবেচনা করে। লেখার শিরোনামটি আমাদের নির্বাচিত। বি. স. (সম্পূর্ণ…)

পাশ্চাত্য সাহিত্য ও রবীন্দ্রনাথ

মুহাম্মদ হাবিবুর রহমান | ১৭ জুলাই ২০১১ ৭:৫৬ অপরাহ্ন

বিশ্ববিহারী রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ১৮৭৮ সালের অক্টোবরে প্রথমে ব্রিটেনে যান। সেবার সেখানে তিনি মাস চারেক ছিলেন। এরপর তিনি ১১—১২ বার ব্রিটেনে যান। আমেরিকায় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, আর্জেন্টিনা, কানাডা এবং ইউরোপের ফ্রান্স, হল্যান্ড, বেলজিয়াম, অস্ট্রিয়া, জার্মানি, চেকোস্লোভাকিয়া, সুইজারল্যান্ড, ডেনমার্ক, সুইডেন, নরওয়ে, হাঙ্গেরি, বুলগেরিয়া ও গ্রিসে কবি ভ্রমণ করেন। কোনো কোনো দেশে একাধিকবার।

main_1-london-e-rabindranath-1921.jpg
লন্ডনে রবীন্দ্রনাথ, ১৯২১

ইউরোপের সাহিত্য শুধু পাঠ নয়, কবি ভিক্তর উগো, শেলি, আর্নেস্ট মায়ার্ন, অদ্রে দ্য ভের, পিবি মার্সন, মুর, মিসেল ব্রাঙনিং, ক্রিস্টিনা রসেটি, সুইনবার্ন, হুড, টি এস এলিয়ট এবং জার্মান ভাষায় হাইনরেখ হাইনে ও গ্যেটের কিছু লেখার অনুবাদ করেন।

রবীন্দ্রনাথের রচনা পরবর্তীকালের একাধিক নোবেল বিজয়ী–ইয়েটস, রঁমা রল্যা, আঁদ্রে জিদ, জেনোভিয়া ইমেনেজ, আইভান বুনিন ওস্যঁ-জন পার্স অনুবাদ করেন।
১২৯৪ সালের বৈশাখে ‘সাহিত্য ও সভ্যতা’য় বলেন, ‘দূর হইতে ইংলন্ডের সাহিত্য ও সভ্যতা সম্বন্ধে কিছু বলা হয়তো আমার পক্ষে অনধিকার চর্চা। এ বিষয়ে অভ্রান্ত বিচার করা আমার উদ্দেশ্য নয় এবং সেরূপ যোগ্যতাও আমার নাই। আমাদের এই রৌদ্রতাপিত নিদ্রাতুর নিস্তব্ধ গৃহের এক প্রান্তে বসিয়া কেমন করিয়া ধারণা করিব সেই সুরাসুরের রণরঙ্গভূমি ইউরোপীয় সমাজের প্রচণ্ড আবেগ, উত্তেজনা, উদ্যম, সহস্রমুখী বাসনার উদ্দাম উচ্ছ্বাস, অবিশ্রাম মথ্যমান ক্ষুব্ধ জীবন-মহাসমুদ্রের আঘাত ও প্রতিঘাত–তরঙ্গ ও প্রতিতরঙ্গ–ধ্বনি ও প্রতিধ্বনি, উৎক্ষিপ্ত সহস্র হস্তে পৃথিবী বেষ্টন করিবার বিপুল আকাঙ্খা! দুই-একটা লক্ষণ মাত্র দেখিয়া, রাজ্যের আভ্যন্তরীণ অবস্থার মধ্যে লিপ্ত না থাকিয়া, বাহিরের লোকের মনে সহসা যে কথা উদয় হয় আমি সেই কথা লিখিয়া প্রকাশ করিলাম এবং এই সুযোগে সাহিত্য সম্বন্ধে আমার মত কথঞ্চিৎ স্পষ্ট করিয়া ব্যক্ত করিলাম।’
(সম্পূর্ণ…)

ডেনিস ডাটনের বক্তৃতা

সৌন্দর্য ও ডারউইনের থিওরি

লুনা রুশদী | ২৯ জানুয়ারি ২০১১ ১:৫৩ পূর্বাহ্ন

dennis_dutton.jpg
…………
ডেনিস ডাটন (৯.২.১৯৪৪ – ২৮.১২.২০১০)
…………

[গত এক শতাব্দী ধরে শিল্প সমালোচকেরা বলে এসেছেন সামাজিক পরিবেশ শিল্পের রুচি গড়ে তোলে। ডাটন ভিন্ন মত পোষণ করেন। তিনি মনে করেন, শিল্প বিষয়ক রুচি, সেটা যে কোন শিল্প মাধ্যমই হোক না কেন, গঠিত হয়েছে বিবর্তনের মাধ্যমে, ডারউইনের থিওরি দিয়ে যার ব্যাখ্যা করা যায়। সৌন্দর্যের প্রতি আমাদের ভালোবাসা সহজাত। নান্দনিক অনেক ভালোলাগা সংস্কৃতি নির্ভর হয় না। যুক্তি-প্রমাণ দিয়ে ডাটন দেখিয়েছেন ভাববাচক বা বিমূর্ত কোনো তত্ত্ব নয়, বরং বিবর্তন বিষয়ক উপলব্ধিই শিল্প সমালোচনার ভিত্তি। তাঁর মতে সৌন্দর্য, যে কোনো রকম আনন্দ ও দক্ষতা শিল্পমূল্যের অর্ন্তগত।—বি.স.]

অনুবাদ: লুনা রুশদী

আজ আমার প্রিয় একটা বিষয় নিয়ে কথা বলবো। নন্দনতত্ত্ব আমার পেশা। দার্শনিক, বৌদ্ধিক ও মনস্তাত্ত্বিক আঙ্গিক থেকে আমি সৌন্দর্যের অভিজ্ঞতাকে বুঝতে চেষ্টা করি। এ বিষয়ে যুক্তিগতভাবে কী বলা যায়? বিষয়টা জটিল। তার একটা কারণ হলো এর পরিধি, ভেবে দেখেন, কত বিচিত্র কিছুকে আমরা সুন্দর বলি—একটা শিশুর মুখ, বার্লিওজের ‘হ্যারল্ড এন ইতালি’, উইজার্ড অফ ওজ-এর মতো সিনেমা, চেখভের নাটক, ক্যালিফোর্নিয়ার প্রাকৃতিক দৃশ্য, হকুসাইয়ের আঁকা ‘মাউন্ট ফুজি’, ওর্য়াল্ড কাপ ফুটবলে একটা দারুণ গোল, ভ্যান গগের ‘স্টারি নাইট’, জেন অস্টেনের উপন্যাস অথবা পর্দায় ফ্রেড এস্টেয়ারের নাচ। এই সংক্ষিপ্ত তালিকায় আছে মানুষ, প্রাকৃতিক সৌন্দর্য, শিল্প ও অন্যান্য মানবিক দক্ষতা। তালিকাভুক্ত সমস্ত কিছুর সৌন্দর্য ব্যাখ্যা করা সহজ কাজ হবে না।

dd_4.jpg……
ডেনিস ডাটনের বই: দি আর্ট ইনস্টিংক্ট–বিউটি, প্লেজার অ্যান্ড হিউম্যান ইভ্যুলুশন
…….
তবে আমি, আমার জানা মতে আজ সৌন্দর্য বিষয়ক সবচেয়ে শক্তিশালী থিওরির সাথে আপনাদের পরিচয় করিয়ে দিতে পারি। এবং এ থিওরি কোন দার্শনিক বা পোস্টমডার্ন শিল্পের নামকরা কোন সমালোচকের কাছ থেকে আসেনি, এসেছে এক জাহাজীর কাছ থেকে, যিনি কেঁচো আর কবুতর পালতেন। এতক্ষণে নিশ্চয়ই আপনারা বুঝে গেছেন যে আমি চার্লস ডারউইনের কথা বলছি।

‘সৌন্দর্য’ কী? অনেকেই মনে করেন তাঁরা এই প্রশ্নের উত্তর জানেন। যেমন, ‘সৌন্দর্য থাকে যে দেখে তার দৃষ্টিতে’ অথবা ‘যা কিছুই আমাদের ব্যক্তিগতভাবে নাড়া দেয়, তাই সুন্দর।’ অথবা কেউ কেউ, বিশেষ করে বুদ্ধিজীবীরা বলে থাকেন ‘সৌন্দর্য থাকে যে দেখে তার সংস্কৃতি-নিয়ন্ত্রিত দৃষ্টিতে।’ (সম্পূর্ণ…)

জাতীয় কবিতা উৎসব ২০০৯-এ পঠিত প্রবন্ধ

সাম্রাজ্যবাদের যুগে দুই বিশ্বের কবিতা

সলিমুল্লাহ খান | ১০ জুলাই ২০০৯ ৯:০০ পূর্বাহ্ন

samson-destroys-the-temple.jpg
শিল্পী মার্ক শাগালের ছবিতে মন্দির ভাঙছে স্যামসন।


Hegemony entails the dominance of a given discourse even among those who are not its beneficiaries. It is the cultural arm of imperialism.

যে ভাবধারায় আপনার স্বার্থ নাই সেই ভাবধারার সম্মুখে আপনিও যখন নতি স্বীকার করেন তখন বলিতে হইবে সেই ভাবধারার আধিপত্য কায়েম হইয়াছে। সাম্রাজ্যবাদের সাংস্কৃতিক প্রকাশ এমনই।
—একবাল আহমদ (২০০৬/ক: ২৩১)

alpa_1.jpgজাতীয় কবিতা পরিষদের আমন্ত্রণ পাইয়া আমার মনে হইয়াছিল আরেকবার জন্মগ্রহণ করিবার আমন্ত্রণ পাইয়াছি। কিন্তু লিখিতে বসিয়া টের পাইলাম এই কাজ অতিশয় কঠিন—পাণিগ্রহণের চেয়ে কম কঠিন নহে। কথাটা খুলিয়া বলিব।

আর যে অপবাদই কবিদের দেওয়া যাউক না কেন তাঁহারা বড় সহনশীল এই অপবাদ কেহ দিতে পারিবেন না। কবিরা সমালোচনা ব্যবসায়ীদের কত সহ্য করিতে পারেন তাহা আমার জানা নাই। স্মরণ করুন খোদ জীবনানন্দ দাশের বাক্য। সমারূঢ় সমালোচককে তিনি বরং কবিতা লিখিয়া দেখিবার রূঢ় উপদেশই দিয়াছিলেন। কবিরা শুদ্ধ স্বজনের সমালোচনা শুনিতে প্রস্তুত, তাহার অধিক শুনিবেন না।
—————————————————————–
জেমিসনের মতে তৎকথিত ‘তৃতীয় বিশ্বের’ সাহিত্য ব্যক্তি মানুষের গল্প বলিতে একেবারেই অপারগ, একান্তই অক্ষম। ব্যক্তির কথা বলিতে বলিতে সে অজান্তে কেবল জাতির গল্পই বলিয়া বসে।… আমরা ফরাসি শার্ল বোদলেয়ার আর বঙ্গীয় শামসুর রাহমানের দৃষ্টান্তযোগে দেখাইলাম জেমিসনের বক্তব্য সত্য না-ও হইতে পারে।… এজাজ আহমদ লিখিয়াছেন, একই কারণে কোনো দেশের সাহিত্যকে দ্বিতীয় বা তৃতীয় বিশ্বের বলিয়া আলাদা করাটা বর্ণবাদের অর্থাৎ পুরাতন উপনিবেশবাদের জের।… জেমিসন মার্কিন জাতীয়তাবাদীর মতন লিখিলেও লোকে ভাবে তিনি বুঝি মার্কস ব্যবসায়ীও বটেন। এজাজ আহমদ তাঁহার মুখোশ কিছু পরিমাণে আলগা করিয়া দিয়াছেন।
—————————————————————-
ইচ্ছায় হই আর অনিচ্ছায় হই, আমি সমালোচনার আদার বেপারি। একদা কবিযশোপ্রার্থীদের সঙ্গে কিছু সময় আমিও কবিতা-জাহাজের খবর লইয়াছিলাম। এই কথা স্বীকার করিতে দোষ নাই। সেই সুবাদে কিনা জানি না: কবিদের সমালোচনা করিবার খানিক অধিকার আমিও হয়তো অর্জন করিয়াছি।

তদুপরি শুনিয়াছি একালের আরবি প্রবাদে আরো একটা কথা চালু আছে। কুল্লু মান কানু আরাবুন ফি লোগাতিহিম, ওয়া সাকাফাতিহিম, ওয়া ওয়ালাইহিম ফা হুম আল-আরাব। অর্থাৎ যে তাহার বাক্যে, আচারে এবং বাসনায় আরব সে-ই আরব। (আহমদ ২০০৬/ক: ৩৭৭)

বাক্যে, আচারে এবং বাসনায় যে কবি সে-ই কবি। এই সংজ্ঞা গ্রহণ করিলে, আমি কবিদের সমালোচনা করিবার অধিকার খানিক অর্জন করিয়াছি কথাটা মনে হয় একেবারে ভিত্তিহীন নয়।


আফ্রিকা মহাদেশের অন্তঃপাতী গিনি বিসাউ ও সবুজ অন্তরীপ দ্বীপপুঞ্জ (Guinea Bissau and Cape Verde Islands) নামক দেশের নেতা মুক্তিসংগ্রামী ও তত্ত্বজ্ঞানী মহাত্মা আমিলকার কাব্রাল (Amilcar Cabral) তাঁহার দেশ স্বাধীন হইবার দুই বৎসর আগে—১৯৭৩ সনের ২০ জানুয়ারি
amilcar-2.jpg……..
আমিলকার কাব্রাল (১২/১০/১৯২৪ – ২০/১/১৯৭৩)
……..
তারিখে—সাম্রাজ্যবাদী পর্তুগিজ সরকারের লেলাইয়া দেওয়া গুপ্তঘাতকের হাতে নিহত হইয়াছিলেন। তাহারও কয়েক বৎসর পূর্বে—১৯৭০ সনে—এক বক্তৃতায়, উত্তর আমেরিকার কোনো এক বিশ্ববিদ্যালয়ে তিনি বলিয়াছিলেন, সাম্রাজ্যবাদ জিনিসটা অনেক বিষাদসিন্ধুই রচনা করিয়াছে। এইসব সিন্ধুর মধ্যে বিষন্নতম সিন্ধুর নাম জার্মানির জাতীয় সমাজতান্ত্রিক শ্রমিক (ওরফে নাৎসি) দল। (কাব্রাল ১৯৭৩: ৩৯)

অনেকেই হয়তো বলিবেন, ইহা এমন কী নতুন কথা হইল? কাব্রাল বলিয়াছিলেন: নাৎসিরা মরে নাই, সাম্রাজ্যবাদের মধ্যেই তাহারা বাঁচিয়া আছে। নতুন কথা সম্ভবত ইহাই। (সম্পূর্ণ…)

সাংস্কৃতিক মানচিত্রে মিরপুর

মফিদুল হক | ৭ মে ২০০৯ ৫:৫৩ পূর্বাহ্ন

এক.
মুক্তির সঙ্গে জড়িত থাকে আনন্দ, অমারাত্রির অবসানে আলোয় স্নাত হওয়ায় তৃপ্তি কিন্তু বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের যে সমাপন বিজয়ে, সেখানে মুক্তির আনন্দের সঙ্গে জড়িয়ে আছে বিচ্ছেদের অপার বেদনা। যে কোনো জয়ের পেছনে তো রয়ে যায় অনেক ত্যাগ ও তিতিক্ষা। দ্বিতীয় মহাযুদ্ধের অবসানে
—————————————————————–
এক গভীর বেদনার অধ্যায় রচিত হয়েছিল মিরপুরে, ঢাকার যে উপকণ্ঠে অস্ত্রের পাহাড় গড়ে এক অর্থহীন ও নিষ্ঠুর লড়াই চালিয়েছিল পাকবহিনীর কতিপয় সদস্য মূলত তাদের অবাঙালি দোসরদের ওপর নির্ভর করে।… এই মরণদংশন প্রকাশ পেয়েছে বুদ্ধিজীবী হত্যায়, প্রকাশ পেয়েছে ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত মিরপুরে ঘাঁটি গেড়ে বসে থাকা পাকাবাহিনীর দোসরদের নির্মমতায়, যাদের হাতে প্রাণ দিতে হয়েছিল জহির রায়হান, ডিএসপি লোদী, লেফটেন্যান্ট সেলিমসহ আরো অনেককে। অথচ মিরপুরের অবাঙালি প্রতিরোধের কোনো বাস্তব ভিত্তি ছিল না, আত্মসমর্পণ না করে তাদের কোনো উপায় ছিল না।
—————————————————————-
মানুষ যখন পেল মুক্তির আস্বাদ, সেই আনন্দ-মুহূর্তে তো বিপুল মূল্যদানের স্মৃতিও বড়ভাবে আবার জেগে ওঠে। যুদ্ধের সমাপ্তি-লগ্নে আবিষ্কৃত হয়েছিল mirpur-slaughter-ground.jpg……
১৯৭১ সালে মিরপর বধ্যভূমি
…….
কনসেনট্রেশন ক্যাম্পে হাজারো মানুষকে হত্যা করার প্রায় এক ইণ্ডাস্ট্রিয়াল মেথড, মানুষের নিষ্ঠুরতা ও পাশবিকতার অতলস্পর্শী পতন। তবুও বিজয়ের আনন্দ ও মাহাত্ম্য তা কোনোভাবে খর্ব করতে পারে না, কেননা সেই বিজয় ছিল ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে গণতন্ত্রের, দানবের বিরুদ্ধে মানবের। কিন্তু বাংলাদেশের বিজয়ের সঙ্গে বেদনার যে মিশেল তার নিকট তুলনা খুঁজে পাওয়া ভার। একাত্তরের নয় মাস জুড়ে জাতিহত্যার যে যজ্ঞ পরিচালনা করেছিল পাকবাহিনী, সেটা তাদের কোনোভাবেই রক্ষা করতে পারে নি, বরং ঠেলে দিয়েছিল অমোঘ পরাজয়ের দিকে। (সম্পূর্ণ…)

অরুন্ধতী রায়ের নিউইয়র্ক বক্তৃতা

ইনস্ট্যান্ট-মিক্স সাম্রাজ্যীয় গণতন্ত্র (একটা কিনলে আরেকটা ফ্রি)

শামীমা বিনতে রহমান | ৯ জুন ২০০৮ ৪:০০ অপরাহ্ন

ar1.jpg
নিউইয়র্কের রিভারসাইড চার্চে বক্তৃতা করছেন অরুন্ধতী রায়, ১৩/৫/২০০৩। ছবি: Sari Goodfriend

সাম্রাজ্যবাদ, বিশেষ করে বর্তমানের চলতি মার্কিনি সাম্রাজ্যবাদের বিরুদ্ধে সোচ্চার কণ্ঠস্বরের একজন অরুন্ধতী রায়। গড অব স্মল থিংস লেখার পর, দীর্ঘ বিরতি দিয়ে হালে আবার উপন্যাস লেখা শুরু করছেন তিনি। কিন্তু মাঝের উপন্যাস-বিরতি পর্বে চুপচাপ কলম তুলে না রেখে তিনি বরাবরই ব্যস্ত ছিলেন পরিবেশবাদী আন্দোলন, মানবাধিকার আন্দোলন এবং সবচে বেশি মার্কিনী যুদ্ধ, আগ্রাসন আর নয়া গণতন্ত্রের ফতোয়া আর তার প্রয়োগের বিরুদ্ধে। লিখেছেন যেমন, বক্তৃতাও দিয়ে গেছেন, সমান ধারে। এ লেখাটি সেরকম একটি বক্তৃতার অনুবাদ, যেটি তিনি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক সিটির দি রিভারসাইড চার্চে দিয়েছিলেন, ২০০৩ সালের ১৩ মে। পরবর্তীতে, ২০০৫ সালে তার আরো বেশ কিছু লেখা ও বক্তৃতার সঙ্কলন হিসেবে লেখাটি অ্যান অর্ডিনারি পারসন’স গাইড টু এমপায়ার বইতে সংযুক্ত হয়। সেখান থেকেই এ লেখাটি নির্বাচন এবং অনুবাদ। বছর কয়েক পুরনো হলেও মার্কিনী সাম্রাজ্যবাদ, একে টিকিয়ে রাখা ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান ও গণমাধ্যমের চেহারা উন্মোচনে লেখাটি এ বিষয়ক আগ্রহীকে রসদ দেবে। একই সঙ্গে মার্কিনী সাম্রাজ্যবাদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে ব্যক্তির অবস্থান ও অনুপ্রেরণার উচ্চারণ তার বক্তৃতার আরো একটি দিক। লেখাটির ইংরেজি নাম, ‘ Instant-Mix Imperial Democracy (Buy One, Get One Free)’।

মূল: অরুন্ধতী রায়

অনুবাদ: শামীমা বিনতে রহমান

আমাদের স্বাধীনতা কেড়ে নেয়ার এই সময়ে যখন আমরা গতির সাথে তাল মেলাতে গিয়ে হিমশিম খাচ্ছি, এবং যখন অল্প কয়েকজনই কেবল পারছে ফুটনোট ও রেফারেন্সসজ্জিত একটি পূর্ণাঙ্গ রাজনৈতিক থিসিস নিয়ে ar2.jpg
……..
অরুন্ধতী রায় (Suzanna Arundhati Roy, জন্ম. শিলং, ভারত, ২৪/১১/১৯৬১);ছবি: Sari Goodfriend
……..
পুনরাবির্ভূত হতে অথবা থিসিস নিয়ে ফিরে আসতে, কিছু সময়ের জন্য রাস্তা থেকে ঘরে ফিরে যাওয়ার বিলাসিতা দেখাতে, তখন এই রাতে কী প্রাচুর্যময় উপহার আমি দিতে পারি আপনাদের!

এক সঙ্কট থেকে আরেক সঙ্কটের মধ্যে প্রতিনিয়তই খাবি-খাচ্ছি দশা যখন আমাদের, স্যাটেলাইট টিভির মাধ্যমে সেসব যখন সরাসরি ঢুকে পড়ছে মগজের ভেতর, তখন আমাদের ঠাণ্ডা মাথায় ভাবতে হবে। (সম্পূর্ণ…)


Disclaimer & Privacy Policy  |  About us  |  Contact us

© bdnews24.com