গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস:

নিঃসঙ্গতার একশ বছর

আনিসুজ্জামান | ২৪ এপ্রিল ২০১৫ ১:৪৬ পূর্বাহ্ন

garcia_marquez.jpgবিশ্বসাহিত্যের ইতিহাসে নিঃসঙ্গতার একশ বছর-এর মতো আর কোনো উপন্যাস প্রকাশের পরপরই এতটা পাঠকপ্রিয়তা পেয়েছে কিনা সন্দেহ। জনপ্রিয়তার বিচারে যেমন, তেমনি শিল্পকুশলতা আর শিল্পমুক্তির ক্ষেত্রেও এটি হয়ে উঠেছে এক অনন্য দৃষ্টান্ত। কেবল স্প্যানিশ সাহিত্যেই নয়, গোটা বিশ্বসাহিত্যের ইতিহাসেই একটি মাত্র উপন্যাসে ইতিহাস, আখ্যান, সংস্কার, কুসংস্কার, জনশ্রুতি, বাস্তব, অবাস্তব, কল্পনা, ফ্যান্টাসি, যৌন-অযাচার ও স্বপ্ন– সবকিছুর এমন স্বাভাবিক ও অবিশ্বাস্য সহাবস্থান আগে কখনও দেখা যায়নি।
ঠিক এই কারণে মারিও বার্গাস যোসা এটিকে বলেছিলেন এক সামগ্রিক উপন্যাস (Novela Total), আর পাবলো নেরুদা একে বলেছিলেন, “সের্বান্তেসের ডন কিহোতের পর স্প্যানিশ ভাষায় সম্ভবত মহত্তম উন্মোচন (“perhaps the greatest revelation in the Spanish language since Don Quixote of Cervantes.”)
বাংলাদেশে এখনও পর্যন্ত কিংবদন্তিতুল্য এই উপন্যাসটি মূলভাষা থেকে অনূদিত হয়নি। এই প্রথম এটি আনিসুজ্জামানের অনুবাদে মূল থেকে ধারাবাহিক অনূদিত হচ্ছে। বি. স.
(সম্পূর্ণ…)

প্রতিটি স্বপ্ন ছিল উদ্বেগের, ভয়াবহতার

রাহুল পুরকায়স্থ | ২২ এপ্রিল ২০১৫ ৮:২৬ অপরাহ্ন

pia-1.jpgতিনি পেলেন; না পেলেই-বা কী যেত-আসত তাঁর, তাঁর কবিতার! কেন না তথাকথিত খ্যাতি, যশ তাঁর কবিতাকে, লেখালেখিকে অনেকদিন আগেই ছেড়ে গেছে, যেমন যায়; যশহীন কবিতারা দিগন্ত রাঙায়, আর ওই দিগন্তের দিকে চারপাশে চোখ বোলাতে বোলাতে খাটো পায়জামা-ফতুয়ায় হেঁটে উৎপালকুমার বসু। কবি উৎপল কুমার বসুর নাম এতদিনে সাহিত্য একাডেমি পুরস্কার প্রাপকের তালিকায় উঠে এল, উঠে এল!

মূক তুমি তাকিয়ে রয়েছ ঠাণ্ডা ভাতের থালার দিকে।/কী দেখছ, তুমি জানো আর জানে আধ-হাতা ডাল/ নূনের সঙ্গে ভিজে মাখামাখি, চালে হলুদ কাঁকর।/ধানের পোড়াটে খোজা, তুমি জানো যথার্থই জানো।/এদের ভিতর কোন সাংবিধানিক দূতীপনা খেলে যাচ্ছে–।/মেলা ছক, গূঢ় আঙুল বাঁকানো এক তুখোড় ছক্কাদান। /লাল গুটি এগিয়ে চলেছে তার মরুভূমি দিয়ে
লাল ঝোল গড়িয়ে পড়ছে ঐ মাছটুকু ঘিরে। /গ্রামের আগের মুহুর্তে ঠিক যে-ঘার মতন/নিজের বিশ্বাসে কাঁপছে–ভাত, ঝোল, নূনের আঙুল।/যে বিশ্বাসে কাঁপে নীল গুটিগুলি লাল খেলা ঘরে।

১৯৮২ তে প্রকাশিত লোচনদাস কারিগড় কাব্যগ্রন্থের এই কবিতাটির নাম সুই লুডো-খেলা।
গত ৩০/৩২ বছর তো হবেই। আমি নিয়মিত লক্ষ করে চলেছি উৎপলকুমার বসুকে। উৎপলকুমার বসুর লেখালেখিকে। আমাদের চারপাশে, আমাদিগের চারিপাশে পড়ার মতো বাংলা সাহিত্য প্রতিদিন কতই না রচিত হয়ে চলেছে। কিন্তু লক্ষ করার মতো? (সম্পূর্ণ…)

বুলান্দ জাভীরের সাতটি কবিতা

বুলান্দ জাভীর | ২১ এপ্রিল ২০১৫ ১১:০৪ অপরাহ্ন


আততায়ী পারফিউম

দৃষ্টিনন্দন ক্রিস্টাল বাহনে পর্যটন করা ফরাসি এজেন্টের
তরল পুষ্পের ঘ্রাণমুগ্ধ হয়ে
তুমি যখন তাকে তোমার সঙ্গী কর।
তুমি তার আপাত নিরীহ তরল রূপের প্রেক্ষাপটে
বিলম্বিত হন্তারকের ভূমিকা ধরতে পার না।
ফলে তুমিও এই আন্তর্জাতিক চক্রান্তের অংশ হয়ে যাও।

তুমি জান না
পারফিউমের একটি বিনাশী ভূমিকা আছে।
পারফিউমের-এর একটি বিলম্বিত হন্তারকের ভূমিকা আছে।
ঘ্রাণইন্দ্রিয়ের যোগসাজসে
মস্তিষ্ককোষের বন্ধ দরোজা-জানালাগুলো
খুলে ফেলে একের পর এক অবলীলায়।
তারপর আস্তে আস্তে তার বিষক্রিয়া
রক্তের শিরা উপশিরা ধরে
সমগ্র দেহের রোমকূপে ছড়িযে যায়। (সম্পূর্ণ…)

বিষাক্ত গল্প

মনি হায়দার | ২০ এপ্রিল ২০১৫ ৭:৩১ অপরাহ্ন

হাসান জামালের সঙ্গে পরিচয় বছর তিনেক আগে, একুশের বই মেলায়।
কে পরিচয় করিয়ে দিয়েছিল, মনে নেই। হাসান জামাল গল্প উপন্যাস কবিতা লেখেন। প্রথম বছর পরিচয়ের দিনে তিনি জানান, প্রায় বছর বিশেক পর আবার লেখার জগতে এলাম।
মানে? আমি বিস্মিত হয়ে প্রশ্ন করি। এতদিন, বছর লেখেননি কেন?
নানা কারণে হয়ে ওঠেনি।
আমার কাছে বিস্ময় লাগে, একজন মানুষ যখন লেখেন, লিখতে শুরু করেন, তিনি লেখা ছাড়া থাকেন কী করে? হতে পারে, মানুষ বলেই হয়ত সম্ভব। মানুষ পারে না এমন কাজ জগতে আছে? এক সময়ের বেতারে জনপ্রিয় সংবাদ পাঠক ইমরুল চৌধুরী কবিতা লিখতেন। মাঝে অনেক বছর লেখেননি। কয়েক বছর আগে আবার লিখতে শুরু করেছিলেন। কী চমৎকার কবিতা লিখতেন ইমরুল চৌধুরী। একটা পত্রিকাও বের করেছিলেন কবিতাবিষয়ক। যতদূর মনে পড়ছে–সময়ের স্রোত ছিল পত্রিকাটির নাম। পুরনো ঢাকার ইতিহাসখ্যাত বিউটি বোর্ডিং নিয়ে একটা কমিটি গঠন করেছিলেন। একাত্তরের পাকিস্তানি জল্লাদের হাতে শহীদ প্রহল্লাদের স্মৃতিবিধৌত স্থনটিকে দখলদারদের হাত ধেকে বাঁচাতে আন্দোলন গড়ে তুলেছিলেন। এখন আর দেখতে পাই না ইমরুল চৌধুরীর কবিতা। তিনি কি আবার নিজেকে লেখার জগত থেকে প্রত্যাহার করে নিয়েছেন? হয়ত। নইলে পত্রপত্রিকায় লেখা দেখতাম। এ হয়। অনেক লেখকের হয়। জীবন কি আর ব্যাকরণ মেনে চলে? জীবন নিজেই তো একটা নিজস্ব ব্যাকরণ। (সম্পূর্ণ…)

গুন্টার গ্রাসের সাক্ষাৎকার: দারিদ্র্যের চরম অবস্থায় ভাষা হারিয়ে যায়। ছবি সেই ভাষাকে উদ্ধার করে।

বিনয় বর্মন | ১৯ এপ্রিল ২০১৫ ৯:০৩ অপরাহ্ন

grass-1.jpgগুন্টার গ্রাসের এই সাক্ষাৎকারটি প্রকাশিত হয় প্যারিস রিভিউতে ১৯৯১ সালের গ্রীষ্ম সংখ্যায়। সাক্ষাৎকার নিয়েছিলেন এলিজাবেথ গ্যাফনি। গুন্টার গ্রাসের প্রয়াণ উপলক্ষ্যে লেখালেখি বিষয়ে তার আলাপচারিতার অংশবিশেষ কবি ও অনুবাদক বিনয় বর্মনের অনুবাদে উপস্থাপন করা হলো। বি.স.

আপনি কিভাবে লেখক হলেন?

আমার মনে হয় এটা আমার সামাজিকভাবে বেড়ে ওঠার সঙ্গে সম্পর্কিত। আমাদের নিম্ন-মধ্যবিত্ত পরিবারটি থাকতো একটা ছোট দুই রুমের ফ্লাটে। লিভিং রুমের এক কোণে ছিল আমার বইপত্র। খুব অল্প বয়সেই আমি লিখতে, পড়তে ও আঁকতে শিখেছিলাম। বড় হয়ে আমি পড়ার জায়গা বিস্তৃত করেছি। অন্তত চারটি ভিন্ন জায়গায় আমার বইপত্র রাখা, যাতে যখন যেখানে খুশি বসে পড়তে ও লিখতে পারি। ছেলেবেলার সেই গাদাগাদি পরিবেশটি আমাকে ভীত করে তোলে। (সম্পূর্ণ…)

কবি ও ঔপন্যাসিক গ্যুন্টার গ্রাসের প্রয়াণে

মনির ইউসুফ | ১৯ এপ্রিল ২০১৫ ৪:৩০ অপরাহ্ন

gunter-grass.jpg‘কবি সেই সুদীর্ঘ অতীত ও বর্তমান সত্তা, একই সঙ্গে জটিল ও সরল, যেন দাঁড়িয়ে আছেন স্বপ্ন ও বাস্তবতার, দিন ও রাত্রির সীমানা ছুঁয়ে; এবং তাঁরই ভেতর দিয়ে উঠে আসছে সমস্ত প্রকার উপস্থিতি ও অনুপস্থিতি; এবং যেন তিনি হঠাৎ অর্ন্তগত বিস্ফোরণ খুঁজছেন এবং গ্রহণ করছেন সমস্ত ধ্বংস ও বিপর্যয়ের শক্তি ও উন্মেষের মুক্তিমন্ত্র।’ (এমে সেজায়ার)

কট্টর ইউরোপিয় একদেশদর্শী এনলাাইটেন্টমেন্টের বিপক্ষে কথা বলার শেষ সাহসী কবি ও কথাসাহিত্যিক গ্যুন্টার গ্রাস চলে গেলেন পৃথিবীর বাইরে, অন্যলোকে। সাহিত্যে বিংশ শতাব্দীর শেষ নোবেল বিজয়ী গ্রাস মহাজীবনে প্রবেশ করলেন সোমবার ১৩ এপ্রিল ২০১৫। জার্মান লেখকদের মধ্যে গ্যেটে যেমন অনেক মানুষের প্রিয় কবি ও লেখক, তেমনিভাবে গ্যেটে-পরবর্তী শতাব্দীর জার্মান কবি কথাসাহিত্যিক চিত্রকরদের মধ্যে গ্যুন্টার গ্রাসও মানুষের বাস্তব আকাঙ্ক্ষার সাহিত্যিক নায়ক। বাংলাদেশে গ্যুন্টার গ্রাসকে ব্যাপক ও বিপুলভাবে পরিপ্লাবিত হতে দেখি গুন্টার গ্রাসের ঢাকা আবিষ্কার নামক একটি বড় মলাটের গ্রন্থে। ফেব্রুয়ারি ২০০১ ‘আগামি প্রকাশনী’ থেকে প্রকাশিত ‘নাসির আলী মামুন’ সম্পাদিত গ্রন্থটিতে লেখক গ্রাসকে পেয়ে শিল্পের শুভ্রতায় চমকিত হই। পুরো গ্রন্থের পৃষ্ঠায়-পৃষ্ঠায় গ্রাসের বাংলাদেশ ভ্রমণের ছবি এমন আকর্ষণ ও মোহময় করে রাখে, দেখলেই আবিষ্ট হয়ে পড়বে যে কোনো সৃষ্টিশীল মানুষ। মনের ভেতর তৈরি হবে একটি নতুন জগত। (সম্পূর্ণ…)

জমিলার বিয়ে

মো. আনোয়ার হোসেন | ১৮ এপ্রিল ২০১৫ ৭:৪৪ অপরাহ্ন

পঞ্চমীর চাঁদ তখনও ডুবে যায়নি। তার আলোয় প্রথম যা নজরে পড়ল তা একটি থ্রি নট থ্রি রাইফেলের নল। শীতের ঠান্ডা এখন স্বস্থিদায়ী। তারপরও নদীর খোলা হাওয়ায় একটু শীত অনুভব করি আমরা। যে নৌকাটিতে আমরা উঠেছি, তা ঠিক সাম্পান নয়। যদিও নাফ নদিতে প্রায় সব নৌকাই ছই তোলা সাম্পান। এ নৌকাটি ছিপ নৌকার মতো। লম্বা ও খোলা। তার দুপাশে দুজন করে চারজন যুবক বৈঠা নিয়ে বসেছিল। নৌকার পাটাতনে বিছানো ছিল রাইফেলটি। মোক্তারের নির্দেশে ওই যুবকেরা আমাদের ব্যাকপ্যাকগুলো এমনভাবে গুছিয়ে রাখছিল যাতে নৌকার ভারসাম্য ঠিক থাকে। আমরা পনেরজন যুৎ হয়ে বসেছি। নৌকা চলতে শুরু করেছে। সঁপাসপ বৈঠা পড়ছে। নাফ নদীর নোনা পানি কেটে নৌকা চলছে তিরবেগে।
জামার সাইড পকেটে হাত ঢোকাল মোক্তার। তারপর বের করা হাত যখন মেলে ধরল, তখন চাঁদের আলোয় পাঁচটি বুলেট চকচক করে উঠল। আমরা চলেছি অজানা গন্তব্যে। মোক্তার আমাদের গাইড। সুঠাম চার যুবকের আটটি হাতের ছন্দময় আন্দোলনে নৌকা এগিয়ে চলেছে। সাম্পানের গতি মন্থর। আমাদের এপারে যেমন আছে ইপিআর ঠিক তেমনি ওপারে বর্মি সীমান্তরক্ষী নাসাকা বাহিনী। দ্রুতগতির গানবোট আছে তাদের। ওদের দৃষ্টি এড়িয়ে ওপারে পৌঁছাতে হবে। এই নিশিরাতে লম্বা ছিপ নৌকা বেছে নেওয়ার কারণটি বোঝা গেল। খোলা রাইফেল ও তাজা বুলেট কেন দেখাল মোক্তার? তা কি এ কথা বোঝাতে যে আমাদের ভয় পাওয়ার কিছু নেই। অস্ত্র আছে আমাদের সঙ্গে। নাকি আমাদের মনে ভয় সঞ্চার করা তার উদ্দেশ্য? (সম্পূর্ণ…)

মাহবুব আজীজের কবিতা: দার্শনিক জিজ্ঞাসার দীপাবলী

নওশাদ জামিল | ১৮ এপ্রিল ২০১৫ ৬:৪১ অপরাহ্ন

border=0‘হরি দিন তো গেল, সন্ধ্যা হলো, পার করো আমারে’–মাহবুব আজীজের কাব্যগ্রন্থ হাতে নিয়ে, বইটির শিরোনাম দেখে মনে পড়ে গেল গানটির কথা। সত্যজিৎ রায় তাঁর কালজয়ী চলচ্চিত্র ‘পথের পাঁচালী’র সঙ্গীতায়নে ব্যবহার করেছিলেন কাঙাল হরিনাথের এই গান। গানটির পঙ্ক্তিতে ‘সন্ধ্যা’ শুধুমাত্র একটি শব্দ নয়, নির্দিষ্ট সময়ও নয়, জীবন ও জগত নিয়ে তা এক নির্মোহ দার্শনিকতা। প্রকৃতির মধ্যে সন্ধ্যা এমনই এক যুগসন্ধি এবং পরমমুহূর্ত, যেখানে প্রেম ও প্রার্থনায় নত হতে হয়; উপলব্ধি করতে হয় নিজেকে, নিজের জীবন ও জগতকেও। মাহবুব আজীজের কাব্যগ্রন্থ ঠিক সন্ধ্যার আগে পাঠশেষে আমাদেরও বোঝাপড়া করতে হয়. নত হতে হয় জীবন ও জগতের রহস্যময় মায়ায়। কেননা কবি মাহবুব আজীজ বলেছেন, ‘এ এক আশ্চর্য সময়!’ (সম্পূর্ণ…)

গাবোর সাথে মস্করা

যুবায়ের মাহবুব | ১৭ এপ্রিল ২০১৫ ১২:৪২ অপরাহ্ন

জন লি অ্যান্ডারসন (জন্ম ১৯৫৭) প্রখ্যাত মার্কিন সাংবাদিক ও লেখক। মধ্যপ্রাচ্য ও আফ্রিকাসহ বিশ্বের নানা যুদ্ধক্ষেত্র থেকে রিপোর্টারের দায়িত্ব পালন করেছেন। ‘নিউ ইয়র্কার’ পত্রিকার জন্যে নিয়মিত লিখছেন ১৯৯৮ সাল থেকে। ১৯৯৯ সালে ‘গার্সিয়া মার্কেসের শক্তি’ শিরোনামে একটি দীর্ঘ প্রবন্ধ প্রকাশ করেন। আধ ডজন বই লিখেছেন, এর মধ্যে চে গেভারার জীবনীটি সবচেয়ে বিখ্যাত। চে’র মৃত্যুরহস্য অনুসন্ধান করতে গিয়ে তিনিই প্রথম বলিভিয়ায় হারানো সমাধিস্থল আবিষ্কার করেন, চে’র মৃত্যুর প্রায় তিন দশক পর। গত বছর এপ্রিলে গার্সিয়া মার্কেসের মৃত্যুর পর এই প্রবন্ধটি ‘নিউ ইয়র্কার’ পত্রিকায় প্রকাশ পায়। গাবোর প্রথম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে এটির ইংরেজি অনুবাদ করেছেন অনুবাদ ও প্রাবন্ধিক যুবায়ের মাহবুব। বি. স.

gabriel.gifগত সপ্তাহে মেক্সিকো সিটির বাড়িতে মৃত্যুবরণ করলেন ৮৭ বছর বয়সী গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস। পৃথিবীর জন্যে রেখে গেলেন সুবিশাল সাহিত্য সম্ভার। খুব কম লেখকই এতগুলো ভাষায় অনুদিত হয়েছেন, এত দেশের পাঠকদের কাছে পৌঁছুতে পেরেছেন। তার মৃত্যুতে ইংরেজ ঔপন্যাসিক ইয়ান ম্যাকইউয়ান যথার্থ মন্তব্য করেছেন - ‘আমাদের নতুনভাবে দেখতে শিখিয়েছিলেন গাবো।’ (সম্পূর্ণ…)

লিটন তোমার অন্তহীন পাঞ্জাবী

পূরবী বসু | ১৬ এপ্রিল ২০১৫ ৭:৩৯ অপরাহ্ন

জানতাম তোমার পাঞ্জাবীর দৈর্ঘ্য অন্তহীন নয়
কৃষ্ণ যেমন পাঠিয়েছিল দ্রৌপদীর বস্ত্রহরণের সময়।
ধীমতি দ্রৌপদী ভালো করেই জানে তাঁর পঞ্চ স্বামীকে;
তারা কাপুরুষ। ব্যতিক্রমী কিছুটা শুধু পাগলাটে ভীম।
কিন্তু সেদিন ঐ দুর্ভেদ্য চক্র অতিক্রম করা
ভীমের পক্ষেও ছিল অতি কঠিন।

বিবেক যখন লোপ পায়; ক্ষণিকের উত্তেজনা
আর প্রগলভতা কেড়ে নেয় ন্যায়বোধ,
নববর্ষের আকাশ জুড়ে ঝোলে থিকথিকে কালো মেঘ,
যখন বস্ত্রহীন দ্রৌপদীর খোলা চামড়ায়,
দুর্যোধন, দুঃশাসনেরা আনন্দকেলি করে, (সম্পূর্ণ…)

তোতাপাখির পুনর্জন্মের গল্প

আলম খোরশেদ | ১৫ এপ্রিল ২০১৫ ১০:০৬ অপরাহ্ন

eduardo-galeano.jpegসদ্য প্রয়াত লেখক এদুয়ার্দো গালেয়ানো (১৯৪০- ২০১৫): সমকালীন লাতিন আমেরিকান সাহিত্যের গুরুত্বপূর্ণ লেখকদের একজন এদুয়ার্দো গালেয়ানো উরুগুয়াই-এর মন্তেবিদেয়ো শহরে ১৯৪০ সালে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি একাধারে ঐতিহাসিক, ঔপন্যাসিক, ছোটগল্পকার, সাংবাদিক ও সমাজচিন্তক। অভিনব ভাষা ও ভঙ্গিতে লেখা তাঁর কালজয়ী রচনা ওপেন ভেইনস অভ্ লাতিন আমেরিকা (১৯৭১) এই মহাদেশের সমাজ-ইতিহাস-রাজনীতি-অর্থনীতি বোঝার জন্য একটি অপরিহার্য গ্রন্থ হিসাবে বিশ্বব্যাপী স্বীকৃত। এছাড়া তাঁর অপর উল্লেখযোগ্য গ্রন্থসমূহ হচ্ছে: (ট্রিলজি) মেমোরি অভ্ ফায়ার (১৯৮২-১৯৮৬), ছোটগল্প গ্রন্থ দ্য বুক অভ্ এমব্রেসেস (১৯৮৯) এবং মিররস: স্টোরিজ অভ্ অলমোস্ট এভরিওয়ান (২০০৮) ইত্যাদি। গত ১৩ এপ্রিল তিনি মারা গেছেন। গালেয়ানোর এই গল্পটি মূল থেকে অনুবাদ করেছেন স্প্যানিশ সাহিত্যের অনুবাদক ্ও বিশেষজ্ঞ আলম খোরশেদ। বি.স (সম্পূর্ণ…)

কবিতায় বৈশাখ

মোস্তফা তোফায়েল | ১৫ এপ্রিল ২০১৫ ৮:৫০ অপরাহ্ন

পয়লা বৈশাখ ও বৈশাখ মাসের অনেকগুলো বৈশিষ্ট্যের মধ্যে এর খরতাপ ও ঝড়ো গতিবাচক বৈশিষ্ট্য দুটি কবিতায় ব্যবহৃত হয়েছে সবচেয়ে বেশি। শেক্সপিয়রের ১৮ সংখ্যক সনেটে সংক্ষিপ্ত আকারে অথচ অবিস্মরণীয় কাব্যিকতায় ব্যবহৃত হয়েছে বৈশাখের এই দুটি বৈশিষ্ট্য। আর একটি ব্যাপার ঘটিয়েছেন কবিগণ বৈশাখকে ঘিরে। তা হল, বৈশিষ্ট্য দুটি ব্যবহারের কারুকৃত্যে অবচেতন মনের অন্য কোনো শক্তিমান আবেগ বা স্মৃতি বা আরাধ্যের আরাধনা, আর এই আরাধনার জন্য বৈশাখের আত্তীকরণ বা Assimilation। ধর্মান্তর কাজে নিয়োজিত মিশনারিগণ বা ধর্মীয় নেতাগণ যেভাবে তাদের নবতর ধর্ম ও নোটিভদর ধর্মের আত্তীকরণে ও সাদৃশ্যস্থাপনে কাঙ্ক্ষিত ধর্মটির সঙ্গে নেটিভদের ধর্মের সামঞ্জস্য ও ঐকতান প্রচারের কৌশল প্রয়োগে লিপ্ত হয়ে থাকেন, অনেকটা সেভাবেই। বৈশাখের খরতাপ ও ঝড়ো গতি কবিতায় অধিকাংশ সময়েই প্রতীকায়িত হয়েছে দ্রোহ ও বিপ্লবের শক্তিমত্তা প্রকাশের মিথ হিসেবে। কখনও বৈশাখ প্রতীকটির ব্যবহার ঘটেছে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরকে আরাধ্য হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে; কখনও বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবকে ধারণ করতে; এবং কখনও দেশ-জনতার মুক্তি ও স্বাধীনতার স্বপ্নকে চিত্রায়িত করার উদ্দেশ্য ও লক্ষ্যে বাংলা কবিতায় বৈশাখের নানামাত্রিক ব্যবহার ও প্রয়োগ ব্যাপকতা, পরিপক্কতা ও নান্দনিকতায় ঋদ্ধ এবং শৈল্পিকতার উৎকর্ষে বিশ্বমানে উত্তীর্ণই বটে। (সম্পূর্ণ…)