‘অশ্লীলতা’-বিরোধী প্রপাগান্ডা ও ‘সুস্থ’ চলচ্চিত্রের যুগে ঢাকাই সিনেমা

“কিছু ভালো জিনিসের সাথে নিশ্ছিদ্র বিপণন কৌশল আর সুস্থতার ইমেজকে কাজে লাগিয়ে মনপুরা ভালোই দেখিয়েছে।”

ঢাকাই মেইনস্ট্রিম, জমেলা সুন্দরী
এই লেখাটি আল্লার নামে লিখতে চাই। অবশ্য মিশেল ফুকোর নামেও লিখতে পারতাম। সেই ফুকো যিনি একবার টিভি সাক্ষাৎকারে নোম চমস্কি সহ উপস্থিত হয়ে চমস্কির বিপরীত অবস্থান নিয়ে বলেছিলেন—‘মানব-প্রকৃতি’ বলে কোনো বস্তু আছে কিনা, তা আদৌ তাঁর মাথাব্যথা নয়; বরং ইতিহাসের বিশেষ বিশেষ পর্বে ‘মানব-প্রকৃতি’র ধারণা কীভাবে রূপ পেয়েছে আর মানুষকে চালিত করেছে—তা-ই তাঁর পর্যবেক্ষণের বিষয়। এ রকমের কিছু একটা তিনি বলেছিলেন। কথাটা আমার খুব পছন্দ হয়েছে। যুৎসই মনে হয়েছে। আমিও নিয়ত করেছি, অশ্লীলতার কোনো সংজ্ঞায়নে যাব না, বস্তুটা আদতে ভালো না খারাপ, সেসব তালাশ করব না; বরং ঢাকায় শব্দটি কোন পরিস্থিতিতে কী প্রকারে ভদ্রলোকসমাজে এতটা মশহুর হয়ে উঠল, আর তাতে কী ফলটাই বা ফলল, তার ‘মনে হয়’ ধরনের কিছু খোঁজখবর নেব।
—————————————————————–
অনেক বছর ধরে অনুদানের ছবি তৈরি হলেও দেশ-বিদেশের দর্শক বা বোদ্ধামহলে তো এ বাবদ কোনো সাড়া পড়েনি। আমার আন্দাজ, সাড়া না পড়াটাই এ ছবিগুলোর পুরস্কৃত হওয়ার মূল রহস্য। উল্লেখযোগ্য কিছু তৈরি না হওয়ায় সরকারি টাকার অপব্যবহার নিয়ে প্রশ্ন ওঠা স্বাভাবিক। আর এ প্রশ্নকে ঠেকানোর জন্যই পুরস্কার যোগ করে ছবিগুলোর মর্যাদা বৃদ্ধি করা হচ্ছে, যাতে করে অনুদান দেয়া-নেয়া পক্ষগুলো নিজেদের বৈধতা দিতে পারে।… এভাবে বিচিত্রভাবে মেইনস্ট্রিম সিনেমার বিকাশপথ ক্রমেই সংকীর্ণ করে তোলা হচ্ছে।
—————————————————————-
……..
সত্যজিৎ রায়ের অশনি সংকেত-এ ববিতা। ছবির ফরাসী সংস্করণের পোস্টার।
…….
মুশকিলের কথা এই, ফুকোর পদ্ধতি রীতিমাফিক এস্তেমাল করার বিদ্যা আমার পেটে নাই। তাই আগ্রহ থাকলেও আমার কথাগুলো ফুকোর নামে সাজাতে পারছি না। নিজের কব্জির জোরও সামান্য। কারণ, ঢাকাই সিনেমায় ‘অশ্লীলতা’র প্রবেশ ও বিস্তার আর পত্রপত্রিকা-টেলিভিশন ও সভাসমিতিতে এতদ্বিষয়ে ভদ্রলোকশ্রেণীর প্রতিক্রিয়ার ধরন ‘ইতিহাস’সম্মতভাবে হাজির করার জন্য নিষ্ঠাবান গবেষকের শ্রম দরকার। আমি তা করে উঠতে পারিনি। তাই অগতির গতি আল্লাই ভরসা।
১
ঢাকাই সিনেমার অশ্লীলতা সম্পর্কে ভদ্রসমাজের প্রপাগান্ডা প্রথম ব্যাপকভাবে আমার—এবং সম্ভবত আরো অনেকের—নজরে আসে একটি প্রভাবশালী জাতীয় দৈনিকের ‘ছি!নেমা’ শিরোনামের নিয়মিত কলামে। ঐ পত্রিকার রঙ্গম্যাগাজিনে কলামটি ছাপা হত বলে তাতে রঙ্গব্যঙ্গের প্রকোপ ছিল বেশি। কিন্তু পাশাপাশি কোনো ‘সিরিয়াস’ কলামে ঢাকাই সিনেমার হালহকিকত বিশ্লেষিত না হওয়ায় আমরা ধরে নিতে পারি, পত্রিকার নীতিনির্ধারকদের কাছে ব্যাপারটি রঙ্গব্যঙ্গের জন্যই যুৎসই মনে হয়েছে। তার চেয়ে বড় কথা, ঢাকার, এবং সম্ভবত সারা দেশের, ভদ্রলোক মধ্যবিত্তের মধ্যে এ ব্যাপারে বিরল ঐকমত্য দেখা গেছে। তার প্রমাণ পাই ভদ্রলোকশ্রেণীর সব ধরনের মিডিয়ায় প্রায় সমধর্মী মতামতের প্রতিফলনে। সে আজ প্রায় দেড় দশক আগের কথা। তখন থেকে অনেক দিন ঢাকার পত্রপত্রিকায় ‘অশ্লীল’ ছবি প্রদর্শনের খবর প্রকাশিত হতে থাকে। এ ব্যাপারে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী পক্ষগুলোও তৎপর হয় বা হতে বাধ্য হয়। দেশের নানা প্রান্ত থেকে ‘অশ্লীল’ ছবি আটক হবার খবর আসে; চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দেয়, ঢাকাই ছবির অধোগতি কোথায় গিয়ে ঠেকেছে।
সিনেমার অধোগতি তো জাতীয় অধোগতিরই স্মারক। এই অবস্থার দায় ভদ্রলোকেরা নেবে কেন? তারা নেয়ও নি। তাদের মিডিয়ায়, সভা-সেমিনার-সিম্পোজিয়ামে অশ্লীলতার বিরুদ্ধে বিপুল হুঙ্কার ধ্বনিত হয়েছে। তাতে একদিকে শিক্ষিত মধ্যবিত্ত সচকিত-সচেতন হয়েছে; অন্যদিকে সামাজিক মূল্যবোধের চাপেই সম্ভবত, বিভিন্ন সরকার সাধ্যমত অশ্লীলতা রোধের জন্য আইনি উদ্যোগ নিয়েছে। তবে অশ্লীল সিনেমার ব্যাপারিদের উপর চরম আঘাত হেনেছে গেল ‘সিভিকো-মিলিটারি-কর্পোরেট’ সরকার। রীতিমত সামরিক অভিযান চালিয়ে তারা এই দুষ্টক্ষতের মূলোৎপাটন করতে পেরেছে। এ বাবদ পত্রপত্রিকায় প্রকাশিত উল্লাস আমাদেরও—যেহেতু আমরাও রুচিশীল ভদ্রলোক—আনন্দের কারণ হয়েছে। (সম্পূর্ণ…)











…….
জি এইচ হাবীব। আশা করা যাচ্ছে প্রতি সপ্তাহের মঙ্গল বারে আর্টস-এর পাতায় এই উপন্যাসটি ধারাবাহিক ভাবে প্রকাশিত হবে। এবারে অনুবাদের সঙ্গে মধ্যযুগের একটি সংক্ষিপ্ত কালপঞ্জি থাকছে, যা উপন্যাস পাঠে পাঠককে সুবিধা দেবে। এ ছাড়া লেখার নিচে প্রয়োজনীয় টীকাও থাকছে। আর্টস-এ আগে প্রকাশিত একটি রচনা (


…….
…….



