প্রবন্ধ

৭৩-এ কবি নির্মলেন্দু গুণ

ইজাজ আহমেদ মিলন | ২১ জুন ২০১৭ ৫:১২ অপরাহ্ন

goon pictur‘জন্মের সময় আমি খুব কেঁদেছিলাম,এখন আমার সব কিছুতেই হাসি পায়/ আমি জন্মের প্রয়োজনে ছোট হয়েছিলাম,এখন মৃত্যুর প্রয়োজনে বড় হচ্ছি ।’ আধুনিক কাব্য সাহিত্যের দিকপাল কবি নির্মলেন্দু গুণ জন্ম এবং মৃত্যু সম্পর্কে এভাবেই বলেছেন তার স্ববিরোধী কবিতার শেষাংশে। সত্য ও সুন্দরের উপাসক কবি গুণ তার কবিতায় যথার্থই বলেছেন। প্রত্যেকটা মানুষই জন্মের প্রয়োজনে ছোট থাকে। আর মৃত্যুর প্রয়োজনেই বড় হন। বড় হতে হতে যখন আর বড় হওয়ার জায়গা থাকে না তখনই তিনি অনিবার্য ঠিকানায় চলে যান। আর এ সব দেখে কবির বড্ড হাসি পায় যেমনটা কান্না পেয়েছিল জন্মের সময়।
আজ ২১ জুন। ছয় ফুট দীর্ঘ, উন্নত নাসিকা, রবীন্দ্রনাথের মতো শশ্রুমণ্ডিত, তীব্র-তীক্ষ্ন চোখ আজীবন ঢোলা পাজামা-পাঞ্জাবি পরিহিত কবি নির্মলেন্দু গুণ ৭৩’এ- পা রাখলেন। এ কথা অস্বীকার করার কোনো জো নেই যে, কবি নির্মলেন্দু গুণই বাংলাদেশে জীবিতদের মধ্যে সবচেয়ে জনপ্রিয় ও পাঠকনন্দিত কবি। কবিতার পেছনেই তিনি লেখক জীবনের প্রায় পুরো অংশই নিয়োগ করেছেন। এই কবিতাই তার ধ্যান জ্ঞান সাধনা। কবিতা গুণদাকে সব দিয়েছে। ঢেলে দিয়েছে। তিনি সফলতার শীর্ষে আরোহন করেছেন যৌবন শুরু হওয়ার বেশ আগেই। ১৯৬৮ সালে কবি নির্মলেন্দু গুণ তার বোন সোনালীকে এক চিঠিতে লিখেছিলেন ‘আমার কাছে আমার কবিতা আমার চোখের মতো। আমার কাছে আমার কবিতা আমার আত্মার মতো। আমার কাছে আমার কবিতা আমার রক্তের মতো প্রিয়। আর কবিতাও আমাকে ভালোবাসে বলেই হয়তো ষাট দশকের যেসব কবি পূর্ববঙ্গে জন্ম নিয়েছে তাদের মধ্যে যদি পাঁচজনেরও নাম করতে হয় – তবে আমার নাম অপরিহার্য।’ গুণদা সারাটা জীবনই তার লেখনীতে সত্য আর সুন্দরের উপাসনা করেছেন। যদি তাকে ফাঁসির মঞ্চে নেওয়া হয় কিংবা জিহবা কেটে দেওয়া হয় তবুও তিনি কখনো মিথ্যার আশ্রয় নেবেন না। নেননি কখনো। প্রবল আত্মবিশ্বাসী এ কবি চরম সত্য কথাকে যে কোনো ভর-মজলিশে অকপটে বলে যেতে পারেন। নিজের বিপক্ষে গেছে অথচ অকপটে লিখেছেনও এমন নানা সত্য কথা। যেমন – হোটেলে খেয়ে টাকা না থাকার জন্য দৌড়ে পালিয়েছেন, কলেজে হোস্টেল ম্যানেজার নির্বাচিত হয়ে টাকা চুরি করেছেন, সে টাকা দিয়ে জুয়া খেলেছেন। (সম্পূর্ণ…)

তাহমিমা আনামের ‘গার্মেন্টস’ প্রসঙ্গে

পূরবী বসু | ১৮ জুন ২০১৭ ১০:০৮ অপরাহ্ন

tahmima_anamতাহমিমা আনাম সম্প্রতি ইংরেজিতে লিখিত তাঁর গল্প ‘গার্মেন্টস’-এর জন্যে ‘ও’ হেনরী’ সাহিত্য পুরস্কার অর্জন করেছেন। সংবাদটা প্রকাশিত হবার পর থেকে তাহমিমা আনাম, তাঁর লেখা, বিশেষ করে এই গল্প ও তার সাহিত্যমূল্য, তাহমিমার বংশ পরিচয় (তাঁর বিখ্যাত পিতার প্রসঙ্গ), বাস্তবতার নিরীখে গল্পের অসঙ্গতি এবং এই গল্পের কাহিনীর মাধ্যমে দেশের ভাবমূর্তি খোয়া যাওয়ার আশংকা ইত্যাদি বহু প্রসঙ্গ টেনে এনেছেন দেশের সমালোচকগণ। তাহমিমার লেখার দূর্বলতা, অবাস্তবতা, গার্মেন্টস মেয়েদের সংগ্রামী জীবনের কথার বদলে তাদের যৌনতা নিয়ে সুড়্সুড়ি দেওয়া, কাজীর অফিসে গিয়ে এক পুরুষের সঙ্গে তিন গার্মেন্টস কন্য্যার বিয়ের মতো ‘আজগুবি’ প্রসঙ্গ উল্লেখ করে ‘গার্মেন্টস’ গল্পটিকে ত্তুচ্ছতাচ্ছিল্য করেছেন অনেকেই। আবার কেউ কেউ (সংখ্যায় কম) প্রশংসাও করেছেন। এইসব মতামত বা আলোচনা যা এই পর্যন্ত চোখে পড়েছে ( প্রধানত ফেসবুকে), তার অধিকাংশ-ই নেতিবাচক, কিছু ইতিবাচক, যার বিস্তারিত ও স্বতন্ত্র আলোচনা এ লেখায় অন্তর্ভুক্ত করা সম্ভব নয়। এইসব মন্তব্য ছাড়াও আমার চোখ পড়েছে বিভিন্ন কাগজে প্রকাশিত কয়েকটি লেখা যে লেখাগুলো ‘গার্মেন্টস’ গল্পকে বিশ্লেষন করার চেষ্টা করেছে। এইসব আলোচকদের ভেতর দুজন নারী, তসলিমা নাসরীন ও তানিয়া মোর্শেদ যাঁরা উভয়েই গল্পটির প্রশংসা করেছেন, এবং তাঁরা বাস্তবতার সাথে গল্পের কাহিনীর অসঙ্গতি খুঁজে পান নি। বাকি দু’জন পুরুষ। একজন মোজাফফর হোসেন যিনি গল্পটির বাংলা তর্জমাও করেছেন। মোজাফফর সার্বিকভাবে নিরপেক্ষতা বজায় রাখার চেষ্টা করেছেন। গল্পটিকে আহামরি মানের মনে না করলেও তুচ্ছ জ্ঞাণ করেননি তিনি। তাঁর যুক্তিপূর্ন আলোচনা তাহমিমার বিরুদ্ধে উত্থাপিত বিভিন্ন অভিযোগের যথার্থতা নির্ণয়ের প্রয়াস। ওদিকে তুহিন দাস সংক্ষিপ্ত এক কলামে তাহমিমাকে অভিনন্দন জানিয়েছেন, গল্পটি সার্থকভাবে পুরুষতন্ত্র ও পুরুষতান্ত্রিক মুল্যবোধে আঘাত দিতে সমর্থ হয়েছে বলে। এঁরা ছাড়াও আরো অনেকেই হয়তো বিভিন্ন কাগজে লিখেছেন, যা পড়ার সুযোগ আমার হয়নি। আমি তাঁদের কাছে ক্ষমাপ্রার্ত্থী এজন্যে যে আমার চোখে না পড়ায় এবং পঠিত না হওয়ায় সেসব সম্পর্কে ভিন্ন করে কিছু বলতে পারলাম না। (সম্পূর্ণ…)

ক্রিয়া-প্রতিক্রিয়ায় অরুন্ধতী রায়ের নতুন উপন্যাস

মুহিত হাসান | ১৪ জুন ২০১৭ ১১:৪৬ পূর্বাহ্ন

Author‘এলেন, দেখলেন, জয় করলেন’– আজ থেকে বিশ বছর আগে নিজের প্রথম উপন্যাস তথা প্রথম বই গড অফ স্মল থিংকস প্রকাশ পাবার পর অরুন্ধতী রায় এরকম প্রশংসাবাণীতেই ভেসে গিয়েছিলেন। মাত্র এক মাসের মধ্যে বইখানার চার লক্ষ কপি তখন বিক্রি হয়েছিল। সমালোচকদের বাহবাও জুটেছিল অফুরান। পরে অরুন্ধতী নিজের এই পয়লা উপন্যাস দিয়ে জয় করে নেন দুনিয়াখ্যাত বুকার প্রাইজ। কিন্তু কথাসাহিত্যের ক্ষেত্র থেকে তিনি যেন সরেই গিয়েছিলেন এরপর। এমন রাজকীয় অভিষেকের পর কেন তাঁর কলম থেকে বেরুচ্ছে না আরেকটা উপন্যাস–এই প্রশ্ন তাড়িয়ে ফিরেছে ভক্ত-পাঠকদেরও। অবশ্য লেখালেখি তাঁর থেমে থাকেনি, সামাজিক-রাজনৈতিক নানা ইস্যুতে ঝাঁঝালো-তর্কপ্রবণ প্রবন্ধ-নিবন্ধ-কলাম লিখেছেন প্রচুর। সেসব গদ্যলেখা এক করে বইও হয়েছে একাধিক। পাশাপাশি ঠোঁটকাটা অ্যাকটিভিস্ট হিসেবে আবির্ভূতও হয়েছেন ওইসব ঘটনা-প্রসঙ্গের পরিপ্রেক্ষিতে।
সুখবর হলো, কথাসাহিত্যের দুনিয়ায় বিশ বছর নীরব থাকার পর গত ৬ জুন অরুন্ধতী রায় হাজির হয়েছেন তাঁর দ্বিতীয় উপন্যাস দ্য মিনিস্ট্রি অফ আটমোস্ট হ্যাপিনেস নিয়ে। গত বছরের অক্টোবরে পেঙ্গুইন র‌্যান্ডম হাউজের তরফ থেকে বইটি আশু প্রকাশ্য এমন বিবৃতি আসা মাত্রই পাঠকদের মধ্যে আগ্রহ ও অপেক্ষার সূত্রপাত ঘটে। আগ্রহের আগুনে আরো ঘি পড়ে যখন পেঙ্গুইনের দুই প্রতিনিধি সিমন প্রসের ও মিরু গোখলে প্রকাশিতব্য বইটি সম্পর্কে বলেছিলেন : “এই বইটি প্রকাশ করতে পারাটা একইসাথে আনন্দের ও সম্মানের। কী অবিশ্বাস্যরকমের বই এটি–একাধিক স্তর থেকে; সাম্প্রতিককালে আমাদের পড়া নিখুঁত বইগুলোর একটি। এর লেখনী অসামান্য, সাথে চরিত্রগুলোও ঔদার্য ও সহানুভূতির সাথে জীবন্ত করে তোলা হয়েছে…”। তাঁরা আরো বলেছিলেন, বইটি আমাদের স্মরণ করিয়ে দেবে যে শব্দরাও জীবন্ত। অরুন্ধতী নিজের মন্তব্য ছিল এমন “ আমি এটা জানাতে পেরে খুশি যে উন্মাদ আত্মারা(এমনকি যাঁরা অসুস্থ তারাও) এই উপন্যাসের মাধ্যমে পৃথিবীর পথ খুঁজে পাবে, যেমন করে আমি পেয়েছি আমার প্রকাশককে।” আর তাঁর প্রকাশনা-এজেন্ট ডেভিড গুডউইনের প্রতিক্রিয়া ছিল উচ্ছ্বাসমুখর : “একমাত্র অরুন্ধতীই এই উপন্যাসটি লিখতে পারতেন। একদম খাঁটি। এটা নির্মিত হতে লেগেছে কুড়ি বছর, এবং এই অপেক্ষা সার্থক।” (সম্পূর্ণ…)

সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ ‘স্তন’ ও ‘একটি তুলসী গাছের কাহিনী’

লীনা দিলরুবা | ১৩ জুন ২০১৭ ১২:০৮ অপরাহ্ন

border=0সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ আধুনিক বাংলা সাহিত্যের প্রথম সারির শিল্পী। তাঁর লেখার আবেদন গভীর এবং বহুমূখী। আমাদের স্মরণের ভেতর তাঁর মত লেখক হাতেগোনা। সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ’র আবির্ভাব `কল্লোল যুগে’ ঘটলেও আধুনিকতায় তিনি সময়ের চেয়ে অনেকখানি এগিয়ে ছিলেন; এবং সবসময়ই আমাদের অগ্রজদের সামনে অবস্থান করেছেন– যখন সাহিত্যচর্চা শুরু করেছিলেন তখন- আর সময়-কাল ঘুরে অাজকের বাস্তবতায়ও ওয়ালীউল্লাহ সবার চেয়ে এগিয়েই অাছেন। তাঁর গল্প-উপন্যাস বহুমাত্রিকতায় অনন্য। বর্তমান আলোচনায় সৈয়দ ওয়ালিউল্লাহ’র লেখা দুটি গল্প নিয়ে লিখতে বসে পলে পলে অনুভব করেছি, সমস্ত কিছুর ওপর তাঁর দখলদারিত্বের দিকটি। গভীর আবেদনময় দুটি গল্প নিয়ে এই আলোচনা। একটির নাম ‘স্তন’, এবং অন্যটি ‘একটি তুলসী গাছের কাহিনী।’

[এক]

“স্তন’ গল্পটি গভীর অর্ন্তভেদী। মানুষের সম্পর্কের ব্যক্তিস্বার্থ’র তুলনায় মানবতার সম্পর্ক কতখানি মহৎ এবং গভীর সেই বাতার্টি এই রূপকধর্মী গল্পের মধ্যে নিহিত আছে।

জনৈক আবু তালেব সালাউদ্দিন সাহেব আত্মীয়স্বজনের সঙ্গে দেখা সাক্ষাতের বিষয়টি সারেন খুবই আয়োজনের মধ্য দিয়ে। তিনি সচরাচর যার বাড়ি যান, তাকে আগাম খবর দিয়েই সেখানে গমন করেন। কার- কার বাড়ি যাবেন সেটিও ছকে আঁকা। একদিন আত্মীয়স্বজনের সেই নির্ধারিত ছঁকের বাইরের একজনের বাড়ী, তা-ও বিনা খবরে যাবার উপলক্ষ্য তৈরি হয় একটি দুঃখজনক ঘটনায়। তাঁর দূর-সম্পর্কের আত্মীয় কাদের-এর স্ত্রী মাজেদা ষষ্ঠ সন্তান জন্ম দিতে গিয়ে মৃত সন্তান প্রসব করেন, অন্যদিকে সেই সময়েই সালাউদ্দিন সাহেবের কন্যা খালেদা সন্তান জন্ম দিতে গিয়ে মারা যায়। মা’ মরে গেলেও শিশুটি বেঁচে থাকে। তাঁর সদ্যপ্রসূত নাতি মা’ মরে যাবার কারণে মাতৃদুগ্ধ থেকে বঞ্চিত হয়েছে, আর এদিকে কাদেরের স্ত্রী মৃত সন্তান প্রসব করেছে। সালাউদ্দিন সাহেবের কন্যা খালেদার পুত্রটির প্রয়োজন দুধ আর এদিকে সন্তান মারা গেলেও কাদেরের স্ত্রীর স্তনে দুধ সঞ্চরণ থাকবে ধরে নিয়ে সালাউদ্দিন চান তাঁর মৃতা কন্যার সদ্যজাত নবজাতকটি কাদেরের স্ত্রীর স্তনের দুধ পান করে বেঁচে থাকুক। এই গূঢ় ইচ্ছে বাস্তবায়নে তিনি কাদেরের বাড়ি আসেন, প্রস্তাবটি জারি করলে কাদের মুখে রা না করলেও একধরণের সম্মতি প্রদান করেন, এতে সালাউদ্দিনের স্বস্তি আসে। কিন্তু একটু অস্বস্তি তৈরি হয় কাদেরের বাড়ির ভেতর-বাহির পরিবেশের দরিদ্র অবস্থা আর নোংরা-ময়লা দেখে। কাদের নেহায়েত দরিদ্র মানুষ, তাঁর বাড়ির বর্ণনা সৈয়দ ওয়ালিউল্লাহ এভাবে দিয়েছেন- (সম্পূর্ণ…)

উৎপলকুমার বসু পেইন্টার ছিলেন

মাজুল হাসান | ১০ জুন ২০১৭ ১২:১৮ অপরাহ্ন

শিরোনাম দেখে চমকানোর কিছু নাই। লোকচক্ষুর আড়ালে থাকা কবি উৎপলকুমার বসুর পেইন্টিং-এর কোনো গোপন মহাফেজখানা আবিষ্কৃত হয়নি। তবু তাকে চিত্রশিল্পী বলছি। কেনো? কারণ, তিনি তার কবিতাকে ব্যবহার করেছেন পেইন্টিং-এর ক্যানভাস হিসেবে।
utpal যেখানে বিচিত্র সব চরিত্র, ঘটনা, রূপক, সেগুলোর নির্মাণ-ভাঙচুর-পুনঃনির্মাণ- এমন ইশারাভাষ্যে খোদিত যে তা কোনো অংশে পেইন্টং-এর চেয়ে কম মূর্ত-বিমূর্ত নয়। আধুনিক চিত্রকলায় শিল্পীর ছবিতে যতটুকু দৃশ্য মূর্তমান, শিল্পী যে চিন্তা থেকে যতটুকু দর্শককে দেখাতে চান, দর্শক-বোদ্ধাদের সেটির বাইরেও নতুন অর্থ তৈরি করতে পারেন। এটিই হচ্ছে ব্যক্তিগত স্পেস, যা পেইন্টিং দিয়ে থাকে। যে কারণে লিওনার্দো দ্য ভিঞ্চি মোনালিসার হাসি নাকি গোমরা মুখ এঁকেছেন, তা দর্শকের মন-মর্জি, দৃষ্টিভঙ্গীভেদে বদলে যায়। মানে দর্শক সেই ছবিতে নিজের রঙ চড়াতে পারেন। সেই সুযোগ থাকে বলে মূর্ততা ভেঙে বিমূর্ত, আবার বিমূর্ত থেকে মূর্ততায় পৌঁছায় বোধ। উৎপলকুমার বসুর কবিতাও তেমনি। এই যে ক্রাফট, সেই ব্যাপারটা উৎপল কিন্তু শিখেছেন দৃশ্য ও বস্তুজগৎ থেকে, উনি নিজ মুখেই বলেছেন- ‘ব্যাপারটা বাংলা ট্রাডিশনাল কবিতা থেকে পাওয়া নয়।’- এই বক্তব্যের সত্যতার সাক্ষী তার কবিতা।

চৈত্রে রচিত কবিতায় বাক্য ও দৃশ্য অবতারণায় জীবনানন্দীয় স্কুলিং-এর ছাঁচ থাকলেও পুরী সিরিজ থেকে আমরা যে উৎপলকে পাই সে অনন্য। বলছি না শ্রেষ্ঠ, ভালো- কী মন্দ। বলছি- অনন্য; অন্যের মতো নয়। এই অনন্যতা তার পর্যবেক্ষণ ও কবিতার ফর্মে ভাংচুর ও নীরিক্ষার ফসল। (সম্পূর্ণ…)

নজরুলের নারী ও ‘নারী’ কবিতার ব্যক্তিগত ভিন্নপাঠ

ঝর্না রহমান | ২৫ মে ২০১৭ ৫:২৬ অপরাহ্ন

Nazrul-2কাজী নজরুল ইসলাম নামটির সাথে ‘বিদ্রোহী কবি’ অভিধাটি এমনভাবে এঁটে বসেছে, যে এ অভিধা ছাড়া তাঁর নাম লেখা বা উচ্চারণ করাটাই এখন কবিকে প্রায় খণ্ডিত করার শামিল হয়ে পড়েছে। কিন্তু নজরুল যে ছিলেন অতিশয় রোমান্টিক কবি, প্রেমিক কবি, বিরহী কবি, তাঁর সেই আত্মার আবেগধ্বনি যেন তাঁর দ্রোহের উচ্চারণের ঢালতরোয়ালের ঝনঝনানির কলরোলে অনেক সময়ই চাপা পড়ে যায়। অবশ্য অতি ব্যবহারে ক্লিশে একটি উদাহরণ দিয়ে নজরুলকে প্রেম ও দ্রোহের সব্যসাচী বানিয়ে আলোচনার রণাঙ্গণে নামিয়ে দেওয়া হয়, সেটি হলো, ‘বিদ্রোহী’ কবিতার সেই বিখ্যাত চরণ “ মম এক হাতে বাঁকা বাঁশের বাশরী আর হাতে রণ তূর্য।” বাঁকা বাঁশের বাঁশিটি তাঁর ত্রিভঙ্গমূরারি শ্যামকালিয়ার বংশি, এইখানে কবি প্রেমিক কৃষ্ণ, রাধা তাঁর আরাধিকা। আর রণতূর্য তো যুদ্ধের দামামা বটেই এবং বিদ্রোহ যেখানে যুদ্ধ আছে সেখানে।
দ্রোহ আর যুদ্ধ অনেক ক্ষেত্রেই সমার্থক, রূপকার্থেও দ্রোহই যুদ্ধ বা যুদ্ধই দ্রোহ। কিন্তু কবির দ্রোহের কবিতা Ñ শুধু কবিতা নয় এমন কি ‘আমি সৈনিক’, ‘দুর্দিনের যাত্রী’ বা ‘যৌবনের গান’ ইত্যাদি অবশ্যপাঠ্য প্রবন্ধের মধ্যে তাঁর যে সৈনিকচেতনাভাস্বর দ্রোহাকাক্সক্ষা অথবা দ্রোহাকাক্সক্ষাচালিত যৌবনচেতনার জয়ধ্বজা উড্ডীন হয়েছে তারও মূলে আছে প্রেম। আছে প্রেমের রোমাঞ্চ ও বেদনা। তাঁর দ্রোহভাষ্যের কালজয়ী কবিতা ‘বিদ্রোহী’তে তাই দেখি কবির দুরন্ত দুর্মদ বেপরোয়া চিত্ত ‘বন্ধনহারা কুমারীর বেণী’র ছোবলে, ‘গোপন প্রিয়ার চকিত চাহনি’র লক্ষভেদী মধুর আঘাতে, ‘চপল মেয়ের’ কাঁকন চুড়ির ঠিনিঠিনি ঝংকারে আর ‘যৌবনভীতু পল্লীবালার আঁচর কাঁচলি নিচোর’-এর তীব্র নরম স্পর্শে জেগে ওঠে, শক্তিমত্ত হয়ে ওঠে। বলতে পারি, দ্রোহের আড়ালের এই প্রেম দেশের জন্য, জাতির জন্য, মানুষের জন্য, স্বাধীনতা-মুক্তি-সাম্য-মৈত্রীর জন্য দুর্মর আকাক্সক্ষায় অভিষিক্ত, আর তার অন্তঃস্তলে প্রেরণার উৎসরূপে অধিষ্ঠিত আছে নারী। (সম্পূর্ণ…)

এ-যুগে নজরুলকাব্যের প্রাসঙ্গিকতা

বিনয় বর্মন | ২৫ মে ২০১৭ ৫:১৬ অপরাহ্ন

nazrul-1যুগদ্রষ্টা কবি নজরুল তাঁর উন্মাতাল সৃষ্টিশীলতায় সমসাময়িক সাহিত্যমানসে কেটেছিলেন তীব্র আঁচড়। বাংলা কবিতা ও গানে তিনি অনন্য প্রতিভার স্বাক্ষর রেখেছেন। তাঁর কাব্যপ্রতিভা যুগের দাবি মিটিয়েছে এবং এ কালেও তাঁর প্রাসঙ্গিকতা বিন্দুমাত্র হ্রাস পায়নি। তিনি আমাদের জাতীয় সাহিত্য পরিচয়ের বড় আধার, আমাদের স্বাধীনতা ও স্বাতন্ত্রের উজ্জ্বল আকরচিহ্ন। তাঁকে ছাড়া বাঙালি ও বাংলাদেশ দিশা পায় না, বাংলা সাহিত্য গতি পায় না। তাঁর কবিতার মেঘগর্জন বাংলা সাহিত্যে যেমন আধুনিকতার অংকুর উদগম করেছিল, তেমনি জাতিগত বিভেদের মধ্যে মিলনের পথ প্রশস্ত করেছিল। তাঁর কবিতার উত্তাল তরঙ্গ মানসকূল প্লাবিত করে, দুর্বার অভিঘাতে পাঠকসমাজকে আবেগাকুল করে। কাব্যে তাঁর রুদ্ররস, প্রেমরস ও ভক্তিরস যে-কোন পাঠককে স্পর্শ করে, বিমোহিত করে, শুভাদর্শে উদ্বুদ্ধ করে। তাঁর ঝংকৃত, সুধাময়, সুখপাঠ্য কবিতা গৌরবতরণীতে বিংশ শতাব্দী পাড়ি দিয়ে একবিংশ শতকে এসে পাঠকের কাছে হয়েছে আরো আদরণীয়। (সম্পূর্ণ…)

প্রসঙ্গ নজরুল সঙ্গীত : ভূমিকা

ওমর শামস | ২৫ মে ২০১৭ ১০:৩০ পূর্বাহ্ন

Nzrulকাজী নজরুল ইসলাম-এর বিধিদত্ত সঙ্গীত প্রতিভা ছিলো। ছোটবেলার থেকেই তিনি পুঁথিপাঠ, আজান জানতেন, তার সঙ্গে ছিলো লেটোর গান, যাত্রা, ঝুমুর। সে আমলের গ্রামীণ গানে কিছু ধুন, রাগের মিশ্রণ ছিলো। কাফি, ঝিন্‌ঝোটি, বিলাঅল, ভৈরবী, লুম – এ-সব পাওয়া যেতো। ঘারানাদার উস্তাদের কাছে না পৌঁছতেও, কাজী নজরুল-এর বেশ পাকা তালিম এ-সব গান থেকেই হয়েছিলো। কৈশোরে গলা কেমন ছিলো, কি গাইতেন তা অবশ্য আমরা জানতে পারবো না। যৌবনে তিনি যখন নৌশেরা এবং করাচিতে ছিলেন তখন এক ফার্‌সি-জানা উস্তাদের সঙ্গে তাঁর আলাপ হয়। কোনো সঙ্গীত চর্চা করেছিলেন কি সেখানে? আমরা জানি না। তবে সম্ভবত তিনি গানের চর্চা বজায় রেখেছিলেন। নজরুল-এর সাহিত্য এবং কবিতা সাধনা যখন তিনি করাচিতে তখন থেকেই শুরু। তাঁর প্রথম প্রকাশিত সাহিত্যকর্ম, ‘বাউণ্ডেলের আত্মকাহিনী’ গল্পটি সওগাত-এ ১৯১৯ সনে বেরোয়। একই বছরে ‘মুক্তি’, তাঁর প্রথম কবিতা, বঙ্গীয় মুসলিম সাহিত্য পত্রিকায় প্রকাশিত হয়। তাঁর নাম ছাপা হয়, কাজী নজরুল ইসলাম, হাবিলদার, বঙ্গবাহিনী, করাচি। এই প্রকাশনার পর তিনি সম্পাদককে একটি চিঠি লেখেন যাতে তাঁর ঠিকানা এইভাবে লেখা ছিলোঃ From QUAZI NAZRUL ISLAM / Battalion Quartermaster Havilder / 49th Bengalis / Cantonment, Karachi / Dated, The 19th August, 1919 /

১৯২০-তে বঙ্গপল্টন ভেঙ্গে গেলে নজরুল কোলকাতায় ফেরত আসেন এবং বন্ধু শৈলজানন্দদের বোর্ডিং হাউসে ক-দিন থাকেন। যখন “বোর্ডিং হাউসের চাকর জানতে পারে যে, সে মুসলমান সে তার এঁটো বাসন ধুতে অস্বীকার করে।” অতঃপর তিনি ৩২ কলেজ স্ট্রীটে বঙ্গীয় মুসলিম সাহিত্য পত্রিকার অফিসে আশ্রয় নেন। তাঁর পোশাক পরিচ্ছদ সমেত কবিতার খাতা, গল্পের খাতা, পুঁথি-পুস্তক, মাসিক পত্রিকা, রবীন্দ্রনাথ-এর গানের স্বরলিপি ছিলো। “পুস্তকগুলির মধ্যে ছিলো ইরানের মহাকবি হাফিজ-এর দিওয়ানের একখানা খুব বড় সংস্করণ।” এর সঙ্গে “ব্যথার দান”-এর উৎসর্গে উল্লিখিত “খোপার কাঁটা”-টিও ছিলো। “কাজী নজরুল ইসলাম যে-দিন প্রথম ৩২ কলেজ স্ট্রীটে থাকতে এসেছিলো সে-দিন রাত্রেই তাকে দিয়ে আমরা গান গাইয়ে নিয়েছিলাম। গানের ব্যবস্থা হয়েছিল আফজালুল হক সাহেবের ঘরে। আমাদের ঘরখানা শীলদের বাড়ির উঠোনের উপরে ছিলো। তাঁদের বাড়ির ভিতরে যাতে কোন আওয়াজ না পেরোয় সে বিষয়ে আমি সতর্ক ছিলেম। তখনকার দিনে নজরুল সাধারণত রবীন্দ্রনাথের গানই গাইত, কিন্তু সে-দিন সে গেয়েছিলো ‘পিয়া বিনা মোর জিয়া না মানে, বদরী ছায়ী রে’।” (সম্পূর্ণ…)

দেবত্বের পথ রেখেছ আকীর্ণ করি

ফারসীম মান্নান মোহাম্মদী | ১৭ মে ২০১৭ ১০:৫০ পূর্বাহ্ন

farseem-2ইয়ুভাল নোয়াহ হারারি ইতিমধ্যে একজন কৃতবিদ্য অধ্যাপক এবং স্বনামধন্য লেখক হিসেবে পরিচিতি পেয়েছেন। তাঁর পূর্বতন গ্রন্থ সেপিয়েন্স এরই মধ্যে পৃথিবীর চল্লিশটি ভাষায় অনূদিত হয়েছে, এমনকি বাংলা ভাষায়ও এর অনুবাদ প্রকাশের পথে। সে গ্রন্থটিতে মানবজাতির একটি পূর্বাপর ইতিহাস গ্রন্থিত হয়েছে। শুধু মানুষ বা মানুষের সভ্যতার উদ্ভব ও ক্রমবিকাশই নয়, ১৩৮০ কোটি বছর আগে মহাবিশ্ব-সৃজনের মাহেন্দ্রক্ষণ থেকে আরম্ভ করে মানবসভ্যতার বিভিন্ন দিক উঠে এসেছে ঐ গ্রন্থে। মানুষের ক্রমবিকাশের এক চমৎকার ইতিকাহিনি ঐ গ্রন্থে পাওয়া যায়। উপরন্তু হারারি’র লেখার ঢঙটি এতো মজাদার এবং রসে টইটম্বুর যে বিজ্ঞানের কথাবার্তার মাঝেও তিনি ঠাট্টা-বিদ্রুপ এবং সমকালীন ভাষিক বিভঙ্গ ভালোই ব্যবহার করেন। তাঁর গদ্য ঝরঝরে, একটানা আনন্দের সাথে পড়ে ফেলা যায়। বিজ্ঞানের কথা, অথচ কী সুন্দর ভঙ্গিতে বলে চলেছেন তিনি। মাঝে মাঝে বিদ্রূপ ঠেসে দিয়েছেন, এমনসব বাক্য ব্যবহার করেছেন যা দীর্ঘ অনুধাবন ছাড়া সম্ভব নয়। (সম্পূর্ণ…)

আন্ত:ধর্মীয় সম্প্রীতি ও সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে জীবনধারণ

ভিক্ষু সুনন্দপ্রিয় | ১০ মে ২০১৭ ১০:১৯ অপরাহ্ন

buddhaশুভ বুদ্ধ পূর্ণিমা বিশ্ববৌদ্ধদের সবশ্রেষ্ঠ ধর্মীয় উৎসব। এ দিবসটি বিশ্ববৌদ্ধদের নিকট পবিত্র ও মহিমান্বিত দিন। ভগবান বুদ্ধ বৈশাখী পূর্ণিমার বিশাখা নক্ষত্রে রাজকুমার সিদ্ধার্থ রূপে কপিলাবস্তুর লুম্বিনী কাননে জন্ম গ্রহণ করেছিলেন। ব্দ্ধু বৈশাখী পূর্ণিমার দিনে আলোকপ্রাপ্ত অর্থাৎ সর্বতৃষ্ণার ক্ষয় সাধন করে বোধিজ্ঞান লাভ করে জগৎ পূজ্য বুদ্ধ হয়েছিলেন। বুদ্ধ বৈশাখী পূর্ণিমার দিনে মহাপরিনির্বাণ লাভ করেছিলেন। বুদ্ধের জীবনে মহাপবিত্র ত্রি’স্মৃতি বিজড়িত বুদ্ধ পূর্ণিমা বৌদ্ধদের নিকট অতি গৌরবের ও মহাপবিত্র দিন হিসেবে উদযাপিত হয়। শুভ বুদ্ধ পূর্ণিমার আলোকে শান্তি, সম্প্রীতিতে মানুষ বসবাস করতে পারে সে বিষয়ে কিছু আলোচনা করা হলো।

শুধু বিশেষ আকার বা একটি কাঠামোর জন্য মানুষ মানুষ হিসেবে বিবেচিত হন না। মানুষ হিসেবে আমাদের রয়েছে বুদ্ধিবৃত্তি নামক বিশেষ একটি গুণ যার ধর্ম হলো যেকোনো বিষয়ে আমাদের আমার বিচারিক ক্ষমতা বা মূল্যায়নের স্বভাবজাত বৈশিষ্ট্য। আজ থেকে আড়াই হাজার বছরেরও পূর্বে এ ভূভাগে জন্ম নেয়া তথাগত বুদ্ধ দাবী করেছিলেন সর্ব জীবের স্ব স্ব স্থানে স্বাধীন অবস্থান। শুধু মাত্র মানুষের জন্য নয় তাঁর মৈত্রী ভাব পৌঁছে গিয়েছিলো দৃষ্টিগোচর হয় এবং দৃষ্টিগোচর হয় না এমন সকল প্রাণীর কাছে। তাই তো তিনি বলেছিলেন “সব্বে সত্ত্বা সুখিতা হোন্তু” অর্থাৎ জগতের সকল প্রাণী সুখী হোক। বোধের অমৃত অবগাহন হলে প্রাজ্ঞদের সকলে স্বীকার করেন, জাতপ্রথা, ধর্ম-বর্ণ-গোত্র বিভাজন নিষ্ফল, নিরর্থক! বোধের বাতায়ন রুদ্ধ থাকার দরুন অন্ধ প্রকোষ্ঠে মানুষ মানুষের সাথে, ধর্ম ধর্মের সাথে, গোত্র গোত্রের সাথে, পিতা পুত্রের সাথে, পুত্র পিতার সাথে, ভাই ভাইয়ের সাথে, বন্ধু বন্ধুর সাথে নানান স্বার্থের বশে কলহরত। মহান বুদ্ধ বলেন: কলহে জর্জরিত অন্ধ মানুষ জানে না, সে নিজেই যেখানে নিজের নয়, অন্যকে অধীনে, হাতের মুঠোতে বশ করতে চায় কি করে? বুদ্ধের শিক্ষা বা দেশনা পাঠোদ্ধার করলে দেখা যায়, জীব মাত্রেই স্বাধীন। পারিবারিক, সামাজিক, রাষ্ট্রিয় ও ধর্মীয়ভাবে নারীপুরুষ নির্বিশেষে সকলেই স্বাধীন অংশগ্রহণ, স্বতন্ত্র জীবন যাপনের অধিকার রাখে। এখানে কোন প্রকার বৈষম্য দেখা দিলে তা বুদ্ধধর্মের পরিপন্থি বলেই গন্য হবে। (সম্পূর্ণ…)

‘বনলতা সেন’ আসলে কে ছিলেন?

লীনা দিলরুবা | ৯ মে ২০১৭ ৯:০৪ অপরাহ্ন

Jibananandaজীবনানন্দ দাশ-এর লেখা সুবিখ্যাত কবিতা ‘বনলতা সেন’ সম্ভবত কবির চেয়েও জনপ্রিয়। এ কবিতাটি নিয়ে ব্যাখ্যা বিশ্লেষণের কোনো শেষ নেই। কবিতার বনলতা সেন নাম্নী এই নারী কে, এ-নিয়ে মানুষের খোঁড়া যুক্তি আর নানান অনুমানের বহু উদাহরণ এ-পর্যন্ত দেখা গেছে। তবে এ-কবিতা সম্পর্কে সম্ভবত সবচেয়ে বিতর্কিত এবং ভব্যতাবর্জিত ব্যাখ্যা প্রদান করেছেন আকবর আলি খান। তাঁর পরার্থপরতার অর্থনীতি বইতে “লিঙ্গভিত্তিক বৈষম্যের অর্থনীতি” শিরোনামের প্রবন্ধে তিনি বনলতা সেনকে বিনোদবালা বলে চিহ্নিত করেছেন। ১৯৬৮-৬৯ সালে তিনি রাজশাহীতে পাকিস্তান সিভিল সার্ভিসের সদস্য হিসেবে চাকুরীরত অবস্থায় পেশাগত কাজের তাগিদে পনের দিনের জন্য নাটোর গিয়েছিলেন। তাঁর ভাষ্যমতে, সরকারি কর্মকর্তাদের কাজের পরিমাণ যেহেতু কম, তাই তিনি আর কি করবেন, ভাবলেন নাটোর যেহেতু এসেছি জীবনানন্দের বিখ্যাত কবিতার চরিত্র নাটোরের বনলতা সেনকে নিয়ে একটু গবেষণা করে যাই। প্রচলিত গল্প রয়েছে, বাংলাদেশের ঝিনাইদহ জেলার লোকেরা মামলা করতে খুবই পছন্দ করে। তারা নাকি বলে, গঞ্জে যখন এসেছি, চাচার নামে কেসটা করেই যাই। আকবর আলি খানের যেন হয়েছিল সেই দশা। তিনি সম্ভবত ভেবেছেন, নাটোরে যখন এলুম, জীবনানন্দের কবিতার রহস্যময় এই নারীর এসপার-ওসপার করেই যাই। মহকুমা প্রশাসনের Notes to Successors বা উত্তরসূরীদের অবগতির জন্য রক্ষিত স্মারক ঘেঁটে আকবর আলি খান দেখলেন, নাটোরে উত্তরবঙ্গের রূপোপজীবীদের একটি বড় কেন্দ্র ছিল। নাটোরের বারবিলাসিনীরাই উত্তরবঙ্গে বড় বড় জমিদারদের দু দণ্ডের শান্তি দিতেন। আকবর আলি খানকে আর পায় কে! তিনি দারুণ খনি পেয়ে গেছেন। (সম্পূর্ণ…)

রবীন্দ্রনাথ যে-কথা দিয়েও রাখেন নি

রাজু আলাউদ্দিন | ৮ মে ২০১৭ ১১:৫৯ পূর্বাহ্ন

Zenobia-jimenezকথা ছিল হুয়ান রামোন হিমেনেছ এবং তার বিদুষী স্ত্রী সেনোবিয়া কামপ্রুবির আমন্ত্রণে স্পেনে যাবেন রবীন্দ্রনাথ ১৯২১ সালে। ইংরেজিভাষী দেশ ইংল্যান্ড বা আমেরিকার কথা বাদ দিলে স্পেনই সেই দেশ যেখানে রবীন্দ্রনাথ সম্পর্কে প্রথম কৌতূহল ও আলোচনার সূত্রপাত ঘটে। সেই ১৯১২ সালেই, রবীন্দ্রনাথ নোবেল পুরস্কার পাবার আগেই, স্পেনের গালিসিয়া অঞ্চলের প্রাবন্ধিক ও অধ্যাপক বিসেন্তে রিস্কো ম্যাকমিলান থেকে ১৯১২ সালে প্রকাশিত Evelyn Underhill -এর লেখা Mystic way বইটির উল্লেখ করেছিলেন যেখানে রবীন্দ্রনাথ এবং তার লেখার কথা আলোচিত হয়েছিল। এরপর ১৯১৩ সালে রবীন্দ্রনাথ নোবেল পুরস্কার পাবার পরপরই আতেনেও দে মাদ্রিদ (Ateneo de madrid) নামক এক ইনস্টিটিউট-এ তিনি রবীন্দ্রনাথকে নিয়ে একটি বক্তৃতাও দিয়েছিলেন। এতটাই রবীন্দ্র-মগ্ন ছিলেন তিনি যে তাঁকে সেখানকার লোকজনরা ‘স্পেনিশ টেগোর’ বলে অভিহিত করতেন। যদিও পরবর্তীকালে রবীন্দ্রনাথ থেকে তিনি মুখ ফিরিয়ে নিয়েছিলেন, এমন কি রবীন্দ্র-নিন্দুকে পরিণত হয়েছিলেন শেষ দিকে। ১৯১৩ সালেই ইংরেজিভাষী দেশে রবীন্দ্রনাথের Gitanjali কাব্যগ্রন্থের প্রতি আগ্রহের কথা নিয়ে স্পেনের আরেক লেখক পেরেস দে আইয়ালা La Tribuna পত্রিকায় লিখলেন। তিনিও এক সময় রবীন্দ্রনাথ থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছিলেন। স্পেনের আরেক সম্মানিত লেখক রামিরো দে মেয়াৎসু রবীন্দ্রনাথের লেখা স্প্যানিশ ভাষায় ১৯১৫ সালে অনুবাদের আগেই, Sadhana গ্রন্থটির সমালোচনা করে লিখলেন ‘নুয়েবো মুন্দো’( Nuevo Mundo) নামক এক পত্রিকায় ১৯১৪ সালের ৫ই মার্চে। (সম্পূর্ণ…)

পরের পাতা »

Disclaimer & Privacy Policy  |  About us  |  Contact us

© bdnews24.com