75

সাহিত্যিক হুমায়ুন আজাদ, যখন আমি… (কিস্তি ৪)

চঞ্চল আশরাফ | ৩ জুলাই ২০০৮ ১০:৫৮ অপরাহ্ন

কিস্তি:

humayun-a.jpg
সমুদ্রে হুমায়ুন আজাদ

১৯৯২ সালের খুব সম্ভবত মধ্য জানুয়ারির কোনও এক সকালে কলাভবনের সামনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শীতকালীন কবিতা উৎসব অনুষ্ঠিত হয়। এর আয়োজক ছিলেন আবীর বাঙালী। তিনি তখন বাংলা বিভাগের স্নাতকোত্তর দ্বিতীয় পর্বের ছাত্র। করতেন ছাত্রদল, কিন্তু হুমায়ুন আজাদের প্রতি তাঁর অনুরাগ ছিল। সাপ্তাহিক পূর্বাভাস-এ খালেদা জিয়া সম্পর্কে গরিব গ্রহের রূপসী প্রধানমন্ত্রী নামে প্রকাশিত কলামটি তাঁকে আবার আলোচনার কেন্দ্রে নিয়ে আসে। এটি ১৯৯১ সালের ঘটনা। তখন ছাত্রদলের ক্যাডাররা হুমায়ুন আজাদের হাত কেটে ফেলবে ব’লে হুমকি দিলে তিনি সম্ভবত প্রথমবারের মতো সন্ত্রস্ত হয়ে পড়েন। আবীর বাঙালী দলবল নিয়ে তাঁকে বাসা থেকে ক্যাম্পাসে নিয়ে আসতেন এবং বাসায় পৌঁছে দিতেন বলে শুনেছি। যা-ই হোক, ওই অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন হুমায়ুন আজাদ। বেশ উঁচু করে বানানো মঞ্চে তিনি কেডস খুলে উঠে বসেন। তাঁর পরনে নীল-শাদা-লাল কম্বিনেশনে হরাইজন্টাল স্ট্রাইপের সোয়েটার আর জিন্সের প্যান্ট। অনুষ্ঠানটি ছিল এলোমেলো; সভাপতির বক্তব্যের পরও কবিতা পাঠ চলেছিল দীর্ঘক্ষণ। মনে পড়ে, হুমায়ুন আজাদ বলেন, ‘এই অনুষ্ঠানে আমি আসতে চাই নি। মাইক এখন দালালি আর গালাগালির যন্ত্র; এই যন্ত্রের সামনে আমি দাঁড়াতে যন্ত্রণা বোধ করি। আবীর বাঙালী আমার ছাত্র, তার প্রবল পীড়নে আমাকে এখানে আসতে হয়েছে। আমি মনে করি, কবিদের মাইক আর মঞ্চ বর্জন করা উচিত। কারণ, এই দু’টি জিনিস কবিতার ক্ষতি করেছে সবচেয়ে বেশি। মাইক আর মঞ্চের কাছে কবিরা এখন অসহায়; এ-দু’টি জিনিসই নির্ধারণ করছে কবিতা কীভাবে লিখতে হবে।’

ওই অনুষ্ঠানে জেনিস মাহমুন তাঁর ‘ওম কবিতাম্মৃত’ কবিতাটি পড়েন। সত্যি বলতে কী, কবিতাটি উপস্থিত প্রায় সবাইকে প্রথমত চমকে দেয়, দ্বিতীয়ত মুহ্যমান করে। পরদিন হুমায়ুন আজাদ আমাকে বলেন, ‘কবিতাটি লেখা হয়েছে মঞ্চের জন্যে। কিন্তু মঞ্চের কবিতা এত ভালো হয় না। কবিকে একদিন আমার কাছে নিয়ে এসো।’ আন্ওয়ার আহমদের বাসায় এবং বাংলা একাডেমীর তরুণ লেখক প্রকল্পে রিসোর্স পার্সন হিসেবে জেনিসের কবিতাটির প্রশংসা করেন তিনি। ১৯৯২ সালে, একুশে ফেব্রুয়ারির সকালে বাংলা একাডেমীর মঞ্চে জেনিস কবিতাটি দ্বিতীয়বারের মতো পড়েন। সেখানেও শ্রোতারা আচ্ছন্ন হয়ে যান কিছুক্ষণের জন্য। কবিতা পড়া শেষ হলে নরেন বিশ্বাস ও সৈয়দ শামসুল হক তাঁকে খুঁজতে থাকেন; সেই বার্তা তাঁর কাছে পৌঁছনোর আগেই তিনি মঞ্চের পেছন দিয়ে সেদিনের জনস্রোতে মিশে যান। বলতে পারি, সেই সময়ের এবং এখনকার শ্রেষ্ঠ একটি কবিতা ‘ওম কবিতাম্মৃত’। (সম্পূর্ণ…)

8

একদিন আহমদ ছফার বাসায় আমরা

| ২ জুলাই ২০০৮ ২:১৫ পূর্বাহ্ন

সাক্ষাৎকার নিয়েছেন: আশীষ খন্দকার, ব্রাত্য রাইসু, শাহ্‌রীয়ার রাসেল

[১৯৯৬ সালে এক রাতে পূর্ব প্রস্তুতি ছাড়াই এই সাক্ষাৎকারটি নেওয়া হয়। তখন লেখক আহমদ ছফার বাংলামোটরের চারতলার ভাড়া বাসাটি ছিল তরুণ-প্রবীণ লেখকদের আড্ডাস্থল। ঢাকার শাহবাগের আজিজ মার্কেটের দুই তলায় আড্ডা দেওয়ার জন্য ছফা একটি sofa-nasir.jpg…….
আহমদ ছফা (৩০/৬/১৯৪৩ — ২৮/৭/২০০১)। ছবি. নাসির আলী মামুন
…….
দোকানও ভাড়া করেছিলেন। এর নাম ছিল উত্থানপর্ব। পাশেই তিনি গরীব বাচ্চাদের একটি স্কুলও খুলেছিলেন। বিকেলে ছফা শাহবাগে বসতেন। বিবিধ বন্ধু এবং চাকুরিহীন ও চাকুরি আছে এমন তরুণ কবি- সাহিত্যিকরা তখন তাঁর কাছে আসতেন। শাহবাগের আড্ডা শেষে প্রায়ই সে আড্ডার কেউ কেউ ছফার সঙ্গে বাসা পর্যন্ত হেঁটে এগিয়ে দিতেন তাঁকে। কোনোদিন তাঁর বাসায়ই আড্ডা বসতো। র চা ও পনির দিয়ে আপ্যায়ন করতেন ছফা। আমরা যারা তাঁর একটু ঘনিষ্ঠজন ছিলাম তাদেরকে তিনি কখনো-সখনো তাঁর জার্মান বান্ধবীর কল্যাণে প্রাপ্ত নেপোলিয়ন ব্যবহার করতে দিতেন। র চায়ে দুচামচ ব্র্যান্ডি আর পিরিচে কাটা পনির এটি ছিল সে সময়ের ডেলিক্যাসি।

প্রায় সব বিষয়ে ছফা মত দিতেন। সবার সঙ্গেই ভাল সম্পর্ক বজায় ছিল তাঁর। শোনা যায়, গোপনে কাউকে কাউকে অর্থসাহায্য করতেন। সাক্ষাৎকারটি শুরু হয় নাট্যকার ও অভিনেতা আশীষ খন্দকারের একটি প্রশ্ন দিয়ে। ক্যাসেটে সে প্রশ্ন ধারণ করা যায় নাই এবং অনেক পরে রেকর্ডার থেকে শুনে শুনে সাক্ষাৎকারটি লেখা হয়েছে বিধায় ছফার কথা দিয়েই সাক্ষাৎকারটি শুরু করা হলো। — ব্রাত্য রাইসু, ২/৭/২০০৮]

আহমদ ছফা: আরে না, আমি মুন্ত্রী হয়ে গেছি তো। আমি মুন্ত্রী তো, উল্টাপাল্টা প্রশ্নের জবাব দ্যাব না।

আশীষ খন্দকার : ছফা ভাইয়ের ওপর একটা ডকুমেন্টারি করে রাখতে চাই, ফিল্ম ডকুমেন্টারি।

ছফা: কর্নেল ফরহাদের (ফরহাদ মজহার) একটা ডকুমেন্টারি ইউনিট আছে।sofa-pakhi.jpg…….
আহমদ ছফা এক সময় কাঁধে পাখি নিয়ে চলাফেরা করতেন। ছবিটি আট খণ্ডে পূর্ণাঙ্গ আহমদ ছফা রচনাবলীর (প্রকাশক: খান ব্রাদার্স অ্যান্ড কোম্পানি) দ্বিতীয় খণ্ড থেকে নেয়া হয়েছে।
…….
ফরহাদকে বললে যে কোনোদিন… প্রতিদিনই রিকোয়েস্ট করছে আমাকে, ওদের একটা ভিডিও ক্যামেরা আছে, ইত্যাদি আছে…কিন্তু এগুলোর করার একটা বিপদ আছে কী জানো, খুব তাড়াতাড়ি বোধহয় মরে যাওয়ার সম্ভাবনা দেখা দেয়। (সম্পূর্ণ…)

9

কোষা

পাপড়ি রহমান | ১ জুলাই ২০০৮ ১:০৩ অপরাহ্ন

আমাদের বাড়িতে অন্ধকার নামতো সূর্য ডোবার ঢের আগে। ছোট-বড়-মাঝারি নানাজাতের গাছপালায় ঘেরা বলে রোদের মুখ দেখা যেতো কি যেত না। মাকড়সার জালের মতো ছড়ানো আলো ঈষৎ ঝিলিক মেরেই দ্রুত লুকিয়ে পড়তো ওই ঘিঞ্জি পাতা-লতার আড়ালে। ফলে প্রতিদিনই সন্ধ্যা নামার আগে-ভাগেই বাড়িটা ঝুপ করে কোনো গভীর কুয়ার ভেতর ঢুকে পড়তো। আর এই রকম হঠাৎ নামা অন্ধকারে আমাদেরও গা ছমছম করে উঠতো। প্রতিদিন সন্ধ্যার আগেই রাত হয়ে যাওয়া, আর এতে আমরা অভ্যস্তই বলা চলে — তবুও ভয় আমাদের জোঁকের মতো কামড়ে থাকতো। এই ভয় তাড়ানোর কোনো উপায়ও আমাদের জানা ছিল না। বাড়ির দক্ষিণ দিকে একেবারে পাতায় পাতাময় গাবগাছ — দিবা নাই নিশি নাই বিশাল ছাতার মতো নিজেকে ছড়িয়ে দাঁড়িয়ে আছে। বাতাস, ঝড় এমনকি ঘূর্ণিঝড়েও কখনো একটা পলকা ডালও তার ভেঙে পড়ে নাই। ওই সবল গাছের দিকে আমরা মনের ভুলেও তাকাতাম না। আমরা জানতাম ওই গাবগাছই হলো ভূত-পেত্নীদের আখড়া। গাবগাছ পেলেই নাকি তেনারা নিরাপদে সংসার যাপন করেন। দক্ষিণ দিকে তেনাদের রাজত্ব — পশ্চিম দিকটা যে আমাদের তাওতো নয়। এইদিকে আছে একটা বড়সড় আষাইঢ়্যা আমের গাছ। উনিও হাত-পা মেলে এতটাই আয়েশ করে আছেন যে, উনার ড্রামের মতো মোটাসোটা ডালগুলো নেমে এসেছে ঠিক ঘরের চালের উপর পর্যন্ত। ফলে অন্ধকার হয়ে এলে পশ্চিমে তাকানোর সাহসও আমাদের ছিল না। দক্ষিণ-পশ্চিমকে নিষিদ্ধ এলাকা চিহ্নিত করে পুবের ফর্সা ফর্সা দিকটাতে আমরা বিচরণ করতে চাইতাম। কিন্তু এটাও আমাদের জন্য সহজ ছিল না। এই পূবদিক অতোটা অন্ধকার না হলেও মস্ত একটা ন্যাংগুইল্যা গাছ একেবারে পানিতে ঝাঁপ দিয়ে শুয়ে আছে। আর এই পানি হলো আমাদের প্রাচীন পুকুরের পানি। গণ্ডা তিনেক আণ্ডা-বাচ্চাকে অকালে ডুবিয়ে মারার ইতিহাস নিয়ে এই পুকুর জল অথই করে দিব্যি বেচেবর্তে আছে! এই পুরানা পুকুর এখনো এতটাই গভীর যে, উইন্যার দিনেও থই পাওয়া মুশকিল হয়ে পড়ে। বলা চলে আমাদের চারদিকেই গা ছমছম করা পরিবেশ। এই রকম দিনে-রাতে ভয় ভয় ধরা বাড়িতে হঠাৎ দুইজন ছুতার এলো। (সম্পূর্ণ…)

61

২০১০: ঢাকা শহরের চারশ’ বছর পূর্তি

শামসুজ্জামান খান | ২৭ জুন ২০০৮ ১১:১৭ পূর্বাহ্ন

lalbag.jpg
১৮১৬ সালে Sir Charles D’Oyly (১৭৮১-১৮৪৫)-এর আঁকা লালবাগ দুর্গের দক্ষিণ-পশ্চিম প্রান্ত। দুর্গ নির্মাণের শুরু ১৬৭৮ সালে, আওরঙ্গজেবের পুত্র মোহাম্মদ আযম শাহের হাতে। তিনি এর নাম রেখেছিলেন কেল্লা আওরঙ্গবাদ।

ঢাকা শহরের চারশ’ বছর পূর্তির আর মাত্র দু’বছর বাকি। আগামী ২০১০ সালে আমাদের প্রিয় শহর ঢাকা চারশ’ বছরে পড়বে। সাবেক পূর্ব বাংলা এবং বর্তমান বাংলাদেশের জন্য এ বড়ো গৌরব ও আনন্দের সংবাদ। আমাদের এই বাংলা অঞ্চল বিশেষ করে আদি বঙ্গ হিসেবে চিহ্নিত এই ভূ-খণ্ডের মানুষের সামাজিক পশ্চাদপদতা, সাধারণ মানুষের সংস্কারাচ্ছন্নতা ও দারিদ্র্য এবং শিক্ষা-দীক্ষার অভাবের পটভূমিকা বিবেচনা করলে ঢাকার মতো একটি পুরনো এবং ঐতিহ্যবাহী শহর এখানে গড়ে ওঠাকে ভূ-রাজনৈতিক, সামরিক, অর্থনৈতিক, বাণিজ্যিক এবং সাংস্কৃতিক দিক দিয়ে তাৎপর্যপূর্ণ ঘটনা হিসেবে চিহ্নিত করতে হয়।

dacca_litho-2.jpg
ডিকিনসন অ্যান্ড সন কোম্পানির লিথোগ্রাফে ১৮৪৭ সালের নদী থেকে দেখা ঢাকা শহর।

স্মর্তব্য যে, ঢাকা কোলকাতার চেয়ে পুরনো শহর। মাত্র কয়েক বছর অগেই কোলকাতা শহরের তিনশ’ বছর পূর্তি উৎসব অত্যন্ত সাড়ম্বরে এবং সাংস্কৃতিক ও বৃদ্ধিবৃত্তিকতার আঙ্গিকে সুসম্পন্ন হয়েছে। নতুন করে লেখা হয়েছে শহর কোলকাতার ইতিহাস। (সম্পূর্ণ…)

61

একটি ক্ষুদ্র পুরাতন দীর্ঘশ্বাস

সাগুফতা শারমীন তানিয়া | ২৬ জুন ২০০৮ ১১:৩৬ পূর্বাহ্ন

tiger.jpg
সুন্দরবনের চুনকুড়ি নদী পার হয়ে লোকালয়ে ঢুকে পড়া বাঘ। তিনজন মানুষ হত্যার পরে গ্রামবাসী বাঘটিকে পিটিয়ে মেরেছে। বাঘটি আশ্রয় নিয়েছিল শ্যামনগরের কদমতলার রণজিৎ মণ্ডলের রান্নাঘরে। ছবি দৈনিক প্রথম আলোর সৌজন্যে।

গত বড়দিনে লন্ডনে আমি একজন সদ্য বিধবা আইরিশ মহিলার কাছ থেকে একটি চলচ্চিত্রের কপি উপহার পেয়েছিলাম — অ্যান আনফিনিশ্ড লাইফ (২০০৫)। মৃত এবং মুমূর্ষুকে ঘিরে জীবনের ওঠাপড়া। ওয়াইয়োমিংয়ের এক আধবুড়ো মিচ ব্র্যাডলী (মর্গান ফ্রিম্যান) — তাকে মর্মান্তিক ভাবে আহত করে একটা বুনো ভাল্লুক। ভাগ্যচক্রে একসময় ভাল্লুকটা লোকালয়ে আসে আবার। ধরা পড়ে। স্থানীয় চিড়িয়াখানার ক্ষুদে খাঁচা তার জন্যে বরাদ্দ হয়। অসুস্থ মর্গান ফ্রিম্যান তাকে দেখতে আসে, পশুর অনিকেত অদম্য স্পৃহার সেই খাঁচার চৌখুপীতে যে অসম্ভব অবদমন — যা পৃথিবীর মতো, রিপুর মতো পুরাতন — তাকে তিলে তিলে মরতে দেখে মর্গান ফ্রিম্যান-এর চোখে যে গভীর বিদ্ধ বেদনা, তার তুলনা হয় না। ফ্রিম্যান-এর সানুনয় অনুরোধে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে আইনার (রবার্ট রেডফোর্ড) ভাল্লুকটাকে চিড়িয়াখানা থেকে ছেড়ে দেয়। কাকতালীয়ভাবে ভাল্লুকটার সাথে মর্গান ফ্রিম্যান-এর আবার দেখা হয়, এইবার হয়তো নিশ্চিত মৃত্যু। কিন্তু অপেক্ষমান মৃত্যুপথযাত্রীকে তেমন কিছু না বলে একটা হ্রস্ব হুঙ্কার ছেড়ে ভাল্লুক চলে যায়।

রেডফোর্ডের দূরবীনে ধরা পড়ে পাহাড়ের চড়াই ভেঙে গহীন অরণ্যের দিকে ফিরে যাচ্ছে ভাল্লুক, প্রকাণ্ড মা-পৃথিবীর কোলে তার বিপুলকায় বালক ফিরে যাচ্ছে।

সিনেমার দুনিয়াতে পশুর ভাগ্য ভাল বলতে হবে। বাস্তবের দুনিয়াতে পশু লোকালয়ে আসে। নরহত্যা করে। নরহত্যার শাস্তি হচ্ছে মৃত্যুদণ্ড (যদি না সে সরকারী দল করে), অতএব রয়্যাল বেঙ্গল টাইগারটিকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়। বনবিভাগের তত্ত্বাবধানে না অনবধানে, সেই তর্ক অর্থহীন। অন্ততঃ বাংলাদেশে এই তর্কের কোনো মানে নেই।

যেহেতু বাঘের কোনো বাবা মা আহাজারি করে না, বাঘের কোনো ভাই প্রশাসনকে প্রশ্ন করবার — সাংবাদিক সম্মেলন করবার বুদ্ধিবৃত্তিক জোর রাখে না, সেহেতু এই বাঘটাকে কেউ মনে রাখবে না। রণজিৎ মণ্ডলের রান্নাঘরের খড়ের চালে আয়েশ করে বসে থাকা জুলজুলে চোখের এই বাঘটা যাত্রা করবে আরও দশটা বাঘ (সাতক্ষীরায় পিটিয়ে মারা বাঘগুলি) যেখানে গেছে সেই দিকে। (সম্পূর্ণ…)

74

এবাদুর রহমান এবং তাঁর দাস ক্যাপিটাল

সিউতি সবুর | ২৫ জুন ২০০৮ ১১:৩২ অপরাহ্ন

এবাদুর রহমানের লেখা প্রথম পড়ি কাউন্টার ফটো পত্রিকায়, বন্ধু মানস চৌধুরীর উছিলায়। পরবর্তীতে ওঁর উপন্যাস দাস ক্যাপিটাল-এর কথা বন্ধু মানস এবং সুমন রহমান জানান গত বছরের শেষ দিকে। বইটি প্রকাশ das-c.jpg…….
এবাদুর রহমান প্রণীত দাস ক্যাপিটাল । প্রকাশক: অস্ট্রিক আর্যু, বাঙলায়ন, রুমি মার্কেট ৬৮-৬৯ প্যারীদাস রোড, বাংলাবাজার, ঢাকা ১০০০, ই মেইল: banglayan@ yahoo.com । প্রথম প্রকাশ: ফাল্গুন ১৪১২, ফেব্রুয়ারি ২০০৬। স্বত্ব: বেরেনিস গাজ্যে । প্রচ্ছদ ও অলংকরণ: এবাদুর রহমান । বহি পরিকল্পনা: মুসতাইন জহির । মূল্য: ২৯০ টাকা ।
…….
করেছে বাঙলায়ন। বই হাতে পেয়ে পড়তে পড়তে বছর গড়ায়। এবং পড়া মাত্র বইটি নিয়ে লিখবার তাগিদ অনুভব করি। তাগিদটা খানিক এসেছে ওঁর দুর্দান্ত ভাষা ব্যবহার দেখে — সেই ভাষার ছত্রে ছত্রে ওর ‘নিজ’-বিনির্মাণ প্রক্রিয়া দেখে। প্রক্রিয়াটার কামিয়াবি বা নাকামিয়াবি বিচার করা আমার লক্ষ্য নয়। এমনকি আমার ইরাদা এবাদের কাজের সাহিত্যগুণ বিচার করাও নয়। বরং আমার বাসনা বইটি যে সামাজিক-ঐতিহাসিক-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে রচিত হয়েছে সেটা নিয়ে দু’চার কথা বলা। এবাদ-ভাষা রাজ্যে প্রবেশ করা। আরো খোলাসা করে বললে, আমার আগ্রহ বইটা যে আলোচনায় পাঠককে শামিল করতে চেয়েছে তার সঙ্গে নিজেকে সম্পৃক্ত করা।

ebadur-r2.jpg…….
এবাদুর রহমান
…….
এবাদের উপন্যাসের বিন্যাস ভীষণরকম কৌতূহলোদ্দীপক। বঙ্গভাষা মানচিত্রে ওঁর কাবিল অবস্থানকে ওঁ স্পষ্ট করেন বঙ্গভাষী বিখ্যাত লেখকদের তাঁর সম্পর্কে লেখা প্রশংসানামা বিজ্ঞপ্তি আকারে পাঠক-মেহফিলে পেশ করে। এবাদ পাঠককে উপন্যাসটি পড়বার সম্ভাব্য বিপদ সম্পর্কে ওয়াকিফ করান। এবাদ ভূমিকাতে ওঁর সময়ে, রাজনৈতিক ও সামাজিক বাস্তবতায় ‘নিজ’-এর অবস্থিতি স্পষ্ট করেন — সচেতন ভাবে নিজ অবয়ব নির্মাণ করেন। ওঁর বসতি, গোত্র পরিচয়, ওঁর বেড়ে ওঠা, যাপন পদ্ধতি, রাষ্ট্র নিয়ে বোঝাপড়া প্রতিটা ব্যক্তিক অনুভূতিকে ভাষিক রাজনীতির উপাচারে রূপান্তরিত করতে সচেষ্ট হন। ভূমিকাটি মূলত ওঁর উপন্যাসে আপাত বিচ্ছিন্ন গদ্য, প্রবন্ধ এবং সাক্ষাৎকারগুলোর মূল সুর নির্ধারণ করেছে। (সম্পূর্ণ…)

70

অ্যাপোক্যালিপ্টো: মায়ানদের নিয়ে ছবি

সাইফ সামির | ২২ জুন ২০০৮ ৩:০৬ অপরাহ্ন

18704304.jpg
নরবলির জন্য ধরে আনা গ্রামবাসী

ছবির প্রথম মিনিট থেকেই গতিময় অ্যাপোক্যালিপ্টো (Apocalypto, 2006)। হলিউডের আর দশটা ছবির চেয়ে ভিন্ন এই ছবির প্লট। পুরো দুই ঘণ্টা ১৮ মিনিট সবকিছু ভুলে গিয়ে বসে থাকতে হয়। সাসপেন্স প্রতি মুহূর্তে।

ছয় শো বছর আগের মায়া সভ্যতার পটভূমিতে নির্মিত মেল গিবসনের (Mel Gibson, জন্ম. নিউইয়র্ক ১৯৫৬) অ্যাপোক্যালিপ্টো অনেক কারণেই apocalypto2.jpg
…….
কীভাবে পানি কেটে এগোতে হবে দেখাচ্ছেন মেল গিবসন
……
ইন্টারেস্টিং। প্রথমত, এটি মায়ান ভাষায় নির্মিত। ছবির প্রয়োজনে মায়ান ভাষা রপ্ত করে নিয়েছিলেন মেল গিবসন। ভাষা মায়ান হলেও ইংরেজি সাব টাইটেল থাকায় বুঝতে অসুবিধে হয় না। ভাষা মায়ান হওয়ায় বেস্ট ফিল্ম নট ইন দি ইংলিশ ল্যাংগুয়েজ ক্যাটাগরিতে BAFTA অ্যাওয়ার্ডের জন্য নমিনেশন পেয়েছিল অ্যাপোক্যালিপ্টো। তাছাড়া ডিরেক্টর একজন মুভমেন্ট টিচারও নিয়োগ করেছিলেন যিনি সবার বডি ল্যাঙ্গুয়েজের দিকে নজর রাখতেন।

dalia_rudi.jpg…….
জাগুয়ার প এবং স্ত্রী সেভেন
…….
ছবিতে স্প্যানিশ অভিযাত্রীরা পৌঁছানোর আগে মেক্সিকোর জঙ্গলে মায়ান জীবনযাপনের খণ্ডচিত্র দেখিয়েছেন গিবসন। শুটিংও হয়েছিল মেক্সিকোতে।

গোড়াপত্তনের পর ৮০০ শতকে মায়া সভ্যতা পূর্ণ বিকশিত হয়েছিল। কিন্তু ১০০০ শতকের কিছু আগে থেকে ক্রমাবনতি শুরু হয় এই সভ্যতার। অ্যাপোক্যালিপ্টোর কাহিনী ১৫০০ সালের। তখন মায়া সভ্যতা বিলুপ্তির দ্বারপ্রান্তে। (সম্পূর্ণ…)

101

মিশেল ফুকোর

শৃঙ্খলা ও শাস্তি: জেলখানার জন্ম (কিস্তি ১০)

অদিতি ফাল্গুনী | ২০ জুন ২০০৮ ৩:১১ অপরাহ্ন

—————————————————————-
শাস্তির কোমল পন্থা
—————————————————————–
paris-prison.jpg
প্যারিস জেলখানা, ১৯৭১ সালে তোলা ছবি

কিস্তি:

অনুবাদ: অদিতি ফাল্গুনী

খণ্ড ২ : শাস্তি

২য় অধ্যায়: শাস্তির কোমল পন্থা (The gentle way in punishment)
(পৃষ্ঠা ১১৩-১২২)

(গত সংখ্যার পর)

পুরনো শাস্তি ব্যবস্থার উত্তরসূরী হিসেবে নয়া শাস্তি ব্যবস্থায় একমাত্র যে অপরাধের জন্য অপরাধীকে কঠিনতম নির্যাতন করা হতো তা হলো রাজহত্যা। এই অপরাধে অপরাধী হলে হতভাগ্য ব্যক্তির চোখ উপড়ে ফেলা হতো। তাকে পাবলিক স্কোয়ারে বাতাসশূন্য একটি লোহার খাঁচায় বন্দি করা হতো। রাখা হতো সম্পূর্ণ নগ্ন অবস্থায়। কোমরে একটি লোহার বেড়ির মাধ্যমে তাকে সেই খাঁচার ইস্পাত পাতের সাথে শক্ত ভাবে আটকে রাখা হতো। দিনের শেষে খেতে দেওয়া হতো শুধুই রুটি আর পানি। ‘এভাবে ভিন্ন ভিন্ন মৌসুমের আবহাওয়ার যাবতীয় কষ্ট যেন অপরাধী ভোগ করতে পারে সেদিকে বিশেষ দৃষ্টি দেওয়া হতো। শীতের দিনে তার মাথা ঢেকে যাবে তুষারে। আবার গরমে সে ঝলসে যাবে সূর্যের তাপে। এমন কঠিন নির্যাতনের মাধ্যমেই কেবল মানুষ বুঝবে যে রাজহত্যার অপরাধে দণ্ডিত খলনায়কের কী কঠোর শাস্তিই না হওয়া উচিত। স্বর্গীয় যে বিধান লঙ্ঘন করে সে রাজহত্যা করেছে, তার অপরাধে সে আর কখনো স্বর্গে যেতে পারবে না। রাজহত্যা এমন এক অপরাধ যে এর মাধ্যমে শুধু স্বর্গ নয়, অপরাধী কলঙ্কিত করে পৃথিবীর পবিত্রতাকেও। কাজেই, পৃথিবীতেও সে খুব বেশিদিন বেঁচে থাকতে পারে না। তাই তার শাস্তি যেন যন্ত্রণাময় জীবন শুধু নয়, যন্ত্রণাময় মৃত্যুরও দ্যোতক হয়ে ওঠে।’ (ভার্মেইল, ১৪৮-৯)। অপরাধীকে শাস্তি প্রদানকারী শহরের মাথায় ঝুলবে মাকড়সার মত দেখতে এই লোহার খাঁচা যেখানে অপরাধী নয়া আইনের অধীনে পিতৃহত্যাতুল্য অপরাধ অর্থাৎ রাজহত্যার জন্য ফাঁসিতে লটকাবে।

দেখতে দেখতে ছবির মতো অজস্র শাস্তিতে ভরপুর এক নয়া গুদামঘরই যেন গড়ে উঠল এসময়। ‘একই ধরনের শাস্তি বারবার দিও না,’ মেবলি বলেন। মেবলির সময় নাগাদ অপরাধের মাত্রা অনুযায়ী সামান্য হেরফেরের সমধর্মী শাস্তি ব্যবস্থা বিলুপ্ত হয়ে গেছে। আরো যথাযথভাবে বলতে গেলে: এসময়কার আইনবিদরা অপরাধীকে জেলখানায় বন্দি করাকে খুব বড় শাস্তি হিসেবে মনে করতেন না। অপরাধীকে যথার্থ শিক্ষাদানের জন্য জেলখানায় নির্বাসনকে আইনবিদরা কখনোই সুনির্দিষ্ট এবং প্রত্যক্ষ শাস্তির প্রতিনিধি হিসেবে বিবেচনা করেন নি। (সম্পূর্ণ…)

15

ভ্ল­াদিমির মায়াকভস্কি ও আন্দ্রেই ভজ্‌নেসেন্‌স্কির দুটি কবিতা

সুব্রত অগাস্টিন গোমেজ | ২০ জুন ২০০৮ ১:০৮ অপরাহ্ন

অনুবাদ: সুব্রত অগাস্টিন গোমেজ

majakovskijface.jpg
ভ­াদিমির মায়াকভস্কি (জন্ম. বাঘদাতি, জর্জিয়া ১৯/৭/১৮৯৩ — ১৪/৫/১৯৩০)

১.

ভিন্নরুচির্হিঃ লোকাঃ

ভ্ল­াদিমির মায়াকভস্কি

ঘোড়াটি
দেখে উটটিকে
নিজস্ব কর্কশ অট্টহাস্যে লুটোপুটি
ফেটে প’ড়ে বলে, “মন,
চেয়ে দ্যাখ্,
ঘোড়াত্বের কী-সাঙ্ঘাতিক এ-
অতিরঞ্জন!”

বিরক্ত উটটি তখন:
“তুই — ঘোড়া!
নাহ্!
তুই তো অপরিণত এক
উটই।”

শুধু বিধাতাই,
সর্বজ্ঞ যে-জন,
জানত, ওরা
স্তন্যপায়ী
দু’টি
ভিন্ন ঘরানার।
(সম্পূর্ণ…)

51

বকুলের নাইওর

মীর ওয়ালীউজ্জামান | ১৮ জুন ২০০৮ ১২:৫৪ পূর্বাহ্ন

শিমুলের মা বকুল। কাজী হুসনেআরা বেগম। ১৯৪৬ সালে আঠারো বছর বয়সে বকুলের বিয়ে হয় কোলকাতাবাসী বাটা স্যু কোম্পানির চাকুরে মীর আমজাদ আলীর সঙ্গে। কোলকাতায় বছর দুই সংসার করে ভারতভাগের পর গর্ভবতী বকুল বাপের বাড়ি যশোরের মাগুরা মহকুমার শ্রীপুর থানার চৌগাছি গ্রামে ফেরেন। পরের বছর বড় ছেলে শিমুলের জন্ম ওখানেই। আর কোলকাতা ফেরা হয় না বকুলের। আমজাদ আলী বদলি হয়ে কোলকাতা থেকে ঢাকায় চলে আসেন। ১৯৫০ থেকে ওদের ঢাকায় বসবাস।

ভাড়াবাড়িতে সংসারযাত্রা। সেকালের ঢাকা অর্থাৎ পুরনো ঢাকা নামে এখন যে এলাকা পরিচিত, মোটামুটি জনপদ ছিল। রাস্তাঘাটে তেমন ভিড় ছিল না। পিচঢালা রাস্তায় দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পরিত্যক্ত এঞ্জিনের ওপর বডি বসানো বাস দু’একটা বিস্তর শব্দ করে চলত গুলিস্তান-সদরঘাট-পাটুয়াটুলি- চকবাজার-পলাশি-আজিমপুর-নিউমার্কেট রুটে। ভাড়া ছিল এক আনা, দু’আনা। ষোল আনায় একটি টাকা হত। এক টাকায় তখন বত্রিশটা বিশুদ্ধ বরফের কাঠি বেঁধানো আইসক্রিম পাওয়া যেত। দু’আনা খরচ করলে অত্যন্ত সুস্বাদু ক্রিম, পেস্তাবাদাম গাঁথা বেবি, ম্যাংগোলিয়া কোম্পানির আইসক্রিম খাওয়া যেত। এক আনার অর্ধেক দু’পয়সায় ঝালমুড়ি পাওয়া যেত, একই পয়সায় চিনেবাদাম কিনে শর্টসের পকেটে পুরে, ঘুরে ঘুরে, ভেঙে ভেঙে খাওয়া চলত বেশ কিছুক্ষণ। দু’আনায় একশিক কাবাব আর দু’আনায় দু’টো পরটা কিনলে তোফা পেটপুজো সারা যেত একবেলার মত।

ওহ্, কেবল খাবার-দাবারের কথাই হচ্ছে। ফেরা যাক্ বকুলের নাইওর করার গল্পে। শ্বশুরবাড়ি পাবনা যাবার সুযোগ তেমন না ঘটলেও বকুলের ফি’বছর বাপের বাড়ি যাওয়াটা কেমন-কেমন করে যেন ঘটে যেত। নানান কাজে ঢাকায় আসা মামা-খালু-নানা, কারো না কারো সঙ্গে বকুল ঠিকই বাপের বাড়ি যেতেন, বছরে অন্ততঃ একবার তো হতই। (সম্পূর্ণ…)

 

স্লাইড শো: শিশির ভট্টাচার্য্যের তৃতীয় একক চিত্রকলা প্রদর্শনী, গ্যালারি কায়া, জুন ৬-২০, ২০০৮

Get the Flash Player to see the slideshow.
 
পরের পাতা »
Disclaimer & Privacy Policy  |  About us  |  Contact us  |  Bangla Font Help

© bdnews24.com