51

শ্রদ্ধাঞ্জলি

অগ্রযাত্রিক কথাশিল্পী আবু রুশ্‌দের স্মৃতি

আবদুল মান্নান সৈয়দ | ১৯ মার্চ ২০১০ ২:১৭ অপরাহ্ন

[কথাসাহিত্যিক আবু রুশ্‌দ্‌ ফেব্রুয়ারির ২৪ তারিখে গত হয়েছেন। ৯১ বছর বেঁচেছিলেন তিনি। তাঁর স্মরণে আর্টস-এর পাতায় আবদুল মান্নান সৈয়দের এই স্মৃতিকথাটুকু ছাপা হলো। ক্রমে তাঁর আত্মজীবনীর নির্বাচিত অংশ ও কয়েকটি গল্প মুদ্রিত হবে। - বি. স.]

আমাদের প্রথম-আধুনিক কথাশিল্পীদের বেশ কয়েকজনের সঙ্গেই আমার দেখা হয়েছে, আলাপ-আলোচনা হয়েছেও কারো কারো সঙ্গে, কারো কারো স্নেহও অর্জন করেছি আমি। সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ, শওকত ওসমান, আবু রুশ্‌দ্‌, শামসুদ্দীন আবুল কালাম, শাহেদ আলী, আবু ইসহাক, মির্জা আ. মু. আবদুল হাই এ-রকম কয়েকজনকে বলতে পারি আমাদের আধুনিকতার অগ্রযাত্রিক। এই তালিকার প্রথম তিনজনকে বিশেষ গুরুত্ব দিতে চাই।
abu-rushed.jpg………
আবু রুশ্‌দ্‌ (২৫/১২/১৯১৯ - ২৪/২/২০১০)
………
আধুনিক বাঙালি-মুসলমান কথাশিল্পীদের দুজনের আমি সরাসরি ছাত্র—শওকত ওসমান আর আবু রুশ্‌দ্‌ সেই দুজন। ঢাকা কলেজে, আজ থেকে বছর পঞ্চাশ আগে, আমি ওঁদের ছাত্র ছিলাম। শওকত ওসমান ছিলেন বাংলার অধ্যাপক, আর আবু রুশ্‌দ্‌ ইংরেজির। ওঁরা পরস্পরের বন্ধুও ছিলেন—সেই কলকাতা থেকে। এঁদের মধ্যে  শওকত ওসমানের সঙ্গে ছিল আমার সবচেয়ে ঘনিষ্ঠতা। আবু রুশ্‌দের সঙ্গে অমন ছিল না।
—————————————————————–
একবার বাংলা একাডেমীতে দেখি তাঁকে মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় বিষয়ে প্রশ্ন তুলেছেন, পদ্মাতীরবর্তী মানুষেরা তো অধিকাংশই মুসলমান, মানিকের পদ্মানদীর মাঝি-তে মুসলমানদের সংখ্যা এত কম কেন? অবাকই হয়েছিলাম তাঁর প্রশ্নের ধরনে। তখনই বুঝেছিলাম তিনি স্বাধীন চিন্তক।… সাহিত্যজগতে আবু রুশ্‌দ্‌ কোনোদিনই উপেক্ষিত ছিলেন না, আবার খুব দাপটেও বিরাজ করেন নি। বরাবর একটি নৈর্ব্যক্তিক দূরত্বে অবস্থান করেছেন। গত বছর ২৫শে ডিসেম্বর তিনি ৯০-বছরে পড়েছিলেন। এ বিষয়ে দেশের সুধী সমাজ নীরব ছিলেন। এর মুখ্য কারণ, কোনো সাহিত্যিক রাজনৈতিক তাঁবুর সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক ছিল না।
—————————————————————-
ঢাকা কলেজে ছাত্র ছিলাম তাঁর। সুদর্শন, সুসজ্জিত, সুবাক্—এমন দেখেছি তাঁকে। ক্লাসে এসে খানিক পড়িয়ে বলতেন, ‘Jot down’—আমরা খাতা খুলে লিখতাম বা লেখার ভান করতাম। আমি যে তাঁর ছাত্র ছিলাম, তা তিনি সম্ভবত জানতেন না। যখন পাবলিস সার্ভিস কমিশনে আমি সরকারি কলেজের শিক্ষক হিশেবে ইন্টারভিউ দিতে গেছি—‘এক্সপার্ট’ হিশেবে এসেছিলেন তিনি। দীর্ঘক্ষণ রেখেছিলেন আমাকে। বঙ্কিমচন্দ্রের সেরা উপন্যাস কোনটি আমার বিবেচনায়, জিজ্ঞেস করেছিলেন। তাঁর সমসাময়িক কবিদের বিশেষতা সম্পর্কে জিজ্ঞেস করেছিলেন। আমার প্রথম পোস্টিং হয়েছিল সিলেট এম. সি. কলেজে। প্রবল অনিচ্ছাসত্ত্বেও যেতে হয়েছিল ঢাকার বাইরে। সেই আমার প্রথমবার মুক্তযাত্রা। এবং প্রথমবার নিজের মতো বসবাস বৃথা যায় নি। আমার তখন পঁচিশ বছর বয়েস। সে-বছরই আমার প্রথম গল্পগ্রন্থ প্রকাশিত হয় সত্যের মতো বদমাশ। সরকারি অনুমোদন নিতে হয়েছিল। এবং অনুমোদনপত্র স্বাক্ষর করেছিলেন স্বয়ং আবু রুশ্‌দ মতিনউদ্দীন। পরের বছর বইটি বাজেয়াপ্ত হয়। কিন্তু, খানিকটা আশ্চর্যই লাগে ভাবতে, আমাকে কোনো কৈফিয়ৎ দিতে হয় নি বা তলবও করা হয় নি। এরকম কিছু যে হতে পারে, সে-বিষয়ে আমি সম্পূর্ণ অজ্ঞান ছিলাম—এখন মনে হয়। সত্যি কথা বলতে কী, আমার লেখার সঙ্গে আমার চাকরির কখনো টক্কর লাগে নি। ধাক্কা আমার চলেছে সবসময় নিজের সঙ্গে। একবার বাংলা একাডেমীতে দেখি তাঁকে মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় বিষয়ে প্রশ্ন তুলেছেন, পদ্মাতীরবর্তী মানুষেরা তো অধিকাংশই মুসলমান, মানিকের পদ্মানদীর মাঝি-তে মুসলমানদের সংখ্যা এত কম কেন? অবাকই হয়েছিলাম তাঁর প্রশ্নের ধরনে। তখনই বুঝেছিলাম তিনি স্বাধীন চিন্তক। (সম্পূর্ণ…)

69

হারুকি মুরাকামির গল্প

উড়োজাহাজ

দিলওয়ার হাসান | ১২ মার্চ ২০১০ ১১:৫৬ পূর্বাহ্ন

জাপানি লেখক হারুকি মুরাকামির জন্ম কিয়োতো শহরে ১৯৪৯ সালের ১২ জানুয়ারি। ওয়াসেদা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাহিত্যের ছাত্র ছিলেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের পাঠ শেষ করে টোকিওতে একটি জাজবার খোলেন। বেসবল খেলা দেখার সময় আকস্মিকভাবেই উপন্যাস লেখার পরিকল্পনা তার মাথায় আসে। প্রথম সেই উপন্যাসটির নাম হিয়ার দ্য উইন্ড সিংস। নোমো সাহিত্য পুরষ্কার লাভ করে বইটি। এরপরে নরওয়েজিয়ান উড লিখে জাপানসহ সারা বিশ্বে হৈ চৈ ফেলে দেন। কাফকা অন দ্য শোওর-এর জন্য পান কাফকা পুরষ্কার।

মুরাকামির উল্লেখ্যযোগ্য অন্য বইগুলো হচ্ছে: দ্য উইন্ড আপ বার্ড ক্রনিকল, আন্ডারগ্রাউন্ড, স্পুটনিক সুইট হার্ট, আফটার দ্য কোয়েক, ব্লাইন্ড উইলো স্লিপিং উইমেন, আফটার ডার্ক, এলিফ্যান্ট ভ্যানিশেস।

hmurakami.jpg
হারুকি মুরাকামি

অনুবাদ: দিলওয়ার হাসান

সেই বিকেলে মেয়েটি তাকে জিজ্ঞেস করেছিল, “যে ভাবে তুমি নিজের সঙ্গে কথা বলো, তা কি পুরনো অভ্যাস?” টেবিলের ওপর থেকে চোখ তুলে সে এমনভাবে প্রশ্নটা করল যেন ওই ভাবনা তাকে এই মাত্র আঘাত করেছে। বলাই বাহুল্য আসলে তা করেনি।

রান্নাঘরের টেবিলে মুখোমুখি বসেছিল দুজন। পাশের রেলসড়ক দিয়ে কম্পিউটার ট্রেনের যাতায়াতের শব্দ ছাড়া ওই এলাকাটা বেশ নীরব। ট্রেনবিহীন রেলসড়কটা তাদের জন্য এক রহস্যময় নৈঃশব্দ তৈরি করে। কিচেনের পাতলা প্লাস্টিকের মেঝে ছেলেটার পা দুটোকে শীতল পরশ দান করে। মোজা খুলে পকেটে ঢুকিয়ে ফেলে সে। এপ্রিল মাসের বিকেল হলেও আজকের আবহাওয়ায় একটু বেশি গরমের ভাব পরিলক্ষিত হচ্ছে। মেয়েটা তার বিবর্ণ চেক সার্টের হাতা কনুই অবধি গুটিয়ে রেখেছে। তার পলকা ফরসা আঙুলগুলো খেলছে কফি চামচের হাতলের সাথে। ছেলেটা তার আঙুলগুলোর দিকে তাকায়, আর তার মনের ক্রিয়া অদ্ভুতরকমের নীরস হয়ে পড়ে।

ছেলেটা কেবল কুড়িতে পড়েছে, মেয়েটা তার চেয়ে সাত বছরের বড়, বিবাহিত ও এক সন্তানের জননী। ছেলেটির জন্য মেয়েটি হচ্ছে চাঁদের দূরের অংশ।

তার স্বামী এমন একটা ট্রাভেল এজেন্সিতে কাজ যারা বিদেশ ভ্রমণের ব্যবস্থা করতে পারদর্শী। ফলে তাকে মাসের অধিকটা সময় দেশের বাইরের কোনো শহর যেমন লন্ডন, রোম কিংবা সিঙ্গাপুরে থাকতে হয়। অপেরা ওই ভদ্রলোকের খুব প্রিয়। তার শেলভে তাই জায়গা করে আছে ভার্দি, পুসিনি, দোনিজেত্তি বা রিচার্ড স্ট্রাউসের রেকর্ড। যখন ফুরিয়ে যায় কিংবা করবার কিছু থাকে না ছেলেটা রেকর্ডের শেলভের এ পাশ থেকে ও পাশে চোখ বুলায় আর মনে-মনে অ্যালবামগুলোর নাম পড়ে — লা বোহ…মি, টোসকা, টুরানডট, নরমা, ফাইডেলিও… সে কখনো এসব মিউজিক শোনেনি বা শোনার সুযোগ তার হয়নি। তার পরিবার, বন্ধু-বান্ধব বা পরিচিতদের কেউই অপেরার ভক্ত নয়। শুধু জানে অপেরা-সঙ্গীতের অস্তিত্ব এই পৃথিবীতে আছে, কিছু লোক তা শোনে; তবে মেয়েটির স্বামীর এই রেকর্ডগুলো দেখে সে ওই জগৎ সম্পর্কে প্রথম জ্ঞান লাভ করেছে।

মেয়েটিও অবশ্য অপেরার ভক্ত নয়। “তবে ওগুলো আমি ঘেন্না টেন্না করি না। ওগুলোর একটাই দোষ, বড় দীর্ঘ।” বলে সে। (সম্পূর্ণ…)

52

সন্টু-কাবেরির মধুচন্দ্রিমা ও বাঘের দুধ

মীর ওয়ালীউজ্জামান | ৭ মার্চ ২০১০ ২:৩৯ অপরাহ্ন

cox-b.jpg
১৯৭৪-এর কক্সবাজার সমুদ্র সৈকত

বন্ধুকৃত্য করতে বসেছি। বেশ বিলম্বে যদিও। একসময়ের ঘনিষ্ঠজন সন্টুভাই ইহলীলা সম্বরণ করেছেন বেশ কিছুদিন হল। জানতে পারলাম অনেক পরে। রুবি ও আমি এক ছুটির দুপুরে অসুস্থ বুলুভাইকে দেখতে ওদের বাসায় গিয়েছিলাম।

মাসখানেক আগে হঠাৎ একদিন বুলুভাই ফোন করেছিলেন সন্ধেবেলা। রুবি, আমি কথা বললাম। বললাম, শীগগির-ই যাব একদিন বাসায়।

আজ যাই, কাল যাব করতে করতে অবশেষে যেদিন সকাল সাড়ে দশটায় বাড়ি থেকে দু’জনে বুলুর বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা হলাম, সেদিন আমাদের বাড়ির সামনে লেকের ওপর বন্ধ হয়ে যাওয়া রাস্তা থেকে সাত মসজিদ সড়কে ঢুকে ডানে যেতে পারলাম না। কেন? আর কেন, সেই সর্বব্যাপী যানজট এখন তথাকথিত আবাসিক এলাকার দৈনন্দিন ঘটনা। বুলুর জন্য মেমারি’র সামোসা, প্যাটি, চকোলেট প্যাস্ট্রি নেবার ইচেছ ছিল।

যানের দঙ্গল আমাদের বাঁয়ে ঘুরিয়ে দু’নম্বর সড়ক দিয়ে মিরপুর প্রধান সড়কে নিয়ে ফেলল। বাঁয়ে থেমে মন্দের ভালো কিছুমিছু নিয়ে ধীরে সুস্থে বুলুর বাড়ির দরজায় যখন গাড়ি পার্ক করলাম, তখন প্রায় সাড়ে বারোটা বাজে। আমাদের ভাগ্য ভাল। লিফট চালু হল, আমাদের পৌঁছেও দিল যথাস্থানে। বাসায় ঢুকে দেখি, সোনালি দাড়িওয়ালা এক যুবক তার সোনালিচুলো শিশুকে যত্ন করে খাইয়ে দিচেছ। লম্বাটে ফ্যামিলি হলঘরের আরেক প্রান্তে বুলু, রিনাভাবি, ওদের মেয়ে প্রবাসী গুটিসুটি মেরে গল্প-গুজব করছিল মনে হল। বুলুকে ওর এইড ধরে ধরে হাঁটিয়ে নিয়ে এল। বেতের বড় সোফার এক প্রান্তে বসে ডাকলেন, এস ওয়ালি, বোস এখানে। কী মনে করে যেন আমিও আলাদা আসনে না বসে ওর পাশেই বসলাম। রিনা ভাবি এসে রুবির পাশে বসলেন। প্রবাসী ঘরের ওপ্রান্ত থেকে হাঁক দিল, ওয়ালি আঙ্কল, আমি নাইটি বদলে একটা কিছু পরে আসছি। নো প্রবজ, প্রবাসী, তোমার আট খুন মাপ করাই রয়েছে। প্রবাসী হেসে ওঠে ওর সাহেব বরকে তর্জমা করে শোনাতে লাগল।

রিনাভাবির ভাইবোনদের কথা জিজ্ঞেস করতে উনি চুপ রইলেন কিছুক্ষণ। তারপর জলেভাসা চোখ মুছে বললেন, আপনার বন্ধু সন্টু প্রায় বছর খানেক আগে চলে গেছে। হার্টফেইল্যর। নো ওয়ার্নিং। সকালে উঠতেই বুকে ব্যথা। দশ মিনিটে শেষ। ইউনাইটেড হাসপাতাল তো ওদের বাড়ির সঙ্গেই। ডাক্তার, অ্যাম্বুলেন্স এল ওর লাশ নিতে।

আমি হতভম্ব। সন্টু ভাবির পিঠোপিঠি বড়ভাই। আমি ওর নাম ধরেই ডাকতাম। বুলু তখন চিটাগাং জিপিও-তে সিনিয়র পোস্ট মাস্টার হিসাবে কর্মরত। কুমিল্লা থেকে বেড়াতে গিয়ে বুলুর বাড়িতে উঠেছিলাম। ১৯৭৪। সন্টুর সঙ্গে ওখানেই প্রথম আলাপ ও ঘনিষ্ঠতা। (সম্পূর্ণ…)

86

অমর একুশে গ্রন্থমেলা ২০১০

প্রকাশিত বইয়ের দৈনিক তালিকা

| ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০১০ ৪:০২ পূর্বাহ্ন

[আর্টস-এর পাতায় ‘অমর একুশে গ্রন্থমেলা ২০১০’-এ বের হওয়া বইপত্রের তালিকা নিয়মিত প্রকাশিত হবে। তালিকাটি সরবরাহ করছে বাংলা একাডেমীর ‘সমন্বয় ও জনসংযোগ উপবিভাগ’। উল্লেখ্য ১ ফেব্রুয়ারির কোনো তালিকা পাওয়া যায় নি। লিটল ম্যাগাজিনগুলির তরফে প্রকাশিত কিছু পত্রপত্রিকা এই তালিকার বাইরে থেকে যেতে পারে। তালিকার বাইরে থেকে যাওয়া বই ও পত্রপত্রিকা বইমেলায় বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম-এর স্টলে জমা দিলে আমরা বাদ পড়া বইয়ের তালিকায় সে বই সংযুক্ত করব। ‘গ্রন্থমেলা ২০১০-এ প্রকাশিত বই’ বলতে গত বইমেলার পরে প্রকাশিত সব বই বোঝানো হয়েছে। - বি. স.]

ekushe2.jpg

২৫ ফেব্রুয়ারি । ● ২৬ ফেব্রুয়ারি

২২ ফেব্রুয়ারি । ● ২৩ ফেব্রুয়ারি । ● ২৪ ফেব্রুয়ারি

১৯ ফেব্রুয়ারি । ● ২০ ফেব্রুয়ারি । ● ২১ ফেব্রুয়ারি

১৬ ফেব্রুয়ারি । ● ১৭ ফেব্রুয়ারি । ● ১৮ ফেব্রুয়ারি

১৩ ফেব্রুয়ারি । ● ১৪ ফেব্রুয়ারি । ● ১৫ ফেব্রুয়ারি

১০ ফেব্রুয়ারি । ● ১১ ফেব্রুয়ারি । ● ১২ ফেব্রুয়ারি

৭ ফেব্রুয়ারি । ● ৮ ফেব্রুয়ারি । ● ৯ ফেব্রুয়ারি

৪ ফেব্রুয়ারি । ● ৫ ফেব্রুয়ারি । ● ৬ ফেব্রুয়ারি

২ ফেব্রুয়ারি । ● ৩ ফেব্রুয়ারি
(সম্পূর্ণ…)

116

বিতর্ক

লেখার ভাষা :: মুখের ভাষা

| ২২ ফেব্রুয়ারি ২০১০ ৯:৪০ পূর্বাহ্ন

অনলাইন বৈঠকে যে কেউ অংশগ্রহণ করতে পারবেন। শুধু বাংলা ভাষায় লেখা প্রতিক্রিয়াই গ্রহণ করা হবে। যারা ইউনিকোডে অভ্যস্ত নন তারা মন্তব্যের ফাঁকা ঘর-এ বিজয় পদ্ধতিতে লিখে পেস্ট করবেন। অথবা arts@bdnews24.com-এ ই-মেইলের মারফতে লেখা পাঠাবেন। কাগজে লিখে স্ক্যান করে লেখা পাঠানো যাবে।

এখানে মন্তব্যগুলি নিচ থেকে উপরের দিকে সাজানো হয়েছে। অর্থাৎ নতুন প্রতিক্রিয়া উপরে থাকবে।
kamol-copy.jpg
ছবি. কমলকুমার মজুমদার

‍‍অনলাইন বৈঠক ১ শুরু হয়েছে ২৬/১০/২০০৭ তারিখে। এর বিষয়:

লেখার ভাষা বা সাহিত্যের ভাষায় মুখের ভাষা বা কথ্য ভাষার মিশ্রণ রচনার শিল্পগুণ নষ্ট করে।

এ পর্যন্ত লিখেছেন:

১. শোহেইল মতাহির চৌধুরী
২. ফকির ইলিয়াস
৩. সাঈদ জুবেরী
৪. নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক (১)
৫. অবনি অনার্য
৬. চয়ন খায়রুল হাবিব
৭. আইরিন সুলতানা
৮. আদনান সৈয়দ
৯. আদনান সৈয়দ
১০. তাহমিদাল
১১. জগলুল হায়দার
১২. সারওয়ার রেজা
১৩. ফারিহান মাহমুদ
১৪. সারওয়ার চৌধুরী

●●●

১৪. সারওয়ার চৌধুরী

বেশি না, পঞ্চাশ বছর আগের মুখের ভাষা ও লেখার ভাষায় বিস্তর ব্যবধান পাওয়া যাবে পৃথিবীর যে-কোনো প্রতিষ্ঠিত ভাষায়। শব্দ প্রয়োগে, উচ্চারণে, অন্য ভাষার শব্দের মিশ্রণে বানানো শব্দ, সরাসরি অন্য ভাষার শব্দ ব্যবহার ইত্যাদি কারণে ‘শিক্ষিত’ বা ‘অশিক্ষিত’ মানুষের মুখের ভাষা ও লেখার ভাষায় পরিবর্তনটা আসে।

পঞ্চাশ বছর আগের আরবী ফারসি ইংরেজী উর্দূ হিন্দি মুখের ভাষা ও লেখার ভাষা আর এখনকার মুখের ভাষা ও লেখার ভাষায় রদবদলের ব্যাপারটা চোখে পড়ার মতো। ব্যাকরণের মানটাকে মেনেই এই বদলটা আসছে লেখার ভাষাতে। মুখের ভাষায় ব্যাকরণের আইন সকল সময় না-মানা সত্ত্বেও বোধ-সংবেদ-অনুভূতি বিনিময় হয়ে আসছে। অভিজ্ঞতায় পাইলাম কিছু ভাষার মধ্যে পরস্পর খুব সখ্য; ভারতের কেরালা রাজ্যের ‘মালায়ালাম’ ভাষার সাথে তামিলনাড়ু রাজ্যের ‘তামিল’ ও শ্রীলংকার ‘তামিল’ ভাষার লেখার অক্ষরে পার্থক্য আছে কিন্তু শব্দার্থে যথেষ্ট মিল। মালায়ালীরা তামিল বোঝে, তামিলরা মালায়ালী বোঝে। আবার ওই তামিল ও মালায়ালাম ভাষার সাথে ভারতের কর্নাটক রাজ্যের ‘কানাড়ি’ ভাষারও মিল আছে। কানাড়িভাষী মালায়ালাম ও তামিল বোঝে। উচ্চারণে হেরফের আছে। ওদিকে সংস্কৃত হ’তে অদলবদল হ’য়ে আগত অনেক শব্দ হিন্দিতে, তামিলে, মালায়ালামে, কানাড়িতে, এবং বাংলাতে আছে। শুধু উচ্চারণে ও লেখায় ব্যবধান বিদ্যমান। ইউরোপেও লাগোয়া দেশগুলোর পরস্পরের ভাষার সাথে মিল আছে। অস্ট্রীয়রা জার্মান ভাষা বোঝে ইত্যাদি।

আবার দেখুন, পঞ্চাশ বছর আগের সিলেটের, চট্টগ্রামের, কুমিল্লার, নোয়াখালি ইত্যাদি জেলা ভিত্তিক আঞ্চলিক ভাষা আর বর্তমানের আঞ্চলিক ভাষার মধ্যে ব্যবধান পাওয়া যাবে ‘শিক্ষিত’ ‘অশিক্ষিত’ নির্বিশেষে। কেউ বলতে পারেন আগের চাইতে এখন পরিশীল আঞ্চলিক ভাষাগুলো। আর লেখক-কবিরা তো শব্দ তৈরি করতেই আছেন। প্রবাসীদের মুখে মুখে ভাষার ভেতরে নতুন নতুন শব্দ ঢুকে যাচ্ছে। সিলেটে ও চট্টগ্রামে দেখেছি আরব প্রবাসী পরিবারগুলোতে ‘ইয়াল্লা খালাস’ খুব ব্যবহার হয়। এবং তা অন্যদের মধ্যেও ছড়িয়ে পড়েছে। ‘ইয়াল্লা খালাস’ মানে ‘ঠিক আছে, হয়েছে বা থাক’। (সম্পূর্ণ…)

119

একুশের শহীদেরা অমর অক্ষয় চিরঞ্জীব

বেবী মওদুদ | ২১ ফেব্রুয়ারি ২০১০ ১২:২৫ পূর্বাহ্ন

bhashani-mujib.jpg……..
১৯৫৪-র ২১ ফেব্রুয়ারি র‌্যালিতে ভাসানী ও মুজিব খালি পায়ে।
……..
২১ ফেব্রুয়ারি ১৯৫২ সালে মাতৃভাষা বাংলাকে রাষ্ট্রভাষা করার দাবীতে যারা জীবন দিয়েছেন, শহীদ হয়েছেন তারা এই বাংলার অমর সন্তান। পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠির বুলেটে ছিন্নভিন্ন হয়ে যাওয়া সেই রক্তাক্ত স্মৃতি আমরা স্মরণ করি, ফুলে ফুলে সাজিয়ে দেই তাদের কবর এবং তাদের স্মরণে নির্মিত শহীদ মিনার। শ্রদ্ধায় ভালোবাসায় পবিত্রতায় আমরা এক নতুনতর চেতনায় ও দীপ্ততায় আবার শক্তি অর্জন করি। একুশের শোককে আমরা শক্তি হিসেবে ধারণ করে এসেছি বলে যে কোনও অন্যায়-অবিচারের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করতে পারি। বাঙালি প্রতিরোধ গড়ে তুলেছিল একাত্তরেও পাকিস্তানি সামরিক শাসক গোষ্ঠির দমন নিপীড়ন, বৈষম্য-বঞ্চনার বিরুদ্ধে। বাংলার ছাত্র-জনতা রক্তাক্ত গেরিলা মুক্তিযুদ্ধের মধ্য দিয়ে পাকিস্তানি সেনাবাহিনীকে আত্মসমর্পণে বাধ্য করে বাংলাদেশের স্বাধীনতার বিজয় অর্জন করেছিল।

eden-c.jpg…….
ইডেন কলেজের ছাত্রীরা শহীদ মিনার বানাচ্ছেন। কিছু শিক্ষক তাদের নিষেধ করছেন।
…….
বায়ান্ন থেকে শুরু হয়েছিল বাঙালির জাতিসত্তার প্রতিষ্ঠার আন্দোলন সংগ্রাম। মাতৃভাষাকে রাষ্ট্রভাষা করার দাবিতে বাঙালি সেদিন ঐক্যবদ্ধ হয়েছিল। পকিস্তানি শাসকগোষ্ঠি চেয়েছিল একমাত্র উর্দু হবে রাষ্ট্রভাষা। অথচ জনসংখ্যার দিক থেকে বাঙালি ছিল পাকিস্তানে সংখ্যাগরিষ্ঠ। তাই তারা সেদিন এই অন্যায় সিদ্ধান্ত মেনে নেয়নি বরং কঠোর অবস্থান নিয়ে প্রতিবাদমুখর হয়েছে। সংগ্রাম-আন্দোলন গড়ে তুলেছে, পুলিশের রাইফেল- লাঠির মার খেয়েছে, বুটের আঘাত সহ্য করেছে, টিয়ার গ্যাসের যন্ত্রণায় বিদ্ধ হয়েছে এবং জেল-জুলুমের শিকার হয়েছে। (সম্পূর্ণ…)

67

একুশে নিয়ে আর্টস থেকে কয়েকটি লেখা

| ২০ ফেব্রুয়ারি ২০১০ ১২:৫৯ অপরাহ্ন

১.

মাহবুব উল আলম চৌধুরীর হারিয়ে যাওয়া কবিতা, কবিতার ভ্রান্তি নিরসন ও একটি সাক্ষাৎকার


১৯৫৩ সালে চট্টগ্রামের লালদীঘি ময়দানে একুশে উদযাপন অনুষ্ঠানে বক্তৃতা করছেন রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদের আহবায়ক মাহবুব উল আলম চৌধুরী

● কাঁদতে আসিনি ফাঁসির দাবি নিয়ে এসেছি ।। মাহবুব উল আলম চৌধুরী
● সদয় অবগতির জন্য ।। চৌধুরী জহুরুল হক
● কবি মাহবুব উল আলম চৌধুরীর সাক্ষাৎকার ।। ইলু ইলিয়াস

২.

একুশে ও বিশ্বমাতৃভাষা দিবস / রবিউল হুসাইন

“…হাজার বছর বিদেশী শাসনের অধীনে থেকে থেকে আমরা আমাদের নিজস্ব সংস্কৃতি যে-সময়ে ভুলে যেতে বসেছিলাম, ঠিক সেই সময়ে ১৯৫২ সালের ২১শে ফেব্রুয়ারিতে বাংলাভাষা প্রতিষ্ঠার দাবিতে এদেশের মৃত্যুঞ্জয়ী মানুষের আত্মাহুতি ও আত্মোৎসর্গের ঘটনা আমাদের সর্ব উৎস-মূলে আঘাত হেনে আমাদের নিস্তেজিত চেতনাকে টলমলিয়ে দেয়। সেখানে থেকেই শুরু হয় স্বাধীনতার অঙ্কুরোদ্গম।…”

৩.

আমাদের ভাষা আন্দোলনের গাজীউল হক / আহমাদ মাযহার

>

“…তাঁর সাহসিকতার পরিচয় কেবল ভাষা আন্দোলনের সময়ই দেখা যায় নি। পরবর্তী সকল অগণতান্ত্রিক ও স্বৈরতান্ত্রিক শাসক গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে আন্দোলন, সাংস্কৃতিক ও জাতীয় সংগ্রামে গাজীউল হক অংশ নিয়েছেন। ১৯৬২-র শিক্ষা আন্দোলন, ১৯৬৪-র সাম্প্রদায়িকতা বিরোধী আন্দোলন, ১৯৬৯-এর গণ আন্দোলন, মুক্তিযুদ্ধের সময়ে প্রথমে স্থানীয় পর্যায়ে সংগঠক হিসাবে ও পরে জাতীয় পর্যায়ের লেখক এবং সংগঠকের ভূমিকায় তাঁকে পাওয়া গেছে। তাঁকে পাওয়া গেছে ১৯৮০-র দশক জুড়ে স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলনে।…”
(সম্পূর্ণ…)

15

ধম্মপদ, ক’এক টুকরো

গৌতম চৌধুরী | ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০১০ ৩:৪৬ অপরাহ্ন

শল্যশাস্ত্র না জেনে ডাক্তারের ছুরি-কাঁচি নিয়ে খুব একচোট নাচানাচি করলে ব্যাপারটা যা দাঁড়ায়, তেমন একটা বালখিল্যতাই করা গেল ধম্মপদ-এর এই শ্লোকগুলো নিয়ে। হাতে এসেছিল ১৩৬০ বঙ্গাব্দে লেখা আচার্য প্রবোধচন্দ্র সেনের একটি চটি বই ধম্মপদ-পরিচয়। বইটির শেষে প্রবোধচন্দ্র ধম্মপদের প্রায় ৭০টি পদের মূল এবং বাংলা গদ্যানুবাদ উৎকলিত করেছেন। তাঁর সেই গদ্যানুবাদগুলিই ছিল আমার আশ্রয়। সেগুলি অবলম্বন করেই, পালিভাষার ‘প’ না জেনেও হঠকারীর মতো কয়েকটি পদের পদ্যরূপ দিতে প্রলুব্ধ হলাম।

এই আকর্ষণের মূল কারণ হল, এই পদগুলির দার্শনিক কচকচিহীন সওয়াল। কোনও পারলৌকিক মোক্ষের প্রতি সম্পূর্ণ উদাসীন এই পদগুলি সরাসরি আবেদন জানিয়েছে ব্যক্তিমানুষের ইহলৌকিক জীবনাচরণের কাছে। ব্যক্তিস্বরূপের বিনির্মাণের সেই আহ্বান এই অস্ত্রশাসিত পৃথিবীতে সম্পূর্ণ অপ্রাসঙ্গিক বলে অনায়াসেই রায় দিয়ে দেওয়া যেতে পারে। তবু, ব্যক্তিক স্তরে তার প্রয়োগ কষ্টকর হলেও, আজও অবান্তর হয়ে যায়নি বলে মনে হ’ল। এই অনুভবটুকুই আমার এই সামান্য চর্চার প্রাপ্তি।

প্রাত্যহিকের ভাষার স্থূল অবলেপ দিয়ে হয়ত অনেক জায়গাতেই মূলের গাম্ভীর্যকে ব্যাহত করেছি। তবে জ্ঞানত, কোনও বাচনকে বিপরীতগামী করে তোলার স্বাধীনতা নিইনি। - অনুবাদক

gc111.jpg

অনুবাদ: গৌতম চৌধুরী

উৎসর্গ: ব্রাত্য রাইসু, সুব্রত অগাস্টিন গোমেজ, সৌম্য দাশগুপ্ত

১.

বুলি কপচাও বহু সংহিতা ঘেঁটে
ওরে প্রমত্ত, আচরণে স্রেফ ফাঁকি
পাবে না পাবে না পাবে না শ্রমণতা

গরু গোনে যারা পরের গোয়ালে হেঁটে
দুধের সোয়াদ যোগাবে সে-বিদ্যা কি
পাবে না পাবে না পাবে না শ্রমণতা

যমকবগ্‌গো, ১৯।১৯

২.

দমে উদ্যমে
সংযমে অপ্রমাদে
মেধাবী রচেন দ্বীপ
কে তাকে ভাসাবে?
ধায় জল কলনাদে,
অধরা অন্তরীপ!

অপ্পমাদবগ্‌গো, ৫।২৫

৩.

বিদ্বেষকারী
যত ক্ষতি করে
যত ক্ষতি করেবৈরী
মিথ্যায় ভরা
মনটিতে তোর
আরও ক্ষতি আছে তৈরি

চিত্তবগ্‌গো, ১০।৪২

৪.

সুভাষিতের ভাষণ শুধু বাজে
যদি না কেউ ভরিয়ে তোলে কাজে
যেমন রূপ-রঙের ছলাকলায়
সুরভিহীন ফুলটি নিষ্ফলা

পুপ্‌ফবগ্‌গো, ৮।৫১ (সম্পূর্ণ…)

111

গোলাপের নাম

উম্‌বের্তো একো

জি এইচ হাবীব | ১২ ফেব্রুয়ারি ২০১০ ১১:২৮ পূর্বাহ্ন

অনুবাদ: জি এইচ হাবীব

লিংক: কিস্তি ১

———————————————————————————
ধারাবাহিক উপন্যাস । কিস্তি ২
———————————————————————————

কিস্তি ১-এর পরে

castle-ursino.jpg

castel-del-monte.jpg
ওপরে মন্টি-র দুর্গ, নিচে উরসিনোর দুর্গ; কলেবর আর আকারের দিক থেকে অ্যাডিফিসিয়ামটি উরসিনো অথবা ডি মন্টি দুর্গের মতো’

প্রথম দিবস

প্রা ই ম

মঠের পাদদেশে পৌঁছান গেল এবং উইলিয়াম তাঁর অসাধারণ বিচার-বিশ্লেষণ ক্ষমতার স্বাক্ষর রাখলেন।

নভেম্বরের শেষ দিকের এক সুন্দর সকাল। রাতে বরফ পড়েছিল, তবে সামান্যই, ঠাণ্ডা একটা চাদরে ঢাকা পড়ে গিয়েছিল ভূপ্রকৃতি, যদিও তিন আঙ্গুলের চেয়ে বেশি পুরু ছিল না তা। লঅডসের ঠিক পরপরই অন্ধকারে ভেতর উপত্যাকার একটি গাঁয়ে মাস্-এর আওয়াজ শুনতে পেয়েছিলাম আমরা। তারপর যাত্রা শুরু করেছিলাম পর্বতের দিকে, ততক্ষণে সূর্য বেরিয়ে পড়েছে।

eco_3.jpg……..
উম্‌বের্তো একো
………
পর্বতগাত্র পাক খাওয়া পথটা বেয়ে যথেষ্ট মেহনত করে উঠে এসে দেখতে পেলাম আমি মঠটাকে। অবাক হয়ে গেলাম, তবে সেটার চারধার ঘিরে থাকা, গোটা খৃষ্টীয় জগতেই যেগুলো দেখা যায় সেগুলোর মতো দেয়াল দেখে নয়, বরং পরে যেটাকে অ্যাডিফিসিয়াম বা বিশাল ভবন বলে জানতে পেরেছিলাম সেটার কলেবর দেখে। ওটা একটা অষ্টকোণাকৃতি অট্টালিকা, দূর থেকে মনে হয় চতুষ্কোণী (যা কিনা একটা নিখুঁত আকার, এবং ঈশ্বর এর নগরের বলিষ্ঠতা ও অভেদ্যতার পরিচায়ক), সেটার দক্ষিণের ধারগুলো অবস্থিত মঠের মালভূমির ওপর, ওদিকে উত্তরের ধারগুলো বেরিয়েছে পর্বতের খাড়া পাশটি থেকে, একবারে খাড়া একটি ঢাল সেটা, সেদিকেই নেমে গেছে ধারগুলো। এমনও বলতে পারি, নিচ থেকে, কিছু কিছু স্থানে খাড়া দুরারোহ পাহাড় যেন স্বর্গ পানে উঠে গেছে, প্রস্তরের একই বর্ণ আর উপাদান রক্ষা করে, যা কখনো কখনো পরিণত হয়েছে দুর্গ আর বুরুজে (এমন সব দৈত্যের কাজ যাদের নিবিড় পরিচয় ছিল মাটি আর আকাশের সঙ্গে)। জানলার তিনটি সারি সেটার চড়াই-এর একের ভেতর তিন ছন্দ ঘোষণা করছে, যাতে করে ভূমিতে চতুষ্কোণ তৈরি করেছে আকাশে তা আধ্যাত্মিকভাবে ত্রিভুজাকার। আরো কাছে গিয়ে আমরা উপলব্ধি করলাম যে চতুষ্কোণী আকৃতিটার প্রতিটি কোণে একটি করে সপ্তকোণী বুরুজ রয়েছে, বাইরে থেকে যার পাঁচটি পাশ দৃশ্যমান - তারমানে, বড় অষ্টকোণীর আটটি পাশে চারটি ছোট ছোট সপ্তভুজাকৃতি তৈরি হয়েছে, বাইরে থেকে যেগুলোকে পঞ্চভুজাকৃতি বলে বোধ হয়, আর তার ফলে যে কারোরই নজরে পড়বে এতোগুলো পবিত্র সংখ্যার এক চমৎকার ঐক্য, যা এক সূক্ষ্ম আধ্যাত্মিক তাৎপর্য প্রকাশ করে। আট, প্রতিটি চতুষ্কোণ ক্ষেত্রের জন্যে নিখুঁত সংখ্যা; চার, সুসমাচারের (গসপেল) সংখ্যা; পাঁচ, পৃথিবীর পাঁচটি মণ্ডলের সংখ্যা; সাত, পবিত্র আত্মার উপহারের সংখ্যা। কলেবর আর আকারের দিক থেকে অ্যাডিফিসিয়ামটি উরসিনো অথবা ডি মন্টি দুর্গের মতো, যে দুটো আমি পরে দেখবো ইতালীয় উপদ্বীপের দক্ষিণে, কিন্তু সেটার অনধিগম্য অবস্থান সেটাকে অন্যগুলোর তুলনায় আরো বেশি ভয়ংকর এবং সেটার দিকে ধীরে ধীরে অগ্রসর হতে থাকা কোনো ভ্রমণকারীর চোখে ভীতি উদ্রেককারী করে তুলেছে। আর সৌভাগ্যক্রমে, সেটা যেহেতু ছিল খুবই পরিষ্কার এক শীতের সকাল, ঝোড়ো দিনগুলোতে অট্টালিকাটিকে যেমন দেখায় আমার প্রথম দর্শনে ওটাকে আমি সেভাবে দেখতে পাইনি। (সম্পূর্ণ…)

70

‘অশ্লীলতা’-বিরোধী প্রপাগান্ডা ও ‘সুস্থ’ চলচ্চিত্রের যুগে ঢাকাই সিনেমা

মোহাম্মদ আজম | ৮ ফেব্রুয়ারি ২০১০ ৯:৩৭ পূর্বাহ্ন

monpura011.jpg
“কিছু ভালো জিনিসের সাথে নিশ্ছিদ্র বিপণন কৌশল আর সুস্থতার ইমেজকে কাজে লাগিয়ে মনপুরা ভালোই দেখিয়েছে।”

jamelasundari.jpg
ঢাকাই মেইনস্ট্রিম, জমেলা সুন্দরী

এই লেখাটি আল্লার নামে লিখতে চাই। অবশ্য মিশেল ফুকোর নামেও লিখতে পারতাম। সেই ফুকো যিনি একবার টিভি সাক্ষাৎকারে নোম চমস্কি সহ উপস্থিত হয়ে চমস্কির বিপরীত অবস্থান নিয়ে বলেছিলেন—‘মানব-প্রকৃতি’ বলে কোনো বস্তু আছে কিনা, তা আদৌ তাঁর মাথাব্যথা নয়; বরং ইতিহাসের বিশেষ বিশেষ পর্বে ‘মানব-প্রকৃতি’র ধারণা কীভাবে রূপ পেয়েছে আর মানুষকে চালিত করেছে—তা-ই তাঁর পর্যবেক্ষণের বিষয়। এ রকমের কিছু একটা তিনি বলেছিলেন। কথাটা আমার খুব পছন্দ হয়েছে। যুৎসই মনে হয়েছে। আমিও নিয়ত করেছি, অশ্লীলতার কোনো সংজ্ঞায়নে যাব না, বস্তুটা আদতে ভালো না খারাপ, সেসব তালাশ করব না; বরং ঢাকায় শব্দটি কোন পরিস্থিতিতে কী প্রকারে ভদ্রলোকসমাজে এতটা মশহুর হয়ে উঠল, আর তাতে কী ফলটাই বা ফলল, তার ‘মনে হয়’ ধরনের কিছু খোঁজখবর নেব।
—————————————————————–
অনেক বছর ধরে অনুদানের ছবি তৈরি হলেও দেশ-বিদেশের দর্শক বা বোদ্ধামহলে তো এ বাবদ কোনো সাড়া পড়েনি। আমার আন্দাজ, সাড়া না পড়াটাই এ ছবিগুলোর পুরস্কৃত হওয়ার মূল রহস্য। উল্লেখযোগ্য কিছু তৈরি না হওয়ায় সরকারি টাকার অপব্যবহার নিয়ে প্রশ্ন ওঠা স্বাভাবিক। আর এ প্রশ্নকে ঠেকানোর জন্যই পুরস্কার যোগ করে ছবিগুলোর মর্যাদা বৃদ্ধি করা হচ্ছে, যাতে করে অনুদান দেয়া-নেয়া পক্ষগুলো নিজেদের বৈধতা দিতে পারে।… এভাবে বিচিত্রভাবে মেইনস্ট্রিম সিনেমার বিকাশপথ ক্রমেই সংকীর্ণ করে তোলা হচ্ছে।
—————————————————————-
bobita_ashani_sanket.jpg……..
সত্যজিৎ রায়ের অশনি সংকেত-এ ববিতা। ছবির ফরাসী সংস্করণের পোস্টার।
…….
মুশকিলের কথা এই, ফুকোর পদ্ধতি রীতিমাফিক এস্তেমাল করার বিদ্যা আমার পেটে নাই। তাই আগ্রহ থাকলেও আমার কথাগুলো ফুকোর নামে সাজাতে পারছি না। নিজের কব্জির জোরও সামান্য। কারণ, ঢাকাই সিনেমায় ‘অশ্লীলতা’র প্রবেশ ও বিস্তার আর পত্রপত্রিকা-টেলিভিশন ও সভাসমিতিতে এতদ্বিষয়ে ভদ্রলোকশ্রেণীর প্রতিক্রিয়ার ধরন ‘ইতিহাস’সম্মতভাবে হাজির করার জন্য নিষ্ঠাবান গবেষকের শ্রম দরকার। আমি তা করে উঠতে পারিনি। তাই অগতির গতি আল্লাই ভরসা।


ঢাকাই সিনেমার অশ্লীলতা সম্পর্কে ভদ্রসমাজের প্রপাগান্ডা প্রথম ব্যাপকভাবে আমার—এবং সম্ভবত আরো অনেকের—নজরে আসে একটি প্রভাবশালী জাতীয় দৈনিকের ‘ছি!নেমা’ শিরোনামের নিয়মিত কলামে। ঐ পত্রিকার রঙ্গম্যাগাজিনে কলামটি ছাপা হত বলে তাতে রঙ্গব্যঙ্গের প্রকোপ ছিল বেশি। কিন্তু পাশাপাশি কোনো ‘সিরিয়াস’ কলামে ঢাকাই সিনেমার হালহকিকত বিশ্লেষিত না হওয়ায় আমরা ধরে নিতে পারি, পত্রিকার নীতিনির্ধারকদের কাছে ব্যাপারটি রঙ্গব্যঙ্গের জন্যই যুৎসই মনে হয়েছে। তার চেয়ে বড় কথা, ঢাকার, এবং সম্ভবত সারা দেশের, ভদ্রলোক মধ্যবিত্তের মধ্যে এ ব্যাপারে বিরল ঐকমত্য দেখা গেছে। তার প্রমাণ পাই ভদ্রলোকশ্রেণীর সব ধরনের মিডিয়ায় প্রায় সমধর্মী মতামতের প্রতিফলনে। সে আজ প্রায় দেড় দশক আগের কথা। তখন থেকে অনেক দিন ঢাকার পত্রপত্রিকায় ‘অশ্লীল’ ছবি প্রদর্শনের খবর প্রকাশিত হতে থাকে। এ ব্যাপারে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী পক্ষগুলোও তৎপর হয় বা হতে বাধ্য হয়। দেশের নানা প্রান্ত থেকে ‘অশ্লীল’ ছবি আটক হবার খবর আসে; চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দেয়, ঢাকাই ছবির অধোগতি কোথায় গিয়ে ঠেকেছে।

সিনেমার অধোগতি তো জাতীয় অধোগতিরই স্মারক। এই অবস্থার দায় ভদ্রলোকেরা নেবে কেন? তারা নেয়ও নি। তাদের মিডিয়ায়, সভা-সেমিনার-সিম্পোজিয়ামে অশ্লীলতার বিরুদ্ধে বিপুল হুঙ্কার ধ্বনিত হয়েছে। তাতে একদিকে শিক্ষিত মধ্যবিত্ত সচকিত-সচেতন হয়েছে; অন্যদিকে সামাজিক মূল্যবোধের চাপেই সম্ভবত, বিভিন্ন সরকার সাধ্যমত অশ্লীলতা রোধের জন্য আইনি উদ্যোগ নিয়েছে। তবে অশ্লীল সিনেমার ব্যাপারিদের উপর চরম আঘাত হেনেছে গেল ‘সিভিকো-মিলিটারি-কর্পোরেট’ সরকার। রীতিমত সামরিক অভিযান চালিয়ে তারা এই দুষ্টক্ষতের মূলোৎপাটন করতে পেরেছে। এ বাবদ পত্রপত্রিকায় প্রকাশিত উল্লাস আমাদেরও—যেহেতু আমরাও রুচিশীল ভদ্রলোক—আনন্দের কারণ হয়েছে। (সম্পূর্ণ…)

 

স্লাইড শো: শাহাবুদ্দিন ২০০৯: গ্যালারি চিত্রক, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০০৯ - ৯ অক্টোবর ২০০৯

Get the Flash Player to see the slideshow.
 
পরের পাতা »
Disclaimer & Privacy Policy  |  About us  |  Contact us  |  Bangla Font Help

© bdnews24.com

free counters wordpress com stats