মোদাস্বার হোসেন মধু বীর প্রতীকের থাকা ও না থাকা
- [১৬ ডিসেম্বর ২০১১ তারিখে আর্টস-এ ছাপা হয় অদিতি ফাল্গুনীর ভূমিকাসহ মোদাস্বার হোসেন মধু বীর প্রতীক প্রণীত ডায়রি বঙ্গবন্ধু, মুক্তিযুদ্ধ, বাংলাদেশ এবং ‘বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা কল্যাণ ট্রাষ্ট’ গঠনের মূল ইতিহাস। এই ডায়রি ছাপা হওয়ার পর সোশ্যাল মিডিয়া ফেসবুক ব্যবহারকারী কারো কারো পক্ষ থেকে দাবি ওঠে যে এই নামে কোনো মুক্তিযোদ্ধা কখনো ছিল না। তারা এর প্রমাণ স্বরূপ ‘বীর প্রতীক খেতাবপ্রাপ্ত মুক্তিযোদ্ধাদের তালিকা’র লিংক সরবরাহ করেন। সেখানে মোদাস্বার হোসেন মধু বীর প্রতীক নামে কারো ভুক্তি নেই। এ প্রেক্ষিতে ‘বীর প্রতীক’ সংক্রান্ত প্রকৃত অবস্থা অনুসন্ধানের জন্য ‘যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা রোগমুক্তি বিশ্রামাগার’-এ গিয়ে দেখা গেল ‘বিশ্রামাগার’-এর নির্মাণ কাজ চলছে। সংলগ্ন অস্থায়ী অফিসের সামনে ডিসেম্বর ২০১১-র ২৪ তারিখে হুইলচেয়ারে স্থিত যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা তোজাম্মেল হক বীর প্রতীকের সঙ্গে কথা বলেন অদিতি ফাল্গুনী। কিন্তু রাস্তার পাশে শব্দের প্রাবল্য থাকায় কাছেই ১/৬বীর উত্তম নুরুজ্জামান সড়কের ‘রাষ্ট্রীয় সম্মানী ভাতাপ্রাপ্ত যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধাদের বাসস্থানে’র আঙিনায় অন্য মুক্তিযোদ্ধাদের কথাবার্তা ধারণ করা হয়। সেখানে মধুর ব্যাপারে কথা বলেন মোঃ গোলাম মোস্তফা বীর বিক্রম বীর প্রতীক, মোঃ সামসুদ্দিন বীর প্রতীক, যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা মতিউর রহমান ও যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা মোঃ শুকুর আলী। এ ছাড়া মিসেস মনোয়ারা সামসুদ্দিন, আবুল কাশেম ও আবদুস সোবাহান মন্টুও মোদাস্বার হোসেন মধু বীর প্রতীকের এক সময়ে অস্তিত্বশীল থাকার ব্যাপারটি নিশ্চিত করেন। তারা জানান যে মধু এখন আর নাই–২০০৫ সাল থেকেই নাই। তবে তার স্ত্রী এখনও সরকারি ভাতা পাচ্ছেন। মুক্তিযুদ্ধে তিনি চাপাইনবাবগঞ্জের সোনা মসজিদ এলাকায় বন্দুকের গুলি লেগে আহত হন। পরে ভারতে চিকিৎসা লাভ করেন ১৯৭২ সালে। প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের শাসনামলের শেষ দিকে ১৯৭৯ সালে ২৪ জন বীর মুক্তিযোদ্ধার সঙ্গে বীর প্রতীক পদকে ভূষিত হন। তবে তাদের সেই তালিকা কখনো গেজেট ভুক্ত হয় নাই।
আর্টস-এ প্রকাশিত তাঁর ডায়রির লিংক: এক মৃত মুক্তিযোদ্ধার দিনপঞ্জির পাতা থেকে…।
–বি. স.]
সাক্ষাৎকার গ্রহণ:ব্রাত্য রাইসু ও অদিতি ফাল্গুনী
মোদাস্বার হোসেন মধু বীর প্রতীকের বন্ধু ও পরিচিতজনদের ভিডিও সাক্ষাৎকার।
অদিতি ফাল্গুনী: মোদাস্বার হোসেন মধু বেঁচে ছিলেন। তারপরে উনি মারা গেছেন। ওনার একটা ডায়রি ছিল, ডায়রিটা আমি ছাপালাম, ছাপানোর পরে কেউ কেউ বলতেছেন উনি নাকি ছিলেন না–এটা নাকি কল্পনা, এটা নাকি বানোয়াট, তাই কি?
তোজাম্মেল হক: না না না। আমরা আগাগোড়া এখান থেকে আছি, একসঙ্গে ছিলাম। উনি মারা গেলো, মারা যাওয়ার পরে… উনার অনেক কিছু কথা আছে–সেরকম–উনি প্রথমে গুলি লাগা সৈনিক, তারপরে প্যারালাইসিস, উনি যা কিছু বলতো সত্যি বলতো এবং যা ন্যায় বলতো এবং যা জাতির কাজে লাগবে… এবং সেগুলোর কথাই উনি বলতো।
……..
তোজাম্মেল হক বীর প্রতীক। জন্ম. সিংগিমারি, পার্বতীপুর, দিনাজপুর। ১৯৭২-এর ৬ জানুয়ারি দিনাজপুর মহারাজা হাইস্কুলে মুক্তিযোদ্ধা ক্যাম্পে স্বাধীনতা পরবর্তী বিস্ফোরক ও অস্ত্র জমা করার সময়ে আকস্মিক বিস্ফোরণে ৭০০ মুক্তিযোদ্ধা নিহত হন, আহত হন শতাধিক। তাদের একজন তিনি।
……..
অদিতি ফাল্গুনী: এটা তো অস্থায়ী অফিস? ওই যে আপনাদের যে বিশ্রামাগার…?
তোজাম্মেল হক: বিশ্রামাগার আমাদের স্থায়ী। এখন ভাঙ্গি ফেলাইয়ি অস্থায়ী… অনেকে ভাড়া থাকে, ফ্যামেলি নিয়া থাকে। এখন শেল্টার হইলে আমরা সবাই একত্র হবো।
অদিতি ফাল্গুনী: এইটা কবে নাগাদ মানে পুরাটা আবার ঠিক হবে?
তোজাম্মেল হক: ওই যে ২৪ মাস, দুই বছর টাইম নিছে।
অদিতি ফাল্গুনী: দুই বছর সময় দিছে।
২.
অদিতি ফাল্গুনী: আজ থেকে দশ-এগার বছর আগে আমি প্রথম আসি, এসে আপনাদের দুইজনের একটা ছবিও নিয়েছিলাম? সেটা আর কি পত্রিকাতে ছাপাও হয়েছিল, আমি দেখাই। অনেক আগের পত্রিকা [The Daily Star, 7 December 2000] –এই যে। আপনি আর এই তো মধু, তাই না?
……..
২০০০ সালে প্রকাশিত অদিতির লেখায় মধু ও গোলাম মোস্তফার ছবি
……..
গোলাম মোস্তফা: হ্যাঁ এই যে, ঠিক আছে। তো এইডা কী হইছে এখন?
অদিতি ফাল্গুনী: এখন ওই ছাপানোর পরে, অনেক দিন পরে আবার দুই বছর আগে এসে আপনাদের অনেকের ইন্টারভিউ নিই, তাই না? তারপরে মধুর একটা ডায়রি খাতাও আমার কাছে ছিল। তো এইগুলো নিয়ে উনার পত্রিকাতে [http://arts.bdnews24.com] একটা লেখা ছাপা হইছে। সেই লেখাটার পরে সবাই বলতেছে মধু নামে কেউ ছিল না। এটা কল্পনা, এটা আমি বানাইয়া লিখছি, আমি টাকা খাইছি…
গোলাম মোস্তফা: মোদাস্বার হোসেন মধু… ঠিকই আছে। এই যে মধু…।
ব্রাত্য রাইসু: এটা চিনেন আপনারা ওনারে?
গোলাম মোস্তফা: আরে চিনা!… আমার সাথে লাখনৌ কমান্ড হসপিটালে… একসাথেই ছিলাম, আহত হইয়া। (সম্পূর্ণ…)



……



………
………
……..
……..
……