70

‘অশ্লীলতা’-বিরোধী প্রপাগান্ডা ও ‘সুস্থ’ চলচ্চিত্রের যুগে ঢাকাই সিনেমা

মোহাম্মদ আজম | ৮ ফেব্রুয়ারি ২০১০ ৯:৩৭ পূর্বাহ্ন

monpura011.jpg
“কিছু ভালো জিনিসের সাথে নিশ্ছিদ্র বিপণন কৌশল আর সুস্থতার ইমেজকে কাজে লাগিয়ে মনপুরা ভালোই দেখিয়েছে।”

jamelasundari.jpg
ঢাকাই মেইনস্ট্রিম, জমেলা সুন্দরী

এই লেখাটি আল্লার নামে লিখতে চাই। অবশ্য মিশেল ফুকোর নামেও লিখতে পারতাম। সেই ফুকো যিনি একবার টিভি সাক্ষাৎকারে নোম চমস্কি সহ উপস্থিত হয়ে চমস্কির বিপরীত অবস্থান নিয়ে বলেছিলেন—‘মানব-প্রকৃতি’ বলে কোনো বস্তু আছে কিনা, তা আদৌ তাঁর মাথাব্যথা নয়; বরং ইতিহাসের বিশেষ বিশেষ পর্বে ‘মানব-প্রকৃতি’র ধারণা কীভাবে রূপ পেয়েছে আর মানুষকে চালিত করেছে—তা-ই তাঁর পর্যবেক্ষণের বিষয়। এ রকমের কিছু একটা তিনি বলেছিলেন। কথাটা আমার খুব পছন্দ হয়েছে। যুৎসই মনে হয়েছে। আমিও নিয়ত করেছি, অশ্লীলতার কোনো সংজ্ঞায়নে যাব না, বস্তুটা আদতে ভালো না খারাপ, সেসব তালাশ করব না; বরং ঢাকায় শব্দটি কোন পরিস্থিতিতে কী প্রকারে ভদ্রলোকসমাজে এতটা মশহুর হয়ে উঠল, আর তাতে কী ফলটাই বা ফলল, তার ‘মনে হয়’ ধরনের কিছু খোঁজখবর নেব।
—————————————————————–
অনেক বছর ধরে অনুদানের ছবি তৈরি হলেও দেশ-বিদেশের দর্শক বা বোদ্ধামহলে তো এ বাবদ কোনো সাড়া পড়েনি। আমার আন্দাজ, সাড়া না পড়াটাই এ ছবিগুলোর পুরস্কৃত হওয়ার মূল রহস্য। উল্লেখযোগ্য কিছু তৈরি না হওয়ায় সরকারি টাকার অপব্যবহার নিয়ে প্রশ্ন ওঠা স্বাভাবিক। আর এ প্রশ্নকে ঠেকানোর জন্যই পুরস্কার যোগ করে ছবিগুলোর মর্যাদা বৃদ্ধি করা হচ্ছে, যাতে করে অনুদান দেয়া-নেয়া পক্ষগুলো নিজেদের বৈধতা দিতে পারে।… এভাবে বিচিত্রভাবে মেইনস্ট্রিম সিনেমার বিকাশপথ ক্রমেই সংকীর্ণ করে তোলা হচ্ছে।
—————————————————————-
bobita_ashani_sanket.jpg……..
সত্যজিৎ রায়ের অশনি সংকেত-এ ববিতা। ছবির ফরাসী সংস্করণের পোস্টার।
…….
মুশকিলের কথা এই, ফুকোর পদ্ধতি রীতিমাফিক এস্তেমাল করার বিদ্যা আমার পেটে নাই। তাই আগ্রহ থাকলেও আমার কথাগুলো ফুকোর নামে সাজাতে পারছি না। নিজের কব্জির জোরও সামান্য। কারণ, ঢাকাই সিনেমায় ‘অশ্লীলতা’র প্রবেশ ও বিস্তার আর পত্রপত্রিকা-টেলিভিশন ও সভাসমিতিতে এতদ্বিষয়ে ভদ্রলোকশ্রেণীর প্রতিক্রিয়ার ধরন ‘ইতিহাস’সম্মতভাবে হাজির করার জন্য নিষ্ঠাবান গবেষকের শ্রম দরকার। আমি তা করে উঠতে পারিনি। তাই অগতির গতি আল্লাই ভরসা।


ঢাকাই সিনেমার অশ্লীলতা সম্পর্কে ভদ্রসমাজের প্রপাগান্ডা প্রথম ব্যাপকভাবে আমার—এবং সম্ভবত আরো অনেকের—নজরে আসে একটি প্রভাবশালী জাতীয় দৈনিকের ‘ছি!নেমা’ শিরোনামের নিয়মিত কলামে। ঐ পত্রিকার রঙ্গম্যাগাজিনে কলামটি ছাপা হত বলে তাতে রঙ্গব্যঙ্গের প্রকোপ ছিল বেশি। কিন্তু পাশাপাশি কোনো ‘সিরিয়াস’ কলামে ঢাকাই সিনেমার হালহকিকত বিশ্লেষিত না হওয়ায় আমরা ধরে নিতে পারি, পত্রিকার নীতিনির্ধারকদের কাছে ব্যাপারটি রঙ্গব্যঙ্গের জন্যই যুৎসই মনে হয়েছে। তার চেয়ে বড় কথা, ঢাকার, এবং সম্ভবত সারা দেশের, ভদ্রলোক মধ্যবিত্তের মধ্যে এ ব্যাপারে বিরল ঐকমত্য দেখা গেছে। তার প্রমাণ পাই ভদ্রলোকশ্রেণীর সব ধরনের মিডিয়ায় প্রায় সমধর্মী মতামতের প্রতিফলনে। সে আজ প্রায় দেড় দশক আগের কথা। তখন থেকে অনেক দিন ঢাকার পত্রপত্রিকায় ‘অশ্লীল’ ছবি প্রদর্শনের খবর প্রকাশিত হতে থাকে। এ ব্যাপারে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী পক্ষগুলোও তৎপর হয় বা হতে বাধ্য হয়। দেশের নানা প্রান্ত থেকে ‘অশ্লীল’ ছবি আটক হবার খবর আসে; চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দেয়, ঢাকাই ছবির অধোগতি কোথায় গিয়ে ঠেকেছে।

সিনেমার অধোগতি তো জাতীয় অধোগতিরই স্মারক। এই অবস্থার দায় ভদ্রলোকেরা নেবে কেন? তারা নেয়ও নি। তাদের মিডিয়ায়, সভা-সেমিনার-সিম্পোজিয়ামে অশ্লীলতার বিরুদ্ধে বিপুল হুঙ্কার ধ্বনিত হয়েছে। তাতে একদিকে শিক্ষিত মধ্যবিত্ত সচকিত-সচেতন হয়েছে; অন্যদিকে সামাজিক মূল্যবোধের চাপেই সম্ভবত, বিভিন্ন সরকার সাধ্যমত অশ্লীলতা রোধের জন্য আইনি উদ্যোগ নিয়েছে। তবে অশ্লীল সিনেমার ব্যাপারিদের উপর চরম আঘাত হেনেছে গেল ‘সিভিকো-মিলিটারি-কর্পোরেট’ সরকার। রীতিমত সামরিক অভিযান চালিয়ে তারা এই দুষ্টক্ষতের মূলোৎপাটন করতে পেরেছে। এ বাবদ পত্রপত্রিকায় প্রকাশিত উল্লাস আমাদেরও—যেহেতু আমরাও রুচিশীল ভদ্রলোক—আনন্দের কারণ হয়েছে। (সম্পূর্ণ…)

69

হার্টা ম্যুলার-এর গল্প

আমার পরিবার

শিবব্রত বর্মন | ৬ ফেব্রুয়ারি ২০১০ ১১:১৪ পূর্বাহ্ন

herta_5.jpg

herta-6.jpg
নোবেল সাহিত্য পুরস্কার পাওয়ার পর দুটি ছবিতে হার্টা ম্যুলার

ভাষান্তর: শিবব্রত বর্মন

আমার মায়ের গলায় সমস্যা, চিঁচি করে কথা বলেন।

আমার দাদির চোখ ছানি পড়ে অন্ধ হয়ে গেছে। এক চোখে ধূসর ছানি, আরেক চোখে নীলাভ।

আমার দাদার স্ক্রটাল হার্নিয়া।

অন্য এক নারীর গর্ভে আরেকটি সন্তান জন্ম দিয়েছেন আমার বাবা। সেই অপর নারীকে আমি চিনি না, সন্তানটিরও কোনো খবর জানি না। শুধু জানি, সে বয়সে আমার চেয়ে বড়, আর সে জন্যে লোকে বলাবলি করে, আমার বাবা আসলে অন্য কেউ।

বাবা সেই অন্য সন্তানটিকে বড়দিনের উপহার কিনে দেন আর আমার মাকে বলেন, সেই অপর সন্তানের পিতা আসলে অন্য আরেকজন।

প্রতি নববর্ষে ডাকপিয়ন একশ ‘লেই’-এর নোট ভরা একটা খাম তুলে দেয় আমার হাতে, আর বলে, এটা সান্টা ক্লজের কাছ থেকে এসেছে। তবে আমার মা বলেন, আমার অন্য কোনো বাবা নেই।

লোকে বলে, আমার দাদি আমার দাদাকে বিয়ে করেছিলেন দাদা জমিজায়গার মালিক বলে, আর দাদির আসলে প্রেম ছিল আরেক লোকের সঙ্গে আর সেই অপর লোকটাকে বিয়ে করলেই দাদি ভালো করতেন, কারণ আমার দাদা তার আত্মীয় সম্পর্কের মধ্যেই পড়েন, এতো ঘনিষ্ঠ আত্মীয় যে, ব্যাপারটা অজাচারের পর্যায়ে পড়ে যায়। (সম্পূর্ণ…)

86

বইমেলা ২০১০

প্রকাশিত বই থেকে ২ পৃষ্ঠা

| ৫ ফেব্রুয়ারি ২০১০ ৩:০৪ অপরাহ্ন

আত্মকথা: স্মৃতি-বিস্মৃতির বাংলাদেশ / আকবর কবির

ভাষা শিক্ষা ও ভাষাবিজ্ঞান পরিচিতি / হুমায়ুন আজাদ

শুভ্র গেছে বনে / হুমায়ূন আহমেদ

ফেস বাই ফেস / মাহবুব মোর্শেদ
(সম্পূর্ণ…)

117

কিস্তি ৬

ছফামৃত

নূরুল আনোয়ার | ৪ ফেব্রুয়ারি ২০১০ ৫:৩৩ অপরাহ্ন

shamim-shikder-sofa.jpg
ছফা, শামীম শিকদারের সঙ্গে

শুরুর কিস্তি

(কিস্তি ৫-এর পর)

সত্তরের দশকে তিয়াত্তরের প্রথমদিকে দৈনিক গণকন্ঠতে যোগদান করে ছফা কাকা তাঁর জীবনে এক নতুন মাত্রা যোগ করেছিলেন। পরে পঁচাত্তর থেকে বিরাশি সাল পর্যন্ত তিনি এই পত্রিকার সম্পাদকীয় উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন।

10-janu-75-sofa.jpg…….
১৯৭৫-এ আহমদ ছফা (জানুয়ারি ১০), এ সময় তিনি জাসদ করতেন।
…….
পত্রিকাটির জীবনে কম ঝক্কি-ঝামেলা, উত্থান-পতন হয়নি। তারপরেও এটি একটা বড় সময় টিকে থাকতে পেরেছিল। যতদিন পত্রিকাটি বেঁচেছিল ছফা কাকাও এর একটা অংশ হয়ে গিয়েছিলেন। এ পত্রিকায় তিনি যত লেখা লিখেছেন জীবনে অন্যকোন পত্রিকায় অত লেখা লিখেননি। ছফা কাকাকে যে দ্রোহী এবং প্রতিবাদী হিসেবে চিহ্নিত করা হয় তার সূত্রপাতও অনেকটা এই পত্রিকা থেকে। তখনকার প্রায় লেখার মধ্যে তাঁর একটা প্রতিবাদী ভাব ফুটে ওঠত। এ জন্য তাঁকে সরকারের রোষানলেও পড়তে হয়েছে বারংবার। কবি ফররুখ আহমদ যখন চাকরি হারিয়ে পথে বসেছেন, মরতে বসেছেন তখন ছফা কাকা এই পত্রিকার মাধ্যমে প্রতিবাদ করেছিলেন, ‘কবি ফররুখ আহমদের কি অপরাধ?’ ছফা কাকার সেই প্রতিবাদ এত তীব্র ছিল যে সরকার তাঁর কথা কানে তুলতে বাধ্য হয়েছিল।
—————————————————————–
শেখ মুজিবের সঙ্গে যখন তাঁর সাক্ষাৎ হয়েছিল তিনি তাঁকে ‘স্যার’ সম্বোধন করেছিলেন। শেখ মুজিব নাকি তাঁকে জড়িয়ে ধরে বলেছিলেন, ছফা, তুমি আমাকে ভাই বলে ডেকো। ওইদিন ছফা কাকাকে শেখ মুজিবুর রহমান একটি কম্বল উপহার দিয়েছিলেন। কম্বলটি ছিল কমলা রঙের এবং খুব হালকা। মাপলে এক কেজিও হবে না। ছফা কাকা যতদিন বেঁচেছিলেন ওটি জড়িয়ে ঘুমোতেন। এখনও কম্বলটি আমার কাছে সংরক্ষিত আছে। তিনি একই কাপড়-চোপড় বেশিদিন ব্যবহার করতেন না। কিন্তু কম্বলটি হাতছাড়া হবার ভয়ে শীতের শেষে লন্ড্রি থেকে ধোলাই করে এনে তালা বদ্ধ করে রাখতেন।
—————————————————————-
‘গণকন্ঠ’-এর মাধ্যমে ছফা কাকা বিপ্লব ঘটাতে চেয়েছিলেন। প্রায় দশ বছর তিনি এ পত্রিকার সঙ্গে কাটিয়েছেন। এই দশটি বছরকে তিনি তাঁর জীবনের বিপ্লবের বছর হিসেবে উল্লেখ করতেন। এর পেছনে তিনি অনেক শ্রম-সাধনা করেছেন। অর্থ সংগ্রহের জন্য নানাজনের কাছে ধন্না দিয়েছেন। কোথাও কাজ হয়েছে, কোথাও হয়নি। যখনই পত্রিকাটির কোন রকম অধঃপতন গোচরে আসত তাঁর বুকটা হু হু করে উঠত। ‘পুষ্প বৃক্ষ এবং বিহঙ্গ পুরাণে’র একটি পাতায় তাঁর মনোকষ্টের কিঞ্চিত উল্লেখ পাওয়া যায়। তিনি লিখেছেন:

“ঊনিশ শ’ আশি সালের আগস্ট মাসের দিকে হবে। টিপু সুলতান রোডে ‘দৈনিক গণকন্ঠ’ পত্রিকার অফিসে গিয়ে নিশ্চিত হলাম, পত্রিকাটি মরতে যাচ্ছে। আমার বুক ফেটে কান্না আসছিল। এত চেষ্টা চরিত্র, এত পরিশ্রম সব বৃথা যাচ্ছে। কতজনের কাছে ভিক্ষা করলাম। দেশি, বিদেশি কত মানুষের দুয়ারে টাকার জন্য ধন্না দিলাম। যা হওয়ার কথা ছিল তা হতে যাচ্ছে। আগামীকাল থেকে মেহনতি জনগণের মুখপত্রটি মুখ বুজে আত্মহত্যা করবে। (ছফা, খ. ২, পৃ. ২৫)

ছফা কাকা তখন জাসদ রাজনীতির সঙ্গে জড়িত ছিলেন। ‘গণকন্ঠ’ ছিল জাসদের মুখপত্র। ‘গণকন্ঠ’ বন্ধ হয়ে যাওয়া মানে জাসদের অঙ্গহানী ঘটা। সুতরাং এটা ছফা কাকার সইবে কেন। জাসদ এবং ‘গণকন্ঠ’ দুটোই তাঁর কাছে সমান গুরুত্ব বহন করত। জাসদের সঙ্গে তিনি যতদিন জড়িত ছিলেন ওই সময়টাকে তিনি উল্লেখ করেছেন মুগ্ধতার বছর হিসেবে। ওই সময়ে বিভিন্ন সভা-সমিতিতে বক্তৃতা দেয়ার কারণে প্রতিপক্ষ রাজনৈতিক দলে সঙ্গত কারণে তাঁর অনেক শত্রুর জন্ম সম্ভব হয়ে উঠেছিল। পরিস্থিতি এমন দাঁড়িয়েছিল যে তাঁকে বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক ছাত্রাবাসের কক্ষও ছাড়তে হয়েছিল। গবেষণাকর্মটিও না ছেড়ে তাঁর উপায় থাকল না। এসবই ছিল জাসদের সঙ্গে জড়িত থাকার ফল। (সম্পূর্ণ…)

111

গোলাপের নাম

উম্‌বের্তো একো

জি এইচ হাবীব | ২ ফেব্রুয়ারি ২০১০ ১:২৮ অপরাহ্ন

———————————————————————————
ধারাবাহিক উপন্যাস
———————————————————————————
[ইতালির ঔপন্যাসিক উমবের্তো একোর বিশ্ববিখ্যাত উপন্যাস The Name of the Rose। আর্টস-এর জন্য বিশালকায় (আনুমানিক ৫০০ পৃষ্ঠা) এই উপন্যাসের অনুবাদ করছেন অনুবাদ পত্রিকা তরজমা-র সম্পাদক ও পেশাগত জীবনে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের শিক্ষক
rose2.jpg জি এইচ হাবীব। আশা করা যাচ্ছে প্রতি সপ্তাহের মঙ্গল বারে আর্টস-এর পাতায় এই উপন্যাসটি ধারাবাহিক ভাবে প্রকাশিত হবে। এবারে অনুবাদের সঙ্গে মধ্যযুগের একটি সংক্ষিপ্ত কালপঞ্জি থাকছে, যা উপন্যাস পাঠে পাঠককে সুবিধা দেবে। এ ছাড়া লেখার নিচে প্রয়োজনীয় টীকাও থাকছে। আর্টস-এ আগে প্রকাশিত একটি রচনা (উপন্যাস যথা মহাকালিক আয়োজন/হোসেন মোফাজ্জল) আগ্রহীদের উপকারে আসতে পারে।

উল্লেখ্য হাবীব এর আগে গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেসের ওয়ান হান্ড্রেড ইয়ার্স অভ্ সলিচিউড (নিঃসঙ্গতার একশ বছর), ইয়স্তাইন গার্ডারের সোফি’য ওয়ার্ল্ড (সোফির জগৎ ), আইজাক আসিমভের ফাউন্ডেশন, আমোস তুতুওলার দ্য পাম-ওয়াইন ড্রিংকার্ড (তাড়িখোর), ইতালো কালভিনোর ইনভিযিবল সিটিয (অদৃশ্য নগর) এবং রুপার্ট ক্রিস্টিয়ানসেনের হু ওয়ায উইলিয়ম শেক্সপীয়র (উইলিয়ম শেক্সপীয়র কে ছিলেন) অনুবাদ করেছেন। - বি. স.]
louvre-museum-in-paris-wed.jpg
উম্‌বের্তো একো

অনুবাদকের নোট
বিশ্বখ্যাত ইতালীয় দার্শনিক, চিহ্নবিজ্ঞানী, ঐতিহাসিক এবং সাহিত্য সমালোচক উম্‌বের্তো একো-র (জ. ১৯৩২) প্রথম উপন্যাস Il nome della rose ১৯৮০ সালে প্রকাশিত হলে সাহিত্যাঙ্গনে একটি সাড়া পড়ে যায়; বছর তিনেক পর উইলিয়াম উইভারের ইংরেজি অনুবাদ The Name of the Rose-এর প্রকাশ সেই সাড়াকে প্রায় বিশ্বব্যাপী একটি আলোড়নে পরিণত করে৷আরো তিন বছর পর গ্রন্থটি চলচ্চিত্রে রূপায়িত হয়, এবং তাতে প্রধান চরিত্রে রূপদান করেন বিখ্যাত অভিনেতা শন কনোরি৷

ফুকো’য পেন্ডুলাম (১৯৮৮),দি আইল্যান্ড অভ্‌ দ্য ডে বিফোর (১৯৯৫), বাউদোলিনো (২০০০), দ্য মিস্টেরিয়াস ফ্লেইম অভ্‌ কুইন লোয়ানা (২০০৫) নামে আরো চারটি উপন্যাসও রচনা করেছেন একো৷ এছাড়াও রয়েছে তাঁর পাঠক সমাদৃত প্রবন্ধ সংকলন মিসরিডিংস, ট্র্যাভেলস ইন হাইপাররিয়ালিটিহাউ টু ট্র্যাভেল উইদ আ স্যামন অ্যান্ড আদার এসেজ৷ সম্প্রতি প্রকাশিত হয়েছে পাঠক নন্দিত আরো তিনটি গ্রন্থ: অন লিট্‌রেচার, অন বিউটি, এবং অন আগলিনেস৷ শিশু-কিশোরদের জন্যেও রচনা করেছেন দুটি গ্রন্থ, ইউজেনিও কার্মির সঙ্গে যৌথভাবে, দ্য বম্ব এন্ড দ্য জেনারেলদ্য থ্রী অ্যাস্ট্রনট্‌স্‌৷ বোলোনিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সেমিওটিক্স-এর অধ্যাপক একো-র নিবাস মিলান৷

১৩২৭ খৃষ্টাব্দের নভেম্বর মাসের শেষাশেষি ইতালির একটি বেনেডিক্টীয় মঠে এসে উপস্থিত হয়েছেন মধ্যবয়স্ক ফ্রান্সিসকান সন্ন্যাসী বাস্কারভিলের উইলিয়াম ও তাঁর সঙ্গী শিক্ষানবিস অ্যাড্‌সো, যীশু খৃষ্টের দারিদ্র্য বিষয়ক একটি বিতর্কে পোপের প্রতিনিধিদের সঙ্গে অংশ নেয়ার জন্যে৷ তাঁরা মঠে পৌঁছে দেখেন সেখানে এক সন্ন্যাসীর রহস্যজনক মৃত্যু ঘটেছে৷ উইলিয়ামের ওপর দায়িত্ব পড়ে এই মৃত্যু- রহস্য উদ্‌ঘাটনের৷ দেখতে দেখতে, সাতদিনের মধ্যে অত্যন্ত বীভৎসভাবে মৃত্যুবরণ করে প্রায় আধডজন সন্ন্যাসী৷ উইলিয়াম কীভাবে এই হত্যারহস্য উন্মোচন করলেন তা যেমন অত্যন্ত আকর্ষণীয়, সেই সঙ্গে আকর্ষনীয় ‘গোলাপের নাম’ নামক এই বুদ্ধিবৃত্তিক রহস্যোপন্যাসে যেভাবে লেখক উম্‌বের্তো একো চিহ্নবিজ্ঞান, সাহিত্যতত্ত্ব, বাইবেলের নানান ব্যাখ্যা-বিশ্লেষণ, মধ্যযুগের দর্শন, ইতিহাস, ইত্যাদির চমকপ্রদ মিশ্রণ ঘটিয়েছেন৷

উপন্যাসটি বিশেষত মধ্যযুগীয় নানান ঐতিহাসিক ঘটনা এবং গুরুত্বপূর্ণ-অগুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিত্বের উল্লেখে ভরপুর৷ এখানে উল্লিখিত হয়েছেন অসংখ্য সন্ত [যেমন এজিলাফ (Agiluf), আলদেমার (Aldemar), ফলিনো-র অ্যাঞ্জেলা (Angela of Foligno), মন্টেফাল্‌কো-র ক্লেয়ার (Clare of Montefalco)], বিভিন্ন হেরেটিক বা ধর্মদ্বেষী ব্যক্তি বা দল [আর্নল্ডিস্ট (Arnoldist), বেগার্ড (Beghards), বিতোচি (Bizochi), ভালদেনসীয় (Waldensians), উইলিমাইট (Williamites)]; রয়েছে ককেইন (Cockaigne), কিমেরীয় কুয়াশা (Cimmerian fog), ব্লেমীয়ে (Blemmyae) আর ফ্যালারিসের ষাঁড়ের (Bull of Phalaris) মতো নানান পৌরাণিক উল্লেখ৷ উপন্যাসের গোলকধাঁধাময় গ্রন্থাগারের তাকগুলোতে মুখ গুঁজে থাকা অনেক নিতান্ত তুচ্ছ এবং অখ্যাত লেখকের নাম আর গ্রন্থের কথাও উল্লেখ করেছেন একো৷ আর আছে, অসংখ্য লাতিন, ফরাসী এবং জার্মান শব্দ, শব্দবন্ধ, বাক্য ও অনুচ্ছেদ, যেসবের অনুবাদ লেখক ইচ্ছাকৃতভাবেই সরবরাহ করেননি৷ ফলে, সব মিলে পাঠকের জন্যে তৈরি হয় এক দুস্তর বাধা৷ এই বাধা দূর করতে অ্যাডেল জে হ্যাফট, জেন জি. হোয়াইট এবং রবার্ট জে হোয়াইট ১৯৮৭ সালে প্রকাশ করেন তাঁদের যৌথ গ্রন্থ দ্য কী টু দ্য নেইম অভ্‌ দ্য রোয, যেখানে তাঁরা উপন্যাসটিতে উল্লিখিত নানান ঘটনা, ব্যক্তিত্ব, এবং অ-অনূদিত লাতিন, ফরাসী এবং জার্মান শব্দ, শব্দবন্ধ, বাক্য ও অনুচ্ছেদ ইত্যাদির টীকা-ভাষ্য আর অনুবাদই উপস্থিত করেননি, উপন্যাসটির পটভূমি, বিষয়বস্তু, মর্মার্থ ইত্যাদি সম্পর্কে কয়েকটি প্রবন্ধ এবং মধ্যযুগের একটি প্রাসঙ্গিক কালপঞ্জিও জুড়ে দিয়েছেন৷ (সম্পূর্ণ…)

67

সাঈদ আহমদের সাক্ষাৎকার, ১৯৯৯

ব্রাত্য রাইসু | ১ ফেব্রুয়ারি ২০১০ ৮:১৬ পূর্বাহ্ন

sayeed-ahmed1.jpg
সাঈদ আহমদ (১/১/১৯৩১ - ২১/১/২০১০)

[নাট্যকার সাঈদ আহমদের সঙ্গে আমার সদ্ভাবের শুরু ১৯৯২ সালে। সেই সময় চিত্রকর কালিদাস কর্মকারের বাংলা মোটরের বাড়িতে একটা পার্টির মধ্যে একদিন যাইচা তাঁর সঙ্গে পরিচিত হই আমি। বিশেষত অ্যাবসার্ড ড্রামা ব্যাপারে আমার তৎকালীন গভীর অনুরাগ তাঁর ব্যাপারে আমারে আগ্রহী করছিল। তিনি ফোন নম্বর দিয়া পরদিন তাঁর বাড়িতে যাইতে বলেন। আমি সকালে তাঁর লালমাটিয়ার বাসায় যাই। তিনি তাঁর সংগ্রহের বই, চিঠিপত্র আর কিছু নথি দেখান। এবং অতিথি আপ্যায়ন করেন। খাওয়ার পরে ফল খাওয়ার জন্য অনুরোধ করেন।

আঙুলের গিঁটে সমস্যা থাকায় লিখতে অসুবিধা হইত তাঁর। ওনার অনুরোধে কিছু লেখার ডিকটেশান নিতে রাজি হই আমি। বলা যাইতে পারে, তাঁর লেখ্য গদ্যরীতিটি আমার ভালো লাগতো না। একটা নাটক (নাটকটা তিনি আর শেষ করেন নাই) নিয়া দুই দিন বসার পরে আমি এই বিরক্তিকর কাজটা আর করি নাই। ওই বিরানব্বইয়ে কিছুদিন সাঈদ ভাইরে বেশ কাছ থিকা দেখার সুযোগ হয় আমার। সাঈদ ভাই নিঃসন্তান আছিলেন। এই নিয়া তাঁর কোনো আক্ষেপ আছে কিনা জিগাইলে জানায়ছিলেন বাচ্চাকাচ্চা ব্যাপারটা ভেজালের। এইটা ঠিক যে তাঁর মধ্যে আমি বাৎসল্য রসের ছিটাফোঁটা দেখি নাই।

ঢাকার সাংস্কৃতিক সমাবেশে তাঁর উপস্থিতি সব সময়ই নিতান্ত উজ্জ্বল ব্যাপার আছিল। বিবিধ অনুষ্ঠানে দেখা হইলে—এবং সব সময় পারভিন ভাবি সঙ্গে থাকতেন—সাঈদ ভাই সহাস্য স্নেহ সম্প্রদান করতেন (অন্য অনেকের মতো ওয়ান টু ওয়ান মৃদু হাসির অভ্যর্থনা তিনি করতেন না; যেটি দস্তুর)। সাঈদ আহমদের ব্যাপারে আমার বিবেচনা এই যে তিনি বৈঠক ইত্যাদিতে অনেক চিত্তাকর্ষক থাকতেন। তবে তাঁর ভাষা প্রায়ই ঢাকাইয়া থিকা শুদ্ধের দিকে চইলা যাইতে চাইত। আর তিনি ঘরের চাইতে বাইরে বেশি বন্ধুবৎসল আছিলেন। অর্থাৎ এক কালের এই সচিব ভদ্রলোকটি সমষ্টির মধ্যে বা সমাবেশগুলিতে তাঁর ব্যক্তিত্বের সবলতা ও সাফল্য উপলব্ধি করতেন।

১৯৯৯ সালে মুক্তকণ্ঠ পত্রিকার ‘খোলা জানালা’র জন্য এই সাক্ষাৎকার নেই আমি। ‘খোলা জানালা’র সম্পাদক আবু হাসান শাহরিয়ার সাক্ষাৎকারটার খোলামেলা ও লঘু চালের ব্যাপারটারে সাদরে গ্রহণ করছিলেন। এবং কোনো কর্তন-বর্জন ছাড়াই সাক্ষাৎকার প্রকাশিত হয়। প্রকাশের পরে সাঈদ ভাইরে একটা কপি দিয়া আসছিলাম। ইচ্ছা আছিল কখনো সাঈদ ভাইয়ের একটা বুক লেংথ ইন্টারভিউ নিব। সেইটা আর হইয়া উঠল না। তাঁর সাম্প্রতিক প্রয়াণে (২১/১/২০১০) আন্তরিক দুঃখ প্রকাশ করতেছি।—ব্রাত্য রাইসু]

sayeed-ahmed.jpg
১৯৯২ সালে নিউইয়র্কে তোলা ছবিতে সাঈদ আহমদ ও স্ত্রী পারভিন আহমদ; ছবি. নাসির আলী মামুন

আমি কত কথা কইতাম, কিন্ত এখন আফটার ব্রেইন হেমারেজ কথা কইতে পারি না। আর বড় কষ্ট কইরা কথা কইতে হয়। আস্তে আস্তে আস্তে আস্তে একটু ইমপ্রুভমেন্টের দিকে যাইতে আছি। আমার জীবনে একটা গণ্ডগোল হইয়া গেছে। বড় রকমের গণ্ডগোল। দুই বছর আড়াই বছর আগে আমারে কইলো যে তুমি দিল্লিতে আসো…

কে কইল?

গভর্ণমেন্ট অফ ইন্ডিয়া’র কালচারাল মিনিস্ট্রি। কইল যে তুমি দিল্লিতে আসো। তোমার সঙ্গে একটা বইয়ের পরামর্শ হবে। বই লেখার ব্যাপারে তারপরে আমি দিল্লি গেলাম। এই সব লিখো না।

ঠিক আছে অন্য প্রসঙ্গে যাই। শামসুর রাহমানের সঙ্গে আপনাদের সম্পর্ক নিয়া বলেন।

শামসুর রাহমানের বাবা আর আমার বাবা দুই পার্টনার ছিল। নরায়ণগঞ্জে ডায়মন্ড টকিজ করত। নইনটিন থারটি নাইনের যুদ্ধের আগে।

তাইলে তো আপনেরা অনেকদিন থেকে কালচারের সঙ্গে, কালচারের ব্যাপারটা তাইলে পারিবারিক ভাবেই।

মোটামুটি। তো আমার বাবা আর শামসুর রাহমানের বাবা মোখলেছুর রহমান…

আর আপনের বাবার নাম ছিল—

মীর্জা ফকির মোহাম্মদ।

আপনার বড় ভাই?

বড় ভাই, নাছির ভাই বড় ছিলেন। আর নাজির ভাই মেজো আর থার্ড ব্রাদার হামিদুর রাহমান। আর আমি ফোর্থ ব্রাদার।

ব্রাদার তো আর না আপনি।

না ব্রাদার না, আমি ফোর্থ।

তাহলে ‘রাহমান’ শুধু হামিদুর রাহমানেরই ছিল। আর কারও না।

না। আর ওইটাও রাগ কইরা। ও স্কুলে পড়ার সময় ওর নাম রাখলো অ্যাহমাদ। কিন্তু মাস্টারের সঙ্গে রাগ কইরা কইল, যা শালা, এই নাম রাখুমই না। (সম্পূর্ণ…)

112

বহুবাচনিক দ্রষ্টা নারীগণের বাচ্য হয়ে ওঠা

এস এম রেজাউল করিম | ৩১ জানুয়ারি ২০১০ ৯:২৮ পূর্বাহ্ন

desire_a.jpg…….
ডিজায়ার, ক্যানভাসে মিশ্র মাধ্যম, ১৫৩ x ১২২ সে. মি., ২০০৯
……..
আঁকিয়ে’র সাথে অন্ধের সম্পর্ক কেমন? অন্ধগণ নাজিয়া আন্দালীব প্রিমা’র আঁকা ছবি দ্যাখে না, তিনি তাই অন্ধদের বহিষ্কার করেছেন তাঁর ক্যানভাস থেকে, প্রিমা’র ছবির সকল নারী চোখওয়ালা, আবার অপলক; অন্ধগণ অপলক থাকতে পারে, পলক ফেলতেও পারে, ঘটনা হিসাবে অ/পলকের জন্য চোখ/দৃষ্টি থাকা আবশ্যিক না। চোখ থাকা মানেই দৃষ্টি থাকা নয়; কিন্তু দৃষ্টি থাকা মানে দৃশ্যের প্রতি সংবেদন থাকা, অন্ধের এই সংবেদন নাই। প্রিমা’র ক্যানভাসের চোখগুলা সংবেদনশীল, মানে দৃষ্টিসম্পন্ন, মানে নারী বলতে প্রিমা সংবেদনশীল দৃষ্টিসম্পন্ন নারী বোঝেন। প্রীমা’র নারীগণ দেখছেন, প্রতিক্রিয়া আছে তাদের, প্রতিক্রিয়া দৃশ্যমান তাদের চোখে, শরীরে। প্রিমা’র প্রকল্প জটিল, তিনি প্রতিক্রিয়া আঁকেন নারীর শরীরে। পেইন্টিংয়ের ইতিহাসে নারীর উপস্থিতি অগুণতি, তবে প্রায় সকল ক্ষেত্রেই নারী দ্রষ্টব্য, দেখবার; সাংস্কৃতিক প্রশিক্ষণও নারীকে দেখবার মতো হয়ে উঠবার নির্দেশনা দেয়। বিপরীতে প্রিমা’র নারীগণ প্রধানতঃ দ্রষ্টা। নারীর দ্রষ্টারূপ অভ্যস্ততার ব্যত্যয়, প্রিমা’র নারীগণ চোখ নামায় না, দেখতে থাকে, নারীর দেখতে থাকবার ঘটনা অস্বস্তির। নারীর চোখ নামিয়ে নেওয়াই সমাজের বিধি, ফলতঃ দেখতে থাকাই দ্রোহ।
—————————————————————–
বেশি বেশি বোরখা বিক্রি উন্নয়ন ডিসকোর্সের জন্য তাই আনন্দসংবাদ, বোরখা একটা পোশাক হিসাবে লাইফস্টাইলের অংশ করতে পারা উন্নয়ন প্রকল্পের অন্য অংশ। উন্নয়নবাদের শক্তিমত্তা টের পাওয়া যায় শিল্পীর (প্রীমা’র) মস্তিস্কে বোরখার অবস্থিতি থেকে, নারীর বিবিধতা নির্মাণে স্মারক হিসাবে বোরখা ব্যবহার করবার মাধ্যমে প্রীমা তাঁকে উন্নয়ন ডিসকোর্সের দেয়া দায়িত্ব সম্পাদন করেন, দর্শকের মনোজগতে বোরখা স্থাপন করবার মধ্য দিয়ে।
—————————————————————-
prof_preema.jpg…….
নাজিয়া আন্দালীব প্রিমা (জন্ম. ১৯৭৪)
…….
কিন্তু প্রীমা’র নারীভাবনা দ্রোহী ভাবব কি?; প্রিমা’র ভাবনার একটা বড় অংশে নারী শুধু দ্যাখেই না, উপরন্তু নিজেকে দেখাতে অস্বীকার করে, নিজেকে দেখানো যেইখানে অধিপতি রীতি অবগুন্ঠন সেইখানে আত্মরক্ষার উপায়, অবগুন্ঠন আবার নিষেধের বেড়া হতে পারে, প্রিমা’র নারীগণের পর্দাসকল সেই নারীগণের স্বেচ্ছায় বেছে নেওয়া নাকি তাদের জন্য অনতিক্রম্য সাংস্কৃতিক সীমানা নাকি স্রেফ আরেকটা পোশাক? এই প্রশ্ন করবার জন্য অন্ততঃ একটা অনুমান করতে হয় যে, এর একবাচনিক উত্তর আছে। উত্তর একটা হওয়া সম্ভব, আবার একটা হবার সম্ভাব্যতা একাধিক হবার সম্ভাবনা নাকচ করে না। কিন্তু একেশ্বরবাদ ও আধুনিক বৈজ্ঞানিক একবাদ যৌথভাবে (অথবা পরিণতির দিক থেকে উভয়ে হয়তো অভিন্ন) একবাচনিক উত্তর পেতে চায়, একটা উত্তর দেবার জন্য চাপ দিতে থাকে। (সম্পূর্ণ…)

75

সাহিত্যিক হুমায়ুন আজাদ, যখন আমি… (কিস্তি ৯)

চঞ্চল আশরাফ | ২৭ জানুয়ারি ২০১০ ৩:৫০ অপরাহ্ন

hazad11b.jpg
সন্তানদের সঙ্গে সমুদ্রে, ১৯৯৬

hazad11c.jpg
থাইল্যান্ডের বামরুনগ্রাদ হাসপাতালে, জন্মদিনে; ২০০৪

কিস্তি:

(কিস্তি ৮-এর পরে)

শাহরিয়ার ভাই কেন ওইরকম আচরণ করেছিলেন, আমি বলবো না যে এটা আমার বোধগম্য নয়। একটি হাস্যকর সত্যও এর কারণ হিসেবে জড়িয়ে গিয়েছিল। সেটা এখন বলতে চাই না। তো, নতুনধারার উদ্বোধনী সংখ্যার জন্যে লেখা চাইতে ও সংগ্রহ করতে গিয়ে মমতাজউদদীন আহমদ, বদরুদ্দীন উমর প্রমুখের সূত্রে বেদনাদায়ক ও মজার অভিজ্ঞতা আমার হয়েছে। সে-সব উল্লেখের জায়গাও এটি নয়। বরং এখন মনে হয় যে, হুমায়ুন আজাদের লেখা চেয়ে সে-রকম অভিজ্ঞতা হতে পারত। কেননা, তাঁর সঙ্গে আমার বাক-বিতণ্ডা আর সব সাহিত্যিকদের তুলনায় বেশিই ঘটেছিল। লেখা চেয়ে তাঁকে আমি তিন বার ফোন করি। প্রথম বার তিনি বাসায় ছিলেন না। দ্বিতীয়বার ফোনে তাঁকে পাই এবং তিনি বলেন যে তাঁর শরীর ভালো নেই এবং সপ্তাখানেক পরে আবার ফোন করতে বলেন। সেটা করি এবং তিনি বলেন যে তাঁর মন ভালো নেই। কারণ জানতে চাইলে বলেন, ‘কিছুই ভালো লাগে না আমার, আমি কিছুতেই আশার কিছু দেখছি না চঞ্চল। সব পতনের দিকে, অন্ধকারের দিকে যাচ্ছে।’ এই যে লিখছি কথাটা, আমার শরীর কেঁপে উঠছে; বেদনায় ভরে উঠছে মন। যেমন শিউরে উঠেছিলাম তখন; বলেছিলাম, ‘এই অনুভবটা, ঠিক এই অনুভূতিটা নিয়ে নতুনধারার জন্যে একবার বসুন। আমি নিশ্চিত, সেটা হবে উদ্বোধনী সংখ্যায় প্রকাশিত লেখাগুলোর মধ্যে সবচেয়ে ভালো।’

‘স্তুতি করছো, না-কি সত্যি বলছো?’

‘স্তুতি করার প্রতিভা আমার নাই স্যার। এমনিতেই আপনার গদ্য আমার এবং অনেকের প্রিয়। আপনার লেখায় কপটতা একেবারেই নাই। তা ছাড়া যে-কথাগুলো আপনি বললেন, তার সঙ্গে, আপনার ভাষায়, গভীরব্যাপক সত্য ও বাস্তবতা জড়িয়ে আছে। আসলে আমি চাইছি এই সত্য, সময়ের এই মর্মান্তিক সত্য লেখাটায় আসুক। সেটা আপনার হাতে যতটা তীক্ষ্ণ হয়ে উঠবে, আর কারও পক্ষে সে-রকম সম্ভব কি-না আমার জানা নেই।’

‘হুম।’ (সম্পূর্ণ…)

101

বোর্হেসের প্রতি চিঠি

সুজান সন্টাগ

| ২৬ জানুয়ারি ২০১০ ১:৩১ অপরাহ্ন

borges2.jpg
হোর্হে লুইস বোর্হেস (২৪/৮/১৮৯৯ - ১৪/৬/১৯৮৬)

অনুবাদ: আনিসুজ্জামান খান

[১৯৯৬ সালে এ চিঠি মার্কিন সাহিত্য সমালোচক এবং ঔপন্যাসিক সুজান সন্টাগ লিখেছিলেন প্রায় এক যুগ আগে প্রয়াত লেখক হোর্হে লুইস বোর্হেসকে উদ্দেশ্য করে। চিঠিটি সন্টাগের বই Where the Stress Falls-এ সংকলিত হয়েছে। অনুবাদক লেখাটি অনুবাদ করেছেন ক্লাউদিয়া মার্তিনেসের স্প্যানিশ অনুবাদ থেকে।—বি. স.]

borges_care21.jpg

১৩ জুন ১৯৯৬ নিউ ইয়র্ক

প্রিয় বোর্হেস,

যদিও আপনার সাহিত্য সব সময়ই নিরন্তরের অন্তর্ভুক্ত তবুও আপনাকে একটা চিঠি লেখা মনে হয় না খুব একটা বিস্ময়কর হবে। (বোর্হেস, দশ বছর হয়ে গেছে!) যদি কোনো সমসাময়িক সাহিত্যিককে অমরতার অভিমুখী মনে হয়, সে হচ্ছেন আপনি। যদিও আপনি ছিলেন আপনার সময় এবং সংস্কৃতির এক বিশাল সৃষ্টি, তারপরও আপনি জানতেন কীভাবে আপনার সময় এবং সংস্কৃতিকে অতিক্রম করতে হয় আর এর ফলাফল ছিলো জাদুকরী। আপনার মনোযোগের ব্যাপ্তি এবং উদারতাই হচ্ছে এর বিশেষ কারণ। লেখকদের মধ্যে আপনি ছিলেন অপেক্ষাকৃত কম স্বকেন্দ্রিক এবং স্বচ্ছ, একই ভাবে সবচেয়ে শৈল্পিক। আত্মার প্রাকৃতিক বিশুদ্ধতাও এর এক বিশেষ কারণ। আমাদের মধ্যে আপনি বেশ দীর্ঘ সময় বেঁচে ছিলেন। ধ্বংসের এবং উদাসীনতার চর্চাকে আপনি এমন এক পূর্ণতায় নিয়ে গেছেন যা আপনাকে অন্য যুগের মানসিক পরিব্রাজকে রূপান্তরিত করেছে। আপনার কালচেতনা ছিলো অন্যদের চেয়ে আলাদা, অতীত, বর্তমান ও ভবিষ্যত সম্পর্কে সাধারণ ধারণাগুলো আপনার কাছে তুচ্ছ মনে হয়েছিলো। আপনি বলতে ভালোবাসতেন এই কথা যে প্রতিটি মুহূর্তের মধ্যে অতীত ও ভবিষ্যৎ হাজির রয়েছে। (সম্পূর্ণ…)

8

কবীর চৌধুরীর সঙ্গে আলাপ

বেবী মওদুদ | ২৩ জানুয়ারি ২০১০ ১০:২৭ অপরাহ্ন

kc1.jpg
কবীর চৌধুরী (জন্ম. ৯/২/১৯২৩); ছবি: ফিরোজ আহমেদ, অক্টোবর ২০০৯

[কবীর চৌধুরীর এই সাক্ষাৎকারটি ভিডিওতে গ্রহণ করা হলেও কিছু সম্পাদনা করা হয়েছে। ২১ ও ২২শে অক্টোবর ২০০৯ দুই দফায় সাক্ষাৎকারটি গ্রহণ করা হয়। সাক্ষাৎকারের ভিডিও মোট তিনটি অংশে পরিবেশিত হলো। বি. স.]

ভিডিও ১

বেবী মওদুদ: প্রিয় পাঠক আমরা আজ এসেছি বাংলাদেশের একজন বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ, সাহিত্যিক, শিল্প বোদ্ধা ও অনুবাদক হিসাবে যিনি আমাদের কাছে সর্বজন শ্রদ্ধেয় অধ্যাপক কবীর চৌধুরীর কাছে। একজন বড় মাপের মানুষ হয়ে ওঠার পেছনে যে কতখানি পরিশ্রম দরকার, অভিজ্ঞতা ও চর্চা, সাধনা দরকার আমরা সেটা কবীর চৌধুরীর মধ্যে দেখেছি। বয়স হয়েছে তাঁর প্রায় ৮৮ বছর। ৯ ফেব্রুয়ারি ১৯২৩ সালে তার জন্ম হয়। এখনও এই বয়সে তিনি প্রতিদিন লেখার টেবিলে বসেন এবং বড় ধরনের কাজ করেন অনুবাদের এবং অন্যান্য লেখার। সামনের বই মেলায় তার বোধহয় ১২/১৩টি বই ছাপা হবে। সে বইগুলোর কাজও করছেন। আমরা আজ বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম এর পক্ষ থেকে তার বাসায় এসেছি। তার মুখ থেকে শুনবো তার কথা। তার জীবনের কথা শুনবো, তার শিক্ষা জীবনের কথা, শুনবো তার শৈশব-কৈশোরের কথা।

কবীর ভাই, আপনি কেমন আছেন? আপনার সময় কাটে কীভাবে?

কবীর চৌধুরী: লেখা পড়াতে আমার সময় খুব দ্রুত কাটে এবং আমার মাঝে মাঝে মনে হয় যে ১৮ ঘণ্টা দিন হলে ভাল হতো। আমি সকালে সাড়ে পাঁচটার দিকে উঠে পড়ি। মুখহাত ধুয়ে তারপর ছয়টার মধ্যে লিখতে বসি এবং সারাদিনে অন্তুত ৭/৮ ঘণ্টা লেখার কাজ করি। কিছু পড়ার কাজ করি। কাজেই সময় কাটা নিয়ে অনেকেরই বৃদ্ধ বয়সে যে অভিযোগ থাকে, সময় কাটে না, আমার সেটা নাই।

বেবী মওদুদ: আপনি তো বিভিন্ন সভায় যাচ্ছেন।

কবীর চৌধুরী: হ্যাঁ, সভায় যাচ্ছি। গতকাল একটা খুব তাৎপর্যপূর্ণ সভায় গিয়েছিলাম। বাংলার বাইরে থেকে ‘প্রতীচি’ নামে একটি পত্রিকা প্রকাশিত হয়। প্রমথনাথ বিশীর মেয়ে এটা বের করেন। সেই পত্রিকার পাঁচ বছর পূর্তি উপলকে একটা সভা ছিল। সেই সভাতে ছিলাম, তার পরে সেখান থেকে উঠে বাংলা একাডেমিতে আর একটা সভা ছিল, সেখানে গিয়েছি।

বেবী মওদুদ: এখনও তো বই পড়েন। এর মধ্যে পছন্দসই কী কী বই পড়লেন?

কবীর চৌধুরী: আমি নিয়মিত এখনও পড়ি। একটা বই এখন পড়ছি, খুবই চমৎকার লাগছে। বইটির নাম ‘দি হোয়াইট টাইগার’। খুব কৌতূহলোদ্দীপক ব্যঙ্গাত্মক। তবে তার মধ্যে ভারতের দারিদ্র্যের চিত্রও খুব বাস্তবসম্মত ভাবে উঠে এসেছে। আরও পড়ছি তুরস্কের নোবেল বিজয়ী লেখক ওরহান পামুকের ‘স্নো’। অসামান্য একটি উপন্যাস। সেটা পড়া প্রায় শেষ করেছি এবং ঐ একই লেখকের একটি প্রবন্ধ গ্রন্থ আছে, নাম ‘আদার কালার্স’। আমি ‘আদার কালার্স’ এর বেশ কিছু লেখা বাংলায় অনুবাদ করেছি। সেটাও সামনের বই মেলায় আসবে। আর ‘স্নো’র বাংলা অনুবাদ ‘তুষার’ এখনও শেষ হয়নি, প্রায় ৪৫০ পৃষ্ঠার বই। এখনও ৪০ পৃষ্ঠার মত বাকি আছে। তাও হয়ে যাবে এবং সেটাও এই বই মেলায় আসবে। এই এখন আমার প্রধান কাজ এবং তার পাশাপাশি প্রবন্ধ লেখা তো হচ্ছেই। যেমন বঙ্গবন্ধুর হত্যার মাস সামনেই ১৫ই আগস্ট। তার উপরে লেখার জন্য অনুরোধ আসছে, লিখছি।

বেবী মওদুদ: আপনার শৈশব-কৈশোরের স্মৃতি নিশ্চয়ই মনে আছে কিছু কিছু। অনেকগুলো ভাইবোন ছিলেন আপনারা। (সম্পূর্ণ…)

 

স্লাইড শো: শাহাবুদ্দিন ২০০৯: গ্যালারি চিত্রক, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০০৯ - ৯ অক্টোবর ২০০৯

Get the Flash Player to see the slideshow.
 
পরের পাতা »
Disclaimer & Privacy Policy  |  About us  |  Contact us  |  Bangla Font Help

© bdnews24.com

free counters wordpress com stats