তারিক সুজাতের তিনটি কবিতা

তারিক সুজাত | ২৩ জানুয়ারি ২০১৭ ১২:২৯ অপরাহ্ন

ছিন্নডানার মানুষপাখি

১.
কয়েক শতাব্দী ধরে এখানে ছিলাম
ছিলাম মানুষ হয়ে মানুষের কাছাকাছি
ধর্ম এসে তোলেনি দেয়াল
ধূতি আর পায়জামা
সাদা পায়রার মতো
উড়তো আকাশে
এক তারে এক সুরে,
ভেজা কাপড়ের আলিঙ্গনে;
সাজানো উঠোন
ফেটে চৌচির হলো
ঘৃণার বারুদে।
১৯৪৭-
সেই কবে চালকবিহীন বাসে
উঠে পড়েছিলাম,
পেছনের সত্তর বছর কাঁদছে নীরবে
শেষ স্টপে
ক্রাচ হাতে দাঁড়িয়ে আছে
বোবা ইতিহাস! (সম্পূর্ণ…)

সাহস ও সৃষ্টির অদম্য লেখক হুমায়ুন আজাদ

মিলটন রহমান | ২১ জানুয়ারি ২০১৭ ১:০৬ অপরাহ্ন

humayun_azadহুমায়ুন আজাদ: বহুমাত্রিক জ্যোতির্ময়। এই উপাধীটি আমরাই প্রথম দিয়েছিলাম। আমি এবং কাজল রশীদ শাহীন ২০০১ সালের শেষ দিকে একটি দীর্ঘ সাক্ষাৎকার করেছিলাম তাঁর। সে বছর ২৫ নভেম্বর দৈনিক আজকের কাগজের ‘তারকা কাগজ’-এ হুমায়ুন আজাদ-এর পুরো প্রচ্ছদবিস্তারি ছবি দিয়ে বেশ গুরুত্বের সাথেই ছাপা হয়েছিলো সেটি। তবে ছাপা হওয়ার আগে শিরোনাম নিয়ে কথা বলি হুমায়ুন আজাদ-এর সাথে। তিনি ‘হুমায়ুন আজাদ: বহুমাত্রিক জ্যোতির্ময়’ এই শিরোনামটি পছন্দ করে বলেন, হুম, দিতে পারো উপাধীটি, আমার জন্য যথার্থ’। আমাদের নেয়া সাক্ষাৎকারটি তিনি ধর্মানুভূতির উপকথা ও অন্যান্য গ্রন্থে নির্বাচিত সাক্ষাৎকার হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করেছেন।

ধীমান এবং ঋষিতুল্য এই ব্যক্তিত্বের প্রতি আমার আগ্রহ সবসময় বেশিই ছিলো। এক সময় তাঁর খুব কাছাকাছি থাকার সুযোগও হয়েছে। এখন প্রশ্ন জাগতে পারে কেন তাঁকে ‘বহুমাত্রিক জ্যোতির্ময়’ বলেছি। কারণ তিনি বাংলাসাহিত্যের অনেকগুলো ক্ষেত্র আলোকিত করেছেন। ভরিয়ে তুলেছেন মৌলিক কাজের জোছনায়। তিনি কবি, ঔপন্যাসিক, ভাষাবিজ্ঞানী, সমালোচক, প্রাবন্ধিক, কিশোরসাহিত্যিক, অনুবাদক, গবেষক এবং একজন দক্ষ শিক্ষক। তার নিজের লেখক চরিত্রে যুক্ত ছিলো প্রথাবিরোধিতা। হুমায়ূন আজাদ রাষ্ট্র এবং সমাজের অনেক প্রথা ভেঙে দিতে চেয়েছিলেন। তিনি কেন তা চাইতেন, সে ব্যাখাও তাঁর বিভিন্ন লেখা এবং সাক্ষাতকারে উদ্বৃত হয়েছে। একটি রাষ্ট্র তাঁর কাছে সর্বময় ক্ষমতা বা বিশ্বাসের জায়গা ছিলো না। বরং রাষ্ট্রের চেয়ে গুরুত্ব দিয়ে দেখেছেন একজন কবি, বিজ্ঞানী কিংবা দার্শনিককে। তাঁর মতে একটি রাষ্ট্র পরিচালনার জন্য প্রথম শ্রেণির মানুষের প্রয়োজন পড়ে না। কিন্তু কবিতা, দর্শন এবং বৈজ্ঞানিক আবিস্কারের জন্য প্রথম শ্রেণির মানুষ প্রয়োজন হয়। চলুন দেখা যাক এর পেছনে তিনি কি যুক্তি উপস্থাপন করেছেন, ‘মনে করা যাক যদি শেক্সপীয়র মন্ত্রী হতেন, রবীন্দ্রনাথ রাষ্ট্রপতি হতেন বা মনে করা যাক আইনস্টাইন বিজ্ঞানচর্চা ছেড়ে রাজনীতি করতেন, তাহলে কি সভ্যতার জন্য তা মঙ্গলজনক হতো? তা নয়। যিনি সৃষ্টিশীল হবেন, স্রষ্টা হবেন, বৈজ্ঞানিক দার্শনিক, অর্থনীতিবিদ বা সমাজবিজ্ঞানী, মনোবিজ্ঞানী হবেন, তাঁর প্রবণতাই ভিন্ন। তিনি সভ্যতা সৃষ্টি করেন। রাজনীতিবিদরা তা করে না( সাক্ষাৎকার-হুমায়ুন আজাদ:বহুমাত্রিক জ্যোতির্ময়।’ (সম্পূর্ণ…)

অলভী সরকারের একগুচ্ছ কবিতা

অলভী সরকার | ১৯ জানুয়ারি ২০১৭ ৬:৫০ অপরাহ্ন

আমি আর কোথাও থাকি না

মাঝে মাঝে কিছুক্ষণ,
কোথাও থাকি না আমি।

ফিরে এলে দেখি,
এক মিনিট,
এক ঘণ্টা,
সম্পূর্ণ একটি দিন
পার হয়ে গ্যাছে।

সিগনালে, সড়কবাতির নিচে
আটকা পড়ে শ্রমিকের গাড়ি।
রাতের শহর।

কয়েকটি পুরুষ মশা
গলে যাচ্ছে নখের খোঁচায়
রক্তহীন।

অতঃপর, সড়কবাতির নিচে
তালাবন্ধ খুচরো দোকান,
পোড়া সিগারেট, আধা-ভেজা
টি ব্যাগের স্তুপ।
অজস্র পিঁপড়ার লাশ। (সম্পূর্ণ…)

এই শীতে পাতাগুলি পাখি হয়ে যায়

মুহম্মদ নূরুল হুদা | ১৮ জানুয়ারি ২০১৭ ৮:৪৬ অপরাহ্ন

এই শীতে শব্দগুলি পাখি হয়ে যায়;
শূন্যের হৃদয় ছেড়ে খুঁড়ে খায়
অন্য এক শূন্যের হৃদয়:
এই শীতে পাতাগুলি পাখি হয়ে যায়;
উড়ে উড়ে এতোটা সদয় তুমি,
হায় তরু, এতোটা নির্দয়!

অনঙ্গ হৃদয় ছেড়ে ফিরে আসো,
শব্দ-নারী, অঙ্গের ভিতর;
যেহেতু পাথর নও, শব্দ-বধূ,
নও তুমি যেহেতু নিথর।

মানুষ শুশ্রুষা পেলে
উড়ে যায় পাখির ডানায়,
ভালোবাসা আলোভাষা,
শুধুমাত্র সদাচারী মানুষে মানায়। (সম্পূর্ণ…)

প্রদীপ করের পাঁচটি কবিতা

প্রদীপ কর | ১৮ জানুয়ারি ২০১৭ ১০:৫৪ পূর্বাহ্ন


দরজা

আমার বাড়িতে অনেকগুলো ঘর।
যতগুলো দরজা আছে
জানলা আছে তারও চেয়ে বেশি।
আলোবাতাস আসে। এই ঘরে
যতগুলি দরজা আছে
ততগুলি
মানুষ তো নেই
ফলে
আমি একাই ভিতরে বাইরে আসা যাওয়া করি…
তাই, দরজাগুলি সকল সময় খোলা থাকে

আমি সমস্ত দরজাই সব সময় খুলে রাখতে চাই
তার জন্য
আজ না হোক, কাল বা পরশু বা তার পরদিন

সে, যদি অন্তরে প্রবেশ করতে চায়… (সম্পূর্ণ…)

মাহবুব আজীজের পাঁচটি কবিতা

মাহবুব আজীজ | ১৬ জানুয়ারি ২০১৭ ৬:২৭ অপরাহ্ন

আরও একটি ট্রেন

farzanaআরও একটি ট্রেন চলে গেল
ধীরে ধীরে প্লাটফর্ম ছেড়ে এগোল।
ঝমঝম শব্দ চারপাশ দুলিয়ে কাঁপিয়ে,
যেন বিশাল এক অজগর যাচ্ছে চলে হেলেদুলে;
আকষ্মিক গতি এলো তার শরীরে, প্রচন্ড, উড়ে যাবে মুহূর্তে!

তাকিয়ে তাকিয়ে দেখলুম একটানা
না। ট্রেনে উঠতে ইচ্ছে হলো না এবারও;
আমারই চোখের সমুখে ক্রমশ প্রাণবান হয়ে
দাঁড়িয়ে থাকা ট্রেন গতিময় হয়ে উঠল।
যাক না; যার ইচ্ছে, যখন-খুশি
আমি আরও একটু দাঁড়িয়ে থাকি। (সম্পূর্ণ…)

সৈয়দ হকের কথাসাহিত্য: নক্ষত্রের কারুকাজ

মণিকা চক্রবর্তী | ১৪ জানুয়ারি ২০১৭ ১০:৪২ অপরাহ্ন

Syed+Shamsul+Haq_26092016_0001‘আমাদের অনেক দুপুর ছিল কিন্তু আমরা পৌঁছতে পারিনি সন্ধ্যার কাছে।
আমাদের অনেক রাত ছিল কিন্তু আমরা পৌঁছতে পারিনি নক্ষত্রের কাছে।’
সৈয়দ শামসুল হক আমাদের কালের এক শ্রেষ্ঠ লেখক। সাহিত্যের সকল শাখায় তাঁর বিচরণ। তাঁকে চিনতে পারা,তাঁর খুব কাছে যাওয়ার পথটি খুবই কঠিন। তাঁকে যেটুকু জেনেছি তাঁর লেখার মধ্যে দিয়ে। তাঁর ব্যক্তিত্ব,বাচন মনোমুগ্ধকর। যতবার কাছ থেকে দেখেছি ততবারই আলোড়িত হয়েছি। সাহিত্যের এমন কোনো শাখা নেই যেখানে সৈয়দ হকের বিচরণ নেই। কবিতা, উপন্যাস, ছোটগল্প, নাটক, গান,অনুবাদ সকল শাখাতেই তিনি দ্যুতিময়। স্বকীয় এক ভাষা নির্মানে তিনি সার্থক। নতুন নতুন ভাবনায় সমৃদ্ধ তাঁর লেখার আবেগ,আকুতি,জীবন যন্ত্রণা, দেশপ্রেম।
স্কুল জীবনে সংবাদ পত্রিকাটির সাথে আমার একটি আত্মিক সর্ম্পক গড়ে ওঠে। তার একটি অন্যতম কারণ ছিল তাঁর লেখা শিল্প সাহিত্য ও সংস্কৃতি বিষয়ক কলাম ‘হৃৎকলমের টানে’। খুবই জনপ্রিয় ছিল এই কলামটি। এই কলামের নানা প্রসঙ্গ ঘিরে চিঠি লিখেছি কখনও মনে মনে,কখনও প্রকাশ্যে। সমাজজীবনের নানা সংকট অতি দক্ষতার সাথে খুব তীব্র আর তীক্ষ্ণভাবে প্রতিফলিত হত এই কলামটিতে। নতুন নতুন ভাবনায় ভিতরে ভিতরে চমকে উঠেছি এসব লেখা পড়ে। নিজের ভিতরে নানা রকম বোধের বিকাশ সেসময় টের পেতে থাকি। সংবাদ পত্রিকাকে ঘিরেই তার উপন্যাস ‘বৃষ্টি ও বিদ্রোহীগণ’ ধারাবাহিকভাবে পড়তে থাকি। তখন আমার বয়স অল্প। তাঁর লেখা আমাকে মুগ্ধতার ঘোরে ভরিয়ে রাখত। (সম্পূর্ণ…)

দুই বাগানের ফুল

ওমর শামস | ১২ জানুয়ারি ২০১৭ ১১:১৭ পূর্বাহ্ন


১. ভূমিকা

:
border=0অক্তাবিও পাজ, মেক্সিকোর কবি-নৃতাত্ত্বিক-ডিপ্লোম্যাট, ১৯৫১ সনে এক সরকারি রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সফরে ভারতে গিয়েছিলেন। শুধু ছ-মাস ছিলেন। ১৯৬২ তে তিনি মেক্সিকোর রাষ্ট্রদূত হয়ে আবার দিল্লী পৌঁছান। এবার ছ-বছর অবস্থান করেছিলেন, শুধু ভারতের নয় আফগানিস্তান,পাকিস্থান, সিংহলের রাষ্ট্রদূত হিশাবেও। তিনি সারা ভারতবর্ষ, আফগানিস্তান প্রভূত ঘুরেছিলেন, বিশেষ করে ঐতিহাসিক নিদর্শন, ভারতীয় ইতিহাস-সংস্কৃতি, হিন্দু-বৌদ্ধ ধর্ম পড়েছিলেন। এসব নিয়ে স্থানীয় বুদ্ধিজীবীদের সঙ্গে আলাপ-আলোচনা করেছিলেন। অবশেষে বই লিখছিলেন : Conjunctions and Disjunctions, The Monkey Grammarian, In Light of India।Alternating Currents বইতেও বৌদ্ধচিন্তা নিয়ে প্রবন্ধ আছে। A Tale of Two Gardens, তাঁর ভারতবর্ষে থাকাকালীন রচিত কবিতার সংগ্রহ। “দুই বাগানের গল্প” গ্রন্থের কবিতাগুলোর নাম : মথুরা, আমীর খুসরো-র সমাধি, হুমায়ুন-এর সমাধি, লোদি উদ্যান, উদয়পুরে একদিন, মাইসোর-এর রাস্তায়, উটকামুন্ড, মাদুরাই, কোচিন, হিরাটে সুখ, থাঙ্গিগারু গিরিপথ, বৃন্দাবন, শূন্যতা, মৈথুন, এলিফান্টার দ্বীপে রবিবার । বৌদ্ধ, হিন্দু দর্শন সংক্রান্ত বিষয় অথবা ভূগোল, ঐতিহাসিক স্থান, ঘটনার মধ্যে দিয়ে ভারতবর্ষীয় চিন্তাকে বোঝা ও প্রকাশ করা। তিনি আমীর খুসরোকে, সূফিবাদ, তাঁর কবিতা এবং নিজামুদ্দীন আউলিয়া-র সঙ্গে সম্পর্ককে বোঝার চেষ্টা করেছিলেন। আমীর খুসরো (১২৫৩-১৩২৫) ভারতে জন্মগ্রহণ করা তুর্কি বংশীয় পণ্ডিত, সূফি, ঐতিহাসিক, কবি এবং রাজসভাসদ-মন্ত্রী ( আলাউদ্দীন খিলজী এবং অন্যন্য বাদশা-র)। দুই ভূগোলের, দুই যুগের দুই কবির কয়েকটি কবিতা অনুদিত হলো। দুজনের কবিতার মেজাজ, গঠন অবশ্যই আলাদা – তাঁরা দুই বাগানের ফুল। (সম্পূর্ণ…)

হেমন্তের পুষ্পরাজ্যে ভ্রমণ

মোকারম হোসেন | ১১ জানুয়ারি ২০১৭ ১২:৪৩ অপরাহ্ন

Stholpodmoবাংলার ঋতুবৈচিত্র উপভোগ করতে হলে গ্রামই উত্তম। সেখানে প্রকৃতির রূপ রস গন্ধ আপন মহিমায় উদ্ভাসিত হয়। আমরা অনুভব করি পরিবর্তিত বাতাসের ছোঁয়া। দেখি বদলে যাওয়া রূপ। কিন্তু তাই বলে কি নগর প্রকৃতি আমাদের শূণ্য হাতে ফিরিয়ে দিবে? না, মনের চোখ দিয়ে দেখলে আমরা শহরেও ঋতুর পালাবদল অনুভব করতে পারি। যদিও এখানে হেমন্তের নবান্ন আয়োজনকে একান্তে পাওয়া যাবে না, তাতে কি, এখানে আছে কার্তিক-অগ্রহায়ণের অনন্য পুষ্পসম্ভার।
ক্যালেন্ডারের পাতায় শরত বিদায় নিলেই যে, কাশ-শিউলির স্নিগ্ধতা হারিয়ে যাবে, এমনটা নয়। শরতের পুষ্পবৈচিত্র হেমন্ত অবধি ছড়িয়ে থাকে। এরই মধ্যে দুএকটি করে হেমন্তের ফুল ফুটতে শুরু করে। হেমন্তের সবচেয়ে দূরবাহী ও তীব্র গন্ধের ফুল ছাতিম। হেমন্তে রাতের নিস্তব্ধতায় নরম বাতাসের সঙ্গী হয়ে ছাতিমের গন্ধ ভেসে বেড়ায়। ঢাকায় বেশ কিছু ছাতিম দেখা যায়। আবদুল গণি রোড, সিরডাপ মিলনায়তন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় উদ্ভিদউদ্যান, সোহরাওয়ার্দী উদ্যান, রমনা পার্ক ও তেজগাঁও চ্যানেল আই প্রাঙ্গণসহ বিভিন্ন পথপাশে দেখা যাবে ছাতিমের উচ্ছ্বাস। (সম্পূর্ণ…)

মাৎসুও বাশোর গল্প: বৃদ্ধা মা

সোহরাব সুমন | ৯ জানুয়ারি ২০১৭ ৭:৫২ অপরাহ্ন

গল্পটি ইংরেজিতে দ্য স্টোরি অব দি এজড মাদার নামেও পরিচিত, জাপানি এই লোককাহিনিটিতে অজানা এক শাসকের গল্প বলা হয়েছে যিনি তার দেশের সব বৃদ্ধকে পরিত্যাগ করে মৃত্যু বরণ করতে দেয়াসহ আরো সব নিষ্ঠুর আদেশ জারি করতেন। এখানে বাশো একজন মা এবং তার ছেলের পরস্পরের প্রতি ভালোবাসা নিয়ে করুণ একটি গল্প লিখেছেন। গল্পটি ইংরেজি থেকে অনুবাদ করেছেন সোহরাব সুমন। বি. স.

Aged-motherঅনেক অনেক দিন আগে পাহাড়ের পাদদেশে এক দরিদ্র কৃষক এবং তার বিধবা মা বসবাস করত। তাদের একখন্ড জমি ছিল, সেখান থেকে তাদের খাবার-দাবার আসতো। তারা ছিল খুবই বিনয়ী, শান্তিকামী, এবং সুখী।
এক অসীম ক্ষমতাধর নেতা সে সময় শাইনিং শাসন করছিলেন। একজন যোদ্ধা হবার পরও স্বাস্থ্য আর শক্তিহানির যে কোন ঘটনার প্রতি তার ছিল প্রচণ্ড ধরনের কাপুরুষোচিত এক সঙ্কোচ। এধরনের ধ্যান-ধারণা থেকে সে নিষ্ঠুর এক আদেশ জারি করতে প্রোরোচিত হয়। সমস্ত প্রদেশ জুড়ে সত্বর সব বৃদ্ধ লোকেদের মেরে ফেলার কঠোর আদেশ জারি করা হয়। বর্বরতম সেই যুগে, মরবার জন্য বৃদ্ধদের দূরে কোথাও ফেলে আসার রীতি খুব অস্বভাবিক কোন ঘটনা ছিল না। দরিদ্র কৃষক খুব ভক্তি আর শ্রদ্ধা সহকারে তার বৃদ্ধা মাকে ভালোবাসতো আর তাই এমন আদেশ শুনে তার মন গভীর দুঃখে ভারাক্রান্ত হয়ে ওঠে। কিন্তু শাসকের আদেশ অমান্য করবার কথা কেউই দুবার চিন্তা করতে পারতো না, তাই প্রচণ্ড হতাশায় বারবার দীর্ঘশ্বাস ফেলে, সেই যুবক তার মায়ের জন্য সে সময়কার প্রচলিত সবচেয়ে সদয় মৃত্যু নিশ্চিত করবার প্রস্তুতি নিতে শুরু করে। (সম্পূর্ণ…)

মাহী ফ্লোরার একগুচ্ছ কবিতা

মাহী ফ্লোরা | ৭ জানুয়ারি ২০১৭ ৩:২২ অপরাহ্ন

১.
কয়েক মাইল শূন্যতার ভেতর ঘুরপাক খাচ্ছে আমার মাঝবয়সী ভুল।
এই স্বপ্নের সাথে সেই স্বপ্নের মিল নেই! জীবনের কথা ভাবতে ভাবতে
আমিও সেই পাহাড়ি স্কুলে গিয়ে চাকরি চাইব। আর গোল একুরিয়ামে
চাষ হতে থাকবে কিছু ঔষধি মাছ!

ভাল লাগছেনা আমার, এভাবে কত আর পিছু টানবে হে বৈশাখ?

২.
পথ থেমে আছে, শূন্য আর শূন্যের মাঝে
হলুদ সংবাদ ধারন করেছে
গোঁজামিলের চিবুক।

হেঁটে হেঁটে আমার ক্লান্তি আসে, নতুন
বৃক্ষের নিচে কয়েকটি মুখ, আমিও নেব
প্রতিশোধ, হব ব্যস্ত কাঁচপোকা!

এই নামজন্মের শেষে দেখি আমার পা
উল্টে গেছে, আমি এখন কোন মুখে
জুতো পরব! (সম্পূর্ণ…)

সন্দীপন চক্রবর্তীর গুঁড়ো গুঁড়ো কবিতা

সন্দীপন চক্রবর্তী | ৬ জানুয়ারি ২০১৭ ২:১৭ অপরাহ্ন

১.
অনন্ত কোথায় থাকে? ওপাড়ার ফ্ল্যাটে?
আমাকে তো একদিন চোখ মেরেছিলো
#
ইশারা বুঝিনি, তাকে অসতী ভেবেছি —
এ লেখায় সেই পাপ তোমাতে অর্শালো

২.
বাজে কথার ভিড়ে আমার জীবন শুধু খরচ হয়ে যায়
যেসব কথা লিখবো ভাবি, সেসব কিছু লেখা হয় না আর
#
কে কার আগে মাংসখণ্ড দখল করে নেবে
তা নিয়ে শুধু ঈর্ষা চলে, কামড়াকামড়ি চলে
#
না-লেখা সব শব্দগুলোর দিকে রোজ ঝুঁকে পড়ে
আমাদের এই ঢাউস নিষ্ফলতা (সম্পূর্ণ…)

পরের পাতা »

Disclaimer & Privacy Policy  |  About us  |  Contact us

© bdnews24.com