মাহবুব আজীজের গুচ্ছ কবিতা

মাহবুব আজীজ | ৩১ জানুয়ারি ২০১৫ ১:০০ অপরাহ্ন

ভয়

এই খরতপ্ত দগ্ধ জীবন-
মাগো; মুখ লুকানোর জন্যে
আমি তোমার বুক খুঁজে বেড়াচ্ছি।
সামান্য আশ্রয়ের খোঁজে;
বাঘের ছোবলে ক্লান্ত হরিনীর মতো-
আমি আজ মুখ লুকাতে চাই।
ক্লান্ত, পরিশ্রান্ত, দুরন্ত সেই বালক।
সামান্য একটু আশ্রয়ের খোঁজে
তোমার চিরঅবাধ্য সেই বালক
ছুটতে ছুটতে ছুটতে
আগুনে না পুড়ে যায় মা! (সম্পূর্ণ…)

বিরলপ্রজ গল্পকারের বিলম্বিত আত্মপ্রকাশ

শান্তনু কায়সার | ৩০ জানুয়ারি ২০১৫ ১১:৪৫ পূর্বাহ্ন

border=0২০১৪-র বইমেলায় বেরিয়েছে সৈয়দ কামরুল হাসানের প্রথম গল্পের বই তক্ষক ও অন্যান্য গল্প। বইয়ের ফ্ল্যাপ থেকে জানা যাচ্ছে ১৯৮০-২০১২ এর মধ্যে লেখা গল্পগুলি থেকে নির্বাচন করে তাঁর এই বই প্রকাশিত । গল্পের সংখ্যা মাত্র আট: হবিবর মৌলভীর আলো ও আঁধার,তক্ষক, জলঘুম, টুকরো পাতাল, পল্টুর শবযাএা, উত্তরাধিকার, জলকূট,সাং মুমুরদিয়া । তিন দশকের অধিক সময়কালে তাঁর নির্বাচন মাত্র আটটি গল্প ? মুদ্রণ বিস্ফোরণের এই সময়ে প্রস্তুত হতে না হতেই যেখানে ‘লেখক’ হিসেবে আবির্ভূত হওয়া ব্যাধি সেখানে কামরুলের এই অতি-বিলম্ব ও বেশিমাত্রায় সতর্কতার কারণ কী ?

তাঁর গল্পে একধরণের নেতিই যেন বেশি প্রকাশিত। গল্পের চরিত্ররা আলো বায়ুহীন শূন্যতায় বাস করে,দারিদ্র্য অথবা নিয়তি তাদের পিছু নেয় এবং তাদের জীবন যেন মীমাংসাহীন। গল্পের চরিত্ররাই কি হাঁসফাঁস করে, না লেখকের বিষন্নতা তাদের মধ্যে সংক্রামিত হয়? তাঁর সংকলিত দুটি গল্পের নাম ‘জলঘুম’ ও ‘জলকূট’ । দুটি গল্পেই সংকট রয়েছে, প্রথমটায় এনজিওর পটভূমিতে,সে সম্পর্কিত । আতিককে হতদরিদ্র তথা মার্জিনাল অর্থাৎ প্রান্তিক মানুষদের বিষয়ে এমন প্রতিবেদন রচনা করতে হবে যাতে তাদের তহবিল স্ফীত হয় । দাতাদের মন ভেজাতে না পারলে যে তাদের সকলই মিথ্যে হয়ে যাবে । পরিচালকের ব্যক্তিগত ব্যয়ের মধ্যে আতিক কিভাবে পদোন্নতি পাবে সেটাও একটা ভাববার বিষয় । এদিকে ”কর্মীদের বাৎসরিক ইনক্রিমেন্ট তো বটেই,এমনকি চলতি মাসের বেতন এবং মাসখানেক পর গরু জবেহ করার ঈদের বোনাস পর্যন্ত বন্ধ । ” তবু আতিক ”আল্ট্রাপুওর” খুঁজে পায়না, যাতে তার প্রতিবেদনটা বিশ্বাস ও বিক্রয়যোগ্য হয় । (সম্পূর্ণ…)

গোলাম মোর্শেদ চন্দনের গুচ্ছ কবিতা

গোলাম মোর্শেদ চন্দন | ২৯ জানুয়ারি ২০১৫ ৯:২৮ অপরাহ্ন

ভেলা

সেদিন রোদ্দুর দেখিনি- শিশির দেখেছি
ভোরের
মাকড়সার জালে মণি-মুক্তা, তোমার সিথানে
ওম
ভোর হতে তবুও বাকী। কল্পতরু আমাকে
ওম দিয়েছিল রোদ পোহানোর। তার মা
‘কথা’ বাবা ‘গল্প’ আর ভাইটির নাম
রুদ্র অনির্বান
রোদ পোহানো হয়নি রুদ্রের অনির্বাণে।

আমরা
শেষমেষ
কচুরিপানা
হলাম (সম্পূর্ণ…)

কাজী রকিব: “আমি মাথা দিয়ে চলি না, মন দিয়ে চলি”

চিন্তামন তুষার | ২৭ জানুয়ারি ২০১৫ ১:৪৬ অপরাহ্ন

kazi-rakib.gifগত ১৬ জানুয়ারি থেকে শিল্পী কাজী রকিব(জন্ম ৫ ফেব্রুয়ারি , ১৯৫৫)-এর প্রদর্শনী শুরু হয়েছে উত্তরায়, গ্যালারি কায়ায়; প্রদর্শনী চলবে ৩০ জানুয়ারি পর্যন্ত। তবে অবরোধ ও হরতাল অব্যাহত থাকায় প্রদর্শনীর সময়সীমা আরও এক সপ্তাহ ( ৬ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত) বাড়ানো হয়েছে। শিল্পীর একাদশতম এই একক প্রদর্শনীতে মোট ৭৫টি শিল্পকর্ম স্থান পেয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে এক্রেলিক অন ক্যানভাস ১৭টি, ওয়াটার কালার ১৩টি, এক্রেলিক অন পেপার ৮টি, অয়েল অন ক্যানভাস ৪টি, পেন্সিল অন পেপার ৬টি, প্রিন্ট ৪টি, ড্রয়িং ২৩টি, কোলাজ ২টি, গ্লাসওয়ার্ক ২টি, প্যাস্টেল অন পেপার ১টি। মাধ্যম এবং বিষয়ের বৈচিত্র্যে শিল্পী কাজী রকিবের এই প্রদর্শনী এক গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা। নানান ধরনের পরীক্ষা-নিরীক্ষার মাধ্যমে শিল্পী নিজেকে বদলে নিয়েছেন বারবার। এমনকি, রংয়ের ক্ষেত্রেও তিনি কখনও একই ধারণায় বন্দী হয়ে থাকেননি। ‘ঢাকা পেইন্টার্স’(১৯৭৪-৭৭)-এর প্রতিষ্ঠাতা সদস্য কাজী রকিব সুররিয়ালিজমের মতো প্রকরণকেও আত্মস্থ করেছিলেন নিজের জন্য বহুবর্ণিল ও পরিব্যাপ্ত এক জগতকে নিশ্চিত করে তোলার লক্ষ্যে। এবং এই লক্ষ্যে তার সাফল্য তাকে আমাদের অগ্রগণ্য শিল্পীদের একজন করে তুলেছে। শিল্পকলার সাবেক শিক্ষক এই শিল্পী, শিল্পের দায়কে যে নিষ্ঠা ও সততার সঙ্গে উচ্চতর অবস্থানে নিয়ে গেছেন তা আমাদের কাছে অত্যন্ত গৌরবের– তাতে কোনো সন্দেহ নেই। চলমান এই প্রদর্শনী উপলক্ষে সম্প্রতি তার একটি দীর্ঘ সাক্ষাৎকার গ্রহণ করেছেন চিন্তামন তুষার। অডিওতে ধারণকৃত সাক্ষাৎকারের লিখিত রূপটি এখানে প্রকাশ করা হলো। বি.স. (সম্পূর্ণ…)

তোমার আমার গল্পটা

দিলরুবা আহমেদ | ২৩ জানুয়ারি ২০১৫ ১১:২৫ পূর্বাহ্ন

রুমঝুম বৃষ্টির শব্দের মাঝেই নুপুর পায়ে নায়াগ্রা ষোলশহর রেলস্টেশনে এসে দাঁড়িয়েছে। তার নুপুরে অবশ্য কোন বোল নেই। স্টেশনের কোলাহলে তা থাকলেও হয়তোবা শোনা যেত না। সম্ভবত: এটাকে পায়েল বলে। এখন অবশ্য এনকেলই বেশি আসে মুখে। বিদেশীদের মতন পরেও আছে একপায়ে। অন্য পা-টা খালি। দেখতেই কেমন শির শিরে লাগতো একসময়। শীল পাটার উপর আঙ্গুল ঘষে মসলা টেনে নামানোর মতন। সেই কিলবিল করে কাপুনী লাগাটা এখন থেমে গেছে। সময়ই শিক্ষক। নিজেই এখন এক পায়ে সরু পায়েল পরে এসে দাড়িয়ে রয়েছে। দাড়িয়ে আছে মুখোমুখি অতীতের এক দরজায়, সেই রেলস্টেশনে, যা ছিল একদিন অনেক অনেক অনেক স্বপ্নে ভরা এক যাত্রাকথার সূচনা লগ্ন।

ট্রেন আসার কি সময় হয়নি এখনও? ছাত্রছাত্রীও বেশ কম চারদিকে। বৃষ্টির কারণে কি এরকম, নাকি শাটল ট্রেনের সময়সূচীই বদলে গেছে। কত এসেছে এই সময়ে এইখানে কত বছর ধরে সেই কত আগে। বহুকালের চেনা জানা দেখা ছোট একটা ছাউনী ঘেরা পারাপারের এই স্টেশনটা।

এত বছরেও স্টেশনটির বিশেষ কোন পরিবর্তন হয়নি। যেমনটি ছিল তেমনই আছে। একই রকম। শুধু বদলে গেছে চরিত্রের চেহারাগুলো।
ঐ যে ঐখানে বসে আছে সেই মিঠু আর মমতাজের যুগল। চেয়ে আছে চুপচাপ একে অপরের দিকে। মুখটাই শুধু বদলে গেছে। আর তো সবই এক। চাহনীও এক। স্বপ্নে ভরা সে এক মায়ার বাধন যেন। সবার মাঝে থেকেও যেন চলে গেছে অন্য কোন এক জগতে। ব্রীজের কোনার সিড়িটা সব সময়ই থাকতো ওদের দু’জনার দখলে। এতো মানুষ উঠতো নামতো, ওরা নির্বিকার, ডুবে আছে একে অপরে দিকে, চেয়ে আছে অপলক। দিকে দিকে এত যে কোলাহল কিছুই যেন তাদের ছুঁইছে না। সব ভুলে কইছে কথা পরস্পরের সাথে। বাকবাকুম পায়রা যেন। এত কি কথা কইতো তারা দুজন দুজনার সাথে! কি জানি কি কথা। কি এত কথা ছিল বলার জন্য কে জানে। (সম্পূর্ণ…)

গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস:

নিঃসঙ্গতার একশ বছর

আনিসুজ্জামান | ২১ জানুয়ারি ২০১৫ ৯:৫৫ অপরাহ্ন

border=0বিশ্বসাহিত্যের ইতিহাসে নিঃসঙ্গতার একশ বছর-এর মতো আর কোনো উপন্যাস প্রকাশের পরপরই এতটা পাঠকপ্রিয়তা পেয়েছে কিনা সন্দেহ। জনপ্রিয়তার বিচারে যেমন, তেমনি শিল্পকুশলতা আর শিল্পমুক্তির ক্ষেত্রেও এটি হয়ে উঠেছে এক অনন্য দৃষ্টান্ত। কেবল স্প্যানিশ সাহিত্যেই নয়, গোটা বিশ্বসাহিত্যের ইতিহাসেই একটি মাত্র উপন্যাসে ইতিহাস, আখ্যান, সংস্কার, কুসংস্কার, জনশ্রুতি, বাস্তব, অবাস্তব, কল্পনা, ফ্যান্টাসি, যৌন-অযাচার ও স্বপ্ন– সবকিছুর এমন স্বাভাবিক ও অবিশ্বাস্য সহাবস্থান আগে কখনও দেখা যায়নি।
ঠিক এই কারণে মারিও বার্গাস যোসা এটিকে বলেছিলেন এক সামগ্রিক উপন্যাস (Novela Total), আর পাবলো নেরুদা একে বলেছিলেন, “সের্বান্তেসের ডন কিহোতের পর স্প্যানিশ ভাষায় সম্ভবত মহত্তম উন্মোচন (“perhaps the greatest revelation in the Spanish language since Don Quixote of Cervantes.”)
বাংলাদেশে এখনও পর্যন্ত কিংবদন্তিতুল্য এই উপন্যাসটি মূলভাষা থেকে অনূদিত হয়নি। এই প্রথম এটি আনিসুজ্জামানের অনুবাদে মূল থেকে ধারাবাহিক অনূদিত হচ্ছে। বি. স.
(সম্পূর্ণ…)

অভিজ্ঞানশকুন্তলম থেকে শুক্লা শকুন্তলা

মোস্তফা তোফায়েল | ২০ জানুয়ারি ২০১৫ ৬:৩২ অপরাহ্ন

huda.gifমহাকবি কালিদাসের অভিজ্ঞানশকুন্তলম নাটকের কাহিনি অবলম্বনে একটি পুনর্সৃষ্টিকর্ম মুহম্মদ নূরুল হুদার শুক্লা শকুন্তলাশুক্লা শকুন্তলা কাব্যটি বত্রিশটি সনেট আঙ্গিকে চতুর্দশপদী কবিতার সংকলন, যে সনেটগুলোর প্রতিটির শেষ দুই পংক্তি শেকস্পিয়রীয় পয়ারবদ্ধ যুগল এবং নীতিবাক্যমূলক।

তবে সনেট আঙ্গিকের চতুর্দশপদীসমূহ বিচ্ছিন্ন সত্তাবিশিষ্ট কবিতা নয়, কাব্যনাটকীয় চরিত্রায়নের সমষ্টি এবং সব কটি সনেটের সমাহার একটি পূর্ণাঙ্গ কাব্য। মহাকবি কালিদাসের শকুন্তলাকাহিনির উৎস মহাভারত। মুহম্মদ নূরুল হুদার শুক্লা শকুন্তলার উৎস ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর অনূদিত কালিদাসের অভিজ্ঞানশকুন্তলম। যেমন মার্লোর নাটক ডক্টর ফস্টাস-এর উৎস গ্যেটের ফাউস্ট কিংবা শেকস্পিয়রের জুলিয়াস সিজার-এর উৎস প্লুটার্কের রোমান ইতিহাস। (সম্পূর্ণ…)

মুস্তাফিজ শফির গুচ্ছ কবিতা

মুস্তাফিজ শফি | ২০ জানুয়ারি ২০১৫ ১১:৫৯ পূর্বাহ্ন

কবির বিষণ্ন বান্ধবীরা

১.
তুমি কি নীল ঘাস ফুল, মৌণ তৃণ
হিমালয় থেকে নেমে আসা রহস্য নদী
নবান্নের শেষে মাঠের শরীরে শষ্যের চিহ্নরেখা

তুমি কি রেললাইনের ওপারে গোধূলী
হিরন্ময় সন্ধ্যায় নীড়ে ফেরা পাখি
নতুন দিনের ছবি শিল্পীর তুলিতে আঁকা

তুমি কী, আসলেই বলো তুমি কী-
হিংস্র সময়ের ভিড়ে তুমি কি তবে আশা
নদী নয়, নক্ষত্র নয়, এক ঝাঁক রহস্য আধাঁর (সম্পূর্ণ…)

জনতা নামের কর্তা: `জীবন আমার বোন’ এবং মুক্তিযুদ্ধের ঘটনাচরিত্র

নাজমুল সুলতান | ১৮ জানুয়ারি ২০১৫ ৯:১৬ অপরাহ্ন

border=0“মানুষের ভিড় কেটে বেরুতে পারছে না খোকা। বারবার ধাক্কা খাচ্ছে। আসন্ন ত্রাস তাড়া করছে তাকে; মুহূর্তের সামান্য ব্যবধানে একটা আবশ্যিক প্রতিক্রিয়ায় সবকিছু হুড়মুড় করে ভেঙে পড়বে, ভেঙে পড়বে বিচারালায়, ভেঙে পড়বে মিলনায়তন, ভেঙে পড়বে পানশালা, স্টেডিয়াম। এতোদিন তার চোখে যা ছিল সামান্য মানুষ, এখন তা সংগঠিত অবিচ্ছিন্ন মিছিলে। খোকা শিউরে উঠলো, এতোদিন তার কাছে যা ছিল দয়িতা যামিনী মদিরার মতো তিন অক্ষরের হালকা পালকে মোড়া পাখির মতো নিছক একটা রোগা শব্দ, এখন তা প্রচণ্ড বিস্ফোরণে ছড়িয়ে পড়ছে শহরময়, জনতা!” (জীবন আমার বোন, মাহমুদুল হক)


একাত্তর সাল একটা ঘটনা। তাকে জাতীয় মুক্তির আন্দোলন বলা হোক বা “গণ্ডগোলের বছর” বলা হোক, তার ঘটনাচরিত্র কেউ অস্বীকার করতে পারে না। কিন্তু ঘটনাচরিত্রকে অস্বীকার করা না গেলেও তাকে ঘটনা আকারে বুঝতে পারা সহজ নয়। মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে বিদ্যমান যত বয়ান আছে, তাদের সবকয়টাই কমবেশি একাত্তর সালকে একটা যৌক্তিক ক্রমপরম্পরার পরিণতি আকারে সংজ্ঞায়িত করে। জাতীয়তাবাদীদের কাছে মুক্তিযুদ্ধ হাজার বছরের নিপীড়িত বাঙ্গালি জাতির স্বাধীনতার বাসনার বাস্তবায়ন। গোঁড়া মার্ক্সবাদীদের কাছে তা শ্রেণী সংগ্রামের জাতীয়তাবাদী স্তর। যারা মুক্তিযুদ্ধে সক্রিয় ছিলেন, তাদের মধ্যে এইসব বয়ান নিশ্চয়ই ক্রিয়াশীল ছিল। সেই কারণে এইসব বয়ানের সংগঠন এবং কার্যপ্রণালি বোঝাপড়ার প্রয়োজন রয়েছে, যদিও এই লেখায় তা প্রান্তিকই হয়ে থাকবে। একটা ঘটনাকে যখন একান্তই ইতিহাসের যৌক্তিক ক্রমপরম্পরায় পর্যবসিত করা হয়, তখন সেই ঘটনাচরিত্রের আস্তিত্বিক এবং রাজনৈতিক মাত্রাটা জৌলুস হারায়, ঢাকা পড়ে যায়। ঘটনার কর্তার ভূমিকা ইতিহাসের গতির চাকার নিচে পড়ে যেন নিশ্চিহ্ন হয়ে যায়। ইতিহাসবাদী বয়ানের আলোকে মুক্তিযুদ্ধকে বোঝা মানে সেই ঘটনার কর্তা, তথা জনতার, রাজনৈতিক ভূমিকা খাটো হয়ে যাওয়া। মাহমুদুল হকের উপন্যাস জীবন আমার বোন এমন একটা বিরল প্রজাতির উপন্যাস যা ইতিহাস আর ঘটনার মাঝখানের দ্বিধাশঙ্কুল পারাবারে ক্রিয়াশীল। আর ঠিক এই কারণেই তা মুক্তিযুদ্ধের ঘটনাচরিত্র আর কর্তাসত্তাকে তাদের বাঁধনহারা ঐতিহাসিকতায় স্থাপন করতে সমর্থ হয়েছিল। উপন্যাসটা দৃশ্যত একাত্তর সাল নিয়ে। কিন্তু একাত্তরের যুদ্ধকালীন ঘটনাপঞ্জিতে উপন্যাসের ব্যাপ্তি নয়। তা মূলত যুদ্ধ শুরু হওয়ার ঠিক আগের মুহূর্তগুলোকে কেন্দ্র করে—সাতই মার্চের ভাষণের দুইতিন আগ থেকে পঁচিশে মার্চ অব্দি। তারপর যুদ্ধের এক দুই মুহূর্ত–কিন্তু ঘটনার ঘনত্বের একদুই মুহূর্তই গোটা কাহিনির বিশেষায়ণকারী হয়ে ওঠে। সমাপ্তির ভণিতায় শেষমেষ ছোট করে আসে যুদ্ধ পরবর্তী পরিণতি। কাহিনির এই বিন্যাস যেন ঘটনার সংঘটনকেই অনুকরণ করছে। এই কাহিনিবিন্যাস কেন গুরুত্বপূর্ণ তা ক্রমে আরো বিস্তারিত করা হবে। (সম্পূর্ণ…)

শিল্পী মনিরুল ইসলাম: “আমি হরতাল কোনো সময়ই চাই না”

রাজু আলাউদ্দিন | ১৭ জানুয়ারি ২০১৫ ১২:৩৪ পূর্বাহ্ন

monir-1.gifশিল্পাচার্য জয়নুল আবেদিনের মাধ্যমে যে শিল্পকলা চর্চার সূচনা বাংলাদেশে তা পরবর্তীকালে প্রতিভাবান শিল্পীদের হাতে বৈচিত্রে ও বৈভবে আজ এক গৌরবময় ইতিহাস হয়ে উঠেছে। জয়নুলোত্তর শিল্পীদের মধ্যে মনিরুল ইসলাম বিশ্বব্যাপী সর্বাধিক পরিচিতদের একজন। এই পরিচিতি নানা মাধ্যমে তার কাজের নিজস্ব ধরন ও সৃষ্টিশীলতার জন্য।

মনিরুল ইসলামের জন্ম ১৯৪৩ সালে, বাংলাদেশের চাঁদপুর জেলায়। চাঁদপুরে প্রাথমিক ও মাধ্যমিক পড়াশোনা শেষে ভর্তি হন ঢাকার তৎকালীন আর্ট কলেজে। সেখানে তিনি জয়নুল আবেদিন, সফিউদ্দিন আহমেদ, আমিনুল ইসলাম, মোহাম্মদ কিবরিয়ার কাছে সরাসরি চিত্রকলায় পাঠ নেন। ছাত্রজীবন থেকে তিনি অত্যন্ত মেধাবী। অল্প বয়সেই তিনি চিত্রকলায় নিজের ধরনটি সৃষ্টি করতে সক্ষম হয়েছিলেন। জয়নুল আবেদিনের একান্ত আগ্রহে শিক্ষক হিসেবে যোগ দিয়ে ১৯৬৬-১৯৬৯ সাল পর্যন্ত তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা ইনস্টিটিউটে শিক্ষকতা করেন। তারপর স্পেন সরকারের বৃত্তি নিয়ে উচ্চ শিক্ষার উদ্দেশ্যে তিনি বিদেশে পাড়ি জমান। এরপর থেকে স্পেনেই স্থায়ীভাবে বাস করে শিল্পচর্চা করছেন। স্পেনসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে তার বহু একক ও যৌথ প্রদর্শনী হয়েছে। এছাড়া তিনি স্পেন, ফ্রান্স, মিসর, ভারত, বাংলাদেশসহ পৃথিবীর বহু আন্তর্জাতিক চারুকলা প্রদর্শনীতে বিচারক হিসেবে কাজ করেছেন। তার ছবি স্থান পেয়েছে পৃথিবীর বহু গুরুত্বপূর্ণ গ্যালারিতে।

১৯৯৭ সালে তিনি স্পেনের রাষ্ট্রীয় পদক, ২০১০ এ তিনি ভূষিত হন স্পেনের সর্বোচ্চ মর্যাদাপূর্ণ সম্মাননা দ্য ক্রস অব দি অফিসার অব দি অর্ডার অব কুইন ইসাবেলা পুরস্কার, ১৯৯৯ সালে বাংলাদেশের একুশে পদক, শিল্পকলা একাডেমী পদকসহ বিভিন্ন পদক ও সম্মাননা পেয়েছেন।
এ মাসের শুরুর দিকে বিভিন্ন বিষয়ে তার সঙ্গে কথা হয় কবি ও প্রাবন্ধিক রাজু আলাউদ্দিনের। ভিডিওতে ধারণকৃত তাদের আলাপচারিতার শ্রুতিলিপি এখানে উপস্থাপন করা হলো
। বি.স. (সম্পূর্ণ…)

পিতৃপ্রতিম ডক্টর খান সারওয়ার মুরশিদ

সৈয়দা আইরিন জামান | ১৫ জানুয়ারি ২০১৫ ৫:৪৯ অপরাহ্ন

border=0অধ্যাপক ডক্টর খান সারওয়ার মুরশিদ স্যারের সঙ্গে আমার প্রথম দেখা হয় ১৯৯৯ সালে তাঁর ধানমণ্ডির বাড়িতে। সে সময় নজরুল জন্মশতবার্ষিকীর আন্তর্জাতিক কনফারেন্সে আমি একজন সমন্বয়কারীর দায়িত্ব পালন করছিলাম।

নজরুল ইনস্টিটিউটের তৎকালীন নির্বাহী পরিচালক কবি মুহম্মদ নুরুল হুদা আমাকে ডেকে নজরুলবিষয়ক কিছুসংখ্যক গ্রন্থ প্রদান করে মুরশিদ স্যারের বাড়িতে যেতে বললেন। বিষয়টি সম্পর্কে তিনি যা ব্যাখ্যা করলেন, তা হল এই নজরুল জন্মশতবার্ষিকীর দুই দিনব্যাপী আন্তর্জাতিক কনফারেন্সের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে খান সারওয়ার মুরশিদ স্যারকে ইনস্টিটিউটের পক্ষ থেকে সভাপতির আসন অলঙ্কৃত করবার কথা বলা হয়েছিল। কিন্তু তিনি (মুরশিদ স্যার) বিষয়টি সম্পর্কে কোনো মতামত জানাননি। কবি নূরুল হুদা আমাকে বললেন, ‘তুমি স্যারের কাছে গিয়ে সম্মতি নিয়ে এসো, উনি নিশ্চয় তোমার কথা রাখবেন।’

হলোও তাই। মুরশিদ স্যার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সভাপতির আসন পূরণ করতে সম্মত হলেন। প্রথম দর্শনেই আমি স্যারের অফুরান স্নেহ এবং ভালোবাসা অর্জন করলাম। তিনি নির্দিষ্ট দিনে জাতীয় জাদুঘরের সুফিয়া কামাল মিলনায়তনে এলেন। ঐদিন মিলনায়তন নজরুল গবেষক, লেখক এবং অনুরাগীদের উপস্থিতিতে পরিপূর্ণ ছিল। (সম্পূর্ণ…)

জে কে রওলিং: ‘মুসলিমদের সবাই সন্ত্রাসী নয়’

চিন্তামন তুষার | ১৩ জানুয়ারি ২০১৫ ১২:৫৪ অপরাহ্ন

rowling.gifপৃথিবীর বেস্ট সেলার শীর্ষ লেখকদের তালিকায় অবস্থানকারী জে কে রওলিং ফরাসি রম্য পত্রিকা ‘শার্লি এবদো’-এর কার্যালয়ে হামলা প্রসঙ্গে মিডিয়া টাইকুনখ্যাত রুপার্ট মারডকের মন্তব্যের বিরোধিতা করেছেন। হ্যারি পটারখ্যাত লেখক রওলিং সম্প্রতি এই বিরোধিতার মাধ্যমে জানিয়ে দিলেন তার রাজনৈতিক অবস্থান। লেখকরা সাধারণত রাজনৈতিক প্রসঙ্গ এড়িয়ে চলেন। কেউ কেউ আবার রাজনৈতিকভাবে সরবও থাকেন, সংখ্যায় যদিও তারা খুবই কম। তবে জনপ্রিয় ধারার লেখকদেরকে এই সরব অবস্থানে খুব একটা দেখা যায় না। স্টিফেন কিং, ড্যান ব্রাউন, রোয়াল্ড ডাল, বিল ব্রাইসন, মার্ক হ্যাড্ডন প্রমুখ জনপ্রিয় লেখকদেরকে অন্তর্জাতিক রাজনৈতিক ঘটনায় নাক গলাতে দেখা যায়নি খুব একটা। রওলিং সে ক্ষেত্রে ব্যতিক্রম অবশ্যই। আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক অঙ্গনে সম্প্রতি আলোচিত বিষয় ‘শার্লি এবদো’-এর কার্যালয়ে সন্ত্রাসী হামলার মতো স্পর্শকাতর বিষয়ে জে কে রওলিং বলেন, সন্ত্রাসের জন্য শান্তিপ্রিয় মুসলিমরা আমার চেয়ে বেশী দায়ী না কোনোভাবেই। (সম্পূর্ণ…)