মাসুদুজ্জামান-এর চারটি কবিতা

মাসুদুজ্জামান | ২২ আগস্ট ২০১৪ ৪:৫৭ অপরাহ্ন

বনের মধ্যে আমাদের শাদা বাড়ি

তোমার শরীর আমি পেয়েছি যেভাবে চাই, ডাকবা্ক্স থেকে
উড়ে আসা নীল লাজুক চিঠির মতো অপঠিত, নগ্ন, চাঁদ,
অন্ধকার রাতে যেভাবে দিগন্ত জুড়ে জ্যোৎস্নার ঝড় ওঠে,
সেইভাবে বসুধা ভেবে তুমি আমাকে জড়িয়ে ধরে শুনিয়েছো
মহিনের কালো ঘোড়া, ঘাস, আর বনের ভেতরে জেগে থাকা
সেই শাদা বাড়িটির গল্প। এরকম একটা নির্জন বাড়ি নিয়ে
তারকোভস্কি যে-ছবিটি বানিয়েছিলেন, সেই ছবি দেখে তুমি
স্মৃতিকাতর হয়ে পড়েছিলে। তোমাদের বাড়ির পাশের দীঘি,
তৃণলতা আর মাঠ থেকে রৌদ্রমাখা বিষণ্ন ডানায় ভর করে
উড়ে আসা শান্ত ঘুঘুটির মতো ওই শাদা বাড়িটির ভেতরেই
একসময় তুমি আমার হৃৎপিণ্ডে চুমু খেয়ে ঘুমিয়ে পড়েছো। (সম্পূর্ণ…)

গৌতম চৌধুরীর কবিতা

গৌতম চৌধুরী | ২১ আগস্ট ২০১৪ ২:০৫ পূর্বাহ্ন

তুমি আর আমি
১.
তোমার সঙ্গে যে দেখা হয়ে যাবে আবার
সে আমি ভালোই জানতাম
ইচ্ছে গো ইচ্ছে, সবটাই হল ইচ্ছে
নইলে তো নদীর এপার আর ওপার
সাঁকো বলতেও, ফুস মন্তর
তবুও চলে যাই কোথায় কোথায়, ঘুরে বেড়াই আদাড় বাদাড়
তুমিও কি ছাই বসে থাক নাকি ঘরের কোণে
আলপনা দেওয়া জলচৌকিতে আসনপিঁড়ি হয়ে? (সম্পূর্ণ…)

আবুল ফজল: জন্মের ১১১ বছর পর

মাহফুজ পারভেজ | ১৯ আগস্ট ২০১৪ ৩:১৩ অপরাহ্ন

border=0মৃত্যুর কিছু বছর পর, সামাজিক তো বটেই, পারিবারিক অঙ্গনেও অনেকই বিস্মৃত হন। নিদেন পক্ষে কেউ কেউ থেকে যান মোহাফেজখানার প্রায়োন্ধকার প্রকোষ্ঠে কিংবা বিশেষায়িত গবেষণার পাদটীকায় এবং ব্যক্তিগত স্মৃতিতর্পণে। কিন্তু আবুল ফজল (১৯০৩-১৯৮৩) বিংশ শতাব্দীর বাংলাদেশের মনীষাম-লীর অন্যতম, যার প্রভাব একবিংশেও সামাজিক জীবনে প্রবহমান; ভাব ও চিন্তার তরঙ্গে আন্দোলিত। লিখিত ভাষ্যে তাঁর জন্মদিন চলে গেছে ১ জুলাই; আর পিতার ডায়েরিতে লেখা তারিখ গণ্য করা হলে আনুষ্ঠানিকতা পালন করতে হয় ১৭ জুলাই। চলতি ২০১৪ সালে তাঁর জন্মের ১১১ বছর আর মৃত্যুর ৩১ বছর পূর্তির সাল। এই সময়-সন্ধিক্ষণে চিহ্ণিত করা জরুরি যে, আবুল ফজলকে নিয়ে আলোচনা ও মূল্যায়ন দুইটি বিপরীতধর্মী এক্সস্টিমে পরিচালিত হয়েছে। যারা আহমদ ছফার ‘বাঙালী মুসলমানের মন’ পড়েছেন, তারা তাঁকে যেভাবে দেখবেন, অন্যদের লেখায় (শতবার্ষকী স্মারকগ্রন্থভুক্তগণ) তাঁকে দেখা যাবে বিপ্রতীকে। খণ্ড-খণ্ড অবলোকনের সংগ্রন্থনে সামগ্রিক চরিত্র-চিত্রণ এবং ব্যক্তিত্ব কাঠামো নির্মাণের মাধ্যমে বহুমাত্রিক আবুল ফজলের উদ্ভাসনের লক্ষে সমীক্ষা পরিচালনা করাই শতবর্ষ-পরবর্তী প্রেক্ষাপটের অপরিহার্য দাবি। ফলে যারা এখনই তাঁকে ঘিরে একটি উপসংহারে উপনীত হতে চান, তাদের সঙ্গে আমার ব্যক্তিগত মতের সাযুজ্য হওয়ার কোনওই কারণ নেই। কিংবা যারা তাঁর চারপাশে কারার প্রাচীরের মতো যতি চিহ্ণ লেপন করে তাঁর সম্পর্কে শেষ কথা বলে দিতে প্রস্তুত, তাদের উদ্যোগও আমার কাছে সন্দেহজনক। আবুল ফজলচর্চার ক্ষেত্রে যারা অতিদ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণ করে বিশ্লেষণের তড়িৎ পরিসমাপ্তি ঘটাতে ইচ্ছুক, তারা সাহসের দিক থেকে কাণ্ডজ্ঞানহীন হলেও জ্ঞানের দিক থেকে অগভীর ও চঞ্চল-চপল মতি। (সম্পূর্ণ…)

শিল্পী মুর্তজা বশীরের সাক্ষাৎকার:

আজকাল তো জামায়াতে ইসলামী, ছাত্র শিবিররা কেউ দাড়ি রাখে না

শিমুল সালাহ্উদ্দিন | ১৭ আগস্ট ২০১৪ ১:৩৮ পূর্বাহ্ন

mb.jpgবহুমুখী প্রতিভার অধিকারী শিল্পী মুর্তজা বশীর। শিল্পী তিনি সিনেমার, কবিতার, উপন্যাসের, গল্পের এবং চিত্রশিল্পের। এমনকি গবেষণাকর্মেও তার প্রতিভা অনন্য হয়ে আছে। প্রায় ছয় দশক ধরে বাংলাদেশের শিল্পজগৎকে সমৃদ্ধ করে চলেছেন নতুনত্বে আর মৌলিকতায়। তিরাশিতম জন্মদিনের দ্বারপ্রান্তে দাঁড়ানো এই শিল্পী এখনো নিবেদিতপ্রাণ শিল্পের নতুনের সন্ধানে।
চিত্রকলা বিষয়ে পাঠদান করেছেন বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে। এক সময় শিল্পনির্দেশনা দিয়েছেন উর্দু ও বাংলা চলচ্চিত্রে। বিখ্যাত চলচ্চিত্র ‘নদী ও নারী’-র চিত্রনাট্যকার মুর্তজা বশীর ১৯৩২ সালের ১৭ই আগস্ট জন্ম গ্রহণ করেন। বহুভাষাবিদ ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহর ছোট ছেলে তিনি। বায়ান্নর ভাষা আন্দোলনের সক্রিয় কর্মী রক্তাক্ত আবুল বরকতকে আরো অন্যান্যদের সঙ্গে হাসপাতালের জরুরী বিভাগে নিয়ে গিয়েছিলেন বরেণ্য এই শিল্পী। গত বছরের ২৩ নভেম্বর শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে ভর্তি হয়েছিলেন হাসপাতালে। ডাক্তারদের পরামর্শে বুকে পেসমেকার বসানোর পর তিনি মাস দুয়েক হলো আবার ফিরেছেন নিয়মিত শিল্পচর্চায়। ৮৩তম জন্মদিন ঘিরে গ্যালারি কায়ায় নিজের একক প্রদর্শনীর প্রস্তুতি নিচ্ছেন। সম্প্রতি পরপর দুটি সাক্ষাতে রং ও রেখায় চির-স্পন্দিত প্রবীণ এই শিল্পীর সাথে আলাপ হয় কবি শিমুল সালাহ্উদ্দিনের। আলাপচারিতার চৌম্বক অংশগুলো শিল্পীর জন্মদিন উপলক্ষে এখানে আর্টস-এর পাঠকদের জন্য প্রকাশ করা হলো। বি.স.
(সম্পূর্ণ…)

হে বাঙালি যিশু

মুহম্মদ নূরুল হুদা | ১৫ আগস্ট ২০১৪ ২:১৯ পূর্বাহ্ন

bangubandhu_16273.jpgচল্লিশ বছর যায়, তোমাকে স্মরণ করে তোমার বাঙালি;
চল্লিশ হাজার যাবে, তোমার শরণ নেবে তোমার বাঙালি।

সতত বহতা তুমি জন্মে-জন্মে বাঙালির শিরায় শিরায়
সতত তোমার পলি হিমাদ্রি শিখর থেকে বীর্যের ব্রীড়ায়
দরিয়ায় দ্বীপ হয়ে যায়, যে-দরিয়া বাংলার সীমানা বাড়ায়,
যে-দরিয়া তোমার তরঙ্গ হয়ে কাল থেকে কালান্তরে যায় :
আজন্ম বাঙালি তুমি, আমৃত্যু বাঙালি,
তুমি নিত্য-বিবর্তিত এই লালসবুজের জাতিস্মর মায়ায়-ছায়ায়। (সম্পূর্ণ…)

গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস:

নিঃসঙ্গতার একশ বছর

আনিসুজ্জামান | ১১ আগস্ট ২০১৪ ১০:০০ অপরাহ্ন

border=0বিশ্বসাহিত্যের ইতিহাসে নিঃসঙ্গতার একশ বছর-এর মতো আর কোনো উপন্যাস প্রকাশের পরপরই এতটা পাঠকপ্রিয়তা পেয়েছে কিনা সন্দেহ। জনপ্রিয়তার বিচারে যেমন, তেমনি শিল্পকুশলতা আর শিল্পমুক্তির ক্ষেত্রেও এটি হয়ে উঠেছে এক অনন্য দৃষ্টান্ত। কেবল স্প্যানিশ সাহিত্যেই নয়, গোটা বিশ্বসাহিত্যের ইতিহাসেই একটি মাত্র উপন্যাসে ইতিহাস, আখ্যান, সংস্কার, কুসংস্কার, জনশ্রুতি, বাস্তব, অবাস্তব, কল্পনা, ফ্যান্টাসি, যৌন-অযাচার ও স্বপ্ন– সবকিছুর এমন স্বাভাবিক ও অবিশ্বাস্য সহাবস্থান আগে কখনও দেখা যায়নি।
ঠিক এই কারণে মারিও বার্গাস যোসা এটিকে বলেছিলেন এক সামগ্রিক উপন্যাস (Novela Total), আর পাবলো নেরুদা একে বলেছিলেন, “সের্বান্তেসের ডন কিহোতের পর স্প্যানিশ ভাষায় সম্ভবত মহত্তম উন্মোচন (“perhaps the greatest revelation in the Spanish language since Don Quixote of Cervantes.”)
বাংলাদেশে এখনও পর্যন্ত কিংবদন্তিতুল্য এই উপন্যাসটি মূলভাষা থেকে অনূদিত হয়নি। এই প্রথম এটি আনিসুজ্জামানের অনুবাদে মূল থেকে ধারাবাহিক অনূদিত হচ্ছে। বি. স.
(সম্পূর্ণ…)

হারুকি মুরাকামির গল্প: শিকারের ছুরি

রওশন জামিল | ১০ আগস্ট ২০১৪ ৮:৫৩ অপরাহ্ন

যমজ দ্বীপের মত দুটো ভেলা বাঁধা উপকূলে। সৈকত থেকে সাঁতরে যাওয়া-আসার জন্য নিখুঁত দূরত্বে ওগুলো — গুনে গুনে পঞ্চাশবার হাত-পা ছুড়ে যাওয়া যায় যেকোন একটায়, তারপর একটা থেকে আরেকটায় তিরিশবার হাত-পা চালনা। আনুমানিক চোদ্দ ফুট চৌকো, প্রতিটা ভেলায় একটা করে ধাতব সিঁড়ি, আর ওপরটা কৃত্রিম ঘাসের কার্পেট। পানি, এখানে দশ বা বারো ফুট গভীর, এত টলটলে যে আপনি ভেলাগুলোর সঙ্গে বাঁধা শেকল অনুসরণ করে অনায়াসে তলদেশের কংক্রিটের নোঙর দেখতে পাবেন। সাঁতারের জায়গাটা প্রবাল প্রাচীরে ঘেরা, ঢেউ বলতে যৎসামান্য, ফলে ভেলাদুটো ঈষৎ দুলছিল মাত্র। দিনের পর দিন প্রখর খরতাপের নিচে ওখানে বাঁধা অবস্থায় কেমন যেন হালছাড়া মনে হতো ওগুলোকে। (সম্পূর্ণ…)

শোকগ্রস্ত রবীন্দ্রনাথ

সৈয়দ মুজতবা আলী | ৮ আগস্ট ২০১৪ ৭:১২ অপরাহ্ন

মুজতবা আলী ছিলেন রবীন্দ্রনাথের সরাসরি ছাত্র। পূর্ববঙ্গের অল্প যে-কজন গুণী লেখক রবীন্দ্রনাথকে কাছ থেকে দেখার এবং তার স্নেহ অর্জনের সুযোগ পেয়েছিলেন মুজতবা আলী তাদের অন্যতম। লেখক এবং ব্যক্তি রবীন্দ্রনাথ সম্পর্কে তিনি একাধিক লেখা লিখেছেন। রবীন্দ্রনাথ সম্পর্কে বলেছেনও তিনি বিভিন্ন সময় ভারত ও বাংলাদেশের বেতার-কথন-এ । সদালাপী, আড্ডাপ্রিয় ও সুগভীর পাণ্ডিত্যের অধিকারী মুজতবা আলীর ৭২/৭৩ সালে ধারণকৃত রবীন্দ্রনাথ-সম্পর্কিত একটি বেতার-কথনের অডিও সংরক্ষিত হয়েছিলো যা তার ছেলে সৈয়দ জগলূল আলী ইন্টারনেটে বছর দুয়েক আগে আপলোড করেছিলেন। খুব সম্ভবত এটি বাংলাদেশ বেতারে দেয়া একটি বেতার-কথন; রবীন্দ্রনাথের জন্ম বা মৃত্যুদিবসে প্রচারের জন্য। মুজতবা আলীর এই বেতার-কথনটি রবীন্দ্রনাথকে আরেকটু অন্তরঙ্গভাবে বোঝার জন্য খুব জরুরী। বিডিনিউজটোয়েন্টিফোর ডটকম-এর আর্টস বিভাগের পাঠকদের জন্য এই বিরল বেতার-কথনটির শ্রুতিলিপি উপস্থাপন করা হলো। মুজতবা আলীর বাচনভঙ্গীকে হুবহু অনুসরণ করার কারণে ‍দু এক জায়গায় যোগসূত্রহীন মনে হতে পারে, তবে পরের বাক্যগুলোয় পৌঁছামাত্র পাঠক সেই সংযোগটি আবিস্কারে কোনো বাধার সম্মুখীন হবেন বলে মনে হয় না । শ্রুতিলিপির সঙ্গে মূল অডিও সংস্করণটি এখানে যুক্ত হলো পাঠকদের কৌতূহলের কথা বিবেচনা করে। লেখার শিরোনামটি আমাদের নির্বাচিত। বি. স. (সম্পূর্ণ…)

রবীন্দ্র ছোটগল্পে মানবতাবাদ

মাহবুবুল হক | ৬ আগস্ট ২০১৪ ১১:০৯ অপরাহ্ন

tagore.jpgমানুষের উপর প্রগাঢ় বিশ্বাস ও আস্থা রবীন্দ্রসাহিত্য ও রবীন্দ্রমননের মূল ভিত্তি। তাই রবীন্দ্রনাথের চিন্তায় ও লেখায় মানবতাবাদী ভাব-ধারণার উজ্জ্বল প্রকাশ লক্ষ করা যায়। তাতে প্রাচ্য মানবতাবাদের প্রভাব যেমন চোখে পড়ে তেমনি পাশ্চাত্য মানবতাবাদের লক্ষণও দুর্লক্ষ নয়।

রবীন্দ্রনাথের চেতনায় যে উপনিষদের প্রভাব পড়েছিল তাতে সন্দেহ নেই। কিন্তু উপনিষদের মানবিকতার সঙ্গে রবীন্দ্রনাথের মানবিকতার কিছুটা পার্থক্যও বিবেচ্য। উপনিষদের মানবিকতার ভিত্তি সার্বস্বয়বাদ। রবীন্দ্রনাথ সার্বস্বয়বাদকে স্বীকার করে নিলেও ঈশ্বরের আলাদা অস্তিত্বকেও স্বীকার করে নিয়েছিলেন। (সম্পূর্ণ…)

কবিদের নিয়ে রবীন্দ্রনাথের হিতোপদেশ

মোস্তফা তারিকুল আহসান | ৬ আগস্ট ২০১৪ ১২:১৬ অপরাহ্ন

tagore.gif
শিশুশিল্পী শৈলীর আঁকা রবীন্দ্রনাথ
বাংলা সাহিত্য নিয়ে মহামতি বঙ্কিমচন্দ্র বেশ উন্নাসিকতার সাথে মন্তব্য করেছিলেন। তিনি বাংলা সাহিত্যকে কাঁচাকলার সাথে তুলনা করেছিলেন এবং যারা বাংলা সাহিত্যের বিকিকিনি করেন বা রচনা করেন তাদেরকে বালক হিসেবে বর্ণনা করেছিলেন। এসব মন্তব্য সবার জানা । তবে কবি যশপ্রার্থীরা এসব মন্তব্যে হতোদ্যম হয়েছেন বলে মনে হয় না ।বরং কবিদের সংখ্যা দিনে দিনে বাড়ছে। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর নিজে কবি হয়েও কবিদের সম্পর্কে বিশেষ করে বাঙালি কবিদের নিয়ে যা বলেছেন তা আমাদের কবিরা জানেন কিনা আমাদের জানার সুযোগ নেই, তবে অনুমান করা চলে যে এখনকার অধিকাংশ কবি তাঁর এজাতীয় লেখা বা মন্তব্য পড়েননি। পড়লে অন্তত আমাদের দশায় পরিবর্তন হতো। তিনি ভাদ্র ১২৮৭ সালে ’ভারতী’ পত্রিকায় এবং আষাঢ মাসে ’ভারতী’ পত্রিকায় দুটি প্রবন্ধ লেখেন। শিারোনাম শুনলেই বাঙালি কবিদের একটু অভিমান হতে পারে। তাঁর প্রবন্ধ দুটির নাম ‘বাঙালি কবি নয়’ এবং ‘বাঙালি কেন কবি নয়’। অর্থাৎ বাঙালি কবি নয় সে দাবী তিনি করেছেন এবং সেই দাবীর পক্ষে প্রমাণ হাজির করার চেষ্টা করেছেন অন্য প্রবন্ধে। কিছু কবিকে আশ্বস্ত করা যায় এই বলে যে বাঙালির মধ্যে কেউ কেউ ব্যতিক্রমীভাবে কবি হতে পারেন। তবে আরো পরে মোক্ষম একটা কথা বলেছিলেন আরেক বিখ্যাত বাঙালি কবি জীবনানন্দ দাশ। তিনি বলেছিলেন প্রবাদের মতো সেই কথা “সকলেই কবি নন।কেউ কেউ কবি; কবি– কেননা তাদের হৃদয়ে কল্পনার এবং কল্পনার ভিতরে চিন্তা ও অভিজ্ঞতার স্বতন্ত্র সারবত্তা রয়েছে এবং তাদের পশ্চাতে অনেক বিগত শতাব্দী ধরে এবং তাদের সঙ্গে সঙ্গে আধুনিক জগতের নব নব কাব্য বিকিরণ তাদের সাহায্য করছে।” রবীন্দ্রনাথের মহাপ্রয়াণ দিবসে এ সব ঋনাত্মক কথাবার্তা বলার হয়তো ঘোর কোন যুক্তি নেই, তবু এ দিবসে একজন কবি হিসেবে তিনি বাঙালি কবির কী কী বৈশিষ্ট্য সনাক্ত করতে পেরেছিলেন তার সমান্য ফিরিস্তি বর্তমান কবিদের সামনে ব্যাখ্যা করার প্রয়োজন অনুভব করছি। (সম্পূর্ণ…)

তাপস গায়েনের কবিতা: ঈশ্বরের সাথে দ্বন্দ্বযুদ্ধে নিহত কবি

তাপস গায়েন | ৫ আগস্ট ২০১৪ ৭:৪১ অপরাহ্ন

এফিটাফ:

আমরা যারা ঈশ্বরের অস্তিত্বে করি নি অবিশ্বাস, অধিকন্তু ঘুম এবং জাগরণের মাঝে বাকরুদ্ধ হয়ে নিশ্চিহ্ন হবার আগে সুতীব্র চিৎকারে জেগে উঠি, তারা অন্তত অনুভবে জেনেছি শক্তির গতি, স্থিতি, আর তার ব্যাপ্তি । মধ্যরাতে শুনেছি ফুলের প্রলাপ, কিন্তু জানি নি কৃষ্ণচূড়া কিংবা রক্তজবা কিংবা কদমের অন্তরের আখ্যান ; দেখেছি মৃদুমন্দ বাতাসে শাপলার বিলে দোল খায় ফড়িং এবং জেনেছি কোনো এক ঝঞ্ঝাবিক্ষুব্ধ রাতে ছিল বুদ্ধের মাথার উপরে সপ্তসর্পের আচ্ছাদন ; এইসব রূপ, বোধকরি, নিতান্তই শক্তির বিন্যাস !

উন্মাদ আশ্রম এখনও বহুদূরে, আরও দূরে গর্জনশীল নদী, তারও থেকে অধিকতর দূরত্বে শুয়ে আছে নক্ষত্রখচিত মহাকাশ, সেইখানে দর্পণের সম্মুখে কি দাঁড়িয়ে আছেন কোনো এক ঈশ্বরী ? জানি এইসব প্রশ্ন অবান্তর ! তবু ভাবি, ইবলিশ নিশ্চয় তাঁরই প্রকাশ, নতুবা অপূর্ণ থেকে যান ঈশ্বর, যেভাবে ক্লান্ত এই মহানগরীর সাথে অবিভাজ্য সত্তায় ঘুম আর জাগরণের মধ্যে নিরন্তর ঘুমিয়ে আছি আমি ; অনুক্ষণ জেগে থাকি আমি । (সম্পূর্ণ…)

আমার বন্ধু বেবী মওদুদ

নির্মলেন্দু গুণ | ২৬ জুলাই ২০১৪ ২:০৭ পূর্বাহ্ন

baby.gifদ্বিতীয়বারের মতো বিএসসি পরীক্ষায় ফেল করার পর ময়মনসিংহ আনন্দমোহন কলেজের সঙ্গে সকল সম্পর্ক ছিন্ন করে ১৯৬৭ সালে আমি বাংলায় অনার্স নিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হই। বাংলা বিভাগে পড়ার সুবাদে আমার বেশ ক’জন নতুন বন্ধু-বান্ধবী জোটে। আমার সহপাঠী ও সহপাঠিনীদের মধ্যে যাদের সঙ্গে আমার অন্তরঙ্গ সম্পর্ক গড়ে ওঠে, তাদের মধ্যে একজন ছিলেন তৎকালীন মস্কোপন্থী ছাত্র ইউনিয়ন নেত্রী বেবী মওদুদ। (সম্পূর্ণ…)