.

একুশের অপমান

আলম খোরশেদ | ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০১৭ ৭:১৬ অপরাহ্ন

একুশ নিয়ে আমাদের আদিখ্যেতার অন্ত নেই। ফেব্রুয়ারি আসতে না আসতেই দেশজুড়ে ব্যাঙ-এর ছাতার মত গজিয়ে ওঠা তথাকথিত ’ফ্যাশন হাউস’গুলোতে বাংলা বর্ণমালা উৎকীর্ণ পোশাক বিক্রির ধুম পড়ে যায়। আর সেইসব ফ্যাশনদুরস্ত ধরাচুড়ো গায়ে চাপিয়ে একুশের সাতসকালে আমরা দলবেঁধে, সংবৎসর চূড়ান্ত অবহেলার শিকার, জরাজীর্ণ শহীদ মিনারটিতে লাইন লাগিয়ে পুষ্পাঞ্জলি অর্পণ আর সুরে-বেসুরে দুই কলি ‘আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো’ গেয়ে আমাদের বাংলাপ্রীতির পরাকাষ্ঠা দেখাই। অথচ বছরের বাকি তিনশ চৌষট্টি দিন আমাদের প্রাত্যহিক জীবনাচরণে বাংলা ভাষা-সাহিত্য-সংস্কৃতির প্রতি শ্রদ্ধাভক্তির লেশমাত্র বহিঃপ্রকাশ দেখিনা।

আমরা শুদ্ধ করে, প্রমিত উচ্চারণে কথা বলার ব্যাপারে নিদারুণরকম উদাসীন। অথচ কথায় কথায় বিনা দরকারে ভুলে-ভরা ইংরেজি কপচাতে রীতিমত পারঙ্গম। বইপত্রে, রেডিও-টেলিভিশনে, মঞ্চে-মাইকে কোথাও বাংলা ভাষাটিকে শুদ্ধ ও সুন্দরভাবে উপস্থাপনের কোন প্রচেষ্টা নেই। অফিস-আদালত, ব্যবসা-বাণিজ্য, ব্যাংক-রেস্তোরাঁ সর্বত্র কারণে-অকারণে ইংরেজির ঢালাও ব্যবহারে আমাদের কোন লজ্জাবোধ হয় না। এমনকী পারিবারিক আচার-অনুষ্ঠানসমূহেও আমরা অবলীলায় বাংলা ভুলে বিজাতীয় বুলির কষ্টকর কসরতে ব্যস্ত থাকি অহর্নিশি। বিয়ের কার্ড ইংরেজিতে ছাপানো আর গায়ে হলুদের অনুষ্ঠানে পাড়াপড়শির ঘুমের শ্রাদ্ধ করে তারস্বরে হিন্দি, ইংরেজি গান বাজানোটা যেন আমাদের জাতীয় সংস্কৃতির অংশই হয়ে উঠেছে ইদানিং। আমরা খেয়ে না খেয়ে আমাদের পুত্রকন্যাদের ইংরেজি মাধ্যমের স্কুলে পড়াতে যারপরনাই উৎসাহী। এই কর্মে আমাদের শিল্পী, সাহিত্যিক, বুদ্ধিজীবী এবং বাঙলা ভাষা ও সংস্কৃতির তথাকথিত ধারকবাহকদেরও উৎসাহে কোন কমতি দেখি না। ভিনদেশি পোশাক-আশাক, খাদ্যাখাদ্য আর সংস্কৃতির বেনোজলে গা ভাসিয়ে দিয়ে পরম তৃপ্তির ঢেঁকুর তুলতে বাধে না আমাদের বিবেকে। আমাদের চিত্রশিল্পীরাও বুঝি তাঁদের শিল্পকর্মের নামগুলো ইংরেজিতে রাখতে পারলেই বর্তে যান। নগরসংস্কৃতির নতুন অনুষঙ্গ এফ এম রেডিওর জকি-সম্প্রদায় আর ’টিভি প্রেজেন্টার’ প্রজাতির সদস্যরাও বিকৃত উচ্চারণের এক অদ্ভূতুড়ে খিচুড়ি-বাংলা বলার মহোৎসবে মত্ত, কল্পিত এক ‘স্মার্টনেস’ জাহিরের প্রাণান্ত প্রতিযোগিতায়। (সম্পূর্ণ…)

‘সন্ত্রাস, জঙ্গিবাদ ও ইসলাম’: আট দশকের জমানো প্রশ্ন, আটাশি পৃষ্ঠায় উত্তর

হাবিব ইমরান | ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০১৭ ১২:১৭ অপরাহ্ন

mawlana+Cover-02মুসলিমদের পবিত্র ধর্মগ্রন্থ আল-কোরআনের কোনো কোনো আয়াতের ‘অপব্যাখ্যা’ দিয়ে সন্ত্রাসবাদে উদ্বুদ্ধ বা ‘ব্রেনওয়াশ’ করা হয়, আপনি জানেন?
মুরতাদ-মুশরিক-কাফের কাকে বলে? এদের মধ্যে পার্থক্যই কী ? মন্দির-গির্জা-প্যাগোডা রক্ষা করার দায়িত্বও একজন মু’মিনের, যেটা কিনা জিহাদেরই অংশ- জানেন কি!
আট দশকেরও বেশি সময় ধরে বিশ্ব রাজনীতি ও ইসলামকে কেন্দ্র যেসব প্রশ্ন, প্রসঙ্গ এবং বিতর্ক বারবার ঘুরেফিরে এসেছে মাওলানা ফরীদ উদ্দীন মাসঊদের সন্ত্রাস, জঙ্গিবাদ ও ইসলাম বইটিতে সেগুলোর সব উত্তর রয়েছে।
মাত্র আটাশি পৃষ্ঠার বইটি পড়তে একজন সাধারণ পাঠকের সময় লাগবে তিন থেকে চার ঘণ্টা, বিনিময়ে পাবেন ইসলাম সম্পর্কে আশি বছরেরও বেশি সময় ধরে জমিয়ে রাখা কিছু প্রশ্নের পরিষ্কার এবং নির্ভরযোগ্য উত্তর।
উপমহাদেশের সর্ববৃহৎ ঈদের জামাত ‘শোলাকিয়া’র গ্র্যান্ড ইমাম মাওলানা ফরীদ উদ্দীন মাসঊদ-এর বইটি সাজানো হয়েছে প্রশ্নোত্তরের ছলে। সমসাময়িক দুনিয়ায় আগুনের মত গনগনে বিষয়- জিহাদ, কিতাল, আত্মঘাতী হামলা, খিলাফত, নারী ও ইসলাম, হিজাব, কওমী মাদরাসার শিক্ষা ব্যবস্থা নিয়ে প্রতিনিয়ত জমা হতে থাকা প্রশ্নগুলো আল কোরআন ও সহীহ হাদিসের ভিত্তিতে দৃঢ়ভাবে ব্যাখা দেওয়া হয়েছে এতে।
‘ছাপ্পা ঘুড়ি’র মত এলোমেলো দুলতে থাকা নানা বিষয়কে এক সুতোয় বাঁধতে গিয়ে মাওলানা মাসঊদ উত্তর শুরু করেছেন গোড়া থেকেই- কখনো কখনো বেছে নিয়েছেন ফিকহ শাস্ত্রের রেফারেন্স।
জিহাদের নামে সন্ত্রাসবাদ তৈরি করে বিশ্বব্যাপী যে ‘ইসলামোফোবিয়া’ তৈরি করা হয়েছে, তার বিরুদ্ধে মাওলানা মাসঊদের এ বইটি একটি ‘জিহাদ বিল কালম’ এর উদাহরণ। (সম্পূর্ণ…)

মুস্তাফিজ শফির আটটি কবিতা

মুস্তাফিজ শফি | ৬ ফেব্রুয়ারি ২০১৭ ৬:৫৭ অপরাহ্ন

হাতের মুঠোয় একগুচ্ছ অন্ধকার

আমি এখন ইচ্ছে করলে খুব সহজেই তোমাকে বানিয়ে ফেলতে পারি। আমার হাতের মুঠোয় তুমি খলবল হেসে ওঠো, প্রথম শাড়ি পরার উচ্ছ্বলতা নিয়ে পরিপাটি দাঁড়াও সকাল-সন্ধ্যা। আমরা ঠিকই হেঁটে আসি আদিগন্ত বিস্তৃত ফসলের মাঠ, হলুদ শর্ষে ক্ষেত। তোমার বাম গালে ঠিক আগের মতো টোল পড়ে। আর আবেগে কিছুটা ফুলে ফুলে ওঠে ঠোঁট।

আমি এখন ইচ্ছে করলেই সকালে মুড়িয়ার পথে থামিয়ে দিতে পারি লাতুর ট্রেন। আর ট্রেনের ধোঁয়াগুলোকে অনায়াসে বানিয়ে ফেলতে পারি মেঘ। তুমিতো মেঘ ভালবাসতে, মাঝে মাঝে ঝরাতে বৃষ্টিও। মেঘ ধরবো বলে আমরা কতোবার ছুটেছি নীলগীরি-নীলাচল। আর প্রকৃতির ছলনায় কতোবার ভেসেছি আক্ষেপের জলে। অথচ দেখো আমার হাতে এখন একসাথে ব্ল্যান্ড হতে থাকে মেঘ, বৃষ্টি এবং নীল আকাশ।

Shakil-storyধোঁয়াওঠা চায়ের কাপে তুমি মাঝে মাঝে ঝড় তুলতে, ফুটপাত পেরিয়ে চারুকলার বারান্দা ধরে হাঁটতে হাঁটতে ধরতে চাইতে পরাবাস্তব নির্জনতা। আমি এখন খুব সহজেই হাতের মুঠোয় ধরে থাকি সেই নির্জন দুপুর আর নিঃসঙ্গ শালিকের ডানায় ভর করে আসা একগুচ্ছ অন্ধকার।

আমার হাতের তালুতে খেলা করে নদীÑ সুরমা, কুশিয়ারা, সোনাই। সুরমাকে আমি এখন অনায়াসে ধানসিঁড়িতে রূপান্তর করে ফেলতে পারি, কুশিয়ারাকে কীর্তনখোলায়। সোনাইয়ের বুকে তোমাকে ভাসিয়ে রাখি, কেবলই ভাসিয়ে রাখি জলগামী নীল বালিহাঁস। (সম্পূর্ণ…)

নবুয়োসি আরাকি: কামোত্তেজক নয়, কামাশ্রয়ী ফটোগ্রাফি

মাজুল হাসান | ২২ নভেম্বর ২০১৬ ৬:৫৪ অপরাহ্ন

লেন্সের মতো বদলাচ্ছে অ্যাভিন্যুয়ের আকাশ
ভেতরে কাঠের কটেজে সাদাকালো সমীরণ
স্মৃতি ওকে আবেগচালিত ডাউনোসার বলো
সেই কবে বিলুপ্ত, তবু মগজে কুণ্ডলিত কাম
সাপ; সরীসৃপ; হিমরক্তের প্রেমিকের মতো

Araki-3আরাকি’র তোলা গায়িকা লেডি গাগার ছবি

নবুয়োসি আরাকি— দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধপরবর্তী জাপানী ফটোগ্রাফির ইতিহাসে সবচেয়ে উজ্জ্বল নক্ষত্র। কামাশ্রয়ী, ঋজু, খনিশ্রমিকের মতো শরীরবৃত্তীয়। নারী একাকী এক তুষারাচ্ছাদিত মেরু। আর কে না জানে চোখ-ধাঁধানো শুভ্রতাই রহস্যময় গোলকধাঁধা। সবমিলিয়ে নবুয়োসি বহুলআলোচিত। বিতর্কিত। কিন্তু অবধারিত। পূর্বজ ফটোগ্রাফারদের ধারাবাহিকতা, জাপানী ঐতিহ্যবাহী সচিত্র যৌনফ্যান্টাসি সুঙ্গার উত্তরাধিকারসহ আরাকি বিশ্বফটোগ্রাফিতে যোগ করেছেন নিজস্ব টার্ম ‘পার্সোনাল ফটোগ্রাফি’ বা ‘ব্যক্তিগত স্থিরচিত্র’ ধারণা।
শিল্পীর বাইরে গোলাপ শুধুই গোলাপ। ব্যক্তির বাইরে সব শূন্য। লালের সাথে তাই সঙ্গম অবধারিত। ফায়ারপ্লেসে আগুন আর বৃক্ষ হত্যা। একাকার উদ্দেশ্য-বিধেয়। স্রষ্টা বললো— আমি তোমাকে সৃষ্টি করেছি। স্রষ্টা ও সৃষ্টি যুগপৎ যাত্রী কসমিক লংড্রাইভে। তুলোট কিংবা ইটকাঠের বিছানার উত্তাপ লেগে আছে বুনটে, ট্যাক্সিক্যাবে। জানালা দিয়ে শুধু শহরের বদলে-যাওয়া দেখা। ব্যালকনিতেই ধরা দেয় পরিবর্তন সবার আগে। প্রায় ৫ দশক ধরে যে-মানুষটি ব্যক্তিগত সেন্টিমেন্টাল জার্নি চালিয়ে যাচ্ছেন সেই নবুয়োসি আরাকির ছবির সামনে দাঁড়ালে ভেসে ওঠে এক সমান্তরাল বাস্তব। যিনি নিজেই বলেন, ইমেজ আর লাই। মিথ্যা মিথ্যা সব মিথ্যা, নকল। কিন্তু কবির কলমের মতো শিল্পীর তুলি কিংবা ক্যামেরা-ফ্ল্যাশেই গোলাপ সবচেয়ে আফিমরঙা, চিত্তহরী সুগন্ধী। (সম্পূর্ণ…)

জীবনগাঁথা

কাজী লাবণ্য | ৭ নভেম্বর ২০১৬ ৮:২৬ অপরাহ্ন

Afsanমুখে শত বলিরেখার জ্যামিতিক নকশা। ছানি পড়া চোখে শতায়ু ফ্রেমের গোল মলিন কাঁচের চশমা। দাঁতবিহীন গাল দুটি ভেতরদিকে তোবড়ানো। মাথায় দু/চারটি শনের মত চুল ফুরফুরে বাতাসে উড়ছে। বাড়ির সামনে অজস্র ঘটনার সাক্ষী প্রাচীন অশ্বত্থ বা পাকুড় গাছটির গোড়ায় বসে বৃদ্ধা পরীবিবি আকুল হয়ে কাঁদছে। চোখের পানি শুকিয়ে গ্যাছে, গলা দিয়ে আর কোন শব্দ বেরুচ্ছেনা তবু সে গুনগুন করে কেঁদেই চলেছে। আজ তিনদিন ধরেই সে কাঁদছে। বুড়ির একমাত্র সন্তান পাঁচ সন্তানের জননী এলিজা বা এলিজাবেথ তিনদিন আগে মারা গেছে, রেখে গেছে ছেলে বউ, মেয়ে জামাই, নাতী নাতনী আর বৃদ্ধা মা পরীবিবিকে। অশীতিপর বৃদ্ধা ধুসর শূন্য চোখে তাকিয়ে থাকে দূরে বহুদূরে… শূন্য দৃষ্টি ঘুরেফিরে স্থির হয় সেই সেইখানে। সে যেন এজনমের কথা নয়, অন্য এক জনমের কথা। সে যেন কত শত যুগ আগের কথা- এত কথা, এত ব্যথা, এত ছবি কেন আকুলিবিকুলি করছে,সব যেন আজ চোখের সামনে ভেসে উঠছে বায়োস্কোপের মত। (সম্পূর্ণ…)

বব ডিলান, নোবেল পুরস্কার এবং সাহিত্যের সীমানা

সেজান মাহমুদ | ১৪ অক্টোবর ২০১৬ ২:১১ অপরাহ্ন

bob-1
ছবি: ২০১০ সালের ১২ অক্টোবরে লেখকের ক্যামেরায় বব ডিলান

বব ডিলানের সাহিত্যে নোবেল পুরস্কার পাওয়া কতোটা বিস্ময়কর এবং কতোটা কাঙ্ক্ষিত তা বুঝতে হলে নোবেল পুরস্কার নিয়ে যারা বা যে সকল সংস্থা বাজী ধরার কারবার করে থাকেন তাঁদের পাতার দিকে নজর দিলেই হয়। যেখানে জাপানের লেখক হারুকি মুরাকামির পক্ষে বাজীর মাত্রা ছিল ৪/১ অর্থাৎ সম্ভাব্যতার বিচারে শতকরা ২০ ভাগ তাঁর পক্ষে সেখানে বব ডিলান ছিলেন ৫০/১ অর্থাৎ মাত্র শতকরা ১.৯ ভাগ। কিন্তু এই অংকের সংখ্যা দিয়ে কী আর নোবেল পুরস্কার হয়? এগুলো করা হয় বাজী ধরে জুয়া খেলার জন্যে। কিন্তু এই জুয়াড়িদের হিশেব নিকেশকে কিছুটা আমলে নিতেই হয় কারণ এরা সাহিত্যমূল্য থেকে শুরু করে সাহিত্যের রাজনীতিকেও আমলে এনে বিচার করেন। যে কথা নিশ্চিতভাবে বলা যায় তাহলো শুধু এই জুয়াড়িরা কেন, বব ডিলানের কথা স্বয়ং আমেরিকান লেখক বা সাহিত্য সমালোচক বা কলাম লেখকেরাও এবার মাথায় আনেননি যদিও তিনি সম্ভাব্য পুরস্কারপ্রাপ্তদের তালিকায় এসেছেন বেশ কয়েকবার। যেমন আমেরিকান অ্যালেক্স শেফার্ড কলাম লেখেন সেই অক্টোবর ৬ তারিখে যার শিরোনাম ছিল “কে পাবেন ২০১৬ সালের সাহিত্যে নোবেল পুরস্কার? বব ডিলান যে নয় তা নিশ্চিত।”

বব ডিলান সঙ্গীতজ্ঞ, গীতিকবি, কণ্ঠশিল্পী। তাঁকে সাহিত্য শাখায় নোবেল পুরস্কার দেয়া কি সাহিত্যের পরিধিকে একেবারে আলগা করে দেয়া কিনা এ প্রশ্ন সকলের মনেই উঁকি দিয়ে যাচ্ছে, কখনো সরব আপত্তি হিসাবেও। সাহিত্য তথা সংগীতের নন্দনতাত্ত্বিক দিক বিচার করে এই দুই শাখার একটা সম্মিলন ঘটছে কি না এবং তা বিশ্ব সাহিত্যের শ্রোতধারায় একটা শক্ত জায়গা করে নিয়ে যাচ্ছে কি না তা সাহিত্যের ডিসকোর্সের মধ্যেই আলোচনা করা যায়। সেই আলোচনায় যাবার আগে নোবেল কমিটির বিচারকেরা কীভাবে এই সীমানা কে দেখছেন তা ঝালিয়ে দেখা যেতে পারে। তাঁরা এই সাহিত্যের পরিধি বা সীমানাকে ভাঙ্গার যে চেষ্টা করছেন তা কিন্তু গত কয়েক বছরের পুরস্কারের দিকে তাকালেই বোঝা যায়। বিশেষ করে গত বছর আলেক্সিভিচ স্‌ভিতলানার নোবেল পুরস্কার প্রাপ্তি পুরাতন গণ্ডিকে ভেঙ্গে নতুন সীমানার দুয়ার খুলে দেয়; কারণ, আলেক্সিভিচ স্‌ভিতলানা মূলত ফিকশন এবং নন-ফিকশনের সংমিশ্রণে একধরনের মৌখিক নেরেটিভ বা বয়ান তৈরি করেছে যা সচারচর মূলধারার সাহিত্য হিসাবে বিবেচিত হয়নি অতীতে। (সম্পূর্ণ…)

হকভাই এখন চিরজীবিত

মুহম্মদ নূরুল হুদা | ২৭ সেপ্টেম্বর ২০১৬ ৭:২৫ অপরাহ্ন

syed-hoque

সমকালীন বাংলা কবিতা ও বহুমাত্রিক সৃষ্টিশীলতার এক সর্বাগ্রগণ্য কারুকৃৎ কবিশ্রেষ্ঠ সৈয়দ শামসুল হক এখন থেকে চিরজীবিত। মানবশরীর নিয়ে আশি বছরের অধিককাল মর্ত্যবাসী থেকে এখন তিনি মহাবিশ্বের মহাকালের আদিঅন্তহীনতায় সমর্পিত। তাঁর সৃষ্টি অবিনাশী, তাঁর সত্তা অবিনাশী, তাঁর আলোক চির-সক্রিয় বাঙালির মনে ও মননে। তাঁর প্রতি উত্তরপ্রজন্মের সশ্রদ্ধ প্রণতি।
মাত্র ছয়দিন আগে ২১ সেপ্টেম্বর সকালবেলা তাঁর প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে রচিত আমার সর্বশেষ কবিতাটি এখানে পত্রস্থ করা হলো:

অনন্তের সঙ্গে গোল্লাছুট

যে জানে না তার কোনো ভয় নেই,
যে জেনে গেছে ভয় শুধু তার;
অনন্তের সঙ্গে আড়ি দিয়ে কী লাভ?
বরং অনন্তকে বন্ধু করো তোমার আমার।
অনন্তকে বলি,
এসো, আবার আমরা গোল্লাছুট খেলি;
এসো, আবার আমরা খেলতে শুরু করি ডাংগুলি;
দোল-পূর্ণিমার রাতে জোছনার ডানায় চড়ে
এসো, আরেকবার ঘুরে আসি পরানের গহীন ভিতর;
আমাদের চারপাশে নেবুলার হল্লা,
শাদাবিবর ও কালোবিবরের দাড়িয়াবান্দা,
বাঘবন্দি তারকাপুঞ্জ এক্কা-দোক্কা খেলছে
আপন আপন কক্ষপথে;
আর সেই শৈশব থেকে
আমরাও চড়ে বসেছি আপন আপন রথে; (সম্পূর্ণ…)

কলিং বেলের মতো

আনন্দময়ী মজুমদার | ৯ সেপ্টেম্বর ২০১৬ ৯:১৫ অপরাহ্ন

Anondoকলিং বেলের মতো আধলা সকাল
দিন, রাত, মনে করিয়ে দেয়
কাউকে খুলে দিতে হবে।

ইটের পর ইট পাতা এই মানবতা
তার আস্তানা, হৃদয় ছাড়া
আর কোনভাবে পাবে?

তাওয়া গরম হচ্ছে রান্নাঘরে।
তাপ নেই তেমন চুলোয়,
বুকের ভিতরে।
কেউ থাকে না
চলে যেতে হবে
থাকার জন্য আসিনি এ-ভোরে

দরজা খোলা থাকে–কেউ আসে
কেউ দাঁড়ায় অল্প কথায়, কেউ হাসে
কোমলগান্ধার বাজে শুধু টিভিতে
টানটান বালাসন
বয়সী পেশির কাছে প্রার্থনা,
শিশু হও
শিশু হও মন (সম্পূর্ণ…)

আমি মুজিব বলছি

আনিসুর রহমান | ১৪ আগস্ট ২০১৬ ৯:২৯ অপরাহ্ন

Mujibবঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে নিয়ে লেখালেখির পরিমাণ ও পরিধি বিশাল। স্মৃতিচারণ থেকে শুরু করে কবিতা, চলচ্চিত্র, জীবনী, গবেষণা ও মূল্যায়ন, কোনোটারই কমতি নেই। অন্যদিকে দেশে বিদেশে অর্বাচীনরাও বসে নেই। সুযোগ পেলেই মহান এই মানুষটির সাথে মৃত্যুর পরেও বেয়াদবি করে। এই মানুষটি একটি জাতির আধুনিক রূপকার, একটি রাষ্ট্রের স্থপতি। প্রত্যন্ত জনপদ টুঙ্গিপাড়ায় জন্ম নিয়ে কিভাবে তিনি ধাপে ধাপে বাঙালির জাতিরাষ্ট্রের স্থপতি হলেন, দেশ ও দেশের মানুষকে মুক্তির পথ দেখালেন তার অনেক কিছু অনেকের লেখায় নানাভাবে উঠে এসেছে। বঙ্গবন্ধুর দীর্ঘ পথপরিক্রমায় তাঁর মনের কি অবস্থা তা কিছুটা ঘটনা পরম্পরায় কিছুটা কল্পনায়, গদ্য-পদ্যের মিলিত বয়ানে নাট্যমঞ্চের জন্যে লেখা একটি মনোলগ বা স্বগত সংলাপ: আমি মুজিব বলছি।

মনে পড়ে হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দীর কথা । তিনিই আমার আর্দশ, তিনিই আমার নতো। তাই আজ এই নির্জন কারাগারে তাঁর কথাই সবার আগে মনে পড়ে। তিনি আমাকে কাছে টেনে নিলেন কি করে? তাঁর সাথে আমার পরিচয় হলো কিভাবে, কোন ভোরে?
তিনি আমাকে দেখালেন দেশ ও রাজনীতির নানা পথ।
আরো মনে পড়ে, কলিকাতা মেডিকেল কলেজের অপারেশন থিয়েটারে ডাক্তার আমার চোখের অপারেশন করে। সেই থেকে চশমা আমার শুরু।
বয়স আমার ষোল, ডাক্তারের পেছন ঘুরে বছর কয়েক নষ্ট হয়ে গেল। পড়ালেখায় পেছনে পড়ে গেলাম।
কাজ নেই, পড়া নেই। রোজ রোজ স্বদেশীদের নজরে পড়ে যাই। সুভাষ বসুর দলের ভক্ত হয়ে যাই।
ঐ বয়সে বুঝে যাই, ইংরেজদের এই দেশে থাকার অধিকার নাই।
স্বদেশীদের মিটিংয়ে ভিড় করি, গোপালগঞ্জ-মাদারীপুর যাওয়া-আসা করি।
মাদারীপুর এসডিও সাহেব আমার দাদাকে হুঁশিয়ারি করেন। (সম্পূর্ণ…)

সাম্প্রতিক বিশ্বসাহিত্য ও সংস্কৃতি: নতুন তথ্যে আত্মঘাতী তিন খ্যাতিমান

বিপাশা চক্রবর্তী | ২৮ জুলাই ২০১৬ ১:২১ অপরাহ্ন

মানুষ আত্মহত্যা কেন করে? একজন মানুষের আত্মহত্যার পেছনে নানা কারন থাকতে পারে। পারিবারিক, সামাজিক, মনোস্তাত্ত্বিক ইত্যাদি নানা কারণ নিয়ে সেগুলো বিশ্লেষণ করা যায়। সাধারণ মানুষের পাশাপাশি বিশেষ প্রতিভার অনেক ব্যক্তিদের মাঝেও আত্মহত্যার প্রবণতা লক্ষ্যনীয়। যার ফলে দেখা যায় আত্মহননকারী ঐ প্রতিভাবান ব্যক্তিটি ঘিরে তৈরি হয় নানান জল্পনাকল্পনা, তৈরি হয় মিথ। মৃত্যুর বহুকাল পরেও ভক্ত, পাঠক, সমালোচকরা তাঁকে নিয়ে কথা বলেন, আলোচনা করেন। সব সমাজেই আত্মহত্যাকে ঘৃণার চোখে দেখা হয়েছে। এভাবে জীবনের কাছে পরাজয় কাঙ্ক্ষিত হতে পারে না কখনোই। আত্মহননের মাধ্যমে জীবনের ইতি টানা কোন মানুষের মৃত্যুই গ্রহণযোগ্য নয়। আর মানুষটি যদি বিশেষ প্রতিভা, গুণ বা বৈশিষ্ট্যসম্পন্ন হয়, তাহলে তাঁর আত্মহত্যা সমাজের জন্য আরো ক্ষতিকর হয়ে দাঁড়ায়।

এবারের সাম্প্রতিক বিশ্বসাহিত্য ও সংস্কৃতিতে থাকছেন তিন প্রতিভাবান ব্যক্তি যারা আত্মহত্যা করে তাঁর মূল্যবান জীবনের ইতি টেনেছিলেন, কিন্তু মৃত্যুর এত কাল পরে এই ২০১৬ সালেও তারা ফিরে আসছেন নতুন করে নতুনভাবে। যতটা না আত্মহত্যার জন্য তার চেয়ে বেশি তাদের সৃষ্টিশীল কর্মের জন্যই।

ভ্যান গগের কান

Vanভ্যান গগের কান। আরো স্পষ্ট করে বললে ভ্যান গগের বাম কান। সবাই জানে ভ্যান গগ তাঁর বাম কানটি কেটে ফেলেছিল। চরম এ ঘটনাটি ঘটার পর থেকে প্রায় ১২৮ বছর ধরে পন্ডিতদের মধ্যে বিতর্ক চলছে, এই অঙ্গহানির তীব্রতা কতটুকু ছিল তা নিয়ে। ঘটনাটি ঘটেছিল ১৮৮৮ সালের ডিসেম্বরের ২৩ তারিখ ফ্রান্সের অরলেসে। তিনি কি কানের লতিটুকু কেটেছিলেন? নাকি পুরোটাই?
লেখক ও অপেশাদার ইতিহাসবিদ শ্রীমতি ব্রেনেত মারফি তার একটি নতুন বইয়ের জন্য যখন পোস্ট-ইমপ্রেশনিস্ট এই শিল্পীর জীবনের শেষ দিনগুলো নিয়ে গবেষণা করছিলেন তখনই আমেরিকান আর্কাইভে সংরক্ষিত একটি নথি আবিষ্কার করে বসেন যা কিনা ভ্যান গগের কান-বিতর্কের অবসান ঘটাতে পারে। নথিটি হল ডাক্তার ফেলিক্স রে’এর একটি লিখিত নোট। কান কাটার পর এই চিকিৎসক অরলেস হাসপাতালে ভ্যান গগের চিকিৎসা করেছিলেন। নোটটিতে কর্তন করা কানের একটি ছবিও এঁকেছিলেন ডাক্তার ফেলিক্স রে। এতে দেখা যাচ্ছে ভ্যান গগ প্রকৃতপক্ষে প্রায় সম্পূর্ণ কানটিই কেটে ফেলেছিলেন। কানের লতির কাছে যা একটু মাংস অবশিষ্ট ছিল,ক্ষত শুকাতে শুকাতে তাও প্রায় অদৃশ্য হয়ে যায়। (সম্পূর্ণ…)

সাম্প্রতিক বিশ্বসাহিত্য: প্রেসিডেন্ট সাদ্দাম হোসেনের সর্বশেষ উপন্যাস ‘দূর হ শয়তানের দল’

বিপাশা চক্রবর্তী | ১৮ জুলাই ২০১৬ ৭:৩৬ অপরাহ্ন

Saddam's Novel-2বিশ্বব্যাপী তিনি পরিচিত ছিলেন একজন শাসক, রাষ্ট্রপ্রধান হিসেবে। তার শাসনামলে মিথ্যা অভিযোগে তার দেশে আক্রমণ চালিয়েছিল পশ্চিমা দেশগুলো। তাকে ক্ষমতাচ্যুত করা হয়েছিল, তাকে খুন করা হয়েছিল। কিন্তু খুন হওয়ার অনেক আগে থেকেই তার মধ্যে জন্ম হচ্ছিল অন্য অারেকটি সত্ত্বা, এক সাহিত্যিক সত্ত্বা। যদিও সবাই জানেন, তিনি জীবদ্দশায় সাহিত্যিক হিসেবে পরিচিত ছিলেন না কারোর কাছেই। এমন একজন মানুষের যে বইটির কথা বিশেষভাবে উল্লেখ করতে যাচ্ছি – সে বইটি জেতেনি কোন সাহিত্য পুরস্কার। এই বইটিকে বলা যায়, ‘স্মৃতির অতলে হারিয়ে যাওয়া এক খন্ড কাগজের মন্ড।’–‘নিউ ইয়র্ক টাইমস’ পত্রিকা এভাবেই আখ্যায়িত করেছে বইটিকে।

মানুষটির নাম সাদ্দাম হোসেন। ইরাকের সাবেক ও প্রয়াত প্রেসিডেন্ট। বিস্মৃত এই রাষ্ট্রনায়কের সবচেয়ে অনালোকিত দিক আমরা প্রায় কিছুই জানি না। যদিও আরবীভাষী জগতে তিনি এই পরিচয়ে এখন বেশ পরিচিত এবং জনপ্রিয়। আর এই পরিচয় ও জনপ্রিয়তাকে পুঁজি করে পশ্চিমা প্রকাশনা সংস্থাগুলো এখন উৎসুক হয়ে উঠেছে তার বইগুলোর ইংরেজি অনুবাদে। তার সর্বশেষ বইটিই এখন আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দু। যে বইটির কথা বলছি তা সাদ্দাম হোসেনের চতুর্থ ও সর্বশেষ উপন্যাস। সাদ্দাম হোসেন লিখেছিলেন আরবীতে ‘উরখাজ মিন’হাইয়া,মাল’উন”। যা ইংরেজীতে Begone, Demons অর্থাৎ “দূর হ শয়তানের দল” নামে সর্বাধিক পরিচিত। এছাড়াও উপন্যাসটি Get Out You Damned অথবা Get Out of Here, Curse You! শিরোনামেও অভিহিত করা যেতে পারে, বাংলা করলে যার তর্জমা দাঁড়ায় ‘দূর হ, নরকের কীট’ অথবা ‘যা এখান থেকে, অভিশাপ তোকে!” এসব নামেও ডাকা যেতে পারে। বইটি তিনি শেষ করেছিলেন ইউএস আর্মি দ্বারা তাঁর পতনের ঠিক একদিন আগের সন্ধ্যায়। স্বাধীন রাষ্ট্রনায়ক হিসেবে সাদ্দাম হোসেনের জীবনের অন্তিম মুহূর্তে শেষ করেছিলেন পান্ডুলিপিটি। তখন ২০০৩ সাল। মার্চের বিশ তারিখে পতন ঘটে সাদ্দাম হোসেনের। তারপরের ঘটনা সবার জানা। পালিয়ে বেড়ান সাদ্দাম হোসেন পরের নয়টি মাস। নিজ জন্ম শহর তিরকিত-এর কাছে পিঠে কোথাও আত্মগোপনে ছিলেন। কিন্তু ডিসেম্বরের তের তারিখ গ্রেফতার হন সেই ইউএস আর্মির কাছে। গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী কাজের জন্য যারা তাঁকে ২০০৬ সালের ত্রিশ ডিসেম্বর ফাঁসিতে ঝুলিয়ে মৃত্যুদন্ডাদেশ কার্যকর করে। মৃত্যু হয় একজন সাদ্দাম হোসেনের কিন্তু তাঁর লেখা সর্বশেষ বইয়ের পান্ডুলিপিটি সঙ্গে নিয়ে জর্ডানে নির্বাসিত হন তাঁর কন্যা রেগাদ সাদ্দাম হোসেন। অতিসম্প্রতি এই বইটি প্রথমবারের মতো ইংরেজী অনুবাদ প্রকাশের ঘোষণা দিল ব্রিটিশ প্রকাশনা সংস্থা হাস্পার্স। (সম্পূর্ণ…)

কপিরাইট আইন সংশোধন ও সংগীতকর্মের স্বত্ব প্রসঙ্গে

মুহম্মদ নূরুল হুদা | ১৫ মে ২০১৬ ৮:৩৬ অপরাহ্ন

যুগোপযোগীকরণের স্বার্থে স্বাধীন বাংলাদেশে কপিরাইট আইন মূলত একবারই সংশোধিত হয়েছে, ২০০৫ সালে। মাত্র তার ৫ বছর আগে, অর্থাৎ ২০০০ সালে কপিরাইট আইন বাংলা ভাষায় তৈরি হয় এবং সরকার কর্তৃক অনুমোদিত হয়। এতো স্বল্প সময়ের মধ্যে নতুন সংশোধনী আনার কারণ মূলত দুটি : (১) প্রণীত আইনটি ছিল মূলত ব্রিটিশ আমলে ইংরেজি ভাষায় লিখিত আইনেরই প্রায়-হুবহু বঙ্গানুবাদ। অনেক বছর ধরে আইনটি ব্যবহারিক ক্ষেত্রে অচর্চিত ছিল। ফলে অনেক বিষয় বাংলা ভাষ্যে অষ্পষ্ট, দ্ব্যর্থবোধক ও ক্ষেত্রবিশেষে বিরোধাত্মক বলে প্রতিভাত হয়েছে। এগুলো সহজবোধ্য ভাষায় ব্যাখ্য করার প্রয়োজনীয়তা দেখা দেয়। (২) কম্পিউটার, অন-লাইন ও ওয়েবসাইটসহ নতুন কিছু ক্ষেত্র ও বিষয়ের আবির্ভাবের ফলে সেই সব বিষয়ের সংজ্ঞা, তৎসংক্রান্ত বিধিবিধান ও প্রয়োগ-ক্ষেত্র সংযুক্ত করাও অত্যাবশ্যক হয়ে পড়ে।

এই পরিপ্রেক্ষিতে আইন সংশোধনী প্রস্তাব ছাড়াও কপিরাইট আইনের ১০৩ ধারার মর্মানুযায়ী আইন প্রয়োগের ব্যবহারিক ক্ষেত্র সম্প্রসারণ ও বাস্তবায়নের জন্যে সরকারি গেজেটে প্রজ্ঞাপন দ্বারা কপিরাইট বিধিমালা ২০০৬ প্রণীত হয় এবং যথাবিধি জারি করা হয়। আপাতত মনে হলো, বিদ্যমান অবস্থার পরিপ্রেক্ষিতে কপিরাইট মোটামুটি যুগোপযোগী হয়েছে। কিন্তু না, বিশ্বব্যাপী নবসৃষ্টি, আবিষ্কার, উদ্ভাবনা ও সৃষ্টিস্বত্বের বাণিজ্যিক ব্যবহারের অকল্পনীয় বৃদ্ধির কারণে বাংলাদেশেও তার ঢেউ এসে পড়ে। বিশেষত জাপান, যুক্তরাষ্ট্র, যূরোপসহ উন্নত দেশসমূহ তাদের সৃষ্টিপণ্যের বাণিজ্যিক স্বার্থ রক্ষার জন্যে বিশ্বব্যাপী তাদের উৎপাদিত শিল্পপণ্যের মেধাস্বত্ব রক্ষায় তৎপর হয়ে ওঠে।

শিল্প, সাহিত্য, সংস্কৃতি, চিত্রকলা, স্থাপত্য, কম্পিউটার সামগ্রী, সফটওয়ার ও বিশেষ করে সংগীত মনোরঞ্জন বা বিনোদনের স্তর পেরিয়ে প্রকৃত প্রস্তাবে ব্যক্তিস্রষ্টা, উৎপাদনকারী ও ভোক্তার কাছে খুব দ্রুত অর্থকরী বিষয় হয়ে ওঠে। যোগাযোগ মাধ্যমের অস্বাভাবিক সম্প্রসারণের ফলে এই সব শিল্পপণ্য ও নন্দনদ্রব্যের স্রষ্টা ও তার উৎপাদকের স্বার্থ সনাক্তরণ, সংরক্ষণ, বৈধ ব্যহার ও যথাযথ উপকার বন্টনও জরুরি হয়ে পড়ে। বাণিজ্যিক ব্যবহারের ফলে বিমূর্ত শিল্পও দ্রুতবেগে মূর্ত শিল্পপণ্যে রূপান্তরিত হয়ে মূল ব্যক্তিস্রষ্টার হাত থেকে বিযুক্ত হয়ে অন্য উৎপাদক ও ব্যবহারকারীর দ্বারা অবৈধভাবে ব্যবহৃত হতে থাকে। ফলে উত্থাপিত হয় সৃষ্টিস্বত্ব লক্সঘনের অভিযোগ। কপিরাইটের পরিভাষায় এটিকে বলা হলো পাইরেসি, আমরা বাংলায় যাকে বাংলায় বলেছি তাষ্কর্য। (সম্পূর্ণ…)

পরের পাতা »

Disclaimer & Privacy Policy  |  About us  |  Contact us

© bdnews24.com