গ্রন্থমেলা ২০১৬: নতুন মুখ নতুন বই

অলাত এহ্সান | ১০ ফেব্রুয়ারি ২০১৬ ১০:২৯ অপরাহ্ন

সোহরাওয়ার্দী উদ্যান এখন বইয়ের কাঁচা সৌরভে উদ্বেল। বাংলা একাডেমির ষাট বছর পদার্পনের এই বছরে বইমেলার পরিসর বেড়েছে আগের চেয়ে। ফাগুনের এই মেলা ঘিরে বইপ্রেমি মানুষের সমাগম। নতুন ও পুরাতন বইয়ের উৎসব। বইমেলা প্রতিবছর হাজার হাজার নতুন বই নিয়ে আসে। সেই সঙ্গে নতুন লেখকদেরও পরিচয় করিয়ে দেয় এই মেলা। এবারও মেলায় প্রথম বই বের করেছেন এমন লেখক কম নন। এদের অধিকাংশই তরুণ। বিষয় ভাবনা ও সাহিত্য সাধনায় কেউ কেউ যথেষ্ট পরিপক্ক। তার কারণ দীর্ঘ সময়ের প্রস্তুতি ও একাগ্রতা। এবারের নতুন কেতন উড়িয়ে প্রথম বই প্রকাশ করেছেন এমন বই ও সাহিত্যিক নিয়ে লিখছেন অলাত এহ্সান।

গুলতেকিন খান : আজও, কেউ হাঁটে অবিরাম
border=0এবারের বই মেলায় গুলতেকিন খানের প্রথম বই প্রকাশ একটি বড় খবর। বাংলা গল্প-উপন্যাসের পাঠকদের কাছে তিনি অপরিচিত নন। বাঙালি মুসলমান লেখকদের মধ্যে স্বনামধন্য লেখক প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁয়ের নাতনী তিনি। তাকেও ছাপিয়ে তার আরেক পরিচয় তিনি প্রয়াত লেখক হুমায়ূন আহমদের সাবেক স্ত্রী। কিন্তু তিনি নিজেও যে একজন সাহিত্যিক তা অনেকেরই জানা ছিল না। স্কুলবেলা থেকে ছড়া চর্চা ও পত্রপত্রিকায় প্রকাশ তা প্রকাশ করলেও কবিতায় তার সৃষ্টিশীল হাতের পরিচয় ঘটেছে এই প্রথম। তাম্রলিপি থেকে প্রকাশ হয়েছে তার প্রথম কাব্যগ্রন্থ আজও, কেউ হাঁটে অবিরাম। প্রথম বইয়ের অনুভূতি প্রকাশ করতে গিয়ে তিনি বলেন, ‘বই প্রকাশের অনুভূতি খুবই ভাল।’ তিনি স্মরণ করেন, ‘সেই কিশোরী বয়স থেকেই ছড়া লিখতাম। ষষ্ঠ, সপ্তম শ্রেণিতে থাকাকালেই রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, জীবনানন্দ দাশ প্রায় মুখস্থ হয়ে যায়। আসলে দাদার উৎসাহেই আরো পড়া হত। পত্রিকায় ছড়া প্রকাশ হওয়ার পর দাদাকে দেখালে আমার মাথায় হাত রেখে আর্শিবাদ করেন। তাঁর অনুপ্রেরণায়ই এগিয়ে যেতে থাকি। কিন্তু বিয়ের পর আর কবিতা চর্চা হয়ে ওঠেনি। কেউ আমাকে উৎসাহ দেয় নি। বিয়ের আগে দাদা ছিলেন, কিন্তু বিয়ের পরে কেউ না। দেখা যেত আমার সন্তানের বাবা রাত জেগে লিখছেন, আর আমি একা একা পড়ছি। তারপর প্রবাসে থাকায় তাতেও ছেদ পড়ে। বিদেশ থেকে ফিরে এসে স্কুল শিক্ষকতায় যোগ দেয়ার পর সহকর্মীদের মধ্যে আমার কবিতা লেখার সংক্রমণ ছড়াতে থাকে। শ্রদ্ধেয় সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী, সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম স্যার উৎসাহ দেন লেখালেখি চালিয়ে যাওয়ার জন্য। তখন ফেসবুকে কবিতা লিখতাম। তারা ভীষণ উৎসাহ দিতেন। উৎসাহ দেন বই করার জন্য। কন্যা-পুত্ররা ধরে এবার বই মেলাতেই বই করার জন্য। মূলত ফেসবুকে লেখা সেই কবিতাগুলোর থেকে যাচাই বছাই করে এবার বই করলাম। বই প্রকাশ করে খুব ভাল লাগছে। এখন প্রিয় মানুষরা পড়তে পারবে। দাদাকে বইটা উৎসর্গ করতে পেরে ভাল লাগছে। তিনিই ছিলেন আমার সকল প্রেরণার উৎস। এখন পাঠকদের কাছ থেকে কেমন সারা পাই, তার ওপর নির্ভর করবে আমার আগামীতে বই করার ইচ্ছা। তবে লেখালিখি তো চলবেই।’ (সম্পূর্ণ…)

নারী দীপাবলী: তুমি হবে সে সবের জ্যোতি

বিপাশা চক্রবর্তী | ৯ ফেব্রুয়ারি ২০১৬ ৮:৩৫ অপরাহ্ন

border=0নারী কি পুরুষের চেয়ে বুদ্ধি আর কর্ম ক্ষমতায় কম? পুরুষের সাথে প্রতিদ্বন্দ্বিতাই কি নারী মুক্তির পথ! নারীর ওপর সনাতন আধিপত্য বজায় রেখেই কি পুরুষ পেতে পারে জীবনের শ্রেষ্ঠ আনন্দ!
ভিভ ল্য দিফেরঁস! অর্থাৎ ‘বেঁচে থাক নারী-পুরুষের বিভেদ’–এই বলে এক সময় শোর তুলেছিলেন নারী মহিমার পূজারী ফরাসিরা। বলা ভাল, ফরাসি পুরুষরা। দেখা যায়, জগৎ জুড়ে পুরুষরা দুটো কাজই করেন- নারীর পূজা আর নারী নিপীড়ন। যেটা করে উঠতে পারেন না সেটা হল নিজের পাশাপাশি নারীকে সমমর্যাদায় স্থাপন। অভিযোগ হয়তো পুরুষেরও থাকতে পারে। সভ্যতার বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন অঞ্চলে মাতৃতান্ত্রিক সমাজে পুরুষ হয়তো যথাযথ মর্যাদা পায়নি। তারপরেও অধিক শারীরিক বলের অধিকারী পুরুষের দাপটেই ছেয়ে আছে, নারী-পুরুষের যৌথ মানব সভ্যতার ইতিহাস। নারী-পুরুষের শারীরিক, মানসিক, জৈবিক ভূমিকায় পার্থক্য স্পষ্ট। প্রাকৃতিক কারণে কেউ নারী কেউ পুরুষ হয়ে জন্মায়। বয়োসন্ধি বা একটি নির্দিষ্ট সময়ের পর শারীরিক মানসিক পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে হরমোনের প্রভাব এবং অবশ্যই বংশবিস্তারের প্রবণতা থেকে তারা একে অন্যের প্রতি আকর্ষণ বোধ করে, কাছে আসে, ভালবাসে, মিলিত হয়, সন্তান জন্ম দেয়। এটাই জগতের নারী পুরুষের পরিপূরক শাশ্বত রুপ। অথচ এই রূপ কালে কালে তার প্রাধান্য হারিয়েছে। নারীর থেকে পুরুষ, পুরুষ থেকে নারী দূরে সরে গেছে ক্রমশঃ। নারী-পুরুষের গভীর অনুরাগের সম্পর্কে কোথায় যেন ঢুকে গেছে রাজনীতি। নারী স্বাধীনতার প্রবক্তা কেট মিলেটের ভাষায় ‘সেক্সুয়াল পলিটিক্স’। পৌরুষময় সমাজে ঘরে বাইরে নারীর সম-অধিকার, সম্মান, মর্যাদা ইত্যাদি–এসব নিয়ে ভেবেছেন ও এখনও ভেবে চলেছেন বহু নারীনেত্রী ও অতিউৎসাহী নারীবাদী লেখক। তাদের কাজগুলো কখনও ছিল যৌক্তিক ও ন্যায্য। তেমনি অনেকের কাজ ও কথায় ভ্রান্ত উদ্ভট সব দাবী ও ধারণাও রয়েছে। এমনকি কিছু কিছু নারীবাদী নারীকে স্পর্শকাতর, সংবেদনশীল, লাজুক, নরম, দুর্বল করেই উপস্থাপন করে নিজের কথাগুলো বলতে পছন্দ করেন। আর এসবই হয়ে উঠেছে কারো কারো কাছে বিখ্যাত হবার হাতিয়ার। বেশিরভাগ নারীবাদী লেখায়, আন্দোলনে ও উচ্চারণে নারীর যৌন বিষয় ও ঘরে-বাইরে সমঅধিকার যতটা আসে ততটা আসে না নারীপুরুষের বিবর্তমান সম্পর্ক ও ইতিহাস, জৈবিক ভূমিকা, বৈজ্ঞানিক বিশ্লেষণ, নতুন-পুরোনো সমস্যার সমাধান ও ভবিষ্যতের ভাবনা। (সম্পূর্ণ…)

‘যখন ক্রীতদাস স্মৃতি ’৭১’: দহন ও দ্রোহের অনন্যোপায় প্রকাশ

অলাত এহ্সান | ৮ ফেব্রুয়ারি ২০১৬ ১১:১৯ অপরাহ্ন

border=0বইটি পড়ে মনে হয়, লেখক নাজিম মাহমুদ এটি মোটেই লিখতে চান নি। কিন্তু সেই সময়ের অবস্থা এমনই ছিল যে, এটা লিখতে বাধ্য হয়েছেন। অনন্যোপায় হয়ে লিখেছেন। প্রচণ্ড অনীহা ও সন্দিগ্ধতার ভেতর দিয়ে লিখেছেন। একজন মানুষের দহন ও দ্রোহের গভীর থেকেই কেবল এই ধরনের স্মৃতি লেখা যায়। আমরা যতটা সহজভাবে মুক্তিযুদ্ধের সময়কে ফ্রেম বন্ধী করি, ব্যাপারটা ঠিক ততটা সহজ কিছু ছিল না। এর এক-একটি মুহূর্ত এক-একটা বছর কিংবা যুগের যন্ত্রণা নিয়ে হাজির হয়েছে কারো জীবনে। হানাদারদের কবল থেকে বাঁচতে গিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় এলাকা ছেড়ে একটু দূরের মীরগঞ্জে আশ্রয় নিয়েছেন লেখকের পরিবার, সেখানেও হানাদারদের উপস্থিতি। তখন বাঁচার তাগিদে গর্তে নেমেছিলেন সপরিবারে। হায়, সেটা বাঁচার জন্য ক্ষণিক আশ্রয় হলেও, ওটা মানুষের মল-মূত্রের ওই ভাগাড়ে এক মুহূর্ত একবছরের চেয়েও দীর্ঘ মনে হবে।

তাছাড়া মুক্তিযুদ্ধের সময়প্রবাহে অজস্র গলি, রন্ধ্র, চোরাস্রোত, চোরাবালির ফাঁদ আর মহাকালের গহ্বরের মতো অতিকায় ক্ষত ছিল। সেই ক্ষতগুলো, ফাঁকগুলো খুঁজে বের করা দরকার। যুদ্ধকালীন পরিস্থিতিতে একটা বিশ্ববিদ্যালয় চত্বর কিভাবে অজস্র চোরাবালির ক্ষেত্র হয়ে উঠতে পারে, তার ওপর দিয়ে কিভাবে শ্বাপদরা দাপিয়ে বেড়ায় নাজিম মাহমুদ আমাদের সেই দিকে নজর এনেছেন। এটা কেবল কোনো ভাগ্যবিড়ম্বিত মানুষের আত্মকথা নয়, এটা পৃথিবীর যেকোনো প্রান্তে মুক্তিযুদ্ধের সময় ভেতরের শক্তিকে চিহ্নিত করে, মানুষের যন্ত্রণার অবয়ব তুলে ধরে। (সম্পূর্ণ…)

মোহাম্মদ নাসেরের চলে যাওয়া

সনৎকুমার সাহা | ৭ ফেব্রুয়ারি ২০১৬ ৯:০৬ অপরাহ্ন

naser.jpgএ যেন বিনা মেঘে বজ্রাঘাত। সকালের কুয়াশা কেটে রোদ ফুটতে শুরু করেছে। গতানুগতিক নানা বিষয় ছড়িয়ে-ছিটিয়ে মনে জাগছে। আবার একই রকমভাবে মিলিয়ে যাচ্ছে। তেমন কোনো বাড়তি উদ্বেগ নেই। যা আছে, তা বেঁচে থাকার খেসারত। এমন সময় ফোন বেজে উঠলো। এটাও অস্বাভাবিক কিছু নয়। মাঝে-সাঝে বাজে। কোনো কিছু না ভেবেই ফোন ধরি। আর তখনই উল্টো দিক থেকে দুঃসংবাদ আছড়ে পড়ে। এক পরিচিত জন জানালেন, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিসংখ্যান বিভাগের অধ্যাপক ডক্টর মোহাম্মদ নাসের আর নেই। মাত্র কিছুক্ষণ আগে তাঁর পরিসংখ্যান বিভাগে নিজের ঘরটিতেই আকস্মিক হৃদরোগে আক্রান্ত হন তিনি। তড়িঘড়ি করে এ্যাম্বুলেন্স ডেকে মেডিক্যাল-কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাবার পথে সব শেষ। চিকিৎসায় সান্তনার চেষ্টাটুকুরও তর সইলো না। সেদিন বৃহস্পতিবার, ২৮ জানুয়ারি। তখন বেলা প্রায় এগারোটা।

আকস্মিক এই খবর পেয়ে আমি একরকম হতবাক। কী করবো, কিছুই ভেবে পাই না। নাসের বয়সে আমার চেয়ে কত ছোট, যাঁর দিকে আমরা তাকিয়ে থাকি ছেলেমেয়েদের সামনে চলার পথ দেখাবে বলে― সে-ই এমন কথা নেই, বার্তা নেই, কাউকে কোনো প্রস্তুতির সুযোগ না দিয়ে দুম করে চলে গেল! নাজনিনের মুখটা চোখের সামনে ভেসে ওঠে। নাসেরের স্ত্রী। একই রকম সাধাসিধে। সমাজবিজ্ঞানের ছাত্রী ছিল। ডক্টরেট। তবু কোনো জাঁক নেই। তাঁর সামনে গিয়ে কী করে দাঁড়াবো? সত্যি সত্যি ‘নত হয় মন’। তাঁদের এক মেয়ে, নমি, সেও তো ঢাকায়। কুয়েটে পড়তো, এখন একটি বেসরকারি ব্যাংকের কর্মকর্তা। বড় দিশেহারা লাগে। (সম্পূর্ণ…)

সাম্প্রতিক বিশ্বসাহিত্য:চিরকালের শত শ্রেষ্ঠ

বিপাশা চক্রবর্তী | ৬ ফেব্রুয়ারি ২০১৬ ৯:৪২ পূর্বাহ্ন

book-2.jpgসব দেশের সব ভাষা থেকে পৃথিবীর সেরা বইগুলো বাছাই করেছে নরওয়েজিয়ান বুক ক্লাবস। এই বাছাই প্রক্রিয়ায় অন্তর্ভুক্ত হয়েছে পৃথিবীর ৫৪টি দেশের ১০০ জন স্বনামধন্য লেখক।
চলুন, আমাদের ভাষার মাসে এক নজরে দেখে নেয়া যাক, পৃথিবীর বিভিন্ন ভাষায় লেখা ইতিহাসের মোড় ঘুরিয়ে দেয়া সেই সব গল্প উপন্যাস কাব্যগ্রন্থের এই তালিকায় যা সাহিত্যিক মুল্য বিবেচনায় আজও অনন্য হয়ে আছে। মনে করা হয়, পৃথিবীর এ যাবতকালের সাহিত্য ও সংস্কৃতির ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি প্রভাব বিস্তারকারী ও ফলপ্রসূ গ্রন্থ এগুলো। (সম্পূর্ণ…)

গুলতেকিন খানের সাক্ষাৎকার: কবিতার প্রতি আমার বিশেষ অাগ্রহ ছিল

রাজু আলাউদ্দিন | ৪ ফেব্রুয়ারি ২০১৬ ১১:২৩ অপরাহ্ন

gk.jpgবাংলা গল্প-উপন্যাসের পাঠকদের অনেকেই তাকে চেনেন। ছড়া লেখার অভ্যাস থাকলেও কবিতায় তার সৃষ্টিশীল হাতের পরিচয় ঘটেছে এই প্রথম। বাঙালি মুসলমান লেখকদের মধ্যে সুনাম কুড়ানো লেখক প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁয়ের নাতনী পরিচয় ছাপিয়ে পাঠক তাকে চিনতো প্রয়াত লেখক হুমায়ূন আহমদের সাবেক স্ত্রী হিসেবে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ইংরেজি সাহিত্যের সাবেক এই শিক্ষার্থীর প্রথম কাব্যগ্রন্থ আজও, কেউ হাঁটে অবিরাম প্রকাশের অনুভূতিসহ আরও অন্যান্য বিষয়ে কথা বলেছেন কবি ও প্রাবন্ধিক রাজু আলাউদ্দিনের সাথে। বি. স.

রাজু আলাউদ্দিন: প্রথমেই আপনাকে অভিনন্দন আপনার প্রথম প্রকাশিত কবিতার বইয়ের জন্য। আমার ভাল লাগছে যে আপনি লেখক-পরিবার ভুক্ত হলেন, অর্থাৎ লেখকদের একজন হলেন। যদিও আপনি লেখালেখির পরিমন্ডলের মধ্যেই ছিলেন। তো কেমন লাগছে, আপনার প্রথম বই প্রকাশের অনুভূতি যদি একটু বলেন।
গুলতেকিন খান: আসলে আমি লেখালেখি অনেক ছোটবেলা থেকেই করছি। সব সময়ই করে আসছি। আমার দাদা প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ, ওখান থেকেই আমার লেখালেখির হাতেখড়ি হয়েছে। আমি লেখালেখির মধ্যেই আছি। এবার বই আকারে প্রকাশিত হলো। তাছাড়া আমি লেখালেখিই করে এসেছি। বই আকারে দেখতে তো ভাল লাগেই।
রাজু আলাউদ্দিন: আপনি বলছিলেন যে আপনার লেখালেখি অনেক ছোটবেলা থেকেই। কিন্তু প্রকাশ হলো, বা গ্রন্থাকারে প্রকাশ হলো অনেক দেরিতে। প্রকাশের ব্যাপারে এত সময় নিলেন কী ভেবে? একটু বলবেন কি?
গুলতেকিন খান: আমার লেখা প্রকাশিত হতো দৈনিক পত্রিকায়। দৈনিক বাংলা, পূর্বদেশ, ইত্তেফাকে প্রকাশিত হতো। তারপর নানা কারণে আমার লেখা কিছুদিন বন্ধ ছিল। আমি পড়াশুনা করেছি। মাঝখানে মাঝখানে টুকটাক লিখেছি। হঠাৎ মনে হলো হোয়াই নট। ভাবলাম একটা বই প্রকাশ করি। (সম্পূর্ণ…)

আসেম আনসারীর একক প্রদর্শনী : চিত্রের কাব্য ভ্রমণ

অলাত এহ্সান | ৪ ফেব্রুয়ারি ২০১৬ ৬:৩৪ অপরাহ্ন

asem-ansari-1.jpgচৈনিক কবি লি পো চাঁদের মোহনীতায় এতটাই আকৃষ্ট ছিলেন যে, এক চাঁদনী রাতে ঝিলের জলে নৌকা ভাসালেন চাঁদ দেখার জন্য। একসময় তাঁর খেয়াল হলো ঝিলের স্বচ্ছ জলেও আরেক চাঁদ দেখা যাচ্ছে যা আকাশের চাঁদের মতোই আকর্ষণীয় এবং তিনি ইচ্ছে করলেই এই চাঁদটা ধরতে পারেন। লি পো সেই চাঁদ ধরতে গিয়েই জলে ডুবে মারা যান। ‘চাঁদে পাওয়া’ বিষয়টা মুটোমুটি এই। সাহিত্যিকদের ক্ষেত্রে, বিশেষ করে কবিদের ভেতর এমন কথা বেশি প্রচলিত। যখন কিনা কাব্যের ঘোর তৈরি হয় তখন একে বলেন ‘চান্দে পাওয়া মানুষ’। অর্থাৎ ভাবই কবিকে তাড়িত করে কবিতা লেখার জন্য।

চাঁদের প্রতি যার আকর্ষণ আত্মিক, মাঘের এই শিশির ঝরা রাতে পূর্ণিমার চাঁদ দেখা থেকে তাকে কোনোভাবেই নিবৃত করা যাবে না। তখন আমাদের মনে পড়ে জীবনানন্দ দাশের কবিতা ‘আট বছর আগের একদিন’র লাইলগুলো—‘শোনা গেল লাশকাটা ঘরে/ নিয়ে গেছে তারে;/ কাল রাতে- ফাল্গুনের রাতের আঁধারে/ যখন গিয়েছে ডুবে পঞ্চমীর চাঁদ/ মরিবার হলো তার সাধ’। চিত্রকর্মেও এই বিষয়টা পাওয়া যায় আসেম আনসারীর কাজে। গত ১৫—৩১ জানুয়ারি, রাজধানীর ধানমণ্ডির ৬ নাম্বার রোডের ৪ নাম্বার বাড়ির ‘গ্যালারী চিত্রক’-এ হয়ে গেল তার চতুর্থ একক চিত্র প্রদর্শনী। ‘Less is more’ শিরোনামের ১৬ দিনব্যাপী এই চিত্র প্রদর্শনী। মাঘের সন্ধ্যার লগ্নে বরেণ্য চিত্রশিল্পী অধ্যাপক সমরজিৎ রায় চৌধুরীর সভাপতিত্বে প্রদর্শনী উদ্বোধন করেন প্রখ্যাত চিত্র শিল্পী মনিরুল ইসলাম।
৩টি জল রং এবং ৩১টি মিশ্র মাধ্যমে আঁকা চিত্রকর্ম স্থান পায় প্রদর্শনীতে। এগুলো সেই ২০১৩ থেকে শুরু করে ’১৫-এর শেষ অবধি, বিভিন্ন সময়ে এঁকেছেন শিল্পী। এক-একটি চিত্রে শিল্পীর আঁকার প্রতি যত্ন ও অনুভূতির অতল বোঝা যায়। দীর্ঘ বিরতির পর প্রদর্শনীর মতোই জনাব আনসারী যেন মাটির গভীরে ফিরতে চেয়েছেন ছবিতে। তার ছবির বিষয়বস্তুর দিকে দৃষ্টি দিলেই তা বোঝা যায়। (সম্পূর্ণ…)

সুইডিশ কবি লার্স হেগারের তিনটি গদ্যকবিতা

আনিসুর রহমান | ৩ ফেব্রুয়ারি ২০১৬ ৯:৫৬ অপরাহ্ন

লারস হেগার, সুইডিশ কবি, জন্ম ১৯৫৫ সালে, মূলত কবি ও অনুবাদক| কাজ করেন দেশে ও বিদেশে অনানুষ্ঠানিক শিক্ষা কার্যক্রম নিয়ে| অনুবাদ করেছেন ব্রিটিশ কবি সাইমন আরমিটেজের কবিতা| তিনি উপসালা সাহিত্যকেন্দ্র প্রতিষ্ঠাতাদের অন্যতম|

তিনি জাতীয় কবিতা উতসব ২0১৬ এ আমন্ত্রিত হয়ে এক সপ্তাহের জন্যে ঢাকা আসছেন| তাঁর ঢাকা সফর উপলক্ষে তাঁর তিনটি গদ্যকবিতার বাংলা অনুবাদ প্রকাশ করা হলো| কবিতাগুলোর অনুবাদ করেছেন আনিসুর রহমান। বি.স

চার.

কিন্ত একজন বাবা এবং তার ছেলে, বাবাদের ও ছেলেদের মাঝে অনিঃশেষ দূরত্ব সম্পর্কে তারা কী করতে পারে| জুনের অপরাহ্নে ঠাণ্ডা জার্মান সাগরের তীরে সিল্টের নিকটে বাবা-ছেলে মিনি-গল্ফ খেলা করে| তারা প্রায় একাকী ছিল| সপ্তম গর্তে বাধাগুলোর একটি ছিল আপনাকে এমন গতিতে বলটাকে মারতে হবে যাতে করে তা ফিরে না এসে রেম্পকে আঘাত করে পাইপের মতো অথবা অধোগতির মতো| ঢুকে পড়ে| তাদের দুজনেই সাফল্যের জন্যে সপ্তম স্লট নিল, কিন্ত সেখানে তখনো আরো একটি পুট ছিল| তাই তারা প্রত্যেকেই আট রান করলো| তারা খেলার একেবারে শেষ ধাপে শেষ গর্তে খেলছিল| যখন বাবাটি ঠিক করলো ছেলেটিই জিতে যাক|

ছেলেটিও ঠিক করলো তার বাবাটি জিতে যাক| তারা সারাটি সন্ধ্যা বলে আঘাত না করে দাঁড়িয় রইলো| তারা সমুদ্রের অবাক করা ঠাণ্ডায় বাড়ি ফিরলো, তারা অবাক করা একই রকম থাকলো| (সম্পূর্ণ…)

পুলক হাসানের কবিতা

পুলক হাসান | ২ ফেব্রুয়ারি ২০১৬ ১১:০৪ পূর্বাহ্ন


শীত

ঠাণ্ডা হিম কুয়াশার ফাঁদে
শরীর যেদিন গেল সেঁধে
সেদিনই বুঝলাম
শীতের ডাকনাম;
বাঁশির মতো দরাজ, আহলাদী
বয়ে চলে এক সুরের নদী।
সেদিনই টের পেলাম
শীতের অব্যর্থ আঙুলে
জীবন আমার আছে ঝুলে। (সম্পূর্ণ…)

ভাষার জন্য ভালবাসা: শুধু একমাস?

সৌরভ সিকদার | ১ ফেব্রুয়ারি ২০১৬ ১২:৩৪ পূর্বাহ্ন

ভাষার মাস ফেব্রুয়ারি এসেছে। এরই মধ্যে আমাদের ভাষা-আবেগে নতুন করে বান ডেকেছে। এই লেখাটা একুশে ফেব্রুয়ারি মহান শহীদ দিবস, আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস, বাংলা ভাষার বিশ্বজয় কিংবা মাতৃভাষা নিয়ে আমাদের আবেগের বন্যা নিয়ে নয়। এমন কী প্রতিবছর ফেব্রুয়ারি এলেই আমরা যে ভাষাপ্রেমের জোয়ারে ভেসে ভেসে ভাসা-ভাসা কিছু স্বপ্ন তৈরি করি সেসব নিয়েও নয়। শুধু একজন বাংলা ভাষা-ভাষি সাধারণ মানুষের কিছু প্রশ্ন । কিছু প্রত্যাশা বলতে পারেন। এখন প্রতিদিন সংবাদপত্র খুললেই ভাষা নিয়ে অনেক আলোচনা, নানামত, নানা বিশ্লেষণ, নানা বির্তক এমনকী ভাষার প্রাণ যেন যায় যায় দশা । আর অন্যদিকে বেসরকারি টিভি-বেতার চ্যানেলগুলো প্রতিদিন পাল্লা দিয়ে ভাষার লড়াই থেকে শুরু করে ইংরেজি ও হিন্দি ভাষার আধিপত্য থেকে রক্ষা করে বাংলা ভাষার প্রাণভোমরা উদ্ধারের যেন লিপ্ত সবাই। কী আশ্চর্য! যারা ইংরেজি ভাষায় লেখা নাম ফলকের বিরুদ্ধে প্রতিবেদন তৈরি করছেন, তাদের নিজেদের নামফলক বা প্রতীক চিহ্নের দিকে তাকিয়ে দেখেছেন কি? চ্যানেল আই, এটিএন, জিটিভি, ইটিভি, এনটিভি, আরটিভি, (দু একটি ছাড়া) আর কত লিখবো। এই তো কয়েক দিন আগে বিভিন্ন পত্রিকায় টিভি চ্যানেলে অনেকেই যে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন তার সঙ্গে আমি একমত- আমাদের চলচ্চিত্র ও টিভি ধারাবাহিকের নামগুলো দেখলে বোঝার উপায় নেই যে (মোস্ট ওয়ান্টেড, ব্যাচেলর, বাটার ফ্লাই, রেডিও চকলেট, মেট্টেলাইফ প্রভৃতি) এটি বাংলাদেশের না হলিউডের। এমনকি অনুষ্ঠানগুলোতেও এখন প্রতিযোগিতা করে বিদেশী টিভির অনুসরণে নামকরণ চলছে, কোন কোন চ্যানেলে কলাকুশলীদের নামগুলোও ইংরেজি অক্ষরে ফুটে ওঠে অথচ একই চ্যানেলে একটু আগেই দুঃখিনী বাংলা বর্ণমালা নিয়ে দারুণ একটা প্রতিবেদন প্রচার করেছে–সত্যি সেলুকাস বিচিত্র এই দেশ। (সম্পূর্ণ…)

কামরুল হাসানের বিশটি চতুর্পদী

কামরুল হাসান | ৩০ জানুয়ারি ২০১৬ ৮:২০ পূর্বাহ্ন

চতুর্পদী

ছাদে এসে দেখি ঈশ্বর ও আমি মুখোমুখি আজ
অনন্তযোজন শূন্যতায় শূন্য শুধু, কিছু আর নেই
সকল গুরুর তন্ত্র, সাধকের সাঁকো, ভেঙে পড়ে যেই
ঈশ্বর অবলীলায় পড়ে নেন অতিব্যক্তিগত তাজ।

২.
কবির কবিতা থেকে আজ কত অনুতাপ ঝরে পড়ে
কেননা সন্ধ্যায় দিবসের অনুশোচনা রক্তলাল রঙে
সূর্য জানিয়ে যায় দীপ্রতায় গ্রহটির মাথার উপরে
মরণের অন্ধকার আসে নেচে কত বিভঙ্গে, ঢঙে।

৩.
কবিতা ব্যর্থ ভারি অসামান্য রাত্রির রূপটি ফোটাতে
কবিতা চাইছে খুব, হে ফুল, ঐ শুভ্র বক্ষে লুটাতে
কবিতা ঘুমের দেশে স্বপ্ন জড়ো করে বার্তা রচিতে
কবিতা উড়িয়ে নেয়, হে পরী তোমাকে, লুপ্ত অতীতে! (সম্পূর্ণ…)

সাম্প্রতিক বিশ্বসাহিত্য ও সংস্কৃতি: নতুন এলিয়ট, ব্যাংকসির প্রতিবাদ ও তাতিয়ানার রসনা

বিপাশা চক্রবর্তী | ২৭ জানুয়ারি ২০১৬ ৭:১১ অপরাহ্ন


এলিয়টের অগ্রন্থিত কবিতায় নতুন ভাবনা

eliot.jpg(১৮৮৮-১৯৬৫) কবি , নাট্যকার, প্রাবন্ধিক, সাহিত্যসমালোচক ও সম্পাদক। বিংশ শতকের অন্যতম শক্তিমান কবি। শুধু তাই নয়, আধুনিক যুগে কবিতায় এলিয়টের প্রভাব প্রবাদপ্রতিম। ১৯৪৮ সালে সাহিত্যে নোবেলপ্রাপ্ত এ কবির গ্রন্থিত ও অগ্রন্থিত কবিতা নিয়ে সম্প্রতি প্রকাশিত হয়েছে একটি কবিতা সংকলন। ‘ দ্য পোয়েমস অফ টি এস এলিয়ট: কালেক্টেড এন্ড আনকালেক্টেড পোয়েমস’ শিরোনামে দুই খন্ডের সংকলনটি সম্প্রতি যৌথভাবে প্রকাশ করেছে যুক্তরাজ্যের ফেবার এন্ড ফেবার প্রকাশনী এবং যুক্তরাষ্ট্রের জন হপকিন্স ইউনিভার্সিটি প্রেস। এই সংকলনে অন্তর্ভুক্ত ‘স্প্লিন’ এবং’ ইন রেস্পেক্ট অফ ফিলিংস’ নামে দুটি কবিতা প্রকাশিত হয়েছে ‘দ্য নিউইয়র্ক রিভিউ অফ বুক’-এর চলতি সংখ্যায় । এলিয়টের কবিতা অগ্রন্থিত থেকে যাবে , এট আশ্চর্যজনকই বটে। তবে সত্যিটা হলো তাই ছিল অনেকদিন পর্যন্ত। এলিয়টের সেক্রেটারি ও ২য় স্ত্রী ভেলেরির মৃত্যুর বছর তিনেক পর তাঁর পুরোনো নোটবুকে পাতার ভাঁজে পাওয়া যায় এলিয়েটের অপ্রকাশিত তিনটি কবিতা। এর মধ্যে দুটি হছে ‘স্প্লিন’ এবং’ ইন রেস্পেক্ট অফ ফিলিংস’ । এ কবিতা দুটিতে এলিয়টের গৃহপালিত প্রাণী বেড়ালের প্রতি ভালবাসা ও অনুভূতির কথা প্রকাশ পেয়েছে। তবে তৃতীয় যে কবিতাটি এলিয়ট-সমালোচকদের নজর কেড়েছে তা হচ্ছে ভেলেরিকে উদ্দেশ্য করে লেখা কিছু পংক্তি। কবিতাটির শিরোনাম হচ্ছে ‘ আই লাভ টল গার্ল’। হ্যাঁ , এখানে দীর্ঘাঙ্গী রমণীদের প্রতি কবির আকর্ষণ বর্ণিত হয়েছে। প্রথম বিয়েতে এলিয়ট সুখী ছিলেন না। ১৯৫৭ সালে সেক্রেটারি ভেলেরীকে যখন বিয়ে করেন তখন এই জুটির বয়সের ফারাক ছিল প্রায় চল্লিশ বছর। ভেলেরীর উচ্চতা ছিল পাঁচ ফুট আট ইঞ্চি। তাই অনেকেই এখন, বয়েসের এত পার্থক্য থাকা সত্বেও দীর্ঘকায়া এই নারীকে বিয়ে করবার কারণ খুঁজবার প্রয়াশ চালাচ্ছেন ঐ কবিতাটির মধ্য দিয়ে। (সম্পূর্ণ…)