মিরাকেল চুরি

কিযী তাহনিন | ১৮ সেপ্টেম্বর ২০১৭ ৮:৩৬ অপরাহ্ন

Monirul Islamবাহ্, একেই কি বলে মিরাকেল? বাংলায় যাকে বলে অলৌকিক কোনো ঘটনা। তবে, এক্ষেত্রে আমার ইংরেজি শব্দটি বেশি ভালো লাগে। মিরাকেল, কেমন ছন্দ আছে, জাদুময়। মনে হয়, হলো বুঝি তেমন কিছু, যেমন আগে হয়নি, তেমন কিছু, যেমন ভাবি অনেক ভাবার মাঝে। এ জীবনে, তেমন মিরাকেল কিছু হয়নি। বা ঘটেছে। হয়তো ভুলে গেছি। আমরা দুঃখ পুষতে ভালোবাসি। কিন্তু আনন্দময় কিছু ঘটে যাবার পরে, অতি দ্রুত তার সুঘ্রাণটুকু হারিয়ে ফেলি। রয়ে যায় পুরোনো ঘটনার শুকনো রসহীন কুঁচকে যাওয়া চামড়া। আর তাকে ছুঁড়ে ফেলে আবার আবার নতুন কিছু খুঁজি। ভুলে যাই পুরোনো সুঘ্রাণ কেমন ছিল। খুঁজি নতুন মিরাকেল, অলৌকিক কিছু। পুরোনোটুকু ভুলে যাওয়াতেই তখন সুখ, নতুন খোঁজায় তখন সব ভালোলাগার ঘর-বাড়ি। তাই ঠিক মনে পড়ছেনা এ মুহূর্তে, মিরাকুলাস কিছু ঘটেছিলো কিনা।

যে মুহূর্তে কলিংবেলের আওয়াজ পেয়ে, ঘুম ঘুম চোখে সকালের প্রথম দরজা খুলছিলাম, ভাবিনি এমন কিছু ঘটবে। বুঝিনি দরজার সামনে বসে সে আমার অপেক্ষা করবে। দরজা খুলে প্রতিদিনের মতন, সদ্য ঘুমভাঙা এলোমেলো আমি, মেঝে থেকে আজকের পত্রিকাটি তুলে নিলাম। পত্রিকায় বিল গুঁজে গেছে করিম হকার। বিলটি হাতে নিয়ে দেখবো যখন, তখন দু তিন পলক এদিক সেদিন হতে হতেই দেখি তিনি বসে আছে। আসনপিঁড়ি হয়ে। ঘুম পালালো, কেঁপে উঠলাম আমি, যেন বেঁচেও উঠলাম। এক প্রতিদিনের একইরকম সকাল মুহূর্তে লন্ডভন্ড, আনন্দের কাঁচভাঙ্গা ঝনঝন – মিরাকেল একদম। সামনে বসা, চোখ বন্ধ, আসনপিঁড়ি, বাম হাত তাঁর গায়ে জড়ানো টেরাকোটা রঙের চাদরে লুকোনো, অন্য হাত ডান হাঁটুর উপরে, শান্ত তিনি, তাড়াহীন, আমার সামনে তিনি। পত্রিকাটি মাটিতে নামিয়ে রেখে, খুব আলতো করে দুহাতে দুলে নিলাম তাকে। (সম্পূর্ণ…)

অলভী সরকারের পাঁচটি চতুর্পদী

অলভী সরকার | ১৭ সেপ্টেম্বর ২০১৭ ১:৩৮ অপরাহ্ন

১.

দেখছি না মানুষের মাথাগুলো নেই,
দেখছি না তারপরও মাথাগুলো আছে।
সুড়ঙ্গে নেমে গ্যাছে আগুনের পাখি,
শিকারী আঙুলগুলো ঝুলন্ত গাছে।

২.

তর্কের শেষ নেই কথার পেছনে
আসুন তর্কে নামি, উঠিনি যেখানে।
নামলেও ওঠা যায়, উঠলেও নামা,
আমরা শিখেছি শুরু, শিখি নাই থামা!

৩.

আমি চাই তুমি হও উড়ন্ত চিল
রাজপথে থেমে যাক আহত মিছিল।
উড়ছে উড়ুক সব বাদামী বাদুড়,
তাল ভেঙ্গে জড়সড় শত শত তিল। (সম্পূর্ণ…)

রিজওয়ান, মঞ্চে প্রতিধ্বনিত বিপ্লবের ডাক

শিমুল সালাহ্উদ্দিন | ১৫ সেপ্টেম্বর ২০১৭ ১:৪২ অপরাহ্ন

RIZWAN 1
আলোকচিত্র:গনি আদম

জাতশিল্পীর জন্য এই মৃতের নগরী প্রস্তুত না। প্রস্তুত না এমনকী এর শিল্পীসমাজও। সৈয়দ জামিল আহমেদের জন্য আমার তাই দুঃখ হয়। এক মৃত, প্রতিবাদহীন, ভালোবাসতে পারার সামর্থ্যহীন সমাজকে তিনি শুনিয়েছেন জীবনের, প্রতিবাদ করার, ভালোবাসতে পারার গল্প, বহুমাত্রিক পূর্ণ এক থিয়েটার মাধ্যম ব্যবহার করে। আফসোস, এই দেশের থিয়েটারের রথিমহারথিরাও থিয়েটার বলতে কেবলই ‘মেথড অ্যাকটিং’ বোঝেন।

ঢাকার মঞ্চ এমন ঘটনা কখনো দেখেনি আগে। প্রায় দুই যুগ পর শ্রেণিকক্ষের বাইরে নাট্যনির্দেশনা দিলেন দেশের বরেণ্য নাট্যজন সৈয়দ জামিল আহমেদ। আমেরিকা প্রবাসী কাশ্মিরী বংশোদ্ভুত কবি আগা শাহিদ আলীর `দ্যা কান্ট্রি ইউদাউট আ পোস্ট অফিস’ অবলম্বনে এ নাটকের নাম রিজওয়ান। নাট্যকার অভিষেক মজুমদার, কাব্যনাটকটির ভাষান্তর করেছিলেন ঋদ্ধিবেশ ভট্টাচার্য। সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির আহ্বান নিয়ে বানভাসি মানুষের পাশে দাঁড়াতে নাটবাংলার এ নাটক মঞ্চস্থ হয়েছে পহেলা সেপ্টেম্বর থেকে, উদ্বোধনী দিন ছাড়া, প্রতিদিন, দুটি করে মঞ্চায়ন হয়েছে ১০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত। অর্থাৎ, ১০ দিনে ঊনিশটি মঞ্চায়ন।

মঞ্চায়নের সংখ্যা শুনে আপনার মনে হতে পারে, তাহলে তো সহজ এক নাটক হবার কথা, বায়ে হাতকা খেলের মতো অভিনেতা-অভিনেত্রীরা করে ফেলেন এ নাটক। নাটকটি দেখার অভিজ্ঞতা না থাকলে, আপনি বুঝবেনই না কত বড় এক ঘটনা রিজওয়ান। শারীরিক ও মানসিক সামর্থ্যের কতটা চূড়ায় অবস্থান করে এই নাটকের দলটি, তাদের দশদিনের এ ‘নতুনের অভিযান’সম এক দুর্লঙ্খ অভিযাত্রা শেষ করেছে। অসামান্য টিমওয়ার্কের জন্য যেকোন দর্শকের স্যালুট পাবে রিজওয়ানের প্রযোজক নাট্যদল, নাটবাংলা। (সম্পূর্ণ…)

ঢাকার মঞ্চে সৈয়দ জামিল আহমেদের পুনরাবির্ভাব এবং রিজওয়ান-এর অর্জন ও ‍অভিঘাত

আলম খোরশেদ | ১৩ সেপ্টেম্বর ২০১৭ ৭:৫২ অপরাহ্ন

Jamilসৈয়দ জামিল আহমেদ। বাংলাদেশের অন্যতম প্রধান নাট্যচিন্তক ও নির্দেশক। তাঁকে জানি সেই ১৯৮০ সাল থেকেই,যখন তিনি দিল্লির ন্যাশনাল স্কুল অভ ড্রামার,সংক্ষেপে এনএসডি, স্নাতক হিসাবে ঢাকায় ফিরে ‘নাগরিক নাট্য সম্প্রদায়’-এর তৎকালীন প্রযোজনা, রবীন্দ্রনাথের ‘অচলায়তন’ নাটকের- যার একটি চরিত্রে আমিও অভিনয় করছিলাম তখন- মঞ্চভাবনা ও সজ্জার দায়িত্ব নিয়েছিলেন।
এর কয়েক বছর বাদে, প্রথমে ঢাকা ও পরে দেশত্যাগের কারণে তাঁর কোন পূর্ণাঙ্গ নাটক দেখার সৌভাগ্য হয়নি আমার কখনোই। তবে, প্রবাসে বসেও বাংলাদেশের নাট্যজগতে তার অতুলনীয় ভূমিকা ও অবদানের কথা কানে আসত প্রায়শই। তিনি ততদিনে একজন নাট্যকর্মী মাত্র নন, বিলেতে নাটক নিয়ে পড়াশোনা শেষ করে এসে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে নাট্যকলা বিভাগের প্রতিষ্ঠাতা এবং তার একজন নিবেদিতপ্রাণ, একনিষ্ঠ শিক্ষক হিসাবে প্রভূত সুনাম ও সম্মানের অধিকারী বিশিষ্ট নাট্যব্যক্তিত্ব। নাট্যনির্দেশনার জন্য দেশের বাইরে থেকেও তাঁর কাছে ডাক আসে তখন হামেশাই; দেশের ও বিদেশের বনেদি সব প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান থেকে তাঁর নাট্যবিষয়ক বিদ্যায়তনিক গ্রন্থও প্রকাশ পেতে থাকে নিয়মিত ব্যবধানে।
পাশাপাশি,বাংলাদেশের নাট্যমঞ্চেও তিনি নানাবিধ নিরীক্ষা ও বৈপ্লবিক কর্মকাণ্ড ঘটাতে থাকেন। বিশেষ করে, দেশজ আঙ্গিকে নির্মিত, প্রায় ছয় ঘন্টার মহাকাব্যিক নাট্যনির্মাণ,‘বিষাদ সিন্ধু’ নাট্যরসিকদের কাছে রীতিমত কিংবদন্তির খ্যাতি পায়,এবং ‘চাকা’,‘বেহুলার ভাসান’ ইত্যাদি আরও কিছু অসামান্য প্রযোজনার কৃতিত্বও জমা হয় তাঁর অর্জনের ঝুলিতে। কিন্তু প্রলম্বিত প্রবাসজীবনের কারণে এসবের কোনটারই স্বাদ গ্রহণের সৌভাগ্য হয় না আমার। (সম্পূর্ণ…)

স্বদেশ রায়ের কবিতা: পদ্মভুখ

স্বদেশ রায় | ১৩ সেপ্টেম্বর ২০১৭ ১:১১ অপরাহ্ন

Monirul Islamআমি যে মাঝে মাঝে সাঁতার কাটি এ নয় আমার মৎসাবতার অধ্যায়।
এ শুধু আমার পলাতক এক মনের খেলা, যা খেলে যায় কোন এক
অচেনা শরীরের টানে। মানুষের এই মৎস হবার বিরুদ্ধ হাওযায় অনেক কথা
ওঠে। আবার এই সাঁতারকে ভালোবেসে কত কবিতা ঝরেছে কন্ঠে কন্ঠে।
এসবের কোন কিছুর মধ্যে নই আমি, কোন দিন লিখিনি কোন কবিতা ।
মানুষের মনকে দেখিনি কখনও উপুড় করে কতটা মদির রস ঝরে পড়ে
সেখান থেকে। বরং মদিরার পাত্র উপুড় করেছি নিজের ঠোঁটে, হেঁটেছি
টালমাটাল পায়ে, রাতের শিয়ালের মত আমিও থেকেছি বুভুক্ষ এক,
ডেকেছি করুণ চিৎকারে সকলেরে, পাইনি কাছে কোন পদ্মভুখ কীটকে
যার শরীরে কেবলই পদ্ম পাপড়ির গন্ধ আছে মিশে। নতুন সুর্যোদয়ে
হেটেছি আমি অগুনিত কেরানীর সাথে, যাদের সকলের মুখ মিশে
যায় ফার্মের ইলেকট্রিক বাল্বের নিচে থাকা মুরগির সাথে, ডিম দিয়ে যায়
তারা শুধু, যে সব ডিমে সৃষ্টির নেই কোন আনন্দ, জীবনে যাদের আসেনি (সম্পূর্ণ…)

পিতলের প্রজাপতি ও অন্যান্য

প্রদীপ কর | ১২ সেপ্টেম্বর ২০১৭ ১০:২৬ অপরাহ্ন

border=0“রবীন্দ্রনাথ, তার বজরায় করে গ্রামের পর গ্রাম পার হয়ে যেতে যেতে নৌকোর জানালা দিয়ে তীরবর্তী জীবনধারা দেখেছেন। এই জানালা যেমন কাঠামো হিসেবে কাজ করেছে, তেমনি কাজ করেছে ছাঁকনি হিসেবেও। জানালার ভিতর দিয়ে যতটুকু দেখা যায়, কেবল ততটুকুই তাঁর দৃষ্টি কেড়েছে, আর তার রূপরেখা নির্ধারিত করে দিয়েছে ঐ জানালার সীমানা।”

রবীন্দ্রনাথের ছোটোগল্পের মূল্যায়ন প্রসঙ্গে বিশিষ্ট প্রাবন্ধিক হুমায়ুন কবির উপর্যুক্ত কথাগুলি বলেছেন। রবীন্দ্রনাথের দেখা এবং ছোটগল্প রচনায় কবির অন্তর্দৃষ্টির প্রকাশ ছোটোগল্পগুলিকে চিরন্তন সাহিত্যে উত্তীর্ণ করেছে।

সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সমাজ বদলেছে। বদলেছে সামাজিক বোধ, নীতি নৈতিকতাও। একই সঙ্গে বদলেছে সাহিত্যের ভাষা বিষয় আঙ্গিকও।

কবি মাহী ফ্লোরা-র ছোটগল্পের বই ‘পিতলের প্রজাপতি’ পড়তে গিয়ে এসব কথা মনে এলো। কবির গদ্য পড়তে গিয়ে একধরণের কাব্যিক আচ্ছন্নতা তৈরি হয়, এ বই অবশ্য সেরকম নয়। পনেরটি গল্পের এই সংকলনে আপাত কবিকৃতি নেই, তবে প্রচ্ছন্নে কবির দর্শন প্রবাহিত। একেবারে হৃদয়সংবেদী পাঠকের মর্মমূলে টান দেয়।

বইটির নামকরণ বেশ আশ্চর্যের, ‘পিতলের প্রজাপতি’। প্রজাপতি বলতেই মনের ভেতর যে রঙিন ওড়াউড়ি শুরু হয়, তা ক্ষণেকেই স্তব্ধ হয়ে যাবে, যদি, ‘প্রজাপতি’ শব্দটির আগে ‘পিতলের’ মতো একটি ধাতব শব্দ সংযুক্ত হয়। নামকরণেই বইটির চরিত্র কিছুটা প্রকাশিত। মুগ্ধতাবোধের সঙ্গে কাঠিন্যের ঠোকাঠুকি… কঠোর কোমলের সংঘর্ষ! (সম্পূর্ণ…)

সদ্যপ্রয়াত কবি জন অ্যাশবেরির সাক্ষাৎকার: সমালোচনা লেখা একটা সম্পূর্ণ ভিন্ন প্রক্রিয়া

ফাতেমা খান | ১১ সেপ্টেম্বর ২০১৭ ৩:২৩ অপরাহ্ন

Ashberyজন অ্যাশবেরি গত পঞ্চাশ বছর যাবত “মহত্তম জীবিত কবি” – এই অভিধার যথার্থ প্রতিদ্বন্দী হিসেবে ছিলেন। এরই মধ্যে তিনি লিখেছেন প্রথমে Art news এবং পরে New York Herald Tribune ও Newsweek এর প্যারিস সংস্করণের জন্য। স্তেফান মালার্মে, আর্তুর র‌্যাঁবো, রেমোঁ রাসেল এবং জর্জিও চিরিকোর রচনাসহ ফরাসী আভাগার্দ লেখকদের গীতল ও নির্ভরযোগ্য অনুবাদের মাধ্যমে মার্কিন ও ফরাসী ভাবনার নান্দনিকতার মাঝে এক কেন্দ্রীয় সংযোগ হিসেবে ছিলেন। জ্যারেট আর্নেস্টের সঙ্গে সদ্যপ্রয়াত কবি জন অ্যাশবেরি কথা বলেছিলেন তাঁর জীবন ও লেখার বিভিন্ন দিক নিয়ে এই সাক্ষাতকারে। এটি প্রকাশিত হয়েছিল The Booklyn Rail পত্রিকায় ২০১৬ সালের ৩ মে। এই সাক্ষাৎকারের থাকছে অ্যাশবেরির আঁকা চিত্রকর্মও। সাক্ষাৎকারটি অনুবাদ করেছেন ফাতেমা খান।

জ্যারেট আর্নেস্ট রেইল: আপনার কবিতা সম্পর্কে আমি অন্য সবার মত গতানুগতিক কবিসুলভ প্রশ্ন করার পরিবর্তে আপনার জীবন ও কাজ নিয়ে মানবোচিত প্রশ্ন করব, যদি তাতে আপনার সম্মতি থাকে।
জন অ্যাশবেরি: ঠিক আছে।
জ্যারেট আর্নেস্ট রেইল: Ashbery: Collected Poems 1956–1987 বইটির জীবনপঞ্জীতে আশ্চর্য হয়েছিলাম আপনার সম্পর্কে এই কথাগুালো দেখে: “Life ম্যাগাজিনে নিউ ইয়র্কের মডার্ন আর্ট মিউজিয়ামে অনুষ্ঠিত সুররিয়ালিজমের শীর্ষস্থানীয় প্রদর্শনী সম্পর্কে পড়ে সুররিয়ালিস্ট চিত্রশিল্পী হওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। ” আপনার বয়স তখন নয় বছর। এটা লক্ষ্য করা বেশ মজার ব্যাপার যে আপনি কবিতা নয়, বরং চিত্রকলার মা্ধ্যমে সুররিয়ালিজমের সাথে পরিচিত হয়েছেন।
জন অ্যাশবেরি: হ্যাঁ – আসলে ওই নিবন্ধের মাধ্যমে। মূলতঃ সেই সময় প্রতি সপ্তাহে আমার Life পত্রিকাটি পড়া হত, যেমন এদেশের আর সবাই পড়ত। মনে হয় না আমি এই পত্রিকাটি পড়ে সুরিয়ালিস্ট পেইন্টার হওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম। আমি রচেস্টার মিউজিয়ামে আর্ট ক্লাসে আর্ট শিখিয়েছিলাম, আমার বড় হয়ে ওঠা সেখানেই। আর্ট ক্লাসে আমি আমার শিক্ষককে সুররিয়ালিজম সম্পর্কে জিজ্ঞেস করেছিলাম। উনি আমাকে বলেছিলেন “ সুররিয়ালিস্ট ধরনের কিছু চেষ্টা করছ না কেন?” তো আমি আমার আঁকায় সাধারণ পেইন্টিঙের পরিবর্তে সুরিয়ালিজম প্রয়োগের চেষ্টা করতাম। আমার কাছে এটা মহৎ ধারণা বলে মনে হয়েছিল। প্রতিদিন আমি এই কাজটি করতাম– বিশেষতঃ মহিলাদের পোষাকের ছবি। আমি ভাবতাম আমি বড় হয়ে একজন ড্রেস ডিজাইনার হব যেটায় আমি আসলেই ভাল ছিলাম। সময়টা ছিল ’৩০-এর দশকের শেষের দিকে। কিছু শিশুতোষ পদক্ষেপের কথা বাদ দিলে আমি সত্যিকার কবিতা লেখা শুরু করিনি ’৪০-এর দশকের আগ পর্যন্ত। এরপর যখন থেকে কবিতা লেখা শুরু করলাম তখন থেকে এটা আমার জীবনে আমৃত্যু সঙ্গী হয়ে রইল। (সম্পূর্ণ…)

লেদা শরণার্থী ক্যাম্পে জনরব

মনির ইউসুফ | ১০ সেপ্টেম্বর ২০১৭ ৭:১১ অপরাহ্ন

Rohingyaউজ্জ্বল রোদের তীব্র ঝলক লেদা শরণার্থী ক্যাম্প
হালকা বাতাসের শিরশিরানি, পলিথিন ঘরগুলোতে মচমচ শব্দ
ভেসে ভেসে যাচ্ছে, ভেসে যাচ্ছে রোহিঙ্গাদের জীবন…

হাজার বছর বুকে নিয়ে আমি ঘুরছি এই রোসাঙ পাহাড়ে
শবর বালিকার সেই মুগ্ধ নেত্র, সেই আদিম স্তন, শ্যামল ও বাদামী চোখে
আমাকে আহ্বানের আকুলতা
রোহিঙ্গা রমণীর ভাঁজভাঙা সুন্দরের আঁখি পল্লব আর কটাক্ষ
দুঃখী বুকে দৃষ্টির সরলতা নিঃশ্বাসে কাঁপছে

পাহাড়ের টিলায় টিলায় বাঙালির ঘর, ভিটেজুড়ে গৃহস্তি রেখেছে আগলে
উঠোনের এককোনে চরে বেড়াচ্ছে মুরগমুরগী, গরু, ছাগল
চির সবুজের উপত্যকাজুড়ে মানুষের জনরব
আমি ঘুরছি এই নাফ নদীর তীরে, বার বার কেন ঘুরছি
এই তমিস্রা, এই অন্ধকারে, কেন ফিরে আসি এই শরণার্থী ক্যাম্পে (সম্পূর্ণ…)

মুহম্মদ নূরুল হুদার প্রবন্ধ: রোহিঙ্গারাও যেহেতু মানুষ

মুহম্মদ নূরুল হুদা | ৮ সেপ্টেম্বর ২০১৭ ১১:০৫ অপরাহ্ন

Rohingaরোহিঙ্গা সমস্যার মূল সমাধান নিহিত রয়েছে রোসাঙ্গ রাজ্যের মাটিতে। এ রাজ্যের মাটিতে যাঁদের জন্ম, বংশপরম্পরায় এখানে যাঁদের বসবাস, যাঁরা এই রাজ্যের ভূমিপুত্র বা ভূমিকন্যা, তাঁদেরকে মিয়ানমারের নাগরিকত্ব দিতে বাধা কোথায়? তাদের জানমালের নিরাপত্তা কেন দেবে না বা দিতে পারবে না মিয়ানমার সরকার বা তথাকথিত শান্তিনারী অং-সাং-সুচি বা তাঁর অনুগত সাঙ্গপাঙ্গরা? তাদেরকে বাধ্য করার দায়িত্ব অবশ্যই জাতিসঙ্ঘ ও বৃহৎশক্তিরূপী বিশ্বমোড়লদের।

নিরাপত্তা বলয় তো করা যেতেই পারে, কিন্তু সেটা সাময়িক সমাধান। মিয়ানমারের রাষ্ট্রীয় কাঠামোতে স্বায়ত্তশাসিত পৃথক রোসাঙ্গ রাজ্যগঠন ছাড়া স্থায়ী সমাধান হবে না কখনো। গত কয়েকশ বছরের নৃশংসতা অন্তত সেই কথাই বলে। আমাদের প্রস্তাবিত স্বায়ত্তশাসিত রোসাঙ্গ রাজ্যের শাসন ও নিরাপত্তা রক্ষার দায়িত্বও দিতে হবে রোহিঙ্গাদেরকেই। তাহলেই প্রতিষ্ঠিত হবে রোহিঙ্গা-শান্তি। অন্য কোনোভাবে এই শান্তি আসার পথ সহজে চোখে পড়ে না।

আপাতত বাংলাদেশসহ পৃথিবীর নানাদেশে প্রকৃত রোহিঙ্গা শরণার্থীদের পুনর্বাসন তথা নিরাপদ বসতি নিশ্চিত করতে হবে। বাংলাদেশ তো করছেই যথাসাধ্য। শরণার্থী শিবির ছাড়াও কক্সবাজারসহ বৃহত্তর চট্টগ্রামের এমন কোনো চর, পাড়া, ঘোনা, মুড়া বা টিলা নেই যেখানে অশনাক্ত রোহিঙ্গা বসতি নেই। এভাবে প্রকাশ্যে ও অপ্রকাশ্যে, বলা যতে পারে, নিজেদের সাধ্যাতীত করছে এদেশের জনগণ ও সরকার। কিন্তু কি করছে চীন, ভারত বা আশেপাশের অন্য বড় দেশগুলো? কেবল কতিপয় ইসলামি দেশের কিছু মিটিং-মিছিল দিয়ে সমাধান আসবে না। তাতে বরং রোহিঙ্গাদেরকেই ঘায়েল করার কুযুক্তি পাবে ঘাতকেরা। বিশ্বের অপেক্ষাকৃত নিরপেক্ষ ও স্বল্পবসতিপূর্ণ বড় বড় কিছু দেশে তাদের সাময়িক বা স্থায়ী পুনর্বাসন করতে বাধা কোথায়? (সম্পূর্ণ…)

আমি অন্যদের কাছে নিজের দেশকে ব্যাখ্যা করার জন্য বই লিখি না

মুহিত হাসান | ৮ সেপ্টেম্বর ২০১৭ ১:৩২ অপরাহ্ন


ওরহান পামুক
ভাষান্তর : মুহিত হাসান

OrhanPamukতুরস্কের নোবেলজয়ী কথাশিল্পী ওরহান পামুকের ইংরেজিতে অনূদিত হওয়া নতুন উপন্যাস দি রেড হেয়ারড ওম্যান বা লালচুলো মহিলা প্রকাশ পেলো সম্প্রতি, বিশ্বখ্যাত প্রকাশনা সংস্থা পেঙ্গুইন র‌্যান্ডম হাউজ থেকে। তুর্কি ভাষায় লিখিত মূল উপন্যাসটি প্রকাশ পেয়েছিল ২০১৬ সালে। এ বছর একিন ওকলাপের করা এর ইংরেজি অনুবাদ হাতে পাচ্ছেন দুনিয়াজোড়া পামুকের পাঠকেরা। উল্লেখ্য, দি রেড হেয়ারড ওম্যান উপন্যাসটির দক্ষিণ এশীয় সংস্করণও দিল্লিতে অবস্থিত পেঙ্গুইনের ভারতীয় শাখা প্রকাশ করেছে।
উপন্যাসটির ইংরেজি অনুবাদ প্রকাশ পাওয়া উপলক্ষ্যে দি স্টেট-এর তরফ থেকে সাংবাদিক আইজ্যাক সটিনার টেলিফোনে ওরহান পামুকের এই সাক্ষাৎকারটি গ্রহণ করেছেন। যদিও সাক্ষাৎকারটি কেবলমাত্র ওই উপন্যাসের প্রসঙ্গে সীমাবদ্ধ থাকেনি। সটিনার যখন পামুকের সাথে কথা বলছিলেন, তখন তিনি ইস্তাম্বুল থেকে এক ঘন্টা দূরত্বের একটি দ্বীপে গ্রীষ্মকালীন অবকাশ যাপন করছেন। যেখানে কিনা তাঁর দিন মূলত কাটছে লেখালেখি করে ও সাঁতার কেটে। (সম্পূর্ণ…)

নির্মলেন্দু গুণ: মায়ানমারের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করতে চাই

নির্মলেন্দু গুণ | ৬ সেপ্টেম্বর ২০১৭ ৫:১৪ অপরাহ্ন

Rohingyaনিরস্ত্র নিরপরাধ রোহিঙ্গা নারী, পুরুষ ও শিশুদের ওপর বার্মার সৈনিকদের বর্বর অত্যাচারের যে ভিডিওচিত্রগুলি আড়চোখে দেখলাম, তাতে প্রশ্ন জাগলো মনে, ১৯৭১ সালের পাক-সেনারা কি তুলনামূলকভাবে কম নিষ্ঠুর ছিলো?
১৯৭১ সালে পাকসেনাদের অত্যাচারের ভিডিও চিত্র ধারণ করা আজকের মতো সহজ ছিলো না বলে,
আমার এমনটি মনে হতে পারে।

আমি বিভিন্নসূত্রে ফেইসবুকে আপলোডকৃত মায়ানমারে ঘটতে থাকা নির্মমতার ভিডিওচিত্রগুলি আড়চোখে দেখেছি। ঐ রকমের মানব-পীড়নের দৃশ্য সোজা চোখে দেখার সাহস আমি সঞ্চয় করতে পারিনি।
আমার পক্ষে মায়ানমারের রাজনেতিক নেতৃত্বের ঔদ্ধত্ব এবং তার বর্বর সেনাদের এই অবিশ্বাস্য অমানবিক আচরণ মেনে নেয়া অসম্ভব হয়ে পড়েছে। আমি ঘুমাতে পারছি না।

আমি মনে করি, বাংলাদেশের পক্ষে বার্মা সরকারের যথেচ্ছাচারের নীরব দর্শক হয়ে সীমান্তে সীমাবদ্ধ থাকার সুযোগ নেই। শয়তানদের সমুচিত জবাব দেবার জন্য এখন আমাদের সীমান্ত অতিক্রম করার সময় এসেছে। মায়ানমারের সামরিক জান্তা ও শান্তির জন্য নোবেলজয়ী অশান্তি বেগমের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণার কথা এখনই গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা করা হোক। অনেক হয়েছে, আর নয়। (সম্পূর্ণ…)

মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিসের সমস্যা ও সম্ভাবনা

আহমেদ জাভেদ চৌধুরী রনি | ৫ সেপ্টেম্বর ২০১৭ ৭:৪৩ অপরাহ্ন

KSA-MFS-Bookepsনতুন নতুন প্রযুক্তির উদ্ভাবন প্রযুক্তির নবতর উৎকর্ষ আজ বিশ্বকে প্রতিনিয়ত বদলে দিচ্ছে। বাংলাদেশও তার বাইরে নয়। সরকার এই নতুন প্রযুক্তিকে যথেষ্ট গুরুত্ব দিয়ে দেশব্যাপী তার বড় পরিসরের ব্যাপারে বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছে। যার ফলশ্রুতিতে তৃণমূল পর্যায়ে পরিবর্তন দৃশ্যমান। মোবাইল ফোনের নেটওয়ার্ক আজ দেশের সকল প্রান্তে ছড়িয়ে গেছে। আর এটিই সুযোগ সৃষ্টি করেছে মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিসের মত সেবা অর্থনীতিতে নতুন দিগন্ত উন্মোচন করার।
দেশের বেশীরভাগ মানুষকে উন্নয়ন কর্মকান্ডের বাইরে রেখে, দেশের উন্নয়ন সম্ভব নয়। উন্নয়ন দর্শনের আলোকে, এটি মোটেও নতুন কোন কথা নয়। তবে সাম্প্রতিককালে উন্নয়ন দর্শনে অন্তর্ভুক্তিমূলক অর্থনীতির কথা বলা হয়। এরই ধারাবাহিকতায় আর্থিক অন্তর্ভুক্তির বিষয়টি বেশ জোরেসোরেই আলোচিত হচ্ছে। এসডিজিতে (২০১৫-২০৩০) আর্থিক অন্তর্ভুক্তির উপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। আমাদের দেশে স্বাধীনতাপরবর্তী এই অন্তর্ভুক্তিকরণের প্রথম উদ্যোগ ছিল ক্ষুদ্র ঋণ। আর স্বাধীনতার প্রায় চল্লিশ বছর পর আর্থিক অন্তর্ভুক্তির প্রযুক্তিভিত্তিক উদ্যোগ হিসেবে নেওয়া হলো মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিস (এমএফএস)। আর এই সেবা খাতটি গড়ে উঠেছে সরকারের নীতি-সহায়ক অবস্থানের কারণে। প্রথমত ১৯৯৬ সালে এ সরকারের নীতি সহায়তার কারণে গ্রামীণ ফোনের লাইসেন্সের অনুমোদন দেয়। যার ফলে গরীব মানুষের মোবাইল ব্যবহার করার সুযোগ সৃষ্টি হয়। দ্বিতীয়ত: ২০০৮ সালে দ্বিতীয় বারের মত ক্ষমতায় আসার পর তারা ডিজিটাল রূপকল্প ২০২১ গ্রহণ করে। এর অন্যতম উদ্দেশ্য ছিল, আর্থিক অন্তর্ভুক্তি। বাংলাদেশ ব্যাংকের আর্থিক অন্তর্ভুক্তির নীতির কারণে মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিসের এই সাফল্য। (সম্পূর্ণ…)

পরের পাতা »

Disclaimer & Privacy Policy  |  About us  |  Contact us

© bdnews24.com