.

সাম্প্রতিক বিশ্বসাহিত্য: প্রেসিডেন্ট সাদ্দাম হোসেনের সর্বশেষ উপন্যাস ‘দূর হ শয়তানের দল’

বিপাশা চক্রবর্তী | ১৮ জুলাই ২০১৬ ৭:৩৬ অপরাহ্ন

Saddam's Novel-2বিশ্বব্যাপী তিনি পরিচিত ছিলেন একজন শাসক, রাষ্ট্রপ্রধান হিসেবে। তার শাসনামলে মিথ্যা অভিযোগে তার দেশে আক্রমণ চালিয়েছিল পশ্চিমা দেশগুলো। তাকে ক্ষমতাচ্যুত করা হয়েছিল, তাকে খুন করা হয়েছিল। কিন্তু খুন হওয়ার অনেক আগে থেকেই তার মধ্যে জন্ম হচ্ছিল অন্য অারেকটি সত্ত্বা, এক সাহিত্যিক সত্ত্বা। যদিও সবাই জানেন, তিনি জীবদ্দশায় সাহিত্যিক হিসেবে পরিচিত ছিলেন না কারোর কাছেই। এমন একজন মানুষের যে বইটির কথা বিশেষভাবে উল্লেখ করতে যাচ্ছি – সে বইটি জেতেনি কোন সাহিত্য পুরস্কার। এই বইটিকে বলা যায়, ‘স্মৃতির অতলে হারিয়ে যাওয়া এক খন্ড কাগজের মন্ড।’–‘নিউ ইয়র্ক টাইমস’ পত্রিকা এভাবেই আখ্যায়িত করেছে বইটিকে।

মানুষটির নাম সাদ্দাম হোসেন। ইরাকের সাবেক ও প্রয়াত প্রেসিডেন্ট। বিস্মৃত এই রাষ্ট্রনায়কের সবচেয়ে অনালোকিত দিক আমরা প্রায় কিছুই জানি না। যদিও আরবীভাষী জগতে তিনি এই পরিচয়ে এখন বেশ পরিচিত এবং জনপ্রিয়। আর এই পরিচয় ও জনপ্রিয়তাকে পুঁজি করে পশ্চিমা প্রকাশনা সংস্থাগুলো এখন উৎসুক হয়ে উঠেছে তার বইগুলোর ইংরেজি অনুবাদে। তার সর্বশেষ বইটিই এখন আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দু। যে বইটির কথা বলছি তা সাদ্দাম হোসেনের চতুর্থ ও সর্বশেষ উপন্যাস। সাদ্দাম হোসেন লিখেছিলেন আরবীতে ‘উরখাজ মিন’হাইয়া,মাল’উন”। যা ইংরেজীতে Begone, Demons অর্থাৎ “দূর হ শয়তানের দল” নামে সর্বাধিক পরিচিত। এছাড়াও উপন্যাসটি Get Out You Damned অথবা Get Out of Here, Curse You! শিরোনামেও অভিহিত করা যেতে পারে, বাংলা করলে যার তর্জমা দাঁড়ায় ‘দূর হ, নরকের কীট’ অথবা ‘যা এখান থেকে, অভিশাপ তোকে!” এসব নামেও ডাকা যেতে পারে। বইটি তিনি শেষ করেছিলেন ইউএস আর্মি দ্বারা তাঁর পতনের ঠিক একদিন আগের সন্ধ্যায়। স্বাধীন রাষ্ট্রনায়ক হিসেবে সাদ্দাম হোসেনের জীবনের অন্তিম মুহূর্তে শেষ করেছিলেন পান্ডুলিপিটি। তখন ২০০৩ সাল। মার্চের বিশ তারিখে পতন ঘটে সাদ্দাম হোসেনের। তারপরের ঘটনা সবার জানা। পালিয়ে বেড়ান সাদ্দাম হোসেন পরের নয়টি মাস। নিজ জন্ম শহর তিরকিত-এর কাছে পিঠে কোথাও আত্মগোপনে ছিলেন। কিন্তু ডিসেম্বরের তের তারিখ গ্রেফতার হন সেই ইউএস আর্মির কাছে। গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী কাজের জন্য যারা তাঁকে ২০০৬ সালের ত্রিশ ডিসেম্বর ফাঁসিতে ঝুলিয়ে মৃত্যুদন্ডাদেশ কার্যকর করে। মৃত্যু হয় একজন সাদ্দাম হোসেনের কিন্তু তাঁর লেখা সর্বশেষ বইয়ের পান্ডুলিপিটি সঙ্গে নিয়ে জর্ডানে নির্বাসিত হন তাঁর কন্যা রেগাদ সাদ্দাম হোসেন। অতিসম্প্রতি এই বইটি প্রথমবারের মতো ইংরেজী অনুবাদ প্রকাশের ঘোষণা দিল ব্রিটিশ প্রকাশনা সংস্থা হাস্পার্স। (সম্পূর্ণ…)

কপিরাইট আইন সংশোধন ও সংগীতকর্মের স্বত্ব প্রসঙ্গে

মুহম্মদ নূরুল হুদা | ১৫ মে ২০১৬ ৮:৩৬ অপরাহ্ন

যুগোপযোগীকরণের স্বার্থে স্বাধীন বাংলাদেশে কপিরাইট আইন মূলত একবারই সংশোধিত হয়েছে, ২০০৫ সালে। মাত্র তার ৫ বছর আগে, অর্থাৎ ২০০০ সালে কপিরাইট আইন বাংলা ভাষায় তৈরি হয় এবং সরকার কর্তৃক অনুমোদিত হয়। এতো স্বল্প সময়ের মধ্যে নতুন সংশোধনী আনার কারণ মূলত দুটি : (১) প্রণীত আইনটি ছিল মূলত ব্রিটিশ আমলে ইংরেজি ভাষায় লিখিত আইনেরই প্রায়-হুবহু বঙ্গানুবাদ। অনেক বছর ধরে আইনটি ব্যবহারিক ক্ষেত্রে অচর্চিত ছিল। ফলে অনেক বিষয় বাংলা ভাষ্যে অষ্পষ্ট, দ্ব্যর্থবোধক ও ক্ষেত্রবিশেষে বিরোধাত্মক বলে প্রতিভাত হয়েছে। এগুলো সহজবোধ্য ভাষায় ব্যাখ্য করার প্রয়োজনীয়তা দেখা দেয়। (২) কম্পিউটার, অন-লাইন ও ওয়েবসাইটসহ নতুন কিছু ক্ষেত্র ও বিষয়ের আবির্ভাবের ফলে সেই সব বিষয়ের সংজ্ঞা, তৎসংক্রান্ত বিধিবিধান ও প্রয়োগ-ক্ষেত্র সংযুক্ত করাও অত্যাবশ্যক হয়ে পড়ে।

এই পরিপ্রেক্ষিতে আইন সংশোধনী প্রস্তাব ছাড়াও কপিরাইট আইনের ১০৩ ধারার মর্মানুযায়ী আইন প্রয়োগের ব্যবহারিক ক্ষেত্র সম্প্রসারণ ও বাস্তবায়নের জন্যে সরকারি গেজেটে প্রজ্ঞাপন দ্বারা কপিরাইট বিধিমালা ২০০৬ প্রণীত হয় এবং যথাবিধি জারি করা হয়। আপাতত মনে হলো, বিদ্যমান অবস্থার পরিপ্রেক্ষিতে কপিরাইট মোটামুটি যুগোপযোগী হয়েছে। কিন্তু না, বিশ্বব্যাপী নবসৃষ্টি, আবিষ্কার, উদ্ভাবনা ও সৃষ্টিস্বত্বের বাণিজ্যিক ব্যবহারের অকল্পনীয় বৃদ্ধির কারণে বাংলাদেশেও তার ঢেউ এসে পড়ে। বিশেষত জাপান, যুক্তরাষ্ট্র, যূরোপসহ উন্নত দেশসমূহ তাদের সৃষ্টিপণ্যের বাণিজ্যিক স্বার্থ রক্ষার জন্যে বিশ্বব্যাপী তাদের উৎপাদিত শিল্পপণ্যের মেধাস্বত্ব রক্ষায় তৎপর হয়ে ওঠে।

শিল্প, সাহিত্য, সংস্কৃতি, চিত্রকলা, স্থাপত্য, কম্পিউটার সামগ্রী, সফটওয়ার ও বিশেষ করে সংগীত মনোরঞ্জন বা বিনোদনের স্তর পেরিয়ে প্রকৃত প্রস্তাবে ব্যক্তিস্রষ্টা, উৎপাদনকারী ও ভোক্তার কাছে খুব দ্রুত অর্থকরী বিষয় হয়ে ওঠে। যোগাযোগ মাধ্যমের অস্বাভাবিক সম্প্রসারণের ফলে এই সব শিল্পপণ্য ও নন্দনদ্রব্যের স্রষ্টা ও তার উৎপাদকের স্বার্থ সনাক্তরণ, সংরক্ষণ, বৈধ ব্যহার ও যথাযথ উপকার বন্টনও জরুরি হয়ে পড়ে। বাণিজ্যিক ব্যবহারের ফলে বিমূর্ত শিল্পও দ্রুতবেগে মূর্ত শিল্পপণ্যে রূপান্তরিত হয়ে মূল ব্যক্তিস্রষ্টার হাত থেকে বিযুক্ত হয়ে অন্য উৎপাদক ও ব্যবহারকারীর দ্বারা অবৈধভাবে ব্যবহৃত হতে থাকে। ফলে উত্থাপিত হয় সৃষ্টিস্বত্ব লক্সঘনের অভিযোগ। কপিরাইটের পরিভাষায় এটিকে বলা হলো পাইরেসি, আমরা বাংলায় যাকে বাংলায় বলেছি তাষ্কর্য। (সম্পূর্ণ…)

সাম্প্রতিক বিশ্বসাহিত্য: দ্য জাঙ্গল বুক-এর চোখধাঁধানো নতুন অলংকরণ

বিপাশা চক্রবর্তী | ২৯ এপ্রিল ২০১৬ ৫:৩৩ অপরাহ্ন

kipling_rudyard.jpg
রুডইয়ার্ড কিপলিং-এর বিখ্যাত শিশুতোষ গল্প দ্য জাঙ্গল বুক আমাদের সকলেরই হৃদয় ও কল্পনা জুড়ে কম বেশি জায়গা করে আছে। সেই কবে ১৮৯৪ সালে প্রথম প্রকাশিত হয় দ্য জাঙ্গল বুক। বনের ভেতর নেকড়ে পরিবারের কাছে বেড়ে ওঠা একটি শিশুর গল্প আজও এই একবিংশ শতকের ব্যস্ত আধুনিক শহুরে মানুষদের মাতিয়ে রেখেছে। তার সবচেয়ে বড় প্রমাণ মাত্র কিছুদিন আগে মুক্তি পাওয়া ওয়াল্ট ডিজনি প্রযোজিত চলচ্চিত্রটি যা নিয়ে এই মুহূর্তে মজে আছে গোটা পৃথিবী, ছেলে বুড়ো সবাই। তবে দ্য জাঙ্গল বুক’কে নিয়ে এটাই প্রথম চলচ্চিত্র নয়। এর আগে এই ওয়াল্ট ডিজনি পিকচারস বানিয়েছিল এনিমেটেড মিউজিক্যাল কমেডি ফ্লিম ‘দ্য জঙ্গল বুক’। তারই ধারাবাহিকতায় ২০১৬-এর এপ্রিলে মুক্তি পায় আধুনিক ডিজিটাল প্রযুক্তিনির্ভর চলচ্চিত্রটি। শুধু কি তাই, পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে বিভিন্ন ভাষায় এ পর্যন্ত দ্য জাঙ্গল বুক ও এর প্রধান চরিত্র মোগলিকে নিয়ে এখন পর্যন্ত তৈরি হয়েছে বহু কার্টুন ও এনিমেটেড শো, কমিকস, টিভি সিরিজ কত কিছু। এই শিশুতোষ গল্পটি কেবল সাহিত্যক্ষেত্রেই অনন্য নয় বরং একে উপজীব্য করে গড়ে উঠেছে বিভিন্ন প্রকার ব্যবসায়িক মুনাফা লাভের কার্যক্রম। সম্ভবত মানুষের রক্তে সুপ্ত হয়ে থাকা আদিম বন্যতাই তাকে বার বার নিয়ে যায় জঙ্গলে বেড়ে ওঠা মোগলি ও তার পশুবান্ধব বালু, বাঘেরাদের কাছে। মানুষ যেন নিজেকে ফিরে পায় মোগলির মাধ্যমে। এমনকি শিল্পীর চোখেও বার বার কল্পিত ও অংকিত হয়েছে মোগলি ও দ্য জাঙ্গল বুক-এর অন্যান্য চরিত্র এবং ঘটনা। border=0আরও মজার ব্যাপার হলো দ্য জাঙ্গল বুক-এর প্রথম সংস্করণের অলংকরণ করেছিলেন রুডইয়ার্ড কিপলিং-এর পিতা জন লকউড কিপলিং।

সম্প্রতি দশ জন শিল্পী ও আঁকিয়ে দ্য জাঙ্গল বুক থেকে তাদের প্রিয় দৃশ্য ও চরিত্রগুলিকে নতুনরূপে সৃষ্টি করার রঙিন চেষ্টা করেছেন। এক নজর দেখা যাক তাদের সেই বর্ণিল শিল্পকর্ম। (সম্পূর্ণ…)

প্রকাশক হত্যা ও আক্রমণে লেখকদের ‍ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া

অলাত এহ্সান | ২ নভেম্বর ২০১৫ ২:৩৯ অপরাহ্ন

‘চিত্ত যেথা ভয়শূন্য, উচ্চ যেথা শির, / জ্ঞান যেথা মুক্ত, যেথা গৃহের প্রাচীর / আপন প্রাঙ্গণতলে দিবসশর্বরী / বসুধারে রাখে নাই খন্ড ক্ষুদ্র করি’—রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ‘প্রার্থনা’ কবিতার সতঃসিদ্ধ এই লাইনগুলো দেশের বর্তমান অবস্থার প্রেক্ষিতে উচ্চারণ করা কঠিন। কারণ ভয়শূণ্য চিত্তে লেখার জন্যই ধর থেকে শির ছিন্ন করা হচ্ছে একের পর এক। স্বাধীন মত প্রকাশের জন্য আক্রান্ত হচ্ছে লেখক। পরিস্থিতি আরো গুরুতর পর্যায় যাচ্ছে প্রকাশক হত্যার মধ্যদিয়ে। আগামীতে পাঠককে পাঠ থেকে বিরত রাখার জন্য একই কায়দায় হত্যাকাণ্ড হবে না, তার নিশ্চয়তা কী–এরকম প্রশ্ন উঠে আসছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোতে।
২০০৪ সালের ফেব্রুয়ারিতে একুশের বই মেলার গেটে প্রথাবিরোধী লেখক ও অধ্যাপক হুমায়ূন আজাদের উপর আক্রমণ দিয়ে লেখক হত্যার নৃশংসতার যাত্রা শুরু। একই ভাবে ২০১৫ সালে ফেব্রুয়ারিতে বইমেলা থেকে বের হওয়ার পর উগ্রবাদীদের হামলায় প্রাণ হারান বিজ্ঞান-লেখক অভিজিৎ রায়। তারপর থেকে গত এক বছরে একে একে খুব হয়েছেন ৬ জন ব্লগার।
এদিকে হুমায়ুন আজাদ হত্যামামলাটির বিচার এখনও শেষ হয়নি, অন্যগুলোর অধিকাংশই এখনো তদন্তের পর্যায়ে। এরই মধ্যে গত ৩১ অক্টোবর এক দিনে রাজধানীর দুই স্থানে অভিজিৎ রায়ের বইয়ের দুই প্রকাশকের ওপর হামলা হয়। এই হামলায় জাগৃতি প্রকাশনির ফয়সল আরেফিন দীপন মরা গেছেন। চিকিৎসাধীন অবস্থায় আছেন শুদ্ধস্বর প্রকাশনীর স্বত্তাধীকারী আহমেদুর রশীদ টুটুলসহ অন্যরা। এর কোনোটাই বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। বরং সুপিরিকল্পিত তা বোঝা যায়।
প্রতিটি হত্যাকাণ্ডের পরই নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠন থেকে হত্যার দায় স্বীকার করে বিবৃতি প্রকাশ করেছে। এর মধ্যদিয়ে জঙ্গিরা যেমন অবিনীত উল্লাস করছে, তেমনি ভয়ের বিষবাষ্প প্রবেশ করিয়ে দিতে চাইছে মুক্তমনের মানুষের ফুসফুসে।
স্বাধীনতা-উত্তর সময়ে লেখকের ওপর এমন ঘোর অমানিশা আর কখনো নেমে আসেনি। এবার প্রকাশক হত্যার মধ্যে দিয়ে মতপ্রকাশের পুরো পথটাই রুদ্ধ করতে চাইছে তারা। দেশের এই পরিস্থিতি নিয়ে আমাদের শীর্ষস্থানীয় কয়েকজন লেখকের প্রতিক্রিয়া এই লেখাটি। প্রতিক্রিয়াগুলো শ্রুতিলিখন ও গ্রন্থনা করেছেন অলাত এহসান। বি.স. (সম্পূর্ণ…)

বাংলা ভাষায় নতুন শব্দনির্মাতা কবি মুহম্মদ নূরুল হুদা

মোস্তফা তোফায়েল | ৩০ সেপ্টেম্বর ২০১৫ ৬:১৪ অপরাহ্ন

huda.jpgবাংলা ভাষা ব্যবহারের মধ্য দিয়েই বাঙালি জাতি ও বাংলাদেশ। মানস মানচিত্রে “যতদূর বাংলাভাষা ততদূর এই বাংলাদেশ”- অতলস্পর্শী ও পরিধিপ্রসারী এমন একটি সাংস্কৃতিকনিবেশী বক্তব্যের বলিষ্ঠ ভাষ্যকার কবি মুহম্মদ হুদার কবিতা ও প্রবন্ধের জমি চাষ করে কয়েকটি সোনার টুকরো শব্দের সন্ধান পেয়েছি। এই শব্দগুলোর আভিধানিক অন্তর্ভুক্তি হওয়া অতি জরুরি মনে করে আমি একটি তালিকা পেশ করছি। দেশেবিদেশে যে বা যাঁরা বাংলা-বাংলা, বাংলা-ইংরেজি, বাংলা-ফরাসি, বাংলা-হিন্দি কিংবা অনুরূপ যেকোনো অভিধান প্রণয়ন করবেন, তাঁর বা তাঁদের শব্দভাণ্ডার সমৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে পারে নবতর বাংলা শব্দের এই তালিকাটি। নবতর শব্দের খোঁজে তো অভিধানপ্রণেতাদের ঘুরে বেড়াতে হয় পাড়ায় পাড়ায় এবং পত্রপত্রিকার পাতায় পাতায়। আশা করি, কবি মুহম্মদ নূরুল হুদা বিরচিত গদ্যপদ্য রচনাভাণ্ডার থেকে আহরিত, সংগৃহিত এই শব্দগুলো অভিধানপ্রণেতাদের নতুন বাংলা শব্দপিপাসায় জলসিঞ্চনে সক্ষম হবে। শব্দগুলো নিম্নরূপ : (সম্পূর্ণ…)

ফকির সেলিমের ‘খোঁচা’

দেবাশীষ দেব | ১২ আগস্ট ২০১৫ ৫:৫৭ অপরাহ্ন

border=0 পাঠক যেমন মনের খোরাক খুঁজে ফেরেন বহুবিচিত্র লেখায়, তেমনি লেখকও পাঠকের তৃষ্ণা মেটাতে খুঁজে নেন লেখার বিষয়বস্তু। পাঠককে জাগিয়ে তুলতে হবে, সচেতন করে দিতে হবে। তাই লেখকের দায়িত্ব অনেক। কিন্তু সব লেখক কি পাঠককে সচেতন ও উজ্জীবিত করতে লেখেন? তা মনে হয় নয়। লেখকের একটি অকৃত্রিম সত্তা আছে, যেখানে রয়েছে ইচ্ছা-অনিচ্ছা, ভালোলাগা-মন্দলাগা, হাসি-কান্না, আনন্দ-বিনোদন। তাই কে কেন এবং কীভাবে লেখেন তা আমরা এক কথায় বলে দিতে মনে হয় পারি না।

নিউ ইয়র্কপ্ররবাসী লেখক ফকির সেলিম ছোটকাল থেকে বেড়ে উঠেছেন এমন একটি পরিবেশে যেখানে লেখার একটা আবহ ছিল। সেই কৈশোর থেকেই তিনি লেখালেখির প্রতি আগ্রহী হয়ে ওঠেন।

প্রবাসজীবনে তিনি দেশ নিয়ে ভেবেছেন, ভেবেছেন সমাজ নিয়ে। তাই তার লেখা গ্রন্থ খোঁচায় তিনি কখনও মজা করেছেন, কখনও হাহাকার উঠে এসেছে তার ছড়ায়। (সম্পূর্ণ…)

ত্রিশালে আজ তবে বৃষ্টি আসুক

শামীম সিদ্দিকী | ২৫ মে ২০১৫ ৮:০৫ পূর্বাহ্ন

kazi-nazrul_3.jpg
বৃষ্টি এলে আমার কেমন মুক্তক মাত্রাবৃত্ত মাত্রাবৃত্ত লাগে
ত্রিশালে আজ তবে বৃষ্টি আসুক
তীব্র রঙের ফুল আম-লিচু-কাঁঠাল
প্রকৃতির কণায় কণায়
সরস টগরধারা বৃষ্টি জৈষ্ঠ্য মাসের

কেমন স্নেহের দোলা নিয়ে আসেন দারোগা রফিজ উল্লাহ
চাকচিক্য-কুলীন শহর ঘুরে ঘুরে শেষাবধি নামাপাড়া
দরিরামপুর
কিশোর কবি দুখু দুঃখ ভুলে প্রকৃতির
আকাশ ছাপানো স্নেহে তার ভরেন হৃদয়
মন্দাক্রান্তা বৃষ্টির সুরে লয়ে (সম্পূর্ণ…)

কবিতায় বৈশাখ

মোস্তফা তোফায়েল | ১৫ এপ্রিল ২০১৫ ৮:৫০ অপরাহ্ন

পয়লা বৈশাখ ও বৈশাখ মাসের অনেকগুলো বৈশিষ্ট্যের মধ্যে এর খরতাপ ও ঝড়ো গতিবাচক বৈশিষ্ট্য দুটি কবিতায় ব্যবহৃত হয়েছে সবচেয়ে বেশি। শেক্সপিয়রের ১৮ সংখ্যক সনেটে সংক্ষিপ্ত আকারে অথচ অবিস্মরণীয় কাব্যিকতায় ব্যবহৃত হয়েছে বৈশাখের এই দুটি বৈশিষ্ট্য। আর একটি ব্যাপার ঘটিয়েছেন কবিগণ বৈশাখকে ঘিরে। তা হল, বৈশিষ্ট্য দুটি ব্যবহারের কারুকৃত্যে অবচেতন মনের অন্য কোনো শক্তিমান আবেগ বা স্মৃতি বা আরাধ্যের আরাধনা, আর এই আরাধনার জন্য বৈশাখের আত্তীকরণ বা Assimilation। ধর্মান্তর কাজে নিয়োজিত মিশনারিগণ বা ধর্মীয় নেতাগণ যেভাবে তাদের নবতর ধর্ম ও নোটিভদর ধর্মের আত্তীকরণে ও সাদৃশ্যস্থাপনে কাঙ্ক্ষিত ধর্মটির সঙ্গে নেটিভদের ধর্মের সামঞ্জস্য ও ঐকতান প্রচারের কৌশল প্রয়োগে লিপ্ত হয়ে থাকেন, অনেকটা সেভাবেই। বৈশাখের খরতাপ ও ঝড়ো গতি কবিতায় অধিকাংশ সময়েই প্রতীকায়িত হয়েছে দ্রোহ ও বিপ্লবের শক্তিমত্তা প্রকাশের মিথ হিসেবে। কখনও বৈশাখ প্রতীকটির ব্যবহার ঘটেছে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরকে আরাধ্য হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে; কখনও বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবকে ধারণ করতে; এবং কখনও দেশ-জনতার মুক্তি ও স্বাধীনতার স্বপ্নকে চিত্রায়িত করার উদ্দেশ্য ও লক্ষ্যে বাংলা কবিতায় বৈশাখের নানামাত্রিক ব্যবহার ও প্রয়োগ ব্যাপকতা, পরিপক্কতা ও নান্দনিকতায় ঋদ্ধ এবং শৈল্পিকতার উৎকর্ষে বিশ্বমানে উত্তীর্ণই বটে। (সম্পূর্ণ…)

ধর্মনিরপেক্ষতা:গভীর চিন্তা ও দূরদৃষ্টিসম্পন্ন ভাবনার বই

আলী রীয়াজ | ২০ ফেব্রুয়ারি ২০১৫ ১১:৫২ পূর্বাহ্ন

border=0অধ্যাপক আলী আনোয়ার সম্পাদিত বিস্মৃতপ্রায় গ্রন্থ ‘ধর্মনিরপেক্ষতা’র নতুন সংস্করণ বেরিয়েছে সম্প্রতি। বইটির নতুন সংস্করণ ছাপা হচ্ছে এমনটি জানিয়েছিলেন মুজতবা হাকিম প্লেটো। ফলে অপেক্ষায় ছিলাম বললে অত্যুক্তি হবে না; যদিও এই বইয়ের পুরোটা আমার বহু আগেই পড়া। এই বইয়ের সঙ্গে আমার যোগাযোগটা কেবল এই কারণেই নয় যে এটি আমার প্রয়াত অগ্রজের সম্পাদিত বই, এ কারনেও যে আমার কৈশোরে আমার মানস গঠনে এই বইটির একটি ভূমিকা রয়েছে। কিন্ত তারচেয়েও বেশি গুরুত্বপূর্ণ এই কারণে যে গত ৪৩ বছরে বাংলাদেশে ধর্মনিরপেক্ষতা বিষয়ে গভীর চিন্তা ও দূরদৃষ্টি সম্পন্ন ভাবনাসমৃদ্ধ যে সব বই প্রকাশিত হয়েছে, আমার জানামতে, এটি তাঁর অন্যতম; সম্ভবত একে শীর্ষস্থানীয় বলেই বিবেচনা করতে পারি। অথচ এটি কোনো নতুন প্রকাশনা নয়, এই বইটি প্রথম প্রকাশিত হয়েছিলো ১৯৭৩ সালে। বইটির পটভূমিকা জানার আগে তাঁর লেখক তালিকার দিকে তাকানো যেতে পারে। এর লেখক তালিকায় আছেন (প্রয়াত) সালাহ উদ্দীন আহমদ, (প্রয়াত) খান সারওয়ার মুর্শিদ, (প্রয়াত) জিল্লুর রহমান সিদ্দিকী, গোলাম মুরশিদ, সনৎকুমার সাহা, কাজি জোন হোসেন, এবনে গোলাম সামাদ, অসিত রায় চৌধুরী প্রমুখ। অগ্রজ আলী আনোয়ারের জীবনাবসান হয়েছে ২০১৪ সালের ৩ মার্চ, তাঁর মৃত্যুর প্রায় এক বছর পরে বইটি পুনঃমুদ্রিত হল। (সম্পূর্ণ…)

অরুণাভ সরকারের অপ্রকাশিত সাক্ষাৎকার: পৃষ্ঠার পর পৃষ্ঠা তারা অন্যের লেখা ছেপে দিয়েছেন নিজের নামে

শিমুল সালাহ্উদ্দিন | ২০ december ২০১৪ ১১:২৬ অপরাহ্ন

arunav-sarker.gifকবি অরুণাভ সরকারের জন্ম টাঙ্গাইল জেলার মির্জাপুরে,১৯৪১ সালের ২৯ মে। সব মিলিয়ে তাঁর কবিতাগ্রন্থের সংখ্যা মাত্র তিন। নগরে বাউল (১৯৭৬), কেউ কিছু জানে না (১৯৮০), নারীরা ফেরে না (২০০৬) শিরোনামের কবিতাগ্রন্থগুলো হয়েছে সমাদৃত, আদর পেয়েছে অগ্রজ অনুজ কবিদের। শিশুসাহিত্যে ছিলেন সাবলীল। খোকনের অভিযান, ইলশেগুঁড়ি, ভালুকার মৌমাছি, ভালুকার দুই বন্ধু, গল্প থেকে গল্প এমন শিরোনামে লিখেছেন শিশুতোষ গ্রন্থ। সব মিলে অরুণাভ সরকারের বই এক ডজন। পেয়েছেন বাংলা একাডেমির কবিতা পুরস্কার, টাঙ্গাইল সাহিত্য সংঘ পুরস্কারসহ নানা পদক। ষাট দশকের অন্যতম শক্তিশালী এ কবি পেশাগতভাবে সাংবাদিকতায় নিয়োজিত ছিলেন। তিনি নিউ নেশন, দৈনিক জনপদ, দৈনিক যুগান্তর, ইত্তেফাক, দৈনিক সংবাদ, ডেইলি মর্ণিং সান, ডেইলি ইনডিপেনডেন্ট পত্রিকায় সাংবাদিকতা করেছেন। প্রচারবিমুখ, স্বল্পপ্রজ এই কবির ছন্দদক্ষতা ও বাকপ্রতিমা নির্মাণের অনন্যতা তাকে সুপরিচিত করেছে পাঠক মহলে।

ষাটের দশকের অন্যতম কবি অরুণাভ সরকারের কবিতা প্রথম পড়েছি আমি ২০১০ এ। আমীরুল ভাইয়ের মিরপুরের বাসায়। আমার পড়া তাঁর প্রথম কবিতাগ্রন্থের নাম নারীরা ফেরে না (২০০৬)। আদতে এটি তাঁর নির্বাচিত কবিতার একটি সংকলন।

২০১১ সালের মে মাসে, তখন আমি ইনডিপেনডেন্ট টেলিভিশন এ যোগদান করেছি। ফোন করে একদিন যাই কবির বাসায়। বড় একটা ইন্টারভিউ করি। যা হয়, ৬৮ মিনিট রেকর্ড করা ফুটেজ, আড়াই মিনিটের ‘কবি ভালো নেই’ মার্কা একটা স্টোরি প্রচারের পর, পরের সপ্তাহে পড়ে গেল ইনডিপেনডেন্ট টেলিভিশনের আর্কাইভ থেকে। আমার মোবাইলে ভাগ্যিস রেকর্ড করেছিলাম। রাতে শুনলাম অরুণাভ দা নাই। কান্নায় ধরে এলো গলা। (সম্পূর্ণ…)

গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস:

নিঃসঙ্গতার একশ বছর

আনিসুজ্জামান | ১৮ অক্টোবর ২০১৪ ৫:২৩ অপরাহ্ন

border=0বিশ্বসাহিত্যের ইতিহাসে নিঃসঙ্গতার একশ বছর-এর মতো আর কোনো উপন্যাস প্রকাশের পরপরই এতটা পাঠকপ্রিয়তা পেয়েছে কিনা সন্দেহ। জনপ্রিয়তার বিচারে যেমন, তেমনি শিল্পকুশলতা আর শিল্পমুক্তির ক্ষেত্রেও এটি হয়ে উঠেছে এক অনন্য দৃষ্টান্ত। কেবল স্প্যানিশ সাহিত্যেই নয়, গোটা বিশ্বসাহিত্যের ইতিহাসেই একটি মাত্র উপন্যাসে ইতিহাস, আখ্যান, সংস্কার, কুসংস্কার, জনশ্রুতি, বাস্তব, অবাস্তব, কল্পনা, ফ্যান্টাসি, যৌন-অযাচার ও স্বপ্ন– সবকিছুর এমন স্বাভাবিক ও অবিশ্বাস্য সহাবস্থান আগে কখনও দেখা যায়নি।
ঠিক এই কারণে মারিও বার্গাস যোসা এটিকে বলেছিলেন এক সামগ্রিক উপন্যাস (Novela Total), আর পাবলো নেরুদা একে বলেছিলেন, “সের্বান্তেসের ডন কিহোতের পর স্প্যানিশ ভাষায় সম্ভবত মহত্তম উন্মোচন (“perhaps the greatest revelation in the Spanish language since Don Quixote of Cervantes.”)
বাংলাদেশে এখনও পর্যন্ত কিংবদন্তিতুল্য এই উপন্যাসটি মূলভাষা থেকে অনূদিত হয়নি। এই প্রথম এটি আনিসুজ্জামানের অনুবাদে মূল থেকে ধারাবাহিক অনূদিত হচ্ছে। বি. স.
(সম্পূর্ণ…)

আমার বন্ধু রুদ্র মুহম্মদ শহিদুল্লাহ

সলিমুল্লাহ খান | ১৬ অক্টোবর ২০১৪ ৭:২৩ অপরাহ্ন

rudro-1.gifছবি কৃতজ্ঞতা: মইন বুলু

রুদ্র মুহম্মদ শহিদুল্লাহর সহিত আমার প্রথম দেখা ইংরেজি ১৯৭৬ সালে। তখন মাত্র ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উঠানে পা রাখিয়াছি। আমি আসিয়াছিলাম তখনকার জেলা চট্টগ্রাম হইতে। হালফিল আমার সাকিন জেলা কক্সবাজার দাঁড়াইয়াছে। রুদ্র তাঁহার কবিতার নিচদিকের বাম কোণায় প্রায়ই লিখিতেন মিঠেখালি, কখনও মোংলা। এইগুলি যথাক্রমে তাঁহার গ্রাম ও উপজেলার নির্দেশ। কবিতার অতিরিক্ত চিংড়িচাষেও রুদ্রের আগ্রহ ছিল। খুলনা ও বাগেরহাট এলাকায় ঐ সময় হইতে কিছু চিংড়িঘের গড়িয়া উঠিতেছে উঠিতেছে। (সম্পূর্ণ…)

« আগের পাতা | পরের পাতা »

Disclaimer & Privacy Policy  |  About us  |  Contact us

© bdnews24.com