দেখে এলাম বোরোবুদুর মন্দির

ভিক্ষু সুনন্দপ্রিয় | ১ এপ্রিল ২০১৫ ১১:২৫ অপরাহ্ন

11024742_1051281644889309_7392721366572762444_n.jpg
মানুষের স্বপ্ন নাকি একদিনে পূর্ণ হয় না। ইচ্ছে থাকলে আস্তে আস্তে পূর্ণ হয়। ইন্দোনেশিয়ার সে বিখ্যাত বোরোবুদুর মন্দির দেখার স্বপ্ন-স্বাদ অবশেষে পূর্ণ হল। যেদিন কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের জাভাযাত্রীর ডায়েরি ও বোরোবুদুর কবিতাটি পড়ি, তখন থেকে আমার কল্পনার জগতে বোরোবুদুর মন্দিরের ছবি ভেসে ওঠে। বোরোবুদুর নিয়ে তেমন লেখা আর চোখে পড়েনি, সে কবে কবিগুরু জাভাযাত্রী হয়ে বোরোবুদুর গিয়ে বুদ্ধের শরণ নিয়েছিলেন।

এ সময়ে এসে শিহরিত হই, অবাক বিস্ময় জাগে মনে। কবিগুরু নাকি দুবার বুদ্ধ প্রণাম করেছিলেন, একবার বোরোবুদুর মন্দিরে, অন্যটা বুদ্ধগয়া মহাবোধি মন্দিরে। (সম্পূর্ণ…)

গুচ্ছকবিতা

আশরাফ জুয়েল | ৩১ মার্চ ২০১৫ ৭:১৭ অপরাহ্ন

মোহনীয় পঙ্গুত্ব
সময়ের কোষ নকশা আঁকে বেঁচে 
থাকবার অভ্যন্তরীণ লোভে।
আমার বেপরোয়া অঙ্গপ্রত্যঙ্গ কখনও
ঢুকে পড়ে অন্যের পকেটে
কখনও নিজের পেটে অথবা 
খাঁজকাটা চামড়ার গতরে, 
কামে অথবা কাতরে।
আমি হচ্ছি কতগুলো ইচ্ছার যোগফল -
যে কিনা একটা জাদুপোশাকের খোঁজে
মাঠের পর মাঠ চষে বেড়াচ্ছি।
অঙ্গসংস্থানবিদ্যায় পারদর্শিতা আমাকে
এক মোহনীয় পঙ্গুত্ব দিয়েছে,
শুধু অপরের মরে যাওয়া দেখি;
নিজে মরি না।
মাঝে মাঝে নিজেকে চাবুক খাওয়া
সার্কাসের জন্তু মনে হয়।
আমি নাকি এখনও 
বেঁচে আছি বহাল তবিয়তে। (সম্পূর্ণ…)

স্বাধীনতা সংগ্রামে চিত্রশিল্পীসমাজ

বীরেন সোম | ৩০ মার্চ ২০১৫ ৬:১২ অপরাহ্ন

zainul-abedin.jpg
বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামে চিত্রশিল্পীসমাজের গৌরবময় ভূমিকা নিয়ে লিখেছেন প্রখ্যাত শিল্পী বীরেন সোম।

আমাদের মুক্তিসংগ্রাম এক দীর্ঘ ধারাবাহিকতার গৌরবময় ঐতিহ্য ধারণ করে ধাপে ধাপে চূড়ান্ত পর্বে উপনীত হয়েছিল। এ দেশের শিল্পীসমাজ এই আন্দোলনের সঙ্গে পূর্বাপর গভীর অঙ্গীকার ও ঐকান্তিক দেশপ্রেমে নিজেদের যুক্ত করেছিলেন। ১৯৪৭ সালে পাকিস্তান রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠিত হওয়ার অব্যবহিত পর এই রাষ্ট্রের গণবিরোধী প্রতারক চরিত্র এ দেশবাসীর কাছে উন্মোচিত হয়ে যায়। মোহাম্মদ আলি জিন্নাহর রাষ্ট্রভাষাসংক্রান্ত বিতর্কিত বক্তব্য খুব সহজেই পাকিস্তানি ভাবাদর্শের প্রকৃত স্বরূপটিকে চিনিয়ে দেয়। উর্দুকে রাষ্ট্রভাষা করার স্পর্ধিত ও স্বৈরাচারী ঘোষণা একটি সত্যকে উন্মোচিত করে, আর তা হল, পাকিস্তান বাঙালিদের জন্য আসেনি। পাকিস্তানি রাষ্ট্রশক্তি যে বাঙালি জাতিসত্তার শত্রুপক্ষ, সেই সত্যটি সমাজের অন্যান্য অংশের মতো শিল্পীসমাজও গভীরভাবে উপলব্ধি করে। ধীরে ধীরে সমাজের সর্বস্তরে এই উপলব্ধি গভীরভাবে ছড়িয়ে পড়ে। (সম্পূর্ণ…)

অসুখ

মতিন বৈরাগী | ৩০ মার্চ ২০১৫ ৪:৫৯ অপরাহ্ন

অসুখ

যখন কোথাও একটু আলোক নেই স্বস্তি নেই
কেবল দেনা পাওনার হিসেব খরগোশ দৌড়
কেবল সত্যের মতো আলখেল্লার নিচে মিথ্যের দগদগে ঘা
তখন তো অসুখ আমায় সঙ্গ দেয় আমার শরীরের সাথে মিশে থাকে এবং
কত পড়ে যাওয়া দিনের শেষ আলোটুকু নিয়ে খেলা করে
আমি দেখি এক নির্জন কবি বসে আছে আমার জানালায়
আর লাশকাটা ঘরে যে শুয়ে আছে পাথরের মতো
তার ঝুলে-পড়া ঠোঁটে কালের তৃষ্ণা জমে জমে বরফ হয়ে গেছে
আর আমি হয়ে যাই প্রাচীন কালের ফসিল
কোনো এক অচেনা গুহায় পড়ে আছি অনন্ত কাল (সম্পূর্ণ…)

কবিতার দিকপালের চলে যাওয়া

আনিসুর রহমান | ২৮ মার্চ ২০১৫ ৫:৩১ অপরাহ্ন

poet-tomas-transtromer-at-nobel-award-ceremony-2011_photo-source_expressen.jpg
আমি খুব অসহায় বোধ করছি, স্বজন হারানোর কষ্ট অনুভব করছি। মানসিকভাবে কে কার কতটা আপন তা কেবল কারও চলে যাবার পর আরও স্পষ্ট হয়। সুইডিশ কবি টমাস ট্রান্সট্রয়মারের চলে যাওয়াটা এ রকম একটা বেদনাদায়ক ঘটনা আমার জন্য।

তাঁর বয়স হয়েছিল ৮৩ বছর। জন্মেছিলেন ১৯৩১ সালে। তিনি কবি হিসেবে আমাদের শামসুর রাহমানের সমসাময়িক ছিলেন। রাহমান ভাই জন্মেছিলেন ১৯২৯ সালে। সুইডিশ একাডেমি ২০১১ সালে ট্রান্সট্রয়মারকে কবিতার জন্য নোবেল পুরস্কার দিয়ে সন্মানিত করে। এর আগেই তাঁর কবিতা বাংলাসহ ৬০-এর মতো ভাষায় অনূদিত হয়েছিল। তিনি সারা দুনিয়ার কবি ও কবিতার পাঠকের কাছে সমাদৃত ছিলেন। সুইডিশ একাডেমি ট্রান্সট্রয়মারকে পুরস্কৃত করে একাডেমিকেই সন্মানিত করেছিল। (সম্পূর্ণ…)

ওয়াশিংটন পোস্ট-এ বাংলাদেশের স্বাধীনতার সংবাদ

আন্দালিব রাশদী | ২৫ মার্চ ২০১৫ ৯:৩৭ অপরাহ্ন

১৮৭৭ সাল থেকে প্রকাশিত হয়ে আসছে দ্য ওয়াশিংটন পোস্ট। যখন বাংলাদেশ স্বাধীনতার জন্য লড়াই করছে, তখন ক্যাথরিন গ্রাহাম পত্রিকাটির প্রকাশক এবং কার্যত মালিক। মার্কিন সরকার যখন স্বাধীনতা সংগ্রামকে দেখছে ভারতের প্ররোচিত একটি বিচ্ছিন্নতাবাদী আন্দোলন হিসেবে, তখন মার্কিন জনগণ এবং গণমাধ্যম রক্তাক্ত বাংলাদেশের পাশে দাঁড়িয়েছে। ১৭ ডিসেম্বর ১৯৭১ সালে লি লেসাজের যে প্রতিবেদনটি প্রকাশিত হয়েছে তা বাংলায় ভাষান্তরিত হলো। বি. স.

ঢাকা ১৬ ডিসেম্বর। আজ ভারতীয় বাহিনী যখন ঢাকায় প্রবেশ করল তখন হাজার হাজার বাঙালির কণ্ঠে সানন্দ জয়ধ্বনি: ‘জয় বাংলা’।

মেজর জেনারেল গান্ধর্ভ নাগরার কমান্ডের অধীন ভারতীয় সৈন্য ও পূর্ব পাকিস্তানের গেরিলা বাহিনী (অর্থাৎ বাংলাদেশের গেরিলা মুক্তিযোদ্ধা–বি.স.) যখন খুব ভোরে ঢাকার বাইরে একটি সেতু অকেজো করতে আক্রমণ চালালো, তখনি শুনতে পেল এখানকার পাকিস্তানি কমান্ড আত্মসমর্পণ করতে ভারতের দেওয়া শর্ত ও সময়সীমা মেনে নিয়েছে।

নাগরা বলেন, সকাল সাড়ে আটটায় (বুধবার ইস্টার্ন স্ট্যান্ডার্ড টাইম রাত সাড়ে ৯টা) তিনি শহরের ভেতর পাকিস্তানি সেনা সদর দফপ্তরে একটি বার্তা পাঠান। সাথে সাথেই জবাবও পেয়ে যান যে, পাকিস্তানি সৈন্যরা আর বাঁধা দেবে না। তারপর তিনি দলবলসহ শহরে প্রবেশ করেন। (সম্পূর্ণ…)

মিলটন রহমানের চারটি কবিতা

মিলটন রহমান | ২৪ মার্চ ২০১৫ ৯:৫৩ অপরাহ্ন

(সিলভিয়া প্লাথকে মনে করে)

…to hold her hand
And kiss her on the mouth for she
Loved me and a brave embrace
Would avoid all penalty.
(The Dream, Sylvia Plath)

কেউ পারে না দিতে জীবনের শেষ চুম্বন
অন্তহীন অন্তেই মধ্যরেখা মিলায়ে যায়,
আত্মহননের পর দৃশ্যমান চুম্বনগুলো
উল্কাপিন্ডের মত মিশে যায় জল ও মৃত্তিকায়।
যারা দোর্দণ্ড খোয়াবী রাতে কুড়িয়েছে ওইসব তারকাখন্ড
তারাও একা একা চলে যায়
নভোমন্ডলের নিষুপ্ত জানালায় রেখে যায় পদছাপ,

মেঘের শরীরে আলোর সুঁই দিয়ে যারা নকশা এঁকেছিলো
তাও প্রাচীন গুহার মত ম্লান হয়ে গেছে
জলের খোলস থেকে উঠে গেছে চুম্বনের দাগ
একদা রোদের বারুদ ঘষে যে মাটি অঙ্গার হতো
সেখানে স্মৃতি ও শ্রাবনের জবা ফুটে আছে, (সম্পূর্ণ…)

বাংলাদেশের এসিডদগ্ধ নারীদের সম্পর্কে নোবেলবিজয়ী মারিও বার্গাস যোসা

রাজু আলাউদ্দিন | ২২ মার্চ ২০১৫ ১০:০৩ অপরাহ্ন

mario_ed.jpg২০১০ সালে সাহিত্যে নোবেলবিজয়ী লেখক মারিও বার্গাস যোসা উপন্যাস, গল্প ও সাহিত্যসমালোচনা ছাড়াও, লিখেছেন বিশ্বরাজনীতি ও সংস্কৃতি বিষয়ে অসংখ্য প্রবন্ধ। ইউরোপ ও মধ্যপাচ্যের রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিস্থিতি নিয়ে তাঁর মন্তব্য ও পর্যবেক্ষণ পাঠকদের ভাবনা ও অনুভূতিকে করেছে সমৃদ্ধ । তাঁর সার্বজনীন কৌতূহলের কাছে বাদ যায়নি, বাংলাদেশের এসিডদগ্ধ নারীদের করুণ ঘটনাও। ১৯৯৯ সালে স্পানঞা থেকে প্রকাশিত এল পাইস পত্রিকায় বাংলাদেশের এসিডদগ্ধ নারীদেরকে নিয়ে এই লেখাটি প্রকাশিত হয়। পরে ২০০১ সালে লেঙ্গুয়াহে দে লা পাশিয়ন গ্রন্থে এটি প্রথম অন্তর্ভুক্ত হয়, আর ইংরেজি তর্জমায় গ্রন্থটি দ্য লেঙ্গুয়েজ অব প্যাশন নামে ২০০৪ সালে প্রকাশিত হয়। ইংরেজি গ্রন্থে অন্তর্ভুক্ত `Weaker sex’ নামক প্রবন্ধের প্রাসঙ্গিক অংশটি কবি-প্রাবন্ধিক রাজু আলাউদ্দিনের অনুবাদে এখানে হাজির করা হলো। বি. স. (সম্পূর্ণ…)

পুলক হাসানের পাঁচটি কবিতা

পুলক হাসান | ২১ মার্চ ২০১৫ ১:০৮ পূর্বাহ্ন

সমঝোতা

শরণার্থী পাখির মতো আবার ফিরে
এসেছে শীত মাটির স্যাঁতসেঁতে ঘরে
কাথা নেই কম্বল নেই তবু জ্বরে
সোনার দেহখানি হায় পোড়ে;
ঘুমের সরোবরে ফুঁসে ওঠে জল
যেন কবেকার ক্ষুধাতুর ধরণী উতল
আবেশে হাত পা খুলে দেয় রাত
তার জন্যই কী অপেক্ষায় ছিল
আটপৌরে চাঁদ?
জীবনের প্রতি গভীর এই আঁতাত
রেখেছে ধরে তার বিশ্বাসের ছাদ। (সম্পূর্ণ…)

গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস:

নিঃসঙ্গতার একশ বছর

আনিসুজ্জামান | ১৯ মার্চ ২০১৫ ২:৫৯ অপরাহ্ন

garcia_marquez.jpgবিশ্বসাহিত্যের ইতিহাসে নিঃসঙ্গতার একশ বছর-এর মতো আর কোনো উপন্যাস প্রকাশের পরপরই এতটা পাঠকপ্রিয়তা পেয়েছে কিনা সন্দেহ। জনপ্রিয়তার বিচারে যেমন, তেমনি শিল্পকুশলতা আর শিল্পমুক্তির ক্ষেত্রেও এটি হয়ে উঠেছে এক অনন্য দৃষ্টান্ত। কেবল স্প্যানিশ সাহিত্যেই নয়, গোটা বিশ্বসাহিত্যের ইতিহাসেই একটি মাত্র উপন্যাসে ইতিহাস, আখ্যান, সংস্কার, কুসংস্কার, জনশ্রুতি, বাস্তব, অবাস্তব, কল্পনা, ফ্যান্টাসি, যৌন-অযাচার ও স্বপ্ন– সবকিছুর এমন স্বাভাবিক ও অবিশ্বাস্য সহাবস্থান আগে কখনও দেখা যায়নি।
ঠিক এই কারণে মারিও বার্গাস যোসা এটিকে বলেছিলেন এক সামগ্রিক উপন্যাস (Novela Total), আর পাবলো নেরুদা একে বলেছিলেন, “সের্বান্তেসের ডন কিহোতের পর স্প্যানিশ ভাষায় সম্ভবত মহত্তম উন্মোচন (“perhaps the greatest revelation in the Spanish language since Don Quixote of Cervantes.”)
বাংলাদেশে এখনও পর্যন্ত কিংবদন্তিতুল্য এই উপন্যাসটি মূলভাষা থেকে অনূদিত হয়নি। এই প্রথম এটি আনিসুজ্জামানের অনুবাদে মূল থেকে ধারাবাহিক অনূদিত হচ্ছে। বি. স.
(সম্পূর্ণ…)

ষাঁড়ের লড়াই

ফরিদ আহমদ দুলাল | ১৮ মার্চ ২০১৫ ১১:১৫ অপরাহ্ন

শৌর্য -বীর্যের কাহিনি জড়িয়ে যারে দৃশ্যপটে
ষণ্ড সব নপুংশক নয়, তাদের জৌলুশে দিন কাটে
এঁড়ে বাছুরেরা ষাঁড় হওয়ার রয়েছে সৌর্য স্বাতন্ত্র-সম্মান
আমাদের লোকজীবনেও আছে ষাঁড় বিষয়ক অগণন উপাখ্যান;
ষণ্ডদের স্বতন্ত্র মৌসুম নেই খায়-দায় ঘোরে
ঋতুবতী বালিকা গরুরা এলে গর্ভবতী করে,
বনেদী সমাজ ষাঁড়ের সাহস পোষে গঞ্জ-গ্রামে
ষাঁড়ের লড়াই ডাকে মাঠে উৎসবে আড়ং জমে। (সম্পূর্ণ…)

মনির ইউসুফের দুটি কবিতা

মনির ইউসুফ | ১৬ মার্চ ২০১৫ ৯:০৫ অপরাহ্ন

najib.gif
ঘুঘুর বিলাপ

সারাটা দুপুর ঘুঘুুুটি বিলাপ করে ঘুঘুটির জন্য
অলস দুপুরে গাছের পাতা ঝিম মেরে গেলে
ঘুঘুটির বিলাপে পুরো পাড়া সচকিত হয়ে যায়
ঘুঘুটির ক্রন্দনধ্বনি থামে না কোনো মতে–

এ এক প্রাাচীন নেক্রোফোলিয়া,
আমার বুকে সে ক্রন্দন ধ্বনি আমার ঘুঘুনিও বোঝেনি
এ যেন প্রাচীন ঘুঘুর বিলাপের আধুনিক প্রতিধ্বনি
বস্তু অবস্তু মুগ্ধতা, প্রেম ও ভালোবাসার মানবিক সংবেদ (সম্পূর্ণ…)