গোলাপের আখ্যান

তাপস গায়েন | ২৯ জুন ২০১৫ ৫:৫৭ অপরাহ্ন


নীৎশের ক্রন্দন: গোলাপসুন্দরী ১

salome.jpgল্যু(ইস) আন্দ্রেয়া ভন সলোমী, আপনি কী ছিলেন অর্ধউন্মাদিনী না কী সন্ন্যাসিনী ! ‘ঈগলের চঞ্চুর মতো আপনার মেধা আর সিংহীর মতো আপনার সাহস’ [১] নিয়ে হয়ত আপনি ছিলেন না উন্মাদিনী; আলপ্স পর্বতের নির্জনতা নয় কিংবা নয় রোমের ধ্বংসাবশেষ, আপনি শুধু খুঁজে ফিরেছেন উজ্জ্বল চিন্তা, সেইসূত্রে উজ্জ্বল পুরুষের মুখ, তাদের কোলাহল, ধ্বংস, আর নির্মিতি । কালান্তরে আমি সাক্ষ্য দিয়ে যাই, গোলাপের মতো পূর্ণ হয়েই ভাষার অন্তরে গোলাপ ফুটিয়াছে;ল্যু সলোমী,আপনার প্রথম যৌবনে আপনি ছিলেন সন্ন্যাসিনী, ছিলেন বিষণ্ণ গোলাপসুন্দরী!

আর নীৎশের কথারূপচিন্তার প্রবাহের জন্য, সেই শৈশব থেকে আপনার কী যে অণ্বেষা ! ‘চিন্তায় আচ্ছন্ন অর্ধনেত্রে যিনি ধরে রাখেন তাঁর অন্তরের আখ্যান, আর কী অসম্ভব সুন্দর, মহৎ তাঁর হাত।’ [২] যিনি জরাস্ত্রুত হতে আগ্রহী নন, কিংবা চান নি হতে ক্লান্ত নিঃসঙ্গ সাধক, যিনি হয়ে উঠতে চান প্রাতিস্বিক মানুষ- কতো সহজ, তবু নয় অনায়াসসাধ্য। হে আমাদের আদি পিতামহ এবং পিতামহী, কাঠবিড়ালিদের দুরন্তপনার মধ্যে পাইনের বনে পরিশ্রুত সূর্যালোকে আপনাদের ভ্রমণ, লাইমবৃক্ষের নীচে আপনাদের মধ্যাহ্নভোজ; নৈতিকতার নিয়মগুলো অমান্য করে নৈতিক যে জীবন তাকেই যেন আমরা চাই। তবু কী অসম্ভব দূরন্তে থেকে যাই আমরা, যেভাবে থেকে গেছেন আপনারা দুজন। (সম্পূর্ণ…)

আবুল হোসেন: ভিন্নভাবে ভিন্ন পথে হাঁটার প্রেরণা

শ্যামল চন্দ্র নাথ | ২৯ জুন ২০১৫ ১২:১৫ পূর্বাহ্ন

dsc_0025.JPG কবিতা সম্পর্কে বলার অনেক কিছুই আছে। আধুনিক কবিতা নিয়েও বলার আছে। কিন্তু কবিতার যে চিরায়ত ধারা রয়েছে সে ধারার ব্যতিক্রম সৃষ্টি দুর্লভ। আমি যে বিষয়ের কথা বলতে চাই তা কবিতায় আবেগহীন গদ্যময়তা। কবিতাকে আবেগহীন করা। বাংলা কবিতায় কবিতাকে কিভাবে আবেগ নয়, অভিজ্ঞতা দিয়ে নির্মাণ করা যায় সেটা কবি আবুল হোসেন জানতেন। শুধু জানতেনই না, আমার মতে তার সফল প্রয়োগ তিনি করেছেন। এই জন্যই হয়তো আধুনিক মুসলিম সাহিত্যের কিংবা কবিতার এই কাব্য প্রতিভাকে এড়িয়ে যাওয়া দুঃসাধ্য বলে মনে হয়। যার কবিতায় রয়েছে ভাবের, ভাষার, ইঙ্গিতের, নিহিতার্থের সাথে ইন্দ্রিয় ও হৃদয় অনুভূতির যৎসামান্য কথামালা। যৎসামান্য এই জন্য বললাম, কারণ তিনি খুব অল্পই লিখেছেন। তবে বাংলা কবিতার যে কোনো আলোচনা তাকে ছাড়া যদি হয়্ও, কিন্তু কবিতার বিশিষ্টতার কথা, কবিতায় আবেগহীনতার কথা, সার্থক সমিল গদ্য কবিতার কথা কিংবা বাঙালি মুসলিম মানসের সবচেয়ে আধুনিক কবিতার কথা বা কবির কথা আলোচিত হলে কবি আবুল হোসেনের নাম অনায়াসে চলে আসবে। যদিও একজন কবির কাজ কবিতা লিখে যাওয়া। কবিতা ভালো হল কিনা সেই কাজটিও তাকে অবিরাম চালিয়ে যেতে হয়। নিজের পছন্দ, অপছন্দ, বোধ ও আত্মানুভূতির একটা প্রবণতা সব সময় কবির মননে অনুরণিত হতে থাকে। (সম্পূর্ণ…)

রবীন্দ্রনাথ প্রসঙ্গে সনজীদা খাতুন: “কোনটা দিয়ে কাকে ঠেকাতে হবে খুব ভাল বুঝতেন”

রাজু আলাউদ্দিন | ২৭ জুন ২০১৫ ৮:২৯ অপরাহ্ন

রবীন্দ্রসংগীত শিল্পী, রবীন্দ্রবিশেষজ্ঞ এবং অধ্যাপিকা সনজীদা খাতুনের জন্ম ১৯৩৩ সালের ৪ এপ্রিল। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বিএ অনার্স, ব্শ্বিভারতী, শান্তিনিকেতন থেকে এমএ এবং সেখান থেকেই রবীন্দ্রসংগীতের ভাবসম্পদ নিয়ে পিএইডি সম্পন্ন করেন ১৯৭৮ সালে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগে দীর্ঘদিন অধ্যাপনা করেছেন। বর্তমানে তিনি ছায়ানট-এর সভাপতি। ভারত থেকে দেশিকোত্তম অনারারী ডিলিট পেয়েছেন। এছাড়া নজরুল স্বর্ণপদক, রবীন্দ্রস্মৃতি পুরস্কার, রবীন্দ্র তত্ত্বাচার্য উপাধি, একুশে পদক, বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কারসহ বহু সম্মানে ভূষিত হয়েছেন তিনি।
তার উল্লেখযোগ্য গ্রন্থগুলো হচ্ছে: রবীন্দ্রসংগীতের ভাবসম্পদ(১৯৮১), ধ্বনি থেকে কবিতা(১৯৮৮), রবীন্দ্রনাথ: বিবিধ সন্ধান (১৯৯৪), তোমারি ঝরনাতলার নির্জনে(১৯৯৪), আপনজনদের স্মৃতিকথা(১৯৯৭) ইত্যাদি।

কবি, প্রাবন্ধিক ও স্প্যানিশ সাহিত্যবিশেষজ্ঞ রাজু আলাউদ্দিন কর্তৃক সনজীদা খাতুনের এই সাক্ষাতকারটি নেয়া হয়েছিল ২০১২ সালের মে মাসে তার বাসায়। সাক্ষাতকারটি ভিডিওতে ধারণ করেন সহকর্মী ফারহানা মিলি। দীর্ঘ এই সাক্ষাতকারটির শ্রুতিলিখন তৈরি করেছেন প্রমা সঞ্চিতা অত্রি। ভিডিওসহ পূর্ণাঙ্গ সাক্ষাতকারটি এখানে প্রকাশ করা হলো।

রাজু আলাউদ্দিন: আমরা সবাই জানি যে আপনি জন্মগ্রহণ করেছেন বিদ্যাচর্চার দিক থেকে সময়ের একটি অগ্রসর পরিবারে এবং শুধু বিদ্যা চর্চা নয়, আমরা বলব যে মননশীলতা ও সৃষ্টিশীলতার একটা চর্চা আপনাদের পরিবারে ছিল। স্বাভাবিকভাবেই এর একটা প্রভাব তো আপনার ওপরে আছেই। তো, ওই প্রভাবটা কিভাবে এসেছে বলে মনে করেন আপনি? (সম্পূর্ণ…)

বৃষ্টির মূর্ছনায়

সাহানা মৌসুমী | ২৫ জুন ২০১৫ ৭:৫৯ অপরাহ্ন

ঋতুর আবর্তনে এখন আষাঢ়ের প্রতাপ। ঘন অন্ধকারে দশ দিগন্ত ঢেকে রাজসমারোহে তার আবির্ভাব! প্রতিবছর এমনি সমারোহে আষাঢ় আসে। আমাদের সব বিষাদ- সব শূন্যতার মাঝে জীবনের অবিরল ধারা হয়ে। কবি যেমন বলেন, ‘এমনি করে কালো কাজল মেঘ- জ্যৈষ্ঠ মাসে আসে ঈশানকোণে- এমনি করে কালো কোমল ছায়া আষাঢ় মাসে নামে তমাল বনে’!
ঈশানকোণে হঠাৎ করেই আসে আষাঢ়ের মেঘ। বহুদুরের পথ পেরিয়ে পথিক মেঘ আসে আমাদের আকাশে। আসে আমাদের সারাবছরের ধুলিমলিন জীবনে এক আশ্চর্য বার্তা নিয়ে। সে বার্তা সুদূরের- সে বার্তা নুতনের। বর্ষার মেঘের বিপুল আয়োজন আমাদের ভুলিয়ে দেয় নৈমিত্তিক জীবনের দীনতা। ঘনিয়ে আসা কালো মেঘের ছায়ায়- বৃষ্টিমুখর দিনে আমাদের মন ভরে ওঠে অচেনা খুশিতে। বৃষ্টির রিমঝিম সেতারে- ছুটে আসা বাদল হাওয়ায়- জেগে ওঠে আমাদের প্রাণ। বৃষ্টি আর বাতাসের অপরূপ সুরের মূর্ছনায়- কদম কামিনীর ঘন সৌরভে অপার্থিব হয়ে ওঠে চারিধার। ভেজা মাটির গন্ধে- ধারাজলের ছন্দে বর্তমানের দরোজায় এসে দাঁড়ায় হারিয়ে যাওয়া অতীত। মনে পড়ে যায় কবেকার স্মৃতি! (সম্পূর্ণ…)

গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস:

নিঃসঙ্গতার একশ বছর

আনিসুজ্জামান | ২৪ জুন ২০১৫ ৯:৩১ অপরাহ্ন

garcia_marquez.jpgবিশ্বসাহিত্যের ইতিহাসে নিঃসঙ্গতার একশ বছর-এর মতো আর কোনো উপন্যাস প্রকাশের পরপরই এতটা পাঠকপ্রিয়তা পেয়েছে কিনা সন্দেহ। জনপ্রিয়তার বিচারে যেমন, তেমনি শিল্পকুশলতা আর শিল্পমুক্তির ক্ষেত্রেও এটি হয়ে উঠেছে এক অনন্য দৃষ্টান্ত। কেবল স্প্যানিশ সাহিত্যেই নয়, গোটা বিশ্বসাহিত্যের ইতিহাসেই একটি মাত্র উপন্যাসে ইতিহাস, আখ্যান, সংস্কার, কুসংস্কার, জনশ্রুতি, বাস্তব, অবাস্তব, কল্পনা, ফ্যান্টাসি, যৌন-অযাচার ও স্বপ্ন– সবকিছুর এমন স্বাভাবিক ও অবিশ্বাস্য সহাবস্থান আগে কখনও দেখা যায়নি।
ঠিক এই কারণে মারিও বার্গাস যোসা এটিকে বলেছিলেন এক সামগ্রিক উপন্যাস (Novela Total), আর পাবলো নেরুদা একে বলেছিলেন, “সের্বান্তেসের ডন কিহোতের পর স্প্যানিশ ভাষায় সম্ভবত মহত্তম উন্মোচন (“perhaps the greatest revelation in the Spanish language since Don Quixote of Cervantes.”)
বাংলাদেশে এখনও পর্যন্ত কিংবদন্তিতুল্য এই উপন্যাসটি মূলভাষা থেকে অনূদিত হয়নি। এই প্রথম এটি আনিসুজ্জামানের অনুবাদে মূল থেকে ধারাবাহিক অনূদিত হচ্ছে। বি. স.
(সম্পূর্ণ…)

প্রফেসর সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী: ৭৯তম জন্মবার্ষিকীর শ্রদ্ধা

ফরিদ আহমদ দুলাল | ২৪ জুন ২০১৫ ২:২৬ পূর্বাহ্ন

sic.jpgবাংলাদেশের প্রবন্ধ সাহিত্য, বিশেষত সমালোচনা সাহিত্য নিয়ে যখন কাউকে হাহাকার করতে শুনি, আমি ভাবি, মানুষ কি সিরাজুল ইসলাম চৌধুরীর লেখা পড়েন না! যদি পড়তেন তাহলে আর যাই হোক আমরা জেনে যেতাম আমাদের প্রবন্ধ সাহিত্যে সমালোচনা সাহিত্যে দীনতা থাকলেও সিরাজুল ইসলাম চৌধুরীর মতো শক্তিমান প্রাবন্ধিকের উজ্জ্বল উপস্থিতিও বর্তমান। তিনি কেবল আমাদের সাহিত্যে দ্যুতি ছড়াননি, বরং আমাদের প্রবন্ধ ও সমালোচনা সাহিত্যকে ঋদ্ধি দিয়ে বিশ্ব প্রেক্ষাপটে আমাদেরকে সম্মানিত করেছেন। সিরাজুল ইসলাম চৌধুরীর ভাষায় যেমন সৌন্দর্য, শব্দ নির্বাচনে যেমন মনীষা, বাক্যগঠনে যেমন সারল্যময় পাণ্ডিত্য, বিশ্লেষণে যেমন সতর্কতা ও লালিত্য, বিষয় নির্বাচন এবং উপস্থাপনশৈলীতেও তেমন একাগ্রতা; সর্বপোরি পাঠককে মন্ত্রমুগ্ধ ও আবিষ্ট করে রাখার অসাধারণ মুন্সিয়ানা তাঁকে বাংলা ভাষার অন্যতম প্রধান প্রাবন্ধিকের আসনে অধিষ্ঠিত হবার সমর্থন যোগায়। গীতল-পেলব-মহার্ঘ শব্দবন্ধে তিনি তাঁর রচনাকে এমন এক উচ্চতায় নিয়ে যান, যাতে পাঠক অভিভূত না হয়ে পারেন না। একজন কৃতী শিক্ষক হিসেবে শিক্ষার্থীর চোখে যেমন তিনি প্রাণবন্ত, নিষ্ঠ লেখক হিসেবেও পাঠকের কাছে তিনি সমান মনপ্রিয়। মহান এ জ্ঞানতাপসকে নিয়ে যে কথাগুলো উচ্চারণ করা হলো তার প্রতিটি বর্ণই একজন সৎ ও নিষ্ঠ পাঠকের বিবেচনাপ্রসূত। তাঁকে যখন যতটা পাঠ করেছি, তা যেন অন্তরময় হয়ে আছে।
সিরাজুল ইসলাম চৌধুরীর মতো এত বড় মাপের মননশীল স্রষ্টার উনাশিতম জন্মবার্ষিকীতে তাঁর প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করে বলতে চাই, বাংলা সাহিত্যে প্রবন্ধ-সমালোচনার নামে আমরা যত স্তূতি-সাহিত্য প্রত্যক্ষ করেছি সে ভিড়ে সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী অনন্য-স্বাতন্ত্র্যমণ্ডিত নাম। ব্যক্তিগত জীবনে নিরহংকার-নির্লোভ-স্থিতধী মেধাসম্পন্ন মননশীল শিক্ষাগুরু ও চিন্তাশীল পণ্ডিত এ মানুষটি অতি সাধারণ জীবনাচারে অভ্যস্ত। উচ্চস্বর মেধাহীন স্বার্থান্ধদের কোলাহল থেকে নিজেকে সব সময়ই নিরাপদ দূরত্বে সরিয়ে রাখতে সচেষ্ট থেকেছেন; কিন্তু বিদগ্ধ পাঠকের অন্তর থেকে কখনোই তিনি দূরে থাকেননি। (সম্পূর্ণ…)

নির্মলেন্দু গুণ: ছফুট দীর্ঘ সীমাহীন অসীম আগুন !

অলাত এহ্সান | ২২ জুন ২০১৫ ১১:৩৬ অপরাহ্ন

nimalendu-goon-1.JPGকলেজ বেলায় বড় ভাইয়েরা ধরিয়ে দিয়েছিলেন দুই লাইনের ছড়া, ‘২১শে জুন/নির্মলেন্দু গুণ।’ আমার বন্ধুবান্ধব কাউকে কাউকে দেখেছি, প্রেয়সীর কাছে লেখা চিঠির জন্য নির্মলেন্দু গুণের নির্বাচিতা কবিতা সংকলনটি ঘাটছে। কখনো তারা আবৃত্তি করতেন গুণের ‘মানুষ’, ‘যাত্রাভঙ্গ’, ‘ওটা কিছু নয়’ ইত্যাদি সব কবিতার দুই-দশ লাইন।
বিশ্ববিদ্যালয় জীবনে দেয়ালের লিখা দেখে জেনেছি এটা গুণের কবিতার কোনো কবিতার লাইন। কিংবা কোনো কোনো প্রতিবাদী মিছিল থেকে ফিরে যখন আবৃত্তি শুনেছি
‘মননীয় সভাপতি ….। সভাপতি কে? কে সভাপতি?
ক্ষমা করবেন সভাপতি সাহেব,
আপনাকে আমি সভাপতি মানি না।’
তখন আমাদের রক্ত স্পন্দিত হয়ে উঠেছে। এটা নির্মলেন্দু গুণেরই ‘অসমাপ্ত কবিতা’র কয়েকটি লাইন। এইভাবে জীবনের বিভিন্ন সময়ে নির্মলেন্দু গুণকে আবিষ্কার করেছি। আজকের দিনে যখন কোনো আবৃত্তি প্রতিযোগিতা শুনি, অবশ্যসম্ভাবী ভাবেই সেখানে নির্মলেন্দু গুণের কবিতা পাওয়া যায়। তার এমন অনেক কবিতাই আছে, কবির নাম বলার আর অপেক্ষা রাখে না, চেনা যায়।

প্রেমিক, বিরহী, গৃহত্যাগি সন্ন্যাসি, সভার মাঝে বিদ্রোহি, হুলিয়া মাথায় নিয়ে ফেরা ফেরারি, বিপ্লবী, দার্শনিক সবার জন্যই তার কবিতা আছে। গণমানুষের সংগ্রামী স্লোগানে, জাতির সংকটে, সামাজিক বিতর্ক, সম্প্রদায়িক দাঙ্গা দূরীকরণেও তার কবিতা সমানভাবে প্রাসঙ্গিক।
একথা আজ অবলীলায়ই বলা যায়, নির্মলেন্দু গুণ বাংলা কবিতায় সবচেয়ে পাঠকপ্রিয় ও নান্দনিক কবি। অতিক্রান্ত ৭০ বছর জীবনের ৫০ বছরের অধিক সময়ই তার কবিতা যাপনের কাল। গত শতাব্দির মধ্য ষাট থেকে শুরু করে এই একবিংশ শতকেও তার কবিতার হাত প্রবলভাবেই উর্বর। (সম্পূর্ণ…)

না প্রেমিক না বিপ্লবী, কেবলি কবি

কামরুল হাসান | ২২ জুন ২০১৫ ২:২৩ অপরাহ্ন

nirmalendu_goon.jpgপ্রতিটি কাব্যদশকে একগুচ্ছ নতুন কবি আসেন কবিতার নম্র আগুনে তাদের মায়াবী আঙুল পোড়াতে, কাব্যসাধনার কঠিনপথে জীবনের কড়ি খোঁয়াতে। অনেকে সারাজীবন কাব্যচর্চ্চা করেও থেকে যান আড়ালে, উপেক্ষিত; অনেকে আবিস্কৃত হন তাদের মৃত্যুর ঢের পরে, যেমন আবিষ্কৃত হয়েছিলেন জীবনানন্দ দাশ। কিন্ত কেউ কেউ আছেন সৌভাগ্যের বরপুত্র, খুব স্বল্প তারা সংখ্যায়, আবির্ভাবেই সাড়া ফেলে দেন, জীবদ্দশায় হয়ে ওঠেন কিংবদন্তি। প্রতিভা আর সৌভাগ্যের এক জাদুকরী মিশেল তাদের করে তোলে প্রবাদপ্রতীম! কবি নির্মলেন্দু গুণ সেই বিরল কতিপয়ের একজন যিনি আর্বিভাবেই সাড়া ফেলে দিয়েছিলেন, অল্প সময়েই কবি পরিচিতির শীর্ষে পৌঁছে গিয়েছিলেন। বস্তুতঃ স্বাধীনতার পরে যে কয়েকটি বছর কবিতা বইমেলায় শীর্ষ জনপ্রিয়তা ধরে রেখেছিলো, সে ক’টি কবিতাবসন্তে নির্মলেন্দু গুণের কাব্য হটকেকের মতো বিক্রি হতো। তিনি ও শামসুর রাহমান মিলে বইমেলাকে রীতিমতো শাসন করেছেন। তাঁর প্রেমাংশুর রক্ত চাই বইমেলায় প্রবল পাঠকপ্রিয়তা পেয়েছিলো। এরপরের গ্রন্থ না প্রেমিক না বিপ্লবীও পাঠকদের মাঝে একই উন্মাদনা ধরে রেখেছিলো। পরবর্তী সময়ে উপন্যাসের কাছে জনপ্রিয়তায় কবিতার হার হলেও ওই দু’জন কবির কাব্য কখনো অনাদরে পড়ে থাকেনি। ক্রমশঃই গুণ হয়ে উঠলেন কবিতার এক চূড়োমনি। (সম্পূর্ণ…)

মুনি রূপে গণ্য

মুহম্মদ নূরুল হুদা | ২১ জুন ২০১৫ ১:১৪ অপরাহ্ন

1414248769569.jpg
ঊনিশশত পঁয়তাল্লিশ, একুশ তারিখ, জুন
বৃহস্পতিবারে জন্ম নির্মলেন্দু গুণ।
বারহাট্টা, কাশতলা, জেলা নেত্রকোণা
জন্ম দিলো এমন শিশু, ইতিহাসে গোণা।

কংশতীরে হংস তিনি, বাংলাজোড়া ডানা
কাল পেরিয়ে ডাল পেরিয়ে মহাকালে হানা।
একাত্তরে কম-বা-বেশি একাত্তরটি তূণ
শব্দে-ছন্দে ছুঁড়েছিলেন নির্মলেন্দু গুণ।

বাংলাদেশের ‘স্বাধীনতা’র গল্পটি তার বুকে
সত্তুরটি বছর কাটে সুখ মিশিয়ে দুখে।
হৃদয়টা তার কাটাকুটি, শিরায় নীরার ব্রীড়া
ক্ষমতাকে কুছপরোয়া, চায় মমতার হীরা। (সম্পূর্ণ…)

ইয়েটসের ১৫০তম জন্মদিনে

বিনয় বর্মন | ২০ জুন ২০১৫ ২:১৪ অপরাহ্ন

yeats.jpgএ বছর ১৩ জুন সমগ্র পৃথিবীতে ধুমধাম করে পালিত হলো বরেণ্য আইরিশ কবি উইলিয়াম বাটলার ইয়েটসের ১৫০তম জন্মদিন। বাংলাদেশে এর তেমন ঘনঘটা চোখে পড়েনি, যদিও সেটাই ছিলো প্রত্যাশিত। বাংলা ভাষাভাষীদের পক্ষে ইয়েটসকে বিশেষভাবে স্মরণ করার বিশেষ কারণ রয়েছে। ইয়েটস সেই কবি যিনি বাংলা সাহিত্যের প্রথম ও একমাত্র নোবেল পুরস্কার অর্জনের ক্ষেত্রে গুরত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিলেন। ১৯১৩ সালে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের নোবেল প্রাপ্তির পেছনে তাঁর অবদান ছিলো অনস্বীকার্য। তিনি ইংরেজি গীতাঞ্জলির অনন্যসাধারণ একটি ভূমিকা না লিখলে এবং রবীন্দ্রকবিতার ভূয়সী প্রশংসা না করলে গীতাঞ্জলি নিশ্চিতভাবে নোবেল কমিটির কাছে উপেক্ষিত থেকে যেতো এবং বাংলা সাহিত্য পেতো না নোবেলের স্বাদ। নিজে একজন উচ্চমার্গের কবি হিসেবে ইয়েটস রবীন্দ্রনাথকে চিনেছিলেন, বিশ্ববাসীকে চিনিয়েছিলেন এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্যের বিশ্বজয়ের পথ সুগম করেছিলেন। ইয়েটস (যিনি নিজে নোবেল পুরস্কার পেয়েছিলেন ১৯২৩ সালে, রবীন্দ্রনাথের দশ বছর পরে)-এর কাছে আমাদের কৃতজ্ঞতার অন্ত নেই। (সম্পূর্ণ…)

মহীউদ্দীনের অগ্রন্থিত আত্মজৈবনিক রচনা

রাজু আলাউদ্দিন | ১৯ জুন ২০১৫ ১২:০৮ পূর্বাহ্ন

কিছুদিন আগে দিল্লীতে দৈবের বশে বাংলাদেশের কথাসাহিত্যের আদিপর্বের প্রধান লেখকদের একজন কথাসাহিত্যিক অনুবাদক মহীউদ্দীন চৌধুরীর অগ্রন্থিত এই লেখাটি নজরে আসে। হাফিংটন পোস্ট (ভারত)-এর বার্তা সম্পাদক ইন্দ্রানি বসু, তার বাবা লেখক অধ্যাপক দিলীপ কুমার বসু এবং লেখিকা ও শিক্ষিকা নন্দিতা বসুর ব্যক্তিগত পাঠাগার দেখার সুযোগ করে না দিলে এই আবিষ্কার আদৌ সম্ভব হতো কিনা সন্দেহ। তাদের উদার আতিথেয়তার সুযোগ নিয়ে ফাঁকে ফাঁকে চোখ বুলিয়ে নিয়েছিলাম লোভনীয় পাঠাগারের ঘুমিয়ে পড়া বইগুলোর দিকে। নিতান্ত কৌতূহলবশত–পুরোনো বইয়ের প্রতি যা আমার সদাজাগ্রত–শ্রীশৌরীন্দ্রকুমার ঘোষ এবং শ্রীপরেশ সাহার সম্পাদনায় কথাশিল্পী শীর্ষক ঘুমের অভিশাপে নিথর রাজকুমারীর গায়ে সোনারকাঠি ও রূপোরকাঠিসদৃশ প্রেমপ্রবণ আমার আঙুলের স্পর্শ মাত্র সে চোখ মেলে তাকালো। আমিও চোখ রাখলাম বইটির বারান্দায় (সূচীপত্রে)। দেখলাম সেখানে বসে অাছেন পশ্চিমবঙ্গের খ্যাতিমান লেখকদের পাশাপাশি বাংলাদেশের লেখক আবুল ফজল, আবু ইসহাক, মহীউদ্দীন চৌধুরী, মবিন উদদিন আহমদ এবং শামসুদদীন আবুল কালাম। এই গ্রন্থের জন্য লিখিত আত্মজৈবনিক এই লেখাগুলো এখনও পর্যন্ত তাদের কোনো গ্রন্থে অন্তর্ভুক্ত হয়েছে বলে জানা যায় না। আমরা এই পর্বে লেখক মহীউদ্দীন চৌধুরীর লেখাটি প্রকাশ করছি। স্মরতব্য যে মহীউদ্দীন চৌধুরী শেষের দিকে কেবল মহীউদ্দীন নামেই পরিচিত হয়ে উঠেছিলেন।
শ্রীশৌরীন্দ্রকুমার ঘোষ এবং শ্রীপরেশ সাহা সম্পাদিত কথাশিল্পী গ্রন্থ সম্পর্কে জ্ঞাতব্য তথ্য হচ্ছে এই যে এটি প্রকাশ করেছিল কলকাতার ভারতী লাইব্রেরী, প্রকাশক ছিলেন জে. সি. সাহা রায়। কলকাতার লোয়ার সাকুর্লার রোডস্থ শতাব্দী প্রেস প্রাইভেট লি:-এর পক্ষে শ্রীমুরারিমোহন কুমারের তত্ত্বাবধানে মুদ্রিত হয়েছিল। এর প্রথম প্রকাশকাল ছিল পৌষ ১৩৬৪, আজ থেকে প্রায় সাতান্ন বছর আগে। ১৭০ পৃষ্ঠার সুমুদ্রিত এই বইটির দাম ছিল পাঁচ টাকা। (সম্পূর্ণ…)

পুলক হাসানের চারটি কবিতা

পুলক হাসান | ১৭ জুন ২০১৫ ৬:৪৬ অপরাহ্ন


মুহূর্তমা

মুহূর্তের ভরসা নেই, মুহূর্তমা
তোমার মধ্যে কত ক্ষোভই না ছিল জমা!
গোপন বিদ্রোহ
মুহূর্তে থামাল জীবনপ্রবাহ।
জীবনানন্দ দেখলো, কত অসহায় সে
তোমার সেই তুরুপের কাছে
দেখলো শরৎ বাবু
প্রেমের পৃথিবী
দ্রুত অসীমে লুকালো
আর হিমালয় দুহিতা
দেখলো দুঃস্বপ্নের এক দেবতা
প্রিয়ভূমে দোজখের ওম। (সম্পূর্ণ…)