বাঙালির ভূমিকন্যা

মুহম্মদ নূরুল হুদা | ২৫ জুলাই ২০১৬ ১:০৯ অপরাহ্ন

Baby-Moudud-41একাত্তরের ২০শে জানুয়ারি।
কলাভবন থেকে বেরিয়েছে ছাত্রজনতার মিছিল।
প্রগতির মিছিল, প্রতিবাদের মিছিল, মুক্তির মিছিল।
এগিয়ে চলছে মেডিক্যালের দিকে।
আমরা যাবো
সিপাহি বিদ্রোহের স্মৃতিবাহী ভিক্টোরিয়া পার্ক।

বৃটিশ কাউন্সিলের সামনে আসতেই
শুনলাম তরুণী কণ্ঠ, ‘হুদা, শ্লোগান ধরো’।

মেয়েদের মিছিল দ্রুত আমাদের কাতারে এসে মিশেছে।
ঘাড় ফেরাতেই দেখি, শাদা শাড়ির এক শাদা তরুণী।
খাপখোলা তলোয়ারের মতো শাণিত আর তরঙ্গিনী।

মুক্তিকামী বাঙালি তরুণ-তরুণীর যুযুধান যাত্রা
ঢাকার রাজপথকে বানিয়েছে
গঙ্গা-পদ্মা-যমুনার মিলিত ধারা।
বেবীর কণ্ঠে শ্লোগানের স্বর,
‘পদ্মা-মেঘনা-যমুনা’ :
আমাদের সম্মিলিত উত্তর,
‘তোমার আমার ঠিকানা’। (সম্পূর্ণ…)

আমি আমার নাম ভুলে গেছি

আনিসুর রহমান | ২৪ জুলাই ২০১৬ ৯:২৪ অপরাহ্ন

জলের মাছ কেন আসে রাতবিরাতে দরজায় কড়া নাড়ে ? কে কাশে?
গাছের পাখিরাও কেন আজ আসে আামার কাছে? কেচরমেচর ছেড়ে
কেন তারা করুণ সুরে, গাান ধরে গলা ছেড়ে? বানর হনুমান শেয়াল শকুন
হরিণ খরগোশ সকলে কেন বসে; আসন গেড়ে আমার পাশে? নানা কথা বলে
কেন তারা মাথা আর লেজ নাড়ে? বনের কে তবে আজ নির্ভয়ে গলা ছাড়ে?
কত কথা আকাশে বাতাসে উড়ে| সকলে কেন আজ তবে আমার কাছে ভিড়ে?
Anis

সকলে সমস্বরে এ কী কথা উচ্চারণ করে? কিসের ভয়, সকলের ঘরে ঘরে?
গাও গেরামের রমিজ, তমিজ, হরি গুপ্ত বড়ুয়া, গেরুয়া সকলের চোখে মুখে ভয়,
ভয়ে ভয়ে নানা কথা কয়, এসব দেখে শুনে আমার ইতিহাসের পাতা উল্টাতে ইচ্ছে করে;
১৭৫৭ আর ১৯৭১এর কথা মনে পড়ে, ঘোর বিপদেও বেঁচে গিয়েছিলাম, টিকে গিয়েছিলাম,
বড় মুখ করে সে গল্প বলে যাই সারাজীবন ধরে|! স্বাধীনতার এতো বছর পরে, কি করে
বিড়ালের ভয় উড়ে এসে জুড়ে বসে? আমার ঘরে কেন আজ ইঁদুরের উতপাত বাড়ে?
এরা কারা? কমিশন আর মুনাফার, লোভে কি সব প্রকল্প করে, আমাদের ঘর পুড়ে ;
বিবেকের মাথা খেয়ে রবার্ট ক্লাইভের জয়ন্তী করে, কার নাম নিয়ে, কার ঘরে আলো করে? (সম্পূর্ণ…)

অন্ধ হয়ে যাওয়ার রাতটি

অলাত এহ্সান | ২৩ জুলাই ২০১৬ ১০:২৫ অপরাহ্ন

Alatঅন্ধ অনেক রকমই হয়। এর মধ্যে যাদের দৃষ্টি ক্ষমতাটুকু নেই তাদেরই কেবল সবাই দেখতে পায়। কিন্তু আমার এক জোড়া চোখ আছে। তা ঘুরিয়ে চারপাশের সবকিছু দেখি। দেখতে দেখতে আবার অনেককিছু বদলেও যায়। তারপরও আমি নিজেকে কেন অন্ধ বলছি, তা কারোর বোঝার কথা নয়। বুঝতে হলে আমাকে সেই রাতের ঘটনাটি বলতে হবে, যখন মেয়েটির শরীর থেকে অজস্র বিচ্ছু তৈরি হয়েছিল এবং একটি বিচ্ছু আমার দ্বিতীয় চোখটিও নষ্ট করে দিল। আমার সারাজীবনে সেটা একটা ঘটনা যার ছায়া আজও বয়ে বেড়াতে হয়। অন্ধত্ব তো এমনই, মানুষ একবার হয় আর বাকি জীবন হাতড়ে বেড়ায়।
সে রাতে বাসে উঠার পরই আমার মনে হয়েছিল—বাসটা আমাকে ঠিক জায়গায় নিয়ে যাবে তো? কেন যেন সেদিন সকাল থেকে আমার ভেতর প্রচণ্ড উৎকণ্ঠা হানা দিয়েছিল। যেন কিছু একটা হতে যাচ্ছে, কিন্তু আমি বুঝতে পারছি না। আসলে প্রকৃতির সবকিছুই আগাম জানিয়ে আসে। মানুষ তার যতটুকু আলামত বুঝতে পারে, সেটাই তার অর্জন। এপাশ-ওপাশ কোনো রকম ভাবাভাবি ছাড়াই আমি তরতর করে বাসে দোতালায় উঠে গেলাম। যদিও কেউ দাঁড়িয়ে ছিল না, কিন্তু সব সিট প্রায় দখল হয়ে গেছে। যাত্রীরা বসে আছে এক-একটা কাঠের পুতুলের মতো—সোজা আর আড়ষ্টভাবে। অশেষ কৃপা যে মাঝখানে মাত্র একটা সিট ফাঁকা ছিল। তা খুঁজে পেতে আমাকে বিশেষ বেগ পেতে হলো না। সামনের সিটে মাথা ঠেকিয়ে বসে রইলাম ড্রাইভারের হাতে নিজেকে সপে—সে নিশ্চয়ই গন্তব্যে পৌঁছে দিবে। প্রচণ্ড ঝালে হাঁপানোর মতো দম ছাড়ছিলাম-নিচ্ছিলাম। পাশের যাত্রীকে মনে হলো নিকটতম সুদূরের বাসিন্দা। (সম্পূর্ণ…)

রহমান শেলীর দুটি কবিতা

রহমান শেলী | ২২ জুলাই ২০১৬ ১১:৪৩ অপরাহ্ন

মিসিং ট্রেন

Shely
তুমি বলো, তাই আজো হেঁটে যাই
সময়গুলো বেঁধে সময়গুলো ফেলে।
কতো সময় এলো, কতো সময় গেলো
কতো পাগল এলো, কতো পাগলের মেলা হলো জীবনের হাটে।

তুমিও বলেছিলে; আজো একা?
আছিস কেমনে বল্ প্রেম ছাড়া?
বলি আছি, বিকেলের পর বিকেল
সময় একটা মিসিং ট্রেন!

মিসিং ট্রেন ফেরত কি আসে আর
স্টেশনে?
তোমার সময়গুলো ভাসে
তোমার কথাগুলো ভাসে
তোমার অবহেলাগুলো…
তোমার ছোঁয়া ফেরত আসা খাম
নেড়ে যায় লুকানো এই মন। (সম্পূর্ণ…)

একটি অপ্রচলিত ধারার আখ্যান

হামীম কামরুল হক | ২০ জুলাই ২০১৬ ২:১৬ অপরাহ্ন

Sub_Coverউপন্যাস আর আগের মতো নেই। আধুনিক যেকোনো উপন্যাস পড়ামাত্র পাঠক এটি টের পান। হোসে সারামাগোর মতে, উপন্যাস আর সাহিত্যের একটি বর্গ/জঁর হয়ে নেই। উপন্যাস যেখানে এসে দাঁড়িয়েছে তাতে এটি এখন একটি সাহিত্যিক পরিসর/লিটারারি স্পেস। অনেক নদী যেমন সমুদ্রে গিয়ে মেশে, উপন্যাস তেমন সাহিত্যের বিপুল বিষয় নিয়ে এক জায়গায় জড়ো করতে পারে। সারামাগোর কথার ভেতরে উপন্যাসকে ক্রিটিক্যালি দেখার ব্যাপারটি আছে। এনিয়ে বিস্তৃত আলাপ আলোচনা হতে পারে। কিন্তু আমাদের এখানে সেই সুযোগ আপাতত নেই। আমরা বরং পাঠকের সাধারণ জায়গা থেকে উপন্যাসকে দেখবার চেষ্টা করছি। বলতে চাইছি যে, পাঠকের দিক থেকে দেখলে আমার মনে হয় উপন্যাস দু রকম। একটির ভেতরে পাঠক নিজেকে খুঁজে পান, অন্যটিতে পাঠক নিজেকে হারিয়ে ফেলেন। আরো অনেক রকমের আখ্যান আছে। কোথাও কাজ করে তিনি যে একটি উপন্যাস পড়ছেন সেটি লেখক তাকে বার বার মনে করিয়ে দেন। ব্রেখটের নাটকের এলিয়েনেশান থিওরির মতো। রুবাইয়াৎ আহমেদের উপন্যাস একজন সাব-এডিটরের কতিপয় ছোঁড়াখোঁড়া দিন-এ পাঠক নিজেকে হারিয়ে ফেলেন, সমকালীন বিশ্বপরিস্থিতির ভেতরে এক রকম ডুবেই যাবেন বলেই মনে হয়, কিন্তু এও বলতে পারি যে, এর ভেতর দিয়ে লেখক হয়তো একটি সাহিত্যিক পরিসরই তৈরি করতে চেয়েছেন। (সম্পূর্ণ…)

সাম্প্রতিক বিশ্বসাহিত্য: প্রেসিডেন্ট সাদ্দাম হোসেনের সর্বশেষ উপন্যাস ‘দূর হ শয়তানের দল’

বিপাশা চক্রবর্তী | ১৮ জুলাই ২০১৬ ৭:৩৬ অপরাহ্ন

Saddam's Novel-2বিশ্বব্যাপী তিনি পরিচিত ছিলেন একজন শাসক, রাষ্ট্রপ্রধান হিসেবে। তার শাসনামলে মিথ্যা অভিযোগে তার দেশে আক্রমণ চালিয়েছিল পশ্চিমা দেশগুলো। তাকে ক্ষমতাচ্যুত করা হয়েছিল, তাকে খুন করা হয়েছিল। কিন্তু খুন হওয়ার অনেক আগে থেকেই তার মধ্যে জন্ম হচ্ছিল অন্য অারেকটি সত্ত্বা, এক সাহিত্যিক সত্ত্বা। যদিও সবাই জানেন, তিনি জীবদ্দশায় সাহিত্যিক হিসেবে পরিচিত ছিলেন না কারোর কাছেই। এমন একজন মানুষের যে বইটির কথা বিশেষভাবে উল্লেখ করতে যাচ্ছি – সে বইটি জেতেনি কোন সাহিত্য পুরস্কার। এই বইটিকে বলা যায়, ‘স্মৃতির অতলে হারিয়ে যাওয়া এক খন্ড কাগজের মন্ড।’–‘নিউ ইয়র্ক টাইমস’ পত্রিকা এভাবেই আখ্যায়িত করেছে বইটিকে।

মানুষটির নাম সাদ্দাম হোসেন। ইরাকের সাবেক ও প্রয়াত প্রেসিডেন্ট। বিস্মৃত এই রাষ্ট্রনায়কের সবচেয়ে অনালোকিত দিক আমরা প্রায় কিছুই জানি না। যদিও আরবীভাষী জগতে তিনি এই পরিচয়ে এখন বেশ পরিচিত এবং জনপ্রিয়। আর এই পরিচয় ও জনপ্রিয়তাকে পুঁজি করে পশ্চিমা প্রকাশনা সংস্থাগুলো এখন উৎসুক হয়ে উঠেছে তার বইগুলোর ইংরেজি অনুবাদে। তার সর্বশেষ বইটিই এখন আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দু। যে বইটির কথা বলছি তা সাদ্দাম হোসেনের চতুর্থ ও সর্বশেষ উপন্যাস। সাদ্দাম হোসেন লিখেছিলেন আরবীতে ‘উরখাজ মিন’হাইয়া,মাল’উন”। যা ইংরেজীতে Begone, Demons অর্থাৎ “দূর হ শয়তানের দল” নামে সর্বাধিক পরিচিত। এছাড়াও উপন্যাসটি Get Out You Damned অথবা Get Out of Here, Curse You! শিরোনামেও অভিহিত করা যেতে পারে, বাংলা করলে যার তর্জমা দাঁড়ায় ‘দূর হ, নরকের কীট’ অথবা ‘যা এখান থেকে, অভিশাপ তোকে!” এসব নামেও ডাকা যেতে পারে। বইটি তিনি শেষ করেছিলেন ইউএস আর্মি দ্বারা তাঁর পতনের ঠিক একদিন আগের সন্ধ্যায়। স্বাধীন রাষ্ট্রনায়ক হিসেবে সাদ্দাম হোসেনের জীবনের অন্তিম মুহূর্তে শেষ করেছিলেন পান্ডুলিপিটি। তখন ২০০৩ সাল। মার্চের বিশ তারিখে পতন ঘটে সাদ্দাম হোসেনের। তারপরের ঘটনা সবার জানা। পালিয়ে বেড়ান সাদ্দাম হোসেন পরের নয়টি মাস। নিজ জন্ম শহর তিরকিত-এর কাছে পিঠে কোথাও আত্মগোপনে ছিলেন। কিন্তু ডিসেম্বরের তের তারিখ গ্রেফতার হন সেই ইউএস আর্মির কাছে। গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী কাজের জন্য যারা তাঁকে ২০০৬ সালের ত্রিশ ডিসেম্বর ফাঁসিতে ঝুলিয়ে মৃত্যুদন্ডাদেশ কার্যকর করে। মৃত্যু হয় একজন সাদ্দাম হোসেনের কিন্তু তাঁর লেখা সর্বশেষ বইয়ের পান্ডুলিপিটি সঙ্গে নিয়ে জর্ডানে নির্বাসিত হন তাঁর কন্যা রেগাদ সাদ্দাম হোসেন। অতিসম্প্রতি এই বইটি প্রথমবারের মতো ইংরেজী অনুবাদ প্রকাশের ঘোষণা দিল ব্রিটিশ প্রকাশনা সংস্থা হাস্পার্স। (সম্পূর্ণ…)

মুক্তিযোদ্ধা ও গীতিকার নজরুল ইসলাম বাবু

সাইফুল্লাহ মাহমুদ দুলাল | ১৭ জুলাই ২০১৬ ৩:১০ অপরাহ্ন

Babu“ডাকে পাখি খোল আঁখি
দেখ সোনালী আকাশ/ বহে ভোরের বাতাস”…
এই অসাধারণ গানের শিল্পীর নাম সবাই জানলেও সিংহ ভাগ মানুষ জানেন না রচয়িতার নাম, নজরুল ইসলাম বাবু। একটি স্নিগ্ধ, শান্ত, শীতল, কোমল, মিষ্টি সকালের আমেজে ভোরের গানের আড়ালে হারিয়ে গেছে গানের জনক। শুধু এই গানের ক্ষেত্রেই নয়; অধিকাংশ গানের ক্ষেত্রেই এই ঘটনা ঘটছে।
কবিদের যেভাবে গুরুত্ব দেয়া হয় এবং মূল্যায়ন করা হয়, গীতিকবিদের ক্ষেত্রে তা হয়না। তাই আমাদের অনেকেই গান লেখায় উৎসাহ হারিয়ে ফেলেন। এখন গান লেখা সহজ এবং লিখে সন্মানীও মেলে। কিন্তু এক সময় রেডিও-টিভিতে গান লেখার জন্য তালিকাভুক্ত হওয়া ছিল বাঞ্চনীয়। তাই গীতিকার হতে হলে বাধ্যতামূলক পঁচিশটি গান জমা দিয়ে বোর্ড কর্তৃক অনুমোদনের পর ‘ওয়ার্সি’ জুটতো। আর বেতারে এ বি সি গ্রেডের গীতিকারদের সন্মানি দেয়া হতো প্রতি গান যতবার বাজবে; তত বার এক, দুই, তিন টাকা করে। (সম্পূর্ণ…)

আমার ডাকনাম অন্ধকার…

তাপস গায়েন | ১৬ জুলাই ২০১৬ ২:০০ অপরাহ্ন

(কবি আলফা পারভীন স্মরণে)

রণদেবী এথিনাকে দেখিনি কখনো
যেভাবে তুমি ছিলে আমার অদেখা ঈশ্বরী
কবি তুমি, অসামান্য যোদ্ধা তুমি, আর ছিলে অপরূপা নারী
এখন তোমার ছায়া স্থির, যেভাবে সুসজ্জিত হয়ে আছে
গ্রীক বর্ণমালার আদ্যাক্ষর, তাই
প্রেমহীন কবি এসে জড়ো হয়েছিল তোমারই চারিপাশে
প্রেমের কাছে আসতে আমাদের
পার হয়ে যায় শতকোটি বছর;
কবিরা আসে যত দ্রুত,
চলে যায় তারও থেকে দ্রুততর বেগে
Taposh
মহাকালব্যাপী তাই চিতাগ্নি জ্বলে!

সূর্যের বর্ণচ্ছটায় আঁকা তোমার কালো শাড়ির আঁচল
অভাবিত উজ্জ্বল, করুণ;
সিঁদুরের মতো লাল তোমার কপালের টীপ, আর
প্রতিসাম্যময় তোমার অবয়বের কাছে যখন
সময় এসে থমকে দাঁড়িয়েছিল, (সম্পূর্ণ…)

ইভ বনফয়ের ৫টি কবিতা

মাসুদুজ্জামান | ১৫ জুলাই ২০১৬ ৩:০৬ অপরাহ্ন

Bonfoy“কবিতা লেখা মানেই চিন্তা করা, কিন্তু কবিতা লিখতে হবে কবিতারই আঙ্গিকে, সংগীতের মাধ্যমে – আমরা যদি জানি কীভাবে গান শুনতে হয়, তাহলে গান আমাদের কবিতাকে সাহায্য করবে। আমাদের জীবনে যা ঘটে, কবিতা সেই গানই রচনা করতে চেষ্টা করে।” এই কথাগুলো বলেছিলেন ফরাসি কবি ইভো বনফয়। প্রথম কাব্যগ্রন্থ প্রকাশের সঙ্গে সঙ্গে ফরসি কবিতাভুবনে সাড়া ফেলে দিয়েছিলেন। পল ভ্যালেরি ছাড়া আর কারও প্রথম কাব্যগ্রন্থ এতটা আলোড়ন তুলতে পারেনি। তাঁর কবিতা তীব্রভাবে রোমান্টিক কিন্তু ছুঁয়ে যায় আমাদের ইন্দ্রিয়জ সজ্ঞা ও প্রজ্ঞা, জীবনাসক্তি ও মৃত্যু, প্রাকৃতিক জীবন ও অধিবাস্তবতা, প্রতিদিনের যাপন ও অভিজ্ঞতা। প্যারি বিশ্ববিদ্যালয়ে দর্শন-পড়া আর তুলনামূলক কবিতার অধ্যাপক বনফয় মনে করতেন আমরা যা ভাবি, ভাষা সেখানে পৌঁছাতে পারে না। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর তাকেই মনে করা হয় সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য ফরাসি কবি। কবিতার শব্দ, একটা কবিতায় তিনি বলেছিলেন, আকাশের মতো অনন্ত। আমাদের প্রতিদিনের মুখের বুলি আর ধ্রুপদী লেখ্যভাষার বিমিশ্রণে তৈরি বনফয়ের কবিতা তাই অনেকটাই আলাদা বলে মনে করেন সমালোচকেরা।
এখানে সদ্যপ্রয়াত (জন্ম জুন ২৪, ১৯২৩, মৃত্যু ১ জুলাই ২০১৬) এই কবি প্রতি শ্রদ্ধার্ঘ্য জানিয়ে তাঁরই একগুচ্ছ কবিতা প্রকাশ করা হলো। কবিতাগুলি ইংরেজি অনুবাদ থেকে অনূদিত। (সম্পূর্ণ…)

পাবলো নেরুদার প্রাচ্যবাসের অভিজ্ঞতা ও দুটি কবিতা

রাজু আলাউদ্দিন | ১৩ জুলাই ২০১৬ ১০:১৭ অপরাহ্ন

pablo nerudaলাতিন আমেরিকার বেশ কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ লেখক ভারতবর্ষে চাকরিসূত্রে এসেছিলেন। কেউ কেউ নিছক ভারতীয় উপমহাদেশের প্রতি কৌতূহল থেকেও এসেছিলেন। আমাদের মনে পড়বে ওক্তাবিও পাসের নাম, মনে পড়বে পাবলো নেরুদার নাম। এসেছিলেন আর্হেন্তিনার ঔপন্যাসিক রিকার্দো গুইরাল্দেস। এসেছিলেন হুলিও কোর্তাসারও ১৯৫৯ সালের দিকে। কলকাতা শহরের সাধারণ রাস্তাঘাটের দৃশ্যাবলীর বর্ণনাসহ রয়েছে তার একটি পূর্ণাঙ্গ লেখাও।
কিন্তু চিলে থেকে ভারতে উল্লেখযোগ্য প্রথম যে ব্যক্তি ভারতে এসেছিলেন তিনি পাবলো নেরুদা। এসেছিলেন দুবার। কেউ কেউ মনে করেন তিনবার এসেছিলেন। প্রথমবার এসেছিলেন রেঙ্গুনে চিলির কনসালের চাকরি নিয়ে। ১৯২৭ সালের অক্টোবরে তিনি দায়িত্বভার গ্রহণ করে ১৯২৯ সালের শুরু পর্যন্ত ভারতীয় উপমহাদেশের বিভিন্ন অঞ্চলে কাটান। ফুন্দাসিওন পাবলো নেরুদার(Fundacion Pablo Neruda) দেয়া তথ্য থেকে জানা যাচ্ছে ডিসেম্বরের শেষের দিকে তিনি শ্রীলংকা থেকে মাত্র অল্প কয়েক দিনের জন্য ভারতের কলকাতায় এসেছিলেন। জানুয়ারির শুরুর দিকেই তিনি কলকাতা থেকে আবার শ্রীলংকা ফেরেন। এ সফরে কলকাতায় অনুষ্ঠিত ‘ভারতীয় মহাসভা’র জাতীয় কংগ্রেসের অধিবেশনে এসে দেখা হয়েছিল মতিলাল নেহেরু ও মহাত্মা গান্ধীর সঙ্গে। দেখেছিলেন সদ্য বিলেত ফেরত জওহরলাল নেহেরুকে। তার আত্মজৈবনিক গ্রন্থ স্বীকার করি বেঁচেছিলাম (Confieso Que he vivido : memorias) এ তিনি এর বর্ণনা দিয়েছেন যা ভবানীপ্রসাদ দত্ত অনুদিত ‘অনুসৃতি’ গ্রন্থে বাঙালি পাঠকরা খুঁজে পাবেন। এরপর তিনি আরও একবার ভারতে আসেন ১৯৫০ সালে। প্যারিস থেকে বিশ্বশান্তি আন্দোলনের লক্ষ্যে নেহেরুকে দেয়া জুলিও ক্যুরির একটি চিঠি বয়ে আনার দায়িত্ব পড়েছিল তাঁর উপর। অক্টোবরের দিকে তিনি দিল্লিতে এসে নেহেরুর সঙ্গে দেখা করে তাকে সেই চিঠি হস্তান্তর করেন। এ যাত্রার তিনি ১০ দিনের মতো ছিলেন স্বাধীন ভারতে। আরও একবার তিনি ভারতে এসেছিলেন ১৯৫৭ সালের জুলাই মাসে। এই সফরের কথা কোথাও খুব একটা শুনা যায় না। নেরুদা নিজেও তার আত্মজৈবনিক গ্রন্থে এ নিয়ে কিছুই বলেননি। তবে মাহমুদ আল জামান এবং বিষ্ণু দের দেয়া তথ্য থেকে জানা যায় তিনি কলকাতা এসেছিলেন। ‘ফুন্দাসিওন পাবলো নেরুদা’-এর দেয়া তথ্যের সঙ্গেও এই বক্তব্য মিলে যায়। এ যাত্রায় তার সঙ্গে ছিলেন ব্রাজিলের বিখ্যাত বামপন্থী লেখক জোর্জে আমাদো। এ তৃতীয় সফরে তিনি ভারতের কোন কোন জায়গায় কার কার সঙ্গে দেখা করেছিলেন তার বিস্তারিত বিবরণ অন্য কোথাও- ইংরেজি বা স্প্যানিশে– পাওয়া যায় না। (সম্পূর্ণ…)

শাপলা সপর্যিতার সাতটি কবিতা

শাপলা সপর্যিতা | ১৩ জুলাই ২০১৬ ১:১২ অপরাহ্ন

ঋষির ঠোঁটে প্রেম

ফের উঠে আসে জল ছল ছল শব্দে সে প্রপাত।
মানুষের বুকে পাথর। অন্ধ ধারাজল। ঋষির ঠোঁটে প্রেম।
অবাধ লীলা সঙ্গম। কোনো এক অনামা পাখি
কবে বুঝি গর্ভে নিয়েছিল মানুষের বীজ। জন্ম দিয়েছিল মানুষ।
বুকে পাখির প্রাণ।
তাই আজন্ম পাখির মতো উড়ে উড়ে বেড়ালো জীবনভর।
ঢেউয়ে ঢেউয়ে জলপ্রপাতের ধারায়।
ভাঙলো ঘর। ভাঙলো বাড়ি। প্রেম, আলোর নিকেতন।
তারপর দীর্ঘপাখা মেলে চলে গেল…
কোথায় মথুরা বৃন্দাবন। আহা মানুষ।
উড়ে উড়ে ঘুরে ঘুরে অবশ-বিবশ।
Shapla
ঘোড়সওয়ার

সন্দিগ্ধ সন্ধ্যায় পায়রা ওড়ে আকাশে। সুনির্দিষ্ট সময়, পারবে কি?
পৌঁছুতে নিয়ে যক্ষপ্রিয়ার কাছে? চিঠি অমরাবতী?
হায় মেঘের দেবতা কবে যেন দিয়েছিল রৌদ্র সকাল
রূপবতী রূপালি আকাশ মেঘে মেঘে এঁকেছিল
কত না রাজকন্যার মুখ, আলসে মায়াবী চাঁদের ছায়ায়
কত না জোছনার নুপূর নিক্কন। ক্লান্ত বেজে বেজে। অধীর অপেক্ষায়।
তবু কেন ঢেকে যায় আঁধারে পৃথিবীর মুখ?
কেন রাজার কুমার সাত সমুদ্রের পাতাল থেকে তুলে আনে
অথচ খুঁজে পায় না রাজকন্যার দেখা। আহ । এ কি বেঘোর মরণ।
জনমে জনমে মরণের পিছে পিছে
ঘোড়সওয়ার। সে এক মায়াবী জীবন! (সম্পূর্ণ…)

মোহাম্মদ রফিক: তাদেরকে শিল্প সাহিত্য সংস্কৃতি চর্চার দিকে ফিরিয়ে আনতে হবে

শিমুল সালাহ্উদ্দিন | ১১ জুলাই ২০১৬ ৬:৪৮ অপরাহ্ন

Rafiq
ছবি: নাসির অালী মামুন

শিমুল সালাহ্উদ্দিন: স্যার আপনি এ অঞ্চলের মাটি মানুষ জনসংস্কৃতিকে আপনার কবিতার উপাদান হিসেবে ব্যবহার করেছেন। গুলশান হামলার এই ঘটনার পর সবার মধ্যে যেনো একটা ভীতি ঢুকে গেছে। এ দশায় করণীয় কি স্যার বাঙালির। বাঙালি এখন কি করবে?
মোহাম্মদ রফিক: তুমি যে বাঙালি বলছো তার মধ্যেই তুমি উত্তর দিয়ে দিয়েছো। বাঙালি আরো বাঙালি হবে। বাঙালিকে আরো বাঙালি হতে হবে। আমরা ১৯৭১ এ মুক্তিযুদ্ধ করেছিলাম, এবং এদের বিরুদ্ধেই তো মুক্তিযুদ্ধ করেছিলাম। এদের মতো ধর্মকে রাজনীতিতে ব্যবহার করা কিছু মানুষের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করেই তো দেশ স্বাধীন করেছি। আমরা কি মন্ত্রে দেশ স্বাধীন করেছি! অন্য যা কিছু থাক, আমাদের মূল উদ্দ্যেশের জায়গা ছিলো, আমরা আমাদের বাঙালিত্বকে প্রতিষ্ঠা করতে চেয়েছিলাম। একটি স্বাধীন জাতি হিসেবে আমরা আবির্ভূত হয়েছিলাম এদের সাথে লড়াই করে।

শিমুল সালাহ্উদ্দিন: অনেক তরুণরা ধর্মীয় রাজনীতির দিকে আকৃষ্ট হচ্ছে, এমনকী তারা জীবনের তোয়াক্কা করছে না। গুলশানের হামলায় বাচ্চা বাচ্চা ছেলেরা বিশজন মানুষকে জবাই করে হত্যা করেছে, তাদের এই মোটিভেশনের কারণ কি বলে মনে করেন আপনি?
মোহাম্মদ রফিক: আজকের তরুণদের বিভ্রান্ত হওয়ার বড় কারণ, তাদের সামনে কোন মন্ত্র নেই। তারা জানে না, তারা কেনো জীবন ধারণ করছে। তাকে যদি এই মন্ত্রে উদ্বুদ্ধ করা যায়, যেটা আমাদের মতোই, রাষ্ট্রেরও দায়িত্ব বলে আমি মনে করি, যে, তাকে বোঝাতে হবে, তুমি বাঙালি, তোমার বাঙালি সত্ত্বাকে বিশ্বে প্রতিষ্ঠা করতে হবে— তাহলে দেখবে এই জঙ্গিবাদের ক্ষমতা অনেক কমে যাবে। (সম্পূর্ণ…)

পরের পাতা »

Disclaimer & Privacy Policy  |  About us  |  Contact us

© bdnews24.com