নজরুল কি সর্বযুগের কবি?

মীজান রহমান | ২৩ নভেম্বর ২০১৪ ১০:১৬ অপরাহ্ন

kazi-nazrul.jpgবাংলাদেশে আজকাল রবিঠাকুর আর কবি নজরুল ইসলামের জন্মদিন একসাথে পালন করবার একটা রেওয়াজ তৈরি হয়ে গেছে। ফলে রবীন্দ্র-নজরুল শব্দদুটি যেন যুগলবন্দী হয়ে পরস্পরের সাথে মিশে গেছে। ঠিক যমজ না হলেও সহোদর তো বটেই। এটা অবশ্য সত্য যে দুজনেরই জন্ম একই মাসে—তবে ৩৮ বছরের ব্যবধানে। মজার ব্যাপার যে তাঁদের মৃত্যুও ঠিক একই মাসে—তা’ও ৩৫ বছরের ব্যবধানে। কিন্তু তা সত্ত্বেও আমাদের ভুললে চলবে না যে পৃথিবীর কোথাও বোধ হয় এমন নজির নেই যেখানে দুজন বড় কবির জয়ন্তী একই দিনে পালন করা হয়েছে। আমাদের দেশেও হত কিনা সন্দেহ যদি না এদুটি নামের সাথে দুটি ভিন্ন সম্প্রদায়ের ছাপ থাকত। এতে করে দুজন অসাধারণ ব্যক্তিকে এক কাতারে দাঁড় করিয়ে সমান উচ্চতাবিশিষ্ট মানুষ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করার একটা প্রচ্ছন্ন প্রয়াস প্রায় অপ্রচ্ছন্নভাবেই প্রতীয়মান, অন্তত আমার চোখে। রবীন্দ্রনাথ আর নজরুল ইসলামের বন্ধনীবদ্ধ জয়ন্তী পালনের পক্ষপাতী আর যে’ই হোন, আমি নই। (সম্পূর্ণ…)

মনির ইউসুফ-এর তিনটি কবিতা

মনির ইউসুফ | ২৩ নভেম্বর ২০১৪ ১:০৬ পূর্বাহ্ন

ঘুঘুর বিলাপ

সারাটা দুপুর ঘুঘুুুটি বিলাপ করে ঘুঘুটির জন্য
অলস দুপুরে গাছের পাতা ঝিম মেরে গেলে
ঘুঘুটির বিলাপে পুরো পাড়া সচকিত হয়ে যায়
ঘুঘুটির ক্রন্দনধ্বনি থামে না কোনো মতে–

এ এক প্রাচীন নেপ্রোপোলিয়া,
আমার বুকে সে ক্রন্দনধ্বনি আমার ঘুঘুনিও বোঝেনি
এ যেন প্রাচীন ঘুঘুর বিলাপের আধুনিক প্রতিধ্বনি
বস্তু অবস্তু মুগ্ধতা, প্রেম ও ভালোবাসার মানবিক সংবেদ

ঘুঘুটি বিলাপ করে–
সমস্ত নির্মাণ ও সৌন্দর্য্যের হন্তারক হচ্ছে মানুষ মানুষ
সমস্ত বিনির্মাণ ও সৌন্দর্য্যের হন্তারকও হচ্ছে মানুষ
ঘুঘুটি রক্ত গলায় উঠে না আসা পর্যন্ত বিলাপ করতেই থাকে (সম্পূর্ণ…)

নতুন পিরামিড

রেজাউদ্দিন স্টালিন | ২১ নভেম্বর ২০১৪ ৬:০৩ অপরাহ্ন

ফিলিস্তিনের আকাশে চাঁদ ওঠে
হেলমেট মাথায়

বর্ম বুকে ওঠে সূর্য
তারারা নি:শব্দে কাঁপে ভয়ার্ত শিশির
ধোঁয়াভারানত মেঘ চরে বেড়ায়
উঠোনে-উঠোনে
রক্তের নদী মরে পড়ে থাকে বিছানায়
মাথার উপর কাকেরা চেঁচায়
চিলের চিৎকারে ছিঁড়ে যায় দিগন্ত
বোমারু ঈগল আগুনের ডিম দেয় শূন্যে (সম্পূর্ণ…)

গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস:

নিঃসঙ্গতার একশ বছর

আনিসুজ্জামান | ১৯ নভেম্বর ২০১৪ ৮:৫৫ অপরাহ্ন

border=0বিশ্বসাহিত্যের ইতিহাসে নিঃসঙ্গতার একশ বছর-এর মতো আর কোনো উপন্যাস প্রকাশের পরপরই এতটা পাঠকপ্রিয়তা পেয়েছে কিনা সন্দেহ। জনপ্রিয়তার বিচারে যেমন, তেমনি শিল্পকুশলতা আর শিল্পমুক্তির ক্ষেত্রেও এটি হয়ে উঠেছে এক অনন্য দৃষ্টান্ত। কেবল স্প্যানিশ সাহিত্যেই নয়, গোটা বিশ্বসাহিত্যের ইতিহাসেই একটি মাত্র উপন্যাসে ইতিহাস, আখ্যান, সংস্কার, কুসংস্কার, জনশ্রুতি, বাস্তব, অবাস্তব, কল্পনা, ফ্যান্টাসি, যৌন-অযাচার ও স্বপ্ন– সবকিছুর এমন স্বাভাবিক ও অবিশ্বাস্য সহাবস্থান আগে কখনও দেখা যায়নি।
ঠিক এই কারণে মারিও বার্গাস যোসা এটিকে বলেছিলেন এক সামগ্রিক উপন্যাস (Novela Total), আর পাবলো নেরুদা একে বলেছিলেন, “সের্বান্তেসের ডন কিহোতের পর স্প্যানিশ ভাষায় সম্ভবত মহত্তম উন্মোচন (“perhaps the greatest revelation in the Spanish language since Don Quixote of Cervantes.”)
বাংলাদেশে এখনও পর্যন্ত কিংবদন্তিতুল্য এই উপন্যাসটি মূলভাষা থেকে অনূদিত হয়নি। এই প্রথম এটি আনিসুজ্জামানের অনুবাদে মূল থেকে ধারাবাহিক অনূদিত হচ্ছে। বি. স.
(সম্পূর্ণ…)

প্রাণজি বসাক-এর কবিতা

প্রাণজি বসাক | ১৮ নভেম্বর ২০১৪ ১০:২৫ অপরাহ্ন

স্বপ্নবাগান

আমবাগানে মঞ্জরী আসেনি এখনও
না আসুক রকমফের ফল এসেছে
কাঁচালালসার মতই কাঁচা ফজলি
বাগানভর্তি বস্তাভর্তি
র-গ্রেনেড

যার জন্ম আর মহিমায়
বাঙালি জাতিসত্ত্বাবোধে
চড়িয়ে পড়ছে একটি
বিরাট নির্জলা শুল্ক মরুভূমি (সম্পূর্ণ…)

আমার শিক্ষক জিল্লুর রহমান সিদ্দিকী

মোস্তফা তোফায়েল | ১৬ নভেম্বর ২০১৪ ১১:৪১ অপরাহ্ন

siddiki.jpgআমার শিক্ষক জিল্লুর রহমান সিদ্দিকী। ১১ নভেম্বর ২০১৪ তারিখ রাত পৌনে বারোটায় তাঁর অবিনশ্বর আত্মা নশ্বর দেহ ফেলে রেখে স্বর্গাশ্রয়ী হয়েছে।
প্রফেসর জিল্লুর রহমান সিদ্দিকী রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রায় বিশ বছর ইংরেজি সাহিত্যের শিক্ষক ছিলেন। তাঁর অধ্যাপনা পেশার অধিকাংশ সময় কেটেছে সেখানে। আমি ১৯৭৪-এর শুরুতে যখন ওই বিশ্ববিদ্যালয়ে এম.এ ইংরেজি প্রথম বর্ষে ভর্তি হই, তিনি তখন সেখান থেকে বিদায় পথের পথিক। মনে পড়ে , আমি মাত্র একটি ক্লাশে তাঁকে শিক্ষক হিসেবে পেয়েছিলাম। তিনি শেক্সপিয়রের সনেট সম্পর্কে কথা বলছিলেন। ওই সময়ে তিনি শেক্সপিয়রের সনেটসমগ্র অনুবাদের কাজ করছিলেন, শুনেছিলাম। এর আগে তিনি জন মিল্টনের অ্যারিওপ্যাজিটিকা অনুবাদ করেছিলেন। তাঁরই সম্পাদিত দীপঙ্কর পত্রিকায় আমি তাঁর টেম্পেস্ট অনুবাদ পড়েছি। তাঁর ক্লাশ-বক্তৃতায় তিনি ছিলেন অসামান্য প্রভাবশালী। সরলতা ও স্নিগ্ধতায় সিক্ত ব্যক্তিত্বে তিনি ছাত্রদের মন্ত্রমুগ্ধ করে রাখতেন। রবীন্দ্রসাহিত্যেও তাঁর ছিল অগাধ পাণ্ডিত্য। শুধু ইংরেজি সাহিত্যের ছাত্রছাত্রীই নয়, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের জুবেরি হল ও অন্যান্য ভেন্যুতে অনুষ্ঠিত সাহিত্য-সংস্কৃতির অনুষ্ঠান ইত্যাদিতে বহুমুখী বিদ্যা ও বহুধাবিস্তৃত সাহিত্য আলোচনায় তিনি বাংলা সাহিত্যের ছাত্র-শিক্ষকসহ অপরাপর বিষয়ের ছাত্র-শিক্ষকদেরও সমীহ আদায় করার মত ঋদ্ধ ও সিদ্ধ ছিলেন। (সম্পূর্ণ…)

কাশীনাথের কবিতার ছায়াতলে

পুলক হাসান | ১৫ নভেম্বর ২০১৪ ১১:১০ অপরাহ্ন

border=0কবিতা যদি মানুষের অন্তর্গত জীবনের প্রতিচ্ছবি, তবে তা বাস্তবের প্রতিফলনে আরও সরাসরি, আরও জীবন্ত। কবি কাশীনাথ রায়ের কবিতা সে কথাই স্মরণ করিয়ে দেয় আমাদের। আর চোখের সামনে খুলে দেয় বিপন্ন এক বিশ্বের মনোদরজা; আর্তপীড়িত সেই বিপন্ন বাস্তবতা তাঁর কবিতায় অনুতাপজারিত এক মানবিক আর্তস্বর।
যতটুকু সুর দিলে সাধারণ কথারাও হয়ে ওঠে হৃদয়ের গান এবং সরাসরি মর্মে গিয়ে পৌঁছে, তারই নমুনা যেন খুঁজে পাওয়া যায় কাশীনাথের কবিতায়। সহজ, অলঙ্কারহীন কিন্তু লক্ষ্যভেদী এক ইঙ্গিত দিয়ে যায় নমিত উচ্চারণে, মৃদুভাষণে। বলার ভঙ্গি সেখানে যতই সহজ হোক, স্বগত সংলাপীয় চরণে চরণে যতই আকার নিক কবিতাশরীর তার মধ্যেই দেখি আত্মপোলব্ধির নানা বাঁকাচোরা দিকদিগন্ত। সেই দিগ্বলয়ের স্বপ্নচ্যুত বাস্তবতার ও থইহারা জীবনের দাগ রেখে যায় আমাদের সামনে। আমরা তখন দেখি স্বদেশ, মা-মাটি ও মানুষের বিপন্নতায় কতটা কাতর এই কবি। চেনা পৃথিবীর বদলে যাওয়া দৃশ্য এবং স্বপ্নের অপমৃত্যু দেখে তাঁর মধ্যে তৈরি হয় এক বিস্বাদ ও পিপাসার পথরেখা:
হাত বাড়ালেই তরতাজা ঘৃণা ঘিনঘিনে অবিশ্বাস কামড়ে ধরে হাতের আঙুল [ওম চাই/ জীবনানন্দ, দেখুন, পৃ. ৭]
স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলে অনাগত পিতৃভূমির উদ্দেশে যখন গাইতে যাব পুনর্জন্মের গান… দুহাত মাথায় চেপে আমি দেখলাম আমার কুড়িয়ে তোলা স্বদেশের বুক পেঁচিয়ে পরম উল্লাসে দুলছে বিষধর ব্যাধি: [হযরত নূহের নৌকা/ জীবনানন্দ, দেখুন, পৃ. ১০] (সম্পূর্ণ…)

মতিন বৈরাগীর কাব্যযাত্রা

ফরিদ আহমদ দুলাল | ১৫ নভেম্বর ২০১৪ ১২:৩৮ পূর্বাহ্ন

border=0ড. আহমদ শরীফ লিখেছেন-‘কবি মতিন বৈরাগী নিজের গুণের ও দানের জন্যেই বাংলাদেশের কবিতাঙ্গনে সুখ্যাত ও সুপ্রতিষ্ঠিত। কাজেই তিনি তাঁর নতুন কাব্যগ্রন্থের প্রকাশনা মুহূর্তে কারুর মতের, মন্তব্যের কিংবা তদ্বীরের তোয়াক্কা রাখেন না। তবে আমি যে মলাট-মন্তব্য লিখছি, সে-কেবল কবি ও কবিতা সম্বন্ধে আমার মুগ্ধতার অভিব্যক্তি দানের জন্যেই। এ কবি গণমানবের দাসত্ব-শোষণ-বঞ্চনাজাত বেদনার কথা বলে, বলে পৃথিবীর হালচাল বদলানোর কথা, বাতলায় মুক্তির পন্থা, দিশা দেয় বিপ্লবের ও বিদ্রোহের, সন্ধান করে সাহসী সংগ্রমী বীরের, আশা ও আশ্বাস দেয় মুক্তির; আনন্দের ও সুন্দরের। কবি মতিন বৈরাগী ও তাঁর কাব্য সংবেদনশীল মানববাদী মাত্রেরই প্রিয়। আমি এবং অগণ্য অনেকে তাই বৈরাগীর ও তাঁর কাব্যের শংসায় মুখর।’ (মতিন বৈরাগীর চতুর্থ কাব্যগ্রন্থ ‘আশা অনন্ত হে’-এর ফ্ল্যাপে মলাট-মন্তব্য)। (সম্পূর্ণ…)

অতিপ্রাকৃত থেকে মানব মনের গভীরে হুমায়ূন আহমেদ

শান্তা মারিয়া | ১৪ নভেম্বর ২০১৪ ৭:২৬ অপরাহ্ন

humayun.gifহুমায়ূন আহমেদ এদেশের সবচেয়ে জনপ্রিয় কথাসাহিত্যিক। দেশজুড়ে তার অসংখ্য পাঠক। তার উপন্যাস, আত্মজীবনী, নাটক, চলচ্চিত্র, গান প্রতিটিই জনপ্রিয়। লিখেছেন ‘নন্দিত নরকে’, ‘শঙ্খনীল কারাগার’, ‘সাজঘর’, ‘জোছনা ও জননীর গল্প’সহ অনেক অবিস্মরণীয় উপন্যাস। বাংলাদেশের প্রকাশনা শিল্পের প্রধান স্তম্ভ ছিলেন তিনি। গত চার দশক ধরে তিনি ছিলেন বইমেলায় সর্বাধিক বিক্রীত লেখক।

বাংলাদেশের মধ্যবিত্তের জীবন তার চেয়ে সার্থকভাবে আর কোনো লেখকের কলমে উঠে আসেনি। তার উপন্যাসের চরিত্র ‘হিমু’, ‘মিসির আলি’, ‘শুভ্র’ পেয়েছে ব্যাপক জনপ্রিয়তা। হুমায়ূন আহমেদ সমকালে কতটা জনপ্রিয় তা শুধু হিমু চরিত্রের প্রতি তরুণদের ভালোবাসা দেখলেই বোঝা যায়। হলুদ পাঞ্জাবি পরা এক খেয়ালি যুবক যে জীবনের সব ছকবাঁধা হিসেবনিকেশ পাল্টে দিতে পারে তার প্রতি তরুণদের আকর্ষণ অনিবার্য । ‘হিমু-প্রেমী’দের সংগঠনও রয়েছে। সারাদেশে রয়েছে তাদের সদস্য। এরা হিমু ও তার প্রেমিকা রূপার মতো হলুদ পাঞ্জাবি ও নীলশাড়ি পরে, সমাবেশ করে, বিভিন্ন অনুষ্ঠান করে। কোনো লেখকের সৃষ্ট চরিত্র নিয়ে এমন আয়োজন তার সর্বব্যাপী জনপ্রিয়তার প্রমাণ নিঃসন্দেহে। হুমায়ূন আহমেদ যে জনপ্রিয়তা ও ভালোবাসা পেয়েছেন তার পাঠকদের কাছ থেকে সারা বিশ্বে তেমন নজির খুব বেশি নেই। (সম্পূর্ণ…)

হুমায়ূন আহমেদের লেখায় ‘চাবি-বিষয়’

নওশাদ জামিল | ১৩ নভেম্বর ২০১৪ ১:০৪ পূর্বাহ্ন

hamayun-young.jpgবাংলা সাহিত্যে বোধ হয় ‘হিজিবিজি’-এর রয়েছে একটা ঐতিহাসিক ঘটনা, রয়েছে গুরুত্বপূর্ণ ইতিহাস। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর যখন লেখার ভেতর আনন্দ পাচ্ছিলেন না, ভিন্নধারার কোনো সৃষ্টিসুখের জন্য পিয়াসী, তখন লেখার খাতায় হিজিবিজি নানা কিছু কাটাকুটি করতেন মনের খেয়ালে। একদিন হঠাৎ তাঁর ওই খাতা চোখে পড়ে ভিক্টোরিয়া ওকাম্পোর। খাতা দেখেই বিস্মিত হন তিনি। মুগ্ধ হয়ে তাকিয়ে থাকেন খাতার দিকে। ওকাম্পো খেয়াল করেন যে, কবিগুরুর লেখার খাতায় কাটাকুটির ভেতর থেকে বেরিয়ে এসেছে ‘সব রকমের মুখ, প্রাগৈতিহাসিক দানব, সরীসৃপ অথবা নানা আবোলতাবোল’। তারপরের ইতিহাস জানেন সবাই। হুমায়ূন আহমেদের শেষজীবনের লেখা বেশ কয়েকটি বই পড়তে পড়তে মনে পড়ে গেল এ কথা। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের কাটাকুটি আর হুমায়ূন আহমেদের রচনার সঙ্গে দৃশ্যত কোনো মিল নেই। তবে কেন এ কথা মনে পড়ল? বইয়ের নাম যখন ‘হিজিবিজি’, ‘বলপয়েন্ট’, ‘কাঠপেন্সিল’, ফাউন্টেইন পেন’ ও ‘রংপেন্সিল’ হয়, তখন চলে আসে আঁকিবুঁকির প্রসঙ্গ। আমরা জানি, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর শেষ বয়সে রংতুলির কাছে সঁপে দিয়েছিলেন, চিত্রশিল্পী হিসেবে প্রতিষ্ঠা করেছিলেন নিজেকে। হুমায়ূন আহমেদ ঠিক তেমন নন, যদিও আমরা তাঁর ছবি আঁকার কথা জানি। এ কারণেই প্রসঙ্গের অবতারনা। (সম্পূর্ণ…)

অপরূপকথা মেঘমল্লার

সলিমুল্লাহ খান | ১০ নভেম্বর ২০১৪ ৬:৪১ অপরাহ্ন

আমার পরম সৌভাগ্য, সর্বসাধারণ দেখিতে পাইবার আগে আমি ‘মেঘমল্লার’ দেখার সুযোগ পাইয়াছি। এ পর্যন্ত দুইবার দেখিয়াছি। আশা করি ভবিষ্যতেও দেখিব। প্রথমেই ছবির রূপের কথা বলিতে হয়। এই ছবির রূপ এককথায় অপরূপ। ছবি দেখিবার পর আমার সঙ্গে যাঁহারা আলাপ করিয়াছেন তাঁহাদের এক একজন বলিতেছেন–বাংলা ছবিতে বহুদিন এমন বৃষ্টি হয় না। আমার এক মহান বন্ধু তবুও এই ছবি দেখিয়া চোখ ভিজান নাই। তিনি বৃষ্টির ফোটার খুঁত ধরিয়াছেন। দেখিয়াছেন প্রতিদিনই বৃষ্টির ফোটা একই জায়গায়–একই জানালায়–একই ধারায় ঝরিয়াছে। তিনি বলিয়াছেন–মানুষ এমন নিখুঁত ভাষায় কথা বলে! এ কেমন মফস্বল যেখানে কিষাণের পদপাত নেই!

border=0আমার ধারণা–এই খুঁত আরো খুঁত অনেকেই ধরিবেন। আমি এই মাননীয় মহোদয়কে বলিয়াছি–এই ছবিকে ‘উপকথা’ মনে করিবেন তো ভুল করিবেন। তো জানি, অনেকেই বলিবেন ‘মেঘমল্লার’ বাংলাদেশের–১৯৭১ সালের অর্থাৎ মুক্তিযুদ্ধের–উপকথা। এমন বলায় হয়ত কোন ভুল নাই। উপকথা বা পরাকথা (ফ্যাবল বা প্যারাবল) আকারে ছবিটি দেখা যাইতেই পারে। এই ছবি মুক্তিযুদ্ধের ছবি ইহাই বা কে অস্বীকার করিবে! (সম্পূর্ণ…)

খলিলের কার্টুন : জনমনের প্রতিচ্ছবি

শাকিল মাহমুদ | ৮ নভেম্বর ২০১৪ ১০:১৩ অপরাহ্ন

nazrul-1.gif২০০৮ সাল। সারাদেশে রাজনীতিবিদ, ব্যবসায়ী সবাইকে দৌড়ের উপর রেখেছে ফখরুদ্দিন-মইনুদ্দিন সরকার। ঠিক সে সময়ে খলিলের আঁকা একটি কার্টুনে দেখানো হয়েছে, সামনের সিটে চালকের আসনে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক প্রধান উপদেষ্টা ড. ফখরুদ্দিন আহমদ। পেছনে অন্য একজন গাড়ির স্টিয়ারিং ঘুরাচ্ছেন। সেনা সমর্থিত সেই সরকারের সময়ে বিভিন্ন পত্রিকার মন্তব্য প্রতিবেদনে ও টেলিভিশনের টকশোর আলোচনায়ও উঠে আসে তার কার্টুন। (সম্পূর্ণ…)