খুনিকে তাক করে

আনিসুর রহমান | ২ মে ২০১৬ ৭:৫০ অপরাহ্ন

anisur.jpgঅন্যেরা যখন পৃথিবী ও চন্দ্রের দূরত্বের মাপ শেষে, তার ভেতর বাহির নিয়ে গবেষণায় বসে;
তারা যখন পৃথিবীর পথ শেষে আকাশের মেঘ ফুরে, মঙ্গলের দৈর্ঘ্য, প্রস্থের হিসেব কষে;
দুনিয়ায় আলো পড়ে; আমাদের ঘরে কে অন্ধকার করে; সূর্য কি লিঙ্গ বৈষম্যের খপ্পরে পড়ে?
অন্যেরা যখন সাবমেরিনে ডুবুরি, তলদেশে জমিনের খবর করে, স্বপ্নের চাষবাস করে; প্রাণী ও
বৃক্ষের সাথে ঘর করে, আমরা কেন হাত পাকাই গাছ কেটে, পাখি শিকার করে? আমরা
সাগরের তলদেশ দেখি নৌকায় ফুটো করে? সে কবে কোন ভোরে নৌকায় ডাকাত পড়ে,
পিতারে খুন করে, সোনার ধান লুট করে? সেই ধানে পোক ধরে, পৃথিবী-পাল্লায় স্বপ্ন, কল্পনা
মাপজোখ করে; আমরা কেন দিন শেষে রক্ত ও কান্না মাপি অন্ধকার রাত্রিকে দীর্ঘ করে?
হকিং-এর কথায় মানুষের আশা ফেরে; কে কবে মহাকাশে কলোনি করে? কে তবে আমাদের
পাড়ায় ছুড়ি শান দিয়ে খতম কতল শপথ করে? কে তারা জমিনের সর্বনাশ করে মাইন পুতে
পকেট ভারী করে? কে তারা আমার বাঁচার পথে তালা মেরে খুনির পালাবার পথ প্রশস্ত করে? (সম্পূর্ণ…)

শাপলা সপর্যিতার কবিতাগুচ্ছ

শাপলা সপর্যিতা | ১ মে ২০১৬ ৯:৫৩ অপরাহ্ন


লিখেছি হৃদয়

যে রাতে আমি উপন্যাসটা লিখে শেষ করলাম সে রাতে একটা বাজপাখি খুঁটে খেল চাঁদের জোছনা। রাতের অন্ধকার। আলো জ্বালিনি আর। আমি নিমগ্ন। ধ্যানে। সৃষ্টির উন্মাদনা আমাকে প্রলয়তাড়িত করে চলেছে। যাইনা ফুলবাগানে। সাজিনা কুঙ্কুমে টিপে। দু’খানি শাখা পড়া হাত আমার–উলঙ্গ ক্ষিপ্র অস্থির দশ আঙুল। ভেতরে আর এক উন্মত্ত অশ্ব। ক্রমাগত ধেয়ে চলেছে উত্তুঙ্গ প্রবাহে। তার ক্ষুরের আঘাতে আঘাতে ছিঁড়ে যাচ্ছে পৃষ্ঠার পর পৃষ্ঠা। ছিঁড়ে যাচ্ছে ইনিদ ইলিয়াড ওডিসি মেঘনাদ বধ আর আর যা যা আছে পৃথিবীর সব জটিল মহাকাব্য…

sapla.jpg

গালি, আহা জেসাস

সে বছরটার গণগণে সূর্য পাতার বাহার কড়ি ও কোমল
আমন্ত্রণ এবং গ্রহণ সবই বিমর্ষ
ধুমল বৃষ্টিতে আমি দৌড়ে পার হচ্ছিলাম একটা বিস্তৃর্ণ খোলা মাঠ
ছিল না কোন বর্ষাতি কিংবা বল্লম সাথে
ধুম্রঝড়ে উড়ন্ত পতাকাগুলোতেও বিঁধছিল গোলাপের কাঁটা
পেছন থেকে অর্জুনের তীক্ষ্ণ তীর বিদ্ধ করছিল আমার মসৃণ পিঠ
অগুণতি কাক চিল শকুন শেয়াল নদী নারী নাগিণী সাপিনী বিভ্রান্তি বিভ্রাট পেছনে সব।
আমি দৌড়াচ্ছিলাম দৌড়াচ্ছিলাম দৌড়াচ্ছিলাম …
একটা বছর আমি শুধু দৌড়েছিলাম কোথাও থামবো বলে ।
আমি নিতান্ত ভালোবেসেছিলাম দিগন্ত ফুল প্রজাপতি কবি ও কলম
কবিতাগুলোকে একীভুত করে নিবেদন করেছিলাম এক ছায়াবৃতের কাছে
ফুলগুলোকে বাঁধছিলাম নিবেদন করবো বলে
প্রজাপতিকে সাধছিলাম রং নেব আর দিগন্তকে চেয়েছিলাম
বিশালতা মাখবো শরীরে। (সম্পূর্ণ…)

সাম্প্রতিক বিশ্বসাহিত্য: দ্য জাঙ্গল বুক-এর চোখধাঁধানো নতুন অলংকরণ

বিপাশা চক্রবর্তী | ২৯ এপ্রিল ২০১৬ ৫:৩৩ অপরাহ্ন

kipling_rudyard.jpg
রুডইয়ার্ড কিপলিং-এর বিখ্যাত শিশুতোষ গল্প দ্য জাঙ্গল বুক আমাদের সকলেরই হৃদয় ও কল্পনা জুড়ে কম বেশি জায়গা করে আছে। সেই কবে ১৮৯৪ সালে প্রথম প্রকাশিত হয় দ্য জাঙ্গল বুক। বনের ভেতর নেকড়ে পরিবারের কাছে বেড়ে ওঠা একটি শিশুর গল্প আজও এই একবিংশ শতকের ব্যস্ত আধুনিক শহুরে মানুষদের মাতিয়ে রেখেছে। তার সবচেয়ে বড় প্রমাণ মাত্র কিছুদিন আগে মুক্তি পাওয়া ওয়াল্ট ডিজনি প্রযোজিত চলচ্চিত্রটি যা নিয়ে এই মুহূর্তে মজে আছে গোটা পৃথিবী, ছেলে বুড়ো সবাই। তবে দ্য জাঙ্গল বুক’কে নিয়ে এটাই প্রথম চলচ্চিত্র নয়। এর আগে এই ওয়াল্ট ডিজনি পিকচারস বানিয়েছিল এনিমেটেড মিউজিক্যাল কমেডি ফ্লিম ‘দ্য জঙ্গল বুক’। তারই ধারাবাহিকতায় ২০১৬-এর এপ্রিলে মুক্তি পায় আধুনিক ডিজিটাল প্রযুক্তিনির্ভর চলচ্চিত্রটি। শুধু কি তাই, পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে বিভিন্ন ভাষায় এ পর্যন্ত দ্য জাঙ্গল বুক ও এর প্রধান চরিত্র মোগলিকে নিয়ে এখন পর্যন্ত তৈরি হয়েছে বহু কার্টুন ও এনিমেটেড শো, কমিকস, টিভি সিরিজ কত কিছু। এই শিশুতোষ গল্পটি কেবল সাহিত্যক্ষেত্রেই অনন্য নয় বরং একে উপজীব্য করে গড়ে উঠেছে বিভিন্ন প্রকার ব্যবসায়িক মুনাফা লাভের কার্যক্রম। সম্ভবত মানুষের রক্তে সুপ্ত হয়ে থাকা আদিম বন্যতাই তাকে বার বার নিয়ে যায় জঙ্গলে বেড়ে ওঠা মোগলি ও তার পশুবান্ধব বালু, বাঘেরাদের কাছে। মানুষ যেন নিজেকে ফিরে পায় মোগলির মাধ্যমে। এমনকি শিল্পীর চোখেও বার বার কল্পিত ও অংকিত হয়েছে মোগলি ও দ্য জাঙ্গল বুক-এর অন্যান্য চরিত্র এবং ঘটনা। border=0আরও মজার ব্যাপার হলো দ্য জাঙ্গল বুক-এর প্রথম সংস্করণের অলংকরণ করেছিলেন রুডইয়ার্ড কিপলিং-এর পিতা জন লকউড কিপলিং।

সম্প্রতি দশ জন শিল্পী ও আঁকিয়ে দ্য জাঙ্গল বুক থেকে তাদের প্রিয় দৃশ্য ও চরিত্রগুলিকে নতুনরূপে সৃষ্টি করার রঙিন চেষ্টা করেছেন। এক নজর দেখা যাক তাদের সেই বর্ণিল শিল্পকর্ম। (সম্পূর্ণ…)

পূরবী বসুর কবিতা: পদ্মস্নান

পূরবী বসু | ২৮ এপ্রিল ২০১৬ ১২:২৫ অপরাহ্ন

(ধর্ষনের মতো অপরাধের কোন বিচার বা শাস্তি হবে না বুঝতে পেরে ধর্ষনের শিকার মেয়েটির উদ্দেশে)
ওঠ ছেমরি,ওঠ এবারে, দূর করে দে ভয়,
মনে রাখিস্‌, এমনি করেই বেঁচে থাকতে হয়।

যা ছেমরি, পুকুর ঘাটে, গোসল সেরে আয়
ঘষে মেজে নাইবি যাতে নোংরা মুছে যায়।

কান্না কীসের? বলি মেয়ে, চোখে কেন জল?
এমন কী আর হয়নি আগে নিজের মুখেই বল্‌!

গেল বছর চৈত্র মাসের কালবৈশাখীতে,
জয়া গেল তুফান-ঝরা আম কুড়াইতে।

কোথায় আম! কোথায় জয়া! সন্ধ্যা নামে ঘাটে
বেহুঁস মেয়ে খুঁজে পেতে সারাটা রাত কাটে। (সম্পূর্ণ…)

সাইফুল্লাহ মাহমুদ দুলালের গুচ্ছ কবিতা

সাইফুল্লাহ মাহমুদ দুলাল | ২৭ এপ্রিল ২০১৬ ১০:৩১ অপরাহ্ন


ভাইফোঁটা

তোমার বিভিন্ন অঞ্চলে, তোমার পাতায় পৃষ্ঠায় চাপাতির চাকচাক রক্ত! তুমি রক্তমাখা গ্রন্থ। তুমি রক্ত দিয়ে পরেছো সিঁদুর, পরেছো রক্তের টিপ! তোমার নম্র-নরম হাতে রক্তে আঁকা মেহেদি, নখে রক্ত রঙের লাল নেলপালিশ। পায়ের পাতায় লতানো রক্তাক্ত আলতা!

সেই সম্পর্কের রক্ত স্পর্শ করে রক্ত দিয়েই দীপনের কপালে দিলে বিদায়ী ভাইফোঁটা!

ভ্রমণ

নায়াগ্রা যাবার পথে বিদেশি গ্রাম। টিম হর্টনস। খামারবাড়ি। কোথাও শর্ষে ক্ষেত দেখি না।
শীতল অরণ্যে আপেল গাছ, পাতার আড়ালে শুধু নারী আপেলের নিমন্ত্রণপত্র
ঘন কুয়াশার বদলে গাঢ় স্নো’র ছড়াছড়ি, শীতমাত্রা শৈলপ্রপাতে মাত্রাহীন মাইনাস।
সাপের শরীরের মতো সড়কের দু’পাশে চারপাশে নীলজল, জলপরীদের জলকেলি
মানব গন্ধে জুম-যুবতীরা ছায়া ফেলে মিলিয়ে গেলো স্নো-কুয়াশায়। এখনো কাঁপছে জল! (সম্পূর্ণ…)

বিনয় বর্মনের পাঁচটি প্রত্নতাত্ত্বিক কবিতা

বিনয় বর্মন | ২৭ এপ্রিল ২০১৬ ৫:৩৩ অপরাহ্ন


গোবেক্লি তেপে

হৃদয় আমার ঘুমিয়ে ছিলো মাটির গভীরে
বারো হাজার বছরের ঘুম
পৃথিবীর প্রথম মন্দিরে
অস্পষ্ট সৌরবৃত্ত
মধ্যগগনে জন্মবিন্দু
দুহাত ছড়িয়ে যিশু দাঁড়িয়ে আছেন বারোজন শিস্যসমেত
নাকি শিবপার্বতীর যুগলমূর্তি মাঝখানে
আদিম ইতিহাস ঘুরপাক খায় রাশিচক্রে
পাথরঘড়িতে সমাহিত স্বপ্ন
আমি আজ জেগে উঠেছি
গাঁইতির ঘায়ে তোমাদের প্রত্নতাত্ত্বিক উৎসবে
শিকারে ক্লান্ত হয়ে ঘুমিয়ে পড়েছিলাম
কেনো আমার ঘুম ভাঙালে বিংশনিষাদ?
তোমাদের ক্রুরতা আমাকে পীড়া দেয়
বুনো মোষ দুই শিঙে বিদ্ধ করে আমাকে
সাপ পেঁচিয়ে ধরে শরীর
গিরগিটি মাকড়শা পিল পিল করে ঢোকে নাকমুখ দিয়ে
হে সারস আমাকে উড়িয়ে নিয়ে যাও আকাশে
যেখানে থাকে আমার হৃদয়সখা।

gobekli-tepe.jpg
গোবেক্লি তেপে তুরস্কের দক্ষিণপূর্বাঞ্চলে অবস্থিত সুপ্রাচীন প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন। প্রায় বারো হাজার বছর পূর্বে এখানে নির্মিত হয় প্রস্তরস্তম্ভ। স্থানে স্থানে বারোটি করে স্তম্ভ চক্রাকারে দাঁড় করানো; মাঝখানে আরো দুটি অপেক্ষাকৃত বৃহৎ স্তম্ভ। এটিকে বলা হচ্ছে পৃথিবীর সর্বপ্রাচীন মন্দির। ক্লাউস শ্মিট নামে একজন জার্মান প্রত্নত্তত্ববিদ ১৯৯৪ সালে এটির সন্ধান পান। (সম্পূর্ণ…)

টুঙ্গিপাড়া: মহানায়কের প্রতিকৃতি

আবু মো: দেলোয়ার হোসেন | ২৫ এপ্রিল ২০১৬ ১:২৭ অপরাহ্ন

tungipara.jpg“বঙ্গবন্ধু নিহত হওয়ার পর অনেক দিন চলে গিয়েছিল, দেশের ভিতরে কোথায়ও প্রকাশ্যে কেউ তাঁর নাম শ্রদ্ধা ও ভালবাসার সঙ্গে উচ্চারণ করতে পারছিলাম না। এ ব্যাপারে সামরিক শাসকদের কোনো বিধি-নিষেধ আরোপিত না থাকলেও তাদের আকারে-ইঙ্গিতে বুঝিয়ে দেওয়া অলিখিত বিধি-নিষেধ দেশের মানুষের মধ্যে এক ভীতিকর পরিস্থিতি সৃষ্টি করে রেখেছিল।” কবিবর নির্মলেন্দু গুণের বক্তব্য থেকে এটি স্পষ্ট যে ১৯৭৫ এর ১৫ আগস্টের পর আদর্শিক পরিবর্তনের মাধ্যমে মুক্তিযুদ্ধ এবং বঙ্গবন্ধুর নাম-নিশানা মুছে ফেলার সম্পূর্ণ কার্যক্রমই গ্রহণ করা হয়েছিল। কিন্তু একবার যখন শুরু হলো তখন ‘বুকের মধ্যে চেপে-বসা একটি পাথর অপসারিত হয়’। ‘বাংলাদেশে বঙ্গবন্ধু চর্চা’র হিসেবে বর্তমানে বঙ্গবন্ধুর জীবনী থেকে শুরু করে তাঁকে নিয়ে লেখা গ্রন্থের সংখ্যা এক হাজারের ওপরে। বিভিন্ন আঙ্গিকে, বিভিন্ন ভাবে গল্প, উপন্যাস প্রবন্ধ, কবিতা, ছড়া, নাটক, কথিকা, চলচ্চিত্র, জীবনী, আত্মজীবনী, স্মৃতিচারণ, ইতিহাস গ্রন্থ, স্মারক গ্রন্থ প্রভৃতি প্রকাশিত হয়েছে এবং হচ্ছে। বাংলা-ইংরেজি মিলিয়ে ৩১ টি প্রবন্ধ, ৪ টি গল্প, ৩৫ টি কবিতা, ১ টি কথিকা, ১টি প্রচারপত্র, জীবন পরিচয়, ২৮ টি আলোকচিত্র (বঙ্গবন্ধু) এবং পঁচাত্তরের ১৫ আগস্টের নির্মম ঘটনার বিবরণ রয়েছে ‘টুঙ্গিপাড়া’ গ্রন্থটিতে। বঙ্গবন্ধুর জন্মস্থানকে প্রতীকী হিসেবে নামকরণের জন্য গ্রহণ করলেও মূলত এটি বঙ্গবন্ধু স্মারক গ্রন্থ। (সম্পূর্ণ…)

সাম্প্রতিক বিশ্বসাহিত্য: বিজ্ঞানসচেতন শেক্সপিয়র

বিপাশা চক্রবর্তী | ২৩ এপ্রিল ২০১৬ ৮:৫৭ অপরাহ্ন

w-s.jpgউপলক্ষটি চার’শ বছরের। তা যতই ভক্ত, অনুরাগী থাকুক না কেন, কর্মগুণ না থাকলে কেউ চারশ বছর ধরে বাঁচে কী করে? অাভনের কবি থেকে যিনি হয়েছেন সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ নাট্য স্রষ্টা। বলাই বাহুল্য, ইংরেজী ভাষায় তিনিই সর্বশ্রেষ্ঠ সাহিত্যিক। উইলিয়াম শেক্সপিয়র। তাঁর সৃষ্টিকর্মকে উপজীব্য করে আজও মেতে আছে মননশীল আধুনিক মানুষেরা। যাকে নিয়ে আবার নাক সিঁটকেছিল একদল অজ্ঞ শূন্যগর্ভ লোক। তাঁর কালজয়ী সব নাটকের ছায়া অবলম্বনে একদিকে যেমন তৈরি হয়েছে জনপ্রিয় সব চলচ্চিত্র তেমনি রচিত হয়েছে বহু গল্প উপন্যাস। অন্যদিকে এসবকিছু ব্যবহার করে জমজমাট ব্যবসা করে যাচ্ছে অনেক প্রতিষ্ঠান। কিন্তু সবকিছুকেই ছাপিয়ে গেছে তাঁর প্রতি মানুষের ভালবাসা আর মুগ্ধতা। তাঁর সৃষ্টিকর্মে অনুপ্রাণিত প্রভাবিত হয়েছেন আধুনিক যুগের শ্রেষ্ঠ সব শিল্পী ও সাহিত্যিকরা।

শেক্সপিয়রের ব্যক্তিজীবন থেকে শুরু করে তার সাহিত্যকৃতির নানা দিক নিয়ে আলোচনার অন্ত নেই। কিন্তু এত আলোচনার পরও এখনও তার অনালোকিত এমন সব দিক আছে যা নিয়ে আলোচনা হতে পারে। ‘শেক্সপিয়র বার্ষিকীতে’ যে বিষয়টি পাঠকদের সামনে তুলে ধরতে চাই তা–বলাই বাহুল্য যে সম্প্রতি প্রকাশিত একটি বইয়ের সূত্রে–এবং এ নিয়ে সম্ভবত খুব কম আলোচনাই হয়েছে। প্রাচ্যে তো বটেই এমনকি পাশ্চাত্যেও। পশ্চিমের দেশগুলোর মুষ্টিমেয় পণ্ডিতরা এ বিষয়টি নিয়ে গবেষণা করেছেন। সেটা কী? “শেক্সপিয়র বিজ্ঞান জানতেন”! আমরা সাধারণত ‘শেক্সপিয়র’ আর ‘বিজ্ঞান’ এই দুটি দিককে কখনোই একসাথে ভাবি না। আর একটি ব্যাপার শেক্সপিয়রের সেই ভিক্টোরিয়ান যুগের বিজ্ঞান এখনকার বিজ্ঞানের মতো ছিল না। তবে এটা ঠিক শেক্সপিয়র বসবাস করেছিলেন এমন একটা অসাধারণ সময়ে যা ছিল বিজ্ঞানের বৈপ্লবিক পরিবর্তন সূচিত হবার প্রথম পর্ব। যদিও এই মহান কবির জীবদ্দশায় জাদু আর নানা প্রকারের কুসংস্কার রাজত্ব করত। তবুও বলা যায় সেটা ছিল বৈজ্ঞানিক পর্যবেক্ষণ ও আবিষ্কারেরই যুগ। মহাবিশ্ব এবং মহাবিশ্বে মানুষের অবস্থান সম্পর্কে নতুন নতুন জ্ঞান মানুষের মনোযোগ আকর্ষণ করছিল তখন।
এই মুহূর্তে পৃথিবী উদযাপন করছে এই মহান নাট্যকারের ৪৫২তম জন্ম ও ৪০০তম মৃত্যুবার্ষিকী। আর এইসময়ে এসে আমরা জানতে পারছি জগতের প্রাকৃতিক পরিবেশ তথা বিজ্ঞানের প্রতি শেক্সপিয়রের আগ্রহের কথা। (সম্পূর্ণ…)

পাওলো কোয়েলো’র মারিয়া: ভালোবাসায় আত্মার মুক্তি খোঁজা নারী

সেরীন ফেরদৌস | ২১ এপ্রিল ২০১৬ ১:২২ অপরাহ্ন

border=0মারিয়া কারো কথা কানে নিতে শেখেনি। খুব ছোটবেলা থেকে তার চরিত্রের এই বিশেষ দিকটি ফুটে ওঠে যে, সে অপ্রতিরোধ্য, নিজ হাতে জীবনকে ঘেঁটে-ছেনে ভালোবাসার স্বরূপ অনুসন্ধানেই নিয়োজিত থাকবে; ‘টারমিনেটর’ মুভির মতো সে ভেঙে শত টুকরো হয়ে ছড়িয়ে পড়বে, আবার জোড়া লেগে নতুন উদ্যমে এগিয়ে যাবে। ওকে যেন কিছুতেই মাড়ানো যাবে না, ও যেন প্রতিজ্ঞা করেছে অভিজ্ঞতার প্রতিটি শাখা-প্রশাখা থেকে রস নিয়ে ও বারবার নিজেকে অতিক্রম করে যাবে। পুড়ে যাওয়া হৃদয়ের ভস্মের ভেতর দিয়ে বার বার জন্ম নেবে ভালোবাসার নতুন ফিনিক্স!

জীবনকে বুঝে উঠবার আগেই যে ভালোবাসার তীব্র আলোয় ঝলসে উঠেছিলো সে। বুঝে উঠবার আগেই তাকে এফোঁড়-ওফোঁড় করে দিয়ে যায় তা। ব্রাজিলের দূর শহরের ছোট্ট গ্রামের ভেতরের ততোধিক ছোট্ট পৃথিবীতে প্রথম যখন নিজেকে সে খুঁজে পেয়েছিলো এক বালকের চোখের তারায়, তখন তার বয়স মাত্র ১১ বছর। অচেনা সে বালকের নাম পর্যন্ত কোনোদিন সে জানতে পারেনি। প্রতিদিন তাকে দেখতো, রাস্তার অপর পাশে। চুপচাপ হেঁটে চলেছে মারিয়ার সমান্তরালে, সলাজ ভঙ্গীতে, কখনোই সাহস করে কিছু বলে উঠতে পারেনি। মারিয়া নিজেও ভেবে উঠতে পারেনি, তাকে কিছু বলা উচিত কি না। এভাবে মাসের পর মাস কেটে যেতে মারিয়া একপ্রকার অভ্যস্ত হয়ে উঠেছিলো, যদিও মারিয়া পরবর্তী জীবনে বহুবার নিজেকে ধিক্কার দিয়েছে বালিকা বয়সের ওই অভ্যস্ত হয়ে যাবার প্রক্রিয়াটি রপ্ত করার অপরাধে। পরবর্তী জীবনে মূল্য দিয়ে দিয়ে মারিয়া এই জ্ঞান অর্জন করেছে, ভালোবাসায় অভ্যস্ত হয়ে যাবার মানে ভালোবাসার মৃত্যু! (সম্পূর্ণ…)

সুকারি’র ধাতব আবেগ

মাজুল হাসান | ১৯ এপ্রিল ২০১৬ ৬:৪৭ অপরাহ্ন

sukari-5.jpgপাবলো পিকাসো বলেছিলেন- Sculpture is the art of the intelligence. শুধু ভাস্কর্য নয় শিল্পের অন্য যে কোনো মাধ্যমের জন্য এ কথা সত্য। তবে ভাস্কর্য যেহেতু ত্রিমাত্রিক অবয়বে উপস্থিত হয় সেহেতু এর পেছনে থাকে আরও বুদ্ধিবৃত্তিক চারুকৌশল। সাথে যোগ হয় নিষ্ঠা, প্রজ্ঞা ও ব্যক্তিগত কারিশমা। কবিতায় আমরা যেমন কবি-মানসের আলোকে মূর্তায়ন, অর্ধ কিংবা পূর্ণ বিমূর্ততার স্বাদ পাই, তেমনি পাই পেইন্টিং-এও। সেখানে রঙ ও রেখার টানে অনেক শিল্পমাহাত্ম আরোপের সুযোগ থাকে, করা হয়ে থাকে। কিন্তু কথাসাহিত্যে শেষ পর্যন্ত মূর্ততার দিকেই আস্থাশীল থাকতে হয় শিল্পীকে। ননফিকশনে বিষয়টি আরও প্রবল। সেখানে বিষয় ও বক্তব্যে আরও পরিশীলিত পরিচর্চার ছাপ থাকাটা জরুরি। অনেকে তাই প্রবন্ধ বা মননশীল লেখাকে স্কালচার বা ভাস্কর্যের সাথে তুলনা করে থাকেন। মাইকেলেঞ্জেলো অবশ্য ভালো পেইন্টিংকে ভাস্কর্যের সাথে তুলনা করেছিলেন। ভালো ছবির থরে থরে সাজানো দৃঢ় ও প্রকাশ্য সৌন্দর্যের কারণে‌ই হয়তো এই অভিধা। মোটা দাগে, Painting is so poetic, while sculpture is more logical and scientific and makes you worry about gravity।এই তফাত গড়ে দেয় দুই মাধ্যমের ব্যক্তিগত ক্যারেক্টারিস্টিস তথা স্পেস।

পেইন্টিং দ্বিমাত্রিক আর ভাস্কর্য ত্রিমাত্রিক বিষয়। দ্বিমাত্রিক একটি শিল্প নমুনায় অনেক কিছুই থাকে অধরা-অপ্রকাশ্য, ওর অনেক সীমাবদ্ধতা থাকে। এই লুপহোলগুলো পূরণ করে নিতে হয় নন্দনতত্ত্ব ও শিল্প আস্বাদের ক্ষুধা দিয়ে। এখানেই চলে আসে ওপেন এন্ডেড ইমাজিনেশনের বিষয়টি। পেইন্টিং-এ, কবিতায় এই ওপেন এন্ডেড ইমাজিনেশনের ওপর অনেক কিছুই নির্ভর করে। কিন্তু ভাস্কর্য ত্রিমাত্রিক, একজন দর্শক সেটেকে দৈর্ঘ-প্রস্থ-উচ্চতায় চারদিকে ঘুরে ঘুরে দেখার সুযোগ পান। এর ভাবগত বিমূর্ততা যে পর্যায়েরই হোক না কেনো তা চাক্ষুষ, স্পর্শযোগ্য। এখানে ইমাজিনেশ থাক বা না থাক, দর্শক একটি অবয়ব প্রত্যক্ষ করেন, যা বাস্তব। এ কারণেই মার্কিন পেইন্টার চাক ক্লোজ বলেছিলেন- Sculpture occupies real space like we do… you walk around it and relate to it almost as another person or another object. এখানেই মোটা দাগে অন্য শিল্পমাধ্যমের সাথে ভাস্কর্যের ফারাক। শিল্পের কোনো মাধ্যমই কখনো একলা চলে না। একজন ভালো ঔপন্যাসিক যখন একটি কাহিনিচিত্র নির্মাণ করেন ভাষা ও ভাব মাধুর্যে তা হয়ে ওঠে মহাকাব্যিক। আবার কোনো বড়মাপের শিল্পী যখন ছবি আঁকেন তখন সেটা সৌধের মতো দৃঢ় ও প্রত্যক্ষ হয়ে ওঠে। আবার কোনো কোনো ভাস্করের দৃঢ় ভাস্কর্যগুলো হয়ে উঠতে পারে নরম, আবেগী, অধরা জগতের বস্তুসমাহার।

সাম্প্রতিক সময়ে যে সব ভাস্কর নিজেদের নামের সাথে সৃষ্টিশীল ও স্বপরিচয় প্রবলভাবে মেলে ধরেছেন তাদের একজন সুকারি ডগলাস ক্যাম্প। সৃষ্টিশীলতার স্বীকৃতি হিসেবে ব্রিটিশ এম্পায়ার অর্ডার অফ কমান্ডার খেতাবে ভূষিত হয়েছেন ২০০৫ সালে। সুকারির জন্ম ১৯৫৮ সালে নাইজার বদ্বীপের কালাবারিতে, যেটি এখন পড়েছে নাইজেরিয়ার বুগুমায়। বোন-জামাই বিখ্যাত ব্রিটিশ নৃতাত্তিক ও দার্শনিক রবিন হর্টনের সাহচর্যে বেড়ে ওঠা সুকারি’র। ভাস্কর্য ও শিল্পচর্চার দীক্ষার শুরুতে তিনি ভর্তি হয়েছিলেন যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়া কলেজ অফ দ্য আর্টস-এ। এরপর লন্ডনের সেন্ট্রাল কলেজ অফ আর্ট এন্ড ডিজাইন থেকে ফাইন আর্টসে বিএ এবং রয়েল কলেজ আফ আর্টস থেকে মাস্টার্স ডিগ্রী লাভ করেন। এখন পাকাপাকিভাবে বিলাতনিবাসী। ওখানেই ওর স্টুডিও- সারাদিন স্টিলের সাথে ধস্তাধস্তি। অন্য অনেক জিনিস নিয়ে কাজ করলেও সুরাকির সাচ্ছন্দ্য স্টিলে। সবচেয়ে শক্ত ধাতু দিয়ে সবচেয়ে আবেগী চরিত্র নির্মাণই যেন ওর অভিপ্রায়।

শিক্ষা ও শিল্পসৃষ্টির চোখটি পাশ্চিমের হলেও সুকারি কিন্তু শেকড়মুখী। ওর ভাস্কর্যে ধরা দেয় সেই সুদূর আফ্রিকার কালাবারি’র প্রাচীন ইতিহাস-ঐতিহ্য। সেই সাথে সেখানকার আর্থ-সামাজিক পরিবর্তনশীলতা ও সাম্প্রতিক টানাপোড়েনও হয় অবয়ববন্দী। আর এতে করে একখণ্ড স্টিলকে তিনি ঘটমান বর্তমানের রেপ্লিকায় রূপান্তরিত করেন। এ এক অদ্ভূত ক্ষমতা। একইসাথে শিল্প ও শিল্পীর দায় বয়ে চলা এই ঝঞ্ঝাপ্রবন বিশ্বে যখন দুরূহ হয়ে উঠছে, তখন সুকারির ‘আর্ট ফর আর্ট সেক’ থিওরিকে নাকচ করা খুবই তাৎপর্যপূর্ণ। অবশ্য আফ্রিকান অরিজিনের শিল্পীদের বিরাট একটা অংশ সামাজিক দায়বদ্ধতা থেকে কাজ করেন। এজন্য তাদের কাজ অনেক বেশি জনসংলগ্ন। সহজেই সেই শিল্পের বক্তব্যটি ধরা পড়ে। সুকারির কাজও তেমন। ওগুলো বিনির্মাণ হলেও বিমূর্ত নয়।

border=0ধরা যাক, ‘ক্লোস টু মাই হার্ট’ ভাস্কর্যটির কথা, যেটি একই নামের একটি সিরজের অন্তর্ভূক্ত। এই ভাস্কর্যে আফ্রিকার ঐতিহ্যবাহী ঘাগরা পরে এক নারীকে দেখতে পাই। ওর হাতে একটি ফটোফ্রেম। সেখানে সাঁটা ছবিতে দেখা যায় ধোঁয়া উড়ছে একটি তেলকুপ থেকে। মহিলার মুখটি খুবই এবড়োথেবড়ো, চোখ-কান-মুখ পরিস্কার বোঝা যায় না। কালাবাতি’র সংস্কৃতিতে কেউ মারা গেলে প্রিয়জন তার ছবি প্রদর্শন করে। সুকারির ভাস্কর্যে ফটোফ্রেমে তেলকূপ থেকে ধোঁয়া ওঠার ছবি নির্দেশ করে ওটার মৃত্যু হয়েছে।

কালাবারির এমন অনেক ঐতিহ্য, মিথ, লোকাচারকে সঙ্গী করে সুকারির শিল্পযাত্রা। ওর কাজ বুঝতে হলে বুঝতে হবে কালাবারিকে; কালাবারির অতীত ও বর্তমান সঙ্কটকে। একটা সময় নিজস্ব সংস্কৃতি, ইতিহাস-ঐতিহ্য আর ক্ষুধা নিয়ে নিজের মতো ছিল কালাবারি, এখন সেখানে বহুজাতিক তেল কোম্পানির থাবা। সুকারি’র আদিগ্রাম যে দ্বীপে সেখানে এখন তেলক্ষেত্র, মানববসতি নেই। এই বিষয়টি খুব তাড়া করে হয়তো তাকে। খনিজের লোভে আফ্রিকাজুড়ে পশ্চিমের নগ্ন হস্তক্ষেপ ও যুদ্ধবিগ্রহ ও রক্তপাতের যে সংস্কৃতি কায়েম হয়েছে তার বিরুদ্ধে কথা বলে নিশ্চল ভাস্কর্যগুলো। এক জায়গায় সুকারি লিখছেন-
After being in Nigeria for my holidays I could not help but not notice the increase in the number of oil wells in the Kalabari region. An oil well had been sunk near an island that is particularly sacred because this was where the Kalabari nation started. From this island Kalabari chiefs spread out across the delta with their people to inhabit the islands we now live on. It was always nice to go to this island and to walk around the palm groves and the mounds where our people are buried.

বসতবাড়ি, ভিটেমাটি, গরস্তান- এভাবে পূর্বপুরুষের শেষ স্মৃতিচিহ্নটিও হারাচ্ছে মানুষ। তেলের জন্য। সুকারি তাই পুরুষ কিংবা নারী যে ভাস্কর্য তৈরি করেন না কেনো, তাদের অনেককেই দেখা যায় ড্রামের ওপরে। কখনো তেলের ড্রাম টুপি হয়ে বসে মাথায়, যেন মাথায় জেঁকে বসেছে ভার, ভেঙে পড়েছে আকাশ (Purge: Man)। প্রায়শ্চিত্ত সিরিজের ভাস্কর্যগুলোতে সুকারি পুরুষকে গড়েছে মাথায় সাহেবি টুপি পরা অবস্থায়। ওদের হাতে ছড়ি। পুরো শরীর গুলিতে ঝাঝরা। আর পুরুষ দাঁড়িয়ে আছে একটি তেলের ড্রামের ওপর। একইভারে নারী ভাস্কর্য গড়েছেন সুকারি (Purge: Woman)। নারীর উর্ধ্বাঙ্গে ফুলের বসন, গুলিতে ক্ষতবিক্ষত ফুল, শুভবোধ, স্বস্তি, শান্তি, প্রাণ।

sukari-3.jpgবলা যেতে পারে ১৯৯৬ সালে গড়া সুকারি’র আলাগবা ইন লিমবো (Alagba in Limbo) -এর কথা। যেখানে একটি মরদেহকে টেনে নিতে দেখি আমরা। কপেনহেগেন নাইটি সিক্সের জন্য বানানো এই ভাস্কর্যটির পটভূমি সম্পর্কে শিল্পী বলছেন- ‘তেল কোম্পানি সেলের সাথে নাইজেরিয়ায় আমার নিজের প্রদেশের একটা সংঘাত চলছে। নয়জনকে ফাঁসি দেয়া হয়েছে কোনো স্বচ্ছ্ব শুনানি পর্যন্ত হয়নি। … আলাগমাকে দেখলে বুঝতে পারবেন তিনি ছেলে বা মেয়ে যাই হোন না কেনো, তাকে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে অসৌজন্যমূলকভাবে। তার লৈঙ্গিক পরিচয় খোলাশা হয়ে গেছে। কিন্তু আলাগমা সংস্কৃতিতে মৃতদেহ নিয়ে যাওয়া হয় খুবি রাখঢাক করে, যাতে তার লৈঙ্গিক পরিচয় জানা না যায়।’

sukari-2.jpgশেকড়ের টানে নিজের সত্ত্বার কাছে দায়বদ্ধ সুকারি যেমন দেশে-বিদেশে প্রশংসিত, তেমনি কম বিপত্তি পোহাতে হয়নি তাকে। অনেকেই তার কাজকে রাজনৈতিক ও কম শিল্পমূল্যের বলে সমালোচনার চেষ্টা করেন। আর শাসকগোষ্ঠির বিরোধিতা তো আছেই। ২০১৫ সালের ৮ সেপ্টম্বর নাইজেরিয়ার লাগোসে আটকে দেয়া হয় তার একটি বাসের ভাস্কর্য। কাস্টমস কর্মকর্তারা এর কারণ হিসেবে বলেছিলেন- এটি নাইজেরিয়ার রাজনৈতিক মূল্যবোধকে আঘাত করে। সুকারি অবশ্য সাধারণ মানুষের পক্ষে অবস্থান নেন খোলাখুলিভাবেই। মূলত কেন সারো-উইওয়াসহ নয় পরিবেশবাদীর ফাঁসির ঘটনার প্রতিবাদ হিসেবেই বাসের ভাস্কর্যটি গড়েছিলেন সুকারি। যার দেয়ালে লেখা ছিল আই অ্যাকিউজ দ্যা ওয়েল কোম্পানি, আমি তেল কোম্পানিগুলোকে দায়ী করছি..। এই ভাস্কর্য তিনি উপহার হিসেবে পাঠিয়েছিলেন নাইজেরিয়ার সামরিক সরকারকে। এ যেন পরিস্কার এক চপেটাঘাত। সুরাকির তীর লেগেছিল নিশানা মতো। পিত্তি জ্বলে গিয়েছিল নাইজেরিয়া সরকারের। তাই লাগোস কাস্টমস আটকে দিয়েছিল ভাস্কর্যটি। কিন্তু এতে করে, জবরজং বাস পরিণত হয় অনেক মুক্তিকামী নাইজেরিয়র অধিকার আদায়ের বাহনে। কুরিয়ারে করে লাগাসো পাঠানোর আগে লন্ডনের দ্যা গার্ডিয়ান অফিসের সামনে এই ভাস্কর্যটির প্রদর্শনী হয়েছিল, তাতে মিলেছিল অভূতপূর্ব সাড়া।

শুধু রাজনৈতিক ও সামাজিক আন্দোলন ও দায়বদ্ধতার ক্ষেত্রে নয়, শিল্পের ব্যাপারে সুকারি খুবই নীরিক্ষাপ্রবন; সচল। ওর ভাস্কর্য যেন নড়েচেড়ে ওঠার চেষ্টা করে। মনে হয় এই যেন চাটি মারবে মাথায়। অথবা মনে হয়, এই বুঝি নিষ্প্রান ভাস্কর্যের কষ্টে দর্শকরা অবচেতনে হাত বুলিয়ে দেবেন ক্ষতস্থানে। এই সচলতার জন্য প্রদর্শনীর ধরণেও পরীক্ষা-নীরিক্ষা করেছেন সুকারি। এই চেষ্টা অবশ্য এখন অনেকেই করেন। এখন আর শুধু নড়নচড়নহীন ভাস্কর্য নয়, শিল্পীরা তার প্রদর্শনিতে তুলে আনতে চায় একটি কাঙ্খিত আবহ। সুকারির ভাস্কর্য প্রদর্শনীর তাই একই সাথে ইনসটলেশন ও পেইন্টিং-এর সংমিশ্রন। এরসাথে থাকে টুকটাক প্রযুক্তির ব্যবহার। যেমনি এক প্রদর্শনীতে তিনি কালাবারির স্বাপ্নিক আবহের মধ্যে একটি চেয়ারে বসিয়ে দেন সিগমন্ড ফ্রয়েডকে। এটা একটা কম্পোজিশন, ফ্রয়েডের মনোসমীক্ষা ও নারী ভাবনাকে ব্যাঙ্গ করা, যেখানে মানবদেহের একটি মিনিয়েচারের সাথে শক্ত ধাতু দিয়ে যুক্ত করা হয় ফ্রয়েডকে। আর এই মানবদেহ ও ফ্রয়েড ঘুরছেন নিজের মতো করে (Freud – White Sacrifice, 1998)। এই প্রদর্শনীতেই ঝাঝরা হয়ে যাওয়া কালো নারীর মুখ দিয়ে সুরাকি তৈরি করেছেন পানির ফোয়ারা, মারমাইড ভাস্কর্যের মতো। এক কোণে দেখা মেলে পিঠে বন্দুক নিয়ে এক গেরিলা নারীকে। আরেকটি বন্দুকের নল মুখে ভরে ট্রিগারে আঙুল রেখে তিনি যেন যমদূতকে সুরসুরি দিচ্ছেন, অবজ্ঞা করছেন মৃত্যু ভয়কে।

sukari-1.jpgআফ্রিকা থেকে লন্ডন, অকৃত্রিমতা থেকে কৃত্রিমতার দিকে যাত্রা, যেখনে প্রতি পদে পদে অতীত এসে হানা দেয়, করে নস্টালজিক। সুকারি সেই ব্রিব্রত-বিপর্যন্ত (তবে হতোদ্যম নয়) পৃথিবীর চরিত্রগুলো তৈরি করেন। ধাবতের ভেতরে কতোটা কোমল হৃদয় ঠুসে দেয়া যায় ওর কাজ সেটার সাক্ষী। ওর ভাস্কর্য তাই ফুলের টুকরির ভারে নুয়ে পড়তে চায় (Atlas Flower Barrel)। ওর লাল কাদামাটির মুখে ভিড় করে প্রজাপতি, মাথায় কালিবারি মুকুট। এই যে তেলের ব্যারেল মানুষকে ভাগ করে ফেলছে, শ্মশান করছে প্রিয় শহর, শৈশব স্মৃতি তার ভেতর থেকেও স্বপ্ন দেখে সুকারি। দেখে আবারও এই রক্তপিপাসী তেলের ব্যারেল তেকে গজিয়ে উঠবে সবুজ, (Green Leaf Barrel) এ যেন স্বপ্ন স্মৃতির সুকারির প্রিয় কালাবারি, প্রিয় আফ্রিকা।

আর্টস বিভাগে প্রকাশিত মাজুল হাসানের অন্যান্য লেখা:

মাজুল হাসানের গুচ্ছ কবিতা

একটা কাঠগোলাপের গাছ ছিল মনিমালার

শহীদুল জহিরের গল্পে জাদুআবহ ও কয়েনেজসমূহ

Flag Counter

হোর্হে লুইস বোর্হেস: লেখক যখন চিত্রশিল্পী

জাকিয়া সুলতানা | ১৭ এপ্রিল ২০১৬ ৯:০৩ অপরাহ্ন

প্রবল সৃষ্টিশীলতা অনেক সময়ে একইসঙ্গে ভিন্ন ভিন্ন রূপের মধ্যে আত্মপ্রকাশ করতে চাইতে পারে। যৌবনকালে রবীন্দ্রনাথ একবার(১৮৯৩) লঘুভাবে লিখেছিলেন, `muse’-দের মধ্যে কোনওটাকেই তিনি নিরাশ করতে চান না, সবকিছুরই চর্চা করতে ইচ্ছে করে, এমনকী ছবিরও। সে-ইচ্ছেকে অবশ্য বহুকাল পরে চরিতার্থ করে তুলেছিলেন। তিনি, এঁকে ফেলেছিলেন দু-হাজারেরও বেশি ছবি, ‘Volcanic irruption’ বলে যার বর্ণনা করেছিলেন অবনীন্দ্রনাথ।
তাহলে এইভাবে, কবিতা লেখার বাইরেও যেতে চান কবি, শিল্পরচনার বাইরেও যেতে চান শিল্পী। পৃথিবীজোড়া শিল্পসাহিত্যের ইতিহাসে এমন যাওয়া-আসার অনেক উদাহরণ পড়ে আছে আমাদের চোখের সামনে ।
( শঙ্খ ঘোষ, অল্পস্বল্প কথা, প্রকাশনী: পাঠক, কলকাতা, প্রকাশকাল: বইমেলা জানুয়ারি ২০১৬, পৃ ৪০)

borges-4.pngবিশ শতকের বিদেশি লেখকদের মধ্যে আমাদের মনে পড়বে কাফকার অসামান্য স্কেচগুলোর কথা, মনে পড়বে আরও অনেকের নামই। কিন্তু আর্হেন্তিনার হোর্হে লুইস বোর্হেস যিনি আমাদের কালের নেতৃস্থানীয় কথাসাহিত্যিক ও কবি হিসেবেই বেশি পরিচিতি, তিনিও যে আঁকার হাতছানির কবলে পরেছিলেন সেটা তার লেখক পরিচয়ের মতো অতটা ব্যাপক নয়। (সম্পূর্ণ…)

কামরুল হাসানের পাঁচটি কবিতা

কামরুল হাসান | ১৭ এপ্রিল ২০১৬ ৫:১২ অপরাহ্ন


প্রতিচ্ছবিময় প্রান্তরের প্লেটে

প্রতিচ্ছবিময় এক ট্রেন ভীরু পালাই দুর্দিনে
ঘুর্ণমান প্রান্তরের প্লেটে রিক্ত, সরু বরবটি
চামচে সরিয়ে নাও মেহগনি দৈত্যমান ভয়
ঈশ্বরের দীপ্রচোখ খুলে লাগাই কোটরে।

আগুয়ান যৌথপথ, যাত্রারীতি একই উত্তরে
তোমার পলায়নপর পায়ের ফর্সা ছাপ অতনু
পাহাড়ের তলপেটে নীবিবদ্ধ নদীদের আয়ু
অহর্ণিশ ছুটে যাও বায়ুমত্ত প্রবল দক্ষিণে।

পতাকার মত ওড়ে ধোয়া শান্তি বিদ্রোহের
এসো পাশে বসো, নম্রমাঠ হলুদ সাবেকী
এইমাত্র সবুজেরে পাল্টালো একঘেয়ে নীলে
গীতল আচ্ছন্ন ঘুমে দ্বিধাময়, প্রশান্ত পাতাটি।

কেশরে দোলাও সখী নধরাক্ষী সপ্তর্ষির ফুল
অতন্দ্র চক্করে নামো অভাবিত, অনিত্য বকুল। (সম্পূর্ণ…)