পথে, প্রদেশে (পর্ব-৬)

মাসুদ খান | ৩ সেপ্টেম্বর ২০১৫ ১:৪২ অপরাহ্ন

(পূর্ব-প্রকাশিতের পর)

ব্রাহ্মণ ও ক্ষত্রিয়দের যৌথবাহিনী

বহুদিন ধরে হকসেদের জ্ঞানকাণ্ডীয় উৎপাতে অতিষ্ঠ ও অপমানিত এলাকার মাতব্বর- ও পণ্ডিতকুল। তারা ঠিক করেছে আজ ঠ্যাক দেবে হকসেদকে। ঠ্যাঙানিও দেবে ভাবমতন। এ কাজে যুব-সিন্ডিকেটের কয়েকজন মাস্তানও জোগাড় করা হয়েছে চুক্তি ভিত্তিতে। সবাই মিলে যুক্তি করে ওঁৎ পেতে বসে আছে হকসেদের প্রস্থানপথের পাশে।
নেতা-গোছের যে, তার নাম ফয়সাল করিম, লোকে ডাকে ‘ফয়সালা করুম’। সে একইসঙ্গে হাঁটুভাঙ্গা বহুমুখী ভুবনবিদ্যায়তনের পণ্ডিতসংঘের সভাপতি, আবার নাম্বার-ওয়ান লোকাল মাতবর, আবার তেল ও ভুসিমাল ব্যবসায়ী সমিতির সম্মানী উপদেষ্টাও। খুব রাগ আর খালি প্যাঁচ আর পলিটিকস। চলাফেরা ক্ষমতাকাঠামোর আশেপাশে। এক অসাধারণ গিরগিটি-প্রতিভার অধিকারী, ক্ষমতার রং বদলে গেলে তালে-তালে নিজের রঙও বদলে ফেলতে পারে দ্রুত। সবসময় পাওয়ারের লোকজনদের সঙ্গে তার ওঠাবসা, আশনাই ও মিথোজীবিতা।

তো, সেই নেতা-ফয়সাল কয়েকজন চ্যালাসহ ঠ্যাক-বাহিনীর অগ্রবর্তী মারমুখী দল হিসাবে ধেয়ে আসে হকসেদের দিকে। অবস্থা বেগতিক আঁচ ক’রে সামনে ওঁৎ-পেতে-থাকা ঠ্যাক-ও-ঠ্যাঙানি-পার্টিতে আগাম ভীতিসঞ্চারের উদ্দেশ্যে হকসেদও তেড়ে যায় কয়েক কদম, বেশ আগ্রাসী ভঙ্গিতে।

হাউৎ করে ওঠে হকসেদ, “এই! ব্যাটা ফাউল ফয়সাল! হটাৎ গর্মা জাগো দিছে দেখতাছি, আয় দেহি ফয়সালা করি তোর।” বলেই থাবড়া দিয়ে ধরে ফেলে ফয়সালের চকরাবকরা গিরগিটি-আঁকা শার্টের কলার। ধরেই ঠাসঠাস করে দেয় কয়েকটা কানসা বরাবর। জোরে জোরে বলতে থাকে,
“পাওয়ারের আশেপাশে মেনি বিলাইয়ের মতন ঘুরঘুর করোস, উটাকাঁটা যা ছিটায় তা-ই খাস আর ভাব দেখাস চরম বুদ্ধিজীবী, না? চুরিদারি টাউটারি ছাইড়া দিয়া অটো-সাইজ হয়া যা কইলাম। নাইলে কিন্তুক খবর আছে, হুঁ! জব্বর খবর!” (সম্পূর্ণ…)

মঈনুল আহসান সাবেরের ‘আবদুল জলিল যে কারণে মারা গেল’

মেহেদী উল্লাহ | ২ সেপ্টেম্বর ২০১৫ ১০:২৪ পূর্বাহ্ন

নিজ দেশে নাগরিকের ‘ঔপনিবেশিক-মৃত্যু’ই দেশের মৃত্যু ঘটায়!

একটি দেশের গুরুত্বপূর্ণ লেখকরা যখন অধিকাংশ ক্ষেত্রে সমকালীন বাস্তবতাকে এড়িয়ে যান, বসবাস করেন অন্যকোনো জগতে, বেশিরভাগ ক্ষেত্রে তা ইতিহাসে কিংবা প্রবাসে, নস্টালজিয়ায় আর পিছুটানের পরম্পরায় তখন কী ঘটে? সে দেশের সাহিত্যিকরা হয়ে পড়েন ‘বর্ণচোরা’ আর তাঁদের হাতে সৃষ্ট সাহিত্য পাঠকের জন্য কেবলই পলায়নপর সাহিত্যিকের সাহিত্য-পসরা। গত কয়েক বছরে বাংলাদেশের যে উপন্যাসগুলোতে সাহিত্যের পৃষ্ঠপোষক গোষ্ঠী আলো ফেলেছে তা থেকে এটাই প্রতীয়মান হয়েছে, তারাও বর্তমান বাংলাদেশের বাস্তবতাকে আধিপত্যবাদী গোষ্ঠীর কাছ থেকে আড়াল করতে চাইছে। দেশীয় ও ইউরোপীয় এই দুই গোষ্ঠীর চাওয়াটা মিলে গেলে একটা জিনিস খুব সুখকর হয় নতুন করে যারা উপনিবেশ স্থাপন করতে চায় তাদের জন্য, তারা কিছু একটা চাপিয়ে দেওয়ার সুযোগ পায় তখন। যেহেতু নিজের দেশের বর্তমান সংকটগুলোকে স্বদেশের লেখকরা আড়াল করে দিয়েছেন তাতে তারা দেশের ওপর ও মানুষের ওপর তাদের বাসনাকে চাপিয়ে দিতে পারছে, যা তারা চায় বা চেয়েছে। এটাই ঘটছে বাংলাদেশের বেলায়।

পাশ্চাত্য এখন আর প্রাচ্যের সাহিত্য থেকে বা বৃহৎ পরিসরে এর কালচারাল টুলগুলো থেকে একে জানতে আগ্রহী নয়। এ বিষয়ে তারা প্রযুক্তি, এজেন্টসহ ভিন্ন মাধ্যমগুলো ব্যবহার করছে। না জানতে চাওয়ার এটাও একটা কারণ, যে একশ বছর হয়ে গেলেও বাংলা কিংবা ভারতীয় ভাষার অন্য কোনো সাহিত্য আর নোবেল পায় নি, বড়কথা এনিয়ে পাশ্চাত্যের আগ্রহ নাই বললেই চলে। (সম্পূর্ণ…)

মতিন বৈরাগীর কবিতা

মতিন বৈরাগী | ১ সেপ্টেম্বর ২০১৫ ৭:৩৬ অপরাহ্ন

০১.

সত্যি কি তুমি ?

দীর্ঘ প্রতীক্ষার সে কি তুমি !
একটা শীতল হাওয়া স্নিগ্ধ যেন ভোরের বাতাস
যেন বৈশাখের দাবদাহ হাওয়ায় বিলীন
নমিত সকল প্রাণ ভূমির দিকের
আমি আরেক আমি একরাতের
দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর সে কি তুমি !
নমিত বৃক্ষরাজি
আলোর আনন্দ নাচ ধ্রুপদ্ সংগীত
বাতাবী লেবুর ডালে থোকায় থোকায় জোনাকী
হীরক বিভূতি তারকাপুঞ্জের
যেন সবুজ পাহাড় মেঘমালায় শোভিত
আর ঝর্না! এক তন্ময়তায় তোমার দিকে
শষ্যের শীর্ষে অপ্সরীর মুখ
পাখিদের পাখার আওয়াজ
দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর এক শীতল ছোঁয়া সে কি তুমি?
এক বিভ্রম অরণ্যের: অপার রহস্য
এক কুহক অমা-রাতের
এক চাঁদের গীটারে তখন হাল্কা নরম সুর: নতুন নিনাদ
আর তারকারা যারা গল্পের নানা কিনারায়
নিশ্চুপ মুগ্ধ শ্রোতা
তোমার ছায়া?
তৃণগুল্মের সবুজ কার্পেট
তুমি তো আমার প্রতীক্ষা
আমার মুখ আকাশের দিকে মওলানা রুমির মতো
আমার সমস্ত ধ্যান বিগলিত
দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর সে কি তুমি ! (সম্পূর্ণ…)

খুশবন্ত সিং-এর সাক্ষাৎকার: সেক্স তাদের মগজে

আন্দালিব রাশদী | ৩০ আগস্ট ২০১৫ ৯:৩৫ অপরাহ্ন

k-1.jpg১৫ আগস্ট ২০১৫ ছিল খুশবন্ত সিং-এর জন্মশত বার্ষিকী। কেবল ভারত নয়, দক্ষিণ এশিয়ার সবচেয়ে পঠিত এই লেখক ২০ মার্চ ২০১৪ মৃত্যুবরণ করেন। ৯৪ বছর বয়সেও কলাম লিখে গেছেন, ৯৮ বছর বয়সেও তাঁর বই প্রকাশিত হয়েছে। দিল্লির ‘ডার্টি ও টি ম্যান খুশবন্ত সিং ভিনোদ মেহতাকে দেওয়া একটি সাক্ষাৎকারে খোলামেলা অনেক কথা বলেছেন। জন্মশতবর্ষের শ্রদ্ধা জানাতে ভিনোদ মেহতার নেয়া এই সাক্ষাৎকারটি অনুবাদ করেছেন কথাসাহিত্যিক অনুবাদক আন্দালিব রাশদী। বি. স.

শীলা রেড্ডি সম্পাদিত ও সংকলিত খুশবন্ত সিং-এর Why I supported Emergency: Essays and Profiles-এর প্রকাশনা উপলক্ষে দুজন কীর্তিমান সম্পাদক আলাপ করতে বসেছিলেন। একজন Outlook-এর প্রধান সম্পাদক ভিনোদ মেহতা, অন্যজন দ্য ইলাসট্রেটেড উইকলি অব ইন্ডিয়ার একদা ডাকসাইটে সম্পাদক এবং প্রকাশিতব্য গ্রন্থটির গ্রন্থকার।
এমন দুজন মানুষ যখন কথা বলেন, লাগাম কে টানবে? আলোচনায় সেক্স, ডার্টি জোকস থেকে শুরু করে মানেকার বাজে ভাবে বেড়ে উঠা সন্তান করুন–কোনো কিছুই লুকোনো থাকেনি।

ভিনোদ:
দেবোনায়ার ম্যাগাজিনে ‘সেন্টারফোল্ড’ বলে একটা ব্যাপার ছিল। আমি প্রায়ই এ নিয়ে খুশবন্ত সিং-এর সাথে আলাপ করতাম। সুতরাং আমাদের বন্ধুত্ব ১৯৭৪ থেকে। মাঝখানে অবশ্য কিছু ঢেকুরও ছিল। আমি বোম্বে নিয়ে Bombay A Private View নামে একটি বই লিখি, এর একটি পুরো অধ্যায়ই খুশবন্ত সিংকে নিয়ে। একটি সাক্ষাৎকার নেবার জন্য যখন খুশবন্ত সিং-এর সাথে দেখা করি আমি জিজ্ঞেস করেছিলাম আপনি যে এতো বছর ইংল্যান্ডে ছিলেন, কী করেছেন? তিনি জবাব দিলেন, সঙ্গম, পনির আর মদ। আমি তখন থেকে তাকে চিনি এটা আমার জন্য আনন্দের ব্যাপার। (সম্পূর্ণ…)

মাহবুব হাসানের দুটি কবিতা

মাহবুব হাসান | ২৯ আগস্ট ২০১৫ ১১:৩১ পূর্বাহ্ন


পরাবাস্তব

আজকাল প্রায়শই মানুষকে উড়তে দেখি
তাদের পা আকাশে আর মাথা মাটির দিকে;
মাটির মানুষ কি-না!
এমন উল্টা কারবার জীবনে দেখিনি আমি, এমন কি
পশ্চিমারাও কখনো আকাশে পা দিয়ে হেঁটে বেড়াবার সখ করেনি,
তবে বাংলাদেশ তো কল্পরাজ্যের আগার-
কিছু মানুষকে দেখি অহমিকা আর ঐশ্বর্যের পিঠে চেপে
দিব্বি হেঁটে বেড়াচ্ছে সুনীল আকাশে।
আকাশ-পরীরা ভয়ে পাঙ্শু বর্ণ,
মেঘেদের সে কি পলায়ণপর দৌড়! (সম্পূর্ণ…)

নজরুলের ‘জয় বাংলা’

মুহম্মদ নূরুল হুদা | ২৭ আগস্ট ২০১৫ ১:০১ অপরাহ্ন

combo_nazrul_muzib.jpgপদ্মা-মেঘনা-যমুনা, সুরমা-ধলেশ্বরী-কর্ণফুলী, আরো কতো-শত নদনদীবাহিত, পলিগঠিত এই বঙ্গীয় অববাহিকা। অনাদিকাল থেকে এই ব-দ্বীপভূমিতে বিবর্তমান মানবগোষ্ঠির স্বাতন্ত্র্যসূচক অভিধার নাম বাঙালি। আর তার বসতভূমির নাম বাংলা নামের দেশ। ইতিহাসের অবশ্যম্ভাবী ধারাবাহিকতায় পূর্বদৃষ্টান্তরহিত এক রক্তক্ষয়ী মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে স্বাধীন-সার্বভৌম-জাতিরাষ্ট্র হিসেবে জন্ম নেয়ার মুহূর্তে তার সাংবিধানিক নাম হলো ‘বাংলাদেশ’। এ-কারণে এই রাষ্ট্রের প্রতিটি নাগরিকের কাছে ‘নদী বা ব-দ্বীপ বা পলি’-র মতো অনিবার্য ভৌগোলিক ও প্রাকৃতিক উপাদানের মতোই ‘বং, বাংলা বা বাঙালি’ শীর্ষক শব্দত্রয়ীও তার সত্তার পরিচয় নির্ণয়ে বিকল্পরহিত ব্যক্তিক ও সামষ্টিক অভিধা। আসলে হাজার বছরের বিবর্তনের ধারায় বাঙালি এই অভিধা স্বতঃপ্রাকৃতিকভাবেই অর্জন করেছে। এই অভিধা যেমন তার আপন অর্জন, তার সামাজিক-সাংস্কৃতিক-নৃতাত্ত্বিক বিবর্তনের পথও প্রায় স্বতঃসিদ্ধতাজাত। তাই এই জাতিরাষ্ট্র ও তার নাগরিকের সার্বিক বিজয় মানে বাংলা ও বাঙালির বিজয়। (সম্পূর্ণ…)

সি. পি. কাভাফির কবিতা

খালিকুজ্জামান ইলিয়াস | ২৬ আগস্ট ২০১৫ ৩:০২ অপরাহ্ন

cavafy-1.jpgকেবল গ্রিক আধুনিক কবিতারই প্রধান ব্যক্তিত্ব নন, আধুনিক যুগের বিশ্বকবিতারই তিনি এক প্রধান কন্ঠস্বর। কাভাফির জন্ম ১৮৬৩ সালে মিশরের আলেকজান্দ্রিয়ায়। জন্ম মিশরে হলেও জাতিগত ও ভাষিক পরিচয়ে তিনি ছিলেন গ্রিক। সারা জীবন গ্রিক ভাষাতেই লিখেছেন। লিখেছেন কবিতাই, কিন্তু তা সংখ্যায় অল্প হলেও প্রায় প্রতিটি কবিতায় রয়েছে তার নিজস্বতার ছাপ। প্রথমে সাংবাদিকতা দিয়ে পেশাজীবনের শুরু হলেও পরে তিনি Ministry of Public Works বিভাগে কেরানি হিসেবে ১৯২৬ সাল পর্যন্ত কাজ করেছেন। ১৯৩৩ সালের ২৯ এপ্রিল তিনি আলেকজান্দ্রিয়াতে মৃত্যুবরণ করেন। জীবদ্দশায় তিনি বহির্বিশ্বে দূরের কথা, মিশরে বা গ্রীসেও খুব একটা পরিচিত ছিলেন না। অধ্যাপক ও অনুবাদক খালিকুজ্জামান ইলিয়াসের তর্জমায় কাভাফির প্রতিনিধিত্বশীল কবিতাগুলোর একটি এখানে প্রকাশ করা হলো। বি. স. (সম্পূর্ণ…)

জ্যামি শ্যু’র একগুচ্ছ কবিতা

মুহাম্মদ সামাদ | ২৪ আগস্ট ২০১৫ ৯:২১ অপরাহ্ন

jami-shu.jpgজ্যামি শ্যু একাধারে চীনা ও ইংরেজি ভাষার কবি, অনুবাদক ও প্রাবন্ধিক। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অ্যারিজোনা অঙ্গরাজ্যে বেড়ে ওঠেন জ্যামি। অ্যারিজোনা ইউনিভার্সিটির চাইনিজ স্টাডি বিষয়ে গ্রাজুয়েশন ও মাস্টার্স ডিগ্রি অর্জন করেন। পরে তিনি চীনা সাহিত্য ও নারীবাদের তত্ত্ব নিয়ে ক্যালিফোর্নিয়া ইউনিভার্সিটি, বার্কলে থেকে আরেকটি গ্রাজুয়েশন করেন। এই দুই ইউনিভার্সিটিতেই চীনা ভাষা-সাহিত্য পড়িয়েছেন কবি জ্যামি শ্যু। চাইনিজ একাডেমি অব সোশ্যাল সায়েন্স-এর ভিজিটিং স্কলার হিসেবে দুই বছর কাজ করাসহ একটানা ছয় বছর বসবাস করেন চীনের রাজধানী বেইজিংয়ে। চীন, যুক্তরাষ্ট্র ও ভারতসহ বিভিন্ন দেশের জার্নাল এবং কবিতাসংকলন-এ তার কবিতা ও অনুবাদ নিয়মিত প্রকাশিত হচ্ছে। এসবের মধ্যে চাইনিজ লিটারেচার টুডে, লেফ্ট কার্ভ, অ্যাম্বুশ রিভিউ, কালেকশন অব ওয়ার্ল্ড পোয়েট্রি প্রভৃতি প্রধান। অয্ত্নসজ্জিত অপার প্রকৃতি আর মানবহৃদয়ের অলৌকিক আনন্দ-বেদনা অনবরত কথা বলে তার কবিতায়।

সমসাময়িক চীনা কবিতায় অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ২০১৩ সালে ঝাজিয়াং কবিতা পুরস্কার লাভ করেন। এ বছর কবি জ্যামি শ্যু-এর নিজের ইংরেজি কবিতাসংগ্রহ, চীনা কবি জিদি মাজিয়া, সঙ লিন ও ঝাই ইয়াংমিঙ-এর কবিতার ইংরেজি অনুবাদ এবং চীনের কবি ঝউ জ্যান ও জ্যামি শ্যু-এর সঙ্গে যৌথ সম্পাদনায় কবি সিলভিয়া প্লাথ-এর চীনা অনুবাদ প্রকাশিত হচ্ছে। বর্তমানে স্বামী প্রক্টর শ্যু এবং একমাত্র পুত্র ডিলানকে নিয়ে শ্বশুড়বাড়ি চীন ও নিজের দেশ যুক্তরাষ্ট্রে সময় ভাগাভাগি করে বসবাস করছেন। ২০১৪ সালে প্রকাশিত কবি জ্যামি শ্যু-এর কাব্যগ্রন্থ হামিংবার্ড ইগনাইটস অ্যা স্টার থেকে তার পাঁচটি কবিতা বাংলাভাষার পাঠকদের জন্য পরিবেশিত হলো [অনুবাদক]। (সম্পূর্ণ…)

অতর্কিতে

আফসানা বেগম | ২৩ আগস্ট ২০১৫ ৪:২৩ অপরাহ্ন

আজ হঠাৎ আকাশে আগুন লাগল কেন? থমকে গেল বীথির পা দুটো।
আসাদগেট আড়ং-এর ছাদের ওপর দিয়ে মোহাম্মদপুরের আকাশটাতে আগুন। বীথির ইচ্ছে করল ‘আগুন, আগুন’ বলে চিৎকার করে। কিন্তু পা যেমন পাথর হয়ে থাকল, মুখও গেল আটকে। ইশারায় বলার শক্তিও নেই, শরীর অসাড়। বাসস্ট্যান্ডের বেঞ্চ থেকে উঠে বাসের দিকে পা বাড়াতে গিয়ে সে মূর্তি হয়ে গেল, তাকিয়ে থাকল সামনের রহস্যময় লালিমার দিকে। সূর্য ডুবছে প্রতিদিনকার মতো, অথচ তখন যেন সবদিকে আগুনে ছেয়ে গেছে। হ্যাঁ, আগুনই তো, অসভ্য আর অবাধ্য আগুন, যেদিকে ইচ্ছে সেদিকে ছড়ায়, সবকিছু নিজের আওতায় নিয়ে শেষে রাখে শুধু ছাই… হয়ত কারো ইচ্ছেগুলো তুচ্ছ করে হাওয়ায় উড়িয়ে দেয়। কিন্তু কার হয়েছিল এমন সর্বনাশ? বীথি ভাবল; তার নিজেরই কি? ঠিক এমনই লাল-নীল শিখা আকাশময় যেমন দাপিয়ে বেড়াচ্ছে, বীথি দেখেছিল পেপারের প্রথম পাতায়, টেলিভিশনেও। টায়ার পুড়ছিল, চকচকে গাড়ি একটাÑ দাউ দাউ করে জ্বলছিল, একটা কাভার্ড ভ্যান মনে হয়, একটা বড় বাস– হ্যাঁ, একটা বাস, মাত্র কয়েক মিনিটের মধ্যে পুড়ে ছারখার হয়ে গিয়েছিল। টেলিভিশন দেখার সময়ে কে যেন ডুকরে কেঁদে উঠেছিল, কে যেন পেছন থেকে অস্থির চাপা গলায় বলেছিল, ‘টিভি অফ কর, অফ কর, বীথির খারাপ লাগবে, আহা রে, মেয়েটা সহ্য করতে পারবে না…’ কার কণ্ঠস্বর, মনে পড়ে না; তবে বীথির খারাপ-ভালো কোনো অনুভূতি হয়নি। ঘণ্টায় ঘণ্টায় তখন বিভিন্ন চ্যানেলে বলে যাচ্ছে রমনা পার্কের পাশে বাস পোড়ানোর খবর, ছবি দেখাচ্ছে, প্রতিযোগিতা চলছে কে কত ডিটেইলে দেখাতে পারে। বাসের ভেতরে কী করে খুব দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে আগুন, তা নিয়ে রিপোর্টিং হচ্ছে। মানুষের হাতে ভরা বোতল, বাসটাকে নিশানা করে ছুটছে, তাদের ধরিয়ে দিতে বলা হচ্ছে। পেট্রল বোমা আর গান পাউডারের কথা প্রথম শুনেছিল বীথি তখন। বাসের ভেতরে গান পাউডার সুযোগ মতো ছড়িয়ে দিতে পারলে আর কোনো চিন্তা নেই, ভেতরের অনেকে নিশ্চিত বেরোতে পারবে না, বেরিয়ে আসার আগেই গায়ে আগুন লেগে যাবে; বারুদের গন্ধ কোথা থেকে আসছে ভাবারও সময় পাবে না। সেদিনও হয়ত অনেকে বেরিয়ে আসতে পারেনি, যারা একটু ভেতরের দিকে ছিল, সিট নিয়ে বেশ আরাম করে বসে ছিল, তারা নিশ্চিত পারেনি। কমলও পারেনি। এতদিনে বীথির মনে হলো, আকাশভরা আগুনরঙা মেঘের দিকে তাকিয়ে থাকতে থাকতে বীথিকে কে যেন বলে দিল, কমল আগুনে পুড়তে থাকা বাসটা থেকে বেরিয়ে আসতে পারেনি। কমল নেই, কোথাও অপেক্ষায় নেই বীথির জন্য। আচ্ছা, পুড়ে যাবার ঠিক আগে আগে কি কমলের নাকে তীব্র বারুদের গন্ধ লেগেছিল? (সম্পূর্ণ…)

শঙ্করলাল ভট্টাচার্য:“উনি ইসলামকে এ্যাটাক করে, মোহাম্মদকে এ্যাটাক করে … লিখেছিলেন”

| ২২ আগস্ট ২০১৫ ১:৫৩ পূর্বাহ্ন

[১৯৯৭ সালে বাংলাদেশ সফরে এসেছিলেন শঙ্করলাল ভট্টাচার্য। তখন আমি আর ব্রাত্য রাইসু বনানীর কোনো এক রেস্তোরাঁয় বসে তার একটি সাক্ষাৎকার নিয়েছিলাম। সেটি পরে বর্তমানে বিলুপ্ত সাপ্তাহিক ‘শৈলী’ পত্রিকার বর্ষ ৪ সংখ্যা ১৩, ১৬ আগস্ট ১৯৯৮, ১ ভাদ্র ১৪০৫-এ প্রকাশিত হয়েছিল। সাক্ষাৎকারটিকে বিলুপ্তির গুহা থেকে উদ্ধার করে দিয়েছেন সাহিত্যিক অাহমাদ মাযহার। সাক্ষাৎকারটির সঙ্গে সেসময় যে ভূমিকা ব্যবহৃত হয়েছিল সেটি অপরিবর্তিত রেখেই এখানে তা পুনর্মুদ্রণ করা হলো। — বি. স.]
picture-003.jpg
শঙ্করলাল ভট্টাচার্যের লেখার সঙ্গে যারা পরিচিত তারা রীতিমত ঈর্ষাবোধ করেন এই লেখকের অতুলনীয় গদ্য এবং তার বিষয়বস্তুর চমৎকারিত্বে। ‘ শৈলী’তে ইতিপূর্বে প্রকাশিত তিনটি নিবন্ধ পড়ে তাঁর এই গদ্যের সঙ্গে ‘শৈলী’র পাঠকসমাজ পরিচিত। তাঁর কিছু দার্শনিক গদ্য পড়ে আমি বেশ উদ্বুদ্ধ হয়েছিলাম। পরে ব্যক্তিগত সাক্ষাতে জানতে পারলাম দর্শন তাঁর পাঠ্যতালিকায় বিরাট জায়গা জুড়ে আছে। বছর খানেক আগে যখন তিনি ঢাকায় গাজীভবন-এর আমন্ত্রণে আসেন তখন তাঁর সঙ্গে আমার এবং ব্রাত্য রাইসুর আলাপ করার সুযোগ হয়। কিন্তু ঐ হুল্লোড়ে কথা বলতে অসুবিধা হওয়ায় পরের দিন উনি আমাদেরকে সময় দেন আড্ডার জন্য। আড্ডায় আমাদের সঙ্গে কবি মঈন চৌধুরীও উপস্থিত ছিলেন।
সাক্ষাৎকারটি ঐ আড্ডারই লিখিত রূপ। শঙ্করলাল ভট্টাচার্যের উল্লেখযোগ্য দুটি বই হচ্ছে-‘রাগ অনুরাগ’ এবং ‘দার্শনিকের মৃত্যূ ও অন্যান্য নিবন্ধ’। এছাড়াও ‘কলকাতার কালচার’, ‘পরমা প্যারিস’ তাঁর উল্লেখযোগ্য বই।

সাক্ষাৎকার নিয়েছেন: রাজু আলাউদ্দিনব্রাত্য রাইসু


রাজু আলাউদ্দিন:
আচ্ছা শঙ্করদা, আমাদের নেয়া বিভিন্ন লোকের ইন্টারভিউগুলো সবটা দিতে পারলাম না। কোন কোনটা অর্থেক পাওয়া যাচ্ছে। বাকিটা হাতের কাছে পেলাম না। এই যে পুরোটা পাওয়া যাচ্ছে না–এ রকম কোন ফিলসফি আছে কিনা?
শঙ্করলাল ভট্টাচার্য: হ্যাঁ! টেক্সট-এর চেহারাই তো তাই। কোন টেক্সটই তো কমপ্লিটলি রিভিলিং নয়। কমপ্লিট টেক্সট কিন্তু কমপ্লিট নয়। কোন টেক্সটাই কমপ্লিট নয়। এই খোদ বইটা কিন্তু খোদ বই নয়। কাজেই আপনি মানে করা শুরু করলে কিন্তু শব্দের চেহারা ধরা পড়ে। আপনি জানেন যে বাখতিন বলতেন যে ওয়র্ডস আর দ্য মেটেরিয়েল বডিস অব মিনিং, মানে শব্দ হল উর্থের উপাদানগত বা বস্তুগত চেহারা… এটা তো সারাক্ষণই চেহারা বদলাতে পারে, কারণ বস্তুর ধর্মই হচ্ছে চেহারা বদলানো। কাজেই এই ওয়র্ডটাকে আপনি কিভাবে ব্যবহার করলেন, কী মনে করে ব্যবহার করলেন, ভুল ব্যবহার করলেন নাকি আদৌ অন্য কিছু ঢাকার জন্য ব্যবহার করলেন, কিংবা আদৌ ব্যবহার করতে পারলেন কিনা– এই সব মিলিয়ে এমন একটা জিনিস হয় যা অনেকটা হাওয়ার মত কিংবা রাগের মত। রাগের কতগুলো কাঠামো আছে, বাঁধা স্বরলিপি আছে। রবিশঙ্কর একটা রাগ বাজাচ্ছেন, ধরা যাক বাগেশ্রী, আবার আলি আকবর খাঁ বাজাচ্ছেন, বিসমিল্লাহ খাঁ বাজাচ্ছেন কিংবা ধরুন আমির খাঁ সাহেব গাইছেন, বা ফৈয়াজ খাঁ সাহেব গাইছেন আগেরকার দিনের করিম খাঁ সাহেব গাইছেন– একই রাগের চেহারা কিন্তু বদলে যাচ্ছে। বদলে যাওয়ার কারণ হচ্ছে ঐ একই স্বরলিপির বাঁধুনি থেকে কে কত রকম ধুন বা হাওয়া বের করছে। কত রকমের ধুন তৈরি হচ্ছে, হাওয়া তৈরি হচ্ছে। মানে করবো বলে মানে করা, সত্যি মানে বলে আলাদা কিছু নেই। আপনি আমাকে ভালো মানুষ মনে করেন বলে ভালো মানুষ, আপনি আমাকে খারাপ মনে করলে খারাপ হয়ে গেলাম। তার কারণ হচ্ছে মনে করাটা যখন এতখানি ইমপর্টেন্ট….. (সম্পূর্ণ…)

গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস:

নিঃসঙ্গতার একশ বছর

আনিসুজ্জামান | ২০ আগস্ট ২০১৫ ১২:১৩ পূর্বাহ্ন

combo.jpgবিশ্বসাহিত্যের ইতিহাসে নিঃসঙ্গতার একশ বছর-এর মতো আর কোনো উপন্যাস প্রকাশের পরপরই এতটা পাঠকপ্রিয়তা পেয়েছে কিনা সন্দেহ। জনপ্রিয়তার বিচারে যেমন, তেমনি শিল্পকুশলতা আর শিল্পমুক্তির ক্ষেত্রেও এটি হয়ে উঠেছে এক অনন্য দৃষ্টান্ত। কেবল স্প্যানিশ সাহিত্যেই নয়, গোটা বিশ্বসাহিত্যের ইতিহাসেই একটি মাত্র উপন্যাসে ইতিহাস, আখ্যান, সংস্কার, কুসংস্কার, জনশ্রুতি, বাস্তব, অবাস্তব, কল্পনা, ফ্যান্টাসি, যৌন-অযাচার ও স্বপ্ন– সবকিছুর এমন স্বাভাবিক ও অবিশ্বাস্য সহাবস্থান আগে কখনও দেখা যায়নি।
ঠিক এই কারণে মারিও বার্গাস যোসা এটিকে বলেছিলেন এক সামগ্রিক উপন্যাস (Novela Total), আর পাবলো নেরুদা একে বলেছিলেন, “সের্বান্তেসের ডন কিহোতের পর স্প্যানিশ ভাষায় সম্ভবত মহত্তম উন্মোচন (“perhaps the greatest revelation in the Spanish language since Don Quixote of Cervantes.”)
বাংলাদেশে এখনও পর্যন্ত কিংবদন্তিতুল্য এই উপন্যাসটি মূলভাষা থেকে অনূদিত হয়নি। এই প্রথম এটি আনিসুজ্জামানের অনুবাদে মূল থেকে ধারাবাহিক অনূদিত হচ্ছে। বি. স.
(সম্পূর্ণ…)

গারথিয়া লোরকার জিপসি বালাদ : নিশিডাকের গান

ওমর শামস | ১৯ আগস্ট ২০১৫ ১:৪০ অপরাহ্ন

federico-garcia-lorca.jpgলোরকা ১৮ টি জিপসি বালাদ (Romancero Gitano) লিখেছিলেন। এগুলো জিপসি জীবনের কাহিনী ভিত্তিক কবিতা। ছন্দোবদ্ধ, ৮ মাত্রার কাহারবায় – এগুলো গাওয়াও হয় ফ্লামেঙ্কো স্টাইলে। আমি একটির অনুবাদ নিচে প্রকাশ করলাম। বোরহেস এগুলোকে গেঁয়ো মনে করেছিলেন, অন্য স্পানীশভাষী কবিরা তা মনে করেন না, অন্তত আলবের্তি, আলেহান্দ্রে এবং নেরুদা তো নয়ই। এগুলোর শিকড় আবহমান লোকজ কাহিনী-গান। একটা প্রতি তুলনার কথা মনে এসেছে– রবীন্দ্রনাথের গীতাঞ্জলীর শিকড়ও কবির, তুলসীদাস ইত্যাদির আবহমান লোকজ ভক্তিগীতিতে। কিন্তু তাঁর প্রকরণ, রস, ভাষাশৈলী অন্য মেজাজের। একটা কারণ অবশ্যই তাঁর উপনিষদ মর্মগ্রাহীতা। দ্বিতীয়ত, লোকজ হলেও তাঁর বিষয় ধর্মবোধ। অন্য দিক দিয়ে লোরকা অনেকটা জসীমুদ্দিনের কাছের। কিন্তু জসীমুদ্দিন প্রকরণে আধুনিক নন। লোরকা ইমেজারি ব্যবহারে পুরো আধুনিক, তা ছাড়া রহস্য এবং “দুয়েন্দে” (সাঙ্গীতিক তীব্র দরদ) তৈরী করতে পারঙ্গম। (সম্পূর্ণ…)