প্রবন্ধ

সালমান রুশদির ‘লজ্জা’ আর ‘মধ্যরাতের সন্তানেরা’

শামস্‌ রহমান | ৭ মে ২০১৭ ৮:৩৭ অপরাহ্ন

midতখন বিলাতে। সময়টা ১৯৮৮। সম্ভবত জুলাই মাস। বার্মিংহাম বিশ্ববিদ্যালয়ের পাঠাগারের প্রধান দরজা দিয়ে ঢুকতেই ম্যগাজিন স্ট্যন্ডে একটি গ্লোসি ম্যগাজিন আমার দৃষ্টি আকর্ষণ করে। প্রচ্ছদের পুরো পৃষ্ঠা জুড়ে ছবিটি – চেহারা আর গড়নে, উপমহাদেশের কেউ হবে বলে মনে ধরে। স্বভাবতই আগ্রহ জাগে জানার। প্রচ্ছদ কাহিনীর পৃষ্ঠা উল্টাতেই শিরনামে চোখে পরে – সালমান রুশদি। নামটা আমার কাছে তখনও অপরিচিত। প্রচ্ছদ কাহিনী রচয়িতা একজন বিলেতি সাহিত্য সমালোচক। লিখেছেন – ‘রুশদি এমন একজন উপন্যাসিক যে সে দ্বিতীয়বার Booker Prize না পেলে অতৃপ্ত থেকে যাবে তার আত্না’। উপমহাদেশের এত বড় মাপের একজন লেখক, অথচ তার লেখা পড়া তো দূরের কথা, কখনো নামই শুনিনি তার। কিছুটা অস্বস্তি লাগে নিজের কাছে।
এই ঘটনার কয়েক মাস পরেই প্রকাশিত হয় সালমান রুশদির বহুল বিতর্কিত গ্রন্থ –The Satanic Verses। গ্রন্থটি মুসলিম বিশ্বে লক্ষ লক্ষ সাধারণ মানুষের সরল বিশ্বাসে আঘাতের অভিযোগে সমালোচিত ও আক্রান্ত হয়। প্রকাশিত হওয়ার কয়েক মাসের মাথায় বিলাতের ব্রাডফোর্ডে জনসমক্ষে বইটি পোড়ালে বৃটিশ সরকারের জন্য এটা একটি ‘burning issue’ হয়ে দাঁড়ায়। তারপর আসে খোমেনির ফাত্‌ওয়া। ফলে গ্রন্থটি হয় বাক্সবন্দি আর লেখক হন গৃহবন্দি।
যতদূর জানা যায় রুশদির প্রথম প্রকাশিত গ্রন্থ Grimus। বইটি কখনো দেখেনি, পড়িনি বা এর উপর কখনো কোন আলোচনা-সমালোচনাও শুনিনি। হতে পারে গ্রন্থটি ব্যাপক পটভূমি জুড়ে এক বিশাল কোন গল্প, নাতিদীর্ঘ কোন উপন্যাস, কিংবা জটিল কোন কাব্যগ্রন্থ। কে জানে। গ্রন্থটি খাটো করে দেখার কোন অভিপ্রায় আমার নেই, শুধু এটুকুই বলা যে রুশদি তখনো সাক্ষর রাখতে পারেননি একজন দক্ষ কিংবা সম্ভাবনাময় লেখক হিসেবে। (সম্পূর্ণ…)

মে দিবসের গান : শ্রমিকের জয়গান

আহমেদ ফিরোজ | ১ মে ২০১৭ ৮:১৪ পূর্বাহ্ন

may day‘কাঁদো, যখনি কাঁদতে ইচ্ছে করবে। কান্না শুদ্ধতম আবেগ প্রকাশের একমাত্র উৎকৃষ্ট মাধ্যম। অতি সুখের সংবাদে মানুষ শুদ্ধতা খুঁজে পায়, অতি দুঃখের সংবাদেও মানুষ শুদ্ধতা খুঁজে পায়। কাজেই কাঁদো, কেঁদেই তোমার জীবনকে তুমি শুদ্ধতা দান করো।’ তুর্কি মরমি কবি দাদায়েম ঈমাস এ-কথাগুলো বলেছেন (সংগৃহীত)। আর, শ্রমিক-জীবনের সঙ্গে কান্নার সম্পর্ক নিবিড়। কখনো গড়ার আনন্দে, কখনো-বা ভাঙার বেদনায়।
সাম্যবাদ, শ্রমের অধিকার আর মজুরি– মে দিবসের মূলকথা। আর সেসব কথা নানাভাবে উঠে এসেছে মে দিবসের গানে-কবিতায়।
ইতিহাসের পরম্পরায় মহাকাব্যিক দ্যোতনায় উদ্ভাসিত হয়ে আছে পহেলা মে। মে দিবসকে কেন্দ্র করে বিশ্বসাহিত্যে গীত হয়েছে অসংখ্য গান। পহেলা মে, আন্তর্জাতিক শ্রমিক দিবস। শ্রমিক শ্রেণীর আন্তর্জাতিক সংহতির দিন। ‘দুনিয়ার মজদুর এক হও’ স্লোগান তুলে নতুন সংগ্রামের জন্য তাদের শপথ নেয়ার দিন। শ্রমিক শ্রেণির জন্য দৃপ্ত শপথে বলীয়ান হওয়ার দিন, শেকল ছেঁড়ার দিন, আনন্দ ও উৎসবের দিন, একই সাথে শোকেরও দিন। (সম্পূর্ণ…)

আমাদের সাযযাদ ভাই

আনিসুর রহমান | ২৩ এপ্রিল ২০১৭ ৬:৪৩ অপরাহ্ন

sajjad-kadirকবি সাযযাদ কাদিরের এবং আমার জন্ম একই জেলায় হলেও তাঁর সাথে পরিচয় এবং সান্নিধ্য ঢাকায় এসে। ১৯৯০ দশকের শেষের দিকে গ্রাম এবং মফস্বলের পাট চুকিয়ে আমি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সবে ভর্তি হয়েছি। বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-শিক্ষক কেন্দ্রে জাতীয় কবিতা উৎসবের দফতরে একটু আধটু যাওয়া আসা করি। ওখানে অন্য বয়োজ্যেষ্ঠ কবিরা যেমন সৈয়দ শামসুল হক, বেলাল চৌধুরী, রফিক আজাদ, খালেদা এদিব চৌধুরী, মোহন রায়হান, রবিউল হুসাইন, সমুদ্র গুপ্ত, মুহাম্মদ সামাদ, হাবীবুল্লাহ সিরাজী, মুহাম্মদ নূরুল হুদা, আসাদ চৌধুরী, ফারুক মাহমুদ, আসলাম সানী এবং তারিক সুজাতসহ অনেকেই আসেন। ওনারা একটি নির্দিষ্ট টেবিলে বসেন। আমরা কম বয়সীরা অন্য টেবিলে বসি। গ্রাম থেকে আসার কারণে প্রতিষ্ঠিত কবি লেখকদের কাউকেই চিনি না। আরো যদি খোলাসা করে বলি প্রথম যেদিন ঢাকা শহরে পা দিই আমার নিজেকে ছাড়া কাউকেই চিনি নি। প্রথম দিনে ঢাকাকে ছমছম করা ভয় জাগানো নির্মম এক মোহনীয় শহর মনে হয়েছে আমার কাছে। কবিতা উৎসবেও অনেকটা কাউকেই চিনি না, ততদিনে বিশ্ববিদ্যালয়ে ঠিকানা হবার কারণে চেনা পরিচয় যদিও বাড়তে শুরু করেছে। ঘটনাচক্রে কবি মুহাম্মদ সামাদ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক এবং জহুরুল হক হলেরও আবাসিক শিক্ষক। আমি একই হলের আবাসিক ছাত্র। তখনও আমি জানি না আমাদের হলের অধ্যাপক মুহাম্মদ সামাদ একজন প্রতিষ্ঠিত কবি এবং কবিতা পরিষদের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে। দূর থেকে তিনি আমার নাম ধরে ঢেকে উপস্থিত অন্য কবিদের সাথে পরিচয় করিয়ে দিলেন। সেই শুরু। এরপর ঢাকা শহরের যত কবি সাহিত্যিকদের সাথে আমি ঘণিষ্ঠ স্নেহসান্নিধ্য লাভ করেছি তাদের বেশির ভাগের সাথে পরিচয় ঘটেছে সামাদ স্যারের সূত্রে। এক্ষেত্রে কবি সাযযাদ কাদিরও ব্যতিক্রম নন। (সম্পূর্ণ…)

বৈচিত্রময় বর্ষবরণ

হিরণ্ময় হিমাংশু | ১৪ এপ্রিল ২০১৭ ১২:৫৭ অপরাহ্ন

noboborsh0-1কৃষিভিত্তিক সভ্যতায় বর্ষবরণ হলো প্রাচীনতম উৎসব। প্রায় অর্ধশত বছর আগে ছায়ানটের হাত ধরে রমনার বটমূলে ১৪ এপ্রিল জাতীয়ভাবে বাংলা বর্ষবরণ উৎসব উৎযাপন শুরু হয়। চলতি কথা, সম্রাট আকবর বাংলা সন প্রবর্তন করেন। কিন্তু মুঘল আমলেরও পূর্বে প্রাচীন বাংলায় শত শত বছর ধরে মূল জনগোষ্ঠির পাশাপাশি ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর মানুষও বর্ষবরণ করে আসছে নিজস্ব সাংস্কৃতিক পরিমণ্ডলে। সরকারি হিসাব মতে ২৯টি আর বিভিন্ন বেসরকারি মতে প্রায় ৪৫ – ৫০টির মত ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর বাস বাংলাদেশে। জাতীয়ভাবে বাংলা সনের প্রথম দিন পহেলা বৈশাখ পালন করা হলেও বিভিন্ন নৃ-গোষ্ঠী পুরনো বছরকে বিদায় ও নতুন বছরকে স্বাগত জানিয়ে এক সাথে ৩ – ৭ দিন ধরে উৎসব উৎযাপন করে। ভারতের আসামে নববর্ষের উৎসব চলে ৮দিন। বিভিন্ন নৃ-গোষ্ঠীর ঐতিহ্যবাহী লোকজ ধারায় বর্ষ বরণের মধ্যদিয়ে ফুটে উঠে বৈচিত্রময় সাংস্কৃতিক রুচি বোধ। আর ভৌগলিক অবস্থানের কারণে বাংলাদেশেই শুধুমাত্র হিন্দু সম্প্রদায়ের বর্ষ বরণ বা চৈত্র সংক্রান্তি এলাকা ভেদে ভিন্ন ভিন্ন নাম ও বৈচিত্র্যময় লোকজ ধারার উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়। উত্তরাঞ্চলে চৈত্র সংক্রান্তিকে বলে বিষুয়া, খুলনা অঞ্চলে সারনী, চট্টগ্রাম অঞ্চলে বিউ বা বিহু, বৃহত্তর সিলেট অঞ্চলে সংগ্রাইন বা মাস পইলা পূজা। (সম্পূর্ণ…)

শান্তনু কায়সার : তাঁর স্মৃতি ও সৃষ্টি

পিয়াস মজিদ | ১৩ এপ্রিল ২০১৭ ১১:৩৩ পূর্বাহ্ন

photoশান্তনু কায়সারকে (১৯৫০-২০১৭) দেখেছি আমার বেড়ে ওঠার শহর কুমিল্লায়। লেখক নাম ‘শান্তনু কায়সারে’র আড়ালে তাঁর প্রকৃত নাম ‘আবদুর রাজ্জাক’; এ তথ্য জেনেছি যখন তখন ভাবতাম তিনি বুঝি কন্যাকুমারী উপন্যাসের লেখক আবদুর রাজ্জাক। পরে আমার ভুল ভাঙে; জেনেছি তিনি মূলত প্রাবন্ধিক-গবেষক। তবে তাঁর প্রথম দিকের গ্রন্থতালিকায় পাওয়া যাবে কবিতাগ্রন্থ রাখালের আত্মচরিত (১৯৮২) এবং গল্পগ্রন্থ শ্রীনাথ পণ্ডিতের প্রাণপাখি (১৯৮৭)। তাঁর কবিতাগ্রন্থটির প্রচ্ছদ করেছিলেন অকালপ্রয়াত কবি রুদ্র মুহাম্মদ শহীদুল্লাহ। পরে যখন প্রাবন্ধিক-গবেষক হিসেবে শান্তনু কায়সারের চূড়ান্ত সিদ্ধি তখনও কিন্তু তিনি কি এক অন্তর্তাগিদে লিখে গেছেন কবিতাগ্রন্থ শুভ সুবর্ণ জয়ন্তী (২০০২), গল্পগ্রন্থ ফুল হাসে পাখি ডাকে (২০০১), অর্ধশতাব্দী, উপন্যাস- ঐ নূতনের কেতন উড়ে, উপন্যাসিকা সংকলন ত্রয়ী। শকুন শিরোনামে একটি ধারাবাহিক উপন্যাসও কুমিল্লার কোন পত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছিল যা গ্রন্থরূপ পায়নি।
কুমিল্লা শহরে প্রায়শই মন্টুর দোকান নামে পত্রিকাবিপণিতে তাঁকে দেখা যেত একগাদা পত্রিকা কিনে সহ প্রাতঃভ্রমণকারীদের সাথে রাজনীতি থেকে সাহিত্য, সাহিত্য থেকে সংসার ইত্যাদি নানা বিষয়ে আড্ডা দিতে দিতে সময় পার করতে। জীবন চলার বাঁকে বাঁকে দেখা হওয়া, কথা হওয়া প্রতিটি মানুষই তাঁর কাছে ভীষণ মূল্যবান ছিলেন। তাই আমরা দেখি পত্রিকার দোকানদার মন্টু মারা গেলে যেমন তিনি তাঁকে স্মরণ করে লিখেছেন তেমনি তাঁর সুদীর্ঘদিনের সুহৃদ সমীর মজুমদারের পিতা ভুবনেশ্বর মজুমদারের প্রয়াণেও শোকার্ত কলম ধরেছেন। যে মানুষটি লিখেছেন দুই খন্ডে বঙ্কিমচন্দ্র (১৯৮২ ও ৮৪), মীর মশাররফ হোসেনকে নিয়ে গবেষণাগ্রন্থ তৃতীয় মীর (১৯৯৪) এবং অদ্বৈত মল্লবর্মনকে নিয়ে দুই বাংলায় পথিকৃৎপ্রতিম বেশ কয়েকটি গ্রন্থ, তাঁকে আমরা কুমিল্লা শহরে হেঁটো পথিকের মতো মাঠে-ঘাটে সক্রিয় দেখেছি। (সম্পূর্ণ…)

ইয়েভগেনি ইয়েভতুসেনকো : বর্ণাঢ্য জীবন ও কীর্তি

কামরুল হাসান | ৮ এপ্রিল ২০১৭ ৮:৪৭ অপরাহ্ন

Evgenyষাটের দশকে রাশিয়া মাতানো কবি ইয়েভগেনি ইয়েভতুসেনকো জন্মগ্রহণ করেছিলেন রাশিয়ার সাইরেরিয়ার ছোট্ট শহর জিমা জংশনে, ১৯৩২ সালে। স্ট্যালিন বিরোধিতার জন্য তাঁর অংকের শিক্ষক বাবাকে গোটা পরিবারসহ সাইবেরিয়ায় নির্বাসনে পাঠানো হয়েছিল। আশ্চর্য নয় যে, ইয়েভতুসেনকোর বেড়ে ওঠায় সে ঘটনার সুদূরপ্রসারী প্রভাব পড়েছিলো। তাঁর রক্তধারায় এসে মিশেছিল অনেকগুলো জাতিসত্ত্বার মিলিত ধারা। তাই বুঝি ইয়েভতুসেনকো এত প্রতিভাবান, এত দুর্জ্ঞেয়। শৈশবেই বাবার সাথে বেড়িয়ে এসেছেন রাশিয়ার সংলগ্ন কয়েকটি দেশ। কিন্তু সাত বছর বয়সে মায়ের সাথে বাবার ছাড়াছাড়ি হয়ে গেলে পিতার সাহচর্য থেকে বঞ্চিত হন তিনি। অতঃপর মা এবং মাতৃকুলের পরিজনদের কাছেই বড় হন। বাবার পারিবারিক নাম গ্যাংগনাস ছেড়ে মায়ের উপাধি ইয়েভতুসেনকো জুড়ে দেন নিজ নামের সাথে। অনেক বছর পরে যখন ইয়েভতুসেনকোর কবিতায় উদ্বেল গোটা রাশিয়া, তখন মায়ের উপাধি থেকে নেয়া নামের শেষাংশটুকু নামের প্রথমাংশের সাথে মিলে এক সাঙ্গীতিক দ্যোতনা হয়েই বিশ্ববাসীর কানে পৌঁছায়।

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ শেষ হলে বসবাসের জন্য তিনি সাইবেরিয়া থেকে রাশিয়ার রাজধানী মস্কোতে চলে আসেন। অত্যন্ত সমৃদ্ধ রাশিয়ান সাহিত্যের রাজধানীও সেটাই। মস্কোতে তিনি সাহিত্য রচনার সঠিক পরিবেশটি খুঁজে পান, পরিচিত হন সমসাময়িক এবং অগ্রজ অনেক কবির সাথে। ১৯৫১ থেকে ১৯৫৪ এই চার বছর মস্কোর গোর্কি সাহিত্য ইনস্টিটিউটে ভর্তি হয়েছিলেন সাহিত্য পড়ার জন্য, কিন্তু অনেক প্রতিভাবান লেখকের মতোই, শেষ করেননি সে পড়াশোনা। কবিতা তখন তাকে পেয়ে বসেছে। উন্মাদের মতো প্রেমে পড়ছেন আর কবিতা লিখে চলেছেন। (সম্পূর্ণ…)

চিনুয়া আচেবে আত্মশুদ্ধির আলোকিত পৈঠায়

রুখসানা কাজল | ৭ এপ্রিল ২০১৭ ১২:১৫ অপরাহ্ন

achebeনাইজেরিয়ার ইগবো সম্প্রদায়ের মধ্যে একটি উপকথা বেশ প্রচলিত ছিলএরকম ভাবে, মানুষ একবার ভেবেছিল যে তারা ঈশ্বরের কাছে অমরত্ম চাইবে। কিন্তু তাদের হয়ে কে যাবে ঈশ্বরের কাছে এই অমরত্ম চাইবার ইচ্ছার কথা নিয়ে? তখন তারা একটি কুকুরকে শিখিয়ে পড়িয়ে ঈশ্বরের কাছে রওয়ানা করিয়ে দিল। কুকুরের মত বন্ধু তো আর কেউ নয় মানুষের! একটি কুচুটে ব্যাঙ মানুষের এই গোপন ইচ্ছার কথা কি করে যেন জেনে যায়। কুকুরের আগেই সে ঈশ্বরের কাছে পৌঁছে যায়। গদগদ চিত্তে সে ঈশ্বরের কাছে জানায়, প্রভু মানুষ তাকে বিশেষ বার্তা দিয়ে আপনার কাছে নিবেদন পাঠিয়েছে। ঈশ্বর সদাশয়, মহাদয়ালু। জানতে চান, কি বার্তা বলে ফেল! তখন ব্যাঙ কূটনামি করে মিথ্যে বলে যে, বার্তাটি হচ্ছে, মৃত্যুর পরে মানুষ আর এই পৃথিবীতে ফিরে আসতে চায় না। ঈশ্বর বললেন তথাস্তু, মানুষের ইচ্ছাই পূর্ণ হবে ।

এইরকম সময়ে কুকুর সেখানে পৌঁছে যায় এবং যথাযথ নম্রতায় মানুষের অমরত্মের ইচ্ছাকথা ঈশ্বরের কাছে নিবেদন করে। ঈশ্বর তথাগত কি করবেন তখন? তিনি ত কিছুতেই একটু আগে ব্যাঙকে দেওয়া প্রতিশ্রুতি ফিরিয়ে নিতে পারেন না। আবার কুকুরের নিবেদনের সত্যতাকে অস্বীকার করে ফেলেও দিতে পারেন না। তাই তিনি রহস্য রেখে কুকুরের নিবেদনকে গ্রহন করে জানালেন, তথাস্তু। মানুষ পৃথিবীতে ফিরে আসতে পারবে বটে তবে কিনা মনুষ্য রূপে নয়, অন্যান্য বিভিন্ন রূপ ধারণ করেই মানুষ এই পৃথিবীতে চিরকাল বেঁচে থাকবে। (সম্পূর্ণ…)

‘সমুদ্রস্তন দ্বীপের মতো সে আছে ঘুমিয়ে’ : ডেরেক ওয়ালকটের প্রস্থান

কুমার চক্রবর্তী | ২৪ মার্চ ২০১৭ ১১:০৭ অপরাহ্ন

Walcott১.
শীতল কাচ ছায়াময় হয়ে ওঠে। এলিজাবেথ একবার লিখেছিল—
আমরা কাচকে আমাদের ব্যথার চিত্রকল্প বানিয়ে ফেলি।

২.
কাছে এসো ফিরে
আমার ভাষা।

ওয়ালকট, তাঁর নিজের ভাষায়, প্রথমত এক ক্যারিবীয় লেখক যিনি মানবগোষ্ঠীর একজন সক্রিয় সদস্য হিসেবে সবকিছু দেখেছেন আর বলেছেন, পরিপক্বতা হলো প্রত্যেক পূর্বসূরির বৈশিষ্ট্যের সাঙ্গীকরণ। তাঁর একীকরণের বিষয় ছিল ল্যাঙ্গুয়েজ কনটিনাম আর কালচারাল স্ট্রেটাম। ১৯৯২ সালে নোবেল পুরস্কারপ্রাপ্ত, সেন্ট লুসিয়ার ক্যাস্টিসে ১৯৩০-এর ২৩ জানুয়ারি জন্মগ্রহণকারী ডেরেক ওয়ালকট মনে করতেন যে, অধিকাংশ কৃষ্ণাঙ্গ লেখকই তাঁদের আত্মবিচ্ছিন্নতা দ্বারা নিজেদের পঙ্গু করে ফেলেন, কবি হিসেবে মানবতার বিভাজনে বিশ্বাস অনুচিত। তাঁর স্টার-আপেল কিংডম কাব্যের ‘দ্য স্কুনার ফ্লাইট’ কবিতায় এই চেতনার স্যাবাইন বলছে এমন কথা যা থেকে তাঁর প্রাতিস্বিকতার পরিচয় ধরা পড়ে:
আমি হলাম সোজাসাপটা একজন লাল নিগার যে সমুদ্রপ্রেমিক,
আমার রয়েছে ঠিকঠাক ঔপনিবেশিক শিক্ষা,
আমি একাধারে ডাচ, কৃষ্ণাঙ্গ এবং ইংরেজ
আর হয় আমি কেউ নই নতুবা
আমি এক জাতি।

তাঁর ভেতর ইউরোপীয় ইতিহাস, শিল্পসাহিত্য আর সেন্ট লুসিয়ার আফ্রিকানির্ভর সংস্কৃতির সার্থক মিলন ঘটেছে। তিনি ছিলেন না ইউরোপীয় গোছের, আবার সেন্ট লুসিয়ার কৃষ্ণাঙ্গদের মতো কালোও ছিলেন না, ছিলেন কিছুটা সাদাটে। ফলে বিভিন্ন ঐতিহ্য থেকে গ্রহণের ক্ষমতা তাঁকে দিয়েছে সময়ের এক অতলান্ত কৌলিনত্ব। তিনি বলেছিলেন: ‘আামি এক বিচ্ছিন্ন লেখক: আমার মধ্যে রয়েছে এমন-এক ঐতিহ্য যা একদিকে গ্রহণ করে যায়, আর আছে অন্য এক ঐতিহ্য যা অন্যদিকে বিস্তারিত হয়। একদিকে অনুকরণশীল, বর্ণনাত্মক ও নৃতাত্ত্বিক উপাদান অন্যদিকে তা আবার সাহিত্য ও ধ্রুপদি ঐতিহ্যে শক্তিশালী।’ (সম্পূর্ণ…)

ক্যারিবিয় হোমারের মহাপ্রয়াণ

কামরুল হাসান | ২৪ মার্চ ২০১৭ ৫:৩৫ অপরাহ্ন

D.W.অতিসম্প্রতি প্রয়াত হলেন ক্যারিবীয় দ্বীপপুঞ্জের নোবেল বিজয়ী কবি ডেরেক ওয়ালকট। উল্লেখ্য যে তিনিই পশ্চিম ভারতীয় দ্বীপপুঞ্জের প্রথম নোবেল বিজয়ী কবি নন, যদিও কবিতাবিশ্বে তিনিই বেশি আলোচিত। তাঁর আগে ১৯৬০ সালে সাঁ ঝ পের্স সাহিত্যে নোবেল পুরস্কার লাভ করেছিলেন। ওয়ালকটের নোবেল প্রাপ্তি তার ৩২ বছর পরে, ১৯৯২ সালে। তিনি জন্মগ্রহণ করেছিলেন সেন্ট লুসিয়ায় ১৯৩০ সালে। প্রাথমিক জীবন ও শিক্ষা সেন্ট লুসিয়াতেই। তাঁর স্কুল শিক্ষিকা মা কবিতা ভালোবাসতেন, ঘরে উচ্চস্বরে কবিতা আবৃত্তি করতেন। শৈশবে শোনা সেসব কবিতা শিশু ও বালক ওয়ালকটের অবচেতনে প্রভাব ফেলে থাকতে পারে। তবে তিনি হতে চেয়েছিলেন তার বাবার মতো চিত্রশিল্পী। চিত্রকলায় দীক্ষাও নিয়েছিলেন হ্যারল্ড সিমন্সের কাছে। কবিতা নয়, তার প্রাথমিক হাতেখড়ি চিত্র অাঁকায়। দুর্ভাগ্য বাবার মুখ তিনি দেখতে পাননি। মাত্র ৩১ বছর বয়সে তার বাবা যখন মারা যান, তখন ডেরেক ও তার জমজ ভাই রবার্ট মাতৃগর্ভে ছিলেন।

কিছুদিন ছবি আঁকার পরেই তিনি ইংরেজি ভাষার প্রেমে পড়ে যান, যা থেকে জন্ম নেয় সাহিত্যপ্রীতি। টি এস এলিয়ট ও এজরা পাউন্ডের কবিতাপাঠ তাকে গভীরভাবে আলোড়িত করে এবং সাহিত্যকেই ধ্যানজ্ঞান করেন। মাত্র ১৯ বছর বয়সে মায়ের কাছ থেকে ২০০ ডলার সাহায্য নিয়ে তিনি দু’টি কাব্যগ্রন্থ্ নিজেই প্রকাশ করেন। বন্ধু ও শুভানুধ্যায়ীদের কাছে বই বিক্রি করে মায়ের কষ্টে অর্জিত অর্থ ফেরৎও দিয়েছিলেন। (সম্পূর্ণ…)

সাহিত্য মানুষকে পোকা হওয়া থেকে রক্ষা করতে চায়

রাজু আলাউদ্দিন | ১১ মার্চ ২০১৭ ১:০৪ পূর্বাহ্ন

‘জীবন, সমাজ ও সাহিত্য’–এই শিরোনামে আহমদ শরীফের একটি প্রবন্ধ পাঠ্য ছিলো বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগে। প্রবন্ধটি ছাত্ররা বাধ্য হয়ে একসময় হয়তো পাস করার তাগিদে পড়তেন, কিন্তু এর সাথে জীবন ও সমাজের সম্পর্ক তাতে কতটা উপলব্ধি করতে পারতো তারা সে ব্যাপারে নিশ্চিত নই। শিরোনামের এই ভিন্ন অর্থের পরস্পর-বিচ্ছিন্ন তিনটি শব্দের মধ্যে কোন বাস্তব সম্পর্ক আছে কিনা, এ নিয়ে লেখক শিল্পী ছাড়া–অন্যদের ঘোরতর না হোক, অন্তত কিছুটা সন্দেহতো আছেই। আছে যে তার একটা উদাহরণ আমরা এখনকার সাধারণ ‘জীবন’ ও ‘সমাজ’ থেকে দেয়ার চেষ্টা করতে পারি।

সারা পৃথিবীতেই শিল্প ও সাহিত্যের কদর এতটাই কমে গেছে যে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মানবিক শাখায়, বিশেষ করে সাহিত্য বিভাগের তুলনায় বিজ্ঞান, প্রযুক্তি ও ব্যবসা বাণিজ্য শাখায় ছাত্রছাত্রীদের সংখ্যা অনেক বেশি। আমাদের দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর চেহারা এই অর্থে আরও করুণ। আমাদের এখানে সবচেয়ে ‘খারাপ’(!) ছাত্রছাত্রীরা সাহিত্য বিভাগে ভর্তি হতে বাধ্য হন আজকের জীবনে সাফল্যদায়ী অন্য বিভাগে ভর্তি হতে না পেরে। বাবা-মায়েরা এমন সব বিষয়ে সন্তানদেরকে পড়তে এবং ভর্তি হতে উৎসাহ দেন যা তাদেরকে দ্রুত আর্থিক সাফল্য ও নিশ্চয়তা দেবে। সাহিত্য যে জীবনে এবং সমাজে প্রয়োজন সে সম্পর্কে তাদের কোন ধারণা তো নেই-ই, এমনকি থাকলেও, যেহেতু সাহিত্যে পাস করে কোন মোটা অংকের চাকরী পাওয়া যাবে না, অতএব এই বিষয়ে তাদের আস্থাও নেই। সুতরাং সাহিত্য সম্পর্কে প্রায় লোক-দেখানো একটা শ্রদ্ধা থাকলেও জীবনে এর প্রবেশকে মোটামুটি রুদ্ধ করে রেখেছেন এই ভয়ে যে সাহিত্য জীবনকে কোন কিছু দিতে তো পারেই না, বরং জীবনকে নিঃস্ব করে দেয়। এ রকম বিশ্বাসের বহু মানুষ মিলে যে-সমাজটি আমাদের দেশে বিরাজ করছে তার চেহারা এবং মর্মটা আমরা আন্দাজ করে নিতে পারি সহজেই। যেহেতু সমাজ একটা বিমূর্ত জিনিস তাই অনুমান করা ছাড়া আর উপায় কি। তবে এই অনুমান বিমূর্ত হলেও অবাস্তব নয়।
খুব বেশি দিন আগের কথা নয়, মহামান্য মুজতবা আলীর পর্যবেক্ষণ ও ভাষ্যে জানা যাচ্ছে, “First World War-এর আগ কোন ডাক্তার-ইঞ্জিনিয়ারকে ইউরোপের কোন ভদ্রলোকের ড্রইং রুমে ঢুকতে দেওয়া হতো না। বুঝলে, আমার নাতি-নাতনীদের মধ্যে যারা ডাক্তার-ইঞ্জিনিয়ার হয়েছে তাদেরকে আমার রুমে সাধারণতঃ ঢুকতে দেই না। কারণ ওরা তো অর্ধশিক্ষিত। ওদের সাথে আলাপ করার মতো কিছু নেই। ৫০ বছর বয়স হওয়ার আগে কোন ডাক্তার নিজেকে ভদ্রলোক বলে দাবি করতে পারে না। কারণ ডাক্তারী পাস করার পর ২০/২৫ বছর আমাদের মতো Humanities-এ পড়া লোকজনদের সাথে মেলামেশা না করলে তাঁরা ভদ্রলোক হতে পারে না। অবশ্য ভদ্রলোক হওয়া খুবই কষ্টকর ব্যাপার।” (সৈয়দ মুজতবা আলী: প্রসঙ্গ অপ্রসঙ্গ, গোলাম মোস্তাকীম, স্টুডেন্ট ওয়েজ, তৃতীয় প্রকাশ: বৈশাখ ১৪১৫ বঙ্গাব্দ, পৃ ৪০-৪১)
ইউরোপ নিজেই বস্তুগত বৈভব ও উন্মাদ মুনাফার লোভে রাতারাতি ডিগবাজি খেয়ে এখন সে Humanities-এর তোয়াক্কা করে না। ভদ্র হওয়া মানে মানবিক শাখার শিল্প, সাহিত্য, দর্শন ও ইতিহাসে নিজের মনকে আলোকদীপ্ত করে তোলা। তার এখন অার আলো দরকার নেই, তাই সে ভদ্রতার আভিজাত্য ত্যাগ করে এখন সে রাশি রাশি টাকা চায়। এই আকাঙ্ক্ষা এখন তার সংস্কৃতির সর্বস্তরে প্রতিফলিত।

পশ্চিমের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর বর্তমান অবস্থা ব্যাখ্যা করে সাহিত্য-সমালোচক ও দার্শনিক জর্জ স্টেইনারের একটা পর্যবেক্ষণ উদ্ধৃত করে ঔপন্যাসিক মারিও বার্গাস যোসা তার এক প্রবন্ধে লিখেছিলেন যে,The humanities now only attract mediocrities and the dregs of the university, while talented Young People flock to study the sciences. And the Proof of this is that the entrance requirements, for humanities departments in the best academic centers of England and United States have dropped to unseemly levels. (Mario Vargas Llosa, The language of passion, Picador. 2003, P-114). (সম্পূর্ণ…)

অনুবাদ সাহিত্য: বৈচিত্র্য ও বৈভব, আদর্শ ও বিতর্ক

আবদুস সেলিম | ৫ মার্চ ২০১৭ ৪:০১ অপরাহ্ন

translation-1১.অনুবাদ সাহিত্য
জ্যাক দেরিদা, ওয়াল্টার বেনজামিন-এর একটি বক্তব্যকে সমর্থন করে বলেছিলেন, অনুবাদ কোনো গ্রন্থ বা মুদ্রিত পাঠ্যবস্তুর টিকে থাকা নিশ্চিত করে। ইংরেজিতে বক্তব্যটি এমন, ‘Translation, . . . ensures the survival of a text.’। তিনি এও বলেছেন অনুবাদ আসলে সাহিত্যকর্মের অন্যজীবন দেয়–এক নতুন মৌলিক অস্তিত্ব সৃষ্টি করে অপরাপর ভাষায়। প্রসঙ্গত এও বলা হয়েছে–বলেছেন জোসেফিন পামার–অনুবাদ ছাড়া কি আমরা পড়তে পারতাম খৃস্টপূর্ব সাত দশকের গ্রিক মহিলা কবি স্যাফোর কবিতা বা পাঁচ দশকের গ্রিক নাট্যকার ইস্কিলাসের নাটক?
অনুবাদকর্মের আলোচনায় সনাতনভাবে দুটি বিতর্কিত বিষয় উত্থাপিত হয়–আনুগত্য ও স্বাধীনতা (fidelity and license)। অর্থাৎ বিশ্বাসযোগ্য ভাষান্তরের স্বাধীনতা এবং তা করতে গিয়ে মূলের প্রতি অনুগত থাকা। মানতেই হবে, অনুগত থাকার অর্থ উৎস ভাষার অর্থটিকেই বিশ্বস্তরূপে অনুকরণ করা নয় আক্ষরিকভাবে। কারণ শব্দ বা word কখনই কোনো সাহিত্যকর্মের অন্তর্নিহিত অর্থকে চিহ্নিত করে না কারণ যেকোনো শব্দের দুটি অবস্থান রয়েছে–বিশেষ করে সাহিত্যকর্মে–একটি আভিধানিক এবং অন্যটি দ্যোতনিক বা গূঢ়ার্থিক। বিরোধ বাধে ঐ দ্যোতনিক বা গূঢ়ার্থিক শব্দের ভাষান্তর কালে। যদিও নীগিতভাবে অনুপযোগী (politically inappropriate) তবুও বর্তমান প্রসঙ্গে উপযোগী, আমি এই উদ্ধৃতিটি বিনয়ের সাথে উত্থাপন করতে চাই: Translation is like a woman: if she is faithful, she is not beautiful; if she is beautiful, she is not faithful. গূঢ়ার্থটি হলো, অনুবাদক কখনই একাধারে মূলের প্রতি অনুগত থেকে নান্দনিক অনুবাদকর্ম করতে পারে না। নান্দনিক বা সুন্দর হতে হলে স্বাধীনতা অপরিহার্য। (সম্পূর্ণ…)

ভাষার বিকৃতি: হীনম্মন্যতায় ভোগা এক মানসিক ব্যাধি?

রাজু আলাউদ্দিন | ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০১৭ ১১:১২ পূর্বাহ্ন

The corruption of man is followed by the corruption of language–Ralph Waldo Emerson

বাংলা ভাষা নিয়ে আমাদের গর্বের কোন শেষ নেই, আবার নিজের ভাষাকে অপমানেও আমাদের কোনো জুড়ি নেই। যে ভাষার জন্য আমরা শহীদ হয়েছি সেই ভাষাই যথেচ্ছ ব্যবহারের দায়িত্বহীনতার মাধ্যমে তার ঘাতক হয়ে উঠেছি। পুরো বিষয়টি জাতীয়তাবাদের দ্বৈতরূপ সম্পর্কে হোর্হে লুইস বোর্হেসের উক্তিরই সমধর্মী হয়ে উঠেছে: “যিনি শহীদ হওয়ার জন্য প্রস্তুত তিনি জল্লাদও হতে পারেন এবং তোর্কেমাদা(স্পেনে ইনকুইজিশনের যুগে অত্যাচারী যাজক–লেখক) খ্রিষ্টের অন্য রূপ ছাড়া আর কিছু নন।” আর এই জল্লাদের ভূমিকায় এখন জনগন ও রাষ্ট্র একই কাতারে সামিল হয়েছে।

একটি সুশৃঙ্খল ও সুসংগঠিত অভিব্যক্তিপূর্ণ ভাষা গড়ে উঠতে হাজার হাজার বছর লাগে। আর একটি ভাষার গড়ে ওঠার পেছনে থাকে শত সহস্র মানুষের অবদান যারা শব্দ ও শব্দার্থের জন্ম দিয়ে ভাষাকে সমৃদ্ধ করে। আর লেখকরা এসে এই শব্দ ও শব্দার্থের সীমা বাড়িয়ে দেন বা নতুন নতুন অর্থের ব্যঞ্জনায় দীপিত করে তোলেন ভাষাকে।

কিন্তু আমাদের অজ্ঞতা, অবহেলা, স্বেচ্ছাচার ও দায়িত্বহীনতার কারণে এই সম্মিলিত অর্জনকে আমরা বিকৃত করছি প্রতিনিয়ত।

অনেকেই বলেন ভাষা কোন স্থির বিষয় নয়, নদীর মতো পরিবর্তিত হতে বাধ্য। অবশ্যই তা পরিবর্তিত হবে, কিন্তু বিকৃত নয়। আমরা স্বেচ্ছাচার ও অবহেলার মাধ্যমে একে বিকৃতও করে তুলতে পারি, প্রবহবান নদীতে রাসায়নিক বর্জ ও জঞ্জাল ফেলে একে দুষিতও করতে পারি, যেভাবে বুড়িগঙ্গা নদীকে আমরা করেছি।
ভাষা স্থির কোন বিষয় নয় বলেই তা প্রতিনিয়ত বদলায়। আর বদলায় বলেই শব্দে ও অর্থে বৈচিত্র ও বিস্তার লাভ করে। কিন্তু ঐতিহাসিক, রাজনৈতিক ও সামাজিক বাস্তবতার কারণে পরিবর্তন এক জিনিস আর দায়িত্বহীনতার কারণে বিকৃতি ঘটানো আরেক জিনিস। (সম্পূর্ণ…)

« আগের পাতা | পরের পাতা »

Disclaimer & Privacy Policy  |  About us  |  Contact us

© bdnews24.com