.

জন্মদিনে শ্রদ্ধার্ঘ্য: ৭৪-এ বঙ্গবন্ধুর আর্শীবাদপুষ্ট কবি মহাদেব সাহা

ইজাজ আহমেদ মিলন | ৫ আগস্ট ২০১৭ ১:৩৯ পূর্বাহ্ন

Mahadev- ‘ আমি একটি বন্ধু খুঁজছিলাম যে আমার পিতৃশোক ভাগ করে নেবে, নেবে আমার ফুসফুস থেকে দূষিত বাতাস…/ আমি এই ঢাকা শহরের সর্বত্র, প্রেসক্লাবে, রেস্তোরাঁয়, ঘোড়দৌড়ের মাঠে এমন একজন বন্ধু খুঁজে বেড়াই যাকে আমি মৃত্যুর প্রাক্কালে উইল করে যাবো এইসব অবৈধ সম্পত্তি…/’ আধুনিক বাংলা কাব্য সাহিত্যের অন্যতম কবি মহাদেব সাহা এভাবেই তাঁর কবিতায় একজন খাঁটি বন্ধু খুঁজে বেড়িয়েছেন। জীবনের এই সায়াহ্ণে এসেও কবি পাননি তাঁর আজন্ম বাসনার সেই প্রত্যাশিত বন্ধুর খোঁজ। যে বন্ধু কবির বাবা হারানো শোক ভাগ করে নেবে। ফুসফুস থেকে বের করে নেবে জমে থাকা দূষিত বাতাস। এ প্রসঙ্গে কবিই বলেছেন ‘ মানুষ কখনো মানুষের এতো বন্ধু হয় না। ঈশ্বরই মানুষের একমাত্র আশ্রয়, একমাত্র বন্ধু। তার কাছেই সব কিছু পাওয়া যায়। তিনিই কেবল সুখ দুঃখের সমান অংশীদার। আমার দুঃখে ঈশ্বর যতো ব্যথিত হন- ততো ব্যথিত আমি নিজেও হই না। কিন্তু সবই আমার কৃতকর্মের ফল। ঈশ্বর আমার জন্য কাঁদেন। এমন কোন বন্ধু হয় না যে আমার জন্য কাঁদবে। মানুষ নিজের জন্যই কাঁদে।’ (সম্পূর্ণ…)

শরীরের চেম্বার মিউজিক

কুমার চক্রবর্তী | ১৬ জুন ২০১৭ ১২:১৩ পূর্বাহ্ন

paintingহোটেল চেলসিয়ায় তুমি খুলে ফেলেছিলে পোশাক
আর তখনই বুঝলাম, পোশাকের নীচেই থাকে নগ্নতা,
তোমার ঐশ্বর্য।
দেখছিলাম তোমাকে, তোমার ঠাসবুনোটময় মন্দাক্রান্তা,
আর আবিষ্কার করতে চাইলাম তার অর্ধস্বর ও অভিপ্রায়।
আয়নাতে প্রতিফলিত তুমি, শরীর যেখানে জন্ম দিয়ে চলেছে
অসংখ্য গঙ্গা-যমুনার,
আমি দেখি তোমার রূপ আর প্রতিরূপ
ভাবি, দেহই প্রেম, এক শিল্পিত তরবারি।
স্পর্শ করলাম তোমাকে, হে সেমেলে, আমি জুপিটার,
কেউ যেন ফুঁ দিল শিঙায়, ধ্বংস কি হবে ব্রহ্মান্ড!
নদীগুলো উঠে যাবে আকাশে, পর্বতেরা নেমে যাবে সমুদ্রে
আর সৃষ্টি হবে এক সুস্বাদু যন্ত্রণার। (সম্পূর্ণ…)

নিঃসঙ্গতাকে পঞ্চাশতম জন্মদিনের শুভেচ্ছা

অরুন্ধতী ভট্টাচার্য | ৩০ মে ২০১৭ ৯:৫৭ পূর্বাহ্ন

marquez-1.jpgআঠারো মাস গর্ভে থাকার পর আজকের দিনে জন্ম হয়েছিল নিঃসঙ্গতার। সে পঞ্চাশ বছর আগের কথা। জন্মের সময় তার বয়স ছিল একশো বছর। অবশ্য পরাগ মিলন ঘটেছিল আরো অনেক আগে, সৃষ্টিকর্তার বয়স তখন সবে আঠারো, একটা “বাড়ি”-র (La casa) অঙ্কুরোদগমের সম্ভাবনা দিয়ে তার শুরু। বিরাট বড়, বহু পুরোনো একটা বাড়ি, ক্যারিবিয়ার উপকূলে জুঁইফুলের গন্ধমাখা সে বাড়ির আনাচে কানাচে ফিসফিস করে কথা বলে প্রেতের দল, সন্ধের অন্ধকারে দিদিমা নাতিকে নিয়ে যায় অলৌকিক গল্পের এক অন্যতর সত্যের জগতে, এক মাসি বুনে যায় নিজের শবাচ্ছাদন, দাদামশাই, বাড়ির একমাত্র পুরুষ অভিভাবক, অবসরপ্রাপ্ত কর্নেল, আমৃত্যু যাঁর অস্তিত্ব যুদ্ধক্ষেত্র থেকে বেরিয়ে আসতে পারেনি, নাতিকে দেখান বেদেদের খেলা। আরাকাতাকায় এই নিবাস বাস্তবে মাত্র আট বছরের। কিন্তু তার স্মৃতি সঙ্গে নিয়ে স্রষ্টা পথ হেঁটেছেন বাররানকিয়া, কার্তাহেনা, বোগোতা, মেহিকোর পথে, “ঝরাপাতা”, “দুঃসময়”, “কর্নেলকে কেউ চিঠি লেখে না” উপন্যাস ও কিছু ছোটগল্পের পাতা এবং এভাবেই একদিন “বাড়ি”-র বহিরাবয়ব থেকে পৌঁছে গেলেন “নিঃসঙ্গতা”-র অন্তর্জগতে আর ঘটে গেল এক অভাবনীয় বিস্ফোরণ: ১৯৬৭ সালের বুয়েনোস আইরেসের সুদামেরিকা প্রকাশনা থেকে আত্মপ্রকাশ করল একশো বছরের নিঃসঙ্গতা (Cien años de soledad)। বইটি পড়েই কার্লোস ফুয়েন্তেসের স্বতঃস্ফূর্ত মন্তব্যঃ “লাতিন আমেরিকার দোন কিহোতে পড়লাম”, যার প্রতিধ্বনি শোনা গেল পাবলো নেরুদার কথায়ঃ “স্প্যানিশ সাহিত্যের জগতে দোন কিহোতের পরে সম্ভবত সর্বশ্রেষ্ঠ সাহিত্যকীর্তি”। আর বই প্রকাশের পনের দিনের মধ্যে প্রথম সংস্করণ বিক্রি হয়ে যায় শুধুমাত্র একটি শহরে, বুয়েনোস আইরেসে। এখনও পর্যন্ত বিশ্বের ৪৪টি ভাষায় অনূদিত হয়েছে, দোন কিহোতের পরেই এই পরিসংখানের স্থান এবং মোট বই বিক্রির সংখ্যা আনুমানিক ৫ কোটি। (সম্পূর্ণ…)

আমার শৈশবে কোন রঙ নেই

সাদিকুর রহমান পরাগ | ১৪ এপ্রিল ২০১৭ ১২:৩২ অপরাহ্ন

বাবা,
তুমিতো আমার জন্মদাতা বাবা
বলতে পারো নিজের শিশুকে
যে হত্যা করে তাকে কি
বাবা বলা যায় না বলা উচিত-
আমি জানি না।
তোমার তথাকথিত ‘সহি’ মোড়কে
মুড়ে দিয়েছিলে তুমি আমার শৈশব
স্কুলে যেতে মানা, বই পড়তে মানা
টিভি দেখতে মানা, গান শুনতে মানা
জোরে হাসতে মানা, খেলতে মানা
নিষেধের বেড়াজালে জিম্মি শৈশব
জানালা দিয়ে চেয়ে দেখে
দূরের মাঠে শিশুদের হৈ হল্লা
বদ্ধ ঘরের ছাদে স্বপ্নহীন
আমার মেঘকালো আকাশ
আমার কোন আল্লাদ নেই
আমার কোন আবদার নেই
আমার শৈশবে কোন রঙ নেই (সম্পূর্ণ…)

রবার্ট হেডেন-এর কবিতা: ও ডেডালাস, ওড়ো এবার ওড়ো

খালিকুজ্জামান ইলিয়াস | ১০ এপ্রিল ২০১৭ ৭:৫৩ অপরাহ্ন

Robert-Hydenরবার্ট হেডেন ( ১৯১৩-১৯৮০) হার্লেম রেনেসাঁর (১৯২৪-২৮) পরবর্তী সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের একজন গুরুত্বপূর্ণ কবি। আফ্রিকান- আমেরিকান কবিদের মধ্যে তিনিই প্রথম লাইব্রেরী অব কংগ্রেসের কবিতা বিষয়ক পরামর্শ দাতা পদে–যা এখন যুক্তরাষ্ট্রের পোয়েটলরিয়েট নামে পরিচিত–তো সেই পদে আসীন ছিলেন। যুক্তিসঙ্গত কারণেই তিনি কবি হিসেবে নিজের বর্ণপরিচয়ে পরিচিত হতে চাননি; তবু তাঁর কবিতায় ঘন ঘন আমেরিকান বর্ণবাদী সমাজের চিত্র ফুটে উঠেছে। বর্তমান কবিতায় হেডেন একজন ক্রীতদাসের মনের সাধ ও সাধ্যাতীত অনুভূতির কথাই লিখেছেন গ্রীস দেশের আইকারাস ও ডেডালাসের মিথ অবলম্বন করে। এই মিথ অবলম্বন করে বহু কবি চিত্রশিল্পীই তাঁদের শিল্পকর্ম সৃষ্টি করেছেন। ইংরেজ কবি অডেন, নেদারল্যান্ডের চিত্রকর পিটার ব্রুগেল, আমেরিকার কবি উইলিয়াম কার্লোস উইলিয়ামস, বাংলার কবি শামসুর রাহমান প্রমূখ তাঁদের নিজস্ব বক্তব্য প্রকাশের জন্য গ্রীক গল্পের এই শ্রেষ্ঠ কারিগর ডেডালাস ও তার তরুণ পুত্র আইকারাসের বন্দি জীবন থেকে উড়ে পালানোর কথা সবিস্তারে বয়ান করেছেন। আফ্রিকা থেকে ডাকাতি করে মানুষ ধরে এনে যুক্তরাষ্ট্রের মাটিতে তাদের দাস হিসেবে ব্যবহারের যে অবিচার এবং দাসের কল্পনাপ্রবণ মনে আফ্রিকায় উড়ে চলে যাওয়ার যে অসম্ভব বাসনা–রবার্ট হেডেন তাঁরই প্রকাশ ঘটিয়েছেন অনূদিত এই কবিতায়।–অনুবাদক (সম্পূর্ণ…)

একুশের অপমান

আলম খোরশেদ | ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০১৭ ৭:১৬ অপরাহ্ন

একুশ নিয়ে আমাদের আদিখ্যেতার অন্ত নেই। ফেব্রুয়ারি আসতে না আসতেই দেশজুড়ে ব্যাঙ-এর ছাতার মত গজিয়ে ওঠা তথাকথিত ’ফ্যাশন হাউস’গুলোতে বাংলা বর্ণমালা উৎকীর্ণ পোশাক বিক্রির ধুম পড়ে যায়। আর সেইসব ফ্যাশনদুরস্ত ধরাচুড়ো গায়ে চাপিয়ে একুশের সাতসকালে আমরা দলবেঁধে, সংবৎসর চূড়ান্ত অবহেলার শিকার, জরাজীর্ণ শহীদ মিনারটিতে লাইন লাগিয়ে পুষ্পাঞ্জলি অর্পণ আর সুরে-বেসুরে দুই কলি ‘আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো’ গেয়ে আমাদের বাংলাপ্রীতির পরাকাষ্ঠা দেখাই। অথচ বছরের বাকি তিনশ চৌষট্টি দিন আমাদের প্রাত্যহিক জীবনাচরণে বাংলা ভাষা-সাহিত্য-সংস্কৃতির প্রতি শ্রদ্ধাভক্তির লেশমাত্র বহিঃপ্রকাশ দেখিনা।

আমরা শুদ্ধ করে, প্রমিত উচ্চারণে কথা বলার ব্যাপারে নিদারুণরকম উদাসীন। অথচ কথায় কথায় বিনা দরকারে ভুলে-ভরা ইংরেজি কপচাতে রীতিমত পারঙ্গম। বইপত্রে, রেডিও-টেলিভিশনে, মঞ্চে-মাইকে কোথাও বাংলা ভাষাটিকে শুদ্ধ ও সুন্দরভাবে উপস্থাপনের কোন প্রচেষ্টা নেই। অফিস-আদালত, ব্যবসা-বাণিজ্য, ব্যাংক-রেস্তোরাঁ সর্বত্র কারণে-অকারণে ইংরেজির ঢালাও ব্যবহারে আমাদের কোন লজ্জাবোধ হয় না। এমনকী পারিবারিক আচার-অনুষ্ঠানসমূহেও আমরা অবলীলায় বাংলা ভুলে বিজাতীয় বুলির কষ্টকর কসরতে ব্যস্ত থাকি অহর্নিশি। বিয়ের কার্ড ইংরেজিতে ছাপানো আর গায়ে হলুদের অনুষ্ঠানে পাড়াপড়শির ঘুমের শ্রাদ্ধ করে তারস্বরে হিন্দি, ইংরেজি গান বাজানোটা যেন আমাদের জাতীয় সংস্কৃতির অংশই হয়ে উঠেছে ইদানিং। আমরা খেয়ে না খেয়ে আমাদের পুত্রকন্যাদের ইংরেজি মাধ্যমের স্কুলে পড়াতে যারপরনাই উৎসাহী। এই কর্মে আমাদের শিল্পী, সাহিত্যিক, বুদ্ধিজীবী এবং বাঙলা ভাষা ও সংস্কৃতির তথাকথিত ধারকবাহকদেরও উৎসাহে কোন কমতি দেখি না। ভিনদেশি পোশাক-আশাক, খাদ্যাখাদ্য আর সংস্কৃতির বেনোজলে গা ভাসিয়ে দিয়ে পরম তৃপ্তির ঢেঁকুর তুলতে বাধে না আমাদের বিবেকে। আমাদের চিত্রশিল্পীরাও বুঝি তাঁদের শিল্পকর্মের নামগুলো ইংরেজিতে রাখতে পারলেই বর্তে যান। নগরসংস্কৃতির নতুন অনুষঙ্গ এফ এম রেডিওর জকি-সম্প্রদায় আর ’টিভি প্রেজেন্টার’ প্রজাতির সদস্যরাও বিকৃত উচ্চারণের এক অদ্ভূতুড়ে খিচুড়ি-বাংলা বলার মহোৎসবে মত্ত, কল্পিত এক ‘স্মার্টনেস’ জাহিরের প্রাণান্ত প্রতিযোগিতায়। (সম্পূর্ণ…)

‘সন্ত্রাস, জঙ্গিবাদ ও ইসলাম’: আট দশকের জমানো প্রশ্ন, আটাশি পৃষ্ঠায় উত্তর

হাবিব ইমরান | ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০১৭ ১২:১৭ অপরাহ্ন

mawlana+Cover-02মুসলিমদের পবিত্র ধর্মগ্রন্থ আল-কোরআনের কোনো কোনো আয়াতের ‘অপব্যাখ্যা’ দিয়ে সন্ত্রাসবাদে উদ্বুদ্ধ বা ‘ব্রেনওয়াশ’ করা হয়, আপনি জানেন?
মুরতাদ-মুশরিক-কাফের কাকে বলে? এদের মধ্যে পার্থক্যই কী ? মন্দির-গির্জা-প্যাগোডা রক্ষা করার দায়িত্বও একজন মু’মিনের, যেটা কিনা জিহাদেরই অংশ- জানেন কি!
আট দশকেরও বেশি সময় ধরে বিশ্ব রাজনীতি ও ইসলামকে কেন্দ্র যেসব প্রশ্ন, প্রসঙ্গ এবং বিতর্ক বারবার ঘুরেফিরে এসেছে মাওলানা ফরীদ উদ্দীন মাসঊদের সন্ত্রাস, জঙ্গিবাদ ও ইসলাম বইটিতে সেগুলোর সব উত্তর রয়েছে।
মাত্র আটাশি পৃষ্ঠার বইটি পড়তে একজন সাধারণ পাঠকের সময় লাগবে তিন থেকে চার ঘণ্টা, বিনিময়ে পাবেন ইসলাম সম্পর্কে আশি বছরেরও বেশি সময় ধরে জমিয়ে রাখা কিছু প্রশ্নের পরিষ্কার এবং নির্ভরযোগ্য উত্তর।
উপমহাদেশের সর্ববৃহৎ ঈদের জামাত ‘শোলাকিয়া’র গ্র্যান্ড ইমাম মাওলানা ফরীদ উদ্দীন মাসঊদ-এর বইটি সাজানো হয়েছে প্রশ্নোত্তরের ছলে। সমসাময়িক দুনিয়ায় আগুনের মত গনগনে বিষয়- জিহাদ, কিতাল, আত্মঘাতী হামলা, খিলাফত, নারী ও ইসলাম, হিজাব, কওমী মাদরাসার শিক্ষা ব্যবস্থা নিয়ে প্রতিনিয়ত জমা হতে থাকা প্রশ্নগুলো আল কোরআন ও সহীহ হাদিসের ভিত্তিতে দৃঢ়ভাবে ব্যাখা দেওয়া হয়েছে এতে।
‘ছাপ্পা ঘুড়ি’র মত এলোমেলো দুলতে থাকা নানা বিষয়কে এক সুতোয় বাঁধতে গিয়ে মাওলানা মাসঊদ উত্তর শুরু করেছেন গোড়া থেকেই- কখনো কখনো বেছে নিয়েছেন ফিকহ শাস্ত্রের রেফারেন্স।
জিহাদের নামে সন্ত্রাসবাদ তৈরি করে বিশ্বব্যাপী যে ‘ইসলামোফোবিয়া’ তৈরি করা হয়েছে, তার বিরুদ্ধে মাওলানা মাসঊদের এ বইটি একটি ‘জিহাদ বিল কালম’ এর উদাহরণ। (সম্পূর্ণ…)

মুস্তাফিজ শফির আটটি কবিতা

মুস্তাফিজ শফি | ৬ ফেব্রুয়ারি ২০১৭ ৬:৫৭ অপরাহ্ন

হাতের মুঠোয় একগুচ্ছ অন্ধকার

আমি এখন ইচ্ছে করলে খুব সহজেই তোমাকে বানিয়ে ফেলতে পারি। আমার হাতের মুঠোয় তুমি খলবল হেসে ওঠো, প্রথম শাড়ি পরার উচ্ছ্বলতা নিয়ে পরিপাটি দাঁড়াও সকাল-সন্ধ্যা। আমরা ঠিকই হেঁটে আসি আদিগন্ত বিস্তৃত ফসলের মাঠ, হলুদ শর্ষে ক্ষেত। তোমার বাম গালে ঠিক আগের মতো টোল পড়ে। আর আবেগে কিছুটা ফুলে ফুলে ওঠে ঠোঁট।

আমি এখন ইচ্ছে করলেই সকালে মুড়িয়ার পথে থামিয়ে দিতে পারি লাতুর ট্রেন। আর ট্রেনের ধোঁয়াগুলোকে অনায়াসে বানিয়ে ফেলতে পারি মেঘ। তুমিতো মেঘ ভালবাসতে, মাঝে মাঝে ঝরাতে বৃষ্টিও। মেঘ ধরবো বলে আমরা কতোবার ছুটেছি নীলগীরি-নীলাচল। আর প্রকৃতির ছলনায় কতোবার ভেসেছি আক্ষেপের জলে। অথচ দেখো আমার হাতে এখন একসাথে ব্ল্যান্ড হতে থাকে মেঘ, বৃষ্টি এবং নীল আকাশ।

Shakil-storyধোঁয়াওঠা চায়ের কাপে তুমি মাঝে মাঝে ঝড় তুলতে, ফুটপাত পেরিয়ে চারুকলার বারান্দা ধরে হাঁটতে হাঁটতে ধরতে চাইতে পরাবাস্তব নির্জনতা। আমি এখন খুব সহজেই হাতের মুঠোয় ধরে থাকি সেই নির্জন দুপুর আর নিঃসঙ্গ শালিকের ডানায় ভর করে আসা একগুচ্ছ অন্ধকার।

আমার হাতের তালুতে খেলা করে নদীÑ সুরমা, কুশিয়ারা, সোনাই। সুরমাকে আমি এখন অনায়াসে ধানসিঁড়িতে রূপান্তর করে ফেলতে পারি, কুশিয়ারাকে কীর্তনখোলায়। সোনাইয়ের বুকে তোমাকে ভাসিয়ে রাখি, কেবলই ভাসিয়ে রাখি জলগামী নীল বালিহাঁস। (সম্পূর্ণ…)

নবুয়োসি আরাকি: কামোত্তেজক নয়, কামাশ্রয়ী ফটোগ্রাফি

মাজুল হাসান | ২২ নভেম্বর ২০১৬ ৬:৫৪ অপরাহ্ন

লেন্সের মতো বদলাচ্ছে অ্যাভিন্যুয়ের আকাশ
ভেতরে কাঠের কটেজে সাদাকালো সমীরণ
স্মৃতি ওকে আবেগচালিত ডাউনোসার বলো
সেই কবে বিলুপ্ত, তবু মগজে কুণ্ডলিত কাম
সাপ; সরীসৃপ; হিমরক্তের প্রেমিকের মতো

Araki-3আরাকি’র তোলা গায়িকা লেডি গাগার ছবি

নবুয়োসি আরাকি— দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধপরবর্তী জাপানী ফটোগ্রাফির ইতিহাসে সবচেয়ে উজ্জ্বল নক্ষত্র। কামাশ্রয়ী, ঋজু, খনিশ্রমিকের মতো শরীরবৃত্তীয়। নারী একাকী এক তুষারাচ্ছাদিত মেরু। আর কে না জানে চোখ-ধাঁধানো শুভ্রতাই রহস্যময় গোলকধাঁধা। সবমিলিয়ে নবুয়োসি বহুলআলোচিত। বিতর্কিত। কিন্তু অবধারিত। পূর্বজ ফটোগ্রাফারদের ধারাবাহিকতা, জাপানী ঐতিহ্যবাহী সচিত্র যৌনফ্যান্টাসি সুঙ্গার উত্তরাধিকারসহ আরাকি বিশ্বফটোগ্রাফিতে যোগ করেছেন নিজস্ব টার্ম ‘পার্সোনাল ফটোগ্রাফি’ বা ‘ব্যক্তিগত স্থিরচিত্র’ ধারণা।
শিল্পীর বাইরে গোলাপ শুধুই গোলাপ। ব্যক্তির বাইরে সব শূন্য। লালের সাথে তাই সঙ্গম অবধারিত। ফায়ারপ্লেসে আগুন আর বৃক্ষ হত্যা। একাকার উদ্দেশ্য-বিধেয়। স্রষ্টা বললো— আমি তোমাকে সৃষ্টি করেছি। স্রষ্টা ও সৃষ্টি যুগপৎ যাত্রী কসমিক লংড্রাইভে। তুলোট কিংবা ইটকাঠের বিছানার উত্তাপ লেগে আছে বুনটে, ট্যাক্সিক্যাবে। জানালা দিয়ে শুধু শহরের বদলে-যাওয়া দেখা। ব্যালকনিতেই ধরা দেয় পরিবর্তন সবার আগে। প্রায় ৫ দশক ধরে যে-মানুষটি ব্যক্তিগত সেন্টিমেন্টাল জার্নি চালিয়ে যাচ্ছেন সেই নবুয়োসি আরাকির ছবির সামনে দাঁড়ালে ভেসে ওঠে এক সমান্তরাল বাস্তব। যিনি নিজেই বলেন, ইমেজ আর লাই। মিথ্যা মিথ্যা সব মিথ্যা, নকল। কিন্তু কবির কলমের মতো শিল্পীর তুলি কিংবা ক্যামেরা-ফ্ল্যাশেই গোলাপ সবচেয়ে আফিমরঙা, চিত্তহরী সুগন্ধী। (সম্পূর্ণ…)

জীবনগাঁথা

কাজী লাবণ্য | ৭ নভেম্বর ২০১৬ ৮:২৬ অপরাহ্ন

Afsanমুখে শত বলিরেখার জ্যামিতিক নকশা। ছানি পড়া চোখে শতায়ু ফ্রেমের গোল মলিন কাঁচের চশমা। দাঁতবিহীন গাল দুটি ভেতরদিকে তোবড়ানো। মাথায় দু/চারটি শনের মত চুল ফুরফুরে বাতাসে উড়ছে। বাড়ির সামনে অজস্র ঘটনার সাক্ষী প্রাচীন অশ্বত্থ বা পাকুড় গাছটির গোড়ায় বসে বৃদ্ধা পরীবিবি আকুল হয়ে কাঁদছে। চোখের পানি শুকিয়ে গ্যাছে, গলা দিয়ে আর কোন শব্দ বেরুচ্ছেনা তবু সে গুনগুন করে কেঁদেই চলেছে। আজ তিনদিন ধরেই সে কাঁদছে। বুড়ির একমাত্র সন্তান পাঁচ সন্তানের জননী এলিজা বা এলিজাবেথ তিনদিন আগে মারা গেছে, রেখে গেছে ছেলে বউ, মেয়ে জামাই, নাতী নাতনী আর বৃদ্ধা মা পরীবিবিকে। অশীতিপর বৃদ্ধা ধুসর শূন্য চোখে তাকিয়ে থাকে দূরে বহুদূরে… শূন্য দৃষ্টি ঘুরেফিরে স্থির হয় সেই সেইখানে। সে যেন এজনমের কথা নয়, অন্য এক জনমের কথা। সে যেন কত শত যুগ আগের কথা- এত কথা, এত ব্যথা, এত ছবি কেন আকুলিবিকুলি করছে,সব যেন আজ চোখের সামনে ভেসে উঠছে বায়োস্কোপের মত। (সম্পূর্ণ…)

বব ডিলান, নোবেল পুরস্কার এবং সাহিত্যের সীমানা

সেজান মাহমুদ | ১৪ অক্টোবর ২০১৬ ২:১১ অপরাহ্ন

bob-1
ছবি: ২০১০ সালের ১২ অক্টোবরে লেখকের ক্যামেরায় বব ডিলান

বব ডিলানের সাহিত্যে নোবেল পুরস্কার পাওয়া কতোটা বিস্ময়কর এবং কতোটা কাঙ্ক্ষিত তা বুঝতে হলে নোবেল পুরস্কার নিয়ে যারা বা যে সকল সংস্থা বাজী ধরার কারবার করে থাকেন তাঁদের পাতার দিকে নজর দিলেই হয়। যেখানে জাপানের লেখক হারুকি মুরাকামির পক্ষে বাজীর মাত্রা ছিল ৪/১ অর্থাৎ সম্ভাব্যতার বিচারে শতকরা ২০ ভাগ তাঁর পক্ষে সেখানে বব ডিলান ছিলেন ৫০/১ অর্থাৎ মাত্র শতকরা ১.৯ ভাগ। কিন্তু এই অংকের সংখ্যা দিয়ে কী আর নোবেল পুরস্কার হয়? এগুলো করা হয় বাজী ধরে জুয়া খেলার জন্যে। কিন্তু এই জুয়াড়িদের হিশেব নিকেশকে কিছুটা আমলে নিতেই হয় কারণ এরা সাহিত্যমূল্য থেকে শুরু করে সাহিত্যের রাজনীতিকেও আমলে এনে বিচার করেন। যে কথা নিশ্চিতভাবে বলা যায় তাহলো শুধু এই জুয়াড়িরা কেন, বব ডিলানের কথা স্বয়ং আমেরিকান লেখক বা সাহিত্য সমালোচক বা কলাম লেখকেরাও এবার মাথায় আনেননি যদিও তিনি সম্ভাব্য পুরস্কারপ্রাপ্তদের তালিকায় এসেছেন বেশ কয়েকবার। যেমন আমেরিকান অ্যালেক্স শেফার্ড কলাম লেখেন সেই অক্টোবর ৬ তারিখে যার শিরোনাম ছিল “কে পাবেন ২০১৬ সালের সাহিত্যে নোবেল পুরস্কার? বব ডিলান যে নয় তা নিশ্চিত।”

বব ডিলান সঙ্গীতজ্ঞ, গীতিকবি, কণ্ঠশিল্পী। তাঁকে সাহিত্য শাখায় নোবেল পুরস্কার দেয়া কি সাহিত্যের পরিধিকে একেবারে আলগা করে দেয়া কিনা এ প্রশ্ন সকলের মনেই উঁকি দিয়ে যাচ্ছে, কখনো সরব আপত্তি হিসাবেও। সাহিত্য তথা সংগীতের নন্দনতাত্ত্বিক দিক বিচার করে এই দুই শাখার একটা সম্মিলন ঘটছে কি না এবং তা বিশ্ব সাহিত্যের শ্রোতধারায় একটা শক্ত জায়গা করে নিয়ে যাচ্ছে কি না তা সাহিত্যের ডিসকোর্সের মধ্যেই আলোচনা করা যায়। সেই আলোচনায় যাবার আগে নোবেল কমিটির বিচারকেরা কীভাবে এই সীমানা কে দেখছেন তা ঝালিয়ে দেখা যেতে পারে। তাঁরা এই সাহিত্যের পরিধি বা সীমানাকে ভাঙ্গার যে চেষ্টা করছেন তা কিন্তু গত কয়েক বছরের পুরস্কারের দিকে তাকালেই বোঝা যায়। বিশেষ করে গত বছর আলেক্সিভিচ স্‌ভিতলানার নোবেল পুরস্কার প্রাপ্তি পুরাতন গণ্ডিকে ভেঙ্গে নতুন সীমানার দুয়ার খুলে দেয়; কারণ, আলেক্সিভিচ স্‌ভিতলানা মূলত ফিকশন এবং নন-ফিকশনের সংমিশ্রণে একধরনের মৌখিক নেরেটিভ বা বয়ান তৈরি করেছে যা সচারচর মূলধারার সাহিত্য হিসাবে বিবেচিত হয়নি অতীতে। (সম্পূর্ণ…)

হকভাই এখন চিরজীবিত

মুহম্মদ নূরুল হুদা | ২৭ সেপ্টেম্বর ২০১৬ ৭:২৫ অপরাহ্ন

syed-hoque

সমকালীন বাংলা কবিতা ও বহুমাত্রিক সৃষ্টিশীলতার এক সর্বাগ্রগণ্য কারুকৃৎ কবিশ্রেষ্ঠ সৈয়দ শামসুল হক এখন থেকে চিরজীবিত। মানবশরীর নিয়ে আশি বছরের অধিককাল মর্ত্যবাসী থেকে এখন তিনি মহাবিশ্বের মহাকালের আদিঅন্তহীনতায় সমর্পিত। তাঁর সৃষ্টি অবিনাশী, তাঁর সত্তা অবিনাশী, তাঁর আলোক চির-সক্রিয় বাঙালির মনে ও মননে। তাঁর প্রতি উত্তরপ্রজন্মের সশ্রদ্ধ প্রণতি।
মাত্র ছয়দিন আগে ২১ সেপ্টেম্বর সকালবেলা তাঁর প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে রচিত আমার সর্বশেষ কবিতাটি এখানে পত্রস্থ করা হলো:

অনন্তের সঙ্গে গোল্লাছুট

যে জানে না তার কোনো ভয় নেই,
যে জেনে গেছে ভয় শুধু তার;
অনন্তের সঙ্গে আড়ি দিয়ে কী লাভ?
বরং অনন্তকে বন্ধু করো তোমার আমার।
অনন্তকে বলি,
এসো, আবার আমরা গোল্লাছুট খেলি;
এসো, আবার আমরা খেলতে শুরু করি ডাংগুলি;
দোল-পূর্ণিমার রাতে জোছনার ডানায় চড়ে
এসো, আরেকবার ঘুরে আসি পরানের গহীন ভিতর;
আমাদের চারপাশে নেবুলার হল্লা,
শাদাবিবর ও কালোবিবরের দাড়িয়াবান্দা,
বাঘবন্দি তারকাপুঞ্জ এক্কা-দোক্কা খেলছে
আপন আপন কক্ষপথে;
আর সেই শৈশব থেকে
আমরাও চড়ে বসেছি আপন আপন রথে; (সম্পূর্ণ…)

পরের পাতা »

Disclaimer & Privacy Policy  |  About us  |  Contact us

© bdnews24.com