মৃতদেহ বিক্রয়ের হাট, নবারুণের কবিতা

জাহেদ সরওয়ার | ৩১ জুলাই ২০১৫ ১:১৭ অপরাহ্ন

nabarun.jpgরাষ্ট্র সম্পর্কে ভ্লাদিমির লেনিনের মতো রেডিক্যাল কথাবার্তা অন্য কোনো রাজনীতিক বা সমাজবিজ্ঞানী বা দার্শনিক বলেছিলেন কিনা আমার জানা নেই। একটা ছোট্ট প্রবন্ধে তিনি রাষ্ট্র নামের প্রতিষ্ঠানটির মুখোশ খুলে দিয়েছিলেন। লেনিনও রাষ্ট্র সম্পর্কে যেই মতামত দিয়েছিলেন সেটাও আসলে মহাত্মা কার্ল মার্কসের রাষ্ট্রের আন্তঃকাঠামো ব্যাখ্যার ফসল। এই প্রতিষ্ঠানটি তার বিরুদ্ধে দাঁড়ানো অনেক কবি সাহিত্যিককে নিজের দেশে বাস করা অসহনীয় করে তুলেছিল। পৃথিবীর অনেক কবিই নিজের দেশের শাসকদের যাতনায় দেশ ছেড়ে অন্যদেশে পাড়ি জমিয়েছিলেন। আবার অনেকেই নিজের দেশের ভেতর থেকেই লড়াই করেছিলেন। কিন্তু কবিতার শক্তি আসলে কতটুকু? একটা বুলেট যে করতে পারে সেটা কি তাৎক্ষনিকভাবে একটা কবিতা করতে পারে? আব্রাহাম লিংকন থেকে শুরু করে পৃথিবীর অনেক শাসকরাই জনতার উদ্দেশ্যে ভাষণ দেয়ার সময় কবিতা আওড়িয়েছেন জনগণের মনোরঞ্জনের জন্য। কবিতা হচ্ছে শ্রেষ্ঠ শব্দের শ্রেষ্টতম ব্যবহার। ক্ষণিকের জন্য সে মানুষকে উজ্জীবিত করে বটে। আবার প্লাতনের মতো দার্শনিকও কবিদেরকে আদর্শ রাষ্ট্রকাঠামো থেকে বের করে দেন। তাহলে কবিতা কী? সে কি কাঠামোহীনতার কাঠামো? মৌলিক কবি কি তাহলে স্বেচ্চাচারীদের রাজা? তার কবিতাই তার সংবিধান? হয়তো তাই রাষ্ট্র যেমন তার পোষ্য কবি ব্যতীত তার সমালোচনাকারী কবিকে সহ্য করে না তেমনি কবিও তার রাষ্ট্রকাঠামোর জায়গা থেকে রাষ্ট্রকে ছেড়ে কথা বলে না। নবারুণ ভট্টাচার্য তার কবিতার বইয়ের নাম রাখেন এই মৃত্যু উপত্যকা আমার দেশ না। তার আরেকটা বইয়ের নাম পুলিশ করে মানুষ শিকার। এই কবিতাগুলো আগাগোড়াই পুঁজিবাদী রাষ্ট্রকাঠামোর সমালোচনা। (সম্পূর্ণ…)

এলিস মুনরোর গল্প: কণ্ঠস্বর

নুসরাত সুলতানা | ২৯ জুলাই ২০১৫ ১২:২১ অপরাহ্ন

আমার মায়ের যখন উঠতি বয়স, পরিবারের সবার সাথে নাচের অনুষ্ঠানে যেত মা। নাচের অনুষ্ঠানগুলো হত স্কুল ঘরে অথবা সামনে বড় কোন কামরা আছে এরকম কোন খামার বাড়ীতে। বড়রা যেমন যেত, যেত বাচ্চারাও। কেউ পিয়ানো বাজাত; বাড়ির পিয়ানোটা অথবা স্কুলের টাই, আবার কেউ কেউ বেহালা নিয়ে আসত, স্কয়্যার ড্যান্স তখন খুব জনপ্রিয় ছিল আর এর কায়দাটা ছিল বেশ জটিল। সবার চেনাজানা কেউ একজন (সে অবশ্যই একজন পুরুষ) মরিয়া হয়ে উচু স্বরে সবাইকে নাচের আমন্ত্রণ জানাত। নাচের কায়দাটা ভালভাবে রপ্ত করা না থাকলে অবশ্য ঐ আমন্ত্রণ অর্থহীন। তবে দশ/বার বছর বয়স হতে হতেই সবাই শিখে ফেলত সেটা।

বিবাহিত এবং তিন সন্তানের মা হলেও আমার মা’র তখনও ওরকম নাচের অনুষ্ঠানে যাবার বয়স আর উৎসাহ দুই-ই ছিল। গ্রামের দিকে তখনও ওরকম অনুষ্ঠান প্রায়ই হত। মা রাউন্ড ড্যান্সিংও পছন্দ করত, যেটা নাচতে হত জোড়ায় জোড়ায়। পুরান ধাচের নাচের জায়গা দখল করে নিচ্ছিল এই রাউন্ড ড্যান্স কিন্তু একদিক থেকে মা একটু অসুবিধাজনক অবস্থানে ছিল। আমরাও থাকতাম এমন এক জায়গায় যেটা শহরের বাইরে কিন্তু একেবারে গ্রামের মধ্যেও নয়।

মায়ের তুলনায় আমার বাবাকে সবাই বেশী পছন্দ করত। বাবা বিশ্বাস করত যেটুকু পাওয়া যায় তা নিয়েই সন্তুষ্ট থাকা উচিত। মা একদমই সেরকম ছিল না। মা ছিল সাধারণ খামারীর মেয়ে। সেখান থেকে নিজ চেষ্টায় যেরকম সামাজিক অবস্থান মা চাইত শিক্ষকের চাকরী তা দিতে পারেনি, এমনকি যেরকম শহুরে বন্ধু চাইত তাও নয়, মা বাস করতে একটা ভুল জায়গায় আর যথেষ্ট টাকা পয়সাও ছিল না তার কিন্তু এ অবস্থা থেকে বের হয়ে আসারও তেমন কোনো উপায় ছিল না। মা ইউকার খেলতে জানত কিন্তু ব্রিজ নয়। মেয়েরা মা’র সামনে সিগারেট খেলে মা অপমানিত বোধ করত। সবাই সম্ভবত মাকে খুব চাপিয়ে দেয়া স্বভাবের মনে করত, অতিরিক্ত নিয়মতান্ত্রিকও। কথা বলার সময় কিছু কিছু ক্ষেত্রে মা এমনভাবে ব্যাকরণ মেনে কথা বলত যে রীতিমত হাস্যকর শোনাত সেটা। শুনে মনে হত মা হয়ত এমন কোনো পরিবারে বড় হয়েছে। যেখানে সবাই এভাবে কথা বলে। আসলে কিন্তু তা নয়। ঐ পরিবারে কেউই এরকম করে কথা বলে না। আমার মামা খালারা তাদের গ্রামের অন্য সবার মত করেই কথা বলত আর আমার মাকে ওরাও খুব একটা পছন্দ করত বলে মনে হয় না। (সম্পূর্ণ…)

নীল অশ্রু

এজাজ আহমেদ | ২৭ জুলাই ২০১৫ ৯:১৪ অপরাহ্ন

আহ্…… কি যে ভালো লাগছে। কত দিন ধরে অপেক্ষা করেছি এই একটা খবরের জন্য। আনন্দে লাফাতে ইচ্ছা করছে। শেষ পর্যন্ত তা হলে রেসিডেন্সিটা হলো। অনু …… কনগ্রেসুলেশন ..অবশেষে তুমি পারলে, নিজেকে নিজেই ধন্যবাদ দিল অনু। নিজের যোগ্যতায় যতটুকু না হয়েছে তার চেয়ে মনে হয় বেশি কাজ হয়েছে মুরুব্বিদের দোয়ায়। গ্যাস ইস্টিশনে কাজ করার ফাঁকে কম্পিউটারে ইমেল চেক করে মাত্রই ইরেস (ইলেক্টনিক রেসিডেনসি এপ্লিকেশ্ন সিস্টেম) থেকে ইমেলটা পেলাম। প্রথমে নিজের চোখকেই বিশ্বাস হয় নি। এখন মনে হচ্ছে, না আসলেই সত্যি।
কিছুদিন থেকেই মনে হচ্ছিলো, এই গ্যাস ইস্টিশনেই কাজ করতে করতে বুঝি জীবনটা যাবে। গত পর পর দু’ বৎসর চেষ্টা করেও রেসিডেন্সি পাই নি। অবশেষে উপরওয়ালা চোখ তুলে তাকিয়েছেন। ক্যালিফোরনিয়ার এপেল ভ্যালির হাইওয়ে ১৮-র পাশে এই দুর্গম এলাকায় গাড়ী খুব একটা আসে না বললেই চলে। গ্যাস ইস্টিশনের মালিক ইরানিয়ান, দারুন এক লোক। জীবনে খুব খাঁটা-খাঁটুনি করেছে বলে মনে হয় না। বিভিন্ন জায়গায় তার গ্যাস ইস্টিসন, প্রত্যেক ইস্টিসনে একজন করে ম্যানেজার বসানো আছে, প্রত্যেক সপ্তাহে অটোমেটিক তার একাউন্টে টাকা জমা হয়ে যায়। আগের ম্যানেজারের কাছে শুনেছি মালিক নাকি এই দেশে চলে আসেন ছোট বেলায়। ইরানের শাহ’র আমলে এসে পলিটিকেল এসাইলাম চেয়ে আমেরিকায় আশ্রয় পায়। প্রথম দিকে জীবনে অনেক পরিশ্রম করে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করে। কোনো কারনে কেন যেন বিয়ে করে নি। কোনো ছেলে-মেয়েও নেই। বর্তমানে তার অর্ধেক বয়সী এক গ্রক মহাসুন্দরীকে নিয়ে লিভ টুগেদার করছে। শোনা যাচ্ছে বিয়ে করলেও বিয়ের আগে নাকি চুক্তিনামা করে নেবে যাতে ডিভোর্স হলেও সম্পত্তির উপর হস্তখেপ করতে না পারে। আর সম্পত্তির লোভে তার সাথে কোনো সম্পর্ক না করে। চাকরীর দু’বৎসরে মাত্র একবার মালিককে দেখেছি, তাও দু’ সপ্তাহের মাথায়। একদিন এশটন মার্টিন ডিবি-সেভেন নিয়ে এক পঞ্চাশোর্ধ ভদ্রলোক আসে এই গ্যাস ইস্টিশনে। ফজল ভাই’ই প্রথম পরিচয় করিয়ে দেন গ্যাস ইস্টিশনের মালিক মনসুর কাদেরীর সাথে। (সম্পূর্ণ…)

ফেসবুক কাব্য

দেবাশীষ দেব | ২৬ জুলাই ২০১৫ ১০:১৩ অপরাহ্ন

border=0মানুষের প্রাত্যহিক জীবনযাপনের অতি সাধারণ ঘটনাবলী সম্পর্কে সংবেদনশীল অনুভূতির অভিব্যক্তিকে শব্দের পর শব্দে সাজিয়ে কাব্য, গল্প কিংবা কবিতায় প্রকাশ করে আসছে মানুষ। আদিকাল থেকেই সৃষ্টিশীল মানুষ সাহিত্য রচনা করে আসছে নানা কাঠামোয়, নানা আঙ্গিকে একান্ত নিজের মতো করে। পুঁথি লিখেছেন তালপাতায়। এরপর এল কাগজ। এখন কম্পিউটার, তাতে যুক্ত হলো ফেসবুক।
নব আনন্দে জাগো কাব্যগ্রন্থে যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী সাংবাদিক আহসানুল হক তার জীবনযাপন, আশা-আকাঙক্ষা, অনুভুতি, স্মৃতি রোমন্থন, হাহাকার, দেশ প্রেম, প্রিয় মানুষের জন্য কষ্ট একটি একটি শব্দে গেঁথেছেন কবিতায়।

তার চিন্তা থেকে বাদ যায়নি কুড়িগ্রামের কিশোরী ফালানি, চির দুখিনী মাতৃভূমি, প্রিয়ার জন্য হাহাকার কিংবা তারুণ্যের দুর্দমনীয়তা। কখনও বড় কবিতা কখনও বা শুধু চার লাইনে ব্যক্ত করেছেন একটি দৃশপট। ‘সৌভাগ্যবতী হবে’ কবিতা দিয়ে শুরু করেছেন বাংলা ও ইংরেজি মিলিয়ে প্রায় একশ কবিতার এই বই। (সম্পূর্ণ…)

বেবী মওদুদের অপ্রকাশিত রচনা: অসমাপ্ত কথা

বেবী মওদুদ | ২৪ জুলাই ২০১৫ ১০:৪১ অপরাহ্ন

baby-moudud_0023.jpg

বেবী মওদুদের অসমাপ্ত স্মৃতিকথার সাথে প্রাসঙ্গিক ছবিগুলো এখানে থাকছে আর লেখাটি পাওয়া যাবে নিচের লিংক-এ:
অসমাপ্ত কথা



ইতোপূর্বে প্রকাশিত বেবী মওদুদের ধারাবাহিক স্মৃতিকথার কিস্তিগুলোর লিংক :

ধারাবাহিক স্মৃতিকথা: জীবনের পাতায় পাতায় (কিস্তি-১)

ধারাবাহিক স্মৃতিকথা: জীবনের পাতায় পাতায় (কিস্তি-২)

ধারাবাহিক স্মৃতিকথা: জীবনের পাতায় পাতায় (কিস্তি-৩)

ধারাবাহিক স্মৃতিকথা: জীবনের পাতায় পাতায় (কিস্তি-৪)

ধারাবাহিক স্মৃতিকথা: জীবনের পাতায় পাতায় (কিস্তি-৫)

ধারাবাহিক স্মৃতিকথা: জীবনের পাতায় পাতায় (কিস্তি-৬)

Flag Counter

রক্তগাছ

মণিকা চক্রবর্তী | ২৪ জুলাই ২০১৫ ৮:৪৯ অপরাহ্ন

গত রাতে বুড়িগঙায় সব কাজ শেষ হবার পর থেকে ইয়াছিনের মনটা বিবশ হয়ে আছে। নিজের মধ্যে যেন জেগে উঠল অন্য কে একজন। কাজটা সারার পর বন্ধ করা মোবাইলটা খুলে দেখে তার বউ সীমা এসএমএস দিয়েছে। ডাক্তার বলছে, এবার আর নষ্ট হবার সম্ভাবনা নাই। আলট্রাসনোতে দেখা গেল সব ঠিকঠাক। পাঁচমাসের অন্তঃসত্তা সীমা এবার বাচ্চার জন্য মরিয়া হয়ে ওঠেছে। পরপর তিনটি বাচ্চা নষ্ট হবার পর এবার আর মোনাজাতের শেষ ছিল না। শবেবরাতের রাতে সারারাত নামাজ পড়েছিল আর আল্লার কাছে আকুল কেঁদেছিল সীমা। এসব নিয়ে অবশ্য ইয়াছিনের কোন মাথাব্যথা ছিল না। যেদিন থেকে মানুষমারার লাইনে সে এসেছে সেদিন থেকেই আল্লাখোদা সে ভুলে গেছে। সীমার বাচ্চা নষ্ট হওয়াতে সে মনে মনে খুশিই ছিল। ‘‘ কি দরকার খুনির পোলা জন্মানোর। রাস্তা দিয়া হাইট্যা গেলে মাইনষে ছেপ মাইরবো।” তবু খোদা শেষ পর্যন্ত সীমার আবেদন শুনবে বলেই তার মনে হচ্ছে। আর তার দুশ্চিন্তার শুরুটাও এখানেই। আর তা এখন তাকে এফোঁড়ওফোঁড় করছে। হাড়গুলোতে যেন শীত ধরিয়ে দিচ্ছে।

কাজ শেষে নৌকা দিয়ে বুড়িগঙ্গার পাড়ে এসেই সে এসএমএসটা পড়ে ফেলেছিল। রাত তিনটা বাজে। রমজানের রাত। মানুষ ক্লান্ত হয়ে ঘুমাচ্ছে। গরমও পড়েছে বেশ। একটু পরেই সেহরির সময় হয়ে যাবে। তার আস্তানায় ফিরতে হবে সেহরির আগে আগেই। আস্তানায় অপেক্ষা করছে পলাশ, কল্লোল ও তার দলের আরও চার জন। তারা একটু চিন্তায় আছে। যার লাশটি সে কেটে সাইজ করল, তার বাবা বেসরকারি এক নামকরা ইউনিভার্সিটির শিক্ষক। তারা দরকার মতো সবধরনের থানাপুলিশ করবে। অন্য কোনো সময় হলে সে বাতাসের আগে আস্তানায় পৌঁছে যেত। অথচ এখন যেন তার পা আর চলতে চাইছে না। যখন সে লাশের টুকরাগুলো পলিথিনের প্যাকেটে করে নিয়ে যাচ্ছিল ট্যাক্সিক্যাবে করে, তখন একজন টহলদার পুলিশ জিজ্ঞেস করেছিল, এত রাতে পলিথিনের ভিতর কী? সে একটুও ভয় না পেয়ে বলেছিল পিরের আদেশে রাত তিনটায় বুড়িগঙায় গরু জবাই মানত করেছে সে। তাই কাজটি করতে যাচ্ছে। পুলিশ কোনো সন্দেহ করল না। আশ্চর্য! এখন সে টের পাচ্ছে, নির্বিঘ্নে কাজ করতে যাবার মানুষটি আর ফিরে আসা মানুষটি এক মানুষ নয়। এমনকি কাল রাতে যখন সে ছেলেটিকে ইফতারের পর ঠান্ডা মাথায় গলা টিপে খুন করে, আর খুন করার পর সরারাত মরা লাশটির সাথে কাটায়, তখনও নিজের মাঝে কোনো দ্বন্দ্ব সে আবিষ্কার করেনি। তারপর আজ সারাদিন রোজা রেখে, ইফতারের পর লাশটিকে যখন করাত দিয়ে আটাশ টুকরা করে, তখনও একটু হাত কাঁপেনি। বরং সে ভয় পেয়েছিল পাশের বিল্ডিংটার পাইলিংয়ের শব্দ বন্ধ হয়ে গেলে কাটাকুটির শব্দটা বাইরে ছড়িয়ে যেতে পারে। তাই বিকাশকে পাঠিয়ে বেশি টাকা দিয়ে পাইলিংয়ের কাজটা রাত নয়টা পর্যন্ত করিয়ে নিয়েছিল। (সম্পূর্ণ…)

প্রবন্ধ

| ২৩ জুলাই ২০১৫ ৩:০০ অপরাহ্ন


সংগীতের মুক্তি ও বন্ধন : রবীন্দ্রনাথ


ওমর শামস

tagore.jpgরবীন্দ্রনাথ ঠাকুর সংগীত সম্বন্ধে যা ভেবেছেন– বক্তৃতা, প্রবন্ধ, চিঠিপত্র, সংলাপ - এ সবই সংগৃহীত হয়েছে বিশ্বভারতী প্রকাশিত তাঁর সংগীতচিন্তা, ১৩৭৩ নামক গ্রন্থে।১ আমার আলোচ্য এই গ্রন্থের একটি প্রবন্ধ, সংগীতের মুক্তি, - বরং এই নিবন্ধে রবীন্দ্রনাথের বিভিন্ন বক্তব্যের একটি বিশেষ বিষয় - কাব্যের ছন্দ-লয় এবং সংগীতের ছন্দ-লয়, এই দুই ক্ষেত্রের মধ্যে একতা এবং বৈষম্য। আমার বিচার এবং মতামত জানানোর আগে রবীন্দ্রনাথের প্রস্তাব-চিন্তা-বক্তব্য শুনতে এবং বুঝতে হবে। অতএব দীর্ঘ হলেও ঐ প্রবন্ধের কিছু অংশ নিচে পুনর্মুদ্রিত হলো।
‘কাব্যে ছন্দের যে কাজ, গানে তালের সেই কাজ। অতএব ছন্দ যে নিয়মে কবিতায় চলে তাল সেই নিয়মে গানে চলিবে এই ভরসা করিয়া গান বাঁধিতে চাহিলাম। তাহাতে কী উৎপাত ঘটিল একটা দৃষ্টান্ত দিই। মনে করা যাক আমার গানের কথাটি (সম্পূর্ণ…)

স্মৃতিকথা

| ২১ জুলাই ২০১৫ ২:৪৩ অপরাহ্ন


পলাতক জীবনের বাঁকে বাঁকে

মুহম্মদ তকীয়ূল্লাহ

camera-054.jpgআমার শৈশব কেটেছে এক অতি শান্তিময় পরিবেশে। কিন্তু উনচল্লিশ সালে শুরু হলো যুদ্ধের ডামাডোল। শান্তিময় পরিবেশে মানুষ অনেকদিন পর্যন্ত শিশু থাকে। আর যুদ্ধ, রাষ্ট্রবিপ্লবে শিশু দ্রুত বড় হয়ে ওঠে। দ্বিতীয় মহাযুদ্ধ আমাকে বালক থেকে দ্রুত পূর্ণবয়স্ক মানুষে পরিণত করে দিল। দেখলাম তেতাল্লিশের দুর্ভিক্ষ, একটু ভাতের জন্য মানুষের হাহাকার, পথে পথে মৃত্যুর রাজ্যপাট। অন্যদিকে ভিনদেশী সৈন্যদের আমোদ ফূর্তি। আমাদের দেশের গরীব মানুষকে তারা মানুষ বলেই মনে করতো না। এসব দেখে বিদেশি শাসনের বিরুদ্ধে মনের ভিতর ক্ষোভ জমা হচ্ছিল।

আমার বড় ভাই মুহম্মদ সফিউল্লাহ প্রগতিশীল ছাত্র রাজনীতির সঙ্গে জড়িত ছিলেন। ভাইয়ার সূত্র ধরেই কমিউনিষ্ট পার্টির কর্মীদের সঙ্গে আলাপ শুরু হলো।

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় আমরা ঢাকায় ছিলাম। আমি ঢাকা কলেজের ছাত্র। সে সময় ব্রিটিশ ভারতের সরকার কলকাতায় প্রিক্যাডেট মিলিটারি ট্রেনিং স্কুল নামে একটি প্রতিষ্ঠান খোলে। সেখান থেকে ট্রেনিং প্রাপ্তরা মিলিটারি একাডেমিতে যেত ব্রিটিশ-ভারতের সৈন্যবাহিনীতে অন্তর্ভুক্ত হওয়ার জন্য। (সম্পূর্ণ…)

নিবেদিত পঙক্তিমালা

| ১৭ জুলাই ২০১৫ ১১:০০ পূর্বাহ্ন


ফেউ

নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী

সন্ধ্যারাতে চতুর্দিকে চেঁচিয়ে মরে ফেউ।
মরুক। তোর কাজে
বিঘ্ন কেন ঘটবে, তোর হাতের কলম কেউ
কাড়তে পারবে না যে।

দৃশ্য বটে পালটে যায়, রাত্রি হয় ঘোর।
তখনও ফেউ ডাকে।
ডাকুক, ডেকে মরুক। তাতে ভাবনা নেই, তোর
কলম যদি থাকে।

ঘরের মধ্যে একলা তুই, বাহিরে ঘুরে যায়
আতঙ্কের ঢেউ;
এদিকে দেখি টেবিলে আলো। ওদিকে শুনি ঠায়
চেঁচিয়ে মরে ফেউ। (সম্পূর্ণ…)

গ্লোবের হ্যামলেটে মুগ্ধতা

রুবাইয়াৎ আহমেদ | ১৭ জুলাই ২০১৫ ১০:৫০ পূর্বাহ্ন

drama-hamlet-4.JPGসারাদিনই বৃষ্টি ছিল ঢাকায়। কখনও মুষলধারে আবার কখনও বা গুঁড়িগুঁড়ি। তবে সরকারি ছুটি থাকায় যানবাহনের তেমন ভিড় রাস্তায় ছিল না। রোজার এই সময়ে চট্টগ্রামে বাংলাদেশের সঙ্গে দক্ষিণ আফ্রিকার শেষ ওয়ানডে ম্যাচের ফলের দিকেও দেশবাসীর দুরুদুরু বুকে অপেক্ষা। যে কারণে কোথাও তেমন ভিড় নেই। বেশিরভাগ মানুষই টেলিভিশনের সামনে।

কিন্তু একটি জায়গা ছিল ব্যতিক্রম। বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির জাতীয় নাট্যশালা। বুধবার বিকাল থেকেই সেখানে লোকে লোকারণ্য। কারণ একটি নাট্যদল আজ এখানেই মঞ্চস্থ করবে বিশ্বের সর্বকালের অন্যতম শ্রেষ্ঠ নাট্যকার উইলিয়াম শেক্সপিয়ারের সর্ববৃহৎ ট্র্যাজেডি ‘হ্যামলেট’। তবে বিষয়টি এখানে শেষ হলে মানুষের আগ্রহের নেপথ্য রহস্যটুকু ঠিক উন্মোচিত হবে না। (সম্পূর্ণ…)

গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস:

নিঃসঙ্গতার একশ বছর

আনিসুজ্জামান | ১৬ জুলাই ২০১৫ ৯:১৫ অপরাহ্ন

garcia_marquez.jpgবিশ্বসাহিত্যের ইতিহাসে নিঃসঙ্গতার একশ বছর-এর মতো আর কোনো উপন্যাস প্রকাশের পরপরই এতটা পাঠকপ্রিয়তা পেয়েছে কিনা সন্দেহ। জনপ্রিয়তার বিচারে যেমন, তেমনি শিল্পকুশলতা আর শিল্পমুক্তির ক্ষেত্রেও এটি হয়ে উঠেছে এক অনন্য দৃষ্টান্ত। কেবল স্প্যানিশ সাহিত্যেই নয়, গোটা বিশ্বসাহিত্যের ইতিহাসেই একটি মাত্র উপন্যাসে ইতিহাস, আখ্যান, সংস্কার, কুসংস্কার, জনশ্রুতি, বাস্তব, অবাস্তব, কল্পনা, ফ্যান্টাসি, যৌন-অযাচার ও স্বপ্ন– সবকিছুর এমন স্বাভাবিক ও অবিশ্বাস্য সহাবস্থান আগে কখনও দেখা যায়নি।
ঠিক এই কারণে মারিও বার্গাস যোসা এটিকে বলেছিলেন এক সামগ্রিক উপন্যাস (Novela Total), আর পাবলো নেরুদা একে বলেছিলেন, “সের্বান্তেসের ডন কিহোতের পর স্প্যানিশ ভাষায় সম্ভবত মহত্তম উন্মোচন (“perhaps the greatest revelation in the Spanish language since Don Quixote of Cervantes.”)
বাংলাদেশে এখনও পর্যন্ত কিংবদন্তিতুল্য এই উপন্যাসটি মূলভাষা থেকে অনূদিত হয়নি। এই প্রথম এটি আনিসুজ্জামানের অনুবাদে মূল থেকে ধারাবাহিক অনূদিত হচ্ছে। বি. স.
(সম্পূর্ণ…)

বর্ষাকে আজ বর্শার মতো নাচাবো

মুহম্মদ নূরুল হুদা | ১৫ জুলাই ২০১৫ ৮:৩৭ অপরাহ্ন

বর্ষাকে আজ বর্শার মতো সাজাবো
এসো হে বর্ষা আদরে ভাদরে এসো
বর্ষাকে আজ বর্শার মতো নাচাবো
এসো হে বর্ষা অধীর শরীরে মেশো।

কোন গরবিনী জন্ম তোমাকে দিয়েছে
কোন মেঘবতী কোন সে দরিয়াসতী!
কার কেশপাশে ঝঞ্ঝার পাঠ নিয়েছে,
কোন কেশবতী কোন সে অধরাবতী? (সম্পূর্ণ…)