অনিরুদ্ধ আনজিরের একগুচ্ছ ন্যানো কবিতা

অনিরুদ্ধ আনজির | ৩০ মে ২০১৬ ২:০৩ পূর্বাহ্ন

সোনামুখি সুঁই
আঙ্গুলে বসে না মাছি
আলাপে বসে না।

মৃদুল
রক্তজবা ফুল।

অনুভূতি
ঔদ্ধত্য চাপাতি আঁকে মানুষের শরীর।

শিশির
নিজেকে ধরে রেখে হলদে পাখির আভা।

খুনে
ফ্রেন্সকাট দাড়ি।

বিশ্বাস
গোবরেপোকার বলয়।

প্রেম
গোলআলুর সৌরভ। (সম্পূর্ণ…)

সুর বাগিচার বুলবুলি, গান সায়রের মতি

বিপাশা চক্রবর্তী | ২৬ মে ২০১৬ ৩:৩৪ অপরাহ্ন

nazrul-51.jpg “যেদিন আমি হারিয়ে যাব, বুঝবে সেদিন বুঝবে
অস্তপারের তারার কাছে আমার খবর পুছবে”
ব্রিটিশ ভারতের স্বাধীনতা লাভের কিছু কাল আগে বাংলার পথে পথে এমন দৃশ্য দেখা যেত, -একজন লোক মাথায় কলের গান নিয়ে হাঁটছে, আরেকজন বাক্সে রেকর্ড নিয়ে হাঁক পাড়ছে, ‘পূজোর নতুন রেকর্ড বেরিয়েছে, নেবে নাকি গো”। তারা নাকি বাড়িতে বাড়িতে ডেমনস্ট্রেশন দিয়ে রেকর্ড বিক্রি করত। সেদিনের সেই ফেরিওয়ালার বাক্সের বেশিরভাগ রেকর্ডের কম্পোজার ছিলেন আমাদের জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম, সে গানগুলো ছিল তখনকার সাধারণ মানুষের প্রাণের গান। কি ছিল সেই গানে? গজল থেকে শুরু করে, হিন্দুস্তানি গান, এমনকি লোকসুরের প্রয়োগে বাংলা গানের এক প্রভাবশালী নতুন ধারা। রাগপ্রধান, টপ্পা , কাওয়ালি, গজল, ঠুংরি, ভাটিয়ালি, ঝুমুর, বাউল, ভজন, কীর্তন, শ্যামাসঙ্গীত, ইসলামী, দেশাত্ববোধক, হাসির গান সব। এমন কি, ছাদ পেটানো, ঘুম পাড়ানি, চরকার গানের মতো বিরল জাতির গান ছিল সেই ভান্ডারে। বাংলা গানে নজরুলই প্রথম গজলের আঙ্গিকে মধ্যপ্রাচ্যের সুরা ও সাকি, মরুভূমির খরতাপ আর মরূদ্যানের শ্যামলিমা একই সাথে বয়ে এনেছিলেন। আবার বাংলা ভাষায় মার্চ সঙের মতো অনবদ্য সৃষ্টিও এই বিপ্লবী কবির কলমে। কত বিচিত্র রাগের জনক যে নজরুল তা বলে শেষ করা যাবে না। যেমন কাব্যিক তাদের নাম তেমনি সুন্দর তাদের চলন। (সম্পূর্ণ…)

ড. রফিকুল ইসলাম: ঢাকাই একদল সংগীত সন্ত্রাসী ইচ্ছেকৃতভাবে নজরুলের সুর বিকৃত করে

অলাত এহ্সান | ২৫ মে ২০১৬ ৫:০৩ অপরাহ্ন

dr-rofikul-islam.jpgকাজী নজরুল ইসলামের ১১৭তম জন্মবার্ষিকী আজ। বাংলাদেশে নজরুল গবেষণার ক্ষেত্রে প্রধান পুরুষ ড. রফিকুল ইসলাম। দীর্ঘ চারদশকের অধিক সময় ধরে তিনি নজরুল গবেষণায় নিজেকে ব্যাপৃত রেখেছেন। গবেষক হিসেবে তার অন্যতম কাজ কাজী নজরুল ইসলামের ওপর সব চেয়ে তথ্যবহুল জীবনীগ্রন্থ রচনা। এখনো তিনি লিখে যাচ্ছেন নজরুলের বহুমুখী লেখনীর বিভিন্ন দিক নিয়ে। এই মুহূর্তে তিনি কাজ করছেন নজরুলের সুস্থাবস্থায় করা গানের স্বরলিপি উদ্ধারে। দীর্ঘ অধ্যাপনা জীবনে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে বাংলা বিভাগে প্রথম নজরুল অধ্যাপক এবং নজরুল-গবেষণা কেন্দ্রের প্রথম পরিচালক। ভাষা আন্দোলন ও মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ তার জীবনের গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা। পেয়েছেন একুশে পদকসহ রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ সব পুরস্কার। কাজী নজরুল ইসলামের জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে বাংলাদেশে নজরুল চর্চার বর্তমান হাল, গবেষণা, প্রাসঙ্গিকতা ইত্যাদি নিয়ে কথা বলেছেন। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন তরুণ গল্পকার অলাত এহ্সান।

অলাত এহ্সান : এটা খুব পীড়াদায়ক বিষয় হচ্ছে যে, কাজী নজরুল ইসলামকে নিয়ে তাঁর জন্ম-মৃত্যু দিনেই সবচেয়ে বেশি কথা বলা হয়। প্রবণতাটা একটা মারাত্মক বিষয়, তাই না?
ড. রফিকুল ইসলাম : না, এটা নির্ভর করে প্রচার মাধ্যমগুলোর ওপর, বুঝেছো। তবে আমাদের প্রচার মাধ্যমগুলোতে নজরুল সংগীতের প্রচার এখন বাড়ছে ক্রমে ক্রমেই। যেমন আগে তো হতো না, এখন সকালে প্রায় প্রত্যেকটা প্রচার মাধ্যমে ছোটখাট যে একটা সংগীতানুষ্ঠান হয়, সেখানে নজরুলের গান হয়। এখন আমি এটা দেখলাম–বিটিভি, তারপরে চ্যানেল আই’তে তো ছিলই; অন্যগুলোতে ছিল না। মোহনা চ্যানেলে হয়। এরকম কয়েকটা টিভি চ্যানেলে আমি দেখলাম তারা নিয়মিত সকালে নজরুল সংগীত প্রচার করে। কাজেই এটা বলা যাবে না যে, প্রচারিত হচ্ছে না। তবে বিটিভিতে নিয়মিত হয়। (সম্পূর্ণ…)

স্তম্ভিত ইতিহাস : নজরুল

শঙ্খ ঘোষ | ২৫ মে ২০১৬ ২:৪৫ অপরাহ্ন

nazrul-7.jpgনিজেকে ‘স্বেচ্ছাচারী’ বলে ঘোষণা করেছিলেন আমাদের কোন্ কবি? বাংলা কবিতা পড়তে যাঁরা অভ্যস্ত, এ-প্রশ্নের উত্তর দিতে তাঁদের কোনো দ্বিধা হবার কথা নয়, তাঁরা নিশ্চয় সঙ্গে সঙ্গেই মনে করতে পারবেন শক্তি চট্টোপাধ্যায়ের নাম, তাঁর ‘আমি স্বেচ্ছাচারী’ লাইনটি, বা বিভিন্ন কবিসভায় প্রায় শারীরিক উৎক্ষেপের মধ্যে এই লাইনটি নিয়ে তাঁর নানা ভঙ্গিমার উচ্চারণ। ঠিকই, শব্দটির সঙ্গে শক্তির নাম জড়িয়ে আছে অনেকদিন; কিন্তু তবু বলা যায় তাঁরও আগে বাংলা কবিতার আরো একজন মানুষ ওই একই পরিচয়ে চিহ্নিত করতে চেয়েছিলেন নিজেকে, নিজের বিষয়ে বলেছিলেন ‘স্বেচ্ছাচারী উচ্ছৃঙ্খল বাঁধনহারা’।
উদ্ধৃতিচিহ্নের অন্তর্গত ওই শব্দগুলি অবশ্য কোনো কবিতার শব্দ নয়, এ হলো বাঁধনহারা নামে নজরুলের উপন্যাস থেকে নেওয়া এক শব্দগুচ্ছ। সেই উপন্যাসে, কাউকে না বলে ঘর ছেলে সেনাদলে পালিয়ে গেছে যে নায়ক, সেই ‘নূরু’ একবার তার চিঠি শেষ করেছিল এই আত্মপরিচয় দিয়ে : ‘স্বেচ্ছাচারী–নুরুল হুদা’। এক-এক চিঠিতে তার আত্মপরিচয় এক-একরকম। কখনো সে লেখে ‘তোমার কাঠখোট্টা লডুয়ে দোস্ত’, কখনো ‘হতভাগা’ কখনো-বা নরপিশাচ’। কিন্তু ‘স্বেচ্ছাচারী’ কথাটার দিকে লেখকের অতিরিক্ত ঝোঁক টের পাওয়া যায় যখন নূরুল প্রতি স্নেহশীলা এক ব্রাহ্ম মহিলা তাঁর ‘পাগল পথিক’ ওই ‘ভাই’য়ের কথা বলতে গিয়ে তাঁরও চিঠিতে লেখেন : ‘স্নেচ্ছাচারী’ উচ্ছৃঙ্খল বাঁধনহারা সে–অতএব এখন রক্তের তেজে আর গরমে সে কত আরো অসম্ভব সৃষ্টিছাড়া কথাই বলবে।’
উপন্যাসেরই কথা যদি এসব, তাহলে কেন লিখছি নজরুল নিজেকে বলতে চেয়েছিলেন ‘স্বেচ্ছাচারী’? এ তো তাঁর নিজের কথা নয়, এ তো তাঁর তৈরি এক চরিত্রের কথা মাত্র। (সম্পূর্ণ…)

উক্তির মুক্তি ও নজরুল

মুহম্মদ নূরুল হুদা | ২৫ মে ২০১৬ ১:৪০ পূর্বাহ্ন

nazrul-5.jpgবাংলা ভাষার জনপ্রিয়তম কবিদের শীর্ষে থেকেও সবচেয়ে সহজবোধ্য নন যিনি, তাঁর নাম নজরুল। তাঁর কবিতার ধ্বনি ও শ্রুতিমাধুর্য় শ্রোতাকে যতটা কাছে টানে, তার বাণী ততোটা টানে কিনা প্রশ্নসাপেক্ষ। এ-কারণে তাঁর জনপ্রিয়তা শ্রোতাপাঠকের কাছে যতোটা শ্রুতিসিদ্ধ, ততোটা স্বতঃবোধ্য নয়। ফলে যে নজরুল মূলত যুক্তিসিদ্ধ উক্তির কবি, তিনি প্রায় সব একপাঠের পাঠক-পাঠিকার কাছে অধরাই থেকে যান।

এই বিষয়টি ব্যক্তিগত পর্যায়ে আমি প্রথম অনুভব করি বছর দুএক আগে, যখন যুক্তরাষ্ট্রের নজরুল গবেষক ড. রেচেল ম্যাকডারমট নজরুলের কিছু কবিতার ব্যাখ্যা নিয়ে আমার সঙ্গে যোগাযোগ করেন। তিনি এ-সময়ে নজরুলের কবিতায় ব্যবহৃত ঐতিহ্যিক পটভূমি, পুরাণ-প্রসঙ্গ ও তার নবায়ন, তার সমকালের সঙ্গে এই নবায়নের যৌক্তিকতা আর এই নবায়নের নান্দনিক বৈধতা নিয়ে কাজ করছিলেন। আর এই কাজটি সম্পন্ন করে নজরুল-মানসকে পরিপূর্ণভাবে উপলব্ধি করার জন্য নজরুলের কবিতা নতুনভাবে নিজে অনুবাদ করছিলেন। এই অনুবাদ তিনি অক্সফোর্ড বা অনুরূপ কোনো প্রতিষ্ঠান থেকে গ্রন্থাকারে বের করবেন বলে আমাকে জানিয়েছিলেন। তাঁর হাতে ছিল মৎসম্পাদিত ও নজরুল ইন্সটিটউট থেকে প্রকাশিত ‘পোয়েট্রি অব কাজী নজরুল ইসলাম ইন ইংলিশ ট্রানশ্লেশন’ নামক বৃহৎ গ্রন্থটি। আমি তাকে বললাম, তুমি যদি নজরুলের কবিতার বাণীসত্য বুঝতে চাও, তাহলে এই গ্রন্থের মূল কবিতা ও তার অনুবাদ পড়লেই তো চলে। বলা বাহুল্য, ‘বিদ্রোহী’সহ একাধিক কবিতার একাধিক ইংরেজি অনুবাদ এখানে আছে। রেচেল একটু হেসে বললো, তুমি যা বলছো তা প্রায় ঠিক, এ-পর্যন্ত আমি আমার যৎসামান্য বাংলা-জ্ঞান নিয়ে ইংরেজি অনুবাদগুলো মিলিয়ে দেখেছি, প্রায় সব অনুবাদেই মূলের সঙ্গে কিছু গরমিল আছে। এমনকি কোনো কোনো ক্ষেত্রে কবিতার অংশবিশেষ বাদও পড়েছে। মূল কবিতাটি অনুবাদে পুরোটা বুঝে তার বাণীসত্য বুঝতে আমার অসুবিধা হচ্ছে। কাজেই আমি আগে মূল বাংলাতেই কবিতাটি বুঝতে চাই্। যতোটা তার নান্দনিক গঠনশৈলী, ততটাই আমার কাছে গুরুত্বপূর্ণ নজরুলের অন্তর্বয়িত উক্তি, যা তার শব্দচিত্রের আড়ালে ঢাকা পড়ে আছে। (সম্পূর্ণ…)

বাঙালির আবশ্যক-আশ্রয় নজরুল

ফরিদ আহমদ দুলাল | ২৫ মে ২০১৬ ১:৩৯ পূর্বাহ্ন

nazrul-4.jpgবাঙালির কবি নজরুল তাঁর ‘বিদ্রোহী’ কবিতায় সর্বধর্মীয় এবং সর্বমানবীয় যে চেতনাকে নিজের অস্তিত্বের কথা ঘোষণা করেছেন তা কেবল বৈচিত্র্য সৃষ্টিকারীই নয় অভিনবও বটে। নজরুলের সময় ও প্রেক্ষাপট বিবেচনায় যেমন তেমনি সমকালীন বাংলার বাস্তবতা বিবেচনায়ও তাঁর ‘বিদ্রোহী’ বাংলা কাব্যসাহিত্যের এক কালজয়ী কবিতা। একই কবিতায় হিন্দু-পুরাণের অসংখ্য অনুষঙ্গের ব্যবহার যেমন তিনি করেছেন, পাশাপাশি ‘তাজি বোররাক্’, ইস্রাফিলের শিঙ্গা, হাবিয়া দোজখ, জাহান্নামের কথাও উল্লেখ করেছেন, উল্লেখ করেছেন ‘বেদুঈন, চেঙ্গিস, অর্ফিয়াসের’ কথাও। ‘বিদ্রোহী’ কবিতার সাবলীল উপস্থাপন-শৈলীর কথা না বলেও এর শব্দবিন্যাসের সৌন্দর্যে দৃষ্টি দিলে চমৎকৃত হতেই হয়। অন্যদিকে বাঙালির শাশ্বত চেতনার সন্ধানও পাওয়া যায়। বাংলাদেশের গণমানুষের প্রাণের কবি কাজী নজরুল ইসলাম-এর সাহিত্য জীবনের উল্লেখযোগ্য সময় জুড়ে নজরুল তাঁর সমকালীন মানুষের কাছে নানানভাবে সমালোচিত হলেও আজ তিনি সব মহলেই সমাদৃত। কারো মনে নজরুল বিষয়ে বিদ্বেষ থাকলেও তা খুব একটা প্রকাশ্য নয়। শহুরে এলিট শ্রেণির বিচারে নজরুল হয়তো ততটা গ্রাহ্য নন, তবু বিশাল সাধারণ জনগোষ্ঠীর আবেগের মুখে, নিজেদের অস্তিত্ব বিপন্ন হবার আশঙ্কায় তাঁকে অগ্রাহ্য করার স্পর্ধা এলিট শ্রেণির সব সময় থাকে না। সাম্প্রতিক সময়ে আমরা দেখেছি নজরুল সম্পর্কে অনিয়ন্ত্রিত কথা বলে কোন কোন বুদ্ধিজীবী কেমন দুর্বিপাকে পড়েছেন। (সম্পূর্ণ…)

বিউপনিবেশকরণ, জাতীয় মুক্তিসংগ্রাম ও নজরুল

মাসুদুজ্জামান | ২৫ মে ২০১৬ ১:৩৮ পূর্বাহ্ন

nazrul-3.jpg
The construction of colonial discourse is then a complex articulation of the tropes of fetishism – metaphor and metonymy – and the forms of narcissistic and aggressive identification available to the imaginary . . . One has then a repertoire of conflictual positions that constitute the subject in colonial discourse. The taking up of any one position, within a specific discursive form, in a particular historical conjuncture, is then always problematic – the site of both fixity and fantasy.
HOMI BHABA

In the history books the discoverer sets a shod foot on virgin sand, kneels, and the savage also kneels from his bushes in awe. Such images are stamped on the colonial memory, such heresy as the world’s becoming holy from Crusoe’s footprint or the imprint of Columbus’s knee.
DEREK WALCOTT

১৮৯৯ সাল, দুনিয়া জুড়ে টালমাটাল অবস্থা। নতুন এক শতকে প্রবেশ করবে আমাদের পৃথিবী। ইতিমধ্যে ঔপনিবেশিক ইঙ্গ-ফরাসি শক্তি তামাম দুনিয়ায় একচ্ছত্র আধিপত্য বিস্তার করে ফেলেছে। ওই বছরেই ব্রিটিশশাসিত বঙ্গভূমি বর্ধমানের আসানসোলের এক অখ্যাত পাড়াগাঁয়ে ততোধিক এক দরিদ্র পরিবারে ‘মাটির ঘরে’ জন্ম নিল এক শিশু দুখু মিয়া, যার পোশাকি নাম কাজী নজরুল ইসলাম। নজরুলের যে-বছর জন্ম সেই বছরেই দক্ষিণ আফ্রিকায় বেধে যায় ইঙ্গ-বোয়ার যুদ্ধ। প্রকাশিত হয় জোসেফ কনরাডের ‘অন্ধকারের হৃদয়’ বা দ্য হার্ট অব ডার্কনেস আর রাডইয়ার্ড কিপলিঙের ‘শ্বেতাঙ্গ পুরুষের দায়বোধ’ (দ্য হোয়াইট ম্যান্স বারডেন)।
বোয়ার যুদ্ধের অব্যবহতি পরেই উপনিবেশবিরোধী সংগ্রাম জাতীয় স্তর অতিক্রম করে আন্তর্জাতিকতাবাদে উত্তীর্ণ হয়, দেশে দেশে সংগ্রামী বিপ্লবী সংগঠনগুলোর মধ্যে যে নেটওয়ার্ক গড়ে উঠেছিল, তারই প্রভাবে ঘটে যায় এই ভিন্ন ধরনের ভুবনীকরণ। চরম রাজনৈতিক মতাদর্শিক অভিন্ন সম্পর্ক এবং কোনো কোনো ক্ষেত্রে সামরিক সহায়তার সূত্র ধরে দেশে দেশে একসূত্রে বাধা পড়েন বিপ্লবীরা। কৃষ্ণআফ্রিকা, বাদামি এশিয়া আর স্বৈরশাসিত হিস্পানিরা মিলে যে আধুনিকতাবিরোধী বিশ্বায়নের সৃষ্টি করেছিল, সেই বিকেন্দ্রিক উপনিবেশবিরোধী শক্তিই পরে বৈশ্বিক সাম্রাজ্যবাদের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ায়। তবে পশ্চিমী বিশ্বায়নের বিরুদ্ধে এই বিপ্লবীরা সেদিন যতটা একাট্টা হতে পেরেছিল, এখন সেই সংগ্রামের মধ্যে লক্ষ করা যাচ্ছে পথ ও মতের নানা বিভ্রান্তি। বৈশ্বিক সাম্রাজ্যবাদবিরোধিতা আর অভ্যন্তরীণ শ্রেণীসংগ্রামের পরিবর্তে এখন ধর্মই হয়ে উঠেছে সবকিছুর নিয়ামক, নিয়ন্ত্রক। ক্রুসেডীয় উদ্দীপনা নিয়ে বুশের মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ঘোষণা করেছে ‘সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে যুদ্ধ’ আর বিন লাদেন তৎপর রয়েছেন মার্কিনি আধিপত্য খর্বের নামে মানবিক আত্ম-পর হত্যাযজ্ঞে। (সম্পূর্ণ…)

প্রেম ও বিপ্লবের বাঁশিঅলা

পুলক হাসান | ২৪ মে ২০১৬ ১১:৩২ অপরাহ্ন

nazrul-2.jpgকী প্রেমে, কী বিপ্লবে এক অন্তহীন প্রেরণার নাম কবি কাজী নজরুল ইসলাম (১৮৯৯-১৯৭৬)। সেই প্রেরণাকে জারিত করে গেছেন তিনি তাঁর গানে ও কবিতায়। কবিতায় বিপ্লবী চেতনাকে জাগিয়ে তোলার জন্যই তিনি ‘বিদ্রোহী কবি’ নামে সমধিক পরিচিত। তাঁর ‘বিদ্রোহী’ কবিতা তাই সময়োপযোগী এক অমর সৃষ্টি, যা সর্বকালে পরিব্যাপ্ত, গাঙের ঢেউয়ের মতো মানব হৃদয় ও মনে সঞ্চারিত এবং বজ্রের মতো কণ্ঠে উচ্চারিত।
কারার ঐ লৌহ কপাট
ভেঙ্গে ফেল কররে লোপাট।

কিম্বা
শাওন রাতে যদি স্মরণে আসে মোরে
বাহিরে ঝড় বহে, নয়নে বারি ঝরে

তিনি তাই সাহস ও শক্তির এক সার্থক পূজারী। বিপ্লবী চেতনা যদি সাহসের সমাচার, তবে প্রেম সেখানে এক দুর্দমনীয় ঐশ্বরিক শক্তি। তাঁর গান ও কবিতা এই দুই জীবন আধারকে করে গেছে ঐশ্বর্যময় এবং বিপুলভাবে সমৃদ্ধ ও অনুসরণীয়।
শৈশবেই পিতৃমাতৃহীন তাঁর জীবন অধ্যায় চরম দরিদ্রতার মধ্যদিয়ে শুরু। সে-জীবনকে আলোকিত ও ঐশ্বর্যবান করেন তিনি জন্মগত অভাবনীয় এবং প্রকৃত অর্থে ঈর্ষণীয় সৃজনপ্রতিভায়। দূরদর্শী দরিরামপুরের দারোগা তা ঠিকই টের পেয়েছিলেন যে জগৎজুড়ে আলো ছড়াতেই এসেছে এই কিশোর দুখু মিয়া। (সম্পূর্ণ…)

উত্তর-ঔপনিবেশিক তত্ত্বালোচনা ও ঢাকায় নজরুল চর্চার স্বরূপ

মজিদ মাহমুদ | ২৪ মে ২০১৬ ১১:৩১ অপরাহ্ন

nazrul.jpgসাম্প্রতিক সময়ে রাজধানী ঢাকাকেন্দ্রিক উত্তর-ঔপনিবেশিক সাহিত্য-তত্ত্ব আলোচনার ক্ষেত্রে কিছুটা আগ্রহ পরিলক্ষিত হচ্ছে। সেই আগ্রহের অধিকাংশ যে তথ্য ও তত্ত্বকেন্দ্রিক এবং জ্ঞানকাণ্ডিক ঔপনিবেশিকতার মধ্যে সীমায়িত, তা একটু লক্ষ্য করলেই বুঝতে পারা যায়। সেদিক দিয়ে প্রণালীগতভাবে এই চিন্তার ধরনও অনেকটা ঔপনিবেশিক প্রপঞ্চেরই অংশ বলা যায়। দুনিয়ার সকল শোষিত একই যন্ত্রণার অংশিদার হলেও যখন শুধু ইতিহাসের কিংবা কালের প্রতীকায়ন হিসাবে তা হাজির করা হয় তখন স্থানিক ও কালিক বঞ্চনা যে আরো প্রকট হয়ে ওঠে তাতে কোনো সন্দেহ নেই।

ঢাকায় উত্তর-ঔপনিবেশিক সাহিত্যের তত্ত্ব নিয়ে মূলত আলোচনার সূত্রপাত গত শতাব্দির আশির দশকে এ বিষয়ে দুই একটি বিদেশি বই অনুবাদের মাধ্যমে; বিশেষ করে এডওয়ার্ড সাঈদের প্রাচ্যতত্ত্বকে কেন্দ্র করে। যদিও সে আলোচনার আগ্রহের মধ্যেও একটি বিশেষ মানসিকতার প্রকাশ লক্ষ্য করা গেছে, তবু আখেরে এটি বাঙালি-চিন্তার জগতে একটি নতুন সংযোজন আকারে হাজির হয়েছে। তবে উত্তর-উপনিবেশ-তত্ত্ব ও নেগ্রিচুড আন্দোলনের গুরু এইমে সিজায়ের মৃত্যুর পর ২০০৮ সালে এ আলোচনা আরেকটু জোরে-শোরে শুরু হয়। এর আগে তাঁর শিষ্য ফ্রান্জ ফাঁনোর দু’একটি বই বাংলাতে অনুবাদ হলেও খুব একটা সরবতা লক্ষ্য করা যায়নি। সিজায়েরের চেয়ে ফ্রান্জ ফাঁনো এ দেশে একটু আগে পৌঁছানোর কারণ হয়তো মাত্র ছত্রিশ বছর বয়সে উপনিবেশ-বিরোধী এই মনো-চিকিৎসকের মৃত্যু। তাছাড়া এখন পর্যন্ত যেহেতু আমাদের বৈশ্বিক জ্ঞান কিছুটা অনুবাদনির্ভর, সেহেতু যে সকল গ্রন্থ এখনো অনুবাদ হয়নি, তা নিয়ে বেশি লোকের কথা বলা একেবারে সম্ভব নয়। (সম্পূর্ণ…)

কবি নজরুল ও সাম্প্রতিক বাংলাদেশ

মোস্তফা তারিকুল আহসান | ২৪ মে ২০১৬ ১১:৩০ অপরাহ্ন

nazrul-6.jpg১৯৭২ সালের ২৪ মে বাংলা ভাষার অন্যতম সেরা কবিপ্রতিভা কাজি নজরুল ইসলামকে কোলকাতা থেকে ঢাকায় আনা হয়।সদ্য স্বাধীন দেশে চেতনাগত সংকট উত্তরণ ও উজ্জীবনের জন্য তাঁকে আমাদের সত্যিকার অর্থে প্রয়োজন ছিলো। ভারতীয় সরকারের কাছে অনুরোধ করে তৎকালীন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের বিশেষ চেষ্টার ফলশ্রুতিতে কবিকে ঢাকায় আনা সম্ভব হয়। তিনি আর ফিরে যান নি বা ভারত সরকার তাঁকে আর ফেরৎ চান নি। তিনি বাংলাদেশর জাতীয় কবি হিসেবে স্বীকৃতি পান। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় তাঁকে সম্মানসূচক ডিলিট উপাধিতে ভূষিত করে এবং তাঁকে একুশে পদকে ভুষিত করা হয় যা বাংলাদেশের অন্যতম শ্রেষ্ঠ রাষ্ট্রীয় সম্মান।তাঁকে তার ইচ্ছে মতো মসজিদের পাশে আমার কবর দিয়েছি। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চত্বরে মসজিদের পাশে তিনি শায়িত আছেন। এই সব তথ্য অনেকের জানা। অসুস্থ কবিকে ঢাকায় আনার মধ্য দিয়ে একটি স্বাধীন দেশের কী উদ্দেশ্য সফল হয়েছিল তা নিয়ে দুর্জনেরা তর্ক করতে পারেন। কবির কাছের মানুষেরাও চাননি কবি পশ্চিমবঙ্গ থেকে বাংলাদেশে গিয়ে থাকুন। তবু এই কবি বাংলাদেশে খুব আদর যত্নে মানে সম্মানে বেঁচে ছিলেন ১৯৭৬ সাল পর্যন্ত। প্রশ্ন জাগে মনে প্রায় অর্ধমৃত এই কবিকে নিয়ে আমাদের যে জাতীয় লক্ষ্য ছিলো তা কী পূরণ হয়েছে? কবির মর্যাদা কী আমরা দিতে পেরেছি প্রকৃত অর্থে? তার দর্শন আদর্শ প্রতিভার আলো কী আমরা এই জাতির কাছে উপস্থাপিত করতে পেরেছি? (সম্পূর্ণ…)

সীমানা-ভাঙা চিত্রশিল্পী মারিসলের প্রয়াণ

জাকিয়া সুলতানা | ২১ মে ২০১৬ ১১:৪৮ অপরাহ্ন

marisol.jpg
নিজের শিল্পকর্মের সামনে মারিসল
চিত্রকলার জগতে শুধু মারিসল নামেই তিনি পরিচিত, পুরো নাম মারিসল এস্কোবের। পিতৃভূমি বেনেসুয়েলা হলেও তিনি জন্মেছিলেন প্যারিসে। শিল্পী হিসেবে আমেরিকায় পপ, অপ আন্দোলনের সময় তার উত্থান হলেও ছিলেন শৈল্পিক স্বাতন্ত্র্যের কারণে উভয় গোষ্ঠী থেকে অনেকটাই আলাদা। ১৯৬৫ সালে দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমস মারিসলের এই স্বাতন্ত্র্যকে “‘Not Pop, Not Op, It’s Marisol!’ শিরোনামে প্রকাশিত এক নিবন্ধে স্বীকৃতি জানাতে ভুল করেনি। জীবদ্দশায় তুমুল জনপ্রিয় এই শিল্পীর জন্মদিনটি ছিল তার মৃত্যুরই পরের মাসে, অর্থাৎ ২২ মে। প্রতিভাবান এই শিল্পীর মৃত্যুর পরপরই ২ মে দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমস-এ উইলিয়াম গ্রাইমস তাকে নিয়ে যে নিবন্ধটি লেখেন, জাকিয়া সুলতানার অনুবাদে সেটি এখানে প্রকাশ করা হলো। বি. স. (সম্পূর্ণ…)

শুভ বুদ্ধ পূর্ণিমা ও বুদ্ধের ধর্ম আত্মশরণের

ভিক্ষু সুনন্দপ্রিয় | ২১ মে ২০১৬ ১২:২৪ অপরাহ্ন

gautama.jpgশুভ বুদ্ধ পূর্ণিমা বৌদ্ধদের একটি পুণ্যময় তিথি; তাৎপর্যমণ্ডিত দিন। এই দিনে বিশ্বের সর্বশ্রেষ্ঠ মহামানব গৌতম বুদ্ধ বিশাখা নক্ষত্রে বৈশাখের পুণ্যালোকে জন্মগ্রহণ করেছিলেন। সিদ্ধার্থ গৌতমের পিতা ছিলেন শাক্যবংশের রাজা শুদ্ধোধন। মাতা ছিলেন রাণী মহামায়া। হিমালয়ের পাদদেশে নেপালের শাক্যদের রাজধানী ছিল কপিলাবস্তু। সিদ্ধার্থ গৌতমের মাতৃদেবী রাণী মহামায়া পিত্রালয়ে যাওয়ার পথে কপিলাবস্তু হতে কয়েক মাইল দূরে লুম্বিনী কাননে বৈশাখী পূর্ণিমার দিনে রাজকুমার সিদ্ধার্থ জন্মগ্রহণ করেছিলেন।

সিদ্ধার্থ গৌতম রাজকীয় ঐশ্বর্যের মধ্যে লালিত পালিত হলেও বাল্যকাল থেকে তিনি জগত-সংসার সম্পর্কে চিন্তা করতেন। রাজা শুদ্ধোধন তাঁর বৈরাগ্যভাব দেখে সংসারের প্রতি আকৃষ্ট করার জন্য যশোধরা নাম্নী এক অনুপম সুন্দরীর সঙ্গে উনিশ বছর বয়সে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ করান। সংসারের দুঃখ-কষ্ট যাতে সিদ্ধার্থের দৃষ্টিগোচর না হয় তার সব ব্যবস্থা করলেন। কিন্তু জীবনে যে দুঃখ সত্য তা সংসারে আবদ্ধ হয়ে সিদ্ধার্থ উপলব্ধি করলেন। মানুষের জীবনে জরা, ব্যাধি, মরণ কেন হয় তা সিদ্ধার্থ গৌতমকে গভীরভাবে ভাবিয়ে তুলল। পুত্র রাহুলের জন্মের পরই সিদ্ধার্থ আষাঢ়ী পূর্ণিমা তিথিতে রাজসিংহাসন, ভোগঐশ্বর্য সমস্ত কিছু ত্যাগ করে সংসার বন্ধন ছিন্ন করে সত্যের অন্বেষণে বেরিয়ে পড়লেন। (সম্পূর্ণ…)