খান রুহুল রুবেলের একগুচ্ছ কবিতা

খান রুহুল রুবেল | ২৯ জুন ২০১৬ ১০:৫৭ পূর্বাহ্ন

অরণ্যভ্রান্তির দিকে

অরণ্যভ্রান্তির ঠিক নিচে, তুমি খুলে ফেলো হে নাবিক,
তোমার নিবিড় টুপি,তার্পিন, এরপর কাঠের সীমানা,
কিছু পরে কুঠারের দিন এইদিকে শুরু হয়ে গেছে।
ডেকে উঠছে পাথর, তার মোম, এ শীতে জরজর
শ্বাপদ অক্ষম হিংসা হাতে হেঁটে গেল কিছু দূর,
তাকে পেয়ো না ভয়, বরং তোমার আশ্রয়, ময়ুরের-
স্বভাবের কাছে রয়ে গেছে, তাকে দিও কিছু অনুমান,
কাঠের গন্ধের নিকটে, জাহাজের কোন ঋণ আছে কিনা,
সেই কথা জিজ্ঞেস করো, তারপর দেখো তোমার লবণ-
ঘিরে কি করে পাতারা বসে প্রার্থনায়, জানায় আর বেশী
বাকী নেই ক্ষমা, রাতের প্রবারণা শেষ হয়ে এল, চলো-
কুঠারের নিকটে যাই, ডেকে আনি কুঠারের হাসি।
এই ধ্যানে নত হল কাকাতুয়া, বিজড়িত ঠোঁটে,
হাহা শব্দে হেসে উঠল কুঠার, যেভাবে চিতারা ছোটে
সহসা রাশি রাশি শবদেহ, সুগন্ধে তোমাকে ডেকেছে,
কাঠের অনেক আগে, কাঠুরিয়া মরে পড়ে আছে!
অরণ্যভ্রান্তির ঠিক নিচে,তুমি খুলে ফেলো হে নাবিক,
তোমার নিবিড় টুপি, তার্পিন, এরপর কাঠের কামনা,
কিছু পরে কুঠারের দিন এইদিকে শেষ হয়ে গেছে।
(সম্পূর্ণ…)

কেন নয়ন আপনি ভেসে যায়

সনৎকুমার সাহা | ২৭ জুন ২০১৬ ১০:০৪ অপরাহ্ন

Ramaমেয়েটিকে চিনি। জানি বলতে পারি না, ওরা থাকত অন্য পাড়ায়। মা বিশ্ববিদ্যালয়ে সমাজ বিজ্ঞানের অধ্যাপক। অধ্যাপক আলী আনোয়ার (নাম মনে পড়লে এখনও ব্যথা বুক ঠেলে ওঠে), সহধর্মিনী বেগম হোসনে আরা, হাসান আজিজুল হক, আবুল ফজল হক, নাজিম মাহমুদ (বিপন্ন আক্ষেপে মন তোলপাড় করে), সুব্রত মজুমদার, মাসতুরা খানম, শাহানারা ও এবিএম হোসেন, এঁরা ছিলেন তাঁর প্রতিবেশী। আরো অনেকে ছিলেন। কিন্তু মনে হতো, এঁদের পরিবারের ছানা-পোনারা ওরা এক ঝাঁকের পাখি। আমার একটু দূর থেকে দেখা। ভালো লাগতো। এই মেয়েটি, কল্যানী রমা এখন আমেরিকার উইস্কনব্রিজে নামী প্রতিষ্ঠানে সফ্ট্ ওয়্যার ইঞ্জিনীয়র। পতি দেবতাও একই রকম। দুজনের বিষয় একই কি না, জানি না, তাকে দেখিনি। খুব যে কৌতূহল জেগেছে, তাও না। জেনেছি ওরা ভালো আছে। নিশ্চিন্ত থেকেছি। এই পর্যন্ত। রমার ছোট বোন শ্যানা। সুলক্ষনা শ্যামা। ওও দিদির মত ঘর সংসার করছে আমেরিকায়। তার কথাও দু-একবার আসবে। দিদিরই সূত্রে।
আর ওদের মা ঝর্ণা। ডক্টর ঝর্ণা নাথ। নিঃশব্দে, চলায়-বলায় এতটুকু উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা না ফুটিয়ে আত্মমর্যাদা অক্ষুন্ন রেখে অমন মর্মান্তিক আঘাত, অত দুঃখে অবিচল-কাউকে বয়ে যেতে খুব কম দেখেছি। সংসারের শত ঝক্কি, সব সামলেছেন, বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ানো, পড়াশোনা, কোথাও মনোযোগের কমতি নেই, যখন বুঝেছেন, তাগিদ অন্যখানে, এবং তা প্রতিদিন প্রতিমুহূর্তের, তখনও গভীর নিষ্ঠায় জ্ঞান চর্চার সময় বের করে নিয়েছেন। গভীর গভীর গভীর ক্ষত আড়ালে থেকেছে। (সম্পূর্ণ…)

পত্রিকাসাধক মীজানুর রহমান: মৃত্যুদিনের স্মরণ

আহমাদ মাযহার | ২৬ জুন ২০১৬ ৭:১৭ অপরাহ্ন

Mizanআমাদের সমাজে কোনো সৃজনশীল কাজের সমাদর করার জন্য মোটামুটিভাবে একটাই স্বীকৃত উপায় পুরস্কার দেয়া বা সংবর্ধনা জানানো। হ্যাঁ, এতে একধরনের গুণগ্রহিতার পরিচয় দেয়া হয় ঠিকই কিন্তু তা-ই সম্পন্ন নয়। কোনো সৃজনশীল মানুষের কাজ যদি অস্তিত্বশীল থাকে তাহলে তার সেই কাজের প্রভাব ও প্রতিক্রিয়ার ছাপ সমাজে পড়ার মধ্যেই সেই কাজের মূল্য। কিন্তু এভাবে মূল্য দিতে এখন আর আমাদের সমাজে স্পষ্টভাবে দেখা যায় না। তা না-হলে এখনই মীজানুর রহমানের বিস্মৃত হয়ে পড়ার কথা নয়! অবশ্য মীজানুর রহমানের বিস্মৃতিতে যাওয়ার পেছনে তাঁর নিভৃতিপরায়ণতা যে কিছুটা দায়ী নয় তা নয়! অথবা বলা যেতে পারে সাধকের সাধনা তো নিভৃতেই চলে। সুতরাং মীজানুর রহমানের সাধনার অনুসরণ না-হয় অন্য সাধকেরও অনুসরণীয় হয়ে থাকুক একই রকম নিভৃতিতেই!


যৌবনের অন্তে পৌঁছে মানুষ যখন আয়োজন করতে থাকে অবসর গ্রহণের সেই সময় মীজানুর রহমান এসেছিলেন সাহিত্য পত্রিকা প্রকাশের বাসনা নিয়ে। সম্পাদকের নামেই পত্রিকার নাম। কারণ ‘সম্পাদক-সর্বস্ব’ একটি পত্রিকা ছিল মীজানুর রহমানের পত্রিকা। ‘সম্পাদক-সর্বস্ব’ কথাটির মধ্যে একটু কটুভাব আছে। মনে হতে পারে শ্লেষ করা হচ্ছে কথাটির মধ্য দিয়ে। কিন্তু অনেক সময় এমন হয় যে শ্লেষটাই হয়ে-ওঠে যথার্থ অভিধা। কারণ কী ছিলেন না মীজানুর রহমান তাঁর পত্রিকাটির। তিনি নিজে যেমন ছিলেন পরিকল্পক তেমনই ছিলেন লেখা সংগ্রাহক, প্রুফ-সংশোধক, একাউন্টেন্ট বা পিয়ন, চা পরিবেশনকারী বা পরিচ্ছন্নকর্মী, কুলি কিংবা কর্মাধ্যক্ষ বা চিত্রশিল্পী কোন দায়িত্বটি তিনি পালন করেন নি! সুতরাং এমন একব্যক্তিসর্বস্ব একটি পত্রিকার নাম তো সেই ব্যক্তির নামেই হতে হবে! (সম্পূর্ণ…)

জয়তু জননী

নওশাদ জামিল | ২৬ জুন ২০১৬ ১:২০ অপরাহ্ন

01শাহবাগ আন্দোলনের আনুষ্ঠানিকতার শুরু হয়েছিল মোমবাতি প্রজ্জ্বলনের মধ্য দিয়ে। একদিন ঘোরলাগা সন্ধ্যায় শাহবাগ চত্বরে জ্বলে উঠেছিল শত শত মোমবাতি–তারপর দাবানলের মতো সেই আলো ছড়িয়ে পড়েছিল গোটা দেশময়। শুধু বাংলাদেশ নয়, পৃথিবীর নানা প্রান্তে বাংলা ভাষাভাষির হৃদয়ে ছড়িয়ে পড়েছিল দীপশিখা। শাহবাগ আন্দোলনের ঢেউ, তার প্রভাব, ব্যাপ্তি, উত্থান-পতন নিয়ে নানা গবেষণা হবে। লেখা হবে নানা ঐতিহাসিক গ্রন্থ। আমার কেবলই মনে হয়, ইতিহাসের শুরুটা হবে শাহবাগ থেকে নয়, সোহরাওয়ার্দী উদ্যান থেকে। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান স্বাধীন দেশে ফিরে এই সোহরাওয়ার্দী উদ্যানেই বলেছিলেন, বাংলার মাটিতে যুদ্ধাপরাধীদের বিচার হবেই। অনেক বছর পরে সেই সোহরাওয়ার্দী উদ্যানেই যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের দাবিতে গড়ে উঠেছিল তুমুল গণআন্দোলন। আর সেই আন্দোলনের প্রধান মানুষটি ছিলেন শহীদ জননী জাহানারা ইমাম। খানিকটা তলিয়ে ভাবলেই টের পাওয়া যায় শাহবাগে লাখো মানুষের হৃদয়ে, সারাদেশের কোটি মানুষের মানসপটে প্রতিবাদের দীপ প্রজ্জ্বলন করেছিলেন তিনিই। (সম্পূর্ণ…)

ফারজানা হায়দার চৌধুরীর পাঁচটি কবিতা

ফারজানা হায়দার চৌধুরী | ২৫ জুন ২০১৬ ৮:১৩ অপরাহ্ন


ধ্রুবতারা

রক্তে রক্ত মিশে তৈরি হচ্ছে ‘ডেড সি’
লবণের ভিড়ে প্রানি-উদ্ভিদ অসহায়—
বাড়ছে ব্যাপকতা বাড়ছে গভীরতা
লাইব্রেরির বইয়ের বাধাই আজ ঢিলেঢালা;
টিভি সিরিয়ালে নতনত্ব যে নেই
ভালোবাসা গেছে শীতনিদ্রাতে!
হাসনাহেনা হারিয়েছে সুবাস
ফণীমনসার চাহিদা বেড়েছে
সাকুলেন্টস কারও রুচিতে স্থান পাচ্ছে না
শামুক গুটিয়ে থাকছে নিজ খোলে;
আবর্জনা এখনও ডাস্টবিনে পাই না
বিষবৃক্ষ তৈরি করছে ক্ষত এবং পুঁজ।
একই আকাশতলে প্রেমিক-প্রেমিকার বাস
বিরহের আগুন প্রতিটি প্রাণে
ভুল বোঝাবুঝি আর অভিমানে জটিলতা শুধুই বাড়ছে
সুতীক্ষ্ণ চিৎকারে ভাঙনের সুর;
ভাঙনের ছোঁয়ায় পরিবারে উত্তাল ঢেউ—
মেকি কান্নার মেঘে ঢাকা পড়েছে আকাশের ধ্রুবতারা! (সম্পূর্ণ…)

আকাশের ঠিকানায় রুদ্রর রৌদ্রকরোজ্জ্বল প্রস্থান

ফারুক মঈনউদ্দীন | ২৩ জুন ২০১৬ ৮:২৪ অপরাহ্ন

অনেক দুঃখ আর অতৃপ্তি নিয়ে চলে গিয়েছিল রুদ্র। ‘বুকের ভেতর গাঢ় পরবাস নিয়ে, হাড়ের ভেতর এক অন্ধকার নিয়ে’ ওকে চলে যেতে হলো বড় অসময়ে, অথচ জাতির পতাকা খামচে ধরা সেই পুরনো শকুনেরা রয়ে যায়। রুদ্র নগরের ‘রুখো গ্রাস থেকে’ সেই গ্রামখানি ‘দুধভাত রূপশালি ধান’ কেড়ে নিতে চেয়েছিল, তবুও ওর ‘আঙুলের ফাঁক গলে নেমে যায় বাসনার জল’ দেখতে দেখতে চলে গেল ও।
border=0বড়ো সাধ করে সংসার গড়েছিল রুদ্র– ভেঙে গেল। আর্থিক স্বচ্ছলতার জন্য লোনা পানির দেশে চিংড়ি মাছের ব্যবসা ধরেছিল– রাখতে পারেনি। একজন কবির পক্ষে কি সম্ভব ভুঁড়িওয়ালা মহাজনের মতো করে রফতানিকারকের হাতের মুঠো গলিয়ে ডলার ভাঙানো টাকা আদায় করে আনা? অন্তত রুদ্রর পক্ষে কি সম্ভব ছিল ভূমি হারানো নিঃস্ব কৃষকের বুকে পা দিয়ে চিংড়ি ব্যবসার মধ্যস্বত্ব ভোগ করা? শেষে রুদ্র নিজেই নিকিরি হয়ে যেতে চেয়েছিল, পারেনি। ও কি বুঝতে পেরেছিল সম্বৎসর খাদ্যাভাবের দেশে ধানী জমিকে চিংড়ির ঘের বানিয়ে যে ডলার আমদানি হয়, তার এক কানাকড়িও জমি হারানো একদা প্রান্তিক কৃষকটির কল্যাণের জন্য ব্যয়িত হয় না? বুঝতে না পারার কোনো কারণ নেই। রুদ্র কি তাই আবার ফিরে এসেছিল শহরে, সেই পুরনো পরিচিত শাহবাগে, টিএসসিতে, রথখোলায় অথবা সাকুরায়? এই ‘প্রত্যাবর্তনের লজ্জা’ ওর ছিল না। রুদ্র তো নিজেই ভবিষ্যদ্বাণী করেছিল, ‘সব কথা ফুরোলো না, চোখ ভরে সব দ্যাখা হলোনাকো দ্যাখা,/ আশ্বিনের মেঘের মতোন ঝরে গেল চোখের পলকে সব/ আকাংখার জল, গেল শিশিরের মতো ঝরে গহিন খোয়াব।/ সব কথা ফুরোলো না, হৃদয়ের সব তৃষ্ণা হলোনাকো লেখা।’ (সম্পূর্ণ…)

সাম্প্রতিক বিশ্বসাহিত্য: বিদায় রাবাসা, অজানা কাফকা ও শিল্পকর্মের উল্টোপিঠ

বিপাশা চক্রবর্তী | ২২ জুন ২০১৬ ৪:১২ অপরাহ্ন


বিদায় রাবাসা

rabasa.jpg
বিদায় নিলেন গ্রেগরি রাবাসা। গত ১৩ জুন যুক্তরাষ্ট্রের ব্রানফোর্ড, কানেকটিকাট-এ ৯৪ বছর বয়সে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করলেন এই কিংবদন্তীতুল্য অনুবাদক। “ইংরেজী ভাষায় ল্যাতিন আমেরিকার শ্রেষ্ঠ লেখক”-এই বলে যাকে একদিন ঘোষণা করেছিলেন গ্যাব্রিয়াল গার্সিয়া মার্কেস। আর করবেনই না বা কেন? সারা পৃথিবী জুড়ে মার্কেসের ব্যাপক জনপ্রিয়তা আর পরিচিতির অনেকটা ভাগীদার গ্রেগরি রাবাসা। তিনিই প্রথম মার্কেসের জাদুবাস্তবতার অনন্য আখ্যান নিঃসঙ্গতার একশ বছরকে ইংরেজী ভাষায় অনুবাদ করে সারা পৃথিবীর জন্য উন্মুক্ত করে দেন। ১৯৬৭ সালে প্রথম প্রকাশের তিনবছর পর ইংরেজী অনুবাদ প্রকাশিত হয় আর সঙ্গে সঙ্গেই প্রচন্ড জনপ্রিয়তা পায়, যা পায়নি স্প্যানিশ ভাষায় প্রথম প্রকাশের পর। অনুবাদকে রাবাসা এমন এক উন্নত পর্যায় নিয়ে যান যার ফলে নিঃসঙ্গতার একশ বছর-এর অনুবাদ গ্রন্থটি প্রসঙ্গে মার্কেস প্রায়ই প্রশংসা করে বলতেন, “এই অনুবাদের নিজস্ব শৈল্পিক সত্ত্বা আছে, ও নিজেই একটি শিল্প ”। গ্রন্থটি আজ বিংশ শতকের সাহিত্যের ইতিহাসে অন্যতম একটি কীর্তিস্বম্ভ হিসেবে বিবেচিত। (সম্পূর্ণ…)

গুণ-বন্দনা

মুহম্মদ নূরুল হুদা | ২১ জুন ২০১৬ ৮:১৫ অপরাহ্ন

nirmalendu.jpgকাশবনে
কাশশাদা
কবি তিনি
সবার দাদা
নির্মলেন্দু গুণ
প্রকাশিত
হলেন যখন,
হাতে তখন
অবাক
কাব্য-তূণ।
দেশজয়ী আর
বিশ্বজয়ী
সেই কবি আজ
বাহাত্তুরে, (সম্পূর্ণ…)

উপেক্ষিত কাভাফির অর্জুন ও আমরা

রাজু আলাউদ্দিন | ২১ জুন ২০১৬ ১:৩৯ পূর্বাহ্ন

cavafy2.jpgসি. পি. কাভাফির কবিতার সঙ্গে আমার লিপ্ততা দিয়েই লেখাটা শুরু করছি বলে মার্জনা করবেন, তবে এই উল্লেখ অপ্রাসঙ্গিক হবে না বলেই ব্যক্তিগত অবতারণা। সি. পি কাভাফির কবিতা শীর্ষক একটা অনুবাদ গ্রন্থ বেরিয়েছিল ১৯৯২ সালে, তার মানে গ্রন্থভুক্ত কবিতাগুলো অনূদিত হয়েছিলো আরও অন্তত দুএক বছর আগে। তখনও পর্যন্ত কাভাফির কোন কবিতার তর্জমা-গ্রন্থ বাংলাভাষায় প্রকাশিত হয়নি। গ্রীক চিরায়ত সাহিত্যের প্রতি আমাদের প্রধান লেখক-অনুবাদকরা মনোযোগী হলেও, আধুনিক গ্রীক সাহিত্যের প্রতি তারা খুব বেশি উৎসাহী ছিলেন বলে কোনো নজির পাওয়া যায় না। অথচ আধুনিক যুগের দুজন গ্রীক কবি, জর্জ সেফেরিস ও ওডেসিয়ুস এলিটিস নোবেল পুরস্কারে ভূষিত হওয়া সত্ত্বেও এই ভাষার কবিতা সম্পর্কে আমাদের কৌতূহল খুব একটা দানা বাঁধেনি। সত্য বটে জর্জ সেফেরিসের নির্বাচিত কবিতা শিরোনামে প্রয়াত শিশির কুমার দাশের একটি অনুবাদ গ্রন্থ বেরিয়েছিল নব্বুইয়ের দশকের প্রথম দিকে বোধহয়। কিন্তু এলিটিসের বাংলা তর্জমা বোধ হয় এখনও পর্যন্ত প্রকাশিত হয়নি। হয়েছে কি? সেফেরিস এবং এলিটিসেরও পূর্বসূরী কাভাফি, যিনি মৌলিকতায় ও কাব্যিক গুরুত্বে আরও বেশি শীর্ষ পর্যায়ের, তার কবিতার ব্যাপারে আমাদের দীর্ঘ নিরবতাকে আমার কাছে খানিকটা অস্বাভাবিক মনে হয়েছিল তখন। ঐ নিরবতার পুকুরে আমার বইটি ছিল একটি বুদবুদ মাত্র। আমি ধরে নিয়েছিলাম পরে কেউ যোগ্য হাতে কাভাফির কবিতা অনুবাদ করবেন, করেছেনও দেখলাম। ১৯৯৭ সালে পুস্কর দাশগুপ্ত মূল থেকে অনুবাদ করেছেন। কিন্তু তিনি অনুবাদ করার পরেও কেন আমি আবার কাভাফির ‘চিরন্তন’ (নিচে দেখুন) কবিতাটি অনুবাদ করছি? প্রথম কথা হলো, এই কবিতাটি তিনি অনুবাদ করেননি। কেন করেননি জানি না। এর কোনো হদিস কি আগে জানা ছিল না? মনে হয় জানা ছিল না কারোরই। এই কবিতাটি, কাভাফির ইংরেজিতে যেসব অনুবাদ গ্রন্থ সহজলভ্য–জন মাভরোগর্দাতো, এডমান্ড কিলি, ফিলিপ শেরার্ড বা রায়ে ডালভেনের অনুবাদে এটি অন্তর্ভুক্ত হয়নি। কবিতাটির হদিস পাওয়া গেল ২০১২ সালে প্রকাশিত ড্যানিয়েল ম্যান্ডেলসন-এর Complete poems by C. P. Cavafy নামক গ্রন্থে। (সম্পূর্ণ…)

স্টিফেন হকিং: ‘ব্ল্যাক হোল থেকেও পদার্থ বেরিয়ে আসতে পারে’

অরণি সেমন্তি খান | ১৭ জুন ২০১৬ ৯:৩৩ অপরাহ্ন

s-h.jpgপদার্থবিজ্ঞানের জীবন্ত কিংবদন্তী স্টিফেন হকিং মহাবিশ্ব, ব্ল্যাকহোলের অস্তিত্ব এবং এদের মধ্যকার আন্তঃসম্পর্ক নিয়ে দিয়েছিলেন ‘রেইথ লেকচার’। বিবিসি’র রেডিও ফোর’কে গত বছর দেয়া এ বক্তৃতার অনুলিপি এ বছরের ২৬ জানুয়ারি থেকে প্রকাশ করে বিবিসি। দুই খন্ডের সেই অনুলিপি বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের জন্য অনুবাদ করেছেন অরণি সেমন্তি খান।

রেইথ লেকচার: ১

আমার বক্তৃতা ব্ল্যাক হোল নিয়ে। কথায় আছে, কিছু সত্য কল্পনার চেয়েও অদ্ভুত। আর এই কথাটি ব্ল্যাক হোলের ক্ষেত্রেই মানানসই।
যদিও ব্ল্যাক হোলের ধারণাটি বৈজ্ঞানিক কল্পকাহিনী থেকেও আশ্চর্যজনক, এটি দৃঢ়ভাবে বৈজ্ঞানিক। নক্ষত্র নিজেদের মহাকর্ষের বলে নিজেরাই সংকুচিত হয় এবং এর ফলে সৃষ্ট বস্তুটির প্রকৃতি কেমন হবে, এই বিষয়টি বৈজ্ঞানিক সমাজ উপলব্ধি করতে অনেক সময় নিয়েছে।
১৯৩৯ সালে প্রকাশিত একটি গবেষণাপত্রে আলবার্ট আইনস্টাইন দাবি করেন – যেহেতু পদার্থ একটি নির্দিষ্ট সীমার বাইরে সংকুচিত করা যায় না, তাই নক্ষত্র নিজ মহাকর্ষ বলে সংকুচিত হতে পারে না। বহু বিজ্ঞানী তাঁর এই কথায় একমত হয়েছিলেন।
তবে একজন আমেরিকান বিজ্ঞানী সেই দলে ছিলেন না এবং তাকেই বলা যায় ব্ল্যাক হোল গল্পের পথিকৃৎ । ৫০ এবং ৬০ এর দশকে তাঁর গবেষণার কাজে তিনি গুরুত্বারোপ করেছেন নক্ষত্রের সংকোচন এবং এ সংক্রান্ত তাত্ত্বিক পদার্থবিজ্ঞানের সমস্যাগুলোর উপর। এছাড়াও তিনি নক্ষত্রের সংকোচনের ফলে সৃষ্ট ব্ল্যাক হোলের বেশ কিছু বৈশিষ্ট্য সম্পর্কে ধারণা পোষণ করেছিলেন।
একটি সাধারণ নক্ষত্র তার সহস্র বছরের জীবনকালে তাপীয় বহির্মুখী চাপের সহায়তায় নিজের মহাকর্ষের বিপরীতে নিজেকে বজায় রাখে। এই চাপ উৎপন্ন হয় হাইড্রোজেনকে হিলিয়ামে রূপান্তর করার পারমাণবিক প্রক্রিয়ায়।
ধীরে ধীরে নক্ষত্রের এই জ্বালানী শেষ হয়ে যায়। তারপর সে সংকুচিত হয়। কিছু ক্ষেত্রে নক্ষত্রটি একটি শ্বেত বামন হিসেবে নিজের অস্তিত্ব বজায় রাখে।
তবে ১৯৩০ সালে সুব্রামানিয়ান চন্দ্রশেখর দেখিয়েছিলেন, একটি শ্বেত বামনের সর্বোচ্চ ভর হতে পারে আমাদের সূর্যের ভরের ১.৪ গুন।
এছাড়াও একজন সোভিয়েত বিজ্ঞানী লেভ লান্দাউ নিউট্রন দ্বারা নির্মিত একটি নক্ষত্রের জন্য একই ধরণের সর্বোচ্চ ভরের সীমারেখা গণনা করেছিলেন।
তাহলে পারমাণবিক জ্বালানী শেষ হয়ে গেলে সেসব অসংখ্য নক্ষত্রের কি পরিণতি হবে, যাদের ভর শ্বেত বামন বা নিউট্রন নক্ষত্রের চাইতে অধিক?
এই প্রশ্নের উত্তর নিয়েই গবেষণা করেছিলেন অ্যাটম বোমার জনক হিসেবে খ্যাত রবার্ট ওপেনহাইমার। জর্জ ভল্কফ এবং হার্টল্যান্ড স্নাইডারের সঙ্গে ১৯৩৯ সালের কিছু গবেষণাপত্র তিনি উল্লেখ করেছিলেন যে এমন একটি নক্ষত্র বহির্মুখী তাপীয় চাপ দিয়ে অস্তিত্ব বজায় রাখতে পারবে না। এই চাপ বাদ দিলে, একটি সুষম গোলীয় নক্ষত্র অসীম ঘনত্বের একটি বিন্দুতে সংকুচিত হয়। এই বিন্দুকে বলা হয় সিঙ্গুলারিটি। (সম্পূর্ণ…)

এশাহাক মণ্ডল এবং তাঁর আব্বার সাথে গল্প

আশরাফ জুয়েল | ১৬ জুন ২০১৬ ৫:২২ অপরাহ্ন

বাবা নিয়ে আমার স্মৃতি সদ্য টাইফয়েড রোগ থেকে সেরে ওঠা রোগীদের মতোই দুর্বল। চেরাগের আলোয় খুঁজে দেখতে গেলে কিছু একটা রেটিনা বরাবর স্থির হতেই চেরাগ নিজেকে নিভিয়ে ফ্যালে। কেন? জানি না। তারপর সেই স্মৃতি হাতড়াতে থাকা নিউরনগুলো মাথা ঘুরে পড়ে যায় আকাশ খুঁজে না পাওয়া ঘুড়ির মতো।
ঘুড়ির কথা যখন এসেই গ্যালো, তাহলে ঘুড়ি থেকেই আরম্ভ করা যাক – আমি তখন ক্লাস থ্রি-র দাঁত মেজে চলেছি। আমরা থাকি মণ্ডমালা নামের লাল মাটির ফাঁকা, ছিমছাম একটা গ্রামে। গ্রামটা দেখতে হঠাৎ বড় হয়ে ওঠা ফ্রক দিয়ে হাফপ্যান্ট ঢাকা কিশোরীর মতো। লোভ জাগানিয়া। খেলাধুলা বলতে ছোঁয়াছুঁয়ি, অবাধ পুকুরে চোখলাল করা সাঁতার এবং সাঁতারে পারদর্শী হবার জন্য পানি পোকা আর ছোট্ট জ্যান্ত চিংড়ি গিলে ফেলা।
images.jpgঘুড়ি প্রসঙ্গে ফিরে আসা যাক। এর আগে পরিষ্কার করে দেয়া ভালো যে আমরা বাবাকে বাবা বলতাম না। বলতাম আব্বা বলে। আরেকটা কথা, আমার সন্তানেরা কিন্তু আমাকে আব্বা বলে না। ওরা আমাকে বলে বাবা। তো ঘুড়ি ওড়ানোর কৌশল রপ্ত করতে আমি তখন মহা ব্যস্ত। সুতো, নাটাই, ঘুড়ি, আকাশ প্রস্তুত কিন্তু ঘুড়ি আর ওড়ে না। আমি নাটাই হাতে কিছু দুরে, আমার সহযোদ্ধা আকতারি প্রস্তুত – আকাশ একটু নড়ে চড়ে উঠলেই আকতারি ঘুড়িটাকে ধাক্কা মারত আকাশের দিকে, আমি উল্টো দিকে দেই ভৌ দৌড়। কিন্তু ঘুড়িটা আমার আর আমার সহযোদ্ধা আকতারির দিকে ভ্রুকুটি মেরে একটা হাসি দিয়ে নীচে নেমে আসতো। এভাবে ঘুড়ি ওড়ানোর তোড়জোড় ধিমিয়ে আসার আগেই একদিন বাবা, না না আব্বা হাল ধরলেন। আমাকে ডেকে বললেন, ‘ব্যাটা ঘুড়ি ওড়াতে গেলে মনের ভেতর পাখা লাগাতে হবে, বুঝেছ?’ এমনিতেই আব্বা আমাকে তুই করেই ডাকতেন। বিশেষ বিশেষ মুহূর্তে তুমি বলতেন। আব্বার কথাটা আমি কিন্তু ধরতে পারিনি সেদিন। যাই হোক আব্বা একদিনেই আমাকে ঘুড়ি ওড়ানোর কৌশল শিখিয়ে দিলেন। সম্ভবত মনের ভেতর পাখা লাগানোর কৌশলও। আমি কিন্তু আব্বাকে আপনি করেই ডাকি। প্রসঙ্গত বলে রাখা ভালো আমার সন্তানেরা আমাকে তুমি বলে, আমিও তাদের ডাকি তুমি বলে। মাঝে মাঝে ব্যত্যয় ঘটে। আমি রেগে গেলে আমার সন্তানদের তুই বলি হটাৎ হঠাৎ।আমার ছেলে ইদানীং মাঝে মাঝে আমাকে ডাকে, হেই ম্যান! (সম্পূর্ণ…)

গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস: নিঃসঙ্গতার একশ বছর

আনিসুজ্জামান | ১৫ জুন ২০১৬ ১০:১৪ পূর্বাহ্ন

combo.jpgবিশ্বসাহিত্যের ইতিহাসে নিঃসঙ্গতার একশ বছর-এর মতো আর কোনো উপন্যাস প্রকাশের পরপরই এতটা পাঠকপ্রিয়তা পেয়েছে কিনা সন্দেহ। জনপ্রিয়তার বিচারে যেমন, তেমনি শিল্পকুশলতা আর শিল্পমুক্তির ক্ষেত্রেও এটি হয়ে উঠেছে এক অনন্য দৃষ্টান্ত। কেবল স্প্যানিশ সাহিত্যেই নয়, গোটা বিশ্বসাহিত্যের ইতিহাসেই একটি মাত্র উপন্যাসে ইতিহাস, আখ্যান, সংস্কার, কুসংস্কার, জনশ্রুতি, বাস্তব, অবাস্তব, কল্পনা, ফ্যান্টাসি, যৌন-অযাচার ও স্বপ্ন– সবকিছুর এমন স্বাভাবিক ও অবিশ্বাস্য সহাবস্থান আগে কখনও দেখা যায়নি।
ঠিক এই কারণে মারিও বার্গাস যোসা এটিকে বলেছিলেন এক সামগ্রিক উপন্যাস (Novela Total), আর পাবলো নেরুদা একে বলেছিলেন, “সের্বান্তেসের ডন কিহোতের পর স্প্যানিশ ভাষায় সম্ভবত মহত্তম উন্মোচন (“perhaps the greatest revelation in the Spanish language since Don Quixote of Cervantes.”)
বাংলাদেশে এখনও পর্যন্ত কিংবদন্তিতুল্য এই উপন্যাসটি মূলভাষা থেকে অনূদিত হয়নি। এই প্রথম এটি আনিসুজ্জামানের অনুবাদে মূল থেকে ধারাবাহিক অনূদিত হচ্ছে। বি. স.
(সম্পূর্ণ…)

পরের পাতা »

Disclaimer & Privacy Policy  |  About us  |  Contact us

© bdnews24.com