হাবীবুল্লাহ সিরাজীর কবিতা

হাবীবুল্লাহ সিরাজী | ১৭ december ২০১৪ ৯:৩৩ অপরাহ্ন

কিছুই ঘটে না

বানান শেখার জন্য ঘুরে দাঁড়িয়েছে শব্দ
পাতার পতন আটকাবে ব’লে গতি বদলিয়েছে বাতাস
বাঁশি শুনাবে ব’লে রাইফেলের কার্তুজ ফেলে দিয়েছে সৈনিক
মঞ্চে ওঠার জন্য গোয়ালের খুঁটিতে শিং ভেঙেছে গরু
টুপিতে ঢুকবে ব’লে নাপিতের হাতে মাথা পেতেছে শুক্রবার

কিছুই ঘটে না

পদ্যের মতো একটি পুকুর হানা দিলো নীলিমা
রোদের মতো একটি ফুটবল খেয়ে ফেললো মাঠ
অরণ্যের মতো একটি আনন্দ জয় করলো এভারেস্ট
সাহসের মতো একটি বৃত্ত চেখে দেখলো পনির
জ্যৈষ্ঠের মতো একটি জায়নামাজ পাতা হ’লো পশ্চিমে (সম্পূর্ণ…)

গর্জে উঠুক আরেকবার

হামীম কামরুল হক | ১৬ december ২০১৪ ৪:৩১ অপরাহ্ন

hasan.jpgএকাত্তরের মুক্তিযুদ্ধ হতে পারতো একটা বোধিদ্রুম বা বোধের বৃক্ষ, যারা শেকড় থেকে, কাণ্ড থেকে, শাখা-প্রশাখা থেকে, পাতা, ফুল, ফল– সবকিছু থেকে আমরা নিতে পারতাম আমাদের আগামীদিনের পথ চলার রসদ। যেকোনো রকমের অন্ধকার সময়ে একাত্তরের চেতনার টর্চলাইট আমাদের সঙ্গী হতে পারতো। কি ব্যক্তিগত কি রাষ্ট্রীয় সমস্ত সংকটে আমরা সতেজ থাকতে পারতাম একাত্তরের কল্যাণে। কিন্তু সেই বোধ একটু একটু করে যেন ক্ষয়ে গেছে, সেই আলোকবর্তিকা দিনে দিনে অনুজ্জ্বল হয়েছে। এবং সেটা ঘটেছে ভেতরে ভেতরে, বাইরে থেকে বোঝা সম্ভব নয়। কারণ চোখের সামনে মুুক্তিযুদ্ধ নিয়ে অনেক উদ্যোগ-আয়োজন চলছে। কথার ফুলঝুরিরও কোনো অভাব নেই। বড়বড় শোভাযাত্রা নিয়ে স্মৃতিসৌধে ফুল দেওয়া– সবই চলছে, সবই ঠিক আছে, কিন্তু নেই কেবল একাত্তরের চেতনা। একটি উদার মানবিক শোষণমুক্ত দেশ গড়ার সত্যিকারে অঙ্গীকার একাত্তরের পর পর বাড়ির পেছনের অগভীর ডোবায় সেই যে ডুবিয়ে দেওয়া হলো আর সেটি তুলে আনার ইচ্ছা হয়নি। ইচ্ছা হয়নি, কারণ পরিবর্তিত পরিস্থিতি এমন করে আমাদের বোধকে নির্মাণ করেছে, তাতে আর সেখানে ফিরে যাওয়ার দরকার পড়েনি। তারপরও একাত্তর নিয়ে কিছু কথা, কিছু গান ফিরে ফিরে আসে। কেমন ছিল মুক্তিযুদ্ধ, কেমন ছিলেন মুক্তিযোদ্ধারা, তারা কী চেয়েছিলেন, কী পেলেন– সেই প্রশ্নগুলি বার বার নানান সময়ে হানা দিয়েই যায়। বর্তমানে দাঁড়িয়ে চল্লিশ বছরের আগের মানুষটা, যিনি কিনা একজন মুক্তিযোদ্ধা– তার সেই সময় এবং বর্তমান অবস্থান– আমাদের কিছু প্রশ্নে জবাব হয়তো দিতে পারে। তার উত্তর আমাদের মধ্যে যারা এখনো ‘‘একটি উদার মানবিক শোষণমুক্ত দেশে গড়ার’’ কথা ভাবেন তাদের আকুল করতেই পারে। (সম্পূর্ণ…)

প্রকাশ্যে বলিতে নাই: আখতারুজ্জামান ইলিয়াসের ১৯৭১

সলিমুল্লাহ খান | ১৬ december ২০১৪ ১১:০৭ পূর্বাহ্ন

elias.gif১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলন বিখ্যাত আবদুল মতিন ঐ বছরের কিছুদিন–হিশাব করিয়া বলিতে মোট এক বছর সাতদিন–ঢাকার কেন্দ্রীয় কারাগারে বসবাস করিয়াছিলেন। সেখানে যাঁহাদের সহিত তিনি ঘন হইয়াছিলেন তাঁহাদের মধ্যে বিবিধ রাজবন্দী–যথা অধ্যাপক মোজাফফর আহমদ চৌধুরী, অধ্যাপক অজিত গুহ এবং অধ্যাপক মুনীর চৌধুরী। ২০০৩ সালে প্রকাশিত আত্মজীবনীতে আবদুল মতিন লিখিয়াছেন, অধ্যাপক মোজাফফর আহমদ চৌধুরী একবছর কারাগারে থাকিয়া ধৈর্যহারা হইয়াছিলেন, পৌঁছিয়াছিলেন অতিষ্ঠার চরমে। মাথাটা খারাপ হইতে কেবল বাকি ছিল। কারাগারে যাইবার আগে চৌধুরী সাহেব সক্রিয় বা সরাসরি রাজনীতিতে যুক্ত ছিলেন না। অজিত গুহ কমিউনিস্ট পার্টির সদস্য বা সমর্থক ছিলেন। তিনি আবদুল মতিনকে রবীন্দ্রনাথ পড়াইতে চাহিয়াছিলেন। মতিন পড়িতে শুরুও করিয়াছিলেন। আবদুল মতিন আরো জানাইতেছেন, মুনীর চৌধুরী তাঁহার খাতার ওপর মার্কসকে লইয়া ইংরেজিতে তাঁহার লেখা একটা কবিতা দেখিয়া তাঁহাকে বার্নার্ড শ পড়াইতে আরম্ভ করিয়াছিলেন। দুঃখের মধ্যে, তিনি ১৪ মার্চ ১৯৫৩ তারিখে ছাড়া পাইয়া যাওয়ায় আর পড়া হয় নাই। (সম্পূর্ণ…)

আবদুল গাফফার চৌধুরী : অশীতিপর এক তরুণের গল্প

রহীম শাহ | ১৫ december ২০১৪ ৫:২৪ অপরাহ্ন

abdul-gaffar.gifপাকিস্তানি তমসা মোচন করে বাঙালি জাতির যে জাগরণ সূচিত হয় বায়ান্নর একুশেতে, তা সর্বজনের অন্তরে সর্বকালের জন্য ঠাঁই করে নেয় দুই নবীনের কথা ও সুরের সম্মিলনে, আবদুল গাফফার চৌধুরীর রচনা ও আলতাফ মাহমুদের(উল্লেখ্য যে এ গানটির প্রথম সুরকার ছিলেন সংগীতশিল্পী আবদুল লতিফ।) সুরস্পর্শে সৃজিত হয় অমর গান `আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুযশে ফেব্রুয়ারি’। সেই থেকে বাঙালির জাতীয় চেতনার বিকাশের প্রতিটি সংগ্রাম ও তার বিভিন্ন উত্থানের সঙ্গে নিবিড়ভাবে জড়িয়ে আছে আবদুল গাফফার চৌধুরীর নাম।

সাহিত্যে তিনি যে সিদ্ধির পরিচয় দিয়েছিলেন সেই সাধনায় স্থিত হওয়ার অবকাশ সমকাল তাঁকে দেয়নি। জাতির মুক্তি-চেতনা তাঁকে ব্রতী করেছিল আরও প্রত্যক্ষ ও প্রভাবসঞ্চারী সাংবাদিকতা পেশায় নিজেকে নিয়োজিত করতে। লোকভাষার অনন্য মাধুর্য ও ইতিহাস-চেতনার প্রসারতা মিলিয়ে তিনি জাতির আন্তর্তাগিদের রূপ মেলে ধরছিলেন সংবাদপত্রের পাতায়, তাঁর ক্ষুরধার ও ব্যতিক্রমী লেখনীতে। যে অসাম্প্রদায়িক জাতীয়তাবাদী গণতান্ত্রিক চেতনার অনন্য ভাষ্যকার হয়ে উঠেছিলেন তিনি, তা স্বাধীনতার পথে জাতির অভিযাত্রায় হয়েছিল বিশেষ প্রেরণা। (সম্পূর্ণ…)

গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস:

নিঃসঙ্গতার একশ বছর

আনিসুজ্জামান | ১৩ december ২০১৪ ৯:০৮ অপরাহ্ন

border=0বিশ্বসাহিত্যের ইতিহাসে নিঃসঙ্গতার একশ বছর-এর মতো আর কোনো উপন্যাস প্রকাশের পরপরই এতটা পাঠকপ্রিয়তা পেয়েছে কিনা সন্দেহ। জনপ্রিয়তার বিচারে যেমন, তেমনি শিল্পকুশলতা আর শিল্পমুক্তির ক্ষেত্রেও এটি হয়ে উঠেছে এক অনন্য দৃষ্টান্ত। কেবল স্প্যানিশ সাহিত্যেই নয়, গোটা বিশ্বসাহিত্যের ইতিহাসেই একটি মাত্র উপন্যাসে ইতিহাস, আখ্যান, সংস্কার, কুসংস্কার, জনশ্রুতি, বাস্তব, অবাস্তব, কল্পনা, ফ্যান্টাসি, যৌন-অযাচার ও স্বপ্ন– সবকিছুর এমন স্বাভাবিক ও অবিশ্বাস্য সহাবস্থান আগে কখনও দেখা যায়নি।
ঠিক এই কারণে মারিও বার্গাস যোসা এটিকে বলেছিলেন এক সামগ্রিক উপন্যাস (Novela Total), আর পাবলো নেরুদা একে বলেছিলেন, “সের্বান্তেসের ডন কিহোতের পর স্প্যানিশ ভাষায় সম্ভবত মহত্তম উন্মোচন (“perhaps the greatest revelation in the Spanish language since Don Quixote of Cervantes.”)
বাংলাদেশে এখনও পর্যন্ত কিংবদন্তিতুল্য এই উপন্যাসটি মূলভাষা থেকে অনূদিত হয়নি। এই প্রথম এটি আনিসুজ্জামানের অনুবাদে মূল থেকে ধারাবাহিক অনূদিত হচ্ছে। বি. স.
(সম্পূর্ণ…)

রাজার নতুন জামা

সলিমুল্লাহ খান | ১১ december ২০১৪ ৬:৩৫ অপরাহ্ন

আমার সোনার বাংলা, আমি তোমায় ভালবাসি।
চিরদিন তোমার আকাশ, তোমার বাতাস, আমার প্রাণে বাজায় বাঁশি।
ওমা, ফাগুনে তোর আমের বনে ঘ্রাণে পাগল করে,
মরি হায় হায় রে
ওমা, অঘ্রাণে তোর ভরা ক্ষেতে আমি কী দেখেছি মধুর হাসি ॥
কী শোভা, কী ছায়া গো, কী স্নেহ, কী মায়া গো
কী আঁচল বিছায়েছ বটের মূলে, নদীর কূলে কূলে।
মা, তোর মুখের বাণী আমার কানে লাগে সুধার মত,
মরি হায়, হায় রে
মা, তোর বদনখানি মলিন হলে, ওমা আমি নয়নজলে ভাসি ॥

-রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর (সম্পূর্ণ…)

এ ও সে

শচীন দাশ | ৯ december ২০১৪ ৮:১৯ অপরাহ্ন

শেষবেলার দিকে হুড়মুড় করে ঠান্ডাটা নেমে এল। বাতাসে কদিন ধরেই শীতের টান ছিল। টানের পাশাপাশি কনকনে হাওয়া। হাওয়ায় হাওয়ায় এখন হিমগুড়ি নামল। তখন মাথায় টুপি, হাতে দস্তানা আর গায়ে সোয়েটার। পারলে সোয়েটারের উপরে একটা উইন চিটার চাপাতে পারলেও যেন ভালো হয়। বেশ আরামই লাগে।
কিন্তু উইনচিটার নেই। আরামের জন্য শাল একটা টেনে নিলেন ঋতব্রত। কিন্তু গায়ে জড়াতে গিয়েই থমকে তাকালেন। গত শীতে, না না শীতের আগেই হবে বোধহয়, হরিদ্বার থেকে এই শালটা এনে দিয়েছিল না পুপাই। পরা আর হয়নি। পরবে কী, কলকাতায় আর তেমন ঠান্ডা কোথায়। তা বাদে এমন সুন্দর শাল। এসব কি আর ঘরে পরে থাকার জন্য। তাই পরব পরব করেও পরা হয়ে ওঠেনি। অথচ আজ কদিন ধরে সেই শালটাই তার শরীরকে জড়িয়ে যেন উত্তাপ ছড়াচ্ছে।
ঋতব্রত তাকিয়েই রইলেন। কী ভাবতে ভাবতে একসময় সেটা তার নিজের গায়েই জড়িয়ে নিলেন। আর ওই তখনই মনে হল পুপাই। ঘরের ভেতরে এসে নিঃশব্দেই কখন ঝপ করে তার পাশে বসে পড়েছে। বসেই তাকে জড়িয়ে ধরেছে। অনেকটা সেই ছেলেবেলার মতো। বুক নিংড়ে কান্না একটা উঠে আসতে চাইল ঋতব্রতর। কিন্তু কাঁদতে আর পারলেন কই? কান্নাটা যেন জলভরা একটা মেঘের মতো গলার কাছাকাছি এসে কোথাও ঝুলে রইল। এই তো হচ্ছে আজ ক’মাস ধরে এই ঘরটায় বসলেই। তবুও ঘর ছেড়ে কি বেরোতে পারলেন। (সম্পূর্ণ…)

অদীপ ঘোষের কবিতা

অদীপ ঘোষ | ৮ december ২০১৪ ৮:৫১ অপরাহ্ন

মনোকীর্তন

মন ভালো নেই একদমই মন ভালো নেই
সাত সকালেই ছড়িয়েছিলাম ফসলের দানা
তবুও পায়রা অথবা চড়াই ছায়াও ফেলেনি
রোদের আগুন বেড়ে গেছে খুব অদ্ভুতভাবে
পাতলা হয়েছে মানুষের ভিড় ফুটপাত থেকে
সবাই চেয়েছে নিজেরই ছায়ায় শরীর ঢাকতে
যদিও জানি না তা ঠিক কতটা সম্ভবপর
রাক্ষুসে রোদে শরীরটা তাই পুড়তেই থাকে

সত্যিকারের আরাম এখন কোথাও তো নেই
স্বাভাবিক তাই ভালো নেই মন মন ভালো নেই (সম্পূর্ণ…)

নিউটনীয় ঈর্ষা

দীপেন ভট্টাচার্য | ৫ december ২০১৪ ৬:১৮ অপরাহ্ন

newton110.jpgযে কোন “শ্রেষ্ঠ বিজ্ঞানী” প্রতিযোগিতায় আইজাক নিউটন সর্বোচ্চ আসনটি পান, অনেক সময় আইনস্টাইনকেও সেটি দেওয়া হয়। তবে একথা বলা যায় যে নিউটনের বলবিজ্ঞান ও বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি ইউরোপে ও পরবর্তীকালে সারা পৃথিবীতে শিল্প ও কারিগরী বিপ্লব নিয়ে আসে। আমরা এখনো নিউটনের গতিসূত্র পড়ি সেভাবেই যেভাবে নিউটন সেগুলো ১৬৮৭ সনে তাঁর Philosophiæ Naturalis Principia Mathematica বইয়ে লিখে গিয়েছিলেন। নিউটন তাঁর সৃষ্টির জন্য অন্য কারুর ওপর নির্ভর করেন নি, তিনি একাই মানব সভ্যতার জন্য বিজ্ঞানের কাঠামো তৈরি করে দিয়েছিলেন। নিউটনের ক্ষণজন্মা প্রতিভা ইতিহাসে হয়তো অদ্বিতীয়। কিন্তু আমরা অনেকেই জানি না নিউটন তাঁর সৃষ্টিশীল জীবনের বেশীরভাগ অংশই ব্যবহার করেন নি পদার্থবিদ্যার ভিত্তিভূমি রচনা করতে, বরং সেটি গেছে আলকেমি বিদ্যার পরশপাথর তৈরি করার অথবা যিশুর পৃথিবীতে দ্বিতীয় আগমনের দিনটি নির্ধারণ করার মত ব্যর্থ প্রচেষ্টায়। এটা আমাদের অনেকের পক্ষেই বোঝা মুশকিল যে নিউটন তাঁর অসাধারণ যুক্তি-ক্ষমতা দিয়ে আমাদের গাণিতিক হিসাব নিকাশকে সহজ করে দিয়েছেন ক্যালকুলাসের উদ্ভাবনের মাধ্যমে, আকাশ পর্যবেক্ষণকে আধুনিক যুগে নিয়ে এসেছেন প্রতিফলক দূরবীন আবিষ্কারের মাধ্যমে, পৃথিবী থেকে অন্য সৌরীয় গ্রহ, উপগ্রহ, গ্রহাণু, ধূমকেতুতে মহাকাশযান পাঠাবার পথ নির্ধারণ করে দিয়েছেন তাঁর মাধ্যাকর্ষণের নীতির মাধ্যমে, সর্বোপরি বিজ্ঞানের আধুনিক যুগ সৃষ্টি করেছেন পদার্থবিদ্যার প্রতিটি রাশির নিয়মনিষ্ঠ সংজ্ঞা প্রণয়ন করে, সেই নিউটনই আবার কেমন করে বছরের পর বছর কাটিয়েছেন তাঁর পরীক্ষাগারে পারদ থেকে সোনা সৃষ্টি করার প্রয়াসে, কিংবা বাইবেলের পুরাতন ও নতুন টেস্টামেন্টের চুল-চেরা বিশ্লেষণে যে কখন পৃথিবীর ঈশ্বর-প্রদত্ত যবনিকা নেমে আসবে। (সম্পূর্ণ…)

ষাট বছরে বাংলা একাডেমি

তপন বাগচী | ৪ december ২০১৪ ১:১০ পূর্বাহ্ন

bangla-2.gifবাংলা একাডেমি ৬০ বছরে পা দিল ৩ ডিসেম্বর। প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপিত হলো বেশ ঘটা করে। সকালে একাডেমির সকল কর্মী শহীদ মিনারে ফুল দিয়ে দিনের কর্মসূচি শুরু করে। কারণ বাংলা একাডেমি তো ভাষা-আন্দোলনেরই ফসল। বিকেলে প্রতিষ্ঠাবাষির্কীর অনুষ্ঠানে বক্তা ছিলেন অধ্যাপক যতীন সরকার। অসুস্থতার জন্য তিনি আসতে পারেননি। তার লিখিত বক্তব্য পাঠ করে শোনানো হয়। অনুষ্ঠানে স্বাগত ভাষণ দেন একাডেমির সচিব আলতাফ হোসেন আর সভাপতিত্ব করেন আনিসুজ্জামান।

আমরা জানি যে, বাংলা একাডেমির রাজনৈতিক গুরুত্ব আছে। বায়ান্নর গৌরবময় ভাষা-আন্দোলনের পর পূর্ব পাকিস্তানের সাধারণ নির্বাচনে যুক্তফ্রন্টের নির্বাচনী ইশতেহার একুশের প্রতীক হিসেবে একুশ দফার একটি দফায় ছিল বাংলা ভাষা-সাহিত্যের লালন ও বিকাশের জন্য বাংলা একাডেমি প্রতিষ্ঠার ঘোষণা। নির্বাচনে যুক্তফ্রন্ট বিজয়ী হওয়ার পর বাংলাদেশের ভাষা-সাহিত্য ও সংস্কৃতির গবেষণার লক্ষ্য নিয়ে ১৯৫৫ সালের ৩ ডিসেম্বর প্রতিষ্ঠা পায় বাংলা একাডেমি। এর অবস্থান হয় পূর্ব পাকিস্তানের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবন বর্ধমান হাউসে। কালে এটি পরিণত হয়েছে বাঙালির সাহিত্য-সংস্কৃতি-ভাষা তথা যাবতীয় বিদ্যাচর্চার তীর্থকেন্দ্রে। একসময় বাংলা একাডেমিকে বলা হতো জাতির মননের প্রতীক। এখন সেটি বিস্তৃত হয়েছে বাঙালি জাতিসত্তা ও বুদ্ধিবৃত্তিক উৎকর্ষের প্রতীকরূপে । (সম্পূর্ণ…)

মানজুর মুহাম্মদের একগুচ্ছ কবিতা

মানজুর মুহাম্মদ | ৩ december ২০১৪ ৫:২০ অপরাহ্ন

অহেমন্তে হেমন্তের হলুদ খাম

তারপর তুমি নেমে গেলে হন হন পাহাড়ের চূড়া হতে
আমি তখনও গোলাপী জামদানির সুতোর ঘ্রাণের ঘোরে
মেঘেদের সাথে কটেজের বারান্দায়।
নেমে গেল সুর সুর ঝর্ণার জল, সবুজের ধ্যান, বুনো ফুল
বাকী বনভূমে জ্বালিয়ে দিল তুমুল আগুন আমার অজানা ভুল।

একদিন ক্লান্ত আটপৌড়ে সংসারে টুং টাং পিয়নের বেল
চিঠি আছে …… চিঠি….
অহেমন্তের হলুদ খামে ফিরে এলো হেমন্তের কটেজ
তুলোট মেঘ সহ গোলাপী জামদানির সুতোর ঘোর লাগা ঘ্রাণ
চিমটি কেটে বিশ্বাস হল
হেমন্ত পেকে হয়েছে হলুদ রস-টস্-টস্। (সম্পূর্ণ…)

চিত্রশিল্পী কাইয়ুম চৌধুরী: শূন্যতায় তুমি শোকসভা

রহীম শাহ | ১ december ২০১৪ ১১:৫৩ অপরাহ্ন

kaium_46921.jpgসদ্যপ্রয়াত বরেণ্য চিত্রশিল্পী কাইয়ুম চৌধুরী ছিলেন আমাদের চিত্রকলার জগতে অগ্রগণ্য ব্যক্তিত্ব। বড়, ছোট নানা ক্যানভাসে যেমন, তেমনি চিত্রকলার নানান মাধ্যমে তিনি অসংখ্য শিল্পকর্মের জন্মদাতা। বাংলাদেশে গ্রন্থের অলংকরণ ও প্রচ্ছদে তিনি নিয়ে এসেছিলেন নতুন মাত্রা, আর তা ছিলো এতই বৈশিষ্টমণ্ডিত যে তাঁর আঁকা প্রচ্ছদ ও অলংকরণ চেনার জন্য তাঁর নামের উপস্থিতিরও দরকার হতো না। নানান সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে তাঁর উপস্থিতি ছিলো প্রগতিশীল চেতনার সাংস্কৃতিক কর্মী ও শিল্পীদের জন্য এক অনন্য প্রেরণা। তাঁর প্রয়াণ আমাদের জন্য এক অপূরণীয় ক্ষতি হয়ে থাকলো ।
শিল্পী ও ব্যক্তি কাইয়ুম চৌধুরী সম্পর্কে তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন আমাদের সাংস্কৃতিক অঙ্গনের কয়েকজন বরেণ্য ব্যক্তিত্ব। শিশুসাহিত্যিক রহীম শাহর গ্রন্থনায় এখানে তা উপস্থাপিত হলো। বি. স.
(সম্পূর্ণ…)